Monday, June 30, 2025
নিজের দুর্নীতির বিচার বন্ধে গাজা যুদ্ধকে কাজে লাগাচ্ছেন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেসেট সদস্য নামা লাজিমি গতকাল রোববার টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘(নেতানিয়াহু) ইসরায়েল এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে তাঁর মামলার সঙ্গে শর্তাধীন করে তুলেছেন।’
নামা লাজিমি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে তিনি ‘তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিনিময়ে একটি রাজনৈতিক মীমাংসা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে’ প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার আবারও নেতানিয়াহুকে দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, তা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি সহ্য করব না এবং কর্তৃপক্ষকে বলেন, নেতানিয়াহুকে ছেড়ে দিন।’
ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটের পেছনে রয়েছে নেতানিয়াহু এবং তাঁর দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র। তিনি এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আদালতের দণ্ড থেকে রক্ষা পেতে তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জাতীয় নিরাপত্তা ও জিম্মিদের নিয়ে খেলছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস একাধিকবার বলেছে, চলমান যুদ্ধের অবসান, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে তারা গাজায় থাকা সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।
তবে নেতানিয়াহু এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং গাজা উপত্যকায় তাঁর গণহত্যামূলক যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন। সেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
দুর্নীতি মামলা
ইয়েশ আতিদ পার্টির নেসেট সদস্য কারিন এলহারার সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু ‘ইসরায়েলি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।’ কারণ, তিনি তাঁর আইনি ভাগ্যকে জিম্মি মুক্তি ও আঞ্চলিক স্বীকৃতি চুক্তির সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাধীন দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের সংবিধান, আইন ও বিচার কমিটির চেয়ারম্যান সিমচা রথম্যান বলেন, নেতানিয়াহুর মামলার অবসান চেয়ে ট্রাম্পের আহ্বান ‘অনুপযুক্ত।’
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মতো অভিযোগে মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নেতানিয়াহু মামলার ১০০০, ২০০০ এবং ৪০০০ নম্বর কেস–সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।
নেতানিয়াহুর বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ২৪ মে। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম একজন দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রী, যিনি ফৌজদারি মামলায় আসামির আসনে বসেছেন।
নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধেও অভিযুক্ত। গাজায় বর্বরতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কাকে দায়ী করলেন ভারতের সেনা কর্মকর্তা
গণ্ডিটা কেমন ছিল? শিব কুমার সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের কোনো সামরিক ঘাঁটি বা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর যেন আঘাত করা না হয়। এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতার কারণেই ভারতকে ‘কিছু’ যুদ্ধবিমান হারাতে হয়েছে।
শিব কুমার এই মন্তব্য করেছিলেন কিছুদিন আগে ইন্দোনেশিয়াতেই এক আলোচনা সভায়। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় গত রোববার রাতে ইন্দোনেশিয়ার ভারতীয় দূতাবাস ‘এক্স’ হ্যান্ডেল মারফত এক বিবৃতি জারি করে বলেছে, ডিফেন্স অ্যাটাশের বক্তব্য সংবাদমাধ্যম প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সর্বশেষ সংঘাতে ভারত মোট কতগুলো ও কোন কোন যুদ্ধবিমান হারিয়েছে, আজও সরকারিভাবে তা জানানো হয়নি। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি পাঁচ থেকে ছয়টি। পাকিস্তানের দাবি, রাফাল, সুখোইসহ পাঁচটি যুদ্ধবিমান তারা নামিয়েছে। এই পাঁচটির মধ্যে ৩টি রাফাল, বাকি ২টির ১টি সুখোই ৩০, অন্যটি মিগ ২৯।
অসমর্থিত খবর অনুযায়ী, ওই সংঘাতের সময় একটি ড্রোন ও দুটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই খতিয়ান আজও সরকার দেয়নি। পেহেলগাম–কাণ্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার বিরোধী দাবিতেও সরকার কর্ণপাত করেনি।
পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেই ভারতের যুদ্ধবিমান হারানোর কথা প্রথম স্বীকার করেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। সিঙ্গাপুরে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবসরে বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা প্রথম স্বীকার করেন তিনি। তবে কয়টি বিমান ভূপাতিত হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
জেনারেল অনিল চৌহান বলেছিলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়াটা বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজেদের লক্ষ্য হাসিল হচ্ছে কি না। ক্রিকেটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, কটা উইকেট পড়ল, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা খেলায় জয় হলো কি না।
অনিল চৌহানকে সেই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের দাবি উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওরা ছয়টি বিমান ভূপাতিত করার কথা বলেছে। জবাবে জেনারেল চৌহান বলেছিলেন, ওই দাবি ডাহা মিথ্যা।
এবার ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ডিফেন্স অ্যাটাশে নতুন বিতর্ক বাধালেন ‘কিছু’ বিমান নষ্টের কথা বলে। ‘কিছু’ মানে একাধিক। কিন্তু সেটা কয়টা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নতুন করে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, কেন তিনি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সব জানাচ্ছেন না? কেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি খারিজ করে দিচ্ছেন?
আরেক মুখপাত্র পবন খেরার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখেছেন। ভুল তথ্য দিচ্ছেন। তথ্য লুকিয়ে রাখছেন।
কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতেও এই ঘটনার পর মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী তথ্য গোপন করে চলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্তত ২০ বার বলেছেন, তিনিই যুদ্ধ থামিয়েছেন। বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছেন। এর অর্থ বাণিজ্যের জন্য দেশের স্বার্থের সঙ্গে তিনি আপস করেছেন। তাই ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও নীরবতা পালন করছেন।
ডিফেন্স অ্যাটাশে যা বলেছেন, সেটাই ছিল ভারতের প্রাথমিক নীতি। বস্তুত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগেই এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অভিযানের শুরুতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভারতের লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি। সেই নীতিই যে ‘কিছু’ যুদ্ধবিমান হারানোর কারণ, এ কথাই ডিফেন্স অ্যাটাশে ক্যাপ্টেন শিব কুমার কবুল করেছেন। জুলাই মাসে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন এ নিয়ে অবশ্যই সরগরম হবে।
| ধাতব ধ্বংসাবশেষ দেখছেন স্থানীয় লোকজন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার উয়ান গ্রামে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে শাসক বদলের পশ্চিমা চেষ্টা কেন উল্টো ফল দেবে by জাফর এ মির্জা
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে হামলা ছিল সীমিত পরিসরে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে’ কোনো চেষ্টা করছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অন্য কিছু বলে।
ইসরায়েল বারবার বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে টেনে এনেছে। প্রথমে ইরাকে, এখন ইরানে।
এই নজির এবং ইরানের দিকে থেকে বলা ‘চিরস্থায়ী পরিণতি’র হুমকি বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্র যে এখানেই থেমে যাবে, সেটা মনে হয় না। বরং ইসরায়েলের বহুদিনের লক্ষ্যের (ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন) সঙ্গে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য একবিন্দুতে এসে মিলে যেতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অপসারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এ ধরনের উদ্দেশ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমর্থন দেয়। ইরানের ক্ষেত্রে দেখা গেল, প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
বাস্তবেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এ হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ২৩ জুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ‘প্রতীকী’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল কাতারের আল-উদেইদে সামরিক ঘাঁটি ও ইরাকের কিছু লক্ষ্যবস্তু।
যাহোক, সংঘাত যদি আরও তীব্র রূপ নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে, যেটিকে অনেকে বলছেন ‘চূড়ান্ত সমাধান’। অর্থাৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনার নামে ইরানে সরকার উচ্ছেদ।
যদিও সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু সেটা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এর কারণ হলো, এ সংঘাতের পেছনে নিহিত উত্তেজনাগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং হামলার পেছনে বড় যে কৌশলটা আছে, সেটা অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইরানে সরকার পরিবর্তন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আসবে, এই প্রভাবশালী ধারণা অনেকের মধ্যে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আইনপ্রণেতারা) এখনো বদ্ধমূল রয়েছে।
যাহোক, ভালি নাসরের মতো পণ্ডিতেরা অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, এ ধারণা একটি বিপজ্জনক ও বাস্তবতাবিবর্জিত কৌশলের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
এটি গভীর একটি প্রশ্নকেও সামনে আনে। ইরানে সরকার পরির্তন সত্যিই কি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মতাদর্শিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারবে? এ প্রশ্ন নীতিনির্ধারক মহল প্রায়ই উপেক্ষা করে।
মতাদর্শিক ধারাবাহিকতা
খামেনির অপসারণের মধ্য দিয়ে ইরানের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এমন ধারণার মধ্যে বড় গলদ আছে।
‘বিলায়াত–ই–ফকিহ’ ধারণাটি ইরানি বিপ্লবের মতাদর্শিক ভিত্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। এই ধর্মতাত্ত্বিক নীতিটাই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মেরুদণ্ড।
এটি কয়েক শতাব্দীপ্রাচীন শিয়া মতবাদের দ্বাদশ ইমামীয় ধারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই মতবাদ অনুসারে, দ্বাদশ ইমাম মুহাম্মদ আল-মাহদির অন্তরালে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবীণ ইসলামি বিচারকদের জনগণের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানি বিপ্লবের সময় বিলায়াত-ই-ফকিহ ধারণাটি সরাসরি রাজনৈতিক পরিসরে যুক্ত করা হয়। এর আগপর্যন্ত সেটি মূলত ধর্মীয় জ্ঞান ও চিন্তার জগতে সীমাবদ্ধ ছিল।
যদিও শিয়া আলেমদের মধ্যে বিচারকদের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটুকু হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইরাকের নাজাফের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি এর রাজনৈতিক প্রয়োগকে সমর্থন করেন না। তবে এ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ঐকমত্য হলো, ইমামের অনুপস্থিতিতে শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় ও আত্মিক পথনির্দেশনার জন্য সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ আলেমকে (মারজা আল-তাকলিদ) অনুসরণ করা উচিত।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু এটা প্রায় নিশ্চিত যে তিনি কওম শিক্ষাকেন্দ্র থেকেই আসবেন। এটি ইরানে শিয়াদের প্রধান ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র। রুহুল্লাহ খোমেনির আদর্শ, বিশেষ করে বিলায়াত-ই-ফকিহ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা এই শিক্ষাকেন্দ্র প্রচার করে চলেছে।
অন্যভাবে বলা যায়, আলী খামেনিকে সরালেও ব্যবস্থাটি বদলাবে না।
কারণ, ইরান সরকারের এই মতাদর্শিক ভিত্তি শুধু কোনো একক নেতার ওপর নির্ভর করে না। এই মতাদর্শ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইরানের শিয়া মুসলমানদের চিন্তার মধ্যে প্রোথিত এবং রাষ্ট্রের কেন্দ্রে বিপ্লবী মতাদর্শ পুনরুৎপাদন করে চলবে।
প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও
ইরানের বৈশ্বিক সফট পাওয়ারকে (সাংস্কৃতিক, আদর্শিক, কূটনৈতিক প্রভাব) প্রায়ই গভীরভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়। অনেক রাষ্ট্রেরই প্রবাসে তাদের জনগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু প্রবাসে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শিক আনুগত্য সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইরান অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব ইরানের সীমানা ও শিয়া জনগোষ্ঠীর গণ্ডি পেরিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এটি ছিল একটি রূপান্তর সৃষ্টিকারী (বিশেষ করে মুসলিমদের জন্য, প্রধানত শিয়াদের জন্য) মুহূর্ত। এই বিপ্লব (বিশেষ করে বিলায়াত-ই-ফকিহ মতবাদের ক্ষেত্রে) গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক তাৎপর্য নিয়ে এসেছিল।
যদিও অনেক শিয়া বিলায়াত-ই-ফকিহ মতবাদ নিয়ে খোমেনির রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অনেকে বিপ্লবের প্রতি জোরালো মতাদর্শিক আনুগত্য বজায় রেখে চলেছেন।
এই আনুগত্য কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, পাকিস্তান, লেবানন, ভারত, ইরাক ও আরও অনেক দেশের শিয়া জনগোষ্ঠী এখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়—এই বিপ্লবের প্রতি সমর্থন শুধু সেখানে বাস করা ইরানিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটাই ইরানকে অন্যান্য মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ থেকে আলাদা করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুন্নি মুসলিমরা হয়তো মক্কা ও মদিনার প্রতি, তাঁদের অনেকে হয়তো ওহাবি ঐতিহ্যের প্রতি আধ্যাত্মিক টান অনুভব করতে পারেন, কিন্তু খুব কমসংখ্যকই সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে সমর্থন দেবেন।
এর বিপরীতে, ইসলামি বিপ্লবের প্রতি প্রশংসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং প্রবাসে থাকা শিয়াদের মধ্যে দেখা যায়। জাতীয় আনুগত্যের কারণে নয়, বরং আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক সংহতির ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে শিয়ারা ইসলামি বিপ্লবের প্রতি সমর্থন জানায়।
যদি বাইরের কোনো কোনো শক্তি ইরানে সরকার উৎখাত করে, তাহলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি মতাদর্শিক সমর্থন আরও গভীর হবে। বাইরের কোনো শক্তি যদি ইরানে বিকল্প কোনো সরকার চাপিয়ে দেয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে শিয়া জনগোষ্ঠীদের কাছ থেকে সেটা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে।
বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক
বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান, যা এখন ছয়টি মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত।
বুয়েনস এইরেস থেকে জাকার্তা, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক—এই নেটওয়ার্কগুলো খামেনির অনুসারীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে।
শিয়া সম্প্রদায়গুলো নানা বাধার মুখে পড়তে পারে, কিন্তু তাদের সঙ্গে ইরানের যে আদর্শিক বন্ধন আছে, সেটা অটুট থাকবে।
এই নেটওয়ার্কগুলো শুধু আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনাই দেয় না, দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে ব্যবহারিক পরামর্শও দেয়। এমনকি যদি ইরানের বর্তমান শাসকেরাও বদলেও যায়, এই নেটওয়ার্কগুলো হঠাৎ করে বিলীন হয়ে যাবে না।
সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটিই রয়ে গেছে, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে আসলে কী অর্জন হবে? বাস্তবতা হলো, ইরানে সরকার বদল হলে দেশের ভেতরে ও বিশ্বে বর্তমান সরকারের প্রতি মতাদর্শিক সমর্থনের যে ভিত্তি, সেটা দুর্বল হবে না।
ইরানে সরকার পরিবর্তন যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে তাতে নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙক্ষা আর ইসরায়েলের অতিডানপন্থী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কার স্বার্থে লাভ হবে?
এটা সত্যি যে ইরানের সমাজে অবশ্যই বড় ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সেক্যুলার ও সংস্কারপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষটা তীব্র।
অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ—এসব গভীর হতাশা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতাগুলো উপেক্ষা করা চলবে না।
কিন্তু বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সরকার পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই কার্যকর হয়নি। ইরানও এর ব্যতিক্রম হবে না। বরং এমন একটি পদক্ষেপ প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
* জাফর এ মির্জা, ধর্ম, রাজনীতি ও অভিবাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে
![]() |
| আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিসংবলিত পতাকা নিয়ে তেহরানে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুদের হাড্ডিসার দেহ ইসরায়েলের নৃশংসতার সাক্ষ্য
ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অনাহার ও অপুষ্টিতে ফিলিস্তিনের গাজায় অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এ জন্য তারা গাজায় ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধকে দায়ী করেছে।
গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর চাপ বাড়াতে উপত্যকাটিতে কোনো ধরনের ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এমনকি খাবার, পানি ও ওষুধের মতো জীবনরক্ষাকারী ত্রাণও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত শনিবার গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী অবরোধকে যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার বেসামরিক মানুষকে নির্মূল করতে ইসরায়েল ক্ষুধাকে যে অস্ত্র হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করছে, সেটা এখন দিবালোকের মতো সত্য।
গাজা উপত্যকায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘শৈশবের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপরাধ’ বলে বর্ণনা করে এর নিন্দা জানিয়েছে সরকারি দপ্তরটি। পাশাপাশি ক্ষুধা, রোগ ও ধীরে ধীরে মৃত্যুর শিকার হওয়া শিশুদের দুর্দশা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের লজ্জাজনক নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা।
বিবৃতিতে এ বিপর্যয়ের জন্য ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের দায়ী করেছে সরকারি দপ্তরটি। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। পাশাপাশি জাতিসংঘকে অবিলম্বে গাজার সীমান্ত পথগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিবৃতির কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছিল, গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা ‘উদ্বেগজনক হারে’ বাড়ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, শুধু মে মাসে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী অন্তত ৫ হাজার ১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউনিসেফ আরও বলেছে, এ সংখ্যা এপ্রিল মাসে ভর্তি হওয়া ৩ হাজার ৪৪৪ শিশুর তুলনায় ৫০ শতাংশের মতো বেশি আর ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এতে সে সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ত্রাণসহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এডওয়ার্ড বেইগবেদার বলেন, শুধু এ বছর মে পর্যন্ত মাত্র ১৫০ দিনে গাজা উপত্যকায় ১৬ হাজার ৭৩৬ শিশুকে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে দিনে ১১২টি শিশুকে অপুষ্টির জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুদের এ দুর্দশা ও মৃত্যুর মিছিল খুব সহজে থামানো সম্ভব বলে মনে করেন বেইগবেদার। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য। তাদের কাছে অত্যাবশ্যক খাবার, পানি ও পুষ্টি চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষ মারা যাচ্ছে। ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে সব সীমান্ত পথ দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা গাজায় পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে।
শিশুদের অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করে শনিবার যখন এসব কথা বলা হচ্ছিল, তখন গাজা নগরীর তুফাহ এলাকায় দুই দফায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯টি শিশু রয়েছে।
ত্রাণের আটার ব্যাগে মাদক
এদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত একটি ত্রাণ সংস্থার ত্রাণকেন্দ্রগুলো থেকে বিতরণ করা আটার ব্যাগে ‘অক্সিকোডোন’ নামের মাদক বড়ি পাওয়া গেছে। সরকারি দপ্তরটি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সরকারি দপ্তরটি বলেছে, ‘আমরা এখন পর্যন্ত চারজনের সাক্ষ্য পেয়েছি। তাঁরা আটার ব্যাগের ভেতরে এই বড়িগুলো পেয়েছেন।’ তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কিছু মাদক ইচ্ছাকৃতভাবে গুঁড়া বা দ্রবীভূত করে আটার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অক্সিকোডোন একটি শক্তিশালী মাদক, যা মূলত ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহার করা হয়। এ মাদক অত্যন্ত আসক্তিকর এবং এর জীবননাশক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা, বিভ্রম ইত্যাদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে গাজায় বিতরণ করা আটার ব্যাগে বড়ি পাওয়ার ছবি প্রকাশ হয়েছে। পরে গাজা কর্তৃপক্ষ ওই বিবৃতি দেয়। গাজার একজন ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ এ ঘটনাকে ‘গণহত্যার সবচেয়ে জঘন্য রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা বর্তমানে দক্ষিণ গাজার কয়েকটি জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকার অভিযোগে জিএইচএফের তীব্র সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে ত্রাণ আনতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৫৫০ জনের বেশি ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার মধ্যেই গাজায় হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত ৮৮ জনের মরদেহ গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোয় আনা হয়েছে। এ সময় আহত ৩৬৫ জনকেও হাসপাতালে আনা হয়।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে। প্রায় ২০ মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে গাজায় কমপক্ষে ৫৬ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪১৯ জন।
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় নিহত স্বজনের দাফনের আগে শিশুকে কোলে নিয়ে এক ফিলিস্তিনি নারীর আহাজারি। গতকাল দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, June 29, 2025
কাশ্মীরে কেন ‘রাজকীয়’ রেলপথ বানালেন মোদি by আজাদ এসা
এ উপলক্ষে ভারতের বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব দৃশ্য প্রচারিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়, ভারতের জাতীয় পতাকা উঁচু করে ধরে মোদি রেলসেতুর ওপর দিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে হেঁটে যাচ্ছেন। যেন তিনি একজন বিজয়ী সেনাপতি।
এই রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় প্রকৌশলীরা ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ উঁচু সেতু’ সেতু নির্মাণ করেছেন। জম্মুর চেনাব নদীর তলদেশ থেকে ৩৫৯ মিটার উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। একই সঙ্গে তাঁরা ভারতের কেব্লনির্ভর রেলসেতু নির্মাণ করেছেন। আঞ্জি খাদ সেতুটি নদীর তলদেশ থেকে ৩৩১ মিটার উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে।
নতুন রেলপথ এবং চেনাব ও আঞ্জি নদীর ওপর নির্মিত সেতু দুটি উদ্বোধনের সময় মোদি বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে, ভারতের উন্নয়নের স্বপ্ন যত বড়, আমাদের সংকল্পও তত দৃঢ়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই রেলপথ যেকোনো ঋতুতেই যোগাযোগ নিশ্চিত করবে’ এবং ‘আধ্যাত্মিক পর্যটনের প্রসার হবে এবং জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করবে’।
এই পথে চালু হওয়া ‘বন্দে ভারত’ নামে ট্রেনটি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের উত্তর প্রান্তকে জম্মুর কাটরার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটিকে ‘জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের নতুন অধ্যায়’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
কিন্তু মোদির ইঙ্গিত থেকেই স্পষ্ট—এই ট্রেন কাশ্মীরিদের জন্য নয়।
এর পরিবর্তে এই রেলপথ ভারতীয়দের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য করা হয়েছে। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের পরিবহন, অঞ্চলটিকে ভারতীয় পর্যটকে ভরে ফেলা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সৈন্য ও রসদ সরাসরি পরিবহনের ব্যবস্থা হবে এই রেলপথ দিয়ে।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে প্রচারিত চ্যানেল ৪-এর নতুন তথ্যচিত্র ‘ভারত কি ধীরে ধীরে কাশ্মীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ শক্ত করছে?’-তে দেখা যাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।
ধারণা করা হয়, বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ সেনা রয়েছে। সংখ্যাটি ভারতের মোট সেনাবাহিনীর প্রায় অর্ধেক।
কাশ্মীর নিয়ে ভারতের আকাঙ্ক্ষা এতটাই স্পষ্ট যে নতুন চালু হওয়া ট্রেনটিও গেরুয়া রঙে রাঙানো হয়েছে। এটি হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও ভারতের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রং।
সাধারণত ভারতের ট্রেনগুলো নীল, লাল বা সবুজ রঙের হয়ে থাকে।
এভাবেই ভারতের শাসকেরা ঔপনিবেশিক দৃষ্টান্ত থেকে ধার নিয়ে সেতু ও রেলপথকে অধিকৃত ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তার এবং একই সঙ্গে যোগাযোগের শক্তির ও সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা পূরণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। মেক্সিকোকে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের সময় স্পেন সেখানে সড়ক, ভবনসহ ইউরোপীয় ধাঁচের অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা বাণিজ্য বিস্তার এবং সেনা চলাচলের ক্ষেত্রে সেতু ও রেলপথ ব্যবহারে ছিল অগ্রবর্তী।
এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জর্ডান ও ইসরায়েলের সংযোগকারী কিং হুসেইন বা অ্যালেনবি সেতুটিও (এখন যেটি পশ্চিম তীরে প্রবেশের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়) ব্রিটিশরা নির্মাণ করেছিল সৈন্য চলাচলের জন্য।
চোখধাঁধানো প্রদর্শনীর বাইরেও কাশ্মীরের রেল প্রকল্পে আরও কিছু দিক আছে, যেগুলো উদ্ভট। প্রকল্পটি নির্মাণের সময়েই কাশ্মীরের কৃষকেরা বারবার অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পটি চালু হলে তাদের কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রেললাইন নির্মাণের জন্য কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং পরিবারগুলোকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এটা নিশ্চিত যে কাশ্মীরিরা এই ট্রেন ব্যবহার করে চলাচল করবেন। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যাবে যে ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ব্রিটিশদের ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও তিনি ভারতে ব্রিটিশ রেলব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
গান্ধী তাঁর বই হিন্দ স্বরাজ-এ লেখেন, ‘ভারতবর্ষে যদি রেললাইন না থাকত, তাহলে ইংরেজরা এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারত না। রেলপথ মানুষের খারাপ প্রবৃত্তিকে আরও খারাপ করে। খারাপ লোকেরা তাদের মন্দ কাজগুলো আরও দ্রুততার সঙ্গে করতে পারে।’
যা–ই হোক কাশ্মীরে রেলপথ চালু হওয়ার পর সেই পথ দিয়ে যে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাবে, সেটা নিশ্চিত নয়।
শ্রীনগর থেকে দিল্লি যেতে যাত্রীদের জম্মুতে নেমে বাড়তি নিরাপত্তাতল্লাশির মুখে পড়তে হবে। এটি ‘নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের’ প্রতিশ্রুতিকে নাকচ করে দেয়।
যেখানে বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে, যেখানে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন করতে পারেন না, সেখানে কানেকটিভি উন্নয়নের গল্প বলে ভারতীয় রাষ্ট্র ও তাদের তোষামোদকারী সংবাদমাধ্যম যে প্রচার চালায়, সেটা চরমভাবে হাস্যকর। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের চেয়েও যে দেশটাতে এখন বৈষম্য এমন দেশ বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, এমন ধারণা যাঁরা বিশ্বাস করেন, সেটার থেকেও এটা হাস্যকর।
এই রেল প্রকল্প শুধু একটি প্রকৌশল কৃতি নয়, এটি একটি সাম্রাজ্য তৈরির পদক্ষেপও। আর সাম্রাজ্য তৈরির এই অংশটিই গল্পের মূল অংশ।
* আজাদ এসা, মিডল ইস্ট আইয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
| কাশ্মীরে নতুন রেলপথ উদ্বোধন করছেন নরেন্দ্র মোদি। রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী সমর্থকেরা কাকে ভোট দেবে by সোহরাব হাসান
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, দুজনের মধ্যে ‘ওয়ান টু ওয়ান (একান্ত)’ বৈঠক হয়েছে। এর ফলে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
ধারণা করা যায়, নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে গেছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিলে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল তার বিরোধিতা করেছিল।
এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী উপকরণ কেনা সম্পন্ন করতে চায় তারা। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২১ ধরনের ফরম, ১৭ ধরনের প্যাকেট, পাঁচ ধরনের পরিচয়পত্র, আচরণবিধি, প্রতীকের পোস্টার, নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়াল, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল ও নির্দেশিকা ইত্যাদি ছাপানোর কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।’
আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার চাইছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন হোক। এই লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধান করে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তারা দফায় দফায় বৈঠক করেও মৌলিক বিষয়ে একমত হতে পারছে না। সংবিধানের মৌলিক নীতি, জাতীয় সাংবিধানিক কমিটি, রাষ্ট্রপতি ও উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একমত হতে পারছে না। বিএনপি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা মেনে নিয়েছে শর্ত সাপেক্ষে। তারা বলেছে, জাতীয় সাংবিধানিক কমিটি থাকতে পারবে না। রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি বদলের বিপক্ষে বাম দলগুলো। ইসলামি দলগুলো বহুত্ববাদের বিপক্ষে। বিএনপি চায় পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় যেতে। তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনসহ কিছু কিছু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতের মিল না থাকায় জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটি শুধু সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিন বাহিনীর প্রধানের নিয়োগ এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত হবে না। বিএনপি এটাও মানতে চাইছে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার এক সভায় অভিযোগ করেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নির্বাহী বিভাগকে দুর্বল করতে চায়।
সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে বিতর্ক সত্ত্বেও সব দলই তলেতলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেটি জাতীয় সংসদেরই। এখন সংবিধান সভা, নতুন সংবিধান প্রণয়ন, গণভোটের কথা জোরালোভাবে শোনা যায় না। আবার কে কতটি আসন পাবে, তার আগাম ঘোষণাও দিচ্ছে। এনসিপির এক নেতা বলেছেন, ৪০০ আসনের মধ্যে ৩০০ আসন তাঁরা পাবেন। জবাবে বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন, এনসিপির জামানতই থাকবে না।
নিবন্ধন পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা খোশমেজাজে আছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল। আর জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াতই এগিয়ে আছে। বিভিন্ন পত্রিকায় এলাকাভিত্তিক যে চিত্র দেখা যায়, তাতে বেশির ভাগ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী। বিপরীতে জামায়াতের একক প্রার্থী। একটি পত্রিকায় দেখলাম, জামায়াত ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৬টিতে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
সমকাল বিএনপির বিপরীতে তিন শক্তির সমঝোতা শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের নির্বাচনী সমীকরণটা হলো: জামায়াতে ইসলামী বিএনপির মতো এককভাবে নির্বাচন করবে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন সামনে রেখে ধর্মভিত্তিক দলগুলো একটা প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে পারে। তবে সংস্কার আলোচনায় বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নেওয়া দলগুলো নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে আলাদা মোর্চা করতে চাইছে, তার রূপ কী নেবে, এখনো পরিষ্কার নয়।
তিন পক্ষই আনুষ্ঠানিক জোট না করে আসন সমঝোতা করবে বলে উদ্যেোগী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যারা উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের ভোটের হিসাবে আসন চায়, তারা সবাই মিলেও একটা সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে। বিএনপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যে ১২–দলীয় জোট, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে সহযোগিতা করতে বলেছে স্থানীয় কমিটিকে। এটাকে নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা কী করবেন? সরকার নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশ দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। একাংশ জেলে বা আত্মগোপনে আছেন। কিন্তু দলের লাখ লাখ সমর্থক ভোটার তো আছেন। তঁারা কাকে ভোট দেবেন? আবার তাঁরা ভোটকেন্দ্রে না গেলে নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে?
৪ জুন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ডিকাবের সংলাপে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কেবল জয়–পরাজয় নির্ধারণ করবে না, নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ হবে অধিকসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এখন আর ১০ বা ১৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি থাকলেই নির্বাচনকে জায়েজ করা যাবে বলে মনে হয় না। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চ্যালেঞ্জ হলো নিজের পক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে টানা।
১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে, আসন যা–ই হোক বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের হারে খুব বেশি ফারাক নেই। ১৯৯১ সালে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৩৩ দশমিক ৬, ২০০১ সালে ৪১ ও ২০০৮ সালে ২২ শতাংশ ভোট পায় বিএনপি। ওই চার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩০ দশমিক ২ শতাংশ, ৩৭ দশমিক ৪, ৪০ দশমিক ১ ও ৪৯ শতাংশ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২০০১ সালে ৪৭ ও ২০০৮ সালে ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
বিএনপির নেতৃত্ব মনে করে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাঁরাই আওয়ামী সমর্থক ভোটারদের ভোট পাবেন। কেননা ধর্মভিত্তিক কোনো দলকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম। জয়ের সম্ভাবনা না থাকলে তাঁরা বামপন্থী প্রার্থীকেও ভোট দিতে আগ্রহী হবেন না। নির্বাচন এলেই দেখা যাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা কার পক্ষে যান। তবে আওয়ামী লীগবিহীন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা জয়–পরাজয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, সেটা হলফ করে বলা যায়।
● সোহরাব হাসান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
- sohrabhassan55@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যুত্থানকে বাজার দরে বিক্রি করা হয়েছে
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ব্যানার থেকে সরাসরি পদত্যাগ না করলেও এই ব্যানারের সঙ্গে কার্যত সম্পর্ক ছিন্ন করি গত এপ্রিল-মে মাসে। প্ল্যাটফরম থেকে এম্পাওয়ারিং আওয়ার ফাইটারস নিয়ে কাজে মনোযোগ দিই। বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল, সেসবে মনোযোগ দিই। অনেকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পদত্যাগ করবো। একটা পদত্যাগপত্র লিখে আর জমা দিইনি। পারি নাই আসলে। রাজনৈতিকভাবে ভাবলে পদত্যাগ করে আসাটা সব থেকে সহজ। কিন্তু আমি তো মানুষ, অনেক কঠিন, অভ্যুত্থানের কারণে পারি নাই। আমি এই প্ল্যাটফরমে তো দেশ সংস্কার করতে আসছিলাম। কাদা ছোড়াছুড়ি করতে তো আসি নাই এখানে।
উমামা বলেন, জেলা, উপজেলার অনিয়মের খবর আসতো শুধু, সাংবাদিকদের কল আসতো। আমি পরিষ্কার করে বলেছি যারা এই কমিটিগুলো দিয়েছে তাদের আপনারা কেন জিজ্ঞেস করেন না? যাদের সাইনে কমিটি হচ্ছে তাদের মুখের সামনে মাইক ধরেন না কেন?! এই কমিটিগুলো করার সময় আমার কাছে কমপ্লেইন আসলে তো সরাসরি আমি অবজেকশনগুলো জানিয়েছি সাবেক আহ্বায়ক, সদস্য সচিবের কাছে। এনসিপি গঠনের আগে ঢালাওভাবে কমিটি ফর্ম হয়েছে। আমিসহ কয়েকজন এসব কমিটি নিয়ে অবজেকশন দিই। কোনো উত্তর আমাদের দেয়া হয়নি। মুখপাত্র হিসেবে বৈষম্যবিরোধীর পেজের এক্সেস থাকার কথা আমার কাছে, আমার দায়িত্ব হওয়ার কথা মিডিয়া হ্যান্ডলিং। পেইজের এক্সেস দেয়া তো দূরের কথা, এই পেজ থেকে মার্চ মাসে আমার বিরুদ্ধে পর্যন্ত পোস্ট হয়েছে। আমি ব্যবস্থা নিতে চাইলে পেজকে আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় আর নাইলে ঝরষবহঃ ঃৎবধঃসবহঃ সহ্য করতে হয়। দিনের পর দিন হেন কোনো নোংরামি নাই যা এরা করেনি। জুলাইয়ের পরে এই পরিস্থিতিগুলো ডিল করতে গিয়ে মার্চ, এপ্রিল মাসে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাই। যাদের সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছিলাম তারাও হেয়াররোডের আশায় তাকিয়ে থাকতো। একদিকে আমার কথার সঙ্গে তাল মেলাতো, অন্যদিকে রাতের বেলা হেয়ার রোডে গিয়ে পদ-পদবী নিয়ে বার্গেইনিং করতো, সব খবর আমি পেতাম। আমি কনফ্রন্ট করলে আমাকেও বলা হতো যাতে সুপ্রিম অথরিটির সঙ্গে আমি পদ নিয়ে কথা বলে আসি। আমি সরাসরি বলি যে, আমি কেন ওদের কাছে পদ খুঁজতে যাবো? ওরা আমাকে পদ দেয়ার কে? ও কোন হনু হয়ে গেছে যে আমাকে এসে তারা পদ দেবে? ওর কাছে গিয়ে পদ আনতে হলে প্ল্যাটফরম নিয়ে কাজ করার আর মানে কি?! এসবের ভাই-ব্রাদার রাজনীতির যন্ত্রণায় বদ্ধ জলাশয়ের মতো প্ল্যাটফরম আটকে ছিল। আমি কাজ করতে চাইলে আমাকে করতে দেবে না। বরং পেছনে কথা ছড়ানো হতো আমি প্ল্যাটফরমের কাউকে কাজ করতে দিচ্ছি না, কাউন্সিল আটকে রেখেছি। নেতারা তাদের জুনিয়রদের দিয়ে প্রোপাগান্ডা সার্কুলেট করে বিভিন্ন ফোরামে। পরবর্তীতে আমি সিদ্ধান্ত নিই এভাবে হয় না। নির্বাহীর যারা অবশিষ্ট ছিল তাদের জানিয়ে দিই। মুখপাত্র পরিচয়টা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থী পরিচয়টাকে আপন করা শুরু করি। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার জানতে পারি আমি নাকি বৈষম্যের কাউন্সিল আটকে রেখেছি। অথচ সবাই জানে কাউন্সিল মন্ত্রিপাড়ায় আটকে আছে। আর আমি এই প্ল্যাটফরমের সঙ্গেই নাই। আমি চুপ করে ছিলাম, সেটা নিয়েও একটা না একটা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছিল। আমার এত ক্ষমতা, আমি কমিটি আটকে রেখেছি। অথচ আমি শাখা কমিটি নিয়ে কোনো অ্যাকশন নিতে পারিনি, ঢালাওভাবে পেজ থেকে পোস্ট হওয়া উপজেলা কমিটিগুলোও আটকাতে পারিনি। অথচ যখন হেয়ার রোড থেকে আহ্বায়ক সিলেক্ট হলো তখন নির্বাচন হতে ২০ দিনও লাগেনি।
কাউন্সিলে ভোট দিতে যাওয়ার বিষয়ে উমামা বলেন, আমি শেষ দিন পর্যন্ত কাউন্সিলে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম। যারা কাজ করতে চায়, তারা বেশির ভাগ এই কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ারই সুযোগ পায়নি। ভোটার খুব লিমিটেড, যার মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন সব। জুনিয়ররা ক্যাম্পাসে এসে আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে, যাতে ভোটটা দিতে যাই। স্বাভাবিকভাবেই আমি অপারগ ছিলাম। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে আমি ভোটটা দিয়ে আসি। এতটুকুই যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি চেষ্টা করছি এখান থেকে ভালো কিছু হোক। আমি ভেতর থেকে চাচ্ছিলাম এই প্ল্যাটফরমটার অন্তত ভালো কিছু হোক। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম যেভাবে সাপের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে প্ল্যাটফরমকে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে, এখান থেকে ভালো কিছু অসম্ভব। এই নির্বাচনে কিছু প্রার্থী ছিল যাদের কাজ করার সত্যিকার ইচ্ছা ছিল। আমি ওই সাপোর্টটা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে রাতের বেলা ফলাফলের পর দেখলাম নির্বাচনে অংশ না নেয়া একজন এসে মেম্বার হয়ে গেছে কাউন্সিলের। এসব দেখে আমি অত্যন্ত লজ্জিত। সেই একই স্বেচ্ছাচারিতা, স্ট্যান্ডবাজি, ভাই-ব্রাদার কোরামের খেলা। এখন বোধ করি এই প্ল্যাটফরমের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের কথা চিন্তা করে আমি এই প্ল্যাটফরম থেকে সকল ধরনের সমর্থন ও কাউন্সিলে প্রদত্ত ভোট প্রত্যাহার করলাম। আমি অত্যন্ত অশান্তিতে আছি। অভ্যুত্থান যেমন স্বপ্ন দেখিয়েছে, গোষ্ঠী স্বার্থে এই প্ল্যাটফরম একইভাবে বহু মানুষের স্বপ্ন ও সময় নষ্ট করেছে। আমি অভ্যুত্থানের স্বপ্নকে রক্ষার জন্য এই প্ল্যাটফরমে গিয়েছিলাম। প্ল্যাটফরমে যাওয়ার আগে আমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবো। কিন্তু প্ল্যাটফরমের মুখপাত্র হিসেবে যাওয়ার পরই টের পাই সংস্কার, জুলাই, শহীদ, আহ- এসব মুখের বুলিমাত্র। শুধু আমি না, অনেক ছাত্রই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে প্ল্যাটফরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। সবার সঙ্গে শুধু ছলনা হয়েছে। যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, আমার সঙ্গে নোংরামি করেছে এতগুলা মাস, অভ্যুত্থানকে বাজারদরে কেনাবেচা করেছে তাদের আমি কখনো ক্ষমা করবো না। আমি রুহের ভেতর থেকে বদদোয়া দিচ্ছি এই মুনাফিকদের। রাজনৈতিকভাবে চাইলে অনেক সুবিধা আমি নিতে পারতাম। কিন্তু পারি নাই। আসে নাই ভেতর থেকে। অনেক বেশি মানুষ মারা গেছে আসলে। এতগুলা সন্তান এতিম হইছে, মেয়েরা বিধবা হইছে, বাবা-মা সন্তানহারা হইছে। আমি পারি নাই এসবকে পলিটিক্যালি ক্যাশ করতে। আমি গত ৮-৯ মাসকে ঝেড়ে ফেলে সামনে এগোতে চাই। অনেক ভালো ছেলে-পেলেকে এই প্ল্যাটফরমে আমি দেখেছি, গুডউইল আছে যাদের। আমি পরামর্শ দেবো আপনারা সবাই যাতে পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেন, কাজে মনোযোগ দেন। আমিও ভেঙে পড়ছি না, গুছিয়ে আনছি সবকিছু। ফি আমানিল্লাহ্।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের ‘দুঃস্বপ্ন’ জোহরান কি রিপাবলিকানদের জন্য আশীর্বাদও হয়ে উঠতে পারেন
জোহরানের এই কর্মসূচি বিখ্যাত সাবেক মেয়র এড কোচকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি প্রায়ই মানুষকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘আমি কেমন কাজ করছি?’ তাঁর প্রশ্ন শুনে এলাকা আর বছর ভেদে কেউ তাঁর প্রশংসা করতেন, কেউ গালাগাল করতেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ২৪ জুন দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ে জিতে, দলের প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের হারিয়ে জোহরানকে এখনই নিউইয়র্কের মেয়রের মতো লাগছে।
মাত্র কয়েক মাস আগেও জোহরানের এলাকার বাইরে খুব কম লোকই তাঁকে চিনতেন। গত অক্টোবরে যখন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন, তখন তাঁর প্রতি ভোটারদের সমর্থন ছিল ১ শতাংশেরও কম। অথচ তিনি হারিয়েছেন নিউইয়র্কের দুইবারের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে। মার্কিন রাজনীতিতে একসময় তাঁর বড় নাম ছিল। যিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ ও কোভিডকালে নার্সিং হোমে মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করার কেলেঙ্কারির মুখে পদত্যাগ করেছিলেন। অবশ্য এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
জোহরান একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট ও নিউইয়র্ক নগরের কুইন্স বরোর একটি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য। দলের সোশ্যালিস্টরা বামঘেঁষা হিসেবে পরিচিত।
জোহরানের এই জয় শুধু কুমোর বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি মূলধারার ডেমোক্রেটিক রাজনীতির প্রতিও একধরনের বিদ্রোহ। প্রাথমিক ভোটাররা সাধারণত দলের গড় ভোটারের চেয়ে বেশি বামপন্থী হয়ে থাকেন। কুমোর পক্ষে বিল ক্লিনটন আর ধনকুবের বিল অ্যাকম্যানের সমর্থন অনেক ভোটার নেতিবাচকভাবে দেখেছেন।
জোহরান মামদানি একজন অভিবাসী। নিউইয়র্ক নগরের মতো একটি বহুজাতিক শহর তাঁর পক্ষে গেছে। এই নগরের অন্তত ৪০ শতাংশ বাসিন্দাই অভিবাসী, যাঁদের বেশির ভাগের জন্ম বিদেশে।
জোহরান জন্মেছেন উগান্ডার কাম্পালায়, ছোটবেলা কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, এরপর ৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি একজন বিখ্যাত কলোনিয়ালিজম বিশেষজ্ঞ, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াতেন। মা মিরা নায়ার একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা। দুজনই গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচক।
জোহরানও বাবা–মায়ের মতো ইসরায়েলের নীতির সমালোচক। কলেজে পড়ার সময় ফিলিস্তিনপন্থী একটি গ্রুপ গড়ে তোলেন। সম্প্রতি তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা’ বাক্যটির নিন্দা করেননি। অনেক ইহুদি এই বাক্যটিকে সহিংসতার আহ্বান বলে মনে করেন। তবে জোহরান বলেছেন, এটা সহিংসতা নয় বরং ফিলিস্তিনিদের সমতা ও অধিকার চাওয়ার প্রকাশ। তবে নিউইয়র্কের বাসিন্দা অনেক ইহুদি তাঁর যুক্তি মেনে নেননি।
রাজনীতিতে আসার আগে জোহরান কিছুদিন ‘মি. কার্ডামম’ নামে হিপ-হপে র্যাপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন, তবে সেভাবে সফল হননি। এরপর তিনি একটি এনজিওতে কাজ করেন। তিনি কুইন্সে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে বাড়িঘর হারানো থেকে রক্ষায় পরামর্শ দিতেন। তিনি রাজনীতিতে আসেন ২০২০ সালে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম দক্ষিণ এশীয় সদস্য নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত তাঁর তিনটি বিল আইনে পরিণত হয়েছে। তিনি সম্প্রতি সিরীয় বংশোদ্ভূত একজন শিল্পীকে বিয়ে করেছেন।
জোহরান অকপটভাবে বামঘেঁষা। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য, যাঁরা মনে করেন, সমাজ পরিচালনায় মুনাফার বদলে মানুষের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর প্রচারের মূল বিষয়বস্তু ছিল—‘সাশ্রয়ী জীবন’। তিনি নগরের বাসভাড়া ফ্রি করতে চান, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করতে চান, গরিব এলাকায় নগরের পক্ষ থেকে মুদি দোকান চালু করতে চান এবং ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করতে চান। তাঁর করারোপের বিষয়টি নিউইয়র্কের অনেক ব্যবসায়ীকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে।
তবে জোহরান কেবল বামঘেঁষাই নন, বরং অনেকের কাছে যথেষ্ট পছন্দের ব্যক্তিত্বও। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের জেসি আর্ম বলেন, তাঁর সাফল্যের কারণ শুধু তাঁর মতাদর্শ নয়, বরং তাঁর আধুনিক, সামাজিক মাধ্যমে দক্ষ রাজনৈতিক কৌশল। তাঁর নির্বাচনী প্রচার ইতিবাচক, সাধারণ মানুষের ভাষায়।
জেসি আর্ম বলেন, অন্যদিকে কুমোর প্রচার ছিল বিরল ও যন্ত্রসিদ্ধ। জোহরানের পক্ষে ৪৬ হাজার মানুষ মাঠে নেমেছিলেন। তিনি তরুণদেরও টেনেছেন, মাঝারি বয়সী ভোটারদেরও। এমনকি ২০২৪ সালে যেসব এলাকায় ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন, সেখানেও তিনি জিতেছেন। যেমন কুইন্সের হিলসাইড বা স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের টটেনভিল।
জোহরান নিজেকে একজন প্রগতিশীল, মুসলিম অভিবাসী হিসেবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এমন একজন রাজনৈতিক নেতা, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের উগ্রতা মোকাবিলায় যাঁকে ডেমোক্র্যাট অনেক দিন ধরে খুঁজছিল।
তবে জোহরানের জয়ে রিপাবলিকানরাও খুশি হয়েছেন। কারণ, তাঁদের ধারণা তাঁরা তাঁকে সহজ লক্ষ্য বানাতে পারবেন। কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিক বলেন, ‘জোহরান রিপাবলিকানদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিপক্ষ।’ ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জোহরানকে ‘শতভাগ পাগলাটে কমিউনিস্ট’ বলে উল্লেখ।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনে জোহরানের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া। তিনি ১৯৭০-এর দশকে অপরাধপ্রবণ নিউইয়র্কে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস’ নামে একধরনের নিরাপত্তা গ্রুপ চালু করেছিলেন। ২০২১ সালে মেয়র পদে লড়লেও তিনি এরিক অ্যাডামসের কাছে হেরেছিলেন।
তবে জোহরানের বড় বাধা হয়ে উঠতে পারেন বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। তিনি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন হারিয়েছেন। অবশ্য পরে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে জানিয়েছেন। কুমোও এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রার্থী থাকছেন।
জোহরান নির্বাচিত হলে তিনি হবেন নিউইয়র্ক নগরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র, সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র এবং বহু দশকের মধ্যে প্রথম অভিবাসী মেয়র। এই সবকিছুর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে তিনিই হবেন বামঘেঁষা রাজনীতির প্রথম বড় মুখ। এখনো স্পষ্ট নয়, জোহরানের মতো ডেমোক্র্যাটরা দলটিকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যাবেন, নাকি আরও গভীর অন্ধকারে নিয়ে যাবেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিআর পদ্ধতিতে ভোট ঐকমত্য না হলে গণভোট: ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১০ দল
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের বিশ্বাস ও আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। এই সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে। আজ দরকার রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। জুলাই অভ্যুত্থান শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের জন্য ছিল না, এটি ছিল একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আন্দোলন। তিনি বলেন, ২৪’র জুলাইয়ের ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না করে নির্বাচন করা চলবে না। গণহত্যা, গুম, লুটপাটের জন্য ফ্যাসিস্ট চক্রের কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না।
নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে তিনি বলেন, যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তাদের তত আসন থাকতে হবে। এটি জনগণের, জেনজি প্রজন্মের এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের যৌক্তিক দাবি। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে। চরমোনাই পীর বলেন, বারবার রক্ত দিয়েছি, কিন্তু সফলতা পাইনি, কারণ ভুল নেতা ও নীতির হাতে দেশ তুলে দিয়েছি। এবার ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সময় এসেছে। এক বাক্সে ভোট নিলে ইসলামপন্থিরাই হবে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল এই অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা নিঃস্বার্থভাবে এই সরকারের পাশে আছি। তবে সরকার যেন সংস্কার ও নিরপেক্ষতার পথ থেকে বিচ্যুৎ না হয়।
রেজাউল করীম বলেন, দুর্নীতি থেকে মুক্তি ও সুশাসনের জন্য এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান ঘটেছে। আর সময় নেই রাষ্ট্র সংস্কার এখনই করতে হবে। সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলছি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ ‘জালেম’ হবে না। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। পতিত সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার করেছে, নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই, অবশ্যই বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে দেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি আসবে। আমরা অতীতে নেতা নির্বাচনে ভুল করেছি। এবার ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু ইসলামপন্থি নয়, দেশপ্রেমিক সকল দলকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে একটি শক্তিশালী জোট হতে পারে। গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারে অনেকে গড়িমসি করছেন, এটা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এই অবস্থায় সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য না হলে গণভোট আয়োজন করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্বে আপনারা থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ্ থাকবো। কিন্তু আমরা আর পুরনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বহাল থাকতে দেবো না। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবো।
ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই একটি সমৃদ্ধ, ব্যবসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে। আমাদের তরুণদের বলছি, আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেবো। নারী আমাদের জনশক্তির অর্ধেক। দেশ গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নারীকে পণ্য বানাতে দেবো না। আমরা চাই রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ও একটি দক্ষ প্রশাসন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মহাসমাবেশ থেকে ফিরে গিয়ে কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করুন। ঘরে ঘরে যান, ভোটারদের ইসলামের দাওয়াত দিন, ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরুন। ৫ই আগস্টের পর ইসলামের পক্ষে যে গণআন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সেখানে আমরা যদি সোচ্চার না হই, তাহলে এ মাটিতে আগাছা জন্মাবে। যারা নুরুল হক নুরের মতো দেশপ্রেমিক মানুষকে অপমান করেছে, যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়, তাদের উৎখাত করতে হবে।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আহ্বানে ভেদাভেদ ভুলে সকল ইসলামিক দল এক হয়েছে। তার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে বার্তা হচ্ছে পিআর পদ্ধতি ছাড়া জনগণ নির্বাচন মেনে নিবে না। নির্বাচনের পূর্বে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ছাত্র-জনতার রক্ত আমরা ব্যর্থ হতে দেবো না। আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতার প্রমাণ নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ সময় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করতে হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা জন্ম দিতে চাই না। জুলাই সনদ ৫ই আগস্টের পূর্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় ঐকবদ্ধতার মধ্যদিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করবো।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এ মঞ্চে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাবেশ শুধু একটা দলের দেখেছেন সামনে আরও অনেক দল করবে। সংস্কার কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দু’-একটি দলের উপর ভিত্তি করে সংস্কারের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা যাবে না। দু’-একটা দলকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুঃসাহস দেখাবেন না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ সরকারের অধীনে দিতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, হাজার হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছে পূর্বের সিস্টেমের পরিবর্তনের জন্য। নতুন বাংলাদেশ কোনো টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের জায়গা হবে না। উচ্চ কক্ষের নির্বাচনে পিআর পদ্ধতিতে প্রায় সকল দল একমত হয়েছে। কিন্তু একটি দলের আপত্তির কারণে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পেশি শক্তির বলে জোর-জবরদস্তি করে নির্বাচনে জয়ের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। কোনো শক্তি বাংলাদেশের সংস্কারে আন্দোলন দাবায় রাখতে পারবে না। এ সময় তিনি পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ইসলামী আন্দোলন আমাদের অন্যতম সহযোদ্ধা, কে কি বলেছে তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তত্যাগ ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চললে কোনো বিদেশি এজেন্টদের চক্রান্ত আমাদের কিছু করতে পারবে না।
২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামী বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না। মাদ্রাসার ছাত্রদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানে মাদ্রাসার ছাত্র ভাইদেরকে পাঞ্জাবি, টুপি দেখে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। আগামীর বাংলাদেশে তারা যেন টার্গেট কিলিং-এর শিকার না হয় সে জন্য সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হবে। জনগণের প্রতিনিধিত্বে পিআরের বিকল্প নেই। তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে সবাইকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন চাই, বিএনপি কেন মানছে না। বিএনপি তো বলেছেন আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। আর জাতীয় সরকার গঠনের জন্য ভালো সিস্টেম হলো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। জাতীয় সরকার হবে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক সরকার। সকল দলের অংশগ্রহণে একমাত্র পিআর সিস্টেমে সরকার গঠন করতে পারে।
এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের নানা রকমের মাজহাব আছে, নানা তরিকা ও নানা সংস্কৃতি আছে। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার একত্মবাদের ক্ষেত্রে এবং ইসলামে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন চান পিআর মানেন না, নির্বাচন চান স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক মানেন না কেন? আমরা এই টালবাহানা চলতে দিতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কারের মধ্যদিয়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন চায়। যতবার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রত্যেক গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং সংবিধান পরিবর্তন ও সংস্কার করেই নির্বাচন দিতে হবে।
এদিকে দিনব্যাপী এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যানবাহনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় সরকারি ছুটির দিন হলেও পথচারীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। সমাবেশে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের সভাপতি দয়াল কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে দলের মুখপাত্র এবং যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ১৬ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চলে গেলেন শেষ ঠিকানার কারিগর মনু মিয়া
জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। এর মধ্যে জীবনের সুদীর্ঘ ৪৯টি বছর তিনি নিরবছিন্নভাবে কবর খননের কাজ করেছেন। মানুষের শেষ বিদায়ে হয়ে উঠেছেন ভরসার প্রতীক। শেষ ঠিকানার একজন নিপুণ কারিগর ছিলেন তিনি। কারও মৃত্যু সংবাদ কানে আসামাত্রই খুন্তি, কোদাল, ছুরি, করাত, দা, ছেনাসহ সহায়ক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে ছুটে যেতেন কবরস্থানে। মানুষের অন্তিম যাত্রায় একান্ত সহযাত্রীর মতো তিনি বাড়িয়ে দিতেন তার আন্তরিক দু’হাত। নিখুঁত সুদক্ষ গোরখোদক হিসেবে মনু মিয়ার সুনাম রয়েছে দুর্গম হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, শাল্লা, আজমিরীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে। দূরের যাত্রায় দ্রুত পৌঁছাতে নিজের ধানিজমি বিক্রি করে বেশ কয়েক বছর আগে কিনেছিলেন ঘোড়াটিকে। আদর করে নাম দিয়েছিলেন, ‘বাহাদুর’। এই ঘোড়ার পিঠে তিনি তুলে নিতেন তার যাবতীয় হাতিয়ার-যন্ত্র। সেই ঘোড়ায় সওয়ার হয়েই শেষ ঠিকানা সাজাতে মনু মিয়া ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে। ঘোড়াটিই যেন তার বয়সের বাধা অতিক্রম করে দিয়ে তাকে সচল রেখে চলেছিল। নানা জটিল রোগে কাবু হয়ে সমপ্রতি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। এ রকম পরিস্থিতিতে গত ১৪ই মে তাকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলার সময়ে নিঃসন্তান মনু মিয়ার সন্তানসম ঘোড়াটি বর্বরতার বলি হয়। তার প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যার ঘটনা মানবজমিন-এ ছাপা হলে দেশ জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। সমপ্রতি চিকিৎসা শেষে স্ত্রী রহিমা বেগমকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রিয় ঘোড়াটির শূন্যতা সব সময় অনুভব করছিলেন তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, June 28, 2025
গাজায় সাহায্যপ্রার্থী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ: স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনারা
অন্য এক সেনা বলেন, আমরা যে এলাকায় ছিলাম, সেখানে প্রতিদিন ১ থেকে ৫ জন পর্যন্ত নিহত হতো। পুরো জায়গাটা যেন হত্যার ময়দান। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আইন বা সেনাবাহিনীর নির্দেশের ব্যত্যয় হলে তা তদন্ত করা হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা আমাদের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাতজ এই প্রতিবেদনকে আইডিএফের বিরুদ্ধে রক্তমাখা অপবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে হারেৎস জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক আদালতের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং অ্যাসেসমেন্ট মেকানিজম’ ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্য ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৫৪৯ জন নিহত এবং ৪,০৬৬ জন আহত হয়েছেন। জিএইচএফের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বহু সংস্থা সমালোচনা করছে। কারণ এই কেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এই কেন্দ্রগুলোকে মানবিক সাহায্যের ছদ্মবেশে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে।
জর্ডানের আম্মান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হামদা সালহুত বলেন, গাজার মানুষ বলছে এই সাহায্য কেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যুর ফাঁদ। পছন্দ মাত্র দুটো— না খেয়ে মরো, অথবা খাবার নিতে গিয়ে গুলিতে মরো। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এ ধরনের একটি রিপোর্ট ছাড়াও এটা বোঝা যায় যে গাজায় আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়, তখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনারা
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার ইসরাইলের হারেৎজ পত্রিকায় ওই খবর প্রকাশ করা হয়। যেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিলিয়নিয়ারের বিয়ে: ৩০-ক্যারেট হীরেও যথেষ্ট নয়
বোশফ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, আপনি জানেন আপনি সত্যিই সেই এক হাজার ভাগের এক ভাগের শ্রেণিতে পৌঁছেছেন, যখন ৩০-ক্যারেট হীরাও বিয়ের জন্য যথেষ্ট মনে হয় না।
বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, অপরা উইনফ্রে, কারদাশিয়ান পরিবার, অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবং অনেকে। যদিও দাবি করা হয়েছিল এটি ছিল নিকট আত্মীয়দের জন্য একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বাস্তবে তা ছিল এক তারকামণ্ডিত আয়োজন।
লরাঁ সানচেজ পরেছিলেন ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের ডিজাইন করা একটি সাদা করসেট ওয়েডিং গাউন। শরীরঘেঁষা, ফুলেল স্লিভস ও বিশাল ট্রেইনের সেই গাউন ছিল ইতালির মিলানে তৈরি। তার হেয়ার-মেকআপ টিমের সদস্য ছিলেন পাঁচজনেরও বেশি। বিয়ের আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজেকে রাজকন্যার মতো মনে করেছিলাম।
জেফ বেজোসও ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের কালো টাক্সেডো পরে আসেন, সানগ্লাস পরে, চওড়া হাসি নিয়ে। বিয়ের সময় গান গেয়ে মন জয় করেন বিখ্যাত টেনর আন্দ্রেয়া বচেলির পুত্র মাত্তেও বচেলি। বিয়ের ডিনারটি হয়েছিল ঝাড়বাতি ও মোমবাতির আলোয়। খাবারের মধ্যে ছিল স্প্যাগেটি আলা নেরানো- সোরেন্তো উপদ্বীপের ৩-তারকা রেস্টুরেন্ট কুয়াত্রো পাসি থেকে। লেমন-রিকোটা ডেজার্ট নেয়া হয় সাল ডে রিসো পেস্ট্রি দোকান থেকে। বিয়ের কেক তৈরি করেন ফ্রান্সের লা মোরিস রেস্টুরেন্টের প্রধান পেস্ট্রি শেফ সেদ্রিক গ্রোলে। অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুম এবং সাবেক ফুটবল তারকা টম ব্র্যাডি ঘনিষ্ঠ সময় কাটান। ব্লুমকে দেখা যায় রোমান আব্রামোভিচের সাবেক স্ত্রী ডাশা ঝুকোভার পাশে, যা রটনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। কেটি পেরির অনুপস্থিতিতে লরাঁ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন — ‘উই মিস ইউ, কেটি’।
পরবর্তী আয়োজন
এই বিয়ে ছিল শুধু শুরু। পরদিন রাতেই অর্থাৎ শনিবার রাতে ভেনিসের আর্সেনালে’তে একটি গালা পার্টি এবং পরদিন সকালে পাজামা ব্রাঞ্চ পার্টি আয়োজন করা হয়েছে। জেফ ও লরাঁ আগে থেকে থাকা মোট ৭ সন্তানও বিয়েতে উপস্থিত ছিল। এমনকি লরাঁর সাবেক প্রেমিক এবং সন্তানের পিতা টনি গনজালেজ ও তার স্ত্রী টোবি-ও অতিথি হিসেবে ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান আসলেই কি ‘কমিউনিস্ট’, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫ জুন নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘জোহরান মামদানি ১০০ ভাগ পাগলাটে কমিউনিস্ট।’
রক্ষণশীল ঘরানার পডকাস্ট উপস্থাপক নিক সোরটর ২৩ জুন এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘জোহরান মামদানি শুধু সমাজতন্ত্রী নন, তিনি একজন পুরোপুরি কমিউনিস্ট।’ তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে জোহরান নগর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মুদির দোকানের নেটওয়ার্ক তৈরির কথা বলছেন। সোরটরের ভাষায়, ‘(জোহরান) বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়েও অনেক বেশি বামপন্থী। তিনি সরকার পরিচালিত মুদির দোকান চান।’
দ্য ডেইলি ওয়্যারের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং পডকাস্টার বেন শ্যাপিরো বলেন, ‘আজকের সবচেয়ে বড় খবর: নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে যাচ্ছেন একজন কমিউনিস্ট।’ রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকও এক্সে জোহরানকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন।
জোহরানের নির্বাচনী মঞ্চের পক্ষ থেকে গণপরিবহন, বাসস্থান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় করার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি শিল্পকারখানা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মতো কমিউনিজমের মূল বৈশিষ্ট্যের পক্ষে অবস্থান নেননি।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক আনা গ্রিজমালা-বুস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট পলিটি-ফ্যাক্টকে বলেছেন, ‘জোহরান কমিউনিস্ট নন। কমিউনিজম অর্থ হলো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতি, যেখানে বাজারের ভূমিকা নেই। এ ব্যবস্থায় সব দাম ও পরিমাণ ঠিক করে কেন্দ্রীয় সরকার। একদলীয় শাসন চলে, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না—জোহরান এসবের কিছুই চান না।’
মার্কিন রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ বা কমিউনিস্টদের দোসর বলে দাগিয়ে দেওয়া বহু পুরোনো একটি বিভ্রান্তকর কৌশল, যা বার্নি স্যান্ডার্সের মতো কিছু গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীর জনপ্রিয়তার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে দেখা যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে জোহরানের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নেন। এর মধ্য দিয়ে জোহরানের নাম জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আগামী নভেম্বরে নিউইয়র্ক নগরে মেয়র পদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোহরানের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া। তিনি সিভিলিয়ান ক্রাইম ফাইটিং গ্রুপ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলসের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। অন্যদিকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ কুমো স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা এখনো নাকচ করে দেননি।
জোহরানের মঞ্চের প্রচার
জোহরান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য। তিনি নিউইয়র্ক নগরের কুইন্স বরোর একটি অঞ্চলে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। জোহরান নিউইয়র্ক নগরের ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার একজন সদস্য। সংগঠনটি মেয়র পদে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে।
এই সংগঠনের লক্ষ্য হলো ‘জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের মতো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলো যৌথ মালিকানায় আনা’ এবং ‘এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মক্ষেত্র, পাড়া ও বৃহত্তর সমাজে বাস্তব ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়’।
জোহরানের নির্বাচনী ইশতেহারের কয়েকটি ঘোষণা হলো যেসব ভবনে আগে থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারিত আছে, সেসব স্থানে ভাড়া বৃদ্ধি পুরোপুরি স্থগিত রাখা। প্রতিটি বরোতে সিটি করপোরেশন পরিচালিত একটি মুদিদোকান চালু করা। চলতি মাসে স্পেকট্রাম নিউজ এনওয়াইওয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, এসব দোকান যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের পৌর মালিকানাধীন মুদিদোকানের আদলে গড়ে তোলা হবে।
জোহরানের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন ও শিশুদের দেখাশোনার সুবিধা দেওয়া; করপোরেট কর বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা অন্যতম।
জোহরান ব্যক্তিগত মালিকানা বিলুপ্ত করার কোনো দাবি তোলেননি। তাঁর ওয়েবসাইটে উল্লেখিত লক্ষ্যগুলোর একটি হলো, ‘ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করা আরও দ্রুত, সহজ এবং সাশ্রয়ী করা।’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যেন সহজেই ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারেন, সেটাই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য।
জোহরান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আবাসন নির্মাণে ব্যক্তিগত বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা এখন তিনি পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেন। তাঁর পরিকল্পনায় সরকার সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করবে, তবে পুরো আবাসন খাত নিয়ন্ত্রণ করবে না।
এই মেয়র প্রার্থী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আবাসন নির্মাণে বেসরকারি বাজারের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর আগের মত বদলে গেছে। তাঁর কথায়, ‘আমি এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি, এখানে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।’
জোহরানের ওয়েবসাইটের সঙ্গে এ বক্তব্য মিলে যায়, যেখানে বলা হয়েছে, সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করা উচিত। তবে সম্পূর্ণ আবাসন খাতের নিয়ন্ত্রণ সরকারের নেওয়া ঠিক হবে না।
কমিউনিস্ট ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীর মূল পার্থক্য
জোহরান মামদানির নীতি-আদর্শ নিয়ে সাতজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে আল–জাজিরা। তাঁদের কেউই তাঁকে কমিউনিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করেননি।
নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বরো অব ম্যানহাটান কমিউনিটি কলেজের রাজনীতিবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জেফ্রি কার্টজ বলেন, ‘জোহরানকে কমিউনিস্ট বলা একেবারে মানহানিকর একটি বিষয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদেরা যখন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিজম’ বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তাঁরা সাধারণত ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিদ্যমান উদার সামাজিক বিমা কর্মসূচিগুলোকে বোঝান। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা শিশুসেবায় উচ্চ ভর্তুকি, পাশাপাশি ধনীদের ওপর উচ্চ করারোপকে বোঝান, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়।
বারুচ কলেজের অধ্যাপক টেড হেনকেন বলেন, জোহরান ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা শেষ করে দেওয়ার বা কোনো শিল্প সরকার কর্তৃক দখল করার পক্ষে নন; বরং তিনি নিউইয়র্ক নগরের জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পক্ষে।
এই অধ্যাপক বলেন, ‘জোহরানকে যাঁরা সমর্থন করছেন, তাঁরা কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী নন। তাঁরা তাঁকে সমর্থন করছেন; কারণ, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলার সমাধান প্রস্তাব করেছেন।’
এই ডেমোক্র্যাট মেয়র প্রার্থীর একটি নির্বাচনী টিকটক ভিডিওতে বলেছেন, ‘করপোরেট সুপারমার্কেটগুলোর জন্য যেসব সরকারি অর্থ বা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকে, সেগুলো সরিয়ে এনে শহর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মুদিদোকানগুলোর পেছনে খরচ করা হবে। নগর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত দোকানগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছোট ব্যবসা ও খামারিদের সঙ্গে কাজ করবে।’
রাজনৈতিক তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, জোহরানের অধিকাংশ প্রস্তাবই পশ্চিমা গণতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।
ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক অক্সানা শেভেল বলেন, ‘ফ্রান্স থেকে কানাডা পর্যন্ত বহু পশ্চিমা গণতন্ত্রে বিনা মূল্যে বা ব্যাপক ভর্তুকির শিশুসেবা এবং গণপরিবহনের মতো নীতিমালা রয়েছে।’
অন্যদিকে কমিউনিস্ট সরকার শুধু ভাড়া বা কিছু সুপারমার্কেট নয়; বরং বাজারব্যবস্থাসহ সবকিছুর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সবচেয়ে বড় কথা, কমিউনিজমে কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল থাকে না।
অক্সানা বলেন, ‘তিনি এমন কিছু প্রচার করছেন না। তাই তিনি কমিউনিস্ট নন।’
আমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান কমিউনিজমের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ হার্ভে ক্লেহার বলেন, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিজম কমিউনিজমের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ক্লেয়ার বলেন, ‘অন্তত তত্ত্বগতভাবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীরা কমিউনিজমের কিছু ধারণা প্রত্যাখ্যান করে থাকে। যেমন শ্রমিকশ্রেণির অগ্রদূত বা নেতৃত্বদানকারী দল (ভ্যানগার্ড অব দ্য প্রলেতারিয়েত), প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানার মতো ধারণাগুলোকে তাঁরা স্বীকার করেন না। তবে পুঁজিবাদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের মতো কিছু বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মিল আছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, জোহরানের ইশতেহারের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলোর কারণে তাঁকে কমিউনিস্ট বলা যাবে না।
বিশেষজ্ঞ মতামত -আল জাজিরা
![]() |
| নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটিতে, ২৫ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মামদানির জয় থেকে ডেমোক্র্যাটরা কি শিক্ষা নেবেন by বার্নি স্যান্ডার্স
ডেমোক্র্যাটরা চাইলে সেই তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে অবহেলা করতে পারেন, যে প্রজন্ম সম্ভবত তাদের মা-বাবার চেয়েও খারাপ সময়ের মুখোমুখি হবে। তাঁরা চাইলে কোটি কোটি ডলার চাঁদা দেওয়া ধনকুবের আর বাস্তবতা না-জানা সেই পরামর্শকদের ওপর নির্ভর করে চলতে পারেন, যাঁরা লাখ লাখ ডলার খরচ করে দলের প্রচারে একঘেয়ে, ক্লিশে ও সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বহীন ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বানান।
ডেমোক্র্যাটরা চাইলে সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকেও এড়িয়ে যেতে পারেন, যে বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি নাগরিক গণতন্ত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারণ, তারা অনুভব করে না যে সরকার তাদের জীবনযন্ত্রণা বোঝে বা কোনো সমাধান দিতে চায়। অথবা ডেমোক্র্যাটরা চাইলে জোহরান মামদানির মঙ্গলবারের বিজয় থেকে একটি শিক্ষা নিতে পারেন। সেই শিক্ষা হলো, মানুষের মুখোমুখি হয়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটগুলো সাহস করে তুলে ধরতে হবে। সেই সঙ্গে ধনিক শ্রেণির লোভ ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং এমন একটি কর্মসূচির পক্ষে লড়তে হবে, যা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনকে উন্নত করতে পারে।
মোদ্দাকথা, ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে এখন দুটি রাস্তা। একটি হলো পুরোনো ভুল পথে চলতে থাকা; আরেকটি হলো, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন কিছু করা। অনেকে বলছেন, মামদানির বিজয় কেবল তাঁর ব্যক্তিত্ব আর ক্যারিশমার ফল। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি এক চমৎকার প্রার্থীর উদাহরণ। কিন্তু শুধু ভালো প্রার্থী থাকলেই এমন বিজয় আসে না। জয়ের পেছনে থাকতে হয় অসাধারণ এক তৃণমূল আন্দোলন। হাজার হাজার মানুষ যদি আগ্রহ নিয়ে দরজায় দরজায় গিয়ে তাঁর পক্ষে প্রচার না করত, তবে এমন জয় সম্ভব হতো না।
আর এই আন্দোলন গড়ে ওঠে তখনই, যখন এর পেছনে থাকে এমন একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচি, যা সাধারণ মানুষের প্রয়োজন আর কষ্টের কথা বলে। নিউইয়র্কের মানুষ এবং গোটা আমেরিকান জনতা জানে, এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কারও জন্য শুধু খাওয়া, ঘরভাড়া দেওয়া বা ডাক্তার খরচ মেটাতে যুদ্ধ করার মতো কষ্ট করা উচিত নয়।
ডেমোক্রেটিক পার্টির পেইড কনসালট্যান্টরা হয়তো জানেনই না, এই সাধারণ মানুষগুলো আসলে কী চায়, তারা কোথায় থাকে। মামদানির ‘চরমপন্থী’ বা ‘অবাস্তব’ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা হচ্ছে ঠিকই; কিন্তু তৃণমূল মানুষ জানে, এই নীতিগুলো আসলে তাদেরই কথা বলছে।
আজকের দুনিয়ায় যেখানে ধনী আর সাধারণ মানুষের মধ্যে আয় ও সম্পদের পার্থক্য ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে, সেখানে ধনী ব্যক্তি আর বড় করপোরেশনগুলোর উচিত তাদের ন্যায্য পরিমাণ কর দেওয়া। মামদানির মতো নেতাদের দাবি এটিই। যখন অনেক নিউইয়র্কবাসী আর সস্তায় ভাড়া বাসা খুঁজে পাচ্ছে না, তখন ভাড়া না বাড়ানোর জন্য একটি স্থগিতাদেশ দরকার—এটিও মামদানির দাবি। যখন একজন শ্রমিকের প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পেছনে বেতনের একটি বড় অংশ চলে যায়, তখন গণপরিবহন বিনা মূল্যের হওয়া উচিত। এটিও মামদানির ভাবনা।
যখন অনেক নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া পরিবার ভালো খাবার কিনতে পারছে না; তাদের জন্য সরকার পরিচালিত পাড়াভিত্তিক মুদিদোকান প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এই দাবিও এসেছে তাঁর পক্ষ থেকে। এসব দাবি শুনে অনেকেই বলবে ‘চরমপন্থী’। কিন্তু আসলে এগুলো খুবই সাধারণ মানুষের বাস্তব চাহিদা। হ্যাঁ, ধনীরা বা বড় দাতারা বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা হয়তো এসব চান না। কিন্তু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ঠিক এই জিনিসগুলোই চায়। তাই হয়তো এখন সময় এসেছে এই মানুষগুলোর কথা শোনার।
মামদানির জয় কোনো তারকাখ্যাতির জন্য হয়নি। এটি হয়েছে সাধারণ মানুষের শক্তিতে। এই আন্দোলন মানুষকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট নয়, বরং নিজের জীবনে যেসব সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে, সেগুলো নিয়ে কথা বলার অধিকার দাবি করাও গণতন্ত্র। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মামদানি সেই নৈতিক প্রশ্ন থেকে পালিয়ে যাননি, যা শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোটি মানুষের মনে আঘাত দিচ্ছে। সেটি হলো ইসরায়েলের চরমপন্থী নেতানিয়াহুর সরকারের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র যেন সামরিক সহায়তা না দেয়। গাজার শিশুদের অনাহারে মারা যাওয়া কেউ চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে পারে না।
মামদানি জানেন, আসলেই, ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) একটি জঘন্য ও বিপজ্জনক চিন্তাধারা। কিন্তু নেতানিয়াহুর মতো একজন নেতার অমানবিক নীতির সমালোচনা করা মানেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়। মামদানির নির্বাচনী লড়াই আমাদের শেখায়, শুধু ট্রাম্পের বা তাঁর ধ্বংসাত্মক নীতির সমালোচনা করলেই চলবে না; আমাদের দরকার একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ চিন্তা। দরকার এ প্রশ্নের জবাব—এই পরিস্থিতি কেন হলো, কেন আজ অধিকাংশ আমেরিকান পিছিয়ে পড়ছে?
বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শিক্ষা নেবেন কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। সম্ভবত নেবেন না। কারণ, তাঁদের অনেকেই এমন অবস্থায় আছেন, যেখানে তাঁরা নিজেরাই সেই ডুবতে থাকা জাহাজ ‘টাইটানিক’-এর ক্যাপ্টেন হয়ে থাকতে চান; কিন্তু দিক পরিবর্তন করতে চান না। তবে তাঁরা কী ভাবছেন, সেটা এখন খুব একটা গুরুত্বপূর্ণও নয়। কারণ, মামদানির বিরুদ্ধে এই ‘সিস্টেম’-এর পক্ষ থেকে সবকিছুই মাঠে নামানো হয়েছিল। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সুপার প্যাক অর্থায়ন, নামীদামি মানুষের সমর্থন, পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যম—সব নামানো হয়েছিল। তবু তাঁরা মামদানিকে হারাতে পারেননি।
● বার্নি স্যান্ডার্স, মার্কিন সিনেটর এবং সিনেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশন-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান সদস্যদের একজন
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
| নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জোহরান মামদানি। পাশে মা মিরা নায়ার (বাঁয়ে), বাবা মাহমুদ মামদানি ও স্ত্রী রমা দুওয়াজি। যুক্তরাষ্ট্র, ২৫ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলাই সনদ ও যোদ্ধা নিয়ে এলোমেলো কিছু প্রশ্ন by মহিউদ্দিন আহমদ
কিন্তু তারপর? দেশে এখন অনেক স্টেকহোল্ডার। শত শত রাজনৈতিক দল। সবাই সরব। যে দল যত ছোট, তার নেতার গলার স্বর তত চড়া। সবাই পাবলিকের অভিভাবক হয়ে গেছেন। এখন সবার নজর একটা সনদের দিকে। তৈরি হবে জুলাই সনদ। এটা নাকি হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে।
জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। আপাতত আমরা এটুকুই জানি। ভেতরের খবর জানি না। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত নেতারা অবশ্য বলছেন, এই আন্দোলনের পেছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এ দেশের রাজনীতির একটি উপাদেয় খাদ্য। আমরা সেটি চর্বণ করে চলেছি দশকের পর দশক, শতাব্দীর পর শতাব্দী। যেকোনো পরিবর্তনের পেছনে আমরা ষড়যন্ত্র দেখি। এই তত্ত্বের ফেরিওয়ালারা শিগগিরই ষড়যন্ত্রকারীদের হদিস বের করে আনবেন আশা করি।
কথা হচ্ছিল জুলাই সনদ নিয়ে। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছিল পরিবর্তনের ডি-ডে বা মাহেন্দ্রক্ষণ। সে সময়ই এই সনদ উপস্থাপিত হওয়ার কথা। আমরা কী চাই, কোথা থেকে কোথায় যেতে চাই, কী প্রক্রিয়ায় যেতে চাই—এসব কথা নিয়ে একটা প্যারাগ্রাফ তখনই আশা করা গিয়েছিল। তখন সমন্বয়কদের কথা মানুষ শুনত। তাঁদের প্রতি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা ছিল। সেটি হয়নি। এতে বোঝা যায়, সবাই ডি-ডের জন্য অপ্রস্তুত ছিলেন।
যে সনদ দেওয়ার কথা আন্দোলনকারীদের, সেটির খসড়া এখন তৈরি করছে সরকার। মানে, এটি হতে যাচ্ছে একটি সরকারি সনদ, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমর্থন চাওয়া হবে। এটি কাটছাঁট করে গৃহীত হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে। রাজনৈতিক ঐকমত্য? সে আবার কী? সব পক্ষই চাইছে নিজেদের কিছু ‘পেট ওয়ার্ড’ বা বাঁধা বুলি সনদে ঢুকিয়ে দিতে। এ নিয়ে সবাই একমত হবে, এট দুরাশা বৈ কিছু নয়। আমার বুঝে আসে না, এই সনদের শব্দাবলি নিয়ে পরস্পরবিরোধী দলগুলো কীভাবে একমত হবে। যদি হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে এটি হবে আরেকটি বিপ্লব।
আচ্ছা, সনদ নিয়ে আমরা এত ধস্তাধস্তি করি কেন? সনদের লেখাগুলো কি আমাদের জীবন পাল্টে দেবে? বাহাত্তরের সংবিধানের প্রস্তাবনায়—এ দুনিয়ার সব সুন্দর ও মুখরোচক শব্দ ছেঁকে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমরা গণতন্ত্র পেলাম, সমাজতন্ত্রও পেলাম। ধর্মনিরপেক্ষতাও জ্বলজ্বলে করে জ্বলল। জাতীয় রাষ্ট্রের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হলো জাতীয়তাবাদ। সেটিকে তো আর বাদ দেওয়া যায় না! তারপর মানবাধিকারের মোহন শব্দাবলিও ঠাঁই হলো এই কিতাবে। তাতে হলোটা কী? শুরু থেকেই একটির পর একটি হোঁচট খেয়ে পড়তে লাগল।
সংবিধানের এই শব্দগুলো থেকে গেল কাগজেই। যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ লেখাপড়া জানেন না, সাক্ষরতা বলতে শুধু নাম সই বা বড়জোর ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত যাওয়া, তাঁরা জানতেও পারলেন না যে এই পবিত্র কিতাবে তাঁদেরকে দেশের মালিকানা দেওয়া আছে। জানেন না বলেই তাঁদের প্রতি ভুঁইফোড় মালিক সমিতির দায় নেই। নতুন আরেকটি সনদ নাজিল হলে তাতে পরিস্থিতির কি হেরফের হবে? দেশের প্রকৃত মালিকেরা তো জানতেই পারবেন না, কী লেখা আছে তাতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সংবিধান চোখে দেখেননি। পড়ে দেখা তো দূরের কথা। সেখানে কী থাকল আর কী বাদ গেল, তাতে তাঁদের কী যায় আসে?
------- দুই.
একাত্তরে ছিল মুক্তিযোদ্ধা। চব্বিশে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। আমরা এখন পাচ্ছি ‘জুলাই যোদ্ধা’। জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাঁরা নানান রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। চিকিৎসা পাবেন, চাকরি পাবেন, ভাতা পাবেন। এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে ভাগ্যান্বেষণে আসা যোদ্ধারা টাকা, তালুক ও গনিমতের মালের জন্য রাজশক্তির হয়ে লাঠি-তলোয়ার-বন্দুক ধরত। এরা ছিল মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈন্য। নানান ইহজাগতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশকে আমরা ইতিমধ্যেই ভাড়াটে সৈনিক বানিয়ে দিয়েছি। সেখানে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। কোনোমতে একটা সনদ জোগাড় করতে পারলেই বসে বসে মোটা অঙ্কের একটা ভাতা পাওয়া যায়।
আবার রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কপালে সনদ জোটেনি। জুলাই যোদ্ধাদের নিয়েও হচ্ছে এই তেলেসমাতি। যে কোটার বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন, সেই কোটার ফাঁদেই আবার ফেলা হচ্ছে তাঁদের। এর ফলে জনগণের অবশিষ্ট অংশ থেকে তাঁদেরকে সহজেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, যাঁরা চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব অবশ্যই সমাজকে নিতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটি করা হয়নি। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের নামে যে মোটাতাজাকরণ প্রকল্প চালু হয়েছিল, সেটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সমাজের চোখে তাঁদেরকে একটা বিশেষ সুবিধাভোগী সম্প্রদায় হিসেবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার এ ধারণা সুবিবেচনা থেকে আসেনি।
একাত্তরে ও চব্বিশে যাঁরা লড়াই করেছেন, তাঁরা এটা তাঁদের নিজেদের জন্য করেননি। তাঁরা লড়েছেন দেশের সব মানুষের মুক্তির জন্য। নানান উৎকোচ দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করে, তাঁদের আনুগত্য কিনে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এখনো হচ্ছে। যোদ্ধাদের উচিত, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। তা যদি না হয়, এসব উৎকোচের ভাগ পেতে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে। ব্যাঙের ছাতার মতো অগুনতি যোদ্ধা পয়দা হবে। চলবে ঘুষবাণিজ্য, যেমনটি করেছিল আগের সরকারগুলো। তার আলামত দেখা যাচ্ছে।
--------- তিন.
ভোটার হওয়ার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটা ন্যূনতম বয়স আছে। সেটি আরও কমানোর প্রস্তাব উঠেছে। রাজনৈতিক মতলব থেকেই এই চিন্তা এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বিলুপ্ত করার একটা প্রবল আকাঙ্ক্ষা আছে অভিভাবকদের। এমনকি যাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোর হোমরাচোমরা, তাঁরাও তাঁদের সন্তানদের ছাত্ররাজনীতি করতে দেন না। বিশ্বাস না হলে জরিপ চালিয়ে দেখতে পারেন। এ নিয়ে যাঁরা বিরাজনীতিকীকরণের উদ্ভট চিন্তা করেন, তাঁদের সন্তানদের খোঁজ নিয়ে দেখুন, তারা কে কোথায় কী করছে, কী পড়ছে। আমার সন্তান দেশে বা বিদেশে পড়াশোনা করবে আর অন্যের সন্তান আমার লাঠিয়াল হবে—এই হচ্ছে এ দেশের তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির মোজেজা। মালিক রাজনৈতিক দলের নেতার নামে জিন্দাবাদ আর প্রতিপক্ষ দলের নেতাকে পেটানো ছাড়া এদের আর কী কাজ?
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাঠি, চাপাতি, রামদা, ককটেল, বন্দুক—সবই আছে। শিক্ষকদের দলাদলি আছে। তাঁরা রাজনৈতিক আনুগত্য দেখিয়ে প্রভোস্ট, উপাচার্য, নানান কমিশনের সদস্য কিংবা রাষ্ট্রদূত হতে চান। নেই শুধু লেখাপড়াটা। কতটুকু অবক্ষয় হলে হাতে গোনা কয়েকজনের দাবি আর অবরোধের ধুয়া তুলে গোটা একটা ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দিয়ে দেওয়া হয়! মব কালচারের শুরু তো এখান থেকেই।
একদিকে তারুণ্যের জয়গান গাইবেন, অন্যদিকে তাদেরকে ধরেবেঁধে দলীয় রাজনীতির কুয়ার ভেতরে ছুড়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ঝরঝরে করে দেবেন। একটা প্রজন্ম পরীক্ষা না দিয়েই ডিগ্রি পেয়ে যাবে। জেনেবুঝে কেউ তাদেরকে চাকরি দেবে? তাহলে তারা যাবে কোথায়? ঘটিবাটি বেচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে গিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে ১০ বাই ১০ একটা কামরায় ২০ জন গাদাগাদি করে শুয়ে থাকার বন্দোবস্ত, নাকি দালাল ধরে স্বপ্নের স্বর্গ ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরা? অথবা কোনো নেতার লাঠিয়াল হয়ে তাঁর উচ্ছিষ্ট খেয়ে কিংবা চাঁদাবাজি করে জীবন কাটানো?
● মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
* মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চীন কেন দূরে বসে দেখেছে by লাইল গোল্ডস্টিন
কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি যেটা বললেন, সেটা আমাকে বিস্মিত করেছিল। তিনি ব্যাখ্যা দিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে সেটি চীনের জন্য লাভজনক হবে। কারণ, এ ধরনের যুদ্ধ ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য অবসানের’ সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। চীনারা বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যকে ‘সম্রাজ্যের কবরস্থান’ হিসেবে বিবেচনা করে।
বর্তমানে বৈরিতা কিছুটা স্তিমিত হলেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কাও রয়েছে। সেটা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলের পক্ষে লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হতে পারে। আর চীন যদি ইরানকে (যেমনটা তারা পাকিস্তানকে করেছে) যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধ ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে, তাহলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাবে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত চীন অন্য কোনো দেশে তার সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রেখে চলেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এর ভূরাজনৈতিক সুফল চীন ঘরে তুলতে পারে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে চীন সরকার। বিবৃতিতে চীন বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লক্ষ্য ও নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন। এটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।’
২২ জুন চীনের দ্য গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ‘যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালছে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষকে আরও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে’।
এটাও ঠিক যে মধ্যপ্রাচ্যে চীন তাদের উপস্থিতি ক্রমে বাড়াচ্ছে। মাসখানেক আগে চীনের বিমানবাহিনী মিসরে এক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আকাশে জ্বালানি ভরার মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।
এক দশক ধরেই চীনের যুদ্ধজাহাজগুলো নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আসছে। গত মার্চে রাশিয়া, ইরান ও চীনের নৌবাহিনীর মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এখন প্রতিবছরের নিয়মিত আয়োজন।
অবশ্য এই সামরিক মহড়াগুলো ছোট পরিসরে হয়েছে। এই মহড়াকে শক্তি প্রদর্শনের হুমকি হিসেবে দেখা যায় না। সামগ্রিকভাবে চীন তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নীতি নেয়নি।
২০১৯ সালের মাঝামাঝি ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, সে সময় দেশটির নীতিনির্ধারকেরা সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।
একইভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে বেইজিং অস্বীকৃতি জানিয়েছে; বরং হুতিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চীন লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চেয়েছে।
চীন তার পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তির বদলে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। তবে এটা সত্য যে জিবুতিতে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে চীনের। তবে জিবুতি এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানেরও সামরিক ঘাঁটি আছে। ফলে জিবুতি বৈশ্বিক ক্ষমতা প্রদর্শন বা আঞ্চলিক আগ্রাসন বিস্তারের কেন্দ্র নয়।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। আরব দেশগুলোর মধ্যে চীনের অবস্থান ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি চীনের সহানুভূতির এখানে ভূমিকা রেখেছে। তবে চীন শুধু কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মরক্কো ও ওমানের মতো তুলনামূলক শান্ত দেশগুলোতেও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৩ সালে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় চীন। এটা পারস্য উপসাগরের ভূকূটনৈতিক রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়।
যাহোক, এ পরিস্থিতি যে যেকোনো সময় খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে, সেটা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকেই স্পষ্ট। এ সময়ে ইরানে চীন গোপনে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে—এমন গুজবও রটে।
আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এমন খবর আসে যে তেহরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করেছে চীন। ইরানে চীনের সামরিক সহায়তা পৌঁছনোর পথ হতে পারে পাকিস্তান—এমন কল্পনাও কেউ সহজেই করতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন এ বিষয়কে সতর্কতার সঙ্গে নিতে পারে।
এসব জল্পনার মধ্যে আমরা যেন মূল বিষয়টা ভুলে না যায়। সেটা হলো চীনের সঙ্গে ইরানের কোনো সামরিক জোট নেই। মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীন ইরানের কাছে বড় কোনো অস্ত্রব্যবস্থা বিক্রি করেনি।
এটি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রশংসনীয় সংযমের নজির। ওয়াশিংটনকে অবশ্যই এটাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, কেননা, তারা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।
এই মুহূর্তে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। একইভাবে চীনও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক দিক থেকে সক্রিয় না হওয়ায় পথে হাঁটছে। এটা এক দিক থেকে আশার কথা। কেননা, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে চীনের এই সংযমী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
সম্ভবত বেইজিং ‘পাহাড়ে বসে বাঘের লড়াই দেখার’ নীতি নিয়েছে।
* লাইল গোল্ডস্টিন, ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ প্রোগ্রামের এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
| চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা, আনিসাকে উদ্বিগ্ন না হতে বার্তা: এ কেমন মানবিকতা?
গত বৃহস্পতিবার সকাল। আনিসা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার। এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন। হঠাৎ আনিসার মা সুবর্ণা আহমেদ অসুস্থতা অনুভব করেন। বুকে ব্যথা নিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। বাবা নেই আনিসার। কী করবেন না করবেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। মাকে নিয়ে প্রতিবেশীর সহযোগিতায় যান মিরপুর ১ নম্বরে বাড়ির পাশের একটি হাসপাতালে। এরপর আসেন তার আত্মীয়স্বজনরা। মায়ের পাশে স্বজনদের রেখে তিনি রওনা দেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়ে যায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে। কিন্তু বাদ সাধে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা। বিলম্বের কারণে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি কেন্দ্রে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনেই বসে পড়েন তিনি। দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ান। কান্নাভেজা কণ্ঠে আকুতি জানান কেন্দ্রে প্রবেশের। এক হাত মাথায়, আরেক হাতে ফাইল। চোখে পানি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন বিচলিত হলেও গলাতে পারেনি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের মন। আনিসার কান্নার ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকারের তরফে অবশ্য আনিসার পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনিসার মা সুবর্ণা আহমেদ চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন তিনি শঙ্কামুক্ত। তবে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল টেলিফোনে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন সুবর্ণা আহমেদ। তিনি বলেন, আল্লাহ আমার বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। আমি ভালো আছি। আমাকে জানানো হয়েছে আনিসা পরীক্ষা দিতে পারবে।
আনিসার মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করে শিক্ষা বোর্ড। এরমধ্যে উপস্থিতির বিষয়ে বলা হয়, পরীক্ষার কেন্দ্রে নির্ধারিত কক্ষে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট আসনে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে বসতে হয়। পরীক্ষার প্রথম দিন অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিন পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে প্রবেশ করলেই হবে।
তবে বিশেষ কারণে কোনো পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্রে পৌঁছালে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ারও কেন্দ্রগুলোকে দেয়া আছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র প্রধান এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ শেষ হওয়ার পর কাউকে আর প্রবেশ করার সুযোগ না দিতে নির্দেশনা রয়েছে।
অনেকে বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় আনিসার পরীক্ষা নেয়া যেতো। আনিসার সঙ্গে থাকা তার খালা গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটির বাবা নেই। সকালে তার মা স্ট্রোক করেছেন। পুরো পরিবারে কেউ নেই যে, দায়িত্ব নিতে পারে। তাই মেয়েটিই মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায়। সেখান থেকে দৌড়ে এসে পরীক্ষা দিতে এলেও হলে ঢুকতে পারেনি।
এ বিষয়ে বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল হাসান বলেন, এখানে মানবিকতা ও আইন দুটোই আছে। এই ঘটনার পর আমি মেয়েকে বলেছিলাম, এমসিকিউ পরীক্ষা তো হয়ে গেছে। এখন তো তুমি পরীক্ষা দিলে পাস করতে পারবে না। কারণ এমসিকিউতে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। আমি জানি তার খারাপ লাগছিলো। খুবই স্বাভাবিক। আবার মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে ঢুকতে দিলে দেরি করে আসায় কেন ঢুকতে দেয়া হলো সেটা নিয়েও হয়তো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো।
তিনি আরও বলেন, আমি ওই মেয়ের কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে অনুরোধ করেছি যাতে যোগাযোগ করে পরবর্তী পরীক্ষা দিতে আসতে বলেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল হায়দার বলেন, মেয়েটি যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে তখন প্রায় দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষে এই সময় প্যাকেজিংও হয়ে যাওয়ার কথা। এই সময়ে পরীক্ষা নেয়া কতোটা সম্ভব ছিল এটাও একটা প্রশ্ন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, পরীক্ষার্থীদের জন্য যে নিয়ম আছে এটা তারা পালন করেছেন। তবে এই মেয়েটির পরিস্থিতির বিবেচনায় মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারতেন।
এদিকে, আনিসার বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা না নেয়া হলে তার হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি লড়াই করতে প্রস্তুত আছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।
এই পরীক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জেরে বার্তা এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেও। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, সেই পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার বলেন, মানবিক বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার এ দুঃসময়ে আমরাও সমব্যথি। এ পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুসলিমদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে নির্বাসন দিচ্ছে ভারত
মোদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাও এসব কথিত অভিবাসীদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের এই পদক্ষেপ প্রায় ২০ কোটি ভারতীয় মুসলমানের মধ্যে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এরমধ্যে বাংলাভাষীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখানে বলে রাখা ভালো ভারতের পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশে বাংলাভাষীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রবীণ ভারতীয় মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্ডার বলেছেন, ভারত সরকারের এমন পদক্ষেপে দেশের পূর্বাঞ্চলের মুসলিমরা বেশ আতঙ্কিত। এর মাধ্যমে লাখ লাখ ভারতীয় মুসলিমকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে বর্তমান ভারত সরকার।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ সীমান্তই ভারত বেষ্টিত। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় ঢাকার-দিল্লি সম্পর্কের বরফ আরও শক্ত হয়েছে। এদিকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে দিল্লি সরকার। কেননা ২৪ এপ্রিলের ওই হামলায় নিহত বেশির ভাগই ছিল হিন্দু। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে ৪ দিনের সংঘাত হয় এবং তাতে ৭০ জনের বেশি নিহত হন।
এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, মে মাসের শেষের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে যায়। যদিও তিনি ও তার পরিবার তাদের গোটা জীবন ভারতেই কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার পুরো জীবন এখানেই কাটিয়েছি। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদিরাও এখানের বাসিন্দা। এরপরেও তাকে কেন জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রহিমা বেগমের সঙ্গে আরও পাঁচজনকেও আটক করে সীমান্তে নিয়ে যায় পুলিশ। যাদের সকলেই মুসলমান। এদের সবাইকে জোর করে অন্ধকারে ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। রহিমা বেগম এএফপিকে বলেন, পুলিশ আমাদের দূরের একটি গ্রাম দেখিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সেদিকে যেতে বলেন। পাশাপাশি আমাদের দাঁড়িয়ে হাঁটতে নিষেধ করেন, যদি এমনটি করা হয় তাহলে পেছন থেকে গুলি করা বলে ভয় দেখান।
রহিমা বেগম আরও বলেন, একসময় তারা বাংলাদেশিদের হাতে ধরা পড়েন। তারা তাদেরকে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করে। এদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে রহিমা বলেন, তারা আমাদের ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আমরা যখন সীমান্তে পৌঁছলাম তখন আমাদের লক্ষ্য করে অপর প্রান্ত (ভারত) থেকে গুলি করা হয়। আমরা ভেবেছিলাম এটাই হয়ত আমাদের শেষ দিন, আর হয়ত বাঁচব না। তবে অলৌকিকভাবে রহিমা বেঁচে গেলেন। পরে তাকে চুপ থাকার শর্তে আসামে ফিরে যেতে দেয়া হয়েছে।
এভাবে জোরপূর্বক অন্য দেশে ঠেলে পাঠানোর কড়া সমালোচনা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলেছেন এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। নয়াদিল্লি ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী সঞ্জয় হেগদে বলেন, অন্য কোনো দেশ গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত আপনি কাউকে সে দেশে ঠেলে পাঠাতে পারবেন না। এটা আইন বহির্র্ভূত। ভারতের আইন এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেনা। বাংলাদেশ জানিয়েছে গত মে থেকে এভাবে অন্তত ১৬০০ ভারতীয়কে সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে দিল্লি। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই সংখ্যা প্রায় ২৫০০।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
June
(301)
-
►
Jun 28
(12)
- গাজায় সাহায্যপ্রার্থী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্...
- বিলিয়নিয়ারের বিয়ে: ৩০-ক্যারেট হীরেও যথেষ্ট নয়
- নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান আসলেই কি ‘কমিউনিস্...
- মামদানির জয় থেকে ডেমোক্র্যাটরা কি শিক্ষা নেবেন by ...
- জুলাই সনদ ও যোদ্ধা নিয়ে এলোমেলো কিছু প্রশ্ন by মহি...
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চীন কেন দূরে বসে দেখেছে by লাইল...
- দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা, আনিসাকে উদ্বিগ্ন না হতে ব...
- মুসলিমদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে নির্বাসন দিচ্ছে ভারত
-
►
Jun 28
(12)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



