Monday, August 5, 2024
সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তথা আপামর জনসাধারণের উত্থাপিত একদফা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করছে। বিএনপি জাতির এই চরম ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে গণতন্ত্রপ্রিয় আপামর জনসাধারণ এবং বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রাজপথে নেমে এসে ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গণহত্যাকারী স্বৈরাচারী সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে অসহযোগ আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানাচ্ছে। শত শত শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ইনশাআল্লাহ ছাত্র-জনতার বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে ছাত্রদের এই যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি। আজ আমরা তাদের নতুন ঘোষণাকে সমর্থন জানাচ্ছি এবং এই ভয়াবহ দানবীয় খুনি শাসকগোষ্ঠীর পতনের লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি, পেশাজীবী, শ্রমিক, কৃষকসহ আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ আড়াল করতেই তথাকথিত তৃতীয় পক্ষ আবিষ্কারের জন্য সরকারের বিরামহীন এই প্রচেষ্টা চলছে, যা জনসাধারণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার প্রথম থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি অস্বীকার করে দমন করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে দেশকে ধ্বংস ও নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে গেছে। ছাত্র আন্দোলন বলপূর্বক দমন করতে রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে চলছে নজিরবিহীন তৎপরতা। দেশে আজ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনগণের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। চারদিকে শুধু অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। এর সম্পূর্ণ দায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ আওয়ামী লীগ সরকারের।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে গণহত্যা, নৈরাজ্য, ধ্বংস, দমন, নিপীড়ন দেখে সারা বিশ্ব স্তম্ভিত। সরকার ছাত্র, যুবক, শিশু, নারীসহ জনতাকে নির্বিচারে নির্দয়ভাবে হত্যা করে মানবতাকে হত্যা করেছে। সরকারের মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয়েছে। দেশ-বিদেশে সরকার ধিকৃত ও ঘৃণিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সকল জনপদ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ বিদ্রোহে মুখরিত। সমগ্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, আইনজীবী, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, শ্রমজীবী মানুষসহ ধর্ম-বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে শামিল হয়ে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছে। গড়ে উঠেছে অভাবনীয় জাতীয় ঐক্য, জনগণের ঐক্য। সমগ্র দেশ আজ গণহত্যাকারী সরকারের বিরুদ্ধে এক এবং একাট্টা। গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে আর্তনাদের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে খুনি সরকারের পদত্যাগের দাবি।
তিনি বলেন, দেশে আজ এক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছে। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাঈদ, মুগ্ধসহ শত শত নিরীহ ছাত্র-শিশু ও জনতার রক্তে অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর হাত রঞ্জিত হয়েছে। জনগণ এই ভয়াবহ গণহত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় বেরিয়ে আসছে। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, মা বোন, পিতা-মাতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, লেখক আজ এক কাতারে। দলমত, বয়স, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ ফুঁসে উঠেছে ক্রোধে। দ্রোহের মিছিলে শরিক হচ্ছে সকল স্তরের, সকল শ্রেণির, সকল বয়সের মানুষ। আমি তাদের অভিবাদন জানাই।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত শনিবার শহীদ মিনারে জনতার উত্তাল সমুদ্রের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা এই অবৈধ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছে এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। দেশের সকল মানুষ এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরা ২০১২ সাল থেকে এই সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে আসছি। অবৈধ সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল করে চিরস্থায়ীভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ধ্বংস করেছে নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। এখন ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত দাবি কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলনকে নির্মম, নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে গিয়ে শত শত তাজা প্রাণের রক্ত ঝরিয়েছে, শত শত মায়ের বুক খালি করেছে, শত সন্তানরা পিতাকে হারিয়েছে। এমনকি ৪ বছরের শিশুও রেহাই পায়নি। গণহত্যার মাধ্যমে ছাত্রদের আন্দোলনকে দমন করতে ব্যর্থ হয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যের মধ্যদিয়ে যে চূড়ান্ত আন্দোলন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত, তাকে স্তব্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনগণের ভয় ভেঙেছে -আলী রীয়াজ
দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ বিষয়ে ইলিয়ন স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিঙ্গুইশড অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের সঙ্গে কথা বলেছে ভারতীয় গণমাধ্যম স্ক্রল ইন। অধ্যাপক রীয়াজ আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদভাবে কথা বলেছেন।
স্ক্রল ইন: আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ থেকে কিছু অবিশ্বাস্য এবং করুণ দৃশ্য দেখেছি। আপনি কী এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করবেন: আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান পরিস্থিতি? হঠাৎ এই ছাত্র-জনতার বিস্ফোরণের কারণ কী?
আলী রীয়াজ: সবার আগে আমাদের বুঝতে হবে গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে দু’টি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি প্রথমে যেটি উল্লেখ করেছেন তা হলো কোটা সংস্কার আন্দোলন। জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে আমি পরে ফিরে আসবো...১৬ই জুলাই থেকে বিক্ষোভের আরেকটি মাত্রা শুরু হয়েছে। যেটি বাংলাদেশে বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বেশ জনপ্রিয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যদিও দুটি পরিস্থিতি একই সময়ে উদ্ভূত কিন্তু এখানে ভিন্নতা রয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কথা বললেও দুটি পরিস্থিতির ভিন্নতা আমাদের বুঝতে হবে।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন ধরে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। অর্থাৎ, সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ চাকরি কোটার ভিত্তিতে এবং বাকি ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে। এই ৫৬ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ প্রাথমিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধা এবং পরে তাদের উত্তরসূরি পর্যন্ত এই কোটার নিয়োগ পৌঁছেছে। ২০১০ সালে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল। বাকি ২৬ শতাংশ কোটা নারী, আদিবাসী সম্প্রদায়, দুর্গম অঞ্চলের জনগণের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন হয়েছিল। সেটিও ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। মূলত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে রাজনৈতিকভাবে দলীয়করণ হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ যারা শাসনকে সমর্থন করে এই কোটার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেয় সরকার। সে সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত হয়ে পুরো কোটা ব্যবস্থা বাতিল করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর কয়েক বছর পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আদালতে যান। যা এ বছরের জুনে, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ২০১৮ সালের কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পরিপত্রকে বাতিল করে দেয়া হয়। মূলত হাইকোর্টের ওই রায়কে কেন্দ্র করেই ১লা জুলাই থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সারা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করে। তবে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বাধার সম্মুখীন হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে সরকারের ছাত্র সংগঠন। এরপরেও এই আন্দোলনে অনেকটা শান্তি বজায় ছিল। কারণ ছাত্ররা সহিংসতার পথ পরিহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১২ই জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ইঙ্গিত করে একটি মন্তব্য করেন, যার পর থেকেই আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: তিনি কি রাজাকার বলেছিলেন নাকি পাকিস্তানি সেনাদের দোসর?
আলী রীয়াজ: হ্যাঁ, বিষয়টা এমনই। তার ওই মন্তব্যকে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর বলে মনে করেছে। এরপর রাতেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পরের দিন, সারা দেশে বিক্ষোভ আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশের গুলিতে একদিনে ছয় শিক্ষার্থী নিহত হন। এতেই মূলত আন্দোলনের দ্বিতীয় পরিস্থিতির সূচনা হয়। কার্যত এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয় দেশের সাধারণ নাগরিকরা।
এখানে বুঝতে হবে তাদের অভিযোগটা কি ছিল? বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীরা দেখেছে বাংলাদেশে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তবুও বেকারত্বের হার অনেক বেশি। অন্যদিকে তারা ব্যাপক দুর্নীতি দেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা দেখেছে যে, সাবেক পুলিশ প্রধান অবৈধভাবে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুর্নীতির দায়ে সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
প্রশ্ন: তাহলে কোটা সংস্কার আন্দোলন আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছিল?
আলী রীয়াজ: আমার সেটাই মনে হয়। এই কোটা সংস্কার আন্দোলন অন্যান্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, যাতে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের কোনো উপায় ছিল না। তাই কোটা আন্দোলন যখন রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে তখনই এই মেলবন্ধন তৈরি হয়। কমবয়সী বাংলাদেশি এবং সর্বস্তরের জনগণ এই আন্দোলনে শরিক হয়েছে এবং দেশ একটি গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন?
আলী রীয়াজ: না, আমি এমনটা মনে করছি না। দেশের ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু হলেও তা এখনো সীমিত আকারে রয়েছে। প্রায় এক কোটি প্রবাসী দেশের বাইরে রয়েছেন। ইন্টারনেট না থাকায় তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। মূলত এই প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে। তাই তাদের উপেক্ষা করা যায় না। আন্দোলন দমাতে ছয় ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জনকে হাসপাতাল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি তারা ছাত্রনেতাদের হেফাজতের জন্য তাদের জিম্মায় নিয়েছে। তবে পরিবারগুলোর দাবি তাদের ওই নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তাই এই হেফাজতের বিষয়টি জোরপূর্বকভাবে তুলে নেয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে তাদের তুলে নিয়েও আন্দোলন দমাতে পারেনি। অন্যান্য ছাত্রনেতারা আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
এরপর শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন শুরু করে। তাদের নয় দফা দাবি ছিল: প্রধানমন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ উপাচার্যদের পদত্যাগ ইত্যাদি। তাই এমন অনেক দাবি রয়েছে যা পূরণ হয়নি। তাই কয়েকজন ছাত্রনেতা যখন আন্দোলন প্রত্যাহার করে বিবৃতি দেন, তখন সকলের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এটি স্বেচ্ছায় করা হয়নি।
আন্দোলন প্রত্যাহার করার পরও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। অনেক শহরের ছাত্ররা যেখানে পারছে রাস্তায় নেমে এসেছে। যদিও কারফিউ শিথিল করা হয়েছে, আমরা জানি যে রাতের কারফিউ বাড়ি-ঘরে অভিযান চালানো এবং লোকদের গ্রেপ্তার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দশ হাজারের বেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বেশির ভাগই তরুণ। তাই সরকার সবকিছু স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও বাস্তবে স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি।
প্রশ্ন: শেখ হাসিনা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তাতে তিনি তার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ফলাও করে প্রচার করছেন। আপনি কি মনে করেন এই আন্দোলনকে টপকে যাওয়া তার জন্য কঠিন হবে?
আলী রিয়াজ: হ্যাঁ, ‘গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন’-এর যে আখ্যান তিনি প্রচার করেন তা এখন আর কাজ করবে না। আসলে এই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই তার আখ্যান জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল। এই আন্দোলন দানা বাধার পেছনে এটিও একটি কারণ। গত দুই বছরে দেশের অর্থনীতির যে হাল হয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উন্নয়নের আখ্যান যে একটি ফাঁপা দাবি ছিল তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এই তথাকথিত উন্নয়নের কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে তার উন্নয়নের আখ্যান ভেসে গেছে। হাসিনার জন্য এটা কোনো বৈধ আদর্শ হতে পারে না। ২০১৪ সাল থেকে, এই সরকার তার নৈতিক বৈধতা হারিয়ে ফেলেছে; কারণ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তখন থেকেই। মূলত এই জালিয়াতি ঢাকতেই তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফাঁকা বুলি প্রচার করেছে। কিন্তু এ বিষয়টি দ্রুতই জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার পরিণতি আমরা এখন রাজপথে দেখতে পাচ্ছি। সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী দিয়ে কারফিউ জারি রেখেছে।
সরকার যত বেশি দমনপীড়ন করবে ততই তারা জনগণের ক্ষোভের আগুনে জ্বলবে। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলন এই শাসনের মূলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই আন্দোলন ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায় কিনা সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ক্ষমতার ভিত্তি কী তা আমাদের বুঝিয়ে বলুন? দৃশ্যত অত্যন্ত অজনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ক্ষমতায় থাকবেন?
আলী রীয়াজ: সরকার ব্যবসায়ী এবং আমলাতন্ত্রের ওপর টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। যেখানে তারা একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। আর তাদের ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী। গোটা পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের যন্ত্র না হয়ে ক্ষমতাসীন দলের দোসর হয়ে উঠেছে। এবং এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে, সরকারকে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
সরকার ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে শাসন করছেন। ভয়ই হয়ে উঠেছে সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যন্ত্র। মনে রাখবেন, বিগত এক দশকে, বাংলাদেশি রাষ্ট্র মানুষের উপর নজরদারি করার জন্য প্রচুর ক্ষমতা সঞ্চয় করেছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গুম সহ বিভিন্ন ধরনের দমনমূলক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, তাই এই সমস্ত কিছু ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে যেভাবে খুশি সেভাবেই দেশ চালাচ্ছে।
এখন অবশ্য বাঁধ ভেঙে গেছে। জনগণের মন থেকে এই শাসনের ভয় কেটে গেছে। কারণ তরুণ বাংলাদেশিরা রাস্তায় নেমে তাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এই আন্দোলনের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা নিষিদ্ধ ছিল। কেউ শাসন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করলে সাধারণ জনগণ তা এড়িয়ে যেত। এখন সে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এটাই এই আন্দোলনের বড় অর্জন। লোকেরা তাকে নাম ধরে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তাকে স্বৈরাচারী বলে ডাকতে পারে- যা আগে লোকেরা এড়িয়ে যেতেন।
প্রশ্ন: গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে যা বিশ্বের নজর কেড়েছে। আপনি কি মনে করেন যে এই ধরনের অস্থিতিশীলতা এখন এটিকে বিপন্ন করতে পারে?
আলী রীয়াজ: দেখুন, বাংলাদেশ যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অগ্রগতি করেছে, সেই দাবিটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এটি দুটি কারণে। প্রথমত- অনেক ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক তথ্য তৈরি করা হয়েছে। সরকার, অন্য যেকোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার মতো, প্রজেক্ট করার চেষ্টা করেছিল যে, তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তাদের কৃতিত্ব। আমরা জানি, কর্তৃত্ববাদীরা পরিসংখ্যান পছন্দ করে। তার মানে কী কোনো অগ্রগতি হয়নি? না এটা সত্য না। হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু সেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমবণ্টন হয়নি। ফলে এই সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। এই সরকারের আমলে আমরা নিরবচ্ছিন্ন দুর্নীতি দেখেছি, আমরা পুঁজির উড্ডয়ন দেখেছি, আমরা দেখেছি শাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের ঋণখেলাপি এবং অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না, বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পগুলো ব্যয়ের দিক থেকে আকাশচুম্বী হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় যথেষ্ট কাজ করেছে?
আলী রীয়াজ: না, আমি তা মনে করি না। এখানে তারা গণতন্ত্রকে পেছনে ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক। ২০২১ সাল থেকে তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের ওপর এই ব্যাপক বাগাড়ম্বরপূর্ণ চাপ দেখেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের কথা এলে তারা চুপ হয়ে যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও তাই। মানবাধিকারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও তারা আসলে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এক্ষেত্রে তারা কঠোরের পরিবর্তে নমনীয় ছিল।
এই বিষয়ে পশ্চিমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে হাসিনাকে গণতন্ত্রের প্রশ্নে খুব বেশি চাপ দেবেন না; কারণ তখন তিনি চীনের সঙ্গে মিত্রতা করবেন। আমি মনে করি এটি একটি মূর্খতা। আপনি যদি গত ১০ বছরের দিকে তাকান, হাসিনাকে ঠেলে দেয়ার জন্য পশ্চিমাদের অলসতা সত্ত্বেও তিনি চীনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। বাংলাদেশে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পদচিহ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সবচেয়ে বিরক্তিকর দিকটির জন্য আমি ভারতকে সবার আগে যুক্ত করতে চাই। কারণ বাংলাদেশে কী ঘটছে তা জানা সত্ত্বেও একটি অগণতান্ত্রিক শাসনকে লাগাতার সমর্থন দিচ্ছে দিল্লি। ভারতের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে তারা এই শাসনকে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায়। কিন্তু, আমার মতে, ভারতের এই আচরণের কারণে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা আরও প্রকট হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনবিষ্ফোরণ নিহত শতাধিক
দিনব্যাপী সংঘাত-সংঘর্ষে কমপক্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ। অতিরিক্ত চাপের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ঢাকা মেডিকেলে মিনিটে মিনিটে আসে আহত ও নিহতদের বহনকারী এম্বুলেন্স। রাজধানীতে অন্তত ৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ এসেছে ৭টি। তারা হলেন- কাওরান বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ কবি নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম (২২), ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন (২৮), সায়েন্সল্যাবে গুলিবিদ্ধ হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী (২২), যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালক রিয়াজুলদৌল্লা (৩২), টিকাটুলিতে গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত একজন, শাহবাগে গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত একজন। এ ছাড়াও আরেকজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুরে একজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের বছিলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ জেলায় পুলিশসহ অন্তত ৯১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই হলেন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীও আন্দোলনকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ ২৩, লক্ষ্মীপুরে ১০, ফেনীতে ৮, নরসিংদীতে ৬, কিশোরগঞ্জে ৪, মুন্সীগঞ্জে ৪, রংপুরে ৫, সিলেটে ৬, মাগুরায় ৪, পাবনায় ৩, বগুড়ায় ৪, কুমিল্লায় ৪, বরিশালে ২, শেরপুরে ২, ভোলায় ১, জয়পুরহাটে ১, সাভারে ১, হবিগঞ্জে ১, কক্সবাজারে ১ জন ও কেরানীগঞ্জ ১ জন রয়েছেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে হিসেবে সকালে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় শাহবাগে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাত্রলীগ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার দিক থেকে আন্দোলনকারীদের বিশাল একটি মিছিল আসলে ধাওয়া দিতে যায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কিন্তু উল্টো ধাওয়া খেয়ে পাশে থাকা বিএসএমএমইউতে আশ্রয় নেয় তারা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন ও পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি ও এম্বুলেন্সে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তে শাহবাগে জড়ো হন হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে শাহবাগ, টিএসসি, মৎস্য ভবন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাঁটাবনসহ আশপাশের এলাকা। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে ছাত্র-জনতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী আসাদ বিন রনি। তিনি বলেন, ছাত্র সমাবেশে বাধা দিতে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র, গ্রেনেড-বোমা নিয়ে শাহবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে জড়ো হতে থাকে। তারা ছাত্রদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করছিল। সাধারণ ছাত্রদের ওপর দায় দিতে তারা পরিকল্পিতভাবে হাসপাতালের ভেতরে আগুন দেয়। দুপুরের দিকে বাংলামোটর থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে আওয়ামী লীগ। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর এক পর্যায়ে পিছু হটে ক্ষমতাসীনরা। ভাঙচুর করা হয় ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের কার্যালয়। এরপর বাংলামোটর থেকে টিএসসি পর্যন্ত পূর্ণ দখলে নেন। একই সময়ে আজিমপুরে হাসিবুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাল্টা ধাওয়ায় পিছু হটেন তারা। একই সময়ে রাজধানীর উত্তরায়ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধরা উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল ও ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ। এ সময় আজমপুর থেকে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিতে দেখা যায়। এরপর শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া দেন তাদের। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে মোহাম্মদপুরেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। এর আগে সকাল থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে জড়ো হতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বেলা ১২টার পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তিন রাস্তার মোড় এলাকা থেকে রাস্তায় নামতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা।
বিকাল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান নিতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশও আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে পুলিশের গুলিবর্ষণ চলে। রাজধানীর মালিবাগ আবুল হোটেল এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারবিরোধী নানা স্ল্লোগান আর গ্রাফিতি এঁকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ সময় খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন রাস্তার গলিতে অবস্থান নেন ছাত্রলীগ ও সরকার সমর্থিত কর্মীরা। রামপুরা ব্রিজ থেকে বাড্ডা পর্যন্তও বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। যমুনার গেটেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ফার্মগেট-কাওরান বাজারে দিনভর হামলায় নিহত ৩ আন্দোলনকারী লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বের করে তাদের নিয়ে রাজপথে নেমেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার বিকাল সোয়া ৬টায় আন্দোলনকারীরা শহীদ মিনার থেকে শাহবাগের দিকে স্লোগান দিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তারা, ‘আমার ভাই মরলো কেন? খুনি হাসিনা জবাব দে’, ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। দিনভর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলে রাখে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো হন। এ সময় পাশে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে আগাতে চাইলে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা খণ্ড খণ্ড ভাগে ভাগ হয়ে গোলাপ শাহ মাজার, পাতাল মার্কেট, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম গেট, ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে কাওরান বাজারেও। দুপুরের পর থেকে কাওরান বাজারে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা ২টার পর কিছু শিক্ষার্থী কাওরান বাজারে দিকে এলে তাদের ধাওয়া দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে শাহবাগ এলাকার শিক্ষার্থীরা বাংলামোটরের দিকে এগিয়ে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টার পর বাংলামোটর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লাঠি হাতে বহিরাগতরা যুক্ত হন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। দীর্ঘক্ষণ চলা সংঘর্ষের পর আওয়ামী লীগ ফার্মগেটের দিকে পিছু হটে। সকাল দশটার পর ধানমণ্ডি-২ নম্বর, সিটি কলেজ, সাইন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হতে থাকে ইউল্যাব, স্ট্যামফোর্ড, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, ধানমণ্ডি আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়া হয়। চার ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। নিহত মিরাজ হোসেন (২২) একটি বাসের চালক। সংঘর্ষে অন্তত তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়ে আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সকাল ১০টার পর থেকেই মিরপুর ১০ গোলচত্বরে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের নেতৃত্বে সেখানে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন। দুপুর ১২টার পর থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিরপুর-১০ নাম্বার এলাকায় আসতে চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ারশেল, গুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। সংঘর্ষ বেনারশি পল্লী, আইডিয়াল গার্লস স্কুল সড়ক, বিআরটিএ সড়ক, মিরপুর ৬ নম্বর, বেগম রোকেয়া স্মরণীতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর চিফ মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। দুপুরে লাঠিসোটা হাতে আদালতের প্রধান ফটক ভেঙে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপরই সাময়িকভাবে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের সরকার পদত্যাগের একদফা দাবির সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টে প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করছেন আইনজীবীরা। বিক্ষোভ থেকে সরকার পতনের দাবিতে নানান স্লোগান দিয়েছেন আইনজীবীরা। সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে আইনজীবীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইন্ডিয়া টুডের নিবন্ধ : বাংলাদেশে চূড়ান্ত অরাজকতা, পতনের দ্বারপ্রান্তে হাসিনা সরকার
জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে’। একই সময়ে কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া সমর্থন প্রদর্শনে তার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি লাল করে দিয়েছেন।
গত ১৯ জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষ যোগ দেয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর নেতারা সহিংস বিক্ষোভের শিকার হচ্ছেন। ঐক্যবদ্ধভাবে স্লোগান তোলা হচ্ছে - ‘হাসিনা সরকারকে যেতে হবে’। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট আংশিক বন্ধ আছে। বাংলাদেশি মোবাইল ফোন অপারেটরদের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, তারা দেশে ফোর জি পরিষেবা বন্ধ করার নির্দেশনা পেয়েছেন। ঢাকা-ভিত্তিক একটি সূত্র ইন্ডিয়াটুডে-কে জানিয়েছে- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন লাগানো হয়েছিল কিন্তু পুলিশ বা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।’ তিনি আরও জানিয়েছেন , ‘বেশিরভাগ জেলায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। একজন এমপির বাসভবনে হাজার হাজার জনতা হামলা করেছে এবং তাকে পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে।’
একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা ডালাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য শাফকাত রাব্বি বলছেন - ‘শেখ হাসিনা সম্ভবত একই ভুল করেছিলেন যেটা ইয়াহিয়া খান ২৬শে মার্চ, ১৯৭১ সালে নির্বিচারে ঢাকার মানুষকে গুলি করে করেছিলেন। হাসিনা জুলাইয়ের মাঝামাঝি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং ফলাফলটি একই দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে’। বাংলাদেশের একাধিক সূত্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি যোগ করেছেন - ‘৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় প্রায় এক মাস তরুণ শিক্ষার্থীদের পেছনে তাড়া করার পর সারাদেশে পুলিশ ক্লান্ত এবং শ্রান্ত । এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করছে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু সদস্য (আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন) যারা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল তারা নিজেরাই হাতে আইন তুলে নিয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন ছাত্রকে হত্যা করেছে’। শাফকাত রাব্বি বলছেন, বাংলাদেশের রাস্তায় প্রায় এক কোটি মানুষ প্রতিবাদে নেমেছে।
ঢাকা-ভিত্তিক সূত্রগুলি বলছে যে, এবার হয়তো হাসিনার যাবার সময় উপস্থিত এবং একটি সামরিক সরকার তার জায়গা নেবে। তবে হাসিনা বাংলাদেশে থাকবেন কিনা তা নির্ভর করবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর। তিনি সবাইকে অনুরোধ করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন বটে তবে জনগণের ক্ষোভ তার এবং তার দলের প্রতি বেড়েই চলেছে । শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। প্রধান বিরোধী দল - বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাম্প্রতিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বয়কট করে । শাফকাত রাব্বি মনে করেন ‘এই অবস্থা থেকে হাসিনার বাঁচার একমাত্র উপায় হবে ব্যাপক হারে দমনপীড়ন। সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের মেশিনগান নিয়ে সারা বাংলাদেশে প্রায় ১০ মিলিয়ন বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ছাত্র বিক্ষোভ দমন করার জন্য আগামী দিনে যে ভয়ঙ্কর মাত্রার দমনপীড়ন শুরু হবে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি আবার একটি আক্রমণাত্মক জয় ছিনিয়ে নিতে পারেন, তবে এই মুহুর্তে সেটির সম্ভাবনা কম’।
ঢাকাভিত্তিক সূত্র মোতাবেক, হাসিনা সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশিদের মনে ভারতের বিরুদ্ধে তিক্ততা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ১৯ জুলাই থেকে একটি নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করছেন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে, হাসিনা সরকার এই মুহূর্তে পতনের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ২১শে জুলাই কোটা কমিয়ে ৫ শতাংশ করে। এরপরেও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা অশান্তি দমন করতে সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত অত্যধিক বল প্রয়োগের জন্য জবাবদিহিতার দাবি জানায়। আন্দোলন (যার কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা), যা একাধিকবার সহিংস রূপ নিয়েছে, তাতে এখনো পর্যন্ত সারা দেশে কমপক্ষে ২৫০ জন (সরকারি হিসেব ) নিহত হয়েছে। সংখ্যাটা ক্রমবর্ধমান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রংপুর রণক্ষেত্র, কাউন্সিলরসহ নিহত ৪, আহত শতাধিক
সরজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে রংপুর টাউন হলের সামনে আন্দোলনকারীরা আসতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে রাজপথ মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালীন একঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জমায়েত হয়ে সরকারের পতনে একদফা দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা তাদের ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে লেখা “মোদির পোষা হাসিনা, আমরা তোমায় মানি না” সেই সঙ্গে “আর কোনো আপস নাই খুনী স্বৈরাচার হাসিনার পদত্যগ চাই” “একদফা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন। আন্দোলন চলাকালীন বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম, তুষার কান্তি মণ্ডলের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে ৭-৮শ’ নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে একটি পক্ষ সামনের দিকে এগুতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের আসতে দেখে প্রতিহত করার উদ্যোগ নিলে সংঘর্ষে নগরীর সিটি করপোরেশন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিস্তল দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ছুঁড়লে একজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে আন্দোলনকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আওয়ামী-যুবলীগ-ছাত্রলীগের ওপর। ধাওয়া করে একে একে ৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা করে। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় দু’পক্ষেরই কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়। শিক্ষার্থী মৌমিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের এখন আলোচনায় বসতে বলতেছেন। তার বাবা তো আলোচনায় বসেননি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার ভাইয়ের লাশের উপর দিয়ে আলোচনায় বসতে পারবো না। তাই আর কোনো আলোচনা নয়, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ চাই। শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবির উপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের ভাইদের বলবো অনেক হয়েছে। দালালি করেছেন এখন বাঁচতে চাইলে আপনারা নিরপেক্ষ থাকেন। কারণ যারা আন্দোলনে রয়েছে তারা আপনার ভাই-বোন। তাদের ওপর গুলি করবেন না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি এলাকা পীরগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ছাড়াও পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
বিবৃতিতে জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমি এখানে উপস্থিত সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সিনিয়রের অনুমতিক্রমে সবার পক্ষ থেকে এই বিবৃতি পেশ করছি। গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, গুম এবং গণগ্রেপ্তারের যে ঘটনা চলেছে আমরা তাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, মর্মাহত এবং ব্যথিত। অজস্র কিশোর-তরুণের অকাল জীবনাবসান ঘটেছে। আজ অভিবাবক হিসেবে নিজেদেরকে দায়মুক্ত ভাবতে পারছি না। তাই, বিবেকের তাড়নায় আমরা দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছি। বৈষম্যবিরোধী এই সংগ্রামের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাতের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করছি। এতে বলা হয়েছে, বৈষম্য, ভেদাভেদ ও জুলুমের অবসান করা ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার। তা না হয়ে উল্টো এসব আজ দেশের সর্বপর্যায়ে ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সমাজের নিচের স্তরে পড়ে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সহ্যের সীমার বাইরে চলে গেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও অব্যবস্থাপনা। এই অবস্থার প্রতিকারে জনগণ আজ আত্মোৎসর্গেও পিছপা হচ্ছে না। এমন কষ্টকর পরিস্থিতির ভেতর দেশবাসীকে ঠেলে দেয়ার জন্য যারা দায়ী, বিচারের মাধ্যমে তাদের সাজা নিশ্চিত করে পুরো ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা, ন্যায্যাতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা না করা গেলে, সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের নীতিনির্ধারকরা যদি বিবেক, বুদ্ধি ও হৃদয়হীন হয়ে না পড়তেন, তাহলে গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, করুণ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটতো না। এই সকল হামলা, আক্রমণ ও প্রতিরোধে অঙ্গহানি ঘটেছে অগণিত মানুষের। অন্ধ হয়েছেন বহুসংখ্যক কিশোর ও তরুণ। অসহায় নাগরিকরা প্রয়োজনীয় এবং জরুরি চিকিৎসাও পাচ্ছেন না। তার উপর চলছে ব্লকরেইড করে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বাড়ি, ঘর, মেস চিনিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর সব ঘটনা। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা পালিয়ে বাড়াচ্ছেন হাজার-হাজার নিরপরাধ কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক ও যুবতী। এতে বলা হয়, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষে দেশে এমন একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি মেনে নেয়া সম্ভব না। আমরা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারি না। আমাদের দেশটাকে, এই প্রিয় রাজধানী শহর ঢাকা ও জেলা শহরগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দিতে পারি না। তাই আজ এখানে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, ইনশাআল্লাহ তা আমরা করতে দেবো না। সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকবো। বিবৃতিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুটা দেশবাসী দেখেছেন। এর কোনোকিছুই মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার নয়। প্রথম পক্ষ অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সারা দেশের শিশু, কিশোর ও তরুণরা শত উস্কানি, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও ধৈর্য ধরে শৃঙ্খলার সঙ্গে আস্তে আস্তে আইন মেনে সামনে পা বাড়াচ্ছিল। এর বিপরীতে দ্বিতীয় পক্ষ যে উপর্যুপরি উস্কানি দিলো, গুণ্ডা-পাণ্ডা দিয়ে সন্ত্রাস চালালো এবং পুলিশ, র?্যাব, আনসার ও বিজিবি নামিয়ে, আকাশে হেলিকপ্টার উড়িয়ে, নির্বিচারে গুলি করে অগণিত শিশু, কিশোর ও তরুণদের তাজা প্রাণ হরণ করলো, তা দেশবাসী কি এত সহজে, এই অল্প সময়ের মধ্যেই ভুলে যাবে। এতে বলা হয়, আক্রমণকারীরা গণআন্দোলনের প্রতিরোধের মুখে পিছপা হতে বাধ্য হলে, পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহার করা হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে। তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, কখনো সম্মুখভাগে কখনো পেছনে ও পাশে দাঁড় করিয়ে অন্যান্য বাহিনীগুলো এই গণআন্দোলনের উপর তাদের জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতির দায় দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর নেয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী অতীতে কখনো দেশবাসী বা সাধারণ জনগণের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি, তাদের বুকে বন্দুক তাক করেনি। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি রাজনৈতিক সংকটকে সামরিকীকরণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, আমরা সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার সামরিক সরকারের এমন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সম্পদশালী সেই দেশটিকে আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই শাসকদেরকে গণহত্যার দায় নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত এই রাজনৈতিক সংকটকালে আমরা ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি ‘রাজপথ থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের ছাউনিতে’ ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সীমান্ত এ মুহূর্তে অরক্ষিত। ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনের জন্য সীমান্ত থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিজিবি সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেকোনো আপদকালীন সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। অনুরোধ করে বলছি, এ সংকট আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। এতে বলা হয়েছে, সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড, জখম, গুলি, হামলা, ভাঙচুর, সন্ত্রাসের ঘটনার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হতে হবে জাতিসংঘের নেতৃত্বে এবং তাদের অধীনে। আমরা সকলে বাংলাদেশের মানুষকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবাসি। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সকল সদস্য সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নিয়েই এই পেশায় নিয়োজিত আছেন। আজ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সকল সহকর্মীকে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো, সৈনিকের পেশার সর্বোচ্চ মর্যাদা, মানবিকতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী গত তিন দশক এর বেশি সময় অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে যে সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব অর্জন করেছে, তা আজ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সার্বজনীন মানবাধিকারের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেই আপনাদের সকলকে নিজ দেশের জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। চোখের সামনে আমরা নিজেদের মাতৃভূমিকে ধ্বংস হতে দিতে পারিনা। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই মহান ব্রত পালনে আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সকলের সহায় হবেন, ইনশাআল্লাহ তিনি নিশ্চয়ই আমাদের হেফাজত করবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ▼ 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...