Wednesday, October 3, 2018

মোদিকে যা বলেছেন সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভারতের সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করে বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ভারতের উচিত নয়। ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ কথা বলেছেন। পিটিআই’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (৬৭) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতি। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার এস কে সিনহার এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং তাকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা’র দাবি, হাসিনা সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভারতীয় সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বলেও মত তার।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এস কে সিনহাকে দুর্নীতির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য অভিযুক্ত করেছে। মি. সিনহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সাক্ষাৎকারে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ভারতের একটি স্বেচ্ছাচারী সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা হয়তো একবার বা দুই বারের জন্য ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কিন্তু একদিন সময় আসবে, দেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবে। তখন ভারত নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের উপরে প্রভাব হারাবে। এ সময় তিনি জানান যে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থি মৌলবাদী সংগঠন ও তাদের নেতাদের নিয়ে ভারতের উদ্বেগ স¤পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা নেই। আমি শুধু এমন একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে আইনের শাসন রয়েছে। কী পরিস্থিতিতে তাকে পদত্যাগ এবং দেশত্যাগ করতে হয়েছে নিজের বইতে সে ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন সিনহা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার উদ্বেগের কথা তিনি মোদি সরকারকে জানিয়েছেন। এস কে সিনহা বলেন, আমি ভারত সফর করেছি এবং নরেন্দ্র মোদিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, আমি কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। আমি জানি না কে তাকে এ ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন। কিন্তু একসময় ভারতকে এ ভুলের মাশুল দিতে হবে। বাংলাদেশে হিন্দুরা কী ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন তাও মোদি সরকারকে জানিয়েছেন এস কে সিনহা।
তিনি বলেন, মোদি সরকার মনে করে আমাকে সমর্থন দিলে তারা আওয়ামী লীগ সরকারকে হারাবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভারত সম্ভবত সমগ্র বাংলাদেশই হারাতে চলেছে। সাক্ষাৎকারে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ হেরে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

আর নয় কেমোথেরাপি

ক্যান্সার চিকিৎসায় বিস্ময়কর খবর জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেমস অ্যালিসন ও জাপানের তাসুকু হোনজো। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধে অস্ত্রের মতো কাজ করতে পারে এমন একটি থেরাপি আবিষ্কার করেছেন তারা। আর তার জন্যই তাদেরকে এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তাদের এ আবিস্কার নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ক্যান্সার চিকিৎসায় যে কেমোথেরাপি দেয়া হয় তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি তার চেয়ে অনেক কার্যকর ও কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কেমোথেরাপি দেয়া হলে তাতে যেমন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়, তার পাশাপাশি সাধারণ বা স্বাভাবিক কোষেরও মৃত্যু ঘটে। কখনো কখনো বিষক্রিয়া দেখা দেয় একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগির দেহে। তবে জেমস অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজো যে পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন তাকে বলা হচ্ছে ইমিউনোথেরাপি।
এর মধ্য দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উজ্জীবিত করা হয় টিউমার সেল বা কোষকে টার্গেট করতে। এই দুই বিজ্ঞানী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুটি ক্ষেত্র সনাক্ত করেছেন। যখন তা বন্ধ করে রাখা হয় তখন তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অনুমতি দেয় দ্রুততার সঙ্গে ও অধিক কার্যকরভাবে ক্যান্সার কোষকে আক্রমণ করতে। এই পদ্ধতি দু’চার বছর ধরে রোগিদের দেহে কেবল থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার যেমন অগ্নাশয় ব্রেন ক্যান্সারের মতো ক্যান্সারে এর কার্যকারিতা কম।

দেশে ৭৫ ভাগ বয়স্কদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে

বাংলাদেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিনজনের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি হলো উচ্চ রক্তচাপ, যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।  হৃদরোগ এবং কিডনি রোগের প্রধান কারণ হলো উচ্চরক্তচাপ এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় এর ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনই উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, যার মধ্যে অর্ধেকই এ সম্পর্কে সচেতন নয়। ১লা অক্টোবর উচ্চরক্তচাপ এবং হৃদরোগের ওপর অর্ধদিবসব্যাপী একটি নীতিনির্ধারণী সম্মেলন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি’। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে যোগদান করেন আইসিডিডিআর,বি’র ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিসের প্রধান ডা. আলিয়া নাহিদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবদুল আলিম, এসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এসএম মুস্তফা জামান।  শ্রীলঙ্কার জাতীয় পলিসি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী ডা. হর্ষ ডি সিলভা এই  অর্ধদিবসব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।  কোবরা-বিপিএস (কন্ট্রোল অব ব্লাডপ্রেশার অ্যান্ড রিস্ক এটেন্যুয়েশন-বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা) নামক ত্রিদেশীয় গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক তাজিন জাফর, ডিউক-এনইউএস  হেলথ সার্ভিস ও সিস্টেম রিসার্স, এই ফোরামের সহ আয়োজক।
অধ্যাপক জাফর বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ইউরোপিয়ানদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগ ৫ থেকে ৭ বছর আগে দেখা দেয়। কোবরা-বিপিএস গবেষণার আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ এলাকায় একটি উন্নত স্বাস্থ্য পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই পদ্ধতিটি সাশ্রয়ী কিনা তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোবরা-বিপিএস বাংলাদেশের প্রধান গবেষক ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, কোবরা-বিপিএস পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো এই ইন্টারভেনশনটি প্রচলিত সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসকদের মাধ্যমেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকগণ এই কোবরা-বিপিএস কৌশলের প্রতি তাদের উৎসাহ দেখিয়েছেন।
অধ্যাপক ডা. এসএম মুস্তফা জামান বলেন, উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস হলে সারাজীবন ব্যাপী চিকিৎসা নিতে হয় অন্যথায় রোগী ধীরে ধীরে শারীরিক অক্ষমতার দিকে যেতে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে। এর জন্য একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন যেখানে রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যের ওষুধ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী ও দরিদ্র রোগীরা যেন সারাজীবন চিকিৎসা চালিয়ে  যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে এমন একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রণয়নে কাজ করছে যা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসকদের সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনে ডা. আলিম বলেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের মৃত্যু এবং অসুস্থতার হার কমাতে বাংলাদেশ সরকার একটি পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো এবং অসংক্রামক রোগের স্বাস্থ্যসেবাকে আরো উন্নত করা এই পরিকল্পনার অংশ। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, কোবরা-বিপিএস একটি সহজ পদ্ধতি যা বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যসেবায় স্বল্প বিনিয়োগে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইনডিপেন্ডেন্ট কমিশনের সহ সভাপতি ডা. সানিয়া নিশতার সকল স্তরের জনগণের মধ্যে উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগের সেবা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিদেশি বাচ্চা বলে প্রতিবেশীরা জুতা ফিক্যা মারে by মরিয়ম চম্পা

এটা শুধু একদল নারীর স্বপ্নভঙ্গের গল্প নয়। তাদের নিয়তি আর জীবন কীভাবে তছনছ হয়ে গেছে সে গল্প। অসহ্য আর দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে ফিরছে ওরা। বিমানবন্দরে নেমেই ভেঙে পড়ছে কান্নায়। কেউবা লজ্জায় মুখ ঢাকছে। বিদেশ ফেরত নারীদের জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম চম্পা
তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের বাস্তায়। বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে থাকেন।
১৫ বছর বয়সে একই এলাকা চাষীনগরের রাজমিস্ত্রি আবুলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় বিয়ের পরপরই তাকে ডিভোর্স করিয়ে নিয়ে আসেন রিকশাচালক বাবা। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। জন্মের পর থেকেই অভাব-অনটন দেখে বড় হয়েছেন। একবেলা খেয়ে থাকেন তো দুই বেলা না খেয়ে। বৃদ্ধ বাবা অনেক কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল বাইতে বাইতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বাবার কষ্ট সইতে না পেরে একসময় সিদ্ধান্ত নেন বিদেশ গিয়ে অনেক টাকা কামাই করে পরিবারের দুঃখ কষ্ট দূর করবেন। স্থানীয় দালাল কাশেমের সহায়তায় ২০১৪ সালের শুরুর দিকে জর্ডান যান। কিন্তু সেখানে একটি চক্রের হাতে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন-নিপীড়নের শিকার হন। যার ফলে জন্ম নেয় তার গর্ভের এই সন্তান।
কথা প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, প্রথমে যে বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতাম সেখানে বেতন ধরা হয় ১৫ হাজার টাকা। এরই মাঝে দেখা হয় পূর্বপরিচিত মানিকগঞ্জেরই আরেক মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে। সে জানতে চায় বেতন কত। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতন শুনে নাক সিটকে বলে আমার কাছে চলে আয় অনেক বেশি টাকা বেতনে তোকে কাজ জুটিয়ে দিবো। সে তাকে কাজ দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখেন পাঁচ তলা বাড়ির পুরোটাই ভাড়া নিয়েছে সোনিয়া। সেখানে তার মতো আরও ২০ জন মেয়ে আছে। এতগুলো মেয়ে একসঙ্গে থাকার কারণ জানতে চাইলে সোনিয়া জানায়, তারা যে কাজ করে, তাকেও একই কাজ করতে হবে। কী কাজ। জবাবে সোনিয়া বলেন পতিতাবৃত্তির কাজ। এ কথা জানার পরে চলে আসতে চাইলে সোনিয়া তাকে আটকে রাখে।
এরপর অন্য মেয়েদের মতো তাকে দিয়ে চলতে থাকে অসামাজিক কাজ করানোর চেষ্টা। রাজি না হওয়ায় চলে শারীরিক নির্যাতন। একের পর এক পুরুষ মানুষকে সঙ্গ দেয়ার কাজ। প্রতিদিনই ৪-৫ জন করে পুরুষ মানুষ আসতো। এরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিল। ইন্ডিয়ান, বাংলাদেশি, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কান। টাকাতো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না তাকে। সোনিয়া প্রায়ই তাকে ইনজেকশন দিতো। কেন দিতো জানতো না। হঠাৎ তার শরীর খারাপ লাগতে থাকে। ভয়ে কাউকে কিছু জানায় না সে। এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে সোনিয়া তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর দু’মাস জেলখানায় থাকেন। পরে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গত ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন তিনি। কিছুদিন বাদে তার হাত পায়ে পানি চলে আসে। এসময় তার মা তাকে প্রথমে কবিরাজের কাছে পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার আল্ট্রাসোনোগ্রাম করে জানান তার মেয়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মা ডাক্তারকে বলেন বাচ্চাটা নষ্ট করা যাবে কি না। তখন ডাক্তার জানায়, ৬ মাসের বাচ্চা নষ্ট করতে অনেক টাকা লাগবে। আর সে সিদ্ধান্ত নেয় বাচ্চা নষ্ট করবেন না। পরবর্তীকালে ঈদের পর সিঙ্গাইরের একটি হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। মেয়ের বয়স এখন দেড় মাস। মেয়ে দেখতে বিদেশিদের মতো সুন্দর। বাচ্চার বাবা সম্পর্কে বলেন, ওর বাবাতো ইন্ডিয়ান। সে হিন্দিতে কথা বলতেন। তবে জর্ডানে থাকেন। তার নাম গর্জিত।
তিনি বলেন, বাচ্চা জন্মের আগে মানুষের অনেক অপমান বাজে কথা সহ্য করতে হয়েছে। এখন নতুন আরেক অশান্তি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরের একপর্যায়ে বাচ্চার গায়ে জুতা ছুড়ে মারে। অল্পের জন্য বাচ্চার কপালে লাগেনি। তারা প্রায়ই গালি দিয়ে বলে বিদেশি বাচ্চা নিয়ে দেশে আসছে। বাপ ছাড়া বাচ্চা। আবার বড় বড় কথা কয়। লজ্জা শরমের মাথা খাইছে। বাবা-মা বলেন, তোর বাচ্চা যে বাঁচিয়ে রাখছি এটাতো অনেক বড় ভাগ্য। তবে স্থানীয় পুলিশ সুপার ও ওসি মিলে বাচ্চার খাওয়া খরচ বাবদ টাকা দিয়ে সাহায্য করছেন। বড় হয়ে বাচ্চা তার বাবার পরিচয় জানতে চাইলে কি বলবেন জবাবে বলেন, বলবো তোর বাবা এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে।

শিক্ষিকা যখন প্রেমিকা



পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষিকা এলিনর উইলসন (২৯)। তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌনতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এ অভিযোগ শুধু অভিযোগ আকারেই থাকে নি। তা চলে গেছে আদালত পর্যন্ত। এখন এলিনরকে এ অভিযোগে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তিন বছর আগে তিনি স্কুল ট্রিপে গিয়ে আফ্রিকা থেকে ফিরছিলেন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে। ফেরার পথেই বিমানের ভেতরে তার শিকারে পরিণত হয় ওই শিক্ষার্থী।
তিনি তাকে বিমানের টয়লেটে নিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ওই সময় এলিনর তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, তিনি জন্মবিরতিকরণ ইঞ্জেকশন ব্যবহার করছেন। কিন্তু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলিনর। তার বাসা বৃটেনের গ্লুসেস্টারশায়ারের ডুর্সলেতে। অভিযোগ আছে, প্রথমে তিনি বিমানের আসনে বসে ওই ছাত্রকে যৌন উত্তেজিত করেন। আসনে বসেই অনেকদূর অগ্রসর হন। এরপর তাকে তিনি টয়লেটে নিয়ে যান। এর কিছুদিন পরে তিনি ওই ছাত্রকে বলেন, তার সঙ্গে ওই যৌন সম্পর্কের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন এবং তাকে গর্ভপাত করাতে হবে।
আদালতে নিজের বক্তব্যে ওই ছাত্র বলেছে, আমি তার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি বিমানের ওই ঘটনায় কোনো অনুশোচনা বোধ করেন কি-না। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, তার কোনো অনুশোচনা নেই। অনিরাপদ ওই সম্পর্ক নিয়ে আমি আতঙ্কিত ছিলাম।
এখানেই সব শেষ হয়ে যায় নি। ওই ছাত্রকে নিয়ে এলিনর গ্লুসেস্টারশায়ারের টিনটার্ন অ্যাবে, ব্রিস্টলের অ্যাশটন কোর্ট এস্টেটে ডেটিং করতে গিয়েছেন। এ বিষয়ে ওই কিশোর বলেছে, এসব ঘটনার পর ওই শিক্ষিকা তার কাছে আর একজন শিক্ষিকা ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার প্রেমিকা হয়ে। এই বয়সী একজন নারী। তার আছে বড় ডিগ্রি। চমৎকার বাড়ি ও গাড়ি। তার এমন সান্নিধ্য পেয়ে ওই বালক অভিভূত হয়ে পড়ে। এলিনরের একজন প্রেমিক আছে। তার সম্পর্কে তিনি ওই কিশোরকে বলেছেন। তাকে বলেছেন, প্রেমিক পুরুষের সঙ্গে তিনি সুখী নন। সে তাকে নির্যাতন করে।

হেফাজতের গন্তব্য কোথায়?

অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতের উত্থান অনেকটা নাটকীয়। গণজাগরণ মঞ্চের কাউন্টার হিসেবেই আবির্ভাব ঘটেছিল কওমি মাদরাসাভিত্তিক এই সংগঠনটির। পাঁচ বছর আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে বড় শোডাউন করে আলোচনার শীর্ষে পৌঁছায় হেফাজত। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিতাড়িত হয় শাপলা চত্বর থেকে। সে সময় সংগঠনটি দাবি করেছিল, তাদের বহু কর্মী এ অভিযানে নিহত হয়েছেন। শাপলা অধ্যায়ের পর স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে হেফাজতের অনেক নেতাকর্মীকেই প্রকাশ্যে বিএনপি জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের অবস্থান ছিল তখন পুরোই বিপরীতমুখী।
কিন্তু ধীরে ধীরে সে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাই হাটহাজারীতে হেফাজত হেডকোয়ার্টারে যাতায়াত বাড়াতে থাকেন।
হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফী ও তার ছেলে আনাস মাদানীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে ক্ষমতাসীন মহলের। হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রমও থেমে যায়। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়। সর্বশেষ হেফাজতের সবচেয়ে বড় দাবি, কওমি সনদের স্বীকৃতিও দেয়া হয়।
এতকিছুর পরও হেফাজতের রাজনৈতিক অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া যাচ্ছিলো না। তবে চলতি সপ্তাহে তা মোটামুটি খোলাসা হয়ে গেছে। সোমবার হাটহাজারীতে এক অনুষ্ঠানে হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর দেয়া বক্তব্য এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, কেউ কেউ বলেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। তারা কমবখত (নির্বোধ), তারা মিথ্যা কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এমনি মহব্বত করে কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ হই নাই। সেটা আপনাদের ভুল ধারণা। কী করে বলতেছেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি? আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও কোনো আপত্তি নাই।
কারণ, আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন এমন মানুষ আছেন, যারা দ্বীনকে ভালোবাসেন। তারা আমাদেরকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মাদরাসায় সাহায্য করেন। আল্লামা শফী আরো বলেন, আমাদের বিরাট উপকার করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি কথা দিয়েছিলেন কওমি স্বীকৃতি দেবেন। কত জনে কত কথা বলেছেন, সেদিকে লক্ষ্য করেননি; স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি শেখ হাসিনার শুকরিয়া আদায় করছি। এ সময় তিনি সবাইকে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান। এর আগে শনিবার ঢাকায় হেফাজতপন্থিদের এক সমাবেশে সরকারদলীয় দুইজন এমপি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীকেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। মূলত তাবলীগ ইস্যুতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তাবলীগের একটি অংশের নেতারা বলছেন, এটি ছিল মূলত হেফাজতের নির্বাচনী সমাবেশ।
হেফাজত অবশ্য সবসময়ই রাজনৈতিক সংশ্রব অস্বীকার করে আসছে। সংগঠনটির নেতারা বলে আসছেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। যদিও হেফাজতের অনেক নেতাই বিভিন্ন ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এসব সংগঠন অবশ্য সময়ে সময়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে হেফাজতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা রয়েছে। অনেক প্রগতিশীল ব্যক্তি এ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তবে ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্ব থাকার কারণে দুই জোটের পক্ষ থেকেই হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা চলছে অনেকদিন ধরে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ছাড়াও বিএনপি’র নেতাদেরও হাটহাজারীতে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিরাও হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক বছরে হেফাজতে দুটি ধারা গড়ে ওঠেছে। একটি ধারা সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পক্ষপাতী। হেফাজত আমীরের পুত্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছেন। পিতাকেও তিনি এ ব্যাপাারে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আনাস মাদানীর প্রভাবেই গত কয়েক বছরে হাটহাজারীতে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে।  অন্যদিকে, হেফাজতেরই আরেকটি অংশ শাপলা চত্বরের ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী মনে করে। এ অংশটি বিএনপি’র সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় বরাবরই আগ্রহী। এ অংশে হেফাজতের অনেক শীর্ষ স্থানীয় নেতাই রয়েছেন। তবে এ অংশটি এখন অনেকটাই কোনঠাসা। ঘরে-বাইরে নানা চাপ রয়েছে তাদের ওপর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যেভাবেই দেখা হোক না কেন ভোটের রাজনীতিতে হেফাজতের এক ধরনের প্রভাব রয়েছে। আগামী নির্বাচনে সংগঠনটির ভূমিকা এখন অনেকটাই খোলাসা হয়ে গেছে। তবে নেতাদের ভূমিকা আর তৃণমূলের ভূমিকা এক হয় কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কৃষকের মেয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ

ভারতের কৃষক পিতা ও গৃহিণী মায়ের মেয়ে গীতা গোপীনাথ হচ্ছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ (চিফ ইকোনমিস্ট)। তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে আইএমএফ। তবে তিনি এখনই এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন না। তাকে দায়িত্ব পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ওই পদে আছেন মরিস ওবস্টফেল্ড। তার মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের শেষে। তখনই ওই পদে বসবেন গীতা। সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে আইএমএফ।
গীতাকে এ পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন আইএমএফের বর্তমান চেয়ারওমেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লগার্ড। এ সময় তিনি গীতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ক্রিস্টিন লগার্ড বলেন, বিশ্বের অসাধারণ একজন অর্থনীতিবিদ হলেন গীতা গোপীনাথ। তার রয়েছে অসাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা। এ ছাড়া তার আছে চৌকস নেতৃত্বের রেকর্ড। আছে বিশাল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। আর এসব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ব্যতিক্রম। তার এই সবকিছুর সমন্বয়ে আমাদের রিসার্স ডিপার্টমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ করতে পারবে। তার মতো একজন মেধাবীর নাম আমাদের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে ঘোষণা করতে পেরে আমি উদ্বেলিত।
এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো নারী হিসেবে এবং দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এ পদে অভিষিক্ত হচ্ছেন গীতা। এর আগে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন। গীতা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ইকোনমিক্সের জন জানস্ত্রার প্রফেসর। এ ছাড়া তার আরো একটি পরিচয় আছে। তা হলো তিনি পড়াশোনা করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও। তিনি ২০০১ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন। এ সময় তার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন কেনেথ রগঅফ, বেন বার্নানকে ও পিয়েরে অলিভার গুরিনচাস। ২০০১ সালেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে। তবে এরপর সেখান থেকে ২০০৫ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন হার্ভার্ডে। সেখানে তিনি ২০১০ সালে স্থায়ীভাবে প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পান। এর মধ্য দিয়ে তিনি হার্ভার্ডের অর্থনীতি বিভাগের ইতিহাসে এমন দায়িত্ব পালনকারী তৃতীয় নারীতে পরিণত হন। এর আগে এ পদে ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর অমর্ত্য সেন। তার পরে গীতাই কোনো প্রথম ভারতীয়, যিনি এ পদের অধিকারী হন।
আইএমএফের বিবৃতি অনুযায়ী, গীতা গোপীনাথ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একজন ভারতের প্রবাসী নাগরিক। তিনি আমেরিকান ইকোনমিক রিভিউয়ের সহ-সম্পাদক। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্সের দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যাক্রোইকোনমিক্স প্রোগ্রামের সহ-পরিচালক। বর্তমানে ‘হ্যান্ডবুক অব ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স’-এর সহ সম্পাদক তিনি। আইএমএফের সাবেক ইকোনমিক কাউন্সেলর কেনেথ রগঅফের সঙ্গে তিনি লিখেছেন এটি। এ ছাড়া গীতা গোপীনাথ প্রায় ৪০টির মতো গবেষণা বিষয়ক প্রবন্ধ লিখেছেন। এর বিষয় মুদ্রা বিনিময়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অর্থ সংকট, নজরদারি বিষয়ক নীতি, ঋণ ও উদীয়মান বাজারের সংকট।
গীতা গোপীনাথের জন্ম ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মালয়ী পিতা-মাতার ঘরে। তিনি পড়াশোনা করেছেন কলকাতায়। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন দিল্লিতে অবস্থিত লেডি শ্রীরাম কলেজ অব কমার্স থেকে। দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে সম্পন্ন করেছেন মাস্টার্স।
তার পিতা টি ভি গোপীনাথ একজন কৃষক। এবং মা গৃহিণী। দুজনেই কেরালার কান্নুর জেলার অধিবাসী। গীতা বিবাহিতা। তার স্বামীর নাম ইকবাল সিং ঢালিওয়াল। তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজিতে অর্থনীতি বিভাগে আবদুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক।

চট্টগ্রামে তিন হাজার এনজিও গায়েব! by ইব্রাহিম খলিল

বেকারত্ব্ব দূরীকরণ, ঋণ প্রদান, প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বয়স্ক শিক্ষা ও বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের জীবনমান উন্নয়নসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজের কথা বলে একের পর এক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) নিবন্ধন নিয়েছিল ওরা। কিন্তু এসব এনজিও সংস্থার তিন হাজারই গায়েব চট্টগ্রামে। এদের নেই কোনো অফিস ও ঠিকানা। নেই মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যক্রম। শুধু সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন তালিকায় আছে এসব এনজিও সংস্থার নাম। বছরের পর বছর হদিস না থাকলেও এসব সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করছে না সমাজসেবা অধিপ্তর।
শুধু তাই নয়, প্রতি অর্থবছরে এসব এনজিও সংস্থার আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার নিয়ম থাকলেও তা করছে না সমাজসেবা অধিদপ্তর। বরং এসব এনজিও সংস্থার কোনো কোনোটির প্রকল্পের নামে প্রতিবছর সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে নানা কৌশলে তা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বিভাগের ২ হাজার ৯৫৯টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও শুধুই নামসর্বস্ব। এসব সংস্থার বেশির ভাগেরই কোনো ঠিকানা বা কার্যক্রম নেই। নিয়ম থাকলেও এসব সংস্থার আর্থিক কার্যক্রমের কোনো নিরীক্ষা হয় না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব সংস্থার নামে প্রকল্প বরাদ্দ দেখিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সক্রিয় এনজিও সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিভাগীয় সমাজসেবা অফিসের পরিসংখ্যানেও গায়েবী এসব সংস্থার তালিকা পাওয়া গেছে। তবে তা নিষ্ক্রীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের অফিস বা ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ার কথা অফিসের লোকজন মুখে স্বীকার করলেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন নেই।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক হাসান মাসুদ এই দায়ভার চাপিয়ে দেন জেলা-উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ওপর। তিনি বলেন, এনজিওগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে জেলা-উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেকগুলো এনজিও’র নিবন্ধন বাতিলের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবের ওপর আমরা শুনানি করছি। তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। নিষ্ক্রীয় এনজিওগুলোর নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি, ১৯৬২ অনুযায়ী এনজিওগুলোর নিবন্ধন দেয়া হয়। ইতোমধ্যে নিবন্ধন নিয়ে অনেক এনজিও গায়েব হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে ৯ হাজার ৬১৬টি। এরমধ্যে নিষ্ক্রীয় রয়েছে ২ হাজার ৯৫৯টি। বাকি ৬ হাজার ৬৫৭ সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রীয় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। জেলায় নিবন্ধিত ৩ হাজার ১৬৮ সংস্থার মধ্যে ৮২৮টি নিষ্ক্রীয়।
এছাড়া কক্সবাজার জেলায় ৫০, রাঙ্গামাটিতে ৫৫, খাগড়াছড়িতে ১০২, বান্দরবানে ৫১, নোয়াখালীতে ৪২৪, ফেনীতে ২৬৬, লক্ষ্মীপুরে ১০০, কুমিল্লায় ৩৮১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৮৫ ও চাঁদপুরে ৩১৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে নিষ্ক্রীয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা অফিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে অনেক সংগঠন-সমিতি ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক এনজিও’র মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম না থাকলেও প্রকল্প বরাদ্দ পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক এনজিও’র কোনো খোঁজ খবরই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক এনজিও কী কাজ করে, কবে নিবন্ধন নিয়েছিল, সে ব্যাপারেও কোনো তথ্য নেই। শুনানির জন্য নোটিশ দিলে উপস্থিত হয় না তারা।
শহিদুল ইসলাম বলেন, ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এনজিও ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে অনুমোদন নিতে হয়। সুতরাং সমাজসেবা অফিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
আর মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে নিষ্ক্রীয় এনজিও’র পক্ষে বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই।
কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরে পরিচালিত এনজিও সংস্থা ঘাসফুলের এক কর্মকর্তা জানান, সমাজসেবা থেকে ক্লাব, সমিতি ইত্যাদি সংগঠন নিবন্ধন নেয়। এসব সংগঠন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রকল্প বরাদ্দ নিতে নানা তদবির করছে।
তিনি জানান, নিষ্ক্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে হয়তো কয়েকটা এনজিও রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্লাব, সমিতি এসব। কর্তৃপক্ষের উচিত, ঢালাওভাবে সবগুলোকে এনজিও না বলে অবকাঠামো ও কার্যক্রম অনুযায়ী কোনটি এনজিও কোনটি সংগঠন-সমিতি নির্ধারণ করে দেয়া। এতে করে অনিয়মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনারদের জানিয়ে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চার কমিশনারকে না জানিয়ে নথি উপস্থাপনের বিষয়ে নোট দেয়ার পর নয়া নির্দেশনা জারি করেছে ইসি সচিবালয়। এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উপস্থাপনের আগে তা চার কমিশনারকে অবহিত করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
এ আদেশের ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে নথি উপস্থাপন করতে হবে ইসি সচিবালয়কে। ইসি’র সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়- ইসি সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বিধি-বিধান, রীতি, পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। সচিবালয়ের কিছু কিছু কার্যক্রম ইসি সচিবালয় আইন ও কার্যপ্রণালী বিধিমালা এর বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে, যা চার নির্বাচন কমিশনারের নজরে এসেছে। এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালন করে ইসি সচিবালয়ের সব কাজ পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা দিয়েছেন। আইন-বিধি যুক্ত করে এ অফিস আদেশে আরো বলা হয়েছে, শাখা হতে কোনো বিষয়ে নথি উপস্থাপনকালে তা কোন পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে তা নথিতে উল্লেখ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন বরাবর কোন নথি উপস্থাপন হবে তা কার্যপ্রণালী বিধির তফসিলে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বরাবর উপস্থাপিতব্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে এ বিধির ৩(৫) অনুসরণ করতে হবে। মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব বরাবর এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগ উঠেছিল, ইসি সচিবালয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব ছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করা হয় না। কিছু কিছু কার্যক্রমে ‘বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে’ উল্লেখ করে চার নির্বাচন কমিশনারের আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোট দিয়েছিলেন। ওই নোটে বলা হয়,  যে পদ্ধতিতেই নিষ্পত্তি করা হউক না কেন বিধির ৪ (৪) উপ-বিধি মতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়াদি নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
এক মাস পর সিইসি’র কক্ষে চার কমিশনার: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে গিয়ে প্রায়শ আলোচনার রেওয়াজ ছিল কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসিতে। তবে ইভিএম নিয়ে আরপিও সংস্কার সংক্রান্ত ৩০শে আগস্টের কমিশন  বৈঠকের পর ৫ সদস্যের ইসিতে সিইসি’র কক্ষে ঘরোয়া বৈঠক হয় নি বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা। প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার বিকালে সিইসি’র কক্ষে চার নির্বাচন কমিশনার একসঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এটা ছিল পিউরলি ঘরোয়া আলোচনা। আমরা অনেক ইস্যু নিয়ে নিজেরা আলোচনা করেছি। আপনারাই  আমাদের বিষয়টি (ইউও নোট) নিয়ে অস্বস্তি দেখছেন। আসলে আমরা তো অস্বস্তিতে নেই। আগেও অনানুষ্ঠানিক এভাবে আমরা বসতাম; আজও বসেছি।

ঐক্যের আহ্বান কাদেরের, সিপিবি বাসদের ‘না’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গতকাল তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বলেন, যে বামপন্থিরা ইতিমধ্যে উচ্চারণ করেছেন, সামপ্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আমরা নাই। আসুন, আমরা মিনিমাম পয়েন্টে ম্যাক্সিমাম ইউনিটি গড়ে তুলি। তার এ আহ্বানের প্রেক্ষিতে সিপিবি ও বাসদের নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোট বা ঐক্য করার কোন পরিকল্পনা নেই। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম-এল) এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ বামপন্থিরা কেন এই এক স্লোগানে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন না? প্রশ্ন উত্থাপন করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আপনাদের দুর্বল করে দিচ্ছে। আমাকে ভুল বুঝবেন না।
অহেতুক অকারণেও ভাঙন অনেক সময় লক্ষ্য করি।
নেতৃত্বের জন্য ভাঙন। এটা লক্ষ্য করি। এটা তো বামপন্থিদের ত্যাগের যে ইতিহাস, সে ইতিহাসের সঙ্গে কোনো মিল নেই। ভুল করতে করতে খুব ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ১৪ দলের নেতাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি। এবিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কমরেড খালেকুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একসঙ্গে পাশাপাশি সিটে থাকতাম। তার সঙ্গেও এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমার একটি বিষয়ে ভালো লাগে, একটা জায়গায় এক সুরে কথা বলছেন বামপন্থিরা। সেটা হচ্ছে সামপ্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আমরা নাই। এই উচ্চারণ এর মধ্যে অনেকেই করেছে। ‘তাই এই উচ্চারণ যারা করেছে, আসুন না আমরা মিনিমাম পয়েন্টে ম্যাক্সিমাম ইউনিটি গড়ে তুলি। অসুবিধাটা কোথায়- উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন ৮দলীয় জোটের অনেকে আমরা একসঙ্গে ছাত্ররাজনীতি করেছি। আসুন আমরা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এই প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হই।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধানদের রোল মডেল হতে পারেন। শেখ হাসিনার এই উচ্চতা, বাংলাদেশের উচ্চতা। এই উচ্চতা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুই একটা দল আছে, তারা যতটা না আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী তারচেয়ে বেশি শেখ হাসিনা বিদ্বেষী। তারা আওয়ামী লীগকে নয়, শেখ হাসিনাকে হঠাতে চায়। এখন পর্দার অন্তরালে দেশে-বিদেশে যেসব চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্তের মূল টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করারও পাঁয়তারা আছে। ২০ বার তো অ্যাটেম্প নিয়েছিল। ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবারো তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অপরিহার্য দাবি করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাঙালির আস্থার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন।
বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন তারা যেন সামান্য রাজনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি অথবা অভিমানের বশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দুর্বল না করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরাও জাতীয় ঐক্য চাই। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই সামপ্রদায়িক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে। নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এদেশের জন্মের যে চেতনা, এই চেতনা নিয়ে আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের পর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মামলা করার দিকটি তুলে ধরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে মামলা হোক, এটা আমরা চাই না।
এখন যে মামলা হয়েছে, পুলিশ বলছে তারা নাশকতার ছক আঁকছে আন্দোলনের নামে। পুলিশ বলছে, তারা ২০১৪ সালের মতো সন্ত্রাসী তৎপরতা তৈরি করতে গোপনে গোপনে  বৈঠক করছে। এই তথ্য তো আমি জানি না, জানবে পুলিশ, জানবে গোয়েন্দা সংস্থা। এ ধরনের অভিযোগে যদি কারও বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করে- এটা কি হয়রানিমূলক মামলা হবে? নিরপরাধ হলে আদালতে যান, আদালতে গিয়ে ফয়সালা করুন। বিচার চান। স্বাধীনতা আছে। জামিনও হয়। বেগম জিয়ার ৩০ মামলার জামিন কি হয়নি! আমরা বারবার একই কথা বলছি, আমরা একটা অর্থবহ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চাই। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার কোনো চিন্তা আমাদের নেই। ভাবসাব দেখছেন খারাপ, আপনি আসবেন না? জনসভা ডাকছেন, মারামারি-হাতাহাতি। বেগম জিয়ার খালি চেয়ার। আর ফখরুল সাহেব যখন বক্তব্য দিচ্ছেন তখন সেলফি?  বিএনপি’র সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুমকিকে পরোয়া না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১০ বছর পারেননি আর এক মাস আছে। এক মাসে আপনারা কি আন্দোলন করবেন- সবাই জানে? সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরণ রায়, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সহ সাম্যবাদী দলের নেতারা।
সিপিবি-বাসদের ‘না’
ওদিকে বিডি নিউজ জানায়,  বিএনপি নেতাদের নিয়ে সমাবেশ করা জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বামদের নিজেদের জোটে পাওয়ার যে আহ্বান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রেখেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করলেন সিপিবি-বাসদের নেতারা। সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, ‘আগে বিএনপিও দুঃশাসন করেছে, এখন আওয়ামী লীগের দুঃশাসন। এই দুই দলের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে না।’ বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জোট করার ইচ্ছা, পরিকল্পনা বা কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নাই।’ একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দুই বাম নেতা একথা বলেন। সিপিবি নেতা প্রিন্স বলেন, ‘উনি ঐক্যের আহ্বানে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি সাংঘর্ষিক অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলছেন, ঐক্য চাই সামপ্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেই এখন সামপ্রদায়িক শক্তিকে লালন করছে। স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা বলেছেন। রাজাকারদের বিচার হয়েছে ঠিক, কিন্তু এখনো তাদেরকে নিষিদ্ধ করেনি। তিনি বলেছেন, নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্য চান। আমরা তো দেখি নষ্ট রাজনীতি কিংবা দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হয়েছে এখনকার আওয়ামী লীগ।
তিনি বলতে চেয়েছেন যে ঐক্য চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই সরকারের আমলে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে গেছে। আগে ছিল হাওয়া ভবন, এখন ঘরে ঘরে খাওয়া ভবন। তিনি ঐক্যের আহ্বান জানাতেই পারেন। কিন্তু সিপিবি এখন লড়াই করছে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। প্রিন্স বলেন, ‘দ্বিদলীয় জোটের বাইরে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। আমরা জনগণের ঐক্যের উপর ভরসা করি। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা নিজেরাই একটা জোটে আছি। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জোট করার ইচ্ছা, পরিকল্পনা বা কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নাই। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো কথা কিংবা যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান তিনি।

মধ্য অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, আলোচনায় যারা by দীন ইসলাম

মধ্য অক্টোবরে গঠিত হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার। ১৭ বা ১৮ই অক্টোবর সম্ভাব্য তারিখ ধরে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বঙ্গভবনে। বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, সহসাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই নির্বাচনকালীন সরকারের শপথের সিডিউল চূড়ান্ত করা হবে। প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮, ৯ ও ১০ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন। এরপর ১৪ই ও ১৫ই অক্টোবর নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন। দেশের এসব কর্মব্যস্ততা ছাড়াও ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ২২শে অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে যাবেন প্রেসিডেন্ট। ফেরার কথা রয়েছে ২৬শে অক্টোবর। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা গত মাসে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, টেকনোক্রেট কেউ আসবে না, আকারটা ছোট হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকারের নীতি নির্ধারকরা। এবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভার সদস্য ২৫-এ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৩ সালের ২১শে নভেম্বর যে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা হয়েছিল, তাতে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ২৯ সদস্যের। এর বাইরে ছিলেন ১০ জন উপদেষ্টা। সব মিলিয়ে সরকারে ছিলেন ৩৯ জন। ৩৯ সদস্যের সেই সরকারে আওয়ামী লীগের দুই সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে অন্তর্ভুক্ত করে চমক দেখানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বাদ পড়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু ও খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জন। ওই সময় মন্ত্রিসভার সব সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুরনো কয়েকজনকে রেখে এবং নতুন যোগ করে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এবারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হতে পারে। এদিকে নিজেদের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকার হিসাব মেলাতে খোঁজখবর রাখছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শেষ সময়ে এসে গুছিয়ে নেয়ার কাজও শুরু করেছেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সরকারে থাকা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারেননি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি আছি মনে হয় ইন্টেরিম সরকার পর্যন্ত। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন এমন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের একাংশের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রেসিডেন্ট ও পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং কারিগরী ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। এছাড়া তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারিকেও মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে দেখা যেতে পারে। জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-এর চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় তার দলের নতুন তিন মুখকে দেখতে চান। এজন্য গত ৯ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাপার চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনির্ধারিত বৈঠক করেন।
জাপা সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে এরশাদ নতুন করে তার দলের তিনজনকে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় রাখার অনুরোধ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এরশাদকে জানিয়ে দেন যে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। তার সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রওশন এরশাদ নিজেও নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে থাকতে চান। গত শনিবার (নিউ ইয়র্ক সময় শুক্রবার) এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর (রওশন এরশাদ) সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। তারা যদি চান, আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।
তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল যদি চায়, তাহলে আমরা তাদের প্রতিনিধি নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি। তারা ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দল কি না, সেটা কোনো বিষয় না। তবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে এখানে কোনো সংজ্ঞা নেই।

‘দলিত-সমতল আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ জরুরি’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, দলিত ও সমতল আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘দলিত ও সমতলের আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সাংবাদিকদের এক ফেলোশিপ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে। প্রতিটা মানুষ সে ধনী হোক, গরিব হোক, আদিবাসী হোক কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হোক, মানুষ হিসাবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এক কথায় সমাজে সাম্যতা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধান প্রণয়নের সময়ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সংবিধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক এ উপদেষ্টা বলেন, সমতলের আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অধীন ‘স্পেশাল এফেয়ার্স ডিভিশন’ কাজ করে।
সেইসঙ্গে যেসব এলাকাতে দলিত ও সমতল আদিবাসীরা রয়েছে, সেসব এলাকার জেলা প্রশাসকদের সপ্রণোদিত হয়ে তাদের খোঁজখবর নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ বোরহান কবীর বলেন, আমাদের গণমাধ্যম অনেক বেশি এখন রাজনৈতিক আক্রান্ত হয়ে গেছে। সব সংবাদপত্রই এখন রাজনীতিতে ভরাক্রান্ত। কিন্তু আমি মনে করি সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক কথাবার্তা ছাড়াও প্রান্তিক মানুষদের কথা শুনতে চান। গণমানুষের কথা শুনতে চান। সবাই এখন সমাজের নিম্নবিত্তদের কথা শুনতে চান, তাদের স্বপ্নের কথা জানতে চান। গণমাধ্যমের দায়িত্বই হচ্ছে ঐসব প্রান্তিক মানুষদের কথা তুলে ধরা। যেন তাদের অধিকার সংরক্ষিত হয়। তিনি আরো বলেন, দলিত ও সমতল আদিবাসীরা স্কুলে কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে না। এমনকি ভালো কোনো রেস্টুরেন্টেও বসে খেতে পারে না। সবাই এখন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে আটকে আছে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’। এটা নিয়ে কেউই কোনো কথা বলে না। তাই দলিত ও সমতল আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ পাসের ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের আরো সোচ্চার হতে আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়াও গণমাধ্যমে গবেষণামূলক কাজের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, নির্দিষ্ট কিছু দিবসে কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা না ঘটলে প্রান্তিক ও বঞ্চিত এ জনগোষ্ঠীর খবরাখবর সাধারণত গণমাধ্যমে আসে না। সাংবাদিকতা হচ্ছে চেলেঞ্জিং পেশা। এটা হচ্ছে বুদ্ধিজীবীদের পেশা। সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠায় তাদেরই আগে এগিয়ে আসতে হবে। গাজী টেলিভিশন (জিটিভি)-র প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আমাদেরই তৈরি। যতদিন না আমরা আমাদের নিজ নিজ তাড়না থেকে দলিত ও সমতল আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে না আসবো ততদিন এ সমাজে কিছুতেই বৈষম্যতা দূর হবে না।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দলিত ও সমতল আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় নিয়মিত রিপোর্টিং ও ফিচার প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়াও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমসমূহ জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারে গণমাধ্যমগুলোর মালিক ও নীতিনির্ধারণী মহলকে অনুরোধ জানান বক্তারা।
সাংবাদিকদের ফেলোশিপ প্রোগ্রামে হেক্স/ইপারের প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রধান অয়ন দেবনাথসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কলেজছাত্রীকে নির্যাতনের পর চুল কর্তন ফেসবুকে নগ্ন ছবি

কুষ্টিয়ায় দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করার পর মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। এরপর ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে হুমকি দিচ্ছে প্রতারক স্বামী। একের পর এক হুমকির কারণে অতি দরিদ্র পরিবারের ওই কলেজছাত্রীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়ের পরিবারটিও এলাকায় একঘরে হয়ে পড়েছে। কেউ তাদের সঙ্গে মিশছে না, কথাও বলছে না। এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় প্রতারণার শিকার ওই কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের শাপলা চত্বর থেকে অভিযুক্ত নাজমুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্র্রতারণার শিকার ছাত্রী বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বি.বি.এ ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত।
ওই ছাত্রীর দেয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে কলেজে যাওয়া-আসার পথে জুগিয়া হাট পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন তাকে উত্ত্যক্ত করত। নাজমুল সে সময় ওই ছাত্রীর কাছে সংখ্যালঘু হিসেবে নিজের পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে নাজমুলের সাথে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২৪শে নভেম্বর নাজমুল ওই কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উপজেলার বটতৈল এলাকার স্থানীয় এক কাজীর কাছে নিয়ে  যায়। এ সময় নাজমুল তাকে বলে আমি মুসলমান তোমাকেও মুসলমান হতে হবে। মুসলমান পরিচয় জানতে পেরে ওই কলেজছাত্রী নাজমুলকে বিয়ে করতে এবং ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় নাজমুল এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাত নামা ৩-৪ জন তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আগে থেকে সম্পন্ন করে রাখা দুইটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং নোটারি পাবলিক দিয়ে মুসলমান হিসেবে হলফনামা করে এবং তাকে  বিয়ে করে। বিয়ের কাবিননামায় ওই ছাত্রীর বাবার প্রকৃত নাম পাল্টে লেখা হয় শেখ ইমতিয়াজ আলী এবং মায়ের নাম লেখা হয় আফরোজা বেগম মালা। যা ওই মেয়ের বাবা ও মা কিছুই জানে না।
এক পর্যায়ে ওই কলেজ ছাত্রী এবং তার দরিদ্র পরিবার বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং নাজমুলের সাথেই সংসার করা শুরু করে। বিয়ের এক-দেড় বছর পর কলেজ ছাত্রী জানতে পারে নাজমুল বিবাহিত, তার দুইটি সন্তান রয়েছে এবং সে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এ সব বিষয়ে নাজমুলকে জিজ্ঞাসা করলে ওই ছাত্রীর উপর চরম শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা চরমে পৌছালে সে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়। গত ২৬শে জুন নাজমুল ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়। ক্ষমা করার পর মন ভালো করার নাম করে নাজমুল বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া সাতবাড়ীয়া মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে এলাপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় শুরু করে। এক পর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেয় নাজমুল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে। আত্মীয়-স্বজনসহ পরিচিতদের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তপূর্বক দোষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে

ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গত এক বছরে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে দেশটির জনপ্রিয়তা কমেছে। কানাডা ও জার্মানির মতো দেশগুলোকে মৌখিক আক্রমণ দেশটিকে এ অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে একটি শীর্ষ জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে। ২৫টি দেশে জরিপ চালিয়ে এ সংস্থাটি জানিয়েছে, জরিপকৃত দেশের জনগণ রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের নেতা শি জিন পিং-এর সক্ষমতা থেকে ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়ে তুলনামূলক কম আস্থা রাখে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের অন্যতম কারণ হল, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প প্যারিস জলরায়ু চুক্তি, ইরানের পরমাণু শক্তি চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে, রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের মতো স্বৈরাচারী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমালোচনা করাও এর নেপথ্যে কাজ করে। এছাড়া জুন মাসে কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষরে অসম্মতি জানান। এ সময় সম্মেলনের আয়োজক কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে অসৎ এবং দুর্বল হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঠাট্টা করেন তিনি।
এরপরে লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি বাণিজ্য, অল্প নিরাপত্তা ও রাশিয়ার গ্যাসের উপর নির্ভশীলতার কারণে ক্রমাগতভাবে জার্মানিকে আক্রমণ করে গেছেন তিনি। গত সপ্তাহেও তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্যকালে হাসির পাত্র হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের অন্যসব নেতার থেকে গত দুই বছর ক্ষমতায় আসার পর তার অর্জন অনেক বেশি।
জরিপটিতে দেখা গেছে, ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় দুই বছরে এই অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে থাকে। বিশেষ করে ইউরোপে এ অবস্থাটা আরো তীব্র। জার্মানিতে ৩০ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের উপর সন্তুষ্ট। ফ্রান্সে ৩৮ শতাংশ, কানাডায় ৩৯ শতাংশ এবং রাশিয়ায় এ হার সবচেয়ে কম, ২৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উপর সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে ইসরাইল, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রয়েছে ৮০ ভাগ মানুষের। আর জরিপকৃত ২৫টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে তাদের। ৪৩ শতাংশ দেশের রয়েছে নেতিবাচক মনোভাব। সেপনে ৭ শতাংশ, ফ্রান্সে ৯ শতাংশ এবং জার্মানিতে ১০ শতাংশ মানুষের ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আছে। ২৫টি দেশের মধ্যে ২০টি দেশের মানুষই বলেছেন যে, তাদের ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি কোনো আস্থা নেই।