Thursday, September 30, 2010

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি by গাজীউল হক

একপাশে হাসপাতালের বর্জ্য, অন্যপাশে নালার পূতিগন্ধযুক্ত কালো পানি। এ দুইয়ের মাঝখানে চৌচালা টিনশেডের একটি বাড়ি। বাড়ির ঘরের ভেতরের প্রথমেই বৈঠকখানা। সেটা পেরিয়ে ভেতরে আরও একটি কক্ষ। তার লাগোয়া আরও ছোট-বড় তিনটি কক্ষ। একেবারেই জরাজীর্ণ। টিনের চালও ফুটো। আর সম্মুখভাগে রয়েছে চায়ের দোকান। শীত মৌসুম এলে এখানে পিঠা তৈরি হয়। শহরের বাসিন্দারা চাদর মুড়ি দিয়ে সেখানে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি ঢুকে পড়ে। শহরবাসীর কাছে বাড়িটি বেশ পরিচিত। বলছিলাম, কুমিল্লা তথা উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজ্ঞ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির কথা, যিনি একাধারে ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করেছেন। সেই ভাষাসৈনিকের বাড়িটির আজ বেহাল দশা। জরাজীর্ণ ওই বাড়ি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়েই এর অবস্থান। প্রতিবছর বিশেষ কিছু দিনে সেখানে মোমবাতি জ্বলে। সংস্কৃতিকর্মীরা বাড়িটির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। এরপর আর সেটি এগোয় না। দিনে দিনে সেই বাড়ি এখন বিলীন হওয়ার পথে।
ওই দুর্দশা থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। শনিবার ওই বাড়ি পরিদর্শন করতে যান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তিনি এর চারদিক ঘুরে হতাশ হন। এরপর বৈঠকখানায় বসে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।
একপর্যায়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি উন্নয়নকর্মী আরোমা দত্তকে মন্ত্রী প্রশ্ন করলেন, এত দিন তুমি উদ্যোগ নিলে না?
সঙ্গে থাকা নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘তুই (আরমা দত্ত) ক্লিয়ার করে বল।’
কবি নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী বললেন, ‘কিছু করা উচিত।’
নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক রশীদ হায়দার বললেন, ‘রাজধানী ঢাকায় তাঁর নামে একটি সড়কের নামও হয়নি। বছর দুয়েক আগে আনিসুজ্জামান স্যার ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কাছে আবেদনও করেন। এর পরও দুই দফা মেয়রকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এবার আরমা দত্ত মুখ খুললেন। বললেন, ‘এখানে ১৫ শতক জায়গা রয়েছে। জাল দলিল করে জনৈক ব্যক্তি ওই জায়গার মালিক দাবি করেন। এরপর সেটা নিয়ে মামলা হয়। ১৩ বছর ধরে ওই মামলা স্থগিত রয়েছে। এ জায়গাটিই আমাদের একমাত্র সম্বল। এখানে উঁচু দালান করে এর প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি জাদুঘর করতে চাই। বাকিগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করব।’
জবাবে তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’
পাঠক, আসুন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে কয়েকটি কথা শুনি। ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার ব্রাক্ষণবাড়িয়ার রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতার মহান পেশা বেছে নেন। এরপর বাবা জগবন্ধু দত্তের আগ্রহে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ওকালতি করতে গিয়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর নিপীড়নের কথা শুনে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি রাজনীতির ময়দানে ছিলেন বিপ্লবের অতন্দ্রপ্রহরী। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে করেছেন প্রতিবাদ- প্রতিরোধ। তিনি অবিভক্ত বাংলার বিধানসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ এই দিনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় গৃহবন্দী ছিলেন। এরপর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এই বাড়ি থেকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও তাঁর ছেলে দিলীপ দত্তকে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। এরপর আর তাঁদের হদিস মেলেনি। তাঁর নামে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়। ১৬০ আসনের ওই ছাত্রাবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্ররা থাকছেন। তিনি স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। তিনি ‘কমরেড ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ নামে পরিচিত ছিলেন।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শহীদ হয়েছেন ৩৯ বছর আগে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তাঁর বাড়িটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। এ নিয়ে বহুবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংসদ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন। পাঁচ দফার দাবিগুলো ছিল: অবিলম্বে বাড়ির আইনি জটিলতা নিরসন, বাড়িটির সংরক্ষণ ও সংস্কার, মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন, তাঁর নামে হাসপাতাল স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা। সংসদের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার পাল ও সদস্যসচিব নাজমূল বারী চৌধুরী বলেন, ‘একসঙ্গে দুটি আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্বের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমান সরকার চাইলেই বাড়িটিকে রক্ষা করতে পারবে।’
কুমিল্লাবাসীর উৎকণ্ঠা, সরকারি উদ্যোগ না থাকলে বাড়িটি যেকোনো সময়ে বেহাত হয়ে যেতে পারে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই বাড়ি কেবল কুমিল্লাবাসীর কাছে পরিচিত নয়, অবিভক্ত বাংলার মানুষের কাছে এর নাম রয়েছে। কুমিল্লার সংস্কৃতিকর্মীদের বিশ্বাস, এবার কিছু একটা হবে। সেই কিছুর প্রতীক্ষায় রইলেন তারা।

পাবনার ভাবনা থেকে মুক্তির পথ কী by আব্দুল কাইয়ুম

পাবনার জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তাদের বদলির আদুেশ দেওয়া হয়েছে। আর অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। এর অর্থ দাঁড়াল এই যে, সরকারদলীয় ব্যক্তিদের অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত না করলে ফল ভোগ করতে হবে। তাহলে প্রশাসন কীভাবে কাজ করবে?
পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহারের খবরটি রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য আসতে শুরু করে। প্রথম মন্তব্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মাহমুদুল হাসান লিখেছেন, পাবনার ভাবনা থেকে জাতি মুক্তি চায়। এ মন্তব্যের মধ্যে যেমন উদ্বেগ আছে, তেমনি আছে কৌতুক। সে জন্যই কথাটি শিরোনামে ব্যবহার করা হয়েছে। দুঃখ লাগে, যখন দেখি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে দুই অঙুল উঁচিয়ে বিজয়চিহ্ন দেখান। বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।
প্রথম আলোর অনলাইনের ওই খবরে ১১ জনের মন্তব্য ছাপা হয়েছে। মনসুর আহমেদ বলেছেন, অবশেষে একটা ভালো সিদ্ধান্ত। আরেকজন পাঠক লিখেছেন, ‘এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ, এ ধরনের অতি উৎসাহী প্রেমিকেরা তাকে ডুবিয়েছিল। এরা সব সময় সব সরকারের আমলেই এ ধরনের কাজ করে থাকে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে যেন এদের অ্যানার্জি আরও বেশি বাড়ে। এদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া না হলে অন্যরা সাইজ হবে না। আরও বেশি উৎসাহ পাবে।’ মো. শফিকুল ভুঁইয়া কৌতুক করে লিখেছেন, ‘কী আশ্চর্য, সরকারি দলের লোকের এত উদারতা! কর্মসূচি প্রত্যাহার, থানা থেকে জেলে, তবুও চুপ! মনে হয় নিউইয়র্ক থেকে ইঙ্গিত এসেছে, থাম বাপ, আমি আসছি, সব ঠিক হয়ে যাবে, আপাতত যা জেলে। এসেই বের করে নেব।’
সেদিন সকালে সাংবাদিক ও কলাম লেখক এবিএম মূসার সঙ্গে কথা হয়। এ ধরনের অন্যায়-অনিয়মের ব্যাপারে তিনি কখনো ছেড়ে কথা বলেন না। জিজ্ঞেস করলাম, কী হচ্ছে দেশে। তিনি বললেন, মোগল আমলে বাংলায় ছিল বারোভুঁইয়ার শাসন, এখন চলছে শত ভুঁইয়ার শাসন!
অভিযুক্ত ২১ জনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলে পাঠানো হয়েছে। হয়তো তাঁরা দ্রুতই জামিন পাবেন। এটা কোনো অজামিনযোগ্য অভিযোগ নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুলিশ কেন তাঁদের ধরল না বা ধরতে পারল না? কেন আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হলো? পুলিশ বা প্রশাসনকে যদি ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতে হয়, তাহলে অরাজকতার আর বাকি থাকে কী? এর দায় নিতে হবে ক্ষমতাসীনদের।
নিয়োগ-বদলি নিয়ে যে সরকারদলীয় লোকদের জোরজবরদস্তি চলছে, তা দেখে ও শুনে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারও হতভম্ব। তাঁর ভাষায়, ‘কোথায় যে কী হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। আল্লাহ জানে, আসলে কী হচ্ছে।’ বিগত ১৮ মাসে নয় হাজার পদে নিয়োগ স্থগিত হয়ে গেছে। এর একটি কারণ রাজনৈতিক চাপ। পাবনায় নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নিলে তাদের আপত্তি কেন? ছাত্রলীগ-যুবলীগের কোনো প্রার্থী থাকলে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি কেন? জেলা প্রশাসক কি বাধা দিয়েছিলেন? পরীক্ষার হলে হামলা ও ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করার মতো জঘন্য কাজ তারা করতে গেল কেন? তাদের সরকারের মুখে তারাই চুনকালি মাখছে।
নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ বেশ পুরোনো। ভুক্তভোগীরা বলেন, সামান্য অফিস সহকারী পদে নিয়োগ লাভের জন্য তিন-চার লাখ টাকা দিতে হয়। সেটা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত একটি অংশ পায়। এ জন্যই এত হাঙ্গামা। পাবনার ঘটনা কেন এমন বিধ্বংসী রূপ নিল তা তদন্তের দাবি রাখে। যেহেতু জেলা প্রশাসন আক্রান্ত হয়েছে এবং পুলিশ প্রায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিল, তাই ঘটনার পরপরই ডিআইজি ও জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। ঘটনার নয় দিন পর প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক পাবনায় গেছেন। তাঁরা তো প্রথম দিনেই সেখানে যেতে পারতেন। কেন ঘটনাপ্রবাহকে অবনতির দিকে যেতে দিলেন? এই বিলম্বিত উদ্যোগ সরকার ও দলের ক্ষতি করেছে। দেশের ক্ষতি তো হয়েছেই।
প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। এটা কি ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি করার কোনো কারণ হতে পারে? এই ডিজিটাল যুগে কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? এর একটি কারণ হতে পারে, দলের লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কেউ উদ্যোগ নিতে চান না। সবাই মুখে বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে; কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যায় চলছে দলের স্বার্থে। কোনো মন্ত্রী যদি বলেন, কাজটা খারাপ হয়েছে, তাহলে দলের মধ্যে তাঁর কথা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। দলের মধ্যে তিনি হয়তো কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। দলের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে কে চায়?
তবে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনেকে আছেন, যাঁরা এ ধরনের অনিয়ম-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পাবনায়ও তাঁরা আছেন। তাঁরা মিছিল করে হামলা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কথা বলেছেন। ক্ষমতাসীন দলের জন্য এরাই আশীর্বাদ। এটুকুও যদি না থাকত, তাহলে হয়তো সরকারি দল হিসেবে আস্থা রাখার কোনো জায়গা থাকত না। ইতিমধ্যে সরকারি দলের জনপ্রিয়তা অনেক কমে গেছে। বিগত নির্বাচনের সময় যা ছিল তার চেয়ে অনেক কম। গ্যাস-বিদ্যুৎ-দ্রব্যমূল্য প্রভৃতি এর একটি কারণ বটে। কিন্তু সরকারি দলের আচরণও এ জন্য কম দায়ী নয়। তবে এখনো যে প্রায় ৫০ শতাংশ সমর্থন টিকে আছে, তা হয়তো দলের মধ্যে সচেতন ওই অংশের কারণে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সব সময় একধরনের উদ্ধত মনোভাব কাজ করে। আওয়ামী লীগ তার ব্যতিক্রম নয়। হয়তো তাদের মধ্যে একটু বাড়াবাড়িই রয়েছে। ১৯৭৩-৭৪ সালে একবার ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তি হয় যে তাদের কর্মীরা একসঙ্গে মিলে অবৈধ রেশন কার্ড উদ্ধারে কাজ করবে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হলো অভিযান। সে সময় নির্ধারিত কম দামে চাল-গম-তেল-সাবান প্রভৃতি সরবরাহ করা হতো রেশন কার্ডে। মাথাপিছু সবার একটা করে রেশন কার্ড থাকার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীরা অবৈধ রেশন কার্ডের দুর্নীতি শুরু করলেন। অভিযানটি ছিল এদেরই বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা রুখে দাঁড়ালেন। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী এবং পুলিশসদস্যরা হামলার শিকার হলেন। সরকারি দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপের কাছে কেউ টিকতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত অভিযান থেমে গেল। ছাত্রলীগের সৎ কর্মীরাও চুপ মেরে গেলেন। কারণ নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁরা কী করবেন? এসব ঘটনার পরিণতি কী হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি।
এখন সেই ’৭৩ সাল না। আর সেই ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগও নেই। নিশ্চয়ই অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দলের বিকাশ হয়েছে। গণতন্ত্র এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ দেশে সৃষ্টি হয়েছে, তার বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের অনেক সম্ভাবনা এখনো আছে। সে ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে। কিন্তু গতানুগতিক ধারায় তা হবে না। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।
পাবনার ঘটনাটিই ধরা যাক। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার নজিরবিহীন ঘটনা নিশ্চয়ই ক্ষমার অযোগ্য। কিন্তু পাবনার জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে অন্য কর্মকর্তারা যে সুধীজনদের সঙ্গে বৈঠকের সময় কান্নাকাটি শুরু করলেন, সেটা কি ঠিক হয়েছে? তাঁদের মন ভেঙে গেছে, সেটা সত্য। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ যেভাবে তাঁরা ঘটিয়েছেন, সেটা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫-এর সঙ্গে যায় কি না, তা বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ একদিকে যেমন তাঁরা সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে আলোচনা-বৈঠক করতে পারেন, আবার অন্যদিকে তাঁরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না, যা সমাজের চোখে অশোভনীয়। এখন আবেগে কেঁদে ফেলাকে কোন খাতে ধরা হবে? অবশ্য এইচ টি ইমাম বলেছেন, জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন যে তাঁরা কাঁদেননি। এটা যদি জেলা প্রশাসক বলে থাকেন, তাহলে কিছু করার নেই। শুধু প্রশ্ন ওঠে, চোখের পানি একবার বেরোনোর পর সেই পানি তিনি চোখে আবার ঢোকাবেন কীভাবে?
কিন্তু এটাও ভেবে দেখা দরকার, জেলা প্রশাসকের মামলার আসামি ধরতে যদি পুলিশ গরজ না দেখায়, তাহলে তাঁরা কোথায় যাবেন? এ জন্য একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ের কথা আমাদের সংবিধানে আছে। সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সংসদে আইনের দ্বারা এই পদ প্রতিষ্ঠার কথা। ১৯৮০ সালে আইনও করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি ন্যায়পাল নিয়োগ দেবেন, এই বিধান করা হয়েছে। কিন্তু আইনটি কার্যকর করা হয়নি। অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া দরকার। তবে তিনি যদি সকলের আস্থাভাজন না হন, বা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ না পান, অথবা সরকার যদি তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দেয়, তাহলে লাভ হবে না। ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদের আইনে ন্যায়পাল কাজ করছেন। বাংলাদেশে থাকলে হয়তো পাবনার কর্মকর্তারা অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার একটা আইনসম্মত জায়গা পেতেন; সুধীজনদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের আশ্রয় নিতে হতো না।
তবে প্রশাসনের চেয়ে বরং মূল রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব দলীয় ন্যায়পাল থাকা বেশি দরকার। একজন প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও দলের সর্বপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। প্রশ্ন উঠতে পারে, নেতারা কিছু করতে না চাইলে ন্যায়পাল কী করবেন? এখানে একটা ব্যাপার আছে। নেতারা কেন ব্যবস্থা নিতে পারেন না বা চান না? যাঁরা অন্যায়ের প্রতিকার চান না তাঁদের কথা বাদ দিলাম। কিন্তু যাঁরা কিছু করতে চান, তাঁরা তো দলে কোণঠাসা হওয়ার ভয়ে কিছু করতে পারেন না। দলের যদি একজন ন্যায়পাল থাকতেন, তাহলে পাবনার ওই দায়িত্বশীল অংশ তাঁর শরণাপন্ন হতে পারত।
দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, এই সত্য মেনে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এবং ব্যবস্থাটি ত্রুটি-দুর্বলতা সত্ত্বেও কাজ দিচ্ছে। এমনকি যে বিএনপি প্রথমাবধি এ ব্যবস্থার বিরোধী ছিল, তারাও এখন বলছে, সংবিধান সংশোধনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেওয়া যাবে না। একই নীতি অনুসরণে আমরা বলব, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইলেও যদি দল সামলাতে না পারে, তাহলে সামলানোর ভারটা ন্যায়পালকে দিন। একটা নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।
তবে সেই ন্যায়পালকে ফোঁসফাঁস করার ক্ষমতা দিতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

কবিকেও একলা বাড়ি ফিরতে হয় by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

শ্রাবণের দিন গত হলে এর বিলীয়মান স্পর্শের কথা কারও মনে পড়বে—হারিয়ে যায় যখন চিরতরে রিমিঝিমি শব্দস্পর্শের অন্তর্গত মায়াবী দিন। পল্লিগ্রামে টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটার আবির্ভাব শব্দ করে। ঘন হয়ে ওঠে শিরশির করে ওঠা অনুভূতির রোমকূপগুলো। কান খাড়া করে শোনে সর্বক্ষণ বৃষ্টি-নূপুরের ধ্বনিতরঙ্গ। সুদূরের প্রলেপ মাখানো ছেলে ভোলানো ছড়া—‘ওপারেতে কালো রঙ বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম’ চোখের সামনে বিস্তারিত।
বৈশাখে রূপসী, শ্রাবণে তা-ই হয় আদর মাখানো ঘন কালো বৃষ্টির হাত—হিমপ্রবাহের মতো বৃষ্টি। ভোর থেকে আরেক ঝরঝর বৃষ্টি, হেমন্তের। বহুদূর হিমালয়ের পাহাড় থেকে শীতকে ডেকে আনতে গেছে যে বৃষ্টি। অল্প শীত, চাদর নেই, লেপ নেই। নিজেকে আপন করে জড়িয়ে শিরশির তার আহ্বান।
আশ্বিনের আকাশের দিকে তাকান নির্বোধ কবি। তাঁদের হাতে যেন আর কোনো কাজ নেই। হীরকের মতো দাঁত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে আকাশ, যেখানে লুকিয়ে সম্ভাবনার ঝড়, তার দিকেই তাকিয়ে কবি মেলে ধরেন কল্পনার সুরভি। আত্মার কালিমায় ধূসর জীবনের পাণ্ডুলিপি ওই তো দেখা যায় তরঙ্গের পর তরঙ্গে সজ্জায়িত মেঘপুঞ্জে। কোথাও মিল কোথাও অমিল, ভাবতেই মেঘেরা রং বদলায়, যেমনটি জীবনে। ভাবতে ভাবতেই বেলা ফুরিয়ে এল। কদিন আগে পঞ্চম জন্মদিন, পরদিন পঞ্চাশ আর আজ সত্তর। বেলা গুটিয়ে নেয় ভরা ভাদর-আশ্বিনের মেঘ। এরপর অর্থের অনর্থ ভাবনা ডুবিয়ে ছাড়ে আরেক পৃথিবীর গহ্বরে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠে ভাবনাগুলো স্বপ্নের দিকে। তারপর যা হয়ে থাকে, তা-ই। সিঁড়ি প্রত্যাহূত। ভাদ্র-আশ্বিনের বৃষ্টিতে তবু স্বপ্নদের আঁকড়ে ধরে কবি, ভুলতে চেষ্টা করে হাঁ করে গিলতে আসা অভাবদের; অন্তত আজকের মতো তাদের ছুটিতে বাড়ি পাঠিয়েছে। ভাবনাগুলো কখনো ছাতা, কখনো বর্ষাতি নিয়ে শেষ বাসে উঠে পড়ে। কবিকেও একলা বাড়ি ফিরতে হয়।
কবিদের রাজসন্নিকটবর্তী হওয়া নিয়ে পুরোনো তর্ক। কোনো কোনো কবি কাছে এসে পাবেন বিদেশ সফরের মহার্ঘ টিকিট। আবার একসময়কার বঙ্গভবন-আশ্রয়ী কবিরা পেলেন কিছু গঞ্জনা। খালি হাতে মালাটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন সব কবি। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু যেখানে যেতেন, আগেই পাঠাতেন সুনামগঞ্জের পরাক্রান্ত গায়ক নির্মলেন্দু চৌধুরীর ৫০ জনের নৃত্যগীত দল। এক অনুষ্ঠানেই ভারতকে চিনে নিত বিদেশিরা। মানিকগঞ্জের মমতাজ ও তৎসঙ্গে ৫০ জন যখন নিউইয়র্কে বাংলা লোকগানের রূপটি পরিবেশন করবেন, বিদেশিরা অনায়াসেই বাংলাদেশকে চিনে নেবে। সেদিনের জন্য অপেক্ষমাণ রইলাম। স্বাধীন লেখক-শিল্পীরা শুধু মালাটি নিয়েই বাড়ি ফেরেন।
শ্রাবণে বৃষ্টির ঢলে শহরের ময়লা নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল। দিনে দিনে বেড়েছে ময়লা; মনের ময়লার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। কেউ জানতে পারে না, চকিত আশ্বিনের ঝড় এসেছে ময়লা সাফ করতে। শুকনো খড়কুটো বৈশাখ পারেনি উড়িয়ে দিতে, রয়ে গেল কোথাও পাতার ফাঁকে ফাঁকে। লাঠি নিয়ে হাঁটতেন যাঁরা, তাঁরাও কোনোক্রমে বেঁচে গেছেন। তাই ভয়, কোন সময় এই আশ্বিনের ঝড়ে সমর্পিত হন বর্ষীয়ান কবিরা। আজ সকালে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের মৃত্যুসংবাদ পাঠ করলাম। যাঁরা চলে যান, তাঁদের পদচিহ্ন খুঁজে মেলা ভার; দু-একজন কুলীন কবি ছাড়া, যাঁরা রেখে যান নিঃশ্বাসের মতোই পবিত্র কিছু চরণ। কিন্তু যেতেই হবে। কবিকেও বাড়ি ফিরতে হয়। আবদুল মান্নান সৈয়দ অবয়বেই নয়, অন্তর্লীন কবিব্যক্তিত্বের সমাহার। শেষ দেখায় বললাম, তাঁর মাথার হ্যাটটি কেশরাজিকেই আড়াল করেনি, আড়াল করেছে পরিচয়। কিছুই বললেন না, হাসলেন। ধরিয়ে দিলেন তাঁর শ্রাবণ জন্মদিনে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র। ২০ ভাদ্র, ১৪১৭ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অগ্রাহ্যের শিকার যিনি, নিঃসঙ্গ ও একাকিত্বের দরজা পেরিয়ে সম্মানে ভূষিত তিনি। ‘সত্যের মত বদমাশ’, ‘শুদ্ধতম কবি’ সময়ের আয়নায় স্বকীয় আলোকে বিভাসিত। ভাদ্র-আশ্বিনে কবিকে ডাক দিই। স্বাধীন লেখকেরা শুধু মালাটি নিয়েই বাড়ি ফেরেন।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: লেখক-গবেষক, সংগীতব্যক্তিত্ব।

আবার নদী দখল -নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই নদী বাঁচাতে হবে

বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জীবন-জীবিকার জীবনীশক্তির উৎস নদ-নদী। সেই নদ-নদী দখল আর ভয়াবহ দূষণের শিকার হয়ে আশপাশের এলাকার মানুষের বসবাসযোগ্যতা ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এতে মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে জনজীবন। তাই নদী রক্ষায় অবহেলা অথবা সময়ক্ষেপণের পরিণতি হবে ভয়াবহ।
অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি, শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও ভরাট করে তৈরি ১০ একর জায়গা বছর দেড়েক আগে উদ্ধার করা হলেও এখন আবার পুরো দখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা বালু ও পাথরব্যবসার জন্য নদী দখল করেছে, অথচ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো হদিস নেই। প্রথম আলোর গত মঙ্গলবারের একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কাঁচপুর সেতু এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর দখল করা জায়গায় সরকারি দলের থানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও এই ব্যবসা শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম অংশে দুই পাশে শিমরাইল, আটি, জোকা ও কাঁচপুর মৌজায় নদীর মাঝামাঝি পর্যন্ত অংশ ভরাট করা হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেতুর শিমরাইল প্রান্তে নদীর জায়গায় বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নদী রক্ষার ব্যাপারে এটি সচেতন থাকবে, সেটাই প্রত্যাশিত ছিল।
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল নগর। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ বাড়ছে এই নগরে। এই বিপুল জনসংখ্যার খাওয়ার পানি সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আগামী দিনগুলোতে তা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। পানির এই চাহিদা মেটাতে আশপাশের নদীগুলোর ওপর নির্ভর না করে উপায় নেই। ঢাকা ও আশপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এভাবে আবার দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নদী ভরাট বা দখল সারা দেশে যেভাবে ঘটে চলেছে, সে অবস্থা জারি থাকলে অচিরেই নদীগুলোর বড় অংশই দখল হয়ে যাবে। এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে সুপেয় পানি ও কৃষিকাজে সেচের ওপর; মৎস্যসম্পদ বিপন্ন হবে। বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রভাব বৃদ্ধি এবং কোনো কোনো অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে মরুকরণের আশঙ্কা বেড়ে যাবে বহুগুণে।
নদী রক্ষায় আইন আছে, আইনের ফাঁকফোকরও আছে। আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাবেই আজ নদীগুলোর করুণ দশা। একের পর এক সরকার আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। নদী রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে কাদের ওপর বর্তায়, সে বিষয়টিও পুরোপরি স্পষ্ট নয়। তাই আমরা বহুদিন ধরে একটি নদী কমিশন/কর্তৃপক্ষ গঠন করার দাবি জানিয়ে আসছি, যাদের মূল দায়িত্ব হবে নদী রক্ষায় কাজ করা।
নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযান শুরু করা জরুরি। দখলদার যে-ই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের উচ্ছেদ করে নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই নদীকে বাঁচাতে হবে। এ জন্য আইনের বাস্তবায়ন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি জনগণকে সম্পৃক্ত করা; সরকার, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, সুশীল সমাজ—সবাই মিলে একসঙ্গে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যা -ক্ষতি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ

মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যা সমাধানের কথা বলে আসছেন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও কম হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেসব আমলে নিয়েছেন বলেও মনে হয় না। এখন সরকারি দলের পক্ষ থেকেই ব্যর্থতার অভিযোগ এনে নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি উঠেছে।
গত রোববার ‘চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রমে অবনতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংসদ এম এ লতিফ বলেছেন, একজন মন্ত্রী বা বন্দর চেয়ারম্যানের ব্যর্থতার দায়ভার সরকার নেবে না। বৈঠকে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়। একই দিন সংসদীয় কমিটির সভায় বন্দরে সাত দিনের মধ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে বন্দরে জাহাজ-জট, উপকরণের স্বল্পতা নিয়েও আলোচনা হয়। অন্যদিকে পরিবেশদূষণ রোধে কেনা জাহাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চতুর্মুখী সংকট লক্ষ করা যাচ্ছে। সেখানকার কাজে কোনো সমন্বয় নেই। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করছে। কিন্তু সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা উড়োজাহাজে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত চার মাসে বিমানভাড়া বাবদ তাঁরা ৯০৫ কোটি টাকা শোধ করেছেন। এটি কেবল ব্যবসায়ীদের নয়, দেশেরও ক্ষতি। এর দায়দায়িত্ব মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির বিরুদ্ধে বন্দরের কাজকর্মে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা যে অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংসদীয় কমিটির দায়িত্ব হলো, বন্দর বা মন্ত্রণালয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তার তদারক করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। বন্দরে কাকে অপারেটর নিয়োগ করা হবে, না হবে, তা ঠিক করা তাদের কাজ নয়। আবার মন্ত্রণালয় বন্দরের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করবে, সেটিও কাম্য নয়।
ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে দাবি জানিয়েছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত করার উপায় নেই। মানুষের দৃষ্টি থাকে সামনে। কিন্তু নৌ মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে হয় পেছনের দিকে হাঁটতে পছন্দ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হলে এখন হবে না কেন? কাদের কারণে জাহাজ-জট হচ্ছে, কারা পণ্য ওঠানো-নামানোয় দীর্ঘসূত্রতা করছে, তা শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকলে তাও অপনোদন করা জরুরি। প্রায়ই বন্দরে অচলাবস্থা দেখা দেয়। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ বলে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হতে পারে না। ব্যবসায়ী তথা বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে।

কারা কর্মকর্তাকে মারধর করলেন কাসাব

ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জঙ্গি মোহাম্মদ আজমল আমির কাসাবের বিরুদ্ধে এক কারা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মুম্বাই হাইকোর্টে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে সরকারপক্ষের আইনজীবী উজ্জ্বল নিকাম এ অভিযোগ করেন।
আদালতে নিকাম বলেন, ১ সেপ্টেম্বর কাসাব কারাকক্ষের ভেতরে অবৈধ কাজ করার সময় একজন কারা কর্মকর্তা তাঁকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাসাব ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে নিকাম সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, কাসাব একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি কমান্ডো। তিনি নিজের জীবনের জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি কারারক্ষীদের জন্যও বড় রকমের ভয়ের কারণ। তাই ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন কাসাবকে একা এক কক্ষে রাখা ঠিক হবে না। অবশ্য কাসাবের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিকাম মুখ খোলেননি। তিনি শুধু এটুকু বলেন, কাসাবের আইনজীবীরা ওই কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের বলতে রাজি আছেন, তবে আদালতে বলবেন না।
কাসাবের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নয়, আদালতেই সেটা শুনতে চান। এ ব্যাপারে আজ বুধবার আদালতের সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।
কাসাবকে বর্তমানে মুম্বাইয়ের সুরক্ষিত আর্থার রোডের জেলখানায় রাখা হয়েছে।

তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিতে পারে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের সরকার সে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা করছে। তবে রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থায়ুগসুবান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, নাখোন রাতছাসিমা, খোন কায়েন ও উদোন থানি প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এই তিন প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে। প্রদেশ তিনটি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার লাল শার্ট সমর্থকদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
গত এপ্রিলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে লাল শার্টপন্থীরা ব্যাংককে বড় ধরনের সমাবেশ করে। একপর্যায়ে সেনাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়।

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ডেপুটি প্রাদেশিক গভর্নর নিহত

আফগানিস্তানে গতকাল মঙ্গলবার একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় গজনি প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কাজিম আলাইয়ার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর এক ছেলে ও দুই দেহরক্ষী নিহত হন। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
গজনি পুলিশের প্রধান দেলাওয়ার জাহিদ জানান, একটি গাড়িতে করে আলাইয়ার তাঁর ছেলে ও দুই দেহরক্ষীকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় গজনি বিমানবন্দরের কাছে একটি মোটরসাইকেলে করে ওই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় দুজন পথচারীও নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন ১৭ জন। আহত লোকদের প্রাদেশিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রাসাদ সূত্র জানায়, হামলায় আলাইয়ার, তাঁর ছেলে ও চার দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
পুলিশপ্রধান জাহিদ আরও জানান, বিস্ফোরণস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তবে বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ বছরের শুরুর দিকেও আলাইয়ারের ওপর হামলা হয়েছিল। সে হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা কাল

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঘোষণা করবেন। উত্তর প্রদেশ আদালতের রেজিস্ট্রার সুবোধ সাহা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ওই রায় ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট গতকাল মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্টকে মামলার রায় ঘোষণা করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এই নতুন তারিখ জানানো হলো।
২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা ভারতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় মামলাটির রায় পিছিয়ে দেওয়ার জন্য করা একটি আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে রায় স্থগিতের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট গতকাল মঙ্গলবার এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে জানান, এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষেৗ বেঞ্চ অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট এতে হস্তক্ষেপ করবেন না। মামলার শুনানি শেষে আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাডিয়া, বিচারপতি আফতাব আলম ও বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণনের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ডিভিশন বেঞ্চ।
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ষোলো শতকে নির্মিত বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালে ধ্বংস করে ফেলে হিন্দুরা। এতে ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়।

বিজ্ঞানী কাদির খানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ

পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত তাঁকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অনুমতিও দিয়েছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করার অভিযোগ এনে আবদুল কাদির খানের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষাপটে লাহোর হাইকোর্ট ওই নির্দেশ দেন। কাদির খান তাঁর আরজিতে উল্লেখ করেন, সরকার আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁকে কার্যত বন্দী করে রেখেছে।
আদালত এ অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি নির্দেশ জারি করেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ইরান, উত্তর কোরিয়া ও লিবিয়ায় পরমাণুপ্রযুক্তি পাচারের কথিত অভিযোগে তাঁকে অনেক হেনস্তা করেন। সে সময় তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। এ ছাড়া তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার যে প্রটোকল দেওয়া হতো, তাও প্রত্যাহার করা হয়।
বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানকে গণ্য করা হয় পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক হিসেবে। এ জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় জাতীয় বীরের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

আগামী নির্বাচনে ওবামাকে ভোট দেবেন না অধিকাংশ ভোটার

বেশির ভাগ মার্কিন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সঠিকভাবে দেশ শাসন করতে পারছেন না। কাজেই পরবর্তী নির্বাচনে মাত্র ৩৮ শতাংশ ভোটার তাঁকে আবার ভোট দিতে পারেন। সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে একথা জানা গেছে।
পলিটিকো ও জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ অনুযায়ী, ৬৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ওবামার নেতৃত্বে দেশ ভুল পথে চলছে। আর ওবামা যেসব কাজ করছেন, তা সমর্থন করেন না ৫১ শতাংশ ভোটার।
পরবর্তী নির্বাচনে ওবামার জায়গায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারেন অধিকাংশ মার্কিন ভোটার। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন এমন এক হাজার ভোটারের ওপর এ জরিপ চালানো হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা প্রেসিডেন্ট পদে ওবামার পরিবর্তে অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন। আর ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ওবামা। কিন্তু গত দুই বছরে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক কমে গেছে।
তবে ওবামার জন্য একটি সুখবর আছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডে অনেকে খুশি না হলেও ব্যক্তি ওবামাকে এখনো পছন্দ করে দেশের অধিকাংশ মানুষ। তাদের সংখ্যাটা ৬৫ শতাংশ।

মস্কোর মেয়রকে বরখাস্ত করলেন মেদভেদেভ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ মস্কোর প্রভাবশালী মেয়র ইউরি লুঝকভকে গতকাল মঙ্গলবার বরখাস্ত করেছেন। ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের এক আদেশে বলা হয়, ইউরি লুঝকভ দেশের প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের আস্থা হারিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউরি লুঝকভ (৭৪) ১৯৯২ সাল থেকে মস্কোর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাশিয়ার আরও শক্তিশালী নেতার প্রয়োজন—এমন মন্তব্য করে তিনি প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের রোষানলে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য করে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া রাশিয়ায় সাম্প্রতিকতম ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় তিনি ক্রেমলিনে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন। এর পরই তাঁকে বরখাস্ত করা হলো।
প্রেসিডেন্টের আদেশে অবশ্য তাঁকে বরখাস্ত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আদেশে মস্কোর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে লুঝকভের ডেপুটি ভ্লাদিমির রেসিনকে নিয়োগ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার সংবিধান অনুসারে, মস্কোর মেয়র ও আঞ্চলিক গভর্নরকে বরখাস্ত করার অধিকার এবং কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে প্রেসিডেন্টের।
ইউরি লুঝকভ রাশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। এ ছাড়া তিনি ক্রেমলিনপন্থী ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য।

শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দূত

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা যাতে ভেঙে না যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেছেন মার্কিন দূত জর্জ মিশেল। পশ্চিম তীরে অধিকৃত ভূমিতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শান্তি আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিষেধাজ্ঞা নবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সফরে জর্জ মিশেল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া নেতানিয়াহু ও আব্বাসের সঙ্গেও তাঁর আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে গত রোববার বসতি স্থাপনের ওপর ইসরায়েল সরকারের ১০ মাসের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
আব্বাস বলেছেন, এ সপ্তাহে ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আগামী ৪ অক্টোবর আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার আগ পর্যন্ত শান্তি আলোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করবেন না তিনি। গতকাল একটি ফরাসি বেতারকেন্দ্রকে তিনি বলেন, ‘আলোচনা যত দিন চলবে অন্তত তত দিন পর্যন্ত বসতি স্থাপন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখতে হবে। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনা চলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আশা থাকবে। আমরা আলোচনা বন্ধ রাখতে চাই না। কিন্তু বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হব আমরা।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘বসতি স্থাপন বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের টেলিফোনে বিস্তারিত ও সরাসরি আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন আমরা কোন নীতিতে চলছি। আমরাও বুঝতে পেরেছি তাঁকে কী ধরনের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, তিনি আসলেই শান্তি-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী।’
বসতি স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ না বাড়ানোর ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এর আগে ফিলিস্তিনিরা আহ্বান জানিয়েছিল, ইসরায়েল যেন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অন্তত তিন থেকে চার মাস বাড়ায়। যাতে সীমানা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে দুই পক্ষ। কিন্তু নেতানিয়াহু নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তবে আব্বাসকে আলোচনা থেকে সরে না দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকাকালীন ফিলিস্তিনি আলোচকেরা সময় নষ্ট করেছেন। তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
আলোচনা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি থেকে সরে না আসার জন্য আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের নেতারা। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বসতি স্থাপন কার্যক্রম আবার শুরু করেছে ইসরায়েলিরা। কিন্তু জাতিসংঘ ইসরায়েলের সব ধরনের বসতিকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মেক্সিকোয় পাহাড়ধসে সহস্রাধিক লোকের মৃত্যুর আশঙ্কা

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পাহাড়ধসে সহস্রাধিক লোক নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াক্সাকা প্রদেশে এ ঘটনায় তিন শতাধিক বাড়িঘর মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত বাড়িঘরের ওপর হঠাত্ পাহাড়ের ২০০ মিটার এলাকা ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাদেশিক গভর্নর ইউলিসিস রুইজ বলেছেন, সেখানে এক হাজারের বেশি লোক নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। ডোনাটো ভার্গাস নামের এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার সময় তারা সবাই ঘুমিয়েছিল। আচমকা তাদের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। গভর্নর রুইজ বলেছেন, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সেখানকার হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হবে না।

আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে হাঁটার ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে

মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদের মাটিতে হাঁটার দৃশ্যের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ওই ফুটেজ এত দিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানবিষয়ক মহাফেজখানায় (আর্কাইভ) টেপটি পাওয়া গেছে। আগামী বুধবার সিডনিতে অনুষ্ঠেয় অস্ট্রেলিয়ান জিওগ্রাফিক সোসাইটি অ্যাওয়ার্ডসে সেটি প্রদর্শন করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় নভোচারী জন সারকিসিয়ান বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ওই ভিডিও ফুটেজে অ্যাপোলো-১১ খেয়াযান থেকে আর্মস্ট্রংকে সিঁড়ি বেয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে নেমে আসতে দেখা যাবে। তিনি বলেছেন, ফুটেজটি দীর্ঘদিন মহাফেজখানায় পড়ে থাকায় কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কয়েক মিনিটের ওই ফুটেজে আর্মস্ট্রংকে খুব ভালোভাবেই চেনা গেছে। তিনি বলেছেন, চাঁদে নামার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার করার সময় যে ছবি দেখা গেছে, নতুন ওই ফুটেজের ছবি তার চেয়েও অনেক পরিষ্কার।
টেলিস্কোপের মাধ্যমে ধারণ করা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের দৃশ্য নাসা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সম্প্রচার করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার স্টেশন থেকেও ওই দৃশ্য ধারণ করা হয়। জন সারকিসিয়ান সে সময় অস্ট্রেলিয়ার স্টেশনে ওই দৃশ্যের রেকর্ডিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
সারকিসিয়ান বলেছেন, নতুন এই চিত্রে আর্মস্ট্রংকে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
প্রদর্শনীর সময় ওই চন্দ্রাভিযানের অন্যতম নভোচারী এডইউন অলড্রিনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন হামিদ কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গতকাল মঙ্গলবার দেশের সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারজাই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশের যুদ্ধ-পরিস্থিতি তাঁর ছেলেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে পারে।
হামিদ কারজাই বলেন, ‘আমি চাই না, আমার তিন বছরের ছেলে মিরওয়াইস পরবাসী হোক। আমি চাই, সে এখানে থাকুক এবং এখানকার স্কুলে লেখাপড়া করুক। আমি খুবই চিন্তিত। খোদা না করুক, আমার ছেলে যেন দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়।’
কারজাই জাতীয় সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে কাবুলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য সরাসরি জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। উল্লেখ্য, সে দেশের ৮০ শতাংশ লোক অশিক্ষিত।
টেলিভিশনের পর্দায় হামিদ কারজাইয়ের ওই বক্তব্যের সময় বোরকা পরা নারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের চোখ মুছতে দেখা যায়। কারজাই তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দুরবস্থার কথা ভালোভাবে তুলে ধরেন। তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে প্রায় নয় বছর ধরে এই সংঘর্ষ চলছে। আর শিশুদের ওপর এই সংঘর্ষের প্রভাব পড়ছে।
হামিদ কারজাই তালেবান হামলা ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমাদের শিশুরা বোমা বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বোমা হামলাকারীদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক আফগানকে দেশের শান্তির জন্য অবশ্যই কাজ করতে হবে। আমি চাই না, আমার সন্তান বিদেশি হোক। আমি চাই, সে এ দেশের স্কুলে লেখাপড়া করে এখানেই বড় হোক এবং একজন চিকিৎসক হোক।’

আত্মহত্যার চিরকুট ১৯০৫ পৃষ্ঠা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা মিশেল হেইসম্যান ১৮ সেপ্টেম্বর নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে তিনি লিখে রেখে গেছেন এক হাজার ৯০৫ পৃষ্ঠার বিশাল একটি বিবৃতি। পাঁচ বছর ধরে তিনি এই বিবৃতি লিখেছেন। ই-মেইলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্য এবং পরিচিত প্রায় ৪০০ মানুষ তাঁর এই বিবৃতি পেয়েছে।
বিবৃতিতে হেইসম্যান জানিয়েছেন, জীবনকে তিনি একটি দার্শনিক অভিযাত্রার অংশ হিসেবেই নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায় এটি ‘নাস্তিবাদের একটি নিরীক্ষা’।
প্রায় দুই হাজার পৃষ্ঠার এই বিবৃতিতে পাদটীকা আছে এক হাজার ৪৩৩টি। ২০ পৃষ্ঠাজুড়ে আছে গ্রন্থতালিকা। ঈশ্বরের প্রসঙ্গ এসেছে এক হাজার ৭০০ বার। আরও ২০০ বার বলেছেন জার্মান দার্শনিক ফ্রেডারিখ নিৎসের কথা।
হেইসম্যান লিখেছেন, ‘প্রতিটি কথা, চিন্তা এবং অনুভূতি শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় এসে ঠেকে তা হলো, জীবন অর্থহীন। প্রতিটি মোহ এবং কল্পবিশ্বাসের মূল খুঁজে বের করাই নাস্তিবাদের নিরীক্ষা।’
হেইসম্যান লিখেছেন, ‘জীবন যদি অর্থহীনই হয় এবং বিভিন্ন মৌলিক বিশ্বাসের মধ্যে কোনো যৌক্তিক ভিত্তিই না থাকে, তাহলে সব পথই এক এবং তখন বাঁচা-মরার মধ্যে কোনো তফাত থাকে না।’
বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন এবং বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের উদ্ধৃতিও টেনেছেন হেইসম্যান।

ঢাকায় তিন দিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা আগামীকাল শুরু

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাল বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এই মেলার আয়োজন করছে। মেলার টাইটেল স্পন্সর হচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)।
‘ইবিএল-বিটিটিএফ ২০১০’ শীর্ষক এই পর্যটন মেলায় স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১১০টি প্রতিষ্ঠান মোট ১৬৩টি স্টলে-প্যাভিলিয়নে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মিসর।
মেলা উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন টোয়াবের সভাপতি তৌফিক উদ্দীন আহমেদ, মেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এম হাকিম আলী ও পরিচালক রেজাউল একরাম রাজু, ইবিএলের বিপণন বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম ও কার্ড বিভাগের নাজিম আনোয়ার চৌধুরী, এটিএন বাংলার প্রোগ্রাম উপদেষ্টা নওয়াজেশ আলী খান প্রমুখ।
এবার এই মেলার থিম বা প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আঞ্চলিক পর্যটন-ঐক্যেই স্থায়িত্ব’। মেলার উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য মেলাটি খোলা থাকবে। মেলার প্রবেশ কুপনের ওপর শেষ দিনে র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
মেলা উপলক্ষে আগামী ১ অক্টোবর বিআইসিসির গ্রিনভিউ রুমে দেশি-বিদেশি পর্যটনবিশারদদের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক পর্যটনের বিষয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী অনীল সরকার।

স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শ্যুটাররা

গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে ঢুকতেই চোখে পড়বে দেয়ালে টাঙানো ‘অনার-বোর্ড’। সেখানে জ্বলজ্বল করছে কমনওয়েলথ গেমস ও কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে সোনাজয়ীদের নাম। প্রথম দুটি নাম—আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার। ১৯৯০-এর অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে তাঁরা দুজন দলীয় সোনা এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। এরপর তালিকাটি বেশি বড় হয়নি। উঠেছে মাত্র ছয়জনের নাম।
তবে আসন্ন দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসগামী শ্যুটিং দলের কারও নাম হয়তো এই বোর্ডে উঠে যেতে পারে। ১২ সদস্যের এই দল নিয়ে প্রত্যাশার জাল বুনছে শ্যুটিং ফেডারেশন। কাল ফেডারেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। গত এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে সোনাজয়ী শারমিন আক্তার (রত্না), সাদিয়া সুলতানা, আসিফ হোসেনরা বলছেন, ‘এবার আমরা ভালো করতে পারি।’
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) পরশু একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেখানে কমনওয়েলথে সোনা জিতলে বিওএর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। শ্যুটিং ফেডারেশনও কাল জানাল, কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলে ১০ লাখ টাকা দেবে ফেডারেশন।
সবচেয়ে বেশি চারবার কমনওয়েলথ গেমসে খেলেছেন সাবরিনা সুলতানা। তাঁর আশাবাদ এবার একটু বেশি, ‘এবার আমাদের দলটা ভালো অবস্থায় আছে। অনুশীলনের স্কোরটা যদি ধরে রাখতে পারি, দুটো সোনা আসতে পারে।’ সাবরিনার আশাবাদের ভিত্তি—শারমিন আক্তার রত্না, সাদিয়া সুলতানাদের স্কোর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমীহ পাওয়ার মতোই।
১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ২০০২ সালের ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথে সোনা জিতেছিলেন আসিফ। মাঝে খারাপ সময় গেলেও আসিফের ক্ষমতা আছে এমন প্রতিযোগিতায় ভালো করার। যেহেতু আসিফের স্কোরটা ভালো হচ্ছে, তাই তাঁকে নিয়ে আশার কথাই বলছেন ফেডারেশন কর্তারা।
ইসতিয়াক আহমেদ যেমন বললেন, ‘আসিফ এমন এক শ্যুটার, কখন কী করে, বোঝা কঠিন। ওর ভালো করার ক্ষমতা আছে। পুরস্কারের ১০ লাখ টাকার ঘোষণার সঙ্গে ব্যক্তিগত পুরস্কারও তাঁকে দেব বলেছি। সোনা জিতলে আসিফকে একটা গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা ভাবছি।’
গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করার কথা ছিল শারমিনের। কিন্তু শারমিন এই দায়িত্বটা নিতে চান না, ‘ভয় হয়, যদি পতাকার সম্মান না রাখতে পারি। অলিম্পিকে সোনা জিতলেই পতাকা বইব।’ কমনওয়েলথে সেই দায়িত্বটা পাচ্ছেন আসিফ।

বাংলাদেশকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের শেষ নেই by সুলতানা কামাল

নিজের দেশটা বাংলাদেশ, এ কথা বলার সময় গর্বে বুকটা ভরে ওঠে মূলত এই কারণে যে এ এমন এক দেশ, যে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং তার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর-কঠিন সময় ধৈর্যের সঙ্গে পার করার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বজনকে মোহিত করে। বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ পেয়ে যে বিদেশিরা এখানে আসতে হলে রীতিমতো সন্ত্রস্তবোধ করেন তাঁরাও একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেলে ভাবতে থাকেন কী ভুল ধারণা নিয়েই না তাঁরা এতদিন বসেছিলেন। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, অত্যন্ত নিষ্ঠাবান রাজনীতিকেরা এবং সমাজকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্যরা—অবশ্যই যাঁরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের নানা প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন—কীভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন এবং ১৯৭১ সালে সেই অত্যাশ্চর্য চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটালেন। তাই এ দেশ নিয়ে আমাদের তো স্বপ্নের শেষ নেই!
কিন্তু বাস্তবতা বারবার সেই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশের স্থপতি, প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিহত হন কিছু দুষ্কৃতী ও দুষ্ট বুদ্ধিসম্পন্ন সেনাসদস্যের হাতে। তিনি একাই তাঁদের আক্রোশ ও আক্রমণের শিকার হননি, তাঁকে হত্যা করা হলো তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয় এবং রাজনৈতিকভাবে নিকটজনসহ। আমরা যারা একুশকে বুকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধ পার হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে নিজের জীবন-সংগ্রামের অঙ্গ হিসেবেই বিশ্বাস করি, তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়াকে মেনে নিতে পারি না। তাই দীর্ঘ সময়ের সামরিক শাসন অথবা গণতন্ত্রের নাম করে সামরিক শাসকদের শাসন, বা যেকোনো অপশাসনের লক্ষণ দেখলে বিচলিত না হয়ে পারি না। সেই উদ্বেগ থেকেই আজকে কলম ধরা।
১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের যে পেছন ফিরে হাঁটা, তার গতিবেগ এমনই ছিল যে সব মানুষের দেশ হওয়ার পথ ছেড়ে সংকীর্ণ হতে হতে মৌলবাদীদের দাপট, সামরিক শক্তির চোখরাঙানি, এমনকি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির গাড়িতে পতাকা লাগিয়ে বাংলাদেশের মাটির ওপর দিয়ে চলেফিরে বেড়ানোর ধৃষ্টতাও সহ্য করতে হয়েছে। নব্বইয়ে যদিও গণতন্ত্রে ফিরে আসার অভিযাত্রার সূচনা ঘটেছিল, কিন্তু বহু বছরের জঞ্জাল সরিয়ে পরিষ্কার পথের নিশানা নির্ণয় করা সহজসাধ্য ছিল না। গণতান্ত্রিক জীবনের স্বাদ পেতে শুরু অবশ্য জনগণ করেছিল, কিন্তু ১০ বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেই রাজনীতির ধরন অদ্ভুত এক রূপ নিল। তত দিনে যাঁরা রাজনীতিকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটা সাধনা বলে বিশ্বাস করতেন তাঁদের অনেকেই ঝরে গেছেন এবং তাঁদের জায়গা দখল করে নিয়েছেন যাঁরা রাজনীতিকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করেন। সোজা কথায়, আখের গোছানোর কাজকেই মূলনীতি বলে চিনেছেন তেমন ব্যক্তিরা।
স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ কথা সব রাজনীতিকের জন্য কোনোমতেই প্রযোজ্য নয় এবং অনেক সম্মানিত ব্যতিক্রম এখনো রাজনীতির হালটুকু ধরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাঁরা ক্রমশই সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছেন। ফলে যাঁরা রাজনীতিকদের এই দুর্বলতা থেকে সুযোগ নিতে পারেন তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে তাঁদের লভ্যাংশ ঠিকই বুঝে নিচ্ছেন। ফাঁকিতে পড়ছে গণতন্ত্রকামী মানুষ—যাদের রক্তে, ঘামে, শ্রমে তৈরি এই বাংলাদেশ। তার পরও তারা আশা ছাড়েনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় কী উৎসাহ আর উদ্দীপনায় জনগণ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মিথ্যা ইতিহাস চর্চা, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি থেকে মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা, সাম্প্রদায়িকতা আর মৌলবাদের প্রশ্রয়, দুর্নীতিকে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দেওয়া, সন্ত্রাসকে প্রগতি আর উন্নয়নের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠা দেওয়া—এই সমস্ত প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে বড় হওয়া নতুন প্রজন্ম কী বিপুলভাবে ভোট দিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার পক্ষে। যে যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে সহিংসতাকে এক ধরনের বৈধতা দিয়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল তার বিচার দাবি করল। সবার সম-অধিকার ও সমান মর্যাদার নীতিকে সমর্থন জানাল। একটা সময়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করা গেল—এ সমস্ত অভিজ্ঞতায় বিরাট আশায় মানুষ বুক বেঁধে বসে ছিল যে সত্যিকার অর্থে এবার বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে। জনগণের পক্ষ থেকে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার সদিচ্ছার প্রকাশে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। দেড় বছরের সরকারের জীবনে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটেছে জনগণ তাকে স্বাভাবিক কিংবা কঠিন-সাধ্য বলে মেনে নিয়ে নিজেদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে দেয়নি শত উসকানি সত্ত্বেও। জনগণের বিভিন্ন অংশ চেষ্টা করেছে যার যার মতো নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে। এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারের ওপর নজরদারি বজায় রাখা। কেউ অস্বীকার করতে পারে না যে গণতন্ত্রে মূল ভূমিকায় থাকবে জনগণ এবং জনগণের প্রতিনিধি হয়েই সরকার দেশ পরিচালনা করবে এবং মাননীয় সাংসদেরাও জনগণের হয়েই দেশের আইন-কানুন প্রণয়ন করবেন। যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাঁরা সংসদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই অঙ্গীকারগুলো যৌক্তিক সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন। বিচারব্যবস্থা সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। গণতন্ত্র বলতে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সেটাই তো বুঝি। যাঁরা জনগণের হয়ে দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবেন তাঁরা দেশের সম্পদের সুরক্ষারও পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের অবদানে যে সম্পদ আহরিত হয়, তাদের অজির্ত আয়ের ওপর থেকে যে কর আদায় করা হয় তার সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে মতামত দেওয়া শুধু জনগণের কর্তব্যই নয়, নৈতিক দায়িত্বও বটে। এবং একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জনগণ তা করে থাকে নানা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। তাই গণতন্ত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা, সৎ ও যোগ্য আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বাড়িয়ে বলা যায় না। এ সরকার যে তা অনুধাবন করেছে তারও প্রমাণ আমরা পেয়েছি। অনেক ক্ষেত্রেই অর্জনকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আজকে আমরা সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পেয়েছি যার মাধ্যমে অর্বাচীন কিছু পরিবর্তন রদ করে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সন্নিবেশিত করতে পারব। সামরিক শাসনের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা এসেছে। একই সঙ্গে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায় তথ্য অধিকারের সুযোগ। আর তথ্যের অবাধ প্রবাহের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন গণমাধ্যম। গণমাধ্যমও এক অর্থে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সাংসদেরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের জন্য, আর সংবাদমাধ্যম জনগণের নির্বাচন মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে প্রতিদিন। যে মুহূর্তে একজন নাগরিক তাঁর পকেটের পয়সা দিয়ে একটি পত্রিকা কিনে নেন, কিংবা বোতাম টিপে রেডিও অথবা টেলিভিশনের একটি চ্যানেল বেছে নেন, সেই মুহূর্তেই তিনি সেই পত্রিকা অথবা চ্যানেলের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করছেন এবং সেই পত্রিকা অথবা চ্যানেলের মাধ্যমে তাঁর তথ্য পাওয়া এবং নজরদারির দায়িত্বটি পালন করার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে যেকোনো সংকটে এবং আন্দোলনে গণমাধ্যম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। গণমাধ্যমের কোনো ভুল বা অন্যায় থাকতে পারে না সে কথা কেউ বলবে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি বা বিব্রত করার জন্যও গণমাধ্যমের ব্যবহার হয়ে থাকে, সেটা চিহ্নিত করা এবং তার প্রতিবাদ করারও নিয়মতান্ত্রিক উপায় আছে এবং তা করাও উচিত। কিন্তু কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাঁকে অর্পিত কোনো অবস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে এমন কোনো কাজ যদি করেন যা জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে, তার জন্য তাঁকে তো জবাবদিহি করতেই হবে—গণতন্ত্রের সেটাই নিয়ম বলে জানি। সেই বোধ থেকেই সৎ নাগরিক হিসেবে অবশ্যই তার কার্যকারণ জানতে চাওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। এবং জনগণের কাছে উত্তর দেওয়ার দায়বদ্ধতা থেকে জনগণের প্রতিনিধিরা বাইরে থাকতে পারেন না। কিছু প্রশ্ন তুললেই যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থান টলিয়ে দেওয়ার, অথবা গণতন্ত্র বানচাল করার অভিযোগ শুনতে হয়, তাহলে সেই গণতন্ত্রের ভিত্তি সম্পর্কেই সন্দিহান হয়ে উঠতে হয়। আর একটা অভিযোগ তোলা হয় কথায় কথায় যে রাজনীতিকদের হেয় করার জন্য এসব প্রশ্ন তোলা। ওই কাজটি করতে তাঁদের তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পড়ে বলে তো মনে হয় না! কথায় কথায় এক-এগারোর দায়দায়িত্ব দেশি-বিদেশি নানাজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ১৫ কোটি মানুষের এই দেশে এক-আধজন ইচ্ছা করলেই কি এক-এগারোর সৃষ্টি করতে পারেন! তাহলে আর আমাদের এত দিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মূল্য কোথায়? আর যত্রতত্র যার-তার নামে দোষ চাপাতে গিয়ে একেকটি ভয়ংকর ঘটনার জন্য যাঁরা প্রকৃত দায়ী, তাঁদের কি আড়াল করে ফেলা হচ্ছে না? এভাবেই খন্দকার মোশতাকেরা রাষ্ট্রপতি বনে যান আর শুধু শুধু গ্রেপ্তার হন জজ মিয়া আর পার্থ সাহারা।
আমরা যারা বুকে হাত দিয়ে জাতীয় সংগীত গাই ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, যারা সেই বায়ান্ন সাল থেকে খালি পায়ে ফুল হাতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে আজিমপুর ঘুরে শহীদ মিনারে এসে আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, উনসত্তরের গণ-আন্দোলনে দিন-রাত ভুলে আইয়ুবশাহি-মোনেমশাহির পতনের আন্দোলনে সারা শহর মিছিলে মিছিলে ছেয়ে দিয়েছি, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই ডাক শুনে শূন্য হাতে নিরস্ত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যখন যেভাবে পেরেছি দেশটাকে গণতন্ত্রের পথে চলতে সাহায্য করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছি—কতিপয় সংসদ সদস্যেদের নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিচয় ধরে অগণতান্ত্রিক আচরণে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। কোনো সন্দেহ নেই যে নির্বাচনে জেতার সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রের পোশাকি পরিচয় ধারণ করে বিরোধী দলের ওপর নগ্ন আক্রমণ ও দমন-পীড়ন চালাতে লজ্জিত হয়নি অনেক শক্তিই, একথাও ঠিক দলীয়করণকেই নিরপেক্ষতার পরিবর্তে নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে দেশ পরিচালনায়। মিথ্যা ইতিহাস আর ভ্রান্ত তথ্যকে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে সত্য বলে। ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ আহরণ আর সিন্দবাদের দৈত্যের মতো জনগণের কাঁধে চেপে আর না নামার নীতি গ্রহণ করাকেই রাজনীতি নামে চালিয়ে দেওয়ার কৌশলও গ্রহণ করেছে তারা—কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে তো তারই বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল জনগণ বিপুলভাবে। যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারার সঙ্গে কোনো দিন যুক্ত ছিল না, মুক্তিযুদ্ধেও এদের অনেকের অংশগ্রহণ ঘটনাচক্রেই সংঘটিত হয়েছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অভিষিক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় না বরং তার বিপরীতেই অবস্থান নিয়েছিল, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা আউড়ে গেলেও তাদের আচরণ ভিন্ন হতে পারে—ক্ষুব্ধ হলেও আমাদের অবাক বা শঙ্কিত হওয়ার কারণ ঘটে না। কিন্তু যারা এই দেশটাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামের ঐতিহ্যের অংশীদার, তাদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতা দেখলে মনে শঙ্কা জাগে বৈকি! তাই এমন আচরণ দেখে যখন পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সচেতন করে দিতে চায় জনগণ, তার প্রতি-উত্তরে কি তাদের অগণতান্ত্রিক আচরণ করা সাজে? কষ্ট হয় যখন দেখি জনগণের সেবা করার সুযোগের আবেদন জানিয়ে জানিয়ে সংসদে পৌঁছে নিজেদের ব্যক্তিগত কিংবা দলগত স্বার্থে দিনের পর দিন সংসদ বর্জন চলে, সাংসদেরা সময়মতো উপস্থিত না হওয়ার কারণে কোরাম হয় না, এমন সব আলোচনা সংসদে চলে যার কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। যে নির্বাচনের জন্য তাঁরা প্রাণপাত করেন, কখনো কখনো আক্ষরিক অর্থে, সেই নির্বাচনকেই অর্থবহ করার তাগিদ তাঁদের মধ্যে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। সাধারণ জনগণ তো এসব নিয়ে সমালোচনা করবেই। দিনবদলের রাজনীতি তো দেশটাকে দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করারই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
মাননীয় সাংসদদের কাছে তাই অনুরোধ, দোহাই আপনাদের, যে পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে একটি অত্যন্ত উঁচু শ্রদ্ধার আসনে আসীন হয়েছেন তার মর্যাদাটা ভুলে যাবেন না—অনুগ্রহ করে দেশটাকে আর দুর্বৃত্তায়নের চাকায় ঘুরপাক খেতে দেবেন না। আমরা যেন ভুলে না যাই এ দেশটি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণে ভিজে আছে। নূর হোসেন, ডাক্তার মিলনেরা প্রাণ দিয়েছেন গণতন্ত্রের জন্য, নিহত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু সপরিবারে, চার জাতীয় নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে জেলখানার ভেতরে। তাঁদের অপরাধ ছিল তাঁরা গণতন্ত্র চেয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এমন আচরণ মেনে নিতে হবে কেন আমাদের?
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০
সুলতানা কামাল: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

গল্পগুলো অন্য লেখকদের কাছ থেকে শোনা by আনিসুল হক

গল্পটা বার্মা বা মিয়ানমারের। মিয়ানমারের একদল লেখক যাচ্ছেন রাজধানী থেকে দূরবর্তী এক শহরে। আলোচনা সভায় যোগ দিতে। ওই দেশে শিক্ষার হার বেশি নয়, মানুষ পড়তে পারে না, শিক্ষিতদের মধ্যেও খুব বেশি লোক বই পড়ে না। কাজেই লেখকেরা লেখার পাশাপাশি আরেকটা কাজ করেন। তাঁরা কথা বলেন, আলোচনা সভায় অংশ নেন। আর জান্তা শাসনের অধীনে লেখার চেয়ে বলাটাই বেশি নিরাপদ, তাতে স্বাধীনতাও বেশি। এই লেখকেরা বেরিয়েছেন তেমনি একটা আলোচনা সভায় যোগ দেবেন বলে। তাঁদের কপাল খারাপ। পথে তাঁদের গাড়ি গেল নষ্ট হয়ে। তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন। প্রচণ্ড গরম। তাঁরা পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। খোঁজখবর করে মেকানিক ডেকে আনা হয়েছে। গাড়ি মেরামত চলছে।
তাঁদের গাড়ির পাশে ভিড় করল গ্রামবাসী। তারা জিজ্ঞেস করল, ‘আপনারা কারা?’
‘আমরা লেখক।’
‘আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?’
‘আমরা যাচ্ছি কথা বলতে।’
‘আপনাদের গাড়ি সারতে কতক্ষণ লাগবে?’
‘চার-পাঁচ ঘণ্টা।’
‘খুব ভালো। আপনারা আমাদের উপাসনালয়ে আসুন। আমাদের গ্রামের লোকদের সামনে ততক্ষণ কথা বলুন।’
লেখকদের খুব সমাদর করে নিয়ে যাওয়া হলো বৌদ্ধমন্দিরে। মন্দিরের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলো, ‘সব গ্রামবাসী চলে আসো। শহর থেকে খুব সম্মানিত লোকেরা এসেছেন। তাঁরা কথা বলবেন।’
মন্দির ভরে গেল গ্রামবাসী-জনতায়। লেখকেরা গল্প বলতে শুরু করলেন। হাসির গল্প। কিন্তু কেউ হাসছে না।
‘কী ব্যাপার? সবাই এত গম্ভীর কেন?’
গ্রামের নেতা বললেন, ‘এরা মূর্খসুর্খ মানুষ। আর আপনারা শহরের শিক্ষিত লোক। এরা আপনাদের কথা ঠিকভাবে বুঝবে কি বুঝবে না আমাদের সন্দেহ আছে। কাজেই এদের বলে দেওয়া হয়েছে, কেউ যেন কোনো উচ্চবাচ্য না করে। যেন না হাসে।’
লেখকেরা বললেন, ‘তা কেন হবে। যখন হাসির কথা বলব, তখন তো হাসতে হবে।’
‘আচ্ছা। আমি সেটা দেখছি।’ স্থানীয় ভাষায় নেতা কিছু একটা বললেন। এরপর দেখা গেল, কৌতুক বলা হলে গ্রামবাসী হাসছে।
আসলে গ্রামের নেতা হাতে একটা কাঠি রেখেছেন। তিনি গ্রামবাসীকে বলেছেন, ‘যখন আমি কাঠিটা ওপরে তুলব, তখন হাসবে। আর যখন কাঠিটা মাটিতে থাকবে, তখন সবাই চুপচাপ শুনবে।’
এইবার এক লেখক খুব দুঃখের কাহিনি বলছেন, ‘আমার বন্ধু। সে মৃত্যুপথযাত্রী। আমাকে বলল, জল দাও। আমি জল এগিয়ে দিলাম। সেই জল পান করার আগেই তার মৃত্যু হলো।’
অমনি সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
ব্যাপার কী? নেতার পিঠ চুলকাচ্ছিল। তিনি মনের ভুলে কাঠিটা হাতে তুলে নিয়ে পিঠ চুলকাতে আরম্ভ করেছেন। এটাকেই হাসার ইশারা ভেবে গ্রামবাসী হাসতে শুরু করেছে।
এই গল্প শুনিয়েছেন যিনি, তাঁর নাম খিন মং নিও। তিনি বার্মার লেখক। আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন আরও অনেক লেখকের মতো লেখকদের আন্তর্জাতিক একটা আবাসিক কর্মশালায় অংশ নিতে।
তাঁর গল্প বলার অধিবেশন ছিল দিন দুই আগে। এই গল্প শোনালেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে আমি তাঁকে বললাম, ‘যাহ্! এটা তুমি বানিয়ে বলেছ। এটা পুরোনো কৌতুক।’ খিন বলেন, ‘না না, সত্য ঘটনা।’
খিন আবার রসায়নে পিএইচডি। বিলেতের ম্যানচেস্টার থেকে তিনি এই পিএইচডি করেছেন। বার্মায় তিনি লেখালেখি করেন, রেডিওতে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, টেলিভিশনেও আলোচনায় অংশ নেন।
খিন তাঁর নিজের লেখা একটা গল্প পড়ে শোনালেন। সেই গল্পটা এই রকম:
দুটো মাটির ব্যাংক। তারা পাশাপাশি থাকে। একটার মালিক বড়লোক। আরেকটার মালিক তেমন বড়লোক নয়। বড়লোক মালিকের মাটির ব্যাংক বলে, ‘জানিস, আমার পেটের ভেতরে কী আছে? খুব দামি দামি মুদ্রা। এমনকি সোনার মুদ্রাও আছে।’
গরিব মালিকের ব্যাংক বলে, ‘ইশ, তোমার কী ভাগ্য! তোমার মালিক বড়লোক। সে প্রায়ই তোমার পেটে টাকা ভরে। পয়সা ভরে। আমি কী হতভাগা। আমার মালিক আমারটাতে পয়সা ভরতেই চায় না।’
দিন যায়। বড়লোকের ব্যাংকটা ভর্তি হয়ে যায়। তখন তার মালিক বলে, এটা তো ভরে গেছে। এখন এটাকে ভাঙতে হবে। মালিক মাটির ব্যাংকটাকে নিয়ে চলল ভাঙবে বলে।
বড়লোকের ব্যাংক বলে, ‘ভাই, আমি চললাম। আজকে আমার শেষ দিন। এখনই আমাকে ভেঙে ফেলা হবে।’
গরিবের ব্যাংক বলে, ‘দুঃখ কোরো না ভাই, আজ আর কাল। আমিও পূর্ণ হতে চলেছি। কিছুদিন পরে আমারও পরিণতি হবে তোমার মতোই।’
খিনের গল্পটা ইশপের উপদেশমূলক গল্পের মতো।
আমরা জানি, এই গল্পের উপদেশটা কী! আজ যাঁরা ভাবছেন তাঁদের খুব সুদিন যাচ্ছে, যাঁরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন, আর আমাদের কাঠি উঁচিয়ে বলছেন, হাসো, গভীর দুঃখের কথা শুনেও আমাদের যেন হাসতেই হবে, আমরা এমনি বোকাসোকা, তাদের জন্যও অপেক্ষা করছে করুণ পরিণতি। তাঁদেরও সুখের দিন শেষ হবে। এক মাঘে শীত যায় না। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ইতিহাস পুনরাবৃত্তিময়, আর এই শিক্ষাটা ইতিহাস থেকে কেউ গ্রহণ করে না।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসেছেন কবি কিম সা-ইন। তাঁর কাছ থেকে শোনা হলো তাঁর লেখকজীবনের গল্প। ১৯৮০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ছিল সামরিক শাসনাধীন। কিমকে তিনবার কারাগারে যেতে হয়েছে, পালিয়ে থাকতে হয়েছে অনেক দিন, ওই সামরিক জান্তার শাসনামলে।
ফলে তিনি যখন লিখতে শুরু করেন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে তাঁকে কবিতা লিখতে হয়েছে। ১৯৮৭ সালে ওই দেশে গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয়। কিম লিখেছেন, ‘তখন আমি আমার সাহিত্যিক উদ্যমের দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলি। এখন কী লিখব? প্রাথমিক লক্ষ্য তো অর্জিত হয়েই গেছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, আমি আমার কবিতাকে এত দিন দূষিত করেছি, খুব বেশি করে নিজের মতবাদ প্রচার করে, ঘৃণা প্রচার করে। এ যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ না দেখে আমি দেখছি আমার শত্রুদের মুখ। আমি তো ওদের মতোই অন্যের ভালো জিনিসের প্রশংসা করতে পারিনি, আমি যদি ভালোবাসা আর সহানুভূতির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, আমি কী করে নিজেকে একজন কবি বলি।’ তিনি বলছেন, ‘আমি চাই আমার কবিতা যেন বৃষ্টিতে ভেজা মানুষের পাশে গিয়ে একসঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজতে পারে, এমন না যে একটা ছাতা আনাটাই সবচেয়ে জরুরি কাজ। যারা ঠান্ডা বৃষ্টিতে ভিজছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যেন আমার কবিতাও ভিজতে থাকে। তারপর যদি ছাতা ভাগাভাগি করা সম্ভব হয়, সে তো আরও ভালো কথা।’
কিমের এই কথাগুলো যেন আমাদেরও অনেকের মনের কথা। আমরা যারা পুরো আশির দশকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে অংশ নিয়েছি, তাদের কাছে কবিতা আর মিছিল অভিন্ন হয়ে উঠেছিল। আমরা ওই সময়ে কবিতা থেকে মিছিলে আর মিছিল থেকে কবিতায় কীভাবে একাকারই না হয়ে গিয়েছিলাম! কিম বলছেন, ‘কিছুই যদি করতে না পারি, অন্তত এইটুকু যেন করতে পারি, আমার কবিতা যেন কাউকে আঘাত না করে।’
আমি কিমের দিকে তাকিয়ে সেই পুরোনো কথাটাই যেন উপলব্ধি করি—‘কবি তো তিনি, যিনি সমগ্র নিখিলের হয়ে দুঃখ পান।’
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

শিশুদের প্রতীকী সংসদের সুপারিশ -শিশুমনের অভিযোগ ও চাওয়াগুলো মোটেই উপেক্ষার নয়

শিশুদের ভালোমন্দ সাধারণত বড়রাই ঠিক করেন। তবে শিশুরাও তাদের পছন্দ-অপছন্দ আর সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝতে ও চিহ্নিত করতে পারে, তা জানা গেল শিশুদের প্রতীকী সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া শিশুদের কথায়। তারা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধসহ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে, যার দিকে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আমলে নেওয়া দরকার। শিশুদের প্রতীকী সংসদ অধিবেশন প্রমাণ করল, শিশুদের বুদ্ধি ও বিবেচনা কোনো অংশেই কম দায়িত্বশীল নয়। তাদের সংবেদনশীল মনে অনেক কথার জন্ম হয়, যা নিয়মিতভাবে বড়দের ‘কানে’ পৌঁছানো প্রয়োজন।
বিদ্যালয়গামী শিশুদের দিনের বড় একটা অংশকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ও শ্রেণীকক্ষে কাটাতে হয়। শিক্ষা গ্রহণকালে বছরের পর বছর তারা শ্রেণীকক্ষের পরিবেশে শেখে এবং বড় হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথের অনেক কিছুও তাদের অনুভূতিশীলতায় দাগ কাটে। সব মিলিয়ে শিশুদের সুষ্ঠু ও সুন্দর বিকাশের স্বার্থে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকদের আচরণ প্রভৃতি বিষয়কে হেলাফেলা করার সুযোগ কম। সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত শিশু সংসদের প্রতীকী অধিবেশনে শিশুরা সেই দাবিটাই তুলেছে। তবে ইতিবাচক ব্যাপার যে সেই অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকের বিষয় ছিল ‘শিক্ষা ও সুশাসন’ এবং তাতে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং। শিশুরা সেখানে শিক্ষাকে সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের মুঠোফোন ব্যবহার ও স্কুলের সামনে সিডি-ভিসিডি বিক্রি বন্ধ এবং বিশুদ্ধ পানি ও ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করার দাবি করে। নিশ্চয়ই শিশুদের এসব দাবির পেছনে কষ্ট পাওয়ার, ভালো না লাগার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষত, অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু কিছু শিক্ষকের মুঠোফোনে শিশুদের ছবি তোলাসহ কিছু আপত্তিকর আচরণ বিষয়ে আরও সজাগ হওয়া দরকার। অভিভাবকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী তাদের এসব অভিযোগের যথাযথ বিহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয় পর্যায়ে মাসিক ভিত্তিতে শিশুদের মনের কথা শোনার রীতিও চালু করা যেতে পারে। শিশুদের মানসিক, সাংস্কৃতিক, শারীরিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকসমাজের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তাভাবনার যে তাগিদ শিশুরা জানিয়েছে, তাতে পূর্ণভাবে সাড়া দেওয়া সবার কর্তব্য।

বিমানের হজ ফ্লাইট -নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইটের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে

আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। এবারের হজযাত্রীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সুষ্ঠুভাবে এত হজযাত্রী পরিবহন এবং এর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তাই বাড়তি মনোযোগের দাবি রাখে। বিমানসহ দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে প্রায় ৯৪ হাজার যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু এর পরও শঙ্কায় আছে বিমান মন্ত্রণালয়। কেন? কারণ হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে মন্ত্রণালয়, বিমান কর্তৃপক্ষ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি একধরনের বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। সব পক্ষ মিলে এত বড় একটি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবে—এটাই যেখানে প্রত্যাশিত, সেখানে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে স্বার্থগত দ্বন্দ্ব ও কমিশনের বিষয়টিই সবকিছুর ওপর স্থান পাওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
এবারের মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪৭ হাজার ৬৮৪ জন পরিবহন করবে বিমান। বাকি যাত্রী পরিবহন করবে অন্য আটটি এয়ারলাইনস। বিমান ছাড়া অন্য এয়ারলাইনসগুলোর যাত্রী পরিবহন নিয়ে কোনো সমস্যার আশঙ্কা করছে না কেউ। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বিমান নিজেদের উড়োজাহাজের বাইরে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করেছে। বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, যা প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু নিজেদের মধ্যেই যদি বিরোধ ও স্বার্থের সংঘাত থাকে, তবে ঝামেলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিরোধের কারণ একটি বিশেষ উড়োজাহাজ ভাড়া করাকে কেন্দ্র করে। বিমানের একটি মহল চেয়েছিল নাইজেরিয়ার কাবো এয়ারের একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করতে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কারণ তাদের মতে, ২৪ বছরের পুরোনো এই বিমান ত্রুটিপূর্ণ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আইন অনুযায়ী নিবন্ধনের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০ বছরের পুরোনো উড়োজাহাজের অনুমতি তারা দেবে না। এই উড়োজাহাজ এর আগেও ভাড়া করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে কাবো এয়ারের সঙ্গে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তাও খুব ভালো নয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় আবার এই উড়োজাহাজের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বিমানের একটি অংশের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিও কাবো এয়ারের উড়োজাহাজটি আবার ভাড়া নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধ চরমে ওঠে। একটি বিশেষ উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার পক্ষে এই কট্টর অবস্থান খুব স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কাবো এয়ারের উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে কমিশন-বাণিজ্যের যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
হজ ফ্লাইট বা বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট চালানোর জন্য যদি আরও উড়োজাহাজ ভাড়া করতে হয়, তবে নিশ্চয়ই তা করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একটি বিশেষ উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার জন্য কেন এত উঠেপড়ে লাগা? ভাড়া নেওয়ার জন্য আর কোনো উড়োজাহাজ নেই? সংসদীয় কমিটি গত সপ্তাহে এবারের হজ ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে কি না, সে আশঙ্কা প্রকাশ করে আবারও কাবো এয়ারের উড়োজাহাটি ভাড়া করার সুপারিশ করে। বোঝা যাচ্ছে, কাবো এয়ারের কাছ থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে একটি মহলের বিশেষ উৎসাহ রয়েছে। এই উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়া না হলে ওই মহল হজ ফ্লাইট নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাইবে বা করার চেষ্টা করবে; এমন আশঙ্কা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আমরা মনে করি, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে, তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া সরকারের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব। হজ ফ্লাইট একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি জড়িয়ে আছে। এ নিয়ে কেউ যাতে কোনো কারসাজি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিমান নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের এই যে অপতৎপরতা, তার একটা বিহিত করা জরুরি।

সৌদি আরব ২৩০টি সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করেছে

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ২৩০টি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে, তবে ১০টি সন্ত্রাসী হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার স্থানীয় একটি পত্রিকা এ তথ্য জানায়।
সৌদি গেজেট পত্রিকাকে নায়েফ বলেন, সৌদি আরব সর্বশক্তি দিয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে ২৪০টি সন্ত্রাসী হামলার ২৩০টিই ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নায়েফ ওই সব সন্ত্রাসী হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি। তবে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সেসব হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

একটি সিদ্ধান্ত অতঃপর

বড় সংসারই বলা যায়। দুই সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি আর ননদদের নিয়ে আটজনের পরিবার। স্বামী একটি বিস্কুটের কারখানায় কাজ করতেন। ভালো আয়-রোজগার হতো। সুখেই কাটছিল বেবি চৌধুরীর সংসার। কিন্তু আচমকা এক ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেল। নিমেষেই উবে গেল সব সুখ। বেবির সংসারে নেমে আসে কান্না, ক্ষুধা আর যন্ত্রণা।
২০০৮ সালের ঘটনা। মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা হলো। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন বেবি চৌধুরীর স্বামী শ্যামসুন্দর। ট্যাক্সিতে করে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় ক্ষত-বিক্ষত হন তিনি। বোমার স্প্লিন্টারে পুরো শরীর বিদ্ধ হয় তাঁর। এমনকি স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন। কথা বলতে গিয়ে আসে তোতলামি।
শ্যামসুন্দরের চিকিৎসায় কিছু সরকারি সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে তা এরই মধ্যে ফুরিয়ে গেছে। তাই স্বামীর চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসারের খরচের চিন্তায় বেবি চৌধুরীর এখন মাথায় হাত।
বেবি জানান, আহত হওয়ার পর থেকে তাঁর স্বামী অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছেন। স্বামীর কষ্ট দেখে কান্না ধরে রাখতে পারেন না তিনি। ভাবেন, এত যন্ত্রণা পাওয়ার চেয়ে তাঁর মরে যাওয়াই ভালো। সব ভেবে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন বেবি—স্বামীকে তীব্র যন্ত্রণার হাত থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি দেবেন তিনি। প্রিয় স্বামীকে গভীর চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন। স্বামীর অনুমতি নিয়েই অবশ্য এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বেবি বলেন, ‘সারাক্ষণই ও (স্বামী) যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকে। সামর্থ্য থাকলে ওকে চিকিৎসা করাতাম।’
অর্থের অভাবে নিজের হাতে স্বামীকে মেরে ফেলার জন্য স্ত্রীর সিদ্ধান্তের এ খবর রাতারাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের পত্রপত্রিকায় খবরটি ফলাও করে ছাপা হয়। পত্রিকায় বেবির অসহায়ত্বের খবর পড়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। বেবির স্বামীর চিকিৎসা ও তাঁর সংসারের খরচ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
বেবির বিশ্বাস, এখন আর তাঁদের অর্থসংকট থাকবে না। স্বামীর চিকিৎসার খরচ পেয়ে যাবেন তিনি। বেবি বলেন, ‘স্বামীকে রক্ষায় আমি আর কি-ই বা করতে পারতাম? তা ছাড়া দুই সন্তানের লেখাপড়া, ননদদের বিয়ে আর সংসারের খরচই বা কীভাবে জোগাতাম? একটা চাকরির জন্য স্বামীর বিস্কুটের কারখানায় বারবার ধরনা দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আবার এও ভাবি, যদি চাকরি একটা হয়েই যায়, তখন স্বামীর দেখাশোনা করবে কে?’
কৃষ্ণা হেজ নামের বিধানসভার এক সদস্য বেবিকে অর্থ সাহায্য দিয়েছেন। বেবিকে একটি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। আবার কেউ কেউ বেবির সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেকে মাধ্যমিক পাস বেবিকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আইনজীবীরা বলেছেন, ভারতে চিকিৎসাতীত রোগীকে মেরে ফেলা অবৈধ। দেশটির আদালত কখনো এ ধরনের পদক্ষেপের অনুমতি দেন না।

পাকিস্তানে মার্কিন হেলিকপ্টার হামলায় ৩০ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানে মার্কিন হেলিকপ্টার হামলায় গত শুক্রবার ৩০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো গত রোববার সে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডনকে এ কথা জানায়। মার্কিন সেনাবাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, যে ৩০ জন মারা গেছে, তারা সবাই হাক্কানি নেটওয়ার্কের জঙ্গি।
সূত্রগুলো জানায়, আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের তানি জেলার এক সেনা ফাঁড়িতে জঙ্গিদের আক্রমণের জবাবে মার্কিন বাহিনী পাল্টা এ হামলা চালায়। এই ফাঁড়ি পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটার দূরে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলায় ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ওই হামলায় তাদের বিমানও ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে আইএসএএফ পাকিস্তানে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গিদের ওপর মার্কিন হেলিকপ্টার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির পর গত শনিবার আইএসএএফ দ্বিতীয়বারের মতো হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গিদের ওপর হামলা চালায়। আইএসএএফের এই হামলায় কয়েকজন জঙ্গি মারা যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরনশাহে হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঘাঁটি আছে। তাদের সঙ্গে আল-কায়েদা, পাকিস্তানি ও মধ্য এশিয়ার জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

রোগ নির্ণয় করতে লেজারপ্রযুক্তি

আগেভাগেই রোগ নির্ণয় করতে শিগগিরই এক্স-রে বা রঞ্জনরশ্মি ব্যবহারের প্রযুক্তির জায়গা নিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে লেজাররশ্মির প্রযুক্তি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হতে পারে।
রোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে লেজারপ্রযুক্তিতে মূলত রমণ বর্ণালি পরীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে স্তন ক্যানসার, দাঁতের ক্ষয় ও হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দ্রুত, কম খরচে ও সুনির্দিষ্টভাবে করা সম্ভব হবে।
রমণ বর্ণালি পরীক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অণু থেকে বিক্ষিপ্ত আলোর ঘনত্ব ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিমাপ করা হয়। রাসায়নিক দ্রব্য ও ওষুধ তৈরির কারখানায় এই পদ্ধতি ব্যবহূত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, আগুনের শিখার বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে রমণ বর্ণালি পরীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কীভাবে জ্বালানি পুড়ছে তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পণ্য পুড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট দূষণের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক মাইকেল মরিস মানুষের হাড় পর্যবেক্ষণের কাজে দুই বছর ধরে রমণপদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি মৃত ব্যক্তিদের হাড় নিয়ে গবেষণা করেছেন। তবে মরিস বলেন, জীবিত মানুষের দেহেও এই পদ্ধতি কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। এর মাধ্যমে বর্তমানে প্রচলিত অনেকগুলো প্রক্রিয়া ও রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি বদলে দেওয়া সম্ভব।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে উপকারী দিক হলো, দেহে কাটা-ছেঁড়া করতে হয় না, প্রচলিত প্রক্রিয়াগুলোর চেয়ে এ পদ্ধতি দ্রুততর এবং অনেক বেশি নির্দিষ্টভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।
রোগ নির্ণয়ে এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মরিস বলেন, একজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে, বা অসুস্থ হতে পারেন এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে, তাঁর দেহের অসুস্থ কোষগুলোর রাসায়নিক সংমিশ্রণ সুস্থ কোষের চেয়ে আলাদা হয়। রমণপদ্ধতি ব্যবহার করে এই পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়। পরিবর্তনের মাত্রার কম-বেশির ওপর নির্ভর করে অসুস্থ হওয়ার মাত্রা শনাক্ত করা সম্ভব।

এক-সন্তাননীতি থেকে সরে যাবে না চীন

তিন দশকের পুরোনো এক-সন্তাননীতি থেকে সরে আসবে না চীন। দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান।
সরকার একজনের বেশি সন্তান নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে—এ ধরনের অনুমানকে উড়িয়ে দিয়ে চীনের ন্যাশনাল পপুলেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কমিশনের প্রধান লি বিন বলেন, নিম্ন প্রজননহার বজায় রাখতে আগামী দশকগুলোতেও বর্তমান পরিবার-পরিকল্পনা নীতি অব্যাহত রাখবে চীন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে বর্তমান পরিবার-পরিকল্পনানীতি প্রণয়নের পর দেশটির প্রজননহার ছয় থেকে দুইয়ে নেমে আসে।
লি বিন বলেন, ঐতিহাসিক পরিবর্তন সহজে আসে না। সরকারিনীতির প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে তিনি সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সামনের দশকগুলোতেও এক-সন্তাননীতি অব্যাহত রাখব।’
লি বলেন, এক-সন্তাননীতি একটি সফলতা, যা দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করেছে। কিন্তু বয়স্ক জনসংখ্যা, লৈঙ্গিক হারের ভারসাম্যহীনতা, কর্মশক্তি কমে যাওয়ার মতো বিরাজমান চ্যালেঞ্জ ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চরম আকার ধারণ করতে পারে।
চীনের বর্তমান জনসংখ্যানীতির কারণে ৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। চীনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি। ২০১৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দেড় শ কোটি স্পর্শ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন তথ্যে দেখা গেছে, শহর এলাকায় বসবাসকারী বয়স্ক লোকজনের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।

ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনে শাভেজের দল এগিয়ে

ভেনেজুয়েলায় আইনসভার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের নেতৃত্বাধীন দল বেশিসংখ্যক আসনে জিতে এগিয়ে রয়েছে। তবে আইনসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এতে নির্বাচনী আইন সংস্কারবিষয়ক আইন অনুমোদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে শাসক দলের জন্য।
গত রোববার ১৬৫ আসনের আইনসভার নির্বাচন হয়। রাতভর ভোট গণনা শেষে গতকাল সোমবার সেখানকার নির্বাচনী পর্ষদের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী শাভেজের বামপন্থী দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পিএসইউভি) কমপক্ষে ৯৪টি আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের জোট টেবল ফর ডেমোক্রেটিক ইউনিটি (এমইউডি) কমপক্ষে ৬৪টি আসন পাবে। এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
সামাজিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট টুইটারে শাভেজ লিখেছেন, ‘বিপ্লবকে শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নিতে হবে আমাদের। এটা জনগণের জন্য নতুন এক বিজয়। আমি প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’বিরোধীরা ২০০৫ সালের নির্বাচন বর্জন করায় শাভেজের দল আইনসভায় আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তারা বেশ শক্তিশালী হয়ে ফিরছে। আসন্ন ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ ধরনের ফল শাভেজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনী পর্ষদের সভাপতি তিবিসে লুসেনা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভোট গণনার কাজ চালানো হলেও এবার নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করায় সব আসনের ফল পেতে দেরি হয়েছে। তাঁরা জানান, এক কোটি ৭০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬৬ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছেন। বিরোধীরা দাবি করেছে, তাদের পক্ষে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু বিতর্কিতভাবে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
বিরোধীদের জোটের মুখপাত্র রামোন গুইলার্মো আভেলেদো বলেন, ‘পরিষ্কার হয়ে গেছে, দেশবাসীর সামনে একটি বিকল্প রয়েছে। এ জন্য ভিন্নমতাবলম্বীদের ধন্যবাদ জানাই।’
তেল সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাভেজ ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সরকারি বিভিন্ন সেবা খাত, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা ও গণমাধ্যম জাতীয়করণ করেন। দরিদ্রদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে ভর্তুকি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন। পাশাপাশি বিরোধীদের প্রতি দমন-নিপীড়নমূলক নীতিও গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়া শুরু

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল সোমবার ডুবোজাহাজবিরোধী যৌথ মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়াকে তাদের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তারা এই মহড়া করছে। পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এই যৌথ মহড়া শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের এই সম্মেলনের মাধ্যমে কিম জং ইল তাঁর ছেলে জং উনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। সাউথ কোরিয়ান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জানান, এই ডুবোজাহাজবিরোধী যৌথ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার ৭০০ মেরিন সেনা অংশ নিয়েছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়া গত রোববার এই মহড়ার সমালোচনা করে বলেছে, তারা যুদ্ধ বাঁধানোর উদ্দেশ্যে এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করেছে।

৩০ ইরাকি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইরানের সেনারা

ইরানি সেনারা প্রতিবেশী দেশ ইরাকে ঢুকে একটি কুর্দি দলের ৩০ জন যোদ্ধাকে হত্যা করার কথা দাবি করেছে। এসব যোদ্ধা গত বুধবার ইরানের কুর্দি এলাকায় সামরিক কুচকাওয়াজ চলার সময় বিস্ফোরণ ঘটায় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। গত রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত খবরে এ কথা জানানো হয়।
ইরানের প্রভাবশালী সেনাবাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেল আবদুল রাসুল মাহমুদাবাদি বলেন, গত শনিবার সীমান্তের ওপারে এক সংঘর্ষে এসব সন্ত্রাসী নিহত হয়। তিনি জানান, তাঁর সেনারা এখনো পালিয়ে যাওয়া দুই সন্ত্রাসীকে ধাওয়া করছে।
এর আগে ইরান বলেছিল, ইরাকের মাটিতে তারা সশস্ত্র দলগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, কিন্তু এভাবে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করা একটি বিরল ঘটনা।
গত বুধবার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি এলাকায় মাহাবাদ শহরে সেনাদের কুচকাওয়াজ চলাকালে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরান এর মধ্যে ঘটনাটির ব্যাপারে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দোষারোপ করেছে। কুর্দি দলগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সাবেক প্রশাসনের ওপরও দোষ চাপিয়েছে ইরান।
এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী ওই এলাকায় বহু বছর ধরে সেনাদের সঙ্গে লড়ে আসছে। কিন্তু বেশির ভাগ বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ওই ঘটনাটির নিন্দা করেছে এবং কোনো দলই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

দুর্নীতি ফাঁসে ছবি তোলা অপরাধ নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, দুর্নীতি ফাঁস করতে গোপন ক্যামেরায় ছবি তোলা আইনের চোখে অপরাধ নয়। গত শনিবার ওই আদালতের বিচারপতি এস এন ধিংড়া দুই সাংবাদিকের আনা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন।
২০০৫ সালে দুই সাংবাদিক অনিরুদ্ধ বহেল ও সুহাসিনী রাজ ভারতের ১১ জন সাংসদের ঘুষ নেওয়ার ছবি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেন। এসব ছবি ‘স্টিং অপারেশন দুর্যোধন’ নামে টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লোকসভার ১০ জন ও রাজ্যসভার একজন সদস্যকে (সাংসদ) বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে দিল্লির পুলিশ দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এ ব্যাপারে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়। মামলার বিচার শুরু হলে বিচার-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিক উচ্চ আদালতে আবেদন জানান।
বিচারপতি এস এন ধিংড়া নিম্ন আদালতের বিচার-প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ওই সাংবাদিকদের দোষী সাব্যস্ত করার অর্থ যেকোনো নাগরিকের মৌলিক কর্তব্যে বাধা দেওয়া। দুর্নীতি ফাঁস করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে। দুর্নীতি যেকোনোভাবে ফাঁস করা যেতে পারে।’

পাকিস্তান আইএইএ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে পাকিস্তান। গতকাল সোমবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সংস্থার বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়া এই দায়িত্ব পালন করছে।
আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী প্রধান নির্বাচন করতে গতকাল রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান পর্ষদ। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি গ্রুপ পাকিস্তানের নাম প্রস্তাব করে। পাশ্চাত্যের সদস্যদেশগুলো এর কোনো বিরোধিতা করেনি।
আলোচনা শেষে পর্ষদের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে পাকিস্তানের নাম অনুমোদন করা হয়।
আঞ্চলিক ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশ এক বছর মেয়াদি এই পরিচালনা পর্ষদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করে থাকে। পর্ষদের প্রধান নির্বাচিত হলেও জাতিসংঘের পরমাণু নীতিনির্ধারণে পাকিস্তানের একক কোনো ক্ষমতা থাকবে না।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এ ছাড়া দেশটির পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের বিরুদ্ধে ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় পরমাণু অস্ত্রের প্রযুক্তিপাচারের অভিযোগ রয়েছে।
২০০৪ সালে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী কাদির খান স্বীকার করেন, তিনি পরমাণু প্রযুক্তি ইরান, উত্তর কোরিয়া ও লিবিয়ায় পাচার করেছেন। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

উৎপাদনশীলতার জন্য চাই শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেছেন, বাংলাদেশের শিল্প-কারখানায় উন্নত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে আলোচনা করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সৌহার্দ্যপূর্ণ শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল সোমবার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মরিয়ার্টি এসব কথা বলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে শিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী ও মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) কমপক্ষে দুটি কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসবে। শিল্প মন্ত্রণালয় ্রইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন কোম্পানির আরও কিছু শেয়ার ছাড়া হতে পারে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে জাতীয় শিল্পনীতি, ২০১০-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া সৌহার্দ্যপূর্ণ শ্রমপরিবেশ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ, হাইটেক শিল্পপার্ক স্থাপনসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রদূত ইপিজেড ও অর্থনৈতিক এলাকার পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হয়েছে, ইপিজেডে কেবল বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে পারেন। এমনকি এখানে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা যায়, স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যায় না। কিন্তু নতুন অর্থনৈতিক এলাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সমান সুবিধা পাবেন।
শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রণীত জাতীয় শিল্পনীতি, ২০১০-এর প্রশংসা করেন।
সরকার শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে বলে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেছেন।

ঢাকা চেম্বার ও বিসিআই আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় বৃদ্ধি চায়

আয়কর বিবরণী দাখিলের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।
ঢাকা চেম্বার গতকাল সংবাদপত্রে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আয়কর বিবরণী দাখিলের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু রমজান ও ঈদের ছুটি থাকায় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা কর প্রদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেননি।
আর তাই ঢাকা চেম্বার আয়কর বিবরণী দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল সোমবার বিসিআইয়ের সভাপতি শাহেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে বিসিআই পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরি সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, রমজান মাস, ঈদুল ফিতর, আসন্ন পূজা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ব্যস্ততা ও আর্থিক সংকট চলছে। তা ছাড়া আয়কর বিবরণী দাখিলের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আয়কর বিবরণী দাখিল করছেন এবং সবার পক্ষে দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বেশির ভাগ করদাতার পক্ষে সেপ্টেম্বর মাসেই কর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক গোলাম মোস্তফা তালুকদার, প্রীতি চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর আলম ও এ কে আজাদ; সাবেক পরিচালক শহিদুল ইসলাম, শামসুর রহমান, এনায়েত উল্লাহ সিদ্দিকী, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সামিম আহমেদ।

তিন সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে সমন্বয় কমিটি হবে

দেশে সুতার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পৃক্ত পক্ষগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য তিনটি বাণিজ্য সংগঠন থেকে প্রতিনিধি নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)—প্রতিটি সংগঠন থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি নিয়ে নয় সদস্যের এই সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।
ঢাকায় বিটিএমএর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার তিন সংগঠনের নেতাদের এক যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমন্বয় কমিটি তিন সংগঠনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি তদারকি ও সমস্যার সমাধানে দায়িত্ব পালন করবে। বিকেএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে সুতার দাম যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিএমএকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
বৈঠকে বিকেএমইএর পক্ষে সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ হাতেম, শরাফত জামিল, এ এইচ আসলাম সানি; বিজিএমইএর পক্ষে সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও সহসভাপতি ফারুক হাসান; বিটিএমএর পক্ষে সভাপতি আবদুল হাই সরকার, সাবেক সভাপতি সোহেল এফ রহমান, মো. শাহাজাহান, এ মতিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কটন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আইউব যোগ দেন।
বৈঠকের শুরুতে বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএর নেতারা যৌথভাবে সুতার অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে এ খাতে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়গুলো বিটিএমএর নেতাদের কাছে উপস্থাপন করেন।
দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুতার দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার এবং ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ার প্রবণতা রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া সুতার দাম বাড়ার অন্তত ৩০ দিন আগে বিটিএমএ কর্তৃক এ ঘোষণা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সুতার দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ ও সরকারের সমম্বয়ে গঠিত মনিটরিং সেলকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের মধ্যে মেয়াদি ঋণচুক্তি

পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের মধ্যে গতকাল সোমবার ১০ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণচুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পূবালী ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সকে এই ঋণ দিচ্ছে।
পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার মহাব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কে হালদার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশীদ-উল-আলম, মাহবুব মুস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল আলম খান চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক শেখ গোলাম মোহাম্মদ, উপমহাব্যবস্থাপক সুশীল কুমার সাহা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিএফও মো. জিল্লুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রাণ গৌরাঙ্গ দেসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতা আইনের খসড়া এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে

অযৌক্তিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের জন্য শাস্তির বিধান রেখে প্রস্তাবিত প্রতিযোগিতা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা পণ্যমূল্যের বাজারের স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে। ব্যবসায়ীদের অবৈধ চক্র (সিন্ডিকেট) ব্যাহত করছে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা। পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রে বড় বড় প্রতিষ্ঠান অনেক সময় কর্তৃত্বময় ভূমিকার নামে এবং পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে মূলত অসাধু ব্যবসায়ীরাই দায়ী।
এত কিছুর পরও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি কোনো হাতিয়ার নেই সরকারের কাছে, যে সুযোগটি নিয়ে থাকে ব্যবসায়ীদের অসাধু চক্র। অথচ প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশেই এ ব্যাপারে আইনি কাঠামো রয়েছে।
১৯৭০ সালে মনোপলিস অ্যান্ড রেস্ট্রিকটিভ ট্রেড প্র্যাকটিসেস (কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) অধ্যাদেশ জারি হলেও তা কার্যকর নয় বলে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এ আইন পাস হলে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড তদন্ত ও নিরূপণ করা সহজ হবে। ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে মানসম্মত পণ্য পাবেন। এতে ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা বাড়বে এবং পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রসার ঘটবে।
এ আইন কার্যকর করা হলে নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মুক্তবাণিজ্যের এ যুগেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন।
সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতা আইনের পর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদবিরোধী আইন প্রণয়নে হাত দেওয়া হবে। কারণ, বিদ্যমান এ আইনটিকেও যুগোপযোগী করতে হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে ১৯৫৩ সালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদবিরোধী আইন থাকলেও এটি কার্যকর নয়। এ আইন দিয়ে কোনো মজুদদারকে ধরা যায় না। গত বছর চিনি মজুদের কারণে যশোরের অভয়নগরের ১৪ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং পরে তাঁদের ধরাও হয়েছিল। তবে তাঁদের ধরা হয়েছিল মজুদবিরোধী আইনে নয়, বরং বিশেষ ক্ষমতা আইনে। পরে তাঁরা জামিনে মুক্ত হন।
যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিযোগিতা আইন প্রণয়নের জন্য তৈরি করা খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে ভেটিংয়ের জন্য যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। তারপর যাবে জাতীয় সংসদে।
বাণিজ্যসচিব বলেন, এ আইন পাস হলে ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্মত পণ্য তো পাবেনই, অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হবে।
যোগাযোগ করা হলে ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতাবিরুদ্ধ (এন্টি-কম্পিটিটিভ) ব্যবহার শুধু দামের ক্ষেত্রে বা পণ্য মজুদের ক্ষেত্রে সীমিত নয়, পণ্যের সরবরাহ-প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে গুণগত মানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সুতরাং, প্রতিযোগিতা আইনের প্রয়োগ এই বৃহত্তর বিবেচনায় করতে হবে।’
এনামুল হক আরও বলেন, প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করতে হবে। তবে কমিশনের কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা জরুরি। তা না হলে পুরো বিষয়টি অর্থবহ হবে না।
এনামুল হক ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রথম দিকে এই কমিশনের কাজ সরকারকে নীতি-পরামর্শ দেওয়ার মধ্যে সীমিত থাকা উচিত। বাজারে কোথায় ও কীভাবে প্রতিযোগিতাবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড চলছে, তা চিহ্নিত করার জন্য গবেষণার কাজটি এই কমিশন করবে।
পরবর্তী পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতাবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের সম্পর্কে তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। আর সর্বশেষ ধাপে এসে প্রতিযোগিতাবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু করবে কমিশন।
এনামুল হক মনে করেন, ধাপে ধাপে অগ্রসর না হলে প্রতিযোগিতা কমিশনও দুর্নীতি দমন কমিশন বা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মতো হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরো উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিযোগিতা আইন বলবৎ করা হয়।

হাইকোর্ট এসইসির দুটি আদেশ স্থগিত করেছেন

কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভির ভিত্তিতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণসংক্রান্ত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুটি আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট এসইসির আদেশ কেন অবৈধ হবে না এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘ মেয়াদে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানাতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতে দুই রিট আবেদনকারী মুরশেদুর রহমান ও শাহনেওয়াজ জুয়েলের পক্ষে আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আবুল কালাম আজাদ মামলা পরিচালনা করেন। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর।
যোগাযোগ করা হলে আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, এসইসি গত ৬ ও ২১ সেপ্টেম্বর এনএভির ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের জন্য দুটি পৃথক আদেশ জারি করে। এর একটি আদেশে বলা হয়, যেসব বিনিয়োগকারীর অতিরিক্ত ঋণ রয়েছে তাঁদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে। এসইসির এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের ঋণ সমন্বয়ের জন্য জোরপূর্বক (ফোর্স সেল) শেয়ার বিক্রিসংক্রান্ত বিধান স্থগিত করেন।
শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহ কমাতে এসইসি সম্প্রতি গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে প্রণীত একটি পুরোনো বিধান নতুনভাবে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী হয়। এই বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দিতে গেলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়।
মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো শুরু থেকেই এই নিয়মের বিরোধিতা করে এলেও এসইসি তা আমলেই নেয়নি। উপরন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর অপর একটি আদেশে ঋণ বিতরণের জন্য শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রধান ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাত থেকে অর্জিত আয়কে বিবেচনায় নেওয়া যাবে না বলে জানায় এসইসি।
একই সঙ্গে বলা হয়, শেয়ারের বিপরীতে প্রাপ্য ঋণের পরিমাণ নির্ধারণে কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের (ত্রৈমাসিক/অর্ধবার্ষিক/বার্ষিক) এনএভির তথ্য ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনো কোম্পানি সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করলে অতিরিক্ত সম্পদমূল্য এই হিসাবে আসবে না।
ডিএসইর সিইওকে ভর্ৎসনা: এনএভিভিত্তিকে কোন কোন কোম্পানির শেয়ার ঋণসুবিধার আওতায় থাকবে সেই তালিকা প্রকাশে ভুল করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতীপতী মৈত্রকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার তাঁকে এসইসির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ভুল তালিকা প্রকাশের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসইসি তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে দ্রুত ভুল সংশোধনের নির্দেশ দেন।
এসইসি সম্প্রতি ডিএসইকে এনএভির ভিত্তিতে কোন কোন কোম্পানি ঋণ পাবে তার তালিকা তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি একই বিষয়ে গত তিন দিনে তিন রকম তালিকা প্রকাশ করে। প্রথম তালিকায় ঋণ পাওয়ার যোগ্য শেয়ার দেখানো হয় ১৩৯টি, দ্বিতীয় তালিকায় ১১২টি, সর্বশেষ তালিকায় ১৩৬টি।
এনএভি সূত্র অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রথম তালিকাটি কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকলেও গত শনিবার প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় প্রাপ্য ঋণের পরিমাণ দেখানো হয় তারও অর্ধেক। গকতাল সোমবার এ তালিকাটি প্রত্যাহার করে আবার প্রথমটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার বলেন, সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকাটি এসইসির নির্দেশনা মেনে করা হয়নি। সেই জন্য ডিএসইর সিইওকে ডেকে তা সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

ক্যাম্পে ফেরানো হলো তাঁদের

এশিয়ান গেমসের মহিলা কাবাডি ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়েরা জাতীয় মহিলা হ্যান্ডবলে খেলছিলেন। ক্যাম্প ছেড়ে পাঁচ দিন খেলার পর আবার তাঁদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কাবাডি ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েছিলেন মেয়েরা। কিন্তু বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) বিষয়টা জানত না। বিওএ যেহেতু এশিয়াডের ক্যাম্পের আয়োজক, তাই তাদের মতামতই প্রাধান্য পেয়েছে। বিওএর নাখোশ দেখে কাবাডি ফেডারেশন কাবাডি ক্যাম্পে ফিরিয়ে নিয়েছে খেলোয়াড়দের।
বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মানু) কাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘জাতীয় কাবাডি দল থেকে ছুটি না নিয়ে এভাবে খেলোয়াড়দের হ্যান্ডবল খেলতে দিয়ে কাজটা ঠিক করেনি ফেডারেশন। এটা আইনসংগত নয়। এভাবে খেলতে চাইলে প্রশিক্ষণ কমিটির অনুমতি নিতে হবে।

বিসিবি একাদশের নেতৃত্বে আশরাফুল

ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন, তবে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঠিকই দেখা হচ্ছে মোহাম্মদ আশরাফুলের। আগামী ১ অক্টোবর বিকেএসপিতে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের নেতৃত্ব দেবেন আশরাফুল। নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ সফরে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি, এবার মূল সিরিজে দর্শক আশরাফুল কি প্রস্তুতি ম্যাচে চেনাতে পারবেন নিজেকে? মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন যে কতবার করা হলো!
নির্বাচিত খেলোয়াড়দের আগামীকাল বেলা ২টায় দলের ম্যানেজার সাব্বির খানের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
বিসিবি একাদশ দল: মোহাম্মদ আশরাফুল (অধিনায়ক), শামসুর রহমান (সহ-অধিনায়ক), ফয়সাল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মাহবুবুল আলম, সৈয়দ রাসেল, নাজিমউদ্দিন, নূর হোসেন, ডলার মাহমুদ, রনি তালুকদার, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান ও শুভাগত হোম চৌধুরী। ম্যানেজার: সাব্বির খান, প্রধান কোচ: সারওয়ার ইমরান।

আজ আসছে নিউজিল্যান্ড

এটা একটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজই হতে পারত। কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপ যেহেতু উপমহাদেশে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে এখানকার কন্ডিশনে যত বেশি সম্ভব ওয়ানডে খেলাটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ! সফরসূচিতে থাকা দুটি টেস্ট বাদ দিয়ে এর জায়গায় দুটি বাড়তি ওয়ানডে যোগ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে সে সুবিধাই আদায় করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ বাংলাদেশ সফরের পর এবং বিশ্বকাপের আগে এই নিউজিল্যান্ড দলই ভারতে গিয়ে ওয়ানডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজও খেলবে! বিসিসিআই তো আর বিসিবি না।
বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেট কূটনীতিতে সফল নিউজিল্যান্ড মাঠে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে কতটা সফল হবে, সেটা জানা যাবে আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে। আজ রাতেই ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দলটা ঢাকা এসে পৌঁছাচ্ছে। পরের চারটি ওয়ানডে হবে ৮, ১১, ১৪ ও ১৭ অক্টোবর। সব ম্যাচ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এবং কোনো ম্যাচই দিবারাত্রির নয়। সিরিজ শুরুর আগে আগামী ১ ও ৩ অক্টোবর বিকেএসপিতে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড দল।
নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক এই সিরিজটা যখন হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তখন ব্যস্ত বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে। এবার আর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গিয়ে তাই সাজানো পরিপাটি পরিবেশ পাবে না দর্শকেরা। চারদিকে নির্মাণসামগ্রী আর যন্ত্রপাতি ছড়ানো-ছিটানো, চলছে ভাঙা-গড়ার খেলা। তবে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দর্শকদের সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সিরিজ চলাকালে বন্ধ থাকতে পারে সংস্কারকাজ।
গ্যালারির সংস্কারকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় বেশির ভাগ জায়গায় এবার বসার ব্যবস্থা নেই। ব্যাপারটা মাথায় রেখে নিউজিল্যান্ড সিরিজে টিকিট ছাড়া হচ্ছে অন্যবারের তুলনায় অনেক কম। কাগজে-কলমে স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার হলেও এই সিরিজের জন্য সব মিলিয়ে টিকিট ছাড়া হবে সাড়ে ৯ হাজারের মতো। এর মধ্যে সাধারণ গ্যালারির সাড়ে ৪ হাজার, ক্লাব হাউস (উত্তর) ১ হাজার, ক্লাব হাউস (দক্ষিণ) ২ হাজার, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ৬০০ এবং ভিআইপি গ্যালারির দেড় হাজার টিকিট ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসনসংখ্যা কমে গেলেও দর্শকদের জন্য এবার সুসংবাদ আছে। গ্যালারিতে স্থায়ী চেয়ার বসানোর কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় সাধারণ গ্যালারিতেও অনেক দর্শকের চেয়ারে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে। গত কয়েক বছরের মধ্যে টিকিটের দামও এবারই সবচেয়ে কম। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ২৫ টাকা, ক্লাব হাউস ১০০ টাকা, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ২০০ টাকা এবং ভিআইপি গ্যালারির টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা। নিউজিল্যান্ড সিরিজের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আশরাফ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবার এক শহরেই পাঁচটি ওয়ানডে বলে গ্যালারির টিকিটের দাম মাত্র ২৫ টাকা করা হয়েছে। গ্রামীণফোন সেন্টারের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা আগামী ৩ অক্টোবর থেকে। তবে ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের কাউন্টারেও টিকিট মিলবে যথারীতি।

সবার জন্য উন্মুক্ত এক পদ

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান আরামবাগ ক্লাবের সভাপতি। ওই ক্লাবের সহসভাপতি তাবিউর রহমান (পালোয়ান) কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তাবিউরের খুব পছন্দ শাজাহান খানকে। তিনিই নৌপরিবহনমন্ত্রীকে কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি করতে সুপারিশ রাখেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে। সুপারিশে ফল এসেছে, শাজাহান খান কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছেন।
তাবিউর বলছিলেন, ‘মাননীয় শাজাহান খানকে একদিন অনুরোধ করলাম কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ার জন্য। বললেন, আমি ব্যস্ত থাকি। আমাকে কেন? কিন্তু তাঁকে রাজি করালাম। মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি শাজাহান খানকে সভাপতি করে দিলেন। শাজাহান খান যেদিন মন্ত্রী হলেন, সেদিনই কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে ওনাকে।’
এভাবে কেউ অনুরোধে ফেডারেশনের সভাপতি হচ্ছেন, কেউ নিজের আগ্রহে। বড় ফেডারেশনের সভাপতি পদ পেতে তদবিরও হয়। সেটা যে কেউ করতে পারেন। সভাপতি নিয়োগে সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকায় পদটা সবার জন্যই উন্মুক্ত। এর ফলে মন্ত্রী, সাংসদ, সচিব, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, অভিনেতা এমনকি কণ্ঠশিল্পী পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছেন ক্রীড়া ফেডারেশন সভাপতি।
সাবেক সচিব ও ক্রীড়ালেখক আখতার হোসেন খান বলছেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিচার করলে সরকার কর্তৃক এভাবে সভাপতি নিয়োগ সমর্থনযোগ্য নয়। নির্বাচন হলেও অবশ্য সমস্যা আছে। তখন অনেক সংগঠনের মতো এখানেও বিভাজন হতে পারে। তবে সরকার সভাপতি নিয়োগ দিলেও একটা নীতিমালা থাকা উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্রীড়া-সম্পৃক্ততা আছে কি না দেখতে হবে। সাবেক খেলোয়াড় বা সংগঠক হলে ভালো। আর সভাপতিকে অন্তত দুটি মেয়াদে রাখা উচিত।’
ক্রীড়াঙ্গনে প্রচারণা আছে—যখন যে সরকার আসে, তারা দলীয় সাংসদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে না পেরে কোনো একটা ফেডারেশনের সভাপতি বানিয়ে সান্ত্বনা দেয়। অনেকের কাছে ফেডারেশনের সভাপতি পদটা পুরস্কারও বটে। যদিও এটি স্বেচ্ছাশ্রম, কোনো সম্মানী নেই।
সভাপতি নিয়োগের ব্যাপারটা মূলত ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেখে। ফেডারেশনগুলোর তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি), কিন্তু রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়, ‘১৯৭৪ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ও ’৭৬ সালের সংশোধিত আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী আপনাকে...ফেডারেশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।’ ক্রীড়াসচিব মাহবুব আহমেদ জানাচ্ছেন, ‘এনএসসির ১৯৭৪ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর সভাপতি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের। কাজেই এটা আইন অনুযায়ী হচ্ছে।’
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লিগ সরকারের সময় ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচন চালু হয়েছিল। তখন সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়নি। ২০০৩ সালে আইনের সংশোধনীতে ফেডারেশনগুলো চাইলে তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্রে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান রাখতে পারে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনকে সাধারণ সভার অনুমোদন নিতে হবে। তা করেছে শুধু দু-তিনটি ফেডারেশন। অনেকেই অবশ্য জানে না, এমন এটা ব্যাপার আছে। ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির মতো সভাপতি পদে নির্বাচনও পরিচালনা করে এনএসসি। তবে ফুটবল ফেডারেশন বাদ দিলে হাতেগোনা বাকি যে কয়েকটি ফেডারেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন হয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে সব ক্ষেত্রেই ঘটনা ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত’।
এক ফুটবলেই সভাপতি পদে জমজমাট নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন অবশ্য ফিফার চাপে। নিজস্ব গঠনতন্ত্র সংশোধন করায় ভলিবলে এখন নির্বাচিত সভাপতি। ভারোত্তোলনের সভাপতি পদে ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়েছিল। তাতে বিডিআরের প্রয়াত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ নির্বাচিত হন। কিন্তু মেজর জেনারেল শাকিল বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হওয়ার পর ফেডারেশন ফিরে যায় সরকার মনোনীত সভাপতির ধারায়।
দাবা ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সুজাউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ‘ফেডারেশনগুলো সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে চায়, যিনি টাকা আনতে পারবেন। এ জন্য তারা নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করে না।’
সাবেক এই ক্রীড়াসচিব বলছেন, ‘সভাপতি নিয়োগে মানদণ্ড কখনোই ছিল না। যোগ্যতা না থাকলেও ফেডারেশন সভাপতি করা হচ্ছে অনেককে। এনএসসি অ্যাক্ট সংশোধন করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। সভাপতি মনোনয়নে একটা মানদণ্ড অবশ্যই ঠিক করা দরকার।’
সাইক্লিং ফেডারেশনের সভাপতি মিজানুর রহমান (মানু) সরকারের সভাপতি নিয়োগের উদ্দেশ্যটা ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘নির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি পদটাই শুধু সরকারের। সভাপতির মাধ্যমে সরকার তার ক্রীড়ানীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সরকার মনে করে, ফেডারেশনে নিজেদের একজন লোক থাকা দরকার। তাই সভাপতি নিয়োগ দেয় সরকার।’
কিন্তু কিসের ভিত্তিতে সেই নিয়োগ, এটির কোনো মানদণ্ড না থাকায় সংশ্লিষ্ট খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন অনেকেও বসে পড়ছেন একটি জাতীয় ফেডারেশনের সর্বোচ্চ চেয়ারটিতে।

সোনা জিতলেই ফ্ল্যাট

কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেই ফ্ল্যাট—দেশের অ্যাথলেটদের ভালো পারফরম্যান্সে উদ্বুদ্ধ করতে কাল এমনই ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান এ ঘোষণা দেন ব্যাংকার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল সজল বুলবুল। ৩ থেকে ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে বিওএ। সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জজয়ী অ্যাথলেটদের ১০ লাখ, পাঁচ লাখ ও তিন লাখ টাকা হারে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। কমনওয়েলথ গেমসগামী বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ছাড়াও গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, বিওএর সভাপতি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবদুল মুবীন ও বিওএর মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ।

শীর্ষে ইন্টার-লাৎসিও

এবার ইতালিয়ান লিগের চেহারাটা শুরু থেকেই অন্যরকম লাগছে। পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ। গত মৌসুমে ৫ ম্যাচ পর যেমন ইন্টার মিলানের একচ্ছত্র আধিপত্যটাই টের পাওয়া যাচ্ছিল, এবার সেটা হচ্ছে না। এবার শুরু থেকেই উন্মুক্ত স্কুডেট্টোর লড়াই। এএফপি।
৫ ম্যাচ পর ইন্টার মিলান শীর্ষে আছে ঠিক, কিন্তু সেই শীর্ষস্থানে ভাগ আছে লাৎসিওরও। দুই দলেরই পয়েন্ট ১০। এই দুই দলের ঘাড়ের ওপর আবার নিঃশ্বাস ছাড়ছে শিয়েভো, ব্রেসিয়া, এসি মিলান, নাপোলি, কাতানিয়া ও বারি। ইন্টার আর লাৎসিওর ঠিক পরেই অবস্থান শিয়েভো ও ব্রেসিয়ার। দুই দলের পয়েন্টই ৯ করে। এরপর আছে বাকি চারটি দল। এই চার দলের প্রতিটিরই আবার ৮ পয়েন্ট।
পরশু শিয়েভো ও ব্রেসিয়ার ইন্টারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুই দলই হেরে বসায় তা আর হয়নি। শিয়েভোকে ১-০ গোলে হারিয়েই শীর্ষে উঠেছে লাৎসিও। ব্রেসিয়া হেরেছে বারির কাছে।জুভেন্টাস এদিন স্বরূপে ফিরেছে। প্রথম ৪ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট পাওয়া দলটি ক্রাসিকের হ্যাটট্রিকে ক্যালিয়ারিকে হারিয়েছে ৪-২ গোলে।

টিটির বিশেষ ব্যবস্থা

পল্টন উডেনফ্লোর জিমনেসিয়ামে বিদ্যুৎ নেই বেশ কিছুদিন। পাশেই বক্সিং স্টেডিয়াম থেকে সংযোগ নিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ এই ব্যবস্থায় উডেনফ্লোরে মহানগরী টেবিল টেনিস লিগ আয়োজন করেছে টিটি ফেডারেশন। প্রথম বিভাগ শুরু আজ। কাল শুরু সিনিয়র ডিভিশন, ৫ অক্টোবর থেকে মহিলা লিগ। প্রথম বিভাগে ১৮টি, সিনিয়র ডিভিশনে ১০টি ও মহিলা লিগে ৮টি দল খেলছে।

নিকোলাস ও নাদাল

কথাবার্তায় দারুণ বিনয়ী, হাসিটা শিশুসুলভ সারল্যে ভরা। অথচ তাঁর সার্ভিসটা দেখেছেন? গোলা। স্রেফ কামানের গোলা ছুটে যায় যেন রাফায়েল নাদালের র‌্যাকেট থেকে। নাদালের বাকি সব শট আটকানো তো পরের চিন্তা। ছোট-মেজো প্রতিপক্ষরা এই স্প্যানিয়ার্ড ‘দস্যু’র সার্ভিস সামলাতেই শেষ!
কিন্তু নাদাল এই ‘বিগ সার্ভিস’ শিখলেন কার কাছ থেকে? সর্বকালের অন্যতম সেরা গলফার জ্যাক নিকোলাসের কাছ থেকে! চমকে উঠবেন না। এটাই সত্যি। অন্তত নাদালের কোচ ও চাচা টনি নাদাল এ রকমই বলছেন।
গলফে সবচেয়ে বেশি, ১৮টি মেজর জেতা নিকোলাস হাতে ধরে নাদালকে কিছু শেখাননি। আসলে নিকোলাসের একটা ভিডিও দেখে টনি নাদালের মাথায় নাকি চিন্তাটা এসেছিল, ‘ওই ভিডিওটাতে নিকোলাস বলছিলেন, ‘‘আগে বলটাকে যত দূরে পার পাঠাও, তারপর ভেতরে রাখার চিন্তা করো।’’ আমি নিজেকে বললাম, ‘‘এই লোকটা মনে হয় ঠিকই বলছে।’’ তারপরই রাফায়েলের ওপর এই চিন্তাটার প্রয়োগ করেছি।’
চিন্তাটার প্রয়োগ যে দারুণ কাজে দিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। সেই চার বছর বয়স থেকে নাদালের কোচ হিসেবে কাজ করছেন টনি। আরও সব অস্ত্রের সঙ্গে নিকোলাসের দর্শন অনুসরণ করে তাকে ‘বিগ সার্ভিস’ শিখিয়েছেন। নাদাল বল কোর্টে রাখাটা শিখেছেন যত জোরে সম্ভব সার্ভিস করাটা রপ্ত করার পর।

বিশ্ব ক্যারমে যাওয়া হলো না বাংলাদেশের

আশা-নিরাশার দোলায় ছিল বাংলাদেশ ক্যারম দল। শেষ পর্যন্ত নিরাশই হতে হলো। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার ভিসা মেলেনি, তাই বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না বিশ্ব ক্যারম চ্যাম্পিয়নশিপে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিশ্ব ক্যারম চ্যাম্পিয়শিপ শুরু হয়ে গেছে গতকাল। আর গতকালই ভিসার জন্য বাংলাদেশ ক্যারম দলের সাক্ষাৎকার নেয় ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস। কাল ভিসা পেয়ে ভার্জিনিয়া পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুই দিন পার হয়ে যেত, তবে তাতে ‘ক্ষতি’ তেমন ছিল না। শুধু সুইস রাউন্ডটাই খেলতে পারত না বাংলাদেশ। সুযোগ থাকত দলগত এবং দ্বৈত বিভাগে খেলার। ১ অক্টোবর থেকে খেলার কথা ছিল ইউএস ওপেনেও।
২০০৬ সালের দিল্লিতে সর্বশেষ বিশ্ব ক্যারমে দলগত বিভাগে ব্রোঞ্জ পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার রুপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন কর্মকর্তারা। কলম্বোয় সাফ ক্যারমে দলীয় রুপা জয়ই এই আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল। কারণ সাফের সেরা দলগুলোই ক্যারমে বিশ্বসেরা।
বাংলাদেশ দলে খেলোয়াড় ছিলেন ৯ জন, সঙ্গে ৪ জন কর্মকর্তা। ভিসার জন্য সরকারের জিও (সরকারি আদেশ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি, টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণপত্র জমা দেওয়া হয় ঢাকার আমেরিকান দূতাবাসে। কিন্তু এই কাগজপত্র যথেষ্ট বলে মনে হয়নি তাদের কাছে। ক্যারম ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক কাদের বিশ্বাস জানালেন, ‘দূতাবাস বলেছে, আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি লাগবে। আমরা আমেরিকা থেকে ফিরব কি না, সেই নিশ্চয়তা নাকি দূতাবাস পায়নি।’
ক্যারম দল যেতে পারছে না, অথচ ক্যারম ফেডারেশনের সভাপতি সাংসদ জুনায়েদ আহমেদ ১৯ সেপ্টেম্বরই আমেরিকা চলে গেছেন। ক্যারমের বিশ্ব কংগ্রেসে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। ক্যারম খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা ছিল, সভাপতি তাদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন। সভাপতি আগেই চলে যাওয়ায় গোটা দল অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাদের বিশ্বাস ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘কারও কোনো সহযোগিতা পাইনি আমরা। ফেডারেশনকে সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দিতে না পারলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হোক। নামকাওয়াস্তে ফেডারেশন রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

অপরাধ স্বীকার করেছেন আমির

স্পট ফিক্সিংয়ে তাঁর নাম আসার পর চমকে গিয়েছিল পুরো ক্রিকেট-বিশ্ব। মোহাম্মদ আমির চমকে দিলেন আরও একবার। জি নিউজ ওয়েবসাইটের দাবি, ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন আমির। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাঁহাতি পেসার দায় দিয়েছেন সালমান বাটকে। সাবেক অধিনায়কই নাকি তাঁকে প্রলুব্ধ করেছিলেন ফিক্সিংয়ে জড়াতে! পিসিবি অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি, কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রও খবরটি নিশ্চিত করেনি।
ওয়েবসাইটটিকে খবরটি জানিয়েছে পিসিবির এক সূত্র। তাতে বলা হয়েছে, বোর্ড চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কাছে গিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন আমির এবং নিজেকে বলেছেন পাকিস্তান দলের ‘সিনিয়রদের ক্ষমতা প্রদর্শনীর’ শিকার। আরেকটি সূত্র বলেছে, পাকিস্তানের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার আমিরকে দেখেছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে কথা বলতে। পরে আফ্রিদি নাকি আমিরকে নিয়ে গেছেন ইংল্যান্ড সফরের ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদের কাছে। দুজনের কাছেই আমির নাকি বলেছেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার। সালমান বাট যা বলেছেন, তিনি তাই করেছেন, এর বেশি কিছু জানেন না। আলোচিত বুকি মাজহার মাজিদকেও নাকি তিনি চিনতেনও না, বাট ও আসিফ তাঁকে মাজিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সাঈদ ও আফ্রিদিকে আমির অনুরোধ করেছেন তাঁকে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করতে।
বয়সের কথা ভেবে আমিরের প্রতি সহানুভূতি আছে অনেকেরই। আইসিসিকে আমিরের ব্যাপারটা আলাদা করে বিবেচনা করার অনুরোধও করেছেন মাইক আথারটন, মাইকেল হোল্ডিং, জিওফ লসন, রমিজ রাজার মতো সাবেকেরা। এর আগে একবার শোনা গিয়েছিল ‘রাজসাক্ষী’ হতে পারেন আমির। এই ঘটনা কি তবে সেটারই ইঙ্গিত?
এদিকে ইয়াওয়ার সাঈদ আবার পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তান দলের ম্যানেজারের পদ থেকে। এর সঙ্গে অবশ্য সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সম্পর্ক নেই, পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য সফরের আগেই সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী সাঈদ।

বুড়ো হাড়ের ভেল্কি

৩০, ফুটবলের মাঠে বয়সটা একটু বেশিই। তাই বলে ৩০ পেরোলেই বুড়ো অ্যাখ্যা দিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে? ঠিক হবে কাউকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া? ঠিক যে নয়, মাইকেল ওয়েন, ডেভিড ত্রেজেগে, রাউল গঞ্জালেস, নিস্টলরয়রা ভালো করেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন সেটা।
নিস্টলরয় ৩৪, রাউল ৩৩, ত্রেজেগে ৩২, ওয়েন ৩০ পেরিয়ে ৩১ ছুঁইছুঁই। ওয়েনের কথাটা ভিন্ন। অনেকেই তাঁকে ‘বুড়ো’ খেতাব দিয়ে দিলেও এই বয়সেও তাঁর ওপর আস্থা রেখে নিউক্যাসল থেকে তাঁকে নিয়ে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। তবে নিস্টলরয়-রাউল আর ত্রেজেগেকে অনেক কোচও ফেলে দিয়েছেন ‘বুড়ো’দের দলে। রিয়াল নিস্টলরয়-রাউলকে ছেড়ে দিয়েছে। আর জুভেন্টাস ছেড়েছে ত্রেজেগেকে।
তবে তাঁরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন বয়স ৩০ পেরোতে পারে, কিন্তু গোল করার ক্ষুধা তাঁদের এতটুকু মেটেনি। বরং প্রতিপক্ষের বিপৎসীমানায় এখনো তাঁরা কার্যকর, ভয়ংকর। গত শনিবার-রোববার—এই দুই দিনে ক্লাব ফুটবলে চার বুড়োর কীর্তিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’!
জার্মান বুন্দেসলিগায় নিজ নিজ দলের পক্ষে গোল করেছেন নিস্টলরয়, রাউল গঞ্জালেস। এ দুজন গোল করেও অবশ্য দলকে জেতাতে পারেননি। নিস্টলরয়ের দল হামবুর্গ ৩-২ গোলে হেরেছে ভেরডার ব্রেমেনের কাছে। আর রাউলের শালকে জিরো ফোর ২-২ গোলে ড্র করেছে মনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে। গোল করে দলকে ড্র এনে দিয়েছেন ওয়েনও। বদলি হিসেবে নামা ওয়েনের ৭৪ মিনিটের গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ড্র করেছে।
ডেভিড ত্রেজেগে অবশ্য জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। স্প্যানিশ লিগে সেভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমে দ্বিতীয় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তাঁর দল হারকিউলিস। দুটি গোলই করেছেন জুভেন্টাসের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে এই মৌসুমেই স্প্যানিশ লিগে নবাগত হারকিউলিসে নাম লেখানো ত্রেজেগে। লা লিগায় এই নিয়ে তিন গোল করলেন ফরাসি স্ট্রাইকার।
এই মৌসুমে এটাই লিগে সেভিয়ার প্রথম হার বটে। তবে আগস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বে পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগা এবং ইউরোপা লিগায় ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কাছে হারের পর লিগে হারকিউলিসের মতো দলের কাছে হার, কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি ক্লাব কর্তারা। ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে কোচ অ্যান্তোনিও আলভারেজকে বিদায় করে দিয়ে রিয়াল মায়োর্কার সাবেক কোচ গ্রেগোরি মানজানোকে নিয়োগ দিয়েছে নতুন কোচ। লিগের শুরুর দিকে এই হারকিউলিসই বার্সেলোনাকে হারিয়ে দিয়েছিল ২-০ গোলে।