Sunday, October 18, 2015

যুক্তরাষ্ট্র এখনো উদ্বিগ্ন : বার্নিকাট

দায়িত্ববোধ থেকেই নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। যুক্তরাষ্ট্র এখনও উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে নারীর ক্ষমতায়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের এই রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার সাথে আইএস জড়িত কি-না এ বিষয়ে চুড়্ন্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনও আসেনি। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো।
বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যে সহযোগিতা করছে তা সন্তোষজনক।
দুজন বিদেশি নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস যে টুইটার বার্তা দিয়েছে তা বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ সেই তথ্য বের করেছে। খুনিদের ধরার ব্যাপারেও অগ্রগতি আছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বক্তব্য কী জানতে চাইলে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তৃতায় বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দেশের ও ধর্মের সীমানা নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহবান জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ ধরনের আহবানে সাড়া দিতে প্রস্তুত।
মূল বক্তৃতায় বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের বৈদেশিক বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে ৩০ লাখ পরিবারে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপ এর মাধ্যমে ৫০ জন নারীকে পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যারা গ্রামের দরিদ্র নারীদের পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপ এর নির্বাহী পরিচালক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস। ইউএনউইমেন-এর দেশীয় প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা হান্টার এবং দেশের তিনটি এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী পুষ্টিবিদরা এতে বক্তব্য দেন।
মার্কিন সতর্কবার্তায় নতুন কোনো তথ্য নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সতর্কবার্তায় নতুন কোনো তথ্য নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, পুরোনো তথ্যগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে তারা নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, দুই বিদেশি হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একইসাথে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের নিরাপত্তা বিধানে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নতুন সতর্কবাতার ভাষা আগেরটার চেয়ে কঠোর নয়। বিষয়টি মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার করা হয়েছে।
জলবায়ু বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাম্প্রতিক জেনেভা সফরের ওপর আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলা হয়। সরকারের অনুরোধ সত্বেও বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর দেয়া সতর্কবার্তায় কেন বারবার আইএস সংযোগের কথা বলা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটার উত্তর বিদেশি দূতাবাসগুলোই দিতে পারবে। একটি দেশতো দুই বিদেশি হত্যার সাথে আইএস জড়িত রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছিল। এখন তাদেরকেই জিজ্ঞাস করুন আইএস সংযোগ পাওয়া গেছে কি-না।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের দেয়া ব্রিফিংয়ের পরও পশ্চিমা দেশগুলোর দেয়া নতুন সতর্কবার্তাগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ কি-না জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোটেই সেরকম কিছু নয়। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সার্বিকভাবে ভালই আছে। তা না হলে এলডিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পারত না।
বাংলাদেশ নিয়ে কোনো রাষ্ট্র ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেনি উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিভিন্ন দেশের সতর্কবার্তা জারির পরও বাংলাদেশে বিদেশীদের আসা-যাওয়া কমেনি। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সাথে চলতি বছরের একই সময়ের তুলনা করলে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ে না। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দফতরের দেয়া সতর্কতায় বাংলাদেশকে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তরে রাখা হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এই স্তরে রয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়ার সতকর্তার মোট স্তর চারটি।
সৌদিতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ১৩৭ : এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, মিনা দুর্ঘটনায় ৯৬ জন বাংলাদেশির লাশ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে। আরো ৪১টি লাশ বাংলাদেশি নাগরিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ মোট মৃতের সংখ্যা ১৩৭। এছাড়া আরো ৫৩ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

সরকারকে অক্সিজেন দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে : খন্দকার মাহবুব

সরকারের অবস্থা সঙ্কটজনক দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সরকারকে অক্সিজেন দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। সরকার টেলিভিশনে যতই হাসিমুখে কথা বলুক না কেন বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। কারণ সরকার ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলেছে।
আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ অগ্নিসেনা সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান তালুকদার জহিরুল হক তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
দল মত নির্বিশেষে দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আহবান জানিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অগোছালোভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ হবে না। তাই ২০ দলীয় জোটের বাইরে যে ব দল রয়েছে তাদেরকেও দেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে মাহবুব হোসেন বলেন, যার যে ইস্যু রয়েছে সেই ইস্যুতেই রাজপথে নামুন। যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই মাঠে নামুন। কারণ শুধু কথা বললে সরকার বিদায় হবে না। তাই এই অবৈধ সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করতে হবে।
বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আইন না করেই গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই কঠিন অবস্থাতেই গণমাধ্যমগুলোকে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখন দফা একটি, আর সেটা হলো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা। তাই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
নোমান বলেন, এক্ষেত্রে যার যে কর্মসূচি রয়েছে সেই কর্মসূচি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ সংবিধান সম্মতভাবে দেশ চলছে না। এ কারণে ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচন বাতিল করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করতে হবে।

নিরাপত্তার ভয়ে ঢাকা আসছেন না বিদেশি কর্মকর্তারা : বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ বলেছে, দেশে দু’জন বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে কোনো কোনো দেশের পোশাক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত বৈঠকগুলো বাংলাদেশের বাইরে কোথাও করার অনুরোধ করেছেন।
সম্প্রতি দু’জন বিদেশি নাগরিককে হত্যার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক দুটি বড় পোশাক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সফর বাতিল করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এম এবং গ্যাপের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও তারা সেটা বাতিল করেন।
তবে এই ঘটনায় পোশাক শিল্পের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি আয়ের উৎস।
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান অবশ্য বলছেন, বিদেশি নাগরিক হত্যার পর কিছু কিছু বিদেশি ক্রয় প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বড় প্রভাব ফেলার মত কোন পরিস্থিতি বাংলাদেশে তৈরি হয় নি। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এইচএন্ডএমের কর্মকর্তা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ ঢাকায় পোশাক শিল্প খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি কিছুটা নষ্ট হয়েছে, তবে এর সুষ্ঠু বিচার হলে পোশাক খাতে এর কোন প্রভাব পড়বে না।
কিন্তু নিরাপত্তার কারণে পোশাক শিল্পের ওপর কোনো প্রভাবে আশঙ্কা না করলেও - অন্য একটি বিষয় বাংলাদেশের পোশাক খাতের অনেককে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।
আর তা হলো, আমেরিকাসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষর - যার ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নতুন করে প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে পারে।
সম্প্রতি আমেরিকাসহ ১২টি দেশের মধ্যে টিপিপি সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম বিনা শুল্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি করতে পারবে।
বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে বড় প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে চুক্তির বাইরে থাকা বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশও কিভাবে এই চুক্তিভুক্ত দেশ হতে পারে - সে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তবে চুক্তি কার্যকরের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়ার পরেই এর প্রকৃত প্রভাব জানা যাবে।
এদিকে পোশাক শিল্পে ভিয়েতনামের উৎপাদন অবকাঠামা বাংলাদেশের মতই। তাছাড়া দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে।
এই চুক্তির ফলে যদি তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জের হবে?
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই ১২ টি দেশের সাথেই বাংলাদেশকে এখন প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংস আয় হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে।
তবে নতুন এই চুক্তির মধ্যে বলা আছে বিনা-শুল্প সুবিধা পেতে হলে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল দেশগুলোকে নিজেদেরই আমদানি করতে হবে।
সেক্ষেত্রে দেশগুলো কাঁচামালের খরচ জুগিয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা কতটা ভোগ করতে পারবে সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে বেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মোহাম্মদ আলী ঝিলন, ১৬ অক্টোবর ২০১৫,শুক্রবার,গাজীপুর
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে গত দুই-তিন বছরে বেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষত শ্রমিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমরা আজ এখানে দেখতে আসছি বাংলাদেশের শ্রমিকরা এবং তাদের শিশুরা কিভাবে জীবনযাপন করছে। আমার দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে দেখতে পাচ্ছে যে, শ্রমিকরা তাদের অধিকার পাচ্ছে এবং তারা একত্রিত হতে পারছে।
রাষ্ট্রদূত আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট শিল্পপার্ক লিমিটেডে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতারাও জানে যে কিভাবে একজন শ্রমিক কাজ করছে। এ প্রচেষ্টা তখনই সফল হবে, যখন মালিক ও শ্রমিকরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। পরিবর্তন কখনই সহজ নয়।
তিনি শিল্পায়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্য থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শ্রমিকদের সন্তানদের যে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছে তার জন্য ইস্ট ওয়েস্ট কারখানার মালিক পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ইস্ট ওয়েস্ট শিল্প পার্কের পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জামিল আহমেদ, কারখানার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমানা রশীদ, পরিচালক তানভির জেট রশিদ, আওলাদ হোসেন, বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, কারখানার পরিচালক মামুনুর রশীদ প্রমুখ।
পরে ইস্ট ওয়েস্ট ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পার্কের উদ্যোগে নার্গিস-রশীদ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনটি গ্রুপে ১১৩ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে দুটি বুনো হাতির মৃত্যু

গ্রামবাসীর পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে জড়িয়ে
এ বুনো হাতিটি মারা পড়ে। জামালপুরের
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের
মাখনেরচর থেকে তোলা। ছবি: জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গ্রামবাসীর পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকা পড়ে দুটি বুনো হাতি মারা পড়েছে। ডাংধরা ইউনিয়নের মাখনেরচরে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে,এক সপ্তাহ ধরে বাঘারচর সীমান্ত দিয়ে একটি বুনো হাতির পাল খাবারের সন্ধানে ওই ইউনিয়নের মাখনেরচর, বাঘারচর ও পাথরেরচর গ্রামের লোকালয়ে প্রবেশ করে। পালটিতে কমপক্ষে ৩০টি বুনো হাতি থাকে। হাতির পাল ওই তিন গ্রামের রোপা আমন, গম, সরিষা ও আখ খেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছিল। হাতির পালের থেকে ফসল রক্ষা করতে সপ্তাহ খানেক ধরে ওই গ্রামগুলোর মানুষ রাত জেগে থেকে পাহারা দিয়েছে। গ্রামবাসীরা মশাল জ্বালিয়ে, হই হুল্লোড় করে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতির পালটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতেও বুনো হাতির পালটি গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছিল না। এরপর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গতকাল রাতে গ্রামবাসীরা জেনারেটরের মাধ্যমে মাখনেরচর গ্রামে একটি বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতে। রাত আটটার সময় মাখনেরচর গ্রামের ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে জড়িয়ে পড়ে দুটি বুনো হাতি মারা পড়ে।
ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশিদ বলেন, গত শনিবার থেকে হাতির পাল ওই তিনটি গ্রামে আক্রমণ শুরু করে। ওই সব গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের আলো না থাকায় হাতির আক্রমণ সব চেয়ে বেশি ছিল। বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে জড়িয়ে পড়ে দুটি হাতি মারা পড়েছে। তবে কারা ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতেছে,সেটি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন,‘হাতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হাতি দুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হাতি দুটির ময়নাতদন্ত করা হবে। শনিবার রাতেই মারা পড়া হাতি দুটির সুর, দাঁত ও কান কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে, কারা এ কাজ করেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায় বলেন, জেনারেটরের বিদ্যুতের মাধ্যমে ফাঁদ পেতে হাতি দুটিকে মারা হয়েছে। হাতি দুটি মারা যাওয়ার পর কে বা কারা দাঁত, সুর ও কান কেটে নিয়ে গেছে। হাতি দুটির ময়নাতদন্ত শেষে মাখনেরচর গ্রামে মাটিচাপা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করা হবে।
দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, হাতি দুটি মারা যাওয়ার পর গতকাল রাত থেকেই এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বেশির ভাগ লেখক ধান্দাবাজ : তসলিমা

পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকদের তীব্র কটাক্ষ করলেন তসলিমা নাসরিন। টুইটারে এই বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকার তোপ, পশ্চিমবঙ্গের বেশির ভাগ লেখক-সাহিত্যিক হলেন ধান্দাবাজ। তাদের মধ্যে দ্বিচারিতা প্রবল, দাবি তসলিমার।
তসলিমা পশ্চিমবঙ্গের বিদ্বজ্জনদের রাজনৈতিক অবস্থানকে এ দিন আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অধিকাংশ বাঙালি সাহিত্যিক ছিলেন সিপিআইএম-এর সমর্থক, এখন তাঁরা টিএমসিকে সমর্থন করছেন। শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এঁরা দলবদল করেন।’’
দিন কয়েক আগেই ভারতে ‘ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতা’কে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছিলেন তসলিমা। দাদরি হত্যা, সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি লেপা-সহ পর পর কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে তসলিমা ওই মন্তব্য করেন। সেই একই অসহিষ্ণুতার প্রশ্নেই বাঙালি লেখক-সাহিত্যকরা সম্প্রতি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ পুরস্কারও ফেরত দিয়েছেন। প্রতিবাদ ও তার পথ নিয়ে বাঙালি বিদ্বজ্জনদের মধ্যেই অবশ্য মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, প্রতিবাদের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কেউ বলছেন, পুরস্কার ফিরিয়ে নয়, প্রতিবাদ হতে পারে অন্য পথেও। কেউ আবার চরমপন্থী প্রতিবাদেই বিশ্বাসী। এই বিভ্রান্তির জেরে পশ্চিমবঙ্গের তথা গোটা ভারতের লেখক সাহিত্যিকদের এই প্রতিবাদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার সুযোগও পেয়ে গিয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি বলেছে, সদুদ্দেশ্যে নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই প্রতিবাদে নেমেছেন লেখকরা। তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের রাজনৈতিক মূল্যবোধকে তসলিমার তীব্র কটাক্ষ অস্বস্তি বাড়াবে অনেকের।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

জাল সনদে ৩৬৩ শিক্ষক নিয়োগ by মুসতাক আহমদ

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় জাল সনদ দিয়ে ৩৬৩ শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের শনাক্ত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। একই সঙ্গে ৮ হাজার ৬৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারের ১৫৭ কোটি টাকা লোপাটের তথ্যও চিহ্নিত করে তারা। এসবের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে সংস্থাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ১ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় এদের দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দু’জন কর্মকর্তা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন । এক পর্যায়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তারা শান্ত হন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, জাল সনদধারীরা শিক্ষক নন, তারা প্রতারক। এসব প্রতারক পার পাবে না। তাদের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কেউ ছাড় দিলে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সবখানেই কম-বেশি স্বচ্ছতার অভাব আছে। কিন্তু এভাবে চলতে দেয়া হবে না। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সবখানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে আমরা নতুন পদ্ধতি আনছি। পিয়ার ইন্সপেকশন (সমজাতীয় পরিদর্শন) নামে এই নতুন ব্যবস্থা কাল (আজ) উদ্বোধন করা হচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, জাল সনদে চাকরি নেয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র আরও ভয়াবহ। তারা যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছেন সেখানেই এ ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও ২১ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানেও নানা ধরনের অনিয়ম -দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আট হাজার ৬৯৮ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, জাল সনদে নিয়োগ এবং নানা ধরনের অনিয়মের তদন্ত রিপোর্টের সারসংক্ষেপ তৈরি হয়েছে। এ প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিটির আগামী বৈঠকে এটি উপস্থাপনের সম্ভাবনা আছে।
সূত্র জানায়, শিক্ষার মানসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে ১৯৮০ সালে ডিআইএ প্রতিষ্ঠা করে সরকার। এ সংস্থার তদন্তে এখন পর্যন্ত পাঁচ ধরনের সনদ জাল করার ঘটনা বেশি ধরা পড়েছে। এগুলো হচ্ছে- নিবন্ধন পরীক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা, লাইব্রেরিয়ান, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং বিএড-এমএড সনদ। এছাড়া একাডেমিক ভুয়া সনদও পাওয়া যাচ্ছে। দারুল ইহসান, উত্তরাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ক্যাম্পাস থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ভুয়া সনদ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাল সনদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ উঠছে। ১৭ মে পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ৮২টি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ১১টি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ১০৯টি এবং খুলনা ও বরিশালে ৬৬টি জাল সনদ ধরা পড়েছে। গত ৫ মাসে আরও ৯৫টি জাল সনদধারী শিক্ষককে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির জন্য তৈরি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ডিআইএ ৮৬৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত শেষে প্রতিবেদন তৈরি করে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ২২৫টি প্রতিবেদন নিষ্পত্তি করে মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে জাল সনদে নিয়োগ পেয়েছেন ৩৬৩ শিক্ষক। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। এসব শিক্ষক সরকারি বেতনের অংশ হিসেবে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৫ টাকা তুলে নিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো (৮৬৯৮টি) কেনাকাটা, সংস্কার কাজ এবং ভুয়া এমপিওসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে রাষ্ট্রের ১৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ৬০৩ টাকা লোপাট করে। এই দুই খাতে লোপাট করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।
জানা গেছে, যে কোনো তদন্ত শেষে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। এসব ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় বেশির ভাগ প্রতিবেদনই ফাইল বন্দি করে রেখেছে। যেসব বিষয় নিষ্পত্তি হয়, তার অধিকাংশই ‘রফা’ করে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং ডিআইএ’র একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত।
এ প্রসঙ্গে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক মফিজউদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আইনত আমরা সুপারিশকারী প্রতিষ্ঠান। অনিয়ম-দুর্নীতি ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে থাকি। ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। তাই প্রতিবেদন নিষ্পত্তি নিয়ে কথা বলার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে আইন-কানুনের মধ্যে থেকেই আমাদের প্রতিবেদন দিতে হয়। জাল সনদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় কথিত (সনদ) ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়ন পাওয়ার পর। সুতরাং আমাদের প্রতিবেদন শতভাগ সঠিক। আর যদি আমরা ভুল প্রতিবেদন দিয়ে থাকি, তাহলে তার দায়ে আমাদের বিরুদ্ধেও মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
মন্ত্রণালয়ের সভা উত্তপ্ত : জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার এমন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং রহস্যজনকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পার করে দেয়া নিয়ে ১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় উত্তপ্ত আলোচনা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক) রুহী রহমান বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, এমপিও লোপাট নিয়ে ডিআইএ যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, তা ত্রিপক্ষীয় সভা ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়। এ নিয়ে নানা অভিযোগ আমরা শুনে থাকি। যেহেতু আমরা (তার শাখা) এমপিও দিই, তাই আমাদের ছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তি করা উচিত নয়। তার এই বক্তব্যের জবাব দিতে ওঠেন সংশ্লিষ্ট শাখার উপসচিব অজিত কুমার। তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘আপনি এসেছেন দু’মাস। আপনি কী করে আপনার শাখাকে সততার সনদ দিচ্ছেন?’ জানতে চাইলে সভায় বিষয়টি আলোচিত হওয়ার কথা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রুহী রহমান।

নওয়াজ শরিফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে র!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস (র)। এমনই অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ। আর সে কারণে নওয়াজ এবং পাকিস্তানের অন্যান্য শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’, নিউজ ট্রাইব এ খবর দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরিফের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে ‘র’ তাকে হত্যার ছক কষায়-এহেন খবর পেয়েই হাই অ্যালার্ট জারি করেছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দফতর।
স্বরাষ্ট্র দফতরের সার্কুলার উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরিফকে ‘র’ খুনের ষড়যন্ত্র করেছে। পাকিস্তানের আরো বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও ওদের টার্গেট। এই সর্বশেষ বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে সার্কুলারে আইন রূপায়ণকারী দফতরগুলিকে প্রধানমন্ত্রী ও বাকিদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সুনির্দিষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ, শরিফের বিশেষ সহকারী মুসাদিক মালিক টিভি চ্যানেল জিও টিভি-কে বলেছেন, কীভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করতে হবে, আমরা জানি।

জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অংশ নয় -হাইকোর্টের রায়

কাশ্মীরের শ্রীনগরে ভারতের শাসনের প্রতিবাদে
বিক্ষোভ থেকে এক কিশোরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে
ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা
জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়। সংবিধানে একে সীমিত সার্বভৌম ভূখণ্ডের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সম্প্রতি এক রায় দিয়েছেন রাজ্যটির হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে এই রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যা সংশোধন, বাতিল বা রদ করা যাবে না।
বিচারপতি হাসনাই মাসুদি ও বিচারপতি জনক রাজ কোতয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ ৬০ পৃষ্ঠার এই রায় দেন।
আদালত আরো বলেন, সংবিধানের ৩৫এ অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে কাশ্মীরকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদকে অস্থায়ী বিধান হিসেবে উল্লেখ করা হলেও একবিংশ ধারায় এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা সংবিধানে ‘অস্থায়ী, অপরিবর্তনশীল ও বিশেষ বিধান’ নামে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। আইনসভায় এটি সংশোধন, বাতিল অথবা রদ করা যাবে না।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে তারা কেন্দ্রীয় সরকারে থাকায় বিষয়টি আরো গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় দলগুলো এবং রাজনৈতিক নেতারা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের প্রতিনিধিরা।
পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (পিডিএফ) প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামী মুথিদা মাহাজের (এএমএম) নেতা হাকিম মোহাম্মদ ইয়াসিন এটিকে মাইলফলক রায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন এখন সময় ৩৭০ অনুচ্ছেদকে আরো শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১০৪৭-৪৮ সালে কাশ্মীর নিয়ে এই দুই দেশে প্রথম যুদ্ধ হয়। এরপর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় এবং কারা কিভাবে কাশ্মীর শাসন করবে তার একটা রূপরেখা তৈরি করা হয়। এরপর একটি অংশ পাকিস্তানের অধীনে যায়, যা পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর বলে এবং অপর অংশটি যায় ভারতের অধীনে, যাকে তারা জম্মু-কাশ্মীর নামে নামকরণ করে।
সূত্র: ডেইলি পাকিস্তান ও আরব নিউজ

‘‘আমি সোমবার মারা গিয়েছি’’, মরার আগে জানিয়ে গেলেন লিঙ্কডিন প্রোফাইলে

‘‘১৯ অক্টোবর, ২০১৫ সোমবার সুইজারল্যান্ডে আমি মারা গিয়েছি। আমার শ্রাদ্ধ ১৩ নভেম্বর, ২০১৫ শুক্রবার।’’ মৃত্যুর আগে নিজের লিঙ্কডিন প্রোফাইলে এই ভাবেই মৃত্যুর দিন, শ্রাদ্ধের দিন ঘোষণা করে গেলেন ব্রিটেনের ব্যবসায়ী সিমন বিনার। চিকিত্সকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন ৫৭ বছরের গুরুতর অসুস্থ সিমন আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। সুইজারল্যান্ডের এক ইউথ্যানেশিয়া(স্বেচ্ছামৃত্যু) ক্লিনিকে স্বেচ্ছাত্যুর আগে তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মৃত্যুর খবর দিয়ে গেলেন সিমন।
স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে এক ইংরেজি নিউজ ওয়েবসাইটকে সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন সিমন। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতাল থেকে যখন বাড়ি ফিরে আসি তখনই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম কী করব। গুরুতর স্নায়ুর রোগ যে কোনওদিন সারবে না বুঝে গিয়েছিলাম। চিকিত্সকরা বলেছিলেন এমএনডি(মোটর নার্ভ ডিসিজ) চিকিত্সা করালে ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত বাঁচব আমি। কিন্তু আমার এমএনডি-র চিকিত্সার ওপর ভরসা ছিল না। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এ ভাবে তিলে তিলে মরার থেকে হঠাত্ স্ট্রোক বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনেক ভাল।’’
কী এই এমএনডি? বিরল স্নায়ুর রোগ এমএনডিতে আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে স্নায়ুতন্ত্র। পেশির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে ধীরে ধীরে অচল হয়ে যায় শরীর। আস্তে আস্তে  হাঁটাচলা, কথা বলা, খাবার গেলা, শ্বাস-প্রশ্বাস সব কিছুই বন্ধ হয়ে গিয়ে শেষ অবস্থায় চলে যায় রোগী।
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রেমে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম

কিশোরগঞ্জে বখাটের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে স্মৃতি আক্তার সেতু (১৪) নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। রোববার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রী হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে সহপাঠীদের সামনে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। মুমূর্ষু সেতুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অস্ত্রোপচার হলেও সে শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই পণকলিমা গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে তৌহিদ সেতুকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু সেতু এতে বরাবরই অসম্মতি জানায়। গত কিছুদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথেও তৌহিদ সেতুকে উত্যক্ত করত। সেতু এ নিয়ে কয়েকবার পরিবারের নিকট অভিযোগও করেছে। গত কয়েকদিন আগে শালিসে তৌহিদের বিচার হলেও সে থামেনি। রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সেতু স্কুলের সামনে পৌঁছা মাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা তৌহিদ ও তার তিন-চার সহযোগী সেতুর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সেতুকে গুরুতর আহত করে। সেতুর আর্ত চিৎকারে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সহযোগীদের নিয়ে তৌহিদ দ্রুত পালিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ স্থানীয়রা সেতুকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেতুর গলা, কাধ ও পিঠে মারাত্মক জখম হয়। এসব ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সেতুর সহপাঠীরা কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে সরিয়ে দিলে দুই ঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পুলিশ এখনো অভিযুক্ত বখাটে তৌহিদ (১৮) কে আটক করতে পারেনি। বখাটে তৌহিদ ঢাকার একটি জুতার কারখানায় কাজ করে। তবে মামুন (১৯) নামে তার এক সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত মামুন পণকলিমা গ্রামের মেনু মিয়ার ছেলে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মামুন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মূল অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। খুব শীঘ্রই তাকে আটক করা সম্ভব হবে বলেও ওসি আশা প্রকাশ করেন।
সেতুর পিতা হেলাল উদ্দিন ৮/৯ বছর আগে মারা যায়। তার মা কিরণ আক্তার ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় সে। সেতু পণকলিমা গ্রামের নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। রোববার থেকে তার এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা ছিল।

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে তৈরি হচ্ছে মোবাইলের সঙ্গে

এই একুশের দশক হল আসলে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের যুগ। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে মিশে রয়েছে এই গ্যাজেটগুলি। মাঝে মধ্যে আমাদের চারপাশে থাকা মানুষদের কথাই আমরা ভুলে যাই এই গ্যাজেটের জন্য। গ্যাজেটগুলি আমাদের সাথে এমনভাবেই যুক্ত যে তাদের ছাড়া আমরা এক পাও চলতে পারি না। দিনের বেশিরভাগ সময় আমাদের চোখ থাকে স্মার্ট ফোন নয়ত ট্যাবলেটের স্ক্রিনে। এই গ্যাজেটের জন্য আমাদের সম্পর্কগুলিও হয়ে যাচ্ছে একেবারে ফিকে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের এরিক পিকারসগিল, একটি কল্পনার দুনিয়া বানিয়ে নিজেদের জীবনে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটের জায়গা করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে রিমুভড নামে একটি প্রোজেক্ট তৈরি করেন। তাঁর কতগুলি ছবি হল সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি, খাবারের টেবিলে একটি পরিবার, এক দম্পতি মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে। এই সমস্ত ছবির মধ্যে দিয়ে এরিক বোঝাতে চেয়েছেন আমাদের সাথে আমাদের প্রিয়জনদের মধ্যের দুরত্ব। এই প্রোজেক্ট তৈরির প্রক্রিয়া চলার আট মাসে তিনি নিজেদের এই অভ্যেস বদলানোর জন্য তৎপর হয়েছিলেন। ফোনের সঙ্গে সময় না কাটিয়ে এরিক এবং তাঁর স্বামী একসঙ্গে গল্পের বই পড়ার অভ্যেস করেন। এরিকের বলেন, প্রয়োজন না থাকলে ফোন ব্যবহার করার দরকার নেই। অবসর সময় কাটানোর জন্য ফোনকে সাথী বানানোর কোনও দরকার নেই।

এবার গরু পাচারের দায়ে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা ভারতে

এবার গরু পাচারের অভিযোগে ভারতে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল গ্রামবাসী। পুলিশ শনিবার জানায়, হিমাচল প্রদেশে বুধবার সন্ধ্যায় নোমান নামে ওই মুসলিম সহ কয়েকজন একটি ট্রাকে করে গরু পরিবহণ করছিলেন। এটা দেখার পর তাদের ওপর হামলা করে গ্রামবাসীর। নোমানকে পিটিয়ে মেরেই ফেলা হয়। তবে অন্যরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও বার্তাসংস্থা রয়টার্স। স্থানীয় পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট সোম্য সম্বাসিবন বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেছি। যেহেতু এটি দলবদ্ধ হামলা ছিল, তাই অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করেছি। প্রসঙ্গত, ভারতের কিছু অঞ্চলে গরু হত্যা নিষিদ্ধ। এর মধ্যে হিমাচল প্রদেশও রয়েছে। দেশটির ৮০ শতাংশই হিন্দু। গরুকে পবিত্র প্রাণি বিবেচনা করে হিন্দুরা। কিন্তু এরপরও ভারত বিশ্বের সর্ববৃহত গরুর মাংস রপ্তানিকারক ও পঞ্চম বৃহত্তম ভোক্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশব্যাপী গরু হত্যা ও গরুর মাংস ব্যবসা নিষিদ্ধ করতে চায়।
হিমাচল প্রদেশে মৃত্যু হলেও, নোমান নামে ওই ২০ বছর বয়সী মুসলিম যুবক পার্শ্ববর্তী উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্রামবাসীরা সন্দেহ করে, পাঁচটি গাভী ও দশটি ষাড় হিমাচল প্রদেশ থেকে উত্তর প্রদেশে নেয়া হচ্ছে জবেহ করার জন্য।
এদিকে গরু পরিবহনের যে অভিযোগ নোমানের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে, তা অস্বীকার করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, ট্রাকে করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিবহণের কাজ ছিল তার। তার পিতা সৈয়দ আখতার বলেন, সে নির্দোষ। সম্ভবত গরু পরিবহনের বিষয়ে সে জানতোও না। সৈয়দ আখতারের অভিযোগ, উগ্র ডানপন্থী বাজরঙ্গ দল এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন রাজধানী নয়াদিল্লির কাছে কয়েকসপ্তাহ আগেই গরু হত্যা ও ভক্ষণের গুজব রটিয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক মুসলিমকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর উত্তর প্রদেশে হিন্দু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া রাজনীতিবিদরাও জড়িয়ে পড়ছেন বিতর্কে।
উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস অবৈধ না হলেও, গরু হত্যা নিষিদ্ধ! গরু সুরক্ষায় অতীতে অনেক সময় রাজনীতিবিদরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসবের মূল উদ্দেশ্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোট নিশ্চিত করা। কিন্তু এর ফলে অনেক সময়ই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধে। বিরোধীরা বলছেন, এ মাসে অনুষ্ঠিতব্য উত্তরের রাজ্য বিহারের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই মোদির দল বিজেপি ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদে ভারতের লেখক-সাহিত্যিকরা সরব হয়েছেন। তারা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের নিষ্ক্রিয়তা কিংবা পরোক্ষ উস্কানির বিরুদ্ধে নিজেদের পুরষ্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত অর্ধ-শতাধিক লেখক ও সাহিত্যিক বিভিন্ন মর্যাদাবান রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। শনিবার উত্তর প্রদেশের লক্ষ্মৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রদায়িকতা ও গরু হত্যা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ‘মিল্ক পার্টি’ আয়োজন করেছে। মুসলিম ধর্মীয় নেতা মৌলানা খালিদ রশিদ ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ও গরুর দুধ পান করেন। রশীদ বলেন, এর মাধ্যমে আমরা ভালোবাসার বাণি ছড়িয়ে দিতে চাই। বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা প্রাণিকে নিয়ে একটি ইস্যু তৈরি করে ভারতের বৃহৎ দুই ধর্মের মধ্যে ফাটল ধরাতে চান।

ক্ষমতাসীন দলেরই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে by বদিউল আলম মজুমদার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে নানা মত আছে। বদিউল আলম মজুমদার এর  রাজনৈতিক মত এখানে তুলে ধরা হলো
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি না। বরং এর পরিণতি অশুভ হতে পারে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা পাকা করে সংসদ ও সরকারে ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। দলীয় প্রশাসক বসিয়ে জেলা পরিষদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদে চলছে সাংসদদের আধিপত্য। এখন দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলে ইউনিয়ন পরিষদেও ক্ষমতাসীন দলেরই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সমূহ সম্ভাবনা, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ভালো হতে পারে না।
দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রবর্তনের আগে দেশের দলীয় ব্যবস্থার প্রতি একটু নজর দেওয়া যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বাঙালি দলাদলিই করতে পারে। কিন্তু দল গড়ে তুলতে পারে না।’ রাজনৈতিক দল মানে আদর্শভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ দল। কোনো কোটারি বা গোষ্ঠীস্বার্থে যারা কাজ করবে না। তেমন দল দেশে গড়ে ওঠেনি।
কাজেই আগে সেই দল গড়ে তুলতে হবে। সংস্কারের মাধ্যমে তেমন দল গড়ে উঠতে পারে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা করতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। তার আগে দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মনোনয়ন-বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বে। যাঁরা মনোনয়ন পাবেন তাঁরা ভোটারদের কতটা কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হবেন, সে বিষয়েও সন্দেহের অবকাশ আছে।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের অনুগত নয় এমন নির্বাচন কমিশন দুরাশা মাত্র। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনও পক্ষপাতদুষ্ট। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদেরই নির্বাচিত হয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনও দেখা যেতে পারে যে হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলা করে প্রতিপক্ষকে নির্বাচনে অংশ নিতেই দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক এলাকায়ই কিছু স্বীকৃত ভালো মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররাই এ ধরনের মানুষকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধ্য করেন। তাঁরা কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। দলীয়ভিত্তিক নির্বাচন হলে এ ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো দলের বিরাগভাজন হতে চাইবেন না।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে প্রার্থীসংখ্যা কম হয়। তাতে ভালো প্রার্থীর সংখ্যা কমে। ভালো প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। কারণ, ভোটারদের বিকল্প বাছাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়। দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক অঙ্গনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে। কাজেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে আরও আলাপ-আলোচনা করা দরকার ছিল।
বদিউল আলম মজুমদার: সুজন-এর সম্পাদক।

জাতিসংঘের সুরক্ষা বাহিনী মানবে না ইসরায়েল- আরও তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের আশপাশে সহিংসতা দমনে ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আবেদন গত শুক্রবার নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এদিকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে গতকাল শনিবার ইসরায়েলি সৈন্য ও এক ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর হাতে আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরা ও ডনের।
জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪২ ফিলিস্তিনি ও সাত ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থান শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতার বিষয়ে আলোচনার জন্য জর্ডানের অনুরোধে গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজনীতি-বিষয়ক জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তায়ে ব্রুক জারিহু ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি ইস্যুর সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। এতে অংশ নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য একে অপরকে দায়ী করেন।
বৈঠকে ইসরায়েলের উপরাষ্ট্রদূত ডেভিড রয়েট বলেন, ‘আমাকে পরিষ্কার বলতে দিন, টেম্পল মাউন্টে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীর অবস্থান ইসরায়েল মেনে নেবে না। এ ধরনের উপস্থিতি বিরাজমান অবস্থাকে বদলে দিতে পারে।’
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মনসুর অরক্ষিত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি দমনপীড়ন বন্ধের জন্য পরিষদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ ও ‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষা’র আবেদন জানান। ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসতার জন্য ইসরায়েলের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছে কোনো খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি। তবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রাসোয়া দিলাত্রে পরিস্থিতি শান্ত করতে খসড়া বিবৃতি উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন। উত্তেজনা প্রশমনে চাপ প্রয়োগে আগামী বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদ মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা আহ্বান করেছে।
তিন ফিলিস্তিনি নিহত: গতকাল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সেনা ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর হাতে আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেনা ও পুলিশের ভাষ্য, তিনটি ঘটনাতেই ইহুদিদের ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা। পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে এক ইহুদিকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন ফিলিস্তিনি এক যুবক। এ সময় ইহুদি ব্যক্তিটি গুলি করলে ওই যুবক প্রাণ হারান। ১৮ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম ফাদেল আল কাওয়াতসমি বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। হেবরনে পৃথক ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি কিশোরী (১৬) ইসরায়েলের এক নারী সৈন্যকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই ফিলিস্তিনি কিশোরীর মৃত্যু হয়। আর পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের একটি তল্লাশি চৌকিতে এক সৈন্যকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন আরেক ফিলিস্তিনি। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই ফিলিস্তিনিও নিহত হন।
ওবামার উদ্বেগ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার বলেছেন, জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মার্কিন প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইয়ের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ জানান তিনি। এ সময় নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ওবামা বলেন, সড়কে সহিংসতা ও ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনা থেকে নাগরিকদের রক্ষায় মৌলিক আইন ও আদেশ প্রয়োগের অধিকার ইসরায়েলের আছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গত শুক্রবার ফোন করেন। তাঁরা সহিংসতা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই অঞ্চলে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নেতানিয়াহুকে মার্কিন সহায়তারও প্রস্তাব দেন।

বঙ্গভঙ্গ ও নওয়াব সলিমুল্লাহ by মো: আনোয়ার হোসেন

বঙ্গভঙ্গ প্রকল্পটি ছিল মূলত ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রশাসনিক পরিকল্পনা। কারণ, ১৮৬৮ সাল থেকেই বঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যার বিপুল ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত বঙ্গদেশটি ভাগ করে শাসনের জল্পনা কল্পনা চলে আসছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসী নেতৃবৃন্দের আচরণ ও দাবি-দাওয়ার চাপে সেটা রাজনীতির দিকে মোড় নেয়। ১৯০৩ সালের ডিসেম্বরে ভারত সরকার এক পত্রে ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগকে আসামের সাথে যুক্ত করে একটি প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা করে। এই প্রেক্ষাপটে নওয়াব সলিমুল্লাহ পূর্ববাংলার বঞ্চিত জনগণের বিশেষ করে পশ্চাৎপদ মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের একটি সুযোগ দেখতে পেলেন। কলকাতাকেন্দ্রিক হিন্দু প্রভাবিত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মুসলমানেরা অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। জমিদার, মহাজন, শিল্পপতি প্রভৃতির কারণে পূর্ববাংলার কৃষি উৎপাদিত ধনসম্পদের মাধ্যমে কলকাতা এবং এর পাশের অঞ্চলগুলোই বেশি উপকৃত হতো। সলিমুল্লাহ ভাবলেন, ঢাকায় রাজধানী করে নতুন প্রদেশ গঠিত হলে পূর্বাঞ্চলের ধনসম্পদ এখানকার কল্যাণেই বেশি ব্যয় হবে। আরো স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত হলে মুসলমানেরা শিক্ষা-দীক্ষা ও চাকরি-বাকরির সুযোগ পাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এখানকার শাসনক্ষমতাও তাদের হাতে বেশি থাকবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৪ সালের ১১ জানুয়ারি স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে এক সভা করেন। সভায় প্রথমে সর্বসম্মতভাবে সরকারের বঙ্গভঙ্গ প্রকল্পটির বিরোধিতা করা হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ একটি বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেন যে, সমগ্র আসাম, ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের যশোর ও খুলনা জেলাকে নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য ঢাকাকে রাজধানী করে আইন পরিষদবিশিষ্ট ও লে. গভর্নর শাসিত একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন প্রদেশ গঠন করা যেতে পারে। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবটি ভেবে দেখার জন্য ১০ দিনের সময় নেন। ওই মাসেরই ১৭ তারিখে এরা (বেশির ভাগই হিন্দু নেতা) আনন্দ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে এক সভায় মিলিত হয়ে নওয়াবের বিকল্প প্রস্তাবের প্রতি অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। কিন্তু সলিমুল্লাহ মুসলমানদের উন্নতির কথা ভেবে তার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প করেন। বঙ্গ বিভাগের পক্ষে জনমত গঠন ও সরকারের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার লক্ষ্যে বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ববঙ্গ সফরে আসেন। ঢাকায় অবস্থানকালে নওয়াব সলিমুল্লাহর সাথে বঙ্গবিভাগের স্কিম নিয়ে বড়লাটের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এর ফলে লর্ড কার্জনের পরিকল্পিত নতুন প্রদেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং এর সীমারেখা বেড়ে শেষ পর্যন্ত তা পূর্ববাংলার স্বার্থানুকূল হয়ে ওঠে। ১৮ ফেব্রুয়ারি আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে লর্ড কার্জনের সংবর্ধনা সভায় জেলা বোর্ড ও মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে একটি, প্রাদেশিক মুসলমান সমিতির পক্ষ থেকে একটি, জনসাধারণ সভার পক্ষ থেকে একটি এবং জমিদার শ্রেণীর পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র দেয়া হয়। প্রথম দু’টিতে বঙ্গবিভাগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মূল পরিকল্পনার সাথে বঙ্গের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের অন্তর্ভুক্তি, লে. গভর্নর নিয়োগ, ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠন, রেভিনিউ বোর্ড স্থাপনসহ পূর্ববাংলার অধিবাসীদের যাবতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব রাখা হয়। এ ছাড়া ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করা এবং শিলংকে নতুন প্রদেশের গভর্নরের গ্রীষ্মকালীন আবাস করার প্রস্তাবও রাখা হয়। প্রধানত হিন্দু নেতাদের অন্য দু’টি মানপত্রে বঙ্গ বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ বিশ্বাস করতেন নবগঠিত প্রদেশে অগ্রসরমান হিন্দুদের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি না হয়েই অনগ্রসর মুসলমান সম্প্রদায় শিক্ষা-দীক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, বাণিজ্য, চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে উন্নতি করার সুযোগ পাবে। এরূপ নিশ্চিত ধারণা নিয়েই তিনি এর প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেন এবং সহযোগীদের সাথে নিয়ে জনগণকে এ মর্মে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা চালান। অন্য দিকে বঙ্গ বিভাগ বিরোধীদের শিরোমণি ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি এবং তার সহযোগী কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা। বঙ্গ বিভাগের ফলে কলকাতায় বসবাসকারী উকিল, লেখক, সাহিত্যিকদের নবগঠিত প্রদেশে তাদের বাজার হারানোর ভয় ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত উন্নয়ন ও কর্মতৎপরতা কলকাতাভিত্তিক ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করে তোলে। অন্য দিকে নওয়াব সলিমুল্লাহ নতুন প্রদেশের সূচনালগ্নেই মুসলিম জাতির মধ্যে সংহতি গড়ে তোলার কথা ভাবতে শুরু করেন। এখান থেকেই তার দৃষ্টিভঙ্গি সক্রিয় রাজনীতির দিকে মোড় নেয়। নতুন প্রদেশ কার্যকর হওয়ার প্রাক্কালে সলিমুল্লাহর উদ্যোগে মুসলিম নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, নবগঠিত প্রদেশের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা কর্তব্য হয়ে পড়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইত্যাদি ব্যাপারে ন্যায্য অধিকার নিয়ে সরকারের কাছে মতামত প্রকাশের ব্যাপারে সব মুসলমানের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে। নতুন প্রদেশের জন্মদিন (১৬ অক্টোবর ১৯০৫) মুন্সীগঞ্জে এর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে নওয়াব সলিমুল্লাহ বলেন, বঙ্গভঙ্গ এতদঞ্চলের মুসলমানদের নির্জীবতা থেকে উত্থান করেছে এবং কর্মঠ ও সংগ্রামী করতে নির্দেশনা দিয়েছে। বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিনেই ঢাকার নর্থব্রুক হলে নওয়াব বাহাদুরের সভাপতিত্বে মুসলমানদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দুদের বিরোধিতা সত্ত্বেও লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গ করেন। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে সেটা কার্যকর করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিভাগ, মালদাহ জেলা, পার্বত্য ত্রিপুরা ও আসাম নিয়ে পূর্ববঙ্গ প্রদেশ গঠিত হয়। নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা হয় ৩ কোটি ১০ লাখ, যার মধ্যে মুসলমান ১ কোটি ৮০ লাখ এবং হিন্দু ১ কোটি ২০ লাখ। ঢাকাকে রাজধানী করে ব্যবস্থাপক সভাসংবলিত একজন লে. গভর্নরকে এর শাসক নিযুক্ত করা হয় এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রদেশের প্রধান বন্দরনগর করা হয়। পূর্ববাংলার মুসলমানেরা ছাড়াও কলকাতার মোহামেডান লিটারারি সোসাইটিও বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করে, যা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এটা ছিল পূর্ববাংলার মুসলমানদের প্রতি তাদের স্বজাত্যবোধরেই পরিচায়ক। কলকাতায় মোসলেম ক্রনিকল পত্রিকাও বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। বিহার ও উড়িষ্যার মুসলিম নেতৃবৃন্দও বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানান। তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত হিন্দু, যাদের বর্ণ হিন্দুদের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক ও আর্থিক ক্ষোভ ছিল তারাও বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেন। এ ছাড়া সব হিন্দু বঙ্গভঙ্গবিরোধী ছিলেন। ১৯০৫ সালে ৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথেই তারা ক্রোধে ফেটে পড়েন। এ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, ফরিদপুরের অম্বিকাচরণ মজুমদার, আনন্দ চন্দ্র রায়, ময়মনসিংহের নাথবন্ধু গুহ, বর্ধমানের রাসবিহারী ঘোষ, নরেন্দ্রনাথ সেন, অশ্বিনীকুমার দত্ত, বিপিনচন্দ্র পাল। ১৯০৫ সালে ৭ আগস্ট বিরোধী হিন্দু নেতারা কলকাতার টাউন হলে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে প্রস্তাব গ্রহণ করেন, বঙ্গবিভাগ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং ব্রিটিশপণ্য বর্জন অব্যাহত থাকবে। ঢাকায় জগন্নাথ কলেজেও অনুরূপ সভা হয়।
নওয়াব সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে সভা সমিতির আয়োজন করেন। বর্ণহিন্দুদের বিরোধিতা সত্ত্বেও নওয়াবের উদ্যোগে ১৯০৬ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, সিলেট, প্রভৃতি স্থানে বঙ্গভঙ্গের প্রথম বর্ষপূর্তি জাঁকালোভাবে পালন করা হয়। কংগ্রেসি হিন্দুরা ওই দিন ‘শোক দিবস’ পালন করেন। হিন্দু জমিদারগণ বঙ্গবিভাগে রদ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন আদায়ের অজুহাতে মুসলমানদের উৎপীড়ন করতে থাকেন। হিন্দু ভলান্টিয়ারেরা বিদেশী পণ্য বর্জনের জন্য অনেক স্থানে বল প্রয়োগ শুরু করেন। তবে মুসলমান ও নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গ বিরোধীদের আন্দোলনে সাড়া দেননি।
পূর্ববাংলার জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষা চেতনা সৃষ্টির জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্সের একটি শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য ১৯০৬ সালের ১৪ ও ১৫ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগে বাগানবাড়িতে নওয়াব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ও সভাপতিত্বে এক সভায় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ এর প্রেসিডেন্ট এবং নওয়াব আলী চৌধুরী এর সেক্রেটারি হন। ওই সভায় ৫ হাজার প্রতিনিধি যোগ দেন। নতুন প্রদেশে প্রতিটি জেলা থেকেই প্রতিনিধি আসেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনেকেই আসেন। ওই সভায় ২০টি প্রস্তাবের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার এবং ঢাকা কলেজের মুসলমান ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের সিদ্ধান্তও ছিল। ঢাকার প্রাদেশিক রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হলে পূর্ববঙ্গের শিক্ষা-দীক্ষা ও উন্নয়নের জোয়ার আসে। কিন্তু হিন্দু ও কংগ্রেসি নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার কারণে সেটা ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় সর্বভারতীয় মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নওয়াব সলিমুল্লাহ একটি সর্বভারতীয় মুসলিম রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধীরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছাড়াও নওয়াব সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বিরোধীদের কেউ কেউ মৌলভী ও মোল্লার বেশ ধরে নওয়াবের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মুসলমানদের উত্তেজিত করা শুরু করেন। দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষিত হওয়ার পরপরই নওয়াব সলিমুল্লাহ মুসলমান নেতাদের সাথে আলোচনা করেন এবং মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ দাবিসংবলিত একটি পত্র ১৯১১ সালের ২০ ডিসেম্বর গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে পেশ করেন।
দাবি : ০১. মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন। ০২. মুসলমানদের উচ্চশিক্ষার খাতে বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা। ০৩. ঢাকা ও চট্টগ্রামে এমন দু’জন কমিশনার নিয়োগ, যাদের অনুরূপ অভিজ্ঞতা রয়েছে। পূর্ববাংলা ও আসামের মুসলমানদের শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য একজন যুগ্ম পরিচালক বা সহপরিচালক নিয়োগ। ০৪. এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে এমন একজন অফিসার রাখা, যিনি পূর্ববাংলা ও আসামের প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনার ব্যাপারে অভিজ্ঞ। ০৫. বঙ্গ প্রেসিডেন্সির গভর্নর কলকাতা ও ঢাকা এই উভয় শহরে সমভাবে অবস্থান। ০৬. বঙ্গ প্রেসিডেন্সির মুসলমানদের নিয়োগ এবং পালাক্রমে একজন হিন্দুর পর একজন মুসলমান সদস্য বঙ্গ প্রেসিডেন্সির এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে নিয়োগ। ০৭. পূর্ববঙ্গের জন্য স্বতন্ত্রভাবে বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন। অথবা পূর্ববঙ্গের রাজস্ব এখানকার জেলাগুলোর শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে হবে। ০৮. সরকারি চাকরিতে আরো অধিক হারে মুসলমানদের নিয়োগ।
ওই দাবিগুলোর সূত্র ধরে লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা সফরে এসে তিন দিন অবস্থান করেন। ওই সময় নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে এতদঞ্চলের ১৯ জন মুসলমান প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি বড়লাটের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বড়লাট ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলমানদের জন্য একজন বিশেষ শিক্ষা অফিসার নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা জানতে পেরে কংগ্রেসি নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা সেটা বাতিল করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। কিন্তু নওয়াব সলিমুল্লাহ ও সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সেটা বাস্তবায়িত হয়। ১৯১২ সালের ২ মার্চ কলকাতায় ডালহৌসি ইনস্টিটিউট যুক্ত বঙ্গের মুসলিম নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ সভাপতির ভাষণে বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে নির্লিপ্ত থেকে মুসলমানদের স্বার্থ নিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের ইচ্ছামতো ক্রীড়া করতে দেয়ার সময় আর নেই। শাসকেরা যাতে দেশ শাসনের ব্যাপারে মুসলমানদের কথায় কর্ণপাত করেন, সে জন্য আমরা আজ কৃতসংকল্প। তিনি পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ দু’টি স্বতন্ত্র প্রাদেশিক লীগকে একত্র করে বঙ্গ প্রেসিডেন্সি লীগ গঠন এবং এর দফতর ঢাকায় রাখার প্রস্তাব করেন।

সরকারের সদিচ্ছার অঙ্গীকার থাকতে হবে by তোফায়েল আহমেদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে নানা মত আছে। তোফায়েল আহমেদ এর রাজনৈতিক মত এখানে তুলে ধরা হলো
দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশের নিস্তেজ-নিস্তরঙ্গ রাজনৈতিক অঙ্গনে সাময়িক একটি প্রাণবন্ত তর্ক-বিতর্কের অবকাশ সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন দল ছাড়া অন্যরা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে, বিশেষত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। জাতীয় পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় প্রকাশিত মতামত মিশ্র। তবে অতি দ্রুততার সঙ্গে এ জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পদ্ধতিটি প্রশ্নবোধক হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবেই হয়ে আসছিল এবং ভবিষ্যতেও দলীয়ভাবেই হতো এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। দেশে যেহেতু বিরোধী রাজনীতি ও রাজনৈতিক শক্তি নিষ্প্রভ, তাই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বিনা বাধায় আইনে পরিণত করে বাস্তবায়নে যাবে তা স্বতঃসিদ্ধ। তবে দেশের রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী উন্নয়নকে লক্ষ্য রেখে সরকার যদি আন্তরিকভাবে কিছু করতে চায়, তাহলে শুধু এতটুকু সংশোধনী বা সংযোজনী যথেষ্ট নয়। তাই পূর্ণাঙ্গ আইন করার সময় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করতে পারি।
এক.
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিরাজিত সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে এই কাঠামোটিকে কথিত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের আদল থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হলে দলভিত্তিক নির্বাচন অধিক ফলপ্রসূ হবে। নির্বাচন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয়ে যাবে। হ্রাস পাবে নির্বাচনী ব্যয়। পরিষদের অভ্যন্তরে অধিক সংখ্যায় সক্ষম নেতৃত্বের সমাবেশ হবে।
দুই.
স্থানীয় সরকার, বিশেষত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের অন্যতম প্রধান সমস্যা অর্থায়ন ও অপ্রতুল জনবল। বিদ্যমান আইনে অর্থসম্পদসহ জনবল ও কার্যাদি হস্তান্তরের যে বিধান রয়েছে তা কার্যকর করলে পরিষদের সক্ষমতা ও কার্যকারিতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।
নতুন এ সংশোধনীর নেতিবাচক প্রবণতা নিয়ে যাঁরা সোচ্চার হয়েছেন, তাঁদের যুক্তি ও আশঙ্কাগুলো উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। নেতিবাচক আশঙ্কাগুলোকে ইতিবাচকে রূপান্তর করতে হলে দুটি দিক থেকে সরকার ও সরকারি দলে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার স্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। প্রথমত. নির্বাচনের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কারণ এখন নির্বাচন নিয়ে কেউ আগ্রহ বোধ করে না। তাই সর্বত্র আইনের শাসন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত. ব্যবহারের চিন্তা থেকে যদি তড়িঘড়ি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়নে সরকারি দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে তাহলে এ প্রচেষ্টা দীর্ঘ মেয়াদে তৃণমূলে রাজনীতির সুস্থ ও সুষ্ঠু বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে। অন্তত প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠান সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্তভাবে করা সম্ভব হলে, এ ব্যবস্থাটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে। অন্যথায় এ ব্যবস্থা স্থানীয় সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্তই করবে।
তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ।

জমি কমলেও চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ by ইফতেখার মাহমুদ

১৯৭১ থেকে ২০১৫—যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দরিদ্র দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এই ৪৪ বছরের পরিক্রমায় এ দেশে ধানসহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩ থেকে ৭৫৭ গুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই সময়ে দেশের প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
বিবিএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৪ বছরে দেশের ধান চাষের জমি ১৮ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ গুণ।
তবে কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকে ফসলের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার, কীটনাশক ও সেচের পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। একে দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন অনেক কৃষিবিজ্ঞানী।
শুধুই কি ধান? অন্য ফসলেও উৎপাদন বৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছরে দেশের আলু চাষের জমি সাড়ে ৫ গুণ বেড়েছে, আর ফলন বেড়েছে ১০ দশমিক ৯০ গুণ। এই সময়ে গমের উৎপাদন বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ গুণ। ভুট্টার ফলন বৃদ্ধির হার তো রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ৭৫৭ গুণ। আর এই ফসলের জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ধানের জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির উপযোগী জাত উদ্ভাবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। খাদ্যশক্তির জন্য শুধু চালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা ’৯৯ সালে দেশে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিই।’ ভুট্টায় ভিটামিন এ এবং ডি থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভুট্টা ও গম মিলিয়ে যে আটা হয় তা দেশের মানুষের বড় অংশের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। এভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যাতে মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটায় সেদিকে মনোযোগ দিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।’
তবে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ও রপ্তানি দ্রব্য পাটের চিত্র ধান, গম ও ভুট্টার মতো নয়। বরং উল্টো চিত্রই দেখা যায়। ৪৪ বছরে দেশে পাট চাষের জমির পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। তারপরও উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।
দেশের দানাদার ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিপুল অগ্রগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ধান-গম-ভুট্টার উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে কৃষকের পরিশ্রম ও উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবনের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এসব কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ায় কৃষক কৃষিতে বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন।
জমির পরিমাণ না বাড়ার পরও ফসলের উৎপাদন এত বাড়ার উত্তরও বিবিএসের পরিসংখ্যানেই রয়েছে। ১৯৭০ সালে দেশের ফসলি জমিতে গড়ে একটি ফসল হতো। ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জমিতে বছরে গড়ে প্রায় দুটি ফসল হয়। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ একর জমিতে লবণাক্ততার কারণে এখনো একটি ফসল হয়। দেশের হাওর এলাকায়ও বছরে একটির বেশি ফসল হয় না। দেশের বাকি এলাকায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল হয়ে থাকে।
উৎপাদনের সঙ্গে বিপদও বাড়ছে: কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্য বিপদের কথাও বলছেন। তাঁদের মতে, পঞ্চাশের দশকে দেশের বেশির ভাগ ফসলের চাষ হতো স্থানীয় জাত দিয়ে। ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে উন্নত জাতের ধানের চাষ শুরু হয়। উফশী জাত রাসায়নিক সার, কৃত্রিম সেচ ও কীটনাশকনির্ভর হওয়ায় ধান চাষে খরচের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর উফশী ধানের চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।
এ ব্যাপারে দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সাধারণ সম্পাদক গুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ জমিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কমে গেছে। একটি সুষম স্বাস্থ্যের মাটিতে চার শতাংশ জৈব উপাদান থাকার কথা। কিন্তু ওই ৬০ শতাংশ জমিতে তা এক শতাংশে নেমে এসেছে।
গুল হাসান আরও বলেন, মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাওয়ায় তা আঠালো অথবা বালু হয়ে যাচ্ছে। এতে মাটির পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে মাটিতে সেচ বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি কৃষককে দেশের চাহিদা ও পরিবেশের উপযোগী ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করতে। তবে বেশি ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে যাতে মাটি ও পানির ক্ষতি না হয়, সেদিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। সুষম সার ব্যবহারের জন্য আমরা ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের দামে সমন্বয় করেছি।’ এ ব্যাপারে জৈব সার ও বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশে ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন এবং অন্য সব রাসায়নিক সার মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ২১ লাখ টন।
স্বাধীনতার সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশের ধান চাষের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক বদলও হয়েছে। ৪৪ বছর আগে দেশের বেশির ভাগ ধান উৎপাদিত হতো প্রকৃতিনির্ভর আমন ও আউশ থেকে। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ফসল আসত বোরো থেকে। আর এখন দেশের ৫৫ শতাংশ চাল আসে বোরো থেকে। বোরোর মোট উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
৪৪ বছরে দেশে বর্ষার পানিনির্ভর আউশের চাষ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে। আর আমনের চাষ কমেছে ৪৪ শতাংশ। তারপরও এই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
ধানের এই উৎপাদন বাড়ার জন্য চাষি ও বিজ্ঞানীদের অবদানকে সবার আগে রেখেও বাংলাদেশের মাটিরও বিশেষ গুণের কথা বলেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে এসে প্লাবনভূমিতে ফেলে। বন্যায় ওই পলি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে যায়। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ওই উর্বর পলি বাংলাদেশের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার বিজ্ঞানীরা ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি উচ্চফলনশীল (উফশী) ও চারটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে ১৪টি জাত লবণাক্ততা, বন্যা ও খরাসহিষ্ণু। এ ছাড়া বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা ১৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার চারটি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু জাত।

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম তীর ও গাজায়

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড
ছুড়ছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল পূর্ব জেরুজালেমের রাস
আল-আমুদ এলাকায়জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা। এএফপি
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার অধিকাংশ স্থানে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম তীরের নাবলুসে ইহুদিদের একটি ধর্মীয় স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয় ফিলিস্তিনিরা। খবর বিবিসি ও এএফপির। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। ইয়াহিয়া আবদুল কাদের ফারহাত (১৯) নামের এক ফিলিস্তিনি মাথায় গুলি লেগে নিহত হন। সুজাইয়ে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মাহমুদ হুমাইদ (২২) নামের আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ নিয়ে চলতি মাসে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন হামলায় এক দম্পতিসহ সাত ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার ‘চলমান হামলা বন্ধ করার জন্য ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরায়েলের একজন কূটনীতিক বলেন, জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের যে দাবি ফিলিস্তিনিরা তুলেছে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। এতে শহরটির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। এদিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম তীরের নাবলুসে এক ইহুদি সন্তের সমাধিসৌধে পেট্রলবোমা দিয়ে হামলা চালায়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। গত মাসে জেরুজালেমে পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোতে ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে—এমন গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় সহিংসতা। ক্রমবর্ধমান এ সহিংসতার বিষয়ে আলোচনার জন্য জর্ডানের অনুরোধে গতকাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আল-আকসা প্রাঙ্গণ মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই পবিত্র। তবে ইহুদিদের সেখানে যাওয়ার অধিকার থাকলেও প্রার্থনার সুযোগ নেই। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলমান সহিংসতার বিষয়ে ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে তিনি মাহমুদ আব্বাসের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তবে আব্বাস এ সহিংসতার জন্য পাল্টা ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।

ভারতে গরু পাচারের অভিযোগে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা

উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশে গতকাল শুক্রবার জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গরু পাচার করার অভিযোগে স্থানীয় অধিবাসীরা এক মুসলমান যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহত নোমান (২০) এবং আরও চারজনকে গত বৃহস্পতিবার গরু পাচারের অভিযোগে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। গতকাল নোমান মারা যান। খবর এএফপির। ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকায় গরুর মাংস খাওয়ার গুজবকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ ইকলাখ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানায়, নোমানসহ পাঁচজন গরুবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় গ্রামবাসী হামলা চালালে তাঁরা গাড়ি ছেড়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
অধিবাসীরা তখন তাঁদের ধরে গণপিটুনি দেয়। বিজেপি নেতার পরামর্শ: এদিকে হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার বলেছেন, ভারতের মুসলমানদের উচিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে গরুর মাংস খাওয়া পরিহার করা। বিরোধী দল কংগ্রেস খাট্টারের ওই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে খাট্টার গতকাল বলেন, তাঁর কথা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপরও কেউ আহত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে রাজি আছেন। খাট্টারের ওই মন্তব্য বিজেপির দলীয় অবস্থানের প্রতিফলন নয় বলে বিজেপির নেতা ও কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু জানিয়েছেন।

সিরিয়ান অবজারভেটরির নেপথ্যে কারা?

সিরিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাঠানো খবর সারা বিশ্বে প্রচার করার জন্য সূত্র হিসেবে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস একটি বহুল ব্যবহৃত নাম। এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন। এর ব্যাপারে মানুষ কতটা জানে, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছে রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা আরটি।
চার বছর আগে সিরীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূলধারার পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম (রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি) নিয়মিত সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাত দিয়ে খবর প্রচার করছে। সংগঠনটি দাবি করে, তাদের যোগাযোগ সিরিয়া ও আশপাশের অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের সদর দপ্তরে নিয়মিত খবর পৌঁছায়। পরে সেগুলো সম্পাদনার মাধ্যমে সংগঠনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে (ফেসবুক ও টুইটার) প্রকাশ করা হয়।
আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা বা সাম্প্রতিক রুশ বিমান হামলায় হতাহত হওয়ার ঘটনার খবরও দ্রুত প্রকাশ করছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। এ ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা রে ম্যাকগভার্ন আরটিকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্বাস করার ব্যাপারটি জনসাধারণের নিজস্ব পছন্দের ব্যাপার। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা (যেমন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি) কী কী বলেছেন, সেটা জানার জন্য এসব সূত্রের খবর একেবারেই বিশ্বাসের অযোগ্য।
২০০৬ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত সিরিয়ান অবজারভেটরির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিরীয় নাগরিক রামি আবদুল রহমান ওরফে ওসামা সুলেইমান। তিনি সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হয়েছেন। কভেন্ট্রি এলাকায় তাঁর বাড়িটিই সংগঠনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু তাঁর জন্য কারা সিরিয়ার ভূখণ্ডে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন, সেটা কেউ জানে না। তবে তথ্য সরবরাহ নিয়মিত এবং সেগুলো নাটকীয়ভাবে দ্রুত প্রকাশিত হচ্ছে বিশদ বিবরণ ছাড়াই।
আরটির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল রহমানকে তাঁর বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ফোন করলে তিনি বলেন, তিনি দোকানে গিয়েছেন। সেখানে কারও সঙ্গে দেখা করা বিপজ্জনক। ‘ওরা’ তাঁকে মেরে ফেলতে চায়। তিনি কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠান নন। ব্যক্তিগত বাড়িতেই কাজ করেন। সূত্র: আরটি

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম তীর ও গাজায়

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও
স্টান গ্রেনেড ছুড়ছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
শুক্রবার
পূর্ব জেরুজালেমের রাস আল-আমুদ এলাকায় জুমার
নামাজের পর বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা -এএফপি
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার অধিকাংশ স্থানে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম তীরের নাবলুসে ইহুদিদের একটি ধর্মীয় স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয় ফিলিস্তিনিরা। খবর বিবিসি ও এএফপির।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। ইয়াহিয়া আবদুল কাদের ফারহাত (১৯) নামের এক ফিলিস্তিনি মাথায় গুলি লেগে নিহত হন। সুজাইয়ে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মাহমুদ হুমাইদ (২২) নামের আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ নিয়ে চলতি মাসে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন হামলায় এক দম্পতিসহ সাত ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার ‘চলমান হামলা বন্ধ করার জন্য ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরায়েলের একজন কূটনীতিক বলেন, জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের যে দাবি ফিলিস্তিনিরা তুলেছে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। এতে শহরটির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
এদিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম তীরের নাবলুসে এক ইহুদি সন্তের সমাধিসৌধে পেট্রলবোমা দিয়ে হামলা চালায়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত মাসে জেরুজালেমে পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোতে ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে—এমন গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় সহিংসতা। ক্রমবর্ধমান এ সহিংসতার বিষয়ে আলোচনার জন্য জর্ডানের অনুরোধে গতকাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আল-আকসা প্রাঙ্গণ মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই পবিত্র। তবে ইহুদিদের সেখানে যাওয়ার অধিকার থাকলেও প্রার্থনার সুযোগ নেই।
গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলমান সহিংসতার বিষয়ে ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে তিনি মাহমুদ আব্বাসের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তবে আব্বাস এ সহিংসতার জন্য পাল্টা ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।

ইসরাইলি রাব্বির হুঙ্কার : ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা ধর্মীয় দায়িত্ব

স্যামুয়েল ইলিইয়াহু
ইসরাইলি কট্টরপন্থী রাব্বিরা বলেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা করা 'ধর্মীয় দায়িত্ব'। ইসরাইলি মিডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইসরাইলি নিউজ ওয়েবসাইট ওয়ালা জানিয়েছে, ডানপন্থী রাব্বিরা ফিলিস্তিনি আন্দোলন দমন-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এটা শুধু খালি হাতে নয়, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে হলেও দমন করা ধর্মীয় দায়িত্ব।
সাফেদ নগরীর প্রধান রাব্বি স্যামুয়েল ইলিইয়াহু আরেক ধাপ এগিয়ে যেসব ইসরাইলি পুলিশ ও সৈন্য আটকের পরও ফিলিস্তিনিদের জীবিত রাখেন তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি ফেসবুকে বলেছেন, দুর্বৃত্তদের আটকের পর জীবিত রাখা নিষিদ্ধ। কারণ সেক্ষেত্রে এই আশঙ্কা থেকে যায় যে, তারা মুক্তি পেয়ে আবার হত্যাকাণ্ড চালাবে।
ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধ আন্দোলন সৃষ্টি করার প্রেক্ষাপটে ইহুদি রাব্বিরা এই মন্তব্য করলেন। ইসরাইলি নৃশংসতা, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর