Sunday, May 9, 2010

আইএমএফের ঋণ প্রস্তাব গ্রহণকরা না-করা by রিজওয়ানুল ইসলাম

বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ঋণ-সাহায্য প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। বাংলাদেশ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান হলো, সংকটের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে; সুতরাং বাংলাদেশকে সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করে ‘পুরস্কার’ হিসেবে বাজেটে সহায়তা দেওয়া উচিত। আমার মতে, আইএমএফের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়নি। তবে বাংলাদেশকে সাফল্যের উদাহরণ কি না তা অন্য প্রশ্ন। এর জবাব নির্ভর করবে সফলতার মানদণ্ড কী, তার ওপর। সেই প্রশ্নে যাওয়ার আগে দেখা যাক আইএমএফের প্রস্তাবটি কী ছিল এবং কেন আমি মনে করছি যে তাদের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক।
২০০৭ সালে যে আর্থিক সংকট শুরু হয়, তার কারণে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতি গভীর মন্দায় পড়ে। অবশ্য উন্নত দেশগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিম্নগতি দেখা দেয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উদ্দীপিত করে মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়। উন্নয়নশীল দেশেও এ ধরনের নীতি গ্রহণ করা বিষয়ে আন্তর্জাতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বেশ কিছু দেশে মন্দা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে কোন দেশ কতটা জোরের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তা সেই দেশের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। যদি স্বাভাবিক অবস্থায়ও কোনো দেশের বাজেটে ঘাটতি থাকে, তবে মন্দাবস্থায় তার পক্ষে ব্যয় বাড়ানো দুষ্কর। আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উদ্দীপিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হলে সরকারের ব্যয়ও বাড়াতে হয়। এ ধরনের অবস্থায় সহায়তা প্রদানের জন্য আইএমএফকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তিকে দৃঢ়তর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওপরে বর্ণিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফ তিনটি নতুন ঋণব্যবস্থার প্রবর্তন করে: (১) স্বল্প মেয়াদের জন্য চলতি ঋণ, (২) সীমিত শর্ত সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ঋণ এবং (৩) মধ্য মেয়াদে নমনীয় ভিত্তিতে সম্প্রসারিত ঋণ। কোনো দেশ যদি অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে পড়ে অবশ্যই আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবতে পারে। কিন্তু সবার জন্য যেমন একই মাপের কাপড় সঠিক নয়, তেমনি সব নিম্ন-আয়ের দেশের জন্য একই কাঠামোতে ঋণ প্রযোজ্য হবে, তাও ঠিক নয়। এখানেই আইএমএফের ভুল। তা ছাড়া আইএমএফের সব ঋণের সঙ্গেই কিছু শর্ত জড়িত থাকে, সেসব শর্ত পালন করা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য নজরদারির ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির যা পরিস্থিতি, তাতে এ ধরনের শর্ত সাপেক্ষে এবং নজরদারিসমেত ঋণ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এই যুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক।
তবে বিশ্ব অর্থনীতির সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল কি না, তার জবাব দিতে হলে আরও কিছু বিষয় দেখতে হবে। প্রথমে অর্থনীতির শক্তির দিকগুলোই দেখা যাক। দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাকের ওপর তেমন নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়েনি। অবশ্য কোনো কোনো মাসে পোশাক রপ্তানি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তা নয়, যদিও সে জন্য চাহিদার ঘাটতিই মূল কারণ ছিল কি না, তা বলা মুশকিল। বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিতীয় প্রধান উৎসও প্রেষিতক (রেমিট্যান্স) বা বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের পাঠানো অর্থ তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ২০০৯ সালে বিদেশে গমনকারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলেও প্রেষিতকের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেশ ভালো পর্যায়ে উঠেছে। বাজেটের দিকে তাকালেও দেখা যায় যে ঘাটতি তেমন বাড়েনি। এসব থেকে মনে হয় যে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা বেশ সন্তোষজনক। তবে অবস্থাটি কি সত্যিই পরিতৃপ্ত হওয়ার মতো? আমার কিন্তু মনে হয় না। তবে কারণগুলোও বোঝা দরকার।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সাফল্যকে আমি খাটো করে দেখছি না। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট এবং মন্দায় বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়নি। আবার সংকট দেখা দিলে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি সত্যিকারভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে? এটাও স্বীকার করতে হবে যে এখনো বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক লক্ষ্যগুলো মোটামুটি সীমিত প্রকৃতির এবং সেসব লক্ষ্য অর্জনে বাজেটের ওপর চাপও সীমিত। সামাজিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকারগুলোর দিকে ভালোভাবে দৃষ্টি দেওয়া দরকার এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলেও তা জরুরি। এই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে অর্থনীতির প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে হবে এবং সে ব্যাপারে যে পরিমাণকে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয় তা হলো তিন মাসের আমদানির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা থাকা। মাত্র কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জন করেছে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল পাঁচ মাসের আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের কিছু বেশি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ভারতেরও রিজার্ভ সেই তুলনায় অনেক বেশি। তা ছাড়া মাত্র কয়েক মাসের অবস্থা দেখে পরিতৃপ্ত না থেকে মধ্য মেয়াদের গড় চিত্রটির দিকে তাকানো উচিত।
দ্বিতীয়ত, ব্যয় বাড়িয়ে বড় আকারের উদ্দীপনা প্রদানের ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করতে হলে সরকার তা কি পারত? সরকারের বাজেটে প্রয়োজনীয় স্থান ছিল কি? বিভিন্ন খাতকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে যে উদ্দীপনা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির আয়তনের (এবং বাজেটের) তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। অন্যান্য অনুন্নত দেশে এর চেয়ে বড় আকারের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বস্তুত, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশ ‘অতি অসংরক্ষিত’ (high exposure) দেশ, আর সংকটের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এর সক্ষমতাকে মাঝারি মাত্রার বলে ধরা হয়।
তৃতীয়ত, বাজেট ঘাটতি সীমিত থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের দুর্বলতা। এ বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো অতি প্রয়োজন এবং দক্ষতা বাড়লে (অর্থাৎ ব্যয় বাড়লে) বাজেট ঘাটতিও বাড়বে, যদি না রাজস্ব আয়ও আনুপাতিকভাবে বাড়ানো যায়।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় স্থিতি আনয়নকারী হাতিয়ার বা অটোমেটিক স্ট্যাবিলাইজার। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে বেকারত্ব বিমা বা ভাতা। বেকার বা দরিদ্রদের জন্য কার্যক্রম, যেমন ফুড স্ট্যাম্প বা কর্মসংস্থান কর্মসূচিও অটোমেটিক স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থনীতির নিম্নগতির সময় বেকারত্ব বাড়লে বেকারত্ব ভাতা হিসেবে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ বাড়ে। এর ফলে অর্থনীতিতে চাহিদার ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কমে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ ধরনের অটোমেটিক স্ট্যাবিলাইজার নেই বললেই চলে। কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতা সীমিত এবং সংকটের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থাও নেই। বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অটোমেটিক স্ট্যাবিলাইজারের ব্যবস্থা করার সময় এসেছে। পরের সংকটের জন্য প্রস্তুতি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পঞ্চমত, বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা খুবই সীমিত, যদিও বয়স্ক-ভাতা, বিধবা-ভাতা ও কিছু সামাজিক সুরক্ষা জালের কার্যক্রম রয়েছে। এসব কার্যক্রমের আওতা, সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যা ও কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এর জন্য বাজেটে যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বয়স্ক-ভাতার কথা ধরা যাক। ২০০৯ সালের বাজেটে এর পরিমাণ বাড়ানোর পরও মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ দারিদ্র্যরেখার সমপরিমাণ আয়ের এক-চতুর্থাংশের মতো। এই কার্যক্রমের আওতায় সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যাও সীমিত। দারিদ্র্য হ্রাসে কোনো ভূমিকা রাখতে হলে এই কার্যক্রমগুলোর আওতা এবং মাথাপিছু ভাতার পরিমাণও বাড়াতে হবে।
ষষ্ঠত, বিদ্যমান কর্মসংস্থান কর্মসূচিগুলো সামাজিক সুরক্ষার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো আইনগত নিশ্চয়তা নেই। তা ছাড়া তাদের আওতায় অন্তর্ভুক্ত জনসংখ্যা সীমিত এবং বেকারত্ব ভাতার কোনো ব্যবস্থা নেই। যদি একটি সর্বজনীন কর্মসংস্থান কার্যক্রম চালু করা হয় এবং এর আওতায় বেকারত্ব ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে ব্যয় কত হবে তা হিসাব করা উচিত এবং বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে কি না দেখা দরকার।
সপ্তমত, প্রেষিতকের পরিমাণ না কমলেও প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ২০০৮ সালের আট লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২০০৯ সালে চার লাখ ৭৫ হাজারে নেমে গেছে। দেশের অভ্যন্তরে চার লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, নাকি তারা প্রচ্ছন্ন বেকারত্বে ভুগছে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। আরও একটি প্রশ্ন হলো, যদি কোনো সময় বিশালসংখ্যক শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করে, তবে সে অবস্থা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? দেশের অর্থনীতিতে তাদের আত্মীভূত করা এবং প্রেষিতকের উৎপাদনমূলক খাতে ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার।
অর্থনীতির স্বাস্থ্য নিয়ে পরিতৃপ্ত হওয়ার আগে এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা উচিত।
রিজওয়ানুল ইসলাম: অর্থনীতিবিদ। সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জেনেভা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখুন -অপরাধ পর্যালোচনা বৈঠক

সম্প্রতি সারা দেশে যে অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে, তা খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাও অস্বীকার করতে পারেননি। গত শনিবার শুরু হওয়া পুলিশ বিভাগের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তা হলো—গুপ্তহত্যা, পুলিশ বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাবে বদলি এবং এসআই (উপ-পরিদর্শক) নিয়োগে প্রভাবশালী মহলের তদবির।
যেকোনো বাহিনীর কাছে পেশাদারি দক্ষতা ও উৎকর্ষ দাবি করলে তাকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হয়। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই সুযোগ খুব কমই পেয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের নিরাপত্তা বিধানের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করে থাকে। এখনো এর ব্যতিক্রম ঘটছে বলা যাবে না। পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে যেসব ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বদলি হয়ে এসেছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ পালন করেন না। এমনকি অনেক থানায় গুরুতর ঘটনার মামলাও নেওয়া হয় না। তাঁদের খুঁটির জোর কোথায়, বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। টোটকা ওষুধে এ রোগের চিকিৎসা হবে না। এ জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের চিন্তাভাবনার যেমন পরিবর্তন জরুরি, তেমনি পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কাদের কারণে তা মাঝপথে থেমে গেল, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তো বটেই, বর্তমান সরকারের প্রথম বছরটিতেও আইনশৃঙ্খলা মোটামুটি ভালো ছিল বলে অনেকের ধারণা। হঠাৎ কেন পরিস্থিতির অবনতি ঘটল, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে নীতিনির্ধারকেরা পূর্ববর্তী সরকারের উদাহরণ টেনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো বলে সাফাই গেয়ে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত। সন্ত্রাসীদের হাতে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খুন হচ্ছেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? কোনো কোনো বাহিনীর নামে ঘর থেকে মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক।
একদিকে ‘অপরাধী যে-ই হোক’ তাকে পাকড়াওয়ের জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া, অন্যদিকে দলীয় লোককে ছাড়িয়ে আনতে চাপ সৃষ্টি কেবল অনৈতিক নয়, বেআইনিও। জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দল-মতনির্বিশেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের নিয়োগ-বদলিতেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যাঁরা তদবির করে চাকরি নেন, তাঁদের আনুগত্য সরকার বা জনগণের প্রতি থাকে না, থাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে না পারলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি সুদূরপরাহতই থেকে যাবে।

বিগত ৬৫ বছরের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীরা

১৯৪৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে ১২ জন নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
১৯৪৫-১৯৫১: ক্লেমেন্ট অ্যাটলি
১৯৫১-১৯৫৫: উইনস্টন চার্চিল
১৯৫৫-১৯৫৭: এন্থনি ইডেন
১৯৫৭-১৯৬৩: হ্যারল্ড ম্যাকমিলান
১৯৬৩-১৯৬৪: অ্যালেক ডগলাস-হোম
১৯৬৪-১৯৭০: হ্যারল্ড উইলসন
১৯৭০-১৯৭৪: এডওয়ার্ড হিথ
১৯৭৪-১৯৭৬: হ্যারল্ড উইলসন
১৯৭৬-১৯৭৯: জেমস ক্যালাঘান
১৯৭৯-১৯৯০: মার্গারেট থ্যাচার
১৯৯০-১৯৯৭: জন মেজর
১৯৯৭-২০০৭: টনি ব্লেয়ার
২০০৭-২০১০: গর্ডন ব্রাউন।

স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব: গর্ডন ব্রাউন

যুক্তরাজ্যের নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, ‘আমি আমার কাজ করে যাব।’ এদিকে লেবার দলের মন্ত্রীরা গতকাল শুক্রবার লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সম্ভাব্য সরকার গঠনের চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছেন। খবর এএফপির।
কারকডি ও কাওডেনবিথ আসনে পুনরায় জয়ী হওয়ার পর গর্ডন ব্রাউন বলেন, ‘এই নির্বাচনের পর আমার দায়িত্ব হচ্ছে ব্রিটেনে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও নীতিনিষ্ঠ সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাওয়া।’ তিনি বলেন, ‘এমন একটি সরকার গঠন করতে হবে, যা ঐকমত্যের ভিত্তিতে ব্রিটেনকে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে।’
এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম সেখানে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হতে যাওয়ায় গর্ডন ব্রাউন এ কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের প্রভাব বিশ্ব পুঁজিবাজারে

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে দ্বিতীয়বারের মতো ঝুলন্ত পার্লামেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে লন্ডনসহ বিশ্ব পুঁজিবাজারে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল শুক্রবার এফটিএসই ১০০ সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য পাঁচে। জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক আট শূন্যতে আর ফ্রান্সে সিএসি-৪০-এর সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক আট এক পয়েন্টে। একই দিনে গত এক বছরের মধ্যে ব্রিটেনের মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দাম মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ পরিমাণ কমে গেছে।
শুধু ইউরোপে নয়, ব্রিটেনের নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারেও। জাপানের বেঞ্চমার্ক নিক্কেইতে সূচক কমেছে শতকরা তিন দশমিক এক ভাগ। চীন, থাইল্যান্ড, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের পুঁজিবাজারেও গতকাল দরপতন ঘটেছে। ইউরোপের দেশ গ্রিসে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে স্পেন ও পর্তুগালে। এরই মধ্যে ব্রিটেনের নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার পুঁজিবাজারের দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

পিটার রবিনসন হেরে গেছেন

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার পিটার রবিনসন তাঁর নির্বাচনী আসনে পরাজিত হয়েছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরাজিত হলেও পিটার রবিনসনের দল যুক্তরাজ্যের আসন্ন ঝুলন্ত পার্লামেন্ট বা জোট সরকারকে আন্দোলিত করবে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি সর্বাধিক আসনে জয়লাভ করলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দলটিকে জোট সরকার গঠন করতে হবে। এতে রবিনসনের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থনের দরকার পড়তে পারে।
রবিনসন উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট ইস্ট আসন থেকে ১৯৭৯ সাল থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। কিন্তু যৌন ও অর্থ কেলেঙ্কারির পর এবারই তিনি আসনটি থেকে ছিটকে পড়লেন। তাতে কী, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ১৮টি আসনের মধ্যে তাঁর দল বেশির ভাগ আসনে জয়লাভ করেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কনজারভেটিভ পার্টি এখন উত্তর আয়ারল্যান্ডের দলগুলোর সঙ্গে জোট বাধার চেষ্টা করবে। প্রটেস্টান্ট ডিইউপির সমর্থন লাভেরও চেষ্টা করতে পারে কনজারভেটিভ পার্টি। তবে রবিনসনের দল তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে কি না সন্দেহ।

ব্রাউনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন ডেভিড ক্যামেরন

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বেশি আসনে জয়লাভের পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কনজারভেটিভ নেতার দাবি, দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট হারিয়েছে লেবার পার্টি। নিজের আসনে দেওয়া এক ভাষণে ক্যামেরন এসব কথা বলেন।
লেবার পার্টির ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অধিকার আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডেভিড ক্যামেরন। সরকার গঠনের প্রয়োজনে অন্য দলগুলোর সঙ্গেও কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ক্যামেরন বলেন, এ বিষয়টি ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়েছে যে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট হারিয়েছে লেবার পার্টির সরকার। তিনি বলেন, ফলাফল থেকে এটা পরিষ্কার যে দেশ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব। দৃঢ়, স্থিতিশীল, নির্ণায়ক ও ভালো সরকার।
ক্যামেরন আরও বলেন, ‘আমরা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। তবে আমরা ওই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসব এবং আরও শক্তিশালী হব। আমি সব সময় যা করেছি তা হলো জাতীয় স্বার্থকে সব সময় আগে রেখেছি

এবার জোট সরকার, না সংখ্যালঘিষ্ঠদের সরকার?

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে গত তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট দেখতে যাচ্ছে ব্রিটেনবাসী।
ঝুলন্ত পার্লামেন্ট: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে কোনো দলের অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিনিধিত্ব না থাকলে ওই পার্লামেন্টকে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট বলে। অর্থাৎ কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করাতে অন্যান্য দলের সমর্থন দরকার হয় ওই পার্লামেন্টে। ১৯৭৪ সালের পর ব্রিটেনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠন করা হয়নি।
গতকাল শুক্রবারের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করেছেন। কিন্তু তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনে যা ঘটে: ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনের আগ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। হাউস অব কমন্সে আস্থা অর্জনের জন্য বড় দলগুলো অপেক্ষাকৃত কম আসন পাওয়া দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করার চেষ্টা করবে। ঐতিহ্য অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকার, এ ক্ষেত্রে লেবার পার্টি প্রথমে সরকার গঠন করার ডাক পাবে। যেহেতু লেবার বা কনজারভেটিভ পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই তারা তৃতীয় বৃহত্তম দল লিবারেল ডেমোক্র্যাট বা কম আসন পাওয়া বাকি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করবে।
জোট সরকার না সংখ্যালঘিষ্টদের সরকার: এবারের নির্বাচনে ব্রিটেনে জোট সরকার গঠিত হবে, নাকি সংখ্যালঘিষ্টদের সরকার হবে, তা দেখার বিষয়। যুক্তরাজ্যে জোট সরকার গঠনের ইতিহাস তেমন ভালো নয়। আর ওই ধরনের সরকার গঠন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবে, তা নিয়ে দরকষাকষি করতে অনেক সময় পার হয়ে যায়। চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
সংখ্যালঘিষ্টদের সরকারে এ ধরনের ঝামেলা কম। এ ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করাতে সরকারকে অন্যান্য দলের সমর্থন আদায় করতে হয়। সেখানে এ ধরনের সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বরং বেশি।
পরামর্শক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্ট জানিয়েছে, অনেক দেশেই সংখ্যালঘিষ্টদের সরকার কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সফল হয়েছে। ষাটের দশকে কানাডায় এ ধরনের একটি সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সুইডেনে ব্যাপক বাজেট ঘাটতি সামাল দিয়েছিল সংখ্যালঘিষ্টদের সরকার।

পাকিস্তানি তালেবানরা অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে

পাকিস্তানি তালেবানরা সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে আল-কায়েদাসহ অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজের পরিচালক আমির রানা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘পাকিস্তানে তালেবানরা আল-কায়েদার স্থানীয় সহযোগী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তালেবানদের নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কোনো সক্ষমতা নেই।’ খবর পিটিআই-এর।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, মার্কিন ড্রোন বিমানের হামলা ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানে পর্যুদস্ত হলেও তালেবানরা অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানদের শীর্ষ নেতারা এখনো ধরা পড়েননি। দমন অভিযানের মুখে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করছেন তাঁরা।
বিভিন্ন পশ্চিমা কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই অঞ্চলের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের কিছুটা ‘বদলে ফেলেছে’ বলে এদের মধ্য থেকে তালেবানদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাসেলের ম্যাচ একটাই ‘মোহামেডান ম্যাচ’!

পয়েন্ট তালিকায় যা অবস্থান, তাতে বাংলাদেশ লিগে রানার্সআপ হওয়া বেশ কঠিন শেখ রাসেলের জন্য। তবে একেবারে অসম্ভবও নয়। এ জন্য আবাহনী-মোহামেডানের বিপক্ষে তাদের জিততেই হবে। মোহামেডানের বিপক্ষে লড়াই ১০ মে, ওই ম্যাচে জিতলে অনেকটা পথ উঠে আসবে দলটি।
তার আগে লড়াইয়ে টিকে থাকতে কাল বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে জয় দরকার ছিল রাসেলের। সামির ওমারি ও মোহাম্মদ রনির গোলে কাঙ্ক্ষিত জয়টা তারা পেয়েছে (২-০)। ২০ ম্যাচে রাসেলের পয়েন্ট হলো ৪৭। সমান ম্যাচে মোহামেডানের ৫২, আবাহনীর ৫৮।
প্রতি দলের ম্যাচ বাকি চারটি করে। অনেক কিছুই ঘটতে পারে। সেই আশাই করছে রাসেল। কোচ মাহমুদুর রহমান যেমন বললেন, ‘মোহামেডানকে হারাতে পারলে আমাদের ভালো সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে রানার্সআপ হতে না পারি, চেষ্টা তো করা যায়। মোহামেডানকে হারানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করব। ওটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।’
এদিন খেলেননি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মারুফ। তাঁকে ‘বিশ্রাম’ দিয়েছেন কোচ। যাতে চাঙা হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে নামতে পারে তরুণ মিডফিল্ডারটি, ‘ম্যাচ তো আমাদের একটাই। মোহামেডান ম্যাচ। এবার মোহামেডানকে হারাতেই হবে। ওটাই আমাদের ফাইনাল।’
কালকের ম্যাচের ৫ মিনিটেই প্রথম গোলটি করেছেন সামির ওমারি (লিগে তাঁর গোল ১৬টি, ১৭ গোল করে ওপরে আছেন আবাহনী স্ট্রাইকার এনামুল)। বেশ কয়েকটি সুযোগ অপচয়ের পর ৭২ মিনিটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ রনি।

ডি মারিয়া রিয়ালে?

একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে—আর্জেন্টিনার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন। আগামী মৌসুমেই নাকি বেনফিকার এই উইঙ্গারকে নিয়ে নিচ্ছে রিয়াল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটা গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ। এদিকে ভিয়ারিয়ালের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়াকে পেতে বার্সেলোনা ৪০ মিলিয়ন ইউরোর সঙ্গে বোজান কিরকিচকেও দিতে রাজি। ভিয়ারিয়াল অবশ্য পুরোটাই নগদ চায়

মোহামেডান কোচের কাজ চালাচ্ছেন পনির

মারুফুল হক ক্লাবে আসা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে কোচের কাজটা চালিয়ে নিচ্ছিলেন মোহাম্মদ পনির। দুই দিন আগে মারুফ পদত্যাগ করার পর তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করা পনিরই এখন মোহামেডানের মূল কোচের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন।
কাল ক্লাব উঠোনে অনুশীলনের ফাঁকে মোহামেডানের ‘ঘরের ছেলে’ পনির বললেন, ‘আপাতত কাউকে তো কাজ চালিয়ে নিতে হবে। সেই কাজটাই করছি। ক্লাব কী করবে, সেটা তো ক্লাবের সিদ্ধান্ত।’
এই দায়িত্বে আপাতত কাউকে আনার চিন্তাভাবনা নেই মোহামেডানের। ক্লাব কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার কথায় সেটাই বোঝা গেল, ‘আপাতত কোচ নেব না আমরা। এভাবেই চলবে।’ কোচ না নিয়ে চলবে কীভাবে? তাঁর উত্তর, ‘এখনই কিছু বলতে পারব না। তবে আমি মারুফের সঙ্গে কথা বলব।’
মারুফকে ফিরিয়ে আনা হবে কি হবে না, সে ইঙ্গিত অবশ্য মেলেনি লোকমান হোসেনের কথায়, ‘দেখা যাক কী হয়। আগে কোচের সঙ্গে কথা বলি।

ইংল্যান্ডে ছিল মোদির গোপন ছক

খুদে ব্লগ টুইটারে ছোট্ট একটা বার্তা দিয়ে প্রচ্ছন্ন একটা হুমকিই দিয়ে রেখেছিলেন লোলিত মোদি। কিন্তু এক দিন পরই পাল্টা জবাব এল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তরফে। দুর্নীতি, অর্থ পাচার, তহবিল তছরুপ, স্বজনপ্রীতি, কর ফাঁকি—মোদির বিরুদ্ধে হাজারটা অভিযোগের তালিকায় যোগ হলো নতুন গুরুতর এক অভিযোগ—ক্রিকেট বিশ্বকেই দ্বিখণ্ডিত করার গোপন চেষ্টার!
বিসিসিআই কর্মকর্তাদের কাছে একটা ই-মেইল পাঠিয়েছেন জাইলস ক্লার্ক। ই-মেইলে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, আইপিএলের মতোই একটা আলাদা টুর্নামেন্ট ইংল্যান্ডে চালু করার ছক কেটেছিলেন মোদি। সেই উদ্যোগে হাত মিলিয়েছিল ইংল্যান্ডের তিনটি কাউন্টি দল। ৩১ মার্চ দিল্লিতে ওই তিন কাউন্টির কর্মকর্তা ও মোদির গোপন বৈঠকও হয়েছিল।
মোদির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়ার শেষ দিন আগামী সোমবার। আগের আনা অভিযোগগুলোর সঙ্গে বিসিসিআই এখন আরও একটি কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠাল মোদিকে।
ওই গোপন বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা করা হয় সেটি বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আইপিএলের মতোই ইংল্যান্ডের ওই টুর্নামেন্টে বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের প্রচুর অর্থের বিনিময়ে নিলাম করা হতো। দলগুলোও বিক্রি হতো ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে। এতে আইপিএলের ১০টি দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো নতুন দলগুলোর মালিকানা কেনার ব্যাপারে। তবে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজেরই ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকত ইংল্যান্ডের কারও হাতে। অংশ নেওয়া কাউন্টি দলগুলো লাভের ২০ শতাংশ পেত। বাকি ৮০ শতাংশ লাভ পেত ফ্র্যাঞ্চাইজগুলো। বাকি সবকিছু নিয়মকানুনই হতো আইপিএলের মতোই।
যে আইসিএলকে নিয়ে এত ভয় ছিল আইসিসির, মোদির পরিকল্পিত এমন আরও একটা টুর্নামেন্ট চালু হলে সেটিও একই রকম ফল দিত বলে মনে করছেন ক্লার্ক। খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব আর নিয়ন্ত্রণ কমে যেত ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। কারণ খেলোয়াড়েরা বোর্ডের কাছ থেকে পাওয়া বেতনের কয়েক গুণ পেত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো খেলেই। শুধু তা-ই নয়, আইপিএলে খেলার জন্য যেমন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নিতে হয় খেলোয়াড়দের, প্রস্তাবিত এই টুর্নামেন্টে সেটির কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ফলে বোর্ড থেকে নিষিদ্ধ হলেও এই টুর্নামেন্টে খেলা যেত অনায়াসে। এতে ক্রিকেট বিশ্বের ক্ষমতার বর্তমান কাঠামোটা ভেঙে পড়ত।
ক্লার্ক তাই শঙ্কার সঙ্গেই তাঁর ওই ই-মেইলে মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ হতো ‘ভারতীয় ক্রিকেট, ইংলিশ ক্রিকেট এবং বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ’। মোদির সঙ্গে ওই গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন ইয়র্কশায়ারের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট রিগ্যান, ওয়ারউইকশায়ারের প্রধান নির্বাহী কলিন পভি এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের কমিটি সদস্য ডেভিড হজকিস।
তবে ইয়র্কশায়ারের চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস দাবি করছেন, বৈঠক একটা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটিকে ‘গোপন’ ‘বিকল্প টুর্নামেন্ট চালু’ এসব কথা বলে রং চড়ানো হচ্ছে, ‘সব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলা হচ্ছে। এটা আসলে একটা সম্ভাব্যতা যাচাইয়েই বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে লোলিত মোদি মোটেও কোনো লাভক্ষতির প্রস্তাব দেননি। কোনো গোপন প্রস্তাব, গোপন এজেন্ডা, গোপনীয় কিছুই হয়নি।’
কিন্তু বিসিসিআই বলছে, এই বৈঠকের কথা আগে থেকে তারা জানত না। ইসিবিরও দাবি একই। না জানিয়ে বৈঠক করাই তো গোপন বৈঠক। আইসিএলকে দৃশ্যপট থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া মোদিই কি তবে ‘বিদ্রোহী’ কোনো টুর্নামেন্টের ছক কেটেছিলেন?

তাঁদের আফসোস নেই

ব্রাজিল যদি বিশ্বকাপ জিততে না পারে? তাহলে অবশ্যই ব্রাজিলিয়ানদের উচিত হবে পর্তুগাল, স্পেন বা জার্মানির পক্ষে গলা ফাটানো। কারণ তাতে আর কিছু না হোক ব্রাজিলিয়ান ছোঁয়া তো থাকবে ট্রফিতে।
এই দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেই অন্তত চারজন অভিবাসী ব্রাজিলিয়ানকে মাঠে দেখা যেতে পারে। পর্তুগালের ডেকো ও লিয়েডসন, জার্মানির কাকাউ এবং স্পেনের মার্কোস সেনা। শুধু এই তিন দল কেন, ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া ফুটবলার তো এখন দুনিয়ার অনেক জাতীয় দলেই আছেন। ব্রাজিলকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবলার ‘রপ্তানিকারক’ দেশ!
আগের বিশ্বকাপগুলোর দিকে তাকালেই পাওয়া যাবে এ কথার সারবত্তা। বেলজিয়াম, কোস্টারিকা, মেক্সিকো, জাপান, তিউনিশিয়ার মতো দেশের জার্সি গায়েও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ানরা।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের এই দাপট এমনই চরমে উঠেছে যে, ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার মাঝে বলেছিলেন, ‘কিছু দেশের ফুটবলারের অভিবাসন ঠেকাতে না পারলে খুব বিপদ হবে। আসলে ব্রাজিলে ফুটবল খেলে ছয় কোটি মানুষ; আর দলে সুযোগ পায় মাত্র ১১ জন।’
ব্ল্যাটার কথিত এই কারণই আসলে ব্রাজিলিয়ানদের বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে উৎসাহিত করে। ব্রাজিল দলে নিজেকে যোগ্য ভাবতে না পেরেই ডেকো, মার্কোস সেনারা পাড়ি জমান বিদেশে।
ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা সত্য কথাটাই বলেছেন অন্যভাবে। বিশ্বকাপ ড্র-তে ব্রাজিল ও পর্তুগাল পড়েছে একই গ্রুপে। দুঙ্গা যে পর্তুগালকে পাত্তা দিচ্ছেন না সেটা বোঝাতে বলেছিলেন, ‘আমরা তো আসলে ব্রাজিল-বি দলের বিপক্ষেই খেলতে যাচ্ছি।’
অর্থ পরিষ্কার, পর্তুগালের বিশ্বকাপ দলে মোটামুটি নিশ্চিত দুই ব্রাজিলিয়ান ডেকো আর লিয়েডসনকে জন্মভূমির ‘বি’ গ্রেডের খেলোয়াড় বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন দুঙ্গা। আর তাতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা একটু চটেছেন। ডেকো তো দিনকয়েক আগে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বলেছেন, ইচ্ছে করলেই ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারতেন তিনি। ডেকোর দাবি, ব্রাজিলের হয়ে খেলা অনেকেরই তাঁর অর্ধেক অর্জনও নেই, ‘আমার মতো ক্যারিয়ার থাকলে ব্রাজিলের হয়ে খেলাটা খুব স্বাভাবিক ব্যবহার। এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা ওই জার্সি (ব্রাজিলের) পরেছে, কিন্তু আমি যা অর্জন করেছি, তার অর্ধেকও জীবনে অর্জন করতে পারেনি।’
ডেকোর পর্তুগাল সতীর্থ লিয়েডসন অবশ্য এত আক্রমণাত্মক হননি। তাঁর কথা, জন্মভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা আছে। কিন্তু দায়বদ্ধতা পর্তুগালের প্রতি। কেন এই দায়বদ্ধতা, সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কোস সেনা।
সাও পাওলোতে জন্ম নেওয়া এই স্প্যানিশ ফুটবলার বলছেন, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্যই তাঁর মতো ব্রাজিলিয়ানরা ইউরোপে পাড়ি জমান। এবং যেখানে খাওয়া-পরার নিশ্চয়তাটা মেলে, দায়বদ্ধতা সেখানেই তৈরি হয়।
তাই ব্রাজিলের হয়ে খেলতে না পারার জন্য একটুও আফসোস সেই সেনার, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার বাচ্চাদের ভালো পড়াশোনা বা ভালো জীবনযাপন নিয়ে চিন্তা করতাম না। কিন্তু আজ আমি জানি যে, ওখানে (ব্রাজিলে) আমি আমার ছেলেকে এমন জীবন গড়ার সুযোগ দিতে পারতাম না। সত্যি কথা বলি, এখন আমি ব্রাজিলের বিপক্ষেই খেলতে পছন্দ করি। কারণ এই না যে, আমার ওই দেশের প্রতি কোনো রাগ বা হতাশা আছে। কারণ আমি এখন স্পেনের মানুষ। অবশ্যই আমারও আবেগ আছে। কিন্তু আমি ব্রাজিলকে মিস করি না।

জয়াবর্ধনের দুই রানের আক্ষেপ

উনিশতম ওভারের শেষ দুই বলে ছয়-চার মেরে ৮৭ থেকে করে ফেললেন ৯৭। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল, বাকি চার বলে প্রয়োজন ২ রান। মনে হচ্ছিল টি-টোয়েন্টিতে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির প্রায় অসম্ভব কীর্তি গড়েই ফেলবেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। কিন্তু হলো না, আর যে স্ট্রাইকই পেলেন না! পুরো ম্যাচে শ্রীলঙ্কার আক্ষেপ যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে এটুকুই। এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় স্কোর গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে তারা ৫৭ রানে। ওয়েবসাইট।
বারবাডোজে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে ফিরেও জ্বলে উঠতে পারেননি সনাত্ জয়াসুরিয়া, একবার Èজীবন' পেয়েও আউট ৬ রানে। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে এই উইকেটের পর আরেকটি উইকেটের দেখা পেয়েছে উইন্ডিজ ১৮.৪ ওভারে! দ্বিতীয় উইকেটে ৯৯ বলে ১৬৬ রানের অসাধারণ জুটি গড়েছেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা। দ্বিতীয় উইকেট জুটির রেকর্ড এটিই, তবে চার রানের জন্য ছঁোয়া হয়নি গ্রায়েম স্মিথ ও লুটস বসম্যানের যেকোনো জুটির রেকর্ড। ৯ চার ও ৮ ছয়ে ৫৬ বলে ৯৮ রান করেছেন জয়াবর্ধনে, ৫ চার, তিন ছয়ে ৪৯ বলে ৬৮ সাঙ্গাকারা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত, সবচেয়ে বড় জুটি তৃতীয় উইকেটে সারওয়ান-ব্রাভোর ৫৩।
সংক্ষপ্তি স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৯৫/৩ (জয়াবর্ধনে ৯৮*, সাঙ্গাকারা ৬৮; রোচ ২/২৭, ব্রাভো ১/৩৪), ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ১৩৮/৮ (সারওয়ান ২৮, ব্রাভো ২৫; মেন্ডিস ৩/২৪, মালিঙ্গা ৩/২৮, ম্যাথুস ১/১৩, কুলাসেকারা ১/২৭)।

বার্সার আজ ‘ফাইনাল’ ম্যাচ

লিগে আবার ফাইনাল হয় নাকি? তা হয় না। তবে আজ সেভিয়ার মাঠে বার্সেলোনা-সেভিয়া ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য অলিখিত ফাইনালেই রূপ নিয়েছে।
গত ম্যাচ জিতে স্প্যানিশ লিগে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট (৩৬ ম্যাচে ৯৩) পাওয়ার রেকর্ড গড়েছে বার্সা। কিন্তু শিরোপা জয়ের জন্য এটাও যথেষ্ট হতে পারেনি। স্প্যানিশ লিগ শেষ হতে আরও দুটি করে ম্যাচ বাকি। এর কোনোটিতে পা হড়কালেই এতদিনকার সব পরিশ্রম অর্থহীন হয়ে যেতে পারে বার্সেলোনার। এক পয়েন্ট পেছনে থেকে বার্সার ঘাড়ের ওপর যে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল মাদ্রিদ।
৯ মে ভ্যালাদোলিদের সঙ্গে বার্সেলোনার শেষ ম্যাচ। ভ্যালাদোলিদ অবনমন এলাকার দল বলেই শুধু নয়, তাদের যা শক্তি তাতে বার্সেলোনাকে মোটেই পরীক্ষায় তারা ফেলতে পারবে না। তবে আজকের প্রতিপক্ষ সেভিয়া ৩৬ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে। রিয়াল মায়োর্কার সঙ্গে চতুর্থ হওয়ার লড়াই তাদের। জীবন বাজি রেখেই আজ খেলতে চাইবে তারা। দল হিসেবে সেভিয়া যথেষ্টই শক্তিশালী। এ মৌসুমেই স্প্যানিশ লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েছে তারা। স্প্যানিশ কাপের শেষ ষোলো থেকে তারাই ছিটকে দিয়েছে বার্সাকে।
আজ ম্যাচ আছে রিয়াল মাদ্রিদেরও। পয়েন্ট তালিকার অষ্টম স্থানে থাকা অ্যাটলেটিক বিলবাও তাদের প্রতিপক্ষ। শেষ ম্যাচটা রিয়াল খেলবে মালাগার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই তুলনামূলকভাবে সহজ। ম্যাচ দুটি হয়তো জিতবেও ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। তবে শিরোপা জিততে হলে শুধু জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে বার্সার পয়েন্ট হারানোর দিকে। আর বার্সার এই পয়েন্ট হারানোর ব্যাপারটা যে সবচেয়ে বেশি সম্ভব আজকের ম্যাচেই, সেটা রিয়াল মাদ্রিদও জানে। রিয়ালের ঘর বার্নাব্যুতে তাই আজ প্রার্থনা—সেভিয়া পয়েন্ট কেড়ে নিক বার্সার। রিয়াল কোচ পেলেগ্রিনির বসতি আশায়, ‘আশা করে আছি সেভিয়া পয়েন্ট তুলে নেবে। আমাদের ভাগ্য শুধু আমাদের হাতেই আর নেই।’
বার্সেলোনার শিরোপা-ভাগ্য আসলে তাদেরই হাতে। পরশু ২৭তম জন্মদিনে বার্সার ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেজ তাই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ এটি। তবে আমাদের যা খেলোয়াড় আছে তাতে শান্ত এবং নির্ভার থাকলেই জিততে পারব। আমাদের পরের ৬টি পয়েন্টই পেতে হবে।’
বাকি দুটি ম্যাচের একটিতেও বার্সা যদি ড্র করে এবং রিয়াল যদি দুটি ম্যাচই জিতে যায় তাহলেই শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাবে বার্সার।