Wednesday, May 5, 2010

বাকিয়েভকে ধরিয়ে দিতে এক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা

মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে এক লাখ ডলার পুরস্কার দেবে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কমিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
গত মাসের গোড়ার দিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ রাজধানী ছেড়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নিজের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ওস শহরের জালালাবাদে আশ্রয় নেন। পরে তিনি বেলারুশ পালিয়ে যান।
কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, বাকিয়েভ ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য সরবরাহ করলে সরকার ২০ হাজার থেকে এক লাখ ডলার পুরস্কার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচারের মুখোমুখি করতে বাকিয়েভকে কিরগিজস্তানের কাছে হস্তান্তরের জন্য বেলারুশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ।
বাকিয়েভ ও তাঁর ছেলে মাক্সিমসহ তৎকালীন সরকারের যেসব শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার ।

বাগদাদে ভোট পুনর্গণনা শুরু

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ভোট পুনর্গণনার কাজ গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। গত ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগদাদে ব্যাপক সহিংসতা হয়। তাই রাজধানীর ভোট পুনর্গণনার দাবি করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি।
তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই রাজধানীর রাশিদ হোটেলে ভোট পুনর্গণনার এ কাজ শুরু করা হয়। এর আগে ইরাকের স্বাধীন উচ্চ নির্বাচন কমিশনের (আইএইচইসি) মুখপাত্র কাসিম আল-আবুদি সাংবাদিকদের জানান, আজ (সোমবার) ৬০০ বাক্স ভোট হাতে পুনর্গণনা করা হবে। বাগদাদে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ২৫ লাখ। তিনি বলেন, ভোট পুনর্গণনার কাজে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লেগে যেতে পারে।
জাতিসংঘ ও ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এ ভোট পুনর্গণনার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।
পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ জোট ৯১টি আসনে জয়লাভ করে এবং মালিকির জোট জেতে ৮৯টি আসন। ৩২৫ আসনের পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬৩ আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউই পায়নি। বাগদাদে মোট ৭০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে মালিকির জোট জয়লাভ করে ২৬টি আসনে এবং আলাবির জোট ২৪টি আসনে।

বিড়ালির সঙ্গে বিয়ে

নিজের পুষি বিড়ালিকে বিয়ে করেছেন এক জার্মান। য়ুভে মিৎসারলিৎজ নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন ডাকপিয়ন। বয়স ৩৯ বছর। বাড়ি ড্রেসডেনের কাছে পসেনডোরফ এলাকায়। আর কনে সেই স্ত্রী-বিড়ালের বয়স ১৫ বছর। নাম সিসিলিয়া। বিয়ে কিন্তু হুট করে হয়নি। আগে থেকেই এই জুটির মধ্যে নাকি গভীর প্রণয় ছিল। বিল্ড ট্যাবলয়েড গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছে।
মিৎসারলিৎজ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সিসিলিয়া কী যে বিশ্বস্ত! এমন আর হয় না। আমাদের দুই দেহ এক প্রাণ। কত রাত এক সঙ্গে কাটিয়েছি। একই ছাদের নিচে, একই বিছানায়। আমার বাহুতে মাথা রেখে সে ঘুমিয়েছে কত কত রাত। আমাদের দুটি হূৎপিণ্ড বটে। কিন্তু স্পন্দন একই।
জার্মানিতে পশুপ্রেম বিচিত্র কিছু নয়, দোষেরও নয়। কিন্তু দেশটিতে কোনো পশুকে ভালোবেসে বিয়ের অনুমতি নেই। কিন্তু য়ুভে হার মানার পাত্র নন। তিনি বলেন, বয়স হয়েছে সিসিলিয়ার। কদিন আর বাঁচবে সে। তাই তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই।
বিয়ে উপলক্ষে বর পরেন স্যুট ও বিশেষ টুপি। সিসিলিয়াকেও সাজানো হয় জার্মানির ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সাদা পোশাকে। শপথবাক্য পাঠ করান পুরোহিত। জবাবে সিসিলিয়া কেবলই মিউ মিউ করছিল।

সামরিক আদালতে ফনসেকার বিচার বন্ধ রাখার নির্দেশ

শ্রীলঙ্কায় সামরিক আদালতে সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শরৎ ফনসেকার বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চতর আদালত। দেশটির আপিল আদালত গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন।
আপিল আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, সামরিক আদালতের বিচার কার্যক্রমের বৈধতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত রাখতে হবে। গত ১৬ মার্চ থেকে ফনসেকার বিরুদ্ধে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মাহিন্দা রাজাপক্ষের কাছে হেরে যান ফনসেকা। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার আগেই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ফনসেকা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
গত নভেম্বরে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন ফনসেকা। এর আগে সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে তামিল বিদ্রোহীদের পরাজিত করে সেনাবাহিনী। এর ফলে দেশটিতে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
এদিকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পর সরকার গতকাল জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন জরুরি আইন শিথিল করা হচ্ছে। জরুরি আইনে সাজাপ্রাপ্ত এক সাংবাদিককে প্রেসিডেন্ট গতকাল ক্ষমা করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জামিনি লক্ষণ পেরিস।
যুদ্ধের সময় যেকোনো ব্যক্তিকে অভিযোগ ছাড়াই আটক বা বন্দী রাখা যেত এই আইনে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই আইন এত দিন বহাল রাখায় দেশটির সরকারের সমালোচনা করে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে কলম্বো বলছে, পালিয়ে যাওয়া তামিল বিদ্রোহীদের ধরতে এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এই আইন প্রয়োজন ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেরিস বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আইন শিথিল করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

নেপালে ধর্মঘটে জীবনযাত্রা ব্যাহত

নেপালে মাওবাদীদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবারও দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এ দিকে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাওবাদীরা।
গতকাল রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলোয় সব দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস ছিল বন্ধ। রাস্তায় যানবাহন চলতে দেয়নি মাওবাদী সমর্থকেরা। গতকাল অনেক পথচারীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষই বাড়িতে অবস্থান করেছেন।
গতকাল পর্যন্ত ধর্মঘট ছিল শান্তিপূর্ণ। বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে জড়ো হওয়া মাওবাদী সমর্থকেরা রাস্তায় বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠানো পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
যানবাহনের অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। তবে গণমাধ্যম, অ্যাম্বুলেন্স, ময়লা সংগ্রহের গাড়ি এবং কূটনৈতিক সংস্থার গাড়িগুলোকে ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন সরকারের বদলে মাওবাদীদের নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকারের দাবি করে আসছে মাওবাদীরা। মাওবাদী সাংসদ ঝাক্কু সুবেদি বলেন, তাঁরা একা সরকার গঠন করতে চাইছেন না। মাওবাদীদের নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকার চান তাঁরা। তিনি আরও বলেন, পুতুল সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্যই এই শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট।

আপনারা নন, ওরাই বিশ্বাসঘাতক

ব্রিটেনের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি এলাকায় হাত বাড়ালেন কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই বিরাট সাফল্য পাওয়া লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা নিক ক্লেগ। ইংল্যান্ডের দুটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে গত রোববার তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।
ম্যানচেস্টারের অদূরে বার্নলি শহরের এক গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন লেবার দলের কড়া সমালোচনা করেন ক্লেগ। তিনি স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতাসীন লেবার দল ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
যেসব এলাকা থেকে ক্ষমতাসীন লেবাররা দীর্ঘদিন থেকে একটানা সমর্থন পেয়ে আসছে, বার্নলি তাদের অন্যতম।
ক্লেগ আরও বলেন, ‘লেবারের সঙ্গে আপনারা নন বরং আপনাদের সঙ্গেই লেবাররা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বহু বছর ধরে যাঁরা লেবার পার্টিকে সমর্থন করে আসছেন আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমি বুঝি দীর্ঘদিন পর (সমর্থন বদলানো) কতটা কঠিন। এটা প্রায় বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। কিন্তু লেবাররা তো আপনাদের ডুবিয়েছে।’
বার্নলি থেকে পার্শ্ববর্তী শহর মার্সডেনে গিয়েও ক্লেগ প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেন, লেবারদের ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গেছে। লেবাররা টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মার্গারেট থ্যাচারের আমলের চেয়েও এ এলাকার উৎপাদনের গতি হ্রাস পেয়েছে।
নিক ক্লেগ ব্রিটেনের রাজনীতিতে অল্প দিন আগেও অল্প পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও বেশ কিছু দিন ধরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু লেবার নেতা গর্ডন ব্রাউন ও টোরি নেতা ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে ১৫ এপ্রিলের টেলিভিশন বিতর্কের পর তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। জনমত জরিপে তাঁর দল ক্ষমতাসীনদের চেয়েও এগিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে যায়। ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম তাঁর জনপ্রিয়তাকে ‘ক্লেগম্যানিয়া’ বলে অভিহিত করছে। তবে ভোটের দিন পর্যন্ত তাঁর জনপ্রিয়তা থাকবে কি না তা নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষক সন্দিহান। রোববার প্রকাশিত বেশির ভাগ জনমত জরিপে ‘লিব-ডেম’দের অবস্থান ছিল যথারীতি তৃতীয় স্থানে।
ক্লেগ ‘প্রকৃত পরিবর্তন’ আনার কথা বলেছেন তাঁর প্রচারণায়। একই সঙ্গে তাঁর দল ক্ষমতাসীন লেবারদের নয় বরং রক্ষণশীল টোরি দলকে তাঁদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে বলেও ঘোষণা করেছেন।
আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ঝরে পড়া স্কুলছাত্র থেকে জঙ্গি

মুম্বাই হামলায় অংশগ্রহণকারী জঙ্গি মোহাম্মদ আজমল কাসাব স্কুলের গণ্ডিও পার হতে পারেননি। লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখান তিনি। তাঁরই ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পাকিস্তান থেকে মুম্বাই আসেন। হামলার সময়অন্য সব সঙ্গী নিহত হলেও একমাত্র তিনিই ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। আজ ওই মামলার রায়ে তাঁর প্রাণদণ্ড হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের হাতে কাসাবের ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে যেসব তথ্য এসেছে, তাকে সম্পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত বলা যাবে না। এসব তথ্য ছাড়া ছাড়া। তবে যত দূর জানা যায়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফরিদকোটে কাসাবের জন্ম। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মাদ আমির ঈমান। তিনি গ্রামে একটি খাবার-দাবারের দোকান চালান। স্থানীয় ভোটার তালিকা অনুযায়ী তাঁর মায়ের নাম নূর।
২০০০ সালে কাসাব স্কুল ছাড়েন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি লাহোরে শ্রমিকের কাজ করেন।
পুলিশের কাছে তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্যই তিনি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবায় যোগ দেন। অবশ্য এমন গুঞ্জনও রয়েছে, তাঁর বাবা নাকি স্রেফ অর্থের জন্য তাঁকে জঙ্গি দলে ভিড়িয়েছিলেন।
মামলার কৌঁসুলিরা তাঁকে চতুর ও ধূর্ত প্রকৃতির জঙ্গি হিসেবে উল্লখ করেছেন।
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিক্ষা-দীক্ষার অভাব ও গ্রামীণ পরিবেশে দরিদ্র পরিবারে বড় হওয়ার কারণে উগ্রপন্থীরা সহজেই তাঁকে তাদের দলে ভেড়ায়। কাসাবের সাবেক একজন আইনজীবী বলেছেন, হামলা চালানোর ব্যাপারে আগেই তাঁকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করা হয়েথাকতে পারে।
ফরিদকোটের একজন কৃষক বলেছেন, কাসাব মাঝে মধ্যে গ্রামে এসে কাশ্মীরের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন।
মামলার প্রথম দিকে কাসাবকে আদালতে ওঠানোর পর তাঁকে যথেষ্ট স্বাভাবিক মনে হতো। মাঝে মধ্যে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি হাসি ঠাট্টাও করতেন। তবে শেষের দিকে তাঁর চেহারায় বিষাদের বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মামলা চলাকালে তিনি বেশ কয়েকবার তাঁর খাবারে বিষ মেশানো হয় বলে অভিযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ অস্বীকার করে।
গত বছরের এপ্রিলে কাসাব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও জুলাই মাসে তিনি নাটকীয়ভাবে নিজের দোষ স্বীকার করেন। সে সময় তিনি জবানবন্দীতে বলেন, লস্কর-ই-তাইয়েবার মিশন নিয়েই তিনিসহ মোট ১০ জঙ্গি মুম্বাইয়ে হামলা চালান। তবে গত ডিসেম্বরে আবার তিনি হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। ওই সময় তিনি বলেন, সিনেমা দেখার জন্য তিনি পাকিস্তান থেকে মুম্বাই আসেন। সেখান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে এ মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়

তালেবানের দায় স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়া ঘটনাস্থল থেকে পলায়নপর এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই বোমা হামলার চেষ্টার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবান। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি নাকচ করেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য সফরের সময় তিনি জানান, দোষীদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করছে মার্কিন নিরাপত্তাবাহিনী এবং নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বারাক ওবামা বলেন, ‘মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে এবং হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করানোর জন্য যা করা প্রয়োজন, এর সবকিছুই আমরা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। দেশে ও দেশের বাইরে মার্কিন জনগণকে রক্ষায় সবকিছু করা হবে।’
এদিকে ওই বোমা হামলা চেষ্টার দায়িত্ব স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবান। একটি ইসলামি ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তেহরিক-ই-তালেবান গত রোববার জানিয়েছে, ইরাকে নিহত আল-কায়েদার শীর্ষ দুই নেতা আল মুজাতির ও আল বাগদাদিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই ওই বোমা হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত মাসে ইরাকি বাহিনীর এক অভিযানে তাঁরা নিহত হন।
এ ছাড়া ইন্টারনেটে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় পাকিস্তানি তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোয় আমাদের যোদ্ধারা শিগগিরই হামলা চালাবে।’ গত এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে এই ভিডিও রেকর্ড করা হয়।
গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন বাহিনীর বোমা হামলায় মেহসুদ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, মেহসুদ সম্ভবত ওই হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।
তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী জেনেট নেপোলিটানোসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করলেও কোনো জঙ্গি সংগঠন বা কোনো চক্রকে এখন পর্যন্ত সরাসরি দায়ী করেননি।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেন, তালেবান বা অন্য কোনো বড় সন্ত্রাসী সংগঠন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে শহরের পুলিশ-প্রধান রেমন্ড কেলি তেহরিক-ই-তালেবানের দাবি নাকচ করে বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এ ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিউইয়র্ক এমন একটি জায়গা, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ আসে। তারা নিরাপদ বোধ করে বলেই এখানে আসে এবং ভবিষ্যতেও আসতে থাকবে।’
ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দারা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাছে অনেক তথ্যপ্রমাণও পৌঁছেছে। টাইমস স্কয়ারের বিভিন্ন অংশে স্থাপিত ৮২টি গোপন ক্যামেরার ভিডিও তারা পেয়েছে। এগুলো এখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ-প্রধান কেলি জানান, এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণ এবং হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় নিজের পোশাক পরিবর্তন করছেন—এমন একটি দৃশ্য ধরা পড়েছে একটি গোপন ক্যামেরায়। লোকটি শ্বেতাঙ্গ, বয়স ৪০ বছরের মতো হবে।
কেলি আরও জানান, এ ছাড়া একজন পর্যটক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনিও সম্ভবত ওই লোকটির ছবি তুলতে পেরেছেন। কেননা ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় ভিডিও করছিলেন।
গত শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে ৪৫ স্ট্রিটে রাখা একটি গাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে পুলিশকে খবর দেন এক হকার। পুলিশ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গ্যাসোলিন গান পাউডার, পেট্রল, প্রপেন ট্যাংক, বৈদ্যুতিক কেব্ল এবং বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি ঘড়ি উদ্ধার করে।

নিস্টলরয়ের বিশ্বকাপ শেষ

দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব সম্ভব যাওয়া হচ্ছে না রুড ফন নিস্টলরয়ের। ইঙ্গিতটা সে রকমই দিয়ে রাখলেন নেদারল্যান্ডের ফুটবল কোচ বার্ত ফন মারউইক। দলের অনুশীলন শিবিরের জন্য কাল যে ২৭ খেলোয়াড়কে ডেকেছেন তিনি, সে তালিকায় নেই জাতীয় দলের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ৩৩ গোল করা নিস্টলরয়। মাঝখানে স্বেচ্ছায় জাতীয় দল ছাড়লেও সম্প্রতি তিনি জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছিলেন। চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ সময়সীমা ১ জুন। এর পরে কোনো ফুটবলার ইনজুরিতে পড়লেই কেবল দলে পরিবর্তন আনা যাবে। ডাচ দলে নির্বাচিত কোনো স্ট্রাইকারের চোটই কেবল বিশ্বকাপে ফেরাতে পারে নিস্টলরয়কে।

ডেভিস কাপে হার বাংলাদেশের

রথম ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে হারের পর ভিয়েতনামের কাছেও হার। ডেভিস কাপের এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের গ্রুপ-৩-এর প্রতিযোগিতার শেষ ম্যাচেও হারল বাংলাদেশ। ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠানরত টুর্নামেন্টে কাল তারা ২-১ ব্যবধানে হেরেছে লেবাননের কাছে। প্রথম এককে আলমগীর ৪-৬, ৬-৪, ৬-২ গেমে এ ব্রেইখকে হারালেও, দ্বিতীয় এককে রঞ্জন রাম ০-৬, ৩-৬ গেমে হেরে গেছেন কে আলয়ালের কাছে। এর পর দ্বৈতে শিবু-আলমগীর জুটিও হারে

অলৌকিক আশায় ফার্গুসন

লিভারপুলকে পরশু ২-০ গোলে হারিয়ে চেলসি অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে শিরোপা। একই দিনে নানির গোলে সান্ডারল্যান্ডকে হারিয়েও (১-০) ১ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা ম্যানইউয়ের শিরোপাহীন থাকাটাও এতে প্রায় নিশ্চিত। শিরোপা জিততে হলে চেলসিকে এখন নিজেদের মাঠে উইগানের বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচটা জিততে হবে। কাজটা যে চেলসির জন্য খুবই সোজা, সেটা ম্যানইউ কোচ ফার্গুসনও মানছেন।
মানছেন আর বকছেন। বকছেন কাকে? ভাগ্যকে তো বটেই, সঙ্গে স্টিফেন জেরার্ডকেও! এর মধ্যে আবার জেরার্ড এলেন কোত্থেকে? ফার্গুসন দাবি করছেন, লিভারপুল অধিনায়ক জেরার্ডের ভুলেই চেলসি ম্যাচ জিতে গেছে। অতএব ম্যানইউয়ের এমন অবস্থার জন্য জেরার্ডেরই যত দোষ।
জেরার্ডেরই একটা ব্যাকপাসকে কাজে লাগিয়ে চেলসির পক্ষে প্রথম গোলটা করেছিলেন দ্রগবা। ফার্গুসনের কথা, ‘ওটা স্রেফ একটা উপহার। এখন তো আর আমাদের এটা নিয়ে কিছু করার নেই।’
কিছু করার না থাকলেও ফার্গুসন আশা ছাড়ছেন না। একটা ‘মিরাকল’-এর আশা করছেন তিনি। স্টামফোর্ড ব্রিজে গিয়ে উইগান চেলসিকে হারিয়ে দিয়ে আসবে, এমন একটা স্বপ্ন তাঁর চোখে।

জাতীয় মহিলা দাবা

শিরোপার জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে শারমিন সুলতানা (শিরিন) ও শামীমা আক্তারের (লিজা) মধ্যে। খেলা বাকি মাত্র দুই রাউন্ড, নয় রাউন্ড শেষে দুজনেরই সংগ্রহ সাড়ে আট পয়েন্ট। সাড়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মাসুদা বেগম। তৃতীয় স্থানে থাকা নাজরানা খানের (ইভা) পয়েন্ট ছয়। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে শারমিন কাল জাহানারা হককে এবং শামীমা মাসুদাকে হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ জিতেছেন রোকসানা তিতলীর বিপক্ষে। নাজরানা ও জাকিয়া সুলতানার ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

এক বছর না যেতেই অনিশ্চিত সুপার কাপ

কোটি টাকার সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এ বছর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় জেগেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর কাল অনুষ্ঠিত বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় টুর্নামেন্টের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘এই টুর্নামেন্ট করে কী লাভ’ কেউ কেউ এ প্রশ্ন তোলায়, সেটা আর হয়নি। বিশ্বকাপের পরপরই অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরের ভবিষ্যৎ তাই হঠাৎ করেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে!
সুপার কাপের বিপক্ষে মতামত দেওয়া সদস্যদের যুক্তি, চলমান পেশাদার লিগে পাতানো খেলা চলছে এবং যেহেতু সুপার কাপে পেশাদার লিগের দলই খেলবে, তাই তাদের নিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার টুর্নামেন্ট করা নিরর্থক। পাতানো খেলার সঙ্গে যুক্ত কেউ না-কেউ এক কোটি টাকার অর্থ পুরস্কার পেয়ে যাবে। তাতে ফুটবলের কোনো লাভ হবে না। এর চেয়ে বরং এই টাকা দিয়ে অন্যকিছু করা ভালো।
‘অন্যকিছু কী’ সেটা ঠিক করতে ৮-১০ দিন সময় নিয়েছে নির্বাহী কমিটি। এই সময়ের মধ্যে পৃষ্ঠপোষক সিটিসেলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সিটিসেলের চাওয়া না-চাওয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যদি টুর্নামেন্টটি হয়, তাহলে এটিকে আকর্ষণীয় করার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।
সভাসূত্রে জানা গেছে, পাতানো খেলা নিয়ে এদিন সভা ছিল বেশ সরগরম। সবাই এর বিপক্ষে মতামত দিয়েছে এবং তদন্ত করার জন্য পুলিশি সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুটবলের দুর্ভাগ্য, পাতানো খেলা নিয়ে যাঁরা সভায় বসে আলোচনা করেন, তাঁদের অনেকেই আবার ক্লাবে গিয়ে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন!
বিশ্বকাপের টিকিট বিতরণসহ আরও অনেক বিষয়ে উত্তাপ ছিল ৫ ঘণ্টার দীর্ঘ সভায়। যাতে এ মাসে ঢাকা মহানগর স্কুল ফুটবল শুরু করার সিদ্ধান্তটাই বলার মতো খবর।

এবার আর ওয়ালকট-বিস্ময় নয়

বিস্ময় শব্দটা থিও ওয়ালকটের সঙ্গে খুব যায়। সেই ছোট্টটি থেকেই একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে আসছেন ইংলিশ উইঙ্গার। যখন স্কুলে পড়েন, নিউবুরি ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে ১০০ গোল করে বিস্ময় উপহার দেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নাইকির সঙ্গে স্পনসর চুক্তি করেন। স্কুল ছাড়ার দুই সপ্তাহ পরই সুযোগ পান সাদাম্পটনের রিজার্ভ দলে। পরে খেলেন মূল দলে, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে।
২০০৬ সালে জুনিয়রদের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার রেকর্ড গড়ে নাম লেখান আর্সেনালে। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পেয়ে তো ইংল্যান্ডের বিস্ময়বালক খেতাব পেয়ে যান। তবে কোচ গোরান এরিকসন তাঁকে একটি ম্যাচেও খেলাননি। এটাও এক বিস্ময়। এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে। এ রকম আরেকটা ওয়ালকট-বিস্ময় দেখতে চান না তাঁর আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। সম্প্রতি ওয়ালকটকে নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ বিশ্বকাপ দলে তাঁকে না রাখারও পরামর্শ দিচ্ছেন ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোকে। কিন্তু ওয়েঙ্গারের কথা, ওয়ালকটের ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে না থাকাটা হবে চরম বিস্ময়ের।
ওয়ালকটকে ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনা একটি ম্যাচে তাঁর বাজে পারফরম্যান্সের কারণে। ওয়েম্বলিতে গত মার্চে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর নামের সঙ্গে যায়নি। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করা ওয়ালকটের এই খেলা দেখে সাবেক ইংলিশ উইঙ্গার ক্রিস ওয়াডল বলেছিলেন, ‘ও আসলে খেলাটা ঠিক বুঝতে পারে না।’
কথাটি ওয়ালকটের পছন্দ হয়নি। ওয়ালকট বলেছেন, ‘একজন উইঙ্গারের জন্য আসল আপনি শেষের কাজটা কতটা ঠিকভাবে করতে পারলেন তাই। আপনি সবকিছু ভালো করতে পারেন—সুন্দর ড্রিবল করে প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলতে পারেন, কিন্তু বলটি শেষ পর্যন্ত জায়গামতো না দিতে পারলে এর কোনো দাম নেই।’
এই শেষ ভালোটাই হয়ে হয়েও হচ্ছে না ওয়ালকটের। গত বিশ্বকাপে গেলেন, পত্রপত্রিকার শিরোনাম হলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ম্যাচও খেলা হলো না।
এই বিশ্বকাপেও এমন হবে না তো? ওয়ালকটের বিশ্বাস, এবার আর এমন হবে না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের আর দুটি ম্যাচ বাকি আছে। এই দুই ম্যাচে ভালো খেলে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে নিজের গুরুত্বটা নিশ্চয়ই বোঝাতে পারবেন বলে বিশ্বাস ওয়ালকটের।

বিশ্বকাপ শেষ মুরালির

দল হারলেও মুত্তিয়া মুরালিধরন নিজে সফল ছিলেন ঠিকই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে আউট করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের মূল দুই ব্যাটসম্যান জেসি রাইডার ও রস টেলরকে। তবে ওই ম্যাচেই পড়েছেন ইনজুরিতে, যা তাঁকে ঠেলে দিল টুর্নামেন্টেরই বাইরে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও দলের সহ-অধিনায়ক ও সেরা বোলারকে পাবে না শ্রীলঙ্কা। গতকাল অবশ্য জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছে কুমার সাঙ্গাকারার দল।
মুরালির ইনজুরিটা ঊরুর। তবে গুরুতর কিছু নয়। শ্রীলঙ্কার ফিজিও টিম সিমসেক জানিয়েছেন, সপ্তাহ দুই-তিন বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। টেস্ট ও ওয়ানডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মুরালিধরন ১০টি টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি ৬.১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।

ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জিং স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য ১৯২ রানের টার্গেট দিয়েছে ইংল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে তোলে ১৯১ রান। ইংল্যান্ডের এই স্কোরে বড় অবদান এউইন মরগানের। ৩৫ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছয়ে ৫৫ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৫ (২৭ বল, ১ চার, ৪টি ছয়) করেছেন লুক রাইট। ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ড্যারেন স্যামি।

হকি দলে কোনো চমক নেই

দল ঘোষণা শেষ। এশিয়ান গেমস বাছাই হকির চূড়ান্ত দলে আছেন কি না, তখনো নিশ্চিত নন ইরফান আহমেদ। ফেডারেশনের সিঁড়ি ভেঙে নামতে নামতে চূড়ান্ত দলের তালিকায় চোখ রেখে তবেই তাঁর স্বস্তি। হেসে জানালেন, ‘না, বাদ পড়িনি।’ ১৮ জনের চূড়ান্ত দলে বাদ পড়ার মতো তেমন কেউই যে ছিলেন না!
কাল দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক মামুনুর রশিদ জানালেন, গত এসএ গেমসের অধিনায়ক মশিউর রহমান (বিপ্লব) এই টুর্নামেন্টেরও অধিনায়ক। প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ২৫ জনের মধ্যে পাঁচজনই অনুশীলনে যোগ দেননি। দুই সহোদর ইসা-মুসা আগেই জানিয়েছিলেন টুর্নামেন্টে খেলবেন না। হুট করেই অনুশীলনের মাঝপথে নেদারল্যান্ডে চলে গেছেন তাপস বর্মণ। মেহরাব হোসেনও (কিরণ) লাপাত্তা! পরে জানা গেল, তিনিও চলে গেছেন ইতালিতে। অন্যদের মধ্যে পরিচিত মুখ সবাই ডাক পেয়েছেন। বাদ পড়েছেন শুধু হাসান যুবায়ের (নিলয়), শামসুল আলম (সুজন) ও রিয়াজ আহমেদ।
এসএ গেমসের দলে থাকা গোলরক্ষক মেহরাবের জায়গায় দলে ঢুকেছেন জাহিদ হোসেন। দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন মনোয়ার হোসেন (রাসেল)। আসাদুজ্জামান, মশিউর, মামুনুরদের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগের সঙ্গে মিডফিল্ডে রাসেল মাহমুদ (জিমি), নান্নু, মাকসুদ। এই দল নিয়ে সন্তুষ্টই কোচ পিটার গেরহার্ড, ‘দল নিয়ে আমি খুশি।’ তাপস ও মেহরাবকে কি মিস করবেন? কোচের কথাবার্তায় তেমনটি মনে হলো না, ‘তাপস ও মেহরাবকে ছাড়াই ভালো খেলবে ছেলেরা।’ তবে কাউকে না জানিয়ে মেহরাবের বিদেশে যাওয়াটাকে ভালোভাবে নেননি কোচ, ‘গত এসএ গেমসের সময় থেকেই দেখেছি ও একটু বিশৃঙ্খল টাইপের। এমন একটা কাজ ওর পক্ষেই করা সম্ভব।’
তবে মেহরাবকে ছাড়াই দল ভালো খেলবে বলে বিশ্বাস কোচের। কোনো দলকে নিয়ে আলাদাভাবে দুশ্চিন্তাও নেই কোচের, ‘আমরা এখন নিজেদের নিয়েই ভাবছি। তবে অন্যদের সম্পর্কে খুব বেশি ধারণাও আমাদের নেই। তাই কাউকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।’ টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন দিন বাকি থাকলেও এখনো নেদারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেননি পুষ্কর খীসা। কোচ জানালেন, ‘ও দুই-এক দিনের মধ্যেই চলে আসবে।’ নিয়মিত অনুশীলন ছাড়াও হংকংয়ের বিপক্ষে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে কোচের।
বাংলাদেশ দল: মশিউর রহমান (বিপ্লব), মামুনুর রহমান (চয়ন), জাহিদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, আসাদুজ্জামান (চন্দন), রাসেল মাহমুদ (জিমি), মোশারফ হোসেন (কুটি), শেখ মোহাম্মদ নান্নু, আবদুস সাজ্জাদ (জন), কামরুজ্জামান (রানা), কৃষ্ণকুমার, মাকসুদ আলম (হাবুল), আল মশিউর রহমান (ফিরোজ), ইমরান হাসান (পিন্টু), ইরফান আহমেদ, জাহিদ বিন তালিব (শুভ), পুষ্কর খীসা (মিমো) ও গোলাম মোস্তফা (মানিক)।