Monday, January 10, 2011

ইংল্যান্ডের চোখ এক নম্বরে

উল্লাস-উদ্যাপন চলছে, চলছে প্রশংসাবৃষ্টিও। ইংলিশ ক্রিকেটাররা এবার শুনলেন সতর্কবার্তাও। ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্য তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা। ইংল্যান্ড সাফল্যের নেপথ্য নায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার তাই শিষ্যদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, উল্লাসে ভেসে গেলে চলবে না, এখনো অনেক পথ বাকি।
মেলবোর্নে জিতে অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চত করার পরও ফ্লাওয়ার বলেছিলেন এই একই কথা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের পর আনন্দে উদ্বেল ইংল্যান্ডের পুরো ক্রিকেটমহল, ক্রিকেটারদের স্তুতি চলছে চারদিকে। ফ্লাওয়ার সাবধান করে দিয়েছেন, এসবের মধ্যে ক্রিকেটাররা যেন মূল লক্ষ্যের কথা ভুলে না যান, ‘আমাদের উদ্যাপন যথেষ্ট ভালো হয়েছে, ছেলেদের এটা প্রাপ্য ছিল। খুব ভালো সময় কাটিয়েছি আমরা, আমার ধারণা, পেছনে ফিরে তাকালে ছেলেরা নিজের পারফরম্যান্সে গর্বিতই হবে। তবে অ্যাশেজকে খাটো করে না দেখেই বলছি, আমাদের আসল লক্ষ্য বিশ্বের এক নম্বর হওয়া।’
১১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড এখন টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের তিনে। দুই নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ২ পয়েন্ট সামনে, কিন্তু শীর্ষে থাকা ভারত এগিয়ে ১৩ পয়েন্টে। ইংল্যান্ড কি পারবে ভারতকে টপকাতে? ইংল্যান্ডের জিম্বাবুইয়ান কোচ কিন্তু না পারার কারণ দেখছেন না, ‘অবশ্যই এই লক্ষ্য বাস্তবসম্মত। আমি জানি না আমরা ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারব কি না, তবে ওটাই আমাদের লক্ষ্য। এই সিরিজ ও গত কিছুদিনের পারফরম্যান্স অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো খেলা এবং সর্বশেষ দুটো অ্যাশেজ জয় অবশ্যই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে বিশ্বাস জোগাবে।’
অ্যাশেজে ফ্লাওয়ারকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে অ্যালিস্টার কুকের পারফরম্যান্স। মাত্র কিছুদিন আগেই দলে যাঁর জায়গা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল, সেই ব্যাটসম্যানই কিনা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে করলেন ১২৭ গড়ে ৭৬৬ রান! কুকের মানসিক দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ ফ্লাওয়ার, ‘ক্যারিয়ারজুড়ে ওর সামনে যত চ্যালেঞ্জ এসেছে, সবগুলোই জয় করেছে সে। এটাই তাঁর চরিত্র প্রমাণ করে। কিছুদিন আগে ওর মুণ্ডপাত করা হচ্ছিল, এটা মনে রাখলে এটিকে বলতে হবে দারুণ প্রত্যুত্তর। ব্যক্তিগতভাবে ওর পারফরম্যান্সে আমি দারুণ খুশি। দলের জন্য যা করেছে, আমরা সবাই ওর প্রতি কৃতজ্ঞ।’
আগামীকাল অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, ১২ জানুয়ারি শুরু দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু ১৬ জানুয়ারি।

রোনালদিনহোকে পেলের ধিক্কার

রোনালদিনহো তাঁর জাদুকরি ফুটবল দিয়ে মুগ্ধ করেছেন অনেককেই। তাঁর মুগ্ধ ভক্ত ছিলেন ফুটবলসম্রাট পেলেও। এই পেলেই এখন রোনালদিনহোর ওপর মহা বিরক্ত। একসময় যাঁকে প্রশংসার স্রোতে ভাসিয়েছিলেন, সেই রোনালদিনহোকেই ‘লোভী’ বললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।
রোনালদিনহো টাকার জন্য খেলেন, টাকাই তাঁর চালিকাশক্তি—ফিফার সাবেক বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক হালচাল দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে পেলের। নিজের দেশ ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার জন্য দেনদরবার করে এসি মিলান থেকে মুক্ত হয়েছেন রোনালদিনহো। সবাই জানতেন, তাঁর এই উতলা মনোভাব শৈশবের ক্লাব গ্রেমিওতে ফিরে যাওয়ার জন্য। ইতালির পত্রিকা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত লিখেই দিয়েছিল, গ্রেমিওর সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে রোনালদিনহোর।
বাস্তবতা হচ্ছে, এসি মিলান থেকে মুক্ত হয়ে রোনালদিনহো গ্রেমিওতে নাম লেখাননি। তিনি অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে দুবারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে পাওয়ার দৌড়ে নেমেছে ব্রাজিলেরই ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো, করিন্থিয়ানস ও পালমেইরাসও। একে একে দুই মিলিয়ে সবাই ধরে নিয়েছে, দর-কষাকষি করছেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা।
পেলের দুঃখটা এই জায়গাতেই। গ্রেমিওর এখন সঙ্গিন অবস্থা। এমন সময়ে শৈশবের ক্লাবের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে রোনালদিনহো কিনা টাকার কথা ভাবছেন! গ্লোবো স্পোর্তকে পেলে বলেছেন, ‘রোনালদিনহো যদি গ্রেমিওকে ভালোই বাসে তাহলে এই ক্লাবে তার তো বিনা পয়সায় খেলা উচিত। জীবনে যা প্রয়োজন তা তো সে করেই নিয়েছে।’
রোনালদিনহোর শৈশবের নায়কদের একজন পেলে। অনেক আগেই এ কথা বলেছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী তারকা। শৈশবের সেই নায়ক পেলে রোনালদিনহোকে পরামর্শ দিয়েছেন তাঁকেই অনুসরণ করতে, ‘সে আমাকে অনুসরণ করতে পারে। আমি পুরো একটা মৌসুম (১৯৭৪ সাল) সান্তোসে বিনা পয়সায় খেলেছি। ক্লাব তখন অর্থকষ্টে ভুগছিল। আমি আমার বেতনটা ওদের দিয়ে দিয়েছি।’
রোনালদিনহো পর্ব শেষ করে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোকে একহাত নিয়েছেন পেলে। রোনালদিনহোকে নিয়ে ক্লাবগুলোর এত বাড়াবাড়ি ভালো লাগছে না তাঁর, ‘ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর তার জন্য এভাবে হামলে পড়ার কোনো মানে হয় না। এটা খেলাটার মর্যাদাই নষ্ট করে দেয়। খেলাটাকে সস্তা বানিয়ে দেয়।’
রোনালদিনহো কিংবা ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর কানে কি পেলের কথা ঢুকবে? তবে রোনালদিনহোর ঠিকানা বদল নিয়ে এমন হইচই এই প্রথম নয়। ১৯৮৭ সালে গ্রেমিওর যুব প্রকল্পে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে অভিষেক তাঁর মূল দলে। সেখানে তিন মৌসুম কাটানোর পর আর্সেনালের চোখে পড়েন। কিন্তু আর্সেনাল তাঁকে নিতে পারেনি। কারণ ইংল্যান্ডে কাজের অনুমতি পাননি রোনালদিনহো। ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারকে নিতে চেয়েছিল স্কটিশ ক্লাব সেন্ট মিরেনও। কিন্তু ব্রাজিলে ভুয়া পাসপোর্ট কেলেংকারির কারণে যাওয়া হয়নি সেখানেও। পরে তাঁর ঠিকানা হয় ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেই। প্যারিস সেন্ট জার্মেই থেকে ২০০৩ সালে বার্সেলোনায় যাওয়ার সময়ও হয় এমন হইচই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে লড়াই জিতে বার্সা পায় রোনালদিনহোকে। দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়ে বার্সার আস্থার প্রতিদানও দেন রোনালদিনহো। কিন্তু ২০০৮ সালে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা রোনালদিনহোকে ছেড়ে দেয় তারা। জায়গা পান এসি মিলানে। চুক্তির ৬ মাস বাকি থাকতেই রোনালদিনহো মুক্তি পেলেন মিলান থেকে।

দ্বিতীয় দিনটা পাকিস্তানের

টেস্ট দলে তাঁর আগমন পাকিস্তান যখন ঝড়ে টলোমলো। স্পট ফিক্সিং কেলেংকারির ঝড়। আসাদ শফিক ঝড়ে বুক পেতে দিতেই ভালোবাসেন। আবুধাবি টেস্টে অভিষেকে ১১৮ বলে ৬১ রানের একটা ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ঝড়ে পড়া জাহাজের হাল শক্ত করে ধরে রাখার সাহস তাঁর আছে।
কাল হ্যামিল্টনে চা-বিরতির আগে ৩৫ রানের ব্যবধানে তিন সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে পাকিস্তান দল যখন আবারও ঝড়ের মুখে, শফিক দাঁড়িয়ে গেলেন বুক চিতিয়ে। দাঁড়ালেন আরেকজন। স্পট ফিক্সিংয়ের ঝড় যাঁকে শুধু দলেই ফিরিয়ে আনেনি, এনেছে একেবারে অধিনায়ক করে। মিসবাহ-উল হক। শফিকের ৭৪, মিসবাহর ৫০ আর পঞ্চম উইকেটে এই দুজনের ১২৮ রানের জুটি লিডের পথে নিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানকে। প্রথম ইনিংসে ২৭৫ রানে অলআউট হওয়া নিউজিল্যান্ডের চেয়ে মাত্র ৪০ রানে পিছিয়ে তারা। হাতে এখনো ছয় উইকেট।
সব মিলে হ্যামিল্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি পাকিস্তানের। প্রথম দিনের সঙ্গে আর ১৫ রান যোগ করতেই নিউজিল্যান্ডের তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। উমর গুলের করা দিনের তৃতীয় বলেই ফিরে গেছেন আগের দিন বেশ ভোগানো টিম সাউদি। ব্রেন্ট আরনেল শিকার হয়েছেন তানভির আহমেদের। তানভির ফিরিয়েছেন প্রায় ৫০ ওভার ধরে উইকেট আঁকড়ে থাকা কেন উইলিয়ামসনকেও। ২০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান অবশ্য তাঁর আগে ফিফটি তুলে নিয়েছেন।
কিউই বোলারদের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ফিরে গেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের রানের খাতায় তখন জমা পড়েনি কিছুই। তৌফিক উমর আর আজহার আলীর জুটিতে লাঞ্চটা স্বস্তি নিয়েই সেরেছে পাকিস্তানের। অস্বস্তি বাড়ছিল নিউজিল্যান্ডের। লাঞ্চের পরের ষষ্ঠ ওভারে দুজনের ৭২ রানের জুটিটি ভাঙেন ক্রিস মার্টিন। এ সময়ই দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় পাকিস্তান।
চার বছর টেস্ট দলে ফেরার পর বড় একটা ইনিংস খেলার আভাস বেশ কয়েকবার দিয়েও পারেননি তৌফিক। এবারও আউট হয়েছেন ৫৪ রান করে। ইউনুস খান আউট হয়েছেন ২৩ রানে। মার্টিন আর আরনেলের দুই জোড়া শিকারে ১০৭ রানে ৪ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এর পরই অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শফিক।

সাকিবের মুখে আইপিএলের হাসি

বেঙ্গালুরুতে যখন তাঁর দামটা ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে ঠেকল, সাকিব আল হাসান তখন বোটানিক্যাল গার্ডেনে আইসক্রিম খাচ্ছেন! খাওয়া মানে একটা আইসক্রিম কোম্পানির বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং চলছিল ওখানে, ক্যামেরার সামনে সে উপলক্ষেই মাঝেমধ্যে কামড় দিচ্ছিলেন আইসক্রিমে। বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের মধ্যে কে একজন ভিড় থেকে নির্দেশনা দিলেন, ‘ভাই, বড় করে কামড় দিয়ে একটু হাসেন...।’
তা সাকিবের জন্য কালকের দিনটা হাসির উপলক্ষই এনেছিল। বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য চেষ্টা করে আনা কৃত্রিম হাসি নয়, অর্জনের খাতায় আরেকটি মাইলফলক যোগ করার তৃপ্তির হাসি। কাল সন্ধ্যায় বোটানিক্যাল গার্ডেনের শ্যুটিংয়ে আগন্তুকের মতো উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখে বিস্মিত বাংলাদেশের অধিনায়ক সেই হাসিটাই হেসে বললেন, ‘আপনারা এখানে...?’
প্রশ্নটা করার জন্যই করা। নইলে সাকিবও জানতেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বৈকালিক ভ্রমণ বা শ্যুটিং দেখার উদ্দেশ্যে নয়। উদ্দেশ্যটা তিনি এবং আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে সোয়া চার লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকা) তাঁর বিক্রি হওয়া। কিন্তু সাকিবের ধরনটাই এমন যে ৩ কোটি টাকার পরিবর্তে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি হলেও বোধ হয় সাদামাটা প্রতিক্রিয়াই হবে। সাংবাদিকদের আগেও কাল প্রথম যিনি এ বিষয়ে সাকিবের প্রতিক্রিয়া জেনেছেন, সেই তামিম ইকবালের কথাই শুনুন, ‘টেলিভিশনে দেখার পর আমিই প্রথম সাকিবকে খবরটা দিই। কিন্তু ওর প্রতিক্রিয়া তো বোঝেনই...শুধু বলল, “সত্যি নাকি”?’
কোনো আবেগেই ‘আক্রান্ত’ না হওয়াটা সাকিবের স্বভাবের অংশ। তবে এবার সেটির আরেকটা কারণ বোধ হয় ব্যাপারটা আগে থেকেই আঁচ করতে পারা। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে জানানো প্রতিক্রিয়ায় সাকিবই বললেন, ‘শ্যুটিংয়ে থাকায় আগে জানতে পারিনি। তামিমই বলল প্রথম ফোন করে। প্রতিক্রিয়া আর কী...খুশি। আগে থেকেই জানতাম কিছু একটা হচ্ছে।’
সাকিবকে সম্ভাবনাটা জানিয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স কোচ ডেভ হোয়াটমোর। গত নভেম্বর কলকাতার সিএবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সাকিবের সঙ্গে সাক্ষাতে তখনই নিজের ইচ্ছার কথা জানান বাংলাদেশের সাবেক কোচ। সাকিবও অপেক্ষায় ছিলেন এমন একটা কিছুর, ‘হোয়াটমোর বলে গিয়েছিলেন উনি বিড করবেন। এর পর থেকেই মনে হচ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স হলে আমার জন্য বোধ হয় ভালো হবে।্রযেহেতু ডেভ পরিচিত, ওখানকার ভাষাও পরিচিত। আমার জন্য মনে হয় ভালোই হবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এর আগে আইপিএলে খেলেছেন আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে (৬ লাখ ডলার) বিক্রি হয়েছিলেন মাশরাফি এবং সেটা সাকিবের এই কলকাতা নাইট রাইডার্সেই। নিলামের তালিকায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এবার সাকিবের সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল আর তামিম ইকবাল। কিন্তু কাল বিক্রি হলেন কেবল সাকিবই।
দীনেশ কার্তিকের মতো ক্রিকেটারও ৯ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে কালকের নিলামে। সেখানে সাকিবের ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার দামটা কম হয়ে গেল হয়তো। আইপিএলে সাকিবের পূর্বসূরি মাশরাফির অন্তত তাই ধারণা, ‘আমি তো ভেবেছিলাম সাকিব-তামিম দুজনেরই ৫ লাখ ডলার দাম উঠবে। বিজয় মালিয়া (বেঙ্গালুরু দলের মালিক) ডাকলে ঠিকই ওদের বেশি দাম উঠত। কিন্তু সাকিবকে তো উনি ডাকলেন না। আর তামিমকে তো কেউই ডাকল না!’
নিলামে ওঠা দাম নিয়ে অবশ্য সাকিব নিজে অতটা ভাবছেন না, ‘আমার কাজ এখন খেলা। কত টাকা পেলাম না-পেলাম সেটা নিয়ে কখনোই ভাবিনি। যখন ২ লাখ ডলার ন্যূনতম দাম ধরা হলো তখন মনে হয়েছিল ওটাই তো অনেক! এখন তার ডাবল হয়ে গেছে...খুশিই লাগছে।’ দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে দামের পার্থক্যেরও ব্যাখ্যা আছে সাকিবের কাছে, ‘ভারতীয় সব খেলোয়াড়ের দামই বিদেশিদের তুলনায় বেশি উঠেছে। পিটারসেন বা দিলশানের দামও বোধ হয় খুব বেশি ওঠেনি। ওরা তো কার্তিকের চেয়ে অনেক হাইপ্রোফাইল। আমি শুনেছি, এবার ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনেক চাহিদা ছিল।’
তা সেই চাহিদার ভিড়েও একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সোয়া ৪ লাখ ডলার দাম ওঠা কম কী! আর যতই নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া থাকুক, তামিমের ফোন পাওয়ার আগে একটু যে টেনশনে ছিলেন, সেটা তো সাকিবের কথায়ই স্পষ্ট, ‘আগেরবারই আসলে বেশি আশা করেছিলাম। আজ (গতকাল) মাঝখানে যখন বেশ কিছুক্ষণ ফোন আসছিল না, ভেবেছিলাম এবারও বুঝি গেল!’
আশঙ্কা সত্যি হয়নি সাকিবের। আইপিএলে এবারও থাকছে বাংলাদেশ।

সেই ‘পরিচিত’ ব্যাটিং বিপর্যয়!

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। হোয়াইটওয়াশ ভারত সফরের ওয়ানডে সিরিজেও। এত লজ্জার পরও ব্যাটিং বিপর্যয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না নিউজিল্যান্ড। হ্যামিলটনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে আজ পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর ‘পরিচিত’ সেই ব্যাটিং বিপর্যয়কেই দুষছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ডেনিয়েল ভেট্টোরি।
কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার চিত্রটা এবার দেখুন। দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট মাত্র ১১০ রানে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দলের শীর্ষস্থানীয় ছয় ব্যাটসম্যান সাজঘরে! এ সময়ের মধ্যে দলীয় সংগ্রহটা কত জানেন? মাত্র ২৫! দলীয় ৩৬ রানে প্রথম উইকেটের পতন। আর ষষ্ঠ উইকেটের পতন ৬১ রানে।
ব্যর্থ ব্যাটসম্যানদের কাতারে আছেন অধিনায়ক নিজেও। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর অবদান মাত্র ৩ রান। ম্যাচ শেষে রাখঢাক না করেই হতাশ ভেট্টোরি বলে দিলেন, ‘পরিস্থিতি যা, তাতে প্রত্যেককেই তাঁর নিজের ব্যাটিং নিয়ে ভাবতে হবে। কোচ জন রাইট ও আমি দলের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে প্রচুর উত্তপ্ত কথাও হয়েছে। কিন্তু কিছুই কাজে আসছে না। একটা পরিবর্তন অবশ্যই দরকার। আমিসহ সবাইকে একেবারে শুরু থেকে শুরু করতে হবে।’

আসুন, স্মরণ করি সন্তোষ গুপ্তকে by অজয় রায়

সন্তোষদার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল ঢাকা জিলা কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। জজ কোর্টের পেছনে কোর্ট হাউস স্ট্রিটে আশা বোর্ডিংয়ের দোতলায় ছিল অফিস। তখন ব্রিটিশ শাসনের অবসান, দেশ বিভাগ প্রভৃতি কারণে টালমাটাল একসময় ছিল তা। সে সময়েই জ্ঞানদা, জ্ঞান চক্রবর্তী এক বিকেলে আলাপ করিয়ে দিলেন ধুতি আর সাদা শার্ট পরা রোগাটে চেহারার এক ভঙ্গুর লোকের সঙ্গে। জানালেন, কারা বিভাগে কাজ করেন। বাড়ি বরিশাল। অবসর নিয়ে ঢাকায় এসেছেন কলকাতা থেকে। নাম সন্তোষ গুপ্ত। সেদিন একটু বিস্মিত দৃষ্টিতেই তাকিয়ে ছিলাম তাঁর দিকে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকরি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কে কোথায় চাকরি করবেন তা নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে। যাতে ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য কাউকে অসুবিধা ভোগ করতে না হয় সেই অজুহাতে এ পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছিল এবং তার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছিল। হিন্দু কর্মচারীরা অপশন নিচ্ছিলেন ভারতে এবং মুসলিম কর্মচারীরা অভিপ্রায় জ্ঞাপন করেছিলেন পাকিস্তানে কাজ করার। এ রকম পরিবেশে সন্তোষ বাবুর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবে একটু বিস্ময়কর মনে হয়েছিল বৈকি! প্রশ্ন করায় তিনি জানিয়েছিলেন, আমার বাড়ি তো বরিশাল। কাজেই নিজের দেশের পক্ষে অপশন দিলাম।
কলকাতায় থাকতেই সম্পর্ক ছিল কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। ঢাকায় এসেও প্রথম সুযোগেই যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। কারা বিভাগের আইজির অফিসে তাঁর পোস্টিং হয়েছিল। কিছুটা স্পর্শকাতর এলাকা। সে জন্য পার্টির সঙ্গে প্রকাশ্য যোগাযোগ না রাখার জন্যই বলা হয়েছিল তাঁকে। পাকিস্তানে কার্যত প্রকাশ্যে কাজ করা কমিউনিস্টদের জন্য সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় ছিল কমিউনিস্টদের। সে কারণেই সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
সেদিন এই সুপারিশ যে কত সঠিক ছিল, তা অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বোঝা গেল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই দমননীতি নেমে এল পার্টির ওপর। গ্রেপ্তার অভিযান চলল তাঁদের ওপর। সন্তোষ বাবুর বাড়ি নিরাপদ মনে করেই তা ব্যবহূত হতে শুরু করল ঢাকা জেলার হেড কোয়ার্টার হিসেবে। ভালোই চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্টির মধ্যে অনুপ্রবেশকারী পুলিশি চরের বিশ্বাসঘাতকতায় হামলা হলো সন্তোষ বাবুর বাড়িতে। বাসা থেকে আত্মগোপনকারী সরদার ফজলুল করিম, রেলশ্রমিক মো. আবদুল বারী ছাড়াও গ্রেপ্তার হলেন সন্তোষ বাবু এবং তাঁর মা। আর তারপর থেকে বলতে গেলে শুরু হলো সন্তোষ বাবুর আরেক জীবন। সরাসরি রাজনৈতিক কর্মীর কাতার থেকে সাংবাদিকতার কাতারে শামিল হলেন তিনি। তারপরের বাকি জীবন কেটেছে সাংবাদিকতায়ই। প্রধানত সংবাদ পত্রিকায়।
বস্তুত, একসময় সন্তোষ গুপ্ত এবং সংবাদকে অভিন্ন সত্তা বলে মানা হতো, অন্তত আমার কাছে। পাতলা ছিপছিপে চেহারার ব্যক্তিটি হয় সম্পাদকীয় লেখায় অথবা পত্রিকার অন্য কোনো কাজে অপূর্ব এভাবে যখনই সংবাদ -এ গেছি, তখনই দেখেছি তাঁকে। লিখছেন, আর আশপাশে উপস্থিতদের সঙ্গে আলাপে অংশও নিচ্ছেন। এভাবেই দেখতাম তাঁকে।
১৯৫৮ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসনের শুরুতেই আমাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকেও। দুই বছর অজ্ঞাতবাসের পর যখন গ্রেপ্তার হলাম তখন আবার দেখা হলো তাঁর সঙ্গে।
সন্তোষ বাবু যে কবিতা লিখতেন এবং ভালোই লিখতেন তা জানা ছিল। এর আগে যখন কুমিল্লা জেলে আটক ছিলেন তখন তাঁর লেখা কবিতা সম্পর্কে শুনেছিলাম বড় একজন নেতার কাছে। এবার অর্থাৎ ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তার প্রমাণ পেলাম। প্রায় রোজই তাঁর নতুন লেখা কবিতা শোনালেন তিনি।
যখন দৈনিক পত্রিকায় কাজে বেশি করে জড়িয়ে পড়তে হলো তখন সময়াভাবে হয়তো আগের মতো লিখতে পারতেন না। পত্রিকার জন্য কাজ করতে হতো।
তা ছাড়া ছিল পড়ার অভ্যাস। জানার জন্য আকাঙ্ক্ষা ছিল অপরিসীম। খুব ভোরে উঠতেন এবং সকালবেলাটা কাটাতেন পড়ার টেবিলে। স্বাধীনতার পরে যখন স্থায়ীভাবে ঢাকায় আবাসন গড়তে হলো, তখন থাকতাম ওয়ারীতে। সন্তোষ বাবুও থাকতেন টিপু সুলতান রোডে। তখন মাঝেমধ্যে তাঁর ওখানে গেছি, তখন যা দেখেছি তা-ই বলতাম। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কলকাতায় ন্যাপের মুখপত্র নতুন বাংলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বাভাবিকভাবে।
দেশে ফিরেও তিনি শুধু বাঙালি নয়, অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের অনুসারীদের সমর্থনে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন।
বিশেষ করে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু এবং পরে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে জাতীয় চার নেতার হত্যার পর স্বাভাবিকভাবে অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরই অনুষ্ঠান করে আবার ফিরেছেন সেই কাজের ওপর আর সে জন্যই জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশে আরও শক্তিশালী হোক তা কামনা করেছেন। আর সেই কাজে নিজ দায়িত্ব অনুভব করে বামপন্থীরা স্বউদ্যোগে এগিয়ে আসবেন কামনা করেছেন তা। এ প্রশ্নে বামপন্থীদের সংকীর্ণতা দেখলে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বাভাবিকভাবে।
কিন্তু তাই বলে যৌবনের ক্ষুরধার যে বিশ্বাস নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন, সেই বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হননি কোনো দিন। আর সেই বিশ্বাসই তাঁকে নিয়ে গেছে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক জাতীয় চেতনার উদ্বোধনের কাজের মাধ্যমে নিজেকে যুক্ত রাখতে।
এই প্রয়োজনীয়তা আজও শেষ হয়ে যায়নি। সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে পরাস্ত করে শুভ এবং কল্যাণকর শক্তির বিজয় আজও পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি। আর সে জন্যই সন্তোষ বাবু এবং তাঁর মতো যাঁরা এই সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের স্মরণ করা প্রয়োজন। তাঁদের স্মৃতি যাতে অম্লান থাকে সে জন্য পাঠ্যপুস্তকে তাঁদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এখনই দরকার তাঁদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া। নিজেদের প্রয়োজনেই স্মরণ করা দরকার সন্তোষদা এবং তাঁর মতো অন্যদের স্মৃতি।

ভারতের সঙ্গে নৌ-প্রটোকলের নবায়নসীমা পাঁচ বছর হচ্ছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রম ও বাণিজ্য প্রটোকল নবায়নের সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। অর্থাৎ একবার নবায়ন হলে প্রটোকল কার্যকর থাকার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এই প্রটোকলটি ভারতকে নৌপথে ট্রানজিট দেওয়ার প্রটোকল হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
সাধারণত বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতা থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যায়।
গত ২২ ডিসেম্বর নৌপরিবহনসচিব আবদুল মান্নান হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নৌ-প্রটোকলের নবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্তের ওপর মতামত চেয়ে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত এই প্রটোকলের নবায়নের মেয়াদ ছিল দুই বছর। প্রতি দুই বছর পর পর এর মেয়াদ বাড়ানো হতো। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৪ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই নৌ-প্রটোকলের মেয়াদ দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়, যা একই বছরের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। আগামী ৩১ মার্চ এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
কয়েকটি নৌ-রুট ট্রানজিট-সুবিধার আওতায় থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত রুট শেখবাড়িয়া থেকে চাঁদপুর ও আশুগঞ্জ হয়ে সিলেটের জকিগঞ্জ রুটটিই বেশি ব্যবহূত হয়।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পক্ষ থেকে এই নবায়নের মেয়াদ সাত বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তা পাঁচ বছর করতেই বেশি আগ্রহী।
আবার ভারতকে নৌ, সড়ক ও রেলপথে ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। এই ট্রানজিট চালু হয়ে গেলে আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে বাড়বে। আর তাই বেশি সময় ধরে প্রটোকল নবায়ন করতে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ সরকার।
তার পরও পাঁচ বছর অনেক বেশি সময় বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, যেখানে ট্রানজিটের বিষয়টি এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে হঠাৎ এই প্রটোকলের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা ঠিক হবে না।
এ বিষয়ে শুল্ক কর্মকর্তাদের অভিমত হলো, নৌ-প্রটোকলের নবায়নের মেয়াদ বাড়ানো হলে আগামী পাঁচ বছর নতুন করে নৌপথে পণ্য পরিবহনের জন্য কোনো মাশুল পাওয়া যাবে না। নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়লেও এর সুফল পাবে না বাংলাদেশ। শুধু নাব্যতা রক্ষার জন্য নৌ-প্রটোকলের আওতায় বছরে পাঁচ কোটি ডলার দেবে ভারত। কেননা, ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট বিধিমালা স্থগিত করায় ট্রানজিট মাশুল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অবশ্য ট্রানজিট বিশেষজ্ঞ রহমত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌ-প্রটোকলের আওতায় পুরোনো নৌ-ট্রানজিট রুটগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। এই রুটগুলোতে পণ্য পরিবহন বেশ সময়সাপেক্ষ; ভারতও আর এই রুট ব্যবহারে আগ্রহী নয়। তাই প্রটোকলের নবায়নের মেয়াদ বাড়ানো হলেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বাংলাদেশ।’
রহমত উল্লাহ আরও জানান, আশুগঞ্জ কনটেইনার নৌবন্দর হয়ে ভারতীয় পণ্য ট্রানজিট নিলে সেটা একটি নতুন রুট হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তবে তা নৌ-রুট তথা নৌ-প্রটোকলের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ভারতকে নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও ট্রানজিট দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার।
আর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভারত বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। তবে এটি মূলত সরবরাহকারী ঋণ। এর আওতায় পণ্য ও সেবা ভারতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনতে হবে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য সরাসরি ভারতের কাছ থেকে কিনতে হবে, আর অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ কিনতে হবে ভারতীয় ঠিকাদারের পরামর্শে। এ ছাড়া ঋণচুক্তির আওতায় যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন হবে, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।
ইতিমধ্যে নৌপথের পণ্য পরিবহন বাড়াতে আশুগঞ্জ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় চার লাখ টিইইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার পরিবহন করা হবে। ১৯৭২ সালের নৌ-প্রটোকলে এই বন্দরটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। কলকাতা থেকে ভারতীয় পণ্য এসে আশুগঞ্জ কনটেইনার নৌবন্দর ব্যবহার করে তা আখাউড়া ও তামাবিল হয়ে যথাক্রমে ত্রিপুরা ও আসামে যাবে।

মার্জিন ঋণের ১০ কোটি টাকার বিধি প্রত্যাহার

একক বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা মার্জিন ঋণের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (এসইসি)।
আজ রোববার সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেটিং সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাত্, এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনে আবার যেকোনো সময় বিক্রি করতে পারবেন।
এদিকে নতুন বিও অ্যাকাউন্টধারীদের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ দেওয়ার বিধিনিষেধ কমিয়ে ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও সাবসক্রিপশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো শিগগিরই কার্যকর হবে।

সোনারগাঁও গ্রিন সিটির যাত্রা শুরু

মনোরম সবুজে নগর আবাসন’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করল সোনারগাঁও গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্প। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সোনারগাঁও গ্রিন সিটির উদ্বোধন করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, তরুণেরা আজ ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যা মানুষের অন্যতম সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং তরুণদের উত্সাহিত করতে সরকারের উচিত, তাদের সহযোগিতা করা। কেননা, তারাই পারে যেকোনো কাজ সফল করতে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আবাসন-সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সাধরণত আবাসন ব্যবসায়ীরা উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে লক্ষ করে প্লট ক্রয় ও ফ্লাট নির্মাণ করে থাকেন। কিন্তু এ শহরের বেশির ভাগ মানুষ নিম্নবিত্ত শ্রেণীর। আবাসন তৈরি করে কম লাভে নিম্নবিত্তদের ফ্ল্যাট দিতে পারলে ওই লোকগুলোও উপকৃত হবে। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর অর্পিত সামাজিক দায়বদ্ধতাও পালন হবে।
ডিএফএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের পরিচালনায় ও ফেইথ হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ মালেক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মীর নিজাম উদ্দিন, আলমগীর মহিউদ্দিন, মো. ফয়সাল বিন আমিন, খাইরুল ইসলাম, ফরিদ হেসেন ভূঁইয়া, ওমর ফারুক প্রমুখ।

ঝরে পড়া, অকৃতকার্য হওয়া by শাফিউল হাসান

প্রথমেই স্মরণ করছি সেই মেয়েটির কথা, যে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় বাবা-মায়ের গালমন্দ ও ভর্ৎসনা সহ্য করতে না পেরে বেছে নিয়েছে আত্মহননের পথ। নিজের পড়ার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। সব গ্লানি, অপমান, লাঞ্ছনাকে শোকে, জলে, আফসোসে, ভালোবাসায় পরিণত করে না ফেরার জায়গায় চলে গেল। তার নাম তানিয়া আহমেদ। সে সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পাবলিক স্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গণিতে অকৃতকার্য হয়। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল মেয়েটি। এ জন্য মেয়ের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তাঁরা মেনে নিতে পারেননি এবং বকাঝকা করেছেন। দোষ তাঁদেরও দেওয়া যায় না। কারণ আমাদের দেশে তো আদর্শ বাবা-মা বা অভিভাবক হওয়ার জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই।
তার বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে এখন শুধু সে স্মৃতি। আমাদের কাছেও স্মৃতি। আমরা তাকে দেখিনি, এ কথা সত্য। কিন্তু তার মতো কোমলমতি অনেক শিক্ষার্থীর কথা আমরা জানি, যারা নিজেদের ব্যক্তিত্বের ওপর কোনো ধরনের আঘাত সহ্য করে না। আর আমরাও যেন কেমন, প্রতিবছরই যেন খুব আগ্রহের সঙ্গেই অপেক্ষা করি এমন একটি খবর শোনার বা পড়ার জন্য। আরও কয়টি প্রাণ ঝরে পড়ল। এ বছর প্রাণ ঝরেছে একটি কিন্তু জীবন্মৃত হতে চলেছে কয়েক লাখ শিশু।
এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর বিগত দুটি এবং ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র দেখা যাক। ২০১০ সালে ঝরে পড়েছে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৭০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ৫৯ হাজার ৮৪১। সংখ্যা বেড়েছে ছয় হাজারের বেশি। ২০১০ সালে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনেই কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ১৩২ জন শিক্ষার্থী। এ ফলাফলে সুখের ও দুঃখের দুটি ব্যাপারই ঘটেছে।
২০১০ সালে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৬ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৮১ হাজার ৭২০ জন। জুনিয়র স্তরে ৩৬৭টি এবং প্রাথমিক স্তরে দুই হাজার ৭৮৭টি বিদ্যালয়ে পাসের হার শূন্য। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত আনন্দ বিদ্যালয়গুলো থেকে ২০১০ সালে ছয় হাজার ৬৬১টি আনন্দ বিদ্যালয়ের এক লাখ ৪৩ হাজার ৪৬৬ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৬৬ হাজার ৮১৭ জন। দুই হাজার ২১১টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়নি। বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত বিদ্যালয়ে ভুয়া পরীক্ষার্থী দেখা গেছে এবং বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল মারাত্মক রকমের খারাপ। ইতিমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে ৬০টি উপজেলায় প্রায় ৪০০টি বেসরকারি সংস্থার বিদ্যালয় পরিচালনার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে মন্ত্রণালয়ের তদারকি-ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বেশ কিছু সংস্থার বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। দেশের বঞ্চিত, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলো কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়াই। একটি বিশেষ ব্যবস্থার শিক্ষা পরিচালনা করতে প্রকল্পের কর্মকর্তা, শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাসহ যাঁরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে জড়িত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে অনেক বেশি দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া দরকার ছিল। বলা প্রয়োজন, শিক্ষা বিষয়টি কোনো বন্য গাছ নয় যে এটা যেমন ইচ্ছা সেভাবে বেড়ে উঠবে। একজন মানবশিশুকে দিয়ে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটা সুন্দর পরিবেশ, সময়োপযোগী পাঠ্যপুস্তক, শিখন পদ্ধতি, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং শিশুটিকে বুঝতে পারার ক্ষমতা। তবেই না মূল্যায়নের সময় শিশুটির শিখনের ওপর মূল্য আরোপ করা যাবে। তখনই তার কাছ থেকে ভালো ফল আশা করা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কোনো ধরনের অভাব না থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেক শিক্ষক বা প্রশাসক এই কাজগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে করেন না। দুটি স্তরে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের চিত্র তা-ই বলে।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ হতে হবে অবশ্যই শিখনবান্ধব। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই, মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ নেই। দিন দিন জায়গা আরও কমে আসবে। নির্ধারিত স্থান ও সময় ছাড়া শিশুরা খেলার সুযোগ পাবে না। মুক্ত পরিবেশে শেখার সুযোগ পাবে না। এই সত্যটি সবাইকে মানতে হবে। কাজেই সংকীর্ণ পরিবেশটাকেই কতটা শিখনবান্ধব, আনন্দময় ও মানুষ তৈরির উপযোগী করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ক্লাসরুমের আয়তনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে এই পরিবেশেই কোন পদ্ধতিতে পাঠদান করলে তাদের দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা নির্ধারণ করা উচিত।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সম্পর্ক আরও ভালো করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা কর্মকাণ্ডগুলোকে আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করার পাশাপাশি সন্তান-অভিভাবককে নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে, যেখানে তারা যৌথভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করবে। তা ছাড়া দেশের গণমাধ্যমগুলোকেও পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা, শিক্ষায় শিশুর বিভিন্ন প্রবণতা নিয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টিমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আয়োজন করতে হবে। অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কর্মকাণ্ড আরও বাড়াতে হবে। তবে কর্মকাণ্ডগুলো অবশ্যই শিক্ষাকেন্দ্রিক হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সক্রিয় শিখনে শিক্ষা উপকরণের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীর অজানা বিষয়টি শেখানোর আগে বা শেখানোর সময়ই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীর শিখন অনেকটা স্থায়ী হয়। অনেক আগে থেকেই শ্রেণীতে হাতে তৈরি বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের কয়জন শিক্ষক সেই কাজটা করেন?
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়া কোনোক্রমেই ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব নয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এটা তারা বুঝতে পারবে শুধু বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হলেই। যে শিক্ষার্থী ক্লাস করে না, তার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে গুরুত্বহীন মনে করার একটা প্রবণতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার সময় তার মনে এক ধরনের পরীক্ষাভীতি কাজ করে। কারণ সারা বছর পরীক্ষার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করেনি। তাই অনতিবিলম্বে শিশুর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
শাফিউল হাসান: সাংবাদিক
shsohag71@yahoo.com

কিডনি দানের শর্তে দুই বোনের মুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির দায়ে দুই মেয়াদে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক দুই বোনকে গত শুক্রবার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ছোট বোন গ্লেডিস স্কট তাঁর একটি কিডনি বড় বোন জেমি স্কটকে দেবেন, এই শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে একটি সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তাঁরা ১৬ বছর কারাগারে পার করেছেন। জেমি কিডনির জটিল রোগে ভুগছেন।

সিউলকে আবারও আলোচনার প্রস্তাব পিয়ংইয়ংয়ের

উত্তর কোরিয়া তাঁর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়াকে আবারও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সিউলের সঙ্গে শর্তহীন ও দ্রুত আলোচনা শুরু করতে চায়। উত্তর কোরিয়ার একত্রীকরণ কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সিউলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে পাওয়া নতুন এই আহ্বান তারা পর্যালোচনা করে দেখবে। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে সিউলকে নতুন করে আলোচনায় বসতে একই ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তবে পিয়ংইয়ংয়ের ওই প্রস্তাবকে নিছক প্রচারণা বলে সিউল তা নাকচ করে দেয়। এরপর পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে আবারও নতুন করে আলোচনার এই প্রস্তাব দেওয়া হলো।
এ ছাড়া পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আবারও দুই দেশের সীমান্তের কাছে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা ভাবছে।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি চিলির

স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে চিলি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলফ্রেডো মোরেনো গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ ঘোষণা দেন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই পথে অগ্রসর হলো চিলি।
আলফ্রেডো মোরেনো শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে চিলি সরকার ফিলিস্তিনকে একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিল। চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে ব্রাজিলে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এই ঘোষণা এল। মোরেনো বলেন, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা আগামী ৪ ও ৫ মার্চ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সফরে যাবেন।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ইকুয়েডর কিউবা, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও কোস্টারিকা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইরান নিজেই পরমাণু জ্বালানি প্লেটস ও রডস তৈরি করতে পারে

ইরানের আণবিক সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি জানিয়েছেন, ইরান নিজেই পরমাণু জ্বালানি প্লেটস ও রডস তৈরি করতে পারে। এ প্রযুক্তি ইরানের আছে। যদিও পশ্চিমা বিশ্ব বলছে, এ কাজ করার মতো প্রযুক্তি এখনো ইরানের হাতে নেই।
সালেহি জানান, দেশের মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহান শহরে তাঁদের পরমাণু প্রকল্পে জ্বালানি প্লেটস ও রডস তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল প্লেটস তৈরির জন্য আমরা ইস্পাহানে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছি।’ ফার্স বার্তা সংস্থাকে গতকাল শনিবার এক সাক্ষাৎকারে সালেহি এ কথা বলেন। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সালেহি বলেন, ‘প্লেটস ও রডস তৈরির জন্য বড় ধরনের একটি রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে ফুয়েল প্লেটস ও রডস তৈরি করতে পারে, এমন গুটিকয়েক দেশের তালিকায় আমরাও স্থান পাব।’
সালেহি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা নীতিই ইরানকে এ কাজ ত্বরান্বিত করতে উৎসাহিত করেছে।

ভারতে আদিবাসী দুই গোষ্ঠীর সহিংসতায় ১০ জন নিহত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় চলতি সপ্তাহে আদিবাসী দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার লোক আশ্রয়হীন হয়। গতকাল শনিবার আসাম রাজ্যের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পূর্ববিরোধ থেকে আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় রাভা ও গারো আদিবাসী লোকজনের মধ্যে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার পরিষদের দাবি করছে গারোরা। এই দাবিতে চলমান আন্দোলন থেকে একপর্যায়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা ছড়ায়।

মানুষ প্রথম কাপড় পরা শেখে পৌনে দুই লাখ বছর আগে

মানুষ প্রথম বস্ত্র পরিধান করে আজ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার বছর আগে। নতুন একটি গবেষণায় এ দাবি করা হয়েছে।
গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড রিড।
মলিকিউলার বায়োলজি ও ইভলিউশন জার্নালের গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় এক লাখ বছর আগে বিষুবরেখা থেকে দূরবর্তী স্থানসমূহে বরফ যুগ শুরু হয়। এরও ৭০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষ প্রথম কাপড় পরিধান শুরু করে।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ইয়ান গিলিগান বলেন, আধুনিক মানুষ নিয়মিতভাবে কাপড় পরিধান শুরু করে সম্ভবত বরফ যুগেই।

আফগানিস্তানে ঘুষ নেওয়ার দায়ে মার্কিন সেনার কারাদণ্ড

আফগানিস্তানে একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে দফায় দফায় চার লাখ ডলারের বেশি ঘুষ নেওয়ার দায়ে গত শুক্রবার সাবেক এক মার্কিন সেনাকে (আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট) ৯০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানায়, মার্কিন জেলা জজ টি এস এলিস ঘুষ নেওয়ার দায়ে স্টিভান নাথান রিঙ্গোকে চার লাখ আট হাজার ৪৯৫ ডলার অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেন। রিঙ্গো গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ঘুষ নেওয়ার দায় স্বীকার করেন।
রিঙ্গো স্বীকার করেন, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১০ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তিনি তেল চুরি করার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে সরকারি এক ঠিকাদারের কাছ থেকে দফায় দফায় চার লাখ ডলারের বেশি ঘুষ নেন।

পাকিস্তানে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানকে আরও বেশি সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনেতিক সাহায্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তিই মনে করেন, জঙ্গিবাদ দমনে এই সহযোগিতা খুব বেশি কাজে আসবে না। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা গত শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটি জানায়, গত মাসে হোয়াইট হাউসে আফগান যুদ্ধবিষয়ক এক পর্যালোচনা বৈঠকে পাকিস্তানকে সাহায্য বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন আগামী সপ্তাহে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। ওই সময় পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাহায্য বাড়ানোর বিষয়টি তিনি পরিষ্কার করবেন।
পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের আদিবাসী এলাকায় গত শুক্রবার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ জঙ্গি। ওই হামলায় জঙ্গিদের একটি গাড়ি ধ্বংস হয়। এ সংবাদের মধ্যে পাকিস্তানকে মার্কিন সহযোগিতা বৃদ্ধির খবরটি এল।তবে মার্কিন সরকার শুক্রবারের ওই ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। যদিও আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী ছাড়া ওই অঞ্চলে অন্য কোনো পক্ষ ড্রোন ব্যবহার করে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা চান, জঙ্গিদের নির্মূল করতে পাকিস্তান জোরালো অভিযান শুরু করুক।
পাকিস্তানের আদিবাসী এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলা গত বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব মতে, এ সময় ১০০টির বেশি হামলায় মারা গেছে কমপক্ষে সাড়ে ৬০০ মানুষ।

গুয়ানতানামো বন্দীদের বেসামরিক আদালতে বিচারের পথ রুদ্ধ

অনীহা সত্ত্বেও গত শুক্রবার একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নতুন এই আইনে গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরের বন্দীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে বেসামরিক আদালতে বিচারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বন্দিশিবিরটি দ্রুত বন্ধে ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হলো।
তবে আইনটি থেকে গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরের বন্দীদের বিচারসংক্রান্ত অংশ বাতিলে তিনি লড়াই করে যাবেন। তিনি বলেন, ওই বিলে (ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট) স্বাক্ষর করা ছাড়া তাঁর কোনো উপায় ছিল না।
এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, ‘চরম আপত্তি সত্ত্বেও আমি ওই বিলে স্বাক্ষর করেছি। কারণ, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে, বিশেষ করে ২০১১ সালে আমাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরে আটক সন্দেহভাজনদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বন্দিশিবিরটি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন ওবামা। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে ওবামার বিরোধী পক্ষের জোর আপত্তি রয়েছে।
নতুন এই আইনে গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরের বন্দীদের সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য অর্থ বরাদ্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছাড়া ওই বন্দীদের অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দও বন্ধ করা হয়েছে এই আইনে।
ওবামা বলেন, ‘জাতির ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি, তার মধ্যে ওই বন্দিশিবিরের বন্দীদের বেসামরিক আদালতে বিচারের বিষয়টি বেশ সহজে করা যায়। এই উদ্যোগকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হলে তা আমাদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপকে দুর্বল করে দেবে।’
গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরে বর্তমানে ১৭৪ জন বন্দী আছেন। এর মধ্যে ৩০-৩৫ জনকে মার্কিন বেসামরিক অথবা সামরিক আদালতে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে। রিপাবলিকানরা দাবি করে আসছেন, বন্দীদের গুয়ানতানামোতে সামরিক আদালতেই বিচার করতে হবে।
এদিকে গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরের বন্দীদের মধ্যে নিউইয়র্কে মার্কিন বেসামরিক আদালতে প্রথম বিচার হচ্ছে তাঞ্জানিয়ার নাগরিক আহমেদ খালফান গিলানির। গত শুক্রবার তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করেছেন মার্কিন কৌঁসুলিরা। তবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খালফানের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে দাবি করে তিনি আদালতের কাছে অনুকম্পা প্রার্থনা করেছেন।
খালফান গিলানির বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ আনা হয়, তার মধ্যে একটিতেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। ১৯৯৮ সালে কেনিয়া ও তাঞ্জানিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলার ষড়যন্ত্র করার জন্য তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই হামলায় মারা গিয়েছিলেন ২২৪ জন। ২৫ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। এতে তাঁর কমপক্ষে ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় দক্ষিণ সুদান!

দক্ষিণ সুদানের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চলা সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আজ রোববার সেখানে গণভোট শুরু হচ্ছে। খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত এ অঞ্চলটি আরবনিয়ন্ত্রিত উত্তর সুদানের সঙ্গে থাকবে, না একটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, সে প্রশ্নের সুরাহা হবে সপ্তাহব্যাপী এ গণভোটের মাধ্যমে।
ধারণা করা হচ্ছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার পক্ষেই ভোট দেবেন এবং আফ্রিকার সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র সুদান ভেঙে বিশ্ব মানচিত্রে আরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তবে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদান উত্তরের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেলে সেখানে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ার সামর্থ্য তাদের নেই।
এদিকে ভোট দেওয়ার জন্য দলে দলে লোক দক্ষিণ সুদানে আসতে শুরু করেছে। আজ সকাল নয়টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভোট নেওয়া হবে দুই হাজার ৬৩৮টি কেন্দ্রে। মোট ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে উত্তর সুদানে বসবাসরত দক্ষিণ সুদানের এক লাখ ১৬ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ৬০ হাজার ভোটারও রয়েছেন।
গণভোটের প্রথম ফলাফল জানা যাবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আর দক্ষিণ সুদান আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, সেটা ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ জুলাই। তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ সুদানের আবেয়ি অঞ্চলে আলাদা গণভোট হবে। এ অঞ্চলটি দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে থাকবে, না উত্তর সুদানের সঙ্গে যোগ দেবে, সে ব্যাপারে ফয়সালার জন্য এখানে গণভোট হবে।
গণভোটে অংশ নিতে উত্তর সুদানে বিভিন্ন কারণে বসবাসরত দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা দলে দলে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। গত এক মাসে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার লোক দক্ষিণ সুদানে ফিরেছে। দক্ষিণ সুদানের দারফুর ও নুবা পার্বত্য এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে গণভোটের ব্যাপারে বেশি উৎসাহ লক্ষ করা গেছে।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০৪ জন পর্যবেক্ষক। কার্টার সেন্টারের ১০০ জন পর্যবেক্ষকও বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন।
গণভোট দেখার জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, মার্কিন সিনেটর জন কেরিসহ আরও অনেকে গত বৃহস্পতিবার সুদানে পৌঁছান।
এদিকে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির গত শুক্রবার আল-জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলে সুদান কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের তাঁরা বিদেশি হিসেবে গ্রহণ করবেন। উত্তরের কাছ থেকে তারা বিদেশি হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, শুধু সেগুলোই পাবে। বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। বশির বলেন, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন খাতের ২০ শতাংশ চাকরি বর্তমানে দক্ষিণের জন্য বরাদ্দ আছে। তারা শোষিত হলে এ চাকরি পেল কীভাবে?
আবেয়ি অঞ্চলের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ সুদান ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা যুদ্ধ ডেকে আনবে।
১৯৫৯ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে সুদান স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হয়। কিন্তু আরবনিয়ন্ত্রিত উত্তর সুদান সরকার কঠোর হস্তে এত দিন তাদের দমন করে আসছিল। ১৯৮৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এ দুই অঞ্চলের মধ্যে গৃহযুদ্ধে অন্তত ২০ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছে। এর সিংহভাগই দক্ষিণ সুদানের। এ সময় আরব মিলিশিয়াদের হামলায় বাড়িঘর ছেড়েছে দক্ষিণ সুদানের লাখ লাখ বাসিন্দা। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়েই সুদান সরকার শেষ পর্যন্ত এ গণভোট অনুষ্ঠানে রাজি হয়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হলে এটা হবে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ।

খাদ্যমূল্যের রেকর্ড বৃদ্ধি লাখ লাখ লোক ঝুঁকিতে

জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি করে বলেছে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের দাম এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় লাখ লাখ লোক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সপ্তাহে আলজেরিয়ায় সংঘর্ষ হয়েছে।
রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন অর্থনীতিবিদ আবদোল রেজা আকাসিয়া গত শুক্রবার জানান, ‘বিশেষ করে ভোজ্যতেল, খাদ্যশস্য ও চিনির দাম বৃদ্ধি লাখ লাখ লোককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
মাংস, খাদ্যশস্য, তেল ও চিনির মাসিক গড়মূল্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এর ফলে গত ডিসেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্যের সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ দশমিক ৭ পয়েন্টে। ১৯৯০ সালে এই সূচক শুরুর পর এটাই সর্বোচ্চ পয়েন্ট। ডিসেম্বরের সূচক ২০০৮ সালের জুন মাসের সূচককেও ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময় সূচক ছিল ২১৩.৫।
মূল্যবৃদ্ধি এবং একই সময়ে খাদ্যসংকট সৃষ্টি আফ্রিকার কয়েকটি দেশে দাঙ্গা উসকে দিয়েছে। এ ছাড়া হাইতি ও ফিলিপাইনেও এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। দাতা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি সহিংসতা আরও ছড়িয়ে দিতে পারে।এ মাসে আলজেরিয়ায় মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রতিবাদে দেশটির রাজধানীতে এ সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাপী চিনির মূল্যসূচক রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৮ দশমিক ৪ পয়েন্টে। নভেম্বরে এটা ছিল ৩৭৩ দশমিক ৪ পয়েন্ট। একই সময় খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে। ২০০৮ সালের আগস্টের পর এটাই সর্বোচ্চ।

কুয়েতকে হারিয়েছে চীন

১০ জনের কুয়েতকে ২-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপ ফুটবলে শুভসূচনা করেছে চীন। ইয়াং জুকে ফাউল করে ৩৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন কুয়েতের মেসাদ নাদা। এরপর ঝ্যাং ও ডেংয়ের গোলে জয় পায় চীন।
মনোজ্ঞ ডিসপ্লে আর আতশবাজির মধ্য দিয়ে পরশু কাতারের দোহায় দোহায় শুরু হয়েছে এবারের এশিয়ান কাপ ফুটবল। উদ্বোধনী ম্যাচে উজবেকিস্তান ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক কাতারকে। ৪০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারির প্রায় সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষে নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে স্বাগতিক দর্শকদের। ৫৮ মিনিটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ওদিল আকমেদভ এগিয়ে দেন উজবেকিস্তানকে। এর ১৮ মিনিট পর অধিনায়ক সারভার দিজেপারভের গোলে নিশ্চিত হয় উজবেকিস্তানের জয়। এএফপি।
২০০০ এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল কাতার। টুর্নামেন্টে সেটাই তাদের সেরা পারফরম্যান্স। এই বাইরে আরও ছয়বার খেললেও গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়েছে কাতারের মিশন। উজবেকিস্তান ছাড়াও কুয়েত ও চীনের গ্রুপে পড়া কাতারের এবারের অভিযানও কি গ্রুপ পর্বেই শেষ হবে? উত্তরটা সময়ই বলবে, তবে দলের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স কোচ ব্রুনো মেটসুকে খুশি করতে পারেনি, ‘আমাদের জন্য খুবই খারাপ গেছে দিনটি। কাতারের মানুষের জন্য ভালো একটা ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খুবই বাজে খেলেছি আমরা।’

ম্যানইউর বিপক্ষে বেকহাম!

সময় যতই গড়াচ্ছে, বেকহামের টটেনহামে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ততই জোরালো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যদি এলএ গ্যালাক্সি থেকে টটেনহামে ধারে খেলতেই আসেন বেকহাম, অভিষেক হতে পারে তাঁর সাবেক ক্লাব ম্যানইউর বিপক্ষে! স্পারস কোচ হ্যারি রেডন্যাপই বলেছেন এই সম্ভাবনার কথা। আজ এফএ কাপে চার্লটনের বিপক্ষে ম্যাচ টটেনহামের। এই ম্যাচের আগেই বেকহাম প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসতে চায় তারা। রেডন্যাপকে উদ্ধৃত করে দ্য সান লিখেছে, ‘যদি ডেভিড এখানে আসে এবং ভালোভাবে অনুশীলন করে ও ভালো বোধ করে, তা হলে ম্যানইউর বিপক্ষে থাকতে পারে।’ ১৯৯৩-২০০৩—টানা ১০ বছর ম্যানইউতে খেলে ২০০৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যান বেকহাম।

লিভারপুলে চাকরি নেই হজসনের

মাত্র ছয় মাস স্থায়ী হলো হজসনের লিভারপুল-বাস। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ চলাকালে গত ১ জুলাই লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লিভারপুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেটা শেষ হয়ে গেল কাল। স্প্যানিশ কোচ রাফায়েল বেনিতেজের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অগোছালো লিভারপুলকে গুছিয়ে তোলার। পথহারা লিভারপুলকে পথ দেখানোর।
হজসনের মধ্যে একজন ত্রাতার ছবি এঁকেছিল লিভারপুল। কিন্তু ওই যে, সব সময় ভাবনাটা বাস্তব হয় না! একের পর এক ম্যাচ হেরে খাদের কিনারায় এসে পড়েছে ‘অল রেড’রা। গত বুধবার ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে লিগের নবম পরাজয়ে (৩-১) পয়েন্ট তালিকার ১২ নম্বরে নেমে গেছে। অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ৪ পয়েন্ট দূরে তারা। মালিক হেনরির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়তেই পারে!
হজসনকে ত্রাতা ভাবাটা অবশ্য স্বাভাবিকই ছিল। এ পর্যন্ত যে কতবার কোচ হিসেবে কাজ করেছেন, দলকে অন্য উচ্চতায় তুলে দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ড ও আর ফিনল্যান্ডের কোচ ছিলেন তিনি। সুইজারল্যান্ডকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন, নিয়ে গিয়েছিলন ১৯৯৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে। ফিনল্যান্ডকে এনে দিয়েছিলেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা র‌্যাঙ্কিং (৩৩তম)। ইন্টার মিলান, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স, কোপেনহেগেন, উদিনেসে, ফুলহাম—ক্লাব ফুটবলে এদের সবাইকেই কিছু না-কিছু দিয়েছেন হজসন। শুধু লিভারপুলেই হলো ব্যতিক্রম।
হজসনের ভাগ্যটা পড়া যাচ্ছিল গত পরশুই। কালই এল তাঁকে বরখাস্তের ঘোষণা। হেনরি বলেছেন, ‘গত ছয় মাসে রয় হজসন যা করেছেন, এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তার শুভ ভবিষ্যৎ কামনা করি আমরা।’ লিভারপুলের ভবিষ্যৎ আপাতত কেনি ডালগ্লিসের হাতে। ভারপ্রাপ্ত কোচ করা হয়েছে তাঁকে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজ এফএ কাপে লিভারপুলের ডাগ-আউটে দাঁড়াবেন লিভারপুলের সাবেক এই তারকা।

স্টিভে ত্রাতা খুঁজছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁদের অবদান ৩৫ হাজার রান, ৭৩টি সেঞ্চুরি। আজ দলের এই দুঃসময়ে কিছু কথা বলার অধিকার ওয়াহ ভাইদের অবশ্যই আছে। তাঁরা বলছেনও। তবে এই যমজ দুই ভাইয়ের কাছে প্রত্যাশাটা আরও বেশি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগের অধিনায়ক স্টিভের কাছে। অনেকেই কোচের দায়িত্বে দেখতে চাইছেন ৪১টি টেস্ট জেতানো সাবেক এই অধিনায়ককে।
বয়সে মার্কের চেয়ে পাঁচ মিনিটের বড় ৪৫ বছর বয়সী স্টিভ অবশ্য কোচের দায়িত্ব নিতে রাজি নন। তবে পরামর্শক বা পথপ্রদর্শকের কোনো ভূমিকা দিলে তিনি সানন্দে সেই দায়িত্ব নেবেন। ‘কোচের প্রসঙ্গ উঠলে আমার নাম আসে। ঠিক আছে, আমার নাম উঠতেই পারে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে আমি ভালোবাসি, দল সাফল্য পাক সেটাও চাই। কিন্তু আমি মনে করি, পথপ্রদর্শক হিসেবেই আমি বেশি ভালো করব’—বলেছেন স্টিভ।
এই ভূমিকায় আগেও দেখা গেছে তাঁকে। ২০০৮ অলিম্পিকে ‘মেন্টর’ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৭ এশিয়ান কাপ ফুটবলেও। ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপেও তাঁর মেন্টর হিসেবে কাজ করার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেট দলে ১০ হাজার ৯২৭ টেস্ট রানের মালিককে আরও বড় দায়িত্বে চায় অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই।
এই মুহূর্তে সেই চাওয়া কেন পূরণ করা সম্ভব নয় সেটিও জানিয়েছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, ‘আসলে এই সময় আমি আমার সামাজিক কাজ, ব্যবসা আর পরিবার নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। সবকিছু তো আর একসঙ্গে করা যায় না। তবে পাশে থেকে আমি অবশ্যই সাহায্য করতে রাজি।’
১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়া দলে অভিষেক হওয়ার পর স্টিভ খেলে গেছেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। তিনি যুঝতে থাকা একটি দলকে দেখেছেন বিশ্বশ্রেষ্ঠ দলে রূপান্তরিত হতে। এই অভিজ্ঞতা স্টিভ বিনিময় করতে পারেন এই দলটার সঙ্গে। স্টিভের মতে, এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি, ‘আমি অস্ট্রেলিয়া দলকে ধুঁকতে দেখেছি। সেই দলটাই পরে সফল একটা যুগ পার করেছে। আমি উত্থান-পতনের ছবিটা ভালো করেই জানি। সম্ভবত সাফল্যের কিছু সংক্ষিপ্ত পথও আমার চেনা। এমনিতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে নেপথ্যে আমার নিয়মিতই যোগাযোগ হয়।’
১২৮টি টেস্ট ও ২৪৪টি ওয়ানডে খেলা মার্কের অভিজ্ঞতার ঝুলিও খুব একটা কম নয়। টেস্ট-ওয়ানডে দুই জায়গাতেই আট হাজারের বেশি রান করা এই সাবেক ক্রিকেটার বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই দলে সুইং বোলারের অভাব। আর সেটাই অ্যাশেজ হারের মূল কারণ।

রাজনৈতিক আলোচনা- আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম হয়েছে ___খালেদা জিয়া

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ভুল, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিকৃত তথ্যে ভরা বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর সরকারের প্রথম দুই বছরের সঙ্গে গত দুই বছরের তুলনা করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে রূপকথার গল্প উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ভোটের আগে শুনিয়েছিলেন ডিজিটাল গল্প। ওয়াদা করেছিলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল, ফ্রি সার ও ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার।

কালের কণ্ঠের এক বছর- মানবকল্যাণ আমাদের মন্ত্র by আবেদ খান

তুর্কি কবি নাজিম হিকমতের কয়েকটি পঙ্ক্তি এ রকম: ‘যে বছর আমি জেলে এলাম/একটা পেনসিল ছিল/লিখে লিখে ক্ষইয়ে ফেলতে এক সপ্তাও লাগেনি।/পেনসিলকে যদি জিজ্ঞেস করো/সে বলবে, একটা গোটা জীবন/আমি বলব এ এমন আর কী/একটা মাত্র সপ্তাহ।’ কালের কণ্ঠের এই এক বছর যেন নাজিমের কবিতার ওই পেনসিলের মতো। কালের নিরাবেগ নিক্তিতে ‘এক বছর’ সময়টার ভার খুব সামান্যই। কিন্তু আমরা যারা কালের কণ্ঠ শুরু করেছি,