Wednesday, February 17, 2016
হেলাল আহমদ চৌধুরী পুনরায় পূবালী ব্যাংকের এমডি হয়েছেন
এর আগে হেলাল আহমদ চৌধুরী এ ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পূবালী ব্যাংকে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে তাঁর ব্যাংকিং কর্মজীবন শুরু করেন। ৩৪ বছরের কর্মজীবনে তিনি এ ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, করপোরেট শাখাপ্রধান, প্রিন্সিপাল শাখার মহাব্যবস্থাপকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
হেলাল আহমদ চৌধুরী যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত ও নেপালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে যোগ দেন। তিনি পূবালী ব্যাংক লিমিটেড স্বর্ণপদক লাভ করেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ খারাপ হলো কিভাবে? by আলফাজ আনাম
বাংলাদেশে পুলিশবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। পুলিশ সদস্যদের অপরাধের সংখ্যা ও মাত্রা দিন দিন বাড়ছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। আবার পুলিশের অনেক সাফল্যও আছে। সেসব সাফল্যর খবর খুব একটা গুরুত্বের সাথে প্রচার পায় না। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পুলিশের স্পর্ধা বেড়ে গেছে এবং তারা বাড়াবাড়ি করছে বলে যে মন্তব্য করেছেন তাতে পুলিশের ওপর তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর আগে পুলিশের প্রবল প্রতাপশালী কর্মকর্তা বেনজীর আহমদের সাথে ড. মিজানুর রহমানের বাগ্যুদ্ধ হয়েছে। এসব কারণে পুলিশের ওপর তার খানিকটা রাগ-ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে কি পুলিশের বাড়াবাড়ি ঠেকানো যাবে?
আমরা দেখছি গত কয়েক সপ্তাহে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির জন্য নির্যাতন এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ বড় ধরনের কিছু অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীকে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় পুলিশ আটক করে। তার কাছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি তা দিতে অস্বীকার করলে তার পকেটে ইয়াবা ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র দাসকে বেধড়ক পেটায় পুলিশ। ৩১ জানুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্তা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ৩ ফেব্রুয়ারি। এক চা দোকানি চাঁদা না দেয়ায় গরম কেটলি তার দিকে ছুড়ে মারা হয়। গরম পানিতে পুড়ে মারা যান চা দোকানি বাবুল মাতব্বর। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভাষায় বলতে হয়, পুলিশের আগুন সন্ত্রাসে এক নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়।
পুলিশের এসব অমানবিক ঘটনায় নিঃসন্দেহে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি সাংবিধানিক পদে আসীন আছেন। মানবাধিকার রক্ষার মহান দায়িত্ব তার কাঁধে। তিনি অবশ্যই কঠোর ভাষায় যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিন্দা জানাবেন। যে বা যারা এর সাথে জড়িত থাকবে তাদের অন্যায় কাজের তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু শুধু পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে সস্তা বাহাবা নেয়ার চেষ্টা নিশ্চয়ই তার কাজ নয়। মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের এখন খুঁজে বের করতে হবে পুলিশ কেন চাঁদার দাবিতে এমন অন্যায় কাজ করছে। পুলিশ কেন এতটা নির্মম হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ আছে; কিন্তু এত নির্মম তো পুলিশ ছিল না। কেন পুলিশ এতটা নির্মম হচ্ছে। পুলিশকে কারা এবং কিভাবে দানবে পরিণত করছে। ফলে পুলিশের অনেক ভালো কাজের সাফল্য এখন কেন ঢাকা পড়ছে?
পুলিশের অর্থ আদায়ের জন্য এই নির্মমতার মূলে রয়েছে নিয়োগের শুরুতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অবাধ লাইসেন্স দেয়া। পুলিশের কনস্টেবল থেকে সাব ইন্সপেক্টর পর্যন্ত প্রতিটি পদে নিয়োগের জন্য ঘুষ নেয়া এখন ওপেন সিক্রেট। পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের যোগসাজশে এসব নিয়োগ হয়ে থাকে। সম্প্রতি সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন পুলিশ হতে হলে ১০ লাখ এবং স্কুলশিক্ষক হতে হলে পাঁচ লাখ টাকা লাগে। একজন পুলিশ কনস্টেবল বা এসআই যদি ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিয়ে থাকে, স্বাভাবিকভাবে তিনি আগে এই ১০ লাখ টাকা রোজগারের চেষ্টা করবেন। বেতন থেকে তো আর ১০ লাখ টাকা জমানো যাবে না! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, নিয়োগের জন্য যেখানে ঘুষ দিতে হচ্ছে সেখানে ঘুষ না খাওয়ার বা অন্যের কাছ থেকে জবরদস্তিমূলক অর্থ আদায় না করার নৈতিক অবস্থান আর এই পুলিশ সদস্যদের থাকছে না। ফলে গোড়ায় যে গলদ তৈরি হয়েছে তার কুফল ধীরে ধীরে পুরো বাহিনীকে গ্রাস করেছে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের উচিত প্রথমে পুলিশ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবি করা। তিনি জোরালোভাবে পুলিশ নিয়োগে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বন্ধের দাবি জানাতে পারেন আর এ মাধ্যমে কেবল পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে। চাকরি যদি অনৈতিকভাবে শুরু হয় তাহলে কোনোভাবেই একজন পুলিশ সদস্যের কাছে নৈতিক আচরণ আশা করা যায় না।
![]() |
| প্রথম আলোর এক ফটোসাংবাদিকের ওপর পুলিশের কিল-ঘুষি |
রাজনৈতিক অস্থিরতার সে সময় গ্রেফতার, গুম আর পঙ্গু বাণিজ্যে পুলিশের নিম্নপর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতনপর্যায়ের বহু কর্মকর্তা কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন অনেক নেতাকর্মী পুলিশকে অর্থ দেয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে। এদের অনেকে জেল খেটে শেষ পর্যন্ত জামিনে বেরিয়ে এসেছে আবার কেউ কেউ এখনো জেলে আছেন। এই বাণিজ্যের ফলে পুলিশ সদস্যদের যে আয় বেড়েছিল তার ধারাবাহিকতা এখন আর নেই। স্বাভাবিকভাবে পুলিশকে তার আয়ের জন্য ভিন্ন পথ দেখতে হচ্ছে। টাকার চাহিদা তো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। ফলে পুলিশকে ব্যাংক কর্মকর্তা হোক বা চায়ের দোকানি হোক যেখানে টাকা পাওয়া যাবে সেখানে তারা যাবে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও আগামীতে পুলিশের চাঁদাবাজির শিকার হবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
পুলিশের এসব অত্যাচারের ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যেমন জানত তেমনি গণমাধ্যম কিংবা মানবাধিকার কমিশনেরও অজানা ছিল না। এভাবে বিচার ছাড়া মানুষকে হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার কমিশন তখন নিশ্চুপ ছিল। আর গণমাধ্যমের একটি অংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়নে পুলিশের এসব কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে। পুলিশকে যে আইনের মধ্যে থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে তখন গণমাধ্যমে কেউ সতর্ক করেনি, কোনো টকশো হয়নি। বরং পুলিশের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডকে বিশাল সাফল্য হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে পুলিশের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে পুলিশ। অবশ্য এই ধারণার বাস্তবতাও রয়েছে। কার্যত একদলীয় শাসনে সরকার এখনো পুরোপুরিভাবে পুলিশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে আমিই সরকার। যেমন একজন পুলিশ সদস্য বলেছেন দেশের রাজা পুলিশ। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের ভেতরে পুলিশ জবাবদিহিতাবিহীন আরেকটি রাষ্ট্র তৈরি করেছে। বিপজ্জনক দিক হচ্ছে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এখন তা ঢুকে পড়েছে। পুলিশ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। পুলিশের একাধিক সুপার মার্কেট গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সাথে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে পুলিশের পরিচালনায় ব্যাংক ও মেডিক্যাল কলেজ চালুর দাবি জানানো হয়েছে। একটি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা সংস্থান করতে পারলে পুলিশ ব্যাংক দেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আমরা জানি সশস্ত্রবাহিনী ব্যাংক, মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। সম্ভবত পুলিশও সশস্ত্রবাহিনীর মতো সুবিধা চাইছে। একই সাথে একধরনের প্রতিযোগিতার মনোভাবও কাজ করতে পারে। সশস্ত্রবাহিনীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। পাকিস্তান ও মিসরের মতো সেনাবাহিনী এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। পেশাদারিত্বের দিক থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। সশস্ত্রবাহিনীর এমন উদহারণ থাকলেও পুলিশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নজির বিশ্বে বিরল। কার্যত এভাবে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাব ও শক্তি বাড়ছে।
দুনিয়ার সব দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের প্রধান কাজ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধ দমন করা। পুলিশের কাজ মূলত সেবামূলক। এ কারণে উন্নত দেশগুলোতে পুলিশের সেবা দেয়ার দিকটি সব সময় গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশে পুলিশের কাজের পরিধি এখন ভিন্ন রকম হয়ে পড়ছে। পুলিশের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করা। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে প্রতিপক্ষ দমনের কাজ পুলিশ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। পুলিশ ক্ষমতাসীন দলকে সার্ভিস দিয়েছে। মানবাধিকার কমিশন ও সরকার সমর্থক গণমাধ্যম এখন পুলিশের কাছে সেবা চাইছে। কিন্তু এত দিন ক্ষমতাসীনেরা পুলিশের কাছ থেকে যে সেবা নিয়েছে সেই সেবার বিপরীতে এখন পুলিশের প্রতিদান পাওয়ার সময়। চা দোকানি বাবুল মাতুব্বর আর ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রব্বানিরাও সেই প্রতিদান দিচ্ছেন।
alfazanambd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়ঙ্কর নেশায় পথশিশুরা by আফরিন আপ্পি
পড়ন্ত
বিকাল। কয়েকটি পথশিশু গোল হয়ে বসে আছে হাইকোর্টের সামনে রাস্তার একপাশে।
সে জটলা থেকে ভেসে আসছে একটি গানের কলি। সুরেলা কণ্ঠে তারা গাইছে ‘নেশা
আমার পেশারে ভাই নেশা আমার পেশা’। কাছে যেতেই দেখা গেল, শুধু গান নয়- মাদক
নিচ্ছে এসব পথশিশু।সেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকটি পথশিশুর সঙ্গে কথা হয়। গোলগাল চেহারার একটি শিশু। ১১ বছর বয়সের শিশুটির নাম জনি। কীভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়লো সে। জানতে চাইলেই একগাল হেসে জানায়, তার নেশার হাতেখড়ি দুই বছর আগে। বাবা একজন রিকশাচালক। একদিন বাবার ফেলে দেয়া সিগারেটে কয়েকটি টান দিয়েছিল জনি। তারপর বাবার ফেলে দেয়া সিগারেটের শেষাংশে টানতে টানতেই নেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে সে। প্রথম প্রথম বাবার প্যাকেট থেকে সিগারেট এবং টাকা চুরি করেই চলতো তার নেশা। কিছুদিনের মধ্যেই সমবয়সী কয়েকজন নেশাগ্রস্তের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তার। নেশা করতে তো টাকা লাগে, কীভাবে জোগাড় হয় সে টাকা? জনি হাসে। যখন যেভাবে পারি, জোগাড় করি। কখনও ল্যাংড়া ফকিরের গাড়ি ঠেলি, কখনও লেগুনায় হেলপারি করি, কখনও বা কমলাপুর-সদরঘাটে যাত্রীদের মাল টানি।
জটলায় যে ছেলেটি গান করছিল তার নাম নাজমুল। বয়স ১০ বছর। বাবার বাড়ি নরসিংদী হলেও কমলাপুর রেলস্টেশনেই তার বসবাস। কুলির কাজ করে পকেটে কিছু টাকা জমলেই নেশা তাকে টানতে থাকে। নেশা করতেই চলে এসেছে হাইকোর্টের সামনে। কেন সে নেশা করে জানতে চাইলে নাজমুল বলে, নেশা করতে ভালো লাগে। নেশা করলে শইলডা হালকা হালকা লাগে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমে একটি থামের গোড়ায় মুখোমুখি বসেছিল কয়েকটি পথশিশু। পাশেই দাঁড়ানো লোকাল ট্রেন। সেখানে দিয়ে গিয়ে দেখা গেল এক ভয়াবহ দৃশ্য। ব্লেড দিয়ে হাত কাটছে একটি শিশু। সে কাটা অংশ দিয়ে বেরিয়ে আসছে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। দুয়েক ফোঁটা ঝরেও পড়ছে হাত বেয়ে। গাট্টাগোট্টা ধরনের সে ছেলেটির নাম হাসান। বয়স ১৫ বছর। ব্লেড দিয়ে হাত কাটতে ব্যথা লাগে না? বলে, এটাও নেশার একটা অংশ। নেশা করার সময় ব্লেড দিয়ে হাত-পা কাটতে খুব মজা লাগে। হাসান ও তার পাশে বসা অন্য দুই পথশিশুর শরীরে ভয়ে গা শিউরে ওঠার মতো অসংখ্য দাগ। হাত-পা, পিঠ, ঘাড় কোথাও বাদ নেই। হাসানের পাশেই বসেছিল হাসিব। হাসানের ব্যবহৃত ব্লেডের অপেক্ষায়। হাসানের মতো সেও শরীরে দাগ কাটবে ব্লেড দিয়ে। হাসিবের বয়স ১২ বছর। কথা বলতে বলতেই হাসিব জানালো, তার শখের কথা। এ বয়সেই সেসব ধরনের মাদক নিয়েছে শরীরে।
![]() |
| মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা |
জনি, নাজমুল ও কালুর মতো হাজার হাজার পথশিশুর দেখা মেলে রাজধানী ঢাকায়। যাদের বেশিরভাগই গাঁজা, ইয়াবা, ড্যান্ডি, ফেনসিডিল, পেথিড্রিনসহ নানা নেশাদ্রব্যে আসক্ত। দিন দিন বাড়ছে তাদের সংখ্যা। সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলস্টেশন, হাইকোর্ট মাজার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, পলাশী মোড়, দোয়েল চত্বর, চানখারপুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল চত্বর এলাকায় সবচেয়ে বেশি তৎপর মাদকাসক্ত এসব পথশিশু। ভাগ্য বিড়ম্বিত পথশিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে নানা কার্যক্রম। কিন্তু পথশিশুদের নেই কোনো সঠিক পরিসংখ্যান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, রাজধানী ঢাকায় পথশিশু রয়েছে প্রায় ২ লাখ। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য চাইল্ড সেনসেটিভ সোশাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি) নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ৬টি ড্রপ ইন সেন্টারের মাধ্যমে নেশায় আসক্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪ বছরে এসব ড্রপ ইন সেন্টারের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৮৮৪ জন পথশিশুকে সামাজিক সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৫৮ জন পথশিশুকে পরিবারে একত্রীকরণ করা হয়েছে। তবে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
পথশিশুদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মাদক পরিবহন ও সরবরাহকারী। রাজধানীতে কোমলমতি পথশিশুদের ব্যবহার করে মাদকব্যবসা পরিচালনা করে কিছু সিন্ডিকেট। লুঙ্গির আড়ালে, শার্ট-প্যান্টের পকেটে, কখনো বা বাদাম বিক্রি করার ছলে তারা মাদক বিক্রি করে। মাদক পরিবহনের কাজ করতে গিয়েও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে অনেক পথশিশু। কমলাপুরে রবিন নামে কুলির কাজ করা একটি পথশিশুকে মাদকবিক্রি করতে দেখা গেছে। পথশিশুদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহে বড় একটি ভূমিকা পালন করে নারীরাও। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মারুফ হোসেন জানান, কোমলমতি শিশুদের বিপথে পরিচালনার মাধ্যমে কিছু লোক মাদক ব্যবসার মধ্যে ঘৃণ্য অপরাধ করছে। সেসব মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিয়ার নির্দেশে লালমাটিয়ায় প্লট দেয়া হয় তাহেরের পরিবারকে
সরকারি খরচেই জার্মানিতে রবের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় রব খুশি ছিলেন না। বন থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর (১৯৭৯) তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠান। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) এএসএম মোস্তাফিজুর রহমানকেও তিনি চিঠির অনুলিপি দেন। রব দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে ১৯শে ফেব্রুয়ারি (১৯৮০) এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রবের চিকিৎসার জন্য সরকারের পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তাহেরের অনুজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং জাসদ-গণবাহিনীর ঢাকা নগরের কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের ১০ বছরের সাজা হয়েছিল। তিনিও সাজার মেয়াদ অর্ধেক ভোগ করে ছাড়া পান। জিয়ার সঙ্গে জাসদের একটা সমঝোতার ফলেই সবাইকে এক এক করে ছেড়ে দেয়া হয়। অস্ত্র আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, তাদের অনেকেই সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হন। আনোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ফিরে পান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে আওয়ামীবিরোধী ‘গোলাপি’ দলে যোগ দেন। পরে জিয়াপন্থিরা ‘গোলাপি’ দল ভেঙে ‘সাদা’ দল বানালে আনোয়ার সাদা দলে যোগ দেন এবং ওই দলের সমর্থনে সিন্ডিকেট নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৯৬ সালে হাওয়া ঘুরে গেলে তিনি আওয়ামীপন্থি নীল দলে নিজেকে সমর্পণ করেন। আনোয়ার যখন সাদা দলের সংগঠক হন, তাকে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নেহাল করিম জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘যারা আপনার ভাইকে ফাঁসি দিল, আপনি তাদের সঙ্গে যান কিভাবে? আনোয়ার জবাব দিলেন, ‘অনেক কথা আছে, পরে বলব।’
জিয়াউর রহমানের যুদ্ধদিনের সাথী ছিলেন মেজর (পরে লে. জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত) মীর শওকত আলী। জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তার মতে, জিয়া ছিলেন স্বাধীনচেতা ও প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার আশপাশে মৌমাছির মতো অনেক চাটুকারের সমাবেশ ঘটেছিল। কিন্তু জিয়া চাটুকারিতা একদম পছন্দ করতেন না। এ প্রসঙ্গে মীর শওকত আলীর একটি লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে:
আমাদের জাতিগত স্বাধীনতা এখনো হয়নি। আমরা এখনো নিজেদের চেয়ে সাদা চামড়াদের বিশেষ খাতির করি। একজন ইউরোপিয়ান প্রেসিডেন্টকে দেখেন। তিনি নিজের ব্রিফকেস নিজে নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে গাড়িতে উঠছেন। আমাদের এখানে দরজা খোলার জন্য চামচারা রীতিমতো কম্পিটিশন করে। আমাদের নেতা যাবেন, তার বক্তৃতার কপি আরেকজনের বগলে। তার সানগ্লাস আরেকজনের হাতে। স্কুলের বাচ্চারা সকাল থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। লিডার বক্তৃতা দিতে যখন আসলেন, ততক্ষণে বাচ্চাগুলো রোদে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তাদের হাতের ফুল শুকিয়ে গেছে। নেতা দুর্নীতিবাজ হলেও তার লোকের অভাব হয় না। স্লোগান হয় ‘অমুক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’। এই নেতা যখন স্টেজে দাঁড়ায়, সে নিজেও জানে না সে কী বলবে। তাকে আরেকজনে ফাইল খুলে দিতে হয়। বড়ই বিচিত্র যে, আমাদের নিতম্বের অবস্থানের ওপর আমাদের মানসম্মান নির্ধারিত হয়। চেয়ার নেওয়ার জন্য মারামারি দেখে এটাই মনে হয়। ইসরায়েলের কেবিনেটে দেখেন প্রাইম মিনিস্টারের সঙ্গে আলোচনা করতে করতে মিনিস্টার প্রাইম মিনিস্টারের সামনের টেবিলে বসে পড়ছেন। আর আমাদের এখানে নেতার সামনে জড়সড় হয়ে থাকতে হয়। আমাদের এখানে এক ধরনের হীনমন্যতা আছে এবং স্বাধীন জাতির স্বাধীনতার অহংকারের জাগরণ এখনো হয়নি। দিস ইজ প্যাথেটিক অ্যান্ড ট্র্যাজিক। জিয়াউর রহমান আমাকে একদিন বলেছিলেন, মীর, যতদিন আমাদের দেশের দশ হাজার টাউট ও চামচা নিশ্চিহ্ন না হবে, ততদিন আমাদের কষ্ট থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নোবেল বিজয়ীর শাসনেও রোহিঙ্গা নিশ্চিহ্নকরণ চলবে? by মঈনুল আলম
শান্তির
জন্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ
নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মিয়ানমারের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করার পর কি
হতভাগ্য রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ওপর চরম নির্যাতনের সমাপ্তি ঘটবে?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এটা আশা করতে পারছেন না।নিউ ইয়র্ক টাইমসের উপসম্পাদকীয় কলামে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এবার একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর শাসনাধীনে বন্দিশিবিরে রাখা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য দৃশ্য হয়তো বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে!
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ১০ লাখ রোহিঙ্গার ওপর যে চরম নির্যাতন চলছে, তাকে ‘জাতিগোষ্ঠী নিধন’ (জেনোসাইড) বলে অভিহিত করা যায়। নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করা জাতিসঙ্ঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘এটাকে (এই নির্যাতনকে) ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন’-এর অধীনে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে পরিগণিত করা যাবে।’’
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় (১৬ জানুয়ারি, ২০১৬) ‘মিয়ানমারের অমানবিক অপরাধ’ শিরোনামে এক বিশ্লেষণধর্মী উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে : ‘অং সান সু চি (রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে) বর্ণবাদের এই মিয়ানমার সংস্করণ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলেই প্রতিভাত হচ্ছে। কারণ (নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হলেও) তিনি এখন একজন রাজনীতিবিদ এবং রোহিঙ্গাদের মতো এক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাওয়া তার বেশির ভাগ বৌদ্ধ ভোটারের কাছে অতি প্রিয় কর্মকাণ্ড।’
মিয়ানমারে ৬৭টি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে (বন্দিশিবিরে) বহু রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করে রাখা হয়েছে। এক একটি বৃহৎ বন্দিশিবিরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা আটক রয়েছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার সব অধিকারই বাতিল করে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবাধে চলাফেরা করার অধিকারও বাতিল করা হয়েছে।
বন্দী হওয়ার আগে অনেক সঙ্গতিসম্পন্ন রোহিঙ্গা পরিবারের ব্যাংকে ভালো অঙ্কের সঞ্চয় ছিল। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে বন্দিশিবিরে আটক থাকার পর তাদের পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থে তারা হাত দিতে পারছে না।
রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতনের ব্যাপারে বিশ্বে সামান্যই প্রতিবাদ উঠছে! এর প্রধান কারণ, মিয়ানমার সরকার বিদেশী সাহায্য সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য রোহিঙ্গাদের কাছে যাওয়া দুঃসাধ্য করে রেখেছে।
মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের কার্যকলাপ অচল হয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক নিকোলাস ক্রিস্টফ মিয়ানমার সফরকালে জাতিসঙ্ঘের সমালোচকের এক গোপন দলিল দেখেছেন। এ দলিলে জাতিসঙ্ঘকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে কর্মরত জাতিসঙ্ঘের কর্মচারীরা এক অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। ফলে ‘মিয়ানমারের এই সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জাতিসঙ্ঘের হাত রয়েছে কি না, এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে’।
এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ, ফর্টিফাই রাইটস এবং ইউনাইটেড টু এন্ড জেনোসাইডসহ কিছু মানবাধিকার সুরক্ষা সংস্থা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অব্যাহত চরম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছে।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর শুধু নির্যাতনই চালাচ্ছে না, রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই- এই দাবি করে সরকার তাদের অস্তিত্বই মুছে ফেলার অপচেষ্টায় নেমেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উল্লেখই করে না। সরকার দাবি করে যে, এরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বৈ তো নয়। এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন দলিলপত্রে রোহিঙ্গাদের উল্লেখ রয়েছে।
নভেম্ব^রে সরকার পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে উল্লেখ করে ২০১৬ সালের একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করার কারণে!
অং সান সু চি-ও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চি’র পার্টি একজন মুসলিমকেও তাদের দলের মনোনয়ন দেয়নি!
এই সাধারণ নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক পরিবর্তন আসার সাথে সাথে গণতন্ত্রের পথেও অগ্রগতি হয়েছে বটে। কিন্তু জোরদার গণতন্ত্র বর্ণবাদীদের কণ্ঠকেও জোরদার করেছে এবং সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোর প্রতি অনাস্থা এবং তাদের নিয়ে আশঙ্কা জোরদার করেছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার পাওয়া এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে : ‘একটি সরকার যখন একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে সরাসরি লক্ষ্য নির্ধারণ করে, ওই জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের বন্দিশিবিরে আটক রাখে এবং তাদেরকে জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে, সেটা অবশ্যই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং এই অপরাধকে প্রতিহত করা সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব।’
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, প্রবাসী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ কতো বছর ক্ষমতায় থাকবে? by শফিক রেহমান
শুক্রবার
৮ জানুয়ারি ২০১৬। এক মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা আগে ৫ জানুয়ারিতে
গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপি আহুত জনসভায় অতি অপ্রত্যাশিতভাবে
বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। মাত্র ৬৮ ঘণ্টার নোটিশে মিটিংটি হয়েছিল। ধরে নেয়া
যায় ওই মিটিংয়ে ঢাকার বাইরে থেকে কেউ আসেননি বা আসতে পারেননি।এই দিন ওই মিটিংয়ে মানুষের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এর মাত্র ছয় দিন আগে ৩০ ডিসেম্বরে দেশ জুড়ে পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। ৫ জানুয়ারির জনসভায় ঠিক তেমন ভাবেই মানুষের উপস্থিতি খুব কম হবে ভেবেই হয়তো কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে সেই মিটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত মানুষ ৫ জানুয়ারিতে সেখানে উপস্থিত হয়ে ধৈর্য ধরে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে আবারও এটাই প্রমাণ করেছে যে বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন অটুট এবং বিশাল। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে কোনো শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির জয়ও যে হবে বিশাল সেটা নিশ্চিত। আর এটা বুঝেই আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই সেই ধরনের কোনো নির্বাচন দেশে দেবে না। তবে তারা পাতানো নির্বাচন দিতে চাইবে এবং বিএনপিকে সবসময়ই সেই নির্বাচনে অংশ নিতে বলবে। বিএনপি সেই ধরনের নির্বাচনে অংশ নিলে সংসদে দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় স্থান অর্থাৎ, এরশাদের জাতীয় পার্টির পরের স্থানটি পাবে। তার মানে, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থেকে যাবে।
এটা অভাবনীয় কিছু নয়। কারণ আওয়ামী লীগ থেকে ইতিমধ্যে বারবার বলা হয়েছে তারা ২০২১, ২০৩১, ২০৪১ প্রভৃতি বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায় এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চায়। তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি সমাপ্ত করতে চায়।
আর এজন্যই মানুষের মুখে এখন প্রশ্ন এই অত্যচারী সরকার কবে বিদায় নেবে?
সবার মনে আরো একটি প্রশ্ন আছে - ১০০০ দিন জেলবন্দি দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কবে মুক্তি পাবেন?
এই দুটি প্রশ্নেরই - একই উত্তর।
আর সেই উত্তরটা হচ্ছে ২০৭১ সালের আগে নয়।
২০৭১ কেন? কারণ ওই বছরে মুক্তিযুদ্ধের শতবর্ষ পূর্তি হবে এবং সেটা যথাযথভাবে উদযাপনের আয়োজন করবে মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট ও একমাত্র পরিবেশক আওয়ামী লীগ।
হয়তো এই উত্তরটি জেনে পাঠকরা নিরাশ হচ্ছেন। না। নিরাশ হবেন না। ২০৭১ সালে বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে তার একটা আংশিক ছবি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
গত বছর ২০১৫-তে ১৯৫ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয় বাংলাদেশে। গত নভেম্বরে এক মাসে ৬৬ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল।
শুধু ৩০ নভেম্বরেই ২৯ জনের ফাসির আদেশ দেয়া হয়েছিল। গাজীপুরে শুধু একটি মামলায় ১১ জনকে ফাসির আদেশ দেয়া হয়েছিল। এভাবে প্রতি দিনে শত শত ফাসির দেয়ার পর ২০৭১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে করবস্থানের শান্তি বিরাজ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাবিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল ঘুষ খেয়ে এসব ফাসির নিন্দা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের এই ঘুষ খাওয়া প্রমাণিত হয়ে যাবার পরে মানব অধিকার বিষয়ক এই ধরনের সব সংগঠন বিশ্ব জুড়ে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে এসব সংগঠন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিকভাবে আরো একটি বড় ঘটনা ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র, বিশিষ্ট কমপিউটার বিজ্ঞানী, আমেরিকা প্রবাসী দেশপ্রেমিক সজীব জয়, কিনে ফেলবেন গুগল, ইয়াহু, মাইক্রোসফট এবং ফেসবুককে। ফলে তরুণ প্রজন্ম নিশ্চিন্ত হতে পারবে - বাংলাদেশে আর কখনো ফেসবুক, গুগল ইত্যাদি নিষিদ্ধ হবে না।
প্রতিবেশি দেশ ইনডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো ভালো হবে। এখন যেমন আওয়ামী নেতারা “বিএনপি-জামায়াত” জোট বলতে অভ্যস্ত, তখন মানুষ “আওয়ামী-ভারত” সরকার বলতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আওয়ামী-ভারত সম্পর্ক সুমধুর হবে। এর ফলে ২০৭১-এ গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২০৭১ টাকা হবে। বিএসএফ-এর গুলিতে বিনা প্রতিবাদে প্রতি বছরে অন্তত ৭১ জন মারা যাবে। ‘‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’’ আগামী ৫৫ বছরে অন্ততপক্ষে আরো ৫৫০টি ব্যাংক খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে শর্ত সাপেক্ষে যে আওয়ামী পৃষ্ঠপোষিত দুর্বৃত্তদের জন্য এসব ব্যাংক উদারনীতি অবলম্বন করবে এবং তখন কোনো খেলাপি ঋণ তালিকা প্রকাশ করা হবে না। ইনডিয়ান সাহায্য সত্ত্বেও পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বারবার বিঘ্নিত হবে। মগবাজারে ফ্লাইওভার আবার নির্মিত হয়ে আরো ৭১ বার ভাঙ্গা হবে। মগবাজারের নাম বদলে মগের মুল্লুক নাম হবে। পথবক্তা ও মন্ত্রী মি. ওবায়দুল কাদের বিরক্ত হয়ে বারবার পদত্যাগ করতে চাইলে ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রাজধানীতে সব জনচলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ঘরে ঘরে গড়ে উঠবে। সব লেখাপড়া বাড়িতে হবে। অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ ঘরে থেকেই চলবে। ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম শহর রূপে গণ্য হলেও সব জন ও যান চলাচল বন্ধ রেখেও যে সরকার রাজধানী চালাতে পারে সেটি প্রমাণ করার ফলে তখন ঢাকা বিশ্বের প্রথম বিস্ময়কর শহর রূপে গণ্য হবে।
এ রকম অনেক অভূতপূর্ব সাফল্য ২০৭১ সালের মধ্যেই পাঠকরা দেখবেন।
তবে সেই বছরেই প্রধানমন্ত্রী যখন জানবেন যে তার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, রানীসভার ছড়াকার ইয়াফেস ওসমান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন, তখন তিনি পদচ্যুত হবেন। ইয়াফেস ওসমানের লেখা শেষ ছড়াটি হবে :
কেন যে ছড়া লিখলাম ভাই
এখন আমার চাকরি নাই।
২০৭১-এ সারা বাংলাদেশ জুড়ে উদযাপিত হবে স্বাধীনতার শত বর্ষ পূর্তি। গ্রামে গঞ্জে শহরে শুধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার হাজার হাজার রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারই থাকবে - অন্য কোনো পোস্টার-বিলবোর্ড থাকবে না। সেই বছরে ১৬ ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করবেন বহুল প্রতীক্ষিত সেই তারিখটি -
পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করার জন্য আরো একশ’ বছরে সময় চাইবেন।
ডিসেম্বর ২১৭১-এ পরবর্তী নির্বাচনটি হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফাঁসির আসামী অন্তঃসত্ত্বা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওবামার কাছে আফিয়া সিদ্দিকীর মায়ের আবেদন
বারাক ওবামাপ্রেসিডেন্ট
হোয়াইট হাউজ
ওয়াশিংটন, ডিসি২৯৫০০
প্রিয় মি. প্রেসিডেন্ট,
আমার নাম ইসমত সিদ্দিকী। ড. আফিয়া সিদ্দিকী আমার কন্যা। সে এমন একজন যার সম্পর্কে আপনি ইতোমধ্যে হয়তো শুনে থাকবেন। সম্ভবত, তার সম্পর্কে নেতিবাচক কিছুই শুনে থাকবেন। ইন্টারনেট ও অন্যান্য মাধ্যমে লাখ লাখ পৃষ্ঠা একজন ব্যক্তি সম্পর্কে অনুমিত বিবরণ, প্রশংসা, কটাক্ষমূলক ব্যঙ্গবিদ্রূপ এবং একই সাথে একগাদা প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তার সমর্থকেরা তাকে সেইন্টহুডে তুলে এনেছে। আর কুৎসাকারীরা তাকে অপবাদ দিয়ে দানবে রূপায়িত করেছে। একজন মানুষ সম্পর্কিত সত্যটি এর মধ্যে হারিয়ে গেছে। আসল ঘটনা হচ্ছে, আফিয়া তিন-তিনটি সন্তানের মা এবং একজন মেধাবী মুসলিম মহিলা। তার একমাত্র উৎসাহ-অনুরাগ হচ্ছে লোকদের শিক্ষিত করে তোলা। এ জন্য সে পড়াশোনা করেছে বিশ্বের উৎকৃষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এগুলোর মধ্যে আছে এমআইটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোও। ২০০১ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পর অজানা কারণে আফিয়া সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের এক শিকারে পরিণত হয়েছে।
এটি শুধু তার অসুস্থ মায়ের একটি দুঃখজনক কাহিনীই নয়। এটি সেইসব মানুষের দ্বারা নির্যাতন, অন্যায় মর্যাদাহানি, অবনমিত করা, প্রতারণা ও বর্বরতার এক বাস্তবতা- যারা নিজেদের সবচেয়ে বেশি সভ্য বলে দাবি করেন। এটি তাদের করা গুরুতর এক অন্যায়-অবিচার, যারা নিজেদের সবচেয়ে ন্যায়ানুগ বলে দাবি করেন। এটি একটি জাতির পক্ষপাতদুষ্টতার এক মহাকাব্য, যে জাতি তা থেকে নিজেকে মুক্ত বলে দাবি করে থাকে। এটি শুধু একজন নারীর কোনো অগ্নিপরীক্ষা নয়; এটি একটি জাতির অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি জাতি ও এর শাসকদের ওপর কালিমা লেপনের কাজ। স্যার, এটি আমেরিকার দু’টি প্রশাসনের ‘লজ্জাকর উত্তরাধিকার’। আমি এই বিভৎস ঘটনা, এর মেরিট বা ডিমেরিট উল্লেখ করতে যাবো না, কারণ আমি নিশ্চিত- আপনার কাছে প্রবেশাধিকার পাওয়া উকিলেরা আপনাকে শুধু সেসব ‘ফ্যাক্ট’ জানাবেন, যা তাদের দাবিকেই যুক্তিযুক্ত করে তোলে। কিন্তু এই আশায় এর সাথে ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস নেটওয়ার্কের তৈরী একটি ফ্যাক্টশিট সংযোজন করছি যে, আপনি এক নজর তা দেখবেন এবং দেখবেন এর একটি ‘উল্টো পিঠ’ও আছে। আমাকে বলা হয়েছে, আপনি একজন মেধাবী আইনজীবী ছিলেন। হার্ভার্ডে আপনি ছিলেন আপনার সহপাঠীদের শীর্ষে। অতএব আমার আশা, আপনি কল্পকাহিনী থেকে সত্য বের করে নিয়ে আসতে পারবেন।
মি. প্রেসিডেন্ট, অপহরণের পর আমার মেয়েকে এই কয়েক বছর ধরে জোর করে তার সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, তার ওপর নির্যাতন চালানো, গুলি চালানো, মারধর করা, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এবং বিবস্ত্র করার ভাবনায় আমার হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এমনকি, এখনো তার ডিটেনশন ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণ সৌজন্যবোধও মানা হচ্ছে না। বুলেটের ক্ষতস্থান থেকে চুঁইয়ে পড়া রক্ত নিয়ে নিউ ইয়র্কে পৌঁছার পর এক মাস তাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তার আটককারীরা নিউ ইয়র্কে এবং ফোর্টওয়ার্থের কার্সওয়েল মেডিক্যাল ফ্যাসিলিটিতে আইনজীবীদের সাথে সহায়তা করতে হুমকি অব্যাহত রাখে, যাতে তা করলে তাকে শাস্তি দেয়া যায়। তাকে এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়, যেখানে নির্মম প্রতিশোধের ভয়ে পরিবারের সাথে দেখা করতেও সে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ইতোমধ্যে তীব্র যন্ত্রণায় পার হয়ে গেছে তার ১২টি বছর- পাঁচ বছরের গোপন বন্দিত্ব জীবন এবং প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন সাত বছরের বন্দিত্ব।
সতের বছর বয়সে আমার মেয়েকে আপনার দেশে পাঠিয়েছিলাম, যাতে এমন শিক্ষা গ্রহণ করে যা বিশ্বের আর কোথাও সম্ভব হতো না। তাকে সেই মূল্যবোধ শিখিয়েছিলাম- দয়ালু হতে ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করতে; প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং অসহায় মানুষকে সহায়তা দিতে। আমার মেয়েকে সেটাই শিখিয়েছিলাম, যা আমেরিকার অবস্থান। কিন্তু আমি অবাক হই, আপনারা যখন সে মূল্যবোধ ভুলে যান। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া তার সন্তানেরা প্রশ্ন করে- কেন তাদের অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছিল? কেন এদের দেশ এদের ওপর এমন আচরণ করল? আপনি কি এর জবাব দিতে পারেন?
আফিয়া শান্তি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে সন্ত্রাসী নয়। তার শিক্ষা এবং তার সন্তানের প্রতি আগ্রহসূত্রে সে হতে পারত বিশ্বের অন্ধকারতম কোনো কোণোর একটি মেধাবী আলো। শৈশবের প্রথমাবস্থায় শিক্ষার্জনের ওপর তার গবেষণা সবখানে লাখ লাখ শিশুর জন্য সহায়ক হতে পারত। আমার কন্যা হতে পারত একটি বিশ্বসম্পদ, যে বিশ্বে তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি দরকার।
আমি আপনার কাছে আর্জি জানাই, আপনার প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের এই সময়ের সবচেয়ে গুরুতর অন্যায়-অবিচারের একটিকে অকার্যকর করে দিন। এটা হবে এমন একটি পদক্ষেপ, যা মুসলিম বিশ্বে আপনার জন্য প্রচুর সুনাম বয়ে আনবে; যা লাখ লাখ ডলার খরচ করেও আনা সম্ভব হবে না। আপনার একটি সাধারণ পদক্ষেপ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো একজন মায়ের হৃদয় উষ্ণতায় ভরিয়ে দিতে পারে। আর তা ফিরিয়ে আনতে পারে আমেরিকার ক্ষমা ও করুণার উপায়। আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, এক মুহূর্ত চিন্তা করে দেখুন একজন বাবা হিসেবে, যে এক কন্যাকে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে পারে। আপনার গোয়েন্দা সংস্থা যা-ই বলুক, তা বিবেচনায় না নিয়ে আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি- আমার কন্যা কারো জন্য কোনো হুমকি নয়। তাকে ছেড়ে দিলে শুধু আপনিই আরো শক্তিধর ও গৌরবোজ্জ্বল হবেন। কারণ, ক্ষমার প্রাপ্তি দ্বিগুণ। সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
-ইসমত সিদ্দিকী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিটিশ লেবার পার্টি উদ্বিগ্ন
বাংলাদেশের
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে ব্রিটিশ লেবার পার্টি উদ্বিগ্ন
বলে জানিয়েছে বিএনপি। সেইসাথে ব্রিটিশ লেবার পার্টিকে বিএনপি জানিয়েছে,
গণতন্ত্র না থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘হাউজ
হাউজ অব কমন্স’-এর বিরোধী দল লেবার পার্টির কয়েকজন আইন প্রণেতাসহ ১০
সদস্যের একটি প্রতিনিধি মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা
করতে গেলে তাদের কাছে এই বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপি। বৈঠকে গণতান্ত্রিক
পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ছাড়াও একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের
ব্যাপারও আলোচনায় এসেছে। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল
মঈন খান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে সফররত ব্রিটিশ লেবার পার্টির ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের এই প্রতিনিধি দলটির সাথে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় বিকেল সোয়া ৪টায়। বৈঠকে ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান হওয়ার্ড ডবার ছাড়াও লেবার পার্টির এমপি কেইর স্টার্মার, এমপি স্টিফেন টিমস, এমপি স্টিভ রিড এবং লেবার ফ্রেন্ডস বাংলাদেশ সংগঠনে মহাসচিব মতিন উজ-জামান, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিম আলি ও রবার্ট ইভান্স, নির্বাহী সদস্য রবার্ট ল্যাথাম, আব্দুল হাই ও সৈয়দ আবুল বাশার, কোষাধ্যক্ষ ক্রিস ওয়েভার্স ছিলেন। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর ড. মঈন খান বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এখন যারা বিরোধী দলের রয়েছেন তারা লেবার পার্টি। তাদের একটি সংগঠন রয়েছেন- ‘লেবার ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ’। সেই সংগঠনের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আমাদের কাছে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছেন। তারা সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারা বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলতে আমাদের এখানে এসেছেন। আমরা তাদের কথা বলেছি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাজ্যের বিশেষ ভুমিকা ছিলো। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও বিবিসি তথা বিলাতে যে লেবার পার্টি তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলো। গুরুত্ব ভুমিকা পালন করেছিলেন এই কারণে যে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে মূল উপজীব্য ছিলো গণতন্ত্র। সেই কারণে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র সর্ম্পকে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের আগ্রহ। এটা খুবই স্বাভাবিক।
বৈঠকে উন্নয়নের কথাও উঠেছে। আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলেছি- গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু বাংলাদেশের নয়, তৃতীয় বিশ্বের কোথাও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আজকের পশ্চিমা বিশ্বও বিশেষ করে বৃটেন তারা যেমন উন্নয়নের শেখরে আজকে আছে, তার পেছনে যে সত্যটি কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে এই তারা নিজেদের দেশে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং মানুষের অধিকার তারা রক্ষা করেছে। বিষয়গুলো আমরা জোর দিয়ে বলেছি আজকে বাংলাদেশের বেলায় এসব প্রযোজ্য হচ্ছে না।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, আমরা এ কথাটিও জোর দিয়ে বলেছি, আমরা একাত্তর সালে যে আর্দশের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, তখন ব্রিটেন আমাদের প্রবলভাবে সহায়তা করেছিলো। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি এখানে আজকে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে আমরা কী জন্য তারা সাহায্য করেছিলো। সম্প্রতি আপনারা দেখতে পেয়েছেন- ভারতের প্রথিতযশা সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার তিনিও একই কথা বলেছেন।
১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো, সেই মূল্যবোধগুলো আজ বাংলাদেশে নেই, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। একথাটি আজকে বিশ্বের অনেকে দেশই জোর দিয়ে বলছে যে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীন দেশ হিসেবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে এই স্বাধীনতা কিন্তু সত্যিকার অর্থে গণমানুষের জন্য অর্থবহ হবে না।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়গুলো আমরা বার বার আলোচনা করছি, বার বার আলোচনায় আসছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগুলো আমাদের দেশে আসছেন, তারা বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় বিরোধীদল হিসেবে আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন গণতন্ত্রের বিষয়গুলো নিয়ে তারা প্রশ্ন করছেন।
দেশে বিভিন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, সাম্প্রতিককালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশ, উপজেলা, পৌর সভা নির্বাচন ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এসব সম্বন্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের কী ভুমিকা আলোচনায় উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সহায়তা প্রকল্প থেকে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সহযোহিতার হাত যেভাবে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে তুলে নিয়েছে- এই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। কারণ যুক্তরাজ্যও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সদস্য। শুধু তাই নয়, আজকে ব্রিটিশ লেবার পার্টি পার্লামেন্টের বিরোধী দলে আছে। তারা বিরোধী দলে আছে বলেই কিন্তু তারা এর গুরুত্ব আরো বেশি করে উপলব্ধি করছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।
কীভাবে দেশের পরিস্থিতি উত্তরণ ঘটানো যায়? এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইতিহাসের সামনে দিকে তাকাতে চাই। আমরা বলেছি, এটা করতে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নতুন করে শুরু করতে হবে। এখানে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নতুন করে পরিচালিত হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সরকারি দল ও বিরোধী দল মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের দ্বন্দ্ব যেন নিরসন করতে পারি। মূল উদ্দেশ্য হবে এদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সেখানে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক মতামত দিতে পারবে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার এদেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
লেবার পার্টির প্রতিনিধি দলটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিলো বলে গণমাধ্যমকে আগেই জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই সাক্ষাতটি না হয়ে কেনো বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হয়েছে, প্রশ্ন করা হলে মঈন খান বলেন, তারা (লেবার পার্টি) একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। আমরা একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আমরা সবাই কথা বলেছি। এখানে বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে কারা উপস্থিত থাকবেন তা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই ঠিক করে দিয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1361)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 17
(9)
- হেলাল আহমদ চৌধুরী পুনরায় পূবালী ব্যাংকের এমডি হয়েছেন
- পুলিশ খারাপ হলো কিভাবে? by আলফাজ আনাম
- ভয়ঙ্কর নেশায় পথশিশুরা by আফরিন আপ্পি
- জিয়ার নির্দেশে লালমাটিয়ায় প্লট দেয়া হয় তাহেরের পরি...
- নোবেল বিজয়ীর শাসনেও রোহিঙ্গা নিশ্চিহ্নকরণ চলবে? by...
- আওয়ামী লীগ কতো বছর ক্ষমতায় থাকবে? by শফিক রেহমান
- ফাঁসির আসামী অন্তঃসত্ত্বা
- ওবামার কাছে আফিয়া সিদ্দিকীর মায়ের আবেদন
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিটিশ লেবার পার্টি উদ্ব...
-
▼
Feb 17
(9)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




