Monday, November 18, 2019

অণ্ডকোষ নিয়ে ভয়ংকর তথ্য, কার ছোট কার বড়?

অণ্ডকোষ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে বিদেশি একটি দল। যেখানে উঠে এসেছে ভয়ংকর কিছু তথ্য। যা শুনলে রীতিমত চমকে উঠবেন আপনিও।

অবশ্য কতটা সত্যতা আছে এর, আর কতটা মিথ্যা; সব আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম। তবে সুদর্শন পুরুষ বনাম কুৎসিত পুরুষ ও বিভিন্ন সুন্দর-অসুন্দর প্রাণীদের মধ্যে চালানো হয়েছে এই গবেষণা। আর এর জন্য নেয়া হয়েছে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফিগারও, যেখানে রাখা হয়েছে প্রায় ১০০ এর বেশি প্রাণী।

প্রাপ্তি ফলাফলে এমন একটি তথ্যও দেয়া হয়েছে, যেটাই মূলত অবাক করে দেবে আপনাদের। তাই দেরি না করে চলুন জেনে আসি কী ছিল তাদের এই গবেষণার ফলাফল-

যে সব পুরুষে নারীরা পাগল, তারা দেখতে যতটা আকর্ষণীয় হউক না কেন, তাদের অণ্ডকোষ সাইজে নাকি ছোট হয়, এমনটা জানিয়েছে প্রসিডিংস অব দ্যা রয়াল সোসাইটি বি জার্নাল।

তাদের প্রকাশিত এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ হিসেবে আমাদের প্রজাতিটি ‘প্রাইমেট’ বর্গের অন্তর্ভুক্ত। (প্রাইমেট হল যে বর্গে আছে বিভিন্ন ধরনের বানর, গরিলা, হনুমান) ইত্যাদি।

তবে আকর্ষণীয় পুরুষরা এমন হবে কেন? তাদের এই ধরণের ঘাটতি থাকবেই বা কেন? তার উত্তর মিলেছে এই গবেষণায়। তথ্য বলছে, আসলে কিন্তু বিবর্তনের দিকে থেকেই এসেছে এ বৈশিষ্ট্যটি।

তার কারণ, যাদের অণ্ডকোষ বড়, তাদের যদি চেহারাটাও আকর্ষণীয় হয়; তাহলে সব দিক থেকে ফিট হয় সে পুরুষটি। তাই যে পুরুষ আকর্ষণীয়, তার অণ্ডকোষ ছোট হয়।

আবার যে পুরুষ আকর্ষণীয় নয়, তার অণ্ডকোষ বড় হয়। অর্থাৎ যাতে সব পুরুষদের নারীরা পাত্তা দেন, তাই নাকি এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রসিডিংস অব দ্যা রয়াল সোসাইটি বি জার্নালের গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, প্রাইমেট বর্গের (বানর, গরিলা, হনুমান জাতের) প্রাণীদের মাঝে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘সেক্সুয়াল কম্পিটিশন’। আর এই কারণে বিবর্তনের ধারায় পুরুষ প্রাইমেটদের মাঝে শারীরিক বিভিন্ন ‘অর্নামেন্ট’ বা আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

যেমন, ওরাংওটাংয়ের মুখের কিছু বৈশিষ্ট্য, প্রোবোসিস মাংকির বড়সড় নাক, এমনকি তাদের দাড়ি—এ সবই নিজ প্রজাতির নারীকে আকর্ষণ করার জন্য এসেছে। আর এই কারণে রূপ না দেয়া হলেও অন্যান্য কিছু সৌন্দর্য তাদের দেয়া হয়েছে।

তবে এই গবেষকরা আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এবং অণ্ডকোষের আকৃতির মাঝে কোনো যোগসূত্র আছে কি না? তা খতিয়ে দেখার জন্য মানুষসহ আরো ১০৩টি প্রজাতির প্রাইমেটের তথ্য নেন। সেখানে দেখা যায়, যাদের শরীর বিশেষ করে মুখে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য আছে, তাদের অণ্ডকোষ ছোট হয়। অর্থাৎ যারা দেখতে সুন্দর, তাদের অণ্ডকোষ তুলনামূলক ছোট।

গবেষকরা আরো বলেছেন, যে সব প্রাইমেট পুরুষ দেখতে সুদর্শন, তারা এমনিতেই নারী সঙ্গী পেয়ে যায়। ফলে তাদের শুক্রাণু উৎপাদনে বেশি কষ্ট করতে হয় না, তাই তাদের অণ্ডকোষ ছোট হয়। আর অনায়াসে সব কিছু মিলে যায় বলে অণ্ডকোষের দিকে গুরুত্বই দেয় হয় না।

অন্যদিকে যেসব প্রাইমেট দেখতে আকর্ষণীয় নয়, তাদের বংশবিস্তারের সুযোগ বেশি থাকার জন্য একবারের বেশি পরিমাণে শুক্রাণু নিঃসরণ করার দরকার হয় এবং এ কারণেই তাদের অণ্ডকোষ বড় হতে দেখা যায়। অর্থাৎ তারা দেখতে সুদর্শন নয় বলে বংশ বিস্তারের সময় তাদের অনেক মনোযোগী হতে হয়। ফলে শুক্রাণু নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের অণ্ডকোষ বড় হয়।

তবে এই নয় শুধু; গবেষণা করতে গিয়ে আরো দেখা গেছে, যেসব প্রাইমেট পুরুষের ক্যানাইন দাঁত বড় হয় (অর্থাৎ সে মারামারি করতে গিয়ে বেশি সুবিধা পায়) তার অণ্ডকোষও বড় হয়।

এই গবেষণার লেখক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের স্টেফান লুপোল্ড। তিনি পরিশেষে জানান, এককথায় বলতে গেলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষের অণ্ডকোষ ছোট হয়। আর অসুন্দর পুরুষেরটা বড় হয়।

বিশ্বের যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্ন কিছু কারণে বিখ্যাত

আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তার ভবনের স্থাপত্য কলা, শিক্ষাগত অর্জন, কিম্বা ক্যাম্পাসের আনন্দ-মুখর দিনগুলো - এসবই আপনার সারা জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় কিম্বা সুখকর স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে।
ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি যে ডিগ্রি নিচ্ছেন সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস, পড়াশোনার পরিবেশ এসবও আপনার জীবনের নানা পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে।
সবসময় এগুলোর বিশেষ একটি তাৎপর্য আছে আপনার বাকি জীবনে।
কিন্তু কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলো বিশেষ কিছু কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে আবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভৌগলিকভাবে এমন এক জায়গায় অবস্থিত যা হয়তো একটু কল্পনা করাও কঠিন।
এখানে এরকম কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা তুলে ধরা হলো:

সবচেয়ে প্রাচীন

পৃথিবীতে জ্ঞান চর্চা কবে থেকে শুরু হয়েছিল তার কোন দিন তারিখ উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে কোথায় কোথায় মানুষ জ্ঞানের ব্যাপারে কৌতূহলী ছিল সেসব জায়গার কথা হয়তো আমরা উল্লেখ করতে পারি।
মরক্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফেজ শহরে ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কারুয়েন বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানেও এটি চালু আছে।
বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির একটি ছবি। ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় এটি
গিনেস রেকর্ড বুকেও এটি এই পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।
এর ২০০ বছর পর ১০৮৮ সালে ইটালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর বোলোনিয়াতে চালু হয়েছিল বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ধারণা করা হয় এটি ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।
আর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এটি চালু হয়েছিল ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে।
তবে এটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই দিন তারিখ এখনও স্পষ্ট নয়।
এখনও পর্যন্ত ব্রিটেনের ২৮ জন প্রধানমন্ত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
তাদের মধ্যে সবশেষ হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আর্ল অফ উইলমিংটন, ১৭৪২ সালে।

সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী

জনসংখ্যার হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। লোকসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি।
এই হিসেবে ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করবেন সেটা হয়তো কারো কাছেই বিস্ময়কর মনে হবে না।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে।
এর উদ্দেশ্যই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা যা দূর-শিক্ষণ বলে পরিচিত।
ভারতের একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রীর নামেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে যে তথ্য পাওয়া যায় সে অনুসারে ২০১৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল ৩০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। ভারত ছাড়াও সারা বিশ্ব থেকেই শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করেন।
কেউ কেউ অবশ্য বলে থাকেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখের মতো। কিন্তু এই দাবি সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তারপরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ যার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২১ লাখের মতো।

সবচেয়ে ধনী

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বা সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত।
২০০৯ সালের হিসেবে অনুসারে ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ২৬০০ কোটি ডলার।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সবচেয়ে বেশি অর্থসমৃদ্ধ
সাধারণত ব্যক্তি পর্যায়ে এই পরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দান করা হয়েছিল ভবিষ্যৎ প্রকল্প কিম্বা বৃত্তি চালু করার উদ্দেশ্যে।
আন্তর্জাতিক সুনামের কারণে সারা বিশ্ব থেকেই প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জন এফ কেনেডি, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।

সবচেয়ে অদ্ভুত স্থানে

এরকম একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইসল্যান্ডের বিফ্রস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।
এটি এমন একটি উপত্যকায় অবস্থিত যেখানে গ্রাব্রক আগ্নেয়গিরি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দ্রুত হেঁটে গেলে শিক্ষার্থীরা প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে এর চূড়ায় উঠে আবার নেমে আসতে পারেন।
এই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখও সেখানে অবস্থিত যা দেখতে সেখানে দর্শনার্থীরাও যেতে পারেন।
ব্যবসা, আইন ও সমাজ বিজ্ঞান পড়ার জন্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচিত। এটি রাজধানী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে।

সবচেয়ে উঁচুতে

চিলির আতাকামা বিশ্ববিদ্যালয় ওজোস ডেল সালাদো আগ্নেয়গিরির ওপর একটি গবেষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আগ্নেয়গিরির এই জ্বালামুখের কাছে আইস্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়
সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এটি ৫,১০০ মিটার উঁচুতে। আর্জেন্টিনা সীমান্তের কাছে।
যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এই পৃথিবীতে এটিই হবে সবচেয়ে উঁচু জায়গায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়।
আগ্নেয়গিরিটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ফলে ভূতত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা এসব বিষয়ে পড়াশোনার জন্যে এটি হবে আদর্শ একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
এখানে সবশেষ অগ্নুৎপাত হয়েছিল ৭০০ খ্রিস্টাব্দে।
১৯৯৩ সালেও এখান থেকে গ্যাস ও ছাই নির্গত হয়েছে।
বর্তমানে সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি নেপালে। নাম পিরামিড ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি। কিন্তু চিলির গবেষণাগারটি হবে এর চেয়েও ৫০ মিটার উঁচুতে।

উপমহাদেশের প্রথম হাদিস শিক্ষা কেন্দ্র সোনারগাঁয়ে by ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শেখ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহঃ) ছিলেন ইয়েমেনের অধিবাসী। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা তার সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর পর থেকে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে যে সকল অলি-আউলিয়া, পীর-দরবেশ, সুফি-সাধক, ধর্ম-প্রচারক ও আধ্যাত্মিক সাধক এসেছেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
গিয়াসউদ্দিন বলবনের আমলে শেখ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ১২৭৭ সালে দিল্লিতে আগমন করেন। তার মতো আল্লাহর ওলির আগমনে সকলে তার দরবারে ভিড় জমাতে থাকলে শায়খের জনপ্রিয়তা এক সময় বাদশার প্রসিদ্ধি ও প্রভাবকেও অতিক্রম করে।
তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে গিয়াসউদ্দিন বলবন আবু তাওয়ামাকে অনুরোধ করে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। আবু তাওয়ামা তদানীন্তন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে এসে ধর্মপ্রচার শুরু করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এসে বর্তমান মোগরাপাড়া দরগাবাড়ী প্রাঙ্গণে একটি বৃহৎ মাদ্রাসা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী গড়ে তোলেন। বর্তমানে মাদ্রাসাটির কর্যক্রম নেই এবং এর অবকাঠামোর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
হাদিস ও ইসলামী আইনশাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি ভেষজশাস্ত্র, গণিত, ভূগোল এবং রসায়নশাস্ত্রের একজন পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। ফলে তার প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরীটি ছিল বেশ আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী। গবেষকদের মতে তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাই ছিলো উপমহাদেশের ইলমে হাদিসের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে জ্ঞান অর্জন করতে আসা এ মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা ছিলো ১০ হাজার।
তিনি এখানে দীর্ঘ ২৩ বছর হাদিসের পাঠ দিয়েছিলেন। এখানে একটি খানকাও প্রতিষ্ঠা করেন। ‘মানজিলে মাকামাত’ নামে তাসাউফ সর্ম্পকে তার একটি লিখিত বই আছে।
এছাড়াও সোনারগাঁয়ের এ বিদ্যাপীঠে অবস্থানকালে শায়খ ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ফিকাহ্ বিষয়ক যেসব বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সেগুলোর সংকলনে ফার্সি ভাষায় রচিত ‘নামায়ে হক’ একটি কাব্যগ্রন্থের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে ১৮০টি কবিতা আছে। কেউ কেউ তা ‘মসনবী বনামে হক’ নামে অভিহিত করেছেন। গ্রন্থটি ১৮৮৫ সালে বোম্বাই থেকে এবং ১৯১৩ সালে কানপুর থেকে প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, ব্রিটিশ জাদুঘরের আর্কাইভ ভবনে শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার লিখিত পান্ডুলিপির অস্তিত্ব রক্ষিত আছে।
তার প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসাই উপমহাদেশের ইতিহাসে হাদিসের আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু করেছে।
বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা তার লেখা, ‘রেহালায়ে এবনে বতুতায়’ এই ঐতিহাসিক মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করেন।
সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিনি উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে কালজয়ী হয়ে থাকবেন। শায়খ আবু তাওয়ামা হিজরী ৭০০ মোতাবেক ১৩০০ খ্রীস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
বর্তমানে মহান এ ধর্ম প্রচারকের মাজারটি সোনারগাঁয়ের দরগাবাড়ী গেলে দেখা যায়। পাশাপাশি ছয়টি মাজারের মধ্যে সবুজ রং করা মাজারটি শায়খের।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মাজার দেখতে আসেন শিক্ষানুরাগী ও শায়খের ভক্তবৃন্দ। ধারণা করা হয় তার পাশের পাঁচটি মাজার তার শিষ্য কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষকদের। ১৯৮৪ সালে ইসলামী দার্শনিক ও চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহঃ) হিন্দুস্তান থেকে সোনারগাঁয়ে এসে শায়খের কবর জিয়ারত ও মুনাজাত করেন। এবং মাজার থেকে অল্পদূরে ভাগলপুর এলাকায় শায়খ শরফুদ্দিনের স্মৃতি রক্ষার্থে ‘মাদ্রাসাতুশ শরফ আল ইসলামিয়া’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যা বর্তমানে সোনারগাঁয়ে ইসলামী শিক্ষার জ্যোতি ছড়াচ্ছে।

ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছিল যেভাবে

ভারতের রাজনীতিতে এক প্রধান শক্তি হিসেবে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি-র অবস্থান সুসংহত হয়েছিল 'রথ যাত্রা' নামে এক কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে। এটি ছিল যাকে বলা হয় এক পরিকল্পিত 'রাজনৈতিক নাটক' - যার লক্ষ্য ছিল ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণের মনে বিজেপির রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করা।
এই রথযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছিল জঙ্গী হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এক প্রচারমূলক মিছিল হিসেবে। এর সংগঠক ছিলেন বিজেপির নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এটা চলবে কয়েক সপ্তাহ জুড়ে এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গা হয়ে মোট ৮ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পবিত্র শহর অযোধ্যা পর্যন্ত যাবে।
এই রথ যাত্রার মূল দাবি ছিল অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে জনমত সংগঠিত করা। অযোধ্যা শহরের যে জায়গায় এই রামমন্দির নির্মাণের কথা বলা হয়, সেখানেই দেবতা রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করে। কিন্তু সেখানে মোগল সম্রাট বাবর ষোড়শ শতাব্দীতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন - যার নাম বাবরি মসজিদ এবং এ কারণে জায়গাটি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের কাছেও পবিত্র।
পরিকল্পনা করা হয়, রথযাত্রা অযোধ্যায় পৌঁছানোর পর মি. আদভানি সেই বিতর্কিত স্থানটিতে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সে সময় সাংবাদিক হিসেবে সেই রথযাত্রা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আর কে সুধামন। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তার পর থেকে কিভাবে বিজেপির উত্থান হয়েছে তাও দেখেছেন তিনি। তিনি কথা বলেছেন বিবিসির ফারহানা হায়দারের সাথে।
মি. সুধামন তখন কাজ করতেন সংবাদ সংস্থা পিটিআইতে। পিটিআই সেই ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রথযাত্রা কভার করতে পাঠিয়েছিল তাকে, এবং গুজরাটের সোমনাথ শহর থেকে যখন এই মিছিল শুরু হয়, সেদিন থেকেই সেই রখযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি।
"বিজেপির তখন এমন একটা রাজনৈতিক আইডিয়ার দরকার ছিল যাতে দলটি টিকে থাকতে এবং বিকশিত হতে পারে। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের এই কর্মসূচি শুরু করা ছিল মি. আদভানির দিক থেকে এক মাস্টারস্ট্রোক। এর লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় যাবার জন্য ভারতের হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনা" - বলছিলেন মি. সুধামন।
রথযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন মি. আদভানি তিনি বসেছিলেন একটি ট্রাকে যাকে সাজানো হয়েছিল প্রভু রামচন্দ্রের রথের আকার দিয়ে।
ভোট পাবার জন্যই কি বিজেপি এভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছিল? প্রশ্ন করা হলে মি. সুধামন বলেন, "হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। এটাই ছিল তাদের রাজনীতির প্রধান অবলম্বন।"
"মি. আদভানির ট্রাকটি বানানো হয়েছিল একটি রথের মতো করে। এর মধ্যে ছিল সবরকম সুযোগ সুবিধা। ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষ - যাতে মি. আদভানি জনসভার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নিতে পারতেন।"
"রথের সামনের দিকটা ছিল খোলা, যেখানে এসে মি. আদভানি জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারতেন।"
"একটা প্রাচীন যুগের রথের আকৃতিতে বানানো টয়োটা ট্রাকটি দেখতে হয়েছিল বেশ অন্যরকম। এটা সাজানো হয়েছিল রামের ছবি এবং গেরুয়া রঙ দিয়ে - যা বিজেপির রঙ। ফলে ট্রাকটার একটা পৌরাণিক চেহারা ছিল, তবে ভেতরে ছিল সব আধুনিক সুযোগ সুবিধা।"
১৯৯০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর এই রথযাত্রা শুরু হয়েছিল। যাত্রা শুরুর আগে মন্দিরে পূজো দেন এল কে আদভানি।
আদভানির সাথে এই রথযাত্রায় ছিলেন বিজেপির বেশ কয়েকজন সদস্য - যার মধ্যে ছিলেন উদীয়মান তারকা এবং মি. আদভানির অনুসারী নরেন্দ্র মোদী। সারা দিন ধরে সেই রথের পেছনে পেছনে চলতো মি. সুধামন সহ একদল সাংবাদিককে বহনকারী যানের বহর।
"যখনই আমরা কোন শহরে পৌঁছাতাম, রথের গতি হয়ে যেতো খুবই ধীর। চারপাশে লোকের ভিড় জমতো, তারা রথের সাথে সাথে হাঁটতে থাকতো। রখটা মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় থামতো, এবং মি. আদভানি বক্তৃতা দিতেন।"
"মি. আদভানির বক্তৃতা ছিল মূলত রামমন্দির এবং কেন এই মন্দির বানাতে হবে - তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।"
বিজেপির হিন্দু নেতারা বলতেন, ভারতে তাদের ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতার নামে খুব বেশি মাত্রায় আপোষ করা হয়েছে। তারা বলতেন, এখন সময় এসেছে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কথা বলার ।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ বিজেপি অস্বীকার করতো, কিন্তু তাদের জনসভাগুলো থেকে লোকেরা ঠিক এই বার্তাটি নিয়েই ঘরে ফিরতো।
কেমন সাড়া ফেলেছিল এই রথযাত্রা?
মি. সুধামন বলেন, এটা আসলেই বিপুল সাড়া ফেলেছিল। এতে জনসমাগমও হয়েছিল ব্যাপক।
"এই প্রতিক্রিয়া ছিল স্বাভাবিক, এতে সাজানো কিছু ছিল না। আমি কিছু মহিলাকে দেখেছি, তারা হাতের বালা খুলে আদভানির পায়ের কাছে রেখে বলেছিল, এ থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ব্যবহার করতে।"
"যতই দিন যাচ্ছিল, রথযাত্রা ততই জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল এবং জনসমাগমও ক্রমাগত বাড়ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছিল যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এবং এই যাত্রার মধ্যে দিয়ে মি. আদভানি তার পার্টির পক্ষে জনসমর্থনকে সংহত করতে পেরেছেন। "
এত লোকসমাগম দেখে কি তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন? মি. সুধামনকে এ কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন "হ্যাঁ, এটা সত্যি অপ্রত্যাশিত ছিল, এতে কোন সন্দেহ নেই। এর আগে একমাত্র ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর মতো নেতাদের পক্ষেই এরকম জনসমাগম ঘটানো সম্ভব ছিল।"
প্রতিদিন ১২ ঘন্টা ধরে উত্তর ও মধ্য ভারতের মধ্যে দিয়ে পথ পরিভ্রমণ করে এই রথযাত্রা। এই অঞ্চলটিকে বর্ণনা করা হয় ভারতের 'হিন্দু হার্টল্যান্ড' হিসেবে। এ অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোর হাজার হাজার লোক মি. আদভানির বক্তৃতা শুনতে রথযাত্রার পথে জড়ো হয়।
মনে করা হয়, অযোধ্যায় প্রবলভাবে বিতর্কিত রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পথে এই যাত্রা ভারতের আন্ত:ধর্মীয় উত্তেজনাকে উস্কে দিচ্ছিল।
"ভারতের মধ্যঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল। আদভানির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণে তিনি যখন বিহারের সমস্তিপুর পৌঁছালেন, তখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তাকে গ্রেফতার করলেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছিল, মি. আদভানিকে গ্রেফতার করা ছাড়া তাদের সামনে কোন উপায় ছিল না। কারণ তার এই যাত্রা সহিংসতা উস্কে দেবে এ আশংকা আগে থেকেই ছিল, কারণ একটি ধর্মীয় বিষয়কে এখানে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হচ্ছিল এবং দক্ষিণপন্থী হিন্দু মৌলবাদী বিজেপির এই নেতা সে কাজটিই করছিলেন।
রামমন্দির নির্মাণ আন্দোলনের নেতা মি. আদভানি ও তার হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেফতার করা হলো। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভি পি সিংএর কোয়ালিশন সরকারের প্রতি সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি।
ভারত পতিত হয় এক রাজনৈতিক সংকটে।
এর ফলে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯১ সালেই অনুষ্ঠিত হলো লোকসভা নির্বাচন, এবং তাতে বিজেপির আসনসংখ্যা অনেক বেড়ে গেল।
সাংবাদিক আর কে সুধামন মনে করেন, বিজেপি হয়তো আরো বেশি আসনে জিততো যদি কংগ্রেস নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় নিহত না হতেন।
"যদি রাজীব গান্ধী নিহত না হতেন তাহলে বিজেপি হয়তো আরো বেশি আসনে জিততো। কারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই পর্বে। আর তাতে প্রধান ইস্যুই ছিল রাম মন্দির নির্মাণ।"
"উত্তর ভারতে জনমত জরিপে বিজেপিই এগিয়ে ছিল। কিন্তু যেহেতু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই পর্বে - তাই প্রথম পর্বে যে আসনগুলোতে ভোটগ্রহণ হয়েছিল সেগুলোতে বিজেপি প্রায় একচেটিয়া বিজয় পায়। আর দ্বিতীয় পর্বের ভোট হয়েছিল রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের পর - সেগুলোতে কংগ্রেস অনেক বেশি আসন পায়। ফলে তারাই সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।"
এই রথযাত্রার ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু করসেবকরা বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়। ধর্মীয় সহিংসতার কারণে ভারতে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার লোক নিহত হয়।
আর কে সুধামন বলছিলেন, তার মতে ১৯৯০ সালের সেই রথযাত্রা ভারতের রাজনীতিকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়।
"এটা ছিল এক কর্মসূচি যা আগেকার সব রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ পাল্টে দেয়, এবং বিজেপির পক্ষে নিজেদের দলকে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।"
"আজ বিজেপি যে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার মূলে রয়েছে সেই রথযাত্রা। এর ফলেই তারা পরিণত হয়েছিল প্রথমে প্রধান বিরোধীদলে, এবং তার পর ক্ষমতাসীন দলে। নিশ্চয়ই এ দলটিকে গড়ে তোলার কৃতিত্ব মি. আদভানির এবং কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।"
"এতে কোন সন্দেহ নেই যে বিজেপি রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটিয়ে জনগণকে দুভাগ করে ফেলেছে। তবে এটাও ঠিক যে দেশ হিসেবে ভারতের মানুষের মধ্যে মোটামুটিভাবে একটা সহনশীলতা রয়েছে।"
বিজেপি ভারতে প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে, এবং তার পর থেকে তারা একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে।
সূত্র : বিবিসি।
বাবরি মসজিদ ভাঙার পর সারা ভারত জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ২ হাজার লোক নিহত হয় - সংগৃহীত

কানে পানি ঢুকলে কি করবেন?

গোসলের সময় সতর্ক থাকলেও অনেক সময়েই শরীরে পানি ঢালার তোড়ে কানের ভিতর পানি ঢুকে যায়। অল্পস্বল্প পানি ঢুকলে অত অসুবিধা হয় না। কিন্তু অনেকটা পানি ঢুকে গেলে সারা দিন থাকে অস্বস্তি। বহু চেষ্টাতেও সেই পানি বার করা যায় না। কান বন্ধ হওয়া থেকে কানে যন্ত্রণা তো রয়েইছে, এমনকি পানির পরিমাণ বেশি হলে কান থেকে রক্ত বার হওয়া, পুঁজ ইত্যাদির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
“কানে পানি ঢুকলে খানিকটা চেষ্টা করে তা না বেরলে অনেকেই সেই শারীরিক অসুবিধা নিয়ে কাটিয়ে দেন দিনের পর দিন। শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় কান থেকে সেই পানি বেরিয়ে যাবে ধরে নিয়েই অপেক্ষা করেন। কম পানি ঢুকলে যাও বা এই অভ্যাস মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু পরিমাণে বেশি পানি ঢুকলে তার জন্য কোনও চিকিৎসা বা চেষ্টা না থাকলে বধিরতাও আসতে পারে কিন্তু!’’ —সাবধান করলেন চোখ-কান-গলার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক শীর্ষক দত্ত।
তবে সব সময় কি কিছু হলেই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়? চিকিৎসকদের পরামর্শ, তেমন পরিস্থিতি এলে বা চিকিৎসকদের কাছে আসার আগে কিছুটা আরাম বোধের জন্য অবশ্য বাড়িতেই চেষ্টা করুন কানের পুরো পানি বার করে দিতে। কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব, জানেন?
- কানে অল্প পানি ঢুকলে চুইংগাম চিবোন।
দাঁত, মাড়ি ও কানের পাশের পেশীগুলির ওঠাপড়ায় কানের পানি বেরিয়ে আসবে।
- কানের পানি বার করার সবচেয়ে সহজ উপায় স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে তা বার করে ফেলা। পানি ঢুকলে একটা লম্বা শ্বাস নিন। এ বার দু’আঙুলে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে সেই অবস্থাতেই শ্বাস ত্যাগ করতে চেষ্টা করুন। এই পদ্ধতি বার কয়েক অবলম্বন করলেই কান থেকে পানি বেরিয়ে যাবে সহজে।
- বাড়িতেই চেষ্টা করুন আর এক নিরাপদ পদ্ধতি। যে কানে পানি ঢুকেছে সে দিকে মাথা কাত করুন। এ বার সেই দিকের হাতের তালু পানি  ঢোকা কানের উপরে রেখে জোরে চাপ দিন। চাপ দিয়ে সরিয়ে নিন হাত। এতে কিছুটা পানি  বেরিয়ে আসবে। বার কয়েক এমন করতে করতেই কানের সিংহভাগ পানিই  বেরিয়ে আসে।
তবে এতেও সমাধান না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছেযান। কোনও রকম বাজারচলতি কানের ড্রপ এই অবস্থায় দেবেন না। বরং চিকিৎসকেরপরামর্শ মেনে ওষুধ ও ড্রপ ব্যবহার করুন।
সুত্র- আনন্দবাজার

একজন রক্তের ফেরিওয়ালা by জহিরুল ইসলাম

ইউনিভার্সেল কামাল। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারার মরহুম ডা. আবদুল মবিনের তৃতীয় সন্তান। চিকিৎসক পিতার আদর্শকে লালন করে তিনি প্রায় তিন যুগ ধরে মানবসেবায় কাজ করে আসছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ আন্দোলন, খেলাধুলা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পৃক্ত। ৫৩ বছর বয়সে নিজে রক্ত দিয়েছেন ৫৬ বার। শুধু নিজের শরীর থেকে রক্ত দেয়ার মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি, অন্যের জীবন বাঁচাতে রক্ত সংগ্রহ করতে গড়ে তুলেছেন সামাজিক সংগঠন ‘উদ্দীপন’। নিজের প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনে রক্ত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন লালমাই, লাকসাম, বরুড়া, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কর্মীরা প্রচারণার কাজ করে থাকেন।
ফেসবুকে রয়েছে উদ্দীপনের ৩৫ হাজার ফলোয়ার। সংগঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত তিন সহস্রাধিক নারী-পুরুষকে রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন। রক্তের জরুরি এ সেবা দিয়ে এলাকায় তিনি রক্তের ফেরিওয়ালা, মানবতার ফেরিওয়ালা ও রক্ত কামাল হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসী বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা তামান্না বলেন, মৃত্যুর আগে আমার দাদাকে ১৩ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। এর মধ্যে উদ্দীপনই ৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছে। এরপর থেকে আমি নিজেও রক্ত দিই ও রক্ত সংগ্রহে কাজ করি।
উদ্দীপনের প্রতিষ্ঠাতা ইউনিভার্সেল কামাল বলেন, আমার বাবা চিকিৎসক হিসেবে জনসেবা করেছেন। আমি একজন ব্যবসায়ী। যেহেতু আমি চিকিৎসক নই, তাই রক্ত দিয়েই মানবসেবা করে যাচ্ছি। রক্তের পাশাপাশি আমি সন্ধানীকে আমার মরণোত্তর দুটি চক্ষুও দান করে দিয়েছি। মানবসেবার এ যাত্রায় আমার স্ত্রী সন্তানরা আমাকে বেশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। লালমাইয়ের বাসিন্দা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান’ এই মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে ইউনিভার্সেল কামাল ছাত্রজীবন থেকেই মহৎ কাজটি করে যাচ্ছেন। তার কাজের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম অনুপ্রেরণা পাবে। লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম ইয়াসির আরাফাত বলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রক্তদাতাদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। ডাটাবেজ থেকে যে-কেউ রক্ত সংগ্রহ করতে পারবেন। লালমাইয়ের বাসিন্দা ইউনিভার্সেল কামাল দীর্ঘদিন ধরে রক্ত নিয়ে কাজ করে আসছেন। তার এই মানবসেবায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।

শিশুদের স্থূলতা ও বিষণ্ণতা হাতে হাত ধরে চলে, বলছে গবেষণা

স্থূলতার শিকার সাত বছরের শিশুরা রাগ এবং গুটিয়ে রাখার মতো আবেগ তাড়িত সমস্যায় ভোগার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা বলছে।
লিভারপুল গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং পুরো শৈশব জুড়ে এটি বাড়তে থাকে।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি আবেগজনিত সমস্যায় ভোগে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
যদিও ঠিক কী কারণে এটি ঘটেছে, তা এই গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তবে দরিদ্রতার কারণে উভয় সমস্যা বেড়ে যায় বলে তারা বলছেন।
গ্লাসগোয় ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন ওবেসিটিতে (ইসিও) এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
যুক্তরাজ্যে ২০০০ এবং ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া ১৭ হাজারের বেশি শিশুর ওপর গবেষণা করা হয়। সেখানে পরিসংখ্যানগত মডেলিং করে স্থূলতার সঙ্গে মানসিক সমস্যার সম্পর্কের বিষয়টি যাচাই করা হয়।
শিশুদের উচ্চতা ও ওজনের বাইরে তাদের তিন, পাঁচ, সাত, ১১ এবং ১৪ বছর বয়সের আচরণ সম্পর্কে অভিভাবকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তবে সাত বছরের কম শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা পাওয়া যায়নি।

'খাবার কম খেলেই সমাধান নয়'

ইউনিভার্সিটি অফ লিভারপুলের জ্যেষ্ঠ মনোবিদ্যা প্রভাষক ড. শার্লট হার্ডম্যান বলেছেন, গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন যে, শৈশব জুড়ে স্থূলতা এবং আবেগজনিত সমস্যা যেন 'হাতে হাত ধরে' বেড়ে ওঠে।
যারা সন্তানদের স্থূলতা জনিত বিষয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বলছেন।
''অনেকে মনে করেন, কম খেলে এবং বেশি পরিশ্রম করলেই এটা সমাধান হয়ে যাবে-কিন্তু এটা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল,'' বলছে ড. হার্ডম্যান।
''স্থূলতা এবং আবেগজনিত সমস্যা একটি অন্যটির সঙ্গে মিশে আছে।''
তিনি বলছেন, এখন এটা সবাই জানে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে স্থূলতা এবং মানসিক সমস্যার যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু একই বিষয় দেখা যাচ্ছে শিশুদের ক্ষেত্রেও।
''সাত বছর বয়স থেকে মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্থূলতা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।''
যেহেতু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেড়ে যায়, তাই এর কারণ বের করা জরুরি বলে গবেষকরা বলছেন। কারণ এর ওপর নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের বিষয়টি, তিনি বলছেন।
যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা বলছে, স্থূলতার শিকার সাত বছরের শিশুরা আবেগজনিত সমস্যায় ভুগে থাকে (প্রতীকী ছবি)