Sunday, July 9, 2017

মিশা, এই তোমার মানসিকতা!

খল চরিত্রের অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে বয়স্ক বলে মন্তব্য করায় চটেছেন তাঁর স্বামী ও চিত্রনায়ক ওমর সানি। ফেসবুক লাইভে এ নিয়ে কথাও বলেছেন তিনি। আজ রোববার দুপুরের পর ফেসবুক লাইভে ওমর সানি শিল্পী সমিতির নির্বাচন, সাফটা চুক্তিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার ফাঁকে গতকাল শনিবার মৌসুমীকে ‘বয়স্ক’ বলার ব্যাপারটি নিয়েও কথা বলেন।
মিশার উদ্দেশে ওমর সানি বলেন, ‘শিল্পীদের কোনো বয়স নেই। আমি মনে করি, পৃথিবীতে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম পুরুষ হচ্ছেন অমিতাভ বচ্চন। মিশা, তুমি কোন জায়গা থেকে এসেছ, আমি খুব ভালো করে জানি। তোমার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডও আমার ভালো করে জানা। তবে, আমিও যে অনেক বড় পরিবার থেকে এসেছি তা কিন্তু না। অনেক পড়ালেখা করেছি বলেও দাবি করছি না। আমি আপনাদের ভালোবাসায় ওমর সানি হয়েছি। অভিনেতা উজ্জল সাহেবকে গিয়ে আমি বলেছিলাম, ‘মিশা’ নামে নতুন একটা ছেলে আছে, তাকে ভিলেন হিসেবে নেন। আমি বলেছিলাম তাঁকে অভিনয়ে নিতে হবে। তখন তোমার কোথায় অবস্থান ছিল মিশা। ১০ হাজার টাকার আর্টিস্ট ছিলা না। আর তখনকার সময়ে আমার ও মৌসুমীর অবস্থান কোথায়! তুমি বলেছ, তুমি ছাড়া চলচ্চিত্র অচল। তোমার গত দুই-আড়াই বছরে ‘লাভ ম্যারেজ’ ছাড়া কী হিট ছবি আছে তোমার? একটি ছবি দেখাতে পারবা?’
ওমর সানি এ–ও বলেন, ‘মিশা, তুমি আমাকে বেকার বলেছ। গত তিন বছরে আমার কতগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছে, সেগুলো তোমার জানতে হবে। দর্শক, আপনারাও তো জানেন। মিশা, তুমি মৌসুমীকে বয়স্ক বলেছ। এটা কি শিক্ষার যোগ্যতা? এটাকে কি শিক্ষা বলে? তুমি কোন ক্লাসে পড়েছ, এটা আমার জানতে হবে। মৌসুমী যদি বয়স্ক অভিনেত্রী হয়, তাহলে সেখানে রোজিনা আপা, অঞ্জনা আপা, চম্পা ম্যাডামের অবস্থান কোথায়? শাবানা-ববিতা ম্যাডামের কথা নাইবা বললাম। এই তুমি শিল্পী সমিতির প্রেসিডেন্ট, এই তোমার মানসিকতা!’
গতকাল শনিবার বিকেলে এফডিসিতে শিল্পী সমিতি কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ফেরদৌস। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে উপস্থিত একদল সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে কথায় কথায় মৌসুমীকে হঠাৎ ‘বয়স্ক’ অভিনেত্রী সম্বোধন করে বসেন মিশা। এর কারণ জানতে চাইলে মিশা বলেন, ‘তাঁর প্রতি সম্মান জানাতেই বয়স্ক বলেছি। অন্য কিছু নয়। মানে, তিনি অনেক সিনিয়র অভিনেত্রী। সেই ১৯৯২ সালে “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবি দিয়ে শুরু করেছেন। অনেক দিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। ফলে তিনি সব বিষয়েই জানেন, বোঝেন।’

‘কেকের মতো সহজেই দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংস করা যাবে’

পিয়ংইয়ং হুমকি দিয়ে বলেছে, এক টুকরা কেকের মতো সহজেই দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়া যাবে; আর আমেরিকার কেন্দ্রস্থলে পরমাণু বোমা হামলা চালানো যাবে। পিয়ংইয়ংয়ের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা – দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ হুমকি দেয়া হয়।
পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে সিউলকে তাবেদার ‘সামরিক অপরাধী চক্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে, এক টুকরা কেকের মতো সহজেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ধ্বংস করা যাবে। বিবৃতিতে বলা হয়,  পিয়ংইয়ং এখন ধ্বংস করে দিতে পারবে মহাসাগরের ওপারে অবস্থিত আমেরিকাকেও।
পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, আমেরিকার কেন্দ্রস্থলে বড় পরমাণু বোমা হামলা চালানো যাবে।
৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার দিনটিতে উত্তর কোরিয়া প্রথম বারের মতো আইসিবিএম’এর সফল পরীক্ষা করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এ পরীক্ষাকে আমেরিকার জন্য উপহার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৌদি নিষিদ্ধ অস্ত্রের কারণে ইয়েমেনে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে: আলী আব্দুল্লাহ সালেহ

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ বলেছেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করার কারণেই সেদেশে কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি দখলদার ইসরাইলের সহযোগিতায় ইয়েমেনে শিশু হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত আরব সামরিক জোটের প্রতি আমেরিকা ও ব্রিটেনের সমর্থনের তীব্র বিরোধিতা করেন। ইয়েমেনের পিপলস কংগ্রেস পার্টির প্রধান আলী আব্দুল্লাহ সালেহ আরো বলেছেন, সৌদি আরব নিষিদ্ধ ঘোষিত গুচ্ছ বোমা ও থার্মোবরিক অর্থাৎ প্রচণ্ড ধ্বংস ক্ষমতা ও উত্তাপ সৃষ্টিকারী শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করছে ইয়েমেনের নিরীহ জনগণের ওপর। এর ফলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সমস্ত অবকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা 'হু' গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়া কলেরা রোগে এ পর্যন্ত ১৫০০জন মারা গেছে। ইয়েমেনে 'হু' এর প্রতিনিধি রাজধানী সানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই লাখ ৪৬ হাজার মানুষ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের অব্যাহত হামলায় ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বর্বরোচিত হামলায় পানি সরবরাহসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কলেরা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন সরকার সৌদি সরকারকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করে ইয়েমেনে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে সহযোগিতা করছে।
সৌদি আরব গত ২০১৫ সালের মার্চ থেকে আমেরিকা, ব্রিটেন ও কয়েকটি আরব দেশের সহযোগিতায় ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ইয়েমেনে সৌদি হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম কারণ হচ্ছে, পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ফের সেদেশটির ক্ষমতায় বসানো।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চালানো আগ্রাসনে সৌদি আরব ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে বহুবার নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেন আল বাখিয়্যাতি বলেছেন, সৌদি আরব বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরব অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধে বিজয় লাভের আশা করলেও ইয়েমেনের জনগণের তীব্র প্রতিরোধের কারণে রিয়াদের সে আশা পূরণ হয়নি। এ কারণে সৌদি সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী গুচ্ছ বোমা, ফসফরাস বোমা, জীবাণু বোমা প্রভৃতি ব্যাপক গণবিধ্বংসি অস্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও সৌদি আরব এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনে ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং এ দেশটি কার্যত পাশ্চাত্যের দেয়া নানা রকম অস্ত্রের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, পাশ্চাত্যের সমর্থন নিয়ে সৌদি আরব আবারো জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্য পদ লাভ করেছে। এটাকেও সৌদি অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত রাখার জন্য  জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত হিসাবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ নিয়ে বিসিবিতে ক্রিকেটার শহীদের স্ত্রী

অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) উপস্থিত হলেন জাতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। দীর্ঘদিন থেকে তিনি শহীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন করে তাকে বাড়ি ছাড়া করার অভিযোগ করে আসছিলেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে পথে হাঁটেননি। বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝতার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি আজ বিসিবিতে আসেন অভিযোগ নিয়ে। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ঘর থেকে বের করে দেয়া ছাড়াও একাধিক মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, মেয়ে সন্তানকে অবহেলা ও গর্ভে থাকাকালীন নষ্ট করতে পেটে লাথি দেয়া- এরকম লিখিত অভিযোগ নিয়ে (বিসিবি) শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। আজ সকালে মুন্সীগঞ্জের বাড়ি থেকে দুই সন্তান আরাফ ও আরহীকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে মিরপুরের বিসিবির কার্যালয়ে আসেন  তিনি। সাংবাদিক লাউঞ্জে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর শহীদকে ফোন দিয়ে তিনি নিজেই তার বিসিবিতে আসার কথা জানান। শহীদ তখন ১০০ গজ দূরে একাডেমি ভবনে। পরে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী ডেকে নিয়ে শহীদের স্ত্রী’র ফারজানার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বিসিবি সমস্যার সমাধান করতে না পারলে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। বিসিবির মাধ্যমে একটা সমাধান চাচ্ছি।
সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেব। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করা শহীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন যে মেয়ের সাথে সম্পর্ক সে মেয়ে ঢাকায় থাকে, জানি। তবে তার সাথে আমার কথা হয়নি। ওই মেয়ের ফোন নম্বর নেই। এর আগে যত সম্পর্ক করেছে আমি ফোনে কথা বলে ভাঙার চেষ্টা করেছি। একটা ভাঙলে দুটো হয়ে যায়। একাধিক মেয়ের সাথে ওর সম্পর্ক। আমি চাই না, ওর ক্রিকেট ক্যারিয়ার ধ্বংস হোক। চাই না মামলা করতে। তাই বিসিবিতে এসেছি। যদি সুরাহা হয়।’

অভিনেত্রী সুমিতা সান্যাল আর নেই

‘কুহেলি’ খ্যাত অভিনেত্রী সুমিতা সান্যাল আর নেই। ৯ই জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ১৯৪৫ সালে দার্জিলিংয়ে তার জন্ম। পরিচিত ছিলেন মঞ্জুলা নামে। পরিচালক বিভূতি লাহাই তার নাম বদলে রাখেন সুচরিতা। তার পরিচালনায় ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ ছিল এ অভিনেত্রীর প্রথম ছবি। তারপরেই পরিচালক কণক মুখোপাধ্যায় সুচরিতা নামটি ছোট করে সুমিতা করে দেন। তখন থেকেই বাংলা ছবির জগতে সুমিতা নামেই পরিচিত হন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ থেকে শুরু করে একাধিক বাংলা ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন সুমিত সান্যাল। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের দুই মহানায়ক উত্তমকুমার ও অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে তিনি অভিনয় করেছেন। মূলত পার্শ্বচরিত্রেই অভিনয় বেশি করেছেন। ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’-এ তার অভিনয় নজর  কেড়েছিল। এছাড়াও ‘দেয়া-নেয়া’, ‘কাঞ্চনকন্যা’, ‘আলো তুমি আলেয়া’, ‘কুহেলি’, ‘আপনজন’, ‘সাগিনা মাহাত’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় বাংলা ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। বলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন সুমিতা। এসবের মধ্যে রয়েছে ‘গুড্ডি’, ‘আশির্বাদ’, ‘মেরে আপনে’র মতো ছবি। থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন রঙ্গসভা নামে একটি নাট্যদলের সঙ্গে।

স্মরণকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ক্যালিফোর্নিয়ায়!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে পাঁচ বছরের খরা শেষে শনিবার প্রথম বড় ধরনের দাবানল শুরু হয়েছে। রাজ্যটিতে তাপদাহ স্মরণকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কয়েকটি স্থানে আগুন নেভাতে প্রায় দুই হাজার তিন শ’ দমকল কর্মী কাজ করছে। সন্ধ্যায় সাক্রামেন্টোর উত্তরে সিয়েরা নেভাদা পাহাড়ের দাবানলটির মাত্র ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দাবানলটিতে ১০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, দুই হাজার একর বনাঞ্চল উজাড় হয়ে গেছে। এতে আতঙ্কিত স্থানীয়রা অন্যত্র চলে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফায়ার প্রোটেকশন (ক্যালফায়ার) জানিয়েছে, দাবানলে পাঁচজন স্থানীয় ও এক দমকল কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।
এদিকে উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাসের ফলে সান্তা বারবারা কাউন্টিতে একটি দাবানল দ্বিগুণ হয়ে জ্বলছে। গতরাতে এটি পাঁচ হাজার ৭৫০ একর জমি গ্রাস করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানে শনিবার প্রায় ১৭টি দাবানল শুরু হয়েছে। উত্তরে সিক্স রিভার্স ন্যাশনাল ফরেস্ট থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্বাঞ্চলে সান বার্নার্ডিনো ফরেস্ট পর্যন্ত দাবানল জ্বলছে। দুপুর ১১টা পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশে তাপদাহ আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ সময় অঞ্চলটির তাপমাত্রা স্মরণকালের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে।

‘টিভির ট্রাম্পের সাথে বাস্তবের ট্রাম্পের কোনো মিল নেই’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, টেলিভিশনে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা যায় তার সাথে বাস্তবের ট্রাম্পের কোনো মিল নেই। জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের পর এ মন্তব্য করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, সাক্ষাতের পর তার মনে হয়েছে আংশিকভাবে হলেও আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ‘ব্যক্তিগত পর্যায়ে সে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন পুতিন। শুক্রবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, গতকালের বৈঠকের মতো করে যদি আমরা আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাই তাহলে দুই দেশের মধ্যে আংশিকভাবে হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। পুতিন বলেন, বৈঠকে আমেরিকার গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়টি তুলেছিলেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে, ওই নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে রাশিয়াই ডোনাল্ড ট্রাম্পর্কে প্রেসিডেন্ট হতে সাহায্য করেছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। সেইসাথে মার্কিন গণমাধ্যমে একথা ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে যে, বহু বছর আগে রাশিয়া সফরে গিয়ে ট্রাম্পের যে চারিত্রিক স্খলন হয়েছিল তার ভিডিও চিত্র মস্কোর হাতে রয়েছে এবং সেই ফুটেজ দিয়েই ট্রাম্পকে কাবু করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এই দুটি অভিযোগই রুশ প্রেসিডেন্ট অস্বীকার করেছেন। আর ওই দুই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জনমনে জল্পনা চলতে থাকার মধ্যেই প্রথমবারের মতো পুতিনের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন ট্রাম্প।

কাশ্মির সীমান্তে পাক-ভারত গোলাগুলিতে নিহত ৭

কাশ্মির সীমান্তে পাকিস্তান ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলিতে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় সেনাদের গুলিতে পাকিস্তানের পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের জনপ্রিয় নেতা বুরহান ওয়ানির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার যখন রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ভারত ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। এ ঘটনাকে পাকিস্তান বিনা উস্কানিতে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার জেপি সিংকে তলব করেছে। এদিকে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তানি সেনাদের গোলাগুলিতে দু'জন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত ও দু'জন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানি সেনাদের গোলাগুলির উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনারা।

বিতর্কের জন্ম দিলেন ট্রাম্পকন্যা ইভানকা

জার্মানিতে জি-২০ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার নেতাদের একটি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেসময় ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার নেতার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন। আর তার পরিবর্তে ইভানকা বসেন ওই বৈঠকে। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তিনি এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না। যদিও ইভানকা ট্রাম্প তার বাবার উপদেষ্টা পদে আছেন কিন্তু সাধারণত প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিকে তার জায়গায় বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বৈঠক শুরু হ্ওয়ার কিছু সময় পরেই ট্রাম্প ফিরে আসেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মাঝে থাকা নিজের আসনটি গ্রহণ করেন। এই বৈঠকে যখন ট্রাম্প অনুপস্থিত ছিলেন তখন আফ্রিকান অভিবাসী ও স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা চলছিল এবং এ বিষয়ে নেতাদের আলোচনায় ইভানকা ট্রাম্প কোনো ভূমিকা রাখেননি। আলোচনায় উপস্থিত থাকা রাশিয়ার এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের আসনে বসা ইভানকার ছবি টুইটারে পোস্ট করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি ছবিটি সরিয়ে নেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করেছেন এই বলে যে মিস ইভানকা নির্বাচিত কেউ নন, তার মতো এক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মালিক এমন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে কোনো যোগ্যতায় বসে এই প্রশ্ন তুলে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। সূত্র : বিবিসি

ইসলামপুর ও মেলান্দহে নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা ও মেলান্দহ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শতশত একর ফসলি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসার পানির তোড়ে ভেঙে চলেছে যমুনাপাড়ের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক দিনে যমুনার ভাঙনে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের শতাধিক ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে মেলান্দহের দুরমুঠ ইউনিয়নের ২০/২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাপধরী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের (দ্বিতল ভবন) নিলাম করা হয়েছে। ইউনিয়নের চেঙ্গানিংয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। সাপধরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, চলতি বন্যায় নদী ভাঙনে তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত মঙ্গলবার জামালপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ইসলামপুরের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীসমাজের সাথে মতবিনিময় করতে আসেন।
ওই অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন সাপধরী ইউনিয়নের নদী ভাঙন কবলিত আশ্রয়হীনদের জন্য দ্রুত আশ্রয়ের দাবী জানান। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামের ২০/২৫টি পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নদী ভাঙনের কারণে ওই ইউনিয়নের সুরুজ আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে হয়েছে। জানা যায়, গত শনিবার ওই গ্রামের আজু সেকের একটি গাছ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তার ছেলে সুরুজ গাছটি নদী থেকে উঠাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তোতা মিয়া জানান, নদী ভাঙন হাতিজা গ্রামের মূল্যবান জমি ও ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে ভিটামাটি হারিয়ে দুই উপজেলার শতাধিক পরিবারের প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পার্বত্য সমস্যা নিরসনে জাতীয় কনভেনশন ডাকার আহবান নাজমুল হুদার

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা নিরসনে সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে জাতীয় কনভেনশন ডাকতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল এ্যালায়েন্স (বিএনএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি লংগদুর অগ্নিকান্ডে ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে আজ রোববার দুপুরে রাঙ্গামাটির স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান। তিনি বলেন, পাহাড়ে একের পর এক ইস্যু সৃষ্টি করে স্বার্থান্বেষী একটি মহল দেশের স্বাধীনতা অখন্ডতা ও স্বার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে রয়েছে। তাই দেশের অখন্ডতা রক্ষা করতে সরকারকে বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে পার্বত্য সংকট আরো জটিল হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি লংগদুর ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান এবং পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান সাজু, তৃণমুল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো: আক্কাস আলী খান, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাস আল মামুনসহ তৃণমুল বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফুলবাড়ীয়ায় গর্ত থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় শ্যালো মেশিনের গর্ত থেকে আরাফাত হোসেন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলার সোয়াসাইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আরাফাতের পিতার নাম হোসেন আলী। সে সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকালে আরাফাত হোসেন বিদ্যালয় থেকে ফিরে বাড়ির পাশ্ববর্তী শ্যালো মেশিনের একটি গর্তে সাঁতার কাটতে যায়। সেখান থেকে ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন সেখানে গিয়ে তার লাশ পানিতে ভাসতে দেখে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

নবীগঞ্জে যৌন হয়রানির দায়ে বখাটের ২ বছরের কারাদণ্ড

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক স্কুলশিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাফি মিয়া (৩৮) নামে এক বখাটেকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের কানাইপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কানাইপুর গ্রামের হেসমত উল্লাহর পুত্র বখাটে সাফি প্রায়দিনই একই গ্রামের আনন্দ স্কুলের এক শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। শনিবার দুপুরের দিকে ওই শিক্ষিকাকে স্কুলের ভেতরে সুযোগ পেয়ে যৌন হয়রানি করে। এ সময় ওই শিক্ষিকার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে বখাটে সাফিকে আটক করেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার এসআই মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র কুমার নাথের আদালতে হাজির করা হলে আদালত বখাটে সাফিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

পাবনায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার ইসলামপুর গ্রামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হোসেন (৩৭) উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আকাতুল্লাহ প্রামানিকের ছেলে। তিনি ওই গ্রামেরই চায়ের দোকানদার ছিলেন। পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের একটি ছেলে ইসলামপুর গ্রামের একটি মেয়ের বাড়িতে যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার জানাজানির পর ছেলেটি পালিয়ে যায়। এ নিয়ে শালিস করার বিষয়ে এনামুলের সাথে স্থানীয় কয়েকজনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে এনামুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোপায় প্রতিপক্ষরা। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কবে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর এখন সবর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি ব্যারেল অশোধিত জ্বালানি তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ মার্কিন ডলার করে। কিন্তু দেশের বাজারে সেই জ্বালানি তেলই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। জ্বালানি তেলের দাম যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে ছিল, তখন যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল এখনো সেই দামের সাথে মিল রেখেই দেশের বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হচ্ছে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সময়ন্ব করার জন্য। বলা হয়েছে, সকল ধরনের তেলের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমানো যেতে পারে। এতে করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। উপরন্তু তেলের দাম কমালে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে। একই সাথে কেরোসিনের দাম কমানো হলে তা গরিব মানুষের উপকারে লাগবে। ডিজেলের দর কমলে তা কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা, এ কথায় কোনো রকম কর্ণপাত করেনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, বিশ্ববাজারে সর্বনি¤œ দর হলেও দেশে সেই তেলই বেশি দামে কিনছে সাধারণ মানুষ! গত বছরের মার্চ মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে একটি সার-সংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে যে দামে বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে তা নির্ধারণ করা হয়েছে যখন বিশ্ববাজারে এসব তেলের দাম অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমে গেছে। আগামীতেও এসব তেলের দাম তেমন একটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। তাই দ্রুত দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানো অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পর্যায়ে অকটেন ও পেট্রলের মূল্য ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য তেল ২০ শতাংশ কমানো যেতে পারে।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য বিদ্যমান ৯৯ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৯ টাকা ১০ পয়সা, কেরোসিন ৬৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা, ডিজেল ৬৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা, পেট্রোল ৯৬ টাকা থেকে ৮৬ দশমিক ৪০ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত জেট-১ ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এই তেল লিটার প্রতি ৬১ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় হিসাব কষে দেখিয়েছে, দাম কমানোর পরও লিটার প্রতি অকটেনে ২৭ টাকা ১১ পয়সা, কেরোসিনে ৯ টাকা ১১ পয়সা, ডিজেলে ৯ টাকা ৭২ পয়সা, পেট্রলে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা এবং ফার্নেস অয়েলে ১৪ টাকা ২৩ পয়সা লাভ থাকবে।  এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সাথে সমন্বয় করা হলে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এর সুফল দেশের সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছবে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য দরপতনের কারণে বাংলাদেশসহ হাতেগোনা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জ্বালানি মূল্য সমন্বয় বা হ্রাস করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন ব্যারেল ১১০ ডলার ছিল তখন সেই দর ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। এখনো সেই দামেই দেশের বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য আমরা বেশ কয়েক দফা সুপারিশ করেছি।  এমনকি অর্থমন্ত্রী স্বয়ং এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমার এখনো মনে করে, জ্বালানি তেলের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ এখনি কমানো যেতে পারে।  অন্য দিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত দাম কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এসআই সাত্তার ও তার স্ত্রীর মৃত্যু গুলিতেই : ময়নাতদন্তকারী দল

রাজধানীর রূপনগরে পুলিশের উপ-পরির্দশক (এসআই) আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রীর মৃত্যু গুলিবিদ্ধ হয়েই হয়েছে। সাত্তার বাড্ডা থানায় কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম সোমা আক্তার। আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী দল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে শনিবার রাত আটটার দিকে পুলিশ রূপনগরের একটি বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের একটি সূত্র দাবি করছে, স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর এসআই নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে পুলিশ নিশ্চিত নয়।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ নয় কেন : হাইকোর্টের রুল

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। আজ রোববার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। চিকুনগুনিয়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গত ৪ জুলাই রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুজাউদদ্দৌলা আকন। আবেদনটির ওপর আজ প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী সুজাউদদ্দৌলা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। শুনানিতে অমিত তালুকদার বলেন, ওই আদালতের দুই কর্মকর্তা এখনো চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। রুলে স্প্রে ও যথাযথ ওষুধ ছিটানোর মাধ্যম এডিস ও অন্যান্য মশা ধ্বংস করতে বিবাদীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সারা দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, এলজিআরডি সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে লন্ডন যেতে বাধা

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনাকে লন্ডন যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, ইলিয়াস আলী ও তাহসিনা রুশদী লুনা দম্পতির বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ড থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মা লুনার। আজ সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডন যাওয়ার শিডিউল ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে যেতে দেয়নি।

বনানী ধর্ষণ : অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

রাজধানীর আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৩ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক শফিউল আজম এই দিন নির্ধারণ করেন। ওই আদালতে অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করা ছিল আজ। কিন্তু মামলার আসামি নাঈম আশরাফের আইনজীবী অভিযোগ গঠন পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেন। এ মামলার আসামিরা হলেন- আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ই-মেকার্স’ এর কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ, ঢাকার পিকাসো রেস্তারাঁর অন্যতম মালিক রেগনাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আসামিদের সবাইকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সাফাতের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে এ মামলায় অভিযোগ করা হয়। মামলা হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অভিযোগ আসে পুলিশের বিরুদ্ধেও। বাদী অভিযোগ করেন, বনানী থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেই দুই দিন পার করে দেয়। এর বাইরেও তাদের হয়রানি করা হয়। গত ৬ মে বনানী থানায় ধর্ষণের ওই অভিযোগ দায়েরের পর ৮ জুন ঢাকার হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক ইসমত আরা এমি। সেখানে বাদীপক্ষে মোট ৪৭ জনকে সাক্ষী করেন তিনি। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাফাত ও নাঈম ধর্ষণে সরাসরি অংশ নেন এবং বাকি তিনজন তাদের সহযোগিতা করেন।

বরখাস্তের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মেয়র মান্নানের রিট

তৃতীয়বারের মতো বরখাস্ত হওয়ার পর সে আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নান। রিটটি আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো: আতাউর রহমান খানের আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র মান্নানের আইনজীবী আবু হানিফ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এম এ মান্নানকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো নির্বোচনে গাজীপুর সিটি মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির এই নেতা।
পরবর্তী সময়ে নাশকতার এক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট এম এ মান্নানকে প্রথম বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ২৮ মাস পর মেয়র পদ ফিরে পান মান্নান। কিন্তু এর পরপরই আরো একটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হলে ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই করেন মান্নান। গত ১৮ জুন পুনরায় পদ ফিরে পান তিনি। কিন্তু এর কয়েক দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ফের তাকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় বিএনপির এ নেতাকে বেশিরভাগ সময় কারাগারেই কাটাতে হয়েছে।

ইবির অধীনে ফাযিল পরীক্ষা শুরু ৮ আগস্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাযিল স্নাতক পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট থেকে শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) একে আজাদ লাভলু তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সকল ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার কার্যক্রম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী বিশ্বাবিদ্যালয়ের অধীনে চলে যাওয়ায় ২০১৪-১৫ এবং ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত, অনিয়মিত এবং প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। সারা দেশের ২৯১ টি কেন্দ্রে ১২শ’ ৭৭টি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা অংশ নেবে। আগামী ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ নভেম্বর পরীক্ষা শেষ হবে। পরীক্ষার সময়সূচিসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট িি.িরঁ.ধপ.নফ থেকে পাওয়া যাবে।

আরেক মামলায় মির্জা ফখরুলের বিচার শুরু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুনি ও আওয়ামী লীগকে খুনির দল বলায় মানহানি মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। আজ রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠনের সময় মির্জা ফখরুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে খুনি, তার দল আওয়ামী লীগ একটি খুনের দল হিসেবে পরিচিত, সারা জাতি ও বিশ্ববাসী তা জানে’ বলে মন্তব্য করেন। ফখরুলের ওই বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে সামাজিক ও আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানীর আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সহ-সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী। এ নিয়ে দুই মামলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে দুই মামলায় বিচার শুরু হলো। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানার নাশকতার আরও একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আলী মাসুদ শেখ। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে।

আরো বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে। পূর্বাভাসে তাপমাত্রা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকায় আজ সকাল ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। এদিকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কলা হয়েছে, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র : বাসস

আপিল বিভাগের বেঞ্চ পুনর্গঠন

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়েছে। দেশের প্রথম নারী বিচারক ও আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা আজ থেকে অবসরে যাওয়ায় এ দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা অবসরে যাওয়ায় আপিল বিভাগের দুই নম্বর বেঞ্চের বিচারক সংখ্যা হয় দু'জন।
আর এক নম্বর বেঞ্চে বিচারক সংখ্যা হয় চারজন। এক নম্বর বেঞ্চের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে দুই নম্বর বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত করে বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়। ফলে দুটি বেঞ্চেই এখন তিনজন করে বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাশাপাশি তার নেতৃত্বে তিন বিচারপতি সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ এবং বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়ার নেতৃত্বে তিন বিচারপতি সমন্বয়ে অপর একটি বেঞ্চে আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সূত্র : বাসস

জলবায়ু চুক্তিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন এরদোগান

গত বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার কারণে উন্নয়নশীল ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এজন্য তার দেশ প্যারিস সম্মেলনে করা অনুস্বাক্ষর নিয়ে সন্দিহান এবং এ কারণে জলবায়ু সম্মেলনে তুরুস্কের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। শনিবার জি২০ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০১৬ সালে 'ফ্রান্স সম্মেলন'এ তুরস্ক যখন অনুস্বাক্ষর করে তখন ফ্রান্স বলেছিল তুরস্কও ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তদের মধ্যে থাকবে। কিন্তু বর্তমানে চুক্তি থেকে ট্রাম্পের পিছুটানের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, ফ্রান্স সম্মেলনের সেই প্রতিশ্রুতি যদি ঠিক থাকে তাহলে তুরস্কের সংসদে চুক্তি অনুমোদন পেতে পারে। অন্যথায় এ চুক্তি পাস হবে না। তুরস্কের সংসদে এখনো ওই চু্ক্তি অনুমোদন দেয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

ট্রাম্প বললেন সুন্দর, মেরকেল দুঃখিত

নিজের দেশকে বিচ্ছিন্ন রেখেও জার্মানে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলন সুন্দর ও সফল বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মেরকেল। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানের জন্য তিনি দুঃখিত বলে জানিয়েছেন। খবর বিবিসির। সম্মেলনের শেষ পর্বে এঞ্জেলা মেরকেল বলেন, ট্রাম্পের অবস্থানের কারণে আমি এখনো দুঃখিত। তবে অন্য ১৮ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এদিকে এবারের সম্মেলনে অচল অবস্থা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত একটি যৌথ চুক্তিতে পৌঁছতে পেরেছে দেশগুলো। শনিবার ১৮টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক যৌথ বিবৃতিতে ঐক্যমতের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিবৃতিতে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে বাকি দেশগুলো চুক্তির ব্যাপারে একমত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সরিয়ে নিলেও সম্মেলনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আরো পরিচ্ছন্ন ও ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে তারা সহযোগিতা করবে বলে বিবৃতিতে প্রত্যাশা করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার কারণে উন্নয়নশীল ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এজন্য তার দেশও প্যারিস সম্মেলনে করা অনুস্বাক্ষর নিয়ে সন্দিহান এবং এ কারণে জলবায়ু সম্মেলনে তুরুস্কের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে সম্মেলনে জানিয়েছেন এরদোগান।

প্লাস্টিকের চাল কি আসলেই আছে?

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে না কি বিক্রি হচ্ছে 'প্লাস্টিকের চাল'। এই চাল দেখতে সাধারণ চালের মতোই। কিন্তু দলা পাকিয়ে এই চালের ভাত দিয়ে যখন বল তৈরি করা হয়, সেটি না কি প্লাস্টিক বা স্পঞ্জের বলের মতো লাফায়। এরকম গুজব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইউটিউবে এই প্লাস্টিকের চালের কিছু ভিডিও তো রীতিমত ভাইরাল হয়ে গেছে। সেনেগাল, গাম্বিয়া আর ঘানায় এই গুজব মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাধ্য হয়ে ঘানার 'ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি' একটি তদন্ত চালায়। তারা লোকজনকে প্লাস্টিকের চাল বলে সন্দেহ করছে এমন চালের নমুনা পেশ করতে বলে। তদন্ত শেষে তারা কী দেখলো? ঘানার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি বলছে, প্লাস্টিকের চাল বিক্রি হচ্ছে এমন কোন প্রমাণ তারা এই পর্যন্ত পায়নি।
এই গুজবের উৎস তাহলে কি?
বলা হচ্ছে ২০১০ সালে চীনে এই গুজবের সূত্রপাত। সেখানে গুজব ছড়ায় যে প্লাস্টিকের চাল তৈরি হচ্ছে এবং তা সাধারণ চালের মধ্যে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের চাল বলে একটি জিনিস আসলে তৈরি করা হয়। এটি ব্যবহৃত হয় বাক্সে ভরে জিনিসপত্র যখন ডাকে বা কুরিয়ারে পাঠানো হয়, তার ভেতরে জিনিসটি সুরক্ষিত রাখার জন্য। এর সঙ্গে চালের কোন সম্পর্ক নেই। আর এই প্লাস্টিকের চাল তৈরির খরচ সত্যিকারের চালের উৎপাদন খরচের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তবে আফ্রিকায় এই গুজব বেশি ছড়ানোর পেছনে ভূমিকা রাখে ২০১৬ সালের এক ঘটনা। নাইজেরিয়ার কাস্টম কর্তৃপক্ষ আড়াই টন চাল আটক করে এবং শুরুতে দাবি করে যে এসব আসলে প্লাস্টিকের চাল। কিন্তু পরে তারা সেই দাবি যে ভুল ছিল তা স্বীকার করে। নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিকের চালের কোন প্রমাণ তারা পাননি। কিন্তু গুজব ছড়াতে যারা উন্মুখ, তারা ততদিনে যা করার করে ফেলেছে। ইউটিউবে কথিত প্লাস্টিকের চালের বল নিয়ে লোকে খেলছে সেরকম ভিডিও ভাইরাল হতে থাকে। এমনটি কারখানায় প্লাস্টিকের চাল তৈরি হচ্ছে সেরকম ভিডিও পর্যন্ত ছাড়া হয়। 'ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর' চ্যানেলের একজন সাংবাদিক আলেক্সান্দ্রে ক্যাপরন এই প্লাস্টিকের চালের মিথ্যে গল্পের পেছনের কাহিনি অনুসন্ধান করেছেন। তিনি বলছেন, আমদানি করা চাল যাতে লোকে না কেনে, এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চাল কেনে, সেটা এই গুজব ছড়ানোর পেছনে একটি কারণ। তবে আফ্রিকার কোন কোন দেশে এই গুজব এতটাই ব্যাপক প্রচার পেয়েছে যে সরকারগুলো কথিত প্লাস্টিকের চাল বলে যে কিছু নেই, সেই ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিন

মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম সফরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি এ আহ্বান জানান। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে এবং মংডু শহরে বসবাসরত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করেন গ্রান্ডি। তিনি মিয়ানমারের কার্যত নেতা অং সান সুচির সঙ্গেও বৈঠক করেন। খবর রয়টার্সের। রাখাইন প্রদেশটি মিয়ানমারের পশ্চিমে অবস্থিত।
২০১২ সাল থেকে একাধিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত ও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। বৌদ্ধশাসিত মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন অবসানের পর ফের এ দাঙ্গা শুরু হয়। ব্যাংককে সাংবাদিকদের গ্রান্ডি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব দেয়ার কাজ শুরু করা উচিত। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তারা নাগরিকত্ব বঞ্চিত রয়েছেন। মিয়ানমার প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী বলে দাবি করে আসছে। কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানে রোহিঙ্গা পরিবার বাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দেশটির সরকার।

জলবায়ু নিয়ে অচলাবস্থার অবসান

জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে। ফলে সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে চূড়ান্ত ঘোষণা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। খবর বিবিসির। ইইউর একজন কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে অন্য দেশগুলোর অঙ্গীকারকে খাটো না করেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শীর্ষ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছতে শনিবার রাতভর কাজ করেন আলোচকরা। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েও চূড়ান্ত ঘোষণার খসড়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছিল না দেশগুলো। এক্ষেত্রে একপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র আর বিপরীতে জি-২০ সংগঠনের বাকি ১৯ সদস্য। তবে সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও স্বীকার করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র জোর আপত্তি জানায় ভবিষ্যতে কয়লা ও তেলের ব্যবহার নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্বাস করেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিএনএন জানায়, সম্মেলনের সমাপনী ভাষণে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের নিন্দা জানান। মার্কেল বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় তিনি মর্মাহত। তবে সংস্থার বাকি ১৯ সদস্য ওই চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তন  চুক্তি থেকে সরে গেলেও চূড়ান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণের যে কোনো উদ্যোগে দেশটি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন দিয়ে যাবে। এদিকে জি-২০ সম্মেলনের শেষদিনেও বিশ্বনেতারা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের সঙ্গে। চ্যান্সেলর মার্কেল শনিবার সকালে নাশতা সারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে। এদিকে হামবুর্গে দ্বিতীয় দিনেও সম্মেলনে বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনে ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। তারা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ এবং দোকানপাট লুট করেন।

ওরালসেক্স ছড়াচ্ছে ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়া, হচ্ছে সুপার গনোরিয়া!

বিশ্বব্যাপী গনোরিয়া রোগ মহামারি আকার ধারণ করায় এ নিয়ে সতর্ককতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর জন্য অনিরাপদ যৌন সম্পর্ককে দায়ী করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং কনডম ব্যবহারে অনিহার কারণে গনোরিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া 'ওরাল সেক্স' গনোরিয়ার জীবাণুকে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ভয়ংকর মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি আরো বলছে, এমন পরিস্থিতিতে কেউ যদি গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে তার চিকিৎসা করাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠেছে 'অসম্ভব'। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর নতুন অ্যান্টোবায়োটিক উদ্ভাবনে খুব বেশি সাফল্য এখনও না আসায় পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশ্বে প্রায় সাত কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রতি বছর এ রোগে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন, যা অনেকের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানে অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা বলেন, চিন্তার বিষয় হলো, গরিব দেশগুলোতে গনোরিয়া সংক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। যেখানে এই জীবাণু কতটা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, সেই তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে উন্নত বিশ্বের তিনটি দেশে এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে তারা বলেছেন, সেগুলো অনিরাময়যোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গনোরিয়ার জীবাণু সাধারণত যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা গলার ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। তবে এর মধ্যে গলার সংক্রমণই চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডা. উয়ি বলছেন, সাধারণ গলাব্যথার জন্য এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেও তাতে নেইসেরিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।আর 'ওরাল সেক্স' এর মাধ্যমে যদি গনোরিয়ার ব্যাকটেরিয়া অর্থাৎ নেইসেরিয়া গনোরিয়া ওই পরিবেশ পায় তাহলে তা 'সুপার গনোরিয়া' তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সমকামী পুরুষদের মধ্যে গলবিলের (ফ্যারিংক্স) সংক্রমণের মাধ্যমে গনোরিয়া জীবাণু এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে বলে জানান ডা. উয়ি। কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ানোর কারণে এইচআইভি এইডস রোগ ছড়ানোর যেমন আশংকা আছে তেমনি গনোরিয়া সংক্রমণের শংকাও রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেইসেরিয়া গনোরিয়া নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই রোগটি হয়। সুরক্ষা ছাড়া যৌন সম্পর্ক বা ওরাল ও অ্যানাল সেক্সের কারণে গনোরিয়া ছড়িয়ে যেতে পারে। এই রোগটির লক্ষণগুলো হলো- যৌনাঙ্গ থেকে হলুদ বা সবুজ রঙের পুঁজের মতো বের হতে পারে, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে বা প্রস্রাব বন্ধও হয়ে যেতে পারে৷ নারীদের তলপেটে ব্যথা ও ঋতুস্রাবে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে একজন ও নারীদের তিন চতুর্থাংশ এবং সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ সহজে শনাক্ত করা যায় না। আর এই রোগ যদি না সারে তাহলে তা বন্ধ্যাত্বের কারণও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এ রোগ সংক্রমণের শিকার হলে তা শিশুর শরীরেও ছড়িয়ে পরতে পারে।

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রিকশায় নেয়া হল তরুণীর লাশ

সম্প্রতি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে পায়ে হেঁটে প্রিয়জনের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য শিরোনামে এসেছিল ভারত। আবারও একইরকম ঘটনা ঘটলো দেশটিতে। অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রিকশায় করে মেয়ের মৃতদেহ হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়েছে এক গরীব পরিবার। চেষ্টা করেও হাসপাতাল থেকে সাহায্য পায়নি তারা। এমনকী রেল পুলিশও ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স আনাতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, রাজ্যের আত্রা স্টেশনে রেললাইনের পাশে রামাশ্রী নামে ওই তরুণীর মৃতদেহ পড়ে ছিল। পরে রেলপুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারের লোকদের খবর দেয়া হয়। পরিবারের লোকরা আসলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে এসময় কোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেনি তারা। পরে বাধ্য হয়ে রিকশায় করে ওই তরুণীর মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে রেল পুলিশের কর্মকর্তা সেপাক দিবাকর সিং বলেন, হাসপাতাল থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় আমরা ওই মেয়েটির পরিবারকে রিকশায় করে মৃতদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেই। এদিকে এ ঘটনা ফের উসকে দিল উড়িশ্যার দানা মাঝির স্মৃতি। গত বছর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে করে শ্মশানের উদ্দেশে দশ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন তিনি। এরপরেই খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি। এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি ঘটনার জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছিল ভারত। পরে উড়িশ্যা সরকার দুঃস্থদের জন্য শববাহী যানের ব্যবস্থা করতে একটি প্রকল্পও শুরু করে। এখন দেখার পালা সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী যোগী আদিত্যনাথ এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেন।

মদিনার রহস্যময় জিনের পাহাড়

পাহাড়-পর্বতের কথা আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু জিনের পাহাড়ের কথা অনেকেরই অজানা। সৌদি আরবের মদিনা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ওয়াদি আল বায়দা নামক স্থানে আছে এই জিনের পাহাড়। আমরা জানি, সব কিছু ঢালুর দিকে গড়িয়ে যায়। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এই জিনের পাহাড়ে সবকিছু ঢালুর বিপরীত দিকে গড়ায়। সাধারণ নিয়মের ঠিক উল্টো। এমনকি রহস্যঘেরা এ পাহাড়ে বন্ধ গাড়িও ঢালুর বিপরীতে চলতে থাকে। কেউ কেউ ধারণা করেন জায়গাটিতে প্রচুর চুম্বকজাতীয় পদার্থ আছে তাই এমনটি হয়। জানা যায়, ২০০৯-২০১০ সালের দিকে সৌদি সরকার এই ওয়াদি আল বায়দায় একটি রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার পর সমস্যা শুরু হয় । হঠাৎ দেখা যায় রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি আস্তে আস্তে মদিনা শহরের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে। যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি যন্ত্রপাতিগুলো মদিনার দিকে ঠেলছে। এমনকি পিচ ঢালাইয়ের ভারী রোলারগুলোও বন্ধ থাকা অবস্থায় আস্তে আস্তে ঢালু বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এসব দেখে কর্মরত শ্রমিকরা ভয় পেয়ে যান। তারা কাজ করতে অস্বীকার করেন। রাস্তাটির কাজ যেখানে বন্ধ করা হয় সেখানে চারদিকে বিশাল কালো পাহাড়। ওখানেই শেষ মাথায় গোল চত্বরের মতো করে আবার সেই রাস্তা দিয়েই মদিনা শহরে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই রাস্তাটি ২০০ কিলোমিটার করার কথা থাকলেও ৪০ কিলোমিটার করেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এই জিনের পাহাড় ঘিরে মানুষের মাঝে রয়েছে অনেক কৌতূহল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন এই জিনের পাহাড় দেখতে। প্রতি বছর হজে আসা মানুষও এই রসহ্যময় জিনের পাহাড় দেখার জন্য ভিড় জমান। একদিন প্রতিদিন ডেস্ক
সূত্র : ইন্টারনেট

চীন-ভারত যুদ্ধ হলে কে কতটা প্রস্তুত

সিকিম সীমান্তে উত্তেজনা দিন দিন চরমে উঠছে। রোজ একটু একটু করে সুর চড়াচ্ছে চীন। ভারত-ভুটান-চীন সীমান্তবর্তী এলাকা ডোকা লা থেকে নয়াদিল্লি সেনা না সরালে সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। কখনও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আবার কখনও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের মাধ্যমে হুমকি আসছে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি পাল্টা জানিয়েছে, ১৯৬২ সালের ভারতের সঙ্গে ২০১৭ সালের ভারতকে গুলিয়ে ফেললে চীন ভুল করবে। ২০১২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, বেইজিং তা শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে দাবি নয়াদিল্লির। চুক্তির শর্ত ছিল, ভারত, চীন এবং অন্য দেশের সীমান্ত যেখানে মিলেছে, সেসব এলাকায় সীমান্তসংক্রান্ত বিতর্কের মীমাংসা তিনটি দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে করতে হবে। কিন্তু ডোকা লায় বেইজিং একতরফা সিদ্ধান্তে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ নয়াদিল্লির। অঞ্চলটি ভুটানের এলাকা বলে থিম্পুর দাবি। ভারতও সেই দাবিকে সমর্থন করছে। ভুটানের সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা আদান-প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। ফলে ডোকা লায় বিশাল বাহিনী পাঠিয়েছে ভারত। চীনও পাল্টা সেখানে সেনা পাঠিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৬২ সালের মতো আরও একটা সামরিক সঙ্ঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি শেষ পর্যন্ত সত্যিই চীন-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ফল কী হতে পারে? দুই দেশের সামরিক শক্তি : এশিয়ার পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও চীন। এছাড়াও দুই দেশের সামরিক বাহিনী জনবল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ। সিআইএ, দুই দেশের পাবলিক ডোমেইনগুলো, সংবাদ মাধ্যম এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দুই দেশের সমরশক্তির তুলনামূলক চিত্র তৈরি করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ডটকম। যুগান্তরের পাঠকদের জন্য সেই চিত্র তুলে ধরা হল-
সামরিক বাহিনী : সেনাবাহিনীর আকারে ভারতের চেয়ে চীন অনেকটা এগিয়ে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের (জিএফপি) তথ্যানুসারে, চীনের সেনাসদস্যের সংখ্যা ২৩ লাখ ৩৫ হাজার এবং ভারতের সেনা সংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার। চীনের আধা-সামরিক বাহিনী বা রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা ২৩ লাখ এবং ভারতের ২১ লাখ ৪৩ হাজার। কিন্তু চীনের ভৌগোলিক সীমা ভারতের চেয়ে অনেক বড়, তাই স্বাভাবিকভাবেই বড় বাহিনী প্রয়োজন তাদের। সামরিক শক্তিতে জিএফপির সূচিতে প্রথম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া। তিন ও চারে রয়েছে যথাক্রমে চীন এবং ভারত।
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান: চীনের চেয়ে ভারতের ট্যাংকের সংখ্যা কিছু কম। কিন্তু সাঁজোয়া যানের (আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যায় ভারত অনেকটা এগিয়ে। জিএফপির তথ্যানুসারে, চীনের ট্যাংকের সংখ্যা ৬৪৫৭টি এবং ভারতের ৪৪২৬টি। অন্যদিকে, চীনের সাঁজোয়া যানের সংখ্যা ৪৭৮৮টি এবং ভারতের রয়েছে ৬৭০৪টি।
গোলাবর্ষণের সক্ষমতা: স্থলসীমান্তে যুদ্ধের জন্য গোলাবর্ষণের সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। দু’দেশের হাতেই বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। চীনের হাতে সেল্ফ প্রপেলড আর্টিলারি রয়েছে ১৭১০টি এবং ভারতের রয়েছে ২৯০টি। টোড আর্টিলারি চীনের কাছে ৬২৪৬টি এবং ভারতের কাছে ৭৪১৪টি। চীনে মাল্টিপল রকেট লাঞ্চার রয়েছে ১৭৭০টি এবং ভারতের রয়েছে ২৯২টি।
বিমান বহর: জিএফপির পরিসংখ্যান বলছে, চীনের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১২৭১টি এবং ভারতের ৬৭৬টি। চীনের হাতে অ্যাটাক বিমানের সংখ্যা ১৩৮৫টি এবং ভারতের রয়েছে ৮০৯টি। চীনের পরিবহন বিমান রয়েছে ৭৮২টি এবং ভারতের রয়েছে ৮৫৭টি। এছাড়া চীনের প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে ৩৫২টি এবং ভারতের হাতে রয়েছে ৩২৩টি।
অ্যাটাক হেলিকপ্টার: ভারতের কাছে অ্যাটাক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৫৯টি এবং চীনের কাছে রয়েছে ২০৬টি। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা, তাদের হাতে সুখোই-৩০ এমেকেআই’র মতো প্রবল শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকায়, অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি নেই।
পরমাণু অস্ত্র: ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ভারতের চেয়ে চীনের হাতে অনেক বেশি রয়েছে। চীনের কাছে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ২৬০টি এবং ভারতের কাছে রয়েছে ১১০টি। (যেসব অস্ত্র নির্মাণাধীন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তরে রয়েছে, সেগুলোর পরিসংখ্যা এখানে দেয়া হয়নি)।

১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল: অর্থমন্ত্রী

বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাব দিলেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বাজেটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপে এনবিআর-এর প্রস্তাব এবং নিজের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলেও স্বীকার করলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বোর্ড অব রেভিনিউ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে তা যদি তার সঙ্গে আলোচনা করতো তাহলে এই ভুল হতো না। আর এই একটু ভুলের সুযোগ নিয়েছেন সমালোচনাকারীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভুল ভেঙ্গেছেন বলেও জানান তিনি। সিলেটে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেটে আবগারী শুল্ক আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ নিয়ে সংসেদ বিরূপ মন্তব্য করেন খোদ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বিজ্ঞ সংসদ সদস্যরাও। সংসদে বিরোধী দলের নেতারাও এ নিয়ে সরব ছিলেন। এছাড়া সংসদের বাইরেও সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা এ নিয়ে সমালোচনামুখর হন।   এই প্রতিক্রিয়ায় এতদিন কিছু না বললেও অবশেষে মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী। শনিবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে যুগান্তরকে বলেন, “ শোন , খুব বেশি বেশি ভাল থাকলে সুখে কামড়ায়, তো খুব আরামে থেকেছেন সকলেই বিরাট বড়লোক হয়েছেন সুতরাং ভাবলেন যে ঠিক আছে একটু ঠুকে দেই, আছে কিছু ফল্ট মারি মেরে দিলেন”। তারপর স্বভাব সুলভ অট্রহাসি। তিনি বলেন, সে সময় তিনি কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাননি বরং সংসদে বসে হেসেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, “আই হেইভ গিবেন দ্য প্রপোজাল। কোনো দিনই যে প্রপোজাল দেই সেটা ফাইনাল হয় না। আমার সব সময়ই একটা ফল ব্যাক পজিশন থাকে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু কনসেশন দিবেন। এন্ড আই থিংক এন্ড আই নো দি প্রাইম মিনিস্টার মাইন্ড, হাউ ইট ওয়ার্কস। মাচ বেটার দেন অ্যানি আদার পিপুল এন্ড মাচ বেটার দ্যান অ্যানি আদার মেম্বারস অব ক্যাবিনেট।
সুতরাং আমি তার (প্রধানমন্ত্রী) উপর ভরসা করেই দিয়েছি। তবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভ্যাট নিয়ে প্রস্তুতি ছিলো। কিন্তু সেখানেও একটু গ্যাপ ছিল। দ্যাট ওয়াজ আওয়ার ইন্টারনাল প্রবলেম এন্ড মাই ইনইফিসিয়েন্সি আই সো সে। আই ডিড নট রিয়েলাইজ দ্যাট ভ্যাট উইল বি এ সো হ্যাভিলি অ্যা বারডেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার ভুল ভেঙ্গে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আপনি যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলেন এখন কত আছে ভেবে দেখেছেন। সাথে সাথেই বোর্ড অব রেভিনিউ একটি কাগজ তাকে দেন । সেই কাগজে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া ছিল। তিনি বলেন, তিনি আগে ভাবেননি বোর্ড অব রেভিনিউ এর হিসাব দেখে বোঝতে পারেন কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে ভ্যাটের হার। অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটা বোঝার পর প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিলেন এই বাজেটে এটা আরোপ না করার জন্য। কিন্তু তিনি বললেন আগামী ২ বছরেও এটা আরোপ হবে না। প্রধানমন্ত্রী বললেন খুব ভালো। অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলো তাহলে বোর্ড অব রেভিনিও এর আগে কেন তা আপনাকে দেখায়নি। এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ এত ডিটেইল দেয়নি। আলাপ আলোচনা হয়েছে । আমি বলছি এটা আমারও ভুল তাদেরও ভুল। দ্যাট ওয়াজ নট ডিটেইল এক্সপ্লেইনড। যে এত মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমার বোঝা উচিৎ ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে তা অনেক বেশি। দ্যাট’স মাই ফল্ট। আমরা সব সময়ই একটি গিল্টি পার্টি দেখতে চাই। এজন্য বললাম যে আমার অফিস যদি আরও একটু ডিটেইল এগুলো বলতো তখন হয়তো এই ভুলটা হতো না।

২০ দিনেই ভেসে গেল ৫ কোটি টাকা

ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার খয়েরতলা বাকুলিয়া এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের ১৫/২০ দিনেই সড়কের ওই অংশ যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের কোল্ডস্টোর এলাকার রাস্তার দুই পাশ দেবে গেছে। তাই ফের ঝুঁকি নিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে। এ নিয়ে পথচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয়োডিক মেইনটেনেন্স প্রজেক্টের (পিএমপি মেজর) আতওতায় ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির ওই অংশের সংস্কার কাজ করে। ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়োডিক মেইনটেনেন্স প্রজেক্টের (পিএমপি মেজর) আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের চারটি স্থানের সংস্কার কাজের টেন্ডার পেয়ে ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম কাজ করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে লেনথ ও খোয়ার থিকনেস কম দেয়ায় এমনটি হয়েছে। সূত্র জানায়, সড়কের সংস্কার কাজের তদন্ত ও ল্যাব টেস্ট করলেই সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পাওয়া যাবে। ৫ কোটিরও বেশি টাকায় সড়ক সংস্কারের মাত্র ২০ দিনের মাথায় সড়কের পিস-কংক্রিট উঠে যাওয়ায় এবং সড়কের প্রায় স্থান দেবে যাওয়ায় সমালেচনার মুখে পড়েছে সড়ক বিভাগ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় হৈচৈ পড়ে গেছে। সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদকে এ বিষয়ে শোকজ করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে তার জবাবও দাখিল করেছেন। কাজের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম বলেন, আমি চারটি পয়েন্টে কাজ করেছি। কোন স্থানে কাজ খারাপ হয়নি। কিন্তু কালীগঞ্জের খয়েরতলা বাকুলিয়া অংশে রাস্তার মুল বেইজ খারাপ হওয়ার কারণ বর্ষার পানি পেয়ে নষ্ট হয়েছে। আমার পাথর দিয়ে ম্যাগাডামের পর কার্পেটিং করার কথা সেটি আমি করেছি। কাজে কোনো ত্রুটি ছিল না। তিনি নষ্ট হওয়া অংশটি নিজ উদ্যোগে মেরামত করবেন বলেও জানান। ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান বলেন, কাজটি এখনো শেষ হয়নি, চলমান রয়েছে। কিন্তু শেষ করা রাস্তা কেন এমন হলো আমি তদন্ত করে দেখছি। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে এমন হতে পারে। তিনি অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেন। সড়ক বিভাগের যশোর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এএসই) সুরুজ মিয়া জানান, রাস্তা যেভাবে করার কথা সে ভাবেই তো হয়েছে। কেন এমন হলো তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি বলেন, এই রাস্তা পিএমপি মাইনর প্রজেক্টের কাজ। আমি যতদুর জানি এটা রিপিয়ার সিলকোটের কাজ ছিল। কালীগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মিয়া বলেন, এভাবে সরকারি টাকা শ্রাদ্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মাত্র ১৫/২০ দিন আগে রাস্তাটি করা হয়। এখনো রোলারসহ সরঞ্জাম সাইডেই পড়ে আছে। একই ভাবে ক্ষোভের কথা জানান কালীগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রামের মার্জেদ আলী, আবু জাফর, খয়েরতলা গ্রামের আবুল কাশেম, আজিজুল ইসলাম ও মহিউদ্দীন। তাদের ভাষ্য, কাজটি সঠিক ভাবে করা হলে মাত্র ১৫/২০ দিনে নষ্ট হওয়ার কথা নয়।

কারাগারের ৬৮ বস্তা গমসহ আটক ১

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের রেশনের পাওয়া ৬৮ বস্তা গমসহ পিকআপ চালক মো. সেলিম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনা তদন্তে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে জব্দকৃত পিকআপভর্তি গম জয়দেবপুর থানায় আনা হয়েছে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও মামলা হয়নি বলে জানায় পুলিশ। সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, কাশিমপুর কারাগার থেকে পিকআপে করে গম পাচার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে শনিবার বিকালে ৬৮ বস্তার প্রায় সাড়ে তিনটন গমসহ ওই পিকআপটি আটক করা হয়। গমগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, কারাগারের কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের প্রতিমাসে রেশন প্রদান করা হয়। ওই রেশন থেকে অনেকে গম বা অন্য সামগ্রী বিক্রি করে চাউল বা অন্য সামগ্রী ক্রয় করে থাকেন। কারাগারের এক কারারক্ষী তা ক্রয় করে বাইরে কোথাও বিক্রি করে দেয়। শনিবার গমগুলো কারাগারের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় সালনা হাইওয়ে পুলিশ পিকআপ ভর্তি গম আটক করে।
আটক পিকআপ চালক সেলিম জানান, কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষী মো. রুকন উজ্জামান গমগুলো টঙ্গীর ব্যবসায়ি মাসুদ মোল্লার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তার পিকআপটি ভাড়া নিয়েছিল। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর কারারক্ষী মো. রুকন উজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ কারা কমপ্লেক্সের চারটি কারাগারের জেল সুপার, জেলার, সুবেদার, সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট স্টাফরা প্রতিমাসে চাল, ডাল, চিনি, গম, তেল রেশন হিসেবে পান। তাদের অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসব পণ্য বিক্রি করে দেন। আমি বাহক হিসেবে বাইরের বিভিন্ন ব্যবসায়ির কাছে ওইসব মালামাল বিক্রি করে দেই। শনিবার রেশনের এমন বিক্রিত সাড়ে তিনটন গম পিকআপে টঙ্গীর ব্যবসায়ি মাসুদ মোল্লার কাছে পাঠানো হচ্ছিল। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, গমগুলো উদ্ধারের পর জয়দেবপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদ হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, হাইওয়ে পুলিশের আটক করা পিকআপভর্তি গম জয়দেবপুর থানায় রয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা হয়নি।

মানহানি মামলায় মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

মানহানি মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।   রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। সাক্ষীর জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন বিচারক। অভিযোগ গঠনের সময় মির্জা ফখরুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ফখরুলের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে খুনি, তার দল আওয়ামী লীগ একটি খুনের দল হিসেবে পরিচিত, সারা জাতি ও বিশ্ববাসী তা জানে’ বলে মন্তব্য করেন। পরে ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানীর আদালতে আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সহ-সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ফখরুলের ওই বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে সামাজিক ও আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে লন্ডন যেতে বাধা

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনাকে লন্ডন যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। এতে লুনার লন্ডনযাত্রা বাতিল হয়ে যায়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইলিয়াস আলী ও তাহসিনা রুশদী লুনা দম্পতির বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ড থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মা লুনার। আজ সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডন যাওয়ার শিডিউল ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে যেতে দেয়নি।
ইলিয়াস আলী ও লুনা দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস যুক্তরাজ্যের বিস্টলে ইউনির্ভাসিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে এলএলবিতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে লাবিব সারার যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি ইউনির্ভাসিটিতে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একমাত্র মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ঘরে বসে প্রেস ব্রিফিং করে আর কান্নাকাটি করে। আমাদের তো হাজার হাজার কর্মীকে তারা হত্যা করে রক্তের স্রোত বইয়ে দিয়েছিল। আমাদের কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। খুলনায় আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় যোগ দেয়ার আগে রোববার সকালে যশোরের রাজারহাটে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে যা সত্য, দিবালোকের মতো পরিষ্কার, সেটাই আমরা বলেছি। মিথ্যাচারের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজানো বিএনপির পুরনো অভ্যাস। তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র একেবারেই নির্মাণ করা যাবে না বলে ইউনেস্কোর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটা আমরা অতিক্রম করেছি। এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে। তবে ইউনেস্কোর ছোট ছোট কিছু শর্ত আছে। দেশ, জনগণ ও পরিবেশের স্বার্থে এগুলো আমরা সংশোধন করে নেবো। খুলনায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র পদ ফিরে পেতে মান্নানের রিট

মেয়র পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন তৃতীয়বারের মতো বরখাস্ত হওয়া গাজীপুরের সিটির মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান। রোববার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করা হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজই আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মান্নানের আইনজীবী আবু হানিফ। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। অধ্যাপক এম এ মান্নান ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
তবে তাকে তিনবার বরখাস্ত করা হয়। নাশকতার এক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট মান্নানকে প্রথম বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর রিট আবেদন করলে উচ্চ আদালত ওই আদেশ স্থগিত করে। ২৮ মাস পর তিনি চেয়ারে বসতে গেলে ওই দিনই তাকে আবারও বরখাস্ত করা হয়। গত বছরের ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে গেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সেই বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন আদালত। এরপর গত ১৮ জুন পুনরায় মেয়রের চেয়ারে বসেন তিনি। তার ১৮ দিনের মধ্যে তাকে ফের বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ গঠনে সাফাতদের আদালতে হাজির

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। রোববার বেলা ১০টার দিকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক শফিউল আজমের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন- আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বন্ধু নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির কথা রয়েছে আজ। আদালত সূত্র জানায়, অভিযোগ গঠন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম। এর আগে গত ৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এ্যানি। জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত দিয়ে হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় ওই পাঁচজনকে অসামি করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী। গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে তাদের আটকে রেখে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামির সবাইকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।

ষষ্ঠ শ্রেণীতেই জেএমবিতে নাম লেখায় মাহফুজ

নিষিদ্ধ সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রতিষ্ঠাকালীন (২০০২ সাল) সদস্য ছিলেন সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেল ওরফে নাসিরুদ্দিন ওরফে ভাগিনা সোহেল। তবে এটি তার সাংগঠনিক নাম। পরিবারের লোকজন হাসান নাম রাখলেও স্কুলে ভর্তির সময় শিক্ষকরা নাম রাখেন আবদুস সবুর খান। প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলের কোনো পরীক্ষায় প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি। ৫ম শ্রেণীতে পেয়েছিলেন বৃত্তি। পাবনা জিলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায়ও ১০ জনের মধ্যে ছিলেন সোহেল মাহফুজ। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পদ্মা ও গড়াই নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন চরসাদিপুরে। এই ইউনিয়নের কাবলিপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক রেজাউল করিম ওরফে রাজেম শেখের দশ ছেলেমেয়ের মধ্যে মাহফুজ ওরফে হাসান চতুর্থ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াকালীন (২০০২ সাল) গ্রামের দুরন্ত এ কিশোরের চালচলনে হঠাৎ পরিবর্তন আসে। মাঝেমধ্যেই সে কিছুদিনের জন্য হারিয়ে যেত। তবে ২০০৫ সালে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। ওই বছরেই র‌্যাব ও পুলিশ তাকে খুঁজতে গ্রামে যায়। তখন গ্রামের লোকজন জঙ্গিবাদে জড়ানোর খবর পায়। এর পর ২০০৮ সালে এক মেয়েকে নিয়ে গ্রামে এলেও পরিবারের সদস্যরা ছাড়া আর কেউ মাহফুজকে দেখতে পায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, পাবনা জিলা স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াকালে সাদিপুর আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় মাহফুজের। তার হাত ধরে শিশু বয়সেই জেএমবিতে নাম লেখায় সোহেল মাহফুজ। সোহেল মাহফুজের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান সাকিবও (২৫) একজন জঙ্গি। ভাই মাহফুজের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ২০১০ সালে সে সাদিপুর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত বছর র‌্যাব-পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাকিবকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে সাকিব। জঙ্গি তৎপরতা দমনে গঠিত বিশেষ সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেছেন, জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানের সান্নিধ্যে সে সময় থেকেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন সোহেল মাহফুজ। ২০০৪ সালে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে একটি হাত উড়ে যায় তার। এরপর পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গিয়ে সেখানেও জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শাখা গড়ে তোলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ জেএমবির ভারতীয় শাখার আমীর ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি নসরুল্লাহ নামে ছদ্মপরিচয়ে ভারতে এক নারীকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর তার ছবিসহ নাম প্রকাশ পায়।
সে সময় ভারতীয় সরকার মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করে তাকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে। এরপর ওই বছরের ডিসেম্বরে ফের বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন সোহেল মাহফুজ। মাহফুজের বোন রহিমা বেগম জানিয়েছেন, অন্য তিন ভাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। বড় ভাই নজরুল ইসলামের এলাকায় চায়ের দোকান রয়েছে। আরেক ভাই মনিরুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন এবং আরেক ভাই হেলাল কুমিল্লায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। রহিমা বলেন, আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো ছাত্র ছিল। স্কুলের পরীক্ষায় কোনোদিন সে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি। ৫ম শ্রেণীতে সে বৃত্তি পেয়েছিল। নিজের পড়াশোনার খরচ সে নিজেই চালাত। প্রতিদিন সে বাড়ি থেকে পাবনায় নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করত। সে যে জঙ্গি এটা প্রথম জানতে পারি ২০০৫ সালে যখন র‌্যাব-পুলিশ তাকে খুঁজতে বাড়িতে আসে। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে বউ নিয়ে শেষবারের মতো সে বাড়িতে এসেছিল। এর পর থেকে তার সঙ্গে আর পরিবারের কারও যোগাযোগ নেই। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেছেন, এক হাত না থাকলেও শক্তিশালী বোমা তৈরি ও অস্ত্র পরিচালনায় পারদর্শী সোহেল মাহফুজ শূরা সদস্য হিসেবে সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, এযাবৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর এ জঙ্গির নাম এলেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল সোহেল মাহফুজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া উত্তরাঞ্চলীয় জেএমবির কমান্ডার সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ গুলশান হামলায় পলাতক চার জঙ্গির একজন। গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের অন্যতম হচ্ছেন সোহেল মাহফুজ। হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে জড়িত নব্য জেএমবির অন্য যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, চকোলেট, ছোট মিজান, মামুন, নিহত জঙ্গি নেতা মারজানের ভগ্নিপতি হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর পলাতক রয়েছেন।

অর্থ পাচারের জন্য আমরাও দায়ী: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় আগামী মাস থেকে রেমিটেন্স পাঠানোর ফি কমিয়ে ন্যূনতম একটি চার্জ নির্ধারণ করবে সরকার। এছাড়া বিদেশে টাকা পাচার রোধে জমির সরকারি দাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। অর্থ পাচারের জন্য আমরাও দায়ী। শনিবার সকালে সিলেটের নাইওরপুলে একটি ফোয়ারা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান, জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুটি কারণে রেমিটেন্স কমতে পারে। প্রথমত, যারা বিদেশে থাকছেন তাদের অনেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া করছেন। দ্বিতীয়ত, তাদের অভিযোগ রয়েছে, রেমিটেন্স পাঠানোর ফি অনেক বেশি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রেমিটেন্সের ফি আমরা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছি। সম্ভবত আগামী মাস থেকে কমে যাবে। সেটা হবে নামমাত্র একটি ফি। তিনি আশা করেন তাতে রেমিটেন্স প্রবাহে গতি আসবে। সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ গত ১ বছরে ৪০.৭২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবেদন সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক প্রকাশ করেছে।
এমন অর্থ পাচার রোধে কী পদক্ষেপ নেবেন এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার সারা দুনিয়াতেই হয়। তবে রেটস অব গ্রোথ (পাচারের হার) আমাদের একটু বেশি। এজন্য আমরাও দায়ী। আমরা জমির সরকারি মূল্য কমিয়ে রেখেছি। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, কেউ এক কোটি টাকার জমি বিক্রি করে সেখানে সরকারি দাম ৩০ লাখ টাকা উল্লেখ করেন। সেখানে বাকি ৭০ লাখ টাকা হয়ে যায় কালো। অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। শিগগির জমির সরকারি দাম বাড়িয়ে বাজার দর করা হবে। অন্যদিকে প্রায় ২ বছর ধরে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ের গতি নিম্নমুখী। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত ৬ বছরে এটিই সর্বনিন্ম। এতে সরকার, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। এদিকে চলতি অর্থবছরেও রেমিটেন্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। প্রসঙ্গত, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) বাংলাদেশি নাগরিকদের জমা টাকার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এক বছরে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। সুইস ব্যাংকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ সুইস ফ্রাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা (প্রতি সুইস ফ্রাংক ৯০ টাকা হিসাবে)। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে তা ছিল ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত এবং পাকিস্তানের পরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। ১৫ জুন সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফাঁস হয়ে গেছে লাভ আইল্যান্ড তারকার সেক্স টেপ

প্রাপ্ত বয়স্কদের রিয়েলিটি শো ‘লাভ আইল্যান্ড’। যৌন কেলেঙ্কারিতে পড়েছেন লন্ডনের এই শো-এর তারকা সুন্দরী টাইলা কার। তার একটি সেক্স টেপ ফাঁস হয়ে গেছে। এতে তার বয়ফ্রেন্ড বা প্রেমিকের সামনে তাকে অন্য এক সুন্দরীর সঙ্গে সমকামিতায় মত্ত দেখা যায়। এক পর্যায়ে তাতে যোগ দেয় তার বয়ফ্রেন্ড। তারপর যা হবার তাই হয়। এ খবর নিয়ে পুরো লন্ডনে তোলপাড় চলছে। এমনিতেই এ শো’টি হলো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। তারকাদের বেশির ভাগই থাকেন টপলেস। কখনো তাদেরকে পুরো উদোম শরীরে দেখা যায়। যুবতী, যুবক সবাই নগ্ন সেখানে। একসঙ্গে উদ্দামতায় মেতে থাকে তারা। এ নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়া, বিশেষ করে লন্ডনের ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর ওয়েবসাইট রিপোর্টে সয়লাব। তবে তাকে ছাপিয়ে গেছে টাইলা কার-এর রগরগে যৌনলীলার টেপ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য সান। এতে বলা হয়, নয়ন কাড়া একজন সুন্দরীকে দেখা যায় টাইলার সঙ্গে। তারা দু’জন যখন উন্মত্ত তখন তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন টাইলার বয়ফ্রেন্ড। টাইলার মাথার চুল কালো। এক পর্যায়ে তাকে দেখা যায় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। নাটকীয়ভাবে সামনে থেকে চুল ঘুরিয়ে পিছনে নিয়ে নেন। এ সময় পরিস্কার বোঝা যায় দু’নারীই পুরো নগ্ন। তখন নেপথ্যে বাজছে ড্যান্স মিউজিক। এরপর তারা আহ্বান জানান বয়ফ্রেন্ডকে। দু’মিনিটের এই ভিডিওটি এ বছরেই ধারণ করা বলে মনে হচ্ছে।

রোনালদোর গর্ভবতী বান্ধবীর নতুন ছবি ভাইরাল

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বর্তমান বান্ধবী জার্জিনা রদ্রিগেজ। ২২ বছর বয়সী এ সুন্দরীর সঙ্গে একই ছাদের নিচে আছেন অনেকদিন। বেশ কিছুদিন ধরে তার গর্ভবতী হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে রোনালদো কিংবা জর্জিনা মুখ খোলেননি। তবে এবার তাদের দু’জনের কিছু ছবি প্রকাশ পেলো তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, জর্জিনা গর্ভবতী। এখন ছুটিতে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছুটি কাটাতে পরিবারের সদস্য ও একদল বন্ধু নিয়ে তিনি ঘুরতে গেছেন স্পেনের ইবিজা সমুদ্র সৈকতে। আর সেখানেই জর্জিনার কিছু ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়লো। যাতে তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ জানাচ্ছে, কদিন আগে জর্জিনাকে নিয়ে মাদ্রিদের একটি হাসপাতালে যান রোনালদো। সন্তান পুত্র নাকি কন্যা হবে সেটা পরীক্ষা করার জন্য সেখানে তিনি ডিএনএ টেস্ট করান। তবে তার ফলাফল কী তা জানা যায়নি। এতে নিশ্চিত বুঝা যাচ্ছে চতুর্থ সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন রোনালদো। রোনালদোর রয়েছে ৬ বছর বয়সী এক পুত্র। আর সম্প্রতি যমজ সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। তিন জনেরই জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভ ভাড়ার মধ্যেমে। তাদের কারো মায়ের পরিচয় জানা যায়নি। তবে এবার রোনালদোর নতুন সন্তান তার মায়ের পরিচয় জানতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল রাশিয়ার মডেল ইরিনা শায়েকের। দীর্ঘদিন তারা এক ছাদের নিচে ছিলেন। কিন্তু ইরিনার সঙ্গে রোনালদোর মায়ের সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানা যায়। এ কারণেই তাদের মধ্যের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। তবে ‘দ্য সান’ জানাচ্ছে, রোনালদো ও জর্জিনার মধ্যেকার রসায়নটা দারুণ। রোনালদো মাও নাকি জর্জিনাকে খুব পছন্দ করেন। জর্জিনা গর্ভবতী হওয়ায় রোনালদোর পরিবারের সদস্যরা খুবই খুশি।

সত্য বলাটা মিথ্যা প্রচারণা নয়

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করায় বাংলাদেশ সরকারকে পাল্টা জবাব দিয়েছে সংস্থাটি। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, সত্য বলাটা মিথ্যা প্রচারণা নয়। বুধবার এইচআরডব্লিউ ‘তিনি আমাদের কাছে নেই : বাংলাদেশে গোপনে আটক ও গুম’ শীর্ষক ৮২ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ কয়েকশ’ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক করে গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ রিপোর্টকে ‘মিথ্যা প্রচারণা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। শুক্রবার পাল্টা জবাব দিয়েছে এইচআরডব্লিউ। ‘নো, বাংলাদেশ, দ্য ট্রু–থ ইজ নট এ স্মেয়ার ক্যাম্পেইন’ (সত্য বলাই মিথ্যা প্রচারণা নয়) শীর্ষক এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে গোপন আটক ও গুম নিয়ে ৮২ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ রিপোর্টকে ‘স্মেয়ার ক্যাম্পেইন’ বা মিথ্যা প্রচারণা বলে দাবি করেন। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান বা সে বিষয়ে উত্তর পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে তা কঠিনভাবে উপেক্ষা করছেন তিনি। প্রতিবেদনের সমালোচনা করে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কাকে আপনি গুম বলবেন? অনেক ব্যবসায়ী তাদের ঋণ ফাঁকি দিতে আত্মগোপনে রয়েছেন। অনেক মানুষ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের পর নিখোঁজ রয়েছেন।’ মিনাক্ষী আরও লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সেই মানুষকে নিখোঁজ ব্যক্তি (ডিজঅ্যাপেয়ার্ড পারসন) বলা হয়, যাকে রাষ্ট্রের কোনো এজেন্ট আটকে রাখে বা স্বাধীনতাবঞ্চিত করে রাখা হয়, অথবা তিনি কোথায় আছেন তা জানা না যায়। এমন অবস্থায় তাকে এমন স্থানে আটকে রাখা হয়, যেখানে তাকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয় না। তিনি লিখেছেন, ২০১৩ সাল থেকে কয়েকশ’ মানুষকে অবৈধভাবে আটকে রেখেছে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী। তাদের অনেককে আটকে রাখা হয়েছে গোপন স্থানে। এ ক্ষেত্রে এইচআরডব্লিউ বেশকিছু ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। র‌্যাব, ডিবি বা প্রশাসনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এসব ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা। কিন্তু তা যখন করা হয়নি, তখন তাদের পরিবারের সদস্যরা বারবার হয়তো পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু তারা এসব স্বজনকে আটক রাখার কথা অস্বীকার করেছে। কয়েক সপ্তাহ বা মাস তাদের কাউকে কাউকে অবৈধভাবে আটক রাখার পর যদিও বা আদালতে হাজির করা হয়েছে, তবে অন্য অনেককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে অনেককে। তাছাড়া অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ।’ মিনাক্ষী আরও লিখেছেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরিবর্তে আসাদুজ্জামান খান ঘোষণা দিয়েছেন, তার সরকার এ রিপোর্ট পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানের পদে বসে তিনি দাবি করেছেন, গুম নিয়ে কখনও প্রশ্ন তোলেনি জাতিসংঘ। প্রকৃতপক্ষে এসব নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মন্তব্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। কিন্তু জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সের পাঠানো ওই চিঠি বারবার অবজ্ঞা করেছে বাংলাদেশ সরকার। হিউম্যান রাইটস কমিটিও কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে।’ মিনাক্ষী লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন তিনি বারবারই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি হাইলাইট করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতায় গেলে এগুলো বন্ধ করবেন। এখন তার সরকারের পর্যায়ক্রমিক দ্বিতীয় মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তার পূর্বসূরিদের মতো শুধু প্রতিধ্বনিই তুলছে না, একই সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গোপনে আটক করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ ও সমালোচকদের গুম করে দিচ্ছে। এ ছাড়া অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। দলীয় নেতা হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পক্ষপাতী ও ভাড়াটে সংগঠন। তবে এর আগে বিরোধী দলের সহিংসতা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর বিষয়টি তিনি অবজ্ঞা করেছেন। আসলে বাংলাদেশ এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারে এবং তাদের তা করা উচিত।’

দু’পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন শুরু

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প কুড়িল-পূর্বাচল সংযোগ সড়কের দু’পাশের ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে কুড়িল-পূর্বাচল সংযোগ সড়কের বালু ব্রিজ সংলগ্ন ডুমনি মৌজায় খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ নানা জটিলতায় শুরু করতে দেরি হয়েছে। এ কারণে বাকি সময়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে ২০১৮ সালের আগস্টে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে চায় সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এরই মধ্যে ৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কুড়িল-পূর্বাচল সড়কের দু’পাশের ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মহানগরীর নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোয়ারসাহারা, ডিওএইচএস-ঢাকা সেনাবাহিনী, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুর সংলগ্ন কুড়িল ও কুড়াতলী এলাকার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এ খাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি বাংলাদেশে একটি নিদর্শন হিসেবে দাঁড়াবে। কাজ শেষ হলে এ খালের সৌন্দর্য একটি আইকন হিসেবে দাঁড়াবে। এ সময় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজের দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীকে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার অনুরোধ জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার খাল খনন, প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, চারটি ইউলুপ, খালের ওপর ১৩টি সেতু, চারটি এক্সপ্রেসওয়ে ফুটওভারব্রিজ এবং পাঁচটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। এর বাইরে একটি পাম্প হাউস, ১২টি ওয়াটার বাসস্টপ ছাড়াও ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ার লাইন নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দু’পাশেই সাড়ে ৬ মিটার সার্ভিস সড়ক থাকবে। এরপর তিন মিটার প্রশস্ত হাঁটার পথের পর ৩০ মিটার খাল থাকবে। খালের পর আবার দুই মিটার হাঁটার পথ, ছয় মিটার সার্ভিস রোড থাকবে। সবশেষে থাকবে দেড় মিটার করে হাঁটার পথ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এএসএম রায়হানুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, কুড়িল-পূর্বাচল সংযোগ সড়কের দু’পাশের ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন প্রকল্পের রাজউকের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং এ প্রকল্পের সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিজাম উদ্দিন আহমেদ।