Friday, May 18, 2018

গাজায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক তদন্তের পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

যেইদ রা'দ আল হোসেইন
গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান যেইদ রা'দ আল হোসেইন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তে ইসরাইল পুরোপুরি নির্বিচার বলপ্রয়োগ করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।
আজ (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের  বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গাজা অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজাবাসীরা বিষাক্ত এক বস্তিতে আটকা পড়েছে। তাদেরকে মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
নাকবা দিবসে ইসরাইল গাজায় যাদের হত্যা করেছে তাদের অনেকেই একেবারেই নিরস্ত্র ছিল বলে তিনি জানান।
যেইদ রা'দ আল হোসেইন বলেন, ইসরাইল গাজায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলের গাজাবাসীর সার্বিক অবস্থার প্রতি দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি জানান। 
গত সোমবার পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে গাজায় বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি সেনারা অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

দোয়ারাবাজারে বেপরোয়া পাথরখেকো সিন্ডিকেট by মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

দোয়ারাবাজার উপজেলা সীমান্তে বাঁশতলা-হকনগর পর্যটন এলাকায় ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে পাথর খেকো সিন্ডিকেট। প্রতিনিয়িত পাথর কোয়ারি থেকে লুট হচ্ছে পাথর। গাছপালা উজাড় করে অবাধে পাথর উত্তোলনের কারণে এলাকাজুড়ে হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশের। শহীদ স্মৃতিসৌধ এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন সৌন্দর্র্য হারাতে বসেছে উপজেলার একমাত্র নান্দনিক ওই পর্যটন এলাকার। যেখানেই চোখ পড়ে সেখানেই পাথরে স্তূপ চোখে পড়ে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে স্থানীয়  প্রভাবশালী মহল সীমান্তরক্ষীর (বিজিবি) যোগসাজশে অবৈধভাবে কোয়ারি এলাকা হতে পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অসাধু পাথর ব্যবসায়ীরা স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ করে ট্রলি, টাক্টর, ছোট ট্রাক দিয়ে পরিবহনের মাধ্যমে জুমগাঁও, হকনগরবাজার, চৌধুরী বাজার ও বাংলাবাজার এলাকায়পাথর ড্রাম্পিং করা হচ্ছে। ড্রাম্পিং করা লাখ লাখ টাকার পাথর ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারি অনুমোদন বা কোনো প্রকার লিজ ছাড়াই চিহ্নিত একটি চক্র বহুদিন ধরে এখান থেকে অবাদে পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারি করছেন। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে দিন-রাত পাথর উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় ড্রাম্পিং করা হচ্ছে। আর এরই সুবাদে ওই এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেছে চোরাই সিন্ডিকেট। নিজেদের সুবিধার্থে শহীদ স্মৃতিসৌধ এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ ক’টি দোকান ও অস্থায়ী রেস্তরাঁ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার কিছু প্রভাবশালীর নেতৃত্বাধীন পাথর লুটপাটের মহোৎসব চলে। আর পাথর উত্তোলন করে অব্যাহত লুটপাটের কারণে বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ এলাকায় পরিবেশ ভারসাম্যের মারাত্মক ধস নেমেছে। এছাড়া স্থানীয় হকনগরবাজারের নিকটে মৌলা নদীতে  কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইস গেটটি রয়েছে হুমকির মুখে। বালি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের কারণে কোয়ারি এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়। এছাড়া সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্টে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রতিনিয়ত পাথর উত্তোলন করে শ্রমিকরা। স্থানীয় বাসিন্দা হাসিব উদ্দিন মেম্বার, নজরুল মেম্বার, আবদুল আহাদ, মানিক মাস্টার, জুয়েল, ফজলু মিয়া, বশির উদ্দিন, আবদুল মজিদ, বিএসএফের সোর্স সামছু মিয়াসহ বেশ কিছু লোকের ছত্রছায়ায় এখানে পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে অন্তত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পাথর খেকো সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে বলে জানা যায়। ইতিপূর্বে নানা কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাসহ একাধিক মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সুনামগঞ্জ বিজিবির সিও লে. কর্নেল নাছির উদ্দিন পিএসসি বদলি হওয়ার পর থেকে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে পাথর খেকো সিন্ডিকেট। তবে হাসিব উদ্দিন মেম্বার জানিয়েছেন তিনি পাথর উত্তোলনের সঙ্গে এখন জড়িত নেই। বর্তমানে কেউ কেউ এখান থেকে পাথর উত্তোলন করছেন। ঊশির উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কিছু সংখ্যক লোক স্থানীয় বিজিবি জওয়ানদের ম্যানেজ করে পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করলেও তিনি আপাতত জড়িত নন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার বলেন, আমি শুনেছি ইদানীং পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। গতকাল বিজিবি কর্তৃপক্ষকে এখান থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলে দিয়েছি। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পাথর খেকো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইসরাইলি অপরাধের আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছে ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে “বর্বর ও দুর্বৃত্ত বর্ণবাদী সরকার” বলে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সাম্প্রতিক গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এ ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে আজ (শুক্রবার) এসব কথা বলেছেন জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেন, গাজায় গণহত্যার পর বর্বর ও দুর্বৃত্ত বর্ণবাদী এই সরকারের অবসান চাওয়ার অধিকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ওআইসি’র উচিত- গাজা উপত্যকায় গণহত্যার জন্য দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জোরদার করা। এজন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তসহ জাতিসংঘ ব্যবস্থার আওতায় আমাদের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেয়া জরুরি।”
ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে দায়িত্ব পালনের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও জরুরি বলে জাওয়াদ জারিফ উল্লেখ করেন।
গত সোমবার ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভের সময় গাজা উপত্যকার কাছে নিরস্ত্র সাধারণ ফিলিস্তিনেদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৬২ জন শহীদ ও ২,৭০০ আহত হন। এর প্রতিবাদে আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ওআইসি’র শীর্ষ নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের নির্বিচার হামলা

লিবিয়া স্টাইলে উত্তর কোরিয়াকে শেষ করে দেয়ার হুমকি ট্রাম্পের

পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করলে লিবিয়ার মতো করে উত্তর কোরিয়াকে শেষ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করলে কিম জং উনকে ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা দেয়া হবে। আর এতে সম্মত না হলে লিবিয়ার সাবেক নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফির মতো করে তাকে শেষ করে দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বসার বিষয়ে এখনো আশাবাদী ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, নির্ধারিত বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলে উত্তর কোরিয়া সুরক্ষা পাবে। যা হবে খুবই শক্তিশালী। কিম তার দেশেই অবস্থান করবেন। দেশও চালাবেন তিনি। তার দেশ অনেক ধনী হবে। কিন্তু বৈঠক যদি কোন কারণে বানচাল হয়ে যায়, তাহলে কিমকে লিবিয়ার মোয়াম্মার গাদ্দাফির মতো ভাগ্য বরণ করতে হবে। যিনি বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতা হারিয়ে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, লিবিয়ার পরিণতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আমাদের সঙ্গে সমঝোতা না করলে কি ঘটে। ট্রাম্প-কিম বৈঠক বাতিলের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে পিয়ংইয়ং বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার দাবিতে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত কোন বৈঠকে তাদের কোন আগ্রহ নেই। অবস্থার পরিবর্তন না হলে তারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
এদিকে, কোরিয়া উপদ্বীপকে কিভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করা হবে সে বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্ট জন বোল্টন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য লিবিয়াকে অনুসরণ করার আহবান জানান। কিন্তু বোল্টনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রস্তাব খুবই হাস্যকর।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে লিবিয়ার সাবেক  নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া পারমাণবিক কার্যক্রম ও রাসায়ণিক অস্ত্র ত্যাগ করে। বিনিময়ে তাদেরকে অবরোধ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

রুবাইয়া ও নাঈমার জঙ্গি হওয়ার গল্প by বিল্লাল হোসেন রবিন

নারায়ণগঞ্জের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের (জেমবি) দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাতে রাজধানী ঢাকার আরামবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন ওরফে হুরের রাণী ওরফে লাবিবা (২০)। সে ময়মনসিংহের সদর থানার কাচি ঝুলি হামিদ উদ্দিন রোডের বাসিন্দা। এবং নাঈমা আক্তার ওরফে হিমালয়ের কন্যা (২৫)। সে একই জেলার ফুলবাড়িয়া থানার শ্রীপুরের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রুবাইয়া বিনতে নুর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার একটি মামলার (নম্বর-৪৮ তারিখ ১৮/৪/১৮) এজাহারভুক্ত আসামি। রুবাইয়া স্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপাড়া করে মাদরাসায় ভর্তি হয় এবং নাঈমা পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি মো. আলেপ উদ্দিনসহ র‌্যাব-১১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। র‌্যাব-১১’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন ওরফে হুরের রাণী ওরফে লাবিবা ২০১১ সালে ময়মনসিংহের একটি গার্লস স্কুল হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। এরপর ২০১২ সাল হতে মাদরাসায় লেখাপড়া শুরু করে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহের সদর থানার কাচি ঝুলিতে স্থানীয় একটি বালিকা মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সে মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্রবাদিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। ২০১৬ সালে ইন্টারনেটে সামাদ ওরফে আব্দুল্লা ওরফে জাকির নামক জনৈক এক জেএমবি সদস্যের সঙ্গে পরিচয় সূত্রে সে জেএমবির নারী শাখায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে র‌্যাব-১১ কর্তৃক চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল গ্রেপ্তারকৃত নারী জঙ্গি সদস্য মিতুসহ বেশ কয়েকজন সক্রিয় নারী জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। র‌্যাব জানায়, রুবাইয়া জেএমবিতে অন্তর্ভুক্তির পর জেএমবির নারী শাখার দাওয়াতী ও প্রচার কার্যক্রম চালাত। সে ও তার মা ফিরোজা বেগম, গ্রেপ্তারকৃত নাঈমাসহ তার নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী সহপাঠী ও বন্ধুদের জেএমবি এর দাওয়াত দেয়। তন্মধ্যে সে তার মা ফিরোজা, নাঈমাসহ বেশ কয়েকজনকে জেএমবিতে অন্তর্ভুক্তি করায়। তবে রুবাইয়ার বাবা, নানা-নানী ও বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় জেএমবির দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয় দেখালে রুবাইয়া তাদেরকে এড়িয়ে চলতে থাকে। পরে সে ও তার মা কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে নিজেদেরকে জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখে।
র‌্যাব আরো জানায়, রুবাইয়াকে ইতিপূর্বে জঙ্গি সামাদ ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে জাকির হিজরত করার প্রস্তাব দিলে তাকে তার মা স্বাচ্ছন্দ্যে অনুমতি দেয়। ফলে তার মায়ের অনুমতিক্রমে জঙ্গি জাকিরকে বিয়ে করে হিজরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ওই জঙ্গি জাকিরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে হিজরতে যাওয়ার বিষয় বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জুলাই-আগস্টে জঙ্গি শরফুল আওয়াল (৩১/১২/২০১৭ তে গ্রেপ্তার হয়) রুবাইয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রুবাইয়ার মা ও রুবাইয়া শরফুলের পূর্বে গ্রেপ্তারের রেকর্ড দেখে খাঁটি মুজাহিদ হিসেবে বিবেচনা করে তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু এর মধ্যে জঙ্গি শরফুল আওয়াল আবারও গ্রেপ্তার হলে সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। কিছুদিন পর পুনরায় জেএমবি সদস্য সামাদ ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে জাকিরের সঙ্গে রুবাইয়ার যোগাযোগ হয়। ফলে মা ও মেয়ের পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রুবাইয়া হিজরতের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ১৬ই মার্চ গৃহত্যাগ করে। তবে রুবাইয়া হিজরতের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগের বিষয়টি তার মা অবগত থাকলেও তার বাবা বিষয়টি জানতেন না।
র‌্যাব আরো জানায়, রুবাইয়া বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সে এবং জঙ্গি সামাদ ও বেশ কয়েক জঙ্গি সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযান ও নজরদারি এড়াতে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করে। এবং জঙ্গি সামাদ কৌশলে রুবাইয়াকে ভুয়া নাম ঠিকানায় একটি পাসপোর্ট করিয়ে দেয়। দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে তারা বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গি সদস্য নুর ইসলাম ওরফে ভানু প্রতাপ সিং ওরফে সাইফ আল ইসলামের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখত। দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে তারা বেশ কয়েকদিন খুলনা, যশোর, বেনাপোলে অবস্থান করার পর তারা বুঝতে পারে যশোর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে তারা দেশের ভেতর  কয়েকদিন গা-ঢাকা দেয়ার পরিকল্পনা করে। অপরদিকে গ্রেপ্তারকৃত নাঈমা আক্তার ওরফে হিমালয়ের কন্যা ময়মনসিংহের একটি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। সে তার এক বান্ধবীর সাহচার্যে এসে ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এরপর জসীম উদ্দিন রাহমানীর কিছু লেকচার ও অন্যান্য উগ্রবাদ সংক্রান্ত বই পড়ে ধর্মীয় উগ্রবাদিতায় আকৃষ্ট হয়। পরে সে রুবাইয়ার দাওয়াতের মাধ্যমে জেএমবির নারী শাখায় অন্তর্ভুক্ত হয়। নাঈমা ইন্টারনেট ও ফেসবুকে প্রচুর ধর্মীয় উগ্রবাদিতা বিষয়ে লেখালেখি ও স্ট্যাটাস দিত। সে তাদের কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থানরত ছাত্রীদের উগ্রবাদিতায় দাওয়াত দিত এবং উক্ত হোস্টেলে সে ও রুবাইয়াসহ কয়েকজন নারী জঙ্গি মিলে মাঝে মধ্যে গোপন বৈঠক করত। গোপন বৈঠকে তারা অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিত। তাদের পরিকল্পনা ছিল নারী সদস্য দ্বারা কিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা পরিচালনা করা যায়। এর মধ্যে রুবাইয়া হিজরতে চলে গেলে তার উগ্রবাদিতায় সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানাজানি ও জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে নাঈমা আত্মগোপনের পরিকল্পনা করে। এবং গোপনে সে বিভিন্ন মাধ্যমে রুবাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর কৌশলের ব্যাপারে তথ্য বিনিময় করত বলে র‌্যাব জানতে পারে। এদিকে প্রেসব্রিফিং শেষে র‌্যাব-১১ এর বিদায়ী সিও লে. কর্নেল কামরুল হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিয়ম করেন। এ সময় তিনি র‌্যাব-১১ তে তার দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে র‌্যাবের জঙ্গিদমন কর্মকাণ্ডসহ নানা প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ড ও অর্জনগুলো তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঢামেক কেবিনে জোসেফের আয়েশি জীবন by শুভ্র দেব

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিআইপি কেবিন নং ১১১। কেবিনকে ঘিরে সার্বক্ষণিক প্রহরায় তিনজন কারারক্ষী ও একজন পুলিশ সদস্য। ভেতরে সুসজ্জিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। রোগীর আরাম-আয়েশে থাকার সব ধরনের ব্যবস্থাই আছে। এই কেবিনে বসেইআয়েশী জীবনযাপন করছেন দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমদ জোসেফ। ১৯৯৯ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ে তাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে আপিল বিভাগ থেকে সাজা কমিয়ে যাবৎ জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত এ আসামি কেবিনে বসেই নিজ অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। নির্দেশনা দেন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের। কারাবন্দি থেকেও আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন সর্বত্র। অভিযোগ আছে তার কেবিনে নিয়মিত যাতায়াত করেন বিভিন্ন নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আসামি হয়ে দিব্যি ব্যবহার করছেন মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি তার সব আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মহলে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। এমনকি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখেন। নিজের প্রয়োজনে ডেকে নেন যে কাউকে। আসামি হিসাবে হাতকড়া ডান্ডা-বেড়ি পরার কথা থাকলেও তাকে সেটা পরানো হয় না। মেডিকেল থেকে রোগীদের দেয়া খাবার না খেয়ে বাইরে থেকে আসা খাবার খান। শুধু মেডিকেলের দেয়া সকালের নাস্তাটাই তিনি খান। গত কয়েকদিন ঢামেকের নতুন ভবনের ১০ তলার কেবিন ব্লকের ১১১ নম্বর কেবিন নিয়ে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে এমনটাই জানা গেছে।
ঢামেকের বিভিন্ন স্টাফ ও চিকিৎসারত রোগীর স্বজনরা জানান, জোসেফের অনুসারীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কেবিনে যাতায়াত করছেন। অভিযোগ আছে, খোদ জোসেফের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরাই তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। ডিউটিরত অবস্থায় কোনো কারারক্ষী মোবাইল ফোন ব্যবহার করার নিয়ম নেই। কিন্তু গত ২৯ শে এপ্রিল জোসেফের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শাওন হাওলাদার নামে এক কারারক্ষী মোবাইল ফোন ব্যবহারের দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা কর্মকর্তা বলেন, আমরা ছোট চাকরি করি। চোখের সামনে অনেক কিছুই ঘটে। কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারি না। জোসেফ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়েও কোনো কিছু হলেই ওপর থেকে আমাদের ফোন করায়। তখন আমাদের আর কিছু করার থাকে না। এ ধরনের বন্দি নিয়ে আমাদের অনেক আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।
অভিযোগ আছে পিঠের ব্যথার কথা বলে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালেই কাটিয়ে দিচ্ছেন বছরের পর বছর। সর্বশেষ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরের বেশি সময় ছিলেন। সেখান থেকে কারাগারে ফিরে আবার কিছুদিন থাকার পর আবার ভর্তি হোন সেখানেই। পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢামেকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। ৩১শে মার্চ তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে ভর্তি হোন। এমনও অভিযোগ আছে দণ্ডপ্রাপ্ত বড় বড় আসামিদের আরাম-আয়েশের এক আস্তানা হয়ে গেছে ১১১ নম্বর কেবিন। কারণ জোসেফের আগে আরেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদা সামান্য অসুখের অজুহাতে এখানে ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষ তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যায়। ৩১শে মার্চ আমিন হুদা ১১১ নম্বর কেবিন থেকে আউট হওয়ার পরেই সেখানে ইন হয়েছেন তোফায়েল আহমদ জোসেফ।
কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, জোসেফ পিঠের ব্যথা ও ইউরিনের সমস্যার কথা বললে আমরা তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাই। সেখান থেকেই পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করে। বর্তমানে ঢামেকেই তার চিকিৎসা চলছে। এর আগেও জোসেফ একই সমস্যায় হাসপাতালে ছিলেন দীর্ঘদিন। এখনও আবার একই সমস্যা কেন এমন প্রশ্নে কারা চিকিৎসক বলেন, কেউ যদি বলে আমার শরীরে ব্যথা করছে। সেটা তো আর পরীক্ষা করার উপায় নেই। তাই আমরা চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাই। আর এ ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমরাও বাড়তি ঝামেলায় থাকি। কারণ, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে যদি কোনো ধরনের অঘটন ঘটায়। তার অনুসারীরাও উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলতে পারে। সেজন্য এ ধরনের বন্দি নিয়ে আমাদের বাড়তি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. অসিত চন্দ্র সরকার বলেন, জোসেফ পিঠে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তিনি উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যাসহ আরো কিছু রোগে ভুগছেন। তাই স্নায়ুরোগ ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে জোসেফকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তার চিকিৎসার জন্য আমরা চার সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম করেছি। তারাই জোসেফের বিষয়ে করণীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
তোফায়েল আহমদ জোসেফ দেশের শীর্ষ পাঁচ জন সন্ত্রাসীদের একজন ছিলেন। বড় ভাই হারিছ আহমেদের হাত ধরে ছাত্রলীগে নাম লেখে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। এরপর থেকেই শুরু করেন ভয়ঙ্কর সব কর্ম। জোসেফ অপরাধের ষোলকলা পূর্ণ করেছিলেন। এমন কোনো অপরাধ ছিল না যা তিনি করেননি। ভাইয়ের হাত ধরে রাজনীতিতে এলেও পরে তিনি পুরোদমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। যোগ দেন তখনকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের গড়া সেভেন স্টার গ্রুপে। ওই সময় সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার গ্রুপ দাপিয়ে বেড়াত। এই দুই গ্রুপের আতঙ্কে তটস্থ থাকত রাজধানীবাসী। তখনকার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নাকের ডগায় বসে তারা করত সব অপকর্ম। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ পেত না। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়াই ছিল তাদের শক্তির প্রধান উৎস। জোসেফ ১৯৯৬ সালের ৭ই মে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানকে হত্যা করে। ২০০৪ সালের ২৫শে এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার টাইব্যুনাল এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর বাইরে আরেকটি অস্ত্র মামলায় তার ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই বছর তৎকালীন সরকার জোসেফসহ আরো কিছু সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

সংসদে কটুকথা বেশি, আত্ম পরিচয় সংকটে বিরোধী দল -টিআইবি’র গবেষণা

দশম সংসদে আত্ম-পরিচয় সংকটে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এ কারণে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারে তাদের দ্বৈত অবস্থান এবং গত চার বছরের  বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দলটির এই অবস্থতার সৃষ্টি হয়েছে। যা তাদের নেতাদের কথায় স্পষ্ট হয়েছে। গতকাল ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শিরোনামে দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশনের কার্যক্রমে ওপর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫টি অধিবেশনে কোরাম সঙ্কট আগের সংসদগুলোর মতোই। অধিবেশনগুলোতে কোরাম সংঙ্কটে ক্ষতি হয়েছে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৮ টাকা। এছাড়া আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোর সীমিত প্রয়োগ, সংসদীয় উন্মুক্ততা চর্চার ঘাটতি, সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিরোধী দলের ব্যর্থতা এবং আইন প্রণয়নে ব্যয়িত মোট সময়ের শতকরা হার পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এসব কারণে সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকারিতায় ঘাটতি দেখা গেছে। সংসদে বিরোধীদের বিষয়ে কটু কথা হয়েছে অত্যধিক।
সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোর্শেদা আক্তার, নিহার রঞ্জন রায় এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিত সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ- এই পাঁচটি অধিবেশনের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সত্ত্বেও অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রীদের উপস্থিতি হ্রাস পাওয়াসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। পাঁচটি অধিবেশনের প্রতি কার্যদিবসের গড় কোরাম সংকট ৩০ মিনিট। মোট কার্যকালের ১৩ শতাংশ ব্যয় হয়েছে কোরাম সঙ্কটে। সে হিসাবে পাঁচ অধিবেশনে ৩৮ ঘণ্টা তিন মিনিট কোরাম সঙ্কটে ক্ষতি হয়েছে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৮ টাকা। তবে পাঁচটি অধিবেশনের কোনোটিতেই প্রধান বা অন্য বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট ও সংসদ বর্জন করেননি। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন প্রণয়নে মাত্র ৯ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি বিল পাস হতে গড়ে সময় ব্যয় হয় মাত্র ৩৫ মিনিট। যা খুবই কম সময়। উল্লেখ্য, ভারতের  লোকসভায় প্রতিটি বিল পাসের গড় সময় ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট।
এ সংসদেও সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। আইন প্রণয়নে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের তুলনামূলক বেশি অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের মতামত ও প্রস্তাব যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি এবং আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগের ঘাটতির ফলে জন-অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল।
এছাড়া প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধিবেশনে উপস্থাপিত না হওয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ড, জঙ্গি-তৎপরতা, বাজেটে প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর গঠনমূলক সমালোচনা, আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ পর্বে আলোচিত হলেও সদস্যগণের একাংশের বক্তব্যে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার ও আচরণ বিধির ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যদের বক্তব্যে বাজেটে প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর গঠনমূলক সমালোচনা হলেও সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে ব্যর্থতা হয়েছে। অপরপক্ষে সংসদীয় কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলক বৃদ্ধি পেলেও কমিটি সদস্যদের একাংশের স্বার্থের দ্বন্দ্ব কমিটির একাংশের বিধি অনুযায়ী নিয়মিত সভা না হওয়া, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব আরোপে ঘাটতি এবং সংসদের কার্যবিবরণী ও কমিটি প্রতিবেদনসমূহের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি দেখা গেছে। দশম সংসদের পাঁচটি অধিবেশন সময়ে ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৬টির সভা অনুষ্ঠিত হলেও ৪টি কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১৬টি কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১১টি কমিটির সদস্যদের সার্বিক গড় উপস্থিতি ৫৬ শতাংশ ৫টি কমিটির প্রতিবেদনে উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের সভাপতিকে সরকারের বিভিন্ন কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করাসহ দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে দলীয় ফোরাম ও জনসভায় জোরালো বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও সংসদীয় কার্যক্রমে এ সকল বিষয়ে তার অনুরূপ ভূমিকা ছিলো না। বর্তমান সংসদের মোট ১৮টি অধিবেশনের ৩২৭ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি উপস্থিত ছিলেন ৭৯ কার্যদিবস।
সংসদ অধিবেশনে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার ও কোরাম সংকট অব্যাহত থাকার বিষয়কে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসন ও জাবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সংসদের প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সরকারি ও বিরোধী উভয়দলই এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী। সংসদে বিরোধী দল হিসেবে যারা নিজেদের দাবি করেন বা যাদের উপস্থাপন করা হয় আত্মপরিচয় নিয়ে তাদের মধ্যে সৃষ্ট সংকট বর্তমান সংসদের মেয়াদের শেষ বছরে তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন।
এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান প্রতিষ্ঠান সংসদ। মূল কাজ আইন প্রণয়ন হলেও প্রশংসা, নিন্দা ও কটুবাক্য ব্যবহারে এই সংসদের বেশির ভাগ সময় ব্যয়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদে নিয়মিত উপস্থাপিত না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ ও দেশের সকল সম্পদের মালিক জনগণ। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব জনগণ যাদের ওপর অর্পণ করেন তাদের উচিত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করা। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংসদে তা উপস্থাপন করে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
প্রতিবেদনে সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে নবম সংসদে কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘সংসদ সদস্য আচরণবিধি বিল’ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন সাপেক্ষে পুনরায় সংসদে উত্থাপন, চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইন হিসেবে প্রণয়নের সুপারিশসহ মোট ১৪ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো- অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার বন্ধে বিধি অনুযায়ী স্পিকারের আরো জোরালো ভূমিকা গ্রহণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ সংসদে উপস্থাপন, আইন প্রণয়নে বিরোধী দলের যৌক্তিক প্রস্তাবসমূহ সরকারি দলের বিবেচনায় নেয়া, খসড়া আইনের ওপর জনমত গ্রহণের লক্ষ্যে অধিবেশনে উত্থাপিত বিলসমূহ সংসদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং বিধি অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠান। কমিটির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্ব রাখা ও কমিটির নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংসদীয় উন্মুক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংসদীয় কর্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশের ও সুপারিশ করে টিআইবি।

ঘাতকদের জবানিতে নবীগঞ্জে শাশুড়ি-বধূ হত্যার বর্ণনা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী ও মাকে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। প্রবাসীর সুন্দরী স্ত্রী রুমী বেগমকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে দায় স্বীকার করেছে ঘাতকরা। নির্মম এ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই ঘাতক আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা জাহানের আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি তালেব মিয়া এবং জাকারিয়া আহমেদ শুভ। স্বীকারোক্তিতে তারা যুক্তরাজ্য প্রবাসীর সুন্দরী স্ত্রী রুমী বেগমকে ধর্ষণ করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তিনি জানান, রুমী বেগমের স্বামী লন্ডনে থাকেন। আড়াই বছর পূর্বে আখলাক চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বাড়িতে রুমী বেগম এবং তার শাশুড়ি মালা বেগম গেইট তালাবদ্ধ রেখে বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর ছিল না এবং পাশে কোনো প্রতিবেশীরাও বসবাস করতেন না। কয়েকদিন পূর্বে লন্ডন প্রবাসী স্বামী আখলাক চৌধুরী তার এক বন্ধু রিপনকে তার স্ত্রী রুমী বেগমকে একটি মোবাইলের কাভার কিনে দিতে বলেন। রিপন ব্যস্ত থাকায় গত ১১ই মে তার ভাই জয়কে দিয়ে এই কাভার রুমী বেগমের বাড়িতে পাঠান রিপন। জয় মোবাইল কাভার নিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকার জাকারিয়া শুভ নামে এক বখাটের সঙ্গে পরিচয় হয়। তখন জয়ের সঙ্গে বখাটে শুভও রুমীদের বাড়িতে যায়। জয় মোবাইল কাভারটি রুমী বেগমকে দিলে সেটি তার পছন্দ না হওয়ায় ফেরত দেন। এ সময় রুমীকে দেখে তার ওপর কু-নজর পড়ে শুভ’র। তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। শুভ জানতে পারে রুমী বেগমদের বাড়িতে অপরিচিত কেউ গেলে গেট খুলে দেয়া হয় না। পাশের বাড়ির ফুরুক চৌধুরীর কর্মরত শ্রমিক তালেব মিয়া মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন। শনিবার শুভ তালেব মিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি দোকান থেকে আপ্যায়ন করে এবং মোবাইলে থাকা পর্নোগ্রাফি দেখায়। সঙ্গে রুমী বেগমের ছবি দেখায়। এরপর তারা পরিকল্পনা করে  রোববার (১৩ই মে) রাতে গিয়ে লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী রুমী বেগমকে ধর্ষণ করবে।  রোববার রাত সাড়ে ১০টায় ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে তালেব মিয়া প্রবাসীর মা মালা বেগমকে দাদী বলে ডাক দেয় এবং গেইট খুলতে বলে। গেইট  খোলার পর তালেব মিয়ার সঙ্গে শুভও ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন মালা বেগম ওই ছেলের পরিচয় জানতে চাইলে শুভ মালাকে হাতে থাকা ছোরা দিয়ে আঘাত করে। মালা বেগম দৌড়ে ঘরে গেলে পেছনে গিয়ে তারা দুইজন তাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং ছোরা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে পাশে থাকা গৃহবধূ রুমী বেগমও চিৎকার শুরু করেন। এ সময় শুভ রুমী বেগমকেও ছোরা দিয়ে আঘাত করে। রুমী বেগম দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলে তালেব মিয়াও তাকে আঘাত করে। ঘটনার সময় ওই বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বাড়িতে মিটিং ছিল। সেখান থেকে লোকজন চিৎকার শুনে এসে মৃতদেহ দুটি দেখতে পান।
এত বড় ঘটনার পর তালেব মিয়া এবং শুভ তাদের ব্যবহৃত ছোরা এবং রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় চলাফেরা করে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সকালে রক্তমাখা কাপড় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় শুভ’র আরেক বন্ধু ধর্ষণে অংশ নেয়ার কথা ছিল। তাকেও খুঁজছে পুলিশ। তারপর দ্রুত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

জাতিসংঘে যে প্রশ্নে বাংলাদেশের ব্যর্থতা দেখছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

চেপে ধরা মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ই মে জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর)-এ বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা এমন ব্যর্থতার পরিচয় দেন। গতকাল এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। জেনেভা থেকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইউপিআর-এ  প্রতিনিধিত্ব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকার যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে তিনি শুধু সেগুলোকে সেখানে জোর গলায় তুলে ধরেন। কিন্তু জোরপূর্বক গুম, গোপন ও খেয়ালখুশি মতো আটক রাখা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে তা তিনি এড়িয়ে গেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, অন্য দেশগুলো থেকে যেসব সুপারিশ দেয়া হয়েছে মানবাধিকার রক্ষায় তা পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ- এটা প্রদর্শন বা প্রমাণ করা উচিত তাদের। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হওয়া উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী জোরপূর্বক গুম, হত্যা, নির্যাতন, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তারের মতো গুরুতর যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে শুরু করা উচিত। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে তা বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশের। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশির ভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ব্রাড এডামস আরো বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউকে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের। নিজেদেরকে নিজেদেরই অভিনন্দিত করার জন্য এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, এই পরিষদের সদস্য দেশের মধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছায় নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া ও তাদেরকে সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে। ক্রমবর্ধমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কীভাবে মোকাবিলা বা দেখাশোনা করা হচ্ছে তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশি প্রতিনিধি। কিন্তু যখন অনেক দেশ বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, মানবাধিকারের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ উত্থাপন করে, তখন বাংলাদেশি ওই প্রতিনিধি ছিলেন নীরব এবং এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। বিভিন্ন দেশ এসব নিয়ে যেসব সুপারিশ করেছে তা বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে না কি প্রত্যাখ্যান করেছে তা কিছু দিনের মধ্যেই জানা যাবে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে অনেক বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ শুনানিতে যথেষ্টভাব সাড়া দেয়নি সে বিষয়ে। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেয়া যাক। এর আগে ২০১৩ সালে ইউপিআরের অধিবেশন হয়। তখন সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত ও বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তখন থেকেই তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অবজ্ঞা ও প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সহিংসতা। যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় আস্থা বা স্বচ্ছতা নেই বললেই চলে। বিরোধী অনেক রাজনীতিককে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে অথবা অভিযোগ ছাড়াই গোপনে আটকে রাখা হয়েছে, এমন অনেক ঘটনা প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। তাদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০১৬ সালের আগস্টে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা তুলে নিয়ে যায় জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার ছেলেদের। তারা কোথায় আছে অথবা তাদের অবস্থা কি এ বিষয়ে আর জানা যায়নি। সাবেক একজন কূটনীতিক মারুফ জামান ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১লা জুলাই সন্ত্রাসী হামলা হয়। তারপর থেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক হাসনাত করিম। সমালোচনাকারী মিডিয়া ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে হামলা নিয়ে ইউপিআরে প্রশ্ন তোলা হয়। তাতেও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল উপযুক্ত জবাব দেননি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অধীনে অনেক মানুষকে জেল ও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে অথবা অব্যাহত আছে। এ ধারায় মুক্ত মত প্রকাশকে ব্যাপকভাবে টার্গেট করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের এই আইনকে বেসরকারি গ্রুপগুলোতে বিদেশি অর্থায়নকে নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, ৫৭ ধারার অধীনে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার বলছে, তারা ৫৭ ধারাকে খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রিভাইজ করবে। কিন্তু এরও অনেক ধারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে অনেকটাই দূরে। মুক্ত মত প্রকাশকে টার্গেট করতে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যান্য ফৌজদারি আইনের ব্যবহার করছে। ইউপিআরের শুনানিতে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়েও যথেষ্ট তথ্য দেয়া হয়নি। যদিও শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগই রয়ে গেছে বাকির খাতায়। ইউনিয়ন নেতারা বা যারা ইউনিয়নে যোগ দিতে চাইছেন তাদেরকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অথবা কারখানা মালিক ও ম্যানেজারদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাল্য বা শিশুদের বিয়ে বন্ধ করার ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার একটি আইন অনুমোদন করে। তাতে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়। বলা হয়, বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়া যাবে। তবে, বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। জাতীয় ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা ছিল তা তিন বছর আগের কথা। ব্রাড এডামস বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকারের জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু যখন নিজ দেশের নাগরিকদের প্রসঙ্গ আসে তখন তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি গ্রহণ করা উচিত। বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন। তাই গণতান্ত্রিক জায়গা (ডেমোক্রেটিক স্পেস) করে দেয়া আবশ্যক সরকারের, যেখানে বিতর্ক চলতে পারে। ভিন্নমতাবলম্বীরা কথা বলতে পারেন।

খোদায়ি বিধানেই ফিলিস্তিনের মুক্তি অনিবার্য: খামেনেয়ী

খোদায়ি বিধানের আলোকে অবশেষে শত্রুদের কবল থেকে ফিলিস্তিন মুক্ত হবে বলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আবারও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ফিলিস্তিনের মুক্তির বিষয়টি যে সুনিশ্চিত ও অনিবার্য সে বিষয়ে প্রায়ই বক্তব্য রেখে আসছেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ও আলেম আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। 
ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা গতকালও (বৃহস্পতিবার) এমনই এক বক্তব্য রেখে বলেছেন, খোদায়ি বিধানের আলোকে শত্রুদের নাগপাশ থেকে ফিলিস্তিন মুক্ত হবে এবং এই বাস্তবতা পাল্টে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকারসহ ফিলিস্তিনের শত্রুদের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বায়তুল মুকাদ্দাসই হবে স্বাধীন ও মুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। খোদায়ি বিধান ও বাস্তবতার মোকাবেলায় মার্কিন সরকার ও তার সেবাদাসরা কিছুই করতে পারবে না বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গতকাল রাজধানী তেহরানে পবিত্র কুরআনের ক্বারিদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরও বলেছেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞসহ মুসলিম বিশ্বের সংকটগুলোর কারণ হল পবিত্র কুরআন থেকে মুসলমানদের দূরে সরে যাওয়া। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারসহ বহু পশ্চিমা সরকার ইহুদিবাদীদের নৃশংস নানা অপরাধের শরিক। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মুসলিম জাতি ও সরকারগুলোকে ইহুদিবাদী অপরাধযজ্ঞের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। 
এর আগেও তিনি বার বার বলেছেন যে ইসরাইল খুব বেশি দিন টিকে থাকবে না। আগামী ২৫ বছরের আগেই ইসরাইল ধ্বংস হবে বলেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছিলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ও বর্তমানে স্বাধীন কয়েকটি মুসলিম দেশ যে স্বাধীন হবে এটা কিছুকাল আগে কেউ কল্পনাও করেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এর আগে বলেছিলেন, সংগ্রামী মুসলিম জাতিগুলো খুব শিগগিরই তাদের প্রথম কিবলা পবিত্র কুদসকে মুক্ত করে সেখানে জামায়াতে নামাজ আদায় করবে এবং আমরা সবাই সেই সুদিন দেখতে পাব।
সম্প্রতি ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ৭০ তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্বদেশের ফিরে আসার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ব্যাপক ও অভূতপূর্ব গণ-বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনিরা। উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ ও মার্কিন সাম্রাজ্যের মদদসহ  জবর-দখল এবং গণহত্যা ও সন্ত্রাসের মত নানা অবৈধ পন্থায়  ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১৪ মে। এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা নাক্‌বা বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।
কিন্তু গত ১৪ মে তথা ফিলিস্তিনের বিপর্যয় দিবসে আবারও সভ্যতার মুখে কলঙ্কের কালিমা লেপে দিয়ে ইহুদিবাদী দখলদার সেনারা অর্ধ ডজন শিশুসহ অন্তত ৬৩ ফিলিস্তিনিকে শহীদ করে। হানাদার ইসরাইলি সেনাদের হামলায় আহত হয় দুই হাজারেরও বেশি  প্রতিবাদী ফিলিস্তিনি।
এ দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর অধিকৃত বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করা হয়। এই উদ্যোগের প্রতিবাদেই ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ হয়ে উঠছিল অনেক বেশি ব্যাপক ও উত্তাল। এখন থেকে কয়েক মাস আগে বিশ্ববাসীর নিন্দা ও প্রতিবাদকে উপেক্ষা করে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রায় ৮০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা গত ৩০ মার্চ থেকে ইসরাইল-বিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিল করে আসছিল। ফিলিস্তিনিদের এই অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ও গণ-মিছিল বিশ্ব-জনমতের ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দখলদার ইসরাইল। তাই প্রথম থেকেই এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর গুলি চালানোর পদক্ষেপ নিয়ে ইসরাইল এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ জন ফিলিস্তিনিকে শহীদ করেছে। এ ছাড়াও আহত করেছে প্রায় ৭ হাজার ফিলিস্তিনিকে।
খোদায়ি বিধান অনুযায়ী সব জুলুমই এক দিন শেষ হবে। ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি জবরদখল ও সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদিবাদী গণহত্যা অভিযানও শেষ হতে বাধ্য।
মুসলিম বিশ্ব এক হলে বহু আগেই খতম হয়ে যেত বহিরাগত ইহুদিবাদীদের এই নব্য-উপনিবেশ ও তাদের নেতৃত্বাধীন প্রকৃত হলোকাস্ট। মুসলিম বিশ্ব যাতে এক না হতে পারে সে জন্য তাদের মধ্যে জাতিগত, ধর্মীয় ও নানা ধরনের কোন্দল বাধিয়ে রেখেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। আইএসআইএল বা দায়েশ, আলকায়দা ও তালেবানের মত তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদেরই সৃষ্টি।
যাই হোক ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে  তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ডাকে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির জরুরি শীর্ষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব এবার হয়তো ফিলিস্তিনি প্রসঙ্গে আগের চেয়েও কিছুটা বেশি সক্রিয় হবে- মুক্তিকামী ও ন্যায়বিচারের সমর্থক বিশ্ব-জনমত এটাই আশা করছে। ফিলিস্তিনি নেতা ও হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়াও ওআইসির কাছে পাঠানো এক বাণীতে ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিন দিনের শিশুটি কোনো দিন বাবার মুখ দেখবে না

মাত্র তিনদিন আগে দ্বিতীয় কন্যার পিতা হয়েছেন নাজিম উদ্দিন। স্ত্রী হাসপাতালের শয্যায়। কর্মস্থলে যেতে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরা হয়নি তার। তিন দিন আগে যে সন্তানটি ভূমিষ্ট হয়েছে তার আর বাবার মুখ দেখা হবে না কোনো দিন। মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নাজিম। গতকাল      সকালে রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়াল সড়কে দুই বাসের রেষারেষির কারণে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাজিম মোটরসাইকেলে করে তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। ফ্লাইওভারের ওপর দুটি বাসের গতির প্রতিযোগিতায় মধ্যে পড়ে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন নাজিম। পরে একটি বাস তার বুকের ওপর দিয়ে চালিয়ে যায় চালক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্জিল ও শ্রাবণ পরিবহনের দুটি বাসে চলছিল দ্রুত গতির প্রতিযোগিতায়। শ্রাবণ পরিবহনের বাসটি নাজিমের মোটরসাইকেলকে পেছনে থেকে ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়ে যান তিনি। তারপর বাসটি চলে যায় তার বুকের ওপর দিয়ে। পেছনে থাকা মাহমুদ, নাঈম ইসলাম ও রাসেলসহ অন্যরা নাজিমকে উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাজিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। নাজিমের মৃত্যুর খবর শোনে হাসপাতালে জড়ো হন তার স্বজন ও সহকর্মীরা। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রাজধানীতে একের পর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হলেও কার্যত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। কিছু দিন আগেই এই ফ্লাইওভারেই গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চালক চাকায় পিষ্ট করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাসেল সরকারকে। বাস চাপায় তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে কাওরান বাজারে দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর মারা যান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। তার মৃত্যু নাড়া দেয় দেশজুড়ে। দুই বাসের চাপায় তার শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ছবি দেখে আঁৎকে উঠেছেন অনেকে। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাজিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাঈম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পরপরই গুলিস্তানের সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সে গিয়ে বিষয়টি অবগত করেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে শ্রাবণ পরিবহনের ওই বাসের চালক ওহিদুলকে আটক করেন এসআই সোলায়মান। পরে অপর বাস মঞ্জিল পরিবহনের চালকের সহকারী কামালকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক ওহিদুল ও কামালকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া বাস দুটিও জব্দ করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নাজনীন মানবজমিনকে বলেন, গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় নিহত নাজিমের ভায়রাভাই আব্দুল আলীম বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে প্রথম নামাজে জানাযা শেষে নাজিমের লাশ তার কর্মস্থল ঢাকা ট্রিবিউন অফিসে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাজধানীর শ্যামপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ভোলার লালমোহনে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাজিমের শ্বশুর আরিফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, মাত্র তিনদিন আগে নাজিমের দ্বিতীয় কন্যা সন্তান ইসরাত জাহান নূরের জন্ম হয়েছে। তিন দিনের নূর কোন দিন তার বাবাকে দেখতে পাবে না। এসময় কান্না ভেঙে পড়েন তিনি। আরিফ হোসেন বলেন, সরকার কেন অদক্ষ এই ড্রাইভারদের মানুষ মারার লাইসেন্স দিচ্ছে। আপনারা সাংবাদিকরা লিখেন, আরও ভালো করে লিখেন। যেন আর কোনো স্ত্রী বা সন্তানকে অভিভাবকহারা না হতে হয়। আমার দুই নাতনী আর কোনো দিনই বাবা বলে ডাকতে পারবে না। আর কত তাজা প্রাণ এভাবে রাস্তায় ঝরে যাবে।
তিনি জানান, নাজিমের স্ত্রী সাবরিনা ইয়াসমিন আইরিন এখনও পোস্তগোলা জুড়াইনের আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন। স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ ভেঙে পড়েছেন তিনি। অতিরিক্ত কান্না কাটি করায় তার পেটে সার্জারির অনেকগুলো সেলাই খুলে গেছে। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পোস্তগোলায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকতেন নাজিম। নিহত নাজিম উদ্দিন ভোলার লালমোহনের আনিসুল হক ও মরিয়ম বেগমের সন্তান। আট ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন নাজিম।

ঢাকায় চীনের কাছে ভারতের হার

চূড়ান্ত দফায় শেষ হয়ে গেছে এশিয়ার দুই অর্থনীতির সুপার পাওয়ারের মধ্যে লড়াই। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ (এসএসই) ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের (এসজেডএসই) সমন্বয়ে গঠিত একটি চীনা কনসোর্টিয়াম তার ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শতকরা ২৫ ভাগ শেয়ার ছিনিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকায় কিনে নেবে চীনা কনসোর্টিয়াম। এই দামে তারা মোট ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের শেয়ার কিনে নেবে। যা মোট শেয়ারের চারভাগের এক ভাগ। মোট শেয়ার রয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। এর আগে প্রতিটি শেয়ারের দাম ২২ টাকা প্রস্তাব করেছিল চীন। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ২০১৭ সালে শতকরা ১০ ভাগ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এতে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে আসে। উপরন্তু ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের  প্রযুক্তিগত সহায়তা (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) প্রস্তাব করেছে চীন। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে একটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বাজার তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। চীনা অংশীদারদের সহযোগিতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লক্ষ্য হলো তাদের ‘প্রডাক্ট অফারিংস’কে বহুমুখী করা। উপরন্তু উভয় অংশীদারের পরিকল্পনায় রয়েছে বাংলাদেশে ইএলআইটিই ভি-নেক্সট এলায়েন্স প্রোগ্রাম চালুর। বিনিয়োগকারীদের সেবা স্বয়ংক্রিয় ফ্রেমওয়ার্কে আনা হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক পোর্টফোলিও উন্নত করতে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন এসব প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়ে যাবে তখন আশা করা হচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রান্ড ইমেজ বৃদ্ধি পাবে এবং অধিক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চীনের পথ অনুসরণ করে পুঁজিবাজারের উন্নতি করে বাংলাদেশ প্রভূত সুবিধা পাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, আমরা আশা করি কৌশলগত অংশীদার বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে, যেমনটা ১৯৯০ সালে উদ্বোধন হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে চীনের সংশ্লিষ্ট বাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকায় কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)। যখন হিসাব কষা হলো দেখা গেল চীন যে দাম প্রস্তাব করেছে ভারতের প্রস্তাবিত দাম তার চেয়ে শতকরা ৪৭ ভাগ কম। চীনের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে সার্বিকভাবে আধুনিকায়ন করার জন্য বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এনএসই। তবে টেকনিক্যাল সহায়তার প্রকৃতি বা তার আকার কি হবে তার কিছুই প্রকাশ করে নি তারা। উপরন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদে দুটি আসন চেয়ে বসে এনএসই। একবার এই আসন তাদের দেয়া হলে তারা ৫ বছর পরে তা ছাড়বে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যে চীনা দরদাতাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এটা বুঝতে পেরে ভারত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে ঢাকা সফর করেন এনএসই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্রম লিমায়ে। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। স্টক এক্সচেঞ্জের উন্নয়নে এনএসই’র অভিজ্ঞতার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। প্রাথমিকভাবে বিক্রম লিমায়ের দেন-দরবার দৃশ্যত কাজ করতে দেখা যায়, যখন কমিশন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনরায় রিভিজিট করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বাজার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই এর বিরোধিতা করে বলতে থাকেন যে, এনএসই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এটাই বোঝানোর চেষ্টা করাছেন যে, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমর্থক হলো দিল্লি। তা সত্ত্বেও তারা যুক্তি দেখান। বলেন, বাংলাদেশের উচিত সবচেয়ে ভালো সুযোগটি বেছে নেয়া।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে সফলতার সঙ্গে দরপত্র জিতে দৃশ্যত চীন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে তারা বেশি প্রভাবশালী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে চীনের কর্মকাণ্ডে বেশ উদ্বিগ্ন দিল্লি। এসজেডএসই’র প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরে সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। অন্যভাবে বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়ন এজেন্ডায় ভারতকে একেবারে পাশ কাটিয়ে যেতে চায় না চীন। বাংলাদেশে ভারতপন্থিদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে চীন। একই বক্তব্যে এসজেডএসই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা হবে ন্যায়সঙ্গত এবং বিজয়ী-বিজয়ী ভিত্তিতে। তিনি আরো বলেছেন, শেয়ার হোল্ডারদের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করবে চীন। এখন সময়ই বলে দেবে চীন তার প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে পারবে কিনা। তবে, এখন বলা দৃশ্যত বাংলাদেশ একটি ভালো চুক্তি করেছে।
(অনলাইন ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রিপোর্ট অবলম্বনে)

চাকরি দেয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও শিউলী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চাকরি দেয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে শিউলী আক্তার (৩০) নামে এক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট বুধবার দুপুরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী আক্তারের সদ্য বিবাহিত স্বামী মো. রফিকুল ইসলামের বাড়িতে শতাধিক মানুষ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামে।
জানা যায়, চর আলগী গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আসাব উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিকের মনোহরদী উপজেলার ব্র্যাক অফিসের জনৈক ম্যানেজারের মাধ্যমে শিউলী আক্তারের সঙ্গে রফিকের পরিচয় হয়। শিউলী নিজেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দেয়। যশোরের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন তার চাচা, অ্যাডভোকেট রফিক উদ্দিন তার পিতা পরিচয় দেয়। ঢাকার গুলশানে নিজস্ব বাসা ও গাজীপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে বলে জানান। পরিচয়ের কয়েক দিন পর রফিকের চাকরি প্রদানসহ তাকে বিয়ে করতে চান বলে মত প্রকাশ করেন শিউলী। এতে রফিক রাজি হলে ২০১৭ সালের ৮ই নভেম্বর তারিখে মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া কাজী অফিসের মাধমে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। শিউলী তার বরের বাড়িতে গিয়ে দু’চালা টিনের ঘর ভেঙে নতুন ঘর, বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণ করেন। স্থানীয় মানুষের মন জয় করার জন্য তিনি গ্রামের মসজিদ নির্মাণে নগদ ১ লাখ টাকা ও চর আলগী ইছাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২টি সিলিং ফ্যান প্রদান করেন। এর কিছু দিন পর তিনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার এসিল্যান্ড হিসেবে বদলি হয়েছেন বলে জানান। তিনি কটিয়াদী উপজেলা সদরে ভোগপাড়া খাদ্যগুদামের সঙ্গে চারতলা ভবনে বাসা ভাড়া নেন। মাঝে মধ্যে শিউলী প্রাইভেটকারে অফিসে যাওয়ার নামে বাসা থেকে বের হয়ে যেতেন। একপর্যায়ে তিনি প্রচার করেন সমগ্র বাংলাদেশে জজ কোর্টসমূহে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদে লোক নিয়োগ করা হবে। তিনি সেই নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য। চাকরি প্রদানের জন্য বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তিনি কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক লোকের কাছে থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কয়েক জনকে তিনি নিয়োগপত্র প্রদান করলে পাকুন্দিয়া উপজেলার মাসুদ মিয়া নামের একজন তার নিয়োগপত্রটি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দেখালে তিনি তা ভুয়া বলে জানান। সংবাদটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার সকালে শিউলী তার স্বামী রফিককে বলেন, যশোরের বেনাপোল পৌরসভার মেয়র লিটন এবং ঢাকা বারের সেক্রেটারি নজিবুল্লাহ হিরো কটিয়াদীতে তার বাসায় বেড়াতে আসছেন, তাদেরকে রিসিভ করে আনার জন্য রফিককে নরসিংদী পাঠিয়ে দিয়ে  কটিয়াদীস্থ ভাড়া বাসা থেকে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে চাকরি প্রত্যাশী লোকজন শিউলী আক্তারের কথিত স্বামী রফিককে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। শিউলী আক্তারের স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান, আমি তার প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমাকে বিভিন্ন ওষুধ খাইয়ে এবং তাবিজ কবজ দিয়ে অস্বাভাবিক করে রেখেছিল। লোকজনের টাকা পয়সা প্রদানের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শিউলী আক্তারের বিরুদ্ধে আমি কটিয়াদী মডেল থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেছি। এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি জাকির রব্বানি জানান, রফিকুল ইসলামের দায়ের করা অভিযোগটি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তের পর মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সুফিয়া কামাল হলের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শোকজ

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ১০ই এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার   পর এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে ছাত্রীদের হল অফিসে ডেকে এসব নোটিশ দেয়া হচ্ছে। গত ১৫ই মে ইস্যুকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের স্বাক্ষর করা এই নোটিশের উত্তর দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, ‘গত ১০ই এপ্রিল মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফফাত জাহান ইশা, মুর্শিদা আক্তার নামক একজন আবাসিক ছাত্রীর রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে। আপনি অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন ও তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া, আপনি পূর্ব পরিকল্পনানুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান ইশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তার বস্ত্র হরণ করেন।’ এতে আরো বলা হয়, ‘উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে- যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।’ এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিষদ ও সিন্ডিকেটের সুপারিশ মোতাবেক কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে। এছাড়াও নোটিশ প্রাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয় এতে। এদিকে এমন নোটিশ দেয়ার পর সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নোটিশপ্রাপ্ত এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘আমি এশা আপুকে লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তারপরেও তালিকার শেষ দিকে আমার নাম দেয়া হয়েছে। হল থেকেও নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেটার উত্তর দিয়েছি। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া হয়েছে। আমার পরীক্ষা চলছে। আমরা নতুন করে হয়রানির আশাঙ্কা করছি।’ নোটিশ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।’ ছাত্রীদের হয়রানির আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কারো শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এখানে যারা অভিযুক্ত তাদেরই নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিনা কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না।’ তবে কতজনকে নোটিশ দেয়া হয়েছে তা জানাতে পারেননি প্রক্টর। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ বলতে পারবেন।’ তবে হলের আবাসিক ছাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২৬ জনকে এ ধরনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এদিকে ছাত্রীদের নোটিশ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘সেদিন দু’টা পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। একটি পক্ষ আন্দোলনে যেতে বাধা ও ছাত্রীদের নির্যাতন করায় অন্যরা প্রতিবাদ করেছে। তবে সেখানে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি ভুল বোঝাবুঝি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িগড়ি করে সিদ্ধান্ত নেয়ায় সেটি আরো বেড়েছে। তাই আমি বলবো এখন এসব নোটিশ দিয়ে কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। কারণ তাতে ঝামেলা হতে পারে। কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সিরিয়াস সিদ্ধান্তের দিকে না যাওয়া উচিত। উভয়পক্ষকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত।’
এর আগে গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা কর্তৃক কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের নিজ কক্ষে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের রগ কেটে দেয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উত্তেজিত ছাত্রীরা ইফফাত জাহান এশাকে লাঞ্ছিত করে। অপরাধ স্বীকার করায় ও বেশ কয়েক দিক থেকে রগ কাটার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে ইশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। কিন্তু পরবর্তীতে উল্টো ইশাকে লাঞ্ছনার অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

যেখানে এক হলেন আরিফ-কামরান by ওয়েছ খছরু

বন্দরবাজারে এক হলেন আরিফ ও কামরান। দু’জনই দাঁড়িয়ে থেকে কাজ শেষ করলেন। ডিভাইডার ইস্যুতে অ্যাকশনে ছিলেন কামরান। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ছিলেন আন্দোলনে। দিয়েছিলেন আলটিমেটামও। সেই আলটিমেটামে কাজও হয়েছে। উঠে গেল বন্দরবাজারের   ডিভাইডার। আর সেই ডিভাইডার উচ্ছেদে অবশেষে এক হলেন আরিফ ও কামরান। আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের বর্তমান মেয়র। আর বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেটের সাবেক মেয়র। আরিফ যখন কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারান্তরীণ ছিলেন তখন সিলেটের পুলিশ ও সিটি করপোরেশন মিলে বন্দরবাজারের করিম উল্লাহ মার্কেটের সামনে ডিভাইডার নির্মাণ করে। করিম উল্লাহ মার্কেটের সামনে হচ্ছে বন্দরবাজারের মূল পয়েন্ট। পাশেই সিলেটের পাইকারী আড়ত মহাজনপট্টি,  কালিঘাট ও লালদিঘির পাড়। ট্রাকযোগে পণ্য পরিবহন হয় ওই এলাকা থেকে। এ কারণে বন্দরবাজারে যানজট লেগেই থাকতো। পুলিশের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বন্দরবাজারের পয়েন্ট। প্রায় দুই বছর আগে ব্যবসায়ীদের বাধা উপেক্ষা করে বন্দরবাজারে ডিভাইডার দেয়ার পর থেকে নাখোশ ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সঙ্গে এসে যুক্ত হন ছড়ারপাড়, মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দারা। শুরু করেন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এটি কামরানেরও এলাকা। ফলে কামরান তার নিজ এলাকার মানুষের পক্ষে মাঠে নামেন। প্রায় ১০ দিন আগে তারা আলটিমেটাম দেন ডিভাইডার অপসারণের। এই আলটিমেটামে টনক নড়ে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের। কামরান ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গ নেয়ার কারণে আন্দোলন তীব্র হয়। এ কারণে গত বুধবার রাতে আলোচিত ওই ডিভাইডার সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। পাশাপাশি আরিফুল হক চৌধুরীও সেখানে উপস্থিত হন। ছিলেন বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। সকলের উপস্থিতিতে বন্দরবাজারের ডিভাইডার সরিয়ে নেয়া হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার মানুষ ওই ডিভাইডার নিয়ে কষ্টে ছিলেন। এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে সহজে যাতায়াত করতে পারছিলেন না। ডিভাইডার অপসারণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হলো বলে জানান তিনি। আর বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজের কাঁধে ডিভাইডারের দোষ নিতে চাচ্ছেন না। তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে একমত রয়েছেন। সিলেটের বন্দরবাজারের ডিভাইডার অপসারণ করা হলেও জেল রোডের মুখে থাকা ডিভাইডার রয়েই গেছে। সেটি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এদিকে, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার সড়কের দরগাহ ফটকে রয়েছে একটি ডিভাইডার। ওই ডিভাইডারও এলাকার মানুষের কাছে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দরগাহে ঢুকতে গেলে চৌহাট্টা কিংবা রিকাবীবাজার এলাকা পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এতে করে চৌহাট্টা ও রিকাবীবাজারে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যানজট লেগে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ ওই ডিভাইডার অপসারণেরও দাবি জানিয়ে আসছেন।

ক্রাইম স্পট সিলেট মোটরসাইকেল ও ৩৭ চোর by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

সিলেটজুড়ে মোটরসাইকেল চোরের তালিকা রয়েছে পুলিশের হাতে। ঠিকানাও রয়েছে; কিন্তু চোরের দল দিব্যি তাদের কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই নগরীর কোথাও না কোথাও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। চিহ্নিত ৩৭ চোর নগরজুড়ে মোটরসাইকেলের  মালিকদের মাঝে  আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছে।
চোরদের হাত থেকে কারোরই নিস্তার নেই। গত বছরের ২৩শে অক্টোবর নগরীর শিবগঞ্জ থেকে চুরি হয়ে যায় স্থানীয় কাউন্সিলর আবদুর রকিব তুহিনের মোটরসাইকেল। শিবগঞ্জের হাতিম আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেদিন ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছিল। সে কাজ তদারকিতে ব্যস্ত ছিলেন কাউন্সিলর আবদুর রকিব তুহিন। স্কুলের ভেতরই রেখেছিলেন তার লাল রঙের হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেলটি। দোতলায় উঠেছিলেন কাজ দেখতে, নিচে নেমে দেখেন তার সাইকেলটি আর নেই। আবদুর রকিব তুহিন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তার সাইকেল চুরির খবরটি কাগজের পাতায় এসেছিল, কিন্তু প্রতিদিনই এমন চুরির ঘটনা ঘটছে সিলেটের পথে পথে। সেসব খবর অগোচরেই রয়ে যায়। থাকে হয়তো শুধু থানার সাধারণ ডায়েরিতেই।
জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ট্র্যাকার, ডিস্ক লক, সিকিউরিটি অ্যালার্ম কিংবা ইঞ্জিন ইমোবিলাইজার সেন্সর সিস্টেম-কোনো প্রযুক্তিই চুরি থামাতে পারছে না। এসব প্রযুক্তির বিপরীতে চোরদের হাতে রয়েছে আরো উন্নত প্রযুক্তি। তাদের কাছে রয়েছে মোটরসাইকেলের লক কাটার আধুনিক ছুরি, মোটরসাইকেলের রঙ পাল্টে নেয়ার উপকরণ, চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার পরিবর্তন করার যন্ত্র, বিআরটিএ’র জাল কাগজপত্র ও নাম্বার প্লেট, গাড়ির মালিকানার জাল দলিল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও  উপকরণ। আর তাই কোথাও মোটরসাইকেল রেখে একটু বেখেয়াল হলেই মুহূর্তে হাওয়া হয়ে যায় সেটি। চলে যায় চোরদের নিজস্ব ‘হেফাজতে’। সূত্র বলছে, চুরি করা মোটরসাইকেল প্রথমে বিভিন্ন শপিং মল, হাসপাতালের আন্ডারগ্রাউন্ডে রাখা হয়। এর বাইরে চোরদের ‘নিজস্ব’ কিছু গ্যারেজ রয়েছে, সেগুলোতেও রাখা হয়। তারপর সুবিধামতো সময়ে তা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। খরিদ্দারের অভাবে বেশি সময় মোটরসাইকেল রাখতে হলে চোরের দল বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে সাইকেলটিকে টুকরো টুকরো করে ফেলে।
মোটরসাইকেল চোরদের তৎপরতা ভাবিয়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও। চোরদের আইনের আওতায় আনতে তারাও মাঠে নেমেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে ৩৭ চোরকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করেছে তারা। মূলত, এ ৩৭ চোরই সিলেট বিভাগজুড়ে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
পুলিশের তৈরি করা তালিকার শীর্ষ নামটি হচ্ছে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি গাঙু এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে মনির আহমদ ইমনের (২৬)। নামের তালিকায় মোটরসাইকেল চোরদের ‘দলনেতা’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে তাকে। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের চোখ এড়াতে সে কখনোই এক স্থানে অবস্থান করে না। কখনো নিজ জালালপুর এলাকার মিয়াজান আলীর বাড়ি, কখনো মামা আবদুর রহমান লন্ডনীর বাড়ি আবার কখনো নগরীর উপশহর এলাকায় থাকে সে।
চোরের লিস্টে টপ ফাইভে রয়েছে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মাইদুল (৩০), তার ভাই বদরুল, ছাতক উপজেলার গোবিন্দনগরের মৃত নজির আহমদের ছেলে তারেক আহমদ, কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার রসুলপুরের মৃত ছেনু মিয়া মেরাজের ছেলে ও নগরীর মেন্দিবাগস্থ আলমগীরের কলোনির বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান (৩৩)। এর মধ্যে মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ৮টি, তারেক আহমদের বিরুদ্ধে ৬টি এবং মাইদুল ও বদরুলের বিরুদ্ধে তিনটি করে মামলা রয়েছে।
তালিকায় ৬ নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর পূর্বপাড়ার শহীদ আলীর ছেলে কয়েস আহমদ (৩০)। সে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে কয়েকবার গণধোলাইয়েরও শিকার হয়েছে। জেলও খেটেছে কয়েকবার। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২ মামলা। তালিকার ৭ নম্বরে রয়েছে নগরীর পাঠানটুলার মোহনা ব্লকের এ ২৯/৫ নং বাসার তাহের আলী পাখি মিয়ার ছেলে সেলিম আহমদ (৩০)। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪টি। তালিকার ৮ নম্বরে রয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানাধীন কদিমঙ্গল এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে ও নগরীর উপশহর এলাকায় একটি কলোনির বাসিন্দা মেহেদি হাসান। তার বিরুদ্ধে ৩ মামলা রয়েছে। তালিকার ৯ নম্বরে থাকা জৈন্তাপুরের রাইরাখেলের মৃত আলকাছ মির্জার ছেলে মো. সাব্বীর মির্জা (৩০) ও ১০ নম্বরে থাকা বিশ্বনাথের রশিদপুর এলাকার আবদুস সালিকের ছেলে রাসেল আহমদের বিরুদ্ধে ১টি করে মামলা রয়েছে।
তালিকায় ১১ থেকে ১৫ নম্বরে থাকা নামগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- জালালাবাদ থানা এলাকার হাইদরপুরের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সোহেল, শাহপরাণ থানা এলাকার খাদিমপাড়ার সফিক হোসেনের ছেলে আখতার হোসেন, মৌলভীবাজার সদরের ভৈরববাজার গিয়াসনগর এলাকার মেহের আলীর ছেলে ও নগরীর আখালিয়া নতুনবাজারের শাহেদের কলোনির বাসিন্দা লিটন ওরফে শাহীন (৩০), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দশঘর এলাকার সিরাজের ছেলে আউয়াল হোসেন, উপশহরের তেররতন সাদারপাড়ার ৪৮/এ’র মৃত ওহাব আলীর ছেলে আবদুল মালেক (৩৫)। এদের মধ্যে আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ২টি মামলা আর বাকিদের বিরুদ্ধে রয়েছে ১টি করে মামলা।
পুলিশের তৈরি করা তালিকায় ১৬ থেকে ২০ নম্বরে থাকা নামগুলো হচ্ছে- ছাতকের দশঘর এলাকার আবু লেইছের ছেলে আবু তাহের (১৬), একই এলাকার তাজ উদ্দিনের ছেলে হোসাইন আহমদ (১৬), সিলট নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার গোয়াবাড়ির মন্তাজ মিয়ার ছেলে কবির আহমদ (২৬), জালালাবাদ থানা এলাকার মদিনা মার্কেট নির্বাসী ৩১নং বাসার মৃত আবদুল মতলিবের ছেলে গোলাম রব্বানী (৩৫), ছাতকের দিখালীর মৃত এখলাছ মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন (২৭)। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ১টি করে মামলা রয়েছে।
মোটরসাইকেল চোরের শীর্ষ ৩০ জনের তালিকায় থাকা অন্য নামগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- নগরীর জালালাবাদ থানা এলাকার হাওলাদারপাড়ার কালিয়ারা-৯ এর মুর্শেদ আলীর ছেলে আঙুর মিয়া (২৯), মোগলাবাজার থানা এলাকার গোটাটিকরের হারুনুর রশিদের ছেলে হাবিবুর রহমান, শাহপরাণ থানা এলাকার সৈয়দপুরের তোতা মিয়ার ছেলে রুবেল, একই এলাকার ইসলামপুরের একটি কলোনির জামাল মিয়ার ছেলে কামরুল ওরফে কব্বুল, এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বাইশটিলার মো. হানিফের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (১৬), মৌলভীবাজারের রাজনগরের গালিমপুর এলাকার মৃত সিদ্দিক আলীর ছেলে করিম আহমদ, দক্ষিণ সুরমার দক্ষিণ বলদি রাজবাড়ির রাজু আহমদের ছেলে সানজিদ আহমদ হাসান, দক্ষিণ সুরমার কৃষ্ণপুরের লোকমানের ছেলে লিটন, শাহপরাণ থানা এলাকার শান্তিবাগের মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. এরশাদ (২৬), একই এলাকার সবুজবাগের আবদুল জলিলের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২১)। এ ১০ জনের বিরুদ্ধেও একটি করে মামলা রয়েছে।
৩৭ চোরের তালিকায় ৩১ থেকে ৩৭ নম্বর পর্যন্ত স্থান দখল করে আছে জকিগঞ্জ উপজেলার পীরনগর কাজী বাড়ির মৃত কাজী আবদুল খালিকের ছেলে কবির আহমদ (৩২), নগরীর সওদাগরটুলা-৭২ এর আনোয়ার হোসেন আনা মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন (৩৪), জালালাবাদ থানা এলাকার পাঠানটুলার মাজেদ, দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার দিলু (২৪), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নয়নী এলাকার লেবু মিয়ার ছেলে নয়ন (২৮), মোগলাবাজার থানা এলাকার শিববাড়ির একটি কলোনির হাসন আলীর ছেলে আরশ আলী (২৭), সুনামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের আজিম উল্লার ছেলে ফরিদুল আলম ওরফে কুটি মেম্বার (৩৭)। এর মধ্যে কুটি মেম্বারের বিরুদ্ধে ২টি কবির আহমদ ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি করে মামলা রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবেই এরা পরিচিত।
তালিকায় সবার শেষে নাম থাকলেও চোরচক্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সদস্য হচ্ছেন কুটি মেম্বার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চুরি হওয়া অধিকাংশ মোটরসাইকেলই কুটি মেম্বারের মাধ্যমে বিক্রি হয়। তালিকার সবার উপরে থাকা ইমন আর সবার নিচে থাকা কুটি মেম্বার- দুজনে মিলে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছেন পুরো চোরের সিন্ডিকেটটিকে।

মিডিয়াকে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। আমরা চাই, দেশে একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসুক। সেটা ফিরে এসেছে। এটা যেন কেউ আর বানচাল করতে না পারে, নষ্ট করতে না পারে। আমাদের সরকারের সময় ছয় হাজারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচন নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে নাই। কারণ, আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করি নাই। করবোও না। জনগণের এটা অধিকার। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলে আসছে। খুব কম গণমাধ্যমই আছে যারা সরকারের  পজেটিভ বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ করে। নেগেটিভই বেশি। আমরা কারও কাছে দয়া-দাক্ষিণ্য চাই না। এটুকু দাবি করতেই পারি, আমরা যদি ভালো কাজ করি সেটা যেন ভালো করে প্রচার করা হয়। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা এই দেশে কারফিউ দিয়েছে, তারা নির্বাচন সুষ্ঠু কিনা, তা নিয়ে কথা বলে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিএনপি জোর গলায় গণতন্ত্রের কথা বলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলো কিনা সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়। কিন্তু আমরা যদি প্রশ্ন করি, এই দেশে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ কারা করেছে? জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। তার হ্যাঁ/না ভোট, তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, অথবা সেই ’৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন। প্রত্যেকটা নির্বাচনে ভোট চুরির প্রক্রিয়াটা আছে। এই দেশে দুর্নীতি এবং ঋণ খেলাপি কালচার, এটাতো তারাই তৈরি করেছে। অবৈধ ক্ষমতা দখল করে একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে তাদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন,  কাজেই যারা অন্ধকার পথে ক্ষমতায় আসে, অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রেসিডেন্ট সায়েমকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে, তারা আবার গণতন্ত্র কীভাবে দেয়, সেটা আমি জানি না। এমনকি প্রতিদিন তো কারফিউ ছিল। তার মানে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে, জনগণতন্ত্র তারা দেয় নাই। এটাই হলো বাস্তবতা এবং গণতন্ত্রের ভাষাও তারা বোঝে না। যারা সব সময় জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের মুখে নির্বাচন, গণতন্ত্র আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কথা শুনতে হয়। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, যারা দলও গঠন করতে পারে না, নির্বাচনও করতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশটা তাদের আছে। যদি কোনো অবৈধপন্থায় কেউ ক্ষমতা দখল করে, অথবা ইমার্জেন্সি আসে, অথবা মিলিটারি রুলার ক্ষমতা নেয়, তখন তাদের গুরুত্বটা বাড়ে।  তখন তারা নাকি একটা পতাকা পায়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য এই দেশের।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে। গণতন্ত্র আছে বলেই তো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, আজকে আকাশ জয় করেছি। এই স্যাটেলাইট নিয়ে কত কথা এবং আরো অনেক কথাই তারা বলে। নিজেদের যদি মাথায় ঘিলু কিছু কম-টম থাকে তাহলে তো বলবেই। আমি নেভির জন্য সাবমেরিন কিনেছি। বক্তৃতা শুনলাম যে, সাবমেরিন নাকি ফুটা, পুরনোটা কিনেছি। ওটা নাকি পানির নিচে চলে গেছে। সাবমেরিন তো পানির নিচেই যাবে। সেই জন্যই তো আনা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যেদিন স্প্যান উঠলো। সব পত্রিকা লিখলো পদ্মা সেতুর স্প্যান উঠেছে। সেই কথা শুনেই একজন বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে, কেউ ওই সেতুতে উঠবেন না। আমি দেখবো ভবিষ্যতে এই সেতু হওয়ার পর তারা ওঠে কিনা। স্যাটেলাইট সম্পর্কে তো আরো কথা। কী যেন একটা আগুন জ্বালাইয়ে আকাশে উড়ে গেল, আমরা কী পেলাম? এটা থেকে কী পাবে, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও যাদের নাই, তারা ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়নটা কীভাবে করবে- এটা আপনারাই বিবেচনা করেন। দেশবাসী বিবেচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টকশোতে বলছেন বা মাইকের সামনে বলছেন। কথাটা বলার পর যখন বলেন স্বাধীনতা নাই, তখন আমার প্রশ্ন, তাহলে এত কথা বললেন কীভাবে? অনলাইন মিডিয়া এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া-এর একটা নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। অনলাইন মিডিয়ার নীতিমালা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও। আমি জানি না সাংবাদিকরা কেন আতঙ্কিত হচ্ছে নীতিমালা নিয়ে। আমি সাংবাদিকদের বলতে চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ তো কখনও হয়রানি করে না। একটা মানসিক ব্যাধি আছে আমাদের দেশে। অনেকে মনে করে সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন না করলে গণমাধ্যম চলবে না। এই মানসিক ব্যাধি থেকে আমাদের বের হতে হবে। দেশের জন্য যদি ভালো কাজ করে থাকি, সেটা যেন একটু ভালোভাবে প্রচার করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে বাংলাদেশে আসার পর আজ (১৭ই মে) ৩৭ বছর পূর্ণ হলো। তবে দুঃখের কথা আমি কখনও প্রেসের কাছ থেকে খুব বেশি সহযোগিতা পাইনি। সব সময় একটা  বৈরিতা নিয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। সমালোচনার মুখোমুখি হয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। কিন্তু আমি সেগুলো নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি। কারণ, আমি জানি আমি কী কাজ করছি। ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকলে, সৎ পথে থাকলে ফলাফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর আমি দেখেছি, বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতনের কথাটা অনেকেই লিখতে চায়নি। আবার অনেকেই সাহসের সঙ্গে সংবাদ দিয়েছে। যারা দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই, আর যারা দেয় নাই তাদের করুণা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। আপনারা জানেন যে, দুটি পত্রিকা আমি কিন্তু পড়িও না, রাখিও না। গণভবনে ঢোকা নিষেধ। দরকার নেই আমার। ওই সার্কাসের গাধার মতো যারা বসেই থাকে দড়ি ছিঁড়বে কবে, আর পতাকা পাবে কবে? তারা তো আমার দেশের জন্য কল্যাণের কাজ হবে না। তাদের আমার দরকার নাই। তিনি বলেন, আমরা সাধ্যমতো সাংবাদিকদের সাহায্য করে থাকি। আমরা ১২ হাজারের বেশি সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা ৯টা ভাষা দিয়ে অ্যাপ তৈরি করেছি। বিভিন্ন ভাষা শেখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, সংবাদকর্মীরা যারা আমাদের পাশে রয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। দাবি-দাওয়া ছাড়াই আমি কাজ করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কথা লিখেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম দুর্নীতি প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু পরে তো কোনো দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। এসব মিথ্যা কথা বলা কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা? যারা এটা বলেছিল তাদের কী করা উচিত আপনারাই বলুন। এখন আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি, জনগণের ভোটের অধিকার আমরাই ফিরিয়ে এনেছি। এই দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র আছে বলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। দুর্নীতি নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করেছিল। কিন্তু কেউ আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি। এই একটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলবো না। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আসার পর ইতিমধ্যে অষ্টম ওয়েজবোর্ড করে দিয়েছি। নবম ওয়েজবোর্ড করার প্রক্রিয়াও চলছে। কাজেই আশা করি সেটাও করা হবে। তবে আপনারা জানেন, ওয়েজবোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা থাকেন। তারা সবসময়ই একটু কালক্ষেপণ করার চেষ্টা করেন। এটা আপনারা নিজেরাও ভালো করে বোঝেন। আমার এখানে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না।
সংবাদকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ডের ঘোষণা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী আবারো বলেন, এখানে যে প্রতিবন্ধকতাটুকু, সেটা কিন্তু আমাদের করা না। সেটা আপনাদেরই সাংবাদিক মহলের করা। কাজেই কে এসব করছে সেটা আপনারাই দেখবেন। কিন্তু আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি কার্যকর হোক।
আমি থাকতে থাকতে নতুন নেতা নির্বাচন করুন
এদিকে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৭তম দিবস উপলক্ষে গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শুভেচ্ছা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী আবারো দলে নতুন নেতৃত্ব দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের চিন্তা-ভাবনাও করতে বলেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ৩৭ বছর হয়ে গেছে... একটা দলের সভাপতি হিসেবে ৩৭ বছরের বেশি থাকা বোধ হয় সমীচীন হবে না। এসময় শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ছাত্রলীগ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সমস্বরে ‘না না’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। শেখ হাসিনা হেসে বলেন, নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত। আবারো সবাই ‘না না’ বলে ওঠেন। তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যতক্ষণ আছি... সংগঠনকে শক্তিশালী করা দরকার। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে থেকে আওয়ামী লীগের যে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। যারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। আর একটা শ্রেণি আছে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা মিলিটারি ডিক্টেটরদের পা চেটে চলতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তারা ডেমোক্রেসি দেখে না। বুটের লাথি খেলে ভালো লাগে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের আমলে ডেমোক্রেসি থাকে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য রাজনীতি করেননি। প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের জন্য আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের বলেন, বারবার বাধা এসেছে, আসবে; এটাই স্বাভাবিক।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি ফখরুলের

খুলনা সিটি নির্বাচনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন দাবি করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে অবাধ   ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার যোগ্য নয়। যারা একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে না, জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে পরিচালনা করবে? আমরা সেই জন্য বারবার করে বলছি, এই নির্বাচন কমিশনের শুধু পদত্যাগই নয়, পুনর্গঠন চাই। আমরা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি। গতকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায়, তারা ফের ভিন্নমতকে পদদলিত করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। খুলনার নির্বাচন আপনারা দেখেছেন। সেই নির্বাচনেও তারা (সরকার) সেখানকার মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পত্র-পত্রিকায় এসেছে, আজকে নতুন কায়দায় নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু হয়েছে। সত্যিই খুলনায় ভোট ডাকাতি হয়েছে নতুন কায়দায়, নতুন রূপে। ফের শুরু হয়েছে ভোটকেন্দ্র দখলের রাজনীতি। এখন সবাই দেখে সবকিছু সুন্দর ও সুষ্ঠু হচ্ছে; কিন্তু সুকৌশলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন যে সুষ্ঠু হতে পারে না- খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তা আবারো প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা। সেজন্য তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকার পরও সরকার তার চিকিৎসার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বারবার এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করছে না। অসুস্থ খালেদা জিয়াকে ‘সুচিকিৎসা না দিয়ে’ কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত তার মুক্তি দাবি করছি। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নির্বাচনের ড্রেস রিহার্সেল মনে করে বিএনপি by কাফি কামাল

বর্তমানে নির্বাচন তার অর্থ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করে বিএনপি। নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকারের কাছে নির্বাচন একটি প্রকল্প। যে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের বাইরে রেখে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখা ও দীর্ঘায়িত করা। এ নির্বাচন প্রকল্প নিয়ে সরকারের একটি নীলনকশা আছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল খেলোয়াড় একাট্টা হয়ে সে নীলনকশায় বাস্তবায়ন করে। নেতারা মনে করেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে সরকার নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজয় ঘটেছে। গণতন্ত্র ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ নির্বাচনের সমস্ত পূর্বশর্ত যেখানে অনুপস্থিত, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভোটের আগের দিন যেখানে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়, ভোটের দিন সকালেই কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনের সহায়তায় জাল ভোটের মহোৎসব হয় সেখানে জয়-পরাজয় নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। তবে এরকম পরিস্থিতি দেখার পর যাদের মস্তিষ্ক ন্যূনতম সুস্থ আছে, তারা এ সরকারের অধীনে আর কোনো দিন ভোটের নাম নেবে না। নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ফলাফল কেমন হবে তার একটি আগাম ঝলক দেখা গেছে খুলনায়। ড্রেস রিহার্সেলও হয়ে গেছে। এখন জনগণেরও উপলব্ধির সময় এসেছে তারা বারবার অধিকার বঞ্চিত হবে, নাকি অধিকার হরণকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শরিক হবে। ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ মেনে নেবে, নাকি অধিকার আদায় করে নেবে। খুলনা সিটি নির্বাচন পর্যালোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের সদস্যসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।
এ সরকারের অধীনে কেউ ভোটের নাম নেবে না: গয়েশ্বর
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে ১১ই মে আড়াই সপ্তাহ টানা খুলনায় অবস্থান করে প্রচারণাসহ সার্বিক নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের তদারক করেছেন তিনি। খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে ছিলেন শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু গতকাল নির্বাচনের পরিবেশ, ক্ষমতাসীনদের ভোটকেন্দ্র দখল, প্রশাসনের সহায়তায় জাল ভোটের মহোৎসব ও নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা দেখে চরম হতাশ তিনি। গয়েশ্বর রায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যা-ই হওয়ার কথা তা-ই হয়েছে। তার অধীনে নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করাই বোকামি। ভোটারদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করতে যা করা দরকার পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার মিলে তাণ্ডবের মাধ্যমে তাই করেছে। খুলনায় নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিগত ১৫ দিন ধরে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও ভোটের আগের রাতে সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কালো মুখোশ পরে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে সরকার দলীয় লোকজন। ভোটের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রে যেতে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বাধা দান, মারধর করা হয়েছে। সরকার সমর্থকদের ভয়ভীতির কারণে ভোটাররা কেন্দ্রমুখীই হতে পারেননি। কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কিছু দেখেও দেখেনি নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনের সহায়তায় সরকার দলীয় লোকজন কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছে। কিন্তু সেগুলোর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের যেন কোনো দায়িত্ব নেই। এরকম পরিস্থিতি দেখার পর যাদের মস্তিষ্ক ন্যূনতম সুস্থ আছে তারা আর এ সরকারের অধীনে আর কোনো ভোটের নাম নেবে না। গয়েশ্বর রায় বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পরিবেশ এর চেয়েও জঘন্য হতে পারে। আর জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হয়তো আগের দিনই ঘোষণা দিয়ে দেবে এ সরকার।
আরেকটি প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো খুলনায়: নজরুল
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। সরকার জাতীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে ফেলেছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না তার আরেকটি প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো খুলনায়। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি- পুলিশের পাহারায় দুপুরের মধ্যেই বেশিরভাগ কেন্দ্র দখল করে নিয়ে জাল ভোটের মহোৎসব চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। খুলনার মানুষ সেটা খুব ভালো করেই দেখেছে। দেশের মানুষও কিছু কিছু দেখেছে গণমাধ্যমের সৌজন্য। ফলে আগামী নির্বাচন এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হলে ফলাফল কেমন হবে তার একটি আগাম ঝলকও তারা দেখতে পেয়েছেন। এখানে বিএনপির আশা-নিরাশার তেমন কিছুই নেই।
এ সরকারের কাছে নির্বাচন একটি প্রকল্প মাত্র: খসরু
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না। আশা যেখানে ছিল না, সেখানে নিরাশার তো প্রশ্নই আসে না। কারণ, আমরা খুব ভালো করেই জানি, এ সরকারের কাছে নির্বাচন তার অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনকে এ সরকার একটি প্রকল্প হিসেবে নিয়েছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণকে বাইরে রেখে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখা ও দীর্ঘায়িত করা। এ নির্বাচনী প্রকল্প নিয়ে সরকারের একটি নীলনকশা আছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব খেলোয়াড় একাট্টা হয়ে সে নীলনকশায় বাস্তবায়ন করে। ফলে এগুলোকে নির্বাচন বলা যাবে না। বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, যেখানে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক স্পেস নেই, লেভেল প্লেলিং ফিল্ড নেই, নির্বাচনের সকল পূর্বশর্ত অনুপস্থিতি- সেখানে খুলনা বলুন আর গাজীপুর বলুন সবখানেই একই পরিস্থিতি দাঁড় করবে সরকার। তাদের যেখানে যেমন ইচ্ছা তেমনটাই দৃশ্যায়ণ ও বাস্তবায়ন করবে। যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নেই সেখানে এসব নির্বাচনী প্রহসনের হারজিত নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। আর যতদিন সরকারের এ নির্বাচনী প্রকল্প ভেঙে দেয়া যাবে না ততদিন জনগণ ভোটাধিকার বঞ্চিত হতেই থাকবে। আর ব্যক্তিগতভাবে আমার বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যূনতম আস্থা নেই।
রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হলো আওয়ামী লীগ: নোমান
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়েছে সরকার। তাদের এ জয় প্রকাশ্য অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির জয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি প্রার্থী বিজয় পেয়েছে সত্যি, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। সামগ্রিক রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্ন বাড়ার পাশাপাশি তাদের নতুন সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দেখেছে সরকার দলীয় লোকজনের হুমকি-ধমকির কারণে ভিত সন্ত্রস্ত্র সাধারণ ভোটারদের বেশিরভাগই কেন্দ্রে যায়নি। বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় অংশটিও কেন্দ্রে যেতে পারেনি। যারা ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে কেন্দ্রে গিয়েছেন তারাও ভোট দিতে পারেননি। আমরা খবর পাচ্ছিলাম, সকাল আটটার মধ্যেই বেশিরভাগ কেন্দ্র নিজেদের দখলে নিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন। সরকার দলীয় প্রার্থীর সহযোগীর ভূমিকা ছিল প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্বাচনের নামে খুলনায় একটি প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার। আমরা সে অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আমাদের যে দাবি, তা আবারও প্রমাণ হয়েছে খুলনায়। এখন জনগণেরও উপলব্ধির সময় এসেছে তারা বারবার অধিকার বঞ্চিত হবে, নাকি অধিকার হরণকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শরিক হবে।
জনগণের ভোটে আমরাই জিতেছি: মর্তুজা
খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মর্তুজা বলেন, খুলনায় কোনো নির্বাচন হয়নি, এখানে একটি প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এ ধরনের প্রহসন না করে সরকার খালেক ভাইকে (তালুকদার আবদুল খালেক) মেয়রের চেয়ারে বসিয়ে দিলে আমরা কোনো আপত্তি করতাম না। তিনি বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি, কেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারেনি। কেন্দ্র দখল করে দিনভর জাল ভোট দিয়েছে নৌকার লোকজন। ফলে মেয়রের চেয়ারে যিনিই বসুন না কেন, জনগণের ভোটে আমরাই বিজয়ী হয়েছি।

আরো দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে খালেদাকে

মানহানির দু’টি মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। এই দু’টি মামলায়  ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের দু’জন হাকিম গতকাল রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে পৃথক আদেশে পরোয়ানা কার্যকরের এ আদেশ দেন। আগামী ৫ই জুলাইয়ের মধ্যে এ আদেশ কার্যকর করে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে আদেশে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন মঙ্গলবার এক রায়ে বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তবে, আরো অন্তত ছয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় আপাতত মুক্তি  মিলছে না বলে জানান তার আইনজীবীরা।
বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকার আদালতে জননেত্রী পরিষদেও সভাপতি এবি সিদ্দিকী মামলাটি দায়ের করেন। আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০শে আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। আইনজীবীরা জানান, মামলা দু’টিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। কিন্তু পুলিশ তা তামিল করতে পারেনি। গতকাল  মামলা দু’টির ধার্যদিনে খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আগে কার্যকর করে তারপর জামিন আবেদনের শুনানি করার আরজি জানান। দুই পক্ষের শুনানি শেষে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া জন্মদিন পালন অভিযোগের মামলার বিচারক খুরশীদ আলম এবং জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলার বিচারক আহসান হাবীব উভয়ই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৫ই জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রাখেন দুই আদালতের বিচারক।
খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আজকে (গতকাল) দু’টি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের জামিনের দরখাস্ত নথিভুক্ত করে বলেছেন, ইতিপূর্বে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করে (পরোয়ানা কার্যকর করা) আগামী ৫ই জুলাইয়ের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।  আইনজীবীরা জানান, যেহেতু খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন, তাই পুলিশ কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই দু’টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেবে।

খুলনার ফলে আওয়ামী লীগে উচ্ছ্বাস-স্বস্তি by কাজী সোহাগ

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেকের জয়ে উচ্ছ্বসিত আওয়ামী লীগ। এ বিজয়কে তারা শেখ হাসিনা সরকারের ওপর জনগণের আস্থা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে একই ধরনের ফল আসবে বলে মনে করছে দলটি। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, খুলনার নির্বাচনে বিজয়ের মূল কারণ হলো শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব উন্নয়ন। তার বিগত দিনের উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে আসলে এ জয়। তারা বলেন, দেশের জনগণ উন্নয়নের স্বীকৃতি দিতে জানে এবং সেটা তারা প্রমাণ করেছেন। খুলনার নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। একইসঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। গতকাল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব মূল্যায়ন পাওয়া যায়। অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুলনার নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যারা খুলনার নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করছেন আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দলের উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এ ধরনের বিজয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের ফল হিসেবে মনে করছি আমরা। তিনি বলেন, এ নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রায় একই প্রতিক্রিয়া জানান দলের অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। মানবজমিনকে তিনি বলেন, খুলনার নির্বাচনটা ছিল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে এটা করা হয়েছে। আমাদের দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, এমপি হওয়ায় তারা সেখানে নির্বাচনী প্রচার চালাননি। বলা যায়, এ নির্বাচনের ফল আমাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বড় স্বীকৃতি। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে দেশের জনগণ, এটা খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে। উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘাত-বিরোধ দেখা দেয়নি। যে দুটি কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সে দুটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে। দলের অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসবেন এমন আভাস জনগণ দিয়েছে দাবি করে বলেন, জনগণ খুলনার নির্বাচনে রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। এদেশের জনগণ যেমন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে একটানা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন করতে দেখেছে, ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাকেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরো টানা ২০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়। সেই কারণেই তারা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। ওদিকে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ- এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনেক আশঙ্কা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক একজন পরিচ্ছন্ন ও সফল মেয়র ছিলেন। খুলনার জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে বিজয়ী করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ ওবায়দুল কাদেরের
দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ওবায়দুল কাদের। গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন করছে তাতে তাদের ভোট বেড়েছে। আর বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিতে তাদের ভোট কমেছে। তিনি বলেন, খুলনার জনগণের রায়কে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বিএনপি ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই জন্মগত স্বভাব অনুযায়ী ব্যাপক মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট এবং ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওবায়দুল বলেন, নির্বাচনের দিনও সকাল থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতৃবৃন্দ নয়াপল্টনে মাইক্রোফোন দিয়ে লাগাতারভাবে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে উস্কানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও তীর্যক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ?ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনায় জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। অতীতের ন্যায় কালোটাকা, ভোট কারচুপি ও পেশীশক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেনি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেননি জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যাচার, মিথ্যাচার ও ভীতি সঞ্চার করে জনগণের মন জয় করা যায় না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে তা আবার প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দের বুঝতে হবে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, অর্থপাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, লুটেরার দল বিএনপি ক্রমাগত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের জন্য আরো বড় পরাজয়ের পরিণতি অপেক্ষা করছে। যেকোনো মূল্যে জিততে হবে- এই ধরনের মানসিকতা এবং জিতলে আছি, হারলে নাই, এই ধরনের অপকৌশল’ থেকে বেরিয়ে আসতে বিএনপিকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আসুন, সত্যকে মেনে নিতে শিখুন। নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবিকে বিএনপির মামা বাড়ির আবদার বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সিইসিসহ কমিশন তো সার্চ কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। আর সেখানে বিএনপিরও অংশগ্রহণ ছিল। কাজেই এধরনের দাবি মামা বাড়ির আবদার ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের জানান, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে জনগণের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আপিল বিভাগের জামিনের আদেশ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) যদি অন্য মামলা থাকে, তাকে তো সে মামলায়ও জামিন পেতে হবে। এটাই তো আইন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হলে সরকার তাকে কীভাবে মুক্তি দেবে? সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।