Monday, February 14, 2011

বিদেশে ৪৪ মিশনের ২৬টির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। অথচ এ সময়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যে ২৬টি রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে।
বিপরীতে ১৮টি মিশন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে ১২টি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আলোচ্য সময়ে নয়াদিল্লি, দি হেগ, বার্লিন, আম্মান, অটোয়া, নাইরোবি, হ্যানয়, ক্যানবেরা, হংকং, কুয়েত, রিয়াদ, দুবাই, ব্রাসেলস, মস্কো, প্রিটোরিয়া, বেইজিং, প্যারিস, তাসখন্দ, ওয়াশিংটন, লন্ডন, স্টকহোম, তেহরান, মাদ্রিদ, কাঠমান্ডু, রোম ও কলম্বো মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।
অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলেও ১২টি মিশন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে। এগুলো হলো: আংকারা, মানামা, সিউল, সিঙ্গাপুর, ইসলামাবাদ, দোহা, ম্যানিলা, রাবাত, টোকিও, থিম্পু, কায়রো ও মাসকাট।
আর ত্রিপোলি, ব্যাংকক, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, ব্রুনাই ও ইয়াংগুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো করতে পারেইনি, আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়েও কম রপ্তানি আয় করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে এক হাজার ২১৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার। আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময় আয় হয়েছিল ৮৭১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই সময়কালে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মিশনগুলো সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি আয় করেছে। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।
আলোচ্য সময়ে মিশনগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটন ২৯৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, বার্লিন ১৮২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার ও লন্ডন ১০১ কোটি ৯১ লাখ ডলার রপ্তানি আয় করেছে। এরপর প্যারিস ৮২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার ও দি হেগ ৭৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার আয় করেছে।
এ ছাড়া অটোয়া ৫২ কোটি ৪২ লাখ ডলার, মাদ্রিদ ৫০ কোটি ১৫ লাখ ডলার, রোম ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার, স্টকহোম ৪১ কোটি ১১ লাখ ডলার, ব্রাসেলস ৩৯ কোটি ডলার, টোকিও ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বেইজিং ১৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, হংকং ১২ কোটি ১৩ লাখ ডলার ও সিউল আট কোটি ৪৮ লাখ ডলার আয় করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মিশনগুলোর মধ্যে নয়াদিল্লি ২৬ কোটি ডলার, ইসলামাবাদ চার কোটি ৪৮ লাখ ডলার, কলম্বো এক কোটি ৭৩ লাখ ডলার, কাঠমান্ডু ৬১ লাখ ডলার ও থিম্পু ১৩ লাখ ডলার আয় করেছে।

পণ্য আমদানি-ব্যয় বেড়েছে ৩৬.৩৫%

বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের আমদানি-ব্যয়ে। আর তাই চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য আমদানির ব্যয় দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে পণ্য আমদানির জন্য ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ১১৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এই সময়কালে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, শুধু ডিসেম্বর মাসে পণ্য আমদানি-ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৬ কোটি ডলার। আর নভেম্বর মাসে আমদানি-ব্যয় ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ডলার।
আমদানি-ব্যয়ের এই হিসাবটি অবশ্য সিঅ্যান্ডএফ-ভিত্তিক। আর লেনদেনের ভারসাম্য সারণিতে আমদানি-ব্যয়ের হিসাব করা হয় এফওবি ভিত্তিতে। ফলে সেই অঙ্কটি সামান্য কম হয়ে থাকে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিই একমাত্র কারণ নয়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে চাহিদা বেড়ে যাওয়াও আমদানি বাড়িয়ে আমদানি-ব্যয় বৃদ্ধিতে আরেকটা ভূমিকা রাখছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতেও এ রকমটি বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমদানি-ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূলত খাদ্যশস্য, ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি তেল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধি পাওয়া।
অবশ্য একই সময়ে কয়লা, ক্লিংকারের মতো বিভিন্ন মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় খানিকটা হ্রাস পেয়েছে।
আমদানি-ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদাও বেড়ে গেছে, যা প্রতিফলিত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতনে। এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসের শেষে এসে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে গেছে।
আর ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসের শেষে এসে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, জুলাই মাসের শেষে যেখানে প্রতি ডলারের দর ছিল ৬৯ টাকা ৪১ পয়সা, তা ডিসেম্বর মাসের শেষে এসে হয়েছে ৭০ টাকা ৭৫ পয়সা। আর জানুয়ারি মাসের শেষে তা আরও বেড়ে হয়েছে ৭১ টাকা ১৫ পয়সা।
এমসিসিআই বলছে, ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণ হলো পণ্য আমদানি-ব্যয় মেটাতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা তথা ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শ্লথ হয়ে পড়া।
রপ্তানি-আয়ের তুলনায় আমদানি-ব্যয় বেশি হওয়ায় বরাবরই বাংলাদেশের পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি দেখা দেয়। এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেনের ভারসাম্য সারণি অনুসারে অবশ্য অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) বাণিজ্য-ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, পণ্যবাণিজ্যে এই সময়কালে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৯৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
তবে রপ্তানি-আয়ের ছয় মাসের যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে এক হাজার ২৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
সুতরাং, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

সিএসইতেও দরপতন, কমেছে অধিকাংশ শেয়ারের দাম

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আজ রোববার লেনদেনের শুরুতে সাধারণ সূচক কিছুটা বাড়লেও এর পর থেকে কমতে শুরু করে, যা দিনভর অব্যাহত ছিল। তবে সিএসইতে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।
আজ সিএসইতে দিনের লেনদেন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ১২৮৯.৬০ পয়েন্ট কমে ১৭৪১৩.৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছ। মোট ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে তিনটির, কমেছে ১৮৮টির শেয়ারের দাম। লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৮ টাকার মতো।
গত বৃহস্পতিবার সিএসইতে লেনদেন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ২২০.০৬ পয়েন্ট কমে ১২,১১০.৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি টাকার।

স্বৈরশক্তি পরাজিত হয়েছে

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে কায়রো ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন মিসরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষ নেমেছিল রাজপথে। ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামে অবশেষে এসেছে সাফল্য। স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। গণতন্ত্রে উত্তরণের এ আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দল ও গোষ্ঠীগুলো।
মুসলিম ব্রাদারহুডের এসাম এরিয়ান বলেন, ‘স্রষ্টাকে ধন্যবাদ। মিসরের সব মানুষ একটি দাবিতে মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছিল। গণশক্তির কাছে তাই স্বৈরশক্তির পরাজয় হয়েছে।’
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর চেঞ্জের প্রধান মোহাম্মদ এলবারাদি বলেন, ‘আমরা কয়েক দশক ধরে এমন একটি দিনের প্রত্যাশা করেছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সবাই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছি।’
ঘাদ পার্টির প্রধান আইমান নূর বলেন, ‘আজ মিসরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না আর। জাতির পুনর্জন্ম হলো আজ। আমরা পেয়েছি এক নতুন মিসর।’
কেফায়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ইশাক বলেন, ‘আজ মিসর তো বটেই, বিশ্ব ইতিহাসের এক শ্রেষ্ঠ দিন। কোনো নেতৃত্ব ছাড়াই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মুখে আরব বিশ্বের মধ্যমণি মিসরে বিজয় এসেছে। স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে।’
লিবারেল ওয়াফ্ড পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ আবাজা বলেন, ‘বারবার সুযোগ হাত ফসকে যাচ্ছিল। স্রষ্টাকে ধন্যবাদ, অবশেষে সুরাহা হয়েছে।’

মিসরে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান বিশ্বনেতাদের

মিসরে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের পর এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে অন্য বিশ্বনেতারাও একই আহ্বান জানান। গণ-অভ্যুত্থানে মোবারকের পদত্যাগের পর মিসরের ঊর্ধ্বতন সামরিক পর্ষদ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিসহ বিশ্বনেতারা মিসরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মোবারক পদত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর বিবৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মিসরের জনগণ জেগে উঠেছে। তারা আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।’ ওবামা বলেন, ‘মিসরের জনগণ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রকৃত গণতন্ত্র ছাড়া কোনো কিছুতেই তাদের সুদিন আসবে না।’
ইতালি, তুরস্ক, ভারত, মালদ্বীপ, জাপান, সুদান, ডেনমার্ক গ্রিস, ইয়েমেন ও বাহরাইন মোবারকের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে মিসরের নয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়।

গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের

মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান থান শয়ে গতকাল শনিবার গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর এক দিন আগে দেশটির পার্লামেন্ট মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে। মিয়ানমারের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রিন অং মিন্ডের দেওয়া এক ভাষণে থান শয়ের ওই আহ্বানের কথা জানানো হয়।
ভাষণে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখনো শৈশবের পর্যায়ে আছে। কাজেই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের সব নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ গত সপ্তাহে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ও থান শয়ের জোটের প্রধান থিন সিনের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিধানসভা নির্বাচনে ১০০ নতুন মুখ আনছে বামফ্রন্ট

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের শাসক জোট এবার অন্তত ১০০ নতুন মুখ আনছে। নির্বাচনী লড়াই থেকে বাদ পড়ছেন অনেক মন্ত্রী। দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা বিধায়কদের বাদ দিয়েই এবার প্রার্থী বাছাই করছে বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার কলকাতা পৌরসভার সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে রাজ্যের আবাসনমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা গৌতম দেব বলেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বামফ্রন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবে। মে মাসে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা।

মোবারকের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ সুইস সরকারের

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। জনরোষের মুখে মোবারক গত শুক্রবার ক্ষমতা ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যে সুইস সরকার এ ব্যবস্থা নিল।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিসরের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঊর্ধ্বতন সহযোগীদের সব ধরনের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেল কাউন্সিল (সরকার)। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। মিসরের রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ যেন আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
সুইস সংবাদ সংস্থা এটিএস জানিয়েছে, ওই নির্দেশের ফলে সুইস ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা নগদ অর্থ ছাড়াও সে দেশে বিনিয়োগ করা কোনো সম্পদ মোবারক এখন সরাতে পারবেন না। আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ধরনের সম্পদই ওই নির্দেশের আওতায় পড়বে।তবে সুইস ব্যাংক বা সে দেশের অন্য কোথাও মোবারকের নগদ অর্থ বা সম্পদ আছে কি না এবং থাকলেও তার পরিমাণ কত, সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি।

নেপালে তিন মন্ত্রী নিয়োগ করেছেন ঝালানাথ

নেপালের প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানাল তাঁর মন্ত্রিসভায় নতুন তিন মন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। তবে তাঁদের মন্ত্রণালয়ের নাম ঘোষণা করা হয়নি।
নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রীরা হলেন ভারত মোহন অধিকারী, বিষ্ণু পৌদিয়াল ও গঙ্গালাল তুলাধর। তাঁরা খানালের সিপিএন-ইউএমএল পার্টির সদস্য। তুলাধরকে সরকারের মুখপাত্র করা হবে।

৩০ বছরের ক্ষমতা ১৮ দিনে পতন

এক মাসের মধ্যেই আরব বিশ্বের দুজন একনায়কের পতন হলো। প্রথমজন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলী। দীর্ঘ ২৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গণবিক্ষোভের মুখে গত ১৪ জানুয়ারি দেশ ছেড়ে বাধ্য হন তিনি। এরপর গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। আরব বিশ্বের দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একনায়কদের মধ্যে অন্যতম মোবারক দীর্ঘ ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বেকারত্বে অতিষ্ঠ জনগণের টানা ১৮ দিনের বিক্ষোভে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
বিশ্লেষকেরা অনেক দিন ধরেই বলছিলেন, বাইরে থেকে টেকসই মনে হলেও মোবারক ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। জনমনে তাঁর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অবনতিশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সবকিছু পাল্টে যায়। বিশেষ করে গত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ বেকায়দায় ফেলে মোবারককে। জনমনে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ জানুয়ারি কায়রোতে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে চলতে থাকা বিক্ষোভকালে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন এক বিক্ষোভকারী। এই আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ে মিসরের জনমনে।

মিসরে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান বিশ্বনেতাদের

মিসরে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের পর এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে অন্য বিশ্বনেতারাও একই আহ্বান জানান। গণ-অভ্যুত্থানে মোবারকের পদত্যাগের পর মিসরের ঊর্ধ্বতন সামরিক পর্ষদ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিসহ বিশ্বনেতারা মিসরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মোবারক পদত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর বিবৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মিসরের জনগণ জেগে উঠেছে। তারা আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।’ ওবামা বলেন, ‘মিসরের জনগণ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রকৃত গণতন্ত্র ছাড়া কোনো কিছুতেই তাদের সুদিন আসবে না।’
ইতালি, তুরস্ক, ভারত, মালদ্বীপ, জাপান, সুদান, ডেনমার্ক গ্রিস, ইয়েমেন ও বাহরাইন মোবারকের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে মিসরের নয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়।

সহিংসতা উলফার আদর্শের পরিপন্থী

ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া বলেছেন, তাঁরা শান্তির পক্ষে। সহিংসতা তাঁদের আদর্শের পরিপন্থী। গতকাল শনিবার আসামের একদল ছাত্রের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।রাজখোয়া বলেন, তাঁরা কিছু সহিংস কর্মকাণ্ড করেছেন, এ কথা সত্য; কিন্তু এর জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। ১৯৭৯ সালে উলফা সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করার পর এই প্রথম দলটির কোনো শীর্ষ নেতা সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বললেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইলেন।রাজখোয়া বলেন, ভারত সরকারের বর্তমান রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো আসামের জন্য হুমকিস্বরূপ। সরকারের রাজনৈতিক নীতির কারণেই আসামের জনগণ উলফা গড়ে তোলে এবং ৩১ বছর ধরে গেরিলা তৎপরতা চালায়।সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া শান্তিপ্রক্রিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, অতীতে কোনো ভালো পরিবেশ ছিল না। তাই শান্তি আলোচনাও হয়নি। তখন সরকার ও উলফা দুই পক্ষই আলোচনা শুরুর জন্য পূর্বশর্ত আরোপ করত।রাজখোয়া বলেন, আসামের সুশীল সমাজের অনুরোধে এবার নিঃশর্তভাবে তাঁরা আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের একটি সম্মানজনক সমাধানের জন্য এবার তাঁরা অর্থপূর্ণ আলোচনার প্রত্যাশা করছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা খুবই আন্তরিক।

নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনের রাস্তায় আনন্দের বন্যা

নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনের রাস্তায় প্রবাসী মিসরীয়রা হইহুল্লোড় করে হোসনি মোবারকের পতনকে উদ্যাপন করছেন। সব জায়গায় একই স্লোগান, ‘বিদায়, বিদায় মোবারক’। আরব ও মুসলিমবিশ্বও তাঁর পতনকে উদ্যাপন করছে। তবে সৌদি আরব, লিবিয়া, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের সরকার ও জনগণ নিশ্চুপ।
গত শুক্রবার মোবারকের বিদায়ের পরপরই লন্ডনে মিসরীয় দূতাবাসের সামনে জড়ো হন কয়েক শ প্রবাসী মিসরীয়। তাঁরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচেগেয়ে ৩০ বছরের জেঁকে বসা স্বৈরশাসনের পতন উদ্যাপন করেন। এঁদেরই একজন বারবার মোহাম্মেদ জায়েদ। আনন্দে আত্মহারা এই তরুণ বলছিলেন, ‘কুকুরটি চলে গেছে। আমাদের মর্যাদা ফিরে পেয়েছি।’
নিউইয়র্কে পতাকা আর নানা লেখাসংবলিত ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মিসরীয়রা। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মিসরের তরুণদের অভিনন্দন। তোমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ ৩২ বছরের হুদা এলিমাম বলেন, ‘রক্তপাত ছাড়াই অবশেষে আমরা মুক্ত।’ তিন সন্তান নিয়ে এসেছিলেন এই নারী। তিনি বলছিলেন, ‘মিসরে ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা গ্রহণ করবে—এমন আশঙ্কা নেই।’
বার্লিনের ব্রান্ডেনবার্গ গেটে প্রায় ৩০০ মিসরীয় আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। ২১ বছর আগে বার্লিন দেয়াল ভাঙার পর এমন উৎসব হয়েছিল সেখানে। অনেকে স্লোগান দিচ্ছিল, মিসর দীর্ঘজীবী হোক।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গতকাল শনিবার আয়োজন করা হয় সমাবেশের। প্রায় ২০০ মিসরীয় নেচেগেয়ে উদ্যাপন করেন মোবারকের পতন। অভিনন্দন জানান ইন্টারনেট প্রজন্মকে। যাঁদের কারণেই ১৮ দিনের আন্দোলন সফল হয়েছে। আনন্দ-কান্নায় নূর আলদিন তারাফ বলছিলেন, ‘এটা ইন্টারনেট প্রজন্মের সাফল্য। আমাদের প্রজন্মের সাফল্য।’ অশ্রু লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে এই প্রবাসী মিসরীয় বলে চলেন, ‘সবাই হাতে হাত রেখে আন্দোলন করেছেন। স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন। ফিরে পেয়েছেন তাঁদের মর্যাদা।’
মোবারকের দীর্ঘদিনের শাসনের পতন উদ্যাপন করলেও দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না অনেক মিসরীয়। লন্ডনে পড়াশোনা করতে আসা ৩২ বছরের সৈয়দ জালাল বলেন, ‘মোবারকের পতনে আমরা খুশি। কিন্তু একই সঙ্গে আবার শঙ্কিতও। আমরা আশা করছি, শেষ পর্যন্ত আমরা এমন একজন নেতা পাব, যিনি নিজের চেয়ে দেশের মানুষের সেবায় ব্রত হবেন।’
তবে ভবিষ্যৎ যা-ই হোক, মোবারকের পতনে বেশির ভাগ মিসরীয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরিরত আহমেদ আলী বলেন, ‘মিসরীয়রা নতুন অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত। ভবিষ্যতে যা-ই ঘটুক না কেন, এমনকি তা যদি কঠিন থেকে কঠিনতরও হয়, তবুও তা মোবারকের চেয়ে মঙ্গলময়।’
মোবারকবিরোধী আন্দোলনে মার্কিন সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মিসরীয়রা। তাঁরা অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আন্দোলনের সময় ভারসাম্য রক্ষা করে চলার চেষ্টা করেছেন। একদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে থাকা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র মোবারককে রক্ষার চেষ্টা করেছেন এ দুই নেতা।

প্রস্তুতি ম্যাচে বড়দের জয়

মাঠের উত্তেজনা শুরু হতে বাকি আর মাত্র কটা দিন। তবে কাল থেকে শুরু হয়ে গেছে ‘মহড়া’। বাংলাদেশ-কানাডা ম্যাচটি ছাড়াও আরও চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ হয়েছে গতকাল। গা গরমের ম্যাচগুলো প্রতিটি বিশ্বকাপেই কিছু বিস্ময় উপহার দেয়। কিন্তু কাল পাঁচটি ম্যাচেই প্রত্যাশামতো জিতেছে বড় দলগুলো। তবে নিউজিল্যান্ডকে ঘামিয়ে ছেড়েছে আয়ারল্যান্ড। জিতেছে তারা ৩২ রানে। মার্টিন গাপটিলের ১৩০ নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছিল ৩১১। অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডের ৭২ রানের ইনিংসে আইরিশরা অলআউট হওয়ার আগে করে ২৭৯ রান।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্ট ক্লাব মাঠে সেঞ্চুরি পাননি শ্রীলঙ্কার কেউ। স্বাগতিকেরা তবু তুলে ফেলে ৩৫১, ফিফটিই যে ছিল চারটি! এঁদের তিনজন—সামারাবীরা, কাপুগেদারা ও চামারা সিলভার আবার লড়াই হচ্ছে সেরা একাদশের মিডল-অর্ডারের দুটি জায়গা নিয়ে। ডাচদের সেরা ক্রিকেটার রায়ান টেন ডয়েশকেট উইকেট পাননি, রান করেছেন ১। টম ডি গ্রুথের ৭৬ রানে দুই শ পেরোয় তারা।
প্রেমাদাসায় ৬৫ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিল কেনিয়া। দলে ফেরার পর থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রামনরেশ সারওয়ানের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে (১২৫ বলে ১২৩) তবু আড়াই শ পেরোয় তারা। একপর্যায়ে ১ উইকেটে ৯৮ রান তুলে ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ভালো করেছিল কেনিয়া। তবে দ্বিতীয় স্পেলে কেমার রোচ ৩ উইকেট নিলে পথ হারায় তারা, লেজ ছেঁটে দেন আন্দ্রে রাসেল।
জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই ৩ উইকেট পেয়েছেন ইমরান তাহির, ৩ উইকেট দারুণ ফর্মে থাকা মরনে মরকেলেরও। ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৫২ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শুরুতে ঝড় তোলেন হাশিম আমলা (৩৩ বলে ৪৫), ম্যাচ শেষ হয় ক্যালিস-ঝড়ে (৩৯ বলে ৪৯*)। ওয়েবসাইট।
স ং ক্ষি প্ত স্কো র
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩৫১/৫ (দিলশান ৭৮, সামারাবীরা ৬০, সিলভা ৫৪; বুখারি ২/৫২, রাজা ১/৪৪, সিলার ১/৪৪)। হল্যান্ড: ৪৭.৩ ওভারে ১৯৫ (গ্রুথ ৭৬, জুইডারেন্ট ৩৮, বুরমান ২৫; ফার্নান্ডো ৪/৪৩, হেরাথ ২/১১, পেরেরা ২/১৬, মালিঙ্গা ১/১২, মেন্ডিস ১/৪০)। ফল: শ্রীলঙ্কা ১৫৬ রানে জয়ী।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৯ ওভারে ২৫৩/৮ (সারওয়ান ১২৩, ডোয়াইন ব্রাভো ৫৪, বারাথ ১৭; ওডোয়ো ৩/৩৪, টিকোলো ২/৩২, ওনগন্ডো ১/২৬, ওবান্ডা ১/৪০)। কেনিয়া: ৪৫.৩ ওভারে ১৯২ (কলিন্স ওবুইয়া ৬৮, ওয়াটার্স ৪৩, কামান্ডে ১৯*; রাসেল ৪/৪৩, রোচ ৩/২৩, মিলার ১/৩৬, ব্রাভো ১/৪০, স্যামি ১/৪৯)। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬১ রানে জয়ী।
জিম্বাবুয়ে: ৪১.৫ ওভারে ১৫২ (টেলর ৪০, উইলিয়ামস ৩৫, কভেন্ট্রি ২১; মরকেল ৩/১৬, তাহির ৩/৩৫, পিটারসেন ২/২১, বোথা ১/১৮)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৩.৩ ওভারে ১৫৩/২ (ক্যালিস ৪৯*, আমলা ৪৫, স্মিথ ৪১; প্রাইস ১/১৯, ল্যাম্ব ১/৪৫)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে জয়ী।
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩১১/৬ (গাপটিল ১৩০, ফ্রাঙ্কলিন ৪৯, রাইডার ৪৮; জনস্টোন ২/৬২, স্টিরলিং ১/৪১, ও’ব্রেইন ১/৪৩, র্যাাঙ্কিং ১/৫৫, বোথা ১/৬৩)। আয়ারল্যান্ড: ৪৮.২ ওভারে ২৭৯ (পোর্টারফিল্ড ৭২, জয়েস ৪১, জনস্টোন ৩৩*; ভেট্টোরি ৪/৪২, মিলস ৩/৫২, বেনেট ২/৬১, রাইডার ১/২)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৩২ রানে জয়ী।

প্রস্তুত হচ্ছেন ব্রেট লি

মাস খানেক আগেও তিনি ছিলেন না দৃশ্যপটে। অস্ট্রেলিয়া দলেও ছিলেন না প্রায় ১৫ মাস। এই বিশ্বকাপে ব্রেট লিকে দেখা যাবে, এর পক্ষে বাজি ধরার লোকও ছিল সামান্যই। তবে একজনের মনে দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, ছিপছিপে গড়নের এই ফাস্ট বোলার আবার আগুন ঝরাবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। তিনি ব্রেট লি নিজেই!‘আমার ধারণা আমিই একমাত্র লোক, যে ভাবতে পেরেছিল আমি বিশ্বকাপ খেলব’—সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন লি। লির স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। বিশ্বকাপ খেলতে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তিনি এখন ভারতে। এই যে সবার ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে আবার ফিরেছেন, এর পুরো কৃতিত্ব লি দিচ্ছেন চিকিৎসককে। টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভারতে পা রেখেছে দিন দুই আগেই। তবে মাঠের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু আজ থেকে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে আজই যে তাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ।মাস খানেক আগেও যাঁর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটা ছিল সংশয়ের আবর্তে, সেই লির কাঁধেই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং নেতৃত্ব। ভারতে পা দিয়ে অধিনায়ক পন্টিং বলেই দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয় নির্ভর করছে বোলারদের ওপর। পুরোনো যোদ্ধা লির ওপরও অধিনায়কের দারুণ আস্থা। স্ট্রাইক বোলার হিসেবে লিই তাঁর বোলিং আক্রমণের নেতা।লিও প্রস্তুত, ‘এটা কঠিন অবশ্যই। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। দলে আমাদের সবারই নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। আমার ভূমিকা আক্রমণাত্মক বোলিং করা। আমি বোলিং আক্রমণে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে এবং নেতা হতে চাই।’ইনজুরিজর্জর ক্যারিয়ারে একটা মাত্র বিশ্বকাপেই খেলতে পেরেছেন লি। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকার সেই বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতাতে ১০ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। এবারও সে রকম কিছুই করার প্রত্যাশা তাঁর।লির প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপ উপমহাদেশে হচ্ছে বলে। স্পিনবান্ধব হলেও এই তিন দেশে ২১ ওয়ানডে খেলে লি নিয়েছেন ২৪ উইকেট। ভারতে অনুষ্ঠিত ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতেও দারুণ সফল ছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসকে শিরোপা জেতাতে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৩.৭৬! সেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে লি রোমাঞ্চিত, ‘আমি ভারতে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। টেস্ট, ওয়ানডে, চ্যাম্পিয়নস লিগ, আইপিএল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলাটা আমাকে আন্দোলিত করে। ভারতের মতো দেশে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরাটা হবে দারুণ সম্মানের।

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শোয়েবরা

স্কুলের ছেলেমেয়েরা কোনো মন্ত্রী বা সাংসদকে অভ্যর্থনা জানাতে সারি বেঁধে যেভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, দৃশ্যটা তেমনই। কাল পড়ন্ত দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা মিলল সেই সারির। শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের বদলে এখানে ‘অভ্যর্থনা’ জানাতে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ!এমনিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে গোটা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম চত্বর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। তার ওপর মাঠে পাকিস্তান দলের অনুশীলন। বাড়তি নিরাপত্তা তো থাকবেই। এর সঙ্গে যুক্ত হলো নিরাপত্তা মহড়াও। কেমন জানি যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব! পুলিশ, র্যাাব, ডগ স্কোয়াড, সেনা কমান্ডো—কারা নেই সেখানে। পরিবেশটা একসময় ‘ভীতিকর’ হয়ে উঠল। পাকিস্তান দল যখন মাঠে ফিটনেস অনুশীলন করছিল, হঠাৎ বিকট আওয়াজে ফাটল এক বোমা। যারা জানত না, তারা চমকে গেল। যারা জানত, এটা আসলে মহড়ার অংশ, প্রথম প্রথম হকচকিয়ে গেল তারাও।পাকিস্তান দলকেও আগেই জানানো হয়েছিল। তার পরও বোমার শব্দে একটু যেন চমকেই গেলেন শহীদ আফ্রিদিরা। ছোটাছুটি শুরু হলো নিরাপত্তাকর্মীদের। সবার হাতে উঁচিয়ে ধরা অস্ত্র। কমান্ডোর সেনা সদস্যরা তাঁদের করণীয় সারলেন। কেউ একজন রসিকতা করলেন, ‘এলাকার সন্ত্রাসীরা এই শব্দ শুনে নির্ঘাত পালাবে।’এই সময় স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে চক্কর দিল হেলিকপ্টার। পাশের অনুশীলন মাঠে অবতরণ করে জরুরি অবস্থায় কীভাবে খেলোয়াড়দের তুলে নেওয়া হবে, সেটির মহড়াও হলো।উপস্থিত অনেকে বললেন, এই মহড়া আগে বা পরে করা যেত। বিদেশি একটা দল অনুশীলন করার সময়টা আদর্শ সময় নয়। খোদ বিসিবির এক কর্মকর্তারও একই অভিমত ছিল। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এমন কিছু করা ঠিক হয়নি যাতে আতঙ্ক ছড়ায়।বিশ্বকাপের মতো আয়োজনে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। তারই অংশ হিসেবে চার-পাঁচ শ নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি। তার পরও একটু ঢিলেঢালা। ব্যাগ-ট্যাগ তল্লাশির ব্যবস্থা নেই। একজন জানালেন, এটা হয়তো পরে হবে।নিরাপত্তার কথা ছেড়ে চোখ ফেরানো যাক পাকিস্তানের অনুশীলনে। ঘণ্টা তিনেক নিবিড় অনুশীলন করল আফ্রিদির দল। নেট প্র্যাকটিসের এক ফাঁকে শোয়েব আখতার টুকটাক কথা বললেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। কৌতূহল নিয়ে নিজেই জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তামিম কাঁহা হ্যায়?’ মানে তামিম ইকবাল কোথায়? তামিম চট্টগ্রামে অনুশীলন ম্যাচ খেলছেন কানাডার বিপক্ষে, জানানো হলো তাঁকে।আগের মতো এখন ১০০ মাইল বেগে বল করতে পারবেন? জানতে চাইলে খানিক রসিকতার সুর গতিতারকার মুখে, ‘৩৬ বছর বয়সেও!’ বোঝালেন এখন বয়স হয়ে গেছে, আগের মতো কি আর পারেন! অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কথা বলতে চাইলেও শোয়েবকে হতাশ করেছে পুলিশ। তাঁকে টেনে নিয়ে দলের সঙ্গে মাঠের দিকে পাঠিয়ে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

বার্সাকে রুখে দিল স্পোর্টিং গিজন

মাঠে নামলেই জয় পাওয়াটা যেন অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল বার্সেলোনার। স্প্যানিশ লিগে টানা ১৬ ম্যাচ জিতে নতুন এক রেকর্ডই গড়ে ফেলেছিল কাতালানরা। কিন্তু গতকাল এই উড়ন্ত বার্সাকে মাটিতে নামাল স্পোর্টিং গিজন। নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে বার্সার এই জয়যাত্রা রুখে দিল স্প্যানিশ লিগের নিচের সারির এই দলটি।
খুবই মজার ব্যাপার হলো, খেলার ৮২ ভাগ সময় বল ছিল বার্সেলোনার দখলে। বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে জোরাল আক্রমণও চালিয়েছেন মেসি, জাভি, ভিয়া, ইনিয়েস্তারা। কিন্তু গিজন ডিফেন্ডাররা প্রতিবারই অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়েছেন সেসব গোল-প্রচেষ্টা। উল্টো ১৬ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বার্সেলোনার জালেই বল জড়িয়ে দিয়েছেন গিজন স্ট্রাইকার ডেভিড ব্যারেল। এরপর এই গোল শোধ করার জন্য ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাবটিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮০ মিনিট পর্যন্ত। মেসির পাস থেকে সমতাসূচক গোলটি করে বার্সা শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন ডেভিড ভিয়া।ম্যাচ শেষে এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত ড্র করতে পেরেছি, কিন্তু আমাদের পুরো পয়েন্টই পাওয়া উচিত ছিল। বার্সেলোনা এই ফলাফলটা নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট হতে পারবে না, কারণ আমরা সব সময় জিততে চাই। কিন্তু এটা ঠিক যে আজ অনেক ক্ষেত্রেই স্পোর্টিং অনেক এগিয়ে ছিল আমাদের থেকে।’
গতকালের এই অঘটনটার ফলে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কিছুটা কমে আসল বার্সেলানার। রিয়াল আজ এসপানিওলের বিপক্ষে জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান নেমে আসবে পাঁচে।

ভালোভাবেই ফিরলেন ক্যালিস

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের স্বপ্ন বারবারই আটকে গেছে দুর্ভাগ্যের ঘেরাটোপে। ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে প্রোটিয়াসরা তিনবার গেছে সেমিফাইনাল পর্যন্ত। এর মধ্যে দুইবারই খুব দুঃখজনকভাবে তারা ছিটকে পড়েছে শেষ চারের লড়াই থেকে। এবার নিশ্চিতভাবেই শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকবে প্রোটিয়াসরা। আর সাম্প্রতিক সময়ের ভালো পারফরমেন্সও তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বড় কিছু করার। গতকাল সেই আশাটা আরও জোরদার করেছেন এ সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। ইনজুরির ফাঁড়া কাটিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেই খেলেছেন ৩৯ বলে ৪৯ রানের হার না-মানা এক ইনিংস। ক্যালিসের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনটা নিশ্চিতভাবেই অনেক প্রভাব ফেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার সামগ্রিক পারফরমেন্সে।ক্যালিসকে নিয়ে আগে থেকেই খুব সতর্ক অবস্থায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক স্মিথও কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে ক্যালিসকে নিয়ে তাঁরা কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না। সময় দেবেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার। কিন্তু প্রায় ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটিয়ে গতকাল তিনি যেভাবে ব্যাট চালালেন, তাতে অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকেরা। অধিনায়ক স্মিথ বলেছেন, ‘ক্যালিস খুবই চমত্কার একটা ইনিংস খেলেছেন, আর এটা তাঁর আত্মবিশ্বাসটাও অনেক বাড়িয়ে দেবে। এখন আমরা তাঁর বোলিংয়ের দিকে বেশি নজর দিতে পারব।’
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আরও একটা বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লেগস্পিনার ইমরান তাহির। গতকাল তিনি মাত্র ৩৫ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। উপমহাদেশের মাটিতে ইমরানের এই বোলিং প্রতিভা নিশ্চিতভাবেই অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ইংল্যান্ড দল ঢাকায়

সবার আগে কানাডা। দুই দিন পর পাকিস্তান। আজ রোববার তৃতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশে এসেছে ইংল্যান্ড। বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে পড়েছে ইংল্যান্ড। ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের নাগপুরে হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মূল লড়াই শুরু হবে স্ট্রাউসদের। তবে এর আগে বাংলাদেশে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে ইংল্যান্ড। ১৬ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লায় কানাডার বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ। দুই দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি।
সুবিধাজনক অবস্থায় নেই ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের সুখস্মৃতি ম্লান করে দিয়েছে ওয়ানডে সিরিজে ৬-১ ব্যবধানে হার। তবে পারফরম্যান্সের দুর্বলতায় চেয়েও প্রকট ক্রিকেটারদের ইনজুরি-সমস্যা। ইনজুরিতে আছেন পল কলিংউড, টিম ব্রেসনান, আজমল শেহজাদ ও গ্রায়েম সোয়ান। এডউইন মরগানের বিশ্বকাপ তো শেষই হয়ে গেছে। দলে আনা হয়েছে অনিয়মিত ক্রিকেটার বোপারাকে।
ইংল্যান্ড দল: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (অধিনায়ক), জেমস অ্যান্ডারসন, ইয়ান বেল, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড, পল কলিংউড, রাভি বোপারা, কেভিন পিটারসেন, ম্যাট প্রিয়র, আজমল শেহজাদ, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস ট্রেডওয়েল, জোনাথন ট্রট, লুক রাইট ও মাইকেল ইয়ার্ডি।