Thursday, February 14, 2019

কাশ্মিরে আত্মঘাতী হামলায় নিহত জওয়ানের সংখ্যা বেড়ে ৪০

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে দেশটির কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জন। বৃহস্পতিবার কাশ্মিরের পুলওমা জেলার অবন্তিপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার একটি গাড়ি বহর নিয়ে রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জম্মু থেকে কাশ্মির যাওয়ার পথে পুলওয়ামা জেলায় হামলার মুখে পড়ে। শ্রীনগর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কের লেথপোরা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কাশ্মির পুলিশ জানিয়েছে, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলেও জানিয়েছে কাশ্মির পুলিশ।
আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে পুলওয়ামা জেলার কাকাপোরা এলাকার বাসিন্দা আদিল আহমাদকে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় পুলিশ। কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, ২০১৮ সালে জয়েশ-এ-মোহাম্মদে যোগ দেয় আদিল। পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-এ-মোহাম্মদ কাশ্মিরে ভারতীয় শাসনের অবসান চায়। আদর্শগতভাবে কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে অবস্থান তাদের।
গত কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। এর আগে কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সালে। ওই সময় জম্মুর কাছে কালুচাক সেনাঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ ছিলেন বেসামরিক ও সেনাদের আত্মীয়। এছাড়া ২০১৬ সালে উরিতে একটি সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গিরা হামলা চালালে ১৭ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। হামলাগুলোর জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। তবে পাকিস্তান এসব হামলায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে আসছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যকার উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সিআরপিএফ মহাপরিচালক রাজিব রায় এএনআইকে জানান, হামলার শিকার গাড়ি বহরে নিরাপত্তাবাহিনীর ২৫০০ জন সদস্য ছিলেন।
জম্মু-কাশ্মিরের গভর্নরের মুখপাত্র কে বিজয় কুমার জানান, পুলওয়ামাতে হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একটি মাহিন্দ্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার শিকার হওয়া বাসটিতে সিআরপিএফ-এর ৭৮ জন সদস্য ছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির উর্দু সংস্করণকে উচ্চ পদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বহরের কতটি গাড়ি হামলার শিকার হয়েছে তা নিশ্চিত না। একটি প্রাইভেট বহরকে অতিক্রম করে পুলিশের একটি বাসের সঙ্গে বিধ্বস্ত হয়। বাসটিতে ৪৪ জন ছিলেন।
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-এ-মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। নিন্দা জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মিমের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি।

কাশ্মিরে আধাসামরিক বাহিনীর কনভয়ে ভয়াবহ হামলা: নিহত ৪২

জম্মু-কাশ্মিরে সামরিক কনভয়ে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ৪২ জওয়ান নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
আহত জওয়ানদের শ্রীনগরস্থিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জৈশ-ই-মুহাম্মদ গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। 
আজ (বৃহস্পতিবার) অজ্ঞাত গেরিলাদের পেতে রাখা আইইডি বিস্ফোরিত হয়ে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, সিআরপিএফের গাড়িবহর পুলওয়ামা জেলায় শ্রীনগর-অনন্তনাগ মহাসড়কের উপর দিয়ে জম্মু থেকে শ্রীনগরের দিকে যাওয়ার সময় গোরিপোরার কাছে আগে থেকে একটি গাড়িতে আইইডি বেঁধে রেখেছিল অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। গাড়িবহরটি সেখানে পৌঁছতেই বিস্ফোরণ ঘটানো  হয়। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে বলেও পুলিশ বলছে। সিআরপিএফের ওই গাড়িবহরে এসময় কমপক্ষে আড়াই হাজার জওয়ান ছিলেন।   
সিআরপিএফের আইজি (অপারেশন) জুলফিকার হাসান বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।’
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ ওই হামলার নিন্দা করে বলেন, জৈশ-ই-মুহাম্মদ একে আত্মঘাতী হামলা বলে দাবি করেছে। ওই হামলা ২০০৪/২০০৫ সালের আগের কালো দিনের কথা  স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। 
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কোনও শব্দই নিন্দার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ৬ কংগ্রেসম্যানের আহ্বান

বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের নেতিবাচক গতিবিধি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গণতন্ত্রে হুমকির বিষয়ে নজর দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি। বিশেষ করে ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘ভোট জালিয়াতির গুরুত্বর অভিযোগের’ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এল এনজেলসহ ৬ জন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি পেন্টাগন থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ৬ কংগ্রেসম্যান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুরক্ষায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে বাংলাদেশে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপি ও ভোটারদের ওপর নিষ্পেষণের কথা উল্লেখ করা হয়।
এলিয়ট এল এনজেলের নিজের ওয়েবসাইটে ওই চিঠি এবং এ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এর শিরোনাম ‘হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি কলস ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একশন টু প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’। যার অর্থ দাঁড়ায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে যে ৬ জন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের হাউস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান প্রতিনিধি এলিয়ট এল এনজেল। প্রতিনিধি মাইকেল টি ম্যাকল (টেক্সাসের রিপাবলিকান)। তিনি কমিটির র‌্যাংকিং মেম্বার। প্রতিনিধি ব্রাড শারমান (ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেট)। তিনি এশিয়া প্যাসিফিক সাব কমিটির চেয়ারম্যান। মিশিগানের ডেমোক্রেট দলীয় প্রতিনিধি অ্যান্ডি লেভিন ও মিসৌরি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি অ্যান ওয়াগনার।
তারা মঙ্গলবার লেখা ওই চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য যেসব হুমকি তার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে। বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জালিয়াতি, অনুপযুক্তভাবে নির্বাচনে কারচুপি ও ভোটারদের দমিয়ে রাখার বিষয়ে যেসব রিপোর্ট পাওয়া গেছে তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন ওই সদস্যরা। তারা এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘অ্যাকশন’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে বলা হয়, এ বছর আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার কিছু দেশে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে এবং সম্মান দেখিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহতভাবে প্রদর্শন করে যেতে হবে। আর তা শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে দিয়েই। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিঠিটি নিচে তুলে ধরা হলো-
জনাব সেক্রেটারি
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নেতিবাচক গতিবিধির বিষয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমন প্রবণতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে সাড়া দিচ্ছে সে বিষয়ে একটি রূপরেখার অনুরোধ করছি, বিশেষ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের নির্বাচনে সিরিয়াস সব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে বলা হয়েছে নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে। আপনি যেমনটা জানেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারে সমর্থন দেয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে যেসব গুরুতর অনিয়মের রিপোর্ট এসেছে তা এসব গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাংলাদেশের আছে একটি শক্তিশালী ও গর্বিত গণতান্ত্রিক প্রবণতা।  তাই বিশেষ করে আমরা আতঙ্কিত, নির্বাচনকে সামনে রেখে যে প্রচারণা হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার ও মুক্ত মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন দ্বারা। আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, তারা নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা হয়েছে যেসব আসনে তার মধ্যে শতকরা ৯৬ ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছে, যা ২০১৪ সালে এই দল ও তার মিত্রদের জয়ী আসনের চেয়েও বেশি। ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল মূল বিরোধী দল। আর তাই অর্ধেকের বেশি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন।
যদিও সরকার নিয়োজিত নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত হয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি ব্যাপক জালিয়াতি ও ভোটারদের দমিয়ে রাখার অভিযোগগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। প্রেস থেকে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে যখন নির্বাচন হয়েছে সরকারিভাবে তা ছিল উন্মুক্ত। তবে সাংবাদিকরা দেখতে পেয়েছেন, কিছু ব্যালটবাক্স সন্দেহজনকভাবে ব্যালটে পূর্ণ দেখা গেছে। আরো রিপোর্ট আছে যে, কিছু মানুষকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রেখেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বলা হয়েছে, মধ্যাহ্নভোজের জন্য ভোটকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। অথবা বলা হয়েছে ব্যালট শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেক ভোটার বলেছেন, তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। বিষয়টিকে আরো খারাপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সুবিধা দিয়ে যাদের পাঠানোর কথা তারাসহ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্রেডেন্সিয়াল ও ভিসা অনুমোদনে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
এ বছর আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়ায় সিরিজ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি ও সম্মান তা প্রদর্শন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজটি শুরু করতে হবে বাংলাদেশ থেকে।
এ বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ। সময়মতো এ বিষয়ে সাড়া দেবেন বলে আমরা প্রত্যাশায় রইলাম।

পর্নো তারকার কান্ড

ফেঁসে গেছেন পর্নো তারকা মেলিন্দা স্মিথ ও তার এক্স-রেটেড পরিচালক বয়ফ্রেন্ড জেসন হুইটনি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে গুরুত্বর। বলা হয়েছে, তারা চার মাসেরও বেশি সময় ১০ বছরেরও কম বয়সী একটি বালিকাকে যৌন নির্যাতন করেছেন। এ কারণে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে তাদের। এ ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার। পর্নো তারকা মেলিন্দা স্মিথ পর্নো জগতে মার্সিডিস ক্যারিরা নামে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার র‌্যানচো কুকামঙ্গায় অভিযুক্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আটটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বলা হয়েছে ৩৬ বছর বয়সী মেলিন্দা ও তার পার্টনার জেসন হুইটনি (৪৩) দু’জনেই পর্নো দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। জেসন হুইটনি এ জগতে পরিচিত ডেমন সিনস নামে। প্রাপ্ত বয়স্কদের রগরগে সাইটগুলোতে নিজেকে ‘লিড এমআইএলএফ’ হিসেবে পরিচিতি দেন মেলিন্দা। এ ছাড়া তিনি নিজেকে মুক্ত বাকের কর্মী হিসেবেও প্রকাশ ঘটান।  
কিন্তু পুলিশ বলেছে, এই যুগলের বেডরুমটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তারা খুব সহজেই পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করতে পারেন। দেখতে পারেন বিভিন্ন নগ্নতা বিষয়ক ওয়েবসাইট। সম্প্রতি তাদের বাসায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ কর্মকর্তারা। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে ৩১ শে জানুয়ারি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। একজন টিনেজ মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। এ সময় ওই বালিকা বলেন, তার ওপর চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন মেলিন্দা স্মিথ ও হুইটনি। তাকে অনৈতিকভাবে তারা স্পর্শ করেছেন। ওরাল সেক্সে সহযোগিতা করতে বাধ্য করেছে। ডিজিটাল পেনিট্রেশন ঘটিয়েছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই যুগলের বাসায় তল্লাশিতে অফিসাররা মেথামফেটামিন নামের মাদক পেয়েছেন। আরও পাওয়া গেছে গুলিভর্তি দুটি হ্যান্ডগান। পুলিশের বিশ্বাস তারা আরো অনেককে যৌন নির্যাতন করেছে।
এসব অভিযোগে তারা জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে পাঠিয়ে দিয়েছেন নিরাপত্তা হেফাজতে। কারো কাছে এ সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে ওই স্থানের পুলিশ কর্মকর্তাদের বা গোয়েন্দাদের জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অচল কানাডা: মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কতা

আলবার্টা থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্টারিও পর্যন্ত তুষারঝড়ে অচল কানাডা। যেন বরফের নিচে ঢাকা পড়ে আছে সব। মঙ্গলবার এমন ভয়াবহ আবহাওয়া বিরাজ করেছে দেশটির বেশির ভাগ এলাকায়। বিমানবন্দরগুলো যেন পরেছে বিধবা পোশাক। তুষারে সাদা হয়ে আছে সব। সঙ্গে তুষারসহ ঝড়ো বাতাস। রাস্তাঘাট তার নিচে ঢেকে আছে। কোনটা রাস্তা আর কোনটা খাদ বোঝার কোনো উপায় নেই।
বিমানবন্দরগুলোতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিমান। চলছে তুষার সরানোর কাজ। তাতেও কাজ হচ্ছে না। একপাশ থেকে সরানো হচ্ছে বরফ। অন্যপাশ থেকে আবার ঢেকে আসছে। এমন বিরূপ পরিবেশে বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মানুষ একটু উষ্ণতার খোঁজে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখছেন নিজেকে। অন্তত এ সময়টাতে তো প্রিয়জনকে একটু সান্নিধ্য দিতে পারছেন! এতেই যেন শান্তনা।
অনলাইন গ্লোব অ্যান্ড মেইলের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে গ্রেটার টরোন্টো এলাকায় ঘন্টা ৮০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া। এর আগেই শহরটি ২০ সেন্টিমিটার বরফে ঢেকে যায়। সঙ্গে বৃষ্টি আর তুষারপাত তো ছিলই। সন্ধ্যায় পরিবেশ আরো খারাপ আকার ধারণ করে। টরোন্টোজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল অচল। দৃষ্টিসীমা ছিল একেবারে সীমিত। বিমানগুলোর উড্ডয়ন বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে।  
ওই শহরের বাসিন্দা স্কট মিলরয় বলেছে, কুইনস কুয়ে’তে কোনো গাড়িই নেই রাস্তায়। তিনি ডাউনটাউনে তার বাসায় অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন। সঙ্গে ছিল তার নিজের সন্তান ও অন্য ৩০টি বাচ্চা। এসব বাচ্চাকে তার কাছে রেখে যান পিতামাতারা। কানাডায় বাচ্চা রাখার জন্য একশ্রেণির মানুষ আছেন। তাদেরকে বলা হয় বেবিসিটার। মিলরয় তেমনই একজন।
এই মৌসুমে এরই মধ্যে ওই শহরের ওপর দিয়ে কয়েক দফা শীতকালীন ঝড় বয়ে গেছে। জানুয়ারিতে টরোনোতে দেখা গেছে ৬৩ সেন্টিমিটার তুষার। ডিসেম্বরে তা ছিল ৫ সেন্টিমিটার। এনভায়রনমেন্ট কানাডার আবহাওয়াবিদ জেরাল্ড চেং বলেছেন, এবারের শীতকালটা অস্বাভাবিকভাবে কঠিন। কারণ, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া শুরু হয়েছে বিলম্বে। গত বছর ডিসেম্বরে যে ঝড় শুরু হয়েছে তা এখন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের ঝড় সৃষ্টি হয়েছে ‘কলোরাডো লো’ থেকে। সেখান থেকেই আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাতাস প্রবাহিত হয় শক্তিশালী। পড়ে বিপুল পরিমাণে তুষার। আর পড়ে খন্ড খন্ড বরফ। সঙ্গে ‘ফ্রিজিং’ বৃষ্টিপাত।
টরোন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড সহ অনেক স্থানে সব ক্লাস ও বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় মঙ্গলবার। অন্য যেসব বোর্ড স্কুলে ক্লাস বাতিল করেছে তার মধ্যে রয়েছে টেমস ভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড, হ্যামিলটন-ওয়েন্টওয়ার্থ ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড, পিল রিজিয়নের বোর্ডগুলো ও ওয়াটারলু এলাকার বোর্ডগুলো। এর পাশাপাশি টরোন্টোর লাইব্রেরি, চিত্তবিনোদন কেন্দ্রগুলোও বন্ধ রয়েছে। গ্রেট টরন্টো এরিয়ার অধীনস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সব বন্ধ রয়েছে। টরন্টো শহরের পরিবহন সার্ভিসের সুপারভাইজার মার্ক মিলস বলেছেন, তাদের স্টাফরা সার্বক্ষণিক সড়কগুলো পরিষ্কার করার কাজ করে যাচ্ছেন। তারা রাস্তায় লবণ ছিটিয়ে তা পরিষ্কার করার কাজ করছেন।
বিদ্যুতের সঙ্কট দেখা দিয়েছে স্কারবরো, নর্থ ইয়র্ক, ইতেবিকোকে। টরন্টো হাইড্রোর মুখপাত্র টোরি গাস বলেছেন, এসব এলাকায় বিশাল বিশাল গাছ আছে। সেগুলো পড়ে গিয়ে তার ছিড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে।
অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ রিপোর্ট করেছে যে, মঙ্গলবার বিকাল ৪টা নাগাদ গ্রেট টরন্টো এলাকায় ৬০টি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সার্জেন্ট কেরি শমিডট বলেছেন, এই সংখ্যা স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কিছুটা বেশি। রাস্তায় যদি আরো গাড়ি থাকতো তাহলে এ অবস্থা আরো খারাপ হতে পারতো। 
কাছাকাছির শহর যেমন হ্যামিলটনেও বিভিন্ন  খাতে সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র বিরূপ আবহাওয়া শহরের প্রশাসনিক অফিস বিকেলের মধ্যে বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছে। অন্যান্য সেবাখাত বন্ধ রয়েছে।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে এনভায়রনমেন্ট কানাডা এক্সট্রিম কোল্ড সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলবার্তার কিছু এলাকা। আবহাওয়া বিষয়ক এজেন্সিগুলো বলেছে, বাতাসে হিমেল ছোঁয়া নেমে যেতে পারে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে পুরো সপ্তাহ। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগে এবং সকালে এ অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।