Tuesday, November 19, 2024

আগুনে ঘি ঢালছেন বাইডেন: ক্রেমলিন

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ যখন ক্রমেই অগ্রগতি পাচ্ছে, তখন হঠাৎ করেই নীতিতে পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এতে চটেছে মস্কো। ক্রেমলিনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এ পদক্ষেপ ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সহস্রতম দিন পূরণ হয়েছে আজ সোমবার। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা পেয়েছে কিয়েভ। তবে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি তারা। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছিল ইউক্রেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে রাজি হয়নি।

গতকাল রোববার সমর্থিত এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, রাশিয়ার বেশ খানিকটা গভীরে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বাইডেন। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রথম হামলাটি চালাবে ইউক্রেন। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিবেচনায় এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওই সূত্র।

এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে নারাজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও। রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘আজ অনেক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছি। তবে মুখের বুলি দিয়ে হামলা চালানো হয় না। ঘোষণা দিয়ে কেউ হামলা চালায় না।’

সূত্রের দেওয়া তথ্য যদি সত্যি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা সময় এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাসদস্যদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ। এ নিয়ে ইউক্রেনের পাশাপাশি উদ্বেগে রয়েছে ওয়াশিংটনও। আর মাত্র দুই মাসের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর পক্ষে।

‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বাধতে পারে

এদিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাত্র ব্যবহার করতে বাইডেনের অনুমোদনের খবর সামনে আসার পর এ নিয়ে মুখ খুলেছে মস্কোও। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ঘটনা সত্যি হলে এটা স্পষ্ট যে ওয়াশিংটনের বিদায়ী প্রশাসন ‘আগুনে ঘি ঢালতে’ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা আরও বেড়ে যাবে।

পেসকভ আরও বলেন, এ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সেপ্টেম্বরেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ বেধে যাবে। হামলা হলে তার দায় শুধু ইউক্রেনই নয়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া দেশগুলোর ওপরও বর্তাবে।

এ বিষয়ে কথা বলেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান ভ্লাদিমির ঝাবারভ। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের ফলে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বেধে যেতে পারে। আর রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের সদস্য আন্দ্রেই কলিশাস বলেছেন, পশ্চিমাদের সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

এদিকে আজও ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জারি রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কিপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর চালানো নতুন হামলায় ওদেসায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে নোভোলেকসিয়িভকা নামে আরেকটি গ্রাম দখলে নিয়েছে তারা।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি -নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে ড. ইউনূস

আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এটা ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি এটা করেছে, বলেছে সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সুতরাং তারা ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করব না।’

তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি নেই—সে প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘কোনো একটি দল বা আরেকটি দলকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি রাজনীতিকদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করছি।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার আজ সোমবার হিন্দুর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে খেলাপিঋণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও সেগুলোর সফলতার কথা তুলে ধরেন ড. ইউনূস।

এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে দেওয়া বিবৃতির কথা তুলে ধরে হিন্দুর সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, নতুন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সময় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়ে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।’

তখন হিন্দুর সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে...।’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘ভালো। এখন বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বলি। সম্ভবত তিনি সঠিকভাবে অবগত নন। এটা অপপ্রচার, যা বিশ্বজুড়ে চলছে। কিন্তু যখন তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবতা সম্পর্কে জানবেন, তখন জনাব ট্রাম্প অবাক হবেন যে তাঁকে কতটা ভিন্নভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আমি মনে করি না, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে একজন নতুন প্রেসিডেন্টের কারণে সবকিছু বদলে যাবে। পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের কারণে সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। তা ছাড়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যদি পরিবর্তন হয়ও তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে এটাও বাংলাদেশ ২, যেটাকে আমরা বলছি নতুন বাংলাদেশ। সুতরাং আমরা অপেক্ষা করব এবং যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন ও দেখেন এবং আমাদের অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে তাহলে তারা খুবই আগ্রহী হবে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা, আমাদের দিক থেকেও তাই। এটা খুবই ভালো সম্পর্ক, যা আমরা বছরের পর বছর গড়ে তুলেছি। আমাদের আশা, এটা আরও জোরদার হবে।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ট্রাম্পের কথাকে আপনি অপপ্রচারের ফল বলছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছেন। আপনি এটার ক্ষেত্রে কী বলবেন?

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রথম ফোন কলে (১৬ আগস্ট) তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং এ রকম আরও অনেক কিছু। আমি তাঁকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, এগুলো অপপ্রচার। অনেক সাংবাদিক এখানে আসার পর কিছু উত্তেজনা নিয়ে কিছু খবর প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে এসেছে, সেভাবে হয়নি।’

প্রশ্নে বলা হয়, ‘তাহলে এর পেছনে কে আছে বলে আপনি মনে করেন?’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি জানি না। কিন্তু এসব প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সব ঘটনার পেছনে একদল ব্যক্তি রয়েছেন।’

হিন্দুর সাংবাদিক বলেন, ‘আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আতঙ্কিত বোধ করছিলেন। তাঁদের মনে হচ্ছিল, তাঁদেরকে নিশানা করা হচ্ছে। ফেসবুক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও আছে যেগুলোতে বলা হয় যে বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ হবে। এখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আমরা বলতে শুনেছি যে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিতে সংস্কার হচ্ছে। এখানে একটি প্রশ্ন আসে যে বাংলাদেশে পরে কী হচ্ছে এবং গত ১৬ বছরের তুলনায় আপনার সরকারের সময়ে অনেক ইসলামের প্রভাব দেখছি। এসব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে এগুলো কাজে দেবে?’

এর জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা কি আমার সঙ্গে যায়? উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিটি সদস্য হয় মানবাধিকারকর্মী, যাঁরা নিজেরা ভুক্তভোগী হয়েছেন, অথবা পরিবেশ অধিকারকর্মী, অথবা নারী অধিকার বা অন্য অধিকারকর্মী। সুতরাই তাঁরা সবাই অধিকারকর্মী। আপনি যেসব কথা বললেন, সেগুলো যদি তাঁদের সামনে বলেন, তাহলে তাঁরা আপনার ওপর খেপে উঠবে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রত্যেকের জীবনের অতীত কর্মকাণ্ড দেখুন।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন: ‘তাহলে আপনি বলছেন, আপনার উপদেষ্টা পরিষদে ইসলামপন্থী এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার মতো কেউ নেই।’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের গল্পগুলো দেখুন। এঁরা সবাই খুবই নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। এখানে নারী অধিকারকর্মীরা রয়েছেন।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’–এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং আটজন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি, অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আপনার সরকার অতীতের আচরণ অব্যাহত রেখেছে।’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘মানুষকে বিচার করতে দিন। এই সরকার কী করেছে এবং অন্য সরকার কী করেছে, তা তুলনা করে দেখুন। আমি বিতর্ক করতে যাচ্ছি না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা প্রণয়ন করিনি। আমরা শুধু এর প্রয়োগ করেছি এবং আপনি এটা নিয়ে বিতর্ক করতে পারেন যে, এই প্রয়োগ সঠিক কি না। আমি আইনটি পরিবর্তনের পক্ষে।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘৫ আগস্টের ঘটনা কীভাবে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে? এটা কি একটা ধাক্কা হিসেবে এসেছে?’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা কেন হবে? বাংলাদেশ এমন একটি শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে, যেখানে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, অনেকে নিহত হয়েছেন, অনেককে গুম করা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এই মুক্তিকে বন্ধুদেশ হিসেবে ভারতের উদ্‌যাপন করা উচিত। অনেক রাষ্ট্র যেমনটি করেছে, তেমন ভারতেরও আমাদের তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত এবং একসঙ্গে উদ্‌যাপন করা উচিত।'

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘আপনি বলেছেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি (ভারত–বাংলাদেশ) সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে...’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘(শেখ হাসিনা) অন্তত এ সময় ভারতে অবস্থান করছেন, এটা কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর কথা বলাটা সমস্যা। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, আর সেগুলো রাজনীতি নিয়ে। তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটাই সমস্যা।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘সেটা কীভাবে?’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) মানুষকে (ঘর থেকে) বেরিয়ে আসতে বলছেন এবং ঢাকা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে বলছেন। তাঁর অডিও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে তিনি তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি (ঢাল হিসেবে) সঙ্গে রাখতে বলছেন, যেন পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা বলতে পারেন, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এটি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আপনার সরকার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে। ভারতকে সরাসরি এ অনুরোধ করা হলো না কেন? এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে।’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তাঁকে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব আইনি পথ অবলম্বন করব।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এখনো আপনার সরকার (শেখ হাসিনার) প্রত্যার্পণের অনুরোধ জানায়নি। (ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে) একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মনে করি, কিছু আইনি ধাপ রয়েছে। আমরা সেগুলোর দিকে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’

হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার করা হচ্ছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারত যদি (বাংলাদেশের) অনুরোধ না রাখে তাহলে কী হবে?’

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনি কি বলছেন, ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, (চুক্তিতে) এমন কিছু ধারা রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার যদি তাঁকে (শেখ হাসিনা) সেখানে রাখতে এগুলো প্রয়োগ করে, তাহলে সেটা আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ খুব কম। তাই এই সময়ে হয়তো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সবকিছু মীমাংসা করা যাবে না। তবে আমাদের পরে যে সরকারই আসুক না কেন, তারা এটা ক্ষমা করবে না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: পিআইডি

রাষ্ট্র সংস্কারে রূপরেখা প্রয়োজন

রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। গতকাল ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী ১০০ দিনের পর্যবেক্ষণ’ প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবি।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যা স্বাভাবিক। যেকোনো দেশে এমন বিশাল জঞ্জাল কাটিয়ে উঠে নতুন সংস্কারের পথে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দেশে সংস্কারের যে ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, তার সবই সমাধানযোগ্য।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৯ তারিখে (আগস্ট) দাবি ছিল, সরকারের উচিত হবে অর্পিত দায়িত্ব নিজেরা বিশ্লেষণ করে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার পর একটা কৌশলগত রোডম্যাপ (রূপরেখা) তৈরি করা। এটা এখনো করা হয়নি। তবে এটি অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য ছাত্র আন্দোলন হয়নি। আন্দোলনটা হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য, নতুন বাংলাদেশের জন্য। সেটা করতে কতোগুলো সংস্কার কমিশন হয়েছে। এই কমিশনগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তব রাষ্ট্র সংস্কার না করে অন্তত এগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টির মতো জায়গায় না গিয়ে চট করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনা অর্জনের ক্ষেত্রে অন্তরায় থেকে যাবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যক্রম নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ভারতের ভূমিকা নিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের পর ভারত প্রত্যাশিত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারছে না, কারণ ভারত ইতিহাসে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় পরাজয় মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কিছু ক্ষেত্রে ভারতের গণমাধ্যম অনুঘটকের ভূমিকা পালনের জন্য এটি বিশাল ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অনেকের ধারণা ছিল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন, জনগণ ও গণমাধ্যমে উদার চিন্তার প্রচার হয়। আমরা মনে করি, ভারত (সেই উদার চিন্তাভাবনা থেকে) বদলে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরছে তা অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরক্তির কারণ। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে আমরা এটাও মনে করি যে, এটি ভারতের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং লজ্জাজনক।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ঘাটতি দৃশ্যমান। দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নতুন করে চলছে। এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আলোচনার বাইরে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক দল। তাদের চর্চায় যদি গণতন্ত্র না থাকে, বৈষম্যবিরোধী চেতনা না থাকে, আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন না হয়, তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের যত কথাই বলা হচ্ছে, সংস্কার প্রতিবেদনগুলো শুধু কাগজে দলিল হয়ে থাকবে।

এর আগে সরকারের ১০০ দিন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণার প্রধান গবেষক শাহজাদা এম আকরাম প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়েছে। আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে। প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানে কোথাও কোথাও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। কিসের ভিত্তিতে চুক্তিতে নিয়োগ, তা পরিষ্কার নয়। নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ক্ষেত্রবিশেষে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও স্বচ্ছতার অনুপস্থিতি দেখা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া বা না-দেয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপি’র বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির ভেতর গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগের অনুপস্থিতি রয়েছে। দলের মধ্যে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংস্কৃতি বিদ্যমান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ পাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন, বাক?স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার বা কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি দলটি।

mzamin

গুলিতে ওয়াদুদের মৃত্যু: ৮ বছরের শিশুটি এখন অসহায় by ফাহিমা আক্তার সুমি

‘কী করবো, কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবো, কী হবে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ? আমার আট বছরের শিশুটি বাবাহারা হয়ে গেল। ওর বাবা তাকে অনেক ভালোবাসতো। সে সারাক্ষণ বুলেট-রক্ত, পুলিশের ছবি আঁকে, ছবি এঁকে তার ভেতরের কষ্টগুলো প্রকাশ করে। যখন বাবার জন্য কষ্ট হয় তখন বুকে হাত দিয়ে আমাকে দেখায়। বাবাকে ছাড়া নীরব হয়ে গিয়েছে আমার সন্তানটি। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৪৫ বছর বয়সী আব্দুল ওয়াদুদের স্ত্রী। গত ১৯শে জুলাই বিকালের দিকে নিউমার্কেট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথায় গুলিটি বিদ্ধ হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওয়াদুদ কাপড়ের ব্যবসা করতেন। হুজাইফা তাদের একমাত্র সন্তান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ওয়াদুদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন।

ওয়াদুদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন মানবজমিনকে বলেন, একজন নারীর স্বামী চলে গেলে তার পুরো পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে যায়। আমার সংসারটি একেবারে শেষ হয়ে গেছে আর কিছু নেই। আমার সন্তানটি এতিম, অসহায় হয়ে গেছে। এখন আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কিছু একটা চেষ্টা করতে হবে। এখন আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। চাকরি না করলে আমি আমার সন্তানকে কীভাবে বড় করবো। তাকে কীভাবে মানুষ করবো? আমার বাবা-মা বয়স্ক, তাদেরও ইনকাম সোর্স বন্ধ হয়ে গেছে। আমি জানি না কীভাবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবো। আমি আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচারে ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেছি। এরপর বিএসসি মাঝামাঝি এসে নানাবিধ সমস্যার কারণে আর শেষ করতে পারিনি। কিছুদিন একটি বেসরকারি কনসালটেশন ফার্মে চাকরি করেছিলাম। সন্তান হওয়ার পরে চাকরিটা ছেড়ে দেই। এই পরিস্থিতিতে আমার একটা চাকরি খুব দরকার। এখন যদি আমি চাকরি না করি তাহলে আমার সন্তানটিকে নিয়ে ভেসে যেতে হবে। সরকারের কাছে আমি এতটুকু চাই আমার একটা পুর্নবাসন হোক, একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী কাপড়ের ব্যবসা করতেন নিউমার্কেটে। আমরা আজিমপুর কলোনিতে থাকি। ১৯শে জুলাই শুক্রবার কলোনির ভেতর দিয়ে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটের অপজিটে যায়। সেখান থেকে মসজিদে নামাজ পড়ে মার্কেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছিল। আমার সঙ্গে কথা বলে মাত্র লাইনটা কেটেছে মোবাইলটা পকেটে রাখেনি। এসময় হঠাৎ করে পুলিশ নীলক্ষেতের দিক থেকে বিকালে গুলি করা শুরু করেছে। সেখানে ৫০-৬০ জনের মতো লোক দাঁড়িয়ে ছিল; এরমধ্যে ৫-৬ জন লোক স্পটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যায়, তারমধ্যে আমার স্বামী ছিল একজন। আহত অবস্থায় তাকে ধরে লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার স্বামী চেয়েছিল সেখান থেকে যদি পরিস্থিতি ভালো মনে হয় তাহলে সে মার্কেটের দিকে যাবে না হলে বাসায় চলে আসবে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে যায় রাস্তায়। মোবাইলটি নিয়ে সেখানে থাকা এক ভাই আমার নাম্বারে শেষ ডায়াল দেখে আমাকে কল করে ঘটনাটি জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২-৩ মিনিট আগে আমার সঙ্গে কথা হয়। খবর শুনে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। প্রথমে আমরা কোন হাসপাতালে নিয়েছে এটি জানতে পারিনি। পরে আমার ভাইকে বললে সে দৌড়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চলে যায় সেখানে গিয়ে দেখে আমার স্বামীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে নেয়ার আধাঘণ্টা পরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আমি গিয়ে আমার স্বামীকে আর দেখতে পাইনি। মৃত্যুর তিন দিন পরে তার মরদেহ আমরা হাসপাতাল থেকে পাই। পরে তাকে গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাখরগঞ্জে নিয়ে দাফন করা হয়।

শাহনাজ পারভীন বলেন, আমার শ্বশুর আমাদের বিয়ের আগে মারা যান। তিনি খুলনা জুটমিলে চাকরি করতেন। আমি আজিমপুরে আমার বাবার সঙ্গে আছি। গ্রামে গেলে সেখানে আমাদের দেখার কেউ নেই, আমার সন্তানের পড়াশোনাও ঠিকমতো হবে না। সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমার বাবা এ বছর অবসরে এসেছেন। কোনোমতে আমাদের দিন যাচ্ছে। আমি তো কোথাও চাকরি করি না, আমার স্বামীই ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সে যা আয় করতো তা দিয়ে আমাদের সংসার চলতো। আমরা দুই ভাইবোন। আমার ভাইও তেমন কিছু করে না। যা চাপ যাচ্ছে সব আমার বাবার উপর দিয়ে। একসময় হয়তো বাবা এই সাপোর্টটি দিতে পারবে না। আমাদের একটা মাত্র সন্তান, ওর বাবা তাকে অনেক ভালোবাসতো। কখনো সন্তানের গায়ে হাত দেয়নি, ধমক দিয়ে কথা বলেনি। অনেক ভালো বাবা ছিল সে। আমার ছেলে সব সময় বলে আম্মু আমার বাবাকে মেরে ফেলছে। সে সারাক্ষণ ছবি আঁকে। ছবির মাধ্যমে তার ভেতরের কষ্টগুলো প্রকাশ করে। বাবার জন্য তার কষ্ট হয়; বুক দেখিয়ে বলে এখানে কষ্ট হয়। ওর বাবার দাফনের সময় কবরে প্রথম মাটিটুকু ওর হাত দিয়ে দিয়েছে। ওর বাবা যে আর ফিরে আসবে না সে এতটুকুই বুঝে।

mzamin

‘অধিনায়ক’ জাকারিয়া পিন্টুর চিরবিদায় by সামন হোসেন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের শীর্ষ ফুটবলাররা গঠন করেছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। দলটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১৬টি ম্যাচে অংশ নিয়েছিল। এর ১২টিতেই জিতেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। ওই ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল তুলে দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তহবিলে। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন- জাকারিয়া পিন্টু। ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বে ১৯৭৩ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেই অধিনায়ক পিন্টু চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রোববার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত জাকারিয়া পিন্টুকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরও কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ায় সেখানে তাকে নেয়া হয় সিসিইউতে। গতকাল সকালে হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিন বছর আগে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ এবং পরবর্তী সময়ের নানা আক্ষেপ নিয়ে সেদিন জাকারিয়া পিন্টু বলেছিলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে, আজ আমরা সবাই একসঙ্গে বসেছি। এমন সৌভাগ্য আমার জীবনে বহুবার এসেছে। কাজী সালাউদ্দিনকে (তখনকার বাফুফে সাবেক সভাপতি) ধন্যবাদ, এমন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমার মাঝে-মধ্যে দেখা হয়েছে; আবার দেখাও হয়নি। আমি অধিনায়ক হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, সেটা পালন করার চেষ্টা করেছি।’ পিন্টুর মৃত্যুর পর সেটা স্বীকার করলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সহ-অধিনায়ক প্রতাপ শঙ্কর হাজরা। গতকাল তিনি বলেন- পিন্টু ভাই আমাদের নেতা ছিলেন। আজ আমরা আমাদের নেতাকে হারালাম।

১৯৫৭ সালে ইস্টএন্ড দিয়ে ঢাকার শীর্ষ ফুটবলে শুরু জাকারিয়া পিন্টুর। পরের বছরও একই দলে খেলেন তিনি। ১৯৫৯-৬০ কাটান ওয়ান্ডারার্সে। ১৯৬১-৭৫ পর্যন্ত সময় মোহামেডানে।  ১৯৬৮-৭৫ পর্যন্ত টানা আট বছর ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। যা ঘরোয়া ফুটবলে একটি রেকর্ড। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয়েছিল। সে দলের  নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি একাদশের বিপক্ষে মুজিবনগর একাদশের অধিনায়কও ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। ওই বছরই একই মাঠে কলকাতার মোহনবাগানের বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচে ছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচিত একাদশের অধিনায়ক। আসামের গুয়াহাটিতে সর্বভারতীয় লোকপ্রিয় বরদুলই কাপে ঢাকা একাদশেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৫৭ এর দিকে যখন জগন্নাথ কলেজে পড়তেন, তখনো দুই বছর কলেজটির অধিনায়ক ছিলেন। জীবনে কত ম্যাচে যে, অধিনায়কত্ব করেছেন, সেই হিসাব নিজের কাছেও ছিল না। খেলতেন স্টপার পজিশনে। তার কড়া মার্কিং পেরিয়ে স্ট্রাইকাররা বেরিয়ে যেতে পারতেন কমই। খেলোয়াড়ি জীবনের মাঝপথেই সুযোগ পেয়েছিলেন পাকিস্তান জাতীয় দলে। ১৯৬৮ সালে তুরস্কের আরসিডি কাপে পাকিস্তানের জার্সিতে খেলেছেন। স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত খেলেন ইরানের ফ্রেন্ডশিপ টুর্নামেন্ট, নেপালের রাজা মাহেন্দ্র কাপসহ আরও কিছু আসরে। পাকিস্তান জাতীয় দল আলোকিত করেন মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অব.), প্রতাপ শংকর হাজরা গোলাম সারোয়ার টিপুরা। তবে তারা সবাই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলেননি। যারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দু’টি জাতীয় দলেই খেলেছেন, তাদের অন্যতম জাকারিয়া পিন্টু। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের গোড়াপত্তনে তার নামটি সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। শুধু ফুটবলার নন, ১৯৭৭ ও ১৯৮৭ সালে কিছুদিন মোহামেডানকে কোচিংও করান জাকারিয়া পিন্টু। ১৯৭৯ সালে ঢাকা সফরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লাব দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন।

১৯৮০ সালে কুয়েতে সপ্তম এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে ছিলেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার। বর্ণময় এক ফুটবল ক্যারিয়ারই। যার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৫ সালে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৭৮ সালে। এসব নিয়ে তার ছিল অনেক গর্ব। সবার কাছ থেকে পেতেন আলাদা সম্মান। সবার কাছে ছিলেন ‘পিন্টু ভাই’, বাংলাদেশের ফুটবলে অবিস্মরণীয় এক চরিত্র। ১৯৪৩ সালের ১লা জানুয়ারি নওগাঁয় তার জন্ম। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন, চিকিৎসকও। জাকারিয়া পিন্টু তার বড় ছেলে। জীবনের সংগ্রহশালায় দেড় হাজারের বেশি মাঠ ও মাঠের বাইরের ছবি রেখে গেছেন। ঢাকার ফার্মগেটে ইন্দিরা রোডের বাসায় শো- কেসে থরে থরে ট্রফি-ছবি সাজিয়ে রেখে চিরবিদায় নিলেন ‘পিন্টু ভাই’। কিন্তু তিনি থাকবেন। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে, ফুটবলে, বাঙালির মনে।

mzamin

নতুন সরকারের মেয়াদ হবে অনধিক ৪ বছর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে ভারতের কাছে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় সমাধান হওয়া উচিত। আল জাজিরা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও বলেছেন, সংস্কারের মাধ্যমে আসা সরকারের মেয়াদ হবে অনধিক ৪ বছর। শেখ হাসিনার বিচার ইস্যুতে তিনি বলেন, ভারতের কাছে তাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা আকস্মিক দেশ ছেড়ে পালানোতে প্রত্যেকে বিস্মিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়েও মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে ডনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় সহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছিলেন, তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তার প্রশাসনের সম্পর্ক উত্তেজনাকর হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মত দেন। কিন্তু ড. ইউনূস বলেছেন- বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল ডেমোক্রেটের অনেক সদস্য যেমন তার বন্ধু, তেমনি রিপাবলিকান দলেও তার বন্ধু আছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কে প্রেসিডেন্ট তার ওপর তাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ভর করে না। তাদের পররাষ্ট্রনীতি স্থিতিশীল। একবার একদিকে, আবার অন্যদিকে তা যায় না। এ ছাড়া বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমালোচনা করেন ড. ইউনূস। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু এবং তাতে বাংলাদেশের ঝুঁকি, বিশ্বের ঝুঁকি এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন  নোবেল পুরস্কার পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৯) এ যোগ দেন ড. ইউনূস। সেখানে তার সাক্ষাৎকার নেন আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা নিক ক্লার্ক। তিনি বলেন, যেখানে বিশ্বে মনোযোগ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নিবদ্ধ, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। দেশটি ২০৫০ সালের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমুদ্রের জলসীমা উচ্চতার ফলে শতকরা ১৭ ভাগ ভূমি হারাতে পারে। ফলে বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি নিশ্চিহ্ন হতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষকে বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিবেশগত হুমকির চেয়েও আরও সংকট মোকাবিলা করছে।

ড. ইউনূসের কাছে নিক ক্লার্ক জানতে চান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে, আপনি বাকুতে বিশ্বের অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শীর্ষ কপ-২৯ এ যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশের নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আপনি এই সম্মেলন থেকে কী আশা করছেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, প্রথমত জলবায়ুর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করা। বিশ্বের অনেক দেশই এ বিষয়ে অসচেতন। জলবায়ু সংকট একটি দেশের অস্তিত্বের সমস্যা। বিশেষ করে দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য এই সংকট মোকাবিলা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ড. ইউনূস বলেন- এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চাই। জলবায়ু সংকট নিয়ে সরব হওয়ার ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রশ্ন উত্থাপনের চেষ্টা করি। তা হচ্ছে- জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিক্ষিপ্ত কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হবে না। যেহেতু এটা বৈশ্বিক সমস্যা। সুতরাং আমি মনে করি বিক্ষিপ্তভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ না করে এই সংকট বৈশ্বিকভাবেই মোকাবিলা করা উচিত। তবে প্রকল্পের গুরুত্বও আমি অস্বীকার করছি না। অবশ্যই এই সমস্যা মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে এক্ষেত্রে আমাদের অব্যবস্থাপনা এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি একদিকে পরিবেশের ক্ষতি করছেন আবার অন্যদিকে সে ক্ষতিসাধনের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু আপনি পরিবেশ ক্ষতির যে ধারা গঠিত হয়েছে তা বন্ধ করছেন না, তাহলে তো হবে না। এ জন্যই আমি বললাম, যখন গোটা পদ্ধতিই ক্ষতির কারণ তখন কেন আপনি কিছু কিছু করে সমাধান করতে থাকেন। সুতরাং আমি নিজে নিজে একটি প্রস্তাবনা কল্পনা করেছি। তা হচ্ছে- জলবায়ু সংকট মোকাবিলার মৌলিক উপায় প্রকল্পের পরিবর্তে প্রকল্প দাঁড় করানো নয়। জলবায়ু আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত তাই আমি এ বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই আমার কথা হচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রার অভ্যাসের পরিবর্তন না হলে পরিবেশের মৌলিক সমস্যাটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
জলবায়ু পরিস্থিতি এবং অতি বন্যায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান কমিয়ে আনতে সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশের আগাম ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, এটি মোকাবিলা করার জন্য সংকট তৈরিতে সহায়ক সকল বিষয় বন্ধ করতে হবে। নইলে এ সমস্য ক্রমাগতভাবে হতেই থাকবে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি বলছি, পরিকল্পনা গ্রহণ সাময়িক বিষয়ের জন্য ঠিক আছে। তবে মৌলিক নীতির দিক থেকে সাময়িক সমাধান এটি ভুল জিনিস। কেননা আপনাকে চূড়ান্ত সমাধানের জন্য সমস্যাযুক্ত গোটা পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমি বারবার আমাদের মূলে ফিরে যাওয়ার কথা বলছি। কেননা, আমরা এই সমস্যার কোনো ইতি টানতে পারছি না। যা বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ববাসীর জন্যই খারাপ হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগও ছিল। তখনকার সমস্যাগুলো যেন এখন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অব্যবস্থাপনা, অপশাসন, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করা এবং আরও নানান অপকর্মে ভরে উঠেছিল বাংলাদেশের বিগত ১৬টি বছর। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য আমাদের বিশাল কাজ রয়েছে। প্রতিটি খাত ধরে ধরে আমাদের তা স্বচ্ছ করতে হবে। তবে এটা সাময়িক সময়ের জন্য করলে হবে না। পুরনো নীতিতে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে জনগণ সরকারি কার্যালয়ে যেতে ভয় পায়। কেননা সেখানকার কেউ টাকা চেয়ে আপনাকে হয়রান করতে পারে। যদিও এ বিষয়টি লজ্জার; তবুও আমি এখানে তা উল্লেখ করলাম। সরকারকে জনগণের সহায়ক হতে হবে। এখন নাগরিকরা সরকারি অফিসগুলোকে নির্যাতনের চেম্বার হিসেবে দেখে। আপনি একবার সেখানে প্রবেশ করলে তাদের কেউ আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়ার জন্য আপনাকে চেপে ধরবে। গোটা ব্যবস্থাপনাতেই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার পুরোটাই হাজার হাজার কোটি টাকার বিষয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ এই অর্থের তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, আমরা যা করতে চাই তার সঙ্গে তহবিলের সম্পর্ক খুব সামান্য। আমরা আমাদের জন্য একটি উপায় হচ্ছে- সরকারি সার্ভিসের ক্ষেত্রে জনগণকে যেন সরকারি অফিসগুলোতে স্বশরীরে উপস্থিত হতে না হয়। এক্ষেত্রে সৌভাগ্যবশত ডিজিটাইজেশন আমাদের সাহায্য করতে পারে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব। আর্থিক সেবাসহ অন্যান্য আরও সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেয়া সম্ভব। তাই আমরা কর ব্যবস্থার মতো সিস্টেমকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করছি। অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়তো কাউকে আপনাকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করা হতে পারে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, আমাদেরকে একত্রে কাজ করতে হবে। এর অর্থ হলো এই সমস্যার সমাধান শুধু বাংলাদেশ করতে পারে না। আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারত থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ হলো নদীগুলোর সবটার উৎস হলো ভারতে না হয় তা ভারতের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, নেপাল থেকে এসেছে, আরও উত্তর থেকে ভারতে এসে তারপর তা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আর বাংলাদেশে এসে বেশির ভাগ বড় নদী শেষ হয়েছে। এখানে নদীগুলো বঙ্গোপসাগরে এসে মিশেছে। ফলে নদীগুলোর উৎস তিব্বত, নেপাল, ভারতের কোনো না কোনো স্থানে। তাই আমাদের একটি সুন্দর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থাকতে হবে, যেখানে পানির কারণে মানুষ মারা না গিয়ে তা থেকে সুবিধা পান। একত্রে আমাদের একটি ভালো পানি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত এটা শুধু কোনো এক দেশের পক্ষে করা সম্ভব না। ভারতের সঙ্গে আলোচনা, অবশ্যই, ভারত হলো সেই দেশ বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা।
ড. ইউনূসের কাছে প্রশ্নকর্তা জানতে চান- তিনি (শেখ হাসিনা) সেখানে (ভারত) অবস্থান করা এবং সেখান থেকে বিবৃতি এবং ঘোষণা দেয়ার বিষয়টি আপনার প্রশাসন কীভাবে দেখছে? এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, তিনি যেটা করছেন সে সম্পর্কে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। এটা বাংলাদেশকে একরকম অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। কারণ, তিনি বাংলাদেশের ভেতরে আন্দোলন চালানোর জন্য বিবৃতি, বক্তব্য ও আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহায়ক হবে না। ফলে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সেটা হলো আপনারা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এটা ভালো। কিন্তু আপনাদেরকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের জন্য তিনি যেন কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করেন। এমন হলে আমরা আবার পেছনে ফিরবো এবং আপনাদের (ভারত) কাছে অভিযোগ করবো যে, আমাদের জন্য খারাপ এমন ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়েছেন। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় সমাধান হওয়া উচিত। তিনি অবশ্য নিজেকে এখনো (বাংলাদেশের) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবেন। তিনি নিজেকে অনেক কিছু বলতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।

ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এমনকি তাকে (শেখ হাসিনা) ভারত পর্যন্ত বলে আসছে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং তার আশ্রয়দাতারা তাকে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য স্বীকৃতি দিচ্ছে না। এ অবস্থায় তাকে কি দেশে ফেরত পাঠানোর চাপ দিয়ে যাবেন আপনারা? এ প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন- হ্যাঁ। কারণ, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। তাকে অভিযুক্ত পাওয়া গেছে। অবশ্যই আমরা তাকে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানাবো।  
এ পর্যায়ে ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। বলা হয়, প্রাথমিকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন আপনি। কিন্তু এর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে আলোচনা আছে। আসলে বাস্তবতা কি? জবাবে ড. ইউনূস বলেন- না। কেউ কেউ বলছেন স্বল্প সময়ের (সরকার এটা)। কখনোই এটাকে স্বল্পমেয়াদি হিসেবে কল্পনা করা হয়নি। পুরো সরকারের প্রধান আকর্ষণ ছিল সংস্কার। কারণ ছাত্রদের নেতৃত্বে পুরো আন্দোলনই হলো একটি নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করা। তাদের কাছে নতুন শব্দ ছিল নতুন বাংলাদেশ। শুধু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশ আসবে না। একটি নির্বাচন করা পুরনো রাজনীতি এবং তারই কিছু ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি। এসব বিষয় থেকে আমরা মুক্ত হতে চাই। পুরো দেশের মানুষ এটাই চায়। পুরনোর চেয়ে কিছু আলাদা, কিছু নতুন জিনিস। সুতরাং এর অর্থ অনেক কিছু। এর অর্থ হলো আইন ব্যবস্থার সংস্কার। কারণ, বিচার বিভাগকে (বিগত) সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। পুরো দুর্নীতিপরায়ণ করা হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু। পুরো পুলিশ ব্যবস্থা সহ অনেক কিছুকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। সর্বোপরি সংবিধানের সংস্কার প্রয়োজন। সংবিধানের একেবারে মৌলিক আইনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে আপনি সংবিধানকে নতুন করে সাজাবেন? এ জন্য আমরা নতুন করে ডিজাইন করেছি, নিয়োগ দিয়েছি, কমিশন করেছি। এর মধ্যে আছে প্রাতিষ্ঠানিক কমিশন, আইন সংস্কার কমিশন, সবকিছু। আছে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন। এ জন্য সময় লাগছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তারা রিপোর্ট জমা দেবেন। ওইসব রিপোর্ট জমা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। হ্যাঁ, এটাই পুরো ধারণা। আমি আগেই বলেছি সমান্তরালে দু’টি বিষয় চলছে। এক. নির্বাচনের প্রস্তুতি। দুই. সব রকম সংস্কারের প্রস্তুতি। ব্যাস। এখন বিষয়টি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে যে কোন পথে যাবে। আমি বলবো মনে রাখবেন, নির্বাচনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে ট্রেন। শিগগিরই নির্বাচনের কাছে চলে যাবে। এই ট্রেন ছুটছে। সুতরাং এক পর্যায়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে তা। আমরা দেশের জনগণের কাছে জানতে চাইবো আপনারা কি এই সিস্টেমে চলতে পছন্দ করেন? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি নির্বাচন চায় জনগণ। এ জন্য আপনাকে কিছু করতে হবে। বিষয়টি নির্ভর করছে আপনার ওপর। আমাদের ওপর নয়। এটা তাদের বিষয়। সবসময় আমরা বলে আসছি আপনাদের সঙ্গে আমরা পরামর্শ করছি। কোনো কিছুই চাপিয়ে দিচ্ছি না আমরা। যদি আপনারা বলেন- সামনে এগিয়ে যান, নির্বাচন দিন, সংস্কারের কথা ভুলে যান, তাহলে আমরা নির্বাচন করবো। যদি আপনারা বলেন- না। তাহলে ‘না’। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অন্য কোনো সরকার এটা করতে পারবে না। পুরো ইতিহাসে এই সরকারটি সৌভাগ্যবান যে, আপনি সব কাজ করতে পারবেন। যদি রাজনৈতিক দলগুলো এর সঙ্গে একমত থাকেন, তাহলে তা করা যাবে। আমরা সংস্কার করে নির্বাচন দেবো। প্রশ্নকর্তা জানতে চান- তাহলে সঠিক সময় কখন হবে, সে সম্পর্কে আপনার মনে কি অনুমিত  কোনো ধারণা আছে? অথবা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে প্রস্তুতি নিতে সুনির্দিষ্টভাবে কতো সময় লাগবে। জবাবে ড. ইউনূস বলেন- না। আমার কোনো ধারণা নেই। আমি তো মনে করি সবারই অন্তর্বর্তী সরকার আছে। আমরা স্থায়ী সরকার নই। উদাহরণ হিসেবে মনে করুন, আমাদের এখানে নিয়মিত সরকারের মেয়াদ হয় ৫ বছর। এটাই বিষয়। কিন্তু নতুন সংবিধানে সম্ভবত এর মেয়াদ করা হচ্ছে ৪ বছর। কারণ, জনগণ দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হতে চায়। এ জন্য এর মেয়াদ ৪ বছরের নিচে থাকা উচিত। এটা নিশ্চিত। এর চেয়ে কমও হতে পারে। তবে বিষয়টি হলো জনগণের, তারা কি চায়। রাজনৈতিক দলগুলো কি চায়। যদি রাজনৈতিক দলগুলো বলে এসব বিষয় ভুলে যান, নির্বাচন দিন। এসব আমাদেরকে করতে দিন। তাহলে আমরা তাই করবো। আপনার সামনে একটি সুযোগ এসেছে। তা নেননি। এ পর্যায়ে প্রশ্নকর্তা জানতে চান- ফলে ৪ বছরের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হতে পারতেন আপনি, যেটা মোটামুটি নির্বাচনী টার্মের মতোই, তাই নয় কি?  জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমি সেটা বলিনি। আমি বলিনি যে, ৪ বছরের জন্য আমি থাকবো। আমি বলেছি- এটাই যে কারও (সরকার) জন্য সর্বোচ্চ মেয়াদ হতে পারে। ঠিক আছে। আমাদের উদ্দেশ্য সেটা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব কাজ শেষ করা। এ পর্যায়ে প্রশ্নকর্তা তার কাছে জানতে চান- আপনি কি নির্বাচন করবেন? সরাসরি এ প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন- না। আমি কোনো রাজনীতিক নই। আমার ভূমিকা, যেটা এখন চালিয়ে যাচ্ছি, তা-ই উপভোগ করছি। আমার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এসব বিষয়কে পরিবর্তন করার চেষ্টাও করছি না।

নিক ক্লার্ক  জানতে চান- সংখ্যালঘুদের অধিকারের বিষয়টি আপনার প্রশাসন যেভাবে মোকাবিলা করছে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এসব ইস্যুকে সমাধানে কীভাবে পরিকল্পনা নিয়েছেন আপনি? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, বার বার এ ইস্যুতে দৃষ্টি দিয়েছি আমরা। কারণ, আমরা স্মরণে রেখেছি যে, সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান আপনাদের অধিকার, স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার, নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। সংবিধান এসব অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সংবিধানের অধীনে যেসব অধিকারের গ্যারান্টি দেয়া আছে তা যেন নাগরিকরা নিশ্চিতভাবে উপভোগ করতে পারেন।

ওই সাংবাদিক আরও জানতে চান, কিন্তু হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার রিপোর্ট আছে, তাই নয় কি? এ প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নয়। আমি বলবো ক্রমাবনতিশীল সহিংসতা। বিপ্লবের সময়ে সহিংসতা শুরু হয়েছিল। কারণ, এটা নয় যে, তারা হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বী। এর কারণ হলো তারা ছিলেন আওয়ামী লীগের। ফলে বিক্ষুব্ধ জনতা ছিলেন ওইসব আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তাই তারা (জনতা) তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এরা তারা, যেসব মানুষ আওয়ামী লীগার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। প্রশ্নকর্তা জানতে চান- এই বিভক্তির মধ্যে কীভাবে আপনি সেতুবন্ধন রচনা করবেন? এসব সমস্যার কীভাবে সমাধান করবেন। ইস্যুটি হলো এই অংশগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে লেগে আছে। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমি মনে করি না যে, বিভিন্ন উপাংশ একে অন্যের বিরুদ্ধে লেগে আছে। আমি বলি এটা একটি পুরো পরিবার। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে। তার অর্থ এই নয় যে, আমরা একে অন্যের শত্রু। এটাই আইন।  অধিকারের বিষয় আছে। আমাদের কাজ হলো প্রতিটি নাগরিকের সব অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রশ্নকর্তা তার কাছে আবার জানতে চান- অবশ্যই আপনি জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়টিকে লুফে নিয়েছেন তার নির্বাচনের আগে। তাই নয় কি? বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, অবশ্যই। এটা মূলত প্রপাগান্ডা। এটা পুরোটাই ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডা। এটা দুর্ভাগ্যজনক। যেকোনো কারণে এই প্রপাগান্ডার বেশির ভাগই ছড়ানো হচ্ছে ভারতের দিক থেকে। উদ্দেশ্য উত্তেজনাকে জিইয়ে রাখা। কিন্তু বাস্তবতা হলো এসবের কিছুই বিদ্যমান নেই। অধিক হারে উদ্‌যাপিত হয়েছে পূজা। এমন ঘটনাও আছে। তাতে যোগ দিয়েছেন হিন্দুরা। কয়েক হাজার পূজা বিষয়ক স্থাপনায় এই পূজা উদ্‌যাপন হয়েছে। কোনো অঘটন ছাড়াই তা চলেছে।

ড. ইউনূসের কাছে নিক ক্লার্ক জানতে চান, আচ্ছা আপনার ও তার (ট্রাম্প) মধ্যে তেমন ভালো সম্পর্ক যায়নি, তাই না? সুনির্দিষ্ট একটি টেনশন আছে। আমার মনে হয়, আমি ঠিক বলতে যাচ্ছি। আপনার এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, এর আগে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। সুতরাং ব্যক্তিগত পর্যায়ে তার সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই। যদি আপনি রিপাবলিকান পার্টির বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে আমি বলবো ডেমোক্রেট পার্টিতে আমার বন্ধু আছেন। রিপাবলিকান পার্টিতেও আমার বন্ধু আছেন। আমাকে দেয়া কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেলের জন্য ভোট দিয়েছিল হাউস (কংগ্রেস)। উভয় দল শতভাগ সম্মতি দিয়েছিল এতে। তাই সেখানে আমার কোনো সমস্যা নেই। সুতরাং রিপাবলিকান পার্টি অথবা ডেমোক্রেট পার্টি অথবা ট্রাম্প উদ্বিগ্ন হলে এ পর্যন্ত আমার তাতে কোনো রকম সমস্যা হবে না। তাই আকস্মিকভাবে নেতিবাচক কিছু ঘটবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, ট্রাম্প হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আমি মনে করি, কে প্রেসিডেন্ট তার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন হয়ে একবার সামনে, একবার পেছনে যায় না। এটা তাদের একটি স্থিতিশীল নীতি। ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহলে আপনি কি মনে করেন, এ অঞ্চলে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হবেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, একেবারেই না।

পাল্টা প্রশ্নে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আপনি যদি বাংলাদেশে থাকতেন, তাহলে এ ধরনের কথাবার্তায় পাগলের মতো মনে হতো। এই ছাত্ররা রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন, তাদের জীবন দিয়েছেন, সব দিক থেকে তাদের (শাসক গোষ্ঠী) বাড়িঘরের দিকে উত্তেজিত জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল, লাখ লাখ জনতা তাদের বাড়িঘরের দিকে ছুটে যাচ্ছিল। অবশেষে তার (শেখ হাসিনা) পরিবারের সদস্যরা তাকে পালিয়ে যেতে বলেছেন। কারণ, উত্তেজিত এই জনতা তার বাড়ি প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ জন্য তারা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছিল। তাকে পালিয়ে যেতে এবং পালিয়ে ভারতে যেতে সহায়তা করেছে সেনাবাহিনী। এভাবেই সব ঘটেছে। ফলে এটা কারও কাছ থেকে বিভ্রান্ত হওয়া নয়, ধরুন কেউ কিছু সেনা পাঠিয়ে দিলো, কাউকে পাঠিয়ে দিলো- বিষয়টি এমন নয়। এটা ছিল ছাত্রদের আন্দোলন। তাতে যোগ দিয়েছিল সারা দেশের মানুষ।
যা ঘটতে যাচ্ছিল তাতে আপনি কি তা বুঝতে পেরেছিলেন, বিস্মিত হয়েছিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমি তো দেশে ছিলাম না। ফলে ঘটনার পরিবর্তন আমি দেখতে পাইনি। আমি শুধু মিডিয়ায় দেখতে পেয়েছি। কি ঘটেছিল আমি শুধু তার ফলটুকু দেখতে পেয়েছি। আমাকে সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। টেলিফোন কল পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে সরকার গঠনে আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তিন দিন দেশ ছিল সরকারবিহীন। এ সময়ে আমি দেশে ছিলাম না। তারপর দেশে পৌঁছে দায়িত্ব নিলাম এবং সরকার গঠন করলাম। এই ধরনের অনিশ্চয়তায় এবং পূর্বাভাস করা হয়নি-  এমন ঘটনা ঘটছিল। কোথাও থেকে এটা যে ঘটতে চলেছে তা কেউ পরিকল্পনাও করেনি। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এসব ঘটনা যখন ঘটছিল এবং শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেছেন, তখন কি আপনি বিস্মিত হয়েছিলেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, এত আকস্মিকভাবে এটা ঘটেছে যে, প্রত্যেকেই এতে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) খুব সুরক্ষিত ছিলেন। কেউই ভাবেননি যে, তিনি বাস্তবেই পালিয়ে যেতে পারেন। ছাত্ররা আসছিল। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছিল জনতা। সারা দেশের সব রকম মানুষ যোগ দিয়েছিল ছাত্রদের সঙ্গে। সারা দেশে প্রচুর পরিমাণে মানুষ জমায়েত হচ্ছিল। তারা ঢাকামুখী যাত্রা করেছিল। তার (হাসিনা) বাসভবনমুখে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। সুতরাং এসব কিছু এর আগে শোনা যায়নি। এসব বিষয় কোনো পরিকল্পনা করে করা হয়নি। কেউ জানতেন না যে, এটাই ঘটবে। পুরো দেশ ছিল তার (হাসিনা) বিরুদ্ধে। তাই এমন  কিছু যে ঘটবে তা ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু তা ঘটেছে। পুরো দেশ তার বিরুদ্ধে ছিল। যখন আমি বলি পুরো দেশ, তখন এর মানে হলো পুরো দেশ তাদের বিরুদ্ধে ছিল।

প্রশ্নকর্তা তার কাছে জানতে চান- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার জন্য যখন আপনি ফোনকল পেলেন, তখন আপনাকে কতোটা বিবেচনা করতে হয়েছিল? তাৎক্ষণিক জবাবে কি বলেছিলেন ঠিক আছে আমরা এটা করবো? জবাবে ড. ইউনূস বলেন- দেখুন আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল যে, আমি রাজনীতিতে যুক্ত হতে চাই না। সব সময় আমি এটা (রাজনীতি) থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। তাই আমার মনে হয়েছে আমার এতে যুক্ত হওয়া উচিত হবে না। আমি বলেছিলাম দেশ চালানোর জন্য অন্য কাউকে দেখুন, আমাকে নয়। পরের দিন আমাকে কল করবেন, দেখি আপনারা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যথারীতি তারা আমাকে পরেরদিন কল করলেন। তারা বললেন, আপনাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এটা নিয়ে আমরা বিতর্ক ও আলোচনা করেছি। তাই আপনার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। আপনাকে অনুগ্রহ করে সম্মতি দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমি বললাম, দেখো তোমরা এর জন্য জীবন দিয়েছো। এর জন্য এত দুর্ভোগের শিকার হয়েছো। এরই মধ্যে যদি তোমরা এতকিছু করে থাকো, তাহলে আগে আমি যা বলেছিলাম তা ভুলে যাবো এবং আমি তোমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করবো। আমি ফিরে আসবো। এ জন্যই ফিরে এসেছি।

ড. ইউনূসের কাছে নিক ক্লার্ক জানতে চান- বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী নয়। বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যে আইএমএফের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে এই অর্থনীতি। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি এবং কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে আপনি আস্থাশীল? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, এটা (অর্থনীতি) ভয়াবহ অবস্থায়। আমাদের পুরো অর্থনীতি ভয়াবহ এক অবস্থায় আছে। পূর্ববর্তী সরকার অনেক বড় প্রকল্প করেছে। এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এদিক- সেদিক করেছে। পুরো ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বন্ধুবান্ধব ও অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে  বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের এই ধ্বংসাত্মক কাজের কারণে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় নিম্নমুখী হয়েছে। যখন আমরা (ক্ষমতায়) ফিরলাম, তখন পুরো সিস্টেমকে আমরা বিধ্বস্ত অবস্থায় পাই। অর্থনীতি ছিল অকার্যকর এবং একই রকম আরও অনেক কিছু। সৌভাগ্যক্রমে বিশ্ব আমাদেরকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। প্রতিটি জায়গা থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ সাপোর্ট পেয়েছি। তারা টিকে থাকতে, অব্যাহত ধারাবাহিকতা রক্ষা ও অন্যান্য কাজে সহায়তা করবে। এ জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা সরকারগুলো এবং অন্যদের কাছে গিয়েছি আমাদের সহায়তা করার জন্য। আর্থিক সহায়তা করার জন্য। সিস্টেমকে সহায়তা দেয়ার জন্য। তারা আমাদের প্রতি খুবই উষ্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন। তাদের সহায়তা আমাদেরকে ব্যাংকিং খাতের সব সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেছে, একে সঠিক পথে আনতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বড় অংকের পাওনা পরিশোধে সহায়তা করেছে। আমাদের যেটুকু রিজার্ভ বা আন্তর্জাতিক রিজার্ভ আছে তাতে হাত না দিয়ে বড় বড় অংকের পেমেন্ট এরই মধ্যে পরিশোধ করেছি। ড. ইউনূসের কাছে আল জাজিরা জানতে চায়- কীভাবে এবং কখন এই পরিবর্তিত ব্যবস্থা রাস্তার মানুষ, রাস্তার নারী ও পুরুষদের সুবিধা দেবে? তারা নিজেদেরকে মনে করবেন তারা অর্থ খরচের সক্ষমতা রাখেন। ড. ইউনূস বলেন, এরই মধ্যে তারা এটা অনুধাবন করছে। কারণ, এখন যে সিস্টেম আছে তার ওপর তারা নির্ভর করতে পারেন। ব্যাপক হারে মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের বৈদেশিক বিনিময় অদৃশ্য হচ্ছে না। প্রতি মাসে আমাদের বৈদেশিক বিনিময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মানুষ আস্থা পাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি আস্থা ফিরে আসছে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাংবাদিক নিক ক্লার্ক আরও জানতে চান, বাংলাদেশের ভেতরে কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলো গড়ে উঠতে চলেছে- এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি? প্রথমত ছাত্রদের নেতৃত্বে ‘মুনসুন বিপ্লব’ হয়েছে। এই বিপ্লব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আপনাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই নয় কি? কিন্তু  যেকোনো নতুন সরকারের ভেতরে কি দলাদলির বিপদ থাকে না? ড. ইউনূস এ প্রশ্নের জবাবে বলেন- না। দেখতে পাচ্ছি তারা প্রচলিত রাজনৈতিক দল। তারা যথেষ্ট মুক্ত। সদ্যবিদায়ী শাসকগোষ্ঠীর অধীনে এর আগে এসব মানুষ কার্যকর থাকতে পারেননি। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন জেলে। শত সহস্র এসব নেতাকর্মী জেলে ছিলেন। তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তারা এখন সক্রিয়। এ জন্য পুরনো রাজনৈতিক দল ও অন্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। তারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। এটা নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। রাজনৈতিক সিস্টেমে কোনো সমস্যা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারা এখন অপেক্ষা করছেন সংস্কার প্রক্রিয়ায় এবং নির্বাচনে কীভাবে অংশগ্রহণ করা যায় তার জন্য। প্রশ্নকর্তা জানতে চান-  এসব বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বর্তমানে যাদের অস্তিত্ব আছে। তারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসবেন। জবাবে ড. ইউনূস বলেন- একেবারে। এ পর্যায়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করেছেন, প্রচুর সম্মান অর্জন করেছেন, বিশ্ব জুড়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তা সত্ত্বেও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক প্রকল্প নিয়ে, দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চক্রে এর প্রভাব নিয়ে কিছুটা সমালোচনা আছে। আপনি কি এসব সমালোচনার সঙ্গে একমত? জবাবে ড. ইউনূস বলেন- না। আমি একমত নই। কারণ তারা প্রতিটি কাহিনীকে নিয়ে গল্প তৈরি করেন। তারা অনেক কিছু পছন্দ করেন না। এ নিয়ে চিন্তা করেন না। তবে কেউ কেউ তা করেন। তার মধ্যে এটা একটা। যখন আপনি কোনো কিছুতে ইন্টারেস্ট (সুদ) দেখবেন তখনই তারা সেটাকে সামনে নিয়ে আসবে। ইন্টারেস্ট (সুদ) একটি শব্দ। ধর্ম এটাকে সমর্থন করে না। আমি বলি ধর্ম এ সম্পর্কে যেটা বলেছে সেটা অতিমাত্রায় বিপদগামী করার মতো সুদ নেয়ার বিষয়ে। আমরা সার্ভিসটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে সুদ আরোপ করেছি সেটার বিরুদ্ধে নয়। আরেকটি দিক হলো রাজনৈতিক। যদি দেখা যায় কেউ খুব জনপ্রিয় হচ্ছেন, তখন তার নিন্দা জানাতে হবে। এটা ভালো বিষয় যে, আমি আগের সরকারের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাকে প্রায় জেলে পাঠানো হয়েছিল। বিগত শাসকগোষ্ঠীর সময়ে আমার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২০০ মামলা হয়েছে আদালতে। এটা হলো গল্পের আরেকটি দিক। আমাকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম আছে। এর নাম ড্রামা ইন আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি শহরে কাজ করছে তারা। আমি কাজ করছি নিখুঁত রেকর্ডসহ। ফলে এটা একেবারে স্বচ্ছ। বাংলাদেশে কি ঘটেছে সে বিষয়টি ভুলে যান। আপনি দৃষ্টি দিয়েছেন মাইক্রোগ্রিডের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সিস্টেমে চলা, স্বচ্ছ সিস্টেমে চলা মাইক্রোগ্রিডের দিকে কেন তাকাচ্ছেন না? সেখানে নারীরা ঋণ নিচ্ছেন। তারা এক লাখ ডলার নিচ্ছেন এবং সুদের প্রতিটি পেনি সহ অর্থ পরিশোধ করছেন। তাদের কেউই ঋণ খেলাপি নন। তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ শতকরা ৯৯ ভাগ বা তারও বেশি। সব শহরে, অথবা ৩৫টি শহরে এর বিস্তার। যুক্তরাষ্ট্রে এর সবাই নারী। তাদের বেশির ভাগই অভিবাসী নারী। আছেন কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের। তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ফলে তারাই এই ঋণ নিচ্ছেন। সুতরাং কেউ যদি বলতে চায় ক্ষুদ্রঋণ খারাপ, তাহলে খুঁজে বের করুন স্বচ্ছ বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ খারাপ কিনা, যেদেশে দুর্নীতি বিস্তার করে আছে। এসব নিয়ে আপনি অনেক গল্প ফাঁদতে পারবেন। এখানে (গ্রামীণ ব্যাংক) সব কিছুই স্বচ্ছ। খতিয়ে দেখুন সিস্টেম কাজ করছে কিনা। জনগণ এটাকে পছন্দ করছে কিনা। আমরা অনিশ্চিত এক বৈশ্বিক সময়ে এখন। বিশেষ করে জলবায়ু বিষয়ক এই অনিশ্চিত সময়ে। এ সময়ে অনেক কিছুর অবনতি হচ্ছে। প্রশ্নকর্তা তার কাছে জানতে চান-  উগ্রবাদ আরও খারাপ হচ্ছে, বিশেষ করে আপনার দেশের মতো দেশগুলোতে। এক্ষেত্রে বিশ্ব ও বাংলাদেশের ভূমিকা কি? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমি কোনো রাজনীতিক নই। এ বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ, গবেষণা দিতে পারবো না। তাই কোনো মন্তব্য করবো না। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যা মনে করে তা হলো আমরা সবাই বন্ধু। আমরা চাই সবাই একে অন্যের সহায়ক। এ জন্যই আমরা একসঙ্গে কাজ করি।

প্রশ্ন- আপনি যখন নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান তখন কি মনে হয় কখনো ভেবেছেন বর্তমানে যে ভূমিকায় আছেন, দেশের নেতৃত্বে  সেখানে পৌঁছবেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন- এটা খুব মজার বিষয়। কারণ, লোকজন সবসময় বলে যে, আপনি দেশ চালাবেন। তাদেরকে আমি সব সময় বলেছি- না। না। আমি না। কিন্তু এখন আমাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর কয়েক বছর আগে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চলছিল, তখন আমি চেষ্টা করেছি। সেনাবাহিনী বলেছিল আপনি এখন ক্ষমতা নিন। তাদের প্রস্তাবের জবাবে বলেছি- না। আমি না। অন্য কাউকে বেছে নিন। তারা পুরো একটি রাত অপেক্ষা করলো। কিন্তু আমি বললাম- না। আমি এই ‘না’ কথাটির ওপরই অটল থাকলাম। ক্ষমতা নিইনি। তারপর থেকে যখনই কিছু ঘটে তখনই লোকজন খোঁজে কে হবেন সরকার প্রধান। এই ধারা চলছেই। এটা আমার জন্য নতুন কিছু নয়। যখনই এমন ঘটনা সামনে এসেছে তখনই আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি এবারের মতোই বলেছি- না। আমি না। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বার বারের ইতিহাস আছে আমার। কিন্তু এবারই প্রথম আমি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারপর রাজি হয়েছি।

mzamin

দল গঠনের প্রক্রিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নেতারা by মুনির হোসেন

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর দেশের চলমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি উঠেছে নানাদিক থেকে। বিপ্লব-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও কাঠামো ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিদ্যমান বাস্তবতায় আসছে জাতীয় নির্বাচনে লড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা। ইতিমধ্যে তাদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল বা প্ল্যাটফরম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক কমিটিতে থাকা নেতৃবৃন্দ এবং বাইরের বিভিন্ন দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন হতে পারে নতুন দল বা প্ল্যাটফরম। এতে সরাসরি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্পৃক্ততা থাকবে না। তবে নেতারা কেউ কেউ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন।

ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ইতিমধ্যে কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শনিবার বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে তারা আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় সরকারের তিন জন উপদেষ্টা ছিলেন বলে জানা গেছে। তিন উপদেষ্টার মধ্যে দু’জন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ আবার ভিন্নভাবেও দেখছেন।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি সিভিল সোসাইটির কাজগুলোই করবে। কিন্তু এখান থেকে একটা অংশ যারা রাজনীতিতে আগ্রহী তারা মিলে একটি রাজনৈতিক দল হতে পারে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলে রূপ দেয়া হবে না বলে আমরা একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমরা আমাদের সংগঠনকে সে রকমই রাখতে চাই। তবে কেউ যদি আলাদাভাবে নির্বাচন করতে চায় সেটি তারা করতে পারেন।

সূত্রমতে, দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে কাজ করছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা মনে করেন, বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে দেখতে চায়। যারা অভ্যুত্থানের চেতনাকে লালন করবে এবং সব শ্রেণি- পেশার মানুষের অংশীদারিত্বে আগামীর বাংলাদেশকে গঠন করতে প্রস্তুত। দল, মত, ধর্ম ও পথের ঊর্ধ্বে উঠে যারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রশ্নে কাজ করবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীন থাকবে।
কার্যক্রম জোরদার করতে জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে সারা দেশে থানা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে অভ্যুত্থানে যারা কাজ করেছে তাদের সংঘবদ্ধ করতেই এ কমিটি। কমিটি গঠনে ৯ দফা দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়। যেখানে ২৫ শতাংশ নারী, ৫ শতাংশ শহীদ পরিবার/ আহত অভ্যুত্থানকারী, ৫ শতাংশ সংখ্যালঘু, ৫ শতাংশ কৃষক, শ্রমিক শ্রেণি এবং এলাকাভিত্তিক সকল জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। বয়স নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ৫০ বছর। আর পঞ্চাশোর্ধ নাগরিকরা একটি পরামর্শক কমিটির মাধ্যমে নাগরিক কমিটির সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানানো হয়। কমিটি গঠনের পর স্ব স্ব এলাকায় মতবিনিময় সভাও করছেন তারা। এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও সারা দেশে কমিটি দিচ্ছে এবং সভা- সমাবেশ করে যাচ্ছে। সেখান থেকেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ এবং উভয়ের কাছে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রস্তাব পৌঁছে দিতে গত ৮ই আগস্ট গঠন করা হয় লিয়াজোঁ কমিটি। সেদিন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার আগ মুহূর্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ছয় সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি ঘোষণা করেন। যেখানে সদস্য করা হয়- মাহফুজ আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, ভূঁইয়া আসাদুজ্জামান, আকরাম হোসাইন ও মামুন আব্দুল্লাহকে। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, লিয়াজোঁ কমিটি আগামী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে সকল অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ ও প্রস্তাবনার কাজ করবে। লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের ঠিক এক মাস পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৮ই সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ ঘটে জাতীয় নাগরিক কমিটির। লিয়াজোঁ কমিটির একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে এই কমিটির আত্মপ্রকাশ হয়। ৫৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। ওইদিন নাগরিক কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পড়ে শোনান মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি জানান, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও ‘নতুন বাংলাদেশের’ রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সফল করার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
জাতীয় নাগরিক কমিটির এক সদস্য মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তারা দল গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন। খুব শিগগিরই নতুন এ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে মানুষ জানবে। তবে সেক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করছেন না তারা। লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ গড়া ও নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা মানবজমিনকে বলেন, অভ্যুত্থানে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে। আমরা মনে করি সরকার যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছে সেখানে ছাত্রদের শক্তিকে সুসংগঠিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও কেউ যাতে সমন্বয়ক পরিচয়ে কোনো ইলিগ্যাল কাজ করতে না পারে। অনেক সময় তারা ইলিগ্যাল কাজ করলেও আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি না। আমাদের প্ল্যাটফর্মের নাম খারাপ হচ্ছে। তাই আমরা চাচ্ছি তাদের একটা ডেকোরামের মধ্যে নিয়ে আসতে। একটা চেইন অব কমান্ড তৈরি করা। নাগরিক কমিটির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নাগরিক কমিটির সঙ্গে আমাদের কোনো এফিলিয়েশন নাই। শুরুতে লিয়াজোঁ কমিটি থেকে কয়েকজন এটি করেছে। তবে অফিসিয়ালি তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনী ভাবনার বিষয়ে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এ সমন্বয়ক বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ভাবনায় আমরা এখনো যাইনি। সম্মিলিতভাবে আমাদের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। আমরা যেটি বিশ্বাস করি যে এটা অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম এবং আমরা এটিকে সেভাবে ট্রিট করবো। নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে নাগরিক কমিটির সঙ্গে সম্মিলিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি মূলত সিভিল সোসাইটির প্ল্যাটফর্ম। যেটি মূলত প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে। সামনেও একইভাবে কাজ করবে। এখানে যেটি ব্যাপার তা হলো- বাংলাদেশের মানুষ তরুণদের একটি রাজনৈতিক শক্তি দেখতে চায়। মানুষের একটা চাওয়া-পাওয়ার জায়গা তৈরি হয়েছে। সে জায়গাটাকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের মধ্য থেকে অনেকে মিলে এবং বাইরের আরও অনেকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটা রাজনৈতিক দল গঠনের ভাবনা আমাদের আছে। কিন্তু সেটি আমাদের জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। সেটা হচ্ছে স্বতন্ত্র ভাবনা। আর রাজনৈতিক দল মানেই তো নির্বাচন যেখানে ভোট হবে জয়-পরাজয় থাকবে। তিনি বলেন, এখন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে দুইটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করা এবং তরুণ নেতৃত্বকে সংঘবদ্ধ রাখা ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগটা আরও মজবুত করার জন্যই নতুন কমিটিগুলো দিচ্ছি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম রোববার টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের বলেন, যে তরুণ প্রজন্ম খুনি হাসিনার পতন ঘটিয়েছে তারা রাজনৈতিক দল গঠন করবে কি না সেটা বাংলাদেশের মানুষই ঠিক করবে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে বিশ্বাস করি যে, তাদের একত্রিত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল থাকা উচিত। যখন বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দল দুইটার জায়গায় চারটা হবে তখন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মানুষের জন্য কাজ করার যে প্রতিযোগিতা, সেটি বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, জুজুর ভয় দেখিয়ে অনেকে বলছেন মাইনাস ওয়ান, মাইনাস টু ফর্মুলা। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান বাংলাদেশের ডিমান্ড হচ্ছে মাইনাস টু না বরং প্লাস টু ফর্মুলা। সারজিস বলেন, বাংলাদেশে কোন তন্ত্র থাকবে- সমাজতন্ত্র না পুঁজিবাদ এখন এটি নির্দিষ্ট কিছু তত্ত্ব দিয়ে সীমাবদ্ধ করার সময় ও অবস্থা নেই। এটি বাংলাদেশের মানুষের চাহিদার আলোকে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, একদল আরেক দলকে প্রতিপক্ষ মনে করা, নিজেদের মধ্যে নেগোসিয়েশন করা, কিংবা ডিল করে একবার এ ক্ষমতায় আসবে, আরেকবার ও ক্ষমতায় আসবে। এই চর্চা থেকে বের হয়ে আসার জন্যও আমাদের বাংলাদেশে নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আরও রাজনৈতিক দল দরকার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ এই সমর্থনটি যদি তাদের জায়গায় থেকে জানায় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবে। তাহলে অব্যশই বাংলাদেশে আবার নতুন কোনো রাজনৈতিক দল হয়তো খুব দ্রুতই দেখা যাবে।

mzamin

সাবেক মন্ত্রী এমপিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে যেসব ফিরিস্তি তুলে ধরলেন চিফ প্রসিকিউটর by রাশিম মোল্লা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রথমদিনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছাড়াও বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডসহ সব অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ হাসিনা। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা ছিলেন তার সহযোগী।

ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তাজুল ইসলাম আদালতকে বলেন, গত ১লা জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-জনতা কর্তৃক সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সমগ্র দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ কর্মসূচি, কমপ্লিট শার্টডাউনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়। উক্ত কর্মসূচি থেকে তৎকালীন সরকারের প্রতি কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতি সংস্কারের জোর দাবি জানানো হয়। উল্টো আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার হীন উদ্দেশ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ই জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সংম্মেলনে আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য নির্দেশ দেন। ভিন্নমত দমন করার উদ্দেশ্যে প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ১৪ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার নির্দেশনা প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকতার নীতির বাইরে গিয়ে কিছু গণমাধ্যমকর্মী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে রাজাকার, সন্ত্রাসী এবং তাদের আন্দোলনকে তাণ্ডব আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে নানান প্রশ্নের নামে প্ররোচনা ও উস্কানি প্রদান করে। গণমাধ্যমকর্মীদের উক্ত প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি বলে তিরস্কার করে প্রকারান্তরে তাদের প্রতিহত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ও আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গসংগঠন ও তাদের জোটভুক্ত ১৪ দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়।
অভিযুক্ত সাবেক সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি একই উদ্দেশ্যে প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা প্রদান করেন। অভিযুক্ত ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনকারী প্রতিহত করার জন্য ‘ছাত্রলীগ-ই যথেষ্ট’। তিনি আরও বলেন, কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলি করা হবে ‘শুট অ্যাট সাইট হবে’। অভিযুক্ত তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ‘মাদকাসক্ত’ বলে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালাতে প্ররোচনা ও উস্কানি দেন। তিনি ছাত্র-জনতার ওপরে নির্বিচারে গুলি বর্ষণকে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার জন্য বলেন যে, সরকার যদি প্রত্যেক সেকেন্ডে রাবার বুলেট ছোড়ে, তারপরও পাঁচ বছর লাগবে শেষ হতে। অভিযুক্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে জানমাল অনিশ্চয়তায় পড়লে পুলিশ বসে থাকবে না। আন্দোলনের কারণে সড়কে জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশকে আমরা বলেছি, তাদের ডিমান্ড যেটা আছে, সেটা আমরা শুনবো। কিন্তু শোনারও একটা লিমিট বোধ হয় থাকে।’ এই সকল কথা বলে প্রকারান্তরে তিনি আসামিদের গণহত্যা চালাতে নির্দেশ দেন।

এছাড়াও আন্দোলনকারীদের হত্যা করে অভিযুক্ত ডিএমপি, ওয়ারী বিভাগের এডিসি ইকবাল তা মোবাইলে ধারণ করে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খান কামাল, অভিযুক্ত তৎকালীন আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অভিযুক্ত তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর হোসেনকে দেখানো হয়। সেখানে বলা হয় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা... বাকিডি যায় না স্যার’। এহেন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত অভিযুক্তগণ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালাতে প্ররোচনা ও উস্কানি দেন এবং তা বন্ধের লক্ষ্যে কোনো নির্দেশনা দেননি।

তৎকালীন আইনমন্ত্রী অভিযুক্ত আনিসুল হক ও সাবেক মন্ত্রী অভিযুক্ত দীপু মনি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রেতাত্মা উল্লেখ করে তাদের দমনে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালাতে প্ররোচনা ও উস্কানি দেন।
তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অভিযুক্ত আ.ক.ম মোজাম্মেল হক আন্দোলনকারী ছাত্র- জনতাকে দুষ্কৃতিকারী উল্লেখ করে তাদের হুমকি প্রদান করে বলেন- ‘মুক্তিযুদ্ধ করেছি, যুদ্ধ শেষে অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং কিন্তু জমা দেইনি, আমাদের চেতনা কিন্তু জমা দেইনি’ ৭১ সালে যাদের পরাজিত করেছিলাম ওই সময় তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে পারি নাই। এবার তাদের পরাজিত করলেই হবে না তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অভিযুক্ত জুনায়েদ আহমেদ পলক আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সমূলে ধ্বংস করার উদ্দ্যশ্যে পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতঃ তথ্য গোপন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা প্রদান-পূর্বক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালিয়ে যেতে প্ররোচনা দেন এবং সংঘটিত হত্যা এবং নৃশংসতা গণমাধ্যম তথা জনগণের কাছে আড়াল করতে সচেষ্ট ছিলেন।

শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ব্যাপক দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্র কায়েম করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মেগা প্রজেক্টের নামে নিজ পরিবারকে লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সুযোগ করে দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানা, শেখ ফজলুল হক সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, শেখ সোহেল, শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ শাহরান নাসের তন্ময়, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সাদিক আব্দুল্লাহ, মুজিবুল হক নিক্সন চৌধুরী, লিটন চৌধুরীসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দেশব্যাপী হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন চালাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।

অভিযুক্ত তৎকালীন আইজিপি, ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন প্রধান হারুন আর রশিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জেয়ারদার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক র‌্যাব প্রধান মো. হারুন অর রশিদ, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকীসহ আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তাগণের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও পরিকল্পনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নেননি বিধায় দেশব্যাপী মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটন দিনের পর দিন অব্যাহত থাকে।

সাবেক বিচারপতি অভিযুক্ত এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একই উদ্দেশ্যে টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত টকশোতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকারের বাচ্চা আখ্যা দেয়াসহ নানান আপত্তিকর ও উত্তেজনাকর কথা বলেন। তিনি আরও বলেন- তারা কখনোই জয় লাভ করবে না, পুলিশ অনেক ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি পুলিশকে গণহত্যা চালাতে প্ররোচনা ও উস্কানি দেন। অন্যান্য টকশোতেও তিনি একই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার আশ্রয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযুক্ত মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল আন্দোলনের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে লিখেন, এই ছাত্র-ছাত্রীরা কি জানে, তাদের যে এই দেশের মাটিতে থাকার অধিকার নেই, তিনি আরও লিখেন, আমি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাই না। ছাত্র-ছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে এরাই হয় তো সেই রাজাকার। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাইতো জীবন। সেই জীবনে আবার নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’ এই কথার মাধ্যমে তিনি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালাতে প্ররোচনা ও উস্কানি দেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শাম্স পরশ ও সেক্রেটারি মইনুল ইসলাম খান নিখিল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও ছাত্রলীগের সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান সক্রিয়ভাবে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে তাদের সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ঘাতক হেলমেট বাহিনীকে আদেশ দিয়ে এবং নিজেরা নেতৃত্বে থেকে সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় অংশগ্রহণ করে। তাদের আদেশে ঢাকাসহ সারা দেশে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রসী বাহিনী বেপরোয়াভাবে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করে ও নিপীড়ন চালায়। একইভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে একই উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যবৃন্দ, সুবিধাভোগী তথা কথিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যগণের একাংশ কর্তৃক দুষ্কর্মে সহযোগিতা বা সায় দেয় বা বিনা প্রতিবাদে মেনে নেয়  বা কার্যকর প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ না করার মাধ্যমে পরোক্ষ সমর্থন জ্ঞাপন বা পৃষ্ঠপোষকতা, তৎকালীন সরকারের সুবিধাভোগী সাংস্কৃতিককর্মী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও অতিউৎসাহী চাকরিরত/ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলাগণ বিভিন্ন বিবৃতি-বক্তৃতা, টকশো, কলাম লিখে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট ও মন্তব্য করে, উৎসাহ ও প্ররোচনা দিয়ে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে অপরাধজনক কর্মকাণ্ড করতে বা তার অধীনস্তদের অপরাধমূলক কার্যক্রমে বাধা না দিয়ে, অর্থায়ন করে, অসত্য তথ্য-উপাত্ত দিয়ে স্বৈরাচার কায়েমের লক্ষ্যে তথা কথিত উন্নয়নের ছদ্মাবরণে আর্থিকখাতে লুটপাট করে, লুটপাটের অর্থ দ্বারা গণতন্ত্রকামী মানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষাকে পদদলিত করতে ঘাতক বাহিনীর নেতৃত্বকে অর্থায়নের মাধ্যমে বলিয়ান করতে, জবাবদিহিতার আওতায় না এনে লুটপাট করার সুযোগ দিয়ে বিনিময়ে শেখ হাসিনার স্বৈরাচার সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ও সমর্থন দিয়ে সরাসরি ঘাতকের ভূমিকায় বা নেতৃত্বে থেকে বা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটিত করে।

একইভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে একই উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের হীন-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি, আনসারসহ সরকারের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, গুম এবং প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করত: নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত উক্তরূপ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়ন ঢাকা থেকে শুরু হয়ে ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। উক্ত আন্দোলনকে দমন করার অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের যৌথ সভায় দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে দলীয় সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার লক্ষ্যে উপরোল্লিখিত অভিযুক্তগণের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। একই দিনে আরও ৫ জনকে হত্যা করা হয়। উক্ত আক্রমণে দেশব্যাপী অসংখ্য সাধারণ ছাত্রীগণ যৌন নির্যাতনেরও শিকার হন।

উক্ত কোটা সংস্কারের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-জনতা কর্তৃক দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ কর্মসূচি, ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’, ‘দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। উপরোক্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দমনে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা, হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে আহত ও অগণিত ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা সরকার পতনের এক-দফা দাবিতে গণভবনের উদ্দেশ্যে গত ৫ই আগস্ট ‘লং-মার্চ টু ঢাকা’- কর্মসূচির ডাক দেয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র দেশব্যাপী সাধারণ ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং গণভবনের উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু করে। উক্ত লংমার্চ কর্মসূচি প্রতিহত করতে অভিযুক্তগণের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালায়। এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে দেশব্যাপী আপামর জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই গণঅভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট মধ্যাহ্নে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যান। অন্য অভিযুক্তরা অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা ৫ই আগস্ট গভীর রাত পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালিয়ে যায়।

এর ফলে এই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম, চিরতরে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করে এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পরে। তাদের শিক্ষা ও কর্মজীবন বিপন্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। শতাধিক শিশু এই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে নির্মম হত্যার শিকার হয় এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করেও ঘরে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হত্যার শিকার হয়। হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি। আলামত নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পৈশাচিকতার আশ্রয়ে অভিযুক্তগণ কর্তৃক শহীদদের লাশের স্তূপ করে পুড়িয়ে দেয়, লাশ গুম করে বেওয়ারিশ হিসেবে মাটিচাপা দেয়। শহীদদের পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে, ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুযায়ী লাশ দাফন/সৎকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত: তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনে শহীদ পরিবারকে বাধ্য করে এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাদের জীবন বিপন্ন করে তোলে। আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে গণঅভ্যুত্থানে আহত বা নিহত নয় মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করে। ভয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা অসুস্থ গুরুতর জখমপ্রাপ্তদের এবং পরে মৃত্যুবরণকারী শহীদদের হাসপাতালে আনার সময় বা আনার পর মৃত্যুবরণকারী আন্দোলনকারীর লাশ হাসপাতালে রেখে আত্মগোপনে যান, ফলে এ ধরনের অসংখ্য লাশ সুরতহাল রিপোর্ট বা ময়নাতদন্ত ব্যতিরেকেই বে-ওয়ারিশ হিসেবে বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে শহীদ আন্দোলনকারীর মৃত্যুর বৃত্তান্ত হাসপাতালের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ না করেই পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ দলীয় দুর্বৃত্তদের হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য লাশ নিয়ে চলে যান।

লাশবাহী এবং আহত রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স ভাঙচুর করে গণসমাগমে বাধা প্রদান করে। আহতদের হাসপাতাল থেকে এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জানাজারত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। আন্দোলনরত জনতাকে নির্মূল করতে অভিযুক্তদের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করে।

অভিযুক্তদের নির্দেশে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য গোপন রেখে ভীতি ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলন দমনে চেষ্টা করে। বিগত সরকারের কতিপয় আজ্ঞাবহ সংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্ররোচনায় ইলেকট্রনিক/প্রিন্ট মিডিয়া জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ করে গণহত্যায় উস্কানি দেয় এবং সঠিক তথ্য জানতে বাধাগ্রস্ত করে। অভিযুক্ত তৎকালীন আইজিপি, ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক র‌্যাব প্রধান মো. হারুন অর রশিদ, সাবেক এনটিএমসি প্রধান সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অব. মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আন্দোলন দমন করার অভিপ্রায়ে আন্দোলনরত নাহিদ ইসলাম ও আসিফ ভূঁইয়াসহ ছয় (৬) জন সমন্বয়ক ছাত্রনেতাসহ অনেককে বেআইনিভাবে ডিবি কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আটক করে রেখে তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে।

অভিযুক্তদের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় আন্দোলন দমন করার জন্য সারা দেশে ২৮৬ টি মিথ্যা মামলায় সাড়ে ৪ লাখ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে আসামি করে, তার মধ্যে ১২ (বার) হাজার আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রেখে তাদের মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সাবেক সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আমলা, বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ একই উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায়ে উপরোল্লিখিত অপরাধসমূহ সংঘটনে হুকুম প্রদান, অনুমতি ও সম্মতি প্রদান, প্রচেষ্টা, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, উস্কানি প্রদানসহ অধীনস্তদের নিয়ন্ত্রণে অথবা অপরাধ কর্মে বাধা প্রদানে ব্যর্থতা এবং নির্লিপ্ততার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় অংশগ্রহণ করে।

mzamin

গ্যাস চেম্বার দিল্লি, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত

শীত পড়তেই কুয়াশা নয়, ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিল্লি। বাতাসের গুণমান ‘ভয়াবহ’। বিশ্বের সবথেকে দূষিত শহরের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে দিল্লি। এই অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাও অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন। কেবলমাত্র দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা পঠনপাঠনের জন্য স্কুলে আসবেন। দিল্লির সবথেকে দূষিত জায়গাগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জাহাঙ্গীরপুরী। সেখানে বাতাসের গুণগত মান ৪৫৮। এরপরে রয়েছে বাওয়ানা, সেখানে বাতাসের গুণগত মান ৪৫৫। ওয়াজিরপুরেও বাতাসের গুণগত মান ৪৫৫ রয়েছে। দিল্লির রোহিনীতে বাতাসের গুণগত মান ৪৫২ রয়েছে। পঞ্জাবী বাগে বাতাসের গুণগত মান ৪৪৩। ঘন কুয়াশার সঙ্গে দূষণ, গোটা দিল্লিই কার্যত ধোঁয়াশার চাদরে মুড়ে গিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় দৃশ্যমানতা কমে শূন্যে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে যান চলাচলে। বিমানও দেরিতে উড়ছে। দিল্লির রুটে অধিকাংশ ট্রেনই কমপক্ষে ২ ঘণ্টা দেরিতে চলছে।

এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন অতিশী। সেখানে লেখা হয়েছে—দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণি ছাড়া বাকিদের স্কুলে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এই শিক্ষার্থীদের  জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চলবে বলে জানানো হয়েছে। রবিবারই কেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ দিল্লি এনসিআরে দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে। এর পরেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের  জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল বন্ধ করার পাশাপাশি অত্যাবশ্যক পরিষেবা ছাড়া   দিল্লিতে নিবন্ধিত পুরানো ডিজেল মাঝারি এবং ভারী মালবাহী ট্রাকগুলি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ ও নয়ডাতেও এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। জরুরি দরকার ছাড়া ডিজেল জেনারেটরও ব্যবহার করা যাবে না। কাঁচা রাস্তায় ভারি যান চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রঙ করা, সিমেন্ট, প্লাস্টার ও গ্যাস কাটিংয়ের মতো কাজেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে জয়ের পরই জয়ী প্রার্থী অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে জয় পাওয়ার এক দিন পরেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন কিয়ের স্টারমার। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি একটু ভিন্ন। ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন রিপাবলিকান নেতা ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতা পেতে ট্রাম্পকে অপেক্ষা করতে হবে ৭৬ দিন। কিন্তু কেন?  ভয়েস অব আমেরিকার এক খবরে বলা হয়েছে, অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রের মত বৃটেনের বিরোধীদল একটি ‘ছায়া সরকার’ গঠন করে, যার মাধ্যমে তারা নির্বাচনে জয়ের পরই ক্ষমতা গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেই। আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়। তাকে সরকারের বিশাল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করতে হবে। প্রায় সাত লাখ কোটি ডলার বাজেটের এই প্রশাসনে ৩৫ লাখ বেসামরিক এবং সামরিক লোক কাজ করে, যাদের মধ্যে হাজার হাজার লোককে নিয়োগ করবেন নতুন প্রেসিডেন্ট।

সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রান্সিশন-এর সভাপতি ভ্যালেরি স্মিথ বয়েড বলেছেন, দেশ শাসনের জন্য প্রস্তুত হওয়াটা এক বিশাল কাজ। এক প্রেসিডেন্ট থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়কে বলা হয় ট্রান্সিশন পিরিয়ড। নভেম্বরে নির্বাচনের দিন থেকে জানুয়ারিতে ইনোগুরেশন বা অভিষেক দিবস পর্যন্ত জটিল ১১টি সপ্তাহ হচ্ছে আমেরিকার গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর। এই সময়টার কাজ হচ্ছে এক প্রশাসন থেকে আরেক প্রশাসনের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা দায়িত্ব নেয়ার পর যাতে প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করতে পারেন। এমনটাই জানিয়েছেন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ১৪ নর্থ স্ট্রাটেজিস-এর পরিচালক মাইকেল শুরকিন। তিনি ২০০৮-০৯ সালে জর্জ বুশ থেকে বারাক ওবামার ট্রান্সিশনের সময় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর বিশ্লেষক ছিলেন।

ইতিহাসবিদ রাসেল রাইলির মতে, আমেরিকার ইতিহাসের অধিকাংশ সময় জুড়ে ট্রান্সিশন সময়টাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতো না। ট্রান্সিশন পিরিয়ডটাও এক সময়ে চার মাস পর্যন্ত লম্বা ছিল। এই ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রান্সিশন কথাটার প্রথম উল্লেখ ১৯৪৮ করা হয় বলে রাইলি চিহ্নিত করেছেন। তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় যুক্তি দেখান যে, প্রথম দিন থেকেই বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নতুন প্রেসিডেন্ট এবং তার টিম প্রস্তুত না থাকার ঝুঁকির কারণে এই প্রক্রিয়া ১৯৬০-এর দশকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

বর্তমানে, ট্রান্সিশন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার পেছনে যেমন রয়েছে ঐতিহ্য এবং রীতি, তেমনি আছে আইন এবং নিয়মাবলী। যেমন, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যে হোয়াইট হাউসে বৈঠক। এই ঐতিহ্য শুরু করার জন্য প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানকে কৃতিত্ব দেয়া হয়। ট্রুম্যান ১৯৫২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তার তিক্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এই উদাহরণ পরবর্তী সব প্রেসিডেন্ট অনুসরণ করেছেন, শুধু ট্রাম্প ছাড়া। ট্রাম্প ২০২০ সালে পরাজিত হওয়ার পর প্রতিপক্ষ জো বাইডেনকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ করেননি।

নির্বাচনের ছয় মাস আগে, প্রেসিডেন্ট একটি ট্রান্সিশন সমন্বয় কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিটি ফেডেরাল সংস্থা বা এজেন্সি একটি করে ট্রান্সিশন পরিচালক নিয়োগ করে। সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এজেন্সি প্রধানদের সকল অস্থায়ী কর্মীদের পরিবর্তন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে। অক্টোবর মাসের ১ তারিখের মধ্যে, জেনেরাল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ), যারা ফেডেরাল সরকারের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তদারকি করে, ট্রান্সিশন টীমের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে তাদের অফিস এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। যদিও এগুলো সাম্প্রতিক সময়ে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আমেরিকান ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় জুড়েই এক প্রেসিডেন্ট থেকে আরেক প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়মমাফিক ছিল।

গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) বাইডেন ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ করেন, যেখানে তারা ক্যামেরার জন্য পোজ দেন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ট্রান্সিশনের অঙ্গীকার করেন। হোয়াইট হাউস তাদের বৈঠককে ‘খুবই সৌহার্দপূর্ণ, খুবই শোভন এবং কার্যকর’ বলে বর্ণনা করে। তবে হোয়াইট হাউসে দেখা-সাক্ষাৎ নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মূল কাজ না। তিনি যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন তার মধ্যে আছে- নতুন প্রশাসনে লোক নিয়োগ করা। সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রান্সিশন অনুযায়ী, নতুন প্রশাসনকে চার হাজারের বেশি পদ পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ১,২০০জনকে সেনেটে অনুমোদন পেতে হবে। যাদের রাজনৈতিক ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার আগে বা ইনোগুরেশনের দিন পদত্যাগ করেন। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য সময় এবং সম্পদ প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক পদের জন্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে, তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়।

mzamin

গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত আরও ৩৪

ফিলিস্তিনের উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া অঞ্চলের আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, বার্তা সংস্থা এএফপি’কে উদ্ধৃত করে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, নিহতের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী এবং শিশুও রয়েছে। এখনও কয়েক ডজন মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। নিহতের পাশাপাশি আরও সাতজন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বিভাগ বলছে উল্টো কথা। তাদের দাবি উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার হামাসের একটি অ্যাপার্টমেন্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। অন্যদিকে মধ্য গাজার আরও তিনটি স্থানে ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ইসরাইল শরণার্থী শিবিরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যাতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাফায় ইসরাইলের ড্রোন হামলার আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরাইলের ক্রমাগত হামলার ফলে এসব অঞ্চলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল। বেইত লাহিয়ার যেসব এলাকায় আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে সেগুলো সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংস হওয়া ভবনের একটিতে এক ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে বাস করতেন। তবে সেসময় তারা বাইরে অবস্থান করায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এএফপি’কে ওই ব্যক্তি বলেছেন, আমরা সবাই ভাবছিলাম মৃত্যু আমাদের কত নিকটে। ইসরাইলের বোমার আঘাতে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইসরাইল বলছে তারা যে অভিযান শুরু করেছে তা গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া থেকে বেইত লাহিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। রোববার রাতভর হামাস নির্মূলের নামে এসব হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে তারা বিস্তৃত যুদ্ধাঞ্চল থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণা জারি করার পরও বহু পরিবার তাদের বাসভবনে অবস্থান করায় হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। বেইত লাহিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে ছয়টি পরিবারে বসবাস ছিল বলে জানিয়েছেন বাসাল।

ভুক্তভোগী এক নারী বিবিসি’র কাছে হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। ইসরাইলিদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা তোমাদের কি করেছি? আমরা তোমাদের কোন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ভুল কোথায়? আমরা আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছি, কেন তোমরা আমাদের উচ্ছ্বেদ করতে উঠে পড়ে লেগেছ? কথাগুলো বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই নারী। গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার ফলে গত পাঁচ সপ্তাহে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, শেষ কয়েক সপ্তাহে জাবালিয়া, বেইত লাহিয়া এবং বেইত হনউন এলাকার অন্তত ৭৫ হাজার মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলের এক বিমান হামলায় ২৫ জন মানুষ নিহত হয়েছেন যার মধ্যে ১৩ শিশুও ছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মাস ধরে হামাস-ইসরাইলের সংঘাত চলছে। এসময়ের মধ্যে ইসরাইলি হামলায় ৪৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ।

mzamin

রাশিয়ায় হামলা চালাতে ভারী মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পেল ইউক্রেন

রাশিয়ার গভীরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই এ অনুমতি দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে প্রথম মার্কিন নীতির পরিবর্তন করলেন বাইডেন। রোববার মার্কিন দুই কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ইউক্রেনের মাটিতে গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভারী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূর পাল্লার ভারী অস্ত্রের ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে ইউক্রেন। সূত্র বলছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই ইউক্রেনকে এমন দূর পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সূত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস আগে ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিল বাইডেন প্রশাসন। জানুয়ারির ২০ তারিখে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করবেন ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যেই সকল যুদ্ধ থামানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ইউক্রেনকে মার্কিন সহায়তার যে নীতি রয়েছে তাতে পরিবর্তন আনতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে সহায়তা অব্যাহত রাখার উপর জোর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে ইউক্রেন নীতিতে পরিবর্তনের যে সম্ভাব্যতা রয়েছে সে দিকটি আমলে নিয়েই হয়ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দূর পাল্লার ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বাইডেন। যুদ্ধের পর থেকেই এমন অনুমতির প্রত্যাশী ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে এতদিন তার আবেদনে সায় দেননি জো বাইডেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যাতে মস্কোকে নিয়ে সংশয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এক সূত্র বলছে, রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়েও উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে অনুমতি পেয়েই রাশিয়াকে কড়া বার্তা দিয়েছে জেলেনস্কি। রোববার সন্ধ্যায় এক বার্তায় তিনি বলেন, এসব অস্ত্র তাদের (রাশিয়া) বিরুদ্ধে কথা বলবে। তিনি আরও বলেন, আজ বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে আমরা তাদের পাল্টা জবাব দিতে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি। তবে এসব কথা দিয়ে হামলা হয় না, এটা এমন বিষয় যা বলে কয়ে হয় না। ইউক্রেনকে অনুমতির বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিনও এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। তবে তারা সতর্ক করেছে যে, ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সীমা শিথিল করা উচিত নয়।

mzamin