Wednesday, April 22, 2015

নেতৃত্বে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী by মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু

এক হাতে জুতা অন্য হাতে ইটা, দেখতে মন্দ লাগছে না।
ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ৩ ঘণ্টা আগে কারওয়ান বাজার ওয়াসা ভবনের পেছনে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩০ থেকে ৪০ নেতাকর্মী। সোমবার বিকালে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে ওই এলাকায় আসবেন- এমন খবর পাওয়ার পরপরই সকাল থেকে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেন তারা। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে কালো পতাকা দেখানোর কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার একপর্যায়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। এ ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আল আমিন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকিরসহ রাজু, তুহিন, মাহমুদ, রাহিম রাহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের খোকন।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর এবং সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল হক জিল্লু মামলাটি করেন। তবে সোমবার রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করার জন্য তেজগাঁও থানায় যান সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। দুটি মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার জন্য তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফের বাড়াবাড়িকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, তাদের বাড়াবাড়ির কারণেই কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় সিএসএফের বাড়াবাড়ির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনতা তাদের কালো পতাকা দেখালে সিএসএফ জনগণের ওপরে হামলা চালায় এবং একজনকে টেনে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তখন উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নন দাবি করলেও এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ২৬নং ওয়ার্ডের এক আওয়ামী লীগ নেতা আহত হয়েছেন। তিনি মামলাও করেছেন। এর আগে সকালে রাজধানীর সদরঘাটে সুন্দরবন-১১ লঞ্চ উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে ঘটনাটি শতভাগ সত্যি নয়। ৯২ দিন অবরোধ-হরতালে ওই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির ছিল। তাই খালেদা জিয়া ওই এলাকায় গেলে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের তাড়া করে। এ সময় তার নিরাপত্তা কর্মীরা জনতার ওপর চড়াও হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে বিশৃঙ্খলা ঘটে।’ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছি। মামলার আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা) ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করবেন। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি থেকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
বিএনপির মামলা : মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এবং তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ মামলার কপি তেজগাঁও থানায় জমা দেন। পরে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। মামলা নং ৪০। এতে অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঢাকা সিটি (উত্তর) মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের পক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। প্রচারের অংশ হিসেবে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কারওয়ান বাজার বাপেক্স ভবনের সামনে পথসভায় অংশ নেন। এ সময় তার চারপাশে চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনী সিএসএফ সদস্যসহ দলীয় সমর্থক ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ ছিলেন। এ সময় ‘শাসক দল সমর্থিত সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।’ জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়ির পেছন দিক দিয়ে ভাংচুর শুরু করা হয়। এ সময় চেয়ারপারসনের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয়। খালেদা জিয়ার গাড়িটি বুলেটপ্রুফ হওয়ায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তবে ওই গাড়িতে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান আহত হন। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হন। সন্ত্রাসীরা ভাংচুর চালায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে।
আওয়ামী লীগের মামলা : নির্বাচনী প্রচার চালানোকালীন কারওয়ান বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল হক জিল্লু সোমবার রাতে বিএনপির অজ্ঞাতনামা ১০০ নেতাকর্মীকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলা নম্বর ৩৯।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সির প্রার্থী শামীম হাসানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন নিয়ে কারওয়ানবাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিকালে বাপেক্স ভবনের সামনে প্রচার চালানোর সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সেখানে এসে থামে। সেখানে পথসভার নামে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি সবাইকে শান্ত করে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং ছাত্র ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা করে। এতে তিনিসহ ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় সিএসএফ সদস্যরা তাদের নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশে ছয় রাউন্ড গুলি ছুড়ে।
পুলিশের বক্তব্য : তেজগাঁও থানার ওসি মাজরুল ইসলাম বলেছেন, তারা দুটি অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছেন। ইতিমধ্যে মামলা দুটির তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা জানার পাশাপাশি ছবি দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি ও টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ওসি জানান, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সোমবার ওই এলাকায় পথসভা করবেন, এমন কোনো তথ্য তাদের জানা ছিল না। আগে থেকে পুলিশকে এ ধরনের কোনো তথ্যও দেয়া হয়নি। এ কারণে ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি পর্যাপ্ত ছিল না। তবে খবর পেয়েই দায়িত্বরত একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
যারা জড়িত : ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে ওই হামলার ঘটনায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে মূল ভূমিকায় ছিলেন তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য ও এক নম্বর ইউনিটের সহ-সভাপতি আল আমিন, ২৬ ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকির, স্থানীয় বাউলবাগ ইউনিট ছাত্রলীগের সভাপতি রনি খন্দকার, ছাত্রলীগ নেতা তুহিন মাহমুদ, রাহিম রহমান, রাজু ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা খোকন। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সময় আল আমিন ও জাকিরকে সামনের কাতারে দেখা গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন মঙ্গলবার দুপুরে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’ জড়িত না থাকলে কিভাবে ছবি এলো, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর নিজেই ফোন করে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি সেদিন কারওয়ানবাজারে বাজার করতে গিয়েছিলাম। ওই সময় ওইখানে গণ্ডগোল হলে একটা ইটের টুকরা এসে পড়ে। এতে আমি হাতে ব্যথা পাই।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জনান, তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই বলেন, তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত আছেন। তেজগাঁও কলেজে অনার্সে পড়ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় জড়িত অপর একজন ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকির। যুগান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্রলীগ করেন বলে স্বীকার করেন। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা অসুস্থ। তাকে নিয়ে ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে।’ একথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় খালেদা জিয়ার ওপর হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এ সময় খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। আওয়ামী লীগ কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বলছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় তারাও তাদের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শামীম হাসানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য এবং যুব ও ছাত্রদলের কর্মীরা প্রথম তাদের ওপর হামলা চালায়।

সেনা মোতায়েন আইওয়াশ: আফরোজা আব্বাস

বিচারিক ক্ষমতা ছাড়া সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে আইওয়াশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাবাজার-সদরঘাট এলাকায় গণসংযোগ করার সময় এ মন্তব্য করেন।
আফরোজা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন (মোতায়েনের সিদ্ধান্ত) হয়েছে, এটা শুধু আইওয়াশ। আমরা তো টহল দেয়ার জন্য সেনাবাহিনী চাইনি। আমরা সরকারকে বলব, যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন চান, সুষ্ঠু নির্বাচন চান, ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ বুঝিয়ে দেবে জনগণ কার পক্ষে আছে?
গতকাল মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাঠে থাকবে তারা।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণসংযোগে হামলায় প্রমাণিত হয়েছে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে একচেটিয়া, একতরফা নির্বাচনের মধ্যেমে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।
তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগকালে প্রতিদিন আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে, বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি বার বার এ ব্যাপারে নগরবাসীকে ও প্রশাসনকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ জানাচ্ছি।
মিসেস আব্বাস বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, আমি আরো জোরালোভাবে কেন প্রতিবাদ করছি না। জোরালো প্রতিবাদ মানে কী? আমি তাদের সাথে ঝগড়া করব? মারমুখী আচরণ করব? আমরা তো প্রতিবাদ করছি গণতন্ত্রের ভাষায়। প্রতিবাদ করার নামে আমরা মারমুখী হতে পারব না।’
আফরোজা বলেন, আমি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী, ঢাকার বউ। ঢাকাবাসীর কাছে মির্জা আব্বাসের জন্য ভোট চাই, দোয়া চাই। ঢাকার বউ হিসেবে অবশ্যই আমি নগরবাসীর কাছ থেকে সম্মান পাচ্ছি, দোয়া পাচ্ছি। আমি নগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।
এ সময় আফরোজা আব্বাসের সাথে ছিলেন- ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল মালেক, কাউন্সিলর প্রার্থী শাহিদা মোর্শেদ, কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ বাদল প্রমুখ।
আফরোজা আব্বাস আরো বলেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকার সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ততবেশি চড়াও হচ্ছে। এমন কোনো দিন নেই যে দিন আমাদের প্রচারণার মাইক ছিনিয়ে নেয়নি, লিফলেট বিতরণে বাধা দেয়নি কিংবা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়নি। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি। প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, যেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ব্যবস্থাই সরকার তৈরি করতে পারেনি, সেখানে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কী করে?

নির্বাচনে কীভাবে জয়ী হতে হয় আ'লীগ তা জানে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি। খালেদা জিয়া গাড়িবহর নিয়ে মিছিল করে নির্বাচণের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা ভালভাবেই জানে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের এক বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এসময় ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা জানি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা এ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারবে না। কিন্তু আমি আজ মন্ত্রী হিসেবে নয়, দলীয় কর্মী হিসেবে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কথা বলতে পারব। এতে আমার মনে হয় কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন নতুন নাটক শুরু করেছেন। আমাদের দলে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি, কিন্তু খালেদা জিয়া গাড়িবহর নিয়ে মিছিল করে নির্বাচণের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা ভালভাবেই জানে।
কামরুল বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না যেনে তারা একের পর এক নির্বাচন কমিশনে আবদার করে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া মাঠে নেমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করছেন। নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোন প্রার্থীর পক্ষে মিছিল, জনসভা, কিংবা শোডাউন করা যাবে না। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন তা করছেন। তাই আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাবো, এ কর্মকান্ড থেকে তাকে বিরত রাখা হোক।
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, দফতর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিলন, উপ-দফতর সম্পাদক জামাল উদ্দীন প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে আবারো ছাত্রলীগের হামলা

হামলায় আহত খালেদার নিরাপত্তা রক্ষী
বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে আজও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এবার রাজধানীর বাংলামটরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচ দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে টান‍া তিন দিন হামলার শিকার হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। দুই সিএসএফ সদস্যকে মারধর করে আটকে রাখে। তাদের একজনের মাথা ফেটে গেছে। তারা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হেয়ার রোড হয়ে কাকরাইলে যায়। এর পর খালেদা জিয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান।
ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে পঞ্চম দিনের মতো প্রচারণায় নেমেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশে বের হন।
এর আগে সোমবার কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ব্যাপক হামলা হয়। পর দিন মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়েই সিটি নির্বাচনের প্রচারে বের হলে ফকিরাপুলে তার গাড়িবহর হামলার মুখে পড়ে। তার আগে রোববার রাজধানীর উত্তরায় বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কারওয়ান বাজারে গাড়িবহরে হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে একে ‘নাটক’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই হামলা নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা- এজাহারে নাম নেই : শনাক্ত হলেও গ্রেফতার নেই by আবু সালেহ আকন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। এমনকি মামলার এজাহারে বিএনপির পক্ষ থেকেও হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি দেখে অনেকেই তাদের চিনতে পেরেছেন। ঘটনার পর তারা ওই এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিলও করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, যারা হামলা চালিয়েছে তারা কারওয়ানবাজার এলাকার পরিচিত মুখ। এ দিকে তেজগাঁও থানার ওসি বলেছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় বেগম জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বেগম জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য ফজলুল করিম, ফারুক হোসেন, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার এবং গাড়িচালক শাহজাদা শাহেদ। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। বেগম জিয়ার গাড়িবহরের তিন-চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের পরিচয় এই এলাকার সবাই জানে। তাদের ছবি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় দেখানো ও ছাপা হয়েছে। অনেক মিডিয়া তাদের নামও প্রকাশ করেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার চালাতে বেগম খালেদা জিয়া ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়সারাগোছের দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণেই হামলাকারীরা নির্বিঘেœ বেগম জিয়ার ওপর হামলা চালাতে পারে। হামলার পর বেগম জিয়ার গাড়িবহর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে হামলাকারীরা কারওয়ানবাজার এলাকায় মিছিল করে।
এ দিকে সংবাদমাধ্যমে হামলাকারীদের ছবি ও নাম প্রকাশ পাওয়ার পর হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও পুরোপুরি শনাক্ত হয়ে যায়। কে লাঠি দিয়ে গাড়িতে আঘাত করেছে, কে ইট মেরেছে, কে লাফিয়ে উঠে লাথি মেরেছে তার সবই শনাক্ত হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহ আলম, হোসেন এবং লোকমান হোসেনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।
এ দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে তেজগাঁও থানায়। মামলা নম্বর ৪০। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে মামলায় নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির এজাহারটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আগেই মামলার এজাহারটি থানায় পৌঁছে দেয়া হয়। থানা কয়েক ঘণ্টা পর এজাহারটি নথিভুক্ত করে। পুলিশ জানায়, মামলায় অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অব:) ফজলে এলাহী আকবর বাদি হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি এজাহার দেন। এ সময় তার সাথে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এবং তাহেরুল ইসলাম তৌহিদসহ আরো কয়েক বিএনপি নেতা ছিলেন। সে সময় তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসার ছিলেন রমজান। তিনি এজাহারটি গ্রহণ করেন। সোয়া দুই ঘণ্টা পর এজাহারটি নথিভুক্ত করা হয়। ওসি থানায় না থাকায় তখন এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা যায়নি বলে পুলিশের প থেকে দাবি করা হয়।
থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওঁৎ পেতে থাকা শাসক দলসমর্থিত সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে এবং তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।’ মামলার এজাহারেও অজ্ঞাত কারণে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ দিকে গত রাতে তেজগাঁও থানার ওসি বলেন, দোষীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিএনপির মামলায়ও শনাক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করার পরই তাদেরকে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
হামলায় যারা সরাসরি অংশ নেয় : হামলায় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। এরা হলো ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক জিল্লু, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য তুহিন ও আল-আমিন, তেজগাঁও পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির, তেজকুনিবাজার ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন, হাতকাটা কাশেম গ্রুপের শামসু। এ ছাড়া তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলা মালার বেশ কিছু অনুসারী সেখানে ছিল।

আনিসুল হকের প্রেমে পড়েছিলেন তসলিমা নাসরিন

ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের প্রেমে পড়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। আনিসুল হক যখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন তখনই নিজের ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। গতকাল এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ফেসবুকে দেখছি আনিসুল হক নাকি ঢাকায় নির্বাচন করছেন। এই সেই আনিসুল হক! এখনও চেহারাটা অনেকটা আগের মতোই। যৌবনে কী যে অবশ করে দেয়া সুদর্শন ছিলেন! টেলিভিশনে রাতের দিকে কি একটা অনুষ্ঠান করতেন। ওঁর চোখ, ওঁর হাসি, ওঁর কণ্ঠস্বর আমাকে সত্যি সত্যি পাগল করত।”
তসলিমা লিখেন “প্রতি রাতে ওঁর প্রেমে পড়তাম। আমার  প্রেম দেখে আমার ছোট বোনও ওঁর প্রেমে পড়ে বসলো।  প্রেম জিনিসটা সত্যিই সংক্রামক। আনিসুল হককে নিয়ে আমার আর বোনের মধ্যে কি বিশাল যুদ্ধ বেঁধে গেল। আমাদের মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।”
“সম্ভবত আমি একটা প্রেমের চিঠি আনিসুল হককে পাঠাব বলে ঠিকই করে ফেলেছিলাম। আর ওদিকে বোনটিও আমার অগোচরে ওঁকে একটা চিঠি পাঠিয়ে দিল। কিছুদিন পর আনিসুল হকের প্রেম-প্রেম একটা চিঠি এলো বোনের কাছে। চিঠিটা আমার হাতেই পড়েছিল। আমার কি আর প্রাণে সয়!” 
তসলিমা লিখেন, পুরানো সেসব দিনের কথা মনে পড়ছে আর আমার ঠোঁটের কোণে প্রজাপতির মতো উড়ে উড়ে হাসি এসে বসছে। আমার বোনটা যখন এ লেখাটা পড়বে, খুব জোরে হাসবে নাকি আমার মতো নিশব্দে! কৈশোর যখন যায়, একেবারেই কি যায়?

রোমহর্ষক ব্যাংক ডাকাতি- গ্রেনেড, বোমা, গুলি, ম্যানেজারসহ নিহত ৮ by হাফিজ উদ্দিন

সাভারের কাঠগড়া এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায়
ডাকাতির পর ব্যাংকের ভেতর পরিদর্শন করেন আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা; ইনসেটে গুলিতে নিহতদের লাশ : নয়া দিগন্ত
রোমহর্ষক ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে আশুলিয়ায়। ডাকাত দল ব্যাংকে হানা দিয়ে গুলি, গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও কুপিয়ে ম্যানেজারসহ ৭ জনকে হত্যা করে। এ ছাড়া ডাকাতদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। তাদের সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে জনতার পিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে উপস্থিত হন। পুলিশ ব্যাংকের নিচে ও আশপাশ থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার করেছে। এদিকে স্থানীয় জনতা এক ডাকাতকে ধরে পিটিয়ে মেরেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। এ ছাড়া ডাকাতদের ফেলে যাওয়া অসংখ্য শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। গতকাল দুপুরে ‘বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ কাঠগড়া বাজার শাখায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. অলিউল্লাহ (৪৫), ব্যাংকের গানম্যান বদরুল আলম (৩৮), ব্যাংকের গ্রাহক কাঠগড়া এলাকার একটি প্রিন্টিং কারখানার মালিক সাহাবুদ্দিন পলাশ (৪৮), ব্যাংক ভবনের নিচে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মুনির হোসেন (৬০), ব্যাংক ভবনে অবস্থিত মার্কেটের দোকানি জিল্লুর রহমান এবং কুটুরিয়া এলাকার জমির (৩৮), ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ (৩৫)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে নিহত ডাকাত সদস্যের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
নিহত ব্যাংকের ম্যানেজারের বাড়ি জামালপুর জেলায়। তিনি সাভার আড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। গুলিতে নিহত ব্যাংকের গ্রাহক সাহাবুদ্দিন পলাশের পিতার নাম শামসুদ্দিন মোল্লা। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার লক্ষণদিয়া গ্রামে। তিনি কাঠগড়া এলাকার একটি প্রিন্টিং কারখানার মালিক ছিলেন। টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি ব্যাংকে গিয়েছিলেন।
গুলিতে নিহত ঝালমুড়ি বিক্রেতা মুনির হোসেনের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কলাকুপাবান্দোরা এলাকায়।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ জমির সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আশুলিয়া থানার এসআই জাকারিয়া হোসেন জানিয়েছেন।
সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখাটি হাজী নজুমদ্দিন সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। বিশমাইল-জিরাব সড়ক থেকে সরু গলি দিয়ে পায়ে হেঁটে ব্যাংকে যেতে হয়। আর গলির দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট। অবশ্য ঘটনার পরপরই ওই এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে এক ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ব্যাংকের কাছে ঢুকতেই দোতলার ফ্লোরে রক্তের স্তূপ জমাট বেঁধে রয়েছে। র‌্যাব পুলিশ ‘ক্রাইম সিন’ ফিতা দিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।
স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছে, ডাকাতরা প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। তারা তাদের ব্যবহৃত যানবাহন রেখে যায় মূল সড়কে।
ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ বলেন, ডাকাতের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুই ডাকাতকে ধরে ফেলে জনতা। এর মধ্যে গণপিটুনিতে একজন মারা গেছে। বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারযোগে আসা ৮/১০ জনের একদল ডাকাত গ্রাহকবেশে ওই ব্যাংকে প্রবেশ করে। এ সময় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রথমে ব্যবস্থাপককে একটি গ্রেনেড দিয়ে জিম্মি করে পরে অন্য কর্মকর্তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে বোমা ও গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লুটপাট শুরু করে ডাকাতরা। তাদের বেপরোয়া গুলি, বোমা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাখা ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহসহ, গ্রাহক পলাশ ও নিরাপত্তা কর্মী বদরুল আলম।
এদিকে ব্যাংকে ডাকাতির বিষয়টি পার্শ্ববর্তী মসজিদ থেকে মাইকিং করা হলে পাশের বাজার ও এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ডাকাতদের ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ব্যাংকের নিচে মারা যান ঝালমুড়ি বিক্রেতা মনির হোসেন ও ওই মাকের্টের ক্রোকারিজ দোকানি জিল্লুর রহমান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান কুটুরিয়া এলাকার জমির নামে এক যুবক।
ক্ষুব্ধ জনতা গুলি উপেক্ষা করে ডাকাতদের ধাওয়া দিলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিশমাইল-জিরাব সড়কের আমতলা এলাকার আজমত গ্রুপের সামনে মোটরসাইকেলসহ ধরা পড়ে দুই ডাকাত। এ সময় তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই গণপিটুনিতে মারা যায় অজ্ঞাত এক ডাকাত সদস্য। আরেক ডাকাতকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
গুরুতর আহত ১৭ জনকে বিভিন্ন যানবাহনে করে সাভারে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাৎক্ষণিক একযোগে এত বেশি সংখ্যক গুলিবিদ্ধসহ আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। পরে আরও একজন মারা যান।
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে বিশমাইল-জিরাবো সড়ক ও সিএন্ডবি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা অনেকেই বলাবলি করছিল যে, ব্যাংকে ডাকাতির পর কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোন রহস্য থাকতে পারে। ডাকাতি তাদের বাহানা ছিল। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তারা বলাবলি করছিল।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল ও এনাম মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন শেষ করেছেন। পরে তিনি বলেন, লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাত দলকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রবিন দেওয়ান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ৪/৫টি মোটরসাইকেলে চড়ে ডাকাতরা আসে। ডাকাতরা ব্যাংকে হামলা চালানোর পর স্থানীয় মসজিদের মাইকে ডাকাতদের প্রতিরোধের আহ্বান জানায় এলাকাবাসী। তখন ডাকাতরা গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন।
রবিন বলেন, প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালাতে থাকে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল পড়ে গেলে জনতা দুই ডাকাতকে ধরে মারধর করে। তাদের একজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। অন্যজনকে পুলিশে দেয়া হয়।
ঘটনাস্থলে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৫ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। সন্দেহভাজন ডাকাতদের ওই মোটরসাইকেলটি জ্বালিয়ে দিয়েছে জনতা।
গুলিবিদ্ধদের সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদ হাসান জানান। এ ছাড়া তাদের হাসপাতালে পাঁচটি লাশ রয়েছে। যাদের হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে।
এদিকে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্যাংকটি যে ভবনে অবস্থিত সেই ভবনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বরকত জানান, ব্যাংকে ডাকাত পড়েছে শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ব্যাংকের ম্যানেজার ও নিরাপত্তা কর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। গুলিবিদ্ধ ও কোপানো অবস্থায় আরও ১০-১৫ জন পড়ে চিৎকার করছে। আমি দ্রুত তাদেরকে করে হাসপাতালে পাঠাই।
গুলিবিদ্ধসহ আহতদের পরিচয়: পারভেজ, নুর ইসলাম, আয়ুব আলী, নুর মোহাম্মদ, শফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ আলী, সাইফুল ইসলাম, রমজান, শাহজাহান, আনিছ, আয়ুব আলী, সাইফুল ইসলাম, হামেদ আলী, শাহাজাদ, রফিক, আবদুল হক ও সালাম। তারা সকলেই সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

আমার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই গুলি চালানো হয়েছে -আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণায় খালেদা জিয়া

ডিসিসি দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গতকাল
গণসংযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রাণনাশের জন্যই কারওয়ান বাজারে তার গাড়িবহরে গুলি ও হামলা করা হয়েছিল। সিটি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে বিপুল জনসমর্থন দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে বলেই এ হামলা করেছে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সিটি নির্বাচনের প্রচারণাকালে বিভিন্ন পথসভায় বেগম জিয়া এ কথা বলেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মশামুক্ত নিরাপদ ঢাকা শহর গড়তে আসন্ন সিটি নির্বাচনে মির্জা আব্বাসকে মগ মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।
এ দিকে গতকাল রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ফকিরেরপুল কাঁচাবাজার এলাকায় বেগম জিয়ার গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে একদল দুষ্কৃতকারী হামলা চালায়। তারা গাড়িবহরে আবারো ইট ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো গণসংযোগকালে শান্তিনগরের টুইন টাওয়ার কনকর্ড শপিংমলের সামনে এক পথ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে বিএনপির পে গণজোয়ার দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। এবারের সিটি নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়ে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি। এই অবৈধ অত্যাচারী সরকার ভেবেছিল, বিএনপি এ নির্বাচনে আসবে না। একতরফাভাবে তাদের লোকজনকে মতায় বসাবে।
ঢাকা দণি ও উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আমাদের পে যে সাড়া জেগেছে, তা দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। উন্মাদ হয়ে তারা সোমবার আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার প্রাণনাশের জন্য গুলি চালিয়েছে।
এসব হামলার বিরুদ্ধে জবাব দিতে আগামী ২৮ এপ্রিল মির্জা আব্বাস, তাবিথ আউয়াল ও মনজুর আলমকে মেয়র পদে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে গতকাল হামলায় তিগ্রস্ত নিশান পেট্রল গাড়িতে চড়ে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন এলাকায় গণসংযোগে বের হন। তিনি প্রথম শাহজাহানপুর রেলওয়ে মার্কেটের কয়েকটি দোকানে নিজে লিফলেট নিয়ে দেিণ মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের পে ‘মগ’ মার্কায় ভোট চান। এ এলাকায় খালেদা জিয়ার আগমন উপলে খিলগাঁও ফাইওভার থেকে শাহজাহানপুর মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে কয়েক হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। অনেক নারী-শিশু উঁচু ভবন থেকে হাত নেড়ে বিএনপি নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে। বেগম জিয়াও গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এরপর ধীর গতিতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর রাজারবাগ সড়ক হয়ে মালিবাগে এসে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতির মধ্যে গাড়িবহর থেমে যায়। টুইন টাওয়ার শপিংমলের সামনে সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সংপ্তি বক্তব্যে খালেদা জিয়া রাজধানী ঢাকাকে একটি অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনার শহর অভিহিত করে বলেন, এই শহর এখন নোংরা ও মশার নগরী হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা কেমন আপনারা তা দেখছেন। পানি নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মির্জা আব্বাসের পে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আব্বাস এ এলাকার সন্তান, তাকে আপনারা চেনেন, জানেন। সে আগে ঢাকার মেয়র ছিল, মন্ত্রী ছিল। অনেক উন্নয়ন করেছে। আগামীতে তাকে মগ মার্কায় ভোট দিয়ে ঢাকাকে মশামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন একটি শান্তির নগরীতে পরিণত করুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পয়লা বৈশাখে নারী নিপীড়নের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন এখন প্রতিদিনের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, মা-বোনেরা যদি এখনো সতর্ক না হন তাহলে আপনারা কেউ ছেলেমেয়েদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
বর্তমান সরকারের হাতে গণতন্ত্র বন্দী হয়ে আছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে। যে গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে আছে, সেই গণতন্ত্র ফিরে আনতে পারব। সিটি নির্বাচনের পর আমরা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবো।
দেিণ মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচনে নামতে দিচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি তার পে আজ ভোট চাইতে এসেছি। তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ৪১ দিন ধরে নিখোঁজ উল্লেখ করে তিনি বলেনÑ গুম, খুন ও সন্ত্রাস নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গেছে। সালাহ উদ্দিনকে সরকারের লোকজন ৪১ দিন আগে তুলে নিয়ে গেছে। এখনো ফেরত দেয়নি। ইলিয়াস আলীকেও অনেক দিন ধরে ফেরত দেয়নি তারা। গুম-খুন-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
রাজধানীর আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির সাথে মতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের গুণ্ডারা জড়িত বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এরপর শান্তিনগর, কাকরাইল, নয়াপল্টন, ফকিরেরপুল সড়ক দিয়ে গাড়ি ধীর গতিতে চালিয়ে যাওয়ার সময়ে রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান।
রাত ৮টার দিকে নয়াপল্টন পলওয়েল মার্কেটের সামনে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া মির্জা আব্বাসকে নিজের সন্তানের মতো উল্লেখ করে বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি দেশের জন্য। কিছু দিন আগে আমি সন্তান হারিয়েছি। মির্জা আব্বাস আমার সন্তানের মতো।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সন্তান হারানোর ব্যথা নিয়ে আমি আজ আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। আব্বাসকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমার সন্তান হারানোর ব্যথা কিছুটা হলেও ভুলে যাওয়ার সুযোগ দেবেন।
এ সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশেই ছিলেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর আফরোজা আব্বাস বেগম জিয়ার গাড়ির পাশে এসে তার সাথে কথা বলেন।
পলওয়েল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আপনারা কি ব্যবসা করতে পারছেন? আজ দেশের কারো কোনো নিরাপত্তা নেই। এ থেকে মুক্তির জন্য আমি আব্বাসের পে ভোট চাই। বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে একই গাড়িতে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।
গুলশানের বাসা থেকে আমেরিকান অ্যাম্বেসি সড়ক দিয়ে বাড্ডা প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরার কাছে পূর্ব হাজীপাড়ায় একটি সিএনজি স্টেশনে কিছুণের জন্য গাড়িবহর থেমে থাকে। এখানে বেগম জিয়ার গাড়িতে জ্বালানি তেল নেয়া হয়।
কারওয়ান বাজারে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর ৫টি গ্লাস ভাঙা মাইক্রোবাসও গতকাল বহরে ছিল। গাড়িবহরের পেছনে একেবারে শেষ প্রান্তে পুলিশের একটি পেট্রোল পিকআপ ছিল।
ফকিরেরপুলে ফের হামলার একদিন পর খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করে ফকিরেরপুল থেকে নয়াপল্টনের দিকে যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার গাড়িবহরে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। গাড়িবহর ফকিরেরপুল কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় গেলে এ ঘটনা ঘটে। গাড়িবহরে থাকা একাধিক বিএনপি নেতা জানান, আওয়ামী লীগ কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
আবারো খালেদার গাড়িবহরে হামলা : কারওয়ান বাজারের পর গত রাতে ফকিরেরপুল কাঁচাবাজারের কাছে আবারো খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকার সমর্থকেরা কালো পতাকা হাতে আকস্মিকভাবে খালেদা জিয়ার গাড়িকে ল্য করে জুতা, কাচের বোতল ও ইট ছুড়তে থাকে। এ সময় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে নয়াপল্টনের পলওয়েল মার্কেটের সামনে পথসভা শেষে আরামবাগ মোড় হয়ে ফের নয়াপল্টনের দিকে যাচ্ছিলেন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। কিন্তু ফকিরেরপুল কাঁচাবাজারের কাছে পৌঁছলে সেখানকার ফুটপাথ থেকে সরকার সমর্থক ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী কালো পতাকা হাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ছি ছি খালেদা’ স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ইট, জুতা ছুড়ে মারে। কয়েকজন কর্মীকে কাচের বোতলও ছঁড়তে দেখা গেছে।
ওই সব ইট খালেদা জিয়ার গাড়িতে না লাগলেও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাদা পিকআপ ভ্যানের ওপর পড়ে। এ ছাড়া আরো তিন-চারটি গাড়িতে ইট এসে পড়ে।
তখন হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা করা হয়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকনসহ স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী যুব ীগের এ কে এম মোমিনুল হক সাঈদের নেতৃত্বে দেশনেত্রীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। আপনারা (নয়াপল্টনবাসী) ২৮ এপ্রিল ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন। এ সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে থাকা কয়েক শ নেতাকর্মী যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ফকিরেরপুল বাজারের ভেতরে ঢুকে যায়।
এ ঘটনা জানাজানি হলে নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থানরত বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে কর্ডন করে গাড়িবহরকে নয়াপল্টনের কার্যালয় দিয়ে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রচারণা শেষ করে রাত সোয়া ৯টায় গুলশানের বাসায় পৌঁছান বলে জানান শায়রুল কবির খান।
খালেদার গাড়িবহরে হামলার নিন্দা
ইউট্যাব : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী গণসংযোগকালে তার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে ইউট্যাবের ৬২৫ শিক্ষক তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে তার গাড়িবহরে হামলা এবং ভাঙচুর ও নেতাকর্মীকে আহত করার যে ঘটনা সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা করেছেন তার নিন্দা করার ভাষা নেই। বর্তমান সরকার রাজনীতির সব শিষ্টাচার ভঙ্গ করে এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছে যা সমগ্র জাতিকে হতবাক করেছে।
শিক্ষকেরা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধা না দেয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে সেনা মোতায়েনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানান।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার এবং মহাসচিব অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি ছাড়াও বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকেরা হলেনÑ অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ, এম ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান, ড. গোলাম রব্বানী, ড. আবুল হাসনাত, ড. মাহফুজুল হক, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ড. আল মুজাদ্দেদী আলফেছানী, ইস্রাফিল প্রামাণিক রতন, ড. আ ন ম মুনীর আহমদ চৌধুরী, ড. সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী (চবি), ড. এম এ বারি মিয়া, নজরুল ইসলাম, কে এম শাহাদাত (রাবি), ড. শামসুল আলম সেলিম (জাবি), ড. সাব্বির মোস্তফা খান (বুয়েট), ডা: সাইফুল ইসলাম (বিএসএমএমইউ), ড. গোলাম আরিফ কেনেডি (বাকৃবি), আ ফ ম আরিফুর রহমান (নোবিপ্রবি), ড. হারুন অর রশীদ (খুবিপ্রবি), বেলাল হোসেন (কুবি), ড. মো: মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সাদা দল : অপর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের শিক্ষকেরা আরেকটি বিবৃতিতে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারা। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- সাদা দলের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো: আমিনুর রহমান মজুমদার এবং অধ্যাপক ড. মো: সিরাজুল ইসলাম, ড. সদরুল আমিন, ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ, ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম, ড. লায়লা নূর ইসলাম, ড. মো: আখতার হোসেন খান, ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ড. আবুল হাসনাত, ড. মোর্শেদ হাসান খান, লুৎফুর রহমান, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ড. আবদুর রশিদ, ড. মো: নুরুল ইসলাম, ড. মামুন আহমেদ, ড. মো: সাইফুল ইসলাম, ড. মো: খলিলুর রহমান, ড. সুকোমল বড়ুয়া, ইসরাফিল প্রাং, ড. আবদুল আজিজ, অধ্যাপক মো: আতাউর রহমান মিয়াজী, মো: নুরুল ইসলাম, আবু আহমেদ, আহমেদ জামাল আনোয়ার, এ বি এম শহিদুল ইসলাম, তাহমিনা আখতার, ড. মো: আবদুর রব প্রমুখ।

মোদির স্যুট-বুটের সরকার ব্যর্থ

বিরোধী এমপিদের প্রবল হই-হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পেশ করা হল জমি অধিগ্রহণ বিল। সোমবার সংসদের বাজেট অধিবশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দিনেই বিতর্কিত জমি বিল পেশ করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজীব প্রতাপ রুডি। এ সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে লোকসভায় তুমুল হই-হট্টগোল শুরু হয়। এমপিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের ইস্তফা দাবি করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং মন্তব্য করেন, ‘রাজীব গান্ধী যদি একজন সাদা চামড়ার নারীর বদলে নাইজেরিয়ার নারীকে বিয়ে করতেন, তাহলে কি তিনি কংগ্রেস সভানেত্রী হতে পারতেন?’
এর পর থেকেই দেশজুড়ে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অধিবেশনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হতেই কংগ্রেস এমপি জোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও তার পদত্যাগ দাবি করেন। পরে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মন্তব্যের জন্য এদিন লোকসভায় ক্ষমা চান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। এদিকে লোকসভার অধিবেশনের প্রথম দিনেই মোদির সরকারকে আরও একবার তুলোধুনা করলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। জমি অধিগ্রহণ বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মোদি সরকার আসলে স্যুট-বুটের সরকার, কৃষক দিনমজুরের সরকার নয়। এজন্যই তারা কৃষকদের অবহেলা করছেন। তিনি বলেন, আপনারা ভুল করছেন। আজ আপনারা আঘাত করছেন, আগামীকাল কৃষকরা আপনাদের আঘাত করবে।
রাহুলের পরামর্শ
* প্রধানমন্ত্রী যদি রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝেই থাকেন, তাহলে দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট কেন?
* প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের দেখভাল করবেন। কিন্তু কীভাবে?
* আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির প্রশংসা করি। কারণ সত্যি কথাটা বলতে পেরেছিলেন তিনি। গড়করিজি বলেছিলেন, কৃষককে না সরকার, না ভবগবানে বিশ্বাস করা উচিত।
* ‘আচ্ছে দিন’ সরকার ব্যর্থ।
* কৃষক আমাদের সবুজ বিপ্লব দিয়েছে। এ দেশের শক্তি কৃষক।

২০ বছরের স্বৈরশাসন চেয়েছিলেন নেতাজী

স্বাধীনতার পর ভারতে ২০ বছরের স্বৈরশাসন চেয়েছিলেন দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। ভারত স্বাধীন হওয়ার চার বছর আগে ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে একটি ভাষণ দেন নেতাজী। সেই ভাষণে তিনি ২০ বছরের জন্য স্বৈরশাসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তৎকালীন সিঙ্গাপুরের দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস (বর্তমানে বিলুপ্ত) পত্রিকায় নেতাজীর ভাষণ ছাপা হয়েছিল। এছাড়া ভারতে ফ্যাসিবাদ ও সাম্যবাদের সংমিশ্রণে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন স্বীকারোক্তিমূলক এক বইয়ে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
সানডে এক্সপ্রেস প্রকাশিত ভাষণে নেতাজী বলেছিলেন, ‘যদি এখানে (ভারত) তৃতীয় কোনো দলের উপস্থিতি থাকে তাহলে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ফাসাদ শেষ হবে না। সেটা বাড়তেই থাকবে। সেটা (ফাসাদ) একমাত্র তখনই নির্মূল করা সম্ভব হবে যখন প্রায় ২০ বছর ধরে কোনো স্বৈরশাসক শক্ত হাতে ভারত শাসন করবে। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর অন্তত কয়েক বছরের জন্য স্বৈরশাসন দরকার। এ দেশে অন্য কোনো সংবিধান বিকশিত হতে পারবে না। এ কারণেই ভারত স্বৈরশাসকের হাতে ভালো থাকবে।’ এদিকে, ভারতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপরেখা বিষয়ে নেতাজীর মতামত পাওয়া যায় ‘ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল’ শীর্ষক বইয়ে। তার স্বীকারোক্তিমূলক বইটি ১৯৩৫ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
ওই বইয়ে তিনি ভারতে ফ্যাসিবাদ ও সাম্যবাদের সংমিশ্রণে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ‘সাম্যবাদ’ বলতেন তিনি। বইটির একটি কপি ইতালির স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনিকে দিতে ১৯৩৫ সালে বিশেষ সফরে রোম গিয়েছিলেন নেতাজী। নিজের এ মতাদর্শের কারণে কংগ্রেসের শান্তিবাদী নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। নেতাজী ১৯৪৫ সালে অন্তর্হিত হন। প্রচলিত ধারণা মতে, তিনি জাপানে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পরিদর্শনে ১৭ কূটনীতিক

সিটি নির্বাচনের প্রচারে নামা দলের  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা সবিস্তারে কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো কূটনীতিকদের দেখানো হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারত, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, তুরস্ক, জাপান, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৭টি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শ্যামা ওবায়েদ ও জেবা খান অংশ নেন। বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘ব্রিফিং ফর দ্য ডিপ্লোম্যাট’ নামে লিখিত একটি বিবৃতি কূটনীতিকদের হাতে দেয়া হয়। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকরা বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। সেখানে সিটি নির্বাচনসহ চলমান রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কূটনীতিকরা আলোচনা করেন। পরে কূটনীতিকদের কার্যালয়ের আঙ্গিনায় রাখা কাওরান বাজারে হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিশান পেট্রল জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩২৬১২) ও তার স্প্রেয়ার কার (ঢাকা-মেট্রো ঘ-১১২৬০০) দুটি দেখানো হয়। কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার নিশান পেট্রল গাড়িটি দেখেন। গাড়ির ডান দিকে চালকের পেছনের আসনের গ্লাসটি বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই দাগ দেখিয়ে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে সোমবার গুলিও করা হয়েছিল। গাড়িটির সামনের দিকে ইটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই সময়ে কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী ৪টি মাইক্রোবাস যথাক্রমে ঢাকা মেট্রো-চ ৫৩৮৮১৯, ঢাকা মেট্রো-চ ৫৩৫৪৩১, ঢাকা মেট্রো-চ-১৫৩৫৫৩, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩২৪৩২ রাখা ছিল। এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করছে বিএনপি। উল্লেখ্য, সোমবার বিকালেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণায় নামেন খালেদা জিয়া। কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারের সামনে পথসভা শেষে তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় খালেদার বক্তব্য যখন শেষ দিকে, তখন পাশ থেকে এক দল লোক উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এর মধ্যে আশপাশের ভবনের ওপর থেকে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ শুরু হয়। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজনের মুখ ও মাথায় ইট এসে পড়ে। আহত হন সেখানে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকও। খালেদা জিয়া অক্ষত থাকলেও ইটের আঘাতে তার গাড়ির এক পাশের কাচ ফেটে যায়। বহরের সব গাড়ি ঘুরে এফডিসির দিকে এগোতে গেলে এক দল লোক তখন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। খালেদার গাড়ি তার নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে সামনের দিকে নিয়ে যায়। তবে অন্য প্রায় সব কয়টি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়।

রানা প্লাজার ক্ষতিপূরণ ১০৮ কোটি টাকা অব্যবহৃত

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিলের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি বলছে, রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২৭ কোটি টাকা হলেও এখনও অব্যবহৃত রয়েছে প্রায় ১০৮ কোটি টাকা। গতকাল তৈরী পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপের ওপর এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে টিআইবি এসব কথা বলেছে। রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টিআইবি’র প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা। পরে এ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল ও টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
রানা প্লাজার দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রানা প্লাজায় ডোনার’স ট্রাস্ট ফান্ডে ক্রেতা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ২.৪৮ মিলিয়ন ডলার। আর প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায়  ১২৭ কোটি টাকা)। এর মধ্যে অব্যবহৃত প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার (১০৮ কোটি টাকা)।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলে, যারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তাদের তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ আছে। এছাড়া বণ্টনে দীর্ঘসূত্রতা আছে। ট্রাস্ট ফান্ড পরিচালনা ব্যয় সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। টিআইবি তাদের সুপারিশে বলেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তদের তালিকা ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। গত এক বছরে তৈরী পোশাক খাতে কি কি অগ্রগতি হয়েছে তা যেমন তুলে ধরা হয় তেমনি বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
গত বছরের এপ্রিল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, খরচ বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে গত এক বছরে ৩০ শতাংশ কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে। এছাড়া, কার্যাদেশ বাতিল ও কমপ্লায়েন্ট ঘাটতির অজুহাতে ২২০টি মাঝারি ও ক্ষুদ্র আকারের কারখানা বন্ধ হয়েছে। প্রায় এক থেকে দেড় লাখ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছে। এ ব্যাপারে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখানে অন্য প্রভাবও থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে দিতে হয়। এব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রম পরিদপ্তরের কর্মকর্তা এ টাকা নিচ্ছেন।
সুলতানা কামাল বলেন, সবাই এখনও ঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ পায়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সংগৃহীত ১২৭ কোটি টাকার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৯ কোটি টাকা। এ পুরো টাকাই ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য। আর ট্রাস্ট ফান্ডের টাকা কিভাবে আয় হচ্ছে, কিভাবে ব্যয় হচ্ছে এর কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রম নিয়ে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা কমিয়ে আনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্বের অভাব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ফলাফল পক্ষে নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ফলাফল পক্ষে নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। পুরান ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে গতকাল গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। আফরোজা আব্বাস বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গণসংযোগে নগ্ন হামলায় প্রমাণিত হয়েছে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে একচেটিয়া ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগকালে প্রতিদিন আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছেন, বাধা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকার সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর তত বেশি চড়াও হচ্ছে। এমন কোন দিন নেই যেদিন আমাদের প্রচারণার মাইক, ছিনিয়ে নেয়নি, লিফলেট বিতরণে বাধা দেয়নি কিংবা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়নি। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি। প্রশাসনকে জানিয়েছি কিন্তু এর কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। যেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ব্যবস্থাই সরকারই তৈরি করেনি সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি করে? পরে তিনি পুরান ঢাকার হোসেনী দালাল, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এলাকাসহ লালবাগের বেশ কিছু এলাকায় মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগ করেন। এ সময় আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থী শাহিদা মোর্শেদ, কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ বাদল অংশ নেন। এদিকে বিকালে বাসাবো কদমতলা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে যান আফরোজা আব্বাস। সেখানে তিনি হিন্দু সমপ্রদায়ের ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাদের কাছে মির্জা আব্বাসের জন্য মগ মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে রমেশ দত্ত, উত্তম সরকার, পবনদাস, যদুদাস, নিত্তনদাসসহ বেশ কয়েকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অংশ নেন।
হান্নান শাহ, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ড্যাবের গণসংযোগ
এদিকে বিকালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র নেতৃত্বে জয়কালী মন্দির ও র‌্যাংকিন স্ট্রিট এলাকায় জনসংযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় তার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির অংশ নেন। পরে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয়তাবাদী যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মির্জা আব্বাসের নির্বাচন প্রচারণার জন্য এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সভায় শেখ আতাউর রহমান, আ ক ম রুহুল আমিন, আবদুল্লাহ চৌধুরী, বদরুজ্জামান খসরু, জিয়াউল হক ফারুক ও রোকনুল হক ভূঁইয়া বক্তব্য দেন। ওদিকে মির্জা আব্বাসের পক্ষে গতকাল লালবাগ, আজিমপুরে প্রচারণার চালিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নেতারা। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মুনির হোসেনের এ প্রচারণায় সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, আক্রামুজ্জামান টুকনসহ নেতারা অংশ নেন। ওদিকে দুপুরে মির্জা আব্বাসের পক্ষে মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় গণসংযোগ করেছে শ্রমিক দল। ঢাকা মহাগনগর কমিটির সভাপতি কাজী আমির খসরুর নেতৃত্বে তারা মগ প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এদিকে বিকালে মির্জা আব্বাসের পক্ষে সবুজবাগ, খিলগাঁও ও এজিবি কলোনিতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব নেতারা। ওদিকে বেলা ১১টায় ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, কালভার্ট রোড, হাউজ বিল্ডিং ও বায়তুল মোকারম এলাকায় গণসংযোগ করেছে জোটের শরিক দল লেবার পার্টি। চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা অংশ নেন। মির্জা আব্বাসের পক্ষে আজ সকাল ৯টায় সূত্রাপুর থানা প্রাঙ্গণ থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আফরোজা আব্বাস। পরে তিনি বাংলাবাজার মোড়, ভিক্টোরিয়া পার্ক পেট্রল পাম্প, চিশতিয়া কমিউনিটি সেন্টার, ধোলাইখাল, সলিমুল্লাহ কলেজ, টিপু সুলতান রোড, হোটেল আল রাজ্জাক এলাকায় এবং প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বিকাল সূত্রাপুর ও ফরিদাবাদে গণসংযোগ করবেন।
কামরাঙ্গীর চরে গণসংযোগকালে মাইক ছিনতাই
এদিকে গতকাল দুপুরে কামরাঙ্গীরচর আশরাফাবাদ স্কুলের সামনে মাদবর বাজারে মগ মার্কা ও স্থানীয় কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রাশেদ আলম খোকনের পক্ষে গণসংযোগকালে সরকারদলীয় ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে মাইক, ব্যাটারি, লিফলেট, মোবাইল ও ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা মগ মার্কা প্রতীকের কর্মী আমির হোসেন, শাহ আলমসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারপিট করে। এলাকাবাসী জানায়, এই হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের স্থানীয় কর্মীরা জড়িত।

সর্বকালের শীর্ষ ৬ ব্যবসা পথিকৃতের তালিকায় ড. ইউনূস

অর্থনীতিতে সর্বকালের শীর্ষ ছয় ব্যবসা পথিকৃতের তালিকায় স্থান পেয়েছে নোবেল জয়ী বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউকেভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ‘বিজনেস পাইওনিয়ার্স ইন ফাইন্যান্স’ ক্যাটাগরিতে ড. ইউনূসকে বেছে নিয়েছেন। অর্থনীতির ব্যবসা পথিকৃতের অভিজাত এ তালিকায় আরও রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট, আমাদের জিয়ান্নিনি, হেনরি ক্রাভিস, জন পিয়েরপন্ট মর্গান এবং মেয়ার আমশেল রথচাইল্ডের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়া কয়েকটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বকালের ৫০ জন ব্যবসা পথিকৃতের তালিকা প্রস্তুত করেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। এর মধ্যে কয়েকটি হলো- বিজনেস পাইওনিয়ার্স ইন ইন্ডাস্ট্রি, বিজনেস পাইওনিয়ার্স ইন টেকনোলজি ও বিজনেস পাইওনিয়ার্স ইন এনার্জি। অর্থনীতির ব্যবসা পথিকৃতের বিবরণে ড. ইউনূস সম্পর্কে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রঋণ হয়তো তিনি উদ্ভাবন করেননি, কিন্তু আধুনিক বিশ্বে এর সঙ্গে সব থেকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি তিনি। ১৯৭৬ সালে তিনি দরিদ্রদের মধ্যে বিশেষ করে নারীদের কাছে কোনপ্রকার জামানত বা নিরাপত্তা ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া শুরু করেন। সেটাই পরে গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৩ সাল নাগাদ ব্যাংকটি সর্বমোট ১৬০ কোটি ডলার পরিমাণ ৭০ লাখ ঋণ দিতে সক্ষম হয়। এর পর থেকে ব্যাংকটির মডেলটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহীত হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও। তার এ প্রচেষ্টায় ইউনূস ও তার ব্যাংকটি যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। ব্যবসা পথিকৃত তালিকা প্রস্তুতের পেছনে বিশেষজ্ঞ জুরিরা ড. ইউনূসের অবদান সম্পর্কে যে উপসংহার টেনেছেন তা হলো, ইউনূসের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য মিটিয়ে ফেলা। সেই লক্ষ্য শুধু ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যাবে না। কিন্তু তা অর্জনে অব্যাহত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়েছে, ক্ষুদ্রঋণকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করতে হবে।

১৮ এবং ১৬! by সাবিনা পারভীন

গত জানুয়ারি মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪’-এর খসড়া মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। খসড়ায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর ঠিক রেখে ‘যুক্তিসংগত কারণে’ মা-বাবা অথবা আদালতের সম্মতিতে ১৬ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটি এক হঠকারী ও স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে বা মেয়েকে ‘শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। নতুন আইন কার্যকর করতে গেলে তা হবে জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তা ছাড়া, বর্তমান আইন (মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮) বলবৎ থাকা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ ঠেকানো যাচ্ছে না; আর সেখানে আইন করে বাল্যবিবাহকে স্বীকৃতি দিলে এর ফল হবে আরও ভয়াবহ।
চিকিৎসকদের মতে, ১৮ বছর বয়সের আগে একটি মেয়ের শারীরিক বিকাশ হয় না। এই শারীরিক ঘাটতি নিয়ে কোনো মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে শুধু তার স্বাস্থ্যের ওপরই চাপ পড়ে না, বরং গর্ভের শিশুটিও অপুষ্ট কিংবা বিকলাঙ্গ হতে পারে। এই অপুষ্ট শিশু ও অসুস্থ মা জাতির জন্য বোঝা নয় কি?
এই আইন যদি কার্যকর হয়, তবে তা মূলত বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য, অশিক্ষা-কুশিক্ষাসহ নানা সামাজিক সমস্যার জন্ম দেবে। একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় এসে সারা বিশ্বের নারীরা যখন সব ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা নারীকে টেনে ধরে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনই পারে নারীর সঠিক উন্নয়ন ঘটাতে। এ জন্য বৃহত্তর স্বার্থে নারীবান্ধব আইন চাই। বিয়ের বয়স ১৮ কিংবা ১৬ নয়; বরং তা ২০ করা হোক। তা না হলে নারী উন্নয়নে আমাদের সব অর্জন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং সত্যিকারের নারীমুক্তি সম্ভব হবে না।
লেখক: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অবশেষে বাংলাদেশী শ্রমিক নিতে সৌদিদের অনীহা

সৌদি আরবে লাখ লাখ কর্মী নিয়োগের সরকারি ঘোষণা কি স্বপ্ন হয়ে থাকবে?  এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ২০শে এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ভিসা দেয়ার কার্যক্রম চালু হলেও এ বিষয়ে সৌদিদের সাড়া কম।  সৌদি পত্রপত্রিকায় ২০শে এপ্রিল খবর ছাপা হয়েছে যে, ‘সৌদি আরবের চাকরিদাতারা বাংলাদেশীদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।’ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ দিতে যদিও সৌদি আরবের ৩৩৭টির বেশি নিয়োগদাতা অফিস ও কোম্পানি বাংলাদেশী কর্মীদের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিয়োগ কমিটির সদস্য হাসান ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেয়ার প্রশ্নে সৌদি নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলো সতর্ক।’
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলে সারা দেশে বিরাট উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন সৌদি আরবের পত্রিকাই বলছে যে, বাংলাদেশ থেকে অল্পসংখ্যক লোক নেয়া হতে পারে। এর কারণ হিসেবে ‘বাংলাদেশীদের খারাপ আচরণকে সৌদি চাকরিদাতারা অন্যতম প্রধান কারণ’ হিসেবে  চিহ্নিত করেছেন।
সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেন্টারের পরিচালক তাসির আল মাফরেজ বলেন, মুসানেদ ওয়েবসাইট নিয়োগকর্তাদের জন্য একাধিক বিকল্প রেখেছে। সেখানে বাংলাদেশী কর্মীদের মূল্যায়ন করে নেয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে। যাতে তারা তাদের কর্মক্ষেত্রের গুণগতমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। জনাব আল মাফরেজ নিশ্চিত করেন যে, মন্ত্রণালয় একটি তদারকি ভূমিকা পালন করবে এবং আইনের কোন লঙ্ঘনকে তারা বরদাশত করবে না।
জেদ্দা ভিত্তিক ভাষ্যকার ইব্রাহিম নাফি বলেন, চাকারিদাতাদের প্রতিক্রিয়া থেকে বুঝতে পারছি যে, বাংলাদেশীরা একটি ভাল ইমেজ সৃষ্টি করতে পারেননি।  আমি একজন নিয়োগদাতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেন, যারা এ দেশে আসবেন তাদের যোগ্যতার দিকগুলো যাচাই করার সুযোগ না থাকায় তিনি চিন্তিত। সে কারণে তিনি আধা দক্ষ বাংলাদেশী কর্মী আনতে নারাজ।
এক সৌদি বাড়ির মালিক আবদুল্লাহ হাসওয়ানা বলেন, ২০০২ সাল থেকে আমি একজন বাংরাদেশীকে বাড়ির গার্ড হিসেবে চাকরি দিয়েছিলাম। বাসিন্দাদের কাছ থেকে লাগাতার অভিযোগ আসার কারণে তাকে আমি দেশে পাঠাতে বাধ্য হই। তিনি কাজে ফাঁকি দিতেন। মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। লোকটি আরও অনেক সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন।
আবদুর রহমান শুকির একজন সৌদি রেস্তরাঁ মালিক। তিনি  রোববার বলেন, ‘আমি আমার রেস্তরাঁয় একজন বাংলাদেশী কর্মীও নিয়োগ দেব না। আমি আমার খদ্দেরদের সঙ্গে ঝামেলা পাকানো লোকজন পছন্দ করি না। ১০ বছর আগে আমি দুজন বাংলাদেশীকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। তারা পৌরসভার পরিদর্শকের সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন।
নির্মাণ  ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা আহমেদ নাবিল বলেন, তিনি তার প্রতিষ্ঠান থেকে সকল বাংলাদেশী কর্মীদের বিদায় দিয়েছেন। কারণ, তারা কাজে ঢিলেঢালা ও অদক্ষ। ‘আমি অবশ্য লক্ষ্য করি যে তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্মাণ সামগ্রী চুরির সঙ্গেও জড়িত।’
একটি বেসরকারি কোম্পানির মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আবদুল্লাহ হাবিব বলেন, একজন বাংলাদেশী গাড়িচালককে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ তিনি গাড়িটি তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

‘প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে’ -খালেদার গাড়িবহরে ফের হামলা

আগের দিন সরকারি দলের কর্মীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়েই চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে গতকালও হামলার শিকার হয়েছে তার গাড়িবহর। ফকিরাপুল বাজার এলাকায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে একদল যুবক গাড়িবহরের পেছন দিকে হামলা চালায়। এ সময় গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করে ফকিরাপুল থেকে নয়াপল্টনের দিকে যাওয়ার সময় ফকিরাপুল কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কোন গাড়ির ক্ষতি না হলেও গাড়ির বহর ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা পুলিশের গাড়ি খুব কাছাকাছি ছিল। কিন্তু পুলিশ ছিল অনেকটা নির্বিকার। হামলাকারীরা কয়েকটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। কয়েকজন হামলাকারী  এগিয়ে এসে লাঠি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করার চেষ্টা করে। এ সময় খালেদা জিয়ার বহরে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে গলিতে ঢুকে যায় হামলাকারীরা। এ সময় গাড়িবহর এই এলাকা দ্রুত ত্যাগ করে। এদিকে শান্তিনগর মোড়ে পথসভায় দেয়া বক্তৃতায় খালেদা জিয়া বলেছেন, তাকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে কাওরান বাজারে তার গাড়িতে গুলি করা হয়েছিল।
বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে গতকাল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নিশান পেট্রল গাড়িসহ সোমবারের ভাঙচুরের শিকার ৫টি গাড়ি নিয়ে বের হন খালেদা জিয়া। বাড্ডা, মেরুন বাড্ডা হয়ে প্রথমে শাহজাহানপুর রেলওয়ে মার্কেটের কয়েকটি দোকানে নিজে লিফলেট বিতরণ করে মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে ‘মগ’ মার্কায় ভোট চান বিএনপি চেয়ারপারসন। এই এলাকায় খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে শাহজাহানপুর মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। অনেকে নারী-শিশু উঁচু ভবন থেকে হাত নেড়ে বিএনপি নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে। বেগম জিয়া গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এরপর ধীরগতিতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর রাজারবাগ সড়ক হয়ে শান্তিনগরে আসলে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতির মধ্যে গাড়িবহর থেমে যায়। টুইন টাওয়ার শপিং মলের সম্মুখে গাড়ির সামনে সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। সিটি নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়ে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি। এই অবৈধ অত্যাচারী সরকার ভেবেছিল, বিএনপি এই নির্বাচনে আসবে না। একতরফাভাবে তাদের লোকজনকে ক্ষমতায় বসাবে। কিন্তু আমরা এটি করতে দেয়নি। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আমাদের পক্ষে যে সাড়া জেগেছে, তা দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। উন্মাদ হয়ে তারা গতকাল আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রাণনাশের জন্য গুলি চালিয়েছে। আমার গাড়িতে এখনও সেই গুলি চিহ্ন আছে। এসব হামলার জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে আগামী ২৮শে এপ্রিল মির্জা আব্বাস, তাবিথ আউয়াল ও মঞ্জুর আলমকে মেয়র পদে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবানও জানান খালেদা জিয়া। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া রাজধানী ঢাকা একটি অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনার শহর অভিহিত করে বলেন, এই শহর এখন নোংরা ও মশার নগরী হয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা কেমন আপনারা তা দেখছেন। পানি নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মির্জা আব্বাসের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আব্বাস এই এলাকার সন্তান, তাকে আপনারা চিনেন, জানেন। তিনি আগে ঢাকার মেয়র ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন। অনেক উন্নয়ন করেছেন। আগামী দিনে তাকে মগ মার্কায় ভোট দিয়ে ঢাকাকে মশকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন একটি শান্তির নগরীতে পরিণত করুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়নের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন এখন প্রতিদিনের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, মা-বোনেরা যদি এখনও সর্তক না হন, আপনারা কেউ ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
বর্তমান সরকারের হাতে গণতন্ত্র বন্দি হয়ে আছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে। যে গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে আছে, সেই গণতন্ত্র ফিরে আনতে পারবো। সিটি নির্বাচনের পর আমরা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবো। দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ৪১ দিন যাবৎ নিখোঁজ জানিয়ে তিনি বলেন, গুম, খুন ও সন্ত্রাস নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে গেছে। সালাহউদ্দিনকে সরকারের লোকজন ৪১ দিন আগে তুলে নিয়ে গেছে, এখনও ফেরত দেয়নি। ইলিয়াস আলীকেও অনেক দিন যাবৎ ফেরত দেয়নি তারা। গুম-খুন-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের লোকরা জড়িত বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।
এরপর শান্তিনগর, কাকরাইল, নয়া পল্টন, ফকিরেরপুল সড়ক দিয়ে গাড়ি ধীর গতিতে চালিয়ে যাওয়ার সময়ে রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার নেতা-কর্মী দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় বহরের হ্যান্ডমাইক দিয়ে মির্জা আব্বাসে পক্ষে প্রচার চালানো হয়। রাত ৮টার দিকে পলওয়েল মার্কেটের সামনে আরেক পথসভায় খালেদা জিয়ার বলেন, কিছু দিন আগে আমি সন্তান হারিয়েছি। আমার স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। ছেলে হারানো বেদনা নিয়েই আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। মির্জা আব্বাস আমার সন্তানের মতো, নগরবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানাব, আব্বাসকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমার সন্তান হারানোর ব্যথা কিছুটা হলেও আপনারা উপশম করুন। এ সময়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশেই ছিলেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর আফরোজা বেগম জিয়ার গাড়ির পাশে এসে তার সঙ্গে কথা বলেন। পলওয়েল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উদ্দশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আপনারা কি ব্যবসা করতে পারছে? আজ দেশের কারও কোন নিরাপত্তা নেই। এ থেকে মুক্তির জন্য আমি আব্বাসের পক্ষে ভোট চাই।
নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আলম ডিউ, মহিলা দলের শিরীন সুলতানাসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।

আমাকে একবার সুযোগ দিন -সাঈদ খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সহস্র নাগরিক কমিটি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন বলেছেন, খালেদা জিয়ার হাত রক্তে রঞ্জিত। তার ওপর যে হামলা হয়েছে এট ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের কাজ। গতকাল দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন নিউমার্কেট, লালবাগ এলাকার ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনাকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সিটি করোপোরশেন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে। তাই  সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। সাঈদ খোকন বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থী বাধার সম্মুখীন হননি। কারো মাথা ফাটেনি। কোন মামলা হয়নি। তাই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। তবে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি বলবো এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। গণসংযোগকালে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন লালবাগ ও নিউমার্কেট এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমার বাবা মরহুম মোহাম্মদ হানিফ ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তিনি আমৃত্যু মানুষের সেবা করেছেন। নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমিও বাবার মতো আমার জীবন উৎসর্গ করবো। তিনি আরও বলেন, আপনারা ইলিশ মাছ মার্কায় ভোট দিন। আমাকে একবার মেয়র নির্বাচিত করুন। আমি নগরের পিতা নয়, আপনাদের সন্তান ও সেবক হিসেবে কাজ করবো। লালবাগ এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

ভোটে নামছে সেনাবাহিনী

আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৬শে এপ্রিল থেকে ভোটগ্রহণের পরদিন ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তিন সিটি করপোরেশন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমরা সভা করেছি। ওই সভায় আমাদের সব সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। তারা বলেছেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুতি আছে। আমরা যা চেয়েছি তার চাইতে বেশি প্রস্তুতি তাদের আছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা আগেও ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছি। সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তার প্রয়োজন পড়েনি। এবারেও একই পরিস্থিতি বিদ্যমান। তবুও অতি সম্প্রতি আমরা খুব আতঙ্কিত সময় পার করেছি। জনগণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মনে মানসিক স্বস্তির জন্য আমরা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। ভোটের সময় অনেক সংখ্যক সদস্য থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে থাকবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন সে সময়। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পর যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাস মার্কা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাবিথের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। রিটার্নিং অফিসার এবিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা মনিটরিং করবো। কোনটাই বাদ যাবে না।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সিইসি বলেন, এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। আমরা খুব আশাবাদী। সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছি। আমরা কিন্তু ছাড় দিচ্ছি না। প্রতিদিন জরিমানা করা হচ্ছে। এগুলো যেন বারবার না হয় আমরা চাই।
সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করবেন। বিচারিক ক্ষমতা আইন দিয়ে পরিচালিত। আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা কাজ করবেন। তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়েছে- বিএনপির এমন দাবির প্রেক্ষিতে সিইসি বলেন, আমরা বলেছি সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অভিযোগ যা আছে সুনির্দিষ্ট হতে হবে, ঢালাওভাবে হলে হবে না সবাইকে বদলি করে দেন। আমরা কিন্তু পিছপা হইনি। অতীতে আমরা অনেক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করেছি। শেষ মুহূর্তে যাদের বদলি করতে পারিনি তাদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছি।
খালেদা জিয়ার ওপর হামলার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা পুলিশের কাছে খবর নিয়েছি। তারা বলেছেন- দুইদিক থেকে মামলা হয়েছে। আমরা বলেছি নিরপেক্ষভাবে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা যেন নিষ্পত্তি হয়। এর আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জানান, স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ২৬শে এপ্রিল থেকে ২৮শে এপ্রিল পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকবে। ইসি সচিবালয়ে নিজকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য এবং জনমনে যাতে কোন ভীতি না থাকে, ভোটাররা যাতে সুন্দরভাবে নির্বিঘ্নে, নিশ্চিতে ভোট দিতে পারে সে জন্য আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বাহিনী নির্বাচনের আগের দুইদিন ও নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ২৬ থেকে ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে  অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবে ইসি।
তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীকে রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহার করব। যতই দরকার হবে, রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন চাইবেন তাতে সাড়া দিয়ে চলে আসবেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোন নির্বাচনেই সেনাবাহিনীকে ভোট সেন্টারের ভেতরে ডিউটি দেয়া হয় না। এবারও দেয়া হবে না।  মূলত তারা রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
সংখ্যার পরিমাণ কি হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। সংখ্যা কোন সমস্যা নয়। কখন দরকার, কতটুকু দরকার সেভাবেই আমরা নিতে পারব। তাদের সঙ্গে সবসময় ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ম্যাজিস্ট্রেট যখন যা করা দরকার করবেন।
এদিকে ঢাকা দুই সিটি (উত্তর-দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিন ব্যাটালিয়ন সেনা সদস্য চেয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসি’র নির্বাচন পরিচালনা বিভাগ-২ এর উপ-সচিব মো. সামসুল আলম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য ভোটগ্রহণের আগের দুইদিন, ভোট গ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দিনসহ মোট চারদিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভোটার এবং ভোটগ্রহণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলাকায় এক ব্যাটালিয়ন করে সেনা সদস্য আগামী ২৬শে এপ্রিল থেকে ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার ডাকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।
এছাড়া, সেনাবাহিনীর প্রতিটি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সেনা দেয়ার বিষয়ে কমিশনে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রথা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে চিঠি দেবে ইসি সচিবালয়। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এক্ষেত্রে চিঠিতে বলা হয়, সশস্ত্রবাহিনীর কার্যপরিধির বিষয়ে চিঠিতে জানানো হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩০ ও ১৩১ ধারা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর সপ্তম ও দশম অনুচ্ছেদের ক্ষমতা ও নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সশস্ত্রবাহিনী পরিচালিত হবে। মোতায়েন করা সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের কাজ হবে নির্বাচনী কাজে ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় বেসামরিক প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা। সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা মহানগর এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেবেন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে থানায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, তিন সিটিতে অন্তত ৫৮টি মেট্রোপলিটন থানা রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা উত্তরে ২১, দক্ষিণে ২১ ও চট্টগ্রামে ১৬ মেট্রোপলিটন থানা রয়েছে। প্রতি চার মেট্রোপলিটন থানায় এক কোম্পানি করে সেনা মোতায়েন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অন্তত ১৪ কোম্পানি সেনা সদস্য লাগবে। প্রতি কোম্পানিতে ৯০ থেকে একশ’ ১০ জন করে সেনা সদস্য থাকে বলে জানান এক কর্মকর্তা। এছাড়া, ভোটকেন্দ্র, রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মিলিয়ে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্য লাগবে প্রায় ৬৫ হাজারের মতো। এক্ষেত্রে কমিশনের চাহিদার দ্বিগুণ র‌্যাব ও বিজিবি রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ৩০ প্লাটুন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ৩৫ প্লাটুন করে বিজিবি ও ১৩৪টি র‌্যাবের টিম থাকবে। পুলিশ-আনসার-ভিডিপি নিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। কোস্টগার্ডও থাকবে চট্টগ্রামে ৩ প্লাটুন ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে ২ প্লাটুন করে।

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক অংশীদারিনির্ভর: বার্নিকাট

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে
ভালো বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস
ব্লুম বার্নিকাট। মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ে অতিথি হয়ে
এসে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ছবি: জাহিদুল করিম
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সত্যিকারের অংশীদারিনির্ভর বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাচ্ছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘রাশ’-এর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিএনএস সমুদ্রজয়ের পর এ যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নতুন মাত্রা বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মার্শা বার্নিকাট এসব কথা বলেন। তিনি আজ মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ে অতিথি হয়ে আসেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড্যান মজীনার স্থলাভিষিক্ত মার্শা বার্নিকাট গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছেন।
গণতন্ত্র বিকাশে ভিন্নমত প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের উদাহরণ তুলে ধরেন বার্নিকাট। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে ওই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে চিঠি দিতে পেরেছিলেন আর্চার কে ব্লাড।
ঢাকায় প্রথমবারের মতো কোনো সংবাদমাধ্যমে অতিথি হয়ে আসা বার্নিকাট বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তাঁকে আশাবাদী করে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এমন একটি গভীরতায় পৌঁছেছে, যেখানে জটিলতর বিষয়গুলো আলোচনা করা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) কথা তুলে ধরেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বৈদেশিক সাহায্যের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা জরুরি। বৈদেশিক সাহায্যনির্ভরতায় সমস্যা আছে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও বিষয়টি জানে।’
সাম্প্রতিক সময়ে চরম পন্থা ও জঙ্গিবাদের বিস্তার প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ কী, জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসলামের সঙ্গে চরম পন্থাকে যুক্ত করাটা ঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট ওবামা এ বিষয়টি আলাদাভাবে দেখার কথা বলেছেন। আসলে কোনো দেশই চরম পন্থা থেকে মুক্ত নয়।
মতবিনিময় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ঢাকায় আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক অ্যান ম্যাকনেল, গণমাধ্যম ও তথ্য কর্মকর্তা মনিকা সাই এবং মার্কিন দূতাবাসের হেড অব প্রেস মেরিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।