Saturday, February 8, 2025

মৃত্যুর পর ‘ছুটির ঘণ্টা’ নির্মাতার একুশে পদক নিয়ে অনেক কথা মেয়ের

দুই বছর আগে কানাডায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবির নির্মাতা আজিজুর রহমান। এরপর দেশে এনে তাঁর মরদেহ জন্মস্থান বগুড়ার সান্তাহারে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই সময়েই পরিবারের সদস্যরা আজিজুর রহমানের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। এবারের একুশে পদকে আজিজুর রহমানের নাম প্রকাশ করায় পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে। এক ফেসবুক পোস্টে এমনটা জানিয়েছেন আজিজুর রহমানের মেয়ে আলিয়া রহমান বিন্দি।

আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম রূপচান প্রামাণিক। তিনি স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্শিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেন।

অনেক সফল চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে এহতেশামের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ময়মনসিংহের লোককথা নিয়ে ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’। মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। আজিজুর রহমান ৫২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’ ও ‘সমাধান’।

পরিচালক বাবা আজিজুর রহমান প্রসঙ্গে আলিয়া রহমান বলেন, ‘বাবা ছিলেন কাজপাগল একজন মানুষ। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁকে দেখেছি কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে। তিনি কখনো টাকার জন্য কাজ করতেন না। তিনি সব সময় বলতেন, “আমি টাকার পেছনে ছুটব না, এত ভালো কাজ করব যে টাকা আমার পেছনে ছুটবে।” আলিয়ার মতে, হয়েছেও তা–ই। তাঁর বাবা সেই সময়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবিগুলো বানিয়েছেন।

আজিজুর রহমান একজন প্রকৃত মানুষ ছিলেন, যিনি অনেক পরিশ্রম করে সেই অবস্থানে পৌঁছেছেন উল্লেখ করে আলিয়া রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার বাবা একজন পরিপূর্ণ মানুষ, যিনি কি না আমাদের পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। কখনো কোনো কারণে আমাদের ছোট হতে দেননি। খুবই সহজ–সরল ও নিরহংকার জীবন যাপন করতেন।’

বাবা আজিজুর রহমানের ছবি প্রসঙ্গে আলিয়া রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাবার প্রতিটা ছবি ছিল বক্তব্যধর্মী। তিনি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম “অশিক্ষিত”। যে ছবির মাধ্যমে জানাতে চেয়েছিলেন শিক্ষার কোনো বয়স নাই। তেমনি “ছুটির ঘণ্টা”য় সন্তানদের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন। “রঙিন রূপবান” বাংলাদেশ লোকগাথা নিয়ে বানানো। “ফুলেশ্বরী” গ্রামবাংলার যাত্রাপালার গল্প। তাঁর বেশির ভাগ ছবি গ্রামীণ পটভূমিতে বানানো। “জনতা এক্সপ্রেস” এক ট্রেনচালক ও তাঁর কাজের প্রতি দায়িত্ববোধের গল্প। এভাবেই তিনি এই জগতে হয়ে উঠেছিলেন একজন কিংবদন্তি। তিনি কখনো সমঝোতা করেননি, কখনো চাটুকারিতা করেননি এবং নেই কোনো স্ক্যান্ডালও।’

সর্বশেষ আলিয়া রহমান লিখেছেন, ‘চলচ্চিত্রজগতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয়। বাবা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন। তিনি তাঁর সারা জীবন চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যয় করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী গল্প, নিরলস পরিশ্রম আর নতুন প্রযুক্তির ওপর গবেষণা তাঁর ছবিগুলোকে নিয়ে গেছে অন্য এক মাত্রায়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো তাই তো আলোচনায় আছে যুগের পর যুগ। ব্যক্তিগত জীবনে বাবার কোনো আক্ষেপ ছিল না। বাবা নিজ হাতে তাঁর পরিপূর্ণতার কথা লিখে রেখে গেছেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে আক্ষেপ ছিল আমাদের। ৫২টি চলচ্চিত্রের নির্মাতা, যিনি একাধারে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, একজন অঙ্কন শিল্পী, প্রযোজক, কাহিনিকার, একজন পোস্টার মেকার, সেট ডিজাইনার, মেকআপ আর্টিস্ট। তিনি একজন ভার্সেটাইল ব্যক্তিত্বের মানুষ, অথচ একটা জাতীয় পুরস্কারের সম্মান এত দিন পাননি। পাননি আজীবন রাষ্ট্রীয় সম্মান। কিন্তু এবার আমার বাবা আজিজুর রহমান একুশে পদক পেয়েছেন। আমার বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। এটা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমরা বাবাকে এই সম্মানে ভূষিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ।’

মৃত্যুর পর ‘ছুটির ঘণ্টা’ নির্মাতার একুশে পদক নিয়ে অনেক কথা মেয়ের

শেখ হাসিনা দালাই লামা নন, ভারতের উচিত তাকে সমর্থন না দেয়া -দ্য প্রিন্ট

৫ আগস্ট থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১৮০তম দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে ভাষণ দেয়ার ঘোষণা দেন। তার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে- অনেকেই ভাবতে শুরু করেন তার দল আওয়ামী লীগ হয়তো প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছে। শুরুতে যা ছিল হাসিনার একটি সাধারণ ফেসবুক পোস্ট,  বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণরা তা কার্যত লুফে নেয়। সেইসঙ্গে ঢাকার কেন্দ্রে প্রতিবাদীদের একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। হাসিনা তার বক্তৃতা শুরু করার সময় ধানমন্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক ভবনটি, যেখানে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মুকুটহীন রাজা হিসেবে তার শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন, তার সামনে কয়েকটি বুলডোজার আনা হয়। তখন এটি কার্যত আগুনে জ্বলছিল। হলুদ বুলডোজারের বড় ধাতব ব্লেডগুলো ভবনের একের পর এক অংশ গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে। এই ভবন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি অনেককে, এমনকি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার সদস্যদেরও বিস্মিত করেছে। প্রায় ৪০ জন সেনা সদস্য বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তারা শীঘ্রই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে সেখান থেকে সরে যান। পরদিন সূর্যোদয়ের সময় বাংলাদেশ যখন জেগে ওঠে তখন তার ল্যান্ডস্কেপে পরিবর্তন ঘটে গেছে- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যা করতে পারেনি, তা ওই রাতের ৯ ঘণ্টায় ঘটে যায়। ৩২ নম্বর রোডের ভবনটিতে ইট ও ছাই- ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এরা বিক্ষুব্ধ জনতা বা ধর্মান্ধ নয়-  যারা দেশের ইতিহাসকে নতুন করে লেখার চেষ্টা করছে বা বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের আগের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে- যখন দেশটি পাকিস্তানের অংশ ছিল।

বাড়িটি ভাঙার সাথে সাথে যারা করতালি, উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন ও সেলফি তুলছিলেন তাদের মধ্যে দেশের ইংরেজি-জানা মধ্যবিত্ত এবং শহুরে মানুষও দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে হাসিনা ও তার অনুগামীরা এসব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন- যারা হাসিনার শাসনামলে একের পর এক কারচুপির নির্বাচনের কারণে তাদের জীবনে কখনো ভোটই দিতে পারেননি।

অবশ্য ভোটে কারচুপি করলেও মানুষের সমর্থন পেতে হাসিনা তার পিতার লিগেসি এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন। এই কাজটা তিনি এতটাই করেছেন যে- সাধারণ বাংলাদেশিরা মুজিবকে হাসিনা থেকে আলাদা ভাবতে পারেননি। উভয়ই দুঃখজনকভাবে একে অন্যের সাথে মিলে গিয়েছেন। হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে এখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই আবহে ভারত এখন পররাষ্ট্রনীতির জালে আটকে পড়েছে। ঢাকায় এখন আবেগ তুঙ্গে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃটিশ-বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এহতেশাম হক বলেছেন, লাখ লাখ ভুক্তভোগী মানুষ তাদের নিপীড়কের প্রতীককে সম্মান করবে বলে আপনি আশা করেন? যা কিনা ইট-বালি দিয়ে তৈরি একটি বাসা মাত্র- আপনি কি আমাদের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আমাদের দেশবাসীর কাছ থেকে নৃশংসভাবে কেড়ে নেয়া চোখ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফিরিয়ে আনতে পারবেন? আজকে ভেঙে ফেলা প্রতিটি ইট ন্যায়বিচারের প্রতীক, যা নিপীড়ক শাসকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। মুজিবকে গুম, অপশাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীকে পরিণত করেছেন শেখ হাসিনা। ৩২ নম্বর রোডের বাড়িটি, যাকে একসময় বাংলাদেশিদের গর্বের স্মারক হিসেবে দেখতেন, তা এখন হাসিনা নামের সমার্থক হয়ে উঠেছে।

ভারতের আওয়ামী লীগের সমস্যা
শেখ মুজিবুর রহমান যখন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সেন্ট্রাল জেল মিয়ানওয়ালিতে বন্দি ছিলেন তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। মুজিবকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তাজউদ্দীন আহমেদসহ মোট চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়। তাজউদ্দীনের বিধবা স্ত্রী ও সোহেল তাজের মা সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করেন এবং ১৯৭৭ সালে দলটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৩২ নম্বর রোডের বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যাবার একদিন পরও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সোহেল তাজ কোনও সমালোচনা করেননি। কারও নাম না করে তিনি তার দলের দুঃখজনক অবস্থার জন্য ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা হাসিনার ওপরই দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেন, কেউ একজন এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলের সুনামই আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

যতবারই মিডিয়ায় হাসিনার কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয় ততবারই হাসিনার প্রতি ভারতের নিরবচ্ছিন্ন এবং অটল সমর্থনের প্রশ্নটিও সামনে এসে যায়। কয়েকদিন আগে, হাসিনা তার দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন- যারা তার বিরোধিতা করেন তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দিতে। একটি অডিও ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিন।’

এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে- হাসিনা কোনও দালাই লামা নন যে, তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতকে নৈতিক সংকটে ফেলবেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশে ভারতের একমাত্র মিত্র। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে পুনর্বাসন করা এককথায় অসম্ভব, বিশেষ করে যখন সারা দেশে তার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনও জনসাধারণের মনে টাটকা, সতেজ। ৩২ নম্বর রোডে মুজিবের বাড়ি ভাঙা তারই একটি বহিঃপ্রকাশ।

অবশ্য হাসিনা সেই দুর্ভাগ্যজনক বক্তৃতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার বিরোধীরা বিশৃঙ্খল অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল- বর্ষা বিপ্লবের দিকে পরিচালিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু, হাস্যকরভাবে, হাসিনা সফলভাবে তার বিরোধীদের আবার একত্রিত হওয়ার রসদ যুগিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সক্ষম হয়েছেন। যে মুহূর্তে হাসিনার ছায়া দিগন্তে আবির্ভূত হয়েছিল, নিজেদের মধ্যে সব মতবিরোধ তারা দ্রুত ভুলে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বেশ অস্বস্তিকর অবস্থানে ফেলেছে। ভারতকে খুশি করতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে দলটি। ভারতবিরোধী বক্তব্য না দেওয়ার ও ছড়ানোর ব্যাপারেও সতর্ক রয়েছে বিএনপি। কিন্তু দিনশেষে দলটির নেতাদের নির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে- আর তাই বিএনপি কতদিন তার কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।  

এই মুহূর্তে ভারতকে দেশের তরুণ প্রজন্মের চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখতে হবে, যারা বছরের পর বছর ধরে হাসিনার হাতে নিজেদের মৌলিক মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে দেখেছে।  হাসিনার হাতে কেবল দুটি অস্ত্র ছিল- তার পিতার উত্তরাধিকার এবং ভারতের সমর্থন। মুজিবের ঐতিহাসিক বাসা ধ্বংসকে এই আলোকে দেখা উচিত এবং বিপুলসংখ্যক জনগণের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বিরাজমান ব্যাপক ক্ষোভকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা উচিত। নয়া দিল্লিকে অবশ্যই তার গর্ব খর্ব করতে হবে এবং বুঝতে হবে যে এটি এমন একটি দেশের স্বৈরশাসককে নির্লজ্জভাবে সমর্থন করেছে- যার সাথে রয়েছে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম স্থল সীমান্ত। শুধু প্রয়োজন সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো বাস্তব বুদ্ধি। এমনকি অতীতে যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল তখনও তিনি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিজের উদ্যোগে তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ।

ট্রাম্পের লেনদেনের জগৎ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একজন বাস্তববাদী মানুষ। তিনি লেনদেনে বিশ্বাসী। যেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা যা চায় সেটাই পায়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বাংলাদেশ বৈশ্বিক দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরে কৌশলগতভাবে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রাণকেন্দ্রে হিসেবে দেখে চীন। যদি কখনও দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ-অবরোধের মুখে পড়তে হয় সে ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে যাওয়ার জন্য বার্মা বা বাংলাদেশ অথবা উভয়েরই প্রয়োজন হবে চীনের। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বর্ষা বিপ্লব বাংলাদেশকে উভয় পরাশক্তির সাথে সঠিক দর কষাকষির সুযোগ করে  দিয়েছে। যেখানে ভারতের সাউথ ব্লক বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার কল্পনায় অটল বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে চীন ঢাকায় নতুন শাসন ব্যবস্থার প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখাচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশে নতুন বন্ধু তৈরি করতে হবে। সাধারণ বাংলাদেশিদের পাকিস্তানের ছায়ামূর্তি  হিসাবে চিত্রিত করা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য ভালো হতে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গে কিছু ভোট জিততে সাহায্য করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল  ক্ষতিকারক হিসেবে প্রতিভাত হবে ।

বাংলাদেশের বিষয়ে চীন বরাবরের মতোই বাস্তবতা দেখিয়েছে। তবে ভারতের বাংলাদেশ নীতি ৭৭ বছর বয়সী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, হাসিনা দেশের মাটিতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন। ভারতের এই অবাস্তববাদী নীতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও উদ্বেগজনক। কারণ চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ওপর নির্ভরশীল ওয়াশিংটন।

সূত্র :   দ্য প্রিন্ট

শুক্রবার ৩২ নম্বরে যা দেখা গেল by সুদীপ অধিকারী

ভেকু দিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা বাড়ির চিত্র দেখতে গতকাল দিনভরও ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন বন্ধুর সঙ্গে। কেউ বাবার হাত ধরে। কেউ আবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সদস্যদেরকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ লোক বাড়ি ভাঙার পক্ষে কথা বললেও কেউ কেউ এই ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের বিপক্ষেও মত দিয়েছেন।

সরজমিন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় গতকাল দেখা যায়, সকাল থেকেই লোক সমাগম রয়েছে এলাকাটিতে। কেউ মিরপুর থেকে এসেছেন। কেউ কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীচর, কেউ আবার এসেছেন মোহাম্মদপুর থেকে। সকলে এসে বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। স্লোগান দিচ্ছেন। পায়ে হাঁটা মানুষের ভিড়ের মধ্যে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল আর  গাড়ির চাপে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে আবাহনী মাঠের পেছন থেকে শুরু করে ৩২ নম্বর পর্যন্ত। এত মানুষের সমাগম দেখে বিভিন্ন খাবারের দোকান সাজিয়ে নিয়েও বসেছেন অনেকে। যেন এক দর্শনীয় স্পটে রূপ নিয়েছে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর। অনেকেই স্মৃতি হিসেবে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর ভাঙা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। কেউ আবার হেসকাব্লেড দিয়ে ভাঙা বাড়ির রড কাটায় ব্যস্ত। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকালের তুলনায় গতকাল মানুষের চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল বিকালে। তাদের মধ্যে এমনই একজন আসিফুল ইসলাম। বেসরকারি এই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, মিরপুরে বাসা ও বৃহস্পতিবার অফিস থাকায় এখানে আসতে পারিনি। তিনি বলেন, এই ভাঙা বাড়িটি দেখলেই বোঝা যায় ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী হয় না।

এত ক্ষমতাশালী ছিল শেখ মুজিব ও তার মেয়ে শেখ হাসিনা। কিন্তু আজ তাদের বাড়ির এই অবস্থা। তাই ৩২-এর এই ভাঙা বাড়ি থেকে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ আমাদের সকলের শিক্ষা নেয়া উচিত। কেরানীগঞ্জ থেকে ছেলের সঙ্গে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আসা মো. আব্দুর রহমান নামে এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ বলেন, আমি সেই কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি শুধু এই বাড়িটি দেখতে। তিনি বলেন, বিশ্বের কতো বড় বড় রাজনৈতিক নেতা আছেন যারা তাদের কর্মের জন্য আজও অমর হয়ে আছেন। তাদের দেশের মানুষ তাদেরকে কতো শ্রদ্ধা করে। আবার এমন মানুষও আছে যাদের বাড়ি বুলডোজার লাগিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এগুলো সবই কর্মের ফল। যে যা করবে তাকে সেই ফল ভোগ করতে হবে। আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। তিনিই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিচারক। এদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন লাগানোর পর ভাঙা বাড়ির কয়লা ও ইটের টুকরো নিজের সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন আনিছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, হাজার হাজার বছরের সুন্দর নগরীও এক সময় কয়লায় রূপ নেয়। কয়লা হচ্ছে প্রতিটি জিনিসের সর্বশেষ রূপ। বছরের পর বছর ধরে নানা ইতিহাস বহন করা শেখ মুজিবের এই বাড়িটিও আজ কয়লা হয়ে গেছে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এর নির্মাণশৈলী।

এই ধ্বংসাবশেষও দু’দিন পর থাকবে না। হয় কেউ চুরি করে নিয়ে যাবে, না হয় সরিয়ে ফেলা হবে। তাই এই কয়লা আর ইটের টুকরো আমার সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, শেখ হাসিনা যত অন্যায় করেছিল তার ফলস্বরূপ তাকে ৫ই আগস্ট দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তারপর কিন্তু সব ঠিকই চলছিল। হঠাৎ করে তার এমন বক্তব্য দেয়ার জন্যই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙচুর, সুধাসদনে আগুনসহ সারা দেশে এক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। দেশটা আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে। তিনি তো  ভারতে পালিয়ে গিয়ে ভালোই আছে আমাদের দেশের মানুষ আছে অশান্তিতে। তাই আমরা চাই এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা আর যেন দেশে না আসে।

তবে এসব ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের বিরোধিতাও করেছে অনেকে। মো. সবুর হোসেন নামে এক মধ্য বয়সী লোক বলেন, একজন অন্যায় করেছে বলে যদি আমরাও অন্যায় করি তাহলে তো তার মতো আমরাও সেই জালেম হয়ে গেলাম। তাই এসব ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারামারি থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে আমাদের ভেতরের পশুত্বটা জাগ্রত হয়। কোনো মজলুমের ওপর অন্যায় হলে আল্লাহ তার বিচার করেন। আর এই জন্যই এত ক্ষমতাশালী শেখ হাসিনাকে আজ দেশ থেকে পালাতে হয়েছে। সাইফুল আসলাম নামে আরেকজন বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বিভিন্ন উস্কানি দিচ্ছে। আর তাতে নেচে যদি আমরা সারা দেশে হামলা-ভাঙচুর চালাই তাহলে তো সে সফল। সে তো এটাই চায়- আমরা নিজেদের মধ্যে হানাহানি করি। দেশে অশান্তি বিরাজ করুক। সারাবিশ্ব দেখুক বাংলাদেশ একটি জঙ্গি রাষ্ট্র্র। দেশের সাধারণ মানুষ বলুক- আগের সরকারই ভালো ছিল। শেখ হাসিনা এটার জন্যই এসব করছে। তাই আমাদের উচিত যে যাই বলুক, কোনো দিকে কান না দেয়া। দেশের মানুষের ভরসা জয় করা। দেশটাকে শান্ত রাখা। কারণ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতারা তো সব পলাতক। বাড়িতে নেই। ওই জনশূন্য বাড়ি ভেঙে আর লাভ কী। এতে প্রতিহিংসার রাজনীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে ধানমণ্ডি ৩২ আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমনকে ঘিরে সেখানে বিভিন্ন খাবারের দোকান নিয়ে বসেছে অনেকে। রেঙ-বেরঙের বেলুন বিক্রি হচ্ছে। চা, ঝালমুড়ি, চিকেন চাপ, কাবাব সবই পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। শরীফ নামে এক দোকানি বলেন, এখানে এই ভাঙা বাড়ি দেখতে অনেক মানুষ আসছে। তাই বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। লিয়াকত নামে আরেক দোকানি বলেন, অন্যখানে তিনদিনে যা বিক্রি করি তার চেয়ে বেশি এইখানে একবেলা বিক্রি করছি। একের পর এক মানুষ আসছে, দেয়ার সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সকলে ছবি তোলায় ব্যস্ত। এক উৎসব উৎসব আমেজ। দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই।

অপরদিকে গতকালও দিনভর একদল ছিন্নমূল মানুষকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ির ইট বালু ছাড়িয়ে রড কাটতে দেখা গেছে। কেউ আবার রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্ট, বিদ্যুতের খুঁটি খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ইট, কাঠ, রডসহ বিক্রি করার মতো কিছু পেলেই নিয়ে যাচ্ছে তারা। এমন কী শেখ মুজিবের বাড়ির পাশের সাধারণ মানুষের ভবনে ঢুকেও সব নিয়ে যাচ্ছে তারা। এসব দেখে কেউ কেউ বাধা দিলেও বেশির ভাগ মানুষ নিশ্চুপ। অনেকেই বলছে- এই বাড়ি ভাঙার মাহাত্ম্যটাই শেষ করে দিচ্ছে এসব টোকাই। এলাকাটিতে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেলেও তারা ছিলেন নিজেদের মধ্যে গল্পে মশগুল।

অস্থির সময়, দেশটা যাচ্ছে কোথায়?

এমনিতেই সময়টা অস্থির। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। পুলিশ, প্রশাসন পুরোমাত্রায় সক্রিয় নয়। নানা প্রশ্ন, অনিশ্চয়তা। তবে দুই-তিনদিনের বুলডোজার হামলায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে চরম।

নতুন করে জেঁকে বসেছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। অনেকেই বুঝার চেষ্টা করছেন কী হচ্ছে? পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশে কার্যত কোনো সরকার নেই। ঘটনা ঘটার ২৪ ঘণ্টা পর সরকারের বিবৃতি হাস্যকর শুধু নয়, এক ধরনের তামাশায় পরিণত হয়েছে। উল্লাসের নৃত্য দেখে সচেতন মহলে প্রশ্ন, দেশটা আসলে যাচ্ছে কোথায়? সরকারের ভেতরে যে আরেকটা সরকার কাজ করছে- এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আর নানা পেশার মানুষ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, মবোক্রেসি দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। উদ্বেগ জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হকও। চলমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার পরিবার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্পত্তিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গতকাল বিকালে একটি বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে শুক্রবার রাতে একটি বিবৃতি দেয় সরকার। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের  চেষ্টা করছে। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্তভাবে প্রতিহত করবে। অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত। কোনো ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। পুরো পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে দু’টি পোস্ট করেছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সর্বশেষ পোস্টে তিনি বলেছেন, শান্ত হোন। সরকারকে কাজ করতে দিন।

এ পর্বের অবনতিশীল পরিস্থিতির শুরুটা অবশ্য বুধবার। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দিবেন- এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই ছাত্র- জনতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফেসবুক-ইউটিউবে একদল ব্যক্তি হাসিনার বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলার ডাক দেন। তবে উত্তেজিত জনতার হামলা-ভাঙচুর কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। সুধাসদনসহ হামলা হয়েছে জেলায় জেলায়। আক্রান্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর। এসব নেতারা অবশ্য বাড়িতে ছিলেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে। কিন্তু দৃশ্যত সরকার এসব বন্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনের নেতারাসহ আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। উস্কানি দেয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত কি-না সে প্রশ্নও উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা সত্য যে, আওয়ামী লীগের বহু নেতাই মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত এবং তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। তাদের বিচার শুরু হয়নি। অনেককে কাঠগড়ায়ও তোলা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আইনের শাসনে আদালত ছাড়া আর কোথাও তো এসব ইস্যুর সুরাহার সুযোগ নেই। বরং বুলডোজারের ব্যবহার এবং মব অন্য কোনো পক্ষের জন্যই সুবিধা তৈরি করতে পারে।  

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে: বিএনপি
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি। দলটি বলছে, সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে উগ্র  নৈরাজ্যবাদী গণতন্ত্রবিরোধী দেশি-বিদেশি অপশক্তির পাশাপাশি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা  দেখা দিতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। যার উপসর্গ ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান বলেও দাবি করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিএনপি বলছে, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে বিতাড়িত পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার এবং তার  দোসরদের উস্কানিমূলক আচরণ, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে অশালীন এবং আপত্তিকর বক্তব্য, মন্তব্য দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত স্বৈরাচারের স্মৃতি, মূর্তি, স্থাপনা ও নামফলকসমূহ ভেঙে ফেলার মতো জনস্পৃহা দৃশ্যমান হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৬ মাসেও পলাতক স্বৈরাচার এবং তাদের দোসরদেরকে আইনের আওতায় আনতে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ জনসম্মুখে দৃশ্যমান করতে সফল হয়নি বলে জনমনে প্রতিভাত হয়েছে। ফলে জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হচ্ছে। একটি সরকার বহাল থাকা অবস্থায় জনগণ এভাবে নিজের হাতে আইন তুলে নিলে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। অথচ জুলাই ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, যা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানান ধরনের দাবি-দাওয়া নিয়ে যখন তখন সড়কে ‘মব কালচারের’ মাধ্যমে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে, যা সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে মুন্সিয়ানা  দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, নিন্দিত ঘৃণিত পলাতক স্বৈরাচার এবং তার  দোসরদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরাজিত ফ্যাসিস্টদের উস্কানিমূলক তৎপরতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অতি জরুরি অগ্রাধিকার, অথচ এসব বিষয়ে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এখনো প্রশাসনকে পতিত ফ্যাসিস্ট শাসকের দোসরমুক্ত করা হয়নি, বিচার বিভাগে কর্মরত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিদ্যমান, পুলিশ প্রশাসনে গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী সক্রিয় সদস্যরা এখনো কর্মরত। এমতাবস্থায় সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সফলতা অর্জন করতে পারবে কি-না তা যথেষ্ট সন্দেহের উদ্রেক করে।

থামুন, সরকারকে কাজ করতে দিন: মাহফুজ আলম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন,  শান্ত হোন। সরকারকে কাজ করতে দিন। বিচার ও সংস্কার হবেই। আমি জানি এ উত্তপ্ত মৌসুমে  কেউ থামতে বলবে না আপনাদের। কিন্তু, আপনারা গালি দিলেও বলবো, থামুন।

জনগণ এবার রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন গঠনমূলক রাজনীতির সময়। উত্তম বিকল্প দেখানোর সময়। প্রতিরোধের প্রয়োজনেই দরকার নিজেদেরকে প্রশিক্ষিত, প্রাজ্ঞ ও স্থির করে তোলা।

এটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই। প্রস্তুতি নিন, হঠকারিতা করবেন না। অভ্যুত্থানের ফসল নষ্ট করবেন না। শত্রুরা আপনাদের যেভাবে দেখতে ও  দেখাতে চায়, সে পথে না যাওয়াই এদেশের জন্য ভালো। হাসিনার দিয়ে যাওয়া ট্রমা যেন আপনাদের উপর ছায়া না ফেলে। আমরা একটা নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়বোই। দীর্ঘপথ, কিন্তু আমাদের জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প নাই।

ওদিকে, মবোক্রেসি দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মবোক্রেসি দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। এখানেই  থেমে যাওয়া উচিত।’ মাওলানা মামুনুল হক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন, অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সংগ্রামে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনতার অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ফ্যাসিবাদের প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন ও প্রতীকের বিরুদ্ধে  দেশপ্রেমিক তরুণ প্রজন্মের মহাজাগরণ এক অবিস্মরণীয় বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছে। আগামীতে ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশপ্রেমিক জনতার কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ দেখার প্রতীক্ষায় আছি আমরা সবাই।  দেশবিরোধী অপশক্তি, তার দোসর ও পরিকল্পনাকারীরা বসে নেই উল্লেখ করে আরও বলা হয়, জনতার জাগরণের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে  যেকোনো মুহূর্তে। ইতিমধ্যে চিন্তাশীল মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। আশঙ্কা হচ্ছে-চলমান আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে ভয়ঙ্কর চাপের মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

mzamin

কেন স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবের বাড়িতে আগুন দিল জনতা? -আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এরপর গত বুধবার রাতে হাসিনার প্রয়াত পিতা এবং দেশের স্বাধীনতার নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে একদল জনতা। শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর বাড়ির পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা হাসিনার দল আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বাড়িতেও আগুন দিয়েছে।

ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি উত্তপ্ত ভাষণ দেয়ার পরই ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে জড়ো হয় জনতা। বক্তৃতায় হাসিনা তার সমর্থকদের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আহ্বান জানান।

জুলাই-আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটিতেও হামলা চালানো হয়। এর মাধ্যমে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো হয়। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেসময় ছাত্রদের দমন করতে দেশব্যাপী সহিংসতার পথ বেছে নেয়া হয়েছিল। যার ফলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং তাতে অন্তত ৮৩৪ জন নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

শেখ মুজিবুর রহমান কে ছিলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িটি কিসের প্রতীক?
শেখ হাসিনার প্রয়াত পিতা শেখ মুজিবুর রহমান- যিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘মুজিব’ নামেই অধিক পরিচিত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতির মুক্তি সংগ্রামে তার নেতৃত্বর ফলেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

স্বাধীন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ মুজিব। পরে ১৯৭৫ সালের ২৪শে জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামের একদলীয় বিতর্কিত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। যার ফলে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়। ওই রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলসমূহ নিষিদ্ধ করার ফলে একদলীয় শাসন জোরদার করা হয়। দেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিচারক এবং বেসামরিক কর্মচারীদের এক দলের অধীনে সদস্য হতে বাধ্য করেন মুজিব।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা ব্যাতীত শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের সকল সদস্যকে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের সময় হত্যা করা হয়। সেই সময় হাসিনা এবং তার বোন রেহানা জার্মানিতে ছিলেন। তারা ভারতে আশ্রয় নেন এবং ১৯৮১ সালের মে মাসে হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। ফিরে আসার পর হাসিনা ১৯৮১ সালের ১০ জুন দেশের স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে ৩২ নম্বরের বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেন। যা ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়।

১৯৯০ সালের মধ্যে দেশে ৪টি সেনা শাসন বা সেনা-সমর্থিত সরকারের ধারাবাহিকতার পর ওই বছর প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে পরাজিত করে প্রথম ক্ষমতায় আসে হাসিনার আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই বাড়িটির তাৎপর্য ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শেখ মুজিবকে হত্যা করার আগ পর্যন্ত বিশ্বের বহু নেতাই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে এসেছিলেন।

৩২ নম্বরে সাম্প্রতিক হামলার কারণ কী?
শেখ মুজিবের বাড়ি এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগ সদস্যদের সম্পত্তিকে বছরের পর বছর ধরে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্নীতি এবং বিরোধী কণ্ঠ দমনের আইকন হিসেবে দেখে বিক্ষোভকারীরা। গত বছর হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারণা জোরদার করা হয়। গত মঙ্গলবার বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে যে বুধবার রাতে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। ভারতে থেকে হাসিনার এভাবে প্রচারণা চালানোয় গত বছর ভারতকে হুঁশিয়ার করেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র নেতারা। দিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা বলেছিলেন, ভারত থেকে হাসিনাকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে ‘বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ছাত্র সংগঠনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে লেখেন, আজ রাতে ফ্যাসিবাদের আস্তানা থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। প্রতিক্রিয়ায় ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।

হাসিনার পারিবারিক বাড়িটির কী হয়েছে?
বুধবার সন্ধ্যার দিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর একটি দল পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য যোগ দেয় তবে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডার পর তারা সেখান থেকে সরে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং এক্সে নিজের লাইভ বক্তৃতায় অন্তর্বর্তী সরকারকে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ করেন হাসিনা। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এতে ক্ষোভে ফেনে পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রজনতা। তারা লাঠি, হাতুড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ৩২ নম্বর বাড়িটিতে ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন। এর পাশাপাশি অন্য কেউ ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে ক্রেন এবং বুলডুজার নিয়ে আসেন। এরপর বুলডুজার দিয়ে যখন বাড়িটি ভাঙা শুরু হয় তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন- ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও। দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা। আবু সাঈদের বাংলায় হিন্দুত্ববাদের ঠাঁই নাই। আবু সাঈদ ছিলেন হাসিনা বিরোধী শক্তি যাকে গত জুলাই অভ্যুত্থানে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। আর হিন্দুত্ববাদ হচ্ছে- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতাদর্শ।  

আল জাজিরাকে সাঈদ আহমেদ নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এই বাড়িটি ফ্যাসিবাদের প্রতীক। অন্যদিকে পালিয়ে থেকেও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন হাসিনা। তাই আমরা ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট রাখব না। অবশ্য এ বিষয়ে দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। পুরান ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মটরসাইকেলে চড়ে এসেছিলেন ইকবাল নামের এক যুবক। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, নিঃসন্দেহে হাসিনা দোষী; তার কারণেই মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করেছে। কিন্তু এই বাড়িটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে পদক্ষেপটি সঠিক। তবে তার পাশে থাকা বন্ধুটি বলেছেন, তিনি এই পদক্ষেপকে অবশ্যই ঠিক বলে মনে করেন। কিছু বিক্ষোভকারীকে চিহ্ন হিসেবে ভবনের ইট নিয়ে যেতে দেখা গেছে। আবার অনেকে বই, আসবাবপত্র, লোহা, ভাঙা গ্রিল, কাঠ এবং অন্য যা কিছু পেয়েছে তা নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা- ব্যাপক হামলার ঠেকাতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি। আমি নিজে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে ছিলাম।’ যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

আর কোন কোন ভবন লক্ষ্যবস্তুতে ছিল?
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাত থেকে দেশের অন্তত ১৯টি শহরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুমিল্লা এবং মধ্যাঞ্চলীয় জেলা টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর, খুলনা, নোয়াখালী এবং কুষ্টিয়া জেলার বেশ কয়েকজন পলাতক নেতার বাসভবন ভাঙচুর এবং সিলেট ও রংপুরের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন যে, এক নারীসহ দলের দুই সদস্য লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। তবে আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি।

সরকার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া কী?
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে, অন্তর্বর্তী সরকার বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তবে ‘জনগণের ক্ষোভের’ জন্য ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে হাসিনার উস্কানিকেই দায়ী করেছেন সরকার। এতে হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে ‘শহীদদের’ অপমান এবং অস্থিতিশীলতাকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাসিনার কথা জুলাইয়ের গণহত্যার ক্ষতগুলোকে আবারও নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে, যার ফলে ধানমন্ডি ৩২-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সরকার ভারতকে তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ব্যবহার করতে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি উস্কানিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের অগ্রগতি হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তৃতাকে দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সিনিয়র নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি কিছু লোক আগামী দিনে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী দেশ (ভারত) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা সেটাও তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত কী?
একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল আওয়ামী লীগ, যা এখন ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখোমুখি। বিশ্লেষকরা বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভাঙার ঘটনাটি জনগণের একটি অংশের ঐতিহ্যের প্রতি তীব্র প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গত বছরের গণবিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র এবং তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি।

জোবান ম্যাগাজিনের বিশ্লেষক এবং সম্পাদক রেজাউল করিম রনি আল জাজিরাকে বলেন, ৫ই আগস্ট (আওয়ামী লীগ) সরকারের পতনের পরপরই বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আংশিক ভাঙচুর সত্ত্বেও এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অক্ষত ছিল। এখন, শেখ হাসিনা বিপ্লবকে অস্বীকার করছেন এবং গণহত্যার জন্য কেনো অনুশোচনা না দেখিয়ে তার সমর্থকদের উস্কে দিচ্ছেন। ফলে জনগণ যা অবশিষ্ট ছিল তা শেষ করতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকেই এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত যে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকে শুরু হয়েছিল এবং হাসিনার অধীনে তা চরম আকার ধারণ করেছিল। আওয়ামী লীগের পেশী-ভিত্তিক রাজনীতি আর টিকে থাকবে না, এটি জুলাইয়ের আন্দোলনেই প্রমাণিত হয়েছে। রনি বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না। আওয়ামী লীগের এই কলঙ্কিত উত্তরাধিকারের পর; নেতৃত্ব পরিবর্তন করেও দলটি রাজনীতিতে পুনরায় প্রাসঙ্গিক হতে পারবে না বলেই তার ধারণা।

mzamin

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন যশোরের জাফর!

যশোরের ছেলে রাশিয়ার যোদ্ধা- খবরটি চাউর হওয়ায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ভিড় করছে জাফরের বাড়িতে। নানা প্রশ্নে জর্জরিত করছে পরিবারকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যশোরের কৃষক জাফর একজন সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি কয়েকবার অ্যাটাকে অংশগ্রহণ করেছেন। রাশিয়ার সৈনিকের পোশাক পরা একাধিক ছবি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে সে দেশে ফেরার ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে সে কীভাবে রক্ষা পাবে, কীভাবে দেশে ফিরবে তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের শেষ নেই।

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বড় মেঘলা গ্রামের খায়রুল সরদারের ছেলে জাফর হোসেন (৩৫)। ৪ মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। ইচ্ছা ছিল ইউরোপে গিয়ে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবেন। হাসি ফোটাবেন পরিবারের মুখে। কিন্তু বিধিবাম। জাফর হোসেনের আর ইউরোপ যাওয়া হয়নি। এর আগেই দালাল চক্র তাকে রাশিয়ার আরেক দালালচক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। ফলে সে দেশে গিয়ে তাকে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নামতে হয়েছে যুদ্ধের ময়দানে। জাফরের স্ত্রী খাদিজা খাতুন জানান, গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। বহু চেষ্টা করেও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি খাদিজা। হঠাৎ করে চার মাস পর জাফর পরিবারকে ফোন করে জানান, বাংলাদেশের দালাল চক্র তাকে রাশিয়ার আরেক দালালচক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। ওই চক্রটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণে যেতে বাধ্য করছে। প্রশিক্ষণে যেতে না চাইলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মারধর করছে এমনকি খাবার দেয়াও বন্ধ করে দিচ্ছে।

জাফরের মা হাসিনা খাতুন বলেন, চার মাস আগে এনজিও থেকে ৪ লাখ ও সুদ করে ৩ লাখ এবং স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ১ লাখ, মোট ৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে রাশিয়া পাঠাই। দালাল চক্র প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার ছেলেকে সৌদিতে একমাস রাখে, এরপর দুবাই থেকে নতুন দালাল তাকে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের ময়দানে নামতে হবে বলে ছেলে তাকে জানিয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, এখন আমার ছেলে যুদ্ধের ময়দানে কান্নাকাটি করছে। সে জানিয়েছে, যুদ্ধ করতে গিয়ে বাংলাদেশি একজন মারা গেছে। আরেকজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। আমার ছেলে এখন বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইছে। না হলে তার মৃত্যু হবে বলে জানিয়েছে।  সরকারের কাছে বুকের মানিককে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন অসহায় মা হাসিনা।
জাফরের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, সাইপ্রাস যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার ড্রিম হোম ট্রাভেলসে টাকা জমা দিয়েছিলেন তার স্বামী জাফর। কিন্তু সাইপ্রাস না পাঠিয়ে ছলচাতুরি করে তাকে প্রথমে সৌদি, তার পরে দুবাই ও শেষ পর্যন্ত রাশিয়ায় পাঠিয়েছে এজেন্সিটি। ভাগ্য বদলের আশায় দেশ ছেড়ে এখন যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে জাফরকে। যুদ্ধ না করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে তাকে। তিনি স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

এদিকে বাড়িতে এ খবর পৌঁছানোয় পাওনাদাররা টাকা ফেরত পেতে নানাভাবে জাফরের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে জানান তার মা হাসিনা। কূল-কিনারা হারিয়ে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়ে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঢাকার ড্রিম হোম ট্রাভেলসের সবগুলো যোগাযোগ নম্বর বন্ধ পাওয়ায় পরিবারটি এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না। এদিকে পিতার এমন বিপদের খবরে জাফরের দুই পুত্র ও এক শিশু কন্যার চোখের পানি থামছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় মানব পাচারের একটি বড় ফাঁদ রয়েছে ড্রিম হোম ট্রাভেলস নামে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্তরে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে এই চক্রের সদস্যরা কাজ করে। এরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের সংগ্রহ করে টাকার বিনিময়ে রাশিয়ার দালালদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। রাশিয়া এসব অসহায় যুবকদের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে বুকে মাইন বেঁধে পাঠাচ্ছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে।

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে ফখরুল-খসরু-জায়মা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’- অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সকাল ৭টায় ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাসভবন ‘হোয়াইট হাউসে’- এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে বিএনপি’র অফিসিয়াল ফেসবুকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবিসহ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিএনপি’র ফেসবুক পেজে বলা হয়, এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’- এ আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে তার মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।
ফেসবুক পেজে আরও বলা হয়, ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, সিনেটর, কংগ্রেস সদস্যরা এবং আমন্ত্রিত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হয়ে ৭ ঘণ্টা ধরে চলে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা ক্ষমতাগ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট এবং নৈশভোজের আয়োজন করেন।

গত ১১ই জানুয়ারি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মার্কিন কংগ্রেস আয়োজিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’- কমিটি চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়। তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।

mzamin

নিউ এজ’র সম্পাদকীয়: ইতিহাস মুছে ফেলে নতুন ইতিহাস লেখা যায় না

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবনে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভাঙচুরের ঘটনার পেছনে  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরোক্ষ উসকানি রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আন্দোলনকারী ছাত্রদের একটি অংশের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক আচরণ যারা  গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ছয় মাস আগে হাসিনার কর্তৃত্ববাদী  শাসনের পতন ঘটায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অপ্রতিরোধ্য গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা তার দলের ছাত্র সংঘটন  'ছাত্রলীগ' কর্তৃক গোপনীয়ভাবে পরিচালিত একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিল্লি থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি বেছে নেন। হাসিনার ১৫ বছরের  শাসনামলে  'ছাত্রলীগ'ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে দেশে এবং বিদেশে তার দলের কর্মীদের কাছে ফোন করছিলেন যা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ফাঁস করা হয়েছিল এবং এইভাবে, তিনি  জনগণের সহানুভূতি এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে প্রশ্নে, টেলিফোনিক কথোপকথনে, জুলাই আগস্টের আন্দোলনে  প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য (যাদের বেশিরভাগই যুবক) এবং প্রায় ২০ হাজার  মানুষকে নৃশংসভাবে আহত করার জন্য কোনো   অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

আজকাল বিদেশ থেকে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা নিজেদের কোনো ভুল স্বীকার না করেই  বক্তৃতা দিচ্ছেন। নিজেদের অপরাধের কথা না বলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে,  গোপনে থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ছাত্রদের একটি বড় অংশকে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ করে তোলে । বিশেষ করে যারা আগস্টের  গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারিতে ছিল।  তারাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রধান প্রতীক মুজিবের বাড়ি ভেঙে দেয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি  হিসেবে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন এবং যথারীতি তিনি তার কোনো দোষ খুঁজে পাননি। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া, হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাগারে পাঠানো , অনেক নাগরিককে অবৈধভাবে আটক করা এবং জোরপূর্বক গুম করা, ব্যাংক খালি করার পাশাপাশি লুণ্ঠন ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত ও দলীয় লাভের জন্য ব্যবহার করা - বক্তব্যে কোনো কিছুই তুলে ধরেননি হাসিনা। তরুণ আন্দোলনকারীরা, তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, মুজিবের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে হামলা করে। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দৃশ্যত নীরব ছিল, যা ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে  ব্যাখ্যার  দাবি রাখে।

মুজিবের বাসা ভেঙে দেয়া হয়তো আওয়ামী  লীগ কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য দমিয়ে রাখতে পারবে । কিন্তু  বিদেশে বসবাসকারী দলের কর্মীরা  এই ঘটনাটিকে  সহানুভূতি অর্জনের জন্য কাজে লাগাবে । তবে যে যুবকরা রাজনৈতিকভাবে বাসাটিকে ভাঙার নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বুঝতে হবে যে, ঐতিহাসিক এই বাড়িটি একটি ‘জাতীয় সম্পত্তি’  ।  স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের সূচনা করেছিলেন তা সত্য, তবে এটাও সত্য যে, পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য তার মৌলিক অবদান ছিল।  বিশেষ করে  মুক্তিযুদ্ধের সময় বেশিরভাগ মানুষ তার আহ্বানে যুদ্ধের ময়দানে নেমেছিল।  শেষে বলতে হয় , 'ইতিহাস' মুছে ফেলার প্রচেষ্টা ইতিহাসকে এগিয়ে  নিয়ে যেতে  সহায়তা করে না।  বরং এটি  জনগণকে তার ঐতিহাসিকভাবে বৈধ লক্ষ্য অর্জনে বিভ্রান্ত করতে পারে।

mzamin

আবারো ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক উত্তেজনা: টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট

আবারো ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বুধবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা। শেখ হাসিনার বক্তব্যকে বৃহস্পতিবার ‘বানোয়াট ও উস্কানিমূলক’ অভিহিত করে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ জন্য ঢাকায় তলব করা হয় সেখানে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন  বাধে’কে।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে বলা হয়, গত বছর আগস্টে ব্যাপক সহিংসতার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে চলে যান হাসিনা। তিনি ফেসবুক লাইভে একটি বক্তব্য দেন। তাতে তিনি মৃতদেহের ওপর দিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিযুক্ত করেন।

ওদিকে তার বক্তব্য প্রচারের সময়ে একজন মানুষ একসময়ের সম্মানের প্রতীক বাসভবন কাম স্মৃতিবহনকারী বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। এই বাড়িটি দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল।  ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার বাধে’র কাছে প্রতিবাদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার ‘শত্রুতামূলক’ বিবৃতিকে ‘গভীর উদ্বেগের, হতাশাজনক ও গুরুতর আপত্তিকর’ আখ্যায়িত করেছে। বলা হয়েছে, এটা ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে সুস্থ করতে সহায়ক হবে না।

ওদিকে শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙে ফেলাকে ‘অ্যাক্ট অব ভ্যানডালিজম’ আখ্যায়িত করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে বলেছে- যারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে মূল্যায়ন করে, বাংলা পরিচয়কে লালন করে, তারা এই বাড়ির গর্বিত গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত।

ভারতে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ‘মিথ্যা ও উস্কানিমুলক’ বিবৃতি বন্ধ করতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতকে অবিলম্বে ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  

ঢাকা আরও বলেছে, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেছেন- তারা একটি ভবনকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু ইতিহাসকে নয়। কিন্তু তাদের স্মরণ রাখতে হবে, ইতিহাস তার বদলা নেয়। এটাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন- ভারত কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা সেটা পর্যবেক্ষণ করবো।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে মুজিবের বাসভবনের সামনে সমবেত হন বিক্ষোভকারীরা। এই বাড়িতেই ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী ও অন্যদের হত্যা করা হয়। ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা আগেই ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সেই ঘোষণাকে সামনে রেখে ‘বুলডোজার প্রসেশন’ আহ্বান করেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আহ্বান জানানোর পর সমবেত জনতা ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সারাদেশে একই রকমভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয। ওই বাড়িটি সংলগ্ন অন্য প্লটগুলো, যেখানে আওয়ামী লীগের কিছু অফিস ছিল, তাও ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শেখ মুজিবের ম্যুরালও ভাঙচুর করেছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার ধানমন্ডির বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

ওদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অস্বাভাবিক ঐক্য প্রদর্শন করেছে। তারা এই ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা। এতে বিশৃংখলা বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশে ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা।