Sunday, February 12, 2017

বাগদাদের গ্রিন জোনে রকেট হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সংরক্ষিত গ্রিন জোনে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দফায় দফায় রকেট হামলা হয়েছে। বাগদাদের কেন্দ্রে অবস্থিত গ্রিন জোনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পার্লামেন্ট ও প্রধান প্রধান দূতাবাস রয়েছে। এএফপির খবরে জানা যায়, দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড এক বিবৃতিতে বলছে, বালাদিয়াত এবং প্যালেস্টাইন স্ট্রিট এলাকা থেকে রকেট হামলা চালানো হয়।
তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেন, সংরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চলে। তবে হামলার লক্ষ্য কী ছিল বা এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। সংরক্ষিত ওই এলাকার বাসিন্দা আইনপ্রণেতা মেসুন দামালুজি এএফপিকে বলেন, ছয় থেকে সাতটি রকেট হামলা হয়েছে গ্রিন জোনে। সেখানকার বাসিন্দা আরেক কূটনৈতিক বলছেন, তিনি চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। হামলার পর বাগদাদের প্রধান প্রধান সড়কে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ট্রাম্প-যুগে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া একটি আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এমনটাই জানিয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান সাগর অভিমুখে পূর্ব দিকে ছুটে যায়। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করে ক্ষেপণাস্ত্রটি। গত বছর পিয়ংইয়ং একাধিক পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল।
এর জের ধরে দেশটি সমালোচিত হয়। আরও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। উত্তর কোরিয়ার বারবার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত আছে। খবরে বলা হয়, নর্থ পিয়ংগান প্রদেশের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে আজকের ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পদক্ষেপকে ‘ক্ষমতার প্রদর্শন’ বলে বর্ণনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রে শত শত অবৈধ অভিবাসী আটক, আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নেই এমন অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চলছে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ একে নিয়মিত অভিযান বললেও অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্য থেকে কয়েক শ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেককেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে আশ্রয় পেতে বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শরণার্থীরা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে উদ্বিগ্ন হয়ে এখন তুষারপাত আর প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে সীমান্ত পেরিয়ে কানাডায় পাড়ি জমাচ্ছেন। সাত মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জেরে অনেক বৈধ অভিবাসীও শঙ্কায় ভুগছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষাপটে অবৈধবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে বলেই আতঙ্কের মাত্রাটা বেশি। অবশ্য ওই আদেশের অংশ বিশেষ আদালতে স্থগিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আলী নুরানি এক বিবৃতিতে বলেছেন,
অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনার খবর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট বিভাগের লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিল্ড অফিসের পরিচালক ডেভিড মেরিন সাংবাদিকদের বলেছেন, আটলান্টা, নিউইয়র্ক, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এবং এসব এলাকার আশপাশে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি সংস্থার নিয়মিত কাজের অংশ। বারাক ওবামার আমলেও এটি হয়েছে। ওবামা ক্ষমতায় থাকাকালে গত গ্রীষ্মেও লস অ্যাঞ্জেলেসে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গত এক সপ্তাহে মোট কতজনকে ধরা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে আটলান্টা থেকে ২০০ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ১৬১ জনকে ধরার কথা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ডেভিড মেরিন বলেছেন, যাঁদের ধরা হয়েছে তাঁদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই অনেক আগে থেকে আটকাদেশ আছে। তাঁদের অনেকেই নানা ধরনের অপরাধে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে যে ১৬১ জনকে ধরা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাত্র ৫ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকে আটকাদেশ ছিল না। তিনি বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যাঁদের ধরা হয়েছে তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ জনের নাম অপরাধীর তালিকায় নেই। তবে এই ১০ জনের ৫ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারাদেশ ছিল। ডেভিড মেরিন বলেন,
অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযান চালানো বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা একেবারেই কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। তবে লাস ভেগাসে অবস্থিত নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল কাগান বলেন, অভিযানের ধরন দেখে মনে হতে পারে ওবামার আমলে যাঁদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাঁদেরই ধরছে; এখানে ঢালাও কিছু হচ্ছে না। কিন্তু এই ধরপাকড় শিগগিরই ব্যাপক মাত্রায় রূপ নিতে পারে। শরণার্থীরা কানাডার পথে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের প্রতিবেশী কানাডার কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে হেঁটে গত সপ্তাহান্তে ২৪ জন আশ্রয়প্রার্থী কানাডার সীমান্ত শহর এমারসনে প্রবেশ করেছেন। এক দিনে শরণার্থীদের এই সংখ্যা একটি রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কানাডা অভিমুখে যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী ও মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করায় দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের উত্তর দিকে চলে যাওয়া বেড়েছে। ট্রাম্প গত বছরের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই আশ্রয়প্রার্থীরা কানাডার দিকে চলে যেতে শুরু করেন। কানাডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে দেশটির এমারসন শহরে তাপমাত্রা ছিল শূন্যের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে।

নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরাককে বাদ দিতে অনুরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নিজের দেশকে বাদ দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি। ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এই অনুরোধ করেন তিনি। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে অনুরোধের কথা জানানো হয়। তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়। আর গত শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউস এবং গতকাল শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অফিস এ-সংক্রান্ত বিবৃতি দেয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে এবাদি ইরাকি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা দেশগুলোর তালিকা থেকে ইরাককে বাদ দিতে ট্রাম্পের প্রতি অনুরোধ জানান। ইরাকের বিবৃতিতে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির সমাধান খুঁজে বের করতে ট্রাম্প সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
এবাদি ট্রাম্পকে আরও বলেছেন, ইরাক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কোনো সংঘাতে সম্পৃক্ত হবে না। তিনি বলেন, ইরাক নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষা করতেই বেশি আগ্রহী। কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে ছিল ইরাকের প্রতিবেশী ইরান প্রসঙ্গ। ইরানের হুমকি ও তা মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন ট্রাম্প ও এবাদি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এবাদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে তাঁর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী এক আদেশে ইরাকসহ মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত।

নির্বিঘ্নে শেষ প্রথম দফার ভোট ‘সুগার বেল্ট’ যাচ্ছে কার ঘরে?

উত্তর প্রদেশ বিধানসভার প্রথম দফার ভোট প্রায় নির্বিঘ্নে শেষ হলো গতকাল শনিবার। ১৫টি জেলার ৭৩টি আসনে এই ভোট ৮৩৯ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তবে ভোটের শতাংশের হার কিন্তু আহামরি নয়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। কম ভোট পড়া কার পক্ষে শুভ আর কার পক্ষে অশুভ, সেই জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের এই জেলাগুলো ‘সুগার বেল্ট’ বলে পরিচিত। উন্নত মানের আখ চাষ হওয়ার জন্য রাজ্যের অধিকাংশ চিনিকল এই অঞ্চলে। এখানেই মুজাফ্ফরনগর জেলায় ২০১৩ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৬০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন শতাধিক। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে জাঠ সম্প্রদায় শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের দাবিতে সরব। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে সারা রাজ্যের মতো এই অংশও ঢেলে সমর্থন জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির বিজেপিকে। অথচ অন্য অংশের মতো এই অঞ্চলে বিজেপির রমরমা যথেষ্ট কম। ২০১২ সালের বিধানসভা ভোটে ৭৩টির মধ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ১১টি। ২৪টি করে আসন জিতেছিল সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি। অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদল পেয়েছিল নয়টি আসন।
আর কংগ্রেস পাঁচটি। সেবারের ভোটে কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় লোকদল জোট বেঁধেছিল। এবারের ভোটে রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। সমাজবাদী পার্টিতে পালাবদল ঘটেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কোনো ভূমিকাই এই ভোটে নেই বললেই চলে। দলের রাশ পুরোপুরি চলে এসেছে মুলায়মপুত্র অখিলেশ যাদবের হাতে। তিনি হাত মিলিয়েছেন কংগ্রেসের সঙ্গে। অখিলেশ ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজ্যে যৌথ প্রচারও চালাচ্ছেন। জোট জিতলে অখিলেশই যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা ঘোষিত। তাঁর দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের এই চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিজেপি ও বহুজন সমাজ পার্টি। কাজেই রাজ্যে এবারের লড়াইটা ত্রিমুখী। যদিও প্রদেশে নিশ্চিতভাবেই ভোট ভাগাভাগি করবে জাঠ সমর্থনে পুষ্ট রাষ্ট্রীয় লোকদল। বিজেপি, বহুজন সমাজ পার্টি ও সমাজবাদী-কংগ্রেস জোট—তিন পক্ষের কাছেই এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি প্রায় ১৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতার বাইরে। কংগ্রেস টানা ২৭ বছর। বহুজন সমাজের নেত্রী মায়াবতী ২০১২ বিধানসভা ও ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রায় কিছুই করতে পারেননি। এবার তাই তিনি সবার আগে আসরে নামেন। দলিত ও মুসলমান ভোট তাঁর টার্গেট। এবার সরকার গড়তে ব্যর্থ হলে মায়াবতীর দলিত সমর্থন অটুট না-ও থাকতে পারে।

৫০ বছর পর স্বদেশে

শেষ পর্যন্ত সেই চীনা নাগরিক ওয়াং ছি স্বদেশে ফিরতে পারলেন। বিভূঁই ভারত থেকে নিজবাসভূমে। ১৯৬৩ সালের কোনো একদিন ‘পথ ভুলে’ সীমানা পেরিয়ে ভারতে আটকা পড়ার পর কেটে গেছে ৫০ বছরেরও বেশি। প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মারা গেছেন মা। হারিয়ে গেছেন আরও কত স্বজন! তবু নাড়ির টান ওয়াং ছিকে শেষ বয়সে নিয়ে গেছে চীনে। তরুণ বয়সে ভারতে প্রবেশ করা ওয়াং ছি গতকাল শনিবার যখন বেইজিং বিমানবন্দরে পা রাখলেন, তখন তাঁর বয়স আশির কোঠায়। সম্প্রতি বিবিসি চীনা সেনাবাহিনীর সাবেক সার্ভেয়ার ওয়াং ছিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সপ্তাহ কয়েক পরে ওয়াং ছি সীমান্তে মাপজোখের সময় ভারতে ঢুকে পড়ায় গ্রেপ্তার হন। প্রায় সাত বছর জেল খাটার পর ১৯৬৯ সালে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
সেই থেকে তাঁকে ভারত ছাড়তে দেওয়া হয়নি। বিবিসির প্রতিবেদন দেখার পর চীনা কর্মকর্তারা ওয়াংকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভারতীয় কর্মকর্তারাও এতে সহায়তা করেন। গত শুক্রবার রাতে এক ছেলেকে নিয়ে ওয়াং ছি দিল্লি থেকে বিমানে করে রওনা হন। গতকাল বেইজিংয়ে তাঁরা যখন নামেন, তখন অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীনা স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গতকালই তাঁদের বেইজিং থেকে ওয়াং ছির জন্মস্থান জিয়ানিয়াং এলাকার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা। ওয়াং ছির ভারতীয় স্ত্রী তাঁর সঙ্গে চীনে যাননি। ওয়াং আবার ভারতে ফিরে আসবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এবার শশীকলার পক্ষত্যাগ তামিলনাড়ুর শিক্ষামন্ত্রীর

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ক্ষমতাসীন এআইএডিএমকে দলে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। দলের প্রধান শশীকলা নটরাজন ও পদত্যাগী মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভামের মধ্যে বাদানুবাদ অব্যাহত। নিজে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজ্যের গভর্নর সি বিদ্যাসাগর রাওয়ের কাছে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করে বসে আছেন শশীকলা। কিন্তু সাক্ষাতের সুযোগ গতকাল পর্যন্ত মেলেনি। এদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মা ফই পান্ডিয়ারাজন শশীকলার পক্ষ ত্যাগ করে পনিরসেলভামের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এই ঘটনাকে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশীকলার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। পান্ডিয়ারাজনসহ কয়েকজন নেতা পনিরসেলভামের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, অনেক বিধায়ক শশীকলার পক্ষ ত্যাগ করতে চান, কিন্তু তাঁদের জোর করে চেন্নাইয়ের একটি অবকাশ যাপনকেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছে।
জয়ললিতার মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পনিরসেলভাম। এর মাসখানেকের মাথায় ৫ ফেব্রুয়ারি দলের এক বৈঠকে পদত্যাগ করেন পনিরসেলভাম। পরে তিনি বলেন, পদত্যাগ করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁকে না জানিয়েই বিধায়কদের সভা ডাকা হয়। সেখানে শশীকলা ও অন্যদের চাপে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পনিরসেলভামের পক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়জন বিধায়ক এবং একজন মন্ত্রী সমর্থন দিয়েছেন। দলের ১৩৪ বিধায়কের মধ্যে অধিকাংশের সমর্থন থাকার দাবি করেছেন শশীকলা।

এবার নতুন সংকটে ট্রাম্প

আপিল আদালতে নিজের নির্বাহী নির্দেশের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ রদ করতে ব্যর্থ হওয়ার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গেছে, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল মাইকেল ফ্লিন ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপনে কথা বলেছেন, যার বিষয়বস্তু ছিল রাশিয়ার ওপর ওবামা প্রশাসনের আরোপিত বিধিনিষেধ। এই যোগাযোগ জাতীয় স্বার্থবিরোধী—এই যুক্তিতে ফ্লিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। রাশিয়ার হাতে ট্রাম্পের অশালীন ব্যবহারের গোপন তথ্য আছে, এমন কথা কয়েক সপ্তাহ আগে জানা গিয়েছিল। ট্রাম্প এটাকে ‘মিথ্যা কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন জানা যাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দারা সে তথ্যের অংশবিশেষ সত্য বলে প্রমাণ পেয়েছেন। তবে ট্রাম্পের জন্য আশু চ্যালেঞ্জ মুসলিম নিষিদ্ধাদেশের ব্যাপারে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রথম জানানো হয়, ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করবেন।
সে ঘোষণার কিছু পরে জানানো হয়, ট্রাম্প এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন। দিনের শেষে আরেক ঘোষণায় জানানো হয়, ট্রাম্প একই সঙ্গে নতুন আদেশ জারি ও সুপ্রিম কোর্টে আপিলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এর ওপর আরও রয়েছে ট্রাম্পের উপদেষ্টা কেলিঅ্যান কনওয়ের আইনি ঝামেলা। তিন দিন আগে তিনি ফক্স টিভিতে ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের কোম্পানির কাপড়চোপড় কেনার জন্য দেশের নারীদের প্রকাশ্যে উৎসাহ দিয়েছেন। একটি মার্কিন বাণিজ্য সংস্থা ব্যবসা মন্দ বলে ইভানকার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া সরকারি নৈতিকতাবিষয়ক নীতিমালার লঙ্ঘন, এই অভিযোগে তাঁর ব্যাপারে কংগ্রেসের অধীনে তদন্তের দাবি উঠেছে। হোয়াইট হাউস বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘কনওয়েকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে’ বলে জানিয়েছে। বর্ষীয়ান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান ইলাইজাহ কামিংস কংগ্রেসের নজরদারি ও সংস্কারবিষয়ক কমিটির প্রধান জ্যাসন শাফেৎজকে চিঠি দিয়ে কনওয়ের ব্যবহার ‘সরকারি নিয়মবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। জেনারেল ফ্লিনের তুলনায় কনওয়ের ব্যবহার প্রায় নিরীহ একটি ব্যাপার। মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে রাশিয়া সাইবার হামলা করেছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওবামা প্রশাসন গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং বেশ কয়েকজন রুশ কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, মস্কো কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না। তিনি উল্টো মস্কোতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের ছেলেমেয়েদের ক্রেমলিনে এক ক্রিসমাস পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান।
ওবামা প্রশাসন সে সময়েই ইঙ্গিত করেছিল, পুতিনের এই উদারতার পেছনে কোনো গোপন চাল রয়েছে। এখন জানা গেছে, ওবামার নিয়ন্ত্রণাদেশ জারির আগে ও পরে জেনারেল ফ্লিন ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং টেক্সট চালাচালি করেছেন। টেলিফোনে যোগাযোগের কথা ফ্লিন নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তবে জানিয়েছিলেন তাঁদের আলোচনার বিষয় মার্কিন বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে নয়। তিনি রুশ রাষ্ট্রদূতকে ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাত্র। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার জানিয়েছিলেন, ফ্লিন নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে কোনো কথা বলেননি, ট্রাম্প ও পুতিনের সম্ভাব্য সাক্ষাৎকারের বিষয়টি তাঁরা আলোচনা করেছেন মাত্র। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ফ্লিন রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শুধু ওবামা আরোপিত নতুন নিয়ন্ত্রণ বিধিনিষেধ নিয়েই আলোচনা করেননি, তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন এসব বিধিনিষেধ দ্রুত বাতিল করা হবে। ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস একাধিক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই কথা নিশ্চিত করেছে যে তাঁদের এই কথাবার্তার রেকর্ডিং মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে আছে। বিদেশি কূটনীতিকদের আলাপচারিতায় আড়ি পাতা কোনো গোপন ব্যাপার নয়। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বুধবার ফ্লিন দুবার স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁর সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূতের বিধিনিষেধ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ফ্লিন তাঁর বক্তব্য পাল্টে বলেন, কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁর সঠিক মনে নেই, তবে নিয়ন্ত্রণাদেশ নিয়ে আলোচনা হলেও হয়ে থাকতে পারে। ফ্লিনের কথা এভাবে পাল্টানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স। একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণাদেশ নিয়ে রুশ কূটনীতিকের সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি, ফ্লিন নিজেই তাঁকে বলেছিলেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফ্লিন গুপ্তচরবৃত্তি অথবা দেশদ্রোহের মতো অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন। জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা। (হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭১-এ এই দায়িত্ব পালন করেন।) ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান এডাম শিফ এই প্রশ্নে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন। তিনি অবিলম্বে ফ্লিনের পদচ্যুতিরও দাবি করেছেন। দুজন ডেমোক্রেটিক সিনেটর নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের কাছে এক চিঠিতে ফ্লিনের নিরাপত্তা ‘ক্লিয়ারেন্স’ নতুন করে পর্যালোচনার দাবি করেছেন। মস্কোর হাতে ট্রাম্পের ব্যাপারে আপত্তিকর তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, এ কথা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জানা গিয়েছিল। বলা হয়েছিল, এই গোপন দলিল ব্যবহার করে মস্কো ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে। এফবিআই এবং সিআইএ এ ব্যাপারে যৌথভাবে প্রস্তুত ৩৫ পাতার একটি দলিল ওবামা ও ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিল। ২০১১ সালে মস্কো ভ্রমণের সময় ট্রাম্প হোটেলে অবস্থানের সময় একাধিক নারীর অংশগ্রহণে অশালীন ব্যবহারে লিপ্ত হন, সেই দলিলে এমন কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ব্যাপারটা গোপন থাকুক, কিন্তু একটি ওয়েব পত্রিকা পুরো দলিলটি ফাঁস করে দেয়। ট্রাম্প ক্রুদ্ধভাবে এই দলিলের সব তথ্য মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এখন জানা গেছে, গোয়েন্দা বিভাগ ইতিমধ্যে এসব অভিযোগের কোনো কোনো অংশ সত্য বলে জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস আবারও যথারীতি এই খবরকে ‘মিথ্যা খবর’ বলে বাতিল করে দিয়েছে।

সাতকানিয়ায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী নিহত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এর জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রছাত্রীরা। আজ রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার মেয়াদি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই ছাত্রীর নাম রূপসী নাথ। সে মিঠাদীঘি কে কে উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। সে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের সাধন নাথের মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হওয়ার সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসের নিচে চাপা পড়ে রূপসী নাথ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ খবর পেয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের শান্ত করেন।
জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেয়। কে কে উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নবী চৌধুরী বলেন, তিনি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন। খবর পেয়ে এসে ছাত্রছাত্রীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুলছাত্রীকে চাপা দেওয়া বাসটি আটক করা সম্ভব হয়নি। বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে সড়ক অবরোধের জেরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই দিকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস বাসস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম সুজন মিয়া (৩৮)। তাঁর বাড়ি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, সকালে সুজন মিয়া বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে মহাসড়কের ওই জায়গায় বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু

৩৭তম বিসিএসের প্রাথমিক বাছাইয়ের (প্রিলিমিনারি) মতো লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সেটও ভিডিও কনফারেন্সে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলবে বেলা দুইটা পর্যন্ত। ঢাকার আটটি এবং ঢাকার বাইরে ছয় বিভাগীয় শহরের ছয়টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা চলছে। এবার ৮ হাজার ৫২২ জন এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, আগারগাঁও সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ে লটারির মাধ্যমে বিসিএসের প্রশ্নপত্র ঠিক করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার কিংবা জেলা প্রশাসকসহ পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা এতে যুক্ত ছিলেন। সবার সামনে লটারি হয়।
একাধিক সেট থেকে আজকের পরীক্ষার জন্য নয়নতারা সেটটি নির্ধারণ করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের এই উদ্যোগ কেন—তা জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ঢাকার বাইরের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লটারির আগে পিএসসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ও করেন। লটারিতে প্রশ্নপত্র নির্ধারণের পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে ১ হাজার ২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এ বিসিএসে অংশ নিতে গত ৩১ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করেন। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বাছাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী। ১ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৫২২ জন উত্তীর্ণ হন। আজ তাঁদের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

হাইকোর্টে আট বিচারপতির শপথ

হাইকোর্টে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া আট বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পর্যায়ক্রমে আট বিচারপতিকে শপথবাক্য পড়ান। শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এই আটজন হলেন বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান, বিচারপতি আমির হোসেন, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী, বিচারপতি মো. ইকবাল কবির,
বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। তাঁদের সঙ্গে ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী ও জে এন দেব চৌধুরীও নিয়োগ পেয়েছিলেন। জে এন দেব চৌধুরী গত ১৫ ডিসেম্বর মারা গেছেন। গত বুধবার আইন মন্ত্রণালয় তাঁদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি তাঁদের নিয়োগ দেন।

নরসিংদীর সড়কে গেল ১১ জনের প্রাণ

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত নয়জন। আজ রোববার সকালে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুজন শিশু। সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিল। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন মাইক্রোবাসের আরোহী, তিনজন বাসের আরোহী ও তিনজন পথচারী। তাদের মধ্যে বাস ও মাইক্রোবাসের আরোহীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনজন পথচারীকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাস-মাইক্রোবাসের আরোহী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য, অগ্রদূত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় যাচ্ছিল। দড়িকান্দি এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ১১ জন আরোহী নিহত হয়। দুর্ঘটনাস্থলে স্বপন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, মাইক্রোবাসের নিহত আরোহীরা তাঁর পরিচিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে তিনিও ঢাকা থেকে নিকলী ফিরছিলেন। তবে তিনি অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্করা শ্রমজীবী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। তাঁরা অনেক দিন পর বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, মাইক্রোবাসটিতে ১৪ জন আরোহী ছিলেন। আরোহীদের এই সংখ্যা মাইক্রোবাসের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। আর বাসের সামনের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। ইতিমধ্যে মহাসড়ক থেকে বাস ও মাইক্রোবাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক ও বেলাবো উপজেলার ইউএনও উম্মে সালমা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মোজাম্মেল হক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়েছেন। নরসিংদীর আজকের দুর্ঘটনার আগে গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর, গাজীপুর, মাগুরা, নাটোর ও রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয় অনেকে। পুলিশের হিসাবে, গত তিন বছরে গড়ে দুই হাজার মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৬ সালেই ৪ হাজার ৩১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৬ হাজার ৫৫ জন। আহত হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। এর আগের বছর প্রাণহানি হয় আট হাজারের বেশি মানুষের।

নরসিংদীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মাইক্রোবাসের ১১ জন আরোহী নিহত হয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে।

ঢাকার পল্লবীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

রাজধানীর পল্লবীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ফরিদ (২০) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাস ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফরিদের চাচাতো ভাই মো. রাশেদ জানান, ফরিদ দোকান কর্মচারী ছিলেন। দোকানের সামনেই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ফরিদকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আজ রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফরিদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে।

পুকুর গিলছেন ‘বড় বাবু’

আইনত নিষিদ্ধ জেনেও রাজশাহী মহানগর এলাকায় পুকুর ভরাট করছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে হাসপাতালের প্রধান সহকারী। রেলওয়ে হাসপাতালে তিনি ‘বড় বাবু’ বলে পরিচিত। তাঁর নাম আব্দুল কাইয়ুম। তবে আব্দুল কাইয়ুম দাবি করেছেন, কাগজপত্রে জায়গাটি আমবাগান হিসেবে রয়েছে। তাই তিনি ভরাট করছেন। পুকুর ভরাট বেআইনি এটা তিনি জানেন।
‘বড় বাবু’ যে পুকুরটি ভরাট করছেন, সেটি রাজশাহী নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় অবস্থিত। পুকুরটির তিন দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পাকা দেয়াল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পুকুরের পাড় ভেঙে না যায়। প্রায় দুই মাস ধরে দেখা যাচ্ছে, পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণে মাটি ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি পুকুরের একটি অংশ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে মাটি ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর তিন পাশ দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের দক্ষিণ পাশেও রাস্তার ওপর বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ দিক দিয়েও ধীরে ধীরে পুকুরে মাটি ফেলা হচ্ছে। আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পুকুরটির মূল মালিক তাঁর শ্বশুর নসিম উদ্দিন। তিনি পুকুরটির একটি অংশ ভাগে পেয়েছেন। সেটুকুই তিনি ভরাট করছেন। জানতে চাইলে বালিয়াপুকুর এলাকার ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা ছোট থেকে এটাকে পুকুরই দেখে আসছেন। তবে পুকুরের পাড়ে আমগাছ ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০-এর ২-এর (ক) এবং ৬ (ঙ) ধারা মোতাবেক, অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়া জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। পুকুর ভরাটের কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে জলাধার বলতে ভূমি রেকর্ডে জলাশয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে অথবা এমন নিচু ভূমিকে বোঝানো হয়েছে, যা সলল ও বৃষ্টির পানি ধারণ করে। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন,
রাজশাহী মহানগরের ভেতরে কেউ পুকুর ভরাট করতে পারবেন না। এই পুকুর ভরাটের ব্যাপারে তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তিনি আরও বলেন, কাল রোববার অফিস খুললে তাঁরা খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। রাজশাহী মহানগর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা ২০০৪-২০২৪-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকায় কোনো জলাশয় ভরাট করা যাবে না। এ ব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে নগরে লিফলেট বিতরণ করে মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সেই আইনই বলবৎ আছে কি না, জানতে চাইলে গতকাল আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, নিয়ম আগের মতোই আছে। জলাশয় ভরাট করা যাবে না। তিনি বলেন, পুকুর ভরাটের বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি। জলাশয় ভরাটের ওপর ২০১০ সালে হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। পরিবেশবাদী সংগঠন হেরিটেজ, রাজশাহীর সভাপতি মাহাবুব সিদ্দিকীর দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। ওই রিটের এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তারপরও নগরে পুকুর ভরাট চলছে। এ পর্যন্ত পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চারটি মামলা করা হয়েছে।

প্রতিটি সাংবিধানিক নিয়োগেই শুনানিনির্ভর আইন চাই

প্রথম আলো :কোন মানদণ্ডে ১০ জনের নাম বেছে নেওয়া হলো? নতুন কমিশন কি আপনার সন্তুষ্টি অর্জন করেছে? ১০টি নামের মধ্যে সাতজনকেই কেন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বেছে নিতে হলো?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : চাকরিজীবনে দক্ষতা, সততা, যোগ্যতা; নির্বাচন ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। যেহেতু আমাকে নাগরিক সমাজের একজন হিসেবে অনুসন্ধান কমিটিতে নেওয়া হয়েছিল এবং ১০ জনের তালিকায় নাগরিক সমাজের তিনজন প্রতিনিধি ছিলেন, আমি আশা করেছিলাম অন্তত একজনকে নির্বাচন কমিশনে রাখা হবে। আমি আরও আশা করেছিলাম, নির্বাচন ব্যবস্থার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন একাডেমিক বা শিক্ষাবিদ কমিশনেআমন্ত্রিত হবেন। যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়। সম্পূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থাটির খুঁটিনাটি, এর নানা গলদ ও একে প্রভাবিত করে যেমন অর্থ, ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণাও থাকা প্রয়োজন। এ জন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালনায় দক্ষতা, তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার ক্ষমতা—এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সেই সুযোগটি এবার ছিল। এ রকমটা হলে আমি খুশি হতাম। নির্বাচন পরিচালনায় পাবলিক সার্ভেন্টদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হয়, এ রকম একটি ধারণা থেকে কমিশনে তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বেশি হয়।
প্রথম আলো :প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই যদি মানদণ্ড হবে, তাহলে বিচারকেরা কীভাবে প্রশাসনিকভাবে অভিজ্ঞ? বিচারকেরাও প্রশাসন বোঝেন, কিন্তু শিক্ষাবিদসহ অন্যরা বোঝেন না, এ দেশে এ ধারণা নানা ক্ষেত্রে দেখা যায়। আপনার মন্তব্য কী?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : সিভিল সার্ভেন্টরা মাঠপর্যায় থেকে অভিজ্ঞতা নেন বলে হয়তো ধারণা করা হয় তাঁরা নির্বাচন কমিশন ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারেন। তবে এ ধারণা থেকে আমাদের বেরোতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে একটি টিম হিসেবে যদি দক্ষতা দেখাতে হয়, তাহলে বিভিন্ন পেশার মানুষকে তাতে অংশ নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত একটি আইন হলে তাতে এ ধরনের চিন্তা প্রতিফলিত হতে পারে।
প্রথম আলো :বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তালিকা থেকে চারটি নাম বেছে নেওয়া হলো। তাহলে বাকি ছয়টি নাম কোন কোন ছোট দলের তালিকা থেকে নেওয়া হলো?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এলডিপি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনএফ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন ইত্যাদি। একটি নাম আমি প্রস্তাব করেছিলাম। আর ছোট দলই কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। হয়তো কাকতালীয়ভাবে অনেকের নাম কমোন পড়েছে। নবনিযুক্ত সিইসির নাম সাত–আটটি এবং আলী ইমাম মজুমদারের নাম দুটি দল থেকে এসেছিল।
প্রথম আলো :কী যুক্তিতে শুধু রাজনৈতিক দলের তালিকাই প্রাধান্য পেল? এর আগে সার্চ কমিটি তবু রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার আগে ১০ জনের নাম প্রকাশ করেছিল। এবার তা–ও কেন প্রকাশ করা হলো না? আপনাদের ১০ কার্যদিবস বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আপনারা দুই কার্যদিবস আগে দিয়ে কি তাড়াহুড়ো করেননি?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, সে জন্য তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গতবার রাষ্ট্রপতিকে ১০ জনের নাম দেওয়ার আগে কি তা প্রকাশ করা হয়েছিল? আমার ধারণা, তাঁকে দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব তা সাংবাদিকদের জানান। এবারও ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে জানানো হয়েছে। ১০ কার্যদিবস ৭ তারিখ শেষ হতো। ৭ তারিখই রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেদিন তাঁর ব্যস্ততার জন্য ৬ তারিখ আমরা জমা দিলাম। আমাদের কাজ ৬ তারিখের সভাতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
প্রথম আলো :সার্চ কমিটি কেন বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছিল? ব্যক্তি বাছাইয়ে মতামত দিতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সুপারিশ গ্রহণ না করার পেছনে কী যুক্তি ছিল?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : বিশিষ্ট নাগরিকেরা নির্বাচন কমিশন কেমন হবে, এর সদস্যদের কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে—এসব বিষয়ে তাঁদের মত দেন। আমার বিশ্বাস, তাঁরা যা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে তা মনে রাখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। একধরনের নৈতিক চাপের নিচে তাঁরা থাকবেন। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রস্তাবটি ছিল চমৎকার। কিন্তু আমাদের বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকগুলোই চায়নি, তাদের দেওয়া নাম প্রকাশ করা হোক। হয়তো তারা চায়নি তারা কাদের নাম প্রস্তাব করেছে, সবাই তা জানুক। স্যারের প্রস্তাবটি অন্যভাবে গ্রহণ করা যেতে পারত, যেমন কোন দল কার নাম প্রস্তাব করেছে, তা উল্লেখ না করে সবাইকে জানানো যেত। তাতে একটা পাবলিক ডিবেট হতে পারত। তবে তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনাটাও ছড়িয়ে পড়ত। কিন্তু একই সঙ্গে বলতে হয় অনুসন্ধান কমিটির কর্মপরিধিতে এই বিষয়টি ছিল না।
প্রথম আলো :১৬ বা ১৭ জন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানালেও কোনো সংখ্যালঘুর অন্তর্ভুক্তি কেন সম্ভব হলো না? আর কমিশনেও কেউ এলেন না।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিককে ডাকা হবে। তাতে এমন দুজনও ছিলেন; যাঁরা থাকেন চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে। একসময় দেখা গেল এত অল্প সময়ে তাঁদের পক্ষে ঢাকায় এসে বৈঠকে যোগ দেওয়া হয়তো সম্ভব নয়। তাঁদের জায়গায় ঢাকা থেকে দুজনকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল, সেটি হয়নি আমাদের অসাবধানতার কারণে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আর কমিশনে একজনকে নিতেও কয়েকটি নাম আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু তা যাচাই উতরে যায়নি। 
প্রথম আলো :আপনারা কী বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির কাছে আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন? সবাই চাইছে বলে আইন দরকার? নাকি এর কোনো উপকারিতা রয়েছে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : একটি আইন থাকার কতগুলো সুষ্ঠু সুবিধা আছে। প্রথমত, তাতে বিধিবিধান, কর্মপরিধি ও পদ্ধতি সবই সুনির্দিষ্ট থাকে, এমনকি প্রতিটি কাজ পদের সংক্রান্ত নির্দিষ্ট থাকে, তাতে এর প্রয়োগ সহজ হয়, একে অনুসরণ করাও সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, আইনের একটি বস্তুনিষ্ঠতা থাকে, এটি থাকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা দলের ঊর্ধ্বে। তৃতীয়ত, আইন প্রতিপালনের একটি বাধ্যবাধকতা থাকে; আইনের বরখেলাপের জন্য প্রতিকার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও থাকে। আইন হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার ভেতরে চলে আসবে। সবাই যখন আইন চায়, বুঝতে হবে একটা প্রয়োজনীয়তা থেকে মানুষ কথাটি বলে। তা ছাড়া, আমি দেখেছি এবার বিএনপিসহ অনেক দল একটি অনুসন্ধান কমিটি তৈরির জন্য অনেক নাম প্রস্তাব করেছিল। তাদের নামগুলো থেকে কোনো নাম রাখা হয়নি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে। আইন থাকলে এটি হতো না। এ প্রসঙ্গে আমি মনে করি, সরকারি ও বিরোধী দলগুলো থেকে সদস্যদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করলে অনুসন্ধানটিও সবার মনমতো হয়, কমিশন গঠনেও ঐকমত্য হয়।
প্রথম আলো :সংবিধানে ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে যেভাবে আইনের কথা আছে, সেভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের জন্য আইন তৈরির কথা বলা আছে। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আপনি কি মনে করেন, সব সাংবিধানিক পদধারী আপনারা যে প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বাছাই করেছেন, তেমন প্রক্রিয়া তাঁদের জন্যও প্রযোজ্য?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : অবশ্যই। প্রতিটি সাংবিধানিক নিয়োগের ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট আইন থাকা প্রয়োজন। তাতে একদিকে নিয়োগ-প্রক্রিয়া যেমন স্বচ্ছ হবে, দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
প্রথম আলো :গোপনীয়তা রক্ষায় কমিটি কী যুক্তিতে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিল? কমিটি অবশ্যই প্রচলিত আইন দ্বারা চালিত হবে। ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইন আপনাদের নেওয়া অবস্থানকে সমর্থন করে না। সুতরাং আপনারা আইন লঙ্ঘন করেছেন। মন্তব্য করুন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আপনি যে অর্থে গোপনীয়তা বলছেন, সে অর্থে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি আমরা দেখিনি। আমরা চেয়েছি, কাজটা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা নিজেদের মধ্যেই আলাপ-আলোচনা করব এবং প্রতিদিন মিডিয়াকে একটা ব্রিফিং দেওয়া হবে। আমরা ভেবেছি যেহেতু নামগুলো যাচাই-বাছাই করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, এ নিয়ে কথা বললে ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। তা ছাড়া, দলগুলো যেহেতু তাদের দেওয়া নামগুলোর ব্যাপারে গোপনীয়তা রেখেছে, আমরাও রেখেছি। এতে তথ্য অধিকার আইনের বরখেলাপ হয়েছে বলে তো আমার মনে হয় না। তবে নির্বাচন কমিশন আইন হলে, সেখানে অনুসন্ধান কমিটির বিধান থাকলে এই গোপনীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।
প্রথম আলো :মুখপাত্র নিয়োগ করে আপনারা নিজেদের জনগণের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়েছেন। সাচিবিক সহায়তা মানে একটি স্বাধীন কমিটির সরকারি মুখপাত্র করা বোঝায় না। মন্তব্য করুন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আমাদের সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব যে ব্রিফিং দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কমিটি ঠিক করে দিত। তিনি নিজ থেকে কোনো মন্তব্য যোগ করেননি, আমাদের নির্দেশনার বাইরে যাননি। ফলে এখানে তিনি ‘সরকারি মুখপাত্র’ হিসেবে কাজ করেননি, করেছেন অনুসন্ধান কমিটির মুখপাত্র হিসেবে। এ দায়িত্ব আমি পালন করলেও একই তথ্য সাংবাদিকেরা পেতেন।
প্রথম আলো :যদি আপনারা শুনানি করতেন, তাহলে তা আরও স্বচ্ছ হতো। সিইসির বিরুদ্ধে জনতার মঞ্চসংক্রান্ত অভিযোগ তোলা ও তা খণ্ডনের সুযোগ নতুন সিইসিরই থাকত। এসব এড়াতে আপনার সুপারিশ কী? সাংবিধানিক পদমর্যাদায় লোক নিতে ব্রিটেন ও ভারত বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের পথে গেছে। আমাদের পথ কী হবে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আমার সুপারিশ একটাই—নির্বাচন কমিশন আইন হোক। সেই আইনে গণশুনানি থাকতে পারে, অন্যান্য পদ্ধতিও থাকতে পারে। আমরা ভারত ও ব্রিটেনের পথে যেতে পারি, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি উঁচুমানের? দলগুলোর ভেতর কি গণতন্ত্র আছে? সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা ও শ্রদ্ধা আছে? ভারতের রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের, প্রধানমন্ত্রী বিজেপির। দিব্যি তারা রাজনৈতিক ঘরসংসার করছেন। আমাদের দেশে কি তা ভাবা যায়? যেদিন ভাবা যাবে, সেদিন সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ হবে।
প্রথম আলো : নতুন নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আপনার কোনো বক্তব্য?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : নতুন নির্বাচন কমিশনকে আমি অনুরোধ করব, সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জনের কাজটি তারা অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখবে। খুব দ্রুত ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করে তারা কাজ শুরু করবে। এই পরিকল্পনায় রাজনৈতিক দলগুলোর থাকে সংলাপ; স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট করা ও জবাবদিহির বিষয়টি সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ও তা বাস্তবায়নের পথনির্দেশ থাকবে। নির্বাচন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে তারা নিয়মিত বৈঠক করবে। মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে তাদের কর্মকাণ্ড বিষয়ে অবহিত রাখবে এবং প্রতিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে। এগুলো নাগরিক সমাজ তাদের থেকে আশা করেছে এবং জনগণ করছে ও করবে। এটি যেন তাদের সব কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকে।
প্রথম আলো :আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছবিতে

উঠানের গাছ আর দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখা আছে ৭ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট চওড়া ৪০টি বোর্ড। কালো পটভূমির প্রতিটি বোর্ডে সাদাকালোতে ফুটে আছে অগ্নিঝরা দিনের কথা। ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কের এই বাড়িতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস মূর্ত হয়ে আছে ছবিতে। ধানমন্ডি ১০ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িটি ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুবের। এর আঙিনাতেই চলছে ভাষা আন্দোলনের ৪০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই বাড়িতেই গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলন গবেষণাকেন্দ্র ও জাদুঘর মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির সংগ্রামের প্রসঙ্গ উঠলেই যে তারিখটা মনের মধ্যে জ্বল জ্বল করে,
সেটা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাই চেতনায় খেলে যায়। কিন্তু ভাষাসংগ্রামের ইতিহাসের প্রথম হামলা হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাস ও ট্রাকে চড়ে দল বেঁধে এসে হামলা চালায় পলাশী ব্যারাকে। হামলার বর্ণনাসহ পলাশীর মোড়সংলগ্ন সেই হারিয়ে যাওয়া ব্যারাকের ছবি রয়েছে এই প্রদর্শনীতে। আছে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশের অনেক চেনা ও অচেনা ছবি। সব মিছিলের ছবিতেই মেয়েরা আছেন সামনের দিকে। ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান নিয়ে ছাপার অক্ষরে পড়া ইতিহাস এই ছবিগুলোতে অনেক বেশি জীবন্ত বলে মনে হয়। ‘শিক্ষা ও কৃষ্টির গোড়ায় কুঠারাঘাত’, ‘রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম, আমাদের জীবনসংগ্রাম’—এমন সব প্রতিবাদী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ডের ছবি যেন সেই সময়েই ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ছবি দেখতে দেখতে মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। উত্তর দিতে এগিয়ে আসেন যিনি, তাঁর নাম এম এ কামাল। কিছুদিন ধরে জাদুঘর দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। ‘১৯ আজিমপুর, ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার’ ক্যাপশনের একটি হলুদ দোতলা বড়ির ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুঝিয়ে বলেন, এই বাড়িতেই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন, তমুদ্দিন মজলিসের দপ্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এই বাড়ি থেকেই আন্দোলনের সূচনা। তবে বাড়িটি এখন আর নেই। প্রদর্শনীতে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাক এলাকায় স্থাপিত প্রথম শহীদ মিনারের ছবি। এই মিনার তৈরির দুই দিন পর,
১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, শাসকগোষ্ঠী তা ভেঙে ফেলে। ১৯৫৩ সালে তৎকালীন কলাভবন এলাকা (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ) এবং পুরোনো ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ছবিও আছে এখানে। এগুলোও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলের শিকার হয়। ছাই রং করা দেয়ালে রঙিন বাংলা বর্ণমালা লেখা বাড়িটির চত্বরে আরও জায়গা পেয়েছে ভাষা আন্দোলনের ঘোষণাপত্র, তমুদ্দিন মজলিস প্রকাশিত পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা — না উর্দু? পুস্তিকার প্রচ্ছদের ছবি। আছে মাথায় গুলিবিদ্ধ ভাষাসৈনিক শহীদ রফিক উদ্দিনের ছবি। ১৯৫২ সালে রেসকোর্স ময়দানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার বিতর্কিত ঘোষণার মুহূর্তের ছবিও প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে। ভাষা আন্দোলন গবেষণাকেন্দ্র ও জাদুঘরের পরিচালক এম আর মাহবুব বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানাতে তাঁদের এই আয়োজন। তিনি বলেন, শুধু বই পড়ার চাইতে ছবিতে দেখলে ছেলেমেয়েরা বিষয়গুলো অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারে। ভাষাসংগ্রাম নিয়ে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (শুক্রবার বাদে) প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে কিলে ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চলবে।

উড়ালসড়কের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল, বাড়বে যানজট

মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের ওপর মৌচাক পয়েন্টে সিগন্যাল-ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, তাতে উড়ালসড়কেও সিগন্যালের ব্যবস্থা থাকছে। সিগন্যাল এড়িয়ে গাড়িগুলোর গতি অবাধ রাখতে হলে উড়ালসড়ক তিনতলার স্থলে চারতলা করতে হবে। তা করতে হলে গাড়ি ঘোরানোর জন্য চারদিকে আরও জায়গা লাগবে। বাড়তি জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে এবং ভাঙতে হবে অনেক বহুতল ভবন। যানজট এড়িয়ে গাড়ির গতিপ্রবাহ অবাধ রাখতেই উড়ালসড়ক নির্মাণ কারার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে মৌচাক পয়েন্টে উড়ালসড়কেও সিগন্যাল করতে হচ্ছে। ফলে বিপুল ব্যয়ে এবং দীর্ঘ দিন ধরে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে যে উড়ালসড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। প্রাথমিকভাবে ২০১১ সালের মার্চে উড়ালসড়কের কাজ শুরুর জন্য প্রায় ৭৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এর প্রথম দুটি অংশ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর ও মালিবাগ অংশ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সময় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। উড়ালসড়কের বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঠিকাদার কোম্পানি তমা কনস্ট্রাকশন জানায়, উড়ালসড়ক মৌচাক পয়েন্টে চারতলা না করা হলে সিগন্যাল-ব্যবস্থা এড়ানো যাবে না। সূত্রমতে, এই উড়ালসড়কের জন্য যে নকশা করা হয়েছে, তা অনুসরণ করায় এখানে যানজট আরও বাড়বে। কারণ উড়ালসড়কের বাংলামোটর, মালিবাগ ও শান্তিনগর থেকে আসা অংশ এসে মিলবে মৌচাক পয়েন্টে। উড়ালসড়কের ওপরেই তৈরি হবে তিন রাস্তার মোড়। মোড়ের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে সিগন্যাল বাতির ব্যবস্থা রাখতেই হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বের কোনো দেশে উড়ালসড়কের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল আছে বলে তাঁরা শোনেননি। প্রশ্ন উঠেছে, যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্যই উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, তাহলে সেই উড়ালসড়কের ওপরই কেন যানজট হবে?এ বিষয়ে এলজিইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে এই উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য আমেরিকার একটি কোম্পানি সমীক্ষা করে নকশা করেছিল।
এই উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। তিন দিক থকে আসা উড়ালসড়কের অংশ মৌচাকের যে স্থানে মিলিত হবে, সেখানে ঠিক কতটুক জায়গার প্রয়োজন তা নিরূপণ না করেই নকশা করা হয়েছে। পরে আর নকশা হালনাগাদ করা হয়নি। আট বছর পর ২০১২ সালে সেই নকশা ধরেই কাজ শুরু হয়। আবার উড়ালসড়কের বিস্তারিত নকশা (ডিজাইন) ছাড়াই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র আহ্বান ও প্রকল্পের পুরো কাজে হাত দেওয়া হয়। ফলে উড়ালসড়কের ওপরেই রাখতে হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল। যানজট হবে বলেই সিগন্যাল বাতি দিতে হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি। এ বিষয়ে মালিবাগ-মৌচাক (ডব্লিউ-৫), বাংলামোটর-মৌচাক অংশ (ডব্লিউ-৬) ও শান্তিনগর লুপের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মৌচাক পয়েন্টে বর্তমানে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, তাতে তিন রাস্তার মোড়ের জন্য সিগন্যালের ব্যবস্থা রাখতেই হচ্ছে। এটা এড়াতে গেলে সেখানে তিনতলার স্থলে চারতলা উড়ালসড়ক করতে হবে। অর্থাৎ আরও একটি তলা বাড়াতে হবে। সেটা বাড়াতে হলে গাড়ি ঘোরানোর জন্য যে টার্নিং করতে হবে, তাতে চারদিকের অনেক উঁচু ভবন ভাঙতে হবে। তার আগে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। তবে তিনি বলেছেন, সিগন্যাল থাকায় সেখানে খুব বেশি যানজট হবে না, কারণ সেখানে খুব বেশি গাড়ি জমবে না বলে আশা করা যায়।  তবে একাধিক সূত্রমতে, এখানে যানজট সৃষ্টি হবেই। উড়ালসড়কের ওপর তিনটি রাস্তার মোড় করার ব্যবস্থা না রেখে একটি আরেকটির ওপর দিয়ে গেলে জটিলতা হতো না।

সড়কে এক মাস ধরে পানি

শুষ্ক মৌসুম, বৃষ্টি নেই। কিন্তু রাজধানীর খিলক্ষেত মধ্যপাড়া সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়কে পানির পরিমাণ প্রায় হাঁটুসমান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানি আটকে আছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, পয়োনিষ্কাশনের নালা বন্ধ হয়ে গেছে। পানি উঠে আসছে সেখান থেকেই। পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনেকের বাসাবাড়িতে পর্যন্ত পানি উঠে গেছে, শৌচাগার দিয়ে ভেতরে আসছে ময়লা পানি। ওয়াসার পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে সেই পচা পানির গন্ধ। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ-ই-বাইতুন নূরের সামনের মোড় থেকে কামালের বাড়ির মোড়ে র‍্যাবের বাড়ির সামনে পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক জলাবদ্ধ। মসজিদের সামনে থেকে মাস্টার কোচিং সেন্টারের সামনে পর্যন্ত ফেলা হয়েছে ইট ও বালুর বস্তা। রিকশা ছাড়া হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই। অনেকেই আবার চলাফেরা করছেন গামবুট (বর্ষাকালীন বড় জুতা) পায়ে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার পানি ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। ছয়-সাত মাস আগে থেকেই ম্যানহোলের মুখ দিয়ে পচা পানি বের হতো। ব্যবহৃত পানি সারা দিন এভাবে রাস্তায় জমে থাকত, তবে রাতে চলে যেত। কিন্তু রাস্তাটির সংস্কারকাজ শুরুর পর থেকে প্রায় ১৫ দিন ধরে রাস্তাটি জলাবদ্ধ হয়ে আছে। মধ্যপাড়ার হাজি মো. লালমিয়ার বাড়ির বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, বাসার ভেতর, রান্নাঘরে, টয়লেটে—সব জায়গাতেই পানি। ওয়াসার পানিতেও আসছে গন্ধযুক্ত ময়লা পানি। তিনি বলেন, ‘সারা দিন কিছু করতে পারি না। বাচ্চারাও বাসার বাইরে যেতে পারছে না।’ স্বপ্ন জেনারেল স্টোরের লাবণী বিশ্বাস বলেন,
তিন বছর আগে রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। তখন একসঙ্গে পয়োনিষ্কাশন নালার কাজও করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরে অনেক সময় ওয়াসা, তিতাস, সিটি করপোরেশন বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে নিজেদের প্রয়োজনমতো রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করে। তাই অল্প দিনের মধ্যেই পয়োনিষ্কাশন নালা বন্ধ হয়ে যায়। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে চান মিয়া নেতার বাড়ির সামনে থেকে পয়োনিষ্কাশন নালার সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। ওই দিন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এ সমস্যার মধ্যে আছেন। তবে সংস্কারকাজ এক-তৃতীয়াংশও করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কোচিং শেষে ছাত্রীদের নিরাপদে জলাবদ্ধ অংশটুকু পার করে দিতে পায়ে গামবুট আর হাতে লোহার রডের লাঠি নিয়ে নিজেই ময়লা পানিতে নেমে পড়লেন মাস্টার কোচিং সেন্টারের শিক্ষক মো. দেলোয়ার। ছাত্রীরা এগোচ্ছিল দেয়াল ঘেঁষে রাস্তায় ফেলে রাখা ইট আর বালুর বস্তার ওপর এক পা, দুই পা করে। পাশ থেকে তিনি নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। দেলোয়ারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ময়লা পানি মাড়িয়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এর জন্য সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। সেটি এলাকাবাসীকে জানানো আছে এবং তাদেরকে চলাচলের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যাপারীপাড়া সড়ক ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ চলাকালীন জনদুর্ভোগ এড়াতে ময়লা পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি সেচ মেশিনের সাহায্যে পানি সরানোর কাজ করে যাচ্ছে।

২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ২৫ জনের

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে প্রাণ গেল ২৫ জনের। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দায়। গত শুক্রবার রাতে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের পর আগুন ধরে যায় দুটি গাড়িতেই। এতে পুড়ে মারা গেছেন ১৩ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুটি গাড়িরই চালক রয়েছেন। অন্যরা বাসচালকের সহকারী ও ১০ যাত্রী। এ দুর্ঘটনায় দগ্ধ ও আহত হয়েছেন ৩৩ জন। এ ছাড়া শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাগুরা, গাজীপুর, নাটোর ও রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক সাবেক সেনাসদস্যসহ আরও ১২ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হন। পুলিশের হিসাবে, গত তিন বছরে গড়ে দুই হাজার মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। তবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৬ সালেই ৪ হাজার ৩১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬ হাজার ৫৫ জন। আহত হয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। এর আগের বছর প্রাণহানি হয় ৮ হাজারের বেশি মানুষের। সড়ক দুর্ঘটনাসংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন ও গবেষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় উৎসব অর্থাৎ দুই ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মানুষের যাতায়াত বাড়ে। বর্ষায়ও দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। কারণ, এ সময় বৃষ্টিতে সড়ক ভেজা থাকে এবং বেহাল সড়কের পরিমাণও বেশি হয়। আর ঘন কুয়াশার কারণেও বাড়ে দুর্ঘটনা। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব সড়ক দুর্ঘটনার খবর এসেছে, এর কোনোটাতেই দৃশ্যত এমন পরিস্থিতি ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার দুর্ঘটনার মূল অনুষঙ্গ বেপরোয়া গতি। চালকেরা বেপরোয়া গতিতে এবং একের পর এক পাল্লা দিয়ে যান চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। বুয়েটের এ অধ্যাপক আরও বলেন, মহাসড়কে গড়ে প্রতি মিনিট পরপর একটি গাড়ি আরেকটিকে পাশ কাটিয়ে (ওভারটেকিং) এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে প্রতি ওভারটেকিংয়ে একটি করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি প্রতিরোধে মহাসড়কে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহাসড়কে বিশেষ ক্যামেরা বসাতে হবে। কম খরচেই এটা করে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। জাতিসংঘ ২০২০ সাল নাগাদ সদস্যদেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১১ সালে প্রকাশ করা ওই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশও সই করেছে। কিন্তু সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই অভিযোগ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা নেই বলেই দুর্ঘটনা। আর সরকারের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগও খুব একটা চোখে পড়ে না। সড়ক নিরাপত্তা শুধু মুখে মুখেই। বাস্তবে কর্মসূচি নেই বললেই চলে।
ফরিদপুরে দুর্ঘটনা, বেপরোয়া চালক
ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসে যাত্রী ছিলেন যশোরের বাগারপাড়া গ্রামের নাইম রেজা (১৮)। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত এই যাত্রী বলেন, লোহাগড়া থেকে শুক্রবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে হানিফ পরিবহনের একটি বাস। এতে ৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। কালনা খেয়াঘাটে বাসটি যানজটে পড়ে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। পরে ফেরি পার হয়ে চালক প্রচণ্ড গতিতে বাস চালাতে থাকেন। একে একে সাত-আটটি বাস পাশ কাটিয়ে সামনে যাওয়ার পর ফরিদপুরের গজারিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি এসে পড়ে বাস। তখন বাঁ পাশে আরেকটি বাস থাকায় কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে হানিফ পরিবহনের বাসটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ড ভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুটি গাড়িতেই আগুন লেগে যায়। বাসের আহত আরেক যাত্রী লোহাগড়ার নাজির মোল্লা বলেন, বাসের সামনের দিকে আগুন লাগায় দরজা দিয়ে কোনো যাত্রী বের হতে পারেননি। পেছনের আসনগুলোর যাত্রীরা জানালার কাচ ভেঙে আহত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ দুর্ঘটনার পর ছুটে আসা লোকজনের সহায়তায় জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। দুর্ঘটনার পরপরই মুকসুদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পরে ভাঙ্গা থেকে দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গতকাল সকাল থেকেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে থাকেন লোকজন। এ সময় তাঁদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের একজন সৈয়দ দাউদ আলী। তাঁর সন্ধানে হাসপাতালে আসেন স্ত্রী শাহানারা বেগম ও তাঁর মেয়ে (নাম জানা যায়নি)। স্বামীকে না পেয়ে শাহানারার আর্তনাদে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নগরকান্দার চরযশোহরদী ইউনিয়নের গজারিয়ায় এ দুর্ঘটনায় গতকাল বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ছয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করেছে তাঁদের পরিবার। পরিচয় পাওয়া ছয়জন হলেন গোপালগঞ্জ সদরের বাসিন্দা চিকিৎসক গোলাম রসুল (৫৫), কাভার্ড ভ্যানচালক নড়াইলের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান (৪৫), বাসচালক বাঁশগ্রামের হেমায়েত হোসেন (৪০) ও তাঁর সহকারী গোবরা গ্রামের মো. জুয়েল (২০), কালিয়ার বাসযাত্রী আলমগীর হোসেন (৪০) ও কাগজীপাড়ার বাসযাত্রী মো. শাহজাহান মোল্লা (৩৫)। চিকিৎসক গোলাম রসুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকার শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। কর্মরত ছিলেন ইবনে সিনা হাসপাতালে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে এম কামরুজ্জামান বলেন, শনাক্ত হওয়া ছয়জনের লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত খরচ বাবদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচজনের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কে এম খবির বলেন, যাঁদের শনাক্ত করা যায়নি, তাঁদের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের সময় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরাদুল হক বলেন, যাঁদের শনাক্ত করা যাবে না, রোববার (আজ) তাঁদের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ফরিদপুরে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আহত ৩৩ জনকে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা অরুণ মণ্ডল বলেন, তাঁদের চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় নগরকান্দা থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা কয়েকজন বলেন, দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছেন নড়াইলের ভাটিয়া এলাকার নূর জালাল (৫৪), নোয়াখালী এলাকার বায়েজিদ শেখ (৩০), লোহাগড়ার মনির শেখ (২৫) ও সৈয়দ দাউদ আলী (৫৫) এবং চর দৌলতপুরের উজ্জ্বল ফকির। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক কামরুজ্জামান বলেন, পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় লাশগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বজনদের কাছে মৃতদেহগুলো বুঝিয়ে দিতে হাসপাতাল চত্বরে একটি সেল খোলা হয়েছে।
মাগুরায় একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৪
যশোর-মাগুরা সড়কের শেখপাড়া নামক স্থানে গতকাল ভোররাতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ১০ জন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১৩ জন একটি মাইক্রোবাসে যশোরের বেনাপোল যাচ্ছিলেন। পথে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ মোল্যার স্ত্রী খোদেজা বেগম (৪৫), নূর মোহাম্মদের ভাই সালাম মোল্যার স্ত্রী মজিরন বেগম (৪০) ও সালাম মোল্যার ছেলে আলামিন (৯) এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দৌলতদিয়া ওমর আলী মোল্যা পাড়ার মৃত আজগর আলী সরদারের স্ত্রী ফুলজান বিবি (৭০)।
গাজীপুরে সাবেক সেনাসহ নিহত ৫
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর আরপি গেট এলাকায় শুক্রবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক সেনাসদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) উচ্চমান সহকারী মো. আবু হানিফ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আনোয়ার হোসেনের নাম জানা গেছে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজেন্দ্রপুরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী ইজিবাইকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে এ তিনজন নিহত হন। এলাকাবাসী আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অধীন চক্রবর্তী এলাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে গত রাতে (শনিবার) যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে বাসের দুই যাত্রী নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষে বাস ও ট্রাক উল্টে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের শেখ ফজিলাতুন্নেছা কেপিজে হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আইড়মারি সেতু এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে একটি ট্রাক অপর একটি ট্রাককে ধাক্কা দিলে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হন। বনপাড়া হাইওয়ে থানা-পুলিশ জানায়, মহাসড়কের পাশে একটি ট্রাক থেকে কয়েকজন আরোহী নামার সময় অপর একটি ট্রাক পেছন থেকে এসে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকের দুই আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারোয়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে শহীদ হোসেন (৪০) ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চর তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে ফুলচাঁদ আলী (৩৮)।
রাজশাহীতে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় গতকাল ট্রাকের ধাক্কায় বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম আবদুর রাজ্জাক (৫৯)। বাড়ি সিরাজগঞ্জের পুষ্টিগাছা এলাকায়। তিনি নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন পুঠিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজশাহীর পবা হাইওয়ে থানা-পুলিশ জানায়, সকাল সাতটার দিকে কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় আবদুর রাজ্জাক ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাজশাহীগামী একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও ঝিনাইদহ; ফরিদপুর অফিস; গাজীপুর, নাটোর ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি}

দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় হঠাৎ ছুরি নিয়ে হামলা

হোটেলে দুপুরের ভাত খাওয়ার সময় ছুরি নিয়ে ছাত্রলীগের এক পক্ষ অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের ওপর। এতে প্রাণ হারান ছাত্রলীগের এক কর্মী। ছুরিকাঘাতে আহত হন আরও দুজন। গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের ‘আল মদিনা ভাত ঘর’ হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন আরাফাত চট্টগ্রাম নগরের সরকারি সিটি কলেজে পড়তেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি।
বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নে। একই ঘটনায় আহত হারুনুর রশিদও সিটি কলেজ থেকে স্নাতক (পাস কোর্স) করছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। আহত আরেক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও পরে ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে যান। নিবন্ধন খাতায় তাঁর নাম ফাহিম লেখা ছিল। গত ২৬ মাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে প্রাণ হারান ৭ জন। ২০১৬ সালে ৮ জন। সর্বশেষ গতকাল মারা গেলেন এক কর্মী। এর বাইরে গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা বলছেন, দিয়াজকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সিটি কলেজ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বলেন, হামলার শিকার ও হামলায় অংশ নেওয়া যুবকেরা চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের উপসম্পাদক আবদুল আহাদের অনুসারী। ইয়াছিনের সঙ্গে হারুনের বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলেজে আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধও এর পেছনে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। ঘটনা সম্পর্কে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ভাত ঘরে ইয়াছিন আরাফাতসহ আরও এক-দুজন ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় অপর একটি পক্ষ সেখানে ইয়াছিনের ওপর হামলা করে। ইয়াছিনরা হামলা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিনকে মৃত ঘোষণা করেন। ইয়াছিনের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হারুনের গলা ও দুই হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত ফাহিমের পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনি কিছুক্ষণ পর পালিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত হারুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে সিটি কলেজে ইয়াছিনের ছোট ভাইদের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হয়। সেটা বড় ভাইয়েরা সেখানেই মিটিয়ে দেন। এরপর বিকেলে ইয়াছিন লোকজন নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। ওই সময় তাদের কারও ছুরিকাঘাতে ইয়াছিন মারা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে ইয়াছিনও আবদুল আহাদের অনুসারী হিসেকে কাজ করতেন। তবে ইয়াছিন কয়েক মাস আগে তাঁদের পক্ষ ছেড়ে যান। মাদক ব্যবসার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও তাঁর দাবি, ইয়াছিন কিছুদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে নগর ছাত্রলীগের উপসম্পাদক আবদুল আহাদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর মুঠোফোন এ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আল মদিনা হোটেল ফাঁকা পড়ে আছে। হোটেলের ব্যবস্থাপকসহ কর্মীদের কেউ নেই। সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। উৎসুক লোকজনও ভিড় করেছে। হোটেলের মেঝে থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান পাশের দোকানদারেরা। সন্ধ্যায় হাসপাতালে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ইয়াছিন ও হারুন একসঙ্গেই থাকতেন। কিছুদিন আগে কোনো একটা বিষয়ে তাঁদের দ্বন্দ্ব হয়। আজ (কাল) সকালে কলেজে তাঁদের ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর চড়াও হয়। ফাহিম নামের আহত ওই যুবককে খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসা অন্যতম কারণ হতে পারে। হারুনের সঙ্গে ইয়াছিনের এ নিয়েই সম্ভবত দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ইয়াছিনের পরিবারের সদস্যরা নগরের ডিসি রোড এলাকায় থাকেন। অবশ্য ইয়াছিন রেয়াজউদ্দিন বাজারের চৈতন্য গলি এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
হারুন নগরের নন্দনকানন এলাকায় থাকেন। ইয়াছিনের মতো হারুনের বাড়ি সাতকানিয়ায়। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন ইয়াছিনের বাবা কামাল উদ্দিন, চাচা আবছার উদ্দিনসহ স্বজনেরা। কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে ছাত্রলীগ করত জানি। কিন্তু তাই বলে এভাবে কেন মেরে ফেলা হলো?’ কামাল উদ্দিন অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে ইয়াছিনের চাচা আবছার উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই এবং আমরা কেউ বিএনপি কেউবা জামায়াতের রাজনীতি করি। আমার ভাইপো (ইয়াছিন) আওয়ামী লীগ করত। রাজনীতি তো দেশের উন্নতির জন্য। কেন হত্যা করা হলো তাকে?’ এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে গতকাল বিকেলে হাসপাতালে ভিড় করেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী। কাছাকাছি এ সময় হাসপাতালের সামনের সড়কে কয়েকজন যুবক একটি গাড়ি (প্রাইভেট কার) ভাঙচুর করেন। ওই যুবকদের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। এ ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইমরান আহমেদ বলেন, ইয়াছিন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। নগর কমিটির নেতা আহাদের মাধ্যমে ইয়াছিনকে চিনতেন তিনি। আহত হারুনকে চেনেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গর্ত ও ধুলার সড়ক

‘রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করলে ধুলোয় একাকার হয়ে যায়। কিছুই দেখা যায় না। দরজা-জানালা বন্ধ করেও ঘরে থাকা যায় না। তখন নাকেমুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে থাকতে হয়। রান্নার কাজ করা যায় না। সন্তানদের খেতে দেওয়া যায় না। গাড়ির শব্দ শুনলে ভাতের থালা নিয়ে ঘরের ফাঁকা জায়গায় চলে যেতে হয়।’ কথাগুলো ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের মুহাম্মদ এয়াকুবের স্ত্রী জেসমিন আকতারের। তাদের বাড়ি উপজেলার চার কিলোমিটার দীর্ঘ দমদমা-লেলাং সড়কের পাশে তেলপারই খালসংলগ্ন এলাকায়। শুধু জেসমিন আকতার নন, সড়কটির দুরবস্থা সম্পর্কে লেলাং এলাকার স্কুলশিক্ষক সত্যব্রত দাশ, নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবু তাহের, নাজিরহাট কলেজের শিক্ষার্থী সাহেদুল আলম, লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক (ইউপি) সদস্য মুহাম্মদ ফারুকও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। দমদমা-লেলাং সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. আজম উদ্দিন (৩৪) বলেন, ‘সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরুপায় হয়ে এসব সড়ক দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিনে দিনে গর্তগুলো আরও বড় হচ্ছে। বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত রাস্তার মেরামত করা না হলে এ পথে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ’ ইমামনগর বোর্ড স্কুল এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল উদ্দিন (৩৭) বলেন, ‘বিকল্প যাতায়াতের কোনো উপায় নেই বলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ আধা পাকা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’ লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সড়কটি এখন এ অঞ্চলের মরণফাঁদ।
এটি দিয়ে উপজেলার উত্তর–পূর্বাঞ্চল থেকে ফটিকছড়ি সদরসহ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। এ ছাড়া এটি মাইজভান্ডার-নানুপুর সড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের লেলাং থেকে দুই কিলোমিটার ইট বিছানো। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যানবাহন যাওয়ার সময় ধুলাবালু উড়ে মেঘের মতো হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের মতো পথচারী ও পরিবহনযাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধুলার হাত থেকে রক্ষা পেতে সড়কসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও দোকানিরা নিজেদের উদ্যোগে কলসি ও বালতি দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটাচ্ছেন। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী ম. বিলাল হোসেন জানান, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে দমদমা-লেলাং সড়কের চার কিলোমিটারের সড়কটির দুই কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করার পর কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। পরে উপকরণের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার শুধু ইট বিছিয়ে কাজ ফেলে চলে যান। এ জন্য ঠিকাদারকে জরিমানা করা হয়। পুনরায় সড়কের প্রকল্প প্রাক্কলন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায় বলেন, দমদমা-লেলাং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এটি দ্রুত সংস্কার এবং বাকি অংশের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

পাঁচ বছর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা্কাণ্ডের পর বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছিল সাংবাদিক সংগঠনগুলো । ধারাবাহিক নানা কর্মসূচির পর একপর্যায়ে সেই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে আসে। আটকে যায় মামলার তদন্তের গতিও। এই প্রেক্ষাপটে সাগর-রুনি হত্যার পাঁচ বছর পূর্তিতে গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বিচার দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামা আহ্বান জানান। সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা নিজেদের অনৈক্যের সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, সব কটি সাংবাদিক সংগঠন একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেও পরে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কেউ কেউ সরে গেছে। গতকাল সমাবেশে সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সব কটি সংগঠন আবার যৌথ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সমাবেশ শেষে ২২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সব কটি সংগঠনের যৌথ সভা আহ্বান করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সব কটি অংশের নেতারা ওই সভায় উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে একমত হন। সমাবেশে মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, ‘আমরা বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু বিচার চেয়ে যাব। সাংবাদিকদের কাছে আমাদের চাওয়া, তাঁরা যেন আন্দোলনটা চালিয়ে যান।’ তিনি এই মামলার তদন্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়সারা বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, বারবার তদন্তকারী সংস্থা বদলের পরও মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা একটি গণতদন্ত কমিশন গঠন করতে পারেন। নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ভারতে জেসিকাকে খুন করেছিল প্রভাবশালীরা। এনডিটিভি দিনের পর দিন প্রতিবেদন প্রচার করে জনমত তৈরি করেছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশের গণমাধ্যমকে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেতে হবে। সাগর সরওয়ারের সহকর্মী রেজোয়ানুল হক বলেন, ‘মাছরাঙা টেলিভিশন বিচারের দাবিতে টানা তিন বছর আন্দোলন করেছে। এখন হতাশ হয়ে পড়েছে। আমরা বুঝতে পারছি বিচার পাওয়া কঠিন। আমাদের কৌশল বদলাতে হবে।’ সমাবেশে সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আবদুল জলিল ভূঁইয়া, রুহুল আমিন গাজী, ওমর ফারুক, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, মধুসূদন মণ্ডল, শাবান মাহমুদ, ইলিয়াস খান, সাজ্জাদ আলম প্রমুখ। প্রথম আলোর পাবনা অফিস জানায়, সাগর–রুনি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় গতকাল সাংবাদিকেরা জেলা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করেন। পাবনার টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতি ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

অনুসন্ধান কমিটি সফল হয়নি

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, গত ১০ বছরে একটা অনুসন্ধান কমিটিও এমন কোনো নাম দিতে পারেনি, যেখান থেকে কমিশনে কোনো সফল ব্যক্তিত্ব এসেছেন। যাঁদের আসা সম্ভব ছিল, তাঁদের নাম অনুসন্ধান কমিটি দিতে পারেনি। তাই অনুসন্ধান কমিটি এখনো সফল হয়নি। গতকাল শনিবার সকালে ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আকবর আলি খান। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থায় (এফডিসি) বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলা ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথভাবে এ বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আকবর আলি খান বলেন, নির্বাচন কমিশনে এমন লোককে দেওয়া উচিত, যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য ছিলেন না। যাঁর অভিজ্ঞতা আছে এবং যাঁকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তিনি যদি কোনো লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য না হন, তাঁকে নেওয়া হবে না। এটা ব্যক্তির প্রতি বিচার করার বিষয় নয়, এটা নির্বাচন করার জন্য। অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য অনুসন্ধান কমিটিকে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।
তারা বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থীর নাম নিয়ে তাদের পছন্দমতো নাম বাছাই করেছে। কিন্তু এত সহজে ১০ দিনে লোকের তালিকা দেখে বাছাই করা সম্ভব নয়। আকবর আলী খান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কি হবে না, তা রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ এ সিদ্ধান্ত দিতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণভোট গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ দেশে গণভোট শক্তিশালী করার জন্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যে দেশে রাজনৈতিক দলগুলো বিবাদে লিপ্ত থাকে, একে অপরকে অভদ্র ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কথায় কথায় শোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, সে দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়া সম্ভব নয়। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলার যৌথ আয়োজনে বছরব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় ছায়া বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার নয়, বর্তমান সরকারই যথেষ্ট’। এতে সরকার দলের হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি দলের হয়ে অংশ নেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিতর্কে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকেরা জয়ী হন।

হালদা নদীর গলার কাঁটা বাঁধ

চার বছর আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভুজপুর এলাকায় হালদা নদীর ওপর তৈরি করা হয় একটি রাবার ড্যাম (বাঁধ)। এর এক বছর পর ভুজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হারুয়ালছড়ি খালে আরেকটি রাবার ড্যাম বানানো হয়। নদীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই খাল। দুটি রাবার ড্যামের কারণে এখন বছরে চার মাস হালদার উজানের অন্তত ৬ কিলোমিটার প্রায় পানিশূন্য অবস্থায় থাকে।
এতে নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি হালদার জীববৈচিত্র্যও হুমকিতে পড়ছে বলে জানান গবেষকেরা। দুটি বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল ভুজপুর থানাধীন অন্তত দেড় হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের সময় পানির জোগান দেওয়া। বাঁধ দেওয়ার ফলে বোরো চাষাবাদে সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় না ভুজপুরের কৃষকদের। ভুজপুরের ১৩টি চা-বাগানও এই বাঁধের সুফল পাচ্ছে। তবে বড় ক্ষতি হয়েছে নদীর। উজানে বাঁধের কারণে ভাটিতে পর্যাপ্ত পানি যেতে পারছে না। বাঁধের নিচে নদীর বড় একটি অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। হালদায় দিনে দিনে মাছের সংখ্যা ও মাছের ডিম ছাড়ার পরিমাণ কমে যাওয়ার পেছনে এই বাঁধ দুটিকে দায়ী করছেন গবেষকেরা। বুয়েটের পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক উম্মে কুলসুম নভেরা প্রথম আলোকে বলেন, হালদা দেশের অনন্য একটি নদী। এই নদী বাঁচানোর প্রধান শর্তই হচ্ছে, এতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। কিন্তু বাঁধের কারণে বছরে চার মাস সেটি সম্ভব হচ্ছে না। সেই বাঁধটি সরিয়ে নিতে হবে। শুরুতে পুরোটা সরানো না গেলেও যতটা সম্ভব এর উচ্চতা কমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বুয়েটের এক গবেষণায়ও বাঁধের বিরূপ প্রভাবের চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বুয়েট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন গবেষক। ফটিকছড়ি উপজেলার পূর্ব ভুজপুর এলাকায় হালদা নদীর উজানে ২০১২ সালের মার্চ মাসে রাবার ড্যাম উদ্বোধন করা হয়।
পরের বছর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি খালেও রাবারের বাঁধ দেওয়া হয়। বাঁধ দুটি নিয়ন্ত্রণ করে কৃষি বিভাগ। গবেষকেরা বলছেন, বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় জলজ প্রাণের খাদ্য তৈরিতে অন্তরায় তৈরি করছে। গবেষণায় যুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, মৃগেল ও কাতলা মাছের খাদ্য হচ্ছে প্ল্যাঙ্কটন। আর রুই ও কালিবাউশের খাদ্য বেনথোস। বাঁধের কারণে নিচের অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এ দুই খাদ্যের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নদীর সত্তারঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত যেখানে প্রজননক্ষেত্র, সেখানে মাছের খাদ্যের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। প্রজনন মৌসুমেও মাছকে খাদ্যের সংকটে ভুগতে হচ্ছে। মনজুরুল কিবরীয়া ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে পানি ও মাটির নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঁধ কার্যকর থাকা অবস্থায় ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভুজপুর, নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি ও নাজিরহাট এলাকায় হালদা নদীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে প্ল্যাঙ্কটন ও বেনথোসের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। অন্যদিকে এসব এলাকায় মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতি ঘনমিটার পানিতে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখের মধ্যে প্ল্যাঙ্কটন ওঠানামা করে। উজানের বাঁধের প্রভাব পড়ে ভাটির পানিতেও। বাঁধ কার্যকর মৌসুমে (ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত) মাছের প্রজনন এলাকা রাউজান উপজেলার সত্তারঘাট থেকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট পর্যন্ত নদীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে প্ল্যাঙ্কটন পাওয়া গেছে ৫০ হাজার বা তার কিছু বেশি। অথচ একই এলাকায় মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি ঘনমিটার পানিতে দেড় লাখ পর্যন্ত প্ল্যাঙ্কটন পাওয়া গেছে। এই সময়ে প্রতি বর্গমিটার পানিতে বেনথোস পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ২০০। এ বিষয়ে হালদা নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাঁধ যখন কার্যকর থাকে, তখন নদীর নিচের অংশে অন্তত ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে যায়। বাঁধের কারণে নদীর নিচের অংশে মাছের খাদ্য ক্ষুদ্র প্রাণি ও জলজ উদ্ভিদের ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ কমে যাচ্ছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ভুজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পানি বাঁধের ভেতরের অংশে আটকে রাখা হয়েছে। ১৭টি নালার মাধ্যমে এসব পানি চলে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বিলে। বাঁধের নিচের অংশের নদীর তলদেশের মাটি ফেটে গেছে। রাবার ড্যামটির প্রস্থ ১০০ মিটার, উচ্চতা সর্বোচ্চ সাড়ে চার মিটার। রাবারের এই বাঁধটি ফুলিয়ে পানি নামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। অন্যদিকে হারুয়ালছড়ি খালে দেওয়া বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার। আর উচ্চতা সাড়ে চার মিটার। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সেচের মৌসুমে বাঁধগুলো কার্যকর রাখা হয়। এর পর বাঁধ সরিয়ে নিলে হালদা পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। শুরুর দিকে সাড়ে তিন মিটার পর্যন্ত বাঁধ উঁচু করা হলেও এ বছর থেকে তা আড়াই মিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। ফটিকছড়ির উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, এবার বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দেড় হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। বাঁধ যখন ছিল না, তখন সব মিলিয়ে ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা যেত। বাঁধের কারণে স্থানীয় কৃষকেরা খুশি। পূর্ব ভুজপুরের আমতলী এলাকার কৃষক তাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আগে যখন মেশিন দিয়ে পানি তুলে চাষাবাদ হতো, তখন সেচের জন্য কানিপ্রতি (৪০ শতক) ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হতো। বাঁধ দেওয়ার পর ৬০০ টাকা লাগে। নদী বাঁচাতে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে করা গবেষণায় বোরো ধানের উৎপাদন কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ফসলে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। এর পরিবর্তে কম পানি প্রয়োজন হয় এমন শাকসবজি আবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভুজপুরে ১৩টিসহ ফটিকছড়িতে মোট ১৭টি চা-বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলোর পানির মূল উৎস হালদা। কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, চা-বাগানগুলো কোনো না কোনোভাবে হালদা থেকে পানি উত্তোলন করে। গবেষণায় শুকনো মৌসুমে হালদা থেকে চা-বাগানগুলোকে পানি তুলতে বারণ করার সুপারিশ করা হলেও এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে। গতকাল শনিবার দুপুরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ভিক্ষুকমুক্ত খুলনা বিভাগ গড়তে খুলনা রেঞ্জের পুলিশ সদস্যদের এক দিনের বেতনের ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২০৯ টাকার চেক খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদের কাছে হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন। খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করার চেষ্টা তারই একটি অংশ। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা করেন। পরে তিনি নড়াইলের কালিয়া থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

ধলেশ্বরীতে ট্যানারি বর্জ্য দূষণ আরও বেড়েছে

সাভারে ধলেশ্বরী নদীতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ট্যানারি থেকে নির্গত বর্জ্যে দূষণ আরও বেড়েছে। ট্যানারির বর্জ্যের কারণে নদীটির নতুন নতুন এলাকা দূষণের শিকার হচ্ছে। চামড়াশিল্প নগরীর প্রধান বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র (সিইটিপি) থেকে নির্গত হওয়া পানি দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করে এ তথ্য পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশবাদীরা বলছেন, সাভারের হেমায়েতপুরের পরিকল্পিত ওই চামড়াশিল্প নগরী নিয়ে অনেক বছর ধরে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বেঁধে দিয়ে ট্যানারিগুলোকে সেখানে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হচ্ছে। এরপরও সেখানে দূষণ হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গাফিলতিকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। নিয়ম না মেনে সিইটিপি চালু করায় ট্যানারিগুলোর বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে এসেছে। প্রথম দফার পরীক্ষার পর সিইটিপি নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চীনা প্রতিষ্ঠান জিনসু লিংঝি এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানিকে শিল্প মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করে।
কিন্তু দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, জরিমানার পর দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে। চামড়াশিল্প নগরীতে ১৫৪টি ট্যানারি প্লট পেয়েছে। চামড়াশিল্প নগরী কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৩টি ট্যানারি রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ওয়েট ব্লু (চামড়া প্রক্রিয়াকরণ) স্থানান্তর করেছে। আর ওয়েট ব্লুর জন্য ড্রাম স্থাপন করেছে ৫২টি প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ সব ট্যানারি স্থানান্তরের আগেই ধলেশ্বরী যে পরিমাণ দূষণের শিকার হয়েছে, সব কটি সেখানে গেলে এর মাত্রা কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা পরিবেশবাদী ও স্থানীয় মানুষের। পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় হেমায়েতপুরের চামড়াশিল্প নগরী থেকে নির্গত পানি পরীক্ষা করে। এই পরীক্ষায় পানিতে মানব ও প্রাণিদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক উপাদান ক্রোমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি পাওয়া গেছে। পানির তাপমাত্রা থেকে শুরু করে দ্রবীভূত অক্সিজেন, ক্ষার, বিদ্যুৎ পরিবাহন, ক্রোমিয়ামের পরিমাণ, লবণের পরিমাণ, রাসায়নিক উপাদান, জৈব রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়েছে। অক্সিজেন ছাড়া বাকি সাতটি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। আর অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সিইটিপি থেকে নির্গত প্রতি লিটার পানিতে তাপমাত্রা পাওয়া গেছে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা থাকার কথা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্ষারের পরিমাণ থাকার কথা ৬ মাইক্রোগ্রাম, পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে ৮ মাইক্রোগ্রাম।
রবীভূত অক্সিজেন থাকার কথা সাড়ে ৪ থেকে ৮ মাইক্রোগ্রাম, পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ২ গ্রাম। জৈব রাসায়নিকের পরিমাণ স্বাভাবিক পানিতে থাকার কথা ১ গ্রাম, কিন্তু ধলেশ্বরীর ওই অংশে পাওয়া গেছে ২৭৫ গ্রাম। রাসায়নিকের পরিমাণ থাকার কথা ২ গ্রাম, পাওয়া গেছে ৭ গ্রাম। এই দুটি উপাদানই আগেরবারের পরীক্ষায় অর্ধেকেরও কম পাওয়া গিয়েছিল। পানিতে দ্রবীভূত রাসায়নিক উপাদান থাকার কথা ২১ গ্রাম, রয়েছে প্রায় ৭৮ গ্রাম। অক্সিজেন ছাড়া অন্য সাতটি উপাদান নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি থাকা পানি পান করলে এবং ওই পানি প্রাণিদেহের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ওই পানিতে প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে যাবে। আর যেগুলো বেঁচে থাকবে, সেগুলো বিষাক্ত হয়ে উঠবে। যা ওই নদীর তো বটেই, এর তীরবর্তী এলাকায় বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ধলেশ্বরী দূষণের নতুন উৎস চামড়াশিল্প নগরীর ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়কে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ওই পানি পরীক্ষা করে যে মাত্রায় দূষণ পাওয়া গিয়েছিল, ১২ জানুয়ারির পরীক্ষায় তার চেয়ে বেশি দূষণ পাওয়া গেছে; যা নদীটিকে বুড়িগঙ্গা-বালু ও শীতলক্ষ্যার মতো মারাত্মক দূষণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন,
ওই চীনা কোম্পানি শুরু থেকেই দুই নম্বরি করছে। তাই তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। জরিমানার পরও তারা যেহেতু দূষণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার মানে তাদের আরও কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ২৯ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রথমবারের মতো চামড়াশিল্প নগরী-সংলগ্ন এলাকার ধলেশ্বরীর পানি পরীক্ষা করে তাতে দূষণের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ৯ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘ট্যানারির বর্জ্যে আক্রান্ত ধলেশ্বরী’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ধলেশ্বরীর ওই এলাকা পরিদর্শনে যায়। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে চামড়াশিল্প নগরী কর্তৃপক্ষ ও শিল্প মন্ত্রণালয়কে দূষণের বিষয়টি অবহিত করে বেশ কিছু সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত এক মাসেও এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানা গেছে। উল্টো পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় দূষণ আগের চেয়ে বেড়েছে। জানতে চাইলে আতাহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ধলেশ্বরীর দূষণ রোধে চামড়াশিল্প নগরীর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। তারা বলেছিল, সেই সুপারিশ তারা মেনে চলবে। দূষণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা সরকারের আরও শীর্ষ মহলে তুলে ধরব।’ ধলেশ্বরীর দূষণ নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণশুনানি হয়। এই গণশুনানির আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা),
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নিজেরা করি এবং নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ। সহযোগিতা করে কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস (সিএলএস)। গণশুনানিতে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কথা শোনেন সাভারের সাংসদ এনামুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল আলম, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। গণশুনানিতে স্থানীয় লোকজন বলেন, দূষণের কারণে নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। জমিতে ফসল হয় না। দুর্গন্ধে থাকা যায় না। বুড়িগঙ্গার মতো পরিণতির দিকে যাচ্ছে ধলেশ্বরী। গণশুনানিতে সিইটিপিকে শতভাগ কার্যকর করে সব বর্জ্য শোধন করে বের করার কথা বলা হয়। জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, চামড়াশিল্পসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দূষণের কারণে ঢাকার চারপাশের বেশির ভাগ নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ধলেশ্বরীর অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল। এখন সেটাও দূষিত করে ফেলা হচ্ছে। দেশের পরিবেশ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নদীদূষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আশা করি সরকার দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে শেষ হলো উৎসব

গণিতের মাধ্যমে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে শেষ হলো ১৫তম জাতীয় গণিত উৎসব। নাচ, গান আর গুণীজনদের আলোচনায় গতকাল শনিবার উৎসব ছিল প্রাণবন্ত। আর দিনের মূল আকর্ষণ পুরস্কার প্রদান তো ছিলই। এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৮৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল মাঠে গত শুক্রবার সকালে শুরু হয়েছিল দুই দিনব্যাপী ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৭। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করে। গতকাল সকালে নৃত্যরঙের নাচের মধ্য দিয়ে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর শুরু হয় সুডোকু প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব।
শুক্রবারের বাছাইপর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সুডোকুর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। এরপর মঞ্চে আসেন অর্থনীতিবিদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হায়দার খান। তিনি বলেন, গণিত নিয়ে এশিয়ার অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। ভবিষ্যতে গণিত একটি অনুপ্রেরণা হবে। আগে বাংলায় গণিতের পরিভাষা ছিল খটমটে। সেগুলো এখন অনেক সহজ হয়েছে। মঞ্চে আসেন শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। আবেদ চৌধুরী জাফর ইকবালের কাছে জানতে চান, বিজ্ঞান বই থেকে শিখলে ভালো হয়, নাকি প্রকৃতি থেকে? জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের মাত্র ৫ শতাংশ বই থেকে শিখবে আর বাকি ৯৫ শতাংশ শিখতে হবে প্রকৃতি থেকে। এখন সবকিছু পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। সেখান থেকে সরে আসতে হবে। ভালো করে কিছু শিখলে জিপিএ-৫ পেছনে পেছনে দৌড়াবে। এরপর গণিত নিয়ে পটগান পরিবেশন করে খুলনার রূপান্তর থিয়েটার। মঞ্চে আসেন গণিতবিদ লুৎফুজ্জামান ও আনোয়ার হোসেন। লুৎফুজ্জামান বলেন, ‘বিশেষ একটি টানে এই গণিত উৎসবে আসি। কিছুক্ষণের জন্য ছোট হয়ে যাই। এই অলিম্পিয়াড সারা দেশে, বিশেষ করে ছোটদের গণিতে উৎসাহিত করছে।’ অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, মানুষের মতো মানুষ হতে চাইলে বই পড়তে হবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়তে হবে। রেজাল্ট ভালো করতে হবে। মানুষও হতে হবে। এবার মার্চের প্রথম সপ্তাহে গণিত ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পে সুযোগ পাবে। এরপর শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এ সময় মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সহসভাপতি অধ্যাপক মুনিবুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী রেজাউর রহমান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এহতেশামুল হক খান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এনদেল্লাহ, বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক এম এ হাকিম, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলের কোচ মাহবুব মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাজিমা মজুমদার, সেন্ট যোসেফ স্কুলের শিক্ষক দীপক কুমার সরকার প্রমুখ। জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, আগের বছরের চেয়ে এবারের পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে।
সারা দিন ফেসবুক ব্যবহারের দরকার নেই। এতে মস্তিষ্কের দক্ষতা কমে যাচ্ছে। বারবার গুগল করায় একধরনের ডিজিটাল ডিমনেশিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি আশা করেন, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে এবারের ফলাফল আগের চেয়ে ভালো হবে। গতকালের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই চার ক্যাটাগরিতে ৮৫ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস হয়েছে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আহম্মেদ জাওয়াদ। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় সে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য অলিম্পিয়াড পুরস্কারেও ভূষিত হয়। এ ছাড়া সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের তাসমীম রেজা, জুনিয়রে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দেওয়ান সাদমান হাসান ও প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনীতা পাল চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান। এবার সেরা গণিত ক্লাব হয়েছে চট্টগ্রাম ম্যাথ সার্কেল। রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতায় ৯ দশমিক ৭৯ সেকেন্ডে কিউব মিলিয়ে বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড তৈরি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিব ইবনে রশিদ। উল্লেখ্য যে এবারের আঞ্চলিক গণিত উৎসবে সারা দেশের ১৫টি অঞ্চলের ২২ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ী ১ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় এই উৎসবে অংশ নেয়।