Thursday, January 21, 2016
ভারত মুখে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও কাজে নয় by ইকতেদার আহমেদ
![]() |
| ধর্মান্তরিত হতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল |
আমাদের এ উপমহাদেশ বিভাগের আগে এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অধীন ছিল। ব্রিটিশেরা সে সময় প্রায় শতভাগই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিল। আমাদের এ উপমহাদেশসহ পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে ব্রিটিশেরা উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল, সেসব অঞ্চলের নাগরিকদের তারা ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করত। এসব প্রলোভনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল চাকরি ও ব্যবসায়ের সুযোগ। যোড়শ শতক থেকে বিগত শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রিটিশদের উপনিবেশ এত বিস্তৃত ছিল যে, ‘সেখানে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সুযোগ ছিল না’। ব্রিটিশেরা তাদের উপনিবেশগুলোর নাগরিকদের ধর্মান্তকরণে আফ্রিকা মহাদেশ, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে যেভাবে সফলতা পেয়েছিল, অনুরূপ সফলতা ভারতবর্ষে পায়নি। এর পরও বর্তমানে ভারতবর্ষের সামগ্রিক জনসংখ্যার শতকরা দুই ভাগের বেশি খ্রিষ্টান। ভারতের তিনটি রাজ্য রয়েছে যথাÑ নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মেঘালয়, যেখানে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা হিন্দু জনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। অপর দিকে জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দু জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষ ধর্মীয় জাতিসত্তার ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ভারত রাষ্ট্রটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা সমন্বয়ে গঠিত। অপর দিকে পাকিস্তান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি থেকে এর পূর্বাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে আসছে, যদিও একটি উল্লেখযোগ্য সময় রাষ্ট্রীয় মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বিলুপ্ত ছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র। অপর দিকে ১৯৭৪-পরবর্তীকালে সাংবিধানিকভাবে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
ধর্মীয় জাতিসত্তার কারণে ভারতবর্ষ বিভাজিত হওয়ায় ভারতের একশ্রেণীর ধর্মান্ধ লোক হিন্দুত্ববাদকে আঁকড়ে ধরে আছে। উপমহাদেশ বিভাগ-পরবর্তী জাতিগত দাঙ্গা, বিশেষত হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় ভারতে যত মুসলিম নরনারীর প্রাণহানি ঘটেছে, এমনটি উপমহাদেশের অপর কোনো রাষ্ট্রে ঘটেনি। ভারতে বর্তমানে বিজেপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। এ দলটি হিন্দুত্ববাদের পৃষ্ঠপোষক এবং এর সহযোগী অনেক দল গোঁড়া হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বিগত ১১ বছরে সে দেশের সাড়ে সাত লাখ মুসলিম ও খ্রিষ্টান নাগরিককে বলপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ভারতে প্রায়ই দেখা যায়, মুসলিম ও খ্রিষ্টান নাগরিকেরা চাকরি, ব্যবসায় ও সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে হিন্দুদের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তা ছাড়া মুসলিম ও খ্রিষ্টানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের দ্বারা নিগৃহীত হওয়ায় বিষয়টি অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রতিদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। ভারতের অনেক স্থানে এমনও দেখা যায়, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের গরু জবাই দূরের কথা, গরুর গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রেও তীব্রভাবে বাধা দেয়া হয়। গরুর গোশত খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগে সম্প্রতি উত্তর প্রদেশে ষাটোর্ধ্ব একজন ব্যক্তি ও তার ছেলেকে হত্যা করা হলে ঘটনাটি সারা বিশ্বে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তোলে।
ভারতের সামগ্রিক জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ও খ্রিষ্টান জনসংখ্যার যে আনুপাতিক অবস্থান, সে অনুযায়ী তারা লেখাপড়া ও চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ বিশেষত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, বাংলাদেশে এমন নজির বিরল। বাংলাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে যেসব কথিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল, এর সবগুলোই রাজনৈতিক মদদপুষ্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দল ভারতের ক্ষমতাসীন দলের আনুকূল্য লাভের প্রত্যাশায় তারা ক্ষমতায় থাকলে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিরাপদ- এমন আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের প্রত্যয়ে ইচ্ছা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উপলক্ষ সৃষ্টি করেছিল।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বেশির ভাগ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে কিছুসংখ্যক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এসব নৃগোষ্ঠীর বেশির ভাগই হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশই খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের মাধ্যমে প্রভাবিত ও প্রলুব্ধ হয়ে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন; তবে বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলে এ দেশটি সৃষ্টির পরবর্তী সময়ে কোনো মুসলিম রাজনৈতিক নেতা কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে একক বা দলবদ্ধভাবে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য বল প্রয়োগ বা প্রভাবান্বিত করেছেন, এমনটি শোনা বা দেখা যায়নি।
ভারতের গণমাধ্যমে যখন তথাকার মুসলিম ও খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিতকরণের তথ্য প্রকাশ করেছে, ঠিক একই সময় বিজেপি দলের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রতি বছর ভারতের আট লাখ হিন্দু ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছে। ভারতবর্ষ একসময় হিন্দু ও বৌদ্ধ জনসংখ্যা-অধ্যুষিত ছিল। ভারতবর্ষে যখন বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে থাকে, তখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নির্যাতিত, নিগৃহীত ও নিষ্পেষিত হওয়ার কারণে সে বিস্তৃতি রোধ সম্ভব হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এ চারটি বর্ণে অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রতিটি বর্ণের পূজা-পার্বণ পরিচালনার জন্য নিজস্ব ব্রাহ্মণ রয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণদের মর্যাদার চেয়ে নিম্নতর বর্ণের ব্রাহ্মণদের মর্যাদা ভিন্ন। অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যারা কামার, কুমার, নাপিত, মেথর, মুচি প্রভৃতি পেশাভুক্ত ছিল, তারা জন্মগতভাবেই এসব পেশায় অন্তর্ভুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করত। তখন বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে পেশা পরিবর্তনের কোনো প্রবণতা পরিলক্ষিত হতো না। স্বপেশায় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়ে অতীতের কঠোরতা এখন আগের মতো নেই। শিক্ষার প্রসারের কারণে নিম্নবর্ণের অনেক হিন্দু আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক প্রভৃতি পেশায় নিয়োজিত।
হিন্দু ধর্মে বর্ণভেদ প্রথার কারণে যারা প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তাচেতনার অনুসারী, তাদের কাছে ধর্মের চেয়ে সব সময় ব্যক্তিমানুষের মর্যাদা অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। হিন্দু ধর্মে যেমন বর্ণবৈষম্য রয়েছে, অনুরূপ বর্ণবৈষম্য ইসলাম ধর্মে না থাকায় এ উপমহাদেশে আরব ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল থেকে যখন ইসলাম ধর্ম প্রচারকেরা এসেছিলেন, তখন তারা ইসলাম ধর্মের সাম্যের আদর্শের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আফগানিস্তান, পারস্য, তুর্কিস্তান ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেসব মুসলিম সেনাপতি ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, তাদের সৈন্য বাহিনীর প্রায় শতভাগই ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিল। এসব সেনাপতির কাছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শাসনকর্তারা যুদ্ধে পরাভূত হলে তাদের অধীনস্থ প্রজাদের অনেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আবার এমনও দেখা গেছে, মুসলিম সেনাপতিদের সাথে আগত সৈন্যবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য হিন্দু নারীদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে তাদের ধর্মান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তবে মুসলিম সেনাপতি ও তাদের সাথে আগত সৈন্যদল জোরপূর্বক ভারতবর্ষের হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করেছিল, এমন অভিযোগ কিছু হিন্দু ইতিহাসবিদ তুললেও তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠা পায়নি।
ঔপনিবেশিক শাসক ইংরেজরা ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকদের পরাভূত করে এখানে তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিল। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার তৎকালীন শাসক নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাভূত হলে এ অঞ্চলে ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন এবং তারও ১০০ বছর পর ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ ইংরেজদের কাছে পরাভূত হলে সমগ্র ভারতবর্ষে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতবর্ষে ইংরেজরা বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিমদের পরাস্ত করার ক্ষেত্রে হিন্দুদের সহায়তা পেয়েছিল। এ কারণেই এ উপমহাদেশে ব্রিটিশদের আগমনের পর থেকে হিন্দুরা তাদের আনুকূল্য লাভ করতে থাকে। এ ধরনের আনুকূল্য শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির ক্ষেত্রে হিন্দুদের অবস্থান মুসলিমদের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত করে তোলে।
ভারতবর্ষ বিভাজন-পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে হারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেশ ত্যাগ করেছিল, তদানীন্তন পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য থেকে সে হারে মুসলিমরা দেশ ত্যাগ করলেও ভারতের মধ্যবর্তী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিমদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ দেশ ত্যাগ করে পাকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে পাকিস্তানের সামগ্রিক জনসংখ্যার অতি ক্ষুদ্র অংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অপর দিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার ৮ ভাগের অধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বাংলাদেশের হিন্দুরা তাদের সংখ্যানুপাতে চাকরি, শিক্ষা ও ব্যবসায় কার্যত মুসলিমদের চেয়ে অধিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তবুও কোনো এক অজানা কারণে তাদের অনেকেই এ দেশের প্রতি শতভাগ অনুগত নন বলে আচরণে প্রমাণিত হয়। কারণ এদের অনেককে দেখা যায়, এখানে চাকরি বা ব্যবসা করলেও সম্পদ গড়ছেন ভারতে। আবার এমনও দেখা যায়, এ দেশে চাকরিকাল সমাপ্ত করে অবসর-পরবর্তী সব পাওনা সরকার থেকে বুঝে নিয়ে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে এ প্রবণতা একেবারেই নেই। সেখানে বসবাসরত মুসলিমরা শতভাগ ভারতীয় এবং ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল। এ দেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবার মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হলে তা এ দেশবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক এবং এ দেশের জন্য কল্যাণকর হতো।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে জন্মগ্রহণকারীরাই একমাত্র হিন্দু হিসেবে স্বীকৃত হয়ে থাকেন। অনেক হিন্দু ঐতিহাসিকের ধারণা, প্রথম থেকেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া না হলে আজ সমগ্র পৃথিবীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা অধিক হতো। ইদানীং ভারতে ‘ঘর ওয়াপসি’র নামে অন্য ধর্মের লোকদের হিন্দু ধর্মে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ‘অতীতে এরা হিন্দুই ছিল, এদের একসময় মুসলমান বা খ্রিষ্টান বানানো হয়েছিল। তাই এখন হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।’ এটি গোঁজামিল ছাড়া আর কিছুই নয়।
ধর্ম হলো ঐশ্বরিক শক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ। আর তাই একজন প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসী যে ধর্মেরই অনুসারী হন না কেন, তার পক্ষে অপরকে জোরপূর্বক নিজ ধর্মের প্রতি টেনে আনা সমীচীন নয়।
উপমহাদেশের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারত ভৌগোলিকভাবে বৃহত্তর এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিধর। উপমহাদেশের অন্যান্য রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন বাধাগ্রস্ত হলেও ভারতে তা কখনো প্রত্যক্ষ করা যায়নি। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক সূচকের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পশ্চাৎপদ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তাতে তাদের সামরিক বা অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বলপূর্বক বা প্রভাবান্বিত করে অপর ধর্মাবলম্বীদের হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিতকরণ দেশটির সাংবিধানিক চিন্তা-চেতনা এবং দীর্ঘ দিন অনুসৃত গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং যত দ্রুত ভারত নিজেকে এ ধরনের কালিমা থেকে মুক্ত করতে পারবে, তত দ্রুতই দেশটির অবনমিত ভাবমূর্তির পুনরুদ্ধার ঘটবে।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানুষই মানবজাতির জন্য হুমকি
![]() |
| স্টিফেন হকিং |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দলিত ছাত্রের আত্মহত্যায় উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি
![]() |
| ভারতে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনায় গতকাল হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে বক্তব্য দেন কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জানমালের রক্ষক যেভাবে হন ভক্ষক by জসিম উদ্দিন
![]() |
| পুলিশের নির্যাতনের শিকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাশ |
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাসপাতালে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসকে দেখতে গিয়ে কিছু সত্য কথা বলেছেন। এত দিন চুপ হয়ে থাকলেও মানবাধিকার যে লুণ্ঠিত হচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার এবারের প্রতিক্রিয়ায়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে বিকাশকে দেখে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একধরনের দায়মুক্তির ভাব গ্রাস করেছে। তাদের কোনো কিছু হবে না, কোনো কিছু স্পর্শ করবে না ভাবছে।’ মিজানের এই বক্তব্যের মধ্যে গভীর তাৎপর্য রয়েছে। সদ্য বিগত সংসদের বিরোধী দলের হুইপকে রাস্তায় প্রকাশ্যে পেটানোর পর ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। যে দুইজন কর্মকর্তা সরসারি তাকে পিটিয়েছে উভয়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাদের প্রমোট করার ক্ষেত্রে সুপারসিড করার অভিযোগ আছে। আইনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা পুলিশের মধ্যে সব সময় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এর একটা মাত্রা ছিল। বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে তা ভয়ানক বেপরোয়া রূপ ধারণ করে। রাজনৈতিক দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে সরকারের ঢিল দেয়া রশি ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে গেছে পুলিশের বিশাল একটা অংশ নিজেদের সম্ভবত আর কোনো শৃঙ্খলা কাঠামোর মধ্যে ভাবতে পারে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পাকড়াও এবং যেনতেনভাবে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার একটা ফ্রি লাইসেন্স তাদের মধ্যে রয়েছে। যারা বিরোধীদের দমনে বেশি পারদর্শী তাদের প্রমোশন অন্যদের এ কাজে উৎসাহী করেছে।
ক্ষমতার ব্যবহার করে নিরস্ত্র বিরোধী নেতাকর্মীদের ছন্নছাড়া করে দেয়া কঠিন কোনো কাজ নয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে অন্য জায়গায়। বিরোধী শক্তি যখন নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায় এই দানবীয় শক্তি প্রয়োগের জন্য নতুন জায়গা দরকার হয়। একবার কাঁচা মাংসের লোভ পেয়ে গেলে তা সংবরণ করা যেমন কঠিন, এটিও তেমন একটি কাজ। বিরোধীদের প্রতিরোধ শক্তি যখন শেষ হয়ে গেল কিংবা তাদের চিবিয়ে খাওয়ার যখন কিছুই থাকল না তখন লাগামহীন শক্তি প্রয়োগের শিকার হন সাধারণ মানুষ। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান যে মন্তব্য করেছেন এটা তার তাৎপর্য। বিকাশ-রাব্বীও এমন শিকার তবে বিশেষ কমিউনিটির সদস্য হওয়ায় সৌভাগ্যবান। নির্যাতনের একটি ন্যূনতম প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে। একটু পিছু হটে পুলিশের সাথে তাল মিলিয়ে মানবাধিকারের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘ডিএমপি কমিশনার সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরাও তার কথায় আস্থা রাখতে চাই, বিশ্বাস রাখতে চাই।’ বাস্তবতা হচ্ছে, কোনো অন্যায় অপরাধের জন্য পুলিশ সদস্যের বিচার হয়েছে সম্প্রতি এমন কোনো নজির নেই। কর্মকর্তারা রীতিমতো সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশেষ সুবিধা নিয়ে আছেন। খুন থেকে শুরু করে ছিনতাই, ধর্ষণ এমন কোনো অপরাধ নেই যার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে আসেনি। এত দিনে পুলিশের একটি তদন্ত কমিশন এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে। এর একটা ভাইটাল কারণও আছে। রাব্বীর সম্মান রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বয়ং চিঠি লিখে আবেদন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর। মহাশক্তিধর পুলিশ যদি ওপরের তলার মানুষের এমন আবেদন অগ্রাহ্য করে তাহলে আর কিছুই বাদ থাকে না। এই তদন্ত প্রতিবেদনও বিতর্কিক হয়ে যায় যখন দেখা গেল এটি তৈরির ক্ষেত্রে এমন একজন জড়িত রয়েছেন যিনি স্বয়ং আইন ভঙ্গ করেছিলেন। একজন আইনভঙ্গকারী কোনোভাবে অন্যের অপরাধের তদন্ত করার নৈতিক অধিকার রাখেন না।
মিজানুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাস এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী এই দু’জনের বেলায় অন্ততপক্ষে দৃষ্টান্ত রাখুন। প্রমাণ করুন আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। পুলিশের কেউ অপরাধ করলেও রাষ্ট্র তা সহ্য করবে না তা আমরা দেখতে চাই। মিজানুর রহমান মানবাধিকারের লুণ্ঠন নিয়ে আগে পুলিশের বিরুদ্ধে উচ্চবাচ্য না করলেও তার এই মন্তব্য এর একটা স্বীকৃতি এসেছে যে, আগে থেকেই পুলিশ নিপীড়কের ভূমিকায় রয়েছে। বিকাশ চন্দ্র দাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছে। কথাও অস্পষ্ট। ঘাড়ে, মাথার পেছনে, হাঁটুতে চরম আঘাত পেয়েছেন। দুটো পা নাকি তার অবশ মনে হচ্ছে মাঝে মাঝে। তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে তার কিডনি বা লিভারে প্রভাব ফেলবে কি না তা চিকিৎসকেরা পরে বলতে পারবেন। মিজানের এমন দরদি পর্যবেক্ষণ দলমত ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে হলে তার পদের মর্যাদা রক্ষা হতো। নির্যাতনের শিকার ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয়ভার রাষ্ট্রের বহন করা উচিত বলে তিনি এবার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও যথাযথ জায়গায় আবেদন, সুপারিশ করা হবে। মানাবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ভিকটিমের পক্ষ হয়ে শুরু থেকে যদি এমন কথা বলে আসতেন অনেকে উপকৃত হতেন। এমন প্রচেষ্টা চালিয়ে তিনি যদি ব্যর্থও হতেন অন্তত তিনি সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারতেন ফরিয়াদিদের পক্ষ থেকে।
প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও পুলিশের অন্যায় অপকর্ম ও আইন ভঙ্গের ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে।
অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে আরো হাজারো ঘটনা। অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঠিক জায়গায় আনতে হলে তাদের প্রয়োজন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ। কার্যকর জোরালো জনসংযোগ ও কমিউনিটির সাথে অব্যাহত যোগাযোগ। এমন হলে নাগরিকদের সেবা দেয়ার মানসিকতা পুলিশের মধ্যে নতুন করে জাগতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে, এ ধরনের কার্যক্রম পুলিশের মধ্যে রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, সঠিক জায়গাটি আমরা না দেখার ভান করছি। পুলিশি ব্যবস্থায় যে ব্যাপকভাবে দূষণ ছড়িয়ে গেছে এই বিষয়টা জোর গলায় বলতে সাহস পাচ্ছি না। বিকাশকে মারার সময় পুলিশের মুখ থেকে রোগটি প্রকাশ পেয়েছে। সে সময় একজন পুলিশ এমন বলে যে, ‘মাছের রাজা ইলিশ; দেশের রাজা পুলিশ’। এ ধরনের বচনের কারণ অবাস্তব কিছু নয়। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরিবর্তে পেশিশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কাজটি এবার পুলিশ সাফল্যের সাথে করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে পুলিশ ঢের বেশি ব্যবহার হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাজনৈতিক ইচ্ছাকে দমিয়ে দেয়ার কাজে। লাঠি ও রাইফেল কতটা কার্যকর বিকাশকে নির্যাতন করতে যাওয়া পুলিশ ভালো করে দেখেছে রাজনীতির টালমাটাল সময়গুলোতে। জনগণের বিরুদ্ধে সরকার ও পুলিশের এমন একাট্টাকে দোষের কিছু হিসেবে যারা দেখছেন না; তারা পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশের প্রশিক্ষণ ঘাটতিকে পূরণ করার। আসলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং এর অতিমাত্রায় রাজনৈতিক ব্যবহার। জনমনে ধারণা রয়েছে পুলিশে নিয়োগ পেতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিতে হয়। এ ধরনের ঘুষপ্রবণতা এখন একেবারে সাধারণ সিপাহি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে।
অত্যাচর নির্যাতন করে বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করবে এমন নিকৃষ্ট মানসিকতা বাংলাদেশের পুলিশের মধ্যে এখনো বিস্তার লাভ করেনি। রাব্বীকে পুলিশের ওই পরিদর্শক প্রথমে জিজ্ঞাসা করে তিনি কত টাকা বেতন পান। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই হিসাব-নিকাশ করেন তার আর্থিক অবস্থা কেমন হতে পারে। এর একটা বিবরণ তিনি সামনেই শুনিয়ে দেন রাব্বীকে। তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে তখনই পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ইয়াবা বহনের মামলার হুমকি দেয়া হয়। টাকা কামানোর নেশা তাকে এতটাই উন্মাদ করে দেয় যে, রাব্বীর পোস্ট পজিশন এবং এ ধরনের ঘটনার পরিণতি কী হতে পারে তা ভাবারই অবকাশ পাননি তিনি। রাব্বী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সরকারি প্রশাসন ও পুলিশে কর্মরত তার বন্ধুদের রেফারেন্স দেন। সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছাত্রলীগের নেতাদের নামও নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নামও নেন। টাকার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা পুলিশ কর্তা রাব্বীর ঘটনাকে নিত্যকার একটি মামলা হিসেবে বিবেচনা করছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন অনেকেই তো অনেক কথা বলে বাঁচার জন্য। হাতিঘোড়া গেল তল চামচিকা বলে কত জল- এ ধরনের একটি বিষয়ই হয়তো তার কাছে ঘুরে ফিরে মনে হয়েছে। খাওয়া ধরতে যে তিনি ভুল করেছেন তিনি হয়তো এখন বুঝতে পেরেছেন। রাস্তায় জানমালের হেফাজত করছে না উল্টো এর ভক্ষক হয়ে উঠেছে পুলিশ, রাব্বীর ফেসবুক বয়ানে তা উঠে এসেছে। রাব্বী দেখতে পান রিকশা যাত্রী এক মহিলাকে টেনে-হেঁচড়ে আনা হয়। তার কাছে থাকা টাকা ও অলঙ্কার দিয়ে দিতে বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ এনে স্বামীকে জানানো হবে। এই সময় সেই মহিলাকে পেছনে আঘাত করা হয়। আলামত হিসেবে তারা কিছু কনডমও তৈরি রাখে। রাব্বী আরো দেখেন যে, ধরে আনা হয় এক কিশোরকে। ফোন করে মাকেও আনা হয়। উভয়কে বেধড়ক পেটানো হয়। পুলিশ দাবি করে ছেলেটি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কিছু অর্থের বিনিময়ে তারা ছাড়া পান।
খেপ ধরার অভিযান যে একটি নিত্যকার ঘটনা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বিকাশকে নির্যাতনের স্টাইল থেকে তা আরো স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। রাব্বীর ঘটনাটি এভাবে দৃশ্যপটে চলে না এলে বিকাশের মারধরের ঘটনাটি আড়ালে পড়ে যেত। ভাগ্য ভালো সমাজের উঁচুতলার রাব্বী পথ করে দিলেন বিকাশকে নির্যাতনের বিচারের। সকালে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজ তদারকি করছিলেন তিনি। যাত্রাবাড়ী থানার টহলরত পুলিশ তাকে আটক করে বেধড়ক পেটায়। হোন্ডার গায়ে তার পরিচিত লেখা থাকার পরও পুলিশ কোনো ধরনের বিচলিত হয়নি। এ ধরনের আগ্রাসী মারধরের কারণ হচ্ছে ভয় লাগিয়ে দেয়া। যাতে করে টাকা হড়হড় করে বের হয়। রাইফেলের বাঁট দিয়ে তাকে এতটাই আঘাত করা হয়েছে তিনি বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে অচেতন ছিলেন। কাঁড়িকাঁড়ি টাকা দিয়ে যারা নিয়োগ পান তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে উৎসাহী হবেন কেন? অনেকে ধারকর্জ কিংবা স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নিয়োগ পান। তাকে তো আগে খরচ করা টাকা ওঠাতে হবে। তারপর না হয় সে নীতি-নৈতিকতা ও বৈধতার চিন্তা করবে।
jjshim146@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে বিচারাঙ্গনে নানামুখী আলোচনা by গোলাম রব্বানী
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত ১৭ জানুয়ারি তার মেয়াদের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি দেন। গত ১৯ জানুয়ারি রাতে বিবৃতিটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘ দিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে আলোচিত রায় হচ্ছে ত্রয়োদশ সংশোধনীবিষয়ক রায়। অবসরে গিয়েই এ রায় লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে রায়ের আলোকে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধান থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চালু করা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। সংশ্লিøষ্টরা সংবিধানের এ সংশোধনীকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। এ ছাড়া বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ফতোয়াবিষয়ক একটি রায়ও দিয়েছেন অবসরে গিয়ে। ২০১১ সালে ১২ মে প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন। পরে এর পূর্ণাঙ্গ কপি বের হয় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু এর আগেই তিনি অবসরে যান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর। এর আগে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ এ মামলার রায় দেন। এ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরে যান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেন। তারও প্রায় এক বছর পর গত ৩১ ডিসেম্বর দেয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রায়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক এ প্রধান বিচারপতি এখনো বহু মামলার রায় লিখছেন। রায় লিখছেন অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকও। এখনো তার বহু রায় লেখা বাকি থাকলেও তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সুপ্রিম কোর্ট বার বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছিল। এখন স্বয়ং প্রধান বিচারপতি এ ধরনের কার্মকাণ্ডকে সংবিধান পরিপন্থী বলে বিবৃতি দিয়েছেন। এ নিয়ে দেশের বিচারাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।
এ দিকে প্রধান বিচারপতির বিবৃতি বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘নো কমেন্ট’, ‘নো কমেন্ট’।
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি যদি এমন কথা বলে থাকেন তবে অনেক গোলমাল হয়ে যাবে। তিনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় অবৈধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বৈধ থেকে যায়। এটা ফিরে আসবে।’
প্রধান বিচারপতির বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়ে আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।
সম্মেলনে বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতিগণের নিয়োগপ্রাপ্তির পর সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণপূর্বক তার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়। বিচারক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের যে শপথ বিচারক হিসেবে গ্রহণ করেন অবসরের পর তিনি আর ওই শপথের আওতায় থাকেন না।’
এ সময় তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে আমরা বারবার এ বিষয়টি বলে এসেছি। এখন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বক্তব্যে এটি আরো স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের পরিপন্থী বলে যে রায়টি দিয়েছিলেন, তা তিনি স্বাক্ষর করেন তার অবসরে যাওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর। তাই ওই রায়ের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই এবং তা অবৈধ। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ওই রায়ের সুযোগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাবে যে সঙ্কট, অস্থিরতা ও হানাহানি চলছে তার একমাত্র কারণ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনপদ্ধতি বাতিল করে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন। আর এ বাতিলের পেছনে রয়েছে এ বি এম খায়রুল হকের সংবিধান পরিপন্থী অবৈধ রায়। তাই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সঙ্কট নিরসন করার জন্য ক্ষমতাসীন দলের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, যখন বিচারপতি রায় ঘোষণা করেন, তখন তিনি বিচারক হিসেবে শপথে ছিলেন। ঘোষিত তারিখের দিন হিসেবেই রায়ে সই করা হয়। এ চর্চা দীর্ঘ দিনের। অবসরের পরে রায় লেখা যদি অসাংবিধানিক হয়, তাহলে মাসদার হোসেন মামলাসহ অনেক মামলাই হয়তো টিকবে না। কারণ, মাসদার হোসেন মামলার রায় বিচারপতি মোস্তফা কামাল অবসরে যাওয়ার পরে লিখেছিলেন। আর এ চর্চা ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানে, এমনকি ইংল্যান্ডেও আছে।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ বলেছেন, কোনো বিচারপতি অবসরে গেলে তিনি শপথ থেকে মুক্ত হয়ে যান। সে ক্ষেত্রে তার পক্ষে রায় লেখা এবং তাতে স্বাক্ষর করার কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রুল ও হাইকোর্ট বিভাগের রুলে স্পষ্ট বলা আছে, যেকোনো মামলার রায় অবশ্যই প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করতে হবে এবং প্রকাশ্য আদালতে রায়ে স্বাক্ষর দিতে হবে। এখন কোনো প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো বিচারক অবসরে গেলে তার পক্ষে প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা বা তাতে স্বাক্ষর করার সুযোগ কোথায়? আমি মনে করি, প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন তা সঠিক।
বিশিষ্ট সংবিধান বিশ্লেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষক ড. শাহদীন মালিক নয়া দিগন্তকে বলেন, আগে বিচারপতিরা তাদের মেয়াদকালেই রায় লেখা শেষ করতেন। কিন্তু এখন অবসরে যাওয়ার পর অনেক বিচারপতি রায় লিখছেন। এটাকে গ্রহণযোগ্য ব্যতিক্রম বলা যেতে পারে। তবে অবসরে যাওয়ার আগেই রায় লেখা শেষ করা কাম্য বলে তিনি মনে করেন। সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি হয়তো অন্য বিচারপতিদের দায়িত্ব সম্পর্কে মনে করিয়ে দিতেই এটা বলেছেন। কারণ অনেক বিচারপতির রায় লিখতে অনেক সময় লাগে। তবে এর অন্যতম প্রধান কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষ লোকজনের অভাব। বিচারপতিদের রায় লেখা সঠিক সময়ে শেষ করার জন্য তাদের সহকারীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়ন দরকার। সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ তদবিরভিত্তিক না হয়ে মেধাভিত্তিক হওয়া দরকার।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বিবৃতিতে আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় তার গৃহীত শপথও আর বহাল থাকে না। আদালতের দলিল সরকারি নথি। একজন বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর আদালতের নথি নিজের কাছে সংরক্ষণ, পর্যালোচনা বা রায় প্রস্তুত করা এবং তাতে স্বাক্ষর করার অধিকার হারান। আশা করি, বিচারকগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান সন্ধিক্ষণে বেঞ্চ ও বার সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য পূর্বশর্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বার-এর ভূমিকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী ও সহযোগিতামূলক বার নিঃসন্দেহে বেঞ্চের সবচেয়ে কার্যকর বন্ধু।
তিনি আরো বলেন, ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণের স্বার্থে যদি আইনজীবী ও বিচারকদের উদ্যোগের সম্মিলন ঘটানো যায়, তাহলে আমরা ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারব। আইন পেশার সাথে দায়িত্বশীলতার একটি সম্পর্ক রয়েছে। সুদূরপরাহত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় জনগণ আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আইনজীবী ও বিচারকগণই তাদের প্রত্যাশা পূরণের প্রধান সারথি। একটি প্রার্থনালয় যেমন কখনো বন্ধ থাকতে পারে না, তেমনি লাখ লাখ বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য ন্যায়বিচারের মন্দিরও কখনো বন্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। বিচার বিভাগ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এবং গণমাধ্যম সেই বার্তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যাক্টিভিস্ট-রামমাধব-ফিউশন লীগ এবং আত্মজীবনী by মিনা ফারাহ
বিজেপির অখণ্ড ভারত বক্তব্য এবং কানেকটিভিটি নিয়ে মোদির অতি উচ্ছ্বাসের সাথে ২০৪১-এর কানেকটিভিটি সংযুক্ত। খুরশিদের আত্মজীবনী নিয়ে তোলপাড় সোস্যাল মিডিয়া। ‘আওয়ামী লীগকেই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে মরিয়া ভারত।’ সব সীমান্ত খুলে দিতে লীগের ওপর অস্বাভাবিক চাপের মূলে আসলেই কানেকটিভিটি, নাকি অন্য কিছু? আলজাজিরাকে ৭ ডিসেম্বরে রামমাধবের দেয়া সাক্ষাৎকার, ‘দুই ভিয়েতনাম, দুই জার্মানি এক হলে, পাকিস্তান-বাংলাদেশ কেন অখণ্ড ভারতে আসবে না। ভোটে না হোক, পাবলিক উইলের মাধ্যমে হবে।’ -মনে হচ্ছে পানি বহু দূর গড়িয়েছে। ইউটিউবে এই ধরনের প্রচার অনেক। আরএসএস-এর কার্যালয়ে সব ম্যাপেই অখণ্ড ভারত এবং মোদিও আরএসএসের সদস্য। দেশ বিভাগের ক্ষোভ থেকেই গান্ধীকে হত্যা করেছিল আরএসএস। তাদের বিশ্বাস, সিন্ধু-গঙ্গা এক হবে, গান্ধীর ঘাতক নাথুরামের রক্ষিত দেহভস্মও সেখানে ঢালা হবে। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯২ সালে ভয়ানক দাঙ্গার মূলে আদভানী, নরসিমা ও মোদির নেতৃত্বে বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞ এবং লজ্জা বইয়ের থিমটিও অখণ্ড বনাম খণ্ডিত ভারত (আদভানীর মতো বাবরি সন্ত্রাসীদের পুরস্কৃত করা হলো)। গণতন্ত্র ভক্ষণ করে ঢাকা-দিল্লির ফিউশন কার্যকলাপ- সন্দেহাতীতভাবে অস্বাভাবিক।
২.
দার্শনিক হেগেল বলেছেন, ‘একটি দেশের জন্ম হলেই বীরের কর্ম শেষ। এরপরও যারা বীরের দাবি করে, ওদের উদ্দেশ্য কুকর্ম করা।’ এখন বুঝি, মইন-ফখরুলরা কাদের পাঠানো আদম। ১/১১ থেকে আজ অবধি ৯৯ ভাগ খবরের চেহারায় পরিবর্তন হয়নি, শুধু কমানো-বাড়ানো ছাড়া। ২০০৯ থেকে ২০১৫-এর সংবাদপত্র পার্থক্য করতে না পারাটা, গণতন্ত্রের গুটিবসন্তের প্রমাণ। ১/১/১৬তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘নেত্রী কয়েক টার্ম প্রধানমন্ত্রী থাকা দরকার’- ঘোষণা গণতান্ত্রিক নয়। ১৯৭০-৯০-এর আওয়ামী লীগ এই দাবি করতেই পারে না, পারে ফিউশন লীগ। অন্তত একবার খোলামেলাই বলুন, ‘প্রত্যেকবারই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু ২০৪১ এর আগে ক্ষমতা থেকে কিছুতেই নামছি না।’
প্রায় ১৮ মাস আগেই মিডিয়ায় মার্কিন নির্বাচনের ঢাক বেজে উঠেছে। দুই পক্ষের বিতর্ক দেখে ভালো সময় কাটছে। গণতন্ত্র এমনই হওয়া উচিত, কিন্তু আশরাফুলদের বক্তব্যে দীর্ঘ উপনিবেশের গর্জন। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের নির্বাচনও আমেরিকার মতোই। তাহলে দিল্লির কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানে মোদির কদমবুচি রাজনীতির ব্যাখ্যা কী? উত্তর, গণতন্ত্রের অজুহাতে আরব বসন্ত করে যারাই পছন্দের স্বৈরাচার বসাল, বিশ্বের চোখে তারাই গণতন্ত্রের সবচে’ বড় ধারক-বাহক। ভারত এখন ‘এই অঞ্চলের আমেরিকা’। অক্যুপেশন রাজনীতি আর মৌলিক গণতন্ত্র ভিন্ন। কাশিমবাজারে একটি দোকান খোলার মধ্যে দিয়ে ২০০ বছর অখণ্ড ভারতে রাজত্ব করল ব্রিটিশ। আর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই পশ্চিমাদের ১ নম্বর কাজ। যেমন ৫ জানুয়ারি ঘটিয়ে দিল্লিও নিশ্চিত করল নিজের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।
অবশেষে ৫ জানুয়ারি নিয়ে দিল্লির পরিকল্পিত অপকৌশল বিশ্ব মিডিয়ায়। এরপরেও ২০ দলের ঘরে বসে থাকা? নিজেদের গণতন্ত্রের সতীত্ব অক্ষত রেখে, অন্যেরটা অসতী করতে প্রণববাবুদের গোপন এজেন্ডা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করলেন মন্ত্রী। বিশ্ব-মিডিয়ার চোখে আমরা শিয়া-সুন্নিদের মতো দুই ফাইটিং বেগমের জাত। আর বেগমদের অঘোষিত যুদ্ধের কারণে উপনিবেশবাদ, জঙ্গিবাদ, স্বৈরতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র একই সাথে যেভাবে ঢুকে পড়েছে, শিয়া-সুন্নির সাথে এর পার্থক্য কী? ২০০৯-এর পত্রিকার সাথে ২০১৫ কে পার্থক্য করতে না পারাটা ফের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিশাপ। ২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার অগ্রিম প্রোগ্রাম আর সালমান-মাধবদের বক্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস কার হাতে। জামায়াতের পর এবার বিএনপি নিষিদ্ধ করার ব্যান্ডমিউজিক বাজিয়ে হইচই ফেলে দিলো আত্মজীবনী।
যে বিষয়গুলো ভুলে গেছি। মইনুকে দাওয়াত দিয়ে ঘোড়া উপহার দিয়েছিল দিল্লি। ৫ জানুয়ারির আগে এরশাদকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হলো। এরশাদকে ‘হাইজ্যাক’ করে সুজাতার নির্বাচন সার্জারি। ক্ষমতায় এসেই প্রটোকল বাদ দিয়ে দিল্লির সাথে করা চুক্তিগুলো আওয়ামী লীগের ইচ্ছায় বলে মনে করা যায় না। এবার হাজিরা দিতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাঙ্গপাঙ্গরা। এসব কেন? সালমান খুরশিদ সাহেব জানালেন, ‘সরকার সমর্থিত যুবশক্তি এবং জামায়াত রাজপথে মুখোমুখি অবস্থানে গেলে, সেই পরিস্থিতিতে ভারত আওয়ামী লীগকেই বেছে নেয়।’ সজীব ওয়াজেদ যে দিন টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বললেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় যাবে।’ আমরা তখন কি গুরুত্ব দিয়েছি? এত কিছুর পরেও জনরোষ মহামারী আকার ধারণ করলে লীগের সমস্যা কী? ‘ভারতের নির্দেশে জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ হয়তো ইতস্তত বোধ করছে; কিন্তু ভারত চায় জামায়াত নিষিদ্ধ হোক’ -সোস্যাল মিডিয়া।
এই আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নয়। বাংলাদেশের মানুষ এতো নিষ্ঠুর না। বিচারকেরাও এতটা অবিবেচক নন। গণতন্ত্রের জন্য একদা লড়াকু আওয়ামী লীগ হেরে গেলেও ‘৫ জানুয়ারি’ সৃষ্টি করত না। সকালে রায়, বিকেলে ফাঁসি দিতো না। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কখনোই এমন আচরণ করত না, যা তারা করতে বাধ্য হচ্ছে। মূলত বাংলাদেশীরা কোমল হৃদয়ের জন্য প্রশংসিত। কর্মক্ষেত্রে বিদেশীদের ইতিবাচক দৃষ্টি। তাহলে কার সন্দেহ সত্য? তথ্য-উপাত্ত বলছে, শিয়া-সুন্নির পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী বিশেষ বহিঃশক্তি। জোট ভাঙার চিন্তা আওয়ামী লীগ করবে না; কারণ, ১৯৮৪ থেকে সব দলই এক সাথে পার্লামেন্টে। ইরান-ইরাকের মতো কিছুই ঘটেনি। তাহলে রাতারাতি এমন কী ঘটল?
জামায়াত ও বিএনপিকে অবৈধ ঘোষণার বার্তাও বাইরে থেকে আসা। খোলামেলাই খালেদাকে মোদি পছন্দ করেন না এবং রাজনীতিতেও চান না, সেটাই বেরিয়ে এলো সালমানের আত্মজীবনীতে। জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে দিল্লির সরাসরি চাপ এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বানানোর ইঙ্গিতও এ বইতে। পঙ্কজ শরণও যা জানেন, ২০ দল জানে না। পঙ্কজ ও সালমানের বক্তব্য হুবহু হওয়ায় প্রমাণিত হলো, এ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কারা। জোটের রাজনীতি বাঁচিয়ে রাখার মতো ভুল প্রণব বাবুরা করবেনই না। প্রণবের সাথে হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই খালেদার ভারত সফরের তথ্য বইটিতে। রাষ্ট্র নয়, বরং ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক এবং ২০২১-২০৪১ নিয়ে উল্টাপাল্টা দাবি ফিউশন লীগের কাজ।
৩.
‘সন্ত্রাস’ নিয়ে দুই দেশের একই জিরো টলারেন্স রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের অপপ্রচার সন্দেহজনক। দশম সংসদের চেহারা পাল্টে যাওয়ার মূলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকা-দিল্লি জিরো টলারেন্সের বিষয়ে ন্যূনতম গবেষণা নেই। প্রয়োজন হলেই জঙ্গি আছে, আবার নেই।
সাত বছরের অধিক সময় ধরে ‘সন্ত্রাসীর’ তকমাটি বিনা হিসেবেই নয়। গোয়েবলসের উক্তি, ‘সাতবার মিথ্যা বললে মিথ্যাও সত্য মনে হয়।’ বিষয়টি খেয়াল করুন। ইনুরা আর ২০ দল না বলে, বলেন সন্ত্রাসী দল। অবৈধ সরকারের ভাষায় বিএনপি একটি সন্ত্রাসী জোট। খালেদার নাম সন্ত্রাসের রানী। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সন্ত্রাস প্রচারে মরিয়া ঢাকা-দিল্লি। অদৃশ্য যোগসূত্র আছে বলেই স্বাভাবিক বাঙালির চরিত্র ত্যাগ করতে বাধ্য ৯০-এর আওয়ামী লীগ। আমরা আমাদের মা-বোনদের মায়া-মমতা সম্পর্কে জানি। কখনোই তারা এই মাত্রায় অসহিষ্ণু নয়। পাওয়ার লোভে সন্তানের রক্ত কখনোই হাতে মাখাবে না কিন্তু সেটাই করা হলো ক্ষমতার জন্য। মুজিব থাকলে ট্রাইবুন্যালের প্রেসক্রিশন নাকচ হতো। যেমন হয়েছিল বাংলাদেশে ভারতের সেনাঘাঁটি বানাতে ইন্দিরার অনুরোধ। গণহত্যার পরেও ১৯৭৪ সালে ভুট্টোকে তিনিই দাওয়াত দিয়ে এনে ঢাকার বিমানবন্দরে শুধু বুকেই জড়িয়ে ধরেননি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও লালগালিচা সংবর্ধনা। ভুট্টোর গাড়িতে পাকিস্তান-বাংলাদেশের পতাকাসহ জাতীয়সৌধে নিয়ে তরুণ তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণের ভিডিও ইউটিউবে (২৭ জুন ১৯৭৪, ভুট্টোর পাশে তোফায়েল ভাইয়ের মাথা ভরা কালো চুল)। ওআইসি সম্মেলনেও পাকিস্তানে দুই নেতার ভ্রাতৃসুলভ বহু ছবি ইন্টারনেটে। ’৭১-এর মুসোলিনি টিক্কা খানের সাথে হ্যান্ডশেক? আসলে ক্ষমার এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশীদের মৌলিক চরিত্র। গণহত্যা সত্ত্বেও ভুট্টোকে ঢাকায় আনার মধ্যে সূক্ষ্ম বার্তা, অতীত না ভুললে সামনে যাওয়া যাবে না। যুদ্ধপরবর্তী জার্মানিতে মুসোলিনিকে জার্মানির চ্যান্সেলরের দাওয়াতের অবাস্তব ঘটনাই বাস্তব করলেন মুজিব। আদালতে নিজামীর বক্তব্য, ‘গণহত্যা করেছে ভুট্টো।’ কোনো কোনো নেতা ইউটার্নের জন্য দায়ী কি সত্যিই আওয়ামী লীগ, নাকি ফিউশন লীগ?
৪.
হোটেল সোনারগাঁওয়ে জোটের ১০ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে মোদির প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি খালেদা। বিচ্ছিন্নবাদীদের আশ্রয় প্রশ্নেও বিভ্রান্ত খালেদা। গুজব আমলে নিতে হবে। মিডিয়ার প্রকাশ, জামায়াতকে নিষিদ্ধ দেখতে চায় ভারত। সুতরাং সন্ত্রাসী তকমা কপালে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ... সব শ্রেণীরই হয়তো ফাঁসি হবে। ১০০ ভাগ প্রস্তুতি ট্রাইব্যুনাল এবং নির্বাহীর বডিল্যাংগুয়েজে। আমরা ৭৩-৭৪-এর মতো কোনো দলকেই গর্তে দেখতে চাই না, কিন্তু খবর, আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাচ্ছে কোনো কোনো দল। এই দেশে শিয়া-সুন্নির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারলে লাভ একটি দেশের।
যেহেতু সব কিছুই ইন্টারনেটে, ব্লেমগেইম থেকে বের হয়ে আসাটা আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে জরুরি। তথ্য-উপাত্ত বলছে, ৯ মাস মুজিব পরিবার ঢাকাতেই ছিল এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তাতেই ছিল। রাও ফরমান আলীর ইতিবাচক আচরণ ছাড়া এসব কিছু অসম্ভব। যেখানে সবাই দৌড়ের ওপরে, মাইরের ওপরে, ’৭১-এ মুজিবের মাকে টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টারে এনে পিজিতে চিকিৎসা দেয়ার সৌভাগ্য তখন আর কোন বাঙালির? ৩২ নম্বর থেকে বের হয়ে ভারতীয়দের জিপে চড়লেন ১৭ ডিসেম্বর (সাক্ষাৎকারগুলো ইউটিউবে)।
অস্তিত্ব এবং অধিকারসঙ্কটে জর্জরিত ভিকটিম দলগুলোর হাইকমান্ডের অনেক কিছুই আমলে নেয়া উচিত ছিল। তাদের সামনে জীবনমৃত্যু প্রশ্ন। মোদিকে লিখিত অভিযোগ করার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কোন দল নিষিদ্ধ হবে, ভোটে কে জিতবে, সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাইরের কারো হতে পারে না । বাংলাদেশের বেশির মানুষই জুডিশিয়াল কিলিং সমর্থন করে না। মানুষ যতেই ঘুমাবে, খুঁটি ততই গভীরে যাবে।
৫.
যদি সন্তানের মৃত্যুর পর আবিষ্কার করেন, ডাক্তারের ফার্মেসি ব্যবসা এবং অতিরিক্ত ওষুধ বিক্রির কারণেই পুত্রের মৃত্যু, তখন? রায় লেখা বিচারকই যদি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খোলামেলা অ্যাক্টিভিজমে নামে এটা অন্যায়, জুরিসপ্র“ডেন্সে এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
শহীদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় খালেদার বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচিতে দুই ফাঁসির রায় টিমের অন্যতম বিচারক ছিলেন। ২০১৩ সালে ইকোনমিস্ট পত্রিকার দাবি, ৩০ লাখ শহীদ হলে জনসংখ্যা অনুযায়ী, ২৫ জনে ১ জন। শর্মিলা বসুসহ অনেকেই সংখ্যার ব্যাখ্যা করায় সরকার নাখোশ। ২৫ জনে ১ জন শহীদ হলে, সংখ্যা করা কি কঠিন? বড়জোর ৩ বাড়ি মিলে ২৫ সদস্য। তাহলে তালিকা না করে খালেদার লেজে আগুন দেয়া কেন? আসলে ’৭১-এর অনেক কিছু অন্ধকারে রেখে, গুজবের ফসল ঘরে তুলছে ফিউশন লীগ। অথচ ৬৪টি জেলায় ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেই ১ মাসে শহীদের সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব। গাঁটের টাকায় নিজ জেলায় সংখ্যা নির্ণয় করেছি অতি সহজে। আসছি মূল কথায়। জুডিশিয়াল কিলিং বিষয় নিয়ে পাবলিকের সন্দেহ মিথ্যা হলে, রায় লেখা বিচারপতিকে কেন অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকায় দেখতে হলো? ঘাদানি ও ছাত্রলীগের সাথে আন্দোলন করার পরেও ২০ দলের বিরুদ্ধে কোন আইনে বক্তব্য দিতে পারেন এই বিচারপতি? খালেদার বাড়ি ঘেরাওয়ের পর টকশোতে দলীয় এমপির মতোই বক্তব্য কি আপত্তিকর নয়? তবুও আমজনতার দীর্ঘ দিনের সন্দেহ দূর করার জন্য বিচারপতি মানিককে ধন্যবাদ। তিনি অ্যাক্টিভিস্ট এবং আইনের লোকদের কাজ অনেক সহজ করে দিলেন।
বিচারক কখনোই নিজের এজলাসে ব্যক্তিগত মক্কেলের বিচার করতে পারেন না। জুরিসপ্র“ডেন্সে সেটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। সদ্য অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বহুল বিতর্কিত বিচারপতি তার আগের চরিত্রে ফিরেছেন। কর্মসূচিতে আবারো সক্রিয়... ২৬ নভেম্বর ঘাদানিক-এর সভায় অন্যান্য নেতার সাথে তিনি স্টেজেই ছিলেন। ...রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংবিধানিক শপথ লঙ্ঘন করেছেন। ...বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পেছনে বড় ভূমিকা ঘাদানিকের। ...যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারক ছিলেন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রেখেছিলেন, একই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির কর্মসূচিতেও তিনিই আবার সশরীরে হাজিরা যেন সাপ হয়ে কামড়ানো আর ওঝা হয়ে ঝাড়ো। খালেদার বাড়ির সামনে ‘জয়বাংলা’ বলে সেøাগান দিয়ে তার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন। তার চিঠি থেকে জানা গেছে, অবসরের যাওয়ার পর তিনি আর কোনো রায় লিখতে পারবেন না বলে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলন...।
জামায়াত না জাপা নিষিদ্ধ হবে, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশীদের। স্বাইপ কেলেঙ্কারির পর বিচারপতি মানিকের অ্যাক্টিভিস্ট হওয়ার মধ্যে দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোটিভ পুরোপুরি উন্মোচিত হলো। খালেদাকেও মোদির ১০ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে ২০ দলের পতন ফাইনাল। এ দিকে ফিউশন আওয়ামী লীগ অস্তিত্বসঙ্কটে। দিল্লি এখন তাদের গলার কাঁটা। না পারে গিলতে, না পারে উগরাতে। সম্মিলিতভাবে আগ্রাসী শক্তি ঠেকানোর এখনই সময়। মানবাধিকারের পত্র হাতে রাজপথে দাঁড়ালে এক কোটি মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের মতো যথেষ্ট বুলেট আর পুলিশ নেই। অচলাবস্থা অবসানের একমাত্র উপায়- রাজপথে অন্তত মানুষের শান্তিপূর্ণ অবস্থান।
সারমর্ম : ‘আওয়ামী লীগই বেছে নেয় ভারতকে’- ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গোমর ফাঁসের জন্য অনেক অভিনন্দন। তবে ২০০ বছর দেরিতে হলেও কুঠিবাড়ির ষড়যন্ত্রকারীর বিচার হবেই।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাবলু সেলফিস দলের শৃংখলা ভঙ্গ করেছে- রওশনের বয়স হয়েছে, তাই তাকে কো-চেয়ারম্যান করিনি : এরশাদ
এদিকে ছোটভাই জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে কেন দলের নতুন মহাসচিব করা হয়েছে-তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমি রওশন এরশাদকেই দলের কো-চেয়ারম্যান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রওশন এরশাদের বয়স এখন ৭৬। তিন বছর পর নির্বাচন হলে তখন তার বয়স হবে ৭৯। তার বয়স হয়ে গেছে। এ জন্য তাকে করিনি। বয়সে কম হওয়ায় জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান করেছি। কারণ জনগণ জাতীয় পার্টিকে বৃহৎ দল মনে করে না। জনগণ দেখে আমরা সরকারে আছি। মূলত: জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফেরাতেই জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে পার্টির নতুন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও নতুন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে বরণ তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি ঢাকা উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতিসহ নেতাকর্মীরা এরশাদ ও নবনির্বাচিত দুজনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এরশাদ বলেন, আগামী এপ্রিলে জাতীয় পার্টির যে কাউন্সিল হবে, সেখানে যদি নেতাকর্মীরা আমাকে দলীয় চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিতে বলেন, আমি আর এ পদে থাকব না। সদ্য অব্যাহতি দেয়া দলের সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সম্পর্কে এরশাদ বলেন, বাবলু সেলফিস। সে আমার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমার স্ত্রীর অসম্মতিতে তাকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে। এ জন্যই তাকে মহাসচিব থেকে বাদ দিয়েছি।
তিনি বলেন, বাবলু মহাসচিব হিসেবে ঠিকমতো দায়িত্ব পালনও করেনি। তারপরও আমি মহাসচিব পরিবর্তন করতে চাইনি। কিন্তু তিনি দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন। তিনি আমার স্ত্রী রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। যা দলীয় শৃংখলার পরিপন্থী।
রুহুল আমিন হাওলাদার প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, আমি হঠাৎ করেই রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। তিনি চুপ ছিলেন। তাই তাকেই আবার মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছি।
নেতাকর্মীদের আস্থা ফেরাতেই পদে পরিবর্তন
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দলের নেতাকর্মীদের আস্থা ফেরাতেই জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চাইবেন, তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে তিনিও দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানান।
এরশাদ বলেন, বাবলুর বাবা যখন অসুস্থ ছিল, তখন আমি নিজ খরচে ব্যাংককে গিয়ে দেখে এসেছি। ওকে আমি সন্তানের মতো দেখতাম। কিন্তু ও সেলফিশের মতো আচরণ করেছে। আমি যখন রংপুরে ছিলাম, আমার স্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ কারণেই তাকে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিয়েছি।
রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রশংসা করে এরশাদ বলেন, মহাসচিব পদ থেকে বাদ দেয়ার দুই বছরে সে আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও কাউকে বলেনি। বুকের ভেতর চাপা রেখেছে। এটা শুধু আনুগত্যের কারণে। কিন্তু এই সেলফিশ (বাবলু) আমি ঢাকার বাইরে যাওয়ার পর আমার স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করেছিল। আমি বেঁচে থাকতে সে এই কাজ করল!
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী রওশন এরশাদকে কো-চেয়ারম্যান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার বয়স এখন ৭৬ বছর। তিন বছর পর আগামী নির্বাচনের সময় তার বয়স হবে ৭৯ বছর। সেসময় তিনি চলতে পারবে কি-না আমি জানি না। আমি নিজেও চলতে পারব কি-না জানি না। নির্বাচনের কাজে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে হয়। এসব চিন্তা করেই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করেছি।
জিএম কাদেরকে সৎ উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, একজন সাবেক কমার্স মিনিস্টার হওয়া সত্ত্বেও তার সংসার চালাতে প্রতি মাসে আমাকে খরচ দিতে হয়।
পৌর নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবি প্রসঙ্গে এরশাদ দুঃখ করে বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনে ২৪টিতে জয়লাভ করেছে অথচ আমরা পেয়েছি মাত্র একটি। কারো কোনো বদনাম নেই, সব বদনাম এরশাদ সাহেবের। কারণ আমি দলের দায়িত্বে আছি। অথচ আমি পরিশ্রম করি, দলে পয়সা দিই। কেউ টাকা দেয় না, পরিশ্রম করে না। সবাই বড় বড় কথা বলে। অফিস খরচসহ সব খরচ দিই আমি। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এই চেয়ারসহ সবকিছু আমার।
তিনি বলেন, জনগণ জাতীয় পার্টিকে বৃহৎ দল মনে করে না। জনগণ দেখে আমরা সরকারে আছি। যখন আমরা ভোট চাইতে যাই তখন জনগণ বলে, আপনি তো সরকারের সাথে আছেন। আপনাকে ভোট দেব কেন? আপনি যেহেতু সরকারে তা হলে নৌকায়ই ভোট দেব।
বিএনপিকে বিধ্বস্ত দল উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, তাদের নেতাকর্মীরা কারাগারে। তারপরও ২৪টি পৌরসভায় জয়লাভ করেছে তারা। আমরা পেয়েছি একটি। আমরা বাইরে আছি, বেঁচে আছি। আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জা হয়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছে নানা নাটকীয়তা। গত রোববার দলের কো-চেয়ারম্যান পদে নিজের ভাই জি এম কাদেরকে নিয়োগ দেন এরশাদ। এর একদিন পর রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয় দলের একটি অংশ। তবে এর একদিন পর মঙ্গলবার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদে পুনরর্বহাল করেন এরশাদ। পরে বিকালে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় এসব প্রসঙ্গ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এরশাদই দলের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন ইসলামি সোনালি যুগের সন্ধানে by নিদাল গুসাম -অনুবাদ : মুহাম্মদ খায়রুল বাশার
এ অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। মুসলিম দেশগুলোতে আধুনিক চাকরির সংস্থান ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য ভালোভাবে জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা গেলে বৈশ্বিক উন্নয়নের সাথে তালমিলিয়ে মুসলিম বিশ্বও এগিয়ে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মুসলিম বিশ্ব থেকে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পেরেছে। সেটি হচ্ছে তুরস্কের মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি। অন্যান্য ৪০০ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় মাত্র এক ডজনের মতো মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
‘দ্য ট্রেন্ডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড সায়েন্স স্টাডি অ্যান্ড দ্য প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্টে’র মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকমানের কোনো পরীক্ষা না থাকলেও এসব বিষয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড টেস্টে (মুসলিম বিশ্ব পরীক্ষায়) চতুর্থ, অষ্টম ও দশম গ্রেডের ছাত্ররা গ্লোবাল অ্যাভারেজ বা গড়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের মধ্যকার এই ব্যাপক পার্থক্য ক্রমেই বাড়ছে। অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধ এবং সরকারি প্রতিবেদনে উল্লিখিত গবেষণার ফল হচ্ছে জনসংখ্যা এবং আর্থিক সামর্থ্য বা সফলতা হার অনুযায়ী কম। মুসলিম দেশগুলো গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তাদের জিডিপির গড়ে মাত্র প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করে। অপর দিকে, একই খাতে বৈশ্বিক গড় হচ্ছে জিডিপির ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ওইসিডি গড় হচ্ছে ২ শতাংশের ওপরে।
মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্মরত লোকসংখ্যাও বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গড় সংখ্যা থেকে অনেক কম। ১৮ মাস আগে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি বেসরকারি ও নির্দলীয় টাস্কফোর্সকে মুসলিম ওয়ার্ল্ড সায়েন্স ইনিশিয়েটিভ এবং মালয়েশিয়ান ইন্ডাস্ট্রি গভর্নমেন্ট গ্রুপ ফর হাই টেকনোলজি জানায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা মুসলিম বিশ্বে খুবই নগণ্য বা অপ্রতুল। তাই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সহায়তা করতে পারে তা- নির্ধারণ করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রয়াসের সাথে আমাকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আমাকে এ ব্যাপারে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে ভালোভাবে বোঝাপড়া এবং সম্ভাব্য প্রতিকার মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানকে আবার শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে পারে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধিত হলে তা মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও বিরাট প্রভাব ফেলবে। মুসলিম বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমরা শুধু বাজেট এবং গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি না; আমাদের ইস্যুগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষা এবং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থানকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রথমে আমরা মুসলিম বিশ্বে কিভাবে বিজ্ঞান পড়ানো হয়, সেখানে পুঁথিগত বিদ্যার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়ার পদ্ধতি, পাঠ্যবই, নির্দেশমূলক ভাষা, ‘বিতর্কিত’ বিষয় (যেমন- বিবর্তনের থিওরি) এবং বিজ্ঞান ক্লাসগুলোতে ধর্মের ভূমিকা ইত্যাদি কিভাবে শিক্ষা দেয়া হয়, তা পর্যালোচনা করি।
অতি সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে টাস্কফোর্স উল্লেখ করে, মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের সার্বিক অবস্থা দুর্বল হলেও সেটাকে উন্নত করতে কার্যকরভাবে ও আন্তরিকভাবে আরো অনেক কিছু করা যেতে পারে। টাস্কফোর্স শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জাতীয় নীতি প্রণয়ন বাণীতে নির্ধারণী সংস্থা এবং সায়েন্স একাডেমি শিল্পসংস্থা ও সিভিল সোসাইটির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতো অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি প্রধান লক্ষ্য হতে হবে ছাত্রদের সৃষ্টিশীলরা উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার ক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক এনকোয়ারির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে টাস্কফোর্স বিজ্ঞানে মনোযোগী ছাত্রদের মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা এবং যোগাযোগের বিষয়ে শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের মন-মানসিকতাকে আরো বড় ও উদার করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে টাস্কফোর্স বিশেষভাবে ‘এনকোয়ার বেজড’ এবং ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’ অ্যাপ্রোচসহ আন্তর্জাতিকভাবে ‘স্ট্রেট অ্যান্ড ট্রু টিচিং’ পদ্ধতি অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। অবশ্য এ ধরনের একটি শিক্ষাপদ্ধতি পরিচালনার জন্য এসব পদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত প্রফেসর প্রয়োজন। অধ্যাপকদের পাঠ্যবই লিখতে এবং বিজ্ঞানকে হাতের নাগালে নিয়ে আসার জন্য বই লিখতে উৎসাহিত করা উচিত।
এসব সুপারিশ দেখে কেউ কেউ হয়তো বিস্মিত হতে পারেন এবং মুসলিম বিশ্বের গবেষণাকর্মের অপ্রতুলতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের উদ্যোগ একক মানবিকতাসম্পন্ন প্রকাশনার চেয়ে অত্যধিক হারে সত্যিকারের বিশ্বব্যাপী প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টির দ্বার উন্মোচন করবে এবং বিশাল জনগোষ্ঠী এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।
টাস্কফোর্স সুপারিশ করেছে জাতীয় নীতি প্রণয়নকারী সংস্থাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা কারিকুলাম এবং গবেষণা কর্মসূচির ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে আরো স্পেস অনুমোদন করবে। টাস্কফোর্স সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি গুণী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকে স্বেচ্ছায় গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। প্রকাশনাকে জোরদার করতে একযোগে অর্থ ব্যয়ের মতো কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় টাস্কফোর্স। দ্রুত র্যাঙ্কিং জোরদার করলে দীর্ঘমেয়াদে কখনো ক্ষতির মুখে পড়তে হয় না। এসব পদক্ষেপের জন্য ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন। তাই টাস্কফোর্স মুসলিম বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি এক্সেলেন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ফর সায়েন্স (এনইএক্সইউএস)-এর একটি স্বেচ্ছা নেটওয়ার্কে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছে।
টাস্কফোর্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ও ফ্যাকাল্টির সমন্বয়ে গঠিত পিয়ার (পিইইআর) গ্রুপ কর্তৃক স্বীকৃতি দেয়া এবং পরিবর্তনগুলো নিজেদের মধ্যে প্রথম বাস্তবায়ন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশাবাদী, একবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম গ্রুপটি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করলে অন্যরাও সে পথে অগ্রসর হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রেগুলেটরস এবং অন্যান্য নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এতে পরিবর্তনের জন্য উপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার পথ সুগম হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে গবেষণা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে পরবর্তী প্রজন্ম কেবল ফ্যাক্টস ও থিওরি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জাহির করবে না বরং তারা বিভিন্ন ধারণা ও মতাদর্শ বিশ্লেষণ, ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ণয় এবং আমাদের জ্ঞানের ভিতকে আরো সম্প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে শিক্ষা লাভ করবে। বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সুষ্ঠু অ্যাকাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টির গুরুত্ব উপলব্ধি করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদার্থবিজ্ঞান ও জোতির্বিজ্ঞানের প্রফেসর, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে ভাষান্তর
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
January
(576)
-
▼
Jan 21
(8)
- ভারত মুখে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও কাজে নয় by ইকতেদার আহমেদ
- মানুষই মানবজাতির জন্য হুমকি
- দলিত ছাত্রের আত্মহত্যায় উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি
- জানমালের রক্ষক যেভাবে হন ভক্ষক by জসিম উদ্দিন
- প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে বিচারাঙ্গনে নানামুখী...
- অ্যাক্টিভিস্ট-রামমাধব-ফিউশন লীগ এবং আত্মজীবনী by ম...
- বাবলু সেলফিস দলের শৃংখলা ভঙ্গ করেছে- রওশনের বয়স হয়...
- নতুন ইসলামি সোনালি যুগের সন্ধানে by নিদাল গুসাম -অ...
-
▼
Jan 21
(8)
-
▼
January
(576)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







