Friday, May 30, 2014
গারোদের শেষকৃত্য অতীত বর্তমান by আবু সাঈদ কামাল
সাংসারেক গারোরা জন্মান্তরে বিশ্বাসী। হিমাংশু মজুমদার তার ভারতের আদিবাসী গ্রন্থে উল্লেখ করেন, মৃত্যু সম্পর্কে গারোদের বিশ্বাস; শরীরের মাঝে আত্মা বাস করে। মৃত্যুর ফলে আত্মা শরীর ছেড়ে মাংরু এবং মাংরাম নামক স্থানে চলে যায়। মাংরু এবং মাংরাম হল আত্মার ভালো-মন্দের বিচারের স্থান। যতদিন না পুনর্জন্ম হয় ততদিন আত্মা সেখানে স্থায়ী হয় বলে তাদের বিশ্বাস। তাদের মতে মৃত্যুর কারণ অনুযায়ী আত্মার পরিণতি ঘটে। যেমন কেউ ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে সে গোবরে পোকারূপে পুনর্জন্ম নেয়। আবার বাঘ বা হাতির আক্রমণে নিহত হলে বা মারা গেলে সে জন্তুরূপে জন্ম নেয়। কখনও আর মানুষরূপে পুনর্জন্ম নিতে পারে না।
অন্যদিকে সুভাষ জেংচাম তার ‘বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায়’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, গারোদের (সাংসারেক গারোদের) বিশ্বাস জন্মান্তর গ্রহণের প্রস্তুতি পর্বে বিদেহী আত্মা সাময়িকভাবে চিকমাং পাহাড়ে অবস্থান করে। এ চিকমাং পাহাড়টি গারো পাহাড়ের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। যা বাংলাদেশের কলমাকান্দা দুর্গাপুর এলাকা থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। সড়কপথে ভ্রমণ করলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা পথে শ্যামগঞ্জ থেকে শুরু করে নেত্রকোনা ঠাকুরাকোনা থেকেও উত্তর দিগন্ত বরাবর তাকালে চিকমাং পাহাড় চূড়াটি দেখা যায়। তারপর যতই উত্তরে যাওয়া যায় চিকমাং পাহাড়ের চূড়াটি ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুভাষ জেংচামের মতে চিকমাং পাহাড় চূড়াটি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতো।
মৃতদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে গারোদের ভিন্ন ভিন্ন গোত্রে ভিন্ন ভিন্ন রীতি প্রচলিত। কোনো কোনো গোত্রে মরদেহ আগুনে পোড়ানো হয়। আবার কোনো গোত্রে মাটিতে সমাহিত করা হয়। অবশ্য মাটিতে পুঁতে রাখার রীতি শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন কেউ যদি কলেরা, বসন্ত, কুষ্ঠ, কালাজ্বরের কবলে পড়ে মারা যায়, তাদের মরদেহ মাটিতে পুঁতে দেয়া হয় বা সমাধিস্থ করা হয়। সময় তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র মরদেহের সঙ্গে দেয়া হয়। বার্ধক্যজনিত কারণে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে মরদেহ কাঠের বেদিতে দাহ করার রীতি রয়েছে। তারা সদলবলে শোভাযাত্রা করে মরদেহ গাংচি বা খাটিয়ায় করে দাহ করার জন্য শ্মশানে নিয়ে যায়। দাহ স্থানে প্রথমে চার কোণে চারটি খুঁটি পুঁতে তার ওপর বড় বড় কাঠ সজ্জিত করা হয়। এ ক্ষেত্রেও মৃতের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র শবদাহের সময় সঙ্গে দেয়া হয়। কারণ তাদের বিশ্বাস মৃতের আত্মাকে বিভ্রান্ত করার জন্য পরপারে অপদেবতা ওঁৎ পেতে থাকে। তখন মৃতের ব্যবহার্য ওই সব তৈজষপত্র বা অন্যান্য জিনিসপত্র ওই অপদেবতাকে দিয়ে মৃতের আত্মা নির্বিঘ্নে তার গন্তব্যে চলে যেতে পারে। মৃতদেহকে কাঠের ওপর রেখে তারপর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সাধারণত দাহ কাজে মাদার বা পারিজাত গাছের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দাহ করা মরদেহের অদগ্ধ হাড় ও চিতার ছাই একটি পাত্রে পুরে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। মৃতের সঙ্গে দেয়া জিনিসপত্র অদগ্ধ অবস্থায় থাকলে মৃতদেহ দাহকারী স্বজনেরা সেগুলো নিয়ে যেতে পারে। অতঃপর সে স্থানে ছোট ত্রিকোণাকৃতির একটি ছোট ঘর তৈরি করে খড় দিয়ে ছেয়ে রাখা হয়। সে ঘরকে বলা হয় দেল্লাং। গারোদের বৃহৎ বার্ষিক অনুষ্ঠান ওয়ানগাল্লা। কোনো কোনো গোত্রের রীতি অনুযায়ী ওই ওয়ানগাল্লা বা চুগান পালনের সময় ওসব দেল্লাং বা খ্রমগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়। এভাবে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৃতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়।
এ কথা সত্য যে গারোদের আদি ধর্মে বিশ্বাস তথা সাংসারেক সদস্যের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। শতকরা তা তিন থেকে পাঁচ ভাগের বেশি হবে না। ১৮৬৩ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি, রোববার মি. ব্রনসন নামক জনৈক শ্বেতাঙ্গ ব্যাপটিস্ট মিশনারি আসামের গৌহাটির অদূরে সুখেশ্বর ঘাট নামক স্থানে উমেদ ও রামখে নামে দুজন গারো যুবককে প্রথম খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করেন। সেই থেকে গারোরা খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে ধর্মান্তরিত হতে শুরু করে। এখনও সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট তিন থেকে পাঁচ ভাগ গারো, যারা এখনও আদি ধর্মে বিশ্বাস নিয়ে আছে, তারাও বোধ হয় এক সময় খ্রিস্টান হয়ে যাবে। অতি অল্প সংখ্যক আদি ধর্ম বিশ্বাসী গারো বা সাংসারেক যারা আজও আদি রীতি মেনে চলছে, তা একদিন শূন্যের কোঠায় পৌঁছবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ধর্মান্তরিত গারোরা তাদের আদি সামাজিক নিয়মাচারের বৃত্ত থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
সাংসারেক রীতি অনুযায়ী কোনো গারো সদস্য মারা গেলে সেখানে রাং থ্রাম বাজিয়ে শোক সংবাদ প্রচার করা হতো, এখন সে স্থান দখল করেছে খ্রিস্ট রীতির ঘণ্টাধ্বনি। ধর্মান্তরিত কোনো গারো সদস্য মারা গেলে মৃত্যু সংবাদ এখনও প্রথমে তার মাতৃগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো হয়। মৃত্যু সংবাদ শুনে এখনও সীমান্তের ওপারে তথা মেঘালয়ে ধর্মান্তরিত গারোদের আত্মীয়স্বজনরা মৃতের বাড়িতে যাওয়ার সময় গরু-ছাগল-শূকর-হাস-মুরগি ইত্যাদি নিয়ে যায়। ওসব পশু-পাখি মেরে সেগুলোর মাংস দিয়ে মৃতের বাড়িতে ভোজনানুষ্ঠান করা হয়। কিন্তু এপারে অর্থাৎ বাংলাদেশে খ্রিস্টান গারোরা অবশ্য মৃত্যু সংবাদ শুনে ছুটে আসে। যথারীতি খ্রিস্ট নিয়মে মৃতকে কবর দেয়া হয়। তবে মৃতের বাড়িতে কোনো ভোজনানুষ্ঠান হয় না। মৃত্যুর কিছুদিন পর অনুষ্ঠানটি করা হয়, সে সময় আত্মীয়স্বজনরা তাদের সামর্থ্যানুযায়ী গরু-ছাগল-শূকর-হাস-মুরগি ইত্যাদি নিয়ে এসে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। ধর্মান্তরিত গারোরা এখন ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করে শুধু অতীত ঐতিহ্য রক্ষার জন্য, ধর্ম বিশ্বাসের কারণে নয়। গারোদের শেষকৃত্য এখন না পুরোপুরি খ্রিস্ট ধর্ম রীতিতে, না আদি সাংসারেক রীতিতে হচ্ছে। বরং বলা যায় উভয় রীতির গ্রহণযোগ্য এক সমন্বিত নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ধর্মান্তরিত গারোদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউ মিডিয়া by নাজিব তারেক
আমরা জানি ইউরোপীয় চিন্তাশীলতায় সৃষ্টিশীলতা অর্থ নতুন চিন্তার সন্ধান, শিল্পের প্রধান উদ্দেশ্যও তাই নতুন কল্পনার সন্ধান ও তা উপস্থাপনের কৌশল উৎদ্ভাবন। রেনেসাঁ থেকে উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত একাডেমি (অপধফবসু) বা প্রতিষ্ঠান পুরনো কল্পনা ও কৌশলের নিরিখে নতুন কল্পনা ও কৌশলকে গ্রহণ করেছে। এটাই ছিল শিল্প না কারুকর্ম তা নির্ধারণের পদ্ধতি। একাডেমি নির্ধারণ করে দিত কোনটি শিল্প কোনটি নয়। আর সমাজ এ নির্ধারণের ভার একাডেমিকে প্রদান করে নিশ্চিন্তে সুখনিদ্রা দিত, দেয়, দিচ্ছে...*
ইউরোপীয় শিল্পবিপ্লবের (industrial revolution) পর প্রতিচ্ছায়াবাদী (Impressionism) চিত্রকর ও তাদের সমর্থকরা এ ব্যবস্থাকে মেনে নিতে অস্বীকার করল। তারপর সময়ের দৌড়ে এলো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব-বিমূর্ততা (Abstract), ঘনকবাদ (Surreal), df (Fav), দাদা (Dada), প্রকাশবাদ (Expressionism), বিশ্বযুদ্ধ-পরাবাস্তব (Surreal), বিশ্বযুদ্ধ-আমেরিকান বিমূর্ততা-cc (PoP), অপ (Op) বা দৃষ্টি বিভ্রম ইত্যাদি, শতাব্দীর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের নিউ মিডিয়া (New Media)। ওহ! ইউরোপীয় (বা পশ্চিমা) একাডেমির নতুন শাস্ত্র।
হ্যাঁ এ গ্লোবাল বাজারে নিজের উৎপাদিত পণ্য বেচতে এ শাস্ত্রকে তো মানতেই হবে। শিল্পী আমার হতেই হবে, আমার ভাবনা কিংবা চিন্তাহীন ভাবনাকে নিউ মিডিয়ার মোড়কে ছেড়ে দিলেই কেল্লাফতে। ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, ক্যাম্প, আরও কত কি আছে আমায় শিল্পী ঘোষণা করার জন্য। ছিলেন সমালোচকেরা, তারা আজো আছেন; এসে গ্যাছেন শিল্প রক্ষক বা কিউরোটরেরাও। সব শেষে একাডেমি আর পুরস্কারের ঝাঁপি তো আছেই।
আই. এস. ও. মোহর বা শিল আমাদের সব পণ্যের গায়েই লাগাতে হবে, নচেৎ গ্লোবাল বাজারে তা বিকোবে না। আমার অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগে যে গার্মেন্ট শিল্প, অথবা উত্তর আমেরিকা-ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য-পূর্ব এশিয়ার বাজারে আমার যে জনশক্তি, যা আমার অর্থনীতিকে চালাচ্ছে, তা সবই গ্লোবাল বাজারকে সেবা দেয়ার জন্য। আমার শিল্পকেও তাই বৈশ্বিক ধারণায় পুষ্ট হতে হয়। ইংরেজরা আমাদের আর্ট স্কুল বানানো শিখিয়েছে, আর্ট বলতে শিখিয়েছে। আমার কোটি মানুষের শিল্প শিক্ষা সে স্কুলেই হতে হবে, অৎঃ হতে হবে। আর কতখানি শিখলাম বর্তমানে তার পরীক্ষা হবে নিউ মিডিয়া শাস্ত্র অনুসারে। হাজার বছর প্রাচীন ষড়ঙ্গ আমার শাস্ত্র নয়।
বদলেয়ার বলেছিলেন শিল্পী রচনা করেন আজানা বাজারের জন্য। নিউ মিডিয়ার বাজারটি কি অজানা?
মান বা গুণ বিচার, এটাই সামন্ত ও বুর্জোয়া পদ্ধতি, সমাজতন্ত্র এ পদ্ধতিরই আর এক রূপ হতে পারে মাত্র। পূর্ব পুরুষের বা অগ্রজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় বাস করার জন্য এটাই এখন পর্যন্ত সর্বত্তম উপায়। আর এটা না মানতে চাইলে-মুখের সামনে যা পাও খাও, মরে অথবা বেঁচে থেকে প্রমাণ কর এটা বিষ না পুষ্টিবর্ধক খাদ্য। তবে এ পদ্ধতি মানবার ফল হল মানুষ নামক প্রাণীটি জঙ্গলবাসী প্রাণী থেকে সামাজিক প্রাণীতে রূপান্তরিত হয় মাত্র। মানুষ অধরাই রয়ে যায়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টমাস মানর শেষ উপন্যাস কনফেশন অব ফেলিক্স ক্রুল by সরকার মাসুদ
ফেলিক্স ক্রুলের বীজ লেখকের মাথায় পড়েছিল আনুমানিক চল্লিশ বছর আগে। Stories of Three Decades বইয়ে মান ফেলিক্সের জীবনের ছোট ছোট ঘটনা সাজিয়ে গল্প লিখেছিলেন। তারপর সুদীর্ঘকাল সেই টুকরো টুকরো ঘটনাবলীকে পূর্ণাঙ্গ জীবন কাহিনীতে রূপান্তরিত করার আকাক্সক্ষা পোষণ করেছেন শুধু। সেই আশা পূরণ হয়েছে লেখকের জীবনসায়াহ্নে। অন্যতম প্রধান কারণ, মাঝখানের বছরগুলোতে টমাস মান The Magic Mountain, The Holy Sinner, Death in Venice প্রভৃতি উপন্যাস রচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
এখন আমরা উপন্যাসটির ভেতরে প্রবেশ করব। ফেলিক্স এক অন্তঃসারশূন্য বিত্তবান পরিবারের সন্তান। বাবা মদ ব্যবসায়ী। একটা পর্যায়ে আয় কমে এলেও ব্যয় প্রবণতা, হৈ-হল্লা আর জাঁকজমকে মগ্ন গোটা পরিবার। এমন পরিবেশে বড় হচ্ছিল ফেলিক্স। শিশু বয়সেই সে পিতার সই জাল করা শিখেছিল; উদ্দেশ্য স্কুল পালানো। অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠলে ফেলিক্সের বাবা আত্মহত্যা করেন। নিরুপায় মা হোটেল খোলেন। বোন থিয়েটারের নর্তকি হন। ফেলিক্স পথে নামে সৌভাগ্যের খোঁজে। ফেলিক্স প্রথমে কৌশল করে জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি এড়াতে পারে। এরপর সে ফ্রাঙ্কফুট যায়। সেখানে নাম-ডাক আছে এরকম এক গণিকার সহকারী হিসেবে কিছুদিন কাজ করে। তারপর প্যারিসে চলে আসে। এখানেই আরম্ভ হয় তার আসল কর্মকাণ্ড।
প্যারিসের এক হোটেলে লিফটবয়ের চাকরি নেয় ফেলিক্স। লিফটে ওপর-নিচ করে আর ভাবে, কীভাবে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে এ মহানগরে। তার আগে, সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময়, কাস্টমসে তল্লাশি চলাকালে ফেলিক্স এক মহিলার গয়নার বাক্স চুরি করে। তার হাতে এখন গয়না বিক্রির টাকা, পরিমাণে কম নয়। উপরন্ত ফেলিক্স সুঠাম শরীরের টগবগে যুবক। সে অফিস-আওয়ারে লিফট চালায় আর অন্য সময় ঘুরে বেড়ায় নানা জায়গায়। নিরুদ্বেগ দিন কাটছিল তার। ডানায় যেন পাখা গজিয়েছে। একদিন মধ্যবয়স্কা এক ধনী লেখিকা তার প্রতি আকৃষ্ট হন। কয়েকদিন পর লেখিকাটি ফেলিক্সকে রাতে ডাকেন এবং তার শয্যাসঙ্গিনী হন। ঘটনাচক্রে লেখিকা জানতে পারেন যে, তার হারিয়ে যাওয়া গয়নার বাক্সটি সরিয়েছে ফেলিক্স। কিন্তু মহিলার মধ্যে মনোবিচলনের কোনো ভাব দেখা যায় না। লেখিকার স্বামী খুবই ধনাঢ্য ব্যক্তি কিন্তু আহাম্মক ধরনের মানুষ। অলংকার চুরির বিষয়টি জানতে পারলে রেগে ওঠা তো দূরের কথা তাকে হয়তো অনেক বেশি পরিমাণ গয়না কিনে দেবেন। এরকম এটা-ওটা ভেবে লেখিকা ফেলিক্সকে বেশ কিছু টাকা দান করেন। আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল হয়ে ওঠে ফেলিক্স। তার আছে আরেক দুর্লভ সম্পদ ভরা যৌবন এবং সুঠাম দেহ। প্যারিসের নাইট-ক্লাবগুলোতে তার পা পড়তে শুরু করল। মহানগরীর নৈশ জীবনে, ক্রমে, সে হয়ে উঠলো প্লে-বয়।
দিনের বেলা হোটেলের সামান্য চাকুরে, রাতের বেলা মধুলোভী ভ্রমর। কিন্তু এর ভেতর ফেলিক্সের মর্মযাতনাও আছে। কারণ সে তো লিফটম্যান হতে চায়নি। সে চেয়েছে জীবনে সম্মানজনক প্রতিষ্ঠা, যদিও তা সুদূর পরাহত; কেননা অল্প বয়সেই সে চরিত্র খুঁইয়েছে। ফেলিক্সের ছিল মানুষকে ভোলোবাসার আশ্চর্য ক্ষমতা। তার রূপ-যৌবনে আকৃষ্ট এবং কথা-বার্তায় মুগ্ধ হয় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মেয়ে। মেয়েটি তার প্রেমে পড়ে। সে প্রেমের আকর্ষণ এমনই যে, সে ফেলিক্সের সঙ্গে বিছানায় যেতেও প্রস্তুত। ওদিকে বিহ্বল, অপ্রস্তুত ফেলিক্স সবিনয়ে এড়িয়ে যায় মেয়েটিকে। এ কঠিন মানস পরিস্থিতি কোনোমতে সামলে নেয় সে। এরপর ভেনোসতা নামের এক শিল্পীর সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। ফেলিক্সের এ শিল্পী বন্ধুটি প্যারিসে এসেছে ছবি আঁকা শিখতে। জাজা নামে একটি তরুণীর সঙ্গে তার গভীর প্রেমের সম্পর্ক। শিল্পীর পিতা মার্কুইস ছেলের প্রতি রীতিমতো ক্ষিপ্ত। জাজা থিয়েটারে গান করে এবং সে মডেলও।
জাজার হাত থেকে ছেলেকে রক্ষা করার জন্য ভেনোসতার বাবা-মা এক ফন্দি আঁটেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, ছেলেকে এক বছরের জন্য বিশ্বভ্রমণে পাঠাবেন। যুক্তি দেন, এ ভ্রমণ তার শিল্পীমানসকে প্রসারিত করবে। ভোনোসতা পড়ে গেল বিপদে। একদিকে জাজার আকর্ষণ, অন্যদিকে পিতা-মাতার অবাধ্য হলে পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা। এহেন উভয় সংকটে ফেলিক্স এগিয়ে আসে। মানুষ ভেনোসতা সম্বন্ধে আগে থেকেই তার কিছু ধারণা ছিল। এবার সে শিল্পী ভেনোসতার স্বভাবের খুঁটিনাটি জেনে নেয়। তারপর শিল্পীর বদলে সে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। ভেনোসতার হাতের লেখা নিখুঁতভাবে নকল করে ভেনোসতা সেজে বাবা-মাকে চিঠিও লেখে।
এভাবে ফেলিক্স ঘুরতে ঘুরতে পর্তুগালে এসে পড়ে। রাজধানী লিসবনে একই সঙ্গে এক মা ও তার মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় ফেলিক্সের। সম্পর্ক অচিরেই প্রেমের দিকে মোড় নেয়। এখানেই অসম্পূর্ণ অবস্থায় শেষ হয় উপন্যাসটি।
টমাস মান ১৯২৯ সালে নোবেল প্রাইজ জিতেছিলেন। দীর্ঘ আয়ু পেয়েছিলেন তিনি। মোটা মোটা বই লিখে অনেক গভীর ও নাতিগভীর ভাবনা তিনি শেয়ার করেছেন বিশ্বব্যাপী ছড়ানো পাঠকদের সঙ্গে। মান যেমন ভাবগম্ভীর প্রকৃতির লেখক তেমনি তার পাঠকরাও সচরাচর গম্ভীর। মান এবার চাইলেন গম্ভীর পাঠকের মুখে হাসি ছড়াতে। এ হাসি গভীর আত্ম উপলব্ধি এবং জটিল জীবন পরিস্থিতি থেকে উৎসারিত। ‘ঈড়হভবংংরড়হং ড়ভ ঋবষরী কৎঁষষ’ রচনার ভেতর দিয়ে তার ওই চাওয়া সার্থক হয়েছে। এ বই একটি সফল কমিক নভেল। এ ধরনের উপন্যাস জার্মান সাহিত্যে বিরল। মানের লেখার জাদুতে ফেলিক্স ক্রুল হয়ে উঠেছে বিশ্বসাহিত্যের স্মরণযোগ্য চরিত্র। লেখকের ব্যক্তিগত নোট থেকে জানা যায়, ফেলিক্সের গল্প একাধিক খণ্ডে শেষ করার ইচ্ছা ছিল টমাস মানের। কিন্তু তার আগেই চিরবিদায় নিতে হয় তাকে।
ফেলিক্সের মতো একটি নেগেটিভ চরিত্রের আড়ালে মর্মদহন বিরল দক্ষতায় তুলে আনতে পেরেছেন মান। আত্মসম্মানসচেতন ধনী লেখিকা (যিনি বুদ্ধিজীবীও বটে) শারীরিক পরিতৃপ্তির জন্য চাকরপ্রতিম এক ফিলট বয়ের (ফেলিক্স) কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন এবং পরে শিকার হয়েছেন অনিবার্য মানসিক অস্বস্তির। এসব বিষয়ও প্রশংসনীয় ভঙ্গিতে চিত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। উপন্যাসটি মূলত কমিক মেজাজের হলেও তার ভেতরের অশ্র“বিন্দুগুলো তাকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেসিক ব্যাংকে বিপর্যয়
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ মাতৃত্ব
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকার, তুমি তার by আনিসুল হক
আব্রাহাম লিংকন সবে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। গৃহযুদ্ধের পরে।
দলে দলে লোকে তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, ‘আমরা দেশের জন্য অনেক স্বার্থ ত্যাগ করেছি। পদ চাই। আমাদের মূল্যায়ন করুন।’
তখন আব্রাহাম লিংকন এই গল্পটা করেন।
এক রাজা বেরোবেন শিকারে। তিনি মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজকের আবহাওয়া কেমন? পথে ঝড়বৃষ্টি হবে না তো?’
মন্ত্রী বললেন, ‘না না, আজ ঝড়বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া চমৎকার।’
কিছুদূর যাওয়ার পর এক ধোপার সঙ্গে দেখা। ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, বেশ তো চলেছেন, কিন্তু সামনে তো ঝড়বৃষ্টি হবে।’
রাজা এগোলেন। ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়লেন।
তখন তিনি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেই পদে বসালেন ধোপাকে।
ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, যখন ঝড়বৃষ্টি হয়, তখন আমার গাধার কান নড়ে। গাধার কান নড়া দেখে আমি বুঝেছিলাম, আজ বৃষ্টি হবে।’
রাজা তখন ধোপাকে বরখাস্ত করে গাধাটাকে মন্ত্রী বানালেন।
তখন হলো আসল বিপদ। রাজার সভাসদেরা দলে দলে এসে রাজাকে ঘিরে ধরলেন, ‘আমরাও তো গাধা। আমাদেরও মন্ত্রী বানান।’
আব্রাহাম লিংকন কেন এই গল্পটা বলেছিলেন, আমার জানা নেই, কিন্তু একটা কিছু অনুমান তো করে নিতেই পারি। এখন, এই মুহূর্তে কেন এই গল্পটাই মনে পড়ে গেল, তারও কোনো ব্যাখ্যা খঁুজে পাচ্ছি না।
একটা সূত্র খঁুজে পাওয়া যাচ্ছে অবশ্য। ‘জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের সরকার’—সেই বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণ দেওয়া আব্রাহাম লিংকনের কথা এত বছর পরেও আমাদের জন্য আলোর দিশা দেখাতে পারে বটে।
লিংকনের গল্প থেকে অন্তত এই উপদেশটা পাওয়া যায়, কোনো মন্ত্রী কাজে না লাগলে তাঁকে বরখাস্ত করো।
২৯ মে প্রথম আলোয় হাসান ফেরদৌসের কলাম ছাপা হয়েছে, ‘সরকার, তুমি কার?’ ওই লেখায় তিনি আমাদের শুনিয়েছেন ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের গল্প, শুনিয়েছেন উদারনৈতিক এই সিনেটরের লেখা আ ফাইটিং চান্স বইয়ের কথা। এলিজাবেথ ওয়ারেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও৷ বলেছেন, ‘সরকার হচ্ছে ফুলবাগানের মতো, সময়মতো যত্ন না নিলে তাতে আগাছা জন্মে, পরগাছা আশ্রয় নেয়।’
হাসান ফেরদৌসের লেখা পড়ে বুঝলাম, আমাদের দেশে সরকারের অবস্থা তেমনই হয়েছে; খুনি, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজেরা সরকার নামের বটবৃেক্ষর গায়ে পরগাছার মতো জন্ম নিয়েছে। এ থেকে মুক্তির উপায় খঁুজতে হাসান ফেরদৌস এলিজাবেথ ওয়ারেনের পরামর্শেরই শরণাপন্ন হয়েছেন৷ ওয়ারেন বলছেন, সমাজ ও সরকারকে বদলাতে ক্রমাগতভাবে লড়ে যেতে হয়, সেই লড়াই দীর্ঘ, বন্ধুর; তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় আসেও।
অগ্রজপ্রতিম লেখক হাসান ফেরদৌসের সঙ্গে দ্বিমত করছি না, তবে আমি আরও কাছের উদাহরণ দিতে চাই। একটা সরকারের বা এই সরকারের কী করা উচিত, তার একটা অপরূপ ব্যবস্থাপত্র তৈরি ও উপস্থাপন করা আছে। সেটার ৫০ ভাগও যদি মান্য করা হয়, বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে। এই ব্যবস্থাপত্রটা দিয়েছিলেন, না, আর কেউ নন, স্বয়ং শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বে মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করার পর তিনি একটা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে সময়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৩১ ডিসেম্বর ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে-পরেও শেখ হাসিনার বিভিন্ন ভাষণে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব সুবচন উচ্চারিত হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা সংঘাতের রাজনীতি বর্জন করতে চাই, দেশে একটা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দিতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘এ কথা সত্য যে আমাদের অনেকেই বিএনপি-জামায়াতের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছি, সর্বস্ব হারিয়েছি, কিন্তু যেহেতু আমরা জয়লাভ করেছি, আমাদের ক্ষমা করে দিতে হবে এবং সবাই মিলে একসঙ্গে দেশের ভালোর জন্য কাজ করে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিশাল জয় তখনই সার্থক হবে, যখন আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়িত করা যাবে।’

‘আমরা বিরোধী দলকে তাদের আসনসংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করব না। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারেরই একটা অংশ, তাদের ইতিবাচক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করা যাবে।’ এক বিদেশি সাংবাদিক সাংসদদের দুর্নীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, কারণ এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফল আমাকে ঘটাতেই হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা আমি চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর নতুন সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে একটা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে নিয়োগ-পদোন্নতির মাপকাঠি হবে যোগ্যতা, দলীয় পরিচয় বা আনুগত্য নয়।’এর আগে-পরে তিনি বহুবার বলেছেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না, অপরাধী হলো অপরাধী, এটাই একমাত্র বিবেচ্য, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এসব কথা সুন্দরভাবে বলা আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সব ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। একজন ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও মেধা হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি। স্থানীয় সরকারগুলোকে কার্যকর করা হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করা হবে।
এখন আমাদের সবার উচিত, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণটির কপি পকেটে রেখে দেওয়া ও সকাল-সন্ধ্যা একবার করে পড়ে নেওয়া। অপরাধীর কোনো দল নেই। সে অপরাধী, এটাই তার একমাত্র পরিচয়। এই সূত্র যদি আমরা মেনে চলতাম, আজ কোনো অপরাধীই কি ছাড়া পেত? তাহলে কি দেশ খুনখারাবি, গুম-অপহরণের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারত?
অল পাওয়ার টেন্ডস টু করাপ্ট অ্যান্ড অ্যাবসল্যুট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসল্যুটলি। সব ক্ষমতাই দুর্নীতিগ্রস্ত করতে চায়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করে নিরঙ্কুশভাবে। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ লর্ড অ্যাকটন (১৮৩৪-১৯০২) এই কথা বলেছিলেন। অ্যাকটন ইনস্টিটিউটের প্রকাশনায় বেন মরিল নামের একজন লেখক সহজ ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। ‘ক্ষমতা যিনি পান, তাঁর কিন্তু মানুষের খারাপ করার ইচ্ছা থাকে না। তিনি আসলে ভালোই করতে চান। এটা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু মানুষ তো আসলে বোঝে না, ভালো কী। কাজেই এটা তাঁর দায়িত্ব মানুষকে তাঁর ভালোটা করতে সাহায্য করা। মানুষ ভালো বোঝে না, আমি বুঝি, আমার দায়িত্ব মানুষের ভালো করা৷ কাজেই মানুষের মঙ্গলের জন্য কল্যাণের জন্য আমি একচ্ছত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করি। সেটার প্রয়োগ করি।’ এখানেই শুরু হয় বিপদটা।
বেন মরিল বলেছেন, ‘তখন এমন আইন প্রণয়ন করতে হয়, প্রয়োগ করতে হয়, যাতে মানুষের ভালো করার দায়িত্বটা বাধাহীনভাবে পালন করা যায়। যাদের ভালো করার জন্য এটা করা হচ্ছে, তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়। আর তখন চারপাশে এমন বন্ধু ও সহকর্মী এসে জোটে, যারা সারাক্ষণ তার প্রশংসা করে, আর নিজেরাও অন্যদের দমন করার মধ্যেই আনন্দ খঁুজে পায়। আর এসব সভাসদ পাত্রমিত্র অমাত্যকে অন্যায়ভাবে কাজ দেওয়া, ব্যবসা দেওয়া, লাভ দেওয়ার ঘটনা ঘটতেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরে যিনি ক্ষমতায় আছেন, তিনি মনে করেন, ক্ষমতাই জ্ঞান। জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করেছেন, এটা কেবল তাঁকে ক্ষমতা দেয়নি, জ্ঞানও দিয়েছে।’
আস্তে আস্তে সবচেয়ে ক্ষমতাবানই সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর আশপাশে সুবিধাভোগী পরামর্শকেরা তাঁর এই ধারণার গোড়ায় নিত্য জল দিতে থাকেন।
তিনি আস্তে আস্তে ভুলে যান, কোনটা ক্ষমতা আর কোনটা দুর্নীতি। এ দুটোর মধ্যে তিনি আর পার্থক্য করতে পারেন না।
আব্রাহাম লিংকন দিয়ে শুরু করেছিলাম। তাঁকে দিয়েই শেষ করা উচিত। তাঁর একটা উক্তি: আমার প্রবল ভয় তোমার বিফলতা নিয়ে নয়, আমার
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, সেই ব্যর্থতা নিয়েও তুমি সন্তুষ্ট কি না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিজেন দা: ৮৫ বছরের যুবক by হায়াৎ মামুদ
আলবত আছে, লক্ষবার আছে৷ কে বলেছে, নেই!
দ্বিজেন দা মানে দ্বিজেন শর্মা৷ তিনি সকলেরই দ্বিজেন দা৷ শুধু ‘দ্বিজেন’ বলে ডাকার লোক দিন দিন কমে যাচ্ছে৷ এই সেদিন আনোয়ার ভাইও চলে গেলেন৷ ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা প্রাবন্ধিক আলী আনোয়ার (১৯৩৫-২০১৪)৷ আমাদের সৌভাগ্য ও অপরিসীম খুশির কারণ যে তিনি চলে যাওয়ার আগে তাঁর সাহিত্য-সংস্কৃতি নানা ভাবনা (জুলাই ২০১৩: বেঙ্গল পাবলিকেশনস লিমিটেড) প্রবন্ধ-সংকলনটি দেখে যেতে পেরেছেন৷ দ্বিজেন দা ও আনোয়ার ভাই প্রায় সমবয়সী ছিলেন, বছর ছয়-সাতের পার্থক্য ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না৷
দ্বিজেন দা আর দেবী বৌদিকে চিনি, সে কি আজ থেকে? মনে হয় যেন অনন্তকাল৷ তেজগাঁও তেজকুনিপাড়ায় যখন তাঁরা থাকতেন, গত শতকের ষাটের দশকে, আলাপ-পরিচয় হয় আনোয়ার ভাইয়ের বদৌলতে৷ সে আমলে দ্বিজেন দা-র একটি মোটরসাইকেল ছিল৷ উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়াতেন নটর ডেম কলেজে আর সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে৷ মেয়েদের কলেজটি তখন ছিল পুরান ঢাকার লালকুঠিতে, ফরাশগঞ্জ এলাকায়৷ গেন্ডারিয়ায় আমাদের বাড়ি থেকে তেমন দূরে নয়৷ যেদিনই ক্লাস থাকত, সেদিন দুপুরে আমার কাছে চলে আসতেন৷ অতঃপর একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ, গল্পগুজব ও দিবানিদ্রা৷
দেবী বৌদি বেশির ভাগ সময় থাকতেন তাঁর বাপের বাড়ি, বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে; তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছেন৷ পরে দ্বিজেন দা যখন মস্কোয় প্রগতি প্রকাশনে অনুবাদকের চাকরি করছেন, বৌদি তখন এম.গে.উ (অর্থাৎ মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি করেন৷

দ্বিজেন শর্মার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় তাঁর লেখার মাধ্যমে৷ তখনো ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি৷ আমি বিশ শতকের ষাটের দশকের কথা বলছি৷ আবদুল্লাহ আল মুতী আর দ্বিজেন শর্মা ব্যতীত বিজ্ঞানে প্রশিক্ষিত আর কেউ প্রবন্ধ লিখতেন না সম্ভবত৷ অধ্যাপক আলী আসগর তখনো লিখতে শুরু করেননি৷
আরও একজন লিখতেন বটে—এবনে গোলাম সামাদ; পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যোগ দেন এবং প্রগতিপন্থা ছেড়ে ক্রমশ প্রতিক্রিয়াশীলতার হাত অাঁকড়ে ধরেন, কেন জানি না৷
বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও ঈর্ষণীয় বাংলা লেখায় পারঙ্গমতা, আমার বিবেচনায়, দ্বিজেন শর্মা ছাড়া বাংলাদেশে আর কেউ দেখাতে পারেননি৷ তাঁর বাংলা লেখার বাগ্বৈদগ্ধ্য, যথাযথ শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাসের শিল্পিতা, বক্তব্যের স্পষ্টতা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে৷ তাঁর রচনার প্রসাদগুণ এমনই যে শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়া যায় না৷ মস্কোয় প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন দীর্ঘ দুই দশক৷ সে-জীবন নিয়েও তাঁর স্মৃতিচারণিক গ্রন্থ রয়েছে৷
কিন্তু ইত্যাকার কৃতি ও কৃতিত্বের বাইরেও একজন রয়েছেন: ব্যক্তিমানুষ দ্বিজেন শর্মা৷ শ্রীহট্টের মানুষ হওয়ায় মৌখিক আলাপচারিতায় সিলেটি টান টুকটাক এখনো আছে বটে৷ তবু, গল্প যখন করেন স্নিগ্ধতা ভরে থাকে৷
কারও বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ পুষে রাখতে তাঁকে দেখিনি৷ কায়িক পরিশ্রম করা খুবই পছন্দ করেন, আলসে স্বভাবের বিন্দুমাত্র নন৷ এসব অবশ্য বোঝা যায় তাঁর ধড়ের কাঠামো দেখলে৷ পঁচাশি বছরের যুবক বললে কেউ দোষ ধরবে না৷
আমরা এ রকমই যুবক দেখতে চাই দ্বিজেন দা-কে৷ সব সময়৷
হায়াৎ মামুদ: সাহিত্যিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রবাসে বসে যাঁরা দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন by ফারুক মঈনউদ্দীন
গত শীতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘায়িত শীত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাণ্ডবে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনভ্যস্ততার কষ্ট ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে অনেক দেশে ঘটছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস যে বঙ্গোপসাগরের দুই ভুজের শীর্ষে থাকা বাংলাদেশকে প্রায়ই প্লাবিত করে, সেটা এই উপসাগরের আকৃতি ও তার একটি বিশেষ কোণে অবস্থানের কারণেই ঘটে, এটা অনেকের জানা নেই। কিন্তু সে রকম কোনো ভৌগোলিক অবস্থানে না থেকেও বিশ্বের কোথাও কোথাও ঘটছে এ রকম বিপর্যয়। টরন্টোর বন্যাপ্লাবিত রাস্তার সঙ্গে বৃষ্টির পর ঢাকার শািন্তনগরের রাস্তার দৃশ্যের সাযুজ্য খঁুজে পেয়ে কোনো কোনো বাংলাদেশি মজাও পেয়েছেন। এবারের তুষার-ঝড়ের পর সেখানে প্রায় টানা ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার দুর্লভ অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন অভিবাসী বাংলাদেশিরা। তবে এ কথা স্বীকার করেছেন সবাই যে যদি সে সময় গ্যাস-সংযোগ চালু না থাকত, তাহলে অনেক প্রাণহানি ঘটতে পারত কেবল ঠান্ডায়। কোনো দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারও তৃপ্তি পাওয়া উচিত নয়, কিন্তু এ বিষয়ে বদনামটা বাংলাদেশের এত বেশি ছিল যে বাংলাদেশিদের কেউ কেউ নিজ দেশের গ্লানির বিপরীতে সেই তৃপ্তি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
এক বছর আগে আমার টরন্টো পেঁৗছার ঠিক পরদিন ঘটে রানা প্লাজার মর্মন্তুদ ঘটনা। লো ব্লু সুপার স্টোরের জো ফ্রেশ ব্র্যান্ডের কাপড় তৈরি হচ্ছিল রানা প্লাজার কোনো এক প্রতিষ্ঠানে৷ সেই সুবাদে কানাডায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের স্বল্প মজুরি, কাজের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা—এসব বিষয়ে সরব হয়ে উঠেছিল সে দেশের গণমাধ্যম এবং কোনো কোনো সংগঠন। রানা প্লাজা ধসের ঘটনাটি দেশের পোশাকশিল্পে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তার রেশ আমাদের বহু দিন টানতে হবে।

ঘটনাক্রমে এবারও টরন্টোয় পেঁৗছার দিনই নারায়ণগঞ্জে ঘটে চাঞ্চল্যকর সাত অপহরণ ও নৃশংস খুনের ঘটনা। এ ঘটনা ঘটার প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি বলে বিভিন্নজনের কাছে এ বিষয়ে প্রায় জবাবদিহি করার মতো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। দূর প্রবাসে থাকলে স্বদেশে সামান্য দুর্ঘটনা ঘটলেই সেটাকে অনেক বড় দেখা যায়, উদ্বিগ্ন বোধ করে মানুষ। ঠিক এই পরিস্থিতিতে বিভ্রািন্ত বোধ করেন অভিবাসীরা, কখনো মনে হয় দেশের এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে দূরে চলে আসার সিদ্ধান্তই বুঝি ভালো ছিল। তবে দেশে থাকা আত্মীয়-পরিজনের কথা ভেবে উদ্বেগ আর দেশের পালাপার্বণে, পারিবারিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার মর্মবেদনাও হানা দেয় সংগোপনে। এমনকি যাঁরা বহু বছর আগে অভিবাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন দূরদেশে, তাঁদের মধ্যেও একধরনের গোপন ভালোবাসা বহমান থাকে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য।
গত বছর টরন্টোর বাংলাদেশিদের জীবন এবং নব্য অভিবাসীদের মোহভঙ্গ সম্পর্কে একটা লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর তার পক্ষে-বিপক্ষে বহু মতামত এসেছিল। বিপক্ষের কয়েকটি মন্তব্য ছিল খুবই আক্রমণাত্মক, আবার অনেকে এই লেখা পড়ার পর তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলেও জানিয়েছিলেন। আবার সেই লেখাটি পড়ার পরও এই নিবন্ধকারের পরিচিত অন্তত পাঁচজন গত এক বছরে তাঁদের ভাগ্যান্বেষণের চেষ্টায় দেশান্তরি হওয়ার সিদ্ধােন্ত অবিচল থেকেছেন। তাই ধারণা করা যায়, কানাডায় পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা কমেনি।
গত এক বছরের মধ্যে আগে বসবাস করা পরিবারের অন্য সদস্যদের সমর্থনে টরন্টোয় গিয়ে অভিবাসনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছেন এমন অনেককে দেখেছি, যাঁরা স্বদেশে কোনো অর্থেই অসচ্ছল ছিলেন না। আবার বছর দুয়েক আগে কানাডায় পাড়ি দিয়ে এত দিনে মোটামুটি ভদ্রস্থ একটা চাকরি পেয়ে যাওয়া কয়েকজনকে দেখলাম, যাঁদের দৃষ্টিতে এখন কানাডার সবকিছুই খারাপ৷ কারণ অবচেতনে তাঁরা দেশের অভাব বোধ করছেন, অথচ সব পেছনে ফেলে আসার পর আবার দেশে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সেই অপছন্দের দেশেই থেকে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তাই তাঁদের নিরুপায় পরবাসের সান্ত্বনা হয় সেখানকার উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কঠোর আইন ও নিয়মানুবর্তিতা এবং বিভিন্ন ধরনের নাগরিক অধিকার ও সুবিধা।
এবার সে দেশে গিয়ে মনে হলো চাকরির বাজার কিছুটা ভালো হয়েছে৷ কারণ পরিচিত যে দু-একজনের কাজ ছিল না, এবার তাঁদের মুখে হাসি ফিরেছে চাকরি হয়েছে বলে। গত বছরের শীতে ভোর পাঁচটায় মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে টানা সাত-আট ঘণ্টা কাজ করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন একজন, তিনিও মোটামুটি মাঝারি গোছের একটা কাজ পেয়েছেন সম্প্রতি। পরে অবশ্য জানা গেল যে অর্থনীতির চাকা আবার কিছুটা সচল হয়েছে দেশটির। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে নাফটার এই সদস্যদেশটি। আইএমএফ-ও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৪ সালে কানাডার অর্থনীতি গতিপ্রাপ্ত হবে।
অর্থনীতির এই গতিবৃদ্ধির কারণে চাকরির বাজার উন্নত হওয়ায় প্রবাসীদের মনেও ফিরেছে স্বস্তি। মাত্র দুই বছর আগে যাওয়া কয়েকজনকে দেখলাম ভালো কাজ পেয়ে কিছুটা উদ্দীপিত। কানাডার অর্থনীতি যে কিছুটা চাঙা হতে শুরু করেছে, সেটা তাঁরাই জানালেন। ড্যানফোর্থের এক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় বসে দুধ-চা আর ডালপুরি খেতে খেতে কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনায় তাঁদের বেশ আশাদীপ্ত মনে হলো, যদিও তাঁদের কয়েকজন এখনো নতুনভাবে ওখানকার ডিগ্রি নেওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন।
একসময় শিল্পসাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনামখ্যাত অনেক বাংলাদেশি কানাডার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে রয়েছেন অভিবাসী হিসেবে। বেশ কয়েক বছর আগে পাড়ি দিয়ে তাঁদের প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠিত আজ। একসময় টেলিভিশনের সেলিব্রিটি সংবাদ পাঠিকা আসমা আহমেদও তাঁদের মধ্যে একজন। তাঁর ছিমছাম বাড়িতে আরও কয়েকটা বাংলাদেশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিমন্ত্রিত হয়ে এক ছুটির দুপুরে সেই প্রতিষ্ঠিত শ্রেণির কয়েকজনের সঙ্গে ভাববিনিময়ের সুযোগ ঘটে এবার।
তবে তাঁদের কাছ থেকে সেখানকার জীবনযাত্রার বিষয়ে কিছু জানার সুযোগ ছিল সীমিত৷ কারণ বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের ক্রমাগত প্রশ্নের জবাব দিতে এবং উদ্বেগ প্রশমিত করতে গিয়ে আমার আর তেমন কিছু জানা হয়ে ওঠে না। তাঁদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নারায়ণগঞ্জের সাত খুন। তাঁদের বিশ্বাস, বাংলাদেশে গুম কিংবা অপহরণের ঘটনা এমন উদ্বেগজনক যে দেশের কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। এমনকি বুঝি, তাঁরা দেশে বেড়াতে যেতেও ভয় পান। আসমা আহমেদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই তাঁর প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে। তাঁর সেই উদ্বেগ প্রশমনে বহু ধরনের যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়েছিল আমাকে৷ দেশের মানুষ ও দেশ নিয়ে প্রবাসীদের এই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সহজাত ও চিরন্তন।
ভারতের স্বাধীনতার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের উদ্দেশে নেহরু বলেছিলেন, যাতে তাঁরা সেসব দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধারণ করে তার সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই আহ্বানের পেছনের মূল কারণ ছিল অভিবাসী ভারতীয়দের পরবাসের যন্ত্রণা প্রশমিত করা। তাঁর সেই পরামর্শ ও আহ্বানের কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষেরা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি একটা যথার্থ ইঙ্গিত হতে পারে।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হান নদীর গল্পগাথা by সাজ্জাদ শরিফ
আমরা এসেছি কোরিয়া ফাউন্ডেশনে। অধ্যাপক সেওং-কন কিম আমাদের শোনাবেন কোরিয়ার উঠে দাঁড়ানোর গল্প। অধ্যাপক কিম পড়ান সোউল বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজি সাহিত্যে। তিনি যা শোনালেন, সেটি ছাইয়ের সোনা হয়ে ওঠার গল্প। অন্য আরও বহু দেশের মতো কোরিয়ার অতীতও অশ্রু আর বিলাপের কাহিনিতে ভরা। কোরিয়ার ইতিহাসের ধূসর পৃষ্ঠা বারবার লাল হয়ে উঠেছে দখল আর অত্যাচারের ঘটনায়। চীনের মোঙ্গলরা আক্রমণ করতে করতে কোরিয়ার প্রায় পুরোটাই একসময়ে খেয়ে নিয়েছিল। নাক উঁচু করে বেঁচে ছিল শুধু দ্বীপের মতো সামান্য একটু অংশ।
এ ছাড়া গত শতকের গোড়ায়, ১৯১০ সালে, জাপানের সঙ্গে তারা এক দাস্য চুক্তির অধীনে যেতে বাধ্য হয়। কয়েকটি সংখ্যাই এর পরের ঘটনা বলে দেবে। ৫০ লাখ কোরীয়কে জাপানের কাছে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে হয়। কেবল যুদ্ধেই প্রাণ হারান চার লাখ শ্রমিক। শরীর দিতে বাধ্য করা হয় চীনাসহ প্রায় দুই লাখ কিশোরী ও নারীকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্নায়ুযুদ্ধের সূচনাকালে, ১৯৪৮ সালে, দুই টুকরোর এই ভাগের দক্ষিণ কোরিয়া হয়ে পড়ে আরও নিঃস্ব। উপরন্তু বারবার তারা কখনো চীন, কখনো রাশিয়ার সমর্থনে ক্রমাগত আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হতে থাকে।
‘১৯৬০-এর দশকেও আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা উত্তর কোরিয়ার চেয়ে খারাপ ছিল।’ বললেন অধ্যাপক কিম। ‘কিন্তু আমরা অতীতের ধ্বংসস্তূপে মুখ গুঁজে না থাকার পণ করেছিলাম। যতটা সামান্য সুযোগই পেয়েছি, সেটুকুই ব্যবহার করেছি উঠে দাঁড়ানোর কাজে।’
কিন্তু উঠে দাঁড়ালেন কীভাবে? অধ্যাপক কিমের মতে, তাঁদের জাতীয় নেতাদের দূরদৃষ্টি আর সাধারণ মানুষের অদম্য সংকল্প। রাজনীতিতে সামরিক-বেসামরিক যে সরকারই আসুক না কেন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সবাই। ১৯৬২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এর ব্যাঘ্রতুল্য অর্থনীতি বেড়েছে বছরে ১০ শতাংশ করে, রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশ করে। তাঁদের অর্থনীতি এখন বিশ্বের দ্বাদশ বৃহত্তম। এই মায়াবী কাহিনিকে কেউ কেউ আখ্যা দেয় রাজধানীর বুক চিরে চলে যাওয়া ‘হান নদীর জাদুগাথা’ বলে।
খাত তৈরি করেছেন নেতারা, আর সে পথ ধরে এগিয়ে গেছে সাধারণ মানুষ। কিম বলেন, ‘পৃথিবীর বিস্ময় যে স্যামসাং, সে কিন্তু তার কারিগর জ্ঞান পেয়েছে সনির কাছ থেকে; হিউন্দাইয়ের প্রকৌশলজ্ঞান মিৎসুবিশির কাছ থেকে পাওয়া। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়ে যে ওরা পৃথিবীটাকে সয়লাব করে দিল, তার পেছনে আছে মানুষ।’
রূপকথার গল্পটির আবেশ মাথায় নিয়ে আমরা বেরিয়ে আসি বাইরে। চোখ পড়ে ভবনের ঠিক পাশেই চওড়া ফুটপাতের ওপরে। ফেস্টুন-ব্যানার টানিয়ে তাতে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছেন শ্রমিক সংঘের সদস্যরা। ১৬ এপ্রিল ভয়াবহ এক ফেরি দুর্ঘটনায় ৩০৪ জন মানুষের মৃত্যুতে এই প্রতিবাদ। মৃতদের বড় অংশটি দানওন নামে একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রী। আজ চলছে ধর্মঘটের দশম দিন। নানা তৎপরতাও চলছে শ্রমিকদের। কিন্তু কোথাও কোনো অস্থিরতা নেই। আছে নীরব গাম্ভীর্য। নৈঃশব্দ্যই কেমন এক অদ্ভুত ভার চাপিয়ে দিয়েছে চারপাশের ব্যস্ততার ওপর।
শ্রমিকদের একটি ব্যানারে লেখা, ‘এই নৌ-দুর্ঘটনা সরকারি নীতির ব্যর্থতার ফল। তাদের কাছে ব্যবসার মুনাফা আর দক্ষতার জায়গা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপরে।’ এই এক বৈপরীত্যময় টানাপোড়েন, প্রায় সর্বত্র।
কোরিয়া ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট পার্ক গেউন-হাইয়ের ৭১ শতাংশ জনপ্রিয়তা এ দুর্ঘটনার পরে নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে। সামনেই কোরিয়ার স্থানীয় সরকারের বিরাট নির্বাচন। এ দুর্ঘটনা সব রকম প্রচার-প্রচারণার গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছে। কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি তো দূরের কথা, সাড়াশব্দই প্রায় নেই। ‘কোরিয়ার গণতন্ত্র এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে মানুষের আবেগকে মূল্য না দিয়ে উপায় নেই।’
সে আবেগেরই ভিন্ন একটি গল্প পড়া গেল পত্রিকায়। যে স্কুলের এতগুলো ছাত্রছাত্রী প্রাণ হারাল, তার উপাধ্যক্ষও আত্মহত্যা করেছেন ঘটনার কয়েক দিন পর। কেন? তাঁরই পরিকল্পিত এক মাঠসফরে যাওয়ার সময়েই যে বাচ্চাগুলো বেঘোরে প্রাণ হারাল। এ বেদনার ভার তিনি বইতে পারছিলেন না। আত্মহত্যার আগে চিরকুটে লিখে গেছেন, ‘স্বর্গে হয়তো আমি আবার ওই শিশুগুলোর শিক্ষক হব, যাদের শরীর খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
কোরিয়ার এই মানুষগুলো মানুষ হিসেবে আমাদের সীমানা কতটাই না বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সোউল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খেসারত পাঁচ হাজার কোটি টাকা মাত্র! by এ কে এম জাকারিয়া
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি বা দুর্নীতির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার কারণে বাংলাদেশকে যে খেসারত দিতে হবে, সেটা প্রত্যাশিতই ছিল৷ ‘অভিযোগ’ এবং অভিযোগের ব্যাপারে যথাযথ সাড়া দিতে না পারার শাস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ৷ এই প্রকল্পে ঋণ-সহায়তা দেওয়ার অবস্থান থেকে একে একে সরে গেছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার মতো প্রতিষ্ঠান৷ দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগের কারণে ক্ষুণ্ন হয়েছে দেশটির মানসম্মানও৷ এটুকু হলেও হয়তো ঠিক ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই ‘অভিযোগের’ মূল্য যে এখনই দাঁড়িয়েছে কমবেশি পাঁচ হাজার কোটি টাকা মাত্র!
২০০৭ সালে পদ্মা সেতুর প্রকল্পের পরিকল্পনায় এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা৷ এখন সেই সেতুর নির্মাণব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা৷ সাত বছরে খরচ বাড়ার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা৷ মাঝে ২০১১ সালে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে দ্বিগুণ করা হয়৷ খরচ এত বেড়ে যাওয়ার পক্ষে তখন যুক্তিটি ছিল, প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিস্তারিত অনেক কিছুই ছিল না এবং পরে প্রকল্পের নানা খুঁটিনাটি দিক বিবেচনায় নিয়ে ও বিস্তারিতভাবে করতে গিয়ে খরচ এতটা বেড়ে গেছে৷

খরচ বাড়ার এই যুক্তি মেনে নিলে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি একনেক পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সংশোধিত যে ২০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন করেছে, সেটিই হচ্ছে সেতু বানানোর চূড়ান্ত খরচ৷ এখন সেই একই সেতু তৈরিতে বাড়তি যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে, তার স্রেফ কারণ পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে ওঠা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ৷ আর সেতু নির্মাণ শুরু ও শেষ হতে হতে এই বাড়তি পাঁচ হাজার কোটি টাকার অঙ্কটি যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে কে জানে৷ অতীতের অভিজ্ঞতা আর পরিবেশ-পরিস্থিতি খরচ আরও বাড়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে৷
২০১১ সালে যখন সাড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল, তখন অর্থের জোগানসহ সবকিছুই চূড়ান্ত ছিল৷ বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়ার কথা ছিল খরচের প্রায় পুরোটাই, ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো৷ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পরিস্থিতি পাল্টে দিল৷ এই অভিযোগ আমলে না নেওয়ার একগুঁয়ে নীতি নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সর্বনাশটি করল৷ অর্থের প্রতিশ্রুতি গেল, নতুন অর্থের খোঁজে সময় গেল (শেষ পর্যন্ত কোথাও থেকে তা পাওয়াও গেল না এবং নিজেদের রিজার্ভ ভেঙেই তা করতে হবে) এবং খচরও বেড়ে গেল পাঁচ হাজার কোটি টাকা৷ আর বাড়াল সেতুর জন্য অপেক্ষার সময়ও৷
আগের এক লেখায় লিখেছিলাম, বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো এই প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ায় এ ধরনের বড় সেতু নির্মাণে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে৷ অর্থের নিশ্চয়তাটি তাদের জন্য বড় ব্যাপার৷ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভেঙে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভরসা পাবে না৷ বাস্তবে এখন তা-ই হলো৷ বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে মূল সেতু নির্মাণের জন্য প্রাক্যোগ্য হয়েছিল চারটি প্রতিষ্ঠান৷ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ও ডেইলেম, চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ফ্রান্সের ভিন্সি৷ বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পর একমাত্র চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ সরকারের ‘নিজস্ব অর্থে’ পদ্মা সেতু নির্মাণপ্রক্রিয়ায় আস্থা রাখতে পারেনি৷ দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি দুটি সরকারের কাছ থেকে অর্থের ‘লিখিত প্রতিশ্রুতি’ চেয়েছিল৷ সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে এই দুটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত আর্থিক প্রস্তাব আর জমাই দেয়নি৷ ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে কাজ না দিয়ে তখন আর উপায় কী, তারা যে প্রস্তাবই দিক না কেন!
যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ ছাড়া একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগে যে ‘ঝুঁকি’ রয়েছে, সে কথা জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম৷ তিনি বাংলাদেশে চীনা কোম্পানির কাজের অতীত অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন৷ (প্রথম আলো, ২২ মে ২০১৪) যে প্রক্রিয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই৷ কিন্তু এটা স্বাভাবিক, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান যখন দরপত্র জমা দেয়, তখন ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে সেই প্রতিষ্ঠান কিছু সুযোগ নিতেই চাইবে৷ যে আর্থিক প্রস্তাব দিয়ে তারা কাজ পেয়েছে, তা যে আরও বাড়তে পারে বা ব্যয় সংশোধিত হতে পারে, সে কথা অর্থমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন৷ সরকারের প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, দুবার প্রকল্প ব্যয় পর্যালোচনার সুযোগ থাকে৷ পদ্মা সেতু তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের এই নীতিমালা থেকে দায়মুক্তি চেয়ে আবেদন করে রেখেছে সেতু নির্মাণ, তদারক ও তত্ত্বাবধানকারী সেতু বিভাগ৷ বোঝাই যাচ্ছে খরচ আরও বাড়ার বিষয়টিই মাথায় রেখেছে সেতু বিভাগ৷ সেতুর কাজ শুরুর পর চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির কাজ তদারকির বিষয়টি হবে সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ একদিকে আমাদের রয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে এ ধরনের বড় প্রকল্পের কাজ তদারকি ও নজরদারির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই৷ চীনা কোম্পানি কেন, যেকোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে৷ এসব কারণেই নিজেদের অর্থ জোগান দেওয়ার সামর্থ্য থাকার পর বিশ্বের অনেক দেশ বড় প্রকল্পে ব্যবস্থাপনাগত কারণে বিশ্বব্যাংক বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রাখতে চায়৷ কারণ, কম সুদে ঋণ পাওয়ার পাশাপাশি তাদের তদারকির দক্ষতাকেও কাজে লাগানো যায়৷
চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি এর আগে বাংলাদেশে পাকশীতে লালন সেতু নির্মাণ করেছে৷ তখন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল চীনা কোম্পানির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং সেই প্রকল্পের অন্যতম কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এখন পদ্মা সেতু প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং মূল সেতুর দায়িত্বে রয়েছেন৷ ফলে, চীনা কোম্পানির কাজ তদারকির কাজটি কতটা নির্মোহভাবে হবে, সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে৷ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে সরকার এ ক্ষেত্রে কী করে, সেটাই দেখার বিষয়৷
এটা সরকারের বিবেচনায় রাখতে হবে যে বিশ্বব্যাপী চীনা কোম্পানিগুলোর সুনামের সংকট রয়েছে৷ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতিসংক্রান্ত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘ব্রাইব পেয়ার্স’ সূচকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান একেবারেই নিচের দিকে৷ আর আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি যে খাতটিতে হয়ে থাকে, সেটি হচ্ছে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ খাত৷ পদ্মা সেতু নিয়ে যেহেতু একবার দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, তাই সামনে সব ধরনের বিতর্ক এড়াতে বাড়তি সতর্কতা খুবই দরকার৷
সাদামাটা হিসাবেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠার খেসারত দিতে হচ্ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা৷ আসলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি৷ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০১০ সালে নির্মাণ শুরু ও ২০১৪ সালে সেতুটি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ এখন সেতু নির্মাণে এই যে দেরি হলো এবং এত দিনে যে সুবিধা দক্ষিণবঙ্গ, তথা দেশের জনগণ পাওয়া শুরু করত, তা থেকে বঞ্চিত হওয়ারও একটি বড় অর্থমূল্য রয়েছে৷ একদিকে দেরি হলো, অন্যদিকে এ কারণে খরচ বাড়ল৷ কিন্তু খরচ বাড়লেও ‘কষ্ট’-এর বিপরীতে ‘বেনিফিট’ বাড়ার কোনো সুযোগ নেই৷ কারণ, ২০১০ সালে যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, ২০১৪ সালে এসেও সেই একই সেতুই তৈরি হবে৷ আর খরচ যে হারে বাড়ছে, সেতু থেকে আয় বা টোল আদায় সে অনুযায়ী বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়৷
দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের ফলে ক্ষতি যা হওয়ার এরই মধ্যে হয়ে গেছে৷ কোনো এক সময়ে এই অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবে না৷ এই বাস্তবতায় যথাযথ তদারকির অভাব বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে যাতে খরচ আর কোনোভাবেই বাড়তে না পারে, সেটা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সরকারকে নিতেই হবে৷
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকার, তুমি কার? by হাসান ফেরদৌস

একসময় এডওয়ার্ড কেনেডি অথবা টিপ ও’িনলের মতো রাজনীতিকেরা গর্বের সঙ্গে উদারনৈতিক নামের চাদর গায়ে জড়াতেন৷ বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সে চাদর ছুড়ে ফেলে নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে প্রমাণ করার৷ অধিকাংশ সামাজিক প্রশ্নে তাঁরা উদারনৈতিক হবেন, কিন্তু অর্থনীতির কথা উঠলে বাজারব্যবস্থার ওপর আর কোনো বড় বাপ নেই৷ এখানে তাঁদের সঙ্গে রিপাবলিকান রক্ষণশীলদের কোনো তফাত নেই৷
এই নিয়মের এক বড় ব্যতিক্রম এলিজাবেথ ওয়ারেন৷ এমনিতে হার্ভার্ডের অধ্যাপক, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মতো ধৈর্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি সরকারের ভূমিকা প্রশ্নে বিরুদ্ধবাদীদের সব যুক্তি-তর্ক খণ্ডন করে চলেছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই রিপাবলিকানরা তাঁকে দুচক্ষে দেখতে পারেন না, কিন্তু দেশের উদারনৈতিক মহলে তিনি ‘ডার্লিং’৷
এলিজাবেথ ওয়ারেনের যুক্তিগুলো খুব স্পষ্ট৷ যারা সরকারের ভূমিকা ‘ফুঁ ফুঁ’ করে উড়িয়ে দেয়, তাদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ঠিক আছে, তোমরা সরকার চাও না৷ তাহলে বিমানে চলাচলের জন্য তোমাদের কোনো ট্রাফিক কন্ট্রোলারের প্রয়োজন নেই৷ ফুড ইন্সপেক্টররা কী বলল, তা জানার অপেক্ষা না করেই তোমরা খাবার কিনে খাবে৷ ঘরে আগুন ধরলে নিজেরাই তা নেভাবে, তার জন্য কোনো সরকাির দমকলকর্মীর প্রয়োজন নেই৷
সরকারের ভূমিকাকে বাদ দিতে চায় কারা, সে ব্যাপারেও এলিজাবেথ ওয়ারেন স্পষ্টবাক৷ যারা কোনো জবাবদিহির বিপক্ষে, যারা কর ফাঁকি দিতে চায় বা চুরি করে ফায়দা লোটে, একমাত্র তারাই চায় সরকার দুর্বল হোক৷ যারা সবল, যাদের পকেটে রেস্ত আছে, ঘরে ডাকাত পড়লে যারা নিজেরা লাঠি-বন্দুক নিয়ে প্রতিরোধ করতে পারে, তাদের সরকার না হলেও চলে৷ কিন্তু যারা দুর্বল ও অভাবী, বিপদের সময় যাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই, সরকার ছাড়া, বিশেষ করে গণকল্যাণমুখী সরকার ছাড়া, কার মুখের দিকে তারা তাকাবে?
এলিজাবেথ সম্প্রতি ফাইটিং চান্স নামে আত্মজৈবনিক একটি বই লিখেছেন৷ স্মৃতিকথা, নিজের বড় হয়ে ওঠার গল্প, কিন্তু তারই ফাঁকে ফাঁকে তাঁর লড়াইয়ের কাহিনি৷ অর্থনীতি প্রশ্নে নীতিনির্দেশক বিভিন্ন পরামর্শও রয়েছে৷ এলিজাবেথ ওয়ারেনের সমীকরণ অনুসারে, আমেরিকার সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নয়৷ যে ধনিক গোষ্ঠীর কোলে চেপে তারা ক্ষমতায় বসে, দেশের তাবৎ আইনকানুন করা হয় তাদের স্বার্থ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই৷ অতএব, এলিজাবেথের সরল উপসংহার, এই সরকার আমার নয়৷ চলতি সরকারব্যবস্থার আগাপাছতলা না বদলালে দেশের বৃহদংশ মানুষের অধিকার সংরক্ষিত হবে না৷
আমেরিকার শাসনব্যবস্থার যে গঠনকাঠামো, তাতে ক্ষমতার গোছা ধরা থাকে ক্ষমতাবান একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে৷ যাদের হাতে টাকার গোছা, রাজনীতির সব কলকাঠি তারাই নাড়ে৷ বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার রাজনীতির কাঠামোগত কোনো সমতা নেই, কিন্তু এই এক ক্ষেত্রে তারা যেন গলায় গলায় সই৷ সবচেয়ে যারা অসৎ, তারাই সবচেয়ে অধিক ক্ষমতার অধিকারী৷ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের ক্ষমতাও তাদের সর্বাধিক৷ এই সাধারণ মিল সত্ত্বেও একটা জায়গায় আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের মস্ত ফারাক৷ হ্যঁা, এ কথা ঠিক, এ দেশের সরকারও গৃহস্থের বদলে চোরের পাহারায় অধিক ব্যস্ত৷ কিন্তু একবার যদি সে চোর ধরা পড়ে, রক্ষা পাওয়া তার জন্য খুব সোজা নয়৷
বাংলাদেশের বেলায় যে চোর, সে-ই পুলিশ৷ আপনি যদি টাকার পাহাড়ের মালিক হন, সাত খুন করেও মাফ পেয়ে যাবেন৷ আমি কথাটা আক্ষরিক অর্থেই বলছি৷ ভাবুন, মাত্র ছয় কোটি টাকা দিয়ে আপনি সাতজন মানুষ খুন করে তাদের লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতে পারেন৷ আরও ছয় বা তার চেয়ে কিছু বেশি মালকড়ি ঢাললে খুনের সরদারকে (অর্থাৎ, যার টাকায় খুন হলো) বিদেশে পাচার করা যায়৷ এর সবটাই বেআইনি, অথচ কোনোটাই বেআইনি নয়৷ খোদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই যদি এই মহান দায়িত্ব পালনে নেতৃত্ব দেয়, তাহলে তাকে বেআইনি বলার কোনো সুযোগই তো থাকে না৷
দেশের শাসনব্যবস্থা এখন কতটা অসুস্থ, গলা-পচা আকার নিয়েছে, তা বোঝার জন্য শুধু র্যাবের দিকে তাকিয়ে দেখুন৷ এরা আমাদের দেশের সবচেয়ে এলিট নিরাপত্তা বাহিনী৷ এত দিন পত্রপত্রিকায় অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার কাজে র্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে৷ কিন্তু এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে র্যাবের হাতে মানুষ খুন হতো৷ সম্প্রতি খালেদা জিয়া র্যাবকে বিলুপ্ত করা না হলে আন্দোলন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলে তাঁর জবাব হিসেবে ১৪ মে গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন র্যাব দিয়ে বিএনপির নেত্রী হত্যা করতেন, তখন ভালো ছিল৷ অপারেশন ক্লিন হার্টে হত্যা করে দায়মুক্তি দিয়েছিলেন৷ এখন ব্যবহার করতে পারছেন না৷ এ জন্যেই র্যাব বন্ধের কথা বলছেন৷’ (প্রথম আলো, ১৫ মে, ২০১৪)
কী ভয়াবহ কথা! প্রধানমন্ত্রী নিজে জানাচ্ছেন, এই র্যাব একসময় মানুষ খুন করত৷ তিনি সে কথা জানেন, অথচ তাঁদের কারও বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন, কই, এমন কথা তো শুনিনি! এখনো যাঁরা আইন-নিরাপত্তাব্যবস্থার দায়িত্বে, তাঁরা তো সেই বাহিনীরই লোক৷ সেই একই লোক, কাজকর্মেও কোনো পরিবর্তন নেই৷ তাহলে জেনেশুনে এমন লোকদের পেলেপুষে রাখা কেন? এমন অবস্থা বদলই বা হবে কবে, কীভাবে?
এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য কার কাছে যাব, তা আমার জানা নেই৷ গত্যন্তর না পেয়ে আমি এলিজাবেথ ওয়ারেনের শরণাপন্ন হতে মনস্থ করেছি৷ তাঁর বই পড়ে শিখেছি, সরকার অনেকটা ফুলগাছের মতো৷ সময়মতো যত্ন না পেলে, তাতে আগাছা জন্মে, পরগাছা সেখানে আশ্রয় নেয়৷ সত্যিই তো, যেসব খুনি সরদার এখন দাবি করছে, তারা ফুলের মতো পবিত্র, সুবহে সাদিকে ঘুম ভেঙে তারা তাহাজ্জতের নামাজ আদায় করে, তারা আসলে তো ওই পরগাছা৷ সরকার নামক বটবৃক্ষের গা ঘেঁষে তারা দিব্যি হাত-পা ছড়িয়ে বেঁচে থাকে৷
এই অবস্থা বদলাবেন কী করে? এলিজাবেথ ওয়ারেন তাঁর নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলছেন, সমাজ ও সরকার বদলাতে হলে লড়তে হয়৷ আর সে লড়াই দীর্ঘ ও বন্ধুর৷ খুব সহজে বিজয় আসে না, কিন্তু একদম কখনো বিজয় অর্জিত হবে না, সে কথাও সত্যি নয়৷ প্রমাণ এলিজাবেথ নিজে৷ সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন৷ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য যে এজেন্সির প্রস্তাব তিনি রেখেছিলেন, এখন তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে৷ ব্যাংকিং-ব্যবস্থার ওপর নানাবিধ নজরদারিমূলক আইনকানুন হয়েছে, তাও মুখ্যত তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের কারণেই৷
আহা, একজন এলিজাবেথ ওয়ারেনের জন্য আরও কত দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে?
২৭ মে, ২০১৪, নিউইয়র্ক
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাল দাগ অতিক্রম কোরো না by ফারুক ওয়াসিফ

গত ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের করাচি শহরে অজ্ঞাত আততায়ীদের গুলিতে আহত হন দেশটির জনপ্রিয় জিয়ো চ্যানেলের উপস্থাপক আলোচিত সাংবাদিক হামিদ মির৷ এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক আমির মির পাকিস্তানের বিপুল ক্ষমতাশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে এর জন্য দায়ী করেন৷ এর কিছু পরে হামিদ মির সরাসরি আইএসআইয়ের প্রধান লে. জেনারেল জহির-উল ইসলামকে এই হত্যাচেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেন৷ জিয়ো টিভিতে পরের আট ঘণ্টা এই অভিযোগের সংবাদের সঙ্গে জহির-উল ইসলামের ছবিও দেখানো হয়৷ পাকিস্তানে আইএসআই ও তার প্রধানকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করা অভূতপূর্ব ঘটনা৷
পাকিস্তানে নিয়মিতভাবেই সাংবাদিক হত্যা হয়ে থাকে৷ গত তিন মাসেই খুন হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। গত বছর খুন হন সাতজন। তার আগের বছর নয়জন। গত এপ্রিলে দেশটির আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক রাজা রুমিকেও একইভাবে হত্যার চেষ্টা হয়৷ রিপোর্টার্স সান ফ্রন্টিয়ার্সের হিসাবে, পাকিস্তান সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়, এক নম্বরে আছে যুদ্ধপীড়িত সিরিয়া। কমিটি ফর প্রটেক্ট জার্নালিস্ট বলছে, ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৮ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন সেখানে৷ হামিদ মিরের ওপর আক্রমণ আচানক না হলেও তাঁর মতো জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা থমকে যাওয়ার মতোই ব্যাপার৷
এসব ঘটনায় দেশটির সিভিল-মিলিটারি এবং মিলিটারি-মিডিয়া সম্পর্কে গভীর ফাটল বেরিয়ে পড়ে৷ নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ আমলে গণতন্ত্রের কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে যে ধারণা করা হচ্ছিল, সেই উন্নতির গুমরও ফাঁস হয়ে যায়৷ ফলে সামরিক–বেসামরিক দাগের এপার-ওপারে ভাগ গভীরতর হয়৷
জিয়ো টিভির তরফে আইএসআই ও তার প্রধানকে অভিযুক্ত করে সংবাদ প্রচারের প্রতিক্রিয়ায় আইএসআইও তার মিডিয়া-পেশি ছড়ানো শুরু করে৷ প্রথমে সংস্থার মুখপাত্র সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘আবেগাক্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দেন৷ এর পরপরই কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র তুমুল উৎসাহে হামিদ মির ও জিয়ো টিভি এবং এদের মূল প্রতিষ্ঠান জং গ্রুপকে দেশবিরোধী, ভারতের দালাল, সিআইয়ের এজেন্ট বলে দোষারোপ করতে থাকে৷ কাকের মাংস কাকই খাওয়া শুরু করে৷ মিডিয়ার মধ্যে থেকেই উঠতে থাকে জিয়ো টিভি বন্ধের দাবি৷ দেশব্যাপী আইএসআইয়ের সঙ্গে জড়িত সংগঠন ও ব্যক্তিরা জিয়ো ও হামিদ মিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালান৷ জিয়ো টিভি নিষিদ্ধের দাবিতে আদালতে মামলা হয়৷ কেবল অপারেটরদের চাপে ফেলে জিয়ো টিভির সম্প্রচার অনেক কমিয়ে আনা হয়৷ বিভিন্নমুখী চাপে জিয়ো টিভি পিছু হটে এবং সরকার সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে ব্যতিব্যস্ত হয়৷ একপর্যায়ে জিয়ো টিভিসহ জং গ্রুপের দুটি দৈনিক পত্রিকা ডেইলি জং ও দ্য নিউজ প্রথম পৃষ্ঠায় সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের প্রতি ক্ষমাপ্রার্থনা করে বলে, ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘আবেগাক্রান্ত’ সংবাদ প্রচার করে ভুল করেছে৷ আইএসআইয়ের ভাষার সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনার ভাষার মিল লক্ষণীয়৷ অথচ হামিদ মিরের হামলাকারীদের চিহ্নিত করায় আইএসআইয়ের ব্যর্থতাও চোখে পড়ে৷ অতীতে কোনো কোনো সাংবাদিক হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার আলামতও দুর্লভ নয়৷
পাকিস্তানে সাংবাদিকদের জীবননাশ ও গণমাধ্যমকে লাইসেন্স বাতিলের মুখে কাজ করতে হয়৷ স্পষ্টভাবে আইএসআইয়ের চাপে দি এক্সপ্রেস ও এআরআই চ্যানেল সাংবাদিকতার নৈতিকতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে৷ প্রচার ও প্রভাবের প্রতিযোগিতা এভাবে পরস্পরের বিনাশে ধাবিত হলে লাভ হয় আরও বড় অপশক্তির৷ তাই এরা যেভাবে সহযোগী সংবাদমাধ্যমকে ধ্বংস করায় জোগালি খেটেছে, তা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকারকে স্বার্থের তুিড়তে উড়িয়ে দেওয়ার নজির৷ এ ঘটনায় পাকিস্তানের গণমাধ্যম জগতে সেনাবাহিনীর হাত যে কতটা ভেতর পর্যন্ত প্রসারিত, তার পরিমাপ পাওয়া গেল৷ পাকিস্তানে সেনা গোয়েন্দা সংস্থাকে লোকে ‘স্ট্যাবলিশমেন্ট’ নামে ডাকে৷ স্ট্যাবলিশমেন্টের পক্ষে থাকলে সবই ভালো, বিরুদ্ধে গেলেই বিপদ৷
যে সমাজে সেনা কর্তৃত্ব ক্যান্টনমেন্ট ছাপিয়ে সমাজে, ব্যবসা–বাণিজ্যে, সিভিল প্রতিষ্ঠান ও জনমত গঠনকারী বলয় পর্যন্ত ঢুকে পড়ে, সেই সমাজ হয় বনসাই করা গাছের মতো, ব্যবসা–বাণিজ্য নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না, বেসামরিক প্রতিষ্ঠান কার্যকারিতা হারিয়ে ভবনসর্বস্ব হয়ে পড়ে৷ পরিণামে জনগণের আত্মবিশ্বাস কমজোরি হয়ে যায়৷ অহেতুক সেনা–বিরোধিতা যেমন অকাজের, তেমনি সেনা-স্ট্যাবলিশমেন্টের প্রতি ভয়াবশ তোষণও ক্ষতিকর৷
একটি সমাজে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার পরস্পরের পরিপূরক৷ একটি না থাকলে অন্যটি বিকশিত হয়, এমন নজির নেই৷ কোনো গণমাধ্যম যদি চূড়ান্ত পক্ষপাতপূর্ণও হয়, তাহলে দর্শক-পাঠকদের বড় অংশের কোনো কারণ নেই তাকে বিশ্বাস করার৷ ওই সংবাদমাধ্যম তখন মঞ্চের আলো হারিয়ে ফেলে৷ সেটাই তাদের জন্য বড় শাস্তি৷ কিন্তু যখনই গোপন শক্তির চাপে, সন্ত্রাসী হামলা ও হুমকিতে, কিংবা আইনের বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমকে শাস্তি দেওয়া হয়, তখন তা গণতন্ত্রের প্রাণভোমরাকেই আঘাত করে৷ যে সমাজে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না, সেখানেই গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, মাফিয়া দস্যুতন্ত্রের দাপট কিংবা সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ পাকা হয়৷ পরিণামে তা গণতন্ত্রের রক্তনালি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অথর্ব বানিয়ে ফেলে৷ এ অবস্থায় মিডিয়ার বৈরী প্রতিযোগিতা কেবল সাংবাদিকতার জন্যই নয়, দেশের জন্যই আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়৷ পাকিস্তানের মতো দেশে, যার ইতিহাস সামরিক বাহিনীর শাসনে-শোষণে জর্জরিত, সেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক৷ পাকিস্তান তার খেসারত অতীতেরও িদয়েছে, এখনো দিচ্ছে৷
হামিদ মিরের জীবননাশের চেষ্টার পটভূমিতে আরও কিছু ঘটনা ঘটছিল পাকিস্তানে৷ নওয়াজ শরিফের সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের দাপটকে সংযত করার চেষ্টা করে৷ সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের বিচারকে কেন্দ্র করে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ঘনীভূত হচ্ছিল৷ পারভেজের শাস্তি মানে সেনা–স্ট্যাবলিশমেন্টের ক্ষমতা হ্রাস এবং ভবিষ্যতে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি৷ একই সঙ্গে তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনাও চলছিল৷ অন্যদিকে চলছিল ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তুতি৷
আইএসআই-জিয়ো টিভি লড়াইয়ের একপর্যায়ে নওয়াজ শরিফকে অ্যাবোটাবাদের মিলিটারি একাডেমিতে গিয়ে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে আসতে হয়েছে৷ পারভেজ মোশাররফের বিচারের ইস্যুটা পেছনে পড়ে গেছে৷ এমনকি এও শোনা যাচ্ছে, সরকার তাঁকে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে বাধা দেবে না৷ তালেবানদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে গেছে৷ এরই মধ্যে আরেক সাংবাদিক সালিম শাহজাদের হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকারীদের নাম–নিশানার কিছুই মিলল না৷ পাশাপাশি সামরিক বাহিনী ও আইএসআইয়ের ওপর তৈরি হওয়া জবাবদিহির চাপ উল্টে গিয়ে সরকার ও গণমাধ্যমকেই বেকায়দায় ফেলতে পারল৷ মিডিয়া যদি বিভক্ত ও ব্যবহৃত না হতো, তাহলে হয়তো আইএসআই এমন অশুভ প্রভাব ফেলতে পারত না৷
আইএসআইয়ের পক্ষাবলম্বনকারীদের ধারণা, হামিদ মির ও জিয়ো টিভি আইএসআইকে অভিযুক্ত করেছে নওয়াজ সরকারের ইন্ধনে৷ তারা হামিদ মিরকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চর বলেও প্রচার করেছে৷ অন্য পক্ষ মনে করে, হামিদ মির তালেবানদের মিত্র৷ অথচ এরাই একসময় হামিদ মিরের প্রতি খুই প্রীত ছিল৷
সালিম শাহজাদের অপরাধ, তিনি পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে আল–কায়েদার অনুপ্রবেশ নিয়ে সংবাদ করেছিলেন৷ আর হামিদ মির কিছুদিন ধরে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামীদের গণহারে গুম হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক সোচ্চার ছিলেন৷ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ রকম বিপন্ন হওয়ার ঘটনা জানিয়ে দেয়, লাল দাগ অতিক্রম কোরো না৷
সব মিলিয়ে ক্ষতি হলো গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের৷ আর আইএসআই ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে যে বিতর্ক পাকিস্তানি সমাজে চলছে, তাতে করে দেশটি আরও অসহনশীল ও বিভক্তই হয়ে পড়ল৷ পুরোনো প্রবাদও আবার সত্য হলো যে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান সাফল্য একটি দেশ দখল করতে পারা, আর সেটি হলো পাকিস্তান৷
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জামায়াতের বিচার থেকে সরে আসছে সরকার? by রোজিনা ইসলাম ও কুন্তল রায়

আইনমন্ত্রী যে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন সেগুলো হল—প্রথমত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এ সংগঠনের শাস্তির বিধান নেই।
দ্বিতীয়ত, জামায়াতের নিবন্ধনের ব্যাপারে একটি মামলা ইতিমধ্যে আপিল বিভাগে আছে৷ এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের আইনে কোনো অভিযোগ আনা হলে ওই মামলায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা দেখতে হবে৷ এই পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রভাব পড়বে৷ এখন এসব অন্যান্য পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনা করে এগিয়ে যেতে হবে৷ সে ক্ষেত্রে সময় লাগবে৷’
তৃতীয়ত, অন্যান্য আইনে বলা আছে, যদি কোনো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি অপরাধ করে, তবে ওই সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা নিয়ন্ত্রককে দায়দায়িত্ব নিতে হবে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। জামায়াতের যেসব নেতা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, তাঁদের ইতিমধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁদের আবার শাস্তি হলে তা আগের শাস্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।
সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের অন্তর্দ্বন্দ্বে জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু অবশ্যই আইনের সুনির্দিষ্ট বিধান প্রতিপালন করে। বিচার যাতে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য এসব ব্যাপারে আইনের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়টি আরও ভাবনাচিন্তা করে নিতে হবে। এখন সেটার সময় নয়৷ আজ জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা হবে, কাল আইন পরিবর্তন করা হবে, আমি এর পক্ষে নই। আমাকে সারা পৃথিবীতে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে কাদের মোল্লার ব্যাপারে। কোনো বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুলুক, আমি তা চাই না।’
‘জামায়াতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা’ বিষয়ে আলোচনা ও সন্দেহ আছে৷ এখন বিচার থেকে পিছিয়ে গেলে আওয়ামী লীগ কী জবাব দেবে—এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো আলাপ-আলোচনা হতে পারে না৷ কোনো সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না৷ কারণ, আওয়ামী লীগ মূলত যে দুটো স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে, সে দুটো হচ্ছে স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ৷ এ দুটো নিয়েই আমরা সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি৷ জামায়াত এর কোনোটাই বিশ্বাস করে না৷ আমরা অসাম্প্রদায়িক নীতিতে বিশ্বাসী৷ অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, রাজনৈতিক কারণে এমন সমঝোতা হতে পারে কি না৷ প্রশ্ন থাকতে পারে৷ কিন্তু জামায়াত যা করছে, তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড৷ এসব কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ বা সরকার কোনো দিন সমর্থন করবে না৷ সে ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না৷’
জামায়াতের বিচার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত সংস্থা ও রাষ্ট্রপক্ষের মামলাসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা৷ তাঁরা বলেছেন, আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তাঁর এ বক্তব্য গোটা জাতি ও ৩০ লাখ শহীদ পরিবার প্রত্যাখ্যান করবে।
গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিলে দেশের তরুণ প্রজন্ম সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রাজধানীর শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। তারা সরকারের কাছে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের দাবি জানায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষের আপিলের সমান সুযোগ ও সংগঠনের বিচারের বিধান করে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই সময়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আনিসুল হক বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ৩ ধারা সংশোধন করে সংগঠনের বিচারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধী সংগঠনের শাস্তি কী হবে, এ বিষয়ে আইনের ২০ ধারায় কিছু বলা হয়নি। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে আবার প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হতে পারে। ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় তাঁর ওই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল৷
গত বছরের ১৮ আগস্ট তদন্ত সংস্থা জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করে। সাত মাস তদন্তের পর তারা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। ওই সময়ে প্রথম আলো আনিসুল হকের কাছে আবারও আইনের অস্পষ্টতা নিয়ে জানতে চাইলে তখন তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত ২৪ মার্চ এ বিষয়ে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷
২৭ মার্চ জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ িটপুর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। ওই দিন তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কৌঁসুলি দল তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষঙ্গিক নথি যাচাই করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করবে। তারপর সেটি ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য দাখিল করা হবে। জামায়াতের শাস্তি কী চাওয়া হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘তদন্ত সংস্থা দলটি নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে৷ আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব, নিষিদ্ধের শাস্তি, নাকি সম্পদ বাজেয়াপ্ত, নাকি উভয় শাস্তিই চাইব।’
গত ১৩ এপ্রিল বিদেশে চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটিতে যান গোলাম আরিফ টিপু। ২০ এপ্রিল সৈয়দ হায়দার আলীকে এক মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব দেয় আইন মন্ত্রণালয়। এর পর থেকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৫ মে জামায়াতের বিষয়ে তদন্তের সব নথি ভারপ্রাপ্ত প্রধান কৌঁসুলির কাছে হস্তান্তরের নোটিশ দেওয়া হলে মামলা পরিচালনার জন্য গঠিত কৌঁসুলিদের দলটি ১৯ মে অভিযোগ প্রস্তুতির কাজ বন্ধ করে দেয় এবং প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপুর জরুরি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠায়। এর মধ্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সমন্বয়ক এম কে রহমানকে অব্যাহতি দেয় সরকার।
রাষ্ট্রপক্ষের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয় সমন্বয়কের আর দরকার নেই। তবে প্রসিকিউশনকে গতিশীল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গোলাম আরিফ টিপু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো শুনেছি উনি অসুস্থ৷ ছয় মাসের জন্য ছুটি চেয়ে চিঠি পাঠানোর কথা৷ উনি ছুটি শেষ করে এসে মন্ত্রণালয়ে কোনো রিপোর্ট করেননি৷’
জামায়াতের বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে-বিদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর বিন্দুমাত্র ধারণা থাকলে এসব কথা বলতেন না। এই আইনের আওতায় অপরাধী সংগঠনকে সাজা দেওয়া যায় কি না, এটা আইনমন্ত্রী বা সরকারের না, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। তাঁর উচিত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের কোন্দল নিয়ে মাথা ঘামানো। জামায়াতের বিরুদ্ধে নিবন্ধনের মামলা ও সংগঠন হিসেবে মামলা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমি তাঁর বক্তব্য শুনে স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছি।’
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যে বিচারের ব্যাপারে মানুষের কাছে ভুল সংকেত যাচ্ছে। জামায়াতের প্রশ্নে সরকার যদি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী হবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিআইএ, এনএসএর জন্য গুপ্তচরের কাজ করেছি
![]() |
| এডওয়ার্ড স্নোডেন |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি
![]() |
| শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
May
(496)
-
▼
May 30
(15)
- গারোদের শেষকৃত্য অতীত বর্তমান by আবু সাঈদ কামাল
- নিউ মিডিয়া by নাজিব তারেক
- টমাস মানর শেষ উপন্যাস কনফেশন অব ফেলিক্স ক্রুল by স...
- বেসিক ব্যাংকে বিপর্যয়
- প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ মাতৃত্ব
- সরকার, তুমি তার by আনিসুল হক
- দ্বিজেন দা: ৮৫ বছরের যুবক by হায়াৎ মামুদ
- প্রবাসে বসে যাঁরা দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন by ফারুক মঈনউদ...
- হান নদীর গল্পগাথা by সাজ্জাদ শরিফ
- খেসারত পাঁচ হাজার কোটি টাকা মাত্র! by এ কে এম জাকা...
- সরকার, তুমি কার? by হাসান ফেরদৌস
- লাল দাগ অতিক্রম কোরো না by ফারুক ওয়াসিফ
- জামায়াতের বিচার থেকে সরে আসছে সরকার? by রোজিনা ইস...
- সিআইএ, এনএসএর জন্য গুপ্তচরের কাজ করেছি
- শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে পাল্ট...
-
▼
May 30
(15)
-
▼
May
(496)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



