Monday, December 24, 2018

আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আলোচিত ২০১৮ সাল, 'প্রভাব পড়বে নির্বাচনে'

বাংলাদেশের নির্বাচনী বছর ২০১৮ সাল জুড়ে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিল দেশের ব্যাংক খাত। প্রায় তিন বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এখনো কোন তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, স্বর্ণ কেলেঙ্কারি, নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনায় ছিল ব্যাংক খাত।
নির্বাচনী ডামাডোলে বিরোধী পক্ষ থেকে অর্থিক খাতের ভগ্নদশা নিয়ে কিছু প্রচারণা চালানোর চেষ্টা হলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়টিগুলো বেমালুম চেপে যাওয়া হচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ রেডিও তেহরানকে বলেন, এটা বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় যে, লুটপাটের মাধ্যমে যারা ব্যাকিং খাতকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, যারা দেশের  অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে, তারা রাজনৈতিক ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মিডিয়ার মালিক হয়ে বা সরকারে বসে আইন করে জনগণের সঠিক তথ্য পাবার অধিকারও নিয়ন্ত্রণ করছে।
ড. আনু মুহাম্মদ  বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জনগণের কাছে খবর পৌঁছে গেছে যে, কারা কিভাবে দুর্নীতি করছে, কারা ঋণ খেলাপি, কারা ব্যাংক লুটপাটে যুক্ত বা কারা রাষ্ট্রীয় খাতের বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী। জনগণ যদি ঠিক মতো ভোট দেবার সুযোগ পান তবে নিশ্চয়ই ব্যালটে তার প্রতিফলন ঘটবে।
রিজার্ভ চুরি
২০১৬ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা (আটশত আট কোটি টাকা) ডিজিটাল পদ্ধতিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়ে যায়। 
এ কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিয়ার পদত্যাগ করলেও এ চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, চুরিটা কীভাবে হয়েছে, কারা এর সাথে যুক্ত তার কিছুই দেশবাসী জানতে পারেনি। এ মাসের গোড়ার দিকে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দেবার কথা থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায়  আদালত এ যাবৎ ৩০ বার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ৯ জানুয়ারী প্রতিবেদন জমা দেবার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে।
খেলাপি ঋণ
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে,  দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।  এর মধ্যে রয়েছে, আদায়-অযোগ্য হয়ে পড়ায় গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলায় অন্তর্ভূক্ত ৫৫ হাজার ৩১১ কোটি টাকার অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী বছরে এসে গত জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছ’টি  ব্যাংকের বিতরণেকৃত ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি হয়ে পড়েছে ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, যা এসব ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ না দেখে  উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বর্ণ কেলেঙ্কারি
এ বছর জুলাই মাসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তারা অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৯৬৩ কেজি সোনার মান নিয়ে অনিয়ম খুঁজে পায়।  এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য  একটি প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো ধরনের হেরফের হয়নি। স্বর্ণকারের ভুলে ভাষার গণ্ডগোলে  নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার অসামঞ্জস্যতা ঘটেছে।
ব্যাংক লোপাট
এর আগে চলতি ডিসেম্বর মাসের গোড়ার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে গত দশ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। 
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন তার প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে  বলেন, দেশের ব্যাংকিংখাত থেকে এ বিপুল পরিমান অর্থ  লোপাট হবার ব্যাপারে  সরকারি কোনো ব্যবস্থা সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ব্যাংকিংখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। সুশাসনের অভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট হওয়ায় পুরো আর্থিকখাতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকিংখাতের অবস্থা একেবারেই নাজুক। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশের যে স্বপ্ন তা বাধাগ্রস্ত হবে। বিগত সরকার এ খাতের যে ক্ষতি করেছে তা পুষিয়ে নিতে আগামীতে কী করবে সেটি এখনই তাদের বলা উচিত।
অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নেমেছে দলগুলো। অথচ ব্যাংকিংখাতের সুশাসন কিংবা স্থিতিশীলতা কীভাবে আসবে ইশতেহারে তার কোনো কিছু আমরা দেখছি না। তাদেরও প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। তা না হলে আগামীতে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ।
এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ, নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থাসহ কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরে সিপিডি। যা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকার কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করে সিপিডি।
বেড়েছে রেমিট্যান্স
তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ধারা কয়েক বছর ধরেই ইতিবাচক রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীরা ৫১০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

বিলাতের সৈকত শহরে একদিন by ইশরাক পারভীন খুশি

কোথাও ঘুরতে গেলে মনের মত সঙ্গী না পেলে মজা নেই। তেমনি মনের মত খানাপিনা না থাকলে বারোটা বাজে। বিশেষত ট্রেনে চড়লে এ্যঁই বাদাম। ঝাল মুড়ি নেবে ঝাল মুড়ি। শুনে যখন কান অভ্যস্ত ঠিক তখন অতি পরিপাটি পরিচ্ছন্ন ট্রেনে উঠে শুকনো মুখে স্যানডউইচ গেলো হাঁদারাম বাঁচা অবস্থা। স্যান্ডের উইচ কতটা উপভোগ্য হবে আমার মত পাঁড় বাঙালির তা বুঝতে নিশ্চয়ই আপনাদের খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়
তবে লন্ডনে তবু মন খুলে খাবার সুযোগ আছে। সেন্ট্রাল লন্ডনের মত জায়গাতেও হালাল ম্যকডোনাল্ড কেফসি সব আছে। খাব তো মুরগি ভাজা, বিফ, মাটনের মাংসের পেটি তাতে আবার হালাল হারাম কি? এদেশে পা না ফেললে তো আর বুঝতাম না মুরগিও হারাম হয়।
যাহোক মুসলিম নিয়মে জবেহ ছাড়া মাংস হারাম বলে পরিগণিত। আর এদেশে প্রাণী জবাই হয়না সচারচর, কাজেই তা ঠিক হালাল নয়। ইস্ট লন্ডনে মুসলিম বেশি থাকায় সেখানে দেশি এদেশি খাবার দোকান হালাল হবে তা খুব একটা আশ্চর্যের নয়। বরং বড় বড় অক্ষরে ইংরেজি ও আরবিতে হালাল কথাটা লেখা দেখতে পাওয়া যাবে প্রায় প্রতি দোকানেই। নানদুজের ঝাল সসে মাখানো চিকেন উইংস, পিজা হাটের চিকেন মাটন পিজা, অথবা স্টাটফোর্ড ইস্টিশনে ঢুকবার পথে ফ্রাইড চিকেনের ঘ্রাণ নাকে যে সুঁড়সুড়িটা দেয় তাতে পেট গড়গড়িয়ে ডেকে বলে আমি ক্ষুধার্ত। সেন্ট্রাল লন্ডনেও ম্যকডোনাল্ড বা কেএফসিতে হালাল খাবার পাওয়াটা সৌভাগ্যেরই ব্যাপার বটে। কারন মুচমুচে চিকেন ভাজার ঘ্রাণ যখন নাকে আসে অথবা নানা ধরনের সসের সাথে ঐরকম সরেস বার্গার চোখে পড়ে তখন ক্ষুধা চনমনিয়ে উঠলে নিজেকে সামলিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন।
শুধু তাই নয় লন্ডনে ইন্ডিয়ান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে যে বাজার বসে তা দেখলে চক্ষু আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠবে। এমন কিছু বাদ নেই যা খেতে ইচ্ছা করে অথচ বিদেশ ভুঁইয়ে বলে পাওয়া যায় না। বরং আরও বেশি ধরনের সারা বছর ধরে পাওয়া যায়; যা তুমি খেতে চাও। কত রকমের কত গড়নের দেশি বিদেশি সবজি, কত রকমের মাছ, মাংশ। বড় বড় রিটেল সপে ইয়াত্তা নেই এতরকমের খাদ্য বানানোর সামগ্রী। একটা ট্রলি নাও আর ট্রলিতে যা মন চাই তুলতে থাকো পকেট খালি করবার জন্য। চারদিকে যেন পকেট খসাবার ছল। সে ছল থেকে যেন রক্ষা নেই কিছুতেই।
এবার চল সুখাদ্যের গল্প ছেড়ে সমুদ্রের হাওয়া খাওয়ার গল্পে যাওয়া যাক। সমুদ্রের কথা মনে হলেই আমার মৌসুমি ভৌমিকের ঐ গানটা মনে আসে,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো
আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনা বালি তীর ধরে বহু দূর বহু দূর হেটে এসেছ
আমি কখনো যাইনি জলে কখনো ভাসিনি নীলে
কখনো রাখিনি চোখ ডানা মেলা গাংচিলে....।
সমুদ্র আহা সমুদ্র ! নীলজল দীগন্ত, ডানা মেলা গাঙচিল, নোনাবালি তীর কি অসাধারণ বর্ণনা। তবে মজার বিষয় হল যত সমুদ্রসৈকত দেখলাম তার মধ্য বাংলাদেশের মত কোনটাই নয়, না স্নানের জন্য না বালুকাময় সৈকতের জন্য। শুধু পার্থক্য একটাই এরা অতি অল্প একটু দেখবার মত জিনিসকেও অতি যতেœ তুলে ধরে, রক্ষণাবেক্ষণ করে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রাখে।
লন্ডনের অদুরে কেন্ট শহরের ডোভার সমুদ্রসৈকতে গেলাম আমি, সঙ্গী ছিল আমার প্রাণভোমর আর ছোট ভাই সাগর। লন্ডন থেকে বাসে করেই কেন্ট শহর যাওয়া যায়। একদিকে দূরত্ব যেমন বেশি নয় অন্যদিকে যাতায়াতের জন্য বাস বা ট্রেনের সেবা অতিমাত্রায় ভাল। ডোভার হল সেই জায়গা যেখান থেকে সরাসরি সমুদ্রের ওপারেই ফ্রান্স। এখানেই ইংলিশ চ্যানেল, আটলান্টিক মহসাগরের সবচেয়ে সরু অংশটি এখানে, যারা ইংলিশ চ্যনেল পাড়ি দেন তারা এই অংশটিতেই পাড়ি দেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই সৈকতের পাড়ে যে পাহাড়টি আছে তা চক পাহাড় বা সাদা চুনাপাথরের পাহাড়।

পাশ থেকে বা সামনে থেকে সাদা পাহাড় দেখতে পাওয়া যায় আর উপরিভাগটা গাঢ় সবুজ ঘাসে বিস্তীর্ণ। ৩৫০ ফিট উচুঁ পাহাড়টির  উপর দাঁড়ালে আর মেঘহীন পরিস্কার আকাশ থাকলে সাগরের ওপারে ফ্রান্সকে দেখা যায়। সৈকত বালুকাময় নয় পাথুরে আর অসম্ভব ঠান্ডা পানি সমুদ্র স্নান থেকে বিরত রেখে মনকে কিছু টা অতৃপ্ত করে রাখে। এখানে আছে লাইট হাউজ, অসংখ্য জাহাজ চলাচলের বন্দর, পাহাড়ের মাঝে অসমাপ্ত সুড়ঙ্গ, ডোভার ক্যসেল, সেন্ট পলস চার্চ, সেন্ট এডমুন্ড চ্যপেল ইত্যাদি। শহরটিও মনোরম। এইখানেই খেতে গিয়ে তখনও রাস্তা ঘাটে হালাল খাবার খুজেঁ বেড়াই তাই চিকেন বিফের পরিবর্তে এগপ্লান্ট দিয়ে সাবওয়ের এক হাত লম্বা স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে সাগর তো ভীষণ অবাক, বলে ভাইয়া স্যান্ডউইচে এগ কই? হেসে প্রাণ ভোমরের উত্তর দেয় এগপ্লান্টের সঙ্গেই আছে। হা! হা ! এগপ্লাান্ট! আমাদের বেগুন ভাজা।
শুধু ডোভার নয় লাইলা আপা আর ইসলাম ভাইদের সঙ্গে গিয়েছি সাউথএন্ড সৈকতে। সেখানেও পাথুরে সৈকত। তবে সমুদ্রের পাড় ধরে সেখানে বিনোদনমূলক অনেকগুলো রাইড আছে। এইখানেই ১৯৮৬ শালে প্রথম কনকর্ড প্লেন দিয়ে শুরু হয়  ফ্রি এয়ার শো দেখানো। মাছ ধরার সবচেয়ে লম্বা পোর্ট এখানেই। সৈকত নয় আমার সাথের লোকজন আশপাশের স্বল্পবসনা হুরদের দেখে এত চমৎকৃত হলো যে পরে যখন কম্পিউটারে ছবি লোড করতে গেলাম তখন দেখলাম হুরদের ছবিতে ফাইল ভর্তি। ওদের এই ব্যস্ততায় আমি তখন পাথর নুড়ি কুড়াতেই ব্যস্ত ছিলাম।
লন্ডন শহরের কাছে পিঠে আরও অনেক সমুদ্রসৈকত থাকলেও সবগুলোতে যাওয়া না হলেও আইল অফ হোয়াইট ঘুরে এসেছি এক অবসরে। ইশতিয়াক ছিল আমাদের এবারের সঙ্গী। এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় একটি দ্বীপ। কুইন ভিক্টোরিয়ার বাড়ি আছে এখানে। আছে লাইট হাউজও। চারপাশে শুধু পানি। আমরা ফেরি করে ঘুরে ঘুরে চারপাশে সৌন্দর্য গলাধঃকরণ করছিলাম। খাদ্যরসিক বাঙালিও খাবার কথা ভুলে গাংচিলের এক অন্যরকম ডাক আছে তাতে বিভোর হয়ে রাশি রাশি পাল তোলা সাদা কানুগ দেখেছিলাম। এইখানে সমুদ্র সৈকত কিছুটা বালুকাময় তবু পানিতে ঝাপাঝাপির মত নান্দনিক তাপমাত্রা নয়। পাশ ঘিরে সাদা চক রক বা হোয়াইট ক্লিফও দেখা যাবে। এইখানেই নাকি ডাইনোসরের সবচেয়ে বড় ফসিল গুলো পাওয়া গেছে, এখনও নাকি পাওয়া যায়। বাস্পীয় ইঞ্জিনের একটা রেল আছে যেটাতে করে দ্বীপে যাবার বন্দরে পৌঁছুতে হয়। সেখান থেকে ফেরি। সবটাই যেন মোহময় ঐন্দ্রজালিক হয়ে ওঠে। এইসব বিশেষ জায়গাগুলোকে ঘিরে যে ছোট শহরগুলো এগুলোও যেন রুপকথার নগরী। এর সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকলে মনে হবে যেন কোন কল্পনার রাজ্যে ঢুকে পড়েছি। গাংচিলের ক্যা কা ডাক থেকে থেকে শুনতে পাবে আর তাই তোমাকে বলে দিবে সমুদ্র তোমার থেকে বেশি দূরে নয়, ঠান্ডা সমুদ্রের বাতাসও এসে ফিসফিস করে বলবে এস কাছে এসে মহাসাগরের বিশালতা দেখে যাও। ডানামেলা গাংচিলে চোখ রাখলে দেখবে আকাশ আর সমুদ্র একই রং ধারণ করেছে আর স্বেতশুভ্র গাংচিল কেমন ছোঁ মেরে রুপালি মাছগুলো ঠোঁটে নিয়ে ফের ডানা মেলছে।
সৈকত বালুকাময় হোক আর পাথুরে সমুদ্রের একটা শক্তি আছে, ওর বাতাসে শরীর মন ধুয়ে মুছে একেবারে নতুন করে সতেজতা পাবার এক মহাঔষধ আছে। আমি প্রথম বার যখন সমুদ্র দেখতে যাই তখন আমার ভীষণ জ্বর ছিল। সমুদ্রের হাওয়ায় জ্বর আরো বেড়ে যাবে এই ভয় মনে নিয়ে চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে সৈকতে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার কথা কি বিশ্বাস হবে তোমার? মাত্র দশ মিনিটের মাথায় চাদর ফেলে একেবারে সতেজ হয়ে উঠলাম আমি। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ছুটে আসা ডেউ শোঁ শোঁ শব্দে যে নরম ঠান্ডা বাতাসকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল তা যেন আরোগ্যের কোন অবিশ্বাস্য যাদুমাখা পথ্য। মন শরীর আবেশে ভরে তোলা অলৌকিক সোনার কাঠি রুপার কাঠি।
লেখক: টেক্সাস (যুক্তরাষ্ট্র) প্রবাসী

ভোটের মাঠে সেনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যরা। রোববার মধ্যরাত থেকেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নেমেছেন তারা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম মানবজমিনকে জানান, সোমবার (আজ) থেকে দেশের ৩৮৯ উপজেলায় নির্বাচনী মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। আর ১৮ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবে নৌবাহিনী। এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে গত রাতে আইএসপিআর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পূর্বে, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে আইন ও শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ ২৪শে ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ হতে ২রা জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত স্ব স্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচন কমিশন/অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করবে। সশস্ত্র বাহিনীর এ মোতায়েন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। উপকূলীয় ১৮টি উপজেলা ও সীমান্তবর্তী ৮৭টি উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য সকল এলাকায় (৩৮৯টি উপজেলায়) সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
উপকূলীয় ১৮টি উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং সীমান্তবর্তী ৮৭টি উপজেলায় বিজিবি (অন্যান্য দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাশাপাশি) কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান নির্বাচনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুত রাখা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী/নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জয়েন্ট কোঅর্ডিনেশন সেল স্থাপন করা হবে। এতে আরো জানানো হয়, প্রথমবারের মত জাতীয় সংসদের ৬টি আসনের (২১ রংপুর-৩, ১০০ খুলনা-২, ১০৬ সাতক্ষীরা-২, ১৭৯ ঢাকা-৬, ১৮৬ ঢাকা-১৩ এবং ২৮৬ চট্টগ্রাম-৯) ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে দুই পর্যায়ে ইভিএম এর ওপর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করা হয়েছে এবং তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জনসচেতনতা ও প্রচারণা কার্যক্রমে ইভিএম-এর ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ কারিগরি দক্ষ হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। উল্লিখিত ৬টি নির্বাচনী আসনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়াও উক্ত আসনসমূহের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ইভিএম সংক্রান্ত কারিগরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য প্রস্তুত থাকবে। এর আগে, গত ১৩ই ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ওইদিন তিনি বলেন, ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৪শে ডিসেম্বর সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গত ১৮ই ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।
এক হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি এখন মাঠে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ দায়িত্ব পালনের ব্যয় হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সশস্ত্র বাহিনী ৬০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অগ্রিম বাজেট পেয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীর চাহিদা ছিল ১১৫ কোটি টাকা। আর ইসির বরাদ্দ ছিল ৫০ কোটি টাকা। জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩০ ধারায়। আর এবারে মোতায়েন হচ্ছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারায়। এ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত ১৯শে ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্রে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩২ ধারার  মধ্যে ১৩১ ধরায় সেনাবাহিনীর কোনো কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও জননিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত হচ্ছে এমন সমাবেশ ভঙ্গের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিপত্রে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের পূর্বে, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য ২৪শে ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২রা জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত (যাতায়ত সময় ব্যতীত) সশস্ত্র বাহিনী  মোতায়েন থাকবে।
সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব সম্পর্কে পরিপত্রে বলা হয়, (ক) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ প্রতিটি জেলা/ উপজেলা/ মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
(খ) রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবে।
(গ)  রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করবে।
(ঘ) রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ভোট কেন্দ্রের অভ্যান্তরে  কিংবা ভোট গণনা কক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।
(ঙ) ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু  দি সিভিল পাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
(চ) উপকূলবর্তী এলাকায় প্রয়োজন অনুসারে নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
(ছ) ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কম বেশি করা যাবে।
(জ) সশস্ত্র বাহিনীর বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য সংরক্ষিত হিসেবে মোতায়েন থাকবে।
(ঝ) পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন  অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়ক সমূহের  নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
(ঞ)  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কোঅর্ডিনেশন সেল থাকবে। কেন্দ্রীয় সেলের পাশাপশি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুরূপ জয়েন্ট কোঅর্ডিনেশন  সেল  স্থাপন করা হবে।  কেন্দ্রীয় সেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে  জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়/বিভিন্ন  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন।
(ট) বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও বাহিনীসমূহের অনুরোধে উড্ডয়ন সহায়তা দেবে।
(ঠ) সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেবে।
(ড) জাতীয় সংসদের ৬টি নির্বাচনী এলাকার সকল ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র  বাহিনীর সদস্যরা (প্রতি কেন্দ্রে)  কোন ধরনের অস্ত্র, গেলা-বারুদ বহন করবেন না। কিন্তু তারা ইউনিফরম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালন কালে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট প্রদান যথাযথভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবেন।

(ঢ)  ইভিএম কেন্দ্রে যে সকল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবেন তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর নিকটতম টহলদল ও স্থানীয় ক্যাম্প রিটার্নিং অফিসার/ প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিতপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

(ণ) নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর টিম  উল্লিখিত ৬টি নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রদানে নিবিড় ও অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। রাজনৈতিক দলগুলোও আশা করছে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামায় নির্বাচনের পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বাংলাদেশের হতাশা

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দেয়া এবং সবচেয়ে বড় বিদেশি পর্যবেক্ষক মিশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘটনায় ঢাকা-ওয়াশিংটন শব্দের লড়াই শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমে হতাশা ব্যক্ত   করে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি দেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে তা খণ্ডনের চেষ্টা করেছে ঢাকা। ২১শে ডিসেম্বর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপ-মুখপাত্র রবার্ট প্যালাদিনো এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন আনফ্রেলের পর্যবেক্ষকদের ভিসা ও অনুমোদন দিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ যুক্তরাষ্ট্র। যথাসময়ে অনুমোদন ও ভিসা না পাওয়ার কারণেই আনফ্রেল বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিলে বাধ্য হয়েছে। ওই সংস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত হয়েছিল। জবাবে বাংলাদেশের তরফে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের ১৭৫ প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করেছেন। আনফ্রেলসহ বেশকিছু সংগঠনের প্রতিনিধির পর্যবেক্ষণের অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিজস্ব মন্তব্য করে জানানো হয়- তা সত্ত্বেও তাদের আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেকের ইতিমধ্যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং বাকিদের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে ৩২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে- জানিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন চালানোর মতো সময়ের মধ্যে তাদের পরিচয়পত্র (অ্যাক্রিডিটেশন) ও ভিসা প্রদান নিশ্চিতে ঢাকার প্রতি অনুরোধ করেছিল। নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেও বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন দোরগোড়ায় এলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি আনফ্রেলের অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের ভিসা হয়নি। এ অবস্থায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপ-মুখপাত্র তার বিবৃতিতে বলেন, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কম থাকায় বাংলাদেশ সরকারকে স্থানীয় এনজিওগুলোর গঠন করা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইউডব্লিউজি)কে স্বীকৃতি দিতে হবে। যাতে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অত্যাবশ্যক কাজগুলো করতে পারেন। এরমধ্যে ইউএসএআইডির অর্থায়ন করা বেশ কয়েকটি এনজিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অবশ্যই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও অভিব্যক্তি প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে যাতে তারা নির্বাচনের সকল সংবাদ প্রচার করতে পারে। হুমকি, সহিংসতা ও হয়রানি ছাড়াই প্রত্যেকে যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতির জবাবে বাংলাদেশ সরকারের গতকালের বিবৃতিতে দাবি করা হয়- একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘উৎসবমুখর পরিবেশে’ হচ্ছে। ওই নির্বাচনে দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি বাংলাদেশকে হতাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়- নির্বাচন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তারা তাদের কাজ স্বাধীনভাবে করে যাচ্ছে। আনফ্রেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশের এনজিও ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়- ‘অধিকার বাংলাদেশ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বৈপরীত্য ও পক্ষপাতিত্বের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। যা তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে; এমনকি ২০১৮ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে প্রকাশিত রিপোর্টেও স্পষ্ট। এর আগে অধিকারের অন্যতম একজন শীর্ষ স্থানীয় বাংলাদেশি সদস্যকে ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার। যা তার সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অযোগ্য করে তোলে। বিবৃতিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানায় উল্লেখ করে বলা হয়- নির্বাচন কমিশনের আইন ও নির্দেশিকা অনুসারে প্রত্যেক আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী নিশ্চিতভাবে পূরণের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
ঢাকার বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে- স্থানীয়ভাবে ১১৮টি সংগঠন এবং ২৫ হাজার ৯২০ জনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়- বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে সহযোগী ও বন্ধুদের কাছ থেকে আনা গঠনমূলক সমালোচনা আশা করে। ঢাকা অবশ্য সেই সমালোচনাকে স্বাগত জানাবে। উল্লেখ্য, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য (ব্যতিক্রম ২০১৪’র ৫ই জানুয়ারি) সবচেয়ে কম সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু ভিসা জটিলতায় বেশিরভাগই (নিবন্ধিতদের) ৩০শে ডিসেম্বরের ভোটের আগে ঢাকা আসতে পারছেন না।

নওয়াজ শরীফের জন্য ‘শেষ বিচারের দিন’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সামনে ‘শেষ বিচারের দিন’ আজ। তার ভাগ্য ঝুলে আছে। কি হবে তা নির্ভর করছে জবাবদিহিতা বিষয়ক (এনএবি) আদালতের ওপর। অজ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৪ বছরের জেল ও জরিমানার রায় হতে পারে। কেড়ে নেয়া হতে পারে বিপুল অর্থের কয়েকটি মিলকারখানা।
তাই কি রায় দেয় আদালত সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো পাকিস্তান। আল আজিজিয়া স্টিল মিলস এবং ফ্লাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যে মামলা আছে নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এর চূড়ান্ত রায় সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ঘোষণার কথা রয়েছে।
এ জন্য এ দিনটিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার পাকিস্তানি সংস্করণ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ‘জাজমেন্ট ডে’ বা শেষ বিচারের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এর আগে ভাগ্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে রোববার লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেন নওয়াজ শরীফ। সেখানে জাতীয় পরিষদে বিরোধী দলীয় নেতা ও তার ছোট ভাই শাহবাজ শরীয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ওই দুটি মামলায় আজ সকালে তার বিরুদ্ধে দুটি রেফারেন্সের চূড়ান্ত রায় দেবেন বিচারক মুহাম্মদ আরশাদ মালিক। এ জন্য আদালত চত্বরে ও আর আশপাশে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক অর্ডিন্যান্সের সেকশন ৯এ৫-এর অধীনে অজ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ায় অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়ার জন্য আবেদন করেছে জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো (এনএবি)।
এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৪ বছরের জেল ও জরিমানা করা হতে পারে নওয়াজ শরীফকে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি পদের অধকারী কোনো ব্যক্তিকে যদি দুর্নীতির দায়ে বা দুর্নীতি চর্চা করা, নিজে অথবা তার ওপর নির্ভরশীল কাউকে আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক দেখা যায়, তাহলে তার ওপর এই ধারাটি কার্যকর হবে। এতে নির্ধারিত আয়ের বেশি সম্পদ থাকলে এবং দুর্নীতি পাওয়া গেলে ওই সম্পদ জব্দ করতে পারবে সরকার।
জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো মামলায় বলেছে, নওয়াজ শরীফের বড় ছেলে হুসেইন নওয়াজ ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন আল আজিজিয়া স্টিল মিলস। ২০০৫ সালে স্থাপন করেছেন হিল মেটালস এস্টাবশিলমেন্ট। এতে ৩৪ লাখ দিরহাম বিনিয়োগ করেছেন তিনি। তবে ওই অর্থ কোথা থেকে পেয়েছেন বা এর অর্থ কোথায় যায় তিনি তা প্রকাশ করেন নি।
তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এনএবি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হিল মেটালসের শতকরা ৮৮ ভাগ লভ্যাংশ পাঠানো হয়েছে নওয়াজ শরীফের পাকিস্তানি ব্যাংক একাউন্টে। কারণ, তিনিই হলেন ওই সম্পদের প্রকৃত মালিক। বেনামি মালিক হলেন হুসেইন নওয়াজ।
আত্মপক্ষ সমর্থন না করে নওয়াজ শরীফ বলছেন, আল আজিজিয়া এবং হিল মেটালসের মালিক তার ছেলে হুসেইন নওয়াজ। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে হুসেইন তার একাউন্টে অর্থ পাঠিয়েছে।
ফ্লাগশিপ রেফারেন্সে এনএবি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, নওয়াজ শরীফের সম্পদের বেনামি মালিক তার আরেক ছেলে হাসান নওয়াজ। এনএবি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, ফ্লাগশিপ ইনভেস্টমেন্টস এবং ক্যাপিটাল এফজেডই সহ ১৬টি কোম্পানি ২০০১ সালে সৃষ্টি করেছেন হাসান নওয়াজ। এতে তার বিনিয়োগ ৪২ লাখ দিরহাম। এ মামলায়ও আত্মপক্ষ সমর্থন করেন নি শরীফ। এখানেও তিনি বলেছেন, এসব ব্যবসার মালিক হাসান। ব্যবসায় নওয়াজের কোন কিছুই করার ছিল না।

আদালতে অব্যাহতভাবে অনুপস্থিত হাসান ও হুসেইন। ফলে তাদেরকে আদালত পলাতক হিসেবে ঘোষণা দেয়। সোমবার আদালত যে রায় দিচ্ছে তার অংশ হাসান ও হুসেইন নন। আদালত এদিন শুধু নওয়াজ শরীপের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে।