Tuesday, June 10, 2014

‘হেট স্টোরি ২’-তে রগরগে সুরভিন

‘হেট স্টোরি’ ছবিতে নগ্ন ও রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি সেক্সবোম্ব অভিনেত্রী পাওলি দাম। বিক্রম ভাট প্রযোজিত এ ছবিতে পাওলি এতোটাই আপত্তিকর দৃশ্যে কাজ করেছিলেন, যে কারণে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড কয়েক ধাপে এর কিছু দৃশ্য কর্তন করে। কর্তনের পরও পাওলি এ ছবির মাধ্যমে নগ্ন হয়ে যে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বলিউডের কম অভিনেত্রীই পেরেছেন। ফলাফলও ছিল প্রত্যাশা মতো। ছবিটি বলিউড বক্স অফিসে ১৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যবসা করে। এদিকে এবার বিক্রম ভাট ছবিটির সিকুয়্যাল তৈরি করছেন। এরই মধ্যে বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে ছবির। এ ছবিতে এবার পাওলির পরিবর্তে অভিনয় করছে দক্ষিণ ভারত ও পাঞ্জাবি ছবির জনপ্রিয় মুখ সুরভিন চাওলা। আর এ ছবিতে নগ্নতার দিক দিয়ে পাওলিকেও ছাড়িয়ে যেতে দেখা যাবে এ নায়িকাকে। এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে ভাটদের পক্ষ থেকে। এ ছবিতে একাধিক বিছানাদৃশ্যে কাজ করতে দেখা যাবে সুরভিনকে। অভিনেতা ভানুসালির সঙ্গে সুরভিন এসব দৃশ্য নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে এ ছবিতে সুরভিনের রগরগে দৃশ্য সম্বলিত একটি গানও প্রকাশ করা হয়েছে। ‘আজ ফির তুমপে পেয়ার’ শিরোনামে অরিজিতের গাওয়া এ গানটিতে অনেকটাই নগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে সুরভিনকে। পাশাপাশি অভিনেতা ভানুসালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। সব মিলিয়ে ছবিতে পাওলির চেয়েও আবেদনময়ী সুরভিনকে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক বিক্রম ভাট। সুরভিন এর আগে বেশ কিছু পাঞ্জাবি ও দক্ষিণ ভারতের ছবিতে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি টিভি নাটকও করেছেন। বলিউডে এর আগে তিনটি ছবি করলেও আলোচনায় আসতে পারেননি তিনি। তবে এবার ‘হেট স্টোরি-২’ ছবিটি মুক্তির আগেই সুরভিন আলোচনায় চলে এসেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন,  বিক্রম ভাটের ছবিতে কাজ করার স্বপ্ন সব অভিনেত্রীরই থাকে। আমারও ছিল। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখানে আবেদনময়ীরূপেই আমাকে পাওয়া যাবে। এরকম চরিত্র করতে গিয়ে পোশাকবিহীন কিছু দৃশ্য করতে হয়েছে। তবে এটা চরিত্র অনুযায়ী আমার কাছে অতিরিক্ত মনে হয়নি। কারণ, সেক্স দৃশ্য করতে গেলে এমনটা হতেই পারে। আমি ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী। দেখা যাক কি হয়।

শিলার রুম ডেটের ফাঁদ চট্টগ্রামে by মহিউদ্দীন জুয়েল

ফোনে কথা বলে বাসায় রুম ডেট করার ফাঁদে ফেলে শিকার ধরতো সুন্দরী শিলা। তার মন ভোলানো কথায় বহু যুবক পা দিতেন ভয়াবহ ফাঁদে। কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ানক তা যখন টের পেতো তখন কিছুই করার আর থাকতো না। শিলার ফাঁদে পড়ে এমন বহু যুবক হয়েছে নিঃস্ব। অনেকেই তার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে গোপনে মাসের পর মাস দিতেন লাখ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে ফাঁদে ফেলা একটি চক্রকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চক্রটি এতটাই কৌশলী, যে কোন ঘটনা ঘটাতো খুব নীরবে। মূলত ব্যবসায়ীরা ছিলেন তাদের টার্গেট। এরপর একে অন্যান্য পেশার লোকজনকেও ফাঁদে ফেলতো তারা।

ব্ল্যাকমেইলিং করে প্রতিমাসে তারা আয় করতো ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। গত ৫ বছর ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে এ অপকর্ম করে আসছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সর্বশেষ থানায় মামলা হওয়ার পর গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ চক্রকে হাতেনাতে ধরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।
গতকাল সকালে তাদের থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এ দলের মূল সদস্য জোবেদা আক্তার জয়া (৪০)। সেই মেয়েদের দিয়ে চট্টগ্রামের কোটিপতি ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলতো । তার দলের অপর সদস্যরা হলো উৎপল চৌধুরী (৩৫), সাইদুল মুসলিম সাইমুন (৩০), আতিকুর রহমান সোহেল (২৬) ও সুমনা আক্তার শিলা (১৮)। এদের মধ্যে শিলা ও আতিক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। আর প্রধান হোতা জোবেদা আক্তার হলো শিলার মা।
এরা যে বাড়িতে এসব অপকর্ম করতো তা ছিল শহরের ৩৬নং কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায়। সেখানকার রোড ০৫, পূর্ব নাসিরাবাদ, ষোলশহরের বাড়িতে ছিল তাদের গোপন অভিসারের জাল।
শিলা ফোন করতো শহরের বিভিন্ন ধনাঢ্য ও টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের। একবার, দু’বার। এভাবে বারবার ফোন করার পর একসময় তার কাছে বাধ্য হয়ে ধরা দিতো অনেক যুবক। শিলার সঙ্গে রাতের পার রাত তাদের হতো প্রেমের আলাপ। বিবাহিত শিলা পুরুষদের বোকা বানাতো খুব সহজেই। তাদের আকর্ষণ করে এমন সব কথাবার্তা বলে মানসিকভাবে তার প্রতি দুর্বল করে দিতো মুহূর্তেই।
ফোনে এসব কথা শোনার পর যে কোন পুরুষই তার সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতো। শিলা তাদের জানাতেন এভাবে ফোনে কথা বলতে তার ইচ্ছে হয় না। তাই বাসায় যখন কেউ থাকবে না তখন যেন সোজা চলে আসেন।
কসমোপলিটনের ওই বাড়িতে একবার কেউ শিলার মন ভোলানো কথায় পা দিলে মানসম্মান নিয়ে ফিরে আসতো পারতো না। কেননা, আগে থেকেই সেখানে গোপন ক্যামেরার ফাঁদ ফেলে রাখতো জোবেদা, উৎপল, সাইমুন আর আতিক। বিষয়টি টের পেয়ে গেলে অস্ত্রের মুখে লোকজনকে ছবি তুলতে বাধ্য করতেন এ চক্রের সদস্যরা। এরপর শুরু হতো মানসিক নির্যাতন।
ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মুহূর্তেই আদায় করতেন দুই থেকে তিন লাখ টাকা। যারা টাকা দিতে পারতেন না তাদের ফোন করাতে বাধ্য করতেন পরিবারের সদস্যদের কাছে। অনেকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে বন্ধুদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতেন।
পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানায়, সর্বশেষ এ চক্রের হাতে নিঃস্ব হয়ে থানায় মামলা করেছেন আকছির উদ্দিন মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। মামলার আগে মোবাইল ফোনে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রুম ডেট করার প্রস্তাব দেয় শিলা। এ ব্যাপারে আকছির উদ্দিন ।
তিনি জানান, শিলার মিষ্টি কথায় তিনি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কখনোই বুঝতে পারেননি তা ছিল ফাঁদ। গত ২০শে মে রাত ৮টায় ৩৬নং কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার বাসায় গিয়ে আটকা পড়েন তিনি। চক্রটি বিবস্ত্র অবস্থায় সুমনা আকতার শিলার সঙ্গে তার নগ্ন ছবি ভিডিও করে। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।
একপর্যায়ে আকছির উদ্দিনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। সামাজিক চক্ষুলজ্জার ভয়ে আকছির তার দুই বন্ধুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মুহূর্তে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। পরদিন ভোর ৬টায় তাকে বাড়ি থেকে মুক্ত করে দিয়ে বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। আকছির উদ্দিন বিষয়টি জানাতে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে গতকাল পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে জানান থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আজিজ আহমেদ। বলেন, ‘এই চক্রটি অনেক লোককে ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে অপকর্ম করতো। অনেক লোক বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। শেষমেশ মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ওরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সহজ সরল অনেক মানুষকে তারা বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে জোর করে নগ্ন করতো। পরে তা ভিডিও করতো। এতে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে কেউই মুখ খুলতো না। সবাই বিষয়টি টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিতে রাজি হতেন। আর এই দুর্বলতার সুযোগটিই নিতো ওই সিন্ডিকেটটি।’

টানাপোড়েন নিরসনে ইরানি প্রেসিডেন্ট তুরস্কে

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তুরস্কে সোমবার তার যুগান্তকারী সফর শুরু করেছেন। সিরিয়ার যুদ্ধ বিষয়ে দুদেশের তীব্র মতানৈক্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও উভয় দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা গুল ও প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী উভয় দেশ নিরাপত্তাসহ বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে শিয়া ও সুন্নির প্রভাব নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। এছাড়া সিরিয়ার যুদ্ধ নিয়েও দুদেশের অবস্থান দুদিকে। শিয়া প্রভাবাধীন ইরান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থক। অপরদিকে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ তুরস্ক সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট: বর্মি-পাকিস্তানি পাঠ

মিয়ানমারের পার্লামেন্টেও প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে যখন ভোটাভুটি হলো, পাকিস্তানের  মতো দেশেও যখন প্রথমবারের মতো সামরিক বাজেটের খরচাপাতি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো, তখন আমাদের অর্থমন্ত্রী প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য মাত্র সাতটি বাক্য খরচ করেছেন৷ একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘দ্য ডেভিলস ইন দ্য ডিটেইলস৷’ আমেরিকায় এ নামে চলচ্চিত্রও হয়েছে৷ এর মানেটা দাঁড়ায়, সং‌েক্ষপের মধ্যে সরষের ভূতটা লুকিয়ে থাকে, বিস্তারিত হলে ভূতটা বেরিয়ে পড়ে৷ ১৯৮৮-পরবর্তী ২৩ বছরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে৷ কিন্তু সেই শুরুতে যেভাবে দু-এক ছত্রে প্রতিরক্ষা বাজেটের ‘বিবরণ’ লেখা ​হতো, এখনো তা-ই চলছে৷ অথচ দেশে একটি তথ্য অধিকার আইন আছে৷ গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ১৫,১৮০ কোটি টাকা৷ এবারে শতকরা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৬,৪৬২ কোটি টাকা (২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার)৷ ‘শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াও, সামরিক খাতে ব্যয় কমাও’—এমন দেয়াললিখন এখন তেমন দেখা যায় না৷ এবারের অনুন্নয়ন বাজেট ১,৬৮,৬৯৯ কোটি টাকার৷ এতে ঘোষিত মতেই শিক্ষা-প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য বাজেট একত্র করলে তবে তা প্রতিরক্ষা বাজেটকে মাত্র ৬ শতাংশ টপকাতে পারে৷ ২০০৩ সালে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন দিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির নিন্দা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, ‘এটা এতটাই বেশি যে, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় যেখানে ব্যাপকতর বিনিয়োগ দরকার, সেখানে উপযুক্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না৷’ সামরিক ব্যয়ের তুলনা করাটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার৷ কে, কেন, কখন, কীভাবে করছেন, সেটা মুখ্য৷ অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, এটা ঠিক যে, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের মাথাপিছু সামরিক ব্যয়ের তুলনায় ভারত পিছিয়ে৷ কিন্তু সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাজেট এখনো ঢাউস৷ ‘মাথাপিছু ব্যয় মনে রেখে আপনার যুদ্ধ করার দরকার নেই৷ পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের সামরিক ব্যয় অনেক বেশি৷ কনভেনশনাল অস্ত্রে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব থাকাটা ইসলামাবাদের উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে৷’
অমর্ত্য সেন সেই সঙ্গে স্মরণ করেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বের প্রথম দরিদ্র দেশ, যারা গণতন্ত্র বরণ করেছে৷ এবং মোটামুটি চালিয়ে নিচ্ছে৷’ বাংলাদেশকে এখনো বিশ্বের দরিদ্রদের (১৭ শতাংশ লোক চরম দরিদ্র) অন্যতম ধরা হয়৷ কিন্তু মূল প্রতিরক্ষা নিরাপত্তাবর্ম গণতন্ত্র কতটা আছে, তা তর্কসাপেক্ষ৷ বাংলাদেশের দুই নিকটতম প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার৷ একটিতে গণতন্ত্র ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দুই–ই আছে৷ আর সেনাশাসিত মিয়ানমারও গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে৷ ১ মার্চ ২০১৩ থাইল্যান্ডভিত্তিক দি ইরাবতি সাময়িকীর অনলাইন প্রতিবেদন দেখে থ হওয়ার জোগাড়৷ বলে কী, অং সান সু চি না আসতেই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট পাস হয়েছে৷ উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ অধিবেশনে ৪৪৫ জন এমপি প্রস্তাবিত বাজেটের পক্ষে, ৬০ জন বাজেট কমাতে এবং সাতজন ভোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন৷ সেখানে বিরোধী দল প্রতিরক্ষা বাজেটের সমালোচনা করেছে৷ (মিয়ানমারে মোট বাজেটের মধ্যে শিক্ষায় মাত্র ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ {বাংলাদেশের সমান}) ব্যয় বরাদ্দ মিলেছে৷ উপরন্তু, এয়ারক্র্যাফট কিনতে ২০০ মিলিয়ন ডলার, হালকা অস্ত্র কিনতে এক মিলিয়ন ডলার খরচেরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে৷ আমাদের এখানে ‘গৃহপালিত’ বা সরকারের চরম বিরোধী দলও ভাশুরের নাম মুখে আনে না৷ বাংলাদেশে আবুল মাল আবদুল মুহিত কেবল বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও আধুনিক রণসরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে৷’ এটা তো স্বচ্ছতা নয়৷ মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধানমতে পার্লামেন্টের শতকরা ২৫ ভাগ আসন সামরিক বাহিনীর৷ এটা দেখে কোনো বঙ্গদেশীয় গণতন্ত্রীদের আফসোস করার কিছু নেই৷ কারণ, মিয়ানমারে বিরোধী দলের একজন এমপি বলেছেন, কতিপয় সামরিক এমপি তাঁদের এই বলে একা‌েন্ত অনুরোধ করেছেন যে, ‘আপনারা সামরিক বাজেট হ্রাসে চাপ দেবেন না৷ কারণ, প্রতিবেশীদের তুলনায় ইতিমধ্যে এটা কমে গেছে৷
 এর অর্থ বর্মি সামরিক বাহিনীও বোঝে আজকের যুগে এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়৷ লুকোছাপার বিষয় নয়৷ পাকিস্তান সিনেটের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত কমিটি গত ২০ মে সামরিক বাজেট সম্পর্কে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে৷ ইতিহাসে এই প্রথম৷ সেখানে এমন সব খুঁটিনাটি তথ্য বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়, যা এত দিন জাতীয় নিরাপত্তার নামে গোপন রাখা হতো৷ বাংলাদেশের সামরিক খাতে ব্যয় নাকি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যদের তুলনায় কম৷ কারও মতে, এটা তাদের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম৷ এবারে দেখলাম, পাকিস্তানি মুখপাত্র দাবি করেছেন যে ‘পাকিস্তানের সামরিক ব্যয় এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্নে৷’ কে, কীভাবে তুলনা করে মাথা চাপড়াবে, তা সত্যি এক ধাঁধা৷ ভারতের এবারের সামরিক বাজেট ৩৭ বিলিয়ন ডলার৷ এই টাকাটা বাংলাদেশের এবারের উচ্চাভিলাষী কিংবা লক্ষ্য​িবলাসী বাজেটের চেয়ে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি৷ বাংলাদেশের মোট জাতীয় বাজেটের অঙ্কটা ৩২ বিলিয়ন ডলারের কম৷ আবার চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট ভারতের তুলনায় তিন গুণের বেশি৷ এটা ১১৫ বিলিয়ন ডলার৷ পাকিস্তান সেই দেশ, যারা গণতন্ত্র ভুলে ছিল৷ ‘ঘাস খাওয়ার শপথ’ নিয়ে পারমাণবিক বোমা বানিয়ে শৌর্যবীর্যে মজে ছিল৷ তারা এখন বলছে, ‘সামরিক স্থাপনা যেখানে যেমন আছে, তার রক্ষণাবেক্ষণ করতেই টাকা ফুরায়৷ আমরা এত অল্প টাকায় যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ইত্যাদি কিনতে পারি না৷’ গত মাসে ঘোষিত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার৷ এটা তুরস্কের বাজেটের এক-চতুর্থাংশ৷ পাকিস্তানি মুখপাত্রের কথায় এবারে তাঁদের ‘লেজ’ দীর্ঘতর হয়েছে৷ কিন্তু দাঁত খর্ব হয়েছে৷ দাঁত হলো যুদ্ধাস্ত্র৷ মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের ২২ শতাংশ দিয়ে গত বছরে তারা অস্ত্র কিনেছিল৷ বাকিটা ছিল অন্যান্য খরচ৷ এবারে এটা ১ শতাংশ কমে ২১ শতাংশ হয়েছে৷ সেনাবাহিনী  (নৌ ও বিমান ব্যতিরেকে) মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের ৭০ শতাংশ পায় বটে; কিন্তু ৬৩ শতাংশই খরচ করে বেতন-ভাতায়৷
আমাদের প্রতিরক্ষা বাজেটের কত শতাংশ ‘দাঁতে’ আর কতটা ‘লেজে’ খরচ হবে, তা বোঝার উপায় নেই৷ রাশিয়ার কাছ থেকে আট হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র কেনা হলো৷ কিন্তু তার অর্থসংস্থান কোথায়, কীভাবে হবে, আমজনতা সেটা বাজেটের পাতা উল্টিয়ে হদিস পাবে না৷ ভারতের বাজেটেও ওই ‘দাঁত’ ও ‘লেজের’ তথ্য পরিষ্কার৷ ‘দাঁতে’ ব্যয় আগের বছরের চেয়ে এবারে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৫ হাজার ৭৭৯ কোটি রুপি ধার্য করা হয়েছে৷ সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো, কোন বাহিনী কী ধরনের সমরাস্ত্রে কত খরচ করবে, তাও প্রকাশ করা হয়েছে৷ যেমন এয়ারক্র্যাফট কিনতে এই অর্থবছরে সেনাবাহিনী প্রায় ২,১২৮ কোটি রুপি, নৌবাহিনী ৩,৩৩০ কোটি রুপি ও বিমানবাহিনী ১৬,২৭১ কোটি রুপি ব্যয় করবে৷ এভাবে খাতওয়ারি অনেক কিছুই স্পষ্ট৷ এবারে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে একটি ভালো তথ্য দিয়েছেন৷ বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষানীতি বর্তমানে চূড়ান্তকরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে৷’ কিন্তু এটা তো ঠিক গোপনীয় বিষয় হওয়ার নয়৷ সরকারি ঘোষণার বিষয় নয়৷ জনগণের একধরনের কার্যকর অংশগ্রহণ তো লাগবে৷ আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ মুখে বলেন ঠিকই পাল্লা দেওয়া পোষাবে না, কিন্তু টাকার অঙ্কের দিকে চোখ বড় করে তাকালে, প্রধানত আশপাশের দেশের দিকে দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করাতে তাঁদের বাধে না৷ আমরা এটাও দেখব যে ভারত তার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ১ দশমিক ৭৯ শতাংশে সীমিত রেখেছে৷ এটা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে৷ (নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১০ মার্চ ২০১৩) আওয়ামী লীগের প্রবণতা হলো প্রতিরক্ষা বাজেটকে শুধুই ঊর্ধ্বমুখী করা৷ এবারে প্রস্তাব করা হয়েছে জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ৷ পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়ের অনুপাত যদি তাদের জিএনপির (গ্রস ন্যাশনাল প্রোডাকশন) হিস্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে সেটা হবে অবশিষ্ট বিশ্বের গড় সামরিক ব্যয়ের দ্বিগুণ৷ বহুকাল ধরে পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে বিরুদ্ধ স্রোতের যাত্রী৷ তার অর্থনীতিতে এই গোঁয়ার্তু​িম কুলায় কি না, সেটা বুঝতে তারা মগজ খাটাতে চায়নি৷
পাকিস্তান জিএনপির ৬ শতাংশ ও ভারত তার জিএনপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষায় খরচ করে৷ পাকিস্তানি গবেষকসোহেল মাহমুদ ২০০৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বইয়ে (গুড গভর্ন্যান্স রিফর্ম এজেন্ডা ইন পাকিস্তান) মন্তব্য করেন যে, ‘দুটি দেশই সামরিক খাতে অনেক বেশি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ঢের কম খরচ করে৷ মানব উন্নয়নের তুলনায় এই অবস্থা তাদের, এমনকি আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে দিয়েছে৷’ মাহবুব উল হক বলে গিয়েছিলেন, যেহেতু পাকিস্তান সব সময় ভারতের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক ব্যয় বাড়ায়, তাই তারা এটা থেকে সহজে বেরোতে পারবে না৷ ইদানীং উল্লিখিত ‘দ্য ডেভিলস ইন দ্য ডিটেইলস’ কথাটির ভিন্ন সংস্করণ বেরিয়েছে৷ এখন বলা হচ্ছে, গভর্নিং ইজ ইন দ্য ডিটেইলস৷ কিংবা দ্য ট্রুথ ইজ ইন দ্য ডিটেইলস৷ এবারের বাজেট ডকুমেন্টসের ওজন সাত কেজির বেশি৷ এতে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য অর্থমন্ত্রী তাঁর ১৬৩ পৃষ্ঠার বক্তৃতায় সাতটি বাক্য খরচ করেছেন৷ সাতটি বাক্য প্রতিরক্ষা খাতের স্বচ্ছতা সূচক কি না, সেটা মনে প্রশ্ন জাগায়৷ বাজেট-পরবর্তী সাংবাদ সম্মেলনে এ রকম চেপে যাওয়ার প্রশ্ন তোলা হলে তিনি উত্তরটাও চেপে যান৷ খুব সরল প্রশ্ন করব, পাকিস্তান ও মিয়ানমার যদি তাদের সামরিক বাজেটের বিস্তারিত তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ করতে পারে, সংসদে ভোটাভুটি করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের কী হয়েছে? আশা করব, প্রতিবেশীদের দেখে হলেও অবিলম্বে প্রতিরক্ষা বাজেটের বিষয়ে একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে৷ সংসদে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রশ্নে বিস্তারিত আলোচনা হবে৷
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

জনগণের দৃষ্টি এখনো নারায়ণগঞ্জ-ফেনীতেই আছে

ওসমান পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, জনগণের পাশে?
জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শোকপ্রস্তাবের ওপর দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারকে প্রয়োজনে দেখাশোনার কথা বলেছেন৷ নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে খ্যাত যে শামীম ওসমান কিছুদিন আগেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পায়ের তলায় পিষে মারার হুমকি দিতেন৷ প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুবুল হক লিখেছেন: নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ তথা সারা দেশের সাধারণ মানুষের দেখভাল করার জন্য মিডিয়া আছে না? মোর্শেদ কামাল: সরকার যখন জনগণের ভয়ে অস্থির হয়, তখন সন্ত্রাসীর ওপর নির্ভর করতে হয়। আশিক নূর: জনগণ বলতে আমরা যাদের বুঝি, সেই জনগণের কিন্তু শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার দল ছাড়া অন্য কোনো দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার সামর্থ্য নেই। তাই এই দুই নেত্রী ক্ষমতায় এসে জনগণের বিপক্ষে কোনো কথা বললেও পার পেয়ে যাবেন বলে মনে করেন৷ দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য। পরাগ রহমান: এত দিন ‘সাত খুন মাফ’ কথাটা কথার কথা হিসেবে শুনেছি। এখন দেখছি সত্যি সত্যি সাত খুন মাফ! সালাউদ্দিন আইয়ুবি: আওয়ামী লীগ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে৷ আর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন শামীম ওসমানদের। জনগণের ভোট ছাড়াই কীভাবে ক্ষমতা দখল করতে হয়, তা এবার শেখ হাসিনা আমাদের শিখিয়েছেন৷ ভোট দিয়ে কী হবে। কারণ, তারা তো আর তাঁর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারবে না—যা গডফাদাররা নিশ্চিত করতে পারবে৷ সহিদুল ইসলাম: সরকার আরও আরও ত্বকীদের খুন হয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দিল। মশিউর রহমান খান: এখন সময়টা খারাপ, তাই শামীম ওসমানদের মতো লোকদেরই বেশি প্রয়োজন শেখ হাসিনার। বিপ্লব: প্রধানমন্ত্রীর শামীম ওসমানের পাশে থাকাতে পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম, উনি আর জনগণের কথা ভাবেন না!
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে খুন, পরিকল্পনায় নূর হোসেন
র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে এবং নূর হোসেনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটানো হয়৷ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে র‌্যাব-১১-এর ৩২ জন জড়িত ছিলেন৷ র‌্যাব-১১-এর সাবেক দুই কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে৷ এ ব্যাপারে পাঠক সালেকিনের মন্তব্য: টাকার লোভে খুন করেছেন—এখন বিবেকের দংশনে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হন৷ আর যদি সত্যি সত্যি বসদের কেউ জড়িত থাকে, সেটাও তদন্ত করা হোক৷ কোনো অল্প কিছু খুনির জন্য গোটা বাহিনী কলঙ্কের দায় নেবে? জাতি ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম জানতে চায়! মো. ইকবাল হোসেন: তবে কি যে তিন কর্মকর্তা ধরা পড়েছেন, তাঁদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে? কারণ ওই সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত আইনের হাত কখনোই পৌঁছাতে পারবে না৷ এই সাত খুনের যত খবরই পড়ছি, ততই গায়ের রক্ত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে৷ আহমেদ: এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার আছে কি? রিপোর্টটি পড়লে আত্মীয়রা, ঘনিষ্ঠরা অঝোরে কাঁদবে, দূরের-কাছের কেউই চোখের পানি আটকাতে পারবে না৷ একটা বাহিনী, যে কিনা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেবে, তারা অমনুষ্যত্বে বর্বরতার চরম পাষণ্ডদেরও হারাল, হায়রে অভাগা জাতি!
হবিগঞ্জে রকেট লঞ্চারসহ বিপুল গোলা উদ্ধার
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সংরক্ষিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এক অভিযান চালিয়ে সাতটি পরিখা (বাংকার) থেকে বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার ও গোলা উদ্ধার করেছে র‌্যাবের একটি দল৷ অভিযানে উদ্ধার করা গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে দুই শতাধিক রকেট লঞ্চার, ট্যাংকবিধ্বংসী বিস্ফোরক, মর্টার শেল, রকেট লঞ্চারের চার্জার, অয়েলসহ অন্য অস্ত্রশস্ত্র৷ এ ব্যাপারে পাঠক মো. শাহ আলম লিখেছেন: র‌্যাবের ভাবমূর্তি উদ্ধার বলে কথা! আরও কত কিছু উদ্ধার হবে! ধারাবাহিক নাটকের ধারাবাহিক সিকোয়েন্স র‌্যাব বিলুপ্তি চলবে না৷ কিন্তু জনগণ এসব বস্তাপচা সিরিয়াল খায় না৷ এখনো জনগণের দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতেই আছে৷ আল হাসান: সীমান্তবর্তী সংরক্ষিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে, গভীর বনে র‌্যাব কেন? আমাদের বিজিবি ভাইয়েরা কোথায়? তারিক আল হাসান: হা হা হা...কী দারুণ, এক ঢিলে দুই পাখি শিকার৷ ১. মোদিকে বুঝিয়ে দেওয়া এই সরকারই তোমাদের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে৷ ২. র‌্যাবের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা৷
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে প্রাপ্তি কী
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর নিয়ে লেখা এই কলামের ব্যাপারে পাঠক এম আর হাসান লিখেছেন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন যে যেমন অবস্থানেই থাকুন (এর অর্থ হতে পারে আপনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকুন আর আপনি বিরোধী দলের নেতা থাকুন আর না থাকুন), তাঁদের উচিত হবে অবিলম্বে বাংলাদেশের জনগণকে ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে গুরুত্বের সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করা৷ জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক পছন্দ এমনভাবে বেছে নিতে পারে, যাতে তাদের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটে। মো. গোলাম মামুন চৌধুরী: গত ৩৫ বছরে (১৯৭২-২০০৬) বাংলাদেশ যেখানে ইয়েন ঋণ পেয়েছে ৬০০ বিলিয়নের কিছু কম, সেখানে এবারের শেখ হাসিনার এক সফরেই প্রতিশ্রুতি মিলেছে ৬০০ বিলিয়নের সমপরিমাণের ঋণ৷ ধন্যবাদ জাপান সরকার ও শেখ হাসিনাকে৷
হরতাল-অবরোধে অর্থনীতি চাঙা, বেড়েছে জিডিপি!
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, টানা ছয় মাসের রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ, হরতাল ও অবরোধে অর্থনীতি চাঙা হয়েছে৷ বিবিএস বলছে, এসব কারণেই সেবা খাতে লেনদেন অনেক বেড়েছে। আর তাতেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে৷ এ ব্যাপারে  জি ই সোহেল লিখেছেন: ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত কাজ করছে এই দেশটাকে গড়ার জন্য৷ রাজনীতিবিদেরা দেশ সচল করার বদলে অচল করার চেষ্টায় মত্ত৷ চিন্তা করুন তো, যদি ৩২ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করে, উন্নতি ঠেকায় কে? অরুণ দত্ত: এখানে সব গল্পই চলে৷ মূল কথা হলো, সাধারণ মানুষ জিডিপি দেখে ভোট দেয় না; বরং সামগ্রিক পরিস্থিতির একটা দৃশ্যমান ছবিকে কেন্দ্র করেই ভোট দিয়ে থাকে৷ আবছার: তার মানে হরতাল-অবরোধকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষমতায় গেলে যাতে অবাধে হরতাল করা যায়, সেই পথটা পরিষ্কার করে রাখা হচ্ছে৷ বাহ, ভালোই তো! স্বপন খান: আবার হরতাল-অবরোধ শুরু হলে সবকিছুতেই ধস নেমে আসবে৷ মাহমুদ হাসান: খবরটা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়৷ কারণ দীর্ঘ মেয়াদে হরতাল-অবরোধে দেশের আর্থিক ক্ষতি হবে—এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু হিসাবে ঘটল উল্টো৷ হরতাল-অবরোধে গাড়ি চলেনি অর্থাৎ জ্বালানি পোড়েনি, বেঁচে গেছে। মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি, কেনাকাটা কম করেছে দোকানিকে মাল আমদানি করতে হয়নি, ঘরের টাকা ঘরেই থেকে গেছে৷ এভাবে বিভিন্নভাবে আমরা কৃচ্ছ্রসাধন করেছি৷ ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে—প্রবৃদ্ধি কমেনি বরং বেড়েছে৷ এটাই মনে হয় আমাদের বর্তমান বাস্তবতা! অনুমান করে বললাম৷