Monday, April 19, 2010

ঢাকার বাইরে

বাগেরহাটে আন্তজেলা ফুটবল
বাগেরহাট জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত শহীদ শেখ আবু নাসের আন্তজেলা ফুটবলের কালকের খেলায় মাগুরা জেলা দল টাইব্রেকারে (৩-২) হারিয়েছে নড়াইলকে। আগের দিন খুলনা হারায় ঝিনাইদহকে।—বাগেরহাট প্রতিনিধি
কবিরহাটে ফুটবল
কবিরহাটের বাটইয়া দুই তারকা রৌপ্যকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওটারহাট আবাহনী। কাল ফাইনালে তারা মাসুদের দেওয়া একমাত্র গোলে হারিয়েছে সাহেবের হাট একাদশকে (১-০)।

আনসার-ভিডিপির কাছে আবাহনীর হার

মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেটে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল আবাহনী। কাল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনসার-ভিডিপির কাছে ৭৭ রানে হেরে গেছে তারা।
রেশমা আক্তারের ৪৮ রানের সৌজন্যে ৪০ ওভারে ১৬১ রান করেছে আনসার-ভিডিপি। জবাবে পুরো ৪০ ওভার ব্যাট করেও ৭ উইকেট হারিয়ে আবাহনী করেছে ৮৪ রান। মুনতাহা খাতুন সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন। আবাহনীর সুপ্রিয়া দাস ৩১ রানে ৪টি এবং আনসার-ভিডিপির পান্না ঘোষ ১৭ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরা খেলোয়াড় জয়ী দলের রেশমা।

জিতল ম্যানইউ, হেরে গেছে চেলসি

দুই দলের সাফল্যের বিস্তর ব্যবধানের কারণে ম্যানচেস্টার ডার্বিটা আগে যেত নীরবেই। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির সাম্প্রতিক জৌলুশ আর পারফরম্যান্সই এ ম্যাচকেও দিয়েছিল বড় ম্যাচের মর্যাদা। অনেক কথা হয়েছে ম্যাচটি নিয়ে। ম্যান সিটি কোচ রবার্তো মানচিনি তেভেজ-ভরসায় জয়ের কথা বলেছিলেন বড় গলায়। ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন আবার জবাব দিয়েছেন তীক্ষ বাক্যবাণে। এই উত্তাপটা ম্যান সিটির মাঠ ইস্টল্যান্ডেও ছিল। তেভেজ কিছু করতে পারেননি, পারেনি ম্যান সিটি। তাদের ১-০ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকল ম্যানইউ।
টটেনহাম চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেওয়ায় আসলে শিরোপা লড়াইটা আবারও হয়ে গেছে উন্মুক্ত। ম্যানইউ-চেলসি দুটি দলই খেলেছে ৩৫টি করে ম্যাচ। এতে চেলসির ৭৭ পয়েন্ট, ম্যানইউর ৭৬।
ম্যানইউকে শিরোপা লড়াইয়ে রাখলেন আসলে পল স্কোলস। ওয়েইন রুনি, দিমিতার বারবেতভরা যখন ফার্গুসনকে একটি কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিতে ব্যর্থ, তখন ঠিক সময়ে আসল কাজটি করে দিলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। শেষ বাঁশি বাজার কুড়ি সেকেন্ড আগে প্যাট্রিস এভরার ক্রসে মাথা ছুঁয়ে ম্যানইউকে এনে দিলেন জয়। ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন ম্যাচসেরার স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন তাঁকেই, ‘আমি তো ওকেই (স্কোলস) ম্যাচসেরা বলব।’
প্রথমার্ধটা একটু রক্ষণাত্মক খেললেও ইমানুয়েল আদেবায়োর ও কার্লোস তেভেজের নেতৃত্বে ভালো কিছু আক্রমণও করেছে ম্যান সিটি। দ্বিতীয়ার্ধেও জিততে মরিয়া ম্যানইউর সঙ্গে সমানে সমান লড়ে গেছে তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তা হয়নি বলে হতাশার শেষ নেই ম্যান সিটি শিবিরে। ‘আমরা খুব হতাশ, এই পরাজয় আমাদের প্রাপ্য ছিল না। কিন্তু এটাই ফুটবল’—বলেছেন সিটি কোচ মানচিনি।
জয়টা ম্যানইউকে চেলসির সঙ্গে শিরোপা লড়াইয়ে রেখেছে। আর পরাজয়টা ম্যান সিটিকে ফেলে দিয়েছে শঙ্কায়। চার নম্বরে থেকে লিগ শেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়া যাবে? ৩৪ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পঞ্চম স্থানে ম্যান সিটি। সমান ম্যাচ খেলে ২ পয়েন্ট বেশি টটেনহামের। চার নম্বরে এখন তারাই। ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়স্থানে আছে আর্সেনাল।
ওদিকে ১০ জনের জুভেন্টাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরশু সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে ইন্টার মিলান। তবে আজই আবার এএস রোমার কাছে হারাতে পারে তারা শীর্ষস্থান। লািসওকে হারাতে পারলেই এক সপ্তাহ আগে পাওয়া শীর্ষস্থানটা আবার ফিরে পাবে রোমা। কাল পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইন্টার, ৩৩ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট রোমার।

২০১১ বিশ্বকাপে রেফারেল পদ্ধতি

ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বেশ বিতর্ক চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। মাঠের আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার এই ক্ষমতাকে দেখা হচ্ছে প্রযুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটের এগিয়ে চলা হিসেবে। অনেকের মতে ডিআরএসের পক্ষেও নির্ভুল সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আইসিসি বরাবরই রেফারেল পদ্ধতি নামে পরিচিত ডিআরএসের পক্ষে। আগামী ২০১১ বিশ্বকাপ দিয়ে এই পদ্ধতি ওয়ানডেতেও চালু হবে বলে জানা গেছে।
ডিআরএস এত দিন শুধু টেস্টে চালু ছিল। যে পদ্ধতিতে আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক কিংবা ব্যাটিং দলের ব্যাটসম্যানরা তিনটি সফল আবেদন করতে পারেন। পরীক্ষামূলকভাবে যেসব ম্যাচে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব ম্যাচের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আইসিসি এ সম্পর্কে মতামত চেয়েছিল। বেশির ভাগ মতই এই পদ্ধতির পক্ষে এসেছে বলে জানিয়েছে আইসিসি। ভবিষ্যতের সব টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি ওয়ানডেতেও, বিশেষ করে আগামী বিশ্বকাপে ডিআরএস চালুর পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। অবশ্য এও দেখা গেছে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মাত্র ২৬ শতাংশবার সফল হয়েছেন খেলোয়াড়েরা। অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

এদিকে ভালদেস, ওদিকে গোমেজ

ভিক্টর ভালদেসেরই জয় হলো। স্পেনের কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক আভাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপের দলে রাখবেন বার্সেলোনার গোলরক্ষককে।
ভালদেস ২৯-এ পা দিয়েছেন গত জানুয়ারিতে। পেশাদার ফুটবলও খেলছেন ৮ বছর হলো। খেলেন বার্সেলোনার মতো ক্লাবে। বার্সার গত দুই মৌসুমের দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলার অন্যতম কারিগরও তিনি। সেই ভালদেসের এখনো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার সৌভাগ্যই হয়নি!
হবে কী করে, জন্মেছেন যে বড্ড ভুল সময়ে। বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁর। এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক ধরা হয় ক্যাসিয়াসকেই। জাতীয় দলের অধিনায়কও তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই ৪৪ বছর পর ইউরোপ-সেরার ট্রফি জিতেছে স্পেন।
ইদানীং গোলপোস্টের নিচে ক্যাসিয়াসকে মাঝেমধ্যেই নড়বড়ে দেখাচ্ছে। অন্যদিকে দুর্দান্ত ফর্মে ভালদেস। স্প্যানিশ লিগে ৩২ ম্যাচে খেয়েছেন মাত্র ১৯ গোল, বাঁচিয়েছেন ৭৮টি! ১৮টি ম্যাচে কোনো গোলই খাননি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে খেয়েছেন সাত গোল, বাঁচিয়েছেন ১৩টি। স্পেনে, বিশেষ করে বার্সেলোনায় জোর দাবি উঠেছে, বিশ্বকাপের দলে রাখা হোক ভালদেসকে।
অন্য কোনো দল হলে অনায়াসে এক নম্বর জার্সিটা তিনিই পেতেন। কিন্তু স্পেন দলে ক্যাসিয়াসের পাশাপাশি বদলি দুই গোলরক্ষকের জায়গাতেও নাম নেই তাঁর। সেই জায়গা লিভারপুলের হোসে রেইনা আর ভিয়ারিয়ালের ডিয়েগো লোপেজের দখলে। ভালদেসকে দলে না নেওয়ার পেছনে কাতালান বনাম মাদ্রিদের সেই চিরকালীন দ্বন্দ্বের সূত্রও খুঁজে পায় অনেকেই।
বস্কের কাছে এখনো ক্যাসিয়াস অমূল্য সম্পদ। দুই নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে রেইনাও। তবে লোপেজের জায়গায় ভালদেস সুযোগ পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ, ‘রেইনা আর ক্যাসিয়াসকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই দেখি না। তবে লোপেজের বেলায় একই কথা বলছি না আমি, ও খেলছেও খুব কম।’
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে গেলেও হয়তো তিন নম্বর গোলরক্ষকই হতে হবে ভালদেসকে। মাঠে নামবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তার পরও ভালদেসের জয় দেখা হচ্ছে, কারণ তাঁকে অন্তত দলে নেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত তো দিয়েছেন দেল বস্ক। মাস দুই আগেও যেটা ভাবাই যাচ্ছিল না। যদিও বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলার দাবি, এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।
ওদিকে হিউরেলহো গোমেজের ব্যাপারেও একই মত হ্যারি রেডন্যাপের। টটেনহামের কোচ দাবি করেছেন, তাঁর এই ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষককে যেন বিশ্বকাপ দলে নেন কার্লোস দুঙ্গা, ‘গোমেজ দুর্দান্ত গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আশা করি, ও বিশ্বকাপে যাবে। ব্রাজিল দলে জায়গা পাবে।’
শট ঠেকানোর দারুণ দক্ষতার কারণে ‘অক্টোপাস’ নামে পরিচিত গোমেজ এই মৌসুমে টটেনহামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অন্যতম কারিগর। ইন্টার মিলানের হুলিও সিজার, রোমার দোনির পাশাপাশি খুব সম্ভবত জায়গা হচ্ছে তাঁর। তবে ভালদেসের মতোই ‘তিন নম্বর ছাগলছানা’ হয়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হতে পারে তাঁকেও!

তেভেজের কাছে মেসির ঋণ

মেসি...মেসি...মেসি। ফুটবল বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই নাম। গত বছরের ফিফা ও ইউরোপ-সেরা ফুটবলার এ বছরও মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন সমানে। বল নিয়ে কত কিছুই না করেন আর্জেন্টাইন জাদুকর, আর্জেন্টিনা বা বার্সেলোনা সমর্থক হোন বা না হোন, মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে। আর মেসিকে মুগ্ধ করে কে জানেন? ‘এল অ্যাপাচি’—কার্লোস তেভেজ!
‘আমি নিজের মতোই খেলার চেষ্টা করি, তবে যদি ইংল্যান্ডভিত্তিক কোনো ফুটবলারের কথা বলতে হয় তাহলে কার্লিতোসের (তেভেজ) কথা বলতেই হবে। ওর কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি। এমনকি ও যখন আর্জেন্টিনার বেঞ্চে বসে থাকে, তখনো ও সতীর্থদের চিৎকার করে সমানে উৎসাহ দিয়ে যায়। এমন একজনের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে’—দ্য ডেইলি এক্সপ্রেসকে বলেছেন মেসি। তেভেজের কাছ থেকে অনেক শিখেছেন, শুধু এ জন্যই নয়; মেসি বরং বেশি মুগ্ধ মানুষ তেভেজে, ‘সে সব সময়ই বিনয়ী, আর খেলতে না পারলে কখনোই উদ্বিগ্ন হয় না। ও পৃথিবীর সেরা মানুষদের একজন, ওর চেয়ে ভালো মানুষের দেখা আপনি কখনোই পাবেন না। ওর মেয়ের সঙ্গে যদি ওকে দেখেন, দিব্যি করে বলছি আপনার হূদয় ছুঁয়ে যাবেই। মেয়েকে ও প্রতিটি মুহূর্তে অনুসরণ করে, মেয়ের জন্য ও সবকিছুই করতে পারে।’
দুদিন আগেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছেন, তেভেজকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর। তবে মেসি মনে করেন, ম্যানইউ বড় একটা ভুলই করেছে, ‘এই মৌসুমেই মেসি প্রমাণ করেছে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও দেখিয়েছে ওরা ওকে কতটা মিস করছে। ও দারুণ একজন মানুষ। তাই এমন একটা ক্লাবেই ওর থাকা উচিত যেখানে ও প্রাপ্য সম্মানটা পায়।

আকরামকে বিঁধলেন ওয়ার্ন

শেন ওয়ার্নকে কেউ কিছু বলে সহজে পার পেতে পারেন না। ওয়াসিম আকরামও পাচ্ছেন না। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক অবশ্য সরাসরি ওয়ার্নকে কিছু বলেননি। রাজস্থান, আহমেদাবাদ ও মুম্বাইয়ের ম্যাচগুলোয় শেষের ওভারগুলোতে লাল মাটি ব্যবহার করে বল বিকৃত করছে বোলাররা—এমন অভিযোগ করেছিলেন আকরাম। ব্যাপারটা সহজভাবে নিতে পারেননি রাজস্থান রয়্যালসের কোচ ও অধিনায়ক ওয়ার্ন। অভিযোগ অস্বীকার করে দিয়েছেন পাল্টা জবাব।
‘আমি জানি না, বল টেম্পারিংয়ের কথা আমি প্রথম শুনছি...আমার মনে হয় ওয়াসিম আমার চেয়ে একটু বেশিই জানে...হয়তো সে এ ব্যাপারে দক্ষ, আমি তো একটুও নই। আমার কোনো ধারণাই নেই। আকরামকে জিজ্ঞেস করতে হবে, হয়তো সে আমাকে সাহায্য করতে পারে’—কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইডেন গার্ডেনে সাংবাদিকদের বলেছেন ওয়ার্ন। সাবেক অস্ট্রেলিয়া লেগ স্পিনারের ইঙ্গিতটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আকরামসহ পাকিস্তানি পেসারদের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ বহু পুরোনো। আকারে-ইঙ্গিতে ওয়ার্ন বোঝাতে চেয়েছেন সেটিকেই।
এমনও হতে পারে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কালকেই শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন ওয়ার্ন। নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জিততে পারেনি ওয়ার্নের দল, আইপিলের সেমিফানালে আর যাওয়া হচ্ছে না রাজস্থানের। আগামী সেপ্টেম্বরে ৪২-এ পা দিতে যাওয়া ক্রিকেট বলতে এখন শুধু আইপিএলটাই খেলছেন ৭০৮টি টেস্ট উইকেটশিকারি বোলার। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তাঁর তিন বছরের চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে এ বছরই। আগামী আইপিএলে খেলার ব্যাপারে নিশ্চিত নন ওয়ার্ন নিজেই।
চল্লিশে এসেও টি-টোয়েন্টিটা দারুণ উপভোগ করেছেন ওয়ার্ন, জানিয়েছেন শুরুতে একটু সমস্যা হলেও মানিয়ে নিয়েছেন খুব দ্রুতই। ভীষণ গর্বিত তরুণদের গড়ে তুলতে পেরে আর দিকনির্দেশনা দিতে পেরে। তবে এই ‘বুড়ো’ বয়সে খেলার একটা যন্ত্রণাও উপলব্ধি করেছেন, ‘যখন আপনি ভালো করবেন সবাই বলবে সেরা রূপে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু পরের ম্যাচেই আবার খারাপ করলে বলবে ফুরিয়ে গেছেন। ’
তাঁর কোচিং ও অধিনায়কত্বেই গড়পড়তা দল নিয়েও প্রথম আইপিএলে সবাইকে চমকে শিরোপা জিতে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। তবে কোচের প্রায়োজন খুব একটা নেই বলে ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় যে ধারণা পোষণ করে এসেছেন, সেই ভাবনায় পরিবর্তন আসেনি একটুও, ‘আমি বিশ্বাস করি, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে অধিনায়ক, আর কোচ ও ম্যানেজার থাকবেন পেছনে। কোচের মূল কাজ খেলোয়াড়দের মনস্তত্ব বোঝা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের সেরাটা বের করে নিয়ে আসা। কোচের কাজ কোচিংয়ের চেয়ে বেশি হবে ব্যবস্থাপক ধরনের।’

একজন আশাবাদী মানুষ by মোশারফ হোসেন

১৮ এপ্রিল ড. গোলাম মহিউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী। গোলাম মহিউদ্দিন সম্পর্কে লিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছি। অল্প কথায় লিখতে গেলে বলতে হয়, সে ভালো লোক ছিল। এতে মনে হয় বেঠিক বলা হলো না, কিন্তু ঠিক বলাও হলো না। আবার মনের মধ্যে যে বর্ণনা আছে তা প্রকাশ করতে গেলে এত লিখতে হয় যে পাঠক পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই এখানে যা লিখলাম তা আবার বলার সবটুকু নয়।
মহিউদ্দিনকে (লৌকিকতা বজায় রাখলে আবার মনে হয়, আন্তরিকতার অভাব ঘটে গেল। তাই আমি যেভাবে গোলাম মহিউদ্দিনকে ডাকতাম, সেভাবে তাকে রাখতে চাই বলে মহিউদ্দিন বলছি) ছাত্রাবস্থায় চতুর্থ বছরে পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন মনে করি (হবু শিক্ষকদের এই সময় লক্ষ করতাম)। মহিউদ্দিন কথায় পটু ও তার গলার স্বর উঁচু—দুটোই আমার দরকার; তবে মনে হলো (যদিও যুগ হিসেবে ঠিক ছিল) একটু ‘ফাস্ট’। আমি তো সেকেলের ‘স্লো’ রয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নিতে বাধা হলো পদের সংখ্যা। তখন এত স্বাধীনতা ছিল না যে পদ খালি না থাকলেও শিক্ষক নেওয়া যেত। এ ব্যাপারে মহিউদ্দিনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে এবং পরে দেখা যাবে। সে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বুয়েট) ভর্তি হয়েছিল। এই হলো গোড়ার দিকের কথা। বুয়েটের বাইরে চাকরি করার সময়ও আমার সঙ্গে আলাপ হতো। দেশের নানা বিষয় নিয়ে এবং ওর বিভাগ সম্পর্কে। এই যে মানসিক মুক্তি তার মধ্যে ছিল, তা থেকেই মানুষ হিসেবে তার গভীরতা বোঝা যায়। পরবর্তী সময়ে পিএইচডিতে ভর্তির কথা বলে এবং বিভাগে শিক্ষক হিসেবেও যোগদান করে। শিক্ষকতা করতে গেলে পিএইচডি লাগে। মহিউদ্দিনের বয়স হয়ে যাচ্ছিল এবং সে কাজকর্মে এবং অন্যান্যভাবে এত জড়িয়ে ছিল যে আমি মনে করেছিলাম, ওকে এখানেই পিএইচডি করতে হবে। বাইরে যাওয়াও কঠিন ছিল এবং আমরাও পিএইচডি ছাত্র পাব। তার ব্যস্ততার মধ্যে অনেক কিছু ছিল, যা আমার অগ্রাধিকারে আসেনি। কিন্তু সে তার কাজের পরিসর অনেক বড় করে নিয়েছিল। অনেকে তা পারে না। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ কোর্স, আইইবিতে সেমিনার ইত্যাদির মধ্যে নিজেকে অনেক বেশি ব্যস্ত রাখত বলে দু-একবার আমি আমার জন্য স্বার্থপর হয়ে তাকে নিজের কাজে মন দিতে বলেছি।
এরপর শেষের দিকের কথা। আইইবিতে তার অবদান অনেক। বিভিন্ন বিভাগওয়ারি কার্যক্রম আরম্ভ করা, অ্যানুয়াল পেপার মিট (এপিএম) চালু করা, আয়োজন করা, আইইবির সাংগঠনিক কাজ ইত্যাদি আমার নজরে এসেছে। কী করে সামাল দিত আমি বুঝে উঠতে পারতাম না। আইইবি মনে হয় তার দ্বিতীয় বাড়ি ছিল, আর প্রথম বাড়ি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। নিজের বাসা তো ‘বাসা’ ছিল না। ইদানীং সে আইইবির জন্য পি. ইঞ্জিনিয়ারিং, স্টাফ কলেজ, অ্যাক্রিডিটেশনের মধ্যে ব্যস্ত ছিল। যেহেতু আমার ও মহিউদ্দিনের অসুখ এক রকম ছিল, সুতরাং তার সঙ্গে এ ব্যাপারে অনেক আলাপ হয়েছে। সব সময় মনে হয়েছে যে সে আশাবাদী। হার মানার লোক নয় সে। মুম্বাইয়ে যাওয়া, খাওয়াদাওয়া ও চিকিৎসা সম্পর্কে আমি তার সঙ্গে অনেক আলাপ করেছি। সিঙ্গাপুরে যাওয়া নিয়েও আমরা এবং সিঙ্গাপুরের লোকেরা, বুয়েটের লোকেরা, ওর বিভাগ, ওর ব্যাচের বন্ধুরা, আইইবি এবং সর্বস্তরের লোক যেভাবে ব্যস্ত ছিল তা মহিউদ্দিনের কাজ, ব্যবহার, মূল্যবোধেরই প্রমাণ। মহিউদ্দিন তো নিজেকে সবার মধ্যে হারিয়ে ফেলেছিল। আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও আমি তার কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ; কারণ সে ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকাডেমিক) হিসেবে চিঠি দিয়েছিল যে আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সদস্য হতে পারবে।
ওই সময় বিষয়টি আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য খুবই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকৌশল ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষায়তন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
শেষ করতে চাই না, তাও শেষ করতে হয়। তার শেষ দিনগুলোতে সে ব্যস্ত থেকে ভুলতে চেয়েছিল তার অসুস্থতাকে। জীবনকে জয় করে নিয়েছে। হতাশা দেখায়নি। কতবার বলেছি যে কাজ কমিয়ে দাও। উত্তর পাই, ‘না স্যার, আমি ভালো আছি এবং অফিসে যাই। আমি শিক্ষকতা করাকে সাদকায়ে জারিয়া মনে করি।’ তাই তার অবদান তার ছাত্র, শিক্ষক, আইইবির প্রকৌশলীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে বলে আশা করি।

ক্যাম্পাস হত্যার বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠান by মিজানুর রহমান খান

লাল বাতি জ্বলে, কিন্তু গাড়ি চলে। সবুজ বাতি জ্বলে, গাড়ির চাকা বন্ধ থাকে। রাজধানীতে এ দৃশ্য চিরচেনা হয়ে উঠেছে। এখন রাজনীতিতেও খটকা চলছে। এ থেকে আমরা আসলে এক সংকেত-অসংবেদনশীল জাতিতে পরিণত হচ্ছি। এটা এক ধরনের বিকার বটে।
ছাত্রলীগের বেপরোয়া সন্ত্রাস বন্ধে সরকারি দলের অব্যাহত কঠোর হুঁশিয়ারিও এক ধরনের বৈকল্য। আপাত মনে হয় ভালোই তো। সরকারি দল কত নিরপেক্ষ। কত উদার। আমাদের শাসকদের দিল কত নরম। তারা কত উত্তম সরকার। আসলে তা কোনোটিই নয়। আমাদের বিরোধী দল মানে বিএনপি-জামায়াত এখন ছাত্রলীগের হানাহানি ও রক্তপাত উপভোগ করছে। তারা এক ধরনের অমানবিক মজা পাচ্ছে। তারা একটি বিষয়ে সতর্ক। ক্যাম্পাস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তারা করবে না। ক্যাম্পাসের রক্তগঙ্গা, সহিংসতার বিষয়ে কোনো তদন্তও তাদের চিন্তার অতীত।
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ভাষণ দিচ্ছেন দেশের সরকারপ্রধান। এর ফলে আইনের চেতনা নস্যাত্ হচ্ছে। অথচ অনেকে এমন ভাষণ শুনে তাঁকে বাহবা দিচ্ছে। আমাদের গণমাধ্যমেও তা ইতিবাচকভাবেই ছাপা হচ্ছে। এটাও একটা বিকৃতি। আমরা বিকৃতি-বৃত্তে বন্দী।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতে ১৫৩খ নামে একটি ধারা আছে। এখন এটা প্রয়োগের সময়। কেউ এর প্রয়োজনীয়তা বা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তাহলে জবাব হবে, এটা অবৈধ হলে সংসদে বিল আনতে হবে। সংশোধনী আনতে হবে। আইন রেখে আইন ভাঙা যাবে না। রাজনীতির অপরাধকরণ তো ঘটেছেই। এখন ব্যাপকতা বাড়ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। ছাত্রলীগের ছেলেরা খুন হচ্ছে। কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মেয়াদ বাড়ছে। অথচ নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের অভিভাবকেরা অসহায় ও বিপন্ন বোধ করছেন। তাঁরা বড় গলায় বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তাঁদের কেউ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। যে বাবা-মায়ের বুক খালি, ক্ষতি শুধু তাঁদেরই। ছাত্রশিবির রগ কাটে। এই সন্ত্রাস অতীব দানবীয়। কিন্তু কেউ বলবে না, ছাত্রশিবির কর্মী খুন হলে তার বিচার লাগবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র খুনের মূল আসামি এখন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক। তিনি সাবেক জাসদ-ছাত্রলীগ নেতা। গত সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের টিকিটপ্রার্থী ছিলেন। পাননি। তাঁকে বিচারক করা হবে। তাই আসামি হিসেবে তাঁর নাম প্রত্যাহার করা হলো। অথচ অনেক আগেই সেই মামলার দ্রুত বিচার অনুষ্ঠান সম্ভব ছিল।
ছাত্ররাজনীতি এখন অনেকের কাছে ওপরে ওঠার সিঁড়ি। আমাদের রাজনীতিটা পেশিশক্তিনির্ভর। আর এই পেশির চৌকস জোগানদাতা ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের দিকে তাই অনেকের শকুনের চোখ। ১৯৮৮-তে ছাত্রশিবির কর্মী খুনের ওই মামলায় অভিযোগ গঠিত হয়েছিল। সেই মামলা থেকে নির্বাচিত কতিপয় নাম তুলল সরকার। তৈরি করল নতুন দৃষ্টান্ত। সেই সঙ্গে একটি বার্তা পৌঁছাল। সেই বার্তার ভাষা বোধগম্য।
ছাত্রলীগ কর্মীর খুনের বিচার এখন কী কারণে হয় না? যে কারণে ছাত্রশিবির কর্মীর হত্যার বিচার হয় না। অন্যান্য ক্যাম্পাস-নাশকতার বিচার হয় না। জাহাঙ্গীরনগরের সেই অস্ত্রধারী মাস্তান ফুরফুরে মেজাজে থাকে। বুঝতে হবে, এসব কারণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর কারণ কালোত্তীর্ণ। ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রলীগ কিংবা প্রতিপক্ষের হাতে প্রতিপক্ষ হত্যা ও তার বিচার না হওয়া একই সূত্রে গাঁথা।
দণ্ডবিধির ১৫৩খ ধারার শিরোনাম বড় স্পষ্ট। বড় দল। বড় নেতা। বড় ওষুধ। এর শিরোনাম ‘রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রগণকে প্ররোচিত করা’। এই ধারায় বলা আছে, ‘যে ব্যক্তি কথিত বা লিখিত শব্দাবলীর সাহায্যে বা সংকেতসমূহের বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তিসমূহের সাহায্যে বা প্রকারান্তরে যে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী শ্রেণী বা ছাত্রদের ব্যাপারে আগ্রহশীল বা তাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য প্ররোচিত করে বা প্ররোচিত করার উদ্যোগ করে যা গণশৃংখলা নষ্ট বা খর্ব করে, অথবা যার গণশৃংখলা নষ্ট বা খর্ব করার সম্ভাবনা রয়েছে—সে ব্যক্তি কারাদণ্ডে, যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।’
আমাদের নেতারা ছাত্রদের ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোনো ধরনের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের দলে রাখা হবে না।’ কিন্তু ছাত্রদের তাঁরা দলে রাখার কথা বলেন প্রকাশ্যেই। অথচ আইনবলে ছাত্রদের তাঁরা দলে টানতে পারেন না। ছাত্রদের দলীয় কাজে ব্যবহার বেআইনি।
ছাত্র অপরাধীদের বিচার না করাও বেআইনি। যে ছাত্রটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় টেন্ডারবাজ, সে কিন্তু শিক্ষক-সহপাঠীর সঙ্গে মেশে। শ্রেণীকক্ষে বসে। সহজে কল্পনা করা চলে, শ্রেণীকক্ষে টেন্ডারবাজের উদ্ধত উপস্থিতি। সবার জন্য অস্বস্তিকর। টেন্ডারবাজের ছাতি ফোলা থাকে। চলাফেরায় থাকে উগ্রতা। টেন্ডারবাজ পড়াশোনার পরিবেশ দূষিত করে। তার স্পর্ধায় শিক্ষক মর্মযাতনায় ভোগেন। আত্মসম্মানের ভয়ে প্রায়ই তা চেপে যান।
প্রধানমন্ত্রী-বর্ণিত টেন্ডারবাজের পুঁজি কী? পেশি। ফোলায় কে? নেতা। কীভাবে? ফুঁ দিয়ে। এর প্রমাণ থাকে না। টেন্ডারবাজি ৫০৬ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। টেন্ডারবাজ সামলানো পুলিশের রুটিন কাজ। তারা রুটিন মামলা করতে পারে। পুলিশ সেই কাজ করতে অক্ষম। কেন অক্ষম? বিষয়টি মোটেই লুকোছাপার ব্যাপার নয়। সোজা উত্তর, পুলিশ ওপরের হুকুম পায়। গায়েবি হুকুম। প্রকাশ্য হুকুমও আছে। তাই বলি, পুলিশকে কাজ করতে দিন।
সম্পাদকেরা বাসি খবর ছাপেন না। সম্পাদক মতিউর রহমান তা ছাপেন। একই শিরোনাম দুবার ছাপালেন, ‘ছাত্রলীগকে সামলান’। হলফ করে বলতে পারি, তিনি এমন সুযোগ আরও পাবেন। এ দেশে সব খবর বাসি হয় না। সব সময় তরতাজা থাকে। এটা তেমন এক জাতের খবর।
আমি বলব, ছাত্রলীগকে সামলাতে হবে না। নির্বাহী ক্ষমতার মালিক প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের সেই বলদর্পী প্রধানমন্ত্রীকে সামলান। ছাত্রলীগ সামলে যাবে। আরও অনেক কিছু সামলানো হবে। সেটা তো অসম্ভব, তাই তো? বেশ কথা। তাহলে অন্তত পুলিশের কাজ পুলিশকে করতে দিন।
পুলিশকে ‘কঠোর নির্দেশ’ প্রদান বন্ধ করুন। পুলিশকে ‘কড়া হুঁশিয়ারি’ দেবেন না। এটা একটা ঠাট্টা। সস্তা, কিন্তু নিষ্ঠুর। এমন কাজ ছাত্রলীগ নেতারাও করেন। তাঁরা বলেন, ‘সন্ত্রাসী যে-ই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তার মানে বোঝাই যাচ্ছে ছাড়পত্রটা কোথায়? ছাত্র নষ্ট হতে পারে। আপেলে পোকা থাকবেই। তাই নষ্ট পুলিশও মিলবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইন। এবং সেটা পুলিশেরই কাজ। এটা কারও হুকুমের অপেক্ষায় থাকার নয়। নষ্ট ছাত্র তার দুষ্কর্মের জন্য আইনের কোপানলে পড়বে। অন্যরা তা দেখবে। নিজেদের শোধরাবে। সেই স্বাভাবিক নিয়মরীতি একদম অনুপস্থিত। তাই ক্যাম্পাসে সহিংসতার শেকড় গেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি ঠুঁটো জগন্নাথ। দলের লেজুড়বৃত্তি আর ভিসিগিরি-প্রভোস্টগিরি কখনো সমার্থক। একটি গোষ্ঠী মওকার অপেক্ষায় থাকে। তারা স্বায়ত্তশাসন গেল গেল বলে চিল্লায়। কিন্তু ক্যাম্পাসে লাশ পড়লেও তারা শাসন করে না। শাসন কী জিনিস, বুঝতেই চায় না। তাই প্রশ্ন হলো, কুঁজো তো কুঁজোই। তার আবার চিত হওয়া না-হওয়া নিয়ে চিন্তা কেন। কিন্তু আমরা বাস্তবে তা-ই দেখি। কুঁজোর চিত হওয়ার শখ দেখি। তারা বিচার চায় না। কিন্তু হঠাৎ সহিংসতার বিনাশ চায়। সরকারি দলের শাসন চেয়ে গলা ফাটায়। ক্যাম্পাসে আকসার মরামরি হয়। খুনখারাবি হয়। উদ্যত পিস্তল কিংবা কিরিচ হাতে ছাত্রের ছবি তো কম ছাপা হলো না। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরতে পারে না। পুলিশের এসব দেখে নিশ্চয় কান্না পায়। কিন্তু সেই কান্না কেউ শোনে না। ভিসিরা দম দেওয়া পুতুলের মতো আচরণ করেন। কখনো ইস্তফা দেন না। তাঁদের অনুমতি ছাড়া পুলিশ হলে ঢুকতে পারে না। ঢুকলে তাদের অপমান হয়। স্বায়ত্তশাসন বিস্বাদ ঠেকে।
ছাত্রনেতা ছাত্র-অপরাধী হলেই দায়মুক্তি। এটাই ক্যাম্পাস-সংস্কৃতি। ১৫৩খ ধারার বাক্য গঠন পরিষ্কার। নেতাদের লক্ষ্যে পরিচালিত। নেতারাই কোমলমতি ছাত্রদের ‘রাজনৈতিক কার্যকলাপে’ লিপ্ত হতে প্ররোচনা দেন।
তবে তর্কের খাতিরে বলি, দণ্ডবিধিতে আরও অনেক ধারা আছে, যার আওতায় ক্যাম্পাসও পড়ে। এই যুক্তিটা দিই এক বিশেষ কারণে। সমাজে একদল লোক আছে। যারা বিরাজনৈতিকীকরণের তত্ত্ব নিয়ে হাজির হবে। তারা প্রায় অন্ধ। তারা কোনটা রাজনীতি আর কোনটা দুর্বৃত্তায়ন তা আলাদা করতে পারে না। তারা তারস্বরে চিৎকার করবে। তর্ক তুলবে ছাত্ররাজনীতি ভালো না মন্দ। এ আরেক জ্বালা। এ ধরনের অনভিপ্রেত বিতর্ক বন্ধ করা কঠিন। এর জন্য বিকল্প দাওয়াই। মাফ চাই, ভাই। তওবা নাক খপ্তা। ১৫৩খ-এর তলায় আর যদি যাই। তবে এও বলি, যে আইন মানা যাবে না, সেই আইন রাখা কেন? আইন রেখে আইন ভাঙা ভারি মজার বলেই?
তাহলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সম্পর্ক যেমন আছে তেমনই থাকুক! অঙ্গসংগঠনও যা, সহযোগী সংগঠনও তা। কূটতর্ক বৃথা। পানিতে পানি থাক। দণ্ডবিধিতে আরও ধারা আছে। এসব বিধান ব্রিটিশদের করা। ক্যাম্পাসে ছাত্র খুন হলে, কেউ মাস্তানি করে বেড়ালে দায়মুক্তির কোনো বিধান আইনে নেই। যে যাকে যে কারণে মারুক-ধরুক, আইনে শাস্তির বিধান আছে। ক্যাম্পাসে গন্ডা চারেক অপরাধ ঘটছে হামেশা। মারামারি, দখল, টেন্ডারবাজি ও খুন। বহিরাগত মাস্তানদের সঙ্গে তাদের অনেকের আঁতাত আছে। অবৈধ অস্ত্রের জোগান আছে।
কেউ ভয় দেখালে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা প্রযোজ্য। ক্যাম্পাসে এই ভয় দেখানোটা সবচেয়ে মামুলি ব্যাপার। এটা প্রায় অধিকার বলে গণ্য হচ্ছে। এই শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। ফৌজদারি অপরাধ করলে সতর্ক করার বিধান আইনে নেই। আবার তারা কী মর্যাদাবান! কী ভাগ্য তাদের! পাতিমন্ত্রীরা সতর্ক করেন না। অত মুরোদ তাঁদের নেই। ছোট মুখে বড় কথা তাঁদের সাজে না। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদকের নিচে কেউ তাদের সতর্ক করতে পারে না। ক্যাম্পাসে কুশীলবদের উঁচু মর্যাদা।
যুগান্তর ও সমকাল অভিন্ন শিরোনাম করেছিল সম্প্রতি। ‘ছাত্রলীগের কারণে সব অর্জন বিসর্জন দেওয়া যাবে না’। যুগান্তর-এর বিবরণ থেকে দেখা যায়, শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সব অর্জন ছাত্রলীগের কারণে বিসর্জন দেয়া যাবে না। আদু ভাই দিয়ে ছাত্রলীগ চলবে না। ছাত্ররাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করবে। ছাত্রলীগ থেকে আংকেলদের সরে যেতে হবে। ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিদিনের পত্রপত্রিকায় যেসব সংবাদ দেখি, আর এ রকম সংবাদ দেখতে চাই না। দল ভারী করার জন্য দলে সন্ত্রাসী ঢোকানো যাবে না। সুবিধাভোগীদের চিনতে হবে।’
পক্ষকালের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে সিলেটে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ ছাত্রলীগকে সতর্ক করে দেন। এই সতর্কীকরণ মোটামুটি একটা রুটিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু দলে ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়া সন্ত্রাসীদের রোখা যাবে কীভাবে?
ক্যাম্পাসে গত সোয়া বছরে প্রায় ৫০টি সংঘর্ষ হয়েছে। শান্ত আবহাওয়ায় এত বড় দুর্যোগ বিরল। এর কারণ ও প্রতিকার নির্ধারণে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন করা হোক। এর প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ করতে হবে। একই সময়ে ক্যাম্পাসে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হোক। সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচার মিলবে। এই আইনের মেয়াদ সম্প্রতি দুই বছর বাড়ল। এই বিচারটা করলে মেয়াদ বৃদ্ধির একটা বড় তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যাবে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর বাবা-মায়েরা সান্ত্বনা পাবেন। সরকারের ভাবমূর্তি খুবই উজ্জ্বল হবে! ছাত্ররা টের পাবে, দিন বদলাচ্ছে! আমরা সাম্প্রতিক খুনখারাবির বিচার পেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ বছরে ৭৪টি খুনের মামলার বিচারেও হয়তো ঈষত্ আশাবাদী হতে পারব।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

জারদারি, নায়ক না খলনায়ক -রক্ত ও তরবারির গান by ফাতিমা ভুট্টো

নিউইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টার জন বার্নস তাঁর ‘হাউস অব গ্রাফট’ নিবন্ধে আসিফ জারদারির দুর্নীতি উন্মোচন করেছেন। তাঁরা (জারদারি ও বেনজির) ইংল্যান্ডে একটি বিশাল এস্টেট কিনেছেন, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ ডলার। জারদারি-বেনজির দম্পতি অবশ্য বাড়ি কেনার কথা অস্বীকার করেছেন। যদিও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বাড়ির বিভিন্ন শিল্পকর্ম পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছেন, তাঁরা এগুলোকেও ওই দম্পতির জন্য উপহার বলে জানিয়েছেন। যখন ইংল্যান্ডের আদালত বাড়িটি বিক্রি করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন এবং এর কাগজপত্র পাকিস্তান সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন, তখন জারদারি বলেছিলেন, প্রকৃত মালিক হিসেবে তাঁর কাছেই সেগুলো পাঠাতে হবে।
বার্নসের অভিযোগ, ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে জারদারি নাবটিয়ার ও বুলগেজি সোনার দোকানে পাঁচ লাখেরও বেশি ডলার ব্যয় করেছেন। কিন্তু ওটা নিছক কেনাকাটা নয়। ওই দম্পতি কমিশন-বাণিজ্য ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কাজের লেনদেনেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৫ সালে একজন ফরাসি সামরিক ঠিকাদার বিলিয়ন ডলার মূল্যের জঙ্গি বিমানের চুক্তির জন্য জারদারি ও একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন, যদিও সেটি ফলপ্রসূ হয়নি।
বেনজির দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর সুইস ব্যাংকার ক্যাপরিকন ট্রেডিং নামের একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন; যার সিংহ ভাগ মালিকানা ছিল জারদারির।
বার্নসের নিবন্ধ অনুযায়ী, নয় মাস পরে ক্যাপরিকন ট্রেডিংয়ের নামে সিটি ব্যাংকের দুবাই অফিসে একটি হিসাব খোলা হয়। সেদিনই দুবাইভিত্তিক পাকিস্তানি ট্রেডিং কোম্পানি এআরআই ৫০ লাখ ডলার সেখানে জমা রাখে। দুই সপ্তাহ পর এআরআই একই হিসাবে আরও ৫০ লাখ ডলার জমা দেয়।
দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় জমতে থাকে। পোলিশ ট্রাকটর কেনার জন্য আরেকটি সমঝোতা হয়, যার বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য উেকাচ দেওয়া হয় এবং সেই অর্থে স্পেনে সম্পত্তি কেনা হয়। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে খাদ্যের বিনিময়ে তেলচুক্তি হয় ২০ লাখ ডলার কমিশনে। বিবিসির সাংবাদিক ওয়েন বেনার জোনসের অনুসন্ধানে খাদ্যের বিনিময়ে তেল কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটিত হয় এবং তা ২০০৭ সালের অক্টোবরে প্রচারও করা হয়।
বেনজিরের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি হোসেন হাক্কানি বলেছেন, তাঁর এককালীন বস (বেনজির) ভুট্টো পরিবার ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। বেনজির মনে করতেন, তিনিই পাকিস্তান এবং তাঁর যা খুশি তা করতে পারেন। হাক্কানি বর্তমানে ওয়াশিংটনে জারদারির রাষ্ট্রদূত। কিন্তু চূড়ান্তভাবে এ দম্পতি ধরা খায় এসজিএস/কোটেরিনা মামলায়, যাতে সুইস আদালত জারদারিকে কারাদণ্ড দেন। একটি সুইস কোম্পানিকে একটি সরকারি শুল্ক চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য আনুমানিক এক কোটি ৫০ লাখ ডলার নিয়েছিলেন।
১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মের কোনো এক সময়ে, দুর্নীতি ও হত্যা মামলায় জারদারি যখন দ্বিতীয়বারের মতো জেলে ছিলেন, বেনজির কেনাকাটা করতে যান লন্ডনে। বন্ড স্ট্রিটের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে তিনি এক লাখ ৯০ হাজার ডলার মূল্যের একটি নীলমণি ও হিরার অলংকার কেনেন। এক বছর পর সেই হার সুইস আদালত জব্দ করেন। ২০০৩ সালে সুইস আদালতের রায়ে বেনজির ও জারদারি দুজনই দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তাঁদের ভাবমূর্তির যা ক্ষতি হওয়ার তা আগেই হয়ে গেছে।
২০০৭ সালে স্বৈরশাসক জেনারেল মোশাররফের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সমঝোতা অধ্যাদেশ বিল পাসের মাধ্যমে রাজনীতিক, আমলা ও ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে ২০ বছরের পুরোনো দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এসজিএস/কোটেরিনা মামলাটি সুইস আদালতে স্থগিত আছে। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জারদারি জনসমক্ষে ঘোষণা দেন, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ হবে ১৮০ কোটি ডলার; যার একাংশ তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাষ্ট্র থেকে চুরি করেছেন।
এপ্রিল ২০০৯
আমি যখন এই বই শেষ করলাম, তখন মনে হলো আমার চারপাশের পৃথিবী ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি আমার বাবার মৃত্যু নিয়ে লিখেছি। আমি উপলব্ধি করছি অনুরূপ বিপদের কথা, আমরা নিরাপদ নই। সাত মাস আগে আমি ব্যাগ গুছিয়ে ফেলি এবং ভাইকে বাইরের একটি দেশে রেখে আসার জন্য যাই।
জুলফি (জুলফিকার আলী জুনিয়র) করাচিতে আমাদের বাড়ির কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে এ লেভেলে পড়া শুরু করেছিল। তার কিছু বন্ধুও সেখানে পড়ছে। ২০০৮-এর শরতে জুলফি ১৮ বছরে পা দিয়েছে মাত্র। এবং বাবার হত্যা মামলা থেকে আসিফ জারদারি নিজেকে দায়মুক্ত করার পর আমাদের পরিস্থিতি কী হতে পারে, সে সম্পর্কে সে সজাগ ছিল। সে এ ব্যাপারেও সজাগ ছিল, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কারণে দেশের ভেতরে আমরা নিরাপদ নই।
জারদারি যখন নিজেকে পিপলস পার্টির সর্বসম্মত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নিলেন, তখন আমরা জানতাম ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থানে কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারবে না। কোনো কিছুই তাঁকে পিছু হটাতে পারবে না। সব অসুবিধা সত্ত্বেও তিনিই পাকিস্তান শাসন করতে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বেনজির খুন হওয়ার পর থেকে আমাদের এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ভুট্টো পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হওয়ায় আমরা তাঁকে (জুলফি) লক্ষ্যবস্তু করার ঝুঁকি নিতে পারলাম না।
আমরা এমন দেশে বাস করছি না, যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে; আমরা এমন দেশে বাস করছি না, যেখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন। সহিংস ও প্রতিশোধপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো রক্ষাকবচ নেই। আমরা বিদেশের কোনো বোর্ডিং স্কুলে তাকে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করলাম। কিন্তু এও জানতাম যে, সেটি খুব সহজ হবে না। আমার চেয়ে আট বছরের ছোট জুলফি সব সময় ছোট্ট পরিবারটির সঙ্গে ছিল। (শেষ)
গ্রন্থনা ও ভাষান্তর: সোহরাব হাসান।

ভোলা উপনির্বাচন

প্রথম খুনটি হওয়ার পর ঘটনাটিকে দেখা হলো ‘ছাত্র খুন’ হিসেবে। দ্বিতীয় খুনের শিরোনাম হলো ‘আবার খুন’, এখন তৃতীয় খুনের ঘটনার পর লেখা হলো, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র খুন’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মাসের মধ্যে তিনজন ছাত্র খুন হওয়ার ঘটনাটিকে সন্ত্রাসকবলিত শিক্ষাঙ্গনের নিয়মিত সন্ত্রাস-হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে ভাবার উপায় নেই। একের পর এক হত্যাকাণ্ড কেন এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পর্যুদস্ত করে তুলছে, তার কারণ জানা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তরোত্তর সন্ত্রাসের আখড়া হয়ে উঠেছে। এমন মাস নেই, যখন কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও নিহত হচ্ছে না। দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে রক্ত যেমন ঝরছে, প্রাণও ঝরছে তেমনি। এর মধ্যে এক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই দুই মাসে তিন ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা সবাইকেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে। এ রকম ঘটনা শিক্ষাঙ্গনকে কেবল ভীত-বিহ্বলই করে তোলে না, এর ফলে অভিভাবকদেরও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে গিয়ে ছাত্র বা ছাত্রী জীবন নিয়ে ফিরতে পারবে কি না, সেই নিশ্চয়তাও নেই। এর থেকে খারাপ পরিস্থিতি আর কী হতে পারে!
নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার সোয়া এক বছরে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কিংবা তাদের হাতে ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যেও তারাই বেশি। আবার এটাও সত্যি তাদের কোন্দল ও সন্ত্রাসের কারণেই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে। সুতরাং উচ্চপর্যায় থেকে ছাত্রলীগকে সতর্ক করেও ফল না পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রহস্যময় হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর তিন ছাত্র খুন হওয়ার ঘটনা। এর পেছনে কোনো গভীর কারণ রয়েছে কি না, জড়িত রয়েছে কি না কোনো আড়ালের শক্তি, তা উদ্ঘাটন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে সবার জন্য নিরাপদ করার মুখ্য দায়িত্ব তাদেরই। এ কাজে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
ওই তিনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মনে আশ্বাস জাগাতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করায় সরকারের অঙ্গীকারেরও মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারি তর্জন-গর্জন যতটা মুখে, কাজে ততটা নয়। তাদের এখন করে দেখাতে হবে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারাই থাকুক, তাদের শাস্তি হবে এবং সরকারি ক্ষমতা বা দলীয় দাপটের কোনোরকম আশ্রয়-প্রশ্রয় খুনিরা পাবে না।

ক্ষমতা সুসংহত করা শুরু করেছে কিরগিজস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার

কিরগিজস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিয়েভের ছোট ভাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর শীর্ষস্থানীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এদিকে প্রচণ্ড গণরোষের মুখে প্রতিবেশী কাজাখস্তানে পালিয়ে যান বাকিয়েভ। সেখানে যাওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের কবল থেকে কিরগিজস্তানকে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও কাজাখস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে শনিবার বাকিয়েভ ক্ষমতা ছেড়ে দেন। কাজাখস্তান থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছেন, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, তিনি বেলারুশ বা তুরস্কে যেতে পারেন। বেলারুশ ইতিমধ্যে তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে কিরগিজস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি যেখানেই যান না কেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে। এএফপি, রয়টার্স।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী আজিমবেক বেকনাজারভ বলেছেন, বাকিয়েভের বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর ছোট ভাই ও প্রেসিডেন্ট গার্ডের সাবেক প্রধান জানিবেকও রয়েছেন। তাঁকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাকিয়েভের নিজ গ্রামে লুকিয়ে আছেন। গ্রামের বাসিন্দারা তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গ্রামের ওপর গতকাল একটি সামরিক হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। তবে আজিমবেক বলেছেন, জানিবেককে ধরতে কোনো শক্তি প্রয়োগ করা হবে না। অনেকে অবশ্য ধারণা করছেন, জানিবেককে হেলিকপ্টারে করে ওই গ্রাম থেকে তুলে আনা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়ার ইংরেজি ভাষার একটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাকতিচেক বেলিয়েভকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভের ছোট ছেলে ম্যাক্সিজেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছ। তাঁর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া বাকিয়েভের সময় সংগঠিত কমপক্ষে ২০০ অভিযোগের তদন্ত শরু হয়েছে। নতুন সরকার মনে করছে, বাকিয়েভ ও তাঁর ভাই সাংবাদিক, রাজনীতিকসহ সাধারণ নাগরিক হত্যা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধ করেছেন। ৭ এপ্রিল বিক্ষোভ সমাবেশে গুলির নির্দেশও দেন তাঁরা দুজন। ওই সহিংসতায় ৮৪ জন প্রাণ হারান।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভের সমর্থকেরা দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা জালালাবাদের একটি টেলিভিশন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিরগিজস্তানের মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও স্টেশন রেডিও আজাত্তিক গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবিতে রামাল্লায় বিক্ষোভ

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেছে। বার্ষিক ‘বন্দী দিবস’ পালন উপলক্ষে ফিলিস্তিনিরা এই বিক্ষোভ করে।
পশ্চিম তীরের রামাল্লায় বিক্ষোভ করার সময় ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী স্বজন ও ফাতাহ পার্টির নেতা মারওয়ান বারগুতির ছবি বহন করে ফিলিস্তিনিরা। বারগুতি সেখানে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ২০০০ সালে ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেন বারগুতি।
রামাল্লায় জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সে দেশের কারামন্ত্রী ইসা কারাক বলেন, ‘বন্দী বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’
ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলের কারাগারে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন। তাদের ২৭০ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।