Showing posts with label ভিয়েতনাম. Show all posts
Showing posts with label ভিয়েতনাম. Show all posts

Thursday, April 30, 2026

পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার গোপন বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা

পার্সটুডে : পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার অপরাধ একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়- যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার এবং পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা চালানো, যা মানুষের জীবন ও পরিবেশে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো:  

পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চীন ও কোরিয়ায়, প্লেগ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগসহ জৈবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষাগুলো বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র ও রিপোর্ট দেখায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কোরিয়ার কিছু অঞ্চলে প্লেগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী। অনেক পরীক্ষা গোপনে ও সামরিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, যেখানে লক্ষ্য ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের প্রভাব মানুষের উপর এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর পরিমাপ করা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধগুলোর মধ্যে একটি ছিল কোরিয়া ও উত্তর-পূর্ব চীনে, যেখানে ব্যাপক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া, কীটপতঙ্গ, পশুর ক্ষয়িষ্ণু অংশ এবং মাছের দেহ ঝড়ানো হয়েছিল মানুষের উপর ও কৃষিভূমিতে। এর ফলে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স ও এনসেফালাইটিসের মত রোগের দ্রুত প্রাদুর্ভাব হয় এবং ব্যাপক মৃত্যু ঘটে। এই অপরাধগুলোর প্রভাব এখনও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে জেনেটিক্যাল রোগের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম টেনে চলেছে। এই পরীক্ষা কখনো খোলাখুলি এবং কখনো গোপনে চালানো হতো। এই পরীক্ষায় রোগগুলো সচেতনভাবেই মানুষের ও পশুর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হতো যাতে এর প্রভাব পরিবেশ ও দেশের নিরাপত্তার ওপর মূল্যায়ন করা যায়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার

ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫–১৯৭৫) চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা হয় কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস, শত্রু দমনে এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে আঘাত করার জন্য। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হচ্ছে 'অরেঞ্জ এজেন্ট' নামক রাসায়নিক। এই পদার্থে ডাইঅক্সিন ছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মানুষের স্বাস্থ্যে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদিও এটি সরাসরি দুর্ভিক্ষ বা রোগের সৃষ্টিকারী ছিল না, তবে এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব ব্যাপক ছিল।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্বাস্থ্য ও পরিবেশে

চীন, কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী ও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে। প্লেগ, কলেরা, ম্যালেরিয়া ও শ্বাসকষ্টের মত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়। এই রোগগুলো শুধু তখনকার সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে, যুদ্ধ শেষে অনেক মানুষ এখনো রাসায়নিক ও বায়োলজিক্যাল পদার্থের কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকেই ত্বকের রোগ, ক্যান্সার ও জন্মগত বিকলাঙ্গতায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবেশও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বনাঞ্চল ও কৃষিজমির ধ্বংস।

উপসংহার

পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ, বিশেষ করে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গভীর ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। প্লেগসহ মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে এসব অস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে, এই অস্ত্রগুলো শুধু তাত্ক্ষণিক ক্ষতি করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে আনে। এই ঘটনা গুলোকে আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে এর ফলাফল ও দায়িত্ববোধ স্পষ্ট হয় এবং যারা এই মানবতাবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

https://media.parstoday.ir/image/4c99fea2d0889c2n67h_800C450.jpg
মার্কিন বিমান থেকে ভিয়েতনামে রাসায়নিক বোমা হামলা

Sunday, August 31, 2025

১২ হাজার বছর আগে তীক্ষ্ণ ফলার অস্ত্রে খুন হন এই ব্যক্তি, গোলকধাঁধায় বিজ্ঞানীরা

ভিয়েতনামের একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি কঙ্কাল নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। কঙ্কালটি একজন পুরুষের। ১২ হাজার বছর আগে, সেই বরফ যুগে তীক্ষ্ণ ধারালো মাথার কোনো অস্ত্র ছুড়ে ওই ব্যক্তির ঘাড়ে আঘাত করা হয়েছিল। সেই ক্ষত থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র দিয়ে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছিল, তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কঙ্কালটি সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। ভিয়েতনামের গুহায় সেটি বেশ ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে। কঙ্কালটিতে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পাওয়া গেছে।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (এমটিডিএনএ) হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ডিএনএ, যা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকে। এটি সাধারণত মাতৃপরম্পরায় (মায়ের থেকে সন্তানে) হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা এর মাধ্যমে মানুষের বংশ, পূর্বপুরুষ ও কীভাবে নির্দিষ্ট অঞ্চলের অভিবাসী হয়েছে, সেই ধারা সম্পর্কে জানতে পারেন।

ভিয়েতনামের গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি একজন পুরুষের, বয়স প্রায় ৩৫। কোয়ার্টজ (একধরনের স্ফটিক) দিয়ে তৈরি তীক্ষ্ণ ফলাযুক্ত কোনো অস্ত্র ছুড়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করা হয়। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওই সময়ে মানুষ অস্ত্র তৈরি করতে জানতেন।

তবে ওই ব্যক্তি আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যাননি। তাঁর আঘাতপ্রাপ্ত ঘাড়ের হাড় বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত টিস্যু বৃদ্ধি ও সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে, সম্ভবত সংক্রমণ থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি: বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস’ জার্নালে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি খুব সম্ভবত কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন। মারা যাওয়ার পর তাঁকে ‘থুং বিন ১’ নামের একটি গুহায় সমাহিত করা হয়। বর্তমানে ওই গুহাস্থলের নাম ‘ত্রাং আন ল্যান্ডস্কেপ কমপ্লেক্স’ এবং স্থানটি ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

গবেষকেরা বলছেন, ওই ব্যক্তির আঘাতজনিত ক্ষতে পরে কী হয়েছিল, তা এখনো অজানা। তবে এ ঘটনা দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে শিকারনির্ভর সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে হতে পারে।

ওই ব্যক্তির আঘাত পাওয়া ও আহত হওয়ার পরও কিছুদিন বেঁচে থাকার ঘটনা ২৬ লাখ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে প্লাইস্টোসিন বা পুরাপলীয় যুগের শেষ দিকে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের একটি বিরল ছবি তুলে ধরেছে।

কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুগো রেসেস-সেন্টেনো ই-মেইলে এ বিষয়ে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শেষ প্লাইস্টোসিন যুগের মানব কঙ্কাল পাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল। হোলোসিন যুগে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহিংসতার অনেক প্রমাণ রয়েছে, বিশেষ করে ওই সময়ে, যখন লোকজন খাদ্য উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গ্রহণ করেছে এবং সমাজে শ্রেণিপার্থক্য বেড়ে যায়। তবে প্লাইস্টোসিন যুগে এমন উদাহরণ কম। ধারণা করা হয়, প্লাইস্টোসিন যুগে মানুষ মূলত শিকারের ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করত।

এই গবেষণা প্লাইস্টোসিন যুগে সহিংসতার বিরল উদাহরণে একটি নতুন সংযোজন বলে মনে করেন তিনি।

‘বিশাল এক চমক’

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গবেষকেরা ওই কঙ্কাল উদ্ধার করেন। তাঁরা সেটির নাম দিয়েছেন ‘টিবিএইচ১’। কঙ্কালের মাথার খুলি ভাঙা এবং চ্যাপ্টা হয়ে গেছে, কিন্তু খুলির বেশির ভাগ অংশই পাওয়া গেছে। এমনকি খুলিতে সব কটি দাঁতও আছে।

সেটির পেলভিস বা কোমরের হাড় ও মেরুদণ্ড ভাঙা। একটি আন্তর্জাতিক দলের সহযোগিতায় ‘টিবিএইচ১’–এর হাড়ের টুকরা টুকরা অংশ উদ্ধার করা হয়, যা চলে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

গবেষক দলটিকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে হাড় উদ্ধারের কাজ করতে হয়েছে। কারণ, সেগুলো খুবই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, গুহার পরিবেশও উপযুক্ত ছিল না বলে জানান প্রধান গবেষক ক্রিস স্টিম্পসন। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক।

স্টিম্পসন সিএনএনকে বলেন, এটি উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল। তাই এখানে প্রচুর পানি, প্রচুর ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমা হয়। ফলে এখানে মাটি বা পলি খুবই আঠালো।

খুলি ও কঙ্কালের হাড়ের আরও ক্ষতি এড়াতে গবেষক দল সেগুলোর চারপাশের পলিমাটি বড় বড় ব্লকের আকারে কেটে গুহা থেকে বের করে এনেছেন এবং পরে কয়েক মাস ধরে গবেষণাগারে সেগুলোকে একত্র করেছেন।

হাড়ে পর্যাপ্ত কোলাজেন না থাকায় কঙ্কালটির বয়স সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সমাধির কাছাকাছি কয়লার নমুনার রেডিওকার্বন পরীক্ষা করে কঙ্কালটির বয়স ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কঙ্কালটি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সেটির এক পায়ের গোড়ালিতে সামান্য আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তবে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণে গবেষক দল নিশ্চিত হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন পুরুষ ছিলেন এবং একটি স্থানীয় শিকারি সম্প্রদায়ের মাতৃপরম্পরার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই শিকারি সম্প্রদায় ওই অঞ্চলে আসা প্রথম মানুষদের বংশধর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভালোভাবে সংরক্ষিত বরফ যুগের মানবকঙ্কাল পাওয়া খুবই বিরল। তাই প্রায় সম্পূর্ণ এই কঙ্কাল গবেষণাকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটির মধ্যে ডিএনএ পাওয়া গেছে।

স্টিম্পসন বলেন, ওই ব্যক্তির ঘাড়ের ‘সার্ভিক্যাল রিব’-এ আঘাতজনিত ক্ষতি পাওয়া গেছে। সার্ভিক্যাল রিব মানুষের ঘাড়ে থাকা একটি অতিরিক্ত হাড়। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের শরীরে এ হাড় থাকে।

স্টিম্পসন বলেন, ওই ব্যক্তির সার্ভিক্যাল হাড়ে ক্ষত পাওয়াও (গবেষকদের জন্য) একটি বড় চমক।

সেখানে গবেষকদের জন্য আরও একটি চমক অপেক্ষা করছিল। সেটা হলো, আঘাতপ্রাপ্ত ঘাড়ের অতিরিক্ত হাড়ের কাছে একটি অস্বচ্ছ কোয়ার্টজের খণ্ড পাওয়া। কোয়ার্টজের ওই খণ্ডের দৈর্ঘ্য শূন্য দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ১৪ আউন্স (শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম)।

ওই যুগে পাথরের অস্ত্রে সাধারণত যে ধরনের খোদাই–চিহ্ন দেখা যেত, (কোয়ার্টজের) ওই টুকরা তেমনভাবে খোদাই করা। গুহায় কোয়ার্টজের তৈরি অন্য কোনো যন্ত্র ছিল না।

তাই গবেষণায় ধরে নেওয়া হচ্ছে, ছুড়ে মারা অস্ত্রের ডগাটি সম্ভবত অন্য কোনো জায়গা থেকে আসা অচেনা বা বিশেষ প্রযুক্তি।

রেসেস-সেন্টেনো বলেন, যে অস্ত্রের আঘাতে ওই ক্ষত হয়েছে, সেটি সেখানে পাওয়া অন্যান্য অস্ত্র থেকে আলাদা। তাই এই গবেষণা ওই সময়ে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করে তুলেছে।

তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তা পুরোপুরি বোঝার জন্য গুহা প্রাঙ্গণ এবং ওই অঞ্চলে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দরকার বলে মনে করেন সেন্টেনো।

কোয়ার্টজের খণ্ডটির আকার দেখে গবেষকেরা ধারণা করছেন, এটি এমন একটি অস্ত্রের শীর্ষপ্রান্ত, যেটি ওই ব্যক্তির ঘাড়ের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে তাঁর ‘সার্ভিক্যাল রিব’ ভেঙে ফেলে। ওই আঘাত থেকেই শেষ পর্যন্ত তাঁর শরীরে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি মারা যান।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, আঘাতের অবস্থা, আকার ও ধরন দেখে বোঝা যায়, ছুড়ে মারা অস্ত্রটি ছোট, কিন্তু দ্রুতগতির ছিল। যদি সেটি বড় কিছু হতো, তাহলে আঘাত আরও ভয়াবহ হতো এবং সম্ভবত সে ক্ষেত্রে মৃত্যু সঙ্গে সঙ্গেই হতো।

আবার এমনও হতে পারে, স্থানীয় নন, বরং বাইরে থেকে আসা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সহিংস সংঘাতের ফলে ওই ব্যক্তি ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন।

ওই ব্যক্তি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আহত হয়েছিলেন এবং তাঁর জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহ কেমন কেটেছিল, তা বিজ্ঞানীরা এখন কেবল অনুমান করতে পারেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-30%2Fm9nv0l88%2F12000-years-ago.jfif?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভিয়েতনামের একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের খুলি. ছবি: স্ক্রিনশট

Wednesday, December 4, 2024

৪৪০০ কোটি ডলারের দুর্নীতি ফাঁসির রায় এবং...

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূলহোতা ভিয়েতনামের ধনকুবের ট্রুং মাই ল্যান। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। কিন্তু তাতে হেরে গেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। আপিলে পরাজিত হওয়ার পর ৬৮ বছর বয়সী এই নারী এখন নিজের জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজছেন। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার একটি উপায় আছে দেশটির আইনে। সে অনুযায়ী তিনি যে অঙ্কের অর্থের কেলেঙ্কারি করেছেন তার যদি শতকরা ৭৫ ভাগ সরকারি তহবিলে ফেরত দেন, তাহলে মৃত্যুদণ্ড লঘু হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এপ্রিলে ট্রায়াল কোর্ট দেখতে পেয়েছে যে, গোপনে সাইগন কমার্শিয়ান ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন ট্রুং মাই ল্যান। এটি দেশটির পঞ্চম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে শেল কোম্পানির একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ বছর ধরে তিনি ঋণ নিয়েছেন। এর পরিমাণ ৪৪০০ কোটি ডলার। প্রসিকিউটররা বলেছেন, এই অর্থের মধ্যে ২৭০০ কোটি ডলারের অপব্যবহার হয়েছে। ১২০০ কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে আত্মসাৎ কাজে। একে দেশটিতে সবচেয়ে গুরুতর আর্থিক অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জন্য আদালত তাকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার আদালত তার আপিলের জবাবে বলেছেন ট্রুং মাই ল্যান্ডের মৃত্যুদণ্ড কমানোর কোনো ভিত্তি নেই। তবে তিনি যে ১২০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন তার তিন-চতুর্থাংশ বা ৯০০ কোটি ডলার যদি ফেরত দেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটা তার চূড়ান্ত আপিল নয়। এখনো তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করতে পারেন। বিচারকাজ চলাকালে বেশির ভাগ সময় ট্রুং মাই ল্যান আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক শুনানিতে তিনি সাজার বিরুদ্ধে খুবই অনুতপ্ত ছিলেন। বলেছেন, এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ার কারণে বিব্রত তিনি। তিনি এই অর্থ ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। হো চি মিন সিটিতে ট্রুং মাই ল্যানের জন্ম সিঙ্গাপুরের বংশোদ্ভূত ভিয়েতনামি একটি পরিবারে। মায়ের সঙ্গে কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রি করে বাজারে একজন হকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ১৯৮৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করার পর তিনি জমি ও বিভিন্ন রকম সম্মদ কিনতে শুরু করেন। ১৯৯০-এর দশকে হোটেল ও রেস্তরাঁ বিষয়ক বিশাল এক পোর্টফোলিও পেয়ে যান। এপ্রিলে তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়া হয়। ওই সময় তিনি প্রথম সারির রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ভান থিন ফাত গ্রুপের চেয়ারওমেন ছিলেন। ওই মামলায় বাকি ৮৫ জনের সব আসামিই অভিযুক্ত হন। তার মধ্যে চারজনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন জেল। ট্রুং মাই ল্যানের স্বামী ও ভাতিজি সহ বাকিদেরকে ২০ বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থগিত শাস্তি দেয়া হয়।

সাইগন কমার্শিয়ান ব্যাংকে অর্থ সংকট কাটাতে স্টেট ব্যাংক অব ভিয়েতনাম শত শত কোটি ডলার অর্থ সরবরাহ দেয়, যাতে গ্রাহকদের মধ্যে পীড়া কমে। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, ট্রং মাই ল্যান যে অপরাধ করেছেন তা বিশাল। আগে কখনো এমনটা দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে তার শাস্তি লঘু হতে পারে না। এখন ট্রুং মাই ল্যানের আইনজীবীরা বলছেন- তিনি ৯০০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার চেষ্টা করছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার যে সম্পদ তা থেকে নগদ অর্থ বের করে আনা খুবই কঠিন। কারণ, এর বেশির ভাগই হো চি মিন সিটিতে বিলাসবহুল সম্পদ। তা মুখ দিয়ে বললেই বিক্রি করে দেয়া যায় না। অন্য ব্যবসা ও প্রপার্টি বিষয়ক প্রকল্পে আছে তার শেয়ার। কেলেঙ্কারির মাধ্যমে  দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সম্পদে আছে তার বিনিয়োগ। বর্তমানে তা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিবিসি জানতে পেরেছে যে, এই ধনকুবের বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ওই ৯০০ কোটি ডলার পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

mzamin

Friday, September 13, 2024

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির আঘাতে লন্ডভন্ড ভিয়েতনাম, ১৭৯ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির আঘাতে ভিয়েতনামে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভয়াল এই ঘূর্ণিঝড়ে  রাজধানী হ্যানয়সহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৭৯ জন। এছাড়া প্রবল বর্ষণে রেড রিভার নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে হ্যানয়ের অধিকাংশ এলাকা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়,  দক্ষিণ চীন সাগরের একটি নিম্নচাপ থেকে উদ্ভূত ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে আঘাত হানে। এর আগে ফিলিপাইনের লুজন প্রদেশ এবং চীনের কোটু দ্বীপেও আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়টি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এশিয়ায় যত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল এটি। শনিবার সকালে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানার পর রাজধানী হ্যানয়ের দিকে এগোতে শুরু করে ইয়াগি। যেসব এলাকা অতিক্রম করেছে এই ঝড়, সেসব এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল বলে জানিয়েছেন ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর। সোমবার থেকে শক্তি হারাতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকে।

ব্যাপক বর্ষণের জেরে হ্যানয়ের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া রেড রিভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পানি রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক মাই ভ্যান কিয়েম বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রেড রিভার নদীর পানি গত ২০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এছাড়া অন্যান্য নদীতেও পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে পানির প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় বন্যা এবং ভূমিধস শুরু হয়েছে রাজধানী হ্যানয়সহ বিভিন্ন প্রদেশে। দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। বন্যার কারণে অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। হ্যানয়ের বাসিন্দা এনগুয়েন ডাক ত্যাম একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তার বাড়ি রেড রিভার নদীর কাছাকাছি তার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে থাকতেন তিনি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমি দোতলায় থাকতাম। বন্যার পানি তিন তলা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমার বাসা পুরোপুরি পানির নিচে। সঙ্গে করে কিছুই আনতে পারি নি। আরেক ভুক্তভোগী এনগুয়েন ভ্যান হাং জানান, তার বাড়ি ছিল রেড রিভার নদীর তীরে এবং বন্যা ও ভূমিধসের কারণে তার বাড়ির আর কোনো চিহ্ন এখন আর নেই। তিনি বলেন, আমার বাড়ি এখন নদীর অংশ।
mzamin