Monday, April 25, 2011

ফরাশগঞ্জের রূপকথা

স্বপ্নযাত্রার সফল সমাপ্তি!
স্বাধীনতা কাপের শিরোপা নিয়েই কাল রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ফিরল ফরাশগঞ্জ। পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে ২০০ গজ দূরে বুড়িগঙ্গার তীরে এই ক্লাব। তিনতলা ভবন রাতভর আনন্দ-উল্লাসে মেতে থেকেছে হয়তো। ক্লাবের ৫২ বছরের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জয়—গোটা এলাকাও নিশ্চয়ই এর সঙ্গে ছিল একাত্ম।
শেখ রাসেলের উত্তরার ক্যাম্পে ঠিক এর বিপরীত ছবি কল্পনা করে নেওয়া যায়। ভাগ্যে শিকে ছিড়ল না দলটির। প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ ছিল তাদের সামনেও। কিন্তু ফরাশগঞ্জ সেই সুযোগ নস্যাৎ করে নিজেরাই জিতে নিল বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন এই ফাইনালটা।
উৎসব আনন্দে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কাঁপল উত্তেজনায়, রোমাঞ্চে। একটা সময় কী হয়, কী হয়—এমন পিনপতন নীরবতা। আবাহনী-মোহামেডান-শেখ জামাল-মুক্তিযোদ্ধার মতো বড় বড় নাম নেই। তাতে কী? এই ফাইনালের শেষটা এর চেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারত না!
ইনজুরি কাটিয়ে এই স্বাধীনতা কাপে কালই প্রথম খেলতে নামা কালু জনসনের গোলে ফরাশগঞ্জ এগিয়ে যায় ৪১ মিনিটে। দলকে ফাইনাল পর্যন্ত তুলে আনা নারায়ণগঞ্জের তরুণ স্ট্রাইকার সোহেল রানার ঠেলে দেওয়া বল কালু কঠিন এক কোণ থেকে পাঠান জালে। মনে হচ্ছিল, আবারও একমাত্র গোলটা ধরে রেখে মাঠ ছাড়বে ফরাশগঞ্জ। কিন্তু ৮০ মিনিটে ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার আব্বাস ইনুসার গোলে ১-১।
অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ আর গোল দেখল না। পোস্ট একবার গোল থেকে বঞ্চিত করল রাসেলকে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের প্রথম পাঁচ শটে ৩-৩। সাডেন ডেথের প্রথম শটে ১-১। দ্বিতীয় শটেই ম্যাচের নিষ্পত্তি। কী রুদ্ধশ্বাস অবস্থা!
সোহেল রানা, ভিক্টর এডওয়ার্ড নন; নায়ক সুজন চৌধুরী নামের রংপুরের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণ। সাডেন ডেথের দ্বিতীয় শটে রাসেলের প্রদীপ বড়ুয়ার শট ঠেকালেন ফরাশগঞ্জ গোলরক্ষক। প্রথম পাঁচ শটের পঞ্চম শটটিও (রাজু) আটকে দেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের পর ফাইনালেও টাইব্রেকারে দলকে জেতালেন এই সুজন। তাঁর কীর্তি ফরাশগঞ্জের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য যথেষ্ট।
কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আসা। শেখ জামালকে সোহেল রানার দেওয়া একমাত্র গোলে হারিয়ে ফাইনাল। শেষ লড়াইয়ে শেখ রাসেলকে হারাতে না পারলেও রানার্সআপ ট্রফিটাও বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকত। কিন্তু অদম্য ফরাশগঞ্জ ঢাকার শীর্ষপর্যায়ে ৩০ বছর ফুটবল খেলার দীর্ঘ যাত্রায় কালই প্রথম প্রাণভরে উৎসব করতে পারল।
এবারের বাংলাদেশ লিগের প্রথম পর্ব শেষে ১২ দলের মধ্যে ফরাশগঞ্জের অবস্থান দশম। মাত্র দুই জয়ে পয়েন্ট ৯। পাঁচ জয়ে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শেখ রাসেল আছে চতুর্থ স্থানে। কাগজের এই হিসাবকে তুড়ি মেরে ফরাশগঞ্জ বোঝাল, পরিসংখ্যান কখনো ম্যাচ জেতায় না। জেতায় সাহস, কৌশল।
শেখ রাসেলের জন্য এটা হতাশার। ২০০২ সালে প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হওয়া দলটির এটাই ছিল প্রথম কোনো ফাইনালে ওঠা। কিন্তু ঘর সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠা ফরাশগঞ্জকে আটকাতে পারেনি শেখ রাসেলও। আবাহনী-শেখ জামালের মতো তাদেরও হলো একই পরিণতি।
এর জন্য নিজেকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করতে পারবেন না আব্বাস। দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে তিনিই টাইব্রেকারে প্রথম শটটা মারেন বাইরে। রাসেলের এডওয়ার্ড, ডিউক, ইমু গোল পান। সাডেন ডেথে গোল করেছেন ইউসুফ। ফরাশগঞ্জের ভাসানী, মামুন মিয়া, সোহেল রানা গোল করেছেন প্রথম পাঁচ শটে। সাডেন ডেথের প্রথম শটে ইউসুফ। রাসেলের গোলরক্ষক খোকন দাসের শটে হাত ছুুঁইয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
ভাগ্যদেবী তাকাল ফরাশগঞ্জের দিকেই। ফরাশগঞ্জ ক্লাব কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ষোষণা দিয়েছে। স্বপ্নযাত্রার এমন সমাপ্তির পর এমন পুরস্কার তাদের প্রাপ্যই।
ফরাশগঞ্জ: সুজন, সানি, ভাসানী, মোজেস, খোকন দাস, মলয় (জাকির), সোহেল রানা, জুয়েল রানা, সৈকত, (মামুন মিয়া), মোখলেস, কালু জনসন (ইদ্রিস)।
শেখ রাসেল: মামুন, মুরাদ, আমিনুল, প্রদীপ, ইউসুফ, মেজবাহ (শাহেদ/ইমু), মরো মোহাম্মদ, এডওয়ার্ড, রাজু, আব্বাস ইনুসা, ডিউক।

হোয়াটমোরের চাওয়া ‘ঘুরে দাঁড়ানো’

আইপিএলের এবারের আসরটি কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য একটু অন্য রকমই। আগের তিনটি আসরের ব্যর্থতার পর এবার শিরোপা জিততে মরিয়া বলিউড কিং শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজটি। আসরের মাঝপথে এসে দলটি নিজেদের পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে দেখলেও ভালো খেলতে খেলতেই ছন্দ হারিয়ে ফেলা যেন কলকাতার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবারের ম্যাচটির কথাই ধরুন। ইডেনে ব্যাঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ব্যাট হাতে শুরুটা কিন্তু মন্দ ছিল না কলকাতার। জয়ের জন্য মোটামুটি লড়িয়ে একটা সংগ্রহও দাঁড় করিয়েছিল তারা। আগের ম্যাচগুলোতে বোলারদের চমত্কার পারফরম্যান্স, স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তাদের। কিন্তু ক্রিস গেইল ও তিলকরত্নে দিলশানের ঝড়ে যেন পাখির পালকের মতোই উড়ে গেল কলকাতার সব স্বপ্ন-সাধ।
ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছেন কোচ ডেভ হোয়াটমোর। কারণ, সেদিন বোলারদের আসলেই কী হয়েছিল—তা বের করতে না পারলে যে সামনে আরো বড় বড় ঝড় অপেক্ষা করছে। বৃহস্পতিবারই যে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মাঠে বীরেন্দর শেবাগের দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মুখোমুখি হচ্ছে নাইট রাইডাররা।
‘গেইলের মতোই শেবাগ ও ওয়ার্নাররা ভয়ংকর ব্যাটসম্যান। আইপিএলে কোনো ম্যাচই সহজ না হলেও দিল্লির ম্যাচে হুমকিটা প্রথম থেকেই শুরু হচ্ছে।’ হোয়াটমোরের মন্তব্য।
তাঁর মতে দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে না পারলে কলকাতা পিছিয়ে যাব। সেটা হতে দেওয়া যাবে না।
কলকাতা দলে ব্রেট লি, বালাজি, সাকিব আল হাসানদের মতো বোলার থাকলেও তাঁরা ঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে এঁরা কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। বিশেষ করে বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে সাকিবের ওপর দলের যে ভরসা ছিল, সেটা পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তবে হোয়াটমোর ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচটিকে বোলারদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’ হিসেবেই দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘বোলাররা ব্যর্থ—এটা আমি বলতে চাই না। আমরা কয়েকটি ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়ে পরাজিত হয়েছি। ওই ম্যাচগুলোতে জয় আসলে আজকের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকম হতো।’
এবারের আইপিএলে এখনো মুম্বাইয়ের মুখোমুখি হয়নি কেকেআর। আর হোয়াটমোর যে সেই ম্যাচটি নিয়ে আলাদা ছক কষছেন, তা বলেছেন অকপটেই। ‘মুম্বাই অনেক ভালো দল। ওই দলে শচীন টেন্ডুলকারের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। ম্যাচটি নিয়ে আলাদা চিন্তা তো রয়েছেই। তবে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিকে নিয়ে।’

গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে by মো. আবদুল হামিদ

আজকে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ হচ্ছে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। আইন প্রণয়ন সংসদের মূল কাজ হলেও সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সংসদের অন্যতম দায়িত্ব।
১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জন করি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছরেও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা যতটুকু হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। এর অনেক কারণও রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক যাত্রার পথ রুদ্ধ হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। চর্চার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়। তাই যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের আপামর জনগণকে গণতন্ত্রমনা করে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা বাড়াতে হবে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই গণতন্ত্রের চর্চা ও লালন করবে—এটা ভাবলে চলবে না। দলমত-নির্বিশেষে এটা সবারই দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতান্ত্রিক রীতি-পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে এবং এ ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মিডিয়া ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। টেকসই উন্নয়নের জন্য অব্যাহত গণতন্ত্র অপরিহার্য। একটি ছাড়া অপরটি চলতে পারে না। এ জন্য সংসদকে কার্যকর করতে হবে। সব সংসদ সদস্যকে আইন প্রণয়ন থেকে প্রতিটি কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। সংসদে আমরা যা কিছুই করি না কেন, জনগণ তা জানতে না পারলে এর সুফল তাদের কাছে পৌঁছাবে না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারণ তাদের মাধ্যমেই দেশবাসী সংসদে কী হচ্ছে না হচ্ছে তা জানতে পারে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে কী দায়িত্ব পালন করেন, তা জানার অধিকারও জনগণের রয়েছে। আর এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা গেলেই জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সচেতন হবেন।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা নিয়ে অনেকেই অনেক আশা-নিরাশার কথা বলেন। কিন্তু আমি হতাশ নই। গণতন্ত্রের বিকাশে চর্চার বিকল্প নেই। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা বারবার হোঁচট না খেলে হয়তো এত দিনে দেশে গণতন্ত্রের ভিত আরও বেশি মজবুত হতে পারত। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গণতন্ত্র আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি কাজকর্মে গণতান্ত্রিক রীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় আপনাদেরও ভূমিকা আছে। অর্থাৎ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত গঠনের মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন। সংসদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আইন প্রণয়নের আগে প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে আপনাদের মতামত আইনকে ত্রুটিমুক্ত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। এমনকি আমার নিজের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি পত্রিকা অষ্টম জাতীয় সংসদের বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। আমি আশা করি, এর ফলে ভবিষ্যতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমান সংসদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমি ১০০ ভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করব না, তবে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। কেনাকাটার ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বছর পুরোনো জিনিসপত্র নিলামে ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অথচ আগে এগুলো কম মূল্য দেখিয়ে নিজেরাই নিয়ে নিতেন।
জাতীয় সংসদের একটি অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে ওভারসাইট ফাংশন বা নজরদারি কার্যক্রম। সংসদের পক্ষে এ কাজটি সম্পন্ন করা খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়। মূলত সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাঠামো এবং সংসদের আর্থিক সামর্থ্য, দক্ষ জনবলের অপ্রতুলতা ইত্যাদি সীমাবদ্ধতা কাজটিকে আরও দুরূহ করে তোলে। সরকারের আয়-ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনগণের কল্যাণসাধনে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম—এসব বিষয় সংসদে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই নজরদারি কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সংসদের মূল কাজটা কিন্তু হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। নবম জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনেই সবগুলো স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিগুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে আওয়ামী লীগই প্রথমবারের মতো স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মন্ত্রীর পরিবর্তে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব প্রদান করে। বর্তমান সংসদের মূল অধিবেশনে বিরোধী দল অনেক দিন অংশ না নিলেও সংসদীয় কমিটিগুলোতে কিন্তু তারা নিয়মিতভাবেই অংশ নিয়েছে। এটিও কিন্তু একটি ইতিবাচক ধারা। কমিটিগুলোতে সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুপারিশ করে থাকে। তবে প্রায়শই দেখা যায়, সরকারের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো কোনো কমিটির সদস্যদের একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কমিটিগুলো মনে করছে, মন্ত্রণালয় সব তথ্য যেমন দিচ্ছে না, তেমনই কমিটির সব সুপারিশ বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় ভাবছে, কমিটিগুলো এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে, যা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বিষয়। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। এটা কীভাবে দূর করা যায়, সে বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। অন্যান্য উন্নত দেশে কীভাবে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাও জানা প্রয়োজন।
সংসদীয় কমিটি কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও অর্থবহ করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি দক্ষ, কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ সচিবালয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে এবং দ্রুত এ অবস্থার উন্নয়নে সরকার ও উন্নয়ন-সহযোগীদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজেট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের, বিশেষ করে নবীন সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য ইউএসএইড প্রগতি প্রকল্পের অধীনে সংসদ সচিবালয়ে একটি বাজেট বিশ্লেষণ ও তদারকি ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ওরিয়েন্টেশন কোর্সে বাজেট বিষয়ে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রিসোর্স পারসন হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আর্থিক নজরদারি-সংক্রান্ত তিনটি কমিটি, যথা: পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটি, পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটি এবং কমিটি অন এস্টিমেটের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অন্যান্য দাতা সংস্থার সহযোগিতায় স্ট্রেনথেনিং পার্লামেন্টারি ওভারসাইট প্রকল্পটি এ বছর থেকে কাজ শুরু করেছে। এর ফলে আর্থিক নজরদারি আরও সুদৃঢ় হবে। এ ছাড়া পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অডিট রিপোর্টের ব্যাকলগ কমানোর জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তা ছাড়া ইউএনডিপির সহযোগিতায় সংসদ সচিবালয় ও অন্যান্য সংসদীয় কমিটিকে শক্তিশালীকরণের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমকে যখন শক্তিশালীকরণের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নাধীন, এমন সময় এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত সময়োচিত হয়েছে। এ জন্য আমি প্রথম আলোকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
(২৩ এপ্রিল প্রথম আলো কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্য)
মো. আবদুল হামিদ: স্পিকার, জাতীয় সংসদ।

ছেলেসন্তান মেয়েসন্তান by মশিউল আলম

গত সাধারণ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল, দলটি ক্ষমতায় গেলে ১৯৯৭ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতি পুনর্বহাল করবে। মহাজোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তার দুই বছর দুই মাস পর গত মার্চে তারা নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ ঘোষণা করেছে। দেখা যাচ্ছে, এই নতুন নীতিতে ১৯৯৭ সালের নারীনীতির একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই নীতিতে ‘উর্পাজনের সুযোগ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, ভূমির ওপর অধিকারের ক্ষেত্রে নারীকে পূর্ণ ও সমান সুযোগ দেওয়া’র কথা ছিল। নতুন ঘোষিত নারীনীতিতে নানা ক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সম্পত্তির উত্তরাধিকারে সমানাধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তাই অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। নারী অধিকার নেত্রী হামিদা হোসেন প্রথম আলোয় এ বিষয়ে একটি নিবন্ধে সে কথা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন। গত মঙ্গলবার নারী অধিকার সংগঠন উইমেন ফর উইমেন আয়োজিত নারীনীতি বাস্তবায়নে করণীয়বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৭ সালের নারীনীতি পুনর্বহাল করবে—এই নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রেখে জনগণ তাদের ভোট দিয়েছে। কিন্তু এখন নারীনীতি নিয়ে সরকারের কণ্ঠস্বর নিম্নগামী। ‘সরকার করুণভাবে ডিফেন্সিভ’, মানে আত্মরক্ষামূলক আচরণ করছে। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, সরকারের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি সম্ভবত বলতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দলটির জন্য বাস্তব পরিহাস হচ্ছে, ধর্ম প্রসঙ্গে তাদের কখনো কখনো বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়। বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি। ধর্মের কারণেই সেখানে স্ববিরোধী জোড়াতালি লক্ষ করা যাচ্ছে। নারীনীতির বিষয়ে এই সরকারের মুশকিল হয়েছে দ্বিমুখী। বাংলাদেশ দুটি ধারা বাদ রেখে সিডও সনদে স্বাক্ষর করেছে। এই আন্তর্জাতিক ফোরামের চাপ হলো, তাদের বিধানগুলো বাংলাদেশ মেনে চলুক। সব ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ সে কারণেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ একটি জনভিত্তিক রাজনৈতিক দল, জনসমর্থনই তাদের মূল শক্তি। তারা এমন কাজ করতে চায় না যাতে জনসমর্থন কমে যায়। তাই নতুন নারীনীতিতে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়নি। তবু কিছু ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই নারীনীতিতে যা নেই, তা নিয়ে প্রবল প্রতিবাদ জানাচ্ছে, দেশ অচল করে দেওয়াসহ নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। তারা এই প্রচারণা চালাচ্ছে যে, সরকার কোরআনবিরোধী নীতি করেছে। তাদের এমন প্রচারণায় অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
উইমেন ফর উইমেনের সেদিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরী। সুলতানা কামালের অভিযোগের প্রতিবাদে তিনি বলেছেন, সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে কোনোভাবেই দুর্বল অবস্থানে নেই। নীতিতে কী আছে, তা না দেখেই যে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে, তা দূর করার জন্যই বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারের দুর্বলতা নয়। আমরা লক্ষ করেছি, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও নারীনীতি সম্পর্কে ব্যাখ্যাদানে অংশ নিতে হয়েছে। কিন্তু সিডও কমিটির কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এত দিন সরকার বলে এসেছে: আমরা বিষয়টি ‘বিবেচনা করছি’, এবং ‘সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি’।
বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি চলবে হয়তো আরও কিছুদিন। বিরোধী দলগুলো তো কোনো ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না, যা নিয়ে মাঠ গরম করার কথা ভাবতে পারে। নারীর সমান অধিকারের প্রশ্নটি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী; নিজেদের অধিকার সম্পর্কে তাঁরা কী ভাবেন, কী চান, কী চান না—তা জানা ও বোঝার চেষ্টা কোনো পক্ষেই নেই। এক পক্ষ তো মনে করে, মেয়েরা কী চায়, কী চায় না সেটা কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে ধর্মে যেভাবে বলা আছে, সেভাবেই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করতে হবে। এবং এই আলোচনায় আছেন শুধু মুসলমান নারী। এই দেশে যে অন্য ধর্মাবলম্বী নারীরাও আছেন, তাঁদেরও যে অধিকারের প্রশ্ন আছে, তাঁরাও যে এই দেশের পরিপূর্ণ নাগরিক—এসব সত্য যেন সবাই বিস্মৃত হয়েছেন। জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়নির্বিশেষে সব নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে স্বাভাবিক—এই বোধের ঘাটতি যদি সমাজে প্রকট হয়, তবে সেই সমাজের স্বভাব ট্রাইবাল। আমরা হয়তো এখনো সভ্যতার সেই ধাপেই রয়ে গেছি।
কিন্তু ট্রাইবাল সমাজও তো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। বিধিবিধান দিয়ে না হোক, রীতি-প্রথার ক্রমপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজ সামনে এগোয়। ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তান সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলে গেছে। একসময় মেয়েসন্তানের জন্ম অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল; কোনো কোনো সমাজে তাদের জন্মের পরপরই জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। কিন্তু এখন আর সে রকম কিছু কল্পনাও করা যায় না। আমাদের এই সমাজেই একটা সময় ছিল যখন অনেক মা-বাবা মেয়েসন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেন না। পড়াশোনা করবে শুধু ছেলেরা, চাকরিবাকরি আয়-উপার্জন করবে শুধু ছেলেরা, মেয়েদের ভূমিকা সন্তান লালন-পালন আর রান্নাবান্নার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলে গেছে। মেয়েদের মেধা ছেলেদের চেয়ে কম নয়, এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে লেখাপড়ায়, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে, গবেষণায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে, ব্যবস্থাপনাসহ আরও নানা ক্ষেত্রে। ডাক্তারি, শিক্ষকতা ইত্যাদি পেশায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি ভালো করছে—এমন তথ্যও মিলেছে অনেক গবেষণায়। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির এসব বিবর্তন ঘটে চলেছে সমাজ বিকাশের স্বাভাবিক নিয়মে। এবং এই প্রক্রিয়া সব সময়ই সচল থাকবে।
বিভিন্ন বয়সের কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা হলো বাবার সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা প্রসঙ্গে। কেউ বললেন, ভাইয়ের সমান ভাগ তিনি চান। কেউ বললেন, নিজের ভাগটা তিনি ভাইকে দিয়ে দেবেন। কেউ বললেন, সমান ভাগ পেলে মন্দ হতো না, কিন্তু নিয়ম যদি না থাকে, তাহলে আর কী করা? কেউ বললেন, তাঁর পাওয়ার কথা ভাইয়ের অর্ধেক; কিন্তু তা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এর জন্য মামলা-মোকদ্দমায় যেতে উৎসাহ পাননি। এমন কিছু পরিবারের কথা জানি, যেখানে ভাইবোনেরা মা-বাবার সম্পত্তি ভাগ করে নিয়েছেন সমান ভাগে। বাবা, বা মা যদি স্থির করেন যে তাঁর সম্পত্তি তিনি ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেবেন, এবং ভাইয়েরা যদি স্থির করেন, মা ও বাবার সম্পত্তির যে ভাগ তিনি পাবেন, বোনকেও তার সমান ভাগ দেবেন—এতে সমস্যা কী। আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত সেই সব পরিবার, যারা এভাবে ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের মধ্যে এমন সমতা সৃষ্টি করছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে সামগ্রিক সমতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে একটি সুখী, সুন্দর, স্নেহমমতায় ভরা সমাজ গড়ে তোলার পথ এই পরিবারগুলো দেখাচ্ছে। উত্তরাধিকার সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারায় ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা নারীনীতিতে যুক্ত করতে যাঁরা ধর্মীয় কারণে দ্বিধান্বিত, তারা নিজেরা, অর্থাৎ এই সরকার, সরকারি দল ও মহাজোটের সব শরিক দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের পরিবারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা সবার আগে এগিয়ে আসুন। সেই সঙ্গে নারী অধিকারের পক্ষে আন্দোলনরত সব সংগঠন এবং প্রগতিশীল নাগরিক সমাজের সবাই, প্রতিটি পরিবার যদি অঙ্গীকার করে যে তারা নিজেদের ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের মধ্যে সব সম্পত্তি সমান ভাগে ভাগ করে দেবে, এবং বাস্তবে তা-ই করে, তাহলে আক্ষরিক অর্থে নয়, বাস্তবিক জীবনেই নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ অনেকটা হয়ে যায়।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

থাই সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা দেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীকে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। গত শনিবার পুয়েয়া থাই পার্টির এক সভায় দুবাই থেকে ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনাওয়াত্রা ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় কারাদণ্ড এড়াতে তিনি এর পর থেকে বিদেশেই বসবাস করছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের বিরোধী দল পুয়েয়া থাই পার্টিতে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
এ দলেরই সভায় ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে তিনি দেশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতে দেশের সরকার গঠনে সামরিক বাহিনীর আর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অপিসিত ভেজ্জাজিওয়া সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ২০০৮ সালে এক পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। আগামী জুলাইয়ের শুরুর দিকে তিনি দেশে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

শিখবিরোধী দাঙ্গায় মনমোহনের ক্ষমা প্রার্থনা অনন্য দৃষ্টান্ত

১৯৮৪ সালে শিখবিরোধী দাঙ্গার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক রবার্ট ও’ব্লেক। এ ঘটনাকে প্রায় মহাত্মা গান্ধীর পর্যায়ের নৈতিক শুদ্ধতার উদাহরণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন নয়াদিল্লিতে মার্কিন মিশনের সাবেক উপপ্রধান ব্লেক।
আলোড়ন তোলা ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকা গত শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনার জের ধরে ভারতে শিখবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়, যাতে কয়েক হাজার লোক নিহত হয়।
২০০৫ সালে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ওই বছরের ১২ আগস্ট ভারতীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মনমোহন সিং বলেন, ‘শিখ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। তবে শুধু শিখদের কাছে নয়, আমি ক্ষমা চাইছি সমগ্র ভারতবাসীর কাছে। কারণ, ১৯৮৪ সালে যা ঘটেছিল, তা আমাদের সংবিধানে সুরক্ষিত জাতীয়তাবোধের আদর্শের সঙ্গে মেলে না।

তেজস্ক্রিয়ার ঝুঁকি এলাকায় কোটি মানুষের বসবাস

সারা বিশ্বের প্রায় নয় কোটি মানুষ পরমাণু চুল্লির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে। যা তাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু চুল্লির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ বাস করে। চীন, জার্মানি ও পাকিস্তানে ৯০ লাখেরও বেশি এবং ভারত, তাইওয়ান ও ফ্রান্সে ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ পরমাণু কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে থাকে।
আর বিশ্বজুড়ে পরমাণু কেন্দ্রের ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে এ কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ কোটিরও বেশি মানুষ, চীনে সাত কোটি ৩০ লাখ মানুষ, ভারতে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ মানুষ, জার্মানিতে তিন কোটি ৯০ লাখ ও জাপানে তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ পরমাণু চুল্লির ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে।
অন্যভাবে দেখলে যুক্তরাষ্ট্রের তিন ভাগের এক ভাগেরও বেশি মানুষ পরমাণু কেন্দ্রের ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে। আর জার্মানির প্রায় অর্ধেক মানুষ ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু পরমাণু চুল্লির নৈকট্যের বিষয়টি ঝুঁকি নির্ণয়ের মানদণ্ড নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, রক্ষণাবেক্ষণের মান ও পরমাণু কেন্দ্রে কী পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ আছে তার ওপরও।

ভাইয়ের হাতে খুন হলো কিশোরী বোন

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রুকরি গ্রামে গত বুধবার রাতে এক যুবক তাঁর ১২ বছর বয়সী বোনকে হত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার স্থানীয় পুলিশ জানায়, পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য চরণ সিং নামের ওই যুবক এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চরণ সিং (২০) এলাকার একটি ইটের ভাটায় কাজ করেন। গত বুধবার রাতে তিনি তাঁর বোনকে হত্যা করেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজমের সিং বলেন, চরণের বোন তাঁর কর্মস্থলে অর্থাৎ ইটভাটায় অপর একটি যুবকের সঙ্গে কথা বলত। ব্যাপারটি চরণের ভালো লাগত না। এ জন্য তিনি বোনকে হত্যা করেন।

শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গতকাল শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল ৫০টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রয়েছে ২৯৪টি আসন। গতকাল মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি, নদীয়া জেলার ১৭টি ও বীরভূম জেলার ১১টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। বামফ্রন্ট ও বিজেপি লড়েছে ৫০টি আসনেই। তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি ও কংগ্রেস ২১টি আসনে লড়েছে। তবে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় কংগ্রেসের চারজন করে মোট আটজন বিদ্রোহী নেতা নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন।
মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলা কংগ্রেসের ঘাঁটি হলেও এখানে মনোনয়ন না পেয়ে দুই জেলায় চারজন করে মোট আটজন কংগ্রেস নেতা নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছেন। অন্যদিকে বীরভূম আগে থেকে বাম দলের শক্ত ঘাঁটি হলেও এবার এই জেলায় তৃণমূল মোটামুটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
গতকালের নির্বাচনে বীরভূমের নলহাটি কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে লড়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী আনিসুর রহমান।
এবার এই তিন জেলায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এর আগে প্রথম পর্বে ছয়টি জেলার ৫৪টি আসনে ভোট হয়েছে ১৮ এপ্রিল। তবে বিগত সব নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোট ছিল একটু ব্যতিক্রমধর্মী। এবার ভোটাররা ভোট দিয়েছেন অনেকটাই নীরবে। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলেননি। বলতে চাননি কে কাকে ভোট দিয়েছেন।
রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের দুর্নীতির প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও নদীয়ার ছয়টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট বর্জন করেছেন। নদীয়ার রানাঘাটের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পলাশীপাড়ায় সিপিএমের এক নির্বাচনী এজেন্টের কাছে ২৫টি ফাঁকা ব্যালটপেপার পাওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। একইভাবে মুর্শিদাবাদের সালারে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রভাবিত করার অভিযোগে কংগ্রেসের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বীরভূমের বোলপুরের ইলামবাজারে কংগ্রেস কর্মীদের একটি বুথ দখলের অভিযোগ করেছে সিপিএম। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে চারটি গ্রামে কংগ্রেসের সমর্থকেরা ভোটদানে বাধা দিলে পুলিশ এসে ওই চার গ্রামের বাসিন্দাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে। একই ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের নানুরেও। এখানেও কয়েকটি গ্রামের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেয় কংগ্রেসের কর্মীরা। এ ছাড়া বেশ কটি ভোটকেন্দ্রে ভোটিং মেশিন খারাপ হওয়ার খবর মিলেছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অত্যধিক গরমে অসুস্থ হয়ে হঠাৎ মারা যান।
এদিকে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদ অধীর চৌধুরী গতকাল সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনেই জিতবেন কংগ্রেসের প্রার্থীরা। প্রসঙ্গত, এই মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেস চারটি আসনে লড়লেও অধীর চৌধুরীর সমর্থনে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ওই চারটি আসনে লড়েছেন কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। তাঁরা সবাই জিতবেন। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস মুর্শিদাবাদে কোনো আসন পাবে না। অধীর চৌধুরী আরও বলেন, তাঁর আশঙ্কা, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে তাঁকে জেলে পাঠাতে পারে।

সেনাবাহিনী জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি বলেছেন, আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে সেনাবাহিনী। গতকাল শনিবার ইসলামাবাদের উত্তরাঞ্চলীয় কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেটদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
চলতি মাসে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান তেমন কিছুই করছে না। জঙ্গিদের পরাস্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের যথাযথ পরিকল্পনারও অভাব রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে তালেবান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই কায়ানি তাঁর ভাষণে বলেন, পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি যেসব হুমকি মোকাবিলা করেছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী পুরোপুরি সচেতন আছে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের কর্মকর্তা ও সেনারা বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া জঙ্গিদের মেরুদণ্ডও ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই আমরা যুদ্ধে জয়ী হব।

এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচা সম্ভব

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড গতকাল শনিবার জাপানের সুনামিবিধ্বস্ত শহর মিনামিসানরিকু পরিদর্শন করেন। তিনি জাপানের বিপর্যয় এলাকা পরিদর্শন করতে যাওয়া প্রথম বিদেশি নেতা। তাঁর এই সফরের সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেয়াকি মাতসুমোতো এবং শহরের মেয়র জিন সাতো সঙ্গে ছিলেন।
গিলার্ড শহরের একটি তিনতলা দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করেন। ভবনটির লাল কঙ্কালসার কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। গত মার্চ মাসের দুর্যোগে এ শহরের এক হাজার ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। বিপর্যয়ের ভয়াবহতা দেখে গিলার্ড বলেন, ‘সত্যিই অভাবনীয়। এই ভয়াবহতা থেকে মানুষের বেঁচে যাওয়া সম্ভব! এই সংকটকালেও মানুষের সাহসিকতা অবাক করার মতো।’
গিলার্ড আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে বেঁচে যাওয়া লোকজনের খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে শিশুদের মধ্যে খেলনা বিতরণ করেন। পরে তিনি দুর্গতদের সাহায্যে তহবিল গঠনের জন্য রাজধানী টোকিওতে একটি নৈশভোজেও অংশ নেন।

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও সংঘর্ষ, নিহত ৪

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্তে গতকাল শনিবার আবারও দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত চার সেনা নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে ১০ সেনা নিহত হলেন। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দেশই পরস্পরকে দায়ী করে আসছে।
গত শুক্রবার ভোরে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরিন প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্তে তা মোয়ান ও তা ক্রাবেই মন্দিরের চারপাশের জঙ্গল এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় উভয় পক্ষের তিনজন করে সেনা নিহত হন।
গত শনিবার ভোর ছয়টার দিকে তা ক্রাবেই মন্দিরের পশ্চিমাঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর অভিযোগ, থাই সেনারা গুচ্ছবোমা হামলা চালিয়েছেন। বিষাক্ত গ্যাসভর্তি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার মন্দিরগুলোর দখল নিতে থাইল্যান্ড আগ্রাসন চালাচ্ছে। এ ধরনের আগ্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয়। সেই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ অবসানে থাইল্যান্ডকে অস্ত্রবিরতি পালনেরও আহ্বান জানানো হয়।
এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে থাইল্যান্ডের সেকেন্ড আর্মি রিজিয়নের কমান্ডার কর্নেল তাওয়াসি সামুৎসাকোর্ন বলেন, তাঁদের সেনারা গুচ্ছবোমা কিংবা বিষাক্ত গ্যাসভর্তি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেননি। তিনি আরও জানান, শনিবারের সংঘর্ষে তাঁদের এক সেনা নিহত এবং ১৩ সেনা আহত হয়েছেন। সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে ১৫ হাজার গ্রামবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কম্বোডিয়ার গোলন্দাজ ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল সুয়স সোথিয়া জানান, থাইল্যান্ডের ছোড়া গুচ্ছবোমা কম্বোডিয়ার অন্তত ২০ কিলোমিটার ভেতরে আঘাত হানে। তবে এর আগেই ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, গতকালের সংঘর্ষে তাঁদের তিন সেনা নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তা ক্রাবেই মন্দিরের পশ্চিমাঞ্চলে গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ছয়টার দিকে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের এ সংঘর্ষ চলে।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল প্রাওয়িত ওয়াংসুওয়ান গতকাল এএফপিকে বলেন, হঠাৎ তারা (কম্বোডিয়ার সেনারা) আমাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

গাদ্দাফির বাসভবনের পাশে ন্যাটোর বিমান হামলা

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাসভবন চত্বরের পাশের একটি বাংকারে বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। গতকাল শনিবার চালানো ওই হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত হন বলে দাবি করেছে লিবিয়া সরকার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র গতকাল প্রথমবারের মতো লিবিয়ায় চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। তবে কোথায় এ হামলা চালানো হয়েছে তা জানা যায়নি। ড্রোন হামলা চালানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুমোদনের দুইদিন পর এ হামলা চালানো হলো।
এদিকে লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম বলেছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় বিদ্রোহীদের দমনে সরকারি সেনাদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আশপাশের উপজাতি নেতাদের পাঠানো হবে।
লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম জানান, শনিবার সকালের দিকে ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাব আল আজিজিয়া বাসভবন চত্বরের কাছেই গাড়ি পার্ক করার জায়গায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিন ব্যক্তি প্রাণ হারান। তিনি আরও জানান, ওই জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের খালি বাক্স রাখা হয়েছিল।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা জানান, হামলা চালানোর জায়গাটি দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এর চারদিকে নিরাপত্তারক্ষী ও সেনাদের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও রয়েছে। হামলার পর কংক্রিটের স্তর ও মাটি সরে গিয়ে ওই স্থানে দুটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্ত দেখে মনে হয়েছে, সেখানে সুরক্ষিত বাংকার রয়েছে। হামলার পর ওই জায়গা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম বলেন, সরকারি সেনারা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মিসরাতার বিদ্রোহীদের দমনে ব্যর্থ হলে আশপাশের জ্লিতেন, টারহুনা, বানি ওয়ালিদ ও টারগাহ শহর থেকে উপজাতি নেতাদের সেখানে পাঠানো হবে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যেই নেতারা মিসরাতা যাবেন। এরপরও বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ না করলে তাদের দমনে উপজাতিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মিসরাতা শহর ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। গতকাল সেখানে ১০ জন নিহত হয়েছে। বিদ্রোহী সেনাদের হাতে আটক একজন সরকারি সেনা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের মিসরাতা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়া অভিযানে চালকবিহীন যুদ্ধবিমান ব্যবহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুমোদনের কঠোর সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম। তিনি এই অনুমোদনকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নতুন অপরাধ’ বলে আখ্যা দেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা গত বৃহস্পতিবার ‘মানবিক কারণ’ দেখিয়ে লিবিয়া অভিযানে ন্যাটোকে ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত দুটি চালকবিহীন বিমান ব্যবহারের অনুমতি দেন।
মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন লিবিয়ার বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বেনগাজি শহর সফরে গিয়ে বিদ্রোহীদের গঠিত ট্রানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিলের (টিএনসি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাইম বলেন, ম্যাককেইন টিএনসির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন না। ওই নেতারা লিবিয়ার কেউ নন। লিবিয়ার মাটিতে ওদের বৈধতা নেই।

সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০

সিরিয়ায় গত শুক্রবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জন হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা জানান, দেশটিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ নিহত হওয়ার ঘটনা।
বিক্ষোভকারীদের সংগঠন লোকাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি গুলিতে নিহত ৮৮ জনের নামের তালিকা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে পাঠিয়েছে। তালিকায় বন্দরনগরী লাতাকিয়া, হোমস, হামা, দামেস্ক ও দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম ইজরায়ায় নিহতদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিহতের সংখ্যা ৯০ বলে জানিয়েছে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিরিয়া সরকারের পদত্যাগ দাবি করে হাজার হাজার মানুষ গত শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা জানায়, ইজরায়া থেকে বিক্ষোভকারীরা ডেরা শহরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ১৪ জন নিহত হয়। দামেস্কর মিদান এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামা এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানে বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় বাথ পার্টির কার্যালয়ের দিকে যেতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালায়। এতে অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হয়, আহত হয় অনেকেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দামেস্কর বাজরেহ ও ডউমা এলাকায়ও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদ তাঁর দেশের জনগণের আন্দোলনের অধিকারের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখাচ্ছেন না। তিনি ইরানের মতো কৌশল নিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, সিরিয়ার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়টি কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে। বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক পরিচালক ম্যালকম স্মার্ট বলেন, সিরীয় কর্তৃপক্ষ পরিবর্তনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জবাবে আবারও বুলেট ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি এমন সহিংস আচরণ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
সিরিয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভের প্রথমদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার ও উদার স্বাধীনতা। ধীরে ধীরে তা সরকার পতনের দাবিতে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্ট আসাদ গত মঙ্গলবার দেশটি থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেন। ৪৮ বছর আগে বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা চলছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি।

আবারও নিম্নমুখী ধারায় পুঁজিবাজার

এক দিন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে দেশের পুঁঁজিবাজারে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ রোববার বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এর ফলে কমেছে সাধারণ সূচকও। তবে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। এ কারণে বাজারে নিম্নমুখী অবস্থা বিরাজ করছে। তবে বিনিয়োগকারীরা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের শুরুতে সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ২০ মিনিটের মাথায় সূচক ২৫ পয়েন্ট নেমে যায়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সূচক কিছুটা বাড়লেও এর পর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারা দিনই অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬.৬০ পয়েন্ট কমে ৬০৭৬.৩২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ সময়ে হাতবদল হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৩টির, কমেছে ২২৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দাম।
আজ ডিএসইতে ৬৩১ কোটি টাকার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫৫ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, আফতাব অটো, মালেক স্পিনিং, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো সিনথেটিকস ও সালভো কেমিক্যাল।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেক্সটেক্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, রেকিট বেনকিজার, সিটিজি ভেজিটেবল, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বঙ্গজ ও দেশ গার্মেন্টস দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া নর্দার্ন ইনস্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, বিডি ফিন্যান্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, বিআইএফসি ও রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৯২.৫০ পয়েন্ট কমে ১৭০৫০.৬৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে , যা গতকালের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি।

তিনটি প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণা

উত্তরা ফাইন্যান্সের ৪০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ এবং সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
উত্তরা ফাইন্যান্স: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ মে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের সময় এবং স্থান পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৩ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ১৬.০২ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৬২.৬৮ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১৫.৭২ টাকা।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৪ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ৭.৫০ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৬.০৮ টাকা।
সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৪ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ২.৬৫ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৫.১৬ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.৯৩ টাকা।

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে এসইসির শুনানি নোটিশ

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইন ভঙ্গ করায় আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত শুনানির জন্যও ডেকেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে প্রকাশিত এসইসির নোটিফিকেশনের শর্ত ভঙ্গ করায় এই শুনানি নোটিশ দেওয়া হয়।

এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত

পুঁজিবাজারে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও এমআই সিমেন্টের প্রতিনিধিদের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে নির্দেশনা জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এসইসি।
এসইসি সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে এমআই সিমেন্টের লেনদেন শুরু হওয়ার পর ছয়মাস পর্যন্ত শেয়ারের দাম আইপিও মূল্যের নিচে নেমে এলে প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তাদের ডিএসইর জিম্মায় পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ও ৭৫ লাখ শেয়ার রাখতে হবে।

‘এ’ দলের ম্যাচ পরিত্যক্ত

দুই দলই জিতেছে একটি করে, তৃতীয় ম্যাচে লড়াইটা ছিল তাই এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সমতাতেই থাকল দুই দল। কিম্বার্লিতে কাল খেলা তো দূরের কথা, টসই হয়নি! খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ে আবহাওয়া ভালোই ছিল, কিন্তু এর আগের প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের চেহারা এমন দাঁড়িয়েছিল যে খেলা শুরুর কোনো উপায়ই ছিল না। টসের আগেই তাই ম্যাচ পরিত্যক্ত। ৫ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থটি হবে ২৭ এপ্রিল, পচেফস্ট্রুমে।

মরিনহো-দর্শনে টলবে না বার্সা

শুধু ফল নয়, পেপ গার্দিওলার কাছে ফুটবল মানে দর্শনানন্দও। বার্সেলোনার কোচ এ থেকে বঞ্চিত করতে চান না ফুটবলপ্রেমীদের। পাসিং ফুটবলে বিশ্বকে বিমুগ্ধ করে আসছে কাতালানরা। পজেশনাল ফুটবলে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দিচ্ছে। পাসিং আর পজেশনাল ফুটবল খেলার এই দর্শন থেকে কখনোই সরে দাঁড়াবে না বলে জানিয়েছেন বার্সেলোনা কোচ।
বার্সেলোনার ফুটবল-দর্শন পরিবর্তনের কথাটা আসছে সর্বশেষ দুটি এল ক্লাসিকোর পর। লিগের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় বার্সাকে আটকাতে রিয়াল কোচ তাঁর দলকে খেলিয়েছেন রক্ষণাত্মক কৌশলে। রিয়াল মাদ্রিদ বার্সাকে খেলতে দেয়নি তাদের স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল। দুটি পেনাল্টি গোলে ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।
মৌসুমের তৃতীয় এল ক্লাসিকো কিংস কাপ ফাইনালেও একই কৌশল অবলম্বন করেন মরিনহো। এবার দারুণ সফল রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ। বার্সেলোনাকে তারা ১-০ গোলে হারিয়ে জিতে নেয় কিংস কাপের শিরোপা। তবে রিয়াল নেতিবাচক ফুটবলের জন্য হয়েছে সমালোচিত। সমালোচনার জবাবও সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দিয়েছেন মরিনহো, ‘আমি শিরোপা জয়ের জন্য গ্রেট কোচ, ফুটবলের জন্য নয়।’
মরিনহোর কথায় পরিষ্কার শিরোপা জেতাতে রিয়ালকে দিয়ে তিনি এমন ফুটবলই খেলাবেন। আগামী বুধবার আরেকটি এল ক্লাসিকো। তার পরের সপ্তাহে মৌসুমের পঞ্চম ধ্রুপদি লড়াই। এই দুটি ম্যাচ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। রিয়ালের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা-খরা কাটাতে মরিয়া মরিনহো এই দুই ম্যাচেও যে রক্ষণাত্মক এবং বার্সার স্বাভাবিক খেলা নষ্ট করার নীতিই নেবেন, সেটা বোঝাই যাচ্ছে।
মরিনহোর এই কৌশলের বিরুদ্ধে গার্দিওলা কী করবেন? বার্সা কোচ কি পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে গিয়ে দলকে পাল্টা আক্রমণ-নির্ভর ফুটবল খেলাবেন? গার্দিওলা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর মনোভাব, ‘জিতি বা হারি, আমাদের স্টাইল একই থাকবে। একটাই আমার দর্শন, সেটা আক্রমণাত্মক ফুটবল। বার্নাব্যুতে আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার জন্যই যাব এবং গোল করতে পারব বলেও বিশ্বাস আমার।’
আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনাকে ঠেকাতে মরিনহো কী ভাবছেন? ‘স্পেশাল ওয়ান’ কি আরও বিশেষ কোনো কৌশল এঁকে বসে আছেন? মরিনহো ঠান্ডা মাথায় জানিয়েছেন, বুধবারের এল ক্লাসিকো নিয়ে এখনো ভাবতে শুরু করেননি। গতকাল রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচ ছিল এবং সেই ম্যাচের পরই এল ক্লাসিকো নিয়ে তাঁর ভাবার কথা।

ধোনিদের গুরু হবেন না ফ্লেমিং

গ্যারি কারস্টেনের ক্লোন খুঁজে পেয়েছে ভারতীয় মিডিয়া—স্টিভেন ফ্লেমিং! চারিত্রিক দিক দিয়ে কারস্টেনের সঙ্গে সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের অনেক মিল। দুজনই নিস্তরঙ্গ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, মিডিয়া থেকে আড়ালে থাকেন। ফ্লেমিংয়ের অধিনায়ক হিসেবে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও। সবচেয়ে বড় কথা, আইপিএলে কোচ ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে চেন্নাই অধিনায়ক হিসেবে জুটি বেঁধেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সেই জুটির রসায়নও বেশ ভালো। গত মৌসুমে তো চেন্নাই সুপার কিংসকে ‘ডাবল’ জেতালেন। আইপিএলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছে চেন্নাই। এ ছাড়া ২০০৮ আইপিএলে রানার্সআপ হয়েছিল চেন্নাই, কোচ হিসেবে ফ্লেমিংয়ের সেটাই ছিল প্রথম মিশন। ২০০৯ সালে সেমিফাইনালেও গিয়েছিল তাঁর দল।
কোচ হিসেবে ফ্লেমিংয়ের বাজারদর চড়াই। বিশেষ করে সত্যি সত্যিই যদি তাঁকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে ফ্লেমিং নিজে জাতীয় দলের হয়ে কাজ করা নিয়ে ভাবছেন না, ‘চেন্নাইয়ের কোচিংটা দারুণ উপভোগ করছি। এখানেই পুরোপুরি আমার মনোযোগ। অভিজ্ঞতাটা দারুণ। আসলে কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে এখনই ভাবছি না। এটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে।’
আইপিএলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে বছরে মাত্র দুই মাস কাজ করলেই অনেক টাকা। আইপিএল বাদ দিয়ে জাতীয় দলের হ্যাপা ফ্লেমিং নেবেন কি না, সেটিও প্রশ্ন। ফ্লেমিং নিজেও প্রচ্ছন্ন সুরে বলছেন, ‘এখানে বছরে দুই মাস কাজ করা একটা চ্যালেঞ্জ। এই দুই মাসে আমি নিজেও আসলে কোচিং দর্শন শিখি।’

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান

২০০৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ বাতিল করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তান থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পায়নি বিসিবির সমর্থন। সব মিলিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে একটু শীতল সম্পর্কই যাচ্ছিল। সম্পর্কের সেই শীতলতা যে এখন অনেকটাই দূর হয়ে গেছে, সেটার আভাস মিলল পিসিবির এক কর্মকর্তার কথায়। আগামী ডিসেম্বরে পূর্বনির্ধারিত সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির ওই কর্মকর্তা একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘এই সফর আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনারই (এফটিপি) অংশ। সফরে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচও থাকবে। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় এই সিরিজ দুই বোর্ডের সম্পর্ক উন্নয়নে এবং ভুল-বোঝাবুঝি নিরসনের দারুণ একটা সুযোগ।’ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়েছিল ২০০৮ সালে। পাকিস্তানে হওয়া সিরিজটি ছিল পাঁচ ওয়ানডের।
বাংলাদেশ সফরের আগে অক্টোবর-নভেম্বরে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তবে সিরিজটি পাকিস্তানে হবে নাকি শ্রীলঙ্কায়, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আর এফটিপি অনুযায়ী বাংলাদেশ সফরের পরপরই পাকিস্তান দলের ভারত সফরের কথা।

একাডেমির রানের পাহাড়

ফতুল্লায় প্রথম চার দিনের ম্যাচের প্রতিপক্ষ আর এই প্রতিপক্ষ কি একই! ফতুল্লা থেকে ঢাকায় ফিরে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখল দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় একাডেমি দল।
ফতুল্লার ম্যাচে ব্যাটিং দৈন্যে ভোগা জিপি-বিসিবি একাডেমি দলই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে দুর্বার-দুরন্ত। এবার আর ব্যাটিং বিপর্যয় নয়, বরং শেষ দুই ব্যাটসম্যান শাকের আহমেদ-শুভাশিস রায় যথেষ্টই ভোগালেন সফরকারীদের। শেষ উইকেটে তাঁদের ৯৮ রানের জুটির সৌজন্যে জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৪৭৯! দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল করেছে ৬৬ রান। আলোকস্বল্পতার কারণে কাল দিনের খেলা শেষ হয়েছে ১৫ মিনিট আগে।
৬ উইকেটে ৩৩২ রান করে জিপি-বিসিবি একাডেমি আগের দিনই চমকে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমিকে। কাল সেই চমকের শেষটা উপহার দিল শাকের-শুভাশিস জুটি। কাল আর ৪৯ রান যোগ করতেই ৩ উইকেট পড়ে গেলেও শাকের-শুভাশিস দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন। মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত ওই ৯ উইকেট হারিয়েই দলের রান ৪২৭। ২১৬ মিনিট ক্রিজে থেকে আর ১৭৮ বল খেলে ৯ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৬৪ রান করেছেন ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান শাকের। ২১১ মিনিট উইকেটে থেকে ১৩৬ বল খেলে শেষ ব্যাটসম্যান শুভাশিস করেছেন ২৮। এর আগে ১২৭ রানে অপরাজিত থাকা আনামুল হক পেসার ভিলিওনের বলে বোল্ড হয়েছেন ১৬৯ রান করে।
কালই প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৯ রানের মাথায় ওপেনার জোসুয়া রিচার্ডসের উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আলাউদ্দিন বাবুর বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। দিন শেষে আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান আরেক ওপেনার ডমিনিক হেনড্রিকস ৩০ ও লেনার্ট ফন উইকেট ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিপি-বিসিবি একাডেমি: ১৪৮.২ ওভারে ৪৭৯ (আনামুল ১৬৯, আলাউদ্দিন ১৭, সানজামুল ৪, শাকের ৬৪*, শুভাশিস ২৮। ভিলিওন ৩/১২৮, ল্যাঙ্গে ৩/১২০)। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি: ২২ ওভারে ৬৬/১ (হেনড্রিকস ৩০ ব্যাটিং, রিচার্ডস ১৭, লেনার্ট ১৭ ব্যাটিং। আলাউদ্দিন ১/২৪)।

ছাত্রলীগ, ছাত্রদল by মাহমুদুর রহমান মান্না

এক সাংবাদিক ফোনে বললেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পাঁচ বছর পূর্ণ হলো, মন্তব্য করুন। আমি প্রায়ই বলি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রধানত অ্যাডহক ভিত্তিতে চলে। এটা শুধু আওয়ামী লীগের বেলায় নয়, আওয়ামী লীগের যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সেটা আরও অগোছালো। এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রদলের কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া যদি দেখা যায়, তাহলে এ কথার সত্যতা স্পষ্ট হবে। সেই যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়া হত্যার দেড় মাস পর ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলো, সেখান থেকে শুরু। দুজন ছাত্র নিহত হয়েছিল প্রতিপক্ষের ওপর ইলিয়াস গ্রুপের হামলায়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইলিয়াস আলী গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেন তাঁরই সরকারের আমলে। তখন থেকে ছাত্রদলে মূল দলের চেয়ারপারসন কর্তৃক নেতৃত্বের সিলেকশন প্রক্রিয়া চালু হয়। সেই সিলেকশনে নাসির উদ্দীন পিন্টু ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো ব্যক্তিরা ছাত্রদলের নেতা হন। সর্বশেষ টুকু যে কমিটির সভাপতি হন, তাঁকে কেন্দ্র করেই বেগম জিয়া বেশি সমালোচিত হন। কারণ, শোনা যায়, টুকু ছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব।
শেখ হাসিনা এই জন্যই প্রশংসিত হয়েছিলেন। ছাত্রলীগেও এ ধরনের বয়স্ক নেতারা ছিলেন। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের কারণে তাঁরা বাদ পড়ে যান। এখন তাঁদের কাউকে আর রাজনীতিতে দেখা যায় না। তবে নেত্রীর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন সবাই। সবাই আশা করেছিলেন, ছাত্রলীগ একটি নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বড় হবে।
কিন্তু কী দেখা গেল? দল ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংগঠনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা গোষ্ঠীটি তাদের কুৎসিত থাবা বিস্তার করতে শুরু করল। শুরু হলো চর দখলের মতো হল দখল, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট-বাণিজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চাপাতি, রামদার কোপে আহত হন ছাত্রলীগের অসংখ্য কর্মী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর নিহত হন। রাজশাহীতে নিহত হন পলিটেকনিকের এক ছাত্র। খোদ আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে লাগলেন, ক্ষমতার এই অল্প দিনে আমাদের যা কিছুই অর্জন, তা বিসর্জন করা হচ্ছে ছাত্রলীগের ক্রিয়াকলাপে। পত্রিকায় সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় লেখা হতে লাগল, ‘প্রধানমন্ত্রী, ছাত্রলীগকে সামলান’।
বিব্রত হয়ে পড়ল সরকার। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বললেন, ছাত্রলীগের কোনো সভায় যাবেন না তিনি। এমনকি অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনের সভায় যদি ছাত্রলীগ নেতারা উপস্থিত থাকেন, তবে সেখানেও যাবেন না তিনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মতিয়া চৌধুরী বর্তমান সরকারের একজন খুবই প্রভাবশালী মন্ত্রী। তার পরও তাঁর কথাকে অত গুরুত্ব দেননি অনেকে। কারণ, সবাই জানে, ওনার ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তা ছাড়া ব্যক্তিগত আচরণে-উচ্চারণে তিনি একজন কঠোর ধরনের নারী। কিন্তু দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী বলে কথা। তিনি নিজেও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দেশের সবচেয়ে বড় মহিলা কলেজের ভিপি ছিলেন। সবাই আশা করেছিলেন, একটা কিছু হবে।
কিন্তু বাস্তব হলো এমন কিছুই হয়নি। অবস্থার বরং আরও অবনতি হয়েছে। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং তাকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষের পরিমাণ বেশ কমেছে, কিন্তু যুক্ত হয়েছে নতুন প্রপঞ্চ, যা উদ্বেগজনক। কয়েক দিন আগে আমার কাছে ঢাকার একটি বড় কলেজের ছয়টি হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্র দেখা করতে এসেছিল। তারা সবাই ছাত্রলীগ করে। বর্তমানে ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যায় না (বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনো একই প্রকার নিয়ম চালু ছিল)। সেই ছাত্রলীগের কর্মীরা জানাল, তাদের কলেজের সঙ্গের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির স্ত্রী মাঝেমধ্যে কলেজের পাশের বাজারে মাছ, শাক-সবজি কিনতে আসেন। তাঁকে প্রটোকল দিতে হয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। খুবই অপমানজনক মনে হয়েছে তাদের কাছে ব্যাপারটা। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারছে না তারা। প্রতিবাদ করলে হল থেকে বের করে দেবেন নেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গেও মাঝেমধ্যে কথা হয় আমার। এক ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞেস করলাম; বিষয়টি উনি স্বীকার করলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম একটা ব্যাপার চালু আছে। বলেই তিনি বললেন, তা করবে না? যাদের আমি ভর্তি করিয়েছি তারা আমার কথা শুনবে না? আমাকে প্রটোকল দেবে না? এটাকে তার পাওনা বলে ধরে নিয়েছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হলের ছাত্রলীগ সভাপতি আবাসিক ছাত্রদের আদবকায়দা শিক্ষা দেওয়ার মধ্যযুগীয় কায়দার কথা আমরা পড়েছি না পত্রিকায়? হূদয়হীন, বিবেকহীন একদঙ্গল নেতা তৈরি করছি না আমরা? আর হাজার হাজার অসহায় ছাত্র অবনত মস্তকে তাদের কুর্নিশ করছে। এরা কি বরকত-সালামের উত্তরাধিকারী, কিংবা সেলিম, দেলোয়ারের?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে ছাত্রশিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমি ছাত্রলীগের সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এটা কীভাবে হয়? তারা ঢুকল কীভাবে? আর ঢুকেও যদি থাকে, তাদের বহিষ্কার করছে না কেন? নিজেদের, মানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তো তোমরা নিশ্চয় চেনো। আমি যে দিন তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সেই দিনই একটি দৈনিক পত্রিকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ওপরে বিস্তারিত রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল, যার মধ্যে শিবিরের অনুপ্রবেশের ব্যাপারটি এসেছিল। ছাত্রলীগের সভাপতি সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বললেন, ধরুন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০-৩৫ হাজার ছাত্র। এরা সবাই ছাত্রলীগ করে। আমি কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব?
ভেবে দেখুন, কী ভয়াবহ অবস্থা! এর ফলে সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতি হয়েছে তা নীতির। জরুরি অবস্থার সময় অভিযোগ করা হয়েছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরাজনৈতিকীকরণ করছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই দুটি দল আর তাদের ছাত্রসংগঠন তাদের অঙ্গনে এই প্রক্রিয়াই চালু রেখেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অনেককে আমি প্রশ্ন করে দেখেছি, তারা সবাই ছাত্রলীগ করে। একজনও ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো দল করে না। কেন—জানতে চাইলে তাদের জবাব, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী ছাত্রসংগঠন বলতে কিছু নেই। বলা বাহুল্য, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনো এই পরিস্থিতি ছিল।
এর মানে কী দাঁড়াচ্ছে? দাঁড়াচ্ছে এ রকম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মূলত কোনো রাজনীতি করে না। সরকার বদলালেই যখন তাদের দল বদলাতে হয়, তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের হাজি খালেকের পার্থক্য কী, যিনি বলতেন, আমি তো দল বদলাই না। সরকার দল বদলায়া ফেলায়। আমি সব সময় সরকারি দল করি।
আমি মনে করি, কালবিলম্ব না করে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু সম্মেলন কথাটার একটু ব্যাখ্যা দরকার। সম্মেলন মানেই নতুন কমিটি বানানো নয়। পাঁচ বছর হয়ে গেছে, ছাত্রনেতাদের বয়সসীমা পার হয়ে গেছে, কেবল সেই বিবেচনায় সম্মেলন করতে হবে, এটা কোনো কাজের কথা নয়। এমন পরিস্থিতি আসতেই পারে, দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন থাকতে পারে, যখন সম্মেলন করা যাবে না। বর্তমান সময়ের মূল কথা হলো ছাত্ররাজনীতি যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছে, সেখান থেকে তাকে টেনে বের করতে হবে।
বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির এই যে অবক্ষয় তা কেন? কখন কীভাবে এই ক্ষতিটা হলো। দুই নেত্রীকে এবং বিশেষভাবে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে আমি বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করব। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা যদি ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিক বিকাশকে পর্যালোচনা করি, তবে আমরা দেখব, নব্বইয়ের আন্দোলনের পর থেকে এই সময় পর্যন্ত দুই দশকে ছাত্ররাজনীতির বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এটাকে একটা অবক্ষয়ের অধ্যায় বললেও সম্ভবত ভুল করা হবে না। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত যে খুন, গুম খুন হয়েছে তার বিশদ বিবরণ হাজির করলে সবাইকে শিউরে উঠতে হয়। আমি দুটি ছাত্রসংগঠনকেই এ জন্য দায়ী করব। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করব এ জন্য যে, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুই টার্মে ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। তিনি ক্ষমতায় আসার পরই ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্র নিহত হন। পরবর্তী সময়ে যাঁকে তিনি ছাত্রদলের দায়িত্ব দেন সেই সভাপতি বর্তমানে কারাগারে; দীর্ঘদিন ধরে। যখন তাঁকে তিনি সভাপতি নিযুক্ত করেন, তখনো তাঁর নামে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। ৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে পড়লাম, ৩২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র দিতে পারেনি ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’। উল্লেখ্য, ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি। অদূর ভবিষ্যতেও এটা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান নেতা-কর্মীরা। ছাত্রত্বের বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই গঠনতন্ত্র প্রণয়নে কেন্দ্রীয় নেতারা আগ্রহী নন। বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হলে অধিকাংশ নেতাকেই পদ হারাতে হবে।
ছাত্ররাজনীতির একটি বয়সসীমা অবশ্যই থাকা উচিত। এবং সে বিবেচনায় শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিশ্চয় অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আমাকে বলেছেন, সারা দেশে ৮০ শতাংশ জেলায় তাঁরা সম্মেলন করেছেন। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের জন্য সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। আমি জানতে চাইলাম, কিসের অপেক্ষা? ওরা এমনভাবে আমার দিকে তাকাল, যেন জিজ্ঞেস করছে, আপনি জানেন না?
শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছেড়েছেন ঠিকই, কিন্তু ‘কমলি তো ছাড়ছে না’। ছাত্রলীগের সম্মেলন! সে তো মেলা খরচের ব্যাপার। নতুন একটা কমিটি বানাতে হবে। সে কী সোজা কথা! ওকে কমিশন এখন আর নেই। তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদককে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুই বছরে তাদের তৎপরতার কোনো খবর আমরা পাইনি। তার মানে যত দায়িত্ব ‘পড়বি তো পর মালির ঘাড়ে’?
শেখ হাসিনা কি এই পরিস্থিতি উপভোগ করেন? উনি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কত দায়িত্ব তাঁর। কত চ্যালেঞ্জ। তাঁর তো বিরক্তি ধরে যাওয়ার কথা। কথা ছিল সহযোগী সংগঠনগুলো স্বকীয়ভাবে বিকশিত হবে। নিজেদের মতো করে দায়িত্ব পালন করবে।
দেখা যাক কী হয়। কিন্তু ভালো একটা কিছু দেখতে চাই।
মাহমুদুর রহমান মান্না: ডাকসুর সাবেক ভিপি। বর্তমানের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শাসকগোষ্ঠীর গণবিরোধী কর্মকাণ্ড by আই এ রেহমান

গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠী যে এককাট্টা, তা খুব ভালোভাবেই ধরা পড়ে এসব মানুষের প্রতিবাদ ও দাবির বিরুদ্ধে তাদের হিসাবি ঔদাসীন্য থেকে। অন্যদিকে সমাজের অবস্থাপন্ন ব্যক্তিদের খুশি রাখতে বড় মূল্য দিতেও সদা প্রস্তুত কর্তাব্যক্তিরা।
কায়েমি স্বার্থবাদীদের আশ্বস্ত রাখতে সরকারের উৎকণ্ঠা আসলে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পিছিয়ে আসার ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কায়েমি স্বার্থ এখন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঠেকাতে সচেষ্ট, অথচ এই বিকেন্দ্রীকরণের ওপরই নির্ভর করছে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ। একইভাবে ক্ষমতাবানদের কাছে নতি স্বীকারের ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অনুনয়-বিনয়ের প্রতি অবজ্ঞা, এমনকি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী গ্রহণের আগেও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি শিল্প-সম্পর্ক ও ট্রেড ইউনিয়নবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ এই আইন প্রণয়নের কাজটি ত্বরান্বিত করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কেননা ২০০৮ সালের স্টপ-গ্যাপ আইনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছিল ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে। এ দাবি কোনো পাত্তা পায়নি। এর একটা কারণ হয়তো ১৮তম সংশোধনী দেখিয়ে শ্রমের বিষয়টি প্রদেশগুলোর হাতে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সেই পরিবর্তন ঘটানোর ফলে যেসব সমস্যা তৈরি হলো, তা দূর করার দাবি এক বছরের অধিক কাল ধরে করে আসছিল পাকিস্তানের প্রধান প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন। এমনকি তারা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল।
প্রদেশের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে শ্রমিকেরা চ্যালেঞ্জ করেননি—বিকেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়াকে তাঁরা আসলেই সমর্থন করেন। তাঁরা শুধু আশ্বস্ত হতে চেয়েছিলেন যে জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে আইনের অধীনে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে, ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কমিশনের কাজ কে চালাবে, আইএলও কনভেনশনের বাস্তবায়ন কে তদারক করবে, আর কীভাবে ছোট ছোট প্রদেশ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিল থেকে ন্যায্য হিস্যা পাবে। অন্যদিকে নিজেদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সংকোচনের ব্যাপারে শ্রমিকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে পাঞ্জাব সরকার কর্তৃক নতুন প্রাদেশিক আইনের অধীনে তাঁদের অধিকার কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে।
২৬৭ নম্বর বিধির আওতায় ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পার্লামেন্টের ক্ষমতা ছিল একটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে এসব বিষয়ের মীমাংসায় পৌঁছানো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে গুরুত্ব কিংবা দেশের শ্রমিকদের প্রতি কতটা সজাগ ছিল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। খুব সম্ভব কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন নয়। কেননা তারা মনে করে, শ্রমজীবী লোকজন সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। তাদের শ্রমিকবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট।
পাঞ্জাবে তরুণ চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কথাই ধরুন। শিশুসহ বহু রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক কতজন মারা গেছে, সেই সংখ্যা বের করা সহজ নয়। গণমাধ্যমে যে সংখ্যার কথা বলা হয়েছে, সেখানে শুধু তাদেরই জায়গা হয়েছে, যারা হাসপাতালের রেকর্ড বইয়ে স্থান পেয়েছে। ধরে নেওয়া যায়, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির খবর জানা থাকায় আরও অনেককে হাসপাতালে নিয়েই যাওয়া হয়নি।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, অসুস্থ মানুষের অবস্থা পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারকে একটুও আলোড়িত করেনি। আর তাই মীমাংসায় পৌঁছাতে এক মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। তার আগে জনতার বিক্ষোভ দমনে ঔপনিবেশিক স্বৈরতান্ত্রিক তরিকার সব কৌশল বাজিয়ে দেখা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা ও গ্রেপ্তার, আবশ্যকীয় সেবাসংক্রান্ত আইন, প্রতিবাদকারী নেতাদের চাকরিচ্যুতি, তাঁদের স্থলে অন্যদের নিয়োগ ইত্যাদি কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে। এমন তো হতেই পারে যে চিকিৎসকদের দাবির পুরোটা ঠিক ছিল না, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে এবং জনগণের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার তো সেই যুক্তি ব্যবহারের ন্যায্যতাও হারিয়েছে।
একপর্যায়ে বলা হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হবে না। যুক্তিসংগত কারণে প্রাদেশিক প্রধান নির্বাহীর সংক্ষিপ্ত বিদেশ সফরকে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত করায় দুটি প্রশ্ন জাগে। প্রথমত, পাঞ্জাব তো কেবল একজনের দ্বারা শাসিত হওয়ার কথা নয়। যে ব্যবস্থা থাকার কথা, সেটার কী হলো? দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই গিয়ে থাকুন না কেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না কেন, তাঁকে তো সব বিষয়ের খুঁটিনাটিও জানানোর কথা। কাউকে এ কথা গেলানো যাবে না যে মুখ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে গেলে তাঁর জনগণের কোনো গুরুতর সমস্যার কথা তাঁকে জানিয়ে বিরক্ত করা যাবে না।
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসকের অভাবে জনগণকে যে কষ্ট করতে হলো, তা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কিংবা সুশীল সমাজের সমর্থক কারোরই মনোযোগ কাড়তে পারল না। এর ব্যাখ্যা এভাবেই করা যায় যে অভিজাত ব্যক্তি ও তাঁদের পরগাছাদের গায়ে আঁচড় কাটতে পারেনি এই ধর্মঘট। কেননা তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক স্বাভাবিকভাবেই চলছে। চিকিৎসকদের বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন মূলত গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণ, যাদের হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্যই শুধু আছে।
অন্যদিকে খানেওয়াল জেলার একদল ভাগচাষি তাঁদের দাবিদাওয়া জানাতে লাহোরে যাওয়ার পথে তাঁদের আটকাতে বলপ্রয়োগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পরপরই সামরিক খামারে কাজ করা চাষিরা (ওকারা-রেনালা খুর্দ অঞ্চলের) তিন কৃষককর্মীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন এবং বিশাল জমায়েতের আয়োজন করেন। ওকারা ও খানেওয়ালের চাষিরা এক দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করে আছেন। ভাগচাষিদের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি এবং দুই থেকে তিন প্রজন্ম ধরে যে জমিতে ভাগচাষিরা চাষ করে যাচ্ছেন, সেটির মালিকানা পাওয়ায় তাঁদের ন্যায্য চাওয়ার ব্যাপারে সরকার নিস্পৃহ থেকেছে। ভাগচাষিদের দাবির বিরোধিতা করতে যে যুক্তিরই অবতারণা করা হোক না কেন, সমতা ও প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি তাঁদের দাবির পক্ষে যায়। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার ভাগচাষিদের প্রাপ্য অধিকার দিতে দেরি করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
গত কয়েক সপ্তাহে রাষ্ট্রযন্ত্রের সন্ত্রাস বা উদাসীনতার বলি হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে আছেন কেরানি (দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিক্ষোভ করছেন), স্কুলশিক্ষক ও নারী স্বাস্থ্যকর্মী; পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার প্রতিবাদ জানাচ্ছে বন্যা-আক্রান্ত মানুষও।
ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানোর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি ঘটেছে, সে কথা অস্বীকার করা যায় না। তবে যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার হিসেবে গৃহীত হওয়ার দাবি রাখে, সে ব্যাপারে এখনো কিছুই শোনা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অবহেলার শিকার মানুষের মধ্যে নৈরাশ্যের বোধ ক্রমেই তাদের রাষ্ট্র থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, আর যারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, তাদের প্রতি ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রবণতার পরিণাম কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
রাষ্ট্রের এমন এক কনভেনশন গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা রাষ্ট্রকে বাধ্য করবে বিক্ষুব্ধ জনগণের কথা শুনতে এবং যত শিগগিরই সম্ভব তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আলোচনায় যেতে। প্রশাসন কিংবা আদালত কর্তৃক শ্রমিক, কৃষক, নিম্ন মজুরির চাকুরে, পেশাজীবী, নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য—সবার প্রতি সবচেয়ে সুবিধাভোগী নাগরিকদের মতোই আচরণ না করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। তাই গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের স্বার্থে এটা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
আই এ রেহমান: পাকিস্তানি কলাম লেখক ও মানবাধিকারকর্মী।

সংক্ষিপ্ত বিশ্বসংবাদ

কপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে
ভারতের সিকিমে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারটি নিখোঁজ হয়। পরে গতকাল শুক্রবার সিকিমের শিবমন্দির এলাকায় হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মেজর পদমর্যাদার বৈমানিক ও দুজন প্রকৌশলী। ধারণা করা হচ্ছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে অরুণাচল প্রদেশে আরেকটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৭ আরোহী নিহত হন। পিটিআই।

দ্বিদলীয় ব্যবস্থা নয়
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুঙ বলেছেন, দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সিঙ্গাপুর প্রস্তুত নয়। কারণ দ্বিদলীয় ব্যবস্থা-সমৃদ্ধ নগর রাষ্ট্রটিতে বিভেদ তৈরি করতে পারে। স্ট্রেইটস টাইম পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) নেতা লি দেশটির সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। আগামী ৭ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রয়টার্স।

দূতকে হত্যা
রাশিয়ার চেচনিয়ায় নিরাপত্তাবাহিনী মোগান্দ নামে সৌদি এক জঙ্গিকে হত্যা করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য নর্দান ককেসাসের একজন শীর্ষস্থানীয় দূত ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার সন্ত্রাসবাদবিরোধী জাতীয় কমিটি এ তথ্য জানায়। গত বৃহস্পতিবার চেচনিয়ার সেরঝেন-ইয়ুর্ত গ্রামে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মোগান্দসহ তিন জঙ্গির ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তবে মোগান্দ বেঁচে যান।

পাকিস্তানে বিভিন্ন হামলায় নিহত ৬০

পাকিস্তানে গত দুদিনে পৃথক তিনটি হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির উপজাতি-অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গতকাল শুক্রবার মার্কিন ড্রোন (মনুষ্যবিহীন বিমান) হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন, বৃহস্পতিবার বন্দরনগর করাচিতে একটি জুয়ার ক্লাবে বোমা বিস্ফোরণে ১৯ জন এবং একই দিন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তালেবান জঙ্গিদের হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রধান শহর মিরন শাহর ৩৫ কিলোমিটার পূর্বে মির আলী নামের জায়গায় মার্কিন ড্রোন বিমান হামলা চালায়। এ সময় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে দুটি বিমান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ওই বাড়িটি জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, ড্রোন হামলার পর জঙ্গিরা হামলাস্থল ঘিরে ফেলেছে। সেখানে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারীও আছেন। অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি জঙ্গিরাও আছে। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা ও জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারফুদ্দিন মেমন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, করাচির সর্ববৃহৎ জুয়ার ক্লাবে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত ও আরও ৪০ জন আহত হয়েছে।
মেমন আরও জানান, ঘটনাস্থলে ১৬ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

চারতলা থেকে পড়েও...

চারতলা থেকে পড়ে গিয়েছিল একটি মেয়েশিশু। কিন্তু তার গায়ে সামান্য আঁচড়ও লাগেনি। কারণ, পড়ে গিয়ে সে পৌঁছে যায় মায়ের কোলের মতোই নিরাপদ এক আশ্রয়ে। দূর থেকে শিশুটির বিপজ্জনক অবস্থান খেয়াল করে ছুটে যান হেলেন বিয়ার্ড নামের একজন ব্রিটিশ পর্যটক। মাটিতে পড়ার আগেই তিনি শিশুটিকে ধরে ফেলেন। ১৬ মাস বয়সী শিশুটির নাম জা নি মাইলস। নিচে পড়ে যাওয়ার সময় তিনতলার রেলিংয়ে সামান্য ধাক্কা খেয়েছিল। তবে গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে যায় শিশুটি। যেন খেলাচ্ছলেই এমনটা ঘটিয়েছে সে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের একটি হোটেলে গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তখন পাশের একটি কক্ষে ডমিনিক হল্ট নামের এক বন্ধুর কাছে শিশুটিকে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন তার মা। হল্ট যখন ঘরের দরজা বন্ধ করেন, তখন তা হয়তো খানিকটা খোলা ছিল। পরে তিনি বাথরুমে গেলে শিশুটি দরজা ঠেলে বাইরে চলে যায়। খেলা করতে করতে সে ব্যালকনির কাছাকাছি চলে যায়। পরে রেলিংয়ের ফাঁক গলে নিচে পড়ে।
হেলেন বিয়ার্ড বলেন, রাত ১১টার দিকে তিনি চারতলার রেলিংয়ে শিশুটিকে ঝুলে থাকতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে নিচে যান।

নিজের ত্রুটি নিজেই মেরামত করবে প্লাস্টিক

মার্কিন বিজ্ঞানীরা গত বৃহস্পতিবার এমন এক প্লাস্টিক উদ্ভাবনের কথা ঘোষণা করেছেন, যা স্বাভাবিক আলোতে রাখা হলে নিজের ত্রুটি নিজেই মেরামত করবে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডের কেইস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস্টোফার ওয়েডারের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী এই প্লাস্টিক উদ্ভাবনের দাবি করেন।
উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের মতে, এই পদার্থ পলিমার দিয়ে তৈরি শত শত পণ্যের স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দেবে। পলিমার এক ধরনের বড় আকারের অণু। অনেক প্লাস্টিকই পলিমার, তবে অন্যান্য পদার্থও এর অন্তর্ভুক্ত।
নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে রাবারজাতীয় প্লাস্টিক ব্যবহূত হলেও এগুলো কিছুটা নাজুক হয়। আঁচড় লেগে বা অন্য কোনোভাবে ছিদ্র হওয়ার ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পলিমার দিয়ে তৈরি এসব পণ্যের মেরামতের জন্য সাধারণত ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা তাপ দিয়ে গলিয়ে এর ওপর প্লাস্টিক বা অন্য পদার্থ দিয়ে তালি দেওয়া হয়।
ওহাইওর ওই বিজ্ঞানীরা রাবারজাতীয় এক ধরনের পদার্থ তৈরি করেছেন, এতে এক ধরনের ধাতব উপাদান রয়েছে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তাপ উৎপাদনে সাহায্য করে। এই তাপ পলিমারের অণু ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে মেরামতের কাজ করে।

বুরকিনা ফাসোয় নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা

বুরকিনা ফাসোয় নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ব্লেইসে কম্পাওরে নিজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হাতে রেখেছেন। গত বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি টেলিভিশনের খবরে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দুই মাসের নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের পর প্রেসিডেন্ট ব্লেইসে কম্পাওরে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন। সাবেক সেনাসদস্য প্রেসিডেন্ট ব্লেইসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৮৭ সালে ক্ষমতায় আসেন।

থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ৬

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্তে গতকাল শুক্রবার ভোরে গোলাগুলিতে ছয় সেনা নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সীমান্ত এলাকা থেকে কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরিন প্রদেশের বিতর্কিত সীমায় তা মোয়ান ও তা ক্রাবেই মন্দিরের চারপাশের জঙ্গল এলাকায় গতকাল ভোরে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। ওই এলাকার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ৯০০ বছরের পুরোনো প্রিয়া বিহার মন্দির অবস্থিত। ওই মন্দিরের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলাকালে গুলির পাশাপাশি দুই দেশের গোলন্দাজ বাহিনী কামানের গোলা ছুড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল প্রাউইত ওয়াসুওয়ায়ন জানান, ‘কম্বোডিয়ার সেনারা বিনা উসকানিতে আমাদের সেনাদের লক্ষ্য করে প্রথমে রাইফেলের গুলি ছোড়ে, পরে তাঁদের গোলন্দাজ বাহিনী কামান দাগেন। সীমান্ত এলাকার কয়েক শ বছরের পুরোনো মন্দির দখলের উদ্দেশ্যে তাঁরা এ হামলা চালিয়েছেন।’
কম্বোডীয় সরকারের মুখপাত্র ফি সিফান বলেন, ‘থাই সেনারা কম্বোডিয়ার তা ক্রাবেই মন্দিরের কাছে, আমাদের সেনা স্টেশনের দিকে সরাসরি অগ্রসর হয় এবংআমাদের সেনাদের ওপর হামলা শুরু করেন।’ আন্তর্জাতিক আদালত ১৯৬২ সালে ঘোষণা দেন প্রিয়া বিহার মন্দিরটি কম্বোডিয়ার। ২০০৮ সালে এই মন্দিরকে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হয়।

এসইসি পুনর্গঠন খুবই কঠিন: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠন খুবই কঠিন। বিষয়টি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে সেখানে বসে বসে কেউ কিছু শিখে এসইসি চালাবে—এমন পরিস্থিতি এখন নেই। আজ দুপুরে সচিবালয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দেখা গেল অনেক মাথা ঠুকে একজনকে পেলাম, তবে তিনি শেয়ারবাজার সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না।’
অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এ ছাড়া যেসব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়ন করে এসইসিতে জমা দেয়, সেগুলো খুব বেশি মানসম্মত হয় না।

বাজেটে অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নেই

বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া খাতগুলোর বাস্তবায়ন নেই। বর্তমান সরকারের প্রথম অর্থবছরে (২০০৯-১০) অগ্রাধিকার হিসেবে যে খাতগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বাস্তবায়িত না হওয়ায় দ্বিতীয় অর্থবছরেও (২০১০-১১) একই তালিকায় রাখা হয়েছিল সেগুলোকে। কিন্তু দুই বছরেও বাস্তবায়নের হার প্রায় শূন্য। আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরেও এই খাতগুলোকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে কয়লানীতি ও জ্বালানিনীতি চূড়ান্ত করা, স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কাঠামো শক্তিশালী করা, রেলপথের সংস্কার, ব্যবসায়ের খরচ কমানোর পদক্ষেপ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করা, ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনাসহ মোট ২৭টি বিষয়ের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের অংশগ্রহণে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশনসহ ৫৬টি সংস্থার বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০টির অগ্রগতি সন্তোষজনক ও নয়টির অগ্রগতি প্রক্রিয়াধীন উল্লেখ করে জানানো হয়, ২৭টির কোনো অগ্রগতি নেই এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যে অগ্রগতির কোনো সম্ভাবনাও নেই।
বৈঠকে দুই বছরের বাজেটে বিভিন্ন আইন প্রণয়নসহ মোট ৪৬টি নীতি ও কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় অর্থ বিভাগ। আর অগ্রাধিকার খাত বাস্তবায়নে সফল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পররাষ্ট্র এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; বিদ্যুৎ, খাদ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ; নির্বাচন, সরকারি কর্ম এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের অনেক অঙ্গীকার আছে। সবকিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আবার অনেকগুলো বাস্তবায়িতও হয়েছে। তবে এটা ঠিক, অগ্রাধিকার খাতের অনেক বিষয় এখনো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।’ অবাস্তবায়িত অগ্রাধিকার খাতগুলোকে আগামী বাজেটেও অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
যোগাযোগ করলে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রথম আলোকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে বাস্তবায়নে সরকারের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর এই ক্ষমতা বাড়াতে দরকার প্রশাসনে যোগ্যতম কর্মকর্তা নিযুক্ত করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। তা না হলে প্রতিবছর অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে, তাতে অর্থ বরাদ্দও থাকবে, কিন্তু কাজ আর হবে না। এসব খাতের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ বরং অন্য খাতে চলে যাবে। আকবর আলি খান আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পান। অগ্রাধিকার খাতগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার এটিও অন্যতম কারণ।
ব্যর্থতার তালিকায় অর্থ ছাড়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ-অর্থাৎ অর্থ বিভাগের নামও রয়েছে। এ বিভাগ একীভূত ও জেলা বাজেট প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ দুই বছর ধরেই অর্থমন্ত্রী জেলা বাজেটের কথা বলে আসছেন। চলতি বছরের জন্য একটি আলাদা ধারণাপত্রও তৈরি করা হয়েছিল। অনলাইনে সব ধরনের ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে এ বিভাগ।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পারেনি বাজেটে ঘোষণা দেওয়া ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের সংস্কার করতে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন করতে পারেনি এ বিভাগ।
এ বছর নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বিল এবং নতুন আয়কর বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার কথা ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। ব্যবসায়ের খরচ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির খসড়া তৈরি, কর প্রশাসনকে আধুনিকায়ন এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনারও কথা ছিল এনবিআরের। এসবের কিছুই পারেনি সংস্থাটি।
পিপিপি ও অর্থনৈতিক এলাকা: অগ্রাধিকার পাওয়া কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি—এমন তালিকায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরই রয়েছে দুটি বিষয়। একটি হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) কাঠামো আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালীকরণ। আর অন্যটি অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তোলা।
পিপিপি নিয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত, পিপিপির নতুন নীতি ও কৌশল এবং প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত রূপ দেখে আপনারা আশ্বস্ত হবেন। বেসরকারি খাতের ব্যাপক অংশগ্রহণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অনুকূল গতি পাবে।’ অথচ অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া তিন হাজার কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই অব্যয়িত থেকে গেছে।
আর ওদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়নি অর্থনৈতিক এলাকা। কারণ, আইনই পাস হয়নি। অথচ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে আমি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাজেট দেওয়ার সময় সংসদে অর্থমন্ত্রী ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে পথনকশা’ নামে আলাদা একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিলেন। এতে তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা এসেছিল।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আমাদের সরকার বর্তমান মেয়াদেই বিদ্যুতের সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিতে চায়। আশা করছি, এ খাতে উন্নয়নের বিরল এক নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হব এবং ২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের পার্থক্য দূর করতে সক্ষম হব।’
এ বছর স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি) চূড়ান্ত করার কথা ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের। কিন্তু কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে এ বিভাগ। আর এদিকে জ্বালানি সরবরাহ টেকসই করার লক্ষ্যে সমন্বিত জ্বালানিনীতি প্রণয়ন করতে পারেনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এ বিভাগ জাতীয় জ্বালানি ও কয়লানীতি চূড়ান্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা: এ বছর থেকে ভূমি নিবন্ধন (দলিল) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য একটি কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যৌথভাবে আইন ও বিচার বিভাগ এবং এনবিআরকে। কিন্তু কাজটি তারা পারেনি।
আর ভূমি মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছিল, সারা দেশে ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করতে এবং ভূমি জরিপ, রেকর্ডপত্র প্রণয়ন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকল্পের আওতায় ৪৫টি উপজেলায় এবং পিপিপির মাধ্যমে বাকি উপজেলায় ভূমি জরিপ করার কথাও বলা হয়েছিল এ মন্ত্রণালয়কে। অথচ এসব কাজের কোনো কিছু শুরুই করতে পারেনি এ মন্ত্রণালয়।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভূমি ব্যবস্থার উন্নয়নে জোরোলো বক্তব্য রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। আগেরবার অর্থাৎ ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের ষান্মাসিক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এ দেশে একটি ডিজিটাইজেশন ভূমি ব্যবস্থা চালু করা, যাতে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চলমান অচলায়তন ভেঙে তা আধুনিকায়ন করতে পারি।’
রেলপথের সংস্কার: দুই বছর ধরেই রেলপথকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথা বলে আসছেন অর্থমন্ত্রী। রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে ঢাকার চারপাশে সার্কুলার রেল স্থাপনের কথাও দুই বছর ধরে তিনি বলে আসছেন। এ ছাড়া টঙ্গী-ভৈরববাজার সেকশনের ডাবল লাইন নির্মাণের ঘোষণা ছিল। তিন-তিনবার দরপত্র আহ্বান হলেও মূল্যায়নে গিয়েই তা বাতিল হয়ে যায়। তারাকান্দি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রেলসংযোগ বর্তমান অর্থবছরেই সমাপ্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমরা রেলপথকে ঢেলে সাজাতে চাই এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই।’
কিন্তু এসবের কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেনি সড়ক ও রেলপথ বিভাগ। সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটেও রেলপথের সংস্কার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কথা বলতে শোনা যাবে।
অন্যান্য ব্যর্থতা: অর্থ বিভাগের মতে, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে পারেনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। জনসংখ্যানীতি যুগোপযোগী এবং প্রজনন নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ব্যবহার উন্নীত করতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গড়াই নদী পুনঃ খনন করতে পারেনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্টকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে আইন ও বিচার বিভাগ। পরিকল্পনা বিভাগ পারেনি প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সুনির্দিষ্ট করে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিতে।
এ ছাড়া ভিক্ষুক জরিপ ও ভিক্ষাবৃত্তির অবসানে কোনো উদ্যোগই নিতে পারেনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে সড়ক ও রেলপথ বিভাগ। মংলা বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন হয়নি। এ দায়িত্ব ছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পারেনি ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে। গৃহ নির্মাণ কোম্পানির বিভিন্ন ছাড়পত্র গ্রহণের সুবিধার্থে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

আনন্দে ভাসছে শেখ রাসেল

খেলা শেষ হতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের অরক্ষিত গ্যালারি থেকে সমর্থকেরা এক দৌড়ে ঢুকে পড়ল মাঠে। ইচ্ছামতো সারা মাঠ দাপিয়ে বেড়াল। অরক্ষিত মাঠে যেকোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে খেলোয়াড়-কর্মকর্তা বা রেফারির। কিন্তু সেদিকে কারোর ভ্রুক্ষেপই ছিল না।
এরই ফাঁকে দেখা মিলল মোহামেডানের কোচ শফিকুল ইসলামের (মানিক)। শেখ রাসেলের কাছে হারের পর সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন খেলোয়াড়দের। অনামী তরুণদের নিয়ে গড়া মোহামেডানের একটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠাই তো ছিল চমক-জাগানিয়া।
লিগের সপ্তম স্থানে থাকা মোহামেডানকে ফাইনালে না তুলতে পারলেও তাই খুব বেশি হতাশ নন শফিকুল, ‘এই দল নিয়ে যে পর্যন্ত এসেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। এটা একটা বড় সাফল্যই আমাদের।’ তবে গোল করার কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় দুষলেন স্ট্রাইকারদের, ‘গোল খেয়েও জানপ্রাণ দিয়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয়ার্ধে যে কারণে ফরমেশনও বদলেছি। কিন্তু সহজ সুযোগগুলো স্ট্রাইকাররা মোটেও কাজে লাগাতে পারেনি।’
প্রথমবারের মতো বাফুফে আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে আনন্দে ভাসছে শেখ রাসেল শিবির। কোচ মাহমুদুল হক লিটন এই সাফল্যকে দেখছেন দলীয় প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে, ‘এই জয়ে কারোর একার কৃতিত্ব দেব না। সবার চেষ্টায় আজ আমরা ফাইনালে। সেই সঙ্গে ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল।’

লঙ্কান বোর্ডের সুমতি না নতিস্বীকার

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)! খবরটা অবাক করার মতোই ছিল, এ তো জলে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করার মতোই ব্যাপার। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির ফল যে ভবিষ্যতের জন্য খুব একটা ভালো নাও হতে পারে, এটা মনে হয় সময় থাকতেই বুঝতে পেরেছে এসএলসি। ইংল্যান্ড সফরের দলে থাকা লঙ্কান ক্রিকেটারদের তাই ১৮ মে পর্যন্ত আইপিএল খেলার অনুমতি দিয়েছে বোর্ড।
বিসিসিআইয়ের প্রথম দফার অনুরোধ উপেক্ষা করেছিল এসএলসি। বহাল রেখেছিল ৫ মের মধ্যেই ক্রিকেটারদের ফিরতে বলার সিদ্ধান্ত। এসএলসির সিদ্ধান্তকে ‘অনুপযোগী’ বলে ওই দিনই আরেকটা চিঠি পাঠায় বিসিসিআই। এর পরই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দা আলুথগামাগে। বিসিসিআইয়ের চাপে নতিস্বীকারের কথা অবশ্য অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তবে ওই চিঠিতে কিছু একটা যে ছিল, এটা পরিষ্কার মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াতেই, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বারবার অনুরোধ জানানোয় ক্রিকেটারদের আমরা আইপিএলে আরও বেশি সময় থাকতে দিচ্ছি। ভারতের সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দারুণ। ভারতকে আমরা বিচলিত করতে চাই না। বিসিসিআইকে বিব্রত করতে চাই না। ১৯ মের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য আইপিএল ক্রিকেটারদের অবশ্যই সময়মতো লন্ডনে থাকতে হবে। আশা করি, আমাদের ছেলেরা আর বিসিসিআইর এই সিদ্ধান্তে খুশি হবে।’
১৯ মে থেকে ডার্বির কাউন্টি মাঠে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা। মিডলসেক্সের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি অবশ্য ১৪ মে থেকে। ওই ম্যাচ খেলতে পারবেন না সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনেরা। ১৬ জনের টেস্ট দলের ৭ জনই তখন থাকবেন আইপিএলে। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটির জন্য তাই বাড়তি তিন-চার ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন এসএলসির সেক্রেটারি নিশান্থা রানাতুঙ্গা।

বিশু জেতালেন উইন্ডিজকে

‘আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজন গ্রেট ক্রিকেটার হতে চাই। সাধারণ একজন ক্রিকেটার হয়ে থাকতে চাই না। আমি অসাধারণ কিছুর স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখি গ্রেট হওয়ার’—আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র শুরু, এখনই দৃষ্টি এত দূর! দেবেন্দ্র বিশুর আত্মবিশ্বাসটা কত উঁচুতে, পরিষ্কার এতেই। শুধু কণ্ঠে নয়, এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে তাঁর পারফরম্যান্সেও। ২৫ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পরশু একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ৭ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বিশু।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়টার গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে, কারণ তারা নেমেছিল প্রায় নতুন চেহারার এক দল নিয়ে। পাঁচজনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে পরশু। ম্যাচ পাতানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তিন বছর পর খেলতে নামা মারলন স্যামুয়েলস ও অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ছাড়া আর কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিলেন না। পাকিস্তান দলে অভিষিক্ত ছিলেন দুজন—বাঁহাতি পেসার জুনাইদ খান ও উইকেটকিপার মোহাম্মদ সালমান।
এই সেন্ট লুসিয়াতেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মাইক হাসির অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে হেরেছিল পাকিস্তান। পরশু ২ রানে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ফিরিয়ে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে লেন্ডল সিমন্স ও ড্যারেন ব্রাভোর ৬৭ বলে ৯৯ রানের জুটিতে বড় স্কোরের ভিত্তি পায় স্বাগতিকেরা। ৪৪ বলে ৬৫ করেন সিমন্স, ৩৩ বলে ৪২ ‘ছোটো’ ব্রাভো। এরপর কেউ সুবিধা করতে না পারলেও দেড় শ পেয়ে যায় উইন্ডিজ। ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আর কখনোই। ডোয়াইন ব্রাভোর চোটের কারণে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছিলেন বিশু, পরশু ৪ ওভার বোলিং করে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৭ রানে। একই মাঠে আজ শুরু হচ্ছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫০/৭ (সিমন্স ৬৫, ড্যারেন ব্রাভো ৪২, হায়াট ১৪, বার্নওয়েল ১১*; রেহমান ২/২২, রিয়াজ ২/২৪, আজমল ২/৩৫)। পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (উমর আকমল ৪১, শফিক ২৫, আজমল ২১*, শেহজাদ ১২, আফ্রিদি ১২; বিশু ৪/১৭, রামপল ৩/৩১, স্যামি ১/২৬)।

পাস্তোরের মূল্য ৬ কোটি ইউরো

চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বেই। ইতালিয়ান ক্লাব পালের্মোর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হাভিয়ের পাস্তোরেকে নিয়ে চলছে এই চাহিদা বৃদ্ধি আর দাম বৃদ্ধির খেলা। দলবদলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই বাজারটা গরম করে তুলেছেন পাস্তোরে! তবে পাস্তোরে উপলক্ষ মাত্র। ২১ বছর বয়সী এই তারকাকে নিয়ে বাজার গরম করছেন তাঁর পালের্মোর সভাপতি মরিজিও জামপারিনি আর ইউরোপের নামী-দামি কয়েকটি ক্লাব।
রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, লিভারপুল, ইন্টারমিলান—পাস্তোরেকে পাওয়ার লড়াইয়ে কে নেই! রিয়াল-বার্সেলোনার মধ্যে তো একটা ‘এল ক্লাসিকো’ই শুরু হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় পালের্মোর সভাপতি পড়েছেন ভীষণ ঝামেলায়। তরুণ এই তুর্কিকে রেখে দেবেন, নাকি ছেড়ে দেবেন—সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না। প্রথমে ‘পাস্তোরে বিক্রির জন্য নয়’ বলে দিলেও দিন কয়েক পর সুর বদলে জানিয়ে দেন, পাস্তোরেকে নিতে হলে দিতে হবে উচ্চমূল্য।
সেই মূল্যটা কত? জামপারিনি বলেছেন, ‘পাস্তোরেকে সিসিলি থেকে নিয়ে যেতে হলে দিতে হবে ৬ কোটি ইউরোরও বেশি।’ এটি কি পাস্তোরেকে সিসিলিতেই রেখে দেওয়ার কৌশল? তা-ই যদি হয়, তাহলে অঙ্কটা কষতে বড় ধরনের একটা ভুল করে ফেলেছেন জামপারিনি। কারণ, ইংলিশ ক্লাব চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাকি আর্জেন্টাইন এই তরুণ তুর্কিকে দলে টানতে ৬ কোটি ইউরো দিতেও রাজি। রিয়াল-বার্সেলোনা তো রইলই।
২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের দল তাল্লারাস দে করদোবা থেকে পাস্তোরে পাঁচ বছরের চুক্তিতে পালের্মোতে যোগ দেন মাত্র ৮০ লাখ ডলারে। পালের্মোতে আসার আগেই অবশ্য এসি মিলান, ম্যানইউ, চেলসি, এফসি পোর্তোর সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিলেন। সে যা-ই হোক, সিসিলির জল-হাওয়ায় দ্রুতই মিশে যান পাস্তোরে। অভিষেকের পর কয়েকটি মাত্র ম্যাচ দিয়েই নজর কাড়েন সবার। লিওনেল মেসির পর তাঁকে ভাবা হচ্ছে সবচেয়ে প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে।
স্বয়ং ম্যারাডোনার মুখেই একাধিকবার ঝরেছে তরুণ পাস্তোরের প্রশংসা। ২০০৯ সালেই কাতালানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের জন্য পাস্তোরেকে জাতীয় দলে ডাকেন ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনা তাঁকে নিয়ে যান ২০১০ বিশ্বকাপেও। গ্রিস ম্যাচে কয়েক মিনিটের জন্য সুযোগ পেয়েই পাস্তোরে বুঝিয়ে দেন মেসি, তেভেজদের পাশে খেলার সামর্থ্য তাঁর আছে। আর জার্মানির বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ দিকে নেমে তিনি তো আক্ষেপই বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের, ‘ইস্, যদি আরেকটু আগে ওকে নামানো হতো...!’
পালের্মোর হয়ে এই মৌসুমটা কাটছে অবিশ্বাস্য। পালের্মো যে সিরি ‘আ’র অষ্টম স্থানে তা তো পাস্তোরের কারণেই। আর এসব দেখেই তাঁকে পাওয়ার লড়াইয়ে বিশ্বসেরা ক্লাবগুলো। লড়াইটা যেমন জমে উঠেছে, ধরেই নেওয়া যায় আগামী মৌসুমে সিসিলি ছেড়ে পাস্তোরের ঠিকানা হতে যাচ্ছে রিয়াল, বার্সেলোনা, ম্যানইউ কিংবা অন্য কোথাও। ছোট তারকাকে বড় বানিয়ে বিক্রি করে টাকা কামানোই তো পালের্মোর মতো মাঝারি মানের ক্লাবগুলোর প্রধান লক্ষ্য।