Monday, May 5, 2014

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বোধোদয়!

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি কিছুদিন আগেও গৃহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। কিন্তু সম্প্রতি গৃহকর্মীদের এক সমাবেশে গিয়ে তাঁর বোধোদয় হয়েছে। তিনি এখন মনে করেন, গৃহকর্মীদেরও নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকা উচিত। আজ সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসাক্ষরতা অভিযান এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনের এক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমার বাসায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে কাজ করে একটু কিছু হলেই তাকে ঠাস করে চড় মারতাম। একটু কিছু হলে আমার ওয়াইফও মারত, গালি দিত। দুই মাস আগে গৃহকর্মীদের এক সমাবেশে যাই। এক গৃহকর্মী আমাকে বলে, "বাসায় টেলিভিশন, ফ্রিজেরও নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। কিন্তু আমি কই ঘুমাব সেই জায়গা নাই। একেক দিন একেক জায়গায় ঘুমাই।" সেই গৃহকর্মীর কথা শুনে মনে হলো, বাসায় যে কাজ করে তার কর্মঘণ্টা থাকবে, সাপ্তাহিক ছুটি লাগবে, আমি তো তা চিন্তা করি নাই!'
রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পলিসি ডায়ালগে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমার এ কথা আপনারা অন্যভাবে নেবেন না। আমি এত বছর ধরে রাজনীতি করি। সমাবেশে কত কথা বলি। ওয়ার্ক পেপার বানাই। গৃহকর্মীদের কথা কখনোই বলি নাই। আসলে সবার ঘর থেকেই শুরু করতে হবে।' বিশ্বব্যাংকের 'দি ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৩: জবস' প্রতিবেদনের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দাতা সংস্থা, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিনিধিসহ অংশীদারদের সঙ্গে এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গৃহকর্মীদের জন্য সুরক্ষাবিষয়ক একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ নীতিমালার আলোকে একটি আইন করা হবে। কৃষিশ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পোশাকশিল্প কারখানা তৈরি, কর্মসংস্থান, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো কোনো সরকারের আমলেই সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়নি বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারা স্থিতিশীল ছিল না। ১৯৯০-এর পরে স্থিতিশীলতা আসে। দক্ষতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় যে কাউন্সিল তার সভাও নিয়মিত হয় না। এর ফলে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক ভালো নীতি আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে নীতির বাস্তবায়ন হয় না। পোশাকশিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিভিন্ন কারখানায় যাই। নারীরা কেমনে, কী পরিবেশে কাজ করে তা দেখার জন্য নারীদের মাঝে বসি। দীর্ঘক্ষণ বসার পর আমি ঘেমে যাই। তখন মালিককে বলি। একইভাবে নারীদের বাথরুমে যাই। নোংরা বাথরুম দেখলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার কথা বলি।' ডায়ালগে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে সাংসদ শিরীন আখতার, পোশাকশিল্প কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খুন দেখছি, খুনিকে দেখছি না by সোহরাব হাসান

গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বরিশালে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি নারায়ণগঞ্জের ঠিক বিপরীত দৃশ্য। সেখানেও রাজনৈতিক বিরোধ আছে, ছিল। কিন্তু সেই বিরোধ কখনো সংঘাতে রূপ নেয়নি। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুই দলের মধ্যে সহাবস্থানের নীতি পরিলক্ষিত হয়। কেউ কারও কর্মসূচিতে বাধা দেয় না। কেউ কারও অফিসে গিয়ে হামলা চালায় না।

জাগো বাহে কোনঠে নারায়ণগঞ্জবাসী by সোহরাব হাসান

গুম, খুন ও গুজবের শহর নারায়ণগঞ্জ। কেউ খুন হলে তার লাশ নদীতে ভেসে ওঠে। কেউ গুম হলে জীবিত বা মৃত উদ্ধার হয়। কিন্তু গুজব পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে। অনাস্থা বাড়ায়। নারায়ণগঞ্জজুড়ে এখন নানা গুজব ভেসে বেড়াচ্ছে। শুক্রবার, ২ মে আতঙ্কের শহর নারায়ণগঞ্জে গিয়ে আরও একটি আতঙ্কের খবর পাই। সাত খুনের পর বৃহস্পতিবার রাতে আরও একজনকে অপহরণ করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রেসক্লাবে যেসব সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা বললেন, ওসব গুজব। দেখবেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম আজ রাতের মধ্যে উদ্ধার হয়ে যাবেন।

তাজউদ্দীনের প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য কেন? by মইনুল ইসলাম

১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণ-উৎসবের সূচনা করে থাকেন, এবারও করেছেন। কিন্তু ঢাকার বনানী কবরস্থানে শায়িত জাতীয় চার নেতার মধ্যে তিনজনের (সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী) সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের তাগিদ বোধ করেননি, এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-নেত্রী। একইভাবে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের প্রতিবছরের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দায়িত্বটাও বর্তাচ্ছে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতার ওপর, প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতো এবারও মুজিবনগরে অনুপস্থিত।

গোষ্ঠীগত বিভাজন বাড়ছে কেন by মুহাম্মদ আমির রানা

পাকিস্তানে গোত্রীয় বা গোষ্ঠীগত বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে এবং প্রবল হচ্ছে। এটা শুধু মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন ঘটাচ্ছে না, দেশটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক পটভূমিও এর ফলে বদলে যাচ্ছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক ছাড়াও এই ক্রমবর্ধমান বিভাজনের কারণে পাকিস্তানে চরমপন্থী প্রবণতা সহিংস রূপ ধারণ করেছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক কালে গোত্রীয় ও মতবাদভিত্তিক সহিংসতা অনেক বেড়ে গেছে। এর একটা বড় কারণ নানা উপদলীয় গোষ্ঠীর উত্থান এবং তাদের ক্ষমতায়ন। এই গোষ্ঠীগুলো শুধু দেশটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক ধরনটাকেই বদলে দিচ্ছে না, তারা জাতীয়তাবাদী ও আবহমান ভারতবিরোধী মনোভাবকে ধর্মীয় ও গোত্রীয় মোড়কে মুড়ে দিচ্ছে। প্রাত্যহিক জীবনে গোত্রীয় বিভাজন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ধর্মভিত্তিক জীবনযাপনও বাড়ছে। নানা গোত্র ও উপদলীয় গোষ্ঠী পৃথক আবাসন ও জনপদ প্রতিষ্ঠার জন্য উসকানি দিচ্ছে।

বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত @প্রথম আলো

আতঙ্কের শহরে কান্নার রোল
একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহরণের তিন দিন পর বুধবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন শহরে স্বজন-সতীর্থদের কান্নার রোল পড়ে যায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে পাঠক জে হোসেইনের মন্তব্য: বাংলাদেশের প্রশাসন এই কান্নার আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছে? প্লিজ, কিছু করেন।
সোলায়মান: পুলিশ প্রশাসন সচল হওয়ার পরও এতগুলো মানুষকে কীভাবে শীতলক্ষ্যায় নিয়ে ডোবানো গেল? তাহলে খুনিরা প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে—এ সন্দেহ করলে কি অমূলক হবে?
মো. মনিরুল হাসান: চারদিকে শকুন, হায়েনার জয়জয়কার; সাধারণ মানুষের কলিজা ঠুকরে খাচ্ছে। আমরা কি এই আতঙ্ক রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য?
মো. জহিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের উত্তর কি সরকার জানে না?
রাজু: বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত। আল্লাহ, আপনি এই জালেমদের হাত থেকে আমাদের ও দেশকে রক্ষা করেন।
মাহফুজা বুলবুল: 'সব লাশের হাত-পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা, পেট চেরা। মনে পড়ছে কিশোর ত্বকীকে। তাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ত্বকীর মা-বাবা এখনো ত্বকীর হত্যাকারীদের হুমকি মাথায় নিয়ে বিচারের আশায় কাঁদছেন। ত্বকী হত্যার বিচার হলে আজকের এ নৃশংস ঘটনা নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেখতে হতো না।
'মাঝে মাঝে লোডশেডিং ভালো'
অতীত স্মরণ রাখতে মাঝে মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এর সমালোচনা করে পাঠক আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন: মানুষ ব্যর্থ হলে লজ্জিত হয়, উত্তীর্ণ হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর এসব মানুষ ও তাঁর দল মানুষের কষ্ট নিয়ে উপহাস করে।
মাহফুজা বুলবুল: অতীতকে স্মরণ করবে শুধু সাধারণ জনগণ, তা সে যে অতীতই হোক। আর ভাগ্যবান ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতার স্বাদ-গন্ধে বিভোর হয়ে থাকবেন।
সোহেল: মাঝে মাঝে লোডশেডিং হলে খাম্বা যুগের মোমবাতি মিছিলের কথা মনে পড়ে!
সুজন: সাধারণ পাবলিকের ঘরে এসে গরমের যন্ত্রণা উপভোগ করে এমন মন্তব্য করতে পারলে
আপনার কথা মেনে নেব।
এস দেওয়ান: ঠিকই বলেছেন। লোডশেডিং না হলে মানুষ বিদ্যুৎচালিত জিনিসগুলো বন্ধ করতে চায় না। লোডশেডিং হলে ওই সব জিনিস শীতল হওয়ার সুযোগ পায়।
মো. হাসনাইন ফয়সাল: লোডশেডিংটা শীতকালে দিলে হতো না!! গরমে মানুষকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি?
কামাল: জনগণের সেবা খোলা মন নিয়েই করতে হয়। আপনাদের হাতে চাবি আছে, তাই অসহনীয় গরমে লোডশেডিং দিয়ে অতীত মনে করাতে চান। তাহলে সাধারণ জনতাও দিন গুনতে থাকবে, কবে সময় আসবে সেই চিন্তায়। দেশকে আর দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, কাজ করেন দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে। সাধারণ জনতা কিছুই ভোলে না।
রুবাইয়াত হাসান: মাঝে মাঝে সরকার বদল হওয়া ভালো! তাহলে দুঃশাসনটা মানুষ ভুলে যাবে না!
ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি
ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে—এ ব্যাপারে এই কলামে আলোকপাত করেছেন যশবন্ত সিং। তিনি ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যাপারে আসিফুল হকের মন্তব্য: প্রতিবেশীকে বিপদে ফেলে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না। বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা হলে আপনারা নিজেদের দেশেরই বিপদ ডেকে আনবেন। এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আর আপনাদের সেনাবাহিনী দিয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন না।
এছলাম সরকার: সাফ কথার মানুষ যশবন্ত সিং কূটনীতির ঘোমটা পরতে পছন্দ করেন না। এখানে তিনি যে সরল বক্তব্যটি দিয়েছেন, তার গরলার্থ হলো, এই অঞ্চলে ভারতকে আঞ্চলিক পুলিশ হতে হবে।
তবে এই আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় বাধা যে চীনারা, এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পকেরা জানেন। ইসরায়েল-আমেরিকার অধীনে সন্ত্রাস দমনের প্রশিক্ষণের নামে আধুনিক অস্ত্র ক্রয় সত্ত্বেও এক চীনা ধাক্কায় যে সব ঝরঝর করে ভেঙে পড়বে।
প্রবীর পাল: সরকার পরিবর্তন হলেও বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন খুব ঝট করে হয় না। তাই অযথা ভয়ে জর্জরিত হওয়ার কিছু নেই।

বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত @প্রথম আলো

আতঙ্কের শহরে কান্নার রোল
একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহরণের তিন দিন পর বুধবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন শহরে স্বজন-সতীর্থদের কান্নার রোল পড়ে যায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে পাঠক জে হোসেইনের মন্তব্য: বাংলাদেশের প্রশাসন এই কান্নার আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছে? প্লিজ, কিছু করেন।
সোলায়মান: পুলিশ প্রশাসন সচল হওয়ার পরও এতগুলো মানুষকে কীভাবে শীতলক্ষ্যায় নিয়ে ডোবানো গেল? তাহলে খুনিরা প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে—এ সন্দেহ করলে কি অমূলক হবে?
মো. মনিরুল হাসান: চারদিকে শকুন, হায়েনার জয়জয়কার; সাধারণ মানুষের কলিজা ঠুকরে খাচ্ছে। আমরা কি এই আতঙ্ক রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য?
মো. জহিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের উত্তর কি সরকার জানে না?
রাজু: বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত। আল্লাহ, আপনি এই জালেমদের হাত থেকে আমাদের ও দেশকে রক্ষা করেন।
মাহফুজা বুলবুল: 'সব লাশের হাত-পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা, পেট চেরা। মনে পড়ছে কিশোর ত্বকীকে। তাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ত্বকীর মা-বাবা এখনো ত্বকীর হত্যাকারীদের হুমকি মাথায় নিয়ে বিচারের আশায় কাঁদছেন। ত্বকী হত্যার বিচার হলে আজকের এ নৃশংস ঘটনা নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেখতে হতো না।
'মাঝে মাঝে লোডশেডিং ভালো'
অতীত স্মরণ রাখতে মাঝে মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এর সমালোচনা করে পাঠক আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন: মানুষ ব্যর্থ হলে লজ্জিত হয়, উত্তীর্ণ হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর এসব মানুষ ও তাঁর দল মানুষের কষ্ট নিয়ে উপহাস করে।
মাহফুজা বুলবুল: অতীতকে স্মরণ করবে শুধু সাধারণ জনগণ, তা সে যে অতীতই হোক। আর ভাগ্যবান ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতার স্বাদ-গন্ধে বিভোর হয়ে থাকবেন।
সোহেল: মাঝে মাঝে লোডশেডিং হলে খাম্বা যুগের মোমবাতি মিছিলের কথা মনে পড়ে!
সুজন: সাধারণ পাবলিকের ঘরে এসে গরমের যন্ত্রণা উপভোগ করে এমন মন্তব্য করতে পারলে
আপনার কথা মেনে নেব।
এস দেওয়ান: ঠিকই বলেছেন। লোডশেডিং না হলে মানুষ বিদ্যুৎচালিত জিনিসগুলো বন্ধ করতে চায় না। লোডশেডিং হলে ওই সব জিনিস শীতল হওয়ার সুযোগ পায়।
মো. হাসনাইন ফয়সাল: লোডশেডিংটা শীতকালে দিলে হতো না!! গরমে মানুষকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি?
কামাল: জনগণের সেবা খোলা মন নিয়েই করতে হয়। আপনাদের হাতে চাবি আছে, তাই অসহনীয় গরমে লোডশেডিং দিয়ে অতীত মনে করাতে চান। তাহলে সাধারণ জনতাও দিন গুনতে থাকবে, কবে সময় আসবে সেই চিন্তায়। দেশকে আর দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, কাজ করেন দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে। সাধারণ জনতা কিছুই ভোলে না।
রুবাইয়াত হাসান: মাঝে মাঝে সরকার বদল হওয়া ভালো! তাহলে দুঃশাসনটা মানুষ ভুলে যাবে না!
ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি
ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে—এ ব্যাপারে এই কলামে আলোকপাত করেছেন যশবন্ত সিং। তিনি ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যাপারে আসিফুল হকের মন্তব্য: প্রতিবেশীকে বিপদে ফেলে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না। বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা হলে আপনারা নিজেদের দেশেরই বিপদ ডেকে আনবেন। এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আর আপনাদের সেনাবাহিনী দিয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন না।
এছলাম সরকার: সাফ কথার মানুষ যশবন্ত সিং কূটনীতির ঘোমটা পরতে পছন্দ করেন না। এখানে তিনি যে সরল বক্তব্যটি দিয়েছেন, তার গরলার্থ হলো, এই অঞ্চলে ভারতকে আঞ্চলিক পুলিশ হতে হবে।
তবে এই আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় বাধা যে চীনারা, এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পকেরা জানেন। ইসরায়েল-আমেরিকার অধীনে সন্ত্রাস দমনের প্রশিক্ষণের নামে আধুনিক অস্ত্র ক্রয় সত্ত্বেও এক চীনা ধাক্কায় যে সব ঝরঝর করে ভেঙে পড়বে।
প্রবীর পাল: সরকার পরিবর্তন হলেও বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন খুব ঝট করে হয় না। তাই অযথা ভয়ে জর্জরিত হওয়ার কিছু নেই।

জীবন গৌণ, ক্ষমতা আর লালসাই মুখ্য by শাহদীন মালিক

যার লজ্জা-শরমের বালাই নেই মোটেও, সে ন্যাংটা হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে নির্দ্বিধায়। আর তাকে ন্যাংটা বা উলঙ্গ বলে লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা করে লাভ হবে না। কারণ, সে তো বলবে আমি ন্যাংটা থাকব না কাপড় পরে থাকব, সেটা আমার ইচ্ছা—তাতে তোমার কী? যে ন্যাংটা হয়ে পথে নেমেছে, তাকে তো আর উলঙ্গ বলে লজ্জা দেওয়া যাবে না।

দু-একজনের কর্মকাণ্ডে র‌্যাবের ভাবমূর্তি ম্লান হবে না: আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, র‌্যাব বিভিন্ন সময় কাজ করে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা দু-একজনের কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই ম্লান হবে না। আজ সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সচিবালয়ে বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিল্পমন্ত্রী। র‌্যাবের সদস্যরা ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছে—নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে কথা বলেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, অনেকে অনেক রকমের অভিযোগ করছে। প্রত্যেক অভিযোগকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো র‌্যাব কর্মকর্তা বা অন্য কেউ জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা র‌্যাব বন্ধ করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'আমেরিকায় যেসব ঘটনা ঘটছে, তারা সেসব নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। এ দেশের বিষয় আমরা দেখব।' আমির হোসেন আমু বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ধার করা হবে। যথাযথ বিচারের মাধ্যমে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তত্পর রয়েছে। তদন্তকাজ চলছে। সঠিক তথ্য উদ্ধার হলেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে। শিল্পমন্ত্রী জানান, আজকের বৈঠকে অস্ত্র, মাদক, ইয়াবাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সীমান্তে যেসব ইয়াবা কারখানা রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মোদি সরকার গড়লে সঙ্গে থাকবেন মমতা!

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ইন্দিরা তিওয়ারি বলেছেন, মোদি সরকার গড়লে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর (মোদি) সঙ্গে থাকবে। কলকাতার একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপকালে ইন্দিরা এ কথা বলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ওই প্রার্থী বলেন, 'কেন্দ্রে মোদির সরকার হলে সেই সরকারে যাবেন মমতা, লিখে নিন।' বারানসি থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, তৃণমূলের প্রার্থী ইন্দিরা তিওয়ারি বারানসিতে ঘোষণা করেছেন, 'দেশের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আমাকে নয়, মমতাদির কথা মনে করে তৃণমূলে একটি ভোট দিন।'
খবরে জানা যায়, ইন্দিরা তিওয়ারি এখন বাঙালিপাড়া আর মুসলিম ভোটারদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদিও অধিকাংশ বাঙালিই এবার ঝুঁকে পড়েছেন মোদির দিকে। এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনটি। কারণ এই আসনে এবার লড়ছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। আরও লড়ছেন প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার আম আদমি পার্টির (্এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সব মিলিয়ে এই আসনের প্রার্থী ৪২ জন। এই তালিকায় ১০ নম্বরে আছেন ইন্দিরা তিওয়ারি। ইন্দিরা তিওয়ারি উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমলাপতি ত্রিপাঠির আত্মীয়। তিনি হিন্দু মহাসভার একজন সংগঠক। তিনি ভালো বাংলা জানেন। বারানসির বাঙালিপাড়ায় জন্ম তাঁর।

গুম-খুন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা @বাংলানিউজ

অবিলম্বে সারাদেশব্যাপী গুম-খুন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। একই সঙ্গে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবিও জানানো হয়। শিগগিরই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তারা। সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যনারে গুম, খুন ও অপহরণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার বিশ্বাসের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ড. শাহদীন মালিক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, ড. কামাল হোসেনের মেয়ে সারাহ হোসেন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সালমা আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আমেনা মহসিন প্রমুখ।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, আমরা এখন খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। বর্তমানে খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। এ দেশ কারও কাছেই কাম্য নয়। আমরা এ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই। স্বজনহারাদের কান্না দেখার জন্য দেশ স্বাধীন হয় নাই। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কোনো দেশে গুম-খুন বাড়তে থাকলে, সেটা সে দেশের অর্থনীতির জন্য ভীষণ উদ্বেগের। এটা একটা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের দেশে এখন সে পরিস্থিতি চলছে। এরকম চলতে থাকলে বিদেশিরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবেন না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যহত হলে অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যহত হয়। তাই অবিলম্বে গুম-খুন বন্ধ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এম হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা  স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। আর গুম খুন দেখতে চাই না। একটা স্বাধীন দেশ এভাবে চলতে পারে না। আমরা এ ধরনের রাষ্ট্র চাই না। এর পরিবর্তন চাই। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটি দেশে যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন গোয়েন্দা সংস্থা শক্তিশালী হয়। আমাদের দেশে এখন তাই হয়েছে। তিনি র‌্যাব বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, এ বাহিনীর আর আমাদের প্রয়োজন নেই। এখনই এটা বন্ধ করা হোক। খুশি কবির বলেন, গুম-খুনের দায় রাষ্ট্র তথা সরকার এড়াতে পারে না। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তিনি দুই রাজনৈতিক জোটকে দলাদলি না করে অবিলম্বে গুম খুন বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর কথা বলেন। সালমা আলী বলেন, দেশের এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার খর্ব হয়েছে। আমরা এর একটি স্বচ্ছ বিচার চাই। যারা জড়িত  তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশিষ্ট নাগরিকদের এ মানববন্ধনে স্বজনহারাদের কান্নায় কিছু সময়ের জন্য ভারি হয়ে যায়। স্বজনহারাদের কান্না উপস্থিত সবাইকে নাড়িয়ে যায়।

বেনাপোল সতর্ক, ফটকে নূর হোসেনের ছবি

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের আসামিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য বেনাপোল সীমান্তে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা বিশেষ সর্তক অবস্থায় রয়েছে। আসামিরা যাতে পাসপোর্টের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করে বা অবৈধভাবে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারতে যেতে না পারে, সেজন্য বিজিবির জওয়ানদের সর্তক করা হয়েছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বিশেষ সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্টের ফটকের সামনে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ছবি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বৈধপথে অপরাধীদের দেশত্যাগের সুযোগ নেই বলেও ওসি জানান।
জানতে চাইলে ২৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মতিউর রহমান বলেন, 'নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের পর সতর্ক থাকার জন্যে আমাকে কেউ কোনো নির্দেশ দেয়নি। তবে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমান্তের প্রত্যেকটি বিওপি'র (বিজিবি ক্যাম্প) সদস্যদের বিশেষ সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।' গত ২৭ এপ্রিল দুপুুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে অপহূত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ভেসে উঠে সাতজনের মরদেহ। এই সাতজন হলেন এক গাড়িতে থাকা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর সঙ্গী তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন ও তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আরেকটি গাড়িতে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলাও করেছে নজরুলের পরিবার।

৭৫ রুপির জন্য ৫০ লাখ রুপি জরিমানা!

২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের এক সকাল। দিল্লির বাসিন্দা ডি কে চোপড়া চেন্নাই বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ। সময় কাটাতে তিনি বিমানবন্দরের রেস্তোরাঁ সপ্তগিরি রেস্টুরেন্টের স্ন্যাকবার ইউনিট থেকে রেড বুল নামের একটি এনার্জি ড্রিংক কেনেন। সেটির গায়ে দাম লেখা ছিল ৭৫ রুপি। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়েছে দ্বিগুণ অর্থাত্ ১৫০ রুপি। এই দাম দেখে অনেকটা বিরক্ত হয়েই রেস্টুরেন্ট মালিককে একটি আইনি নোটিশ দেন চোপড়া। কিন্তু দোকানি কোনো উত্তর না দেওয়ায় চোপড়া জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরামের কাছে 'হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণা' দেওয়ার অভিযোগে দুই লাখ এবং যাতায়াত ও আইনি খরচ হিসাবে ১১ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু ফোরামও তাঁর অভিযোগ খারিজ করে দেয়। চোপড়া এতেও দমে যাননি। তিনি দারস্থ হন রাজ্য ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের। কিন্তু সেখানে তিনি পণ্যের দাম প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন দাবি করে তাঁর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। কমিশনে তিনি পানীয় কেনার দুটি বিল দাখিল করলেও সেই বিলে দোকানির কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
চোপড়া যোগাযোগ করেন জাতীয় ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সঙ্গে। সেখানে স্ন্যাকবারের পক্ষে তাদের কৌঁসুলি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ওই দোকানির দ্বিগুণ দাম নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। সেখানে তাঁরা চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপমহাব্যবস্থাপকের (বাণিজ্যিক) একটি চিঠি দাখিল করেন। ওই চিঠিতে আমদানি করা জুস বা এনার্জি ড্রিংকের মূল্য ১৪০ রুপি নির্ধারণ করে দেওয়া রয়েছে। রেড বুলকে কীভাবে ফলের রসের ক্যাটাগরিতে ফেলা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে স্ন্যাকবারের কৌসুলি বলেছেন, 'খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করেই বলা যায়, রেড বুল আমদানি করা এনার্জি ড্রিংক।' জবাবে কমিশন বলেছে, এ ধরনের মূল্যতালিকা যেকোনো সময়ই তৈরি করা যায় এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এ ধরনের দাম নির্ধারণের আইনি মূল্য সামান্যই। তা ছাড়া চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওই চিঠিটির অনুমোদন ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (এএআই) কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। আর দাম নির্ধারণের ওই বিষয়টিতে এএআইয়ের অনুমোদন থাকলেও, তারা বেশি দাম নিতে পারতেন না। এএআই সাধারণত খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে চায় না। ঘটনার পাঁচ বছর পর কমিশন তাদের রায়ে বলে, জনগণের অর্থ আত্মসাতের কোনো অধিকার স্টল মালিকের নেই। তাই এই অর্থ আবার জনগণকে ফেরত দিতে হবে। এই স্টল মালিক ২০০৯ সালের আগে থেকে এভাবে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই কমিশন ওই স্টল মালিককে ১০ হাজার রুপি চোপড়াকে ও ভোক্তা কল্যাণ তহবিলে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

৭৫ রুপির জন্য ৫০ লাখ রুপি জরিমানা!

২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের এক সকাল। দিল্লির বাসিন্দা ডি কে চোপড়া চেন্নাই বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ। সময় কাটাতে তিনি বিমানবন্দরের রেস্তোরাঁ সপ্তগিরি রেস্টুরেন্টের স্ন্যাকবার ইউনিট থেকে রেড বুল নামের একটি এনার্জি ড্রিংক কেনেন। সেটির গায়ে দাম লেখা ছিল ৭৫ রুপি। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়েছে দ্বিগুণ অর্থাত্ ১৫০ রুপি। এই দাম দেখে অনেকটা বিরক্ত হয়েই রেস্টুরেন্ট মালিককে একটি আইনি নোটিশ দেন চোপড়া। কিন্তু দোকানি কোনো উত্তর না দেওয়ায় চোপড়া জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরামের কাছে 'হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণা' দেওয়ার অভিযোগে দুই লাখ এবং যাতায়াত ও আইনি খরচ হিসাবে ১১ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু ফোরামও তাঁর অভিযোগ খারিজ করে দেয়। চোপড়া এতেও দমে যাননি। তিনি দারস্থ হন রাজ্য ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের। কিন্তু সেখানে তিনি পণ্যের দাম প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন দাবি করে তাঁর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। কমিশনে তিনি পানীয় কেনার দুটি বিল দাখিল করলেও সেই বিলে দোকানির কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
চোপড়া যোগাযোগ করেন জাতীয় ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সঙ্গে। সেখানে স্ন্যাকবারের পক্ষে তাদের কৌঁসুলি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ওই দোকানির দ্বিগুণ দাম নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। সেখানে তাঁরা চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপমহাব্যবস্থাপকের (বাণিজ্যিক) একটি চিঠি দাখিল করেন। ওই চিঠিতে আমদানি করা জুস বা এনার্জি ড্রিংকের মূল্য ১৪০ রুপি নির্ধারণ করে দেওয়া রয়েছে। রেড বুলকে কীভাবে ফলের রসের ক্যাটাগরিতে ফেলা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে স্ন্যাকবারের কৌসুলি বলেছেন, 'খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করেই বলা যায়, রেড বুল আমদানি করা এনার্জি ড্রিংক।' জবাবে কমিশন বলেছে, এ ধরনের মূল্যতালিকা যেকোনো সময়ই তৈরি করা যায় এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এ ধরনের দাম নির্ধারণের আইনি মূল্য সামান্যই। তা ছাড়া চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওই চিঠিটির অনুমোদন ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (এএআই) কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। আর দাম নির্ধারণের ওই বিষয়টিতে এএআইয়ের অনুমোদন থাকলেও, তারা বেশি দাম নিতে পারতেন না। এএআই সাধারণত খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে চায় না। ঘটনার পাঁচ বছর পর কমিশন তাদের রায়ে বলে, জনগণের অর্থ আত্মসাতের কোনো অধিকার স্টল মালিকের নেই। তাই এই অর্থ আবার জনগণকে ফেরত দিতে হবে। এই স্টল মালিক ২০০৯ সালের আগে থেকে এভাবে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই কমিশন ওই স্টল মালিককে ১০ হাজার রুপি চোপড়াকে ও ভোক্তা কল্যাণ তহবিলে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

এটা কি মগের মুল্লুক?- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর সাত খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর আলোচনা সভায় তিনি এই সমালোচনা করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, নারায়ণগঞ্জের ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে। এ ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকতেই পারে। ঘটনার সাত দিন পর আপনি অপরাধীর বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। কেন এর আগে চালানো হয়নি? মানুষ অভিযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাচ্ছে। তাঁরা বসে বসে হিসাব করেন কার অভিযোগ নেবেন কি নেবেন না। এটা কি মগের মুল্লুক? এটা আইনের বরখেলাপ।'
অপহরণ ও খুনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, নেতৃত্বশালী, ব্যক্তিত্বশালী ও আইন সম্বন্ধে ধারণা আছে, এমন একজন অভিজ্ঞ পূর্ণমন্ত্রী প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত বলেন, 'নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমি বলব, অল্প সময়ে এর সঙ্গে যাঁরা জড়িত রয়েছে, তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি না দিলে সেটা আইনের বরখেলাপ হবে। এই অপরাধে যাঁদের প্রত্যাহার করেছেন, এঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টল প্রসিকিউশন (বিভাগীয় ব্যবস্থা) হওয়া উচিত।' নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেন প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত বলেন, 'কেউ একজন বলল দোষীরা দেশ ছেড়ে যায়নি। এটা আল্লাহর রহমত। কিন্তু এই মাল তো আওয়ামী লীগের মাল না। নূর হোসেন প্রথমে জাতীয় পার্টি, তারপর বিএনপি, তারপর আওয়ামী লীগ। ওর তো কোনো দল নাই, সব সময় সরকারি দল।' সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আসাদুজ্জামান দুর্জয়, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

ক্ষুব্ধ পুতিন

ইউক্রেনে সহিংসতায় ক্ষুব্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইউক্রেন সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে আগামী ২৫শে মে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনের রাজধানীতে নিহত সেনাদের স্মরণে দু'দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। নৃশংসতার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে ক্ষুব্ধ পুতিনের ওপর ইউক্রেন গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রেক্ষিতে সেনা ট্যাঙ্ক পাঠানোর চাপ বাড়ছে। ক্রেমলিন থেকে শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ওদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে ওডেসায় পুলিশ সদর দপ্তরে গতকাল হামলা করেছে রাশিয়াপন্থিরা। দু'দিন আগের হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার পর গতকাল নতুন করে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। চলমান সংঘাত ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, ইউক্রেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে বেশ কয়েক শ' মানুষ সমবেত হলে সংঘাত শুরু হয়ে যায়। তবে ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আরসেনিয়ে ইয়াতসেনুক পুলিশকে দায়ী করেছেন সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। তিনি ওই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, কর্তৃপক্ষ সহিংসতা দমনের জন্য কিছুই করেনি। তাদের প্রচেষ্টা ছিল অনুল্লেখযোগ্য।

বিমান নিখোঁজে সম্পৃক্ততা সন্দেহে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ১১ জন গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমান নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এবারে বিমান নিখোঁজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সন্দেহে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সন্দেহভাজনদের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর ও কেদাহ অঙ্গরাজ্য থেকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে ছাত্র, শ্রমিক, অল্পবয়সী এক বিধবা ও কয়েকজন ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও বৃটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ কে ডাকা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা নতুন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বিশেষ বাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর বিমান নিখোঁজের পেছনে সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, বিমানটির যাত্রাপথ পরিবর্তনের পেছনে জঙ্গিদের হাত থাকার আশঙ্কা এখনও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজনদের কয়েকজন মালয়েশিয়াতে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা নিখোঁজ বিমানের সঙ্গে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে। ৮ই মার্চ বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ফ্লাইট এমএইচ-৩৭০। ২৩৯ আরোহী সহ তা নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রায় দু'মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে সুনির্দিষ্ট কোন ফলাফল মেলেনি। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া ফ্লাইটটির শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ই মার্চ বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার ৪ ঘণ্টা পর কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের প্রধান অস্ট্রেলিয়ার অ্যাঙ্গাস হিউস্টন বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও বিমানটি খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোন ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে আরও ৮ থেকে ১২ মাস লাগতে পারে। উদ্ধার অভিযান তৎপরতার পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিরূপণ করতে আগামী সপ্তাহে ক্যানবেরাতে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি আঁখি জানে না মা নেই by সাওরাত হোসেন সোহেল

শিশু আঁখি মণি (৩) হাসছে, কাঁদছে, খেলছে। দাদা-দাদী ও বাবার কাছে বায়নাও ধরছে। মাঝে-মধ্যে মায়ের কথাও বলছে। কিন্তু সে এখনও জানে না তার মা সালমা এক বছর আগে সাভার ট্র্যাজেডির 'রানা প্লাজা'র তলে হারিয়ে গেছে। তার দাদী আমিনা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কি আর কমু বাবা মাঝে-মধ্যে যখন বায়না ধরে আম্মু যাব তখন বুকের ভিতর স্যাদ করে ওঠে, কোথায় পামু তার আম্মুকে। তাই নানান বুঝ দিয়ে শান্ত করে রাখি। এখনও আঁখি বলছে তার আম্মু ঢাকা গেছে কাজ করে অনেক টাকা-পয়সা আর তার জন্য নতুন জামা, আপেল, বিস্কুট আরও অনেক জিনিস আনবে। কিন্তু অবুঝ শিশুটি জানে না যে, তার মা আর কোন দিন তার জন্য জামা নিয়ে আসবে না। সাভার ট্র্যাজেডির ঘটনায় নিখোঁজ সালমার (২২) বাড়ি উপজেলার মাছাবান্দা ন'আড়ীর ভিটা এলাকায়। তার বাবার নাম সোলায়মান। কয়েক বছর আগে একই উপজেলার বড় কুষ্টারী এলাকার আবু তালেব মেকারের ছেলে আতিকুরের বিয়ে হয় বিয়ের কিছু দিন পর তাদের কোল জুড়ে আসে মেয়ে সন্তান সালমা অনেক আগে থেকেই আতিকুর ঢাকায় এক গার্মেন্টে কাজ করতো। সন্তান জন্মের প্রায় দেড় বছর পর দাদীর কাছে মেয়েকে রেখে কাজের সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে চলে যায় ঢাকায়। যোগদান করে রানা প্লাজা'র ৩য় তলায়। ঘটনার দিন বুধবার বেতন নিতে গিয়েছিল সালমা। গার্মেন্টে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ধসে পড়ে 'রানা প্লাজা' আর ফিরে আসেনি বেতন নিয়ে। ওই ভবন ধসের পর থেকে নিখোঁজ হয় সালমা।

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়ে: মিজানুর রহমান

একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সেই রাষ্ট্রের মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড এই অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লক্ষণ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন মিজানুর রহমান। এর আগে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি সুপারিশমূলক প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা একটি আধাসরকারি পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কিছু সুপারিশ করেছি। যেমন, কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে, যিনি গ্রেপ্তার করতে যাবেন তাঁকে অবশ্যই পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। কাউকে সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না এবং কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে অবশ্যই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে কমপক্ষে দুজনকে সাক্ষী রেখে গ্রেপ্তার করতে হবে।' তিনি জানান, এসব সুপারিশের মধ্যে দু-একটি কার্যকর হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করেননি তিনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রয়োজনে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হবে এবং আদালতের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশাবলি প্রদান করা হবে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণ-খুনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আজ সোমবার ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য চারজন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আফতাফ আহমেদকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহূত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তাঁর চার সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহূত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গতকাল রোববার র‌্যাবের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, নজরুলকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাবে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শহীদুল ইসলাম বলেন, 'কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব আমার জামাতা নজরুলসহ সাতজনকে খুন করেছে। ২৭ এপ্রিল দুপুরে যখন নজরুলকে দুটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, দুটি মাইক্রোবাসে করে ওদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।' আপনি কী করে নিশ্চিত হলেন যে তাঁরা র‌্যাবের সদস্য? উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ লেখা একটি গাড়ি সকাল থেকেই সেখানে ছিল। শহীদুল বলেন, 'ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি এমপি শামীম ওসমানকে জানাই। শামীম ওসমান আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি সেখানে গেলে সিও আমাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।'
শহীদুলের ব্যবসায়ী ছেলে সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা বিকেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা নাগাদ র‌্যাবে পৌঁছাই। কিন্তু আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। রাত নয়টায় র‌্যাবের সিও আমাদের দেখা দেন। তিনি এ সময় আমাদের বলেন, শামীম ওসমানের সঙ্গে আপনাদের কি কোনো ঝামেলা আছে? আপনারা শামীম ওসমানের কাছে যান। এরপর আমরা রাতে শামীম ওসমানের সঙ্গে রাইফেল ক্লাবে দেখা করতে যাই। তিনি আমাদের সামনেই নানা জায়গায় ফোন করেন।' অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত আগে শেষ হোক, তারপর সব জানা যাবে। এর আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে ফেরত যাওয়া র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুলিশকে কেন ঘটনা জানালেন না? এ প্রশ্ন করা হলে গতকাল শহীদুল ইসলাম বলেন, 'অপহরণের ঘটনার পরদিন আমি র‌্যাব-১১-এর সিও, মেজর জাহাঙ্গীর, মেজর রানা এবং নূর হোসেন, ইয়াসিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারের কাছে যাই। কিন্তু পুলিশ সুপার আমাকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। এরপর তাঁরা ছয়জন আসামির নাম বাদ দিতে বললে আমরা সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দিই।' মামলার এজাহার লেখার কাজটি করেছিলেন সাইদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এসপি ও ডিসি ফতুল্লা থানার ওসিকে মামলা নিতে বলে দেন। আমরা দুপুরে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা লিখতে লিখতে রাত ১০টা বাজিয়ে দেয়।' শহীদুল ও তাঁর ছেলে সাইদুল দুজনেই অভিযোগ করেন, মামলা হলেও পুলিশ কোথাও অভিযান চালায়নি। অভিযান চালালে অবশ্যই নজরুলকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।
সাংসদ শামীম ওসমানের সামনেই নজরুলের শ্বশুর র‌্যাবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। পরে একই স্থানে শামীম ওসমান বলেন, 'প্রশাসনের অনেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী এটা জানেন না।' তিনি বলেন, 'পুলিশের দারোগা যদি অপরাধ করে, আইজির ওপর তা বর্তায় না। সমস্ত বাহিনী সেই দায় বহন করে না। তাই আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' এরপর বিকেলে রাইফেল ক্লাব থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুল স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় শামীম ওসমান বলেন, 'এই হত্যায় নূর হোসেন জড়িত। এর আগে ইকবাল এক কোটি টাকায় র‌্যাবকে দিয়ে নজরুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ঘটনায় ইকবালও জড়িত। মামলার অপর আসামি হাসু হলো বোবা ডাকাত। যাদের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই জড়িত। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।'
নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরাও এ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব জড়িত বলে দাবি করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলের সঙ্গে আইনজীবী চন্দনের কোনো দিন দেখাও হয়নি। কিন্তু সেদিন চন্দন সরকার হয়তো দেখে ফেলেছিলেন কারা নজরুলকে অপহরণ করেছে। আর এ কারণে তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চন্দন সরকার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা র‌্যাবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। কিন্তু র‌্যাব আমাদের ঢুকতেই দেয়নি। র‌্যাবই এ কাজ করেছে। জড়িতদের বদলি করলেই হবে না, খুনের অভিযোগে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।'

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণ-খুনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আজ সোমবার ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য চারজন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আফতাফ আহমেদকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহূত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তাঁর চার সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহূত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গতকাল রোববার র‌্যাবের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, নজরুলকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাবে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শহীদুল ইসলাম বলেন, 'কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব আমার জামাতা নজরুলসহ সাতজনকে খুন করেছে। ২৭ এপ্রিল দুপুরে যখন নজরুলকে দুটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, দুটি মাইক্রোবাসে করে ওদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।' আপনি কী করে নিশ্চিত হলেন যে তাঁরা র‌্যাবের সদস্য? উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ লেখা একটি গাড়ি সকাল থেকেই সেখানে ছিল। শহীদুল বলেন, 'ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি এমপি শামীম ওসমানকে জানাই। শামীম ওসমান আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি সেখানে গেলে সিও আমাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।'
শহীদুলের ব্যবসায়ী ছেলে সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা বিকেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা নাগাদ র‌্যাবে পৌঁছাই। কিন্তু আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। রাত নয়টায় র‌্যাবের সিও আমাদের দেখা দেন। তিনি এ সময় আমাদের বলেন, শামীম ওসমানের সঙ্গে আপনাদের কি কোনো ঝামেলা আছে? আপনারা শামীম ওসমানের কাছে যান। এরপর আমরা রাতে শামীম ওসমানের সঙ্গে রাইফেল ক্লাবে দেখা করতে যাই। তিনি আমাদের সামনেই নানা জায়গায় ফোন করেন।' অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত আগে শেষ হোক, তারপর সব জানা যাবে। এর আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে ফেরত যাওয়া র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুলিশকে কেন ঘটনা জানালেন না? এ প্রশ্ন করা হলে গতকাল শহীদুল ইসলাম বলেন, 'অপহরণের ঘটনার পরদিন আমি র‌্যাব-১১-এর সিও, মেজর জাহাঙ্গীর, মেজর রানা এবং নূর হোসেন, ইয়াসিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারের কাছে যাই। কিন্তু পুলিশ সুপার আমাকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। এরপর তাঁরা ছয়জন আসামির নাম বাদ দিতে বললে আমরা সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দিই।' মামলার এজাহার লেখার কাজটি করেছিলেন সাইদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এসপি ও ডিসি ফতুল্লা থানার ওসিকে মামলা নিতে বলে দেন। আমরা দুপুরে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা লিখতে লিখতে রাত ১০টা বাজিয়ে দেয়।' শহীদুল ও তাঁর ছেলে সাইদুল দুজনেই অভিযোগ করেন, মামলা হলেও পুলিশ কোথাও অভিযান চালায়নি। অভিযান চালালে অবশ্যই নজরুলকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।
সাংসদ শামীম ওসমানের সামনেই নজরুলের শ্বশুর র‌্যাবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। পরে একই স্থানে শামীম ওসমান বলেন, 'প্রশাসনের অনেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী এটা জানেন না।' তিনি বলেন, 'পুলিশের দারোগা যদি অপরাধ করে, আইজির ওপর তা বর্তায় না। সমস্ত বাহিনী সেই দায় বহন করে না। তাই আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' এরপর বিকেলে রাইফেল ক্লাব থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুল স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় শামীম ওসমান বলেন, 'এই হত্যায় নূর হোসেন জড়িত। এর আগে ইকবাল এক কোটি টাকায় র‌্যাবকে দিয়ে নজরুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ঘটনায় ইকবালও জড়িত। মামলার অপর আসামি হাসু হলো বোবা ডাকাত। যাদের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই জড়িত। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।'
নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরাও এ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব জড়িত বলে দাবি করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলের সঙ্গে আইনজীবী চন্দনের কোনো দিন দেখাও হয়নি। কিন্তু সেদিন চন্দন সরকার হয়তো দেখে ফেলেছিলেন কারা নজরুলকে অপহরণ করেছে। আর এ কারণে তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চন্দন সরকার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা র‌্যাবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। কিন্তু র‌্যাব আমাদের ঢুকতেই দেয়নি। র‌্যাবই এ কাজ করেছে। জড়িতদের বদলি করলেই হবে না, খুনের অভিযোগে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।'

শোকে স্তব্ধ পাহাড়ি গ্রাম আব বারিক

আফগানিস্তানে পাহাড়ধসে গৃহহীন মানুষ গতকাল
ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন এএফপি।
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের প্রত্যন্ত পার্বত্য আব বারিক গ্রাম শোকে স্তব্ধ। স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। পাহাড়ি এলাকায় গৃহহীন ৭০০ পরিবারের সহায়তায় ত্রাণ-সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল রোববার এক দিনের জাতীয় শোক পালন করেছে সরকার। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাহাড়ধসে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার প্রবল বৃষ্টির পর আব বারিক গ্রামে পাহাড়ধসে প্রায় ৩০০ ঘর চাপা পড়ে। শনিবার পর্যন্ত ৩৫০টি লাশ বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, প্রায় দুই হাজার ৫০০ মানুষ পাহাড়ধসে চাপা পড়েছে। বাদাখশানের গভর্নর শাহ ওয়ালিউল্লাহ আবিদ বলেন, কাদায় চাপা পড়া আর কারও বেঁচে থাকার আশা নেই। তাই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাকে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে। বাবার বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন তিন সন্তানের জননী বেগম নিসা (৪০)। পাহাড়ধসের সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাড়িতে ঘরের জানালার ধারে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম।
হঠাৎ ভীষণ এক গর্জন শুনতে পেলাম। তখন বুঝতে পারলাম পাহাড়ধস শুরু হয়ে গেছে।’ নিসা বলেন, ‘আমি পরিবারের সবাইকে নিরাপদ স্থানে যেতে চিৎকার করছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি আমার প্রিয় মা-বাবাকে হারিয়েছি। আমার চাচা ও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়েছি।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে জীবিত ব্যক্তিদের বের করার চেষ্টা করেছিলেন। ব্যর্থ হয়ে পরে গৃহহীন মানুষকে সহায়তা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেন তাঁরা। অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে আরেকটি রাত কাটালেন। বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। বিবিসি ও এএফপি।

প্রিয়াঙ্কা এলেন, তবে দেরিতে

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেস এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী পরাজয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বলে বিভিন্ন জরিপে আভাস মিলছে। তবে এই দুর্দিনেও দলটির জন্য একটি ভালো খবর: রাজনীতির মঞ্চে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আবির্ভাব। ভারতের বিখ্যাত গান্ধী পরিবারের সদস্য ৪২ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা এত দিন রাজনীতি এড়িয়ে চলেছেন। এক বছরের বড় ভাই রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সহসভাপতির দায়িত্ব নিলেও তিনি ছিলেন চুপচাপ। তবে চলতি লোকসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কা লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। শেষ সময়ে এলেও প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে মোদিবিরোধীদের চাঙা করতে বেশ সফল হয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা এবারের নির্বাচনী লড়াইকে অসাম্প্রদায়িক ভারতের জন্য ‘লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, কংগ্রেসের আদর্শ হচ্ছে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা...বিরোধীদের আদর্শ হচ্ছে, বিভাজন তৈরি করা। অবশ্য বিজেপি ও মোদির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার এই সরাসরি বিবাদে জড়ানোর পেছনেও একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে। মোদি বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর স্বামী রবার্ট ভদ্রকে টেনে নানা বক্তব্য দেন। মোদিসহ বিজেপির নেতাদের অভিযোগ, ভদ্র হরিয়ানা রাজ্যে অবৈধ ভূমি চুক্তির মাধ্যমে অগাধ টাকার মালিক হয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে চলে আসায় আরেকটি প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
সেটা হলো, রাজনীতির মাঠে তাঁর ঔজ্জ্বল্যের কাছে রাহুল ম্লান হয়ে যাচ্ছেন কি না। একের পর এক মোদিকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়ে রাহুলের চেয়ে এখন প্রিয়াঙ্কাই বেশি খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রিয়াঙ্কা অনেক দেরি করে ফেলেছেন। কারণ, দলের অবস্থান যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, সেখান থেকে টেনে তুলে আনার মতো সময় হয়তো আর নেই। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের দুটি দুর্নীতির কেলেঙ্কারিকে পুঁজি করে বিজেপি দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে ইতিমধ্যে ফায়দা লুটেছে। এরপর রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তারা নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া ফোকাসের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ আগারওয়াল বলেন, প্রিয়াঙ্কার আসল সমস্যা হচ্ছে, তাঁর নামের শেষাংশ (ভদ্র) এবং এই অংশের কারণে তাঁর আবেদন কতটা গ্রাহ্য হবে, সেটা দেখার বিষয়। প্রিয়াঙ্কা নিশ্চিতভাবেই বিজেপিকে কিছুটা নাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি মাঠে এসেছেন অনেক দেরিতে। ছোটবেলায় দাদি ইন্দিরা গান্ধী ও বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে দেখেছেন প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। শৈশবের সেই ভীতি নিয়ে বেড়ে ওঠা দুজনের মধ্যে তাই ঘনিষ্ঠতাও অনেক বেশি। তবে প্রিয়াঙ্কার যেখানে ভোটারদের সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক সংযোগ রয়েছে, সেখানে রাহুল অনেকটা লাজুক ও বিমুখ ধরনের মানুষ। তিনি নিজেই বলেছেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে বিষের মতো বিষয়। গান্ধী পরিবারের জীবনী লেখক রাশিদ কিদবাই বলেন, প্রিয়াঙ্কা বাকপটু। কাউকে খোঁচা মারার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল চাপা প্রকৃতির মানুষ। প্রিয়াঙ্কা বৃহত্তর রাজনৈতিক ভূমিকা নিন, কংগ্রেসের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই চেয়েছিলেন। তবে প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা দেন, আপাতত তিনি নিজের ভাই ও মায়ের নির্বাচনী আসনের বাইরে কোথাও প্রচারণা চালাবেন না। এনডিটিভি।

সন্ধ্যার জয়ে অনেক বাধা

মেদেনীপুরে নির্বাচনী সমাবেশে তৃণমূলের
প্রার্থী সন্ধ্যা রায় ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফার নির্বাচনে আগামী বুধবার ভোট হবে ছয়টি আসনে। এর মধ্যে সবার নজর থাকবে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও আসানসোল আসনে। মেদিনীপুর আসনে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় এবং বাঁকুড়ায় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের মেয়ে অভিনেত্রী মুনমুন সেন। আসানসোলে লড়ছেন বিজেপির টিকিটে বলিউডের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। সন্ধ্যা রায় প্রবীণ অভিনেত্রী। ৭৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী এই প্রথম মমতার ডাকে রাজনীতিতে নেমেছেন। মনোনয়ন পেয়েছেন মেদেনীপুর আসনে। নির্বাচনী প্রচারণায় রোড শোতে আগ্রহ নেই তাঁর। কর্মিসভা করছেন, আর মমতার নামে ভোট চাইছেন। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৮ বছর বয়সী বামফ্রন্টের প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ প্রবোধ পান্ডা। এ ছাড়া রয়েছেন কংগ্রেসের বিমলকুমার রাজ ও বিজেপির প্রভাকর তিওয়ারি। বামদের আসন হিসেবে পরিচিত মেদিনীপুরে সন্ধ্যা রায়কে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এই আসনে মাত্র ৪৮ হাজার ১৭ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন প্রবোধ পান্ডা।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রার্থী দীপক কুমার ঘোষ। এবার এই আসনে প্রবোধ পান্ডার সঙ্গে সন্ধ্যা রায়ের তীব্র লড়াই হবে। মমতার নামে এই ভোটে সন্ধ্যা রায় পার পাবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয়ও রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, মোদি হাওয়ায় ভালো ভোট টানবে বিজেপি। কংগ্রেসও কিছু ভোট পাবে। তা ছাড়া বামদলের আগে থেকেই এখানে শক্ত অবস্থান রয়েছে। জয়ের মাপকাঠিতে সন্ধ্যা রায়কে এগিয়ে রাখা হলেও তাঁকে কঠিন লড়াই করে জিততে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সারদা কেলেঙ্কারি, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে জেরবার হচ্ছে নির্বাচনী ময়দান। নির্বাচনী ময়দানে এর প্রভাব পড়লে সন্ধ্যা রায়ের জয়ের পথ কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়তে পারে। আবার বয়সের কারণে তিনি প্রচারণায়ও ততটা যুক্ত হতে পারেননি। রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। ফলে সন্ধ্যা রায়ের জয়ের পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারে আদভানির ভূমিকা ঠিক হবে আলোচনায়

এল কে আদভানি
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি রাজনাথ সিং বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলে নতুন সরকারে এল কে আদভানিসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভূমিকা কী হবে, তা আলোচনা করেই ঠিক করা হবে। সেই আলোচনায় আদভানিও থাকবেন। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনাথ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসছে—এ ব্যাপারে তিনি দারুণ আশাবাদী। সরকার বা মন্ত্রিসভার গঠন  নিয়ে  দলীয়  আলোচনা  হবে ১৬ মে নির্বাচনের  ফল ঘোষণার পর। আদভানি ছাড়াও সরকারে সুষমা স্বরাজ, নীতিন গড়কারির মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভূমিকা কেমন হতে পারে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাজনাথ বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা ডাকা হবে। সেখানেই এসব নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, দলে অনেক সৎ ও দক্ষ নেতা আছেন। ফল ঘোষণার পরই কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া যায়, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। নেহরুর উত্তরসূরিরা দেশকে ধ্বংস করেছেন: এদিকে রাজনাথ সিং করতালির মাধ্যমে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর শাসনের সমর্থন করলেও নেহরুর উত্তরসূরিরা দেশকে ধ্বংস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল হিমাচল প্রদেশের নাহান শহরে এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, কংগ্রেস সব সময় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কন্ট্রোল অল্টার ডিলিট

কৌতুকাভিনেতা জোয়েল ম্যাকহেলের কথা শুনে
অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার হাসি এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান এবং সরকারি প্রযুক্তিব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে কৌতুক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদকদের বার্ষিক ভোজে গত শনিবার নানা বিষয় নিয়ে হাস্যরসে মেতে ওঠেন। হেলথকেয়ার ডট কম নামের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘২০০৮ সালে আমার স্লোগান ছিল ইয়েস উই ক্যান। আর ২০১৩ সালে ছিল কন্ট্রোল+অল্টার+ডিলিট (কম্পিউটারের কি-বোর্ড)।’
নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার তথ্য নিয়েও রসিকতা করেন ওবামা। তবে সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরোধিতার জন্য রিপাবলিকানদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি কাজ না করার জন্য মজুরি পেতে চান, তাহলে অন্যদের মতো আইনসভায় (কংগ্রেস) যাওয়ার চেষ্টা করুন। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে নিয়ে কৌতুক করার পাশাপাশি তাদের কিছু সমালোচনাও করেন। তবে তাঁকেও ছাড়েননি টিভি কমেডিয়ান জোয়েল ম্যাকহেল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে মজার প্রেসিডেন্সিয়াল কৌতুক হচ্ছে, যখন আপনি বলেন, আপনি গুয়ানতানামো বে বন্ধ করে দেবেন। এটি অসাধারণ, আনন্দ-উল্লাসে ভরপুর এক কৌতুক। এএফপি।

শাপলা চত্বরে অভিযানের এক বছর- থিতিয়ে পড়েছে হেফাজত by সেলিম জাহিদ

দেশ কাঁপিয়ে উত্থান, ৫ মে ঢাকা অবরোধ, দিনব্যাপী সহিংসতা, শাপলা চত্বরে অবস্থান, গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ছত্রভঙ্গ। এরপর এক বছরের মাথায় থিতিয়ে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। উপরন্তু, শীর্ষ নেতৃত্বের কারও কারও বিরুদ্ধে সরকারের কাছ থেকে বৈষয়িক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন হেফাজতের অভ্যন্তরে ক্ষোভ-হতাশা ও সন্দেহ-অবিশ্বাস প্রকট হয়ে উঠেছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের বেশির ভাগ নেতাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারের কবজায় চলে গেছেন। আওয়ামী লীগ, সরকার ও ছাত্রলীগকে হেফাজতের বন্ধু বলে গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর বক্তৃতার পর এ বিশ্বাস আরও জোরালো হয়। এখন অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে গত বছরের ৫ মে 'ঢাকা অবরোধ' কর্মসূচিতে হতাহতদের স্মরণে এ দিনটিতে আজ কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি হেফাজত।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর কথিত নাস্তিকদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে হঠাৎ জেগে ওঠে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই অরাজনৈতিক সংগঠনটি। ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিল। এরপর ৫ মের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি তখন ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। নানা বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে মাদ্রাসার লাখ লাখ ছাত্র-শিক্ষক রাজধানী ঢাকার চারপাশের প্রবেশপথগুলো অবরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন। দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলে সহিংসতা, সম্পদের ক্ষতি ও প্রাণহানী। এরপর মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেয় হেফাজতকে। নিহতদের তালিকা প্রকাশ করেনি: সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই রাতের অভিযানে কোনো প্রাণহানি হয়নি। আর হেফাজতের আমির ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে ৭ মে এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, ওই অভিযানের সময় আড়াই থেকে তিন হাজার লোক মারা গেছেন।
পরে হেফাজতের নেতারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা হতাহতদের তালিকা করছেন, সেটা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী গত বছরের ৪ জুন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, প্রশাসনের চাপ ও হয়রানির কারণে তাঁরা ঠিকমতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তখন পর্যন্ত ৭৩ জন নিহত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এগারো মাস পর গত শনিবার রাতে ওই তালিকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আজিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ও নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর সংখ্যা কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'শুনলে গা শিউরে উঠবে।' তালিকাটি চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রকাশে এখনো হুজুরের (আমির আহমদ শফী) অনুমতি নেই। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী প্রথম আলোকে বলেন, 'কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী ভাইদের সঠিক তালিকা সংগ্রহের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন। ইনশাল্লাহ কেন্দ্রীয়ভাবেই তা দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে।'
সরকারি লোকদের যাতায়াত: শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতকে সরিয়ে দেওয়ার পর জুন ও জুলাই মাসে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল হেফাজত। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য হেফাজত একটা কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। ফলে হেফাজত আবার সরকারের শীর্ষ মহলের উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে ওঠে। অবশ্য ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেই হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সরকার। সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর থেকে হেফাজতের আন্দোলনমুখী তৎপরতা থিতিয়ে আসে। একই সঙ্গে হেফাজতের আমিরের কাছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যাতায়াত বাড়ে। এ সময় সরকারের কাছ থেকে বৈষয়িক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অন্যদের সন্দেহ-অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। এর মধ্যে গত ১০ এপ্রিল সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এর আগে ১৭ মার্চ একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুজন পদস্থ কর্মকর্তা হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় সব বৈঠকেই আমিরের ছেলে আনাস মাদানী উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, শুরুর দিকে হেফাজতের আমির সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারি কোনো সংস্থার লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ দিতে রাজি হতেন না। একদম এড়াতে না পারলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডেকে আনতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কেউ দেখা করতে এলে ছেলে আনাস ছাড়া অন্য কাউকে রাখা হয় না। অবশ্য হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী দাবি করেন, 'হেফাজতের ইমানি আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি নিয়ে অনেকে সরকারের সঙ্গে আঁতাত কিংবা অর্থ-সহায়তা গ্রহণের কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে।' বিবৃতিনির্ভর তৎপরতা: সংগঠনের নেতারা জানান, গত ডিসেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সারা দেশের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের অন্তত অর্ধশত আলেম উপস্থিত থাকতেন। বর্তমানে কেবল হাটহাজারী মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকসহ বৈঠকে উপস্থিতির সংখ্যা ৮-১০ জনে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় হেফাজত এখন অনেকটা 'বিবৃতিনির্ভর' সংগঠনে পরিণত হয়েছে। হিসাব কষে দেখা গেছে, গত এক বছরে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৭৫টির মতো বিবৃতি বা বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৈঠক না করেও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অংশগ্রহণে সভা হয়েছে দাবি করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল আহমদ শফীর সভাপতিত্বে হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের জরুরি সভা হয়েছে বলে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীর নামে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হেফাজতের আমির ও তাঁর ছেলে আনাসের আর্থিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়। 'হেফাজতে ইসলাম সরকারের সাথে আঁতাত বা অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেনি' শিরোনামে ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২৩ জনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ কয়েকজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, এ ধরনের কোনো সভার কথা তাঁরা জানেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনাস মাদানী গতকাল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ ওই সভায় যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁদের সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নাম দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি: কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ৫ মে শাপলা চত্বরে হতাহতদের স্মরণে আজ সোমবার সারা দেশে 'দোয়া' কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব আসে। এ নিয়ে ২৯ এপ্রিল সকালে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে কথা বলেন মহাসচিব মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল। কিন্তু আমির কর্মসূচি দিতে রাজি হননি। এই অবস্থায় সংগঠনের কিছু নেতা আল-আমানাহ ফাউন্ডেশনের নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে হাটহাজারীর পার্বতী হাইস্কুল মাঠে আজ সোমবার সমাবেশ ডেকেছেন। হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটিতে বারিধারা ও লালবাগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার প্রধান নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতের মহানগর কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেরও জ্যেষ্ঠ নেতা। আর জুনাইদ আল হাবীব হেফাজতের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব, তিনি সম্প্রতি ইসলামী ঐক্যজোট থেকে জমিয়তে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতাদের বড় অংশ ইসলামী ঐক্যজোটের, তাঁরা লালবাগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক।
উভয় পক্ষ আজ পৃথক কর্মসূচি দিয়েছে। এর মধ্যে বারিধারা মাদ্রাসায় হেফাজতের ব্যানারে আজ '৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরসহ সারা দেশে শাহাদাত বরণকারীদের' স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি দেয় একাংশ। আরেক অংশ খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে আজ কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসায় জমায়েত হয়ে শাপলা চত্বরের উদ্দেশে 'কালেমা ও জাতীয় পতাকা' মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। এ ছাড়া শাপলা চত্বরে 'শহীদদের' স্মরণে কাল মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিসের দুই অংশসহ আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল যৌথভাবে লালবাগ মাদ্রাসায় দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করেছে।

শাপলা চত্বরে অভিযানের এক বছর- থিতিয়ে পড়েছে হেফাজত by সেলিম জাহিদ

দেশ কাঁপিয়ে উত্থান, ৫ মে ঢাকা অবরোধ, দিনব্যাপী সহিংসতা, শাপলা চত্বরে অবস্থান, গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ছত্রভঙ্গ। এরপর এক বছরের মাথায় থিতিয়ে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। উপরন্তু, শীর্ষ নেতৃত্বের কারও কারও বিরুদ্ধে সরকারের কাছ থেকে বৈষয়িক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন হেফাজতের অভ্যন্তরে ক্ষোভ-হতাশা ও সন্দেহ-অবিশ্বাস প্রকট হয়ে উঠেছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের বেশির ভাগ নেতাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারের কবজায় চলে গেছেন। আওয়ামী লীগ, সরকার ও ছাত্রলীগকে হেফাজতের বন্ধু বলে গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর বক্তৃতার পর এ বিশ্বাস আরও জোরালো হয়। এখন অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে গত বছরের ৫ মে 'ঢাকা অবরোধ' কর্মসূচিতে হতাহতদের স্মরণে এ দিনটিতে আজ কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি হেফাজত।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর কথিত নাস্তিকদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে হঠাৎ জেগে ওঠে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই অরাজনৈতিক সংগঠনটি। ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিল। এরপর ৫ মের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি তখন ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। নানা বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে মাদ্রাসার লাখ লাখ ছাত্র-শিক্ষক রাজধানী ঢাকার চারপাশের প্রবেশপথগুলো অবরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন। দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলে সহিংসতা, সম্পদের ক্ষতি ও প্রাণহানী। এরপর মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেয় হেফাজতকে। নিহতদের তালিকা প্রকাশ করেনি: সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই রাতের অভিযানে কোনো প্রাণহানি হয়নি। আর হেফাজতের আমির ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে ৭ মে এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, ওই অভিযানের সময় আড়াই থেকে তিন হাজার লোক মারা গেছেন।
পরে হেফাজতের নেতারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা হতাহতদের তালিকা করছেন, সেটা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী গত বছরের ৪ জুন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, প্রশাসনের চাপ ও হয়রানির কারণে তাঁরা ঠিকমতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তখন পর্যন্ত ৭৩ জন নিহত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এগারো মাস পর গত শনিবার রাতে ওই তালিকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আজিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ও নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর সংখ্যা কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'শুনলে গা শিউরে উঠবে।' তালিকাটি চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রকাশে এখনো হুজুরের (আমির আহমদ শফী) অনুমতি নেই। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী প্রথম আলোকে বলেন, 'কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী ভাইদের সঠিক তালিকা সংগ্রহের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন। ইনশাল্লাহ কেন্দ্রীয়ভাবেই তা দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে।'
সরকারি লোকদের যাতায়াত: শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতকে সরিয়ে দেওয়ার পর জুন ও জুলাই মাসে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল হেফাজত। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য হেফাজত একটা কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। ফলে হেফাজত আবার সরকারের শীর্ষ মহলের উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে ওঠে। অবশ্য ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেই হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সরকার। সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর থেকে হেফাজতের আন্দোলনমুখী তৎপরতা থিতিয়ে আসে। একই সঙ্গে হেফাজতের আমিরের কাছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যাতায়াত বাড়ে। এ সময় সরকারের কাছ থেকে বৈষয়িক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অন্যদের সন্দেহ-অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। এর মধ্যে গত ১০ এপ্রিল সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এর আগে ১৭ মার্চ একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুজন পদস্থ কর্মকর্তা হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় সব বৈঠকেই আমিরের ছেলে আনাস মাদানী উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, শুরুর দিকে হেফাজতের আমির সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারি কোনো সংস্থার লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ দিতে রাজি হতেন না। একদম এড়াতে না পারলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডেকে আনতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কেউ দেখা করতে এলে ছেলে আনাস ছাড়া অন্য কাউকে রাখা হয় না। অবশ্য হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী দাবি করেন, 'হেফাজতের ইমানি আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি নিয়ে অনেকে সরকারের সঙ্গে আঁতাত কিংবা অর্থ-সহায়তা গ্রহণের কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে।' বিবৃতিনির্ভর তৎপরতা: সংগঠনের নেতারা জানান, গত ডিসেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সারা দেশের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের অন্তত অর্ধশত আলেম উপস্থিত থাকতেন। বর্তমানে কেবল হাটহাজারী মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকসহ বৈঠকে উপস্থিতির সংখ্যা ৮-১০ জনে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় হেফাজত এখন অনেকটা 'বিবৃতিনির্ভর' সংগঠনে পরিণত হয়েছে। হিসাব কষে দেখা গেছে, গত এক বছরে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৭৫টির মতো বিবৃতি বা বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৈঠক না করেও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অংশগ্রহণে সভা হয়েছে দাবি করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল আহমদ শফীর সভাপতিত্বে হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের জরুরি সভা হয়েছে বলে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীর নামে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হেফাজতের আমির ও তাঁর ছেলে আনাসের আর্থিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়। 'হেফাজতে ইসলাম সরকারের সাথে আঁতাত বা অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেনি' শিরোনামে ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২৩ জনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ কয়েকজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, এ ধরনের কোনো সভার কথা তাঁরা জানেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনাস মাদানী গতকাল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ ওই সভায় যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁদের সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নাম দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি: কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ৫ মে শাপলা চত্বরে হতাহতদের স্মরণে আজ সোমবার সারা দেশে 'দোয়া' কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব আসে। এ নিয়ে ২৯ এপ্রিল সকালে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে কথা বলেন মহাসচিব মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল। কিন্তু আমির কর্মসূচি দিতে রাজি হননি। এই অবস্থায় সংগঠনের কিছু নেতা আল-আমানাহ ফাউন্ডেশনের নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে হাটহাজারীর পার্বতী হাইস্কুল মাঠে আজ সোমবার সমাবেশ ডেকেছেন। হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটিতে বারিধারা ও লালবাগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার প্রধান নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতের মহানগর কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেরও জ্যেষ্ঠ নেতা। আর জুনাইদ আল হাবীব হেফাজতের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব, তিনি সম্প্রতি ইসলামী ঐক্যজোট থেকে জমিয়তে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতাদের বড় অংশ ইসলামী ঐক্যজোটের, তাঁরা লালবাগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক।
উভয় পক্ষ আজ পৃথক কর্মসূচি দিয়েছে। এর মধ্যে বারিধারা মাদ্রাসায় হেফাজতের ব্যানারে আজ '৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরসহ সারা দেশে শাহাদাত বরণকারীদের' স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি দেয় একাংশ। আরেক অংশ খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে আজ কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসায় জমায়েত হয়ে শাপলা চত্বরের উদ্দেশে 'কালেমা ও জাতীয় পতাকা' মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। এ ছাড়া শাপলা চত্বরে 'শহীদদের' স্মরণে কাল মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিসের দুই অংশসহ আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল যৌথভাবে লালবাগ মাদ্রাসায় দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করেছে।

পাচারের আসামিই পার্কের পাখি-রক্ষক by কমল জোহা খান @প্রথম আলো

প্রাণী পাচারের মামলার এক আসামিকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পশুপাখি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে বন বিভাগ। বন সংরক্ষক তপন কুমার দের দাবি, ওই ব্যক্তি পশুপাখি পালনে 'নিবেদিতপ্রাণ' ও 'অভিজ্ঞ'। দায়িত্ব পাওয়া ওই ব্যক্তি হলেন নাজমুল হুদা। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩ জানয়ারি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৭০টি বন্যপ্রাণী ও পাখি আটক করেছিল আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় নাজমুল হুদাকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় বন্যপ্রাণী আইনে একটি মামলা করেন বন পরিদর্শক সোহেল রানা। মামলার তদন্তকারী বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটির চার্জশিট গত ৩১ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো শুনানি হয়নি। নাজমুল হুদার দাবি, মামলায় মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে জড়ানো হয়েছে।
এদিকে ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন নাজমুল হুদা। এর পর দরপত্র ছাড়াই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব পায় নাজমুলের মালিকানাধীন রাজু ট্রেডার্স। সাফারি পার্কে ম্যাকাও ল্যান্ড, অ্যাকুরিয়াম, প্যাডেল বোট রাইডিং, ময়ূর শেড, শকুন, ধনেশ ও প্যারট অ্যাভিয়ারি টিকিট বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ফেন্সি ডাক গার্ডেনের দেখাশোনা করছে রাজু ট্রেডার্স। সাফারি পার্কের বেশ কিছু বন্যপ্রাণী সরবরাহ করেছে তারা। ময়ূর, ধনেশ ও প্যারট অ্যাভিয়ারি এবং প্যাডেল বোটের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ৪ নভেম্বর। তবে এর যাচাই-বাছাইপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এসব প্রক্রিয়ার আগেই বন সংরক্ষক তপন কুমার দে রাজু ট্রেডার্সকে সাতটি প্রাণীর শেড তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। বন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বন সংরক্ষক তপন কুমার দের একক সিদ্ধান্তে ছয়টি শেডের টিকিট বিক্রি করছে রাজু ট্রেডার্স।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একেকটি শেডের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। তারিখ, ক্রমিক নম্বর ছাড়া টিকিট বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী কেনাবেচার কাজ সাফারি পার্কের ভেতর থেকেই করছে রাজু ট্রেডার্স। তাই পাখির সংখ্যা বাড়ে আর কমে। এ ব্যাপারে বন সংরক্ষক ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পরিচালক তপন কুমার দের দাবি, রাজু ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হয়ে গেছে। মামলার অভিযোগপত্রের প্রসঙ্গ তুলতে তিনি বলেন, 'ব্যবসা করতে গেলে তো মামলা হবেই। প্রাণীদের কত যত্ন করে ওরা (রাজু ট্রেডার্স)'। দরপত্র ছাড়া রাজু ট্রেডার্সকে প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া সম্পর্কে বন সংরক্ষক তপন কুমার দে বলেন, 'চলার পথে ভুলত্রুটি হতেই পারে।' বন সংরক্ষক তপন কুমার দের সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এর আগেও উঠেছিল। ২০১২ সালের ১২ জুন র‌্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত শ্যামলীর একটি বাসা তিনটি বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করে। এর সঙ্গে জড়িত আসামি জাকির হোসেন আদালতে জানান, তপন কুমার দে (মহাখালী বন অফিসে বসে) তাঁদের কাছে লিখিত দিয়ে বাঘসহ বন্যপ্রাণী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতেন। তবে তপন কুমার দে আদালতের কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

পাচারের আসামিই পার্কের পাখি-রক্ষক by কমল জোহা খান @প্রথম আলো

প্রাণী পাচারের মামলার এক আসামিকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পশুপাখি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে বন বিভাগ। বন সংরক্ষক তপন কুমার দের দাবি, ওই ব্যক্তি পশুপাখি পালনে 'নিবেদিতপ্রাণ' ও 'অভিজ্ঞ'। দায়িত্ব পাওয়া ওই ব্যক্তি হলেন নাজমুল হুদা। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩ জানয়ারি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৭০টি বন্যপ্রাণী ও পাখি আটক করেছিল আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় নাজমুল হুদাকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় বন্যপ্রাণী আইনে একটি মামলা করেন বন পরিদর্শক সোহেল রানা। মামলার তদন্তকারী বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটির চার্জশিট গত ৩১ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো শুনানি হয়নি। নাজমুল হুদার দাবি, মামলায় মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে জড়ানো হয়েছে।
এদিকে ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন নাজমুল হুদা। এর পর দরপত্র ছাড়াই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব পায় নাজমুলের মালিকানাধীন রাজু ট্রেডার্স। সাফারি পার্কে ম্যাকাও ল্যান্ড, অ্যাকুরিয়াম, প্যাডেল বোট রাইডিং, ময়ূর শেড, শকুন, ধনেশ ও প্যারট অ্যাভিয়ারি টিকিট বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ফেন্সি ডাক গার্ডেনের দেখাশোনা করছে রাজু ট্রেডার্স। সাফারি পার্কের বেশ কিছু বন্যপ্রাণী সরবরাহ করেছে তারা। ময়ূর, ধনেশ ও প্যারট অ্যাভিয়ারি এবং প্যাডেল বোটের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ৪ নভেম্বর। তবে এর যাচাই-বাছাইপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এসব প্রক্রিয়ার আগেই বন সংরক্ষক তপন কুমার দে রাজু ট্রেডার্সকে সাতটি প্রাণীর শেড তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। বন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বন সংরক্ষক তপন কুমার দের একক সিদ্ধান্তে ছয়টি শেডের টিকিট বিক্রি করছে রাজু ট্রেডার্স।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একেকটি শেডের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। তারিখ, ক্রমিক নম্বর ছাড়া টিকিট বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী কেনাবেচার কাজ সাফারি পার্কের ভেতর থেকেই করছে রাজু ট্রেডার্স। তাই পাখির সংখ্যা বাড়ে আর কমে। এ ব্যাপারে বন সংরক্ষক ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পরিচালক তপন কুমার দের দাবি, রাজু ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হয়ে গেছে। মামলার অভিযোগপত্রের প্রসঙ্গ তুলতে তিনি বলেন, 'ব্যবসা করতে গেলে তো মামলা হবেই। প্রাণীদের কত যত্ন করে ওরা (রাজু ট্রেডার্স)'। দরপত্র ছাড়া রাজু ট্রেডার্সকে প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া সম্পর্কে বন সংরক্ষক তপন কুমার দে বলেন, 'চলার পথে ভুলত্রুটি হতেই পারে।' বন সংরক্ষক তপন কুমার দের সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এর আগেও উঠেছিল। ২০১২ সালের ১২ জুন র‌্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত শ্যামলীর একটি বাসা তিনটি বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করে। এর সঙ্গে জড়িত আসামি জাকির হোসেন আদালতে জানান, তপন কুমার দে (মহাখালী বন অফিসে বসে) তাঁদের কাছে লিখিত দিয়ে বাঘসহ বন্যপ্রাণী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতেন। তবে তপন কুমার দে আদালতের কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

৬ কোটি টাকায় অপহরণ ও খুন! by শরিফুল হাসান ও আসিফ হোসেন fromনারায়ণগঞ্জ @প্রথম আলো

র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অপহরণের পরে নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাবে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত আগে শেষ হোক, তারপর সব জানা যাবে। এর আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
শহীদুল ইসলাম বলেন, 'কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব আমার জামাতা নজরুলসহ সাতজনকে খুন করেছে। ২৭ মে দুপুরে যখন নজরুলকে দুটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, দুটি মাইক্রোবাসে করে ওদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।' আপনি কী করে নিশ্চিত হলেন যে তাঁরা র‌্যাবের সদস্য? উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ লেখা একটি গাড়ি সকাল থেকেই সেখানে ছিল। শহীদুল বলেন, 'ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি এমপি শামীম ওসমানকে জানাই। শামীম ওসমান আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি সেখানে গেলে সিও আমাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।'
শহীদুলের ব্যবসায়ী ছেলে সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা বিকেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা নাগাদ র‌্যাবে পৌঁছাই। কিন্তু আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। রাত নয়টায় র‌্যাবের সিও আমাদের দেখা দেন। তিনি এ সময় আমাদের বলেন, শামীম ওসমানের সঙ্গে আপনাদের কি কোনো ঝামেলা আছে? আপনারা শামীম ওসমানের কাছে যান। এরপর আমরা রাতে শামীম ওসমানের সঙ্গে রাইফেল ক্লাবে দেখা করতে যাই। তিনি আমাদের সামনেই নানা জায়গায় ফোন করেন।' এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে ফেরত যাওয়া র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশকে কেন ঘটনা জানালেন না? এ প্রশ্ন করা হলে শহীদুল ইসলাম বলেন, 'অপহরণের ঘটনার পরদিন আমি র‌্যাব-১১-এর সিও, মেজর জাহাঙ্গীর, মেজর রানা এবং নূর হোসেন, ইয়াসিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারের কাছে যাই। কিন্তু পুলিশ সুপার আমাকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। এরপর তাঁরা ছয়জন আসামির নাম বাদ দিতে বললে আমরা সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দিই।'
মামলার এজাহার লেখার কাজটি করেছিলেন সাইদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এসপি ও ডিসি ফতুল্লা থানার ওসিকে মামলা নিতে বলে দেন। আমরা দুপুরে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা লিখতে লিখতে রাত ১০টা বাজিয়ে দেয়।' শহীদুল ও তাঁর ছেলে সাইদুল দুজনেই অভিযোগ করেন, মামলা হলেও পুলিশ কোথাও অভিযান চালায়নি। অভিযান চালালে অবশ্যই নজরুলকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। বাবা ও ভাইয়ের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত কি না, জানতে চাইলে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, 'নূর হোসেন আর ইয়াসিনরাই যে আমার স্বামীকে খুন করেছে, সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তাদের হাত অনেক লম্বা। তাদের অনেক টাকা। তারা সব করতে পারে।'
সাংসদ শামীম ওসমানের সামনেই নজরুলের শ্বশুর র‌্যাবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। পরে একই স্থানে শামীম ওসমান বলেন, 'প্রশাসনের অনেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী এটা জানেন না।' তিনি বলেন, 'পুলিশের দারোগা যদি অপরাধ করে, আইজির ওপর তা বর্তায় না। সমস্ত বাহিনী সেই দায় বহন করে না। তাই আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নূর হোসেন দল করলেও তাঁর লোক নয়। কেউ অন্যায় করলে তিনি তাকে অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দেন না।
এরপর বিকেলে রাইফেল ক্লাব থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুল স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় শামীম ওসমান বলেন, 'এই হত্যায় নূর হোসেন জড়িত। এর আগে ইকবাল এক কোটি টাকায় র‌্যাবকে দিয়ে নজরুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ঘটনায় ইকবালও জড়িত। মামলার অপর আসামি হাসু হলো বোবা ডাকাত। যাদের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই জড়িত। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।' নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরাও এ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব জড়িত বলে দাবি করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলের সঙ্গে আইনজীবী চন্দনের কোনো দিন দেখাও হয়নি। কিন্তু সেদিন চন্দন সরকার হয়তো দেখে ফেলেছিলেন কারা নজরুলকে অপহরণ করেছে। আর এ কারণে তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চন্দন সরকার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা র‌্যাবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। কিন্তু র‌্যাব আমাদের ঢুকতেই দেয়নি। র‌্যাবই এ কাজ করেছে। জড়িতদের বদলি করলেই হবে না, খুনের অভিযোগে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।'

৬ কোটি টাকায় অপহরণ ও খুন! by শরিফুল হাসান ও আসিফ হোসেন fromনারায়ণগঞ্জ @প্রথম আলো

র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অপহরণের পরে নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাবে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত আগে শেষ হোক, তারপর সব জানা যাবে। এর আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
শহীদুল ইসলাম বলেন, 'কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব আমার জামাতা নজরুলসহ সাতজনকে খুন করেছে। ২৭ মে দুপুরে যখন নজরুলকে দুটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, দুটি মাইক্রোবাসে করে ওদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।' আপনি কী করে নিশ্চিত হলেন যে তাঁরা র‌্যাবের সদস্য? উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ লেখা একটি গাড়ি সকাল থেকেই সেখানে ছিল। শহীদুল বলেন, 'ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি এমপি শামীম ওসমানকে জানাই। শামীম ওসমান আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি সেখানে গেলে সিও আমাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।'
শহীদুলের ব্যবসায়ী ছেলে সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা বিকেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা নাগাদ র‌্যাবে পৌঁছাই। কিন্তু আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। রাত নয়টায় র‌্যাবের সিও আমাদের দেখা দেন। তিনি এ সময় আমাদের বলেন, শামীম ওসমানের সঙ্গে আপনাদের কি কোনো ঝামেলা আছে? আপনারা শামীম ওসমানের কাছে যান। এরপর আমরা রাতে শামীম ওসমানের সঙ্গে রাইফেল ক্লাবে দেখা করতে যাই। তিনি আমাদের সামনেই নানা জায়গায় ফোন করেন।' এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে ফেরত যাওয়া র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশকে কেন ঘটনা জানালেন না? এ প্রশ্ন করা হলে শহীদুল ইসলাম বলেন, 'অপহরণের ঘটনার পরদিন আমি র‌্যাব-১১-এর সিও, মেজর জাহাঙ্গীর, মেজর রানা এবং নূর হোসেন, ইয়াসিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারের কাছে যাই। কিন্তু পুলিশ সুপার আমাকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। এরপর তাঁরা ছয়জন আসামির নাম বাদ দিতে বললে আমরা সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দিই।'
মামলার এজাহার লেখার কাজটি করেছিলেন সাইদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এসপি ও ডিসি ফতুল্লা থানার ওসিকে মামলা নিতে বলে দেন। আমরা দুপুরে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা লিখতে লিখতে রাত ১০টা বাজিয়ে দেয়।' শহীদুল ও তাঁর ছেলে সাইদুল দুজনেই অভিযোগ করেন, মামলা হলেও পুলিশ কোথাও অভিযান চালায়নি। অভিযান চালালে অবশ্যই নজরুলকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। বাবা ও ভাইয়ের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত কি না, জানতে চাইলে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, 'নূর হোসেন আর ইয়াসিনরাই যে আমার স্বামীকে খুন করেছে, সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তাদের হাত অনেক লম্বা। তাদের অনেক টাকা। তারা সব করতে পারে।'
সাংসদ শামীম ওসমানের সামনেই নজরুলের শ্বশুর র‌্যাবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। পরে একই স্থানে শামীম ওসমান বলেন, 'প্রশাসনের অনেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী এটা জানেন না।' তিনি বলেন, 'পুলিশের দারোগা যদি অপরাধ করে, আইজির ওপর তা বর্তায় না। সমস্ত বাহিনী সেই দায় বহন করে না। তাই আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নূর হোসেন দল করলেও তাঁর লোক নয়। কেউ অন্যায় করলে তিনি তাকে অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দেন না।
এরপর বিকেলে রাইফেল ক্লাব থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুল স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় শামীম ওসমান বলেন, 'এই হত্যায় নূর হোসেন জড়িত। এর আগে ইকবাল এক কোটি টাকায় র‌্যাবকে দিয়ে নজরুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছি। কাজেই এ ঘটনায় ইকবালও জড়িত। মামলার অপর আসামি হাসু হলো বোবা ডাকাত। যাদের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই জড়িত। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।' নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরাও এ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব জড়িত বলে দাবি করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলের সঙ্গে আইনজীবী চন্দনের কোনো দিন দেখাও হয়নি। কিন্তু সেদিন চন্দন সরকার হয়তো দেখে ফেলেছিলেন কারা নজরুলকে অপহরণ করেছে। আর এ কারণে তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চন্দন সরকার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা র‌্যাবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। কিন্তু র‌্যাব আমাদের ঢুকতেই দেয়নি। র‌্যাবই এ কাজ করেছে। জড়িতদের বদলি করলেই হবে না, খুনের অভিযোগে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।'

নূর হোসেনদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল দাবি @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যা মামলার আসামি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে নজরুলের পরিবার। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, এই আটজনকে গত দুই বছরে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি শটগান, দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও একটি রিভলবার রয়েছে। ২০১২ সালে একটি রাইফেল ও একটি শটগানের লাইসেন্স এবং বাকিগুলোর লাইসেন্স দেওয়া হয় ২০১৩ সালে। নিয়ম অনুযায়ী শটগানের লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক। পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স জেলা প্রশাসকের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। এসব লাইসেন্স দেওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন মনোজ কান্তি বড়াল। কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজন অপহরণ ও হত্যার পর তাঁকে প্রত্যাহার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করার বিষয়টি গত শনিবার সাংবাদিকদের জানান নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তাঁর শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। তাঁদের দাবি, নূর হোসেন ও তাঁর অনুসারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করলেই সাত হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে। শহীদুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে সংগ্রহ করা নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের লাইসেন্স করা অস্ত্রের একটি তালিকা সাংবাদিকদের দেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে ওই তালিকার সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, নূর হোসেন ২০১২ সালে ২২ বোরের একটি রাইফেলের ও গত বছর একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। পলাতক হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুটি অস্ত্র সব সময় তাঁর গাড়িবহরে থাকত। তাঁর ভাই মো. নূরুদ্দিন মিয়া গত বছরের শুরুতে একটি শটগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ভাতিজা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ২০১২ সালে একটি শটগানের এবং গত বছর একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহান (পিতা-মৃত ইদ্রিস আলী, নয়াআঁটি, সিদ্ধিরগঞ্জ), দেহরক্ষী আলী মোহাম্মদ (পিতা-মৃত আবদুল হক, শিমরাইল, টেকপাড়া), সানাউল্লাহ (পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, শিমরাইল) ও জামালউদ্দিন (পিতা-সিদ্দিকুর রহমান, মিজমিজি বাতেনপাড়া) গত বছর একটি করে শটগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও সিদ্ধিরগঞ্জ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুল হক হাসান গত বছর একটি শটগান ও একটি রিভলবারের লাইসেন্স পান। লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বলেন, 'আমরা অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন সেখান থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাবে।'

নূর হোসেনদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল দাবি @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যা মামলার আসামি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে নজরুলের পরিবার। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, এই আটজনকে গত দুই বছরে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি শটগান, দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও একটি রিভলবার রয়েছে। ২০১২ সালে একটি রাইফেল ও একটি শটগানের লাইসেন্স এবং বাকিগুলোর লাইসেন্স দেওয়া হয় ২০১৩ সালে। নিয়ম অনুযায়ী শটগানের লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক। পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স জেলা প্রশাসকের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। এসব লাইসেন্স দেওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন মনোজ কান্তি বড়াল। কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজন অপহরণ ও হত্যার পর তাঁকে প্রত্যাহার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করার বিষয়টি গত শনিবার সাংবাদিকদের জানান নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তাঁর শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। তাঁদের দাবি, নূর হোসেন ও তাঁর অনুসারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করলেই সাত হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে। শহীদুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে সংগ্রহ করা নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের লাইসেন্স করা অস্ত্রের একটি তালিকা সাংবাদিকদের দেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে ওই তালিকার সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, নূর হোসেন ২০১২ সালে ২২ বোরের একটি রাইফেলের ও গত বছর একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। পলাতক হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুটি অস্ত্র সব সময় তাঁর গাড়িবহরে থাকত। তাঁর ভাই মো. নূরুদ্দিন মিয়া গত বছরের শুরুতে একটি শটগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ভাতিজা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ২০১২ সালে একটি শটগানের এবং গত বছর একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহান (পিতা-মৃত ইদ্রিস আলী, নয়াআঁটি, সিদ্ধিরগঞ্জ), দেহরক্ষী আলী মোহাম্মদ (পিতা-মৃত আবদুল হক, শিমরাইল, টেকপাড়া), সানাউল্লাহ (পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, শিমরাইল) ও জামালউদ্দিন (পিতা-সিদ্দিকুর রহমান, মিজমিজি বাতেনপাড়া) গত বছর একটি করে শটগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও সিদ্ধিরগঞ্জ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুল হক হাসান গত বছর একটি শটগান ও একটি রিভলবারের লাইসেন্স পান। লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বলেন, 'আমরা অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন সেখান থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাবে।'

গুরুত্বহীন নিরীক্ষা, আইন ঝুলে আছে দুই বছর by মোর্শেদ নোমান @প্রথম আলো

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে চান না অনেক কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের যেসব অডিট আপত্তি ওঠে, মন্ত্রণালয়গুলো তার জবাব এড়িয়ে যায়। মহাহিসাব নিরীক্ষকের (সিএজি) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী অনিয়মের কোনো আপত্তি উঠলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই সময়ের মধ্যে কোনো জবাব আসে না। যে কারণে জবাব ছাড়াই নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এতে করে প্রতিবেদনগুলো অর্থবহ হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, নানা কারণে অডিট আপত্তিগুলোর নিষ্পত্তি হয় না। বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি মন্ত্রণালয় ও অডিট বিভাগ দুই পক্ষেরই থাকে। তিনি মনে করেন সমন্বয় সভাগুলো ঠিকমতো হলে অনেক আপত্তিই নিষ্পত্তি হয়ে যায়। অডিটে অসহযোগিতা এবং আরও বেশ কিছু জটিলতার কথা মাথায় রেখে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১২ সালে অডিট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সিএজি অফিস। প্রস্তাবিত এ আইন দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। নবম সংসদেই আইনটি উত্থাপন করার কথা থাকলেও হয়নি। এটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে।
সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আইনটি ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত সংসদে আইনটি উত্থাপন করার কথা থাকলেও কেন আইনটি আটকে আছে, সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে আর্থিক খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত করার জন্য আইনটি খুবই জরুরি।' সংবিধানের ১২৭ থেকে ১৩২ অনুচ্ছেদের আলোকেই সিএজি তথা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মহা-হিসাব-নিরীক্ষক প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারী কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারী হিসাব নিরীক্ষা করিবেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দান করিবেন এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি কিংবা সেই প্রয়োজনে তাঁহার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সকল নথি, বহি, রসিদ, দলিল, নগদ অর্থ, স্ট্যাম্প, জামিন, ভান্ডার বা অন্য প্রকার সরকারী সম্পত্তি পরীক্ষার অধিকারী হইবেন।' কিন্তু এ ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন নিরীক্ষকরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পান না বলে জানান তাঁরা।
সিএজি অফিসের প্রস্তুত করা নিরীক্ষা প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ওই প্রতিবেদনটি যায় সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে থাকে। কমিটিতে শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হয়। প্রস্তাবিত অডিট আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকছে। এ আইনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। যদি জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে ওই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। না হলে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে রিপোর্ট দিতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আইনের খসড়ায় কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই প্রস্তাবিত আইনটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রণজিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে দেরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনটি দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এর অনুমোদন দেওয়া হবে।'

গুরুত্বহীন নিরীক্ষা, আইন ঝুলে আছে দুই বছর by মোর্শেদ নোমান @প্রথম আলো

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে চান না অনেক কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের যেসব অডিট আপত্তি ওঠে, মন্ত্রণালয়গুলো তার জবাব এড়িয়ে যায়। মহাহিসাব নিরীক্ষকের (সিএজি) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী অনিয়মের কোনো আপত্তি উঠলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই সময়ের মধ্যে কোনো জবাব আসে না। যে কারণে জবাব ছাড়াই নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এতে করে প্রতিবেদনগুলো অর্থবহ হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, নানা কারণে অডিট আপত্তিগুলোর নিষ্পত্তি হয় না। বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি মন্ত্রণালয় ও অডিট বিভাগ দুই পক্ষেরই থাকে। তিনি মনে করেন সমন্বয় সভাগুলো ঠিকমতো হলে অনেক আপত্তিই নিষ্পত্তি হয়ে যায়। অডিটে অসহযোগিতা এবং আরও বেশ কিছু জটিলতার কথা মাথায় রেখে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১২ সালে অডিট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সিএজি অফিস। প্রস্তাবিত এ আইন দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। নবম সংসদেই আইনটি উত্থাপন করার কথা থাকলেও হয়নি। এটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে।
সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আইনটি ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত সংসদে আইনটি উত্থাপন করার কথা থাকলেও কেন আইনটি আটকে আছে, সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে আর্থিক খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত করার জন্য আইনটি খুবই জরুরি।' সংবিধানের ১২৭ থেকে ১৩২ অনুচ্ছেদের আলোকেই সিএজি তথা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মহা-হিসাব-নিরীক্ষক প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারী কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারী হিসাব নিরীক্ষা করিবেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দান করিবেন এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি কিংবা সেই প্রয়োজনে তাঁহার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সকল নথি, বহি, রসিদ, দলিল, নগদ অর্থ, স্ট্যাম্প, জামিন, ভান্ডার বা অন্য প্রকার সরকারী সম্পত্তি পরীক্ষার অধিকারী হইবেন।' কিন্তু এ ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন নিরীক্ষকরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পান না বলে জানান তাঁরা।
সিএজি অফিসের প্রস্তুত করা নিরীক্ষা প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ওই প্রতিবেদনটি যায় সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে থাকে। কমিটিতে শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হয়। প্রস্তাবিত অডিট আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকছে। এ আইনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। যদি জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে ওই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। না হলে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে রিপোর্ট দিতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আইনের খসড়ায় কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই প্রস্তাবিত আইনটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রণজিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে দেরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনটি দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এর অনুমোদন দেওয়া হবে।'

নারায়ণগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইলের গেদু মিয়ার বাজার এলাকায় গতকাল রোববার দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত দুজন হলেন আমান উল্লা (৬০) ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহ ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভোলাইলের গেদু মিয়ার বাজার এলাকায় চারতলার একটি ভবনের মালিক আমান উল্লা। দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনে আরাকে নিয়ে নিচতলায় থাকতেন তিনি। গতকাল দিবাগত রাতে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে তাঁদের দুজনকে হত্যা করেছে। আশপাশের লোকজন আজ ভোর ছয়টার দিকে ঘটনা জানতে পারেন। তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

তাজউদ্দীনের প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য কেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদ
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণ-উৎসবের সূচনা করে থাকেন, এবারও করেছেন। কিন্তু ঢাকার বনানী কবরস্থানে শায়িত জাতীয় চার নেতার মধ্যে তিনজনের (সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী) সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের তাগিদ বোধ করেননি, এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-নেত্রী।
একইভাবে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের প্রতিবছরের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দায়িত্বটাও বর্তাচ্ছে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতার ওপর, প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতো এবারও মুজিবনগরে অনুপস্থিত। মুজিবনগর দিবসে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর সভা-সেমিনারগুলোতেও একটা অলিখিত নিয়ম দাঁড়িয়ে গেছে যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি তাজউদ্দীনের অতুলনীয় ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং অনন্য নেতৃত্বের বিষয়ে প্রশংসাসূচক বক্তব্য দেওয়া একটা ‘ট্যাবু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রথম কাতারের নেতারাও খুবই সাবধানি, পাছে শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট হন। পুরো বিষয়টিও আমার কাছে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করি। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের মূল কান্ডারি তাজউদ্দীনকে তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে শীর্ষ নেতৃত্ব কার্পণ্য করছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করছেন না। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম তাজউদ্দীনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে মুজিবনগর সরকারের অন্যতম রূপকার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল মুসাবিদাকারীও। বলার অপেক্ষা রাখে না যে তিনিও স্বীকৃতি ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এটাও জাতীয় জীবনের বড় লজ্জা বৈকি! মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পার করছি আমরা, আর কত দিন এ ধরনের ইতিহাস খণ্ডিতকরণের সংস্কৃতি মেনে নিতে হচ্ছে এ জাতিকে? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চের রাতের ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মুজিবনগর দিবসের প্রতি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ভালোবাসার ঘাটতি। অথচ আমার বিবেচনায়, ওই পর্যায়ে তাজউদ্দীন আহমদ ও আমীর-উল ইসলাম যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার জন্য তাঁদের কাছে জাতির চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এই বিবেচনার সপক্ষে আমি আমার যুক্তি তুলে ধরছি।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় যখন ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করলেন, তখনই সারা দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনী বাঙালি জাতির ওপর সশস্ত্র আঘাত হানতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বেরও এ ব্যাপারে প্রস্তুতি ও পূর্বপরিকল্পনা ছিল। এই পরিকল্পনা মোতাবেক বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার কথা ছিল আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে; বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে আক্রমণের জন্য সেনাবাহিনী ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রওনা হওয়ার খবর পেয়েই তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর বাসায় গেলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেতে, পুরান ঢাকার একটি বাসাও ঠিক করে রাখা হয়েছিল আত্মগোপনের জন্য। কিন্তু ইতিহাসের ওই যুগসন্ধিক্ষণে শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বঙ্গবন্ধু কোথাও যেতে রাজি হলেন না। তাজউদ্দীনের আকুতি বিফলে গেল। বঙ্গবন্ধুর এক কথা, ‘তোমরা যা করার করো, আমি কোথাও যাব না।’ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাজউদ্দীন একটি স্বাধীনতার ঘোষণাও লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং টেপরেকর্ডারও নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালেন। বঙ্গবন্ধুর মন্তব্য, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে।’ (সূত্র: শারমিন আহমদ, তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা, ঐতিহ্য, এপ্রিল ২০১৪) তাজউদ্দীনকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলেও স্বাধীনতা ঘোষণার বিকল্প ব্যবস্থা ছিল বঙ্গবন্ধুর, এটা এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত যেমন নিয়েছিলেন সুচিন্তিতভাবে, তেমনি আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের অগোচরে ওয়্যারলেস ও অন্যান্য মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তাটিও জাতিকে জানানোর ব্যবস্থা