Wednesday, July 31, 2019

নিউ ইয়র্কে এমপি হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশি মেরি জোবায়দা by মনির হায়দার

নিউ ইয়র্কের সাবেক কংগ্রেসম্যান (সংসদ সদস্য) যোসেফ ক্রাউলি মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিচিত একটি নাম। সাবেক এই ডেমোক্রেট নেতা টানা প্রায় তিন দশক ধরে অনেকটা বাধাহীনভাবে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশের সচেতন মানুষদের কাছেও তিনি বেশ পরিচিত। কারণ দীর্ঘদিন তিনি মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের প্রধান ছিলেন। কিন্তু বটবৃক্ষ এই রাজনীতিক ২০১৮ সালে  জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেয়েছেন নিজের নাতনির বয়সী পুয়ের্তোরিকান বংশোদ্ভূত মেয়ে আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজের কাছে। ডেমোক্রেট প্রাইমারিতে এই বাচ্চা মেয়ের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর রেগেমেগে ক্রাউলি নিজের দীর্ঘদিনের দল ছেড়ে অন্য একটি নামসর্বস্ব দলের হয়ে লড়েছিলেন কংগ্রেসের মূল নির্বাচনে। কিন্তু সেখানেও তাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ইতিহাসের জন্ম দেন ওকাসিও। মার্কিন পার্লামেন্টের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।

এবার একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছেন নিউ ইয়র্কের আরেক বটবৃক্ষ ডেমোক্রেট রাজনীতিক। টানা সাড়ে তিন দশক ধরে রীতিমতো নির্বিঘ্নে নিউ ইয়র্ক রাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য থাকা ক্যাথেরিন নোল্যানের (ক্যাথে নোল্যান হিসাবেই পরিচিত) সামনে বিপদ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী মেরি জোবায়দা। এ নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এরই মধ্যে গরম হয়ে উঠেছে। ক্রাউলির পথ ধরেই বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছেন কিনা রাজ্য পার্লামেন্টে শিক্ষা কমিটির চেয়ার নোল্যান- সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত সাদা চমড়ার ক্যাথে নোল্যান ১৯৮৪ সাল থেকে টানা নিউ ইয়র্কের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্স-৩৭ (সংসদীয় এলাকা) এর এমপি।

আর গত দশ বছর ধরে পর পর পাঁচটি নির্বাচনে দলের ভেতরে কেউ তাঁকে চ্যালেঞ্জই জানায়নি। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ক্যাথে নোল্যানের জন্য রাজ্য পার্লামেন্টের এই আসনটি যেন স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া! এই অদ্ভুত ব্যাপারটিই নাড়া দেয় নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির বাসিন্দা বাংলাদেশি-আমেরিকান সমাজকর্মী মেরি জোবায়দাকে। এ কেমন গণতন্ত্র? ডেমোক্রেট প্রাইমারির ব্যালট পেপারে একটি মাত্র নাম, একজনই মাত্র প্রার্থী! বছরের পর বছর একই চিত্র। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবস্থা হলে সেটা গণতন্ত্রের প্রকৃত চেতনাকে ম্লান ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতেই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেললেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট মেরি। ক্যাথে নোল্যানকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন তিনি।

প্রার্থী হবেন ডেমোক্রেট প্রাইমারিতে। বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আলাপ তুলতেই পেয়ে গেলেন ব্যাপক সমর্থন। সবাই তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর নেমে পড়েন মেরি জোবয়াদা। এখন আর পেছন ফেরার কোনো অবস্থা নেই। ফিরতে চানও না তিনি। ঝানু রাজনীতিক ক্যাথে নোল্যানের সামনে সত্যিকার চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পুরোদমে তৎপর হয়েছেন এরই মধ্যে। ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠন, ক্লাব, এথনিক ও ধর্মীয় গ্রুপ থেকে শুরু করে সর্বত্র। আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে ডেমোক্রেট দলের প্রাইমারি বা দলীয় প্রার্থী বাছাই-পর্ব। তাতে নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্স-৩৭ আসনে এখন পর্যন্ত দু’জনই প্রার্থী। ক্যাথেরিন নোল্যান ও মেরি জোবায়দা। প্রাইমারি নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন তিনিই হবেন ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী। আর নিউ ইয়র্ক নগরীর আসনগুলোতে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হতে পারা মানে নিশ্চিতভাবেই জয়ী হওয়া। কারণ এখনকার আসনগুলোতে রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী দেয়া হয় কেবল মাত্র নিয়ম রক্ষার জন্য। দীর্ঘকাল ধরে খুব সামান্য ভোটই পেয়ে থাকেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা।

বলে রাখা ভালো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় আইনসভার মতো নিউ ইয়র্ক স্টেটেও দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নিম্নকক্ষ বা স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ১৫০টি আসন এবং উচ্চকক্ষ বা স্টেট সিনেটে ৬৩টি। যদিও নিউ ইয়র্ক স্টেটের সংবিধানে এটাকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হয়নি। স্টেট লেজিসলেচার বা রাজ্য আইনসভা সম্পর্কে সংবিধানে বলা হয়েছে যে, স্টেট সিনেট ও স্টেট অ্যাসম্বলির সমন্বয়ে রাজ্যের আইনসভা গঠিত হবে। রাজ্যের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সিনেটর ও অ্যাসেম্বলি সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর করে। প্রত্যেক জোড়সংখ্যার বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এই নির্বাচন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৬৩ আসনের সিনেটে ডেমোক্রেটরা বিজয়ী হয় ৩৯ আসনে এবং ১৫০ আসনের অ্যাসেম্বলিতে তাদের বিজিত আসন সংখ্যা ১০৬। রিপাবলিকানরা এখানে স্থায়ী বিরোধী দল।

নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ এর ভোটারদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। বাকিদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ হিসপ্যানিক (স্প্যানিষভাষী দক্ষিণ আমেরিকান), ১৪ শতাংশ এশিয়ান, ১০ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান-আমেরিকান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য। সবমিলিয়ে অশ্বেতাঙ্গ ভোটার প্রায় ৬২ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ক্যাথেরিন নোল্যানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নিশ্চিন্তে জিতে এসেছেন তিনি। দীর্ঘকাল পর এবারই প্রথম এক বাঙালি-মুসলিম তরুণীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়লেন। স্বাভাবিকভাবেই গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য মরিয়া তিনি। ডিস্ট্রিক্স-৩৭ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীর বসবাস। এ ছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম। এদের বড় অংশই মেরির প্রতি সমর্থন জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের অন্যতম প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের নিউ ইয়র্ক স্টেট ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালনকারী মৌমিতা আহমেদ এরই মধ্যে মেরি জোবায়দার জেনারেল কনসালট্যান্ট হিসাবে যোগ দিয়েছেন। নবাগত এই প্রার্থীর প্রতি কার্যকরভাবে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল তৈরির কাজ শুরু করেছেন তিনি।

এ কথা বলাই বাহুল্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূলের কমিউনিটি বোর্ড পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নির্বাচনই দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশি তথা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের জন্য বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এসব নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের নেতাদের কোনো ভূমিকাই থাকে না। প্রাইমারি নির্বাচন-পদ্ধতির মাধ্যমে দলগুলোর সাধারণ সমর্থকরাই ঠিক করেন মূল নির্বাচনে তাদের প্রার্থী কে হবেন। এমন অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেই রিপাবলিকান দলের কোনো নেতা না হওয়া সত্ত্বেও কেবলমাত্র একজন সমর্থক হিসাবেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নেমেছিলেন ব্যবসায়ী ডনাল্ড ট্রাম্প এবং শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থিতা লাভ তো বটেই এমনকি দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রেও কেউ আটকাতে পারেনি তাকে। ঠিক একইভাবে রাজনীতিতে ঠিকভাবে নিজের নাম লেখানোর আগেই কেবলমাত্র সাধারণ সমর্থকদের পছন্দের কারণে জোসেফ ক্রাউলির মতো বটবৃক্ষ-নেতাকে হটিয়ে প্রথমে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থিতা লাভ এবং পরে কংগ্রেসওম্যান হতে পেরেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ। একইভাবে অল্প বয়সেই মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন দুই অভিবাসী তরুণী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। বাংলাদেশি-আমেরিকান মেরি জোবায়দাও এখন মার্কিন গণতন্ত্রের সেই সৌন্দর্যের সুবাদে ক্যাথে নোল্যানের মতো হেভিওয়েট ডেমোক্রেট রাজনীতিককে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস খুঁজে পেয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই মেরি ডেমোক্রেট রাজনীতির একজন সমর্থক। কিন্তু কখনও কাঠামোগত নেতৃত্বে যাওয়ার চেষ্ট করেননি। সব সময় সক্রিয় থেকেছেন ইস্যুভিত্তিক নানা ধরনের সমাজকর্মে।

বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় জন্ম মেরি জোবায়দার। সেখানে স্কুলজীবন পেরিয়ে ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ও সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর বিয়ের সূত্রে ১৮ বছর আগে ছাত্রজীবনেই পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। এখানে এসেও পড়ালেখা অব্যাহত রাখেন। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়ে যান সাংগঠিনক কর্মকাণ্ডে। নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির অধীন লাগুয়ার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ স্টুডেন্ট গভর্নমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এপিআই লিডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটির কমিটি ফর চাইল্ড কেয়ারের সিনেটর ছিলেন। এরপর বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি বা এনওয়াইইউ থেকে মিডিয়া, কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভের পর কমিউনিটি ভিত্তিক সমাজকর্মের পাশাপাশি কর্মজীবনে পা রাখেন মেরি। নিউ ইয়র্কের পাবলিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার পরিবেশন ও ঈদের ছুটি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া আন্দোলন করছেন ধর্মীয় পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য। ইতিমধ্যেই দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দু’বছর আগে নিউ ইয়র্ক রাজ্য সরকার মুসলমানদের দুই ঈদের দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। মেরি বর্তমানে কাজ করছেন আরবান হেলথ প্ল্যান নেটওয়ার্কের আউটরিচ স্পেশালিস্ট হিসাবে। এই সংস্থায় তাঁর কাজটিও অনেকটা সমাজকর্মের মতোই। নিয়মিতই তাঁকে যেতে হয় সাধারণ মানুষের কাছে। বসতে হয় বিভিন্ন কমিউনিটি, এথনিক ও ধর্মীয় গ্রুপের সঙ্গে। এর আগে নিউ ইয়র্ক থেকে সম্প্রচার হওয়া বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টাইম টিভির প্রোগ্রাম হেড হিসাবেও কাজ করেছিলেন কিছুকাল। তাঁর স্বামী নিউ ইয়র্কের সুপরিচিত বাংলাদেশি সাংবাদিক আবু তাহের এই চ্যানেলটির উদ্যোক্তা।

মানবজমিন প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে তিন সন্তানের জননী মেরি জোবায়দা বলেন, মার্কিন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে এখানকার গণতন্ত্রকে আরো কার্যকর, আরো অর্থবহ করার উদ্দেশ্যেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থিতার দৌড়ে নেমেছেন। “এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখন দেশকে আমার দেয়ার পালা” বলেন তিনি। ইতিমধ্যেই নিজের নির্বাচনী এজেন্ডাগুলো সমর্থকদের সামনে হাজির করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম এজেন্ডা হলো, আইন সভার সদস্য তথা পাবলিক অফিসগুলোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সবমিলিয়ে ৮ বছরের বেশি এসব পদে থাকতে না পারার বিধান সম্বলিত আইন পাশের উদ্যোগ নেয়া, নির্বাচনে প্রার্থীদের পাবলিক ফাইনান্সিং নিশ্চিত করা, বর্তমানে চালু থাকা ৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটিকে এক বছরের প্যারেন্টাল ছুটিতে উন্নীত করা, ওয়ার্কিং প্যারেন্টদের জন্য ইউনিভার্সাল চাইল্ডকেয়ার সুবিধা চালু করা, পাতালরেল বা সাবওয়ে ব্যবস্থার দূষণ কমিয়ে পরিবেশ উন্নত করা এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ। প্রার্থীদের পাবলিক ফাইনান্সিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে এই সুবিধা না থাকায় প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে অনেক সময় কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এরপর তারা নির্বাচিত হলে সাধারণ জনগণের চেয়ে নির্বাচনী তহবিলের যোগানদাতাদের প্রতিই বেশি মুখাপেক্ষী থাকেন। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে কেবলমাত্র পাবলিক ফাইনান্সিং।ইতিমধ্যেই দাবিটি সামগ্রিকভাবে জোরালো হয়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান মেরি জোবায়দার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। নেতৃস্থানীয় অনেকেই তাঁর পক্ষে মাঠে নামার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের কাজেও যুক্ত হতে চাইছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী বাংলাদেশিদের বড় অংশটি নিউ ইয়র্কে বসবাস করলেও এখানকার মূলধারার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য নয়। কেউ কেউ ডেমোক্রেট দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এখনও সাফল্যের পালক যুক্ত হয়নি কারো। মেরি জোবায়দার হাত ধরে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা মিলবে এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় অংশ।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিন্ন দিক তুলে ধরলেন নারী ফটোগ্রাফাররা by মারি স্টার

লাস্ট আপডেট- ২৫ জুন ২০১৯: জুনে মিয়ানমার দেইত্তা গ্যালারিতে শুরু হতে যাওয়া একটি ফটোগ্রাফিক আর্ট এক্সিবিশনে ইয়াঙ্গুনের অল-ওম্যান ফটোগ্রাফি কালেকটিভ থুমা ও ঢাকাভিত্তিক একই দায়িত্বে থাকা কালির মধ্যকার সংস্কৃতি ও শিল্প বিনিময় কর্মসূচির ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
‘ব্রিজিং দি নাফ’ নামের এই ছবি প্রদর্শনীতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ফটোগ্রাফারদের ছবি রাখা হবে। ফটোগ্রাফাররা তাদের ফটোর মাধ্যমে দুই দেশের সমাজের পরিচিতি, সম্মান, আশা, সঙ্ঘাত ও গ্রহণযোগ্যতার মতো ইস্যু তুলে ধরেছেন।
থুমা কালেকটিভ হলো মিয়ানমারের ৫ নারী ফটোগ্রাফারের ফটোগ্রাফি কালেকশন। এসব ফটোগ্রাফারের লক্ষ্য ফটোগ্রাফির গল্পবলার দৃশ্যমান স্টাইল প্রবর্তন ও জনপ্রিয় করা। তারা চায় সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করতে, তাদের অনুষ্ঠানে হাজিরদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে। তারা নিজেদের ফটো সাংবাদিক নয়, বরং গল্পকথক হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
মিয়ানমারের দেইত্তা গ্যালারিতে ২১ জুন ২০১৯ তোলা ছবিতে থুমা কালেকটিভের শোয়ে উত মোনে (বাঁয়ে) ও ব্রিজিং দ্য নাফ প্রকল্পের মিয়ানমার অংশের নেতা ইউ ইউ মাইন্ত থান
কর্মসূচিটির মিয়ানমার পক্ষের প্রজেক্ট লিডার ইউ ইউ মিয়ন্ত থান বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে দুজন তথা একজন মিয়ানমারের ও একজন বাংলাদেশের ফটোগ্রাফার একসাথে কাজ করেছেন। এটি ছিল আমাদের উভয়ের জন্য একটি সফর। আমরা সমস্যার সুরাহা করেছি, সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপস করেছি। আমাদের হয়তো অভিন্ন বিষয়বস্তু ছিল, হয়তো বৈচিত্র্যও ছিল। তবে এভাবেই আমরা সাংস্কৃতিকভাবে, সামাজিকভাবে ও শৈল্পিকভাবে বিনিময় করেছি।
প্রজেক্টটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল এভাবে যে বাংলাদেশী ফটোগ্রাফাররা কয়েকটি ইভেন্টের জন্য প্রথমবারের মতো ইয়াঙ্গুন সফর করবে। তারা সেখানে মিয়ানমারের ফটোগ্রাফারদের সাথে ফটোগ্রাফি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করে দেবে। তারপর মিয়ানমারের ফটোগ্রাফারা একই পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবে।
থুমা কালেকশনের অপর সদস্য ওয়াট হম বলেন, আমরা প্রতিবেশী হলেও আগে কখনো বাংলাদেশ যাইনি, তারাও এখানে আসেনি। আসলে এই প্রথম আমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হচ্ছি। এই প্রকল্পের মৌলিক ধারণা হলো দৈহিক বিনিময়।

অবশ্য কালি কালেকটিভের ফটোগ্রাফাররা ইয়াঙ্গুন সফরের পর থুমার সদস্যরা ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ব্যাপক প্রশ্নের পর এবং তারা সফরকালে কোনো ধরনের সাংবাদিকতামূলক কাজ করবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়ার পরও মিয়ানমারের নারীদের কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
মিন্ত থান বলেন, আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন এমন করা হলো। বলা হলো, প্রশ্নের জবাব দেয়া যাবে না।
ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশী ফটোগ্রাফাররা সেখানকার দরুণ নিরাপদ পরিবেশ দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তারা সন্ধ্যার পরও আশপাশে চলাচল করতে পারতেন, বিয়ার পানের জন্য তাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের প্রয়োজন পড়ত না। ফটোগ্রাফারদের কয়েকজন এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের যেভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তা দেখে অবাক হন।
মিন্ত থানের মতে, দুই বছর ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো বহুল আলোচিত বিষয় ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা নিয়ে চিন্তাভাবনা করাও ছিল এই প্রকল্পের একটি লক্ষ্য। তারা একজন ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গিতে সামঞ্জস্যতা, পার্থক্য, অভিন্ন সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধান করতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম, তখন আমার সাবেক সহকর্মী ওয়া লোনকে গ্রেফতার করা হয়, আমি যখন এখানে ফিরে এলাম, তখন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বাংলাদেশের শহিদুল আলম গ্রেফতার হন। তারা দুজনই তাদের কাজের কারণে গ্রেফতার হয়েছিলেন। আমরা আসলে একই যন্ত্রণা, অভিন্ন ক্রোধে বসবাস করছি। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতাই পরস্পরের কাছে বিনিময় করেছি।
মিন্ত থান ঢাকার অধিকতর ‘প্রতিষ্ঠিত’ ফটোগ্রাফিক সম্প্রদায়ের সাথে ফটোগ্রাফারদের সহযোগিতার ফলে কিভাবে নতুন নতুন আইডিয়া আনা যায়, ফটোগ্রাফিক স্টাইলটিকে কিভাবে রিপোর্টেজ স্টাইলের রীতি থেকে দূরে নেয়া যায়, মিয়ানমারের ফটোগ্রাফিক সমাজের দিগন্ত আরো প্রসারিত করা যায় তা নিয়ে ভাবছেন।
এই বিনিময় সাবলীল ছিল না। শ ওয়াট হমন বলেন, কালি ফটোগ্রাফাররা রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু থুমা সদস্যরা নিজেদের স্পষ্টভাষী ও খোলামনের নারী হিসেবে নিজেদের মনে করলেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত ছিলেন না।

হমন বলেন, এটা ছিল শুভ সূচনা। আমরা সবই এ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলাম। ওই সময় আমাদের সবার কাছে ভিন্নতার বিষয়টি ধরা দেয়
মিয়ানমারের ফটোগ্রাফাররা এখনো বাংলাদেশে যেতে পারেননি। ফলে প্রজেক্টটি সম্পূর্ণ হতে পারছেন না। তবে মিয়ানমারের ফটোগ্রাফারদের জন্য ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা আশা করছে, চলতি বছরের শেষদিকে কালির সদস্যদের সাথে তারা ঢাকায় একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবেন।

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি পুরস্কার পেলেন ১০ সাহিত্যিক

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার-১৪২৪ পেয়েছেন দেশের ১০ গুণী শিশুসাহিত্যিক।

বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে লেখকদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি।

এবার কবিতা-ছড়া-গানে যৌথভাবে ‘দুরন্ত কিশোরের উড়ন্ত মন’র লেখক আহ্‌মেদ সাব্বির ও ‘আমায় পড়া পাতায় ভরা’র লেখক সোহেল মল্লিক; গল্প-উপন্যাস ও রূপকথায় ‘ঘিয়ের পিদিম’ লেখক নিলয় নন্দী; জীবনী প্রবন্ধে যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র লেখক মনি হায়দার ও ‘গল্পে গল্পে বাংলাদেশ’র লেখক শিবুকান্তি দাস; স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ‘পৃথিবীর বাইরে’র লেখক মিন্টু হোসেন; অনুবাদ ও ভ্রমণ কাহিনীতে ‘লুইস ক্যারল অ্যালিসের অ্যাডভেঞ্চার’র লেখক সামিন ইয়াসার; নাটকে যৌথভাবে ‘আকাশ আর মৃত্তিকার গল্প’র লেখক মোস্তফা হোসেইন ও ‘বিষ্টি বন্ধু’র লেখক মোহাম্মদ মারুফুল এবং অলঙ্করণে ‘এক সকালের টম’র লেখক মামুন হোসাইন এ পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা বলেন, শিশুসাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে শিশুসাহিত্য পুরস্কার একটি ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার। ১৯৮০ সাল থেকে শিশু একাডেমি এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। অভিনন্দন যারা আজ পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুরা উদ্দীপনা পাবে। শুরু থেকে এই পুরস্কারে সহায়তা করার জন্য অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ। পুরস্কারপ্রাপ্তরা শিল্প-সাহিত্যের চর্চায় মানুষের মূল্যবোধ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পেরেছেন। আজকের শিশুরা বড় হয়ে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের হাল ধরবে। সেই শিশুদের নিয়ে লেখাও গর্বের।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, যারা এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। আজকে বাংলা ১৪২৪ সালের পুরস্কার দেওয়া হলো। আমরা চেষ্টা করছি, খুব দ্রুত বাকি থাকা ১৪২৫ এবং ১৪২৬ সালের পুরস্কারগুলো দেওয়ার।

অনুভূতি প্রকাশ করে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মোস্তফা হোসেইন বলেন, এই আয়োজন করার জন্য শিশু একাডেমিকে এবং সহযোগিতা করার জন্য অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ। শিশুসাহিত্য চর্চার যে ধারা শিশু একাডেমির চালু রয়েছে, তার জন্য আমি এখানে নিয়মিত আসি। যারা শিশুসাহিত্য চর্চা করেন, তাদের শিশু একাডেমির সদস্য করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহবান তিনি।

 বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সারাদেশের শিশু বিষয়ক লেখক ও পাঠকদের মুখোমুখি করতে একটি অনুষ্ঠান করার জন্যও শিশু একাডেমিকে অনুরোধ জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে শিশু একাডেমির উপ-পরিচালক মনির হোসেন বলেন, ৩৮ বছর ধরে শিশু একাডেমি এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের কাজে আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলেন আশা করছি। সভাপতির বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার।

অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের পরিবেশনায় সংগীত ও নাট্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম আইবিজি’র কাঠামো চূড়ান্ত হবে আগস্টের শেষ নাগাদ by দীনেকর পেরি

জনশক্তির সার্বিক পুনর্গঠনের জন্য ভারতের সেনাবাহিনী যে ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপস (আইবিজি) গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন শিগগিরই হতে যাচ্ছে বলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ একটি সূত্র জানিয়েছে। আইবিজি’র আকার হবে ব্রিগেডের সমান, যেটা যুদ্ধের সক্ষমতার ব্যাপারে স্বয়ংস্বম্পূর্ণ হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেটা শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত হামলা চালাতে পারবে।

সূত্র জানিয়েছে, “নয়টি কর্পসে এই আইবিজি’র ধারণাটি এরই মধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারা জনবলের পুনর্গঠন করছে এবং আগস্টের শেষ নাগাদ এই পুনর্গঠনের কাজ শেষ হবে। এরপর সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য যাবে সেনাবাহিনী”। কতটি আইবিজি গঠিত হবে, সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।

হুমকি, ভৌগলিক অবস্থা ও দায়িত্ব এবং সম্পদের বিবেচনা করে প্রতিটি আইবিজি গঠন করা হবে। এগুলোর আকার হতে হবে হালকা যাতে সরঞ্জামের বোঝা তাদের কম থাকে। সূত্র আরও বলেছে, “স্থান অনুযায়ী ১২-২৪ ঘন্টার মধ্যে তারা অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে”।

কমান্ড বর্তমানে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় কাঠামো যেটা একটা পুরো ভৌগলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃতি থাকে। আর সবচেয়ে বড় স্থানান্তরযোগ্য সেনা কাঠামো হলো কর্পস। সাধারণভাবে প্রতিটি কর্পসে তিন ব্রিগেডিয়ার সেনা থাকে। এখন এই কর্পসগুলো আইবিজিতে ভাগ করা হবে কিন্তু সবগুলোতেই পদাতিক, সাঁজোয়া, আর্টিলারি ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট থাকবে। মরুভূমি এলাকায় যে আইবিজি মোতায়েন থাকবে আর পাহাড়ি এলাকায় যারা থাকবে, তাদের কাঠামোগত ধরন হবে ভিন্ন।

সেনাবাহিনীর প্রধান কর্পসগুলোকে ১-৩টি আইবিজিতে ভাগ করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, “সেগুলো গঠনের পর আলাদাভাবে সেগুলোর জন্য সরকারের অনুমোদন নেয়া হবে”।

আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমনাত্মক দুই ধরনেরই আইবিজি হবে। আক্রমণাত্মক আইবিজিগুলো দ্রুত আভিযানিক প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং শত্রুদের উপর হামলা করতে পারবে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষামূলক আইবিজিগুলো স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে যেখানে শত্রুর হামলার আশঙ্কা থাকবে। আইবিজিগুলোর গঠনও তাদের কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারন করা হবে।

সার্বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১.৩ মিলিয়ন সেনাবাহিনীর আকারও ছোট হয়ে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, “৪-৫ বছরে আমরা জনবল এক লাখের মতো কমিয়ে আনতে চাচ্ছি”। সূত্র আরও জানায় যে, চূড়ান্ত জনবল সঙ্কোচনের হার আরও কম হবে, কারণ কিছু নতুন জনবল আবার এর সাথে যোগ করা হবে।

ভারতের পার্লামেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ব্যাপক সেনা সমাগম করেছিল কিন্তু সেনাবাহিনীর যে জনবল কাঠামো, সেটার কারণে শক্তি সমাগম করতে প্রচুর সময় লেগে যায় এবং এতে আর কোন চমক ছিল না। এর পরই দ্রুত সেনা সমাগমের জন্য সেনা কাঠামো পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুধ সংগ্রহ বন্ধ: বিপাকে খামারিরা

বাংলাদেশে পাস্তুরিত তরল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানিগুলো তাদের দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থায় গো-দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারিরা তাদের দুধ বিক্রি করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দুরবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন গোখামারিরা।

বিশেষ করে সংকটে পড়েছেন গো-দুগ্ধ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে খ্যাত পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার কয়েক হাজার গরুর খামার মালিক। খামারিরা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিভিন্ন ক্রয় কেন্দ্রে  রাস্তায় দুধ ঢেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ভাংগুড়া পৌরসভার মেয়র গোলামুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেছেন, দুধে এন্টিবাওটিক বা ডিটার্জেন্ট পাওয়া গেলে তার জন্য  সংশ্লিষ্ট কেম্পানিকেই দায়ী করতে হবে; খামারিরা কেন দুর্ভোগের শিকার হবেন।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় ৬ হাজার ৫৬৪টি খামারে দুধ উৎপাদনকারী গাভী আছে ১ লাখ ৭০ হাজার। আর এসব গাভী থেকে দুধ পাওয়া যায় দৈনিক ১০-১২ লাখ লিটার। পাস্তারিত দুধ উৎপাদন কারী কোম্পানীগুলোর দুধ সংগ্রহের প্রধান এলাকা হচ্ছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ।

সম্প্রতি বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত পাস্তরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সীসা ও এন্টিবায়োটিক পাওয়ার পর, রোববার হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার ওপরে পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেয়। একইসঙ্গে দূষিত এবং ভেজাল দুধকে সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ক্রেতাদের এগুলো না খাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞাধীন কোম্পানিগুলোর আবেদনের পর আজ হাইকোর্টের চেম্বার বিচারপতি প্রাণ ও ফার্ম ফ্রেশের পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। 

গতকাল হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে চেম্বার আদালতে আপিল করলে মিল্কভিটার উপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। এরইমধ্যে ১০টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও গত ২৯ জুলাই সোমবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং দোকানীরা প্যাকেটজাত পাস্তরিত দুধ বিক্রি বন্ধ রেখেছে। বাজারে আগের সরবরাহকৃত দুধ যা মজুদ ছিল, তাও কোম্পানির এজেন্টরা ফেরত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবিধান সংশোধন বিতর্কে অংশ নিলো না মিয়ানমারের সামরিক এমপিরা

মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত বিতর্কে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকলো দেশটির সামরিক বাহিনীর নিয়োগকৃত এমপিরা। ওই সংশোধনীতে রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকাকে সীমিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের এমপি এবং ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সদস্য উ অং কি নাইউত দ্য ইরাবতীকে বলেন, “বিতর্কে এখনও সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গ আসেনি। সে কারণেই হয়তো তারা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। আমি পরিস্কার জানি না তাদের উদ্দেশ্য কি কিন্তু তারা বিতর্ক থেকে সরে দাঁড়িয়েছে”।

মঙ্গলবার ইউনিয়ন পার্লামেন্ট চার্টার অ্যামেন্ডমেন্ট কমিটির প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু করবে। বিতর্কের জন্য যে পার্লামেন্টারি এজেন্ডা রয়েছে, সেখানে সামরিক এমপিদের নামের তালিকা নেই, যাদের বিতর্কে অংশ নেয়ার কথা ছিল।

বিতর্কের জন্য যে ১২১ জন এমপির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৭৮ জন ছিলেন সামরিক বাহিনীর, আর ২৭ জন ছিলেন তাদের সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি)। এনএলডি পাঁচজনকে বাছাই করে এবং আরাকান ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) এবং শান ন্যাশনালিটিজ লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এসএনএলডি) প্রত্যেকে তিনজন করে সদস্য বাছাই করে বিতর্কের জন্য। বাকি পাঁচজন রয়েছে অন্যান্য দলের।

সংবিধানের যে কোন সংশোধনীর জন্য ৭৫ শতাংশের বেশি এমপিদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পার্লামেন্টে সামরিক বাহিনীর ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব থাকায় যে কোন সংশোধনীতে ভেটো দেয়ার এখতিয়ার তাদের রয়েছে।

মরক্কোতে পৌনে ৫ হাজার কারাবন্দীর সাজা মাফ

সিংহাসনে বসার ২০তম বার্ষিকীতে প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার কারাবন্দীর সাজা মওকুফ করেছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০১৬ সালে দেশটিতে আলোচিত ‘হিরক’ আন্দোলনকারীদের কিছু সংখ্যকও আছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাজকীয় বার্ষিকীর একেবারে শেষ মুহূর্তে এক রাষ্ট্রীয় আদেশে চার হাজার ৭৬৪ জন বন্দীর সাজা মাফ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে কয়েক মাসব্যাপী আন্দোলনের সময় আটকরাও রয়েছেন।

এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি মরক্কো কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১৬ সালে একজন জেলের মৃত্যুর ঘটনাকের কেন্দ্র করে দেশটিতে ‘আল-হিরক আল-শাবি’ বা ‘জনপ্রিয় আন্দোলন’ শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি অধিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন হিসেবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

ঐ সময় চার শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদেরকে বিচারের আওয়াতায় আনা হয় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে। যদিও সরকারিভাবে এই সংখা প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যে ২৫০ জনকে এর আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মরক্কোর বিভিন্ন অংশে বৈষম্য ঠেকাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নতুন মুখ আনার অঙ্গীকার করেন।

৫৫ বছর বয়সী এই রাজা দেশটির তেতুয়ানের উত্তর শহরে তাঁর প্রাসাদে এক বক্তৃতায় অবকাঠামো ও স্বাধীনতায় উন্নতিকে স্বাগত জানান। কিন্তু তিনি বলেন, ‘প্রচেষ্টার যথাযথ প্রভাব পড়েনি।’ ১৯৯৯ সালে তাঁর বাবা রাজা দ্বিতীয় হাছানের স্থলাভিষিক্ত হন ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
২০১১ সালে এক গণভোটে মরক্কোতে নতুন সংবিধান প্রণীত হয়, যা দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।

তারপরও দেশটির রাজা সবক্ষেত্রে সর্বেসর্বা রয়ে যান। সংবিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান, সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং দেশটির ইসলামিক কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ পদধারী। এছাড়াও দেশটির মূল মূল অর্থনৈতিক খাতের ক্ষমতা রাজার হাতে।

ডেঙ্গু: ৬১ জেলায় বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জনের মৃত্যু

রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ। দেশের অন্তত ৬১ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। ডেঙ্গুতে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ও বরিশালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ১৮২ জন। এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১৫ হাজার ৩৬৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৯৫৩ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৪০৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য দিয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৫৬ জনের উপরে। দ্রুত গতিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশের অন্যান্য জেলায় প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানীর প্রায় ঘরে ঘরে এখন ডেঙ্গু রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আতঙ্কে আছেন প্রায় সকলেই। গতকাল রাজধানী ব্যতীত ৬১ জেলা থেকে ১৮শ’ ৮৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১২শ’ ৮৩ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে রাজধানীর হাসপাতাল-গুলোতে অধিক সংখ্যক রোগী আসায় বিভিন্ন হাসপাতাল তাদের ঠাঁই দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আটজনের মৃতের খবর দিলেও এই সংখ্যা বেড়েই চলছে। বেসরকারি হিসাবে এটা পাঁচগুণের উপরে। গতকাল ঢাকার বাইরে থেকেও ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন। এরা হলেন- লিটন হাওলাদার (২৫)। গত ২৭শে জুলাই ঢামেকে ভর্তি হয়েছিলেন লিটন হাওলাদার। লিটন হাওলাদারসহ গত ২৪ ঘণ্টায় ঢামেকে মারা গেছেন ৩ জন।  ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে রিতা (২৮) নামের এক গার্মেন্ট কর্মীর মৃত্যু হয় ঢামেকে। তিনি ২৭শে জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাত পৌঁনে ২টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারজানা হক (৪৩)। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড.  নুরুল আমিনের স্ত্রী। এই নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন মারা গেল ডেঙ্গুতে। হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট সিট না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তি করা যাচ্ছে না। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও তার স্বজনরা। ডেঙ্গু রোগীর স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এজন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালকে জরিমানাও করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৫৬ জনের উপরে। চলতি জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৮২ জন। ঢাকার বাইরে থেকেও দিন দিন রোগী আসছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ৪৩৯ জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর বাইরে ঢাকা জেলা থেকে ১৫৯ জন, গাজীপুর থেকে ৯৯ জন, গোপালগঞ্জ ১০ জন, মাদারীপুর ১৭ জন, মানিকগঞ্জ ৩২ জন, নরসিংদী ২১ জন,  রাজবাড়ী থেকে ২৭ জন,শরীয়তপুর ৯ জন, টাঙ্গাইল ৩৭ জন,  মুন্সীগঞ্জ ১৮ জন, কিশোরগঞ্জ ৮৪ জন, নারায়ণগঞ্জ ১৯ জন, ফরিদপুর ২ জন, চট্টগ্রাম থেকে ১৪৩ জন, ফেনীতে ৭০ জন, কুমিল্লা ৫১ জন, চাঁদপুর থেকে ৮৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ জন, লক্ষ্মীপুর ২২ জন, নোয়াখালীতে ৩০ জন, কক্সবাজার ১৩ জন, খাগড়াছড়ি ৫ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন, বান্দরবন একজন, খুলনায় ১২৮ জন, কুষ্টিয়া থেকে ৫৮ জন, মাগুরা ৩ জন, নড়াইল ২ জন,  যশোর ৭১ জন, ঝিনাইদহ থেকে ২৫ জন, বাগেরহাট ৮জন, সাতক্ষীরা ১৭ জন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ৬ জন, মেহেরপুর একজন, রাজশাহী থেকে ৬২ জন, বগুড়া ৯২ জন, পাবনা ৪৭ জন,  সিরাজগঞ্জ ১৯ জন,  নওগাঁয় ৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১১ জন,  নাটোর ২ জন, রংপুর ৬১ জন, লালমনিরহাট ২ জন,  কুড়িগ্রাম ৫ জন, গাইবান্ধায় ৪ জন,  নীলফামারি ৫ জন,  দিনাজপুরে ১৭জন, পঞ্চগড় একজন, ঠাকুরগাঁও ৬ জন, বরিশাল থেকে ৪২ জন, পটুয়াখালী ১২ জন, ভোলা ৬ জন,  পিরোজপুর ২ জন, ঝালকাঠি একজন, বরগুনা ১৫ জন, সিলেট থেকে ৮০ জন, সুনামগঞ্জ ৪ জন, হবিগঞ্জ ৭ জন, মৌলভীবাজার ১৬ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৩০শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে চারজন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচগুণের বেশি হবে।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৭৯ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৯৯ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১২১ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২৬৬ জন, বারডেম হাসপাতালে ৫২ জন, বিএসএমএমইউতে ৯৬ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ১৩২ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২৫৩ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২১৬ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৩০ জন, কুর্মিটোলায় ২৪৭ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৬ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১০৫ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৭৯ জন,স্কয়ার হাসপাতালে ৮৯ জন, ল্যাব এইডে ১৫ জন, গ্রীনলাইফে ১৭ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ৯৪ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৯০ জন, খিদমা হাসপাতালে ৩০ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১১২ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৫৭ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ১০৮ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৬৪ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬০ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৫ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন।

গুজবে কান দেবেন না -টেলিকনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

কোনো প্রকার গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা। যারা এ ধরনের গুজব ছড়ায় তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ারও কথা বলেছেন তিনি। গতকাল লন্ডন থেকে এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের  নেতাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচতে বাড়ি-ঘর এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রগণ সভায় অংশ নেন। শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। গুজব ছড়িয়ে একজন মা’কে পিটিয়ে মেরে  ফেললো, আজ সেই মায়ের শিশুটির কি অবস্থা? কাজেই সকলের কাছে আমার আবেদন-আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।
যদি আপনারা কাউকে দোষী মনে করেন, তাকে পিটিয়ে মেরে  ফেলার দরকার নেই, বরং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিন। তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, গুজব শুনে কোনো নিরাপরাধ মানুষকে  মেরে ফেলা গর্হিত কাজ, এটা হত্যাকাণ্ডের শামিল।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কাছে আমার একটা অনুরোধ, প্রকৃত ঘটনা না জেনে সংবাদ পরিবেশন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। ডেঙ্গুর বিস্তার সম্পর্কে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমপ্রতি এই রোগটি ছড়িয়েছে এবং শুরুতে এটি শহরাঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকা শহরে বিস্তার লাভ করে। এখন এটি ক্রমশ অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়েছে। সামনে কোরবানীর ঈদ এবং প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে জনগণ নিজ নিজ ঘরে ফিরবেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোন রোগীকে কামড়ানোর পর অন্য কাউকে সেই মশা কামড়ালে তিনিও এই  রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কাজেই আমি আহবান জানাবো সকলেই নিজ নিজ বাড়ি, অফিস এবং আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন, যাতে এই মশা সেখানে ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করতে না পারে। সরকার এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সম্ভাব্য সকল ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গেও কথা বলেছি। এই ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ সময় তিনি এই  রোগ প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার জন্যও জনগণের প্রতি আহবান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন দিনের সচেতনতা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে এ সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। আজ দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ের সামনে থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সারা দেশে তিন দিনব্যাপি কর্মসূচির মধ্যে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।

ডেঙ্গু জ্বর: পেঁপে পাতার রস বা নারিকেল তেল কি আসলেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর?

বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ডেঙ্গুর কিছু প্রাকৃতিক সমাধানের কথা ছড়িয়ে পড়েছে - যার মধ্যে একটি হলো পেঁপে পাতার রস।
বলা হচ্ছে, পেঁপে পাতার রসের সাথে আরো কিছু উপাদান যোগ করে একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে পান করলে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
কিন্তু আসলেই কি পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, পেঁপে পাতার রস যে ডেঙ্গু নিরসনে ভূমিকা রাখে, এই দাবির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
"ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকার পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি যে এটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর।"
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষা হলেও বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে কোনো ধরণের 'র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল'-এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি বলে জানান মি. মুজিবুর রহমান।
"কোন ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল হতে হবে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ঐ ওষুধটি কোন একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর।"
মি. রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পেঁপে পাতার রসের কার্যকারিতার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু রোগীকে পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর উপদেশ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
২০১৭ সালে ভারতে ৪০০ জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে আসে যে পেঁপে পাতার রস খাওয়া রোগীদের রক্তকণিকার পরিমাণ অন্য রোগীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছে এবং তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অপেক্ষাকৃত কম। খবরটি তখন 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'তে প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে রক্ত নেয়ার প্রয়োজনীতার হারও কম হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।
ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে।

নারিকেল তেল মাখলে কি আসলেই মশা কামড়ায় না?

পেঁপে পাতার রস খাওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে - সেটি হলো পায়ে নারিকেল তেল মাখা।
নারিকেল তেল মশা তাড়ায় এবং তেল পায়ে মাখলে মশার কামড় থেকে বাঁচা সম্ভব - এই দাবির সাথে পুরোপুরি একমত প্রকাশ করেননি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
"মশা যেহেতু চামড়া ভেদ করে রক্ত পান করে, তাই চামড়ার ওপর ঘন যেকোন ধরণের তেলই মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারে বলে আমি মনে করি।"
তবে এক্ষেত্রে নারিকেল তেলের সাথে কীটনাশক জাতীয় কোন দ্রব্য মিশিয়ে নিলে আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন মিজ. আখতার।
"ন্যাপথলিন বা কর্পূরের গুড়া বেশ ভাল কীটনাশক। নারিকেল তেলের সাথে কর্পূরের গুড়া মিশালে মশা নিবারনে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে।"
এছাড়া কড়া গন্ধ থাকায় নারিকেল তেলের বদলে সরিষার তেলও মশা দূরে থাকতে কার্যকর হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একদিনে ৩৫ কোটি গাছ লাগিয়েছে ইথিওপিয়া

প্রধানমন্ত্রী আবি বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশ নেন
আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়াতে একদিনে রোপণ করা হয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন বা ৩৫ কোটি গাছ।
এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি একটি বিশ্ব রেকর্ড।
খরা প্রবণ এই দেশটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করা এবং দেশটিকে ডিফরেস্টেশন বা বন-উজাড় হয়ে যাবার অবস্থা থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ স্বয়ং এই প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সরকারী কর্মকর্তারাও যেন বৃক্ষরোপণ কাজে অংশ নেয়ার সুযোগ পায় সেই লক্ষে কিছু সরকারী অফিসও বন্ধ রাখা হয়।
জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, বিংশ শতকের শুরুর দিকে ইথিওপিয়ার বনভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুর দিকে তা নেমে আসে প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি।
মি. আহমেদ তার গ্রিন লিগেসি ইনিশিয়েটিভ-এর অংশ হিসেবে এই বৃক্ষ-রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সারা দেশের প্রায় ১০০০টি স্থানে এবারে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমটি চলছে।
আদ্দিস আবাবা থেকে বিবিসির প্রতিবেদক জানিয়েছে, স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রোপণ হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বৃক্ষের প্রাথমিক বীজ বপনের কাজটি করা হয়।
ইথিওপিয়ার আবিষ্কার ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী এক টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ১২ ঘণ্টায় দেশটিতে মোট ৩৫ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। ইথিওপিয়া স্থানীয় জাতের মোট ৪ বিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। 
জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং ইথিওপিয়াতে থাকা বিদেশী রাষ্ট্রদূতদেরকে বৃক্ষ রোপণ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়।
একদিনে রেকর্ড সংখ্যক গাছ রোপণ করার বর্তমান রেকর্ডটি রয়েছে ভারতের দখলে। ২০১৬ সালে দেশটিতে একদিনে ৫ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছিল।
তবে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সমালোচকেরা বলছেন, ইথিওপিয়াতে সরকার যে সব সমস্যায় ডুবে রয়েছে সেসব থেকে মানুষের দৃষ্টি ফেরাতেই বৃক্ষ রোপণ নিয়ে এই প্রচারাভিযান শুরু করা হয়।
গাছ লাগানো কর্মসূচীতে যাতে সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারে তার জন্য সব সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে ইথিওপিয়া

রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব মাহাথিরের

ড. মাহাথির মোহাম্মদ
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব প্রদান অথবা আলাদা রাষ্ট্রগঠনের সুযোগ দিয়ে সংকটটির স্থায়ী সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশের অর্ভন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে এ ক্ষেত্রে গণহত্যার বিষয় জড়িত। মালয়েশিয়া গণহত্যা এবং মিয়ানমারের নাগরিক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এক সময় অনেকগুলো আলাদা রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা মিয়ানমারকে এক রাষ্ট্র হিসেবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে অনেক জাতিগোষ্ঠী বার্মা নামক রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু এখন অবশ্যই তাদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে অথবা নিজেদের রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদের আলাদা অঞ্চল ছেড়ে দেয়া উচিত।

তাই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করলে মিয়ানমারে তাদের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেয়া উচিত।

তুরস্ক সফররত মাহাথির দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ গিয়ে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণধর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়েছে বলে জাতিসংঘ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল-হাসান এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনের বাস্তব বা পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংকট সমাধানে মিয়ানমার প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপপ্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ রাখাইন রাজ্যে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মাহাথির বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মিয়ানমারের গণহত্যায় তারা চুপ থাকতে পারেন না।

একই সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অবৈধভাবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।

মাহাথির বলেন, এখন বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের জন্য মুসলমানদের দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখলের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে যে সব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা দুর্ভাগ্যজনক।

চীনা জাহাজের উপর নজর রাখতে মোজাম্বিকের সঙ্গে চুক্তি করছে ভারত

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজের অবস্থান আরো জোরদার করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে যাচ্ছে ভারত। এই চুক্তি হলে মহাসাগরের রুট ধরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর উপর ২৪ ঘন্টা নজর রাখা যাবে। ভারতীয় নৌবাহিনী এরই মধ্যে বলেছে যে ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

দক্ষিণ আফ্রিকান রাষ্ট্র মোজাম্বিকে তিন দিনের সফরের আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার জানিয়েছেন যে দুই দেশ ‘এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনের উপর নজরদারি, হোয়াইট শিপিং ইনফরমেশন বিনিময় ও হাইড্রোগ্রাফি’ ক্ষেত্রে চুক্তি সই করবে’

হোয়াইট শিপিং ইনফরমেশন চুক্তি অনুযায়ী ভারত অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ও পরিচয় সম্পর্কে আগাম তথ্য লাভ করবে।

চীনা জাহাজের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য এই তথ্য বেশ সুবিধাজনক হবে। অতীতে জলদস্যুতা দমনের জন্য ওই অঞ্চলে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন ও ফ্রিগেট মোতায়েনের দাবি করেছিলো চীন।

এরপরও ভারতীয় নৌবাহিনী এই অঞ্চলের এক ডজনেরও বেশি দেশে রাডার স্টেশন ও সারভেইল্যান্ডস সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি পুরোপুরি মেরিটাইম ডোমেইন এওয়ারনেস (এমডিএ) গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মোজাম্বিকের সঙ্গে চুক্তি দুটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য জলদস্যু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আরো বেশি সহায়ক হবে।

২৮ জুলাই থেকে এই সফর শুরু হয়েছে। এ সময় ভারত এসএজিএআর (সিকিউরিটি এন্ড গ্রোথ ফর অল ইন দি রিজিয়ন) উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করবে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সিং বলেন. এই চুক্তিগুলো সই হলে ভারত মহাসাগরের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত আফ্রিকান দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত হবে।

চীন তার নৌবাহিনীর ব্যয় সম্পর্কিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের একদিন পর গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল করমবীর সিং বলেছিলেন, নৌবাহিনীর প্রতি চীনের মনযোগ নতুন কিছু নয়। এখন ভারতীয় নৌবাহিনীকে দেখতে হবে তার সীমিত বাজেট ও সম্পদ নিয়ে কিভাবে চীনের ‘আকাঙ্ক্ষার’ সমকক্ষ হওয়া যায়।

চীনের শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে: পিএলএ সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা উন্নত করছে এবং বিদেশে চীনা স্বার্থগুলোর সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট ম্যাকানিজম পরিমার্জন করছে। বিদেশে অপারেশন ও সহায়তায় ঘাটতি দূর করতে দূর সাগরে মোতায়েনযোগ্য বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশে লজিস্টিক্যাল ফ্যাসিলিটি নির্মাণ করছে চীন এবং বিচিত্র সামরিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সামর্থ বাড়াচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছে যে ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই অঞ্চলে চীনের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েনের উপর ভারত ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।

হংকং-এর বিক্ষোভে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে: চীন

হংকং-এ চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে অভিযোগ তুলেছে চীন। এসব ঘটনা আইনের শাসনের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। হংকং বিষয়ক চীনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণ কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেছেন সামাজিক শৃঙ্খলা পুনর্বহাল অঞ্চলটির অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। টানা আট সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করছে হংকং-এর অধিবাসীরা।  চীনের এই বক্তব্য হংকং ও ম্যাকাউ বিষয়ক কার্যালয়ের (এইচকেএমএও) বিরল হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
গত ৯ জুন থেকে চীনবিরোধী এ আন্দোলনের সূত্রপাত মূলত কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে বিলটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। প্রথমে বিলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরে আন্দোলনের তীব্রতায় এটি ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চান হংকংয়ের বাসিন্দাদের কাছে। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকেরা।

রবিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে সহিংসতা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে শহরের বিভিন্নস্থানে বসানো হয় ব্যারিকেড।

শুরু থেকেই ক্যারি লামের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিক্ষোভকারীদের নিন্দা জানিয়ে আসছে চীন। তবে সোমবার মন্তব্যকে প্রথমবারের মতো চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাবের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ বলে দেখা হচ্ছে।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। যদিও ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন।

রবিবারের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বেইজিং-এর হংকং ও ম্যাকাউ বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ইয়াং গুয়াং বলেন হংকং-এ উগ্রবাদীদের অসৎ ও অপরাধী কর্মকাণ্ড নিয়োজিত রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির মারাত্মক প্রকৃতি নিয়ে সচেতন হতে আমরা হংকং-এর সাধারণ নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি।

আরেক মুখপাত্র জু লাইয়িং বলেন, ‘আমরা আরও বিশ্বাস করি যে হংকং-এর শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত... আইন অনুযায়ী এসব সহিংস ও বেআইনি কার্যকলাপের শাস্তি নিশ্চিত করা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সামাজিক শৃঙ্খলা পুনর্বহাল এবং ভালো ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখা’।

২৪ ঘণ্টায় ২ বিলিয়ন টন বরফ গলে গেল গ্রিনল্যান্ডের

প্রত্যেক বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলতে থাকে। কিন্তু তাই বলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ বিলিয়ন টন (যা প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৭ কোটি কিলোগ্রাম) ওজনের পাহাড়-সমান বরফের চাঁই গলে যাবে? এভাবে দ্রুতগতিতে বরফ গলে যাওয়ার ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞানী ও গবেষক থমাস মোটি বলেছেন, হঠাৎ করে এই বিপুল পরিমাণ বরফ গলে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক হলেও নতুন নয়।
গত প্রায় দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাচ্ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চিন্তার বিষয় হল, এই বরফ গলার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩৬০ গিগাটন বরফ গলার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিলিমিটার বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ডেই বরফ গলেছে ২ গিগাটন। উষ্ণায়নের প্রভাবে যেভাবে দিনের পর দিন বরফ গলার পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে রীতিমতো শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জিনিউজ।

রাশিয়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন ইমরান ও মোদি by আশফাক আহমেদ

সেপ্টেম্বরের শুরুতের রাশিয়ার ভ্লাদিভস্টকে অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন ইকনমিক ফোরামের (ইইএফ) সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশি দেশের প্রধানমন্ত্রীরা ইইএফ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গত জুনে মাসে বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে ইমরান ও মোদি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুই নেতা করমর্দন করলেও গত বছর আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির সঙ্গে ইমরানের কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠনকোন বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা বর্জন করে চলেছে ভারত।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দি নেশন পত্রিকা জানায় যে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক আলোচনা’ চলছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়াও চায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি দূর হয়ে সম্পর্ক জোরদার হোক। তাদের পছন্দ মতো যে কোন স্থানে আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি। আমরা একেবারে পরিষ্কার। তবে এ ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে সোমবার পর্যন্ত কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন যে, ইমরান খান ও মোদির মধ্যে বৈঠক নিশ্চিতভাবে এই অঞ্চলের শান্তির জন্য অর্থবহ হবে। তিনি বলেন, সংলাপ  যে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় এই কথাটি তাদের বুঝানোর জন্য আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেল বা বৈঠকে যখনই ভারতীয়দের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে আমরা সংলাপের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছি।
গত জুনে ইমরান খান সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তির লক্ষ্য হাসিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিলো যে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক ও আন্ত:রাষ্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি তাদের ভারতীয় প্রতিপক্ষ যথাক্রমে মোদি ও এস জয়শঙ্করকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

পাকিস্তানি এফ-সিক্সটিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১২৫ মি. ডলারের সাপোর্ট প্রগ্রাম অনুমোদন by আনোয়ার ইকবাল

ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠকে সেরে দেশে ফিরে জেট লগও কাটিয়ে উঠতে পারেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার আগেই গত ২৬ জুলাই শুক্রবার পাকিস্তানের এফ-১৬ জঙ্গিবিমান বহরকে কারিগরি সহায়তা দিতে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। শুধু ঘোষণাই নয়, প্রস্তাবিত প্রগ্রামটি ঠিকঠাক করে কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েও দেয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে খানের তিন ঘন্টাব্যাপী সম্পর্ক ঝালাই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘোষণা দেয়।

২১ জুলাই পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নজিরবিহীন ৪৭ মিনিটের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৭০ বছর ধরে বিরাজমান কাশ্মির সমস্যা নিরসনের জন্য মধ্যস্থতা করারও প্রস্তাব দিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারি এক ঘোষণায় বলা হয়, এফ-১৬ প্রগ্রামে সহায়তা অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানকে টেকনিক্যাল সিকিউরিটি টিমের (টিএসটি) জন্য সম্ভাব্য ফরেন মিলিটারি সেল (এফএমএস) অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে ব্যয় হবে আনুমানিক ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খানের সফরের তিন দিনের মাথায় ২৬ জুলাই কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নোটিফাই করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা এজেন্সি।

এই প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির উপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে এজেন্সি কংগ্রেসকে জানায়।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনে পাকিস্তান সাহায্য করছে না বলে অভিযোগ এনে ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ধরনের এফএমএস সাপোর্ট প্রগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছিলো। তবে ২০ থেকে ২৩ জুলাই পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর উভয় পক্ষ ঘোষণা করে যে আফগানিস্তানের ব্যাপারে তারা এখন একই পৃষ্ঠায় অবস্থান করছে।

খান জানিয়েছেন যে তিনি এখন তালেবান নেতাদের ইসলামাবাদে এসে আলোচনার জন্য ডাকবেন এবং কাবুল সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি করানোর চেষ্টা চালাবেন। কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ব্যবস্থা করায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দেন ট্রাম্প।

ইমরান খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তালেবানরা ইসলামাবাদ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

এবার যুক্তরাষ্ট্র ‘আরো বেশি কিছু’ করতে বলেননি: পাকিস্তান by নভেদ সিদ্দিকী

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওয়াশিংটন সফরের পর পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে খানের দেশে ফেরার কয়েক ঘন্টা পর গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্টে্রর মধ্যে সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন কি মার্কিন সরকার এবার ‘আরো কিছু করো’ শব্দগুচ্ছ পর্যন্ত ব্যবহার করেনি।

ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্র ধরতে পারার পেছনে ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ফয়সাল বলেন, পাকিস্তান শুধু প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছিলো।

এ বিষয়ে আরো প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি স্বীকার বা অস্বীকার কিছুই করছি না। তবে আইএসআই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবে।

চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান বলেন, ওসামা বিন লাদেনের অবস্থানের ব্যাপারে আইএসআই তথ্য দিয়েছিলো। সিআইএ-কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো, অবস্থানের ব্যাপারে টেলিফোনে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছিলো আইএসআই।

ড. ফয়সাল আরো জানান যে পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে ইমরান খানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্ব চলমান আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা স্বীকার করে নিয়েছে।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশই তাদের নিজ নিজ স্বার্থ অনুসরণ করবে বলে স্বীকার করেন ট্রাম্প।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ইমরান খান। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিসে বক্তব্য দেয়াসহ আরো বেশকিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ভারত আলোচনায় প্রস্তুত নয়

কাশ্মির বিরোধ নিরসনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মধ্যস্থতা করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে ড. ফয়সাল বলেন, ভারত আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়।

মুখপাত্র বলেন, সমস্যা নিরসনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা। ভারত এটি বুঝবে বলে আমি আশা করছি; হয়তো ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এটা হবে।

অধিকৃত কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর নৃশংসতার নিন্দা করেন তিনি এবং বলেন যে এই বিরোধ নিস্পত্তির জন্য নয়াদিল্লিকে একটি পরিপক্ক পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল

চীনকে বিবেচনায় রেখে প্রথম মহাকাশ যুদ্ধ মহড়া শুরু করছে ভারত by রজিত পন্ডিত

ভারতের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিমুলেটেড মহাকাশ যুদ্ধ মহড়ায় অংশ নেয়ার সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়ার মাধ্যমে পৃথিবীর বাইরের হুমকিগুলোকে চিহ্নিত করা হবে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য যৌথ মহাকাশ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিন বাহিনীর ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (আইডিএস) বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিনের এই ‘ইন্ডস্পেসএক্স’ মহড়ায় অংশ নিবে, যেখান সকল সামরিক ও বৈজ্ঞানিক পক্ষগুলো উপস্থিত থাকবে।

এমন সময় এই মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে, যখন চীন দ্রুত তাদের মহাকাশ যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।

চীন বিভিন্ন ধরনের এ-স্যাট অস্ত্র তৈরি করে চলেছে – যার মধ্যে রয়েছে দ্রুতগতির কো-অরবিটাল ঘাতক স্যাটেলাইট ও ডিরেক্ট অ্যাসেন্ট মিসাইল এবং নন-কাইনেটিক অস্ত্র যেমন লেসার ও ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক পালস অস্ত্রাদি। এ অবস্থায় কর্মকর্তারা বলছেন যে, মহাকাশে নিজেদের সম্পদকে রক্ষা করতে চাইলে প্রতিরোধ সক্ষমতার উন্নয়ন করা ছাড়া ভারতের কোন উপায় নেই।

এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, মার্চের এ-স্যাট পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো ভারতকে আরও শক্তিশালী ও আরও নিরাপদ করে তোলা এবং শান্তি ও শৃঙ্খলা আরও নিশ্চিত করা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিল রেখেই প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করার জন্য ইন্ডস্পেসএক্স মহড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান বের করতে একটা নেতৃস্থানীয় আইআইটিও এখানে যুক্ত হয়েছে”।

ভারতের যদিও দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি রয়েছে, যেটা সোমবার চন্দ্রায়ন-২ মিশন সফলভাবে চালুর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তবে এতদিন পর্যন্ত মহাকাশ প্রযুক্তিকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ, নজরদারি, যোগাযোগ ও বিমান চলাচলের কাজে ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধের চূড়ান্ত ফ্রন্টিয়ারের কার্যকর কৌশলগত, আভিযানিক ও পদ্ধতিগত বিষয়গুলো যাচাই ও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। চীন যেখানে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমরা চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবো না, কিন্তু আমাদেরকে আমাদের মহাকাশ সম্পদ রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে”।

মহাকাশে প্রতিকূল কোন অস্ত্র ভারতের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদকে শুধু অকেজোই করতে পারবে না, বরং ভারতের স্যাটেলাইটগুলোকে ধ্বংস বা অচল করে দিয়ে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে তারা ‘অন্ধ ও বধির’ করে দিতে পারে, কারণ এগুলো ব্যবহার করেই নজরদারি, যোগাযোগ, মিসাইলের আগাম সতর্কতা ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, “চীন এ পর্যন্ত কোমল ও কঠিন সব ধরনের মহাকাশ অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে”।

আফগানিস্তানে শান্তির সম্ভাবনা by এম সাঈদ খালিদ

মাত্র কয়েক দিন আগে এক বন্ধুর কাছে আমি আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় উন্মুক্ত সঙ্ঘাত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলাম। কেন আমি আশাহত তা তিনি জানতে চাইছিলেন। অবশ্য বিদেশী শক্তির সম্পৃক্ততায় চলমান দুটি গৃহযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলার আগে বলে নেই যে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে হচ্ছে।
তালেবানের সাথে আলোচনায় সফলতা অর্জনের ব্যাপারে জালমি খালিলজাদ আশাবাদ প্রকাশ করলেও ‘সাম্রাজ্যবাদের কবরস্থানে’ বিশ্বের পরাশক্তিটি কিভাবে তার যুদ্ধ সমাপ্তি করে সেদিকে বিশ্ব কিছুটা অবিশ্বাস আর সন্ত্রস্ত্রতার সাথে নজর রাখছে।
আফগান সঙ্ঘাতের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি নিয়ে আশাবাদের সঞ্চার হওয়া সম্ভব হয়েছে একদিকে খালিলজাদ ও তালেবানের মধ্যে ফলাফল অর্জনকেন্দ্রিক আলোচনা ও অন্যদিকে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও অতি সম্প্রতি জার্মানির মতো দেশগুলোর প্রবল প্রয়াসের কারণে। দোহায় মার্কিন-তালেবান আলোচনার সর্বশেষ দফায় কোনো মধ্যস্ততা ছাড়াই আফগানদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তালেবান পক্ষ বলছে, তারা আফগান সরকারের কোনো প্রতিনিধির সাথে বসেনি, আলোচনা হয়েছে ওইসব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে।
তবে এখানেই জটিলতার অবসান হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তানে নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমাপ্তি আনতে চায়। আর তালেবান চায় বিদেশী সৈন্য প্রত্যহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র একটি প্যাকেজের আলোকে পুরো সমস্যাটির সমাধান কামনা করে। তারা আফগানিস্তানে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপকে আশ্রয় না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে বলছে তালেবানকে।
খালিলজাদ তালেবানের সাথে আলোচনায় সন্তুষ্ট। তিনি তালেবানের সাথে সর্বশেষ রাউন্ডের আলোচনাকে এ পর্যন্ত হওয়া আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে সফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তালেবানও স্বীকার করেছে, এখন পর্যন্ত যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট। তবে আশরাফ ঘানির প্রশাসনের সাথে কিভাবে ক্ষমতার ভাগাভাগি করা হবে সে ব্যাপারে তারা এখনো সমঝোতায় আসতে পারেনি।
বেইজিংয়ে ১০-১১ জুলাই হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান এই চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেও এই চার জাতির বিবৃতিতে অবিলম্বে তালেবান, আফগান সরকার ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে আন্তঃআফগান আলোচনা শুরুর ওপর জোর দেয়া হয়। এতে জোর দিয়ে বলা হয় যে যত দ্রুত সম্ভব একটি শান্তি কাঠামোর মধ্যে এসব পক্ষের আলোচনা হওয়া দরকার। এই কাঠামোতে আফগানদের কাছে গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায়িত্বশীল পরিবর্তনের নিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের আফগান সরকার নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ থাকার ওপর জোর দেয়া হয়।
এতে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপরও জোর দেয়া হয়।
বিশ্বের পরাশক্তিটি ১৭ বছর ধরে যুদ্ধ করার পর এখন সামরিক অভিযানের নিষ্ফলতার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা এখন একসময় তাদের ঘোষিত সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আগামী নির্বাচনের আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যদের ফিরিয়ে নিতে পারেন, তবে দেশে নানা সমস্যা সত্ত্বেও তার আবারো জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
বেইজিংয়ে সমবেত তিনটি শক্তি একমত হয় যে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে যৌথ বিবৃতিতে স্বীকার করে নেয়া হয় যে আফগাননেতৃত্বাধীন ও আফগান মালিকানায় আন্তঃআফগান আলোচনা হওয়া উচিত। তবে ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত প্রত্যাহারের পর থেকে যা হয়নি, এখন তা কতটুকু হতে পারবে, তাই একটি বড় প্রশ্ন।
অধিকন্তু, তালেবান পক্ষ অর্জিত সাফল্য ছেড়ে দেবে, এমনটা আশা করা কঠিন। তাছাড়া অন্তর্ভুক্তমূলক রাজনৈতিক সমঝোতা ও ব্যাপকভিত্তিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে তালেবানের মধ্যে বিভেদ দেখা দিতে পারে। সমঝোতা হলে তালেবানকে তাদের নিজস্ব ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাও বাদ দিতে হবে।
তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু সাফল্য এসেছে তার কৃতিত্ব দাবি করতে পারে পাকিস্তান। ওয়াশিংটনে ইমরান খান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আসন্ন বৈঠকে পাকিস্তান তার অবস্থান আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে।
তবে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেখা দেয়ায় ভারতে সতর্ক ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। অবশ্য এসবের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও পর্দার আড়ালে আলোচনার ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা আবার শুরু হতে যাচ্ছে, এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি। আর ভারতীয় নেতারাও এখন স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছেন যে পাকিস্তানকে একঘরে করার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তাতে সাফল্য পেয়েছেন খুবই সামান্য।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাত করেন বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খালিলজাদ (বাঁ থেকে তৃতীয়)

আকাশ থেকে আছড়ে পড়লো ‘রহস্যময়’ বস্তু!

ভারতের বিহারের মধুবনি জেলায় একটি ধানখেত থেকে ফুটবল আকৃতির একটি রহস্যময় প্রস্তরখণ্ড পাওয়া গেছে। দৃশ্যত এটি উল্কা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওই সম্ভাব্য উল্কার দেখা পেয়ে বিস্মিত হয়ে স্থানীয় কৃষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেলে আচমকাই ক্ষেতে আছড়ে পড়ে হালকা খয়েরি রঙের একটি বস্তু। ধোঁয়া বেরোতে দেখে সবাই মাঠ ছেড়ে পালায়।
মধুবনির জেলা প্রশাসক শীর্ষত কপিল অশোক জানিয়েছেন, ‘কৃষকরা ধানক্ষেতে কাজ করছিল। তখনই ওই ভারী পাথরের টুকরো প্রচণ্ড শব্দে আকাশ থেকে আছড়ে পড়ে।’ পরে ধোঁয়া বেরোনো বন্ধ হলে কৃষকরা আবার মাঠে ফিরে এসে চার ফুট গভীর গর্তের ভেতর থেকে সম্ভাব্য উল্কাখণ্ডটি উদ্ধার করে।
শীর্ষত কপিল অশোক বলেন, আমরা দেখলাম এটার খুবই শক্তিশালী চৌম্বক ধর্ম রয়েছে। ওজন ১৫ কেজির মতো হবে।
উল্কায় থাকে পাথর ও ধুলো। যা সাধারণত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে অধিকাংশই পুড়ে যায়। তবে কোনও কোনও টুকরো পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে। তবে বিহারের সম্ভাব্য উল্কাটি বিশ্লেষণ করে দেখবেন ভারতের বিজ্ঞানীরা।
২০১৬ সালে তামিলনাডুতে একটি উল্কা আছড়ে পড়ে এক বাস চালকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও তিনজন। তবে স্থানীয়ভাবে সেটিকে উল্কা বলা হলেও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছিল, তারা এটিকে উল্কা বলে বিশ্বাস করে না।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি উল্কাপাতের ঘটনা ঘটে রাশিয়ায়। ওই ঘটনায় এক হাজার ২০০ মানুষ আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু ঘরবাড়ি। >>>সূত্র: এনডিটিভি