Friday, March 7, 2025
পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতেই ফিরলেন শাহেদা-রাবেয়ারা by ইমরান আলী
তবুও বলেন যদি। বললেন, ‘সকাল ৮টায় আসছি। এখন বাজে বেলা ১টা। ট্রাকের খবর নেই। শুনেছিলাম ন্যায্যমূল্যে মাল (পণ্য) দেবে।’ বলেই কেঁদে ফেললেন তিনি।
নাম শাহেদা বেগম। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল। রাজধানীতেই থাকেন। স্বামী বৃদ্ধ। ঢাকায় বিএডিসিতে দারোয়ানের চাকরি করতেন। ছাঁটাই হয়েছেন বেশ কদিন আগে। মেলেনি কানাকড়িও।
শাহেদা বেগম বললেন, ‘এখন ইনকাম নেই। বৃদ্ধ মানুষ কী করবে। ছেলে নেই। একটা মেয়ে, সাভারে থাকে। তারই টানাটানির সংসার। ঢাকার বাসাও ছেড়ে দিছি। মাসে ছয় হাজার টাকা ভাড়া। মেয়ের বাসায় গিয়ে থাকবো কয়েকদিন। তারপর আল্লাহ যা লিখে রাখছে কপালে। কিছু টাকা কমে বাজার-সদাই করার জন্য প্রায় আসি এখানে। আজ পর্যন্ত একদিনও নিতে পারি নাই। যেদিন ট্রাকের দেখা পাই সেদিন অনেক ভিড় হয়। ধাক্কাধাক্কি করে। ভালো ভালো অনেক মানুষ আসে। তাদের সঙ্গে পারি না শক্তিতে। কাড়াকাড়ি লেগে যায়। তাছাড়া শরমও লাগে। চোখমুখ ঢেকে আসি। কী করবো! দুইটা খাওয়াতো লাগে। বাঁচবো কী করে! এক সপ্তাহ আগে অটোরিকশা থেকে পড়ে গেছি। হাতটা ব্যথায় নাড়াতে পারি না। ডাক্তার দেখাইনি। বুকেও ব্যথা।’
শাহেদা কথা শেষ করে চোখ মুছে বললেন, ‘আমার বাটন মোবাইল। আপনাদের হাতে তো টাচফোন। একটু সার্চ দিয়েন দেখেন না আশপাশে কোথাও ট্রাক আছে কিনা!’
পাশ থেকে মোনোয়ারা নামের আরেক নারী বললেন, ‘চলো বুবু চলে যাই। আজও পাবো না। ভিক্ষা তো আর করতে পারি না। আগারগাঁও গেছিলাম সেদিন। ধাক্কা দিয়ে একজন ফেলে দিছে। অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা। হাসিনার (সাবেক পতিত সরকার) সময় কতবার চেষ্টা করছি। একটা কার্ড করতে পারিনাই। দেয়নাই।’
শাহেদা বা মনোয়ারাই নন শুধু। তাদের মতো অন্তত জনা বিশেক নারী বসে আছেন এই সড়কটার দুই ধারে। বেলা তখন ১টা। মাথার উপর উত্তপ্ত সূর্য। তাদেরই একজন রাবেয়া। বললেন, ‘আপনারা কি কেউ জানাইতে পারেন কখন ট্রাক আসবে? রাবেয়ার চার ছেলে-মেয়ের আলাদা সংসার।’ বললেন, ‘তারাই চলতে পারে না। তাগো কাছে যাই কী কইরা। স্বামী আর আমি। যেইখানে দেখি ট্রাকে বিক্রি করে সেখানেই লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু নিতে তো পারি না। বেশিক্ষণ দাঁড়াইতেও পারি না। মাথা ঘুরে। লাইন শেষ হওয়ার আগেই চাল ডাল তেল ফুরায় যায়। কতক্ষণ যুদ্ধ করা যায় বাবা! আজ সকাল ৭-৮টায় আইছি। কেউ কইতে পারে না ট্রাক আইবো কি আয়বো না।’
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে রাবেয়া যখন কথা বলছিলেন তখন আরো সাত-আটজন নারী দৌড়ে আসেন। একের পর এক প্রশ্ন। আপনাদের কাছে কী খবর আছে কখন আসবে ট্রাক? কোন জায়গায় দিচ্ছে (পণ্য)? বেলা দেড়টার দিকে তাদের কয়েকজন হতাশ হয়ে চলে যান খালি হাতে।
শাহেদা নামের সেই নারী ফের ফিরে এসে বললেন, ‘আপনারা আমার ছবি ছাইপেন না। আত্মীয়-স্বজনের সামনে সরমে পড়ে যাব। কিন্তু পেট যে চলে না। যা বললাম লেখেন। আমাদের কষ্ট একটু কমে যেন।’
ওদিকে রাবেয়া বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বললেন, ‘আমার ছবি দ্যান। দেখুক মাইনষে। কী আর হইবো! পেটে ভাত নাই শরম কইরা লাভ কী!’ অতঃপর খালি হাতেই ফিরে গেলেন শাহেদা, রাবেয়ারা।
![]() |
| ন্যায্যমূল্যের পণ্যের অপেক্ষায় দুই নারী। ছবি: মানবজমিন |
![]() |
| ন্যায্যমূল্যের পণ্যের অপেক্ষায় |
Sunday, October 20, 2024
এমন করে কি টিকতে পারে কেউ? by ইমরান আলী
ক্ষমতার মোহে মানুষ অন্ধ হয়। তবে এ অন্ধ আবার ভিন্ন ধাঁচের। ভাবে নিজে যেহেতু দেখছে না তাই কেউই টের পাচ্ছে না। দিনের পর পর দিন মিথ্যা বলে গেল। সত্য প্রচার রোধে বন্ধ হলো ইন্টারনেট সাথে আবার যানবাহনও। ‘সন্ত্রাসীদের আগুনে ডেটা সেন্টার পুড়ে’ যাওয়ার গল্পও ফাঁদা হলো।
এরপর আবার বন্ধের স্বীকারোক্তি দিয়ে বলা হলো-জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। দেশ যখন ডিজিটালি স্মার্ট করার চেষ্টা করছেন বলে প্রচার চলছে তখন কিনা তথ্য প্রবাহ, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিল তারাই। আবার এই ব্যাখ্যাও দেয়া হলো- গুজব রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করেছে। গুজব ঠেকাতে এসব অফ-অনের খেলা চলতে থাকলো।
ওদিকে মন্ত্রী মহাশয় নিজেই সবার কানেকশন বন্ধ করে একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে থাকলেন। গুজব প্রতিরোধে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে তিনি নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। পুরো দেশের ‘সঠিক’ খবর প্রচারের দায়িত্ব নিলেন তিনি একাই! এই অধিকার তাকে দিল কে? জবাবদিহিহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আসলে এমনই হয়। যাচ্ছে তাই করা যায়। টুটি চেপে ধরা যায়।
ছাত্রলীগকে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে নামিয়ে দিলেন আরেক মন্ত্রী। অবশ্য তিনি নিজেই এখন পলাতক। বিস্ময় নিয়ে দেশের মানুষ ভেবেছে-কীভাবে সম্ভব নিজ দেশের সন্তানের বিরুদ্ধে আরেক সন্তানকে নামানো, গুলি চালানো! ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে কতোটা একগুঁয়ে হলে এমনটা হতে পারে!
জুলাই শেষ হতে থাকে। পরিস্থিতি দিনকে দিন কঠিনতর হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আত্মীয় স্বজন ফোন করেন। খবর জানতে চান। ‘আজ একটা ছাত্র বা জনতা গুলিতে মারা যাননি’ এমন খবর চেয়ে বসেন। কিন্তু সে সুখবর দেয়া যায় না। সত্য প্রচার বন্ধে সব রাস্তা বন্ধ করলেও দিন শেষে খবর পাওয়া যায় ঠিকই। লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাসপাতালে নিতেও কিনা বাঁধা দেয়া হয়। কতোটা অমানবিক হতে পারে মানুষ, রাষ্ট্রের চালকেরা।
দূর-দূরান্ত থেকে ফোনে প্রশ্ন করে মানুষ-আচ্ছা টিভিতে তো কোনো খবর পাচ্ছি না। সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছি কি? কিন্তু তাতো নয়। বন্ধ হয়নি গুলি, টিয়ারশেল, সাউন্ডগ্রেনেড, হত্যার খেলা। রাতারাতি টিভি থেকে সরে গেল সব খবর। চলতে থাকলো ঘুরে ফিরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। নাটক, সিনেমা। লাশের কথা ভুলে, তথ্য চাপা দিয়ে এমনও কি হতে পারে! এমন করে কি রাষ্ট্র চলে?
বিদ্যুৎ বন্ধ রিচার্জের অভাবে। সকাল থেকে খা খা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ। দশ-পনের ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন ঘরে। এমন করেই মানুষকে ‘টাইট’ দিতে চেয়েছিল সাবেক সরকার। বিরোধীদলগুলোর উপর নিপীড়নতো চালিয়েছে বছরের পর বছর। গুম-খুন, আয়নাঘর, কণ্ঠরোধ, মত প্রকাশে বাধা, অবিচার এর সবই যেন ছিল তাদের রুটিন কাজ।
কিন্তু এভাবে জুলুম করে যে টেকা যায় না, ইতিহাস মেনে নেয় না সেটা তারা আঁচ করেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে।
৪ আগস্ট দিনভর কাওরান বাজারে যে দৃশ্য দেখেছি তা ভাবলে এখনো শরীর শিউরে ওঠে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে সারা দেশেই। পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ অ্যাকশানে নেমেছে মাঠে। ছাত্র-জনতাকে দেখলেই দৌড়ে গেছে একসাথে মারতে। পুলিশের হাতে রাইফেল, বন্দুক। ছাত্রলীগের হাতে রামদা, লাঠি, হকিস্টিক। এর আগে চলেছে ঢালাও ধরপাকড়। থানার সামনে স্বজনদের আহাজারি। বিনা দোষে আটক করা হয়েছে সাধারণ মানুষের সন্তানদের। বাদ যায়নি শিশু থেকে প্রতিবন্ধীও।
দুনিয়া একদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরেকদিকে। অবশ্য তার পাশে ছিল প্রতিবেশী আরেক বন্ধু। বন্ধুকে টিকিয়ে রাখতে কলকাঠি সেখান থেকেও কম নাড়া হয়নি এমনটাও বলাবলি আছে।
অবশেষে ৫ আগস্ট হাসিনা পালালেন। ততোদিনে ঝরেছে সহস্রাধিক তাজা প্রাণ।
সবারই মনে রাখা দরকার, ৫ আগস্ট থেকে শিক্ষা নেয়া কতটা জরুরি। এখানে ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই মুখ্য নয়। শান্তি-শৃঙ্খলা, সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, সবার জন্য সমসুযোগ নিশ্চিত এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাই রাজনীতিবিদদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা ভুলে যাই সবকিছু। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে জেঁকে বসি জনগণের ঘাড়ে। আশা করি এমনটা না হোক আর। বিশ্বাস করতে চাই-এই দেশ নতুন করে আবার গড়ে উঠবে। সংস্কার আর নির্বাচন শেষে যে দল বা যারাই ক্ষমতায় আসুক তারা জনগণের প্রকৃত সেবক হবেন। ইতিহাস মনে রাখবেন।

Monday, September 10, 2018
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ভয়ঙ্কর প্রতারণা by মিজানুর রহমান ও ইমরান আলী

ভিডিওটিতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। ‘সোনালী রোদ্দুর’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। যার শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা! প্রতারণামূলক ওই ভিডিও প্রচার বন্ধ করতে এবং বিদেশি প্রতারকদ্বয়কে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলো সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন- ওয়ার্ক পারমিটসহ আমেরিকান ভিসা পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারক চক্র যে ভিডিওটি প্রচার করছে তাতে অনুমতি ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনভিপ্রেত। এ ছাড়াও ওই ভিডিও’র স্ক্রল মেসেজে প্রচারিত কিছু ফোন, ফ্যাক্স ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা যোগাযোগের জন্য শেয়ার করা হয়েছে। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। প্রচারিত প্রতারণামূলক ও বানোয়াট ভিডিও’র ব্যাপারে সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধও জানিয়েছে সরকার। প্রচারিত ওই ভিডিও’র একটি কপি মানবজমিনের হাতে রয়েছে।
ভিডিওটি পর্যালোচনায় বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মানবজমিনের আইটি টিম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক দম্পতি ঢাকা শহরেই রয়েছে। তবে তারা কোন এলাকায় বসবাস করছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি বিশ্বাসযোগ্য করতে সেখানে পররাষ্ট্র সচিবের একটি ভুয়া মেইলও ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিওটির সূচনা এবং সমাপনীতে জনস্বার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় লেখা হয়েছে। এ ছাড়া দু’টি শিশুকেও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখেছেন এমন কর্মকর্তারা বলছেন, ভিনদেশি ধূর্ত ওই প্রতারক দম্পতিকে যত দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে ততই মঙ্গল। বাংলা হরফে লেখা ‘সোনালী রোদ্দুর’ নামের ফেসবুক পেইজে বাংলায় ‘ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা’ শিরোনামে একটি পোস্টও দেয়া রয়েছে।
যাতে ফার্স্ট ব্র্যাকেটের মধ্যে লেখা হয়েছে- ‘বাংলাদেশিদের জন্য এই কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।’ পোস্ট-এ লেখা হয়েছে- আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি মেরী ম্যাক্সাস গ্রুপের সিইও মিস্টার জেসন এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিসেস মেরিনী বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশিদের প্রতি মুগ্ধ এই আমেরিকান দম্পতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে ডাইরেক্ট ভিসা দিয়ে বেশকিছু বাংলাদেশিকে তাদের সঙ্গে করে আমেরিকায় নিয়ে যাবেন। এই ডাইরেক্ট ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস করার জন্য তারা আগামী ছয় মাস বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি বিশেষ করে প্রবাসীদের সরাসরি যোগাযোগ এবং দ্রুত রেজিস্ট্রেশনের অনুরোধ জানিয়ে কয়েকটি নাম্বার দিয়ে বলা হয়েছে- প্রদত্ত নাম্বারগুলোতে আপনারা সরাসরি কথা বলে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
আগ্রহীদের যোগাযোগের জন্য দুটি মোবাইল ফোন নাম্বার বিশেষ চিহ্ন দিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। যার একটি নাম্বার মিস্টার জেসনের এবং অপরটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলে প্রচার করা হয়েছে। নাম্বার দুটি হলো- ০১৮৬৯৫৫২৫৯২ (মি. জেসন) এবং ০১৭৪৫১৫৯৭১১ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)। পোস্টটি বিশ্বাসযোগ্য করতে সূত্র হিসাবে ফেসবুক পোস্টে বিবিসি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এর নামও জুড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, ভিডিওটিকে গ্রহণযোগ্য করতে এক্সক্লুসিভ লিখে ওয়াটার মার্কও দেয়া হয়। অনুসন্ধান বলছে- ২৫শে আগস্ট শনিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিও আপলোড করা হয়। যার সূচনাতে একজন পুরুষ কথা বলেন। সঙ্গে একটি শিশু। ভিডিও’র ফ্রেমে ওই ব্যক্তির অ্যাসটন বা পরিচিতি স্থানে ডক্টর জেসন মেনডিরিন পিএইচডি, সিইও ম্যারি ম্যাক্সাস গ্রুপ, ইউনাইটেড স্টেট অব অ্যামেরিকা, ইউএসএ লেখা রয়েছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানে আপ্লুত বলেই জানাচ্ছিলেন। ভিডিও’র সমাপনীতে এক নারী কথা বলেন।
যা অ্যাসটন বা পরিচিতি স্থানে লেখা রয়েছে- মারিনি মার্গারসন এমবিএ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (হিউম্যান রিসোর্স), ম্যারি ম্যাক্সাস গ্রুপ, ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকা, ইউএসএ। ভিডিও’র স্ক্রলে যে লাইনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল তা হলো- অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের এবং ইমার্জেন্সি সার্ভিসের জন্য যোগাযোগ করুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। যোগাযোগের জন্য একটি ল্যান্ড ফোন নাম্বার, একটি ফ্যাক্স নাম্বার এবং দুটি ভিন্ন মোবাইল ফোন নাম্বার দেয়া ছিল। অনুসন্ধানে দেখা যায় নাম্বারগুলো না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের না প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের যে পরিচয় দেয়া হয়েছে মানবজমিনের টিম নিশ্চিত হয়েছে যে, ওই দুটি পরিচয়ই ভুয়া। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ম্যারি ম্যাক্স নামে কোনো গ্রুপ নেই। ওয়েব সাইটে এর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোনালী রোদ্দুর নামে যে ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে তার আইডি সম্পর্ককে খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মালয়েশিয়ার একটি নাম্বার দেয়া রয়েছে। আইডিতে যারা কমেন্ট বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাদের বেশিরভাগই মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি। এমনই একজন ফেসবুক ইউজার সাইদুল ইসলাম নাহিদ। তিনি তার কমেন্টে লিখেন- আমি মিস্টার জেসন প্রদত্ত একটি নাম্বারে কল দিয়েছিলাম। মাহমুদ নামের একজন ফোনটি রিসিভ করলেন।
তিনি নিজেকে জেসনের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেন। মাহমুদ বলেন, তিনি নাকি ইউএস অ্যাম্বাসিতে রিক্রুটেড হয়েছেন। মোহাম্মদ বশির নামে একজন লিখেন- আমি মি. জেসনকে কল দিয়েছিলাম। অনেক কথা হলো তার সঙ্গে। আমার পাসপোর্ট নাম্বার নিলো, ভিসা নাম্বারও নিলো এবং বললো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে নাম্বার দেয়া হয়েছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য তাতে কল করতে এবং ৯৫০০ টাকা দিতে। তখনই আমি বুঝে গেছি এটা বাটপারি! পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, জেসন দম্পতির প্রচারিত ফোন, ফ্যাক্স ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগকারীদের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ আসছে। এই ধরনের কোনো উদ্যোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সংশ্লিষ্টতা নেই। বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতারণাপূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ভ্রান্ত প্রচারণায় প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং কেউ প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে। অবশ্য ওই ভিডিও’র পক্ষেও প্রচারণা রয়েছে। যারা পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তারা ওই চক্রের অংশ কি-না তা নিশ্চিত হতে সরকারের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- আরিফ পাটওয়ারি নামে একজন বেশ জোরালো ভাবেই প্রতারক দম্পতি এবং তাদের প্রচারিত পোস্টের পক্ষে সাফাই গাইছেন। তার ভাষ্য হচ্ছে- “সোনালী রোদ্দুর সম্পর্কে আমি জানি, বিষয়টা সত্য, কিন্তু কিছু আবালকে এটা বুঝানো অসম্ভব! যদি বলেন- ড্রাগন গ্যাপস দিয়ে যাওয়া, সেটা বিশ্বাস করবে। এরই নাম বাঙালী!” ওই ব্যক্তি এ-ও লিখেন- কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা কি তা জানতে চাই। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। মানবজমিন অনুসন্ধানি টিম জেসন প্রদত্ত নাম্বারে কথা বলার চেষ্টা করে। একবার একজন ফোনটি রিসিভ করেন। তবে তিনি নিজের পরিচয় না দিয়ে বাংলায় ‘একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলুন’ বলে লাইনটি কেটে দেন।
পরে বহুবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। এক সময় ফোনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, সোনালী রোদ্দুর পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি। পেজটির লোকেশন ঢাকা দেয়া থাকলেও যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেয়া হয়েছে +৬০ ১৭-২১৫ ০০৮৩। এটি নিশ্চিতভাবে মালয়েশিয়ার নাম্বার। ওই ভিডিওটি ইউটিউবেও প্রচার করেছেন ভিন্ন এক ব্যক্তি। ভিডিওটির নির্মাতা প্রতারক চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরডি রুপন নামের এক ব্যক্তি একজন ইউটিউবার। তার চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৬২৫।
Tuesday, December 30, 2014
রহস্যময়ী নারীটি কে? by ইমরান আলী

Tuesday, December 23, 2014
তেজপাতার এত গুণ! by ইমরান আলী
*পানিতে তেজপাতা দিয়ে সিদ্ধ করে গোসল করলে ত্বকের অ্যালার্জি সমস্যা কমবে চমৎকারভাবে।
* ত্বকের সতেজতা রক্ষা করতে রং চায়ের সঙ্গে তেজপাতার গুরুত্ব অপরিসীম।
* শরীরে কোথাও ফোঁড়া উঠলে তার ওপর তেজপাতা বেটে প্রলেপের মতো করে দিলে ব্যথা কমবে।
* শরীরের ময়লা দূর করতে তেজপাতা বেটে শরীরে মেখে গোসল করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
* দাঁতের মাড়ির ক্ষয়রোধ করতে তেজপাতা চূর্ণ করে দাঁত মাজতে পারেন।
* ঘামাচি দূর করার জন্য তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর মিহি করে বেটে নিন। ওই বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন।
* চোখ ওঠা উপশম করে।
* দুর্বলতা দূরে করে। শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকরী। কয়েকটা পাতা থেঁতলে করে ২ কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন। ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তিও ফিরে পাবেন।
* তেজপাতা মেশানো গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করলে ঠা-ার উপশম হয়।
* তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তেতো ভাব চলে যাবে।
* সবারই কম-বেশি তন্দ্রা ভাব আসে। অত্যাধিক তন্দ্রা ভাব রোগও বটে। এর প্রতিকারের জন্য ৫-৭ গ্রাম করে তেজ পাতা ৩/৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে বেশ কিছুদিন খেলে দারুণ উপকার পাবেন।
* বলা হয় স্মৃতিভ্রমের হাত থেকে রেহাই পেতে তেজপাতা মেশানো সেদ্ধ পানি আশানুরূপ ফল দেয়।
* যাদের গায়ে মাত্রাধিক দুর্গন্ধ বের হয় তারা তেজপাতা বেটে গায়ে কিছুক্ষণ মেখে গোসল করলে রেহাই পেতে পারেন সহজে।
*যারা অত্যাধিক ঘামেন তারা রোজ একবার করে তেজপাতা বাটা মেখে আধা ঘণ্টা থাকার পর গোসল করে নিতে পারেন। এতে ঘামের মাত্রাটা কমে যাবে। এতে ঘামাচিরও উপশম হবে।
* আমাদের অনেক সময় ঘন ঘন তেষ্টা পায়। সেক্ষেত্রে ১ লিটার পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ২-৩ বার খান। দেখবেন বার বার তেষ্টা পাচ্ছে না।
* চর্মরোগ হলে তেজপাতা থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে সকাল ও বিকেলে খেতে হবে। ৪-৫ সপ্তাহ খেলেই দাদ-হাজা-চুলকানি সেরে যাবে। এছাড়া ওই পানি তুলা ভিজিয়ে দাদের জায়গা মুছে নিলেও কাজ হয়।
* প্রসাবের রঙ লালচে হলে তেজপাতা ২-৩ কাপ গরম পানিতে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে, এরপর ছেঁকে ২-৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর পান করলে প্র¯্রাবের রঙ সাদা হয়ে যাবে।
- অনলাইন অবলম্বনে
Wednesday, September 24, 2014
দুর্ধর্ষ দুই তরুণ সিরিয়াল কিলার by ইমরান আলী

জর্জ জুনিয়াস স্টিনি। বিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রে যার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। বয়স মাত্র ১৪।, মৃত্যুদ- কার্যকরের কিছু পূর্বেও নাকি দুর্ধর্ষ এই তরুণকে দেখাচ্ছিলো একেবারে স্বাভাবিক, ভয়হীন। ১১ ও ৮ বছরের দুই মেয়েকে খুন করেছিলো সে কোন কারণ ছাড়াই। থানায় স্টিনির খুন দুটিতে ধর্ষণ প্রচেষ্টাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অনেকেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। পরবর্তীতে স্টিনিকে নিয়ে উপন্যাসসহ মুভিও তৈরি করা হয়েছিল।
জেস প্রমেরয়। যেন নেহায়েত সুবোধ বালক। যে খুন করেও স্বীকারোক্তিতে বলেছিলো, ‘আমি এটা করেছি মনে হয়’। চার্লসটাউনে ম্যাসাচুয়েটসে জন্ম নেয়া এই খুনিকে বলা হয় প্রথম ডিগ্রির খুনি। যখন প্রমেরয় মাত্র ১১ বছরের, তখন থেকেই সে তার সমবয়সী অন্য বন্ধুদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ দেখাতে শুরু করে। চার পাঁচজনকে একসঙ্গে ধরে নিয়ে জঙ্গলে চলে যেতো। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতো। সুচ ফুটাতো। প্রমেরয়কে পরে স্থানীয় প্রশাসন ধরে নিয়ে ভর্তি করে শিশু শোধনাগারে। সেখানে সে ১০ বছর থাকে। তার ভাল ব্যবহার দেখে ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। কিন্তু শোধনাগার থেকে বের হয়েই সে জড়িয়ে পড়ে আবার সেই অপরাধচক্রে। কেটি চুরান নামের ১০ বছর বয়সী এক মেয়েকে কিডন্যাপ করে। তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। হত্যা করে। এখানেই সে থেমে থাকেনি। কিছুদিন পরেই চার বছরের এক শিশুকে সে খুন করে। তথ্য প্রমাণাদিতে তার এই হত্যার কারণ দুটির সঠিক ব্যাখা পাওয়া যায়নি। আবারও আটক হয় এই কিশোরকে। দেয়া হয় আমৃত্যু কারাদ-। ৭২ বছর বয়সে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। অপরাধ সেটা অপরাধই। অল্প কি বেশী মাত্রার সেটা বিচারকির বিষয় হলেও কেউ এসব অপরাধে জড়িয়ে না পড়ুক সেটাই সবার প্রত্যাশা। সেই সঙ্গে অপরাধীর বিচার অবশ্যই কাম্য।
Monday, September 22, 2014
কেরানির ছেলে বিখ্যাত ইংরেজ উপন্যাসিক! by ইমরান আলী

তার উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহের মধ্যে আছে- স্কেচেস বাই বজ, দি ওল্ড কিউরিসিটি শপ, অলিভার টুইস্ট, নিকোলাস নিকোলবি, আ টেল অব টু সিটিজ, হার্ড টাইমস, আওয়ার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড, দ্য পিকউইক পেপারস ইত্যাদি। ইংরেজি ১৮৮২তে ইংল্যান্ডের হাম্পশ্যায়ারে জন্ম নেয়া এই উপন্যাসিকের মৃত্যু হয় ১৮৭০-এ। ফিলাডেলফিয়াতে নির্মিত আছে চার্লস ডিকেন্সের স্মরণে স্ট্যাচু অব ডিকেন্স।
Saturday, September 20, 2014
বস্তিতে বেড়ে ওঠা বিশ্বসেরা এক ফিল্ম স্টার by ইমরান আলী

Thursday, June 5, 2014
বিকৃত রুচির এক ভয়ঙ্কর খুনি by ইমরান আলী

রস্তোভ শহরে ১৯৭৮ এ সে প্রথম খুন করে। সে বছরেই ২২ ডিসেম্বরে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গোপনে জায়গায় কেনা তার পুরাতন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে । না পেরে তাকে নির্মমভাবে নিঃশ্বাস বন্ধ করে হত্যা করে। এই ভয়ঙ্কর খুনি যে শুধুমাত্র খুনই করতো তা নয়। তার হাতে নিহত নারীদের উপর চলতো যৌন লালসা পূরণের নোংরা কর্মকাণ্ড। তার প্রথম ভিকটিম ছিল ৯ বছরের এক মেয়ে শিশু। যখন তাকে হত্যা করে তখন সে নিজে থেকে সেক্সুয়ালি সেটিস্ফাইড হয়। এমন বিকৃত রুচির মানুষটি শুধুমাত্র মৃত নারীর উপর যৌন আকাক্সক্ষা পূরণ করতেই একের পর এক খুন করতে থাকে। তার টার্গেট ছিল মূলত পতিতালয়ের কোন নারী, গৃহহীন যেসব নারীরা রাস্তায় ঘুরতো তারা। তবে কেন তিনি অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতো বেড়ে না উঠে হয়ে উঠলেন দুর্ধর্ষ খুনি সে নিয়েও আছে নানান কথা। জন্মের পর থেকে অভাবী বাবা-মার ঘরে বড় হওয়াকে অনেকে কারণ হিসেবে দেখেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় তার ছোটবেলা অনেক সময় কেটেছে না খেয়ে কখনো ক্ষুধার তাড়নায় ঘাস লতা পাতা খেয়েও নাকি থাকতে হয়েছে। শহরের ভ্রাম্যমাণ মানুষজন থাকতো এই খুনির আতঙ্কে। ১৯৯৪ সালে এই খুনির ডান কানের পেছনে গুলি করে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়।
Tuesday, January 21, 2014
ফেসবুকের এক নারী ইঞ্জিনিয়ারের কথা... by ইমরান আলী

জুকারবার্গ ও তার বন্ধুরা মিলে যখন দেখলেন তাদের তৈরি করা ফেসবুকের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বেড়েই চলছে তখন সিদ্ধান্ত নিলেন কিছু এক্সপার্টকে ‘হায়ার’ করার। কতকটা চুক্তিভিত্তিক কাজ। ‘রুচি’ নিজেও ছিলেন একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি ফেসবুকে আবেদন করলেন চাকরির জন্য। ভাইভার প্রথম দিনেই তিনি অফিসে গিয়ে ভিমরি খেলেন। পুরো অফিস ফাঁকা। খোঁজ নিয়ে জানলেন সব প্রোগ্রামার নাকি সারা রাত জেগে প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করেন আর দিনে ঘুমান। ফাঁকা অফিসে তিন ঘণ্টা একা বসেই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। তারপর কেউ একজন এসে তার ভাইভা নিয়েছিলেন। সে পরীক্ষায় তিনি টিকেও গেলেন। সেখান থেকে তার ক্যারিয়ারের উন্নয়ন।
ফেসবুকের পুরো ব্যাপারটাই ‘রুচির’ কাছে ছিল আনন্দদায়ক। পাশাপাশি তিনি এটাকে নিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
ভারতের পুনেতে বড় হওয়া রুচির জন্ম ২০শে জানুয়ারি ১৯৮২ সালে। কারনিগ মেলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়া রুচি ফেসবুকে যোগদান করেন ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালে ফেসবুকের নিউজ ফিডের (প্রথম ভার্সন) পেছনে রয়েছে তার ব্যাপক অবদান। ২০০৬ সালে তিনি এর বিস্তারিত বর্ণনা লেখেন এক ব্লগে। সে সময় ফেসবুকে নিউজ ফিডের এই ব্যাপারটি ছিল একেবারেই আলোচিত ও সমালোচিত। নিউজ ফিড যা ফেসবুকের অন্য বন্ধুর হোম পেজে প্রদর্শিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ফলে এটা কে নিয়ে অনেকেই সরাসরি তখন রুচিকে আক্রমণ করেছিলেন সমালোচনার ভাষায়। সমালোচনাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী এই নিউজ ফিড নাকি তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও কথাকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল ইচ্ছার বিরুদ্ধে। সব সমালোচনাকে এড়িয়ে রুচি হয়ে ওঠেন আরও সক্রিয় কর্মী এবং ফেসবুকের একনিষ্ঠ একজন। ২০০৬ সালে তিনি ফেসবুকের প্রডাক্ট লিড হিসেবে কাজ করেন। রুচি মূলত ফেসবুকের নতুন নতুন কি কি সুবিধা আনা যায় সে বিষয়েও গবেষণা করতেন। আজকের দিনে আমরা যে ফেসবুক ব্যবহার করছি তার পেছনে রুচির অবদান অনস্বীকার্য।
সফলভাবে ৫ বছর ফেসবুকে কাজ করে তিনি ২০১০-এ চাকরি ছেড়ে দিয়ে ও তার স্বামী আদিত্য আগারয়ালের সঙ্গে নিজেই ‘কোভ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। তবে সেই প্রতিষ্ঠান খুব একটা সফলতার মুখ দেখেনি। ২০১২ সালে তিনি ড্রপবক্স((ফটো, ডকুমেন্ট, ভিডিও বা কোন ফাইল শেয়ারিং/ব্যাকআপ সুবিধা)) থেকে চাকরির ডাক পান। ড্রপবক্সের পণ্য বিপণন, প্রচার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি ড্রপবক্স অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের কাছে ড্রপবক্সও বেশ আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে ফেসবুকে কাজ করার সুবাদে রুচি ২০১১ সালে ‘বেস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়ন কাজের জন্য FWD.us-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই রুচি সাংভি। ফেসবুকের নিউজ ফিডের সাবেক এই প্রথম নারী ডেভেলপারের ব্যক্তিগত যত কথা ও গল্প কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে ঋডউ.ঁং-এর সাইটে।
ফেসবুকের প্রথম নারী ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রুচির নাম ফেসবুক ইতিহাসে যে লেখা থাকবে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই বললেই চলে।
ফেসবুকের এক নারী ইঞ্জিনিয়ারের কথা... by ইমরান আলী
Tuesday, September 3, 2013
হেফাজতি তাণ্ডবের নির্দেশদাতা ওয়াক্কাস by ইমরান আলী
Saturday, August 24, 2013
ঐশীকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ by ইমরান আলী
Friday, August 23, 2013
ঐশীর দুই বন্ধু যে কোনো সময় গ্রেফতার by ইমরান আলী
Tuesday, June 4, 2013
‘সবজি ভরা বাজার, তবুও দাম চড়া’ by ইমরান আলী
Saturday, June 1, 2013
শ্যাওড়াপাড়ায় জোড়া খুন: নেপথ্যে নারী, টাকা, না অন্য কিছু! by ইমরান আলী
Saturday, April 20, 2013
আধিপত্যে বাধার কারণেই যুবলীগ নেতা কায়সারকে হত্যার চেষ্টা by ইমরান আলী
Wednesday, April 3, 2013
মেয়র-সাংসদের নির্লিপ্ততায় রাজশাহীতে শিবিরের তাণ্ডব by ইমরান আলী
Saturday, March 30, 2013
নজরদারিতে ধর্মভিত্তিক ৪০ দল, অভিযোগ জঙ্গি সম্পৃক্ততার by ইমরান আলী ও নূর মোহাম্মদ
Tuesday, March 26, 2013
৩৬ ঘণ্টার হরতালঃ মাঠে নেমেছে বিজিবি by ইমরান আলী
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1807)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


