Showing posts with label নরসিংদী. Show all posts
Showing posts with label নরসিংদী. Show all posts

Wednesday, September 16, 2026

যে প্রকল্পে বদলে গেল ওদের জীবন by রোকনুজ্জামান পিয়াস

নরসিংদীর সোহেল মিয়া। সৌদি আরবে এসি লাগাতে গিয়ে উঁচু বিল্ডিং থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। কিন্তু কোম্পানি তার চিকিৎসা না করিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফিরে তিনি রেইজ প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর প্রকল্প থেকে নগদ প্রণোদনা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বীমা দাবির ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পোলট্র্রি ফার্ম করেন। ওই ফার্ম থেকে বর্তমানে তার মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের সুলতানা সংসারে সচ্ছলতা আনতে ২০১৪ সালে লেবাননে যান। কিন্তু ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন হয়নি। ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। দেশে ফিরে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এই অবস্থায় রেইজ প্রকল্পের কথা জানতে পারেন। সেখান থেকে কাউন্সেলিং নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ফিন্যানশিয়াল লিটারেসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। প্রকল্প থেকে নগদ প্রণোদনাও দেয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন এবং কিছু কাপড় কিনে নিজ গ্রামে চালু করেন ছোট্ট একটি টেইলার্স। এখন তার মাসিক আয় ১০-১২ হাজার টাকা। শুধু সোহেল মিয়া বা সুলতানা নয়, রেইজ (রিকভারি অ্যান্ড এডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট) প্রকল্পের আর্থিক, মানসিক ও টেকনিক্যাল সহায়তায় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন স্বর্বস্ব হারানো ও কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা ভাগ্যবিড়ম্বিত প্রায় দুই লাখ কর্মী। এরমধ্যে প্রায় দেড় লাখ কর্মীর স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত বাজেটে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে সেবা দেয়ার পরও অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ অর্থে অতিরিক্ত আরও অর্ধলক্ষাধিক কর্মীকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। সফল এ প্রকল্পটিকে ইতিমধ্যে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

জানা যায়, করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরত আসেন। এসব প্রত্যাগত কর্মী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছিলেন। এ সময় তাদের কর্মক্ষম করে তোলার জন্য গ্রহণ করা হয় বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় রিইন্টিগ্রেশন কর্মসূচি। নানা প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিইন্টিগ্রেশন প্রকল্পের। বস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে।
২০২৩ সালে ৩০শে জুলাই মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মেয়াদ ধরা হয় ২০২৬ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে ৪২৭ কেটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার এ প্রকল্পে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে শেষমেশ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ ৩৫০০০ টাকা সরকারের তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট ৫১৬ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংক সহজশর্তে ঋণ দেয়। প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, আত্মকর্মসংস্থান, পুনরায় বিদেশ গমন এবং চাকরি প্রাপ্তিতে প্রকল্প থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সারা দেশে বিদেশফেরত কর্মীদের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে করে কর্মীরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে  হতে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তাসহ তাদের কাঙ্খিত সেবা সহজেই পায়। একটি রেফারেল সিস্টেমের মাধ্যমে এসব সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত সেবাগ্রহীতা কর্মী ও তার পরিবারের সদস্যরা স্বনামধন্য হাসপাতাল থেকে স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাচ্ছেন।

সূত্রমতে, ৩৫টি জেলায় স্থাপিত ‘প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার’-এর মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং ও পরামর্শ নিয়ে প্রত্যাগত অসহায় অভিবাসী কর্মীরা নানাখাতে সম্পৃক্ত হয়ে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি শপ, কাপড়ের ব্যবসা, ড্রাইভিং, পোলট্রি, ডেইরি, ছাগল ও গরু পালন, বিফ ক্যাটারিং, ফলের বাগান, বাণিজ্যিক কৃষি ও মৎস্য চাষ ইত্যাদি। এছাড়া মেশন, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ইলেকট্রিশিয়ান, কন্সট্রাকশন, কার্পেন্টার, পেইন্টার, ওয়েলডিং, গোল্ড স্মিথ, রড বাইন্ডিং, মোবাইল সার্ভিসিং, টাইলস ফিটিং, ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল, অটো মেকানিক, কাটিং মাস্টার,  প্লাম্বার, সেলুন, ইলেকট্রিক, ফার্নিচার, কনফেকশনারি, স্যানিটারি, গার্মেন্টস পণ্য, ফর্মেসি, হার্ডওয়্যার, জুতা, অটো পার্টস, থাই গ্লাস, রাইস মিল, মিষ্টি, স্টেশনারি, হোটেল,  চায়ের দোকান, ভেজিটবল, ফলসহ নানা ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু ব্যবসা নয়, প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন ৫ হাজারেরও বেশিসংখ্যক কর্মী। প্রকল্প থেকে উপকারভোগীদের অনেকে ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষক, বাবুর্চি, ইমাম, মুয়াজ্জিন, শেফ, গ্রাম্য চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা পেশা বা কাজে যুক্ত হয়েছেন। তথ্য বলছে, রেইজ প্রকল্পটিকে বিশ্বব্যাংক অন্যান্য দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছে। তাদের নিজস্ব সমীক্ষায় এটিকে সবচেয়ে ভালো প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি এ প্রকল্পকে বিশ্বব্যাংকের মর্যাদাপূর্ণ ‘বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক, ড. এটিএম মাহাবুব-উল করিম বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ বেকার কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া অতিরিক্ত ৫৩০০০ ফেরত প্রবাসীকে উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি আরও ২০ হাজার জনকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ৩৫টি প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার স্থাপন করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশে কর্মীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ হয়ে যাওয়া এসব কর্মীরা এখন স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার নিয়ে ভালো আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকল্প হিসেবে ‘রেইজ প্রকল্প’ বিশ্বব্যাংকের এওয়ার্ড পেয়েছে। যা জাতি হিসেবে গর্বের। প্রকল্পটি অব্যাহত থাকলে আরও বিদেশফেরত কর্মীরা জীবিকা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বেকারত্বের অভিশাপমুক্ত হবে লাখও কর্মী।

mzamin

Saturday, February 28, 2026

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূরা গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা ৯ জন আসামি হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাকেসহ পাঁচ আসামিকে এই বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন।

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জেরেই গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণের পর শর্ষেখেতে নিয়ে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা
গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

Thursday, March 6, 2025

থানার সামনে ফিল্মি গ্যাং স্টাইলে ছবি, অতঃপর...

নরসিংদীর রায়পুরা থানার মূল ফটকের সামনে ফিল্মি কায়দায় মাফিয়া গ্যাং স্টাইলের কিছু যুবকের বেপরোয়া আচরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক রাতে একটি মাইক্রোবাসের সামনে ও ছাদে উঠে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তুলছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাইক্রোবাসের দরজা খুলে, কেউবা ছাঁদে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ গুণ্ডা—বখাটে ধাঁচের ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে।

এমন সব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্তব্য করেছেন রায়পুরা থানা কি কিশোর গ্যাংয়ের দখলে? আবার কেউ কেউ এটিকে চরম বেপরোয়া মনোভাবের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

তথ্য যাচাই করতে গিয়ে জানা গেছে, রমজানের প্রথম দিন রোববার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আরমান মিয়া আইনি পরামর্শ নিতে থানায় যান। তার সঙ্গে ওই যুবকরাও থানার সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর যখন আরমান মিয়া থানার ভেতরে প্রবেশ করেন তখন তারা বাহিরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তোলেন। ছবিতে ৭ জন যুবককে লক্ষ্য করা যায়। তাদের বয়স আনুমানিক ১৭ থেকে ২০ বছর হবে। তারা মাফিয়া ভঙ্গিমায় বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তোলে তা টিকটকে আপলোড করে। পরে এটি নেটিজেনদের নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠে।
থানার সামনে ফিল্মি গ্যাং স্টাইলে ছবি, অতঃপর...

মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আরমান মিয়া কালবেলাকে বলেন, প্রথম রমজানের দিন ইফতারের পরে আমি রায়পুরা থানাতে যাই একটি বিষয় নিয়ে। আমি থানাতে যাওয়া পর তারা ওই মাইক্রোবাস নিয়ে থানাতে আসে ফুটবল খেলার অতিথি করার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। আমি তখন তাদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলি কিন্তু কোন সময় তারা এই অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ছবি তুলেছে তা আমি দেখেনি এবং জানি না। তারা এইসব ছবি তুলেছে টিকটকে দেওয়ার জন্য। এছাড়া ছেলেগুলো খুব ভালো, কেউ ব্যবসা করে, আবার কেউ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

রায়পুরা থানার ওসি আদিল মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি আমরাও আজকে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। ওইদিন মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আরমান মিয়া থানায় একটি আইনি কাজে এসেছিলেন। ওনার কাছেই ছেলেগুলো এসেছে, পরে তাকে ডেকে এনে কথা বলার পর উনার মাধ্যমেই দু’একজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা এগুলো টিকটকের জন্য করা হয়েছে বলে জানায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও তদন্ত করছি। কিভাবে তুলল, এই সুযোগটাই কিভাবে পেলো। আমাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখছি, প্রযুক্তির সকল টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা হার্ডলাইনে কাজ করছি। পরবর্তীতে যেন এই ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।

রায়পুরা থানার মূল ফটকের সামনে মাফিয়া গ্যাং স্টাইলের সাত যুবক। ছবি : কালবেলা
রায়পুরা থানার মূল ফটকের সামনে মাফিয়া গ্যাং স্টাইলের সাত যুবক। ছবি : কালবেলা



Saturday, August 17, 2024

কোটা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ সুমনকে বাঁচাতে পরিবারের আকুতি

গত ২০শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় সুমন রহমান অনিক (২১) নামে এক শিক্ষার্থী। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালের আইসিইউতে চিৎিসাধীন রয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনবার অস্ত্রোপচার হলেও এখনো তিনি আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। তাকে বাঁচাতে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। আহত সুমন নরসিংদীর মাধবদী পৌর শহরের সিদ্দিকনগর মহল্লার মৃত হাসেন আলীর ছেলে।

সুমনের বড়ভাই জুলহাস জানান, ৬ ভাই, ৩ বোনের সংসারে সুমন সবার ছোট। সে স্থানীয় জালপট্টি জামেয়া-ই-এমদাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা। পরিবারের হাল ধরতে পড়াশোনার পাশপাশি ভাইদের সঙ্গে সে স্থানীয় বাজারে কাঁচা তরকারি বিক্রি করতো। গত ২০শে জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সরকারের জারিকৃত কারফিউয়ের প্রথমদিনে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাধবদী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে  সে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

গুলিটি তার পেটে ঢুকে পাকস্থলী ছিদ্র হয়ে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ও পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ পর্যন্ত তিনবার তার পেটে অস্ত্রোপচার হয়েছে। সম্প্রতি তার পেটে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ায় আবারো অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন তার চিচিৎসক। পাশাপাশি উন্নত চিচিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সুমনের মা আমিরুন বেগম জানান, ছেলেদের কাঁচা তরকারি বিক্রির স্বল্প আয়ে চলে তাদের সংসার। অভাবের তাড়নায় অল্পবয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি সুমনকেও কাজে লাগাতে হয়েছে ছেলেদের সঙ্গে। সেই ছেলেটি আজ ২৭ দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে। তার চিকিৎসায় অপারেশনসহ হাসপাতাল খরচ সরকারিভাবে বহন করলেও প্রতিদিন বেশ টাকার ওষুধের যোগান দিতে হচ্ছে নিজেদের। এতে হিমশিম  খেতে হচ্ছে তার পরিবারের। তার উপর দেশের বাইরে নিয়ে  ছেলের চিকিৎসা করানো দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ অবস্থায় ছেলেকে বাঁচাতে তিনি বিত্তবানদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন।

Saturday, September 14, 2019

কলা চাষে ঝুঁকছেন মনোহরদীর কৃষক

সাগর কলাসহ আরো বেশ কিছু কলার জন্য সারা দেশের মধ্যে বিখ্যাত নরসিংদী। নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রায় ১২ প্রকার কলার চাষ হয়। নরসিংদীর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা উৎপাদিত হয় মনোহরদী উপজেলায়। এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ  হয় সাগর কলা। এ বছর কলার বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। অল্প খরচে অধিক ফলন এবং বেশি লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছে অমৃত সাগর কলা চাষে। কলা হজম কারক একটি ফল। কলাতে রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ লবণ।
একটি কলা খেলে ১০০ ক্যালরির বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কলার মধ্যে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। জানা যায়, মুঘল আমল থেকেই নরসিংদীর কলার সু-খ্যাতি ছিল দেশজুড়ে। নানা জাতের কলার মাঝে সাগর কলার চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। সাগর কলার জন্য বিখ্যাত হলো মনোহরদী উপজেলা। এলাকাবাসী জানায় সাগর কলার নাম অনুসারে এলাকার নামকরণ করা হয় সাগরদী। উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের সাগরদী এলাকাটি সাগর কলার জন্য বিখ্যাত। এ এলাকায় প্রতিটি ঘরে রয়েছে সাগর কলার চাষি। মনোহরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করা হয়েছে। যার মাঝে অধিকাংশই অমৃত সাগর কলা। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এ উপজেলা। মনোহরদী পৌরসভার সল্লাবাইদ, চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ খিদিরপুর ইউনিয়ন, চালাকচর, কাচিকাটা, বড়চাপা, দৌলতপুর, লেবুতলা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে কলা চাষ হয়।
কৃষকরা জানান, এ উপজেলায় চাম্পা, সবরি, হোমাই, কবরী এবং গেরাসুন্দর কলা চাষ হলেও বর্তমানে অমৃত সাগরের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সাগর কলার চাহিদা বেশ ভালো থাকায় কলা বিক্রিতে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে চালাকচর বাজার, মনোহরদী বাজার, হাতিরদিয়া বাজার ও পৌরসভার খালেরঘাট বাজারসহ এলাকার বেশ কয়েকটি বাজারে সপ্তাহজুড়ে কলার হাট বসে। এসব বাজার থেকে পাইকাররা কলা ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরগুলোতে বিক্রি করেন।
 এ ছাড়াও এখানকার কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেন বলেও পাইকাররা জানান। সাধারণত বৈশাখ মাসের শুরুতে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। প্রতি এক বিঘা জমিতে জাত ভেদে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়। এক বিঘা জমিতে কলাচাষ করতে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি কলা ৭০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। লেবুতলা ইউনিয়নের সাগরদি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, ২ বিঘা জমিতে সাগর কলার চারা রোপণ করে গত এক বছরে ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। আরো লাখ টাকার মতো করা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি। যদি কোনো ঝড় তুফান না আসে তাহলে কলা চাষে কৃষকদের সাধারণত লোকসান হয় না বলেও তিনি জানান। এখানকার বাজারগুলোতে সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড, খালেরঘাট, চালাকচর এবং হাতিরদিয়া কলা বাজারে সবরি কলা প্রতি ছড়া ছোট থেকে বড় আকারের প্রকার ভেদে ৩০০-৬০০ টাকা, সাগর কলা ২৫০-৫০০ টাকা, চাম্পা কলা ১০০-৩০০ টাকা এবং হোমাই কলা ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Thursday, July 25, 2019

দেশজুড়ে খ্যাতি কুড়াচ্ছে ঘোড়াশালের আনারস

ঘোড়াশালে আনারসের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে সারা দেশে খ্যাতি কুড়াচ্ছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের আনারস। নরসিংদীর একটি প্রবাদ আছে, ঘোড়াশালের রাবানের আনারস রসে টস টস। আনারস উৎপাদনের দিক থেকে  ঘোড়াশাল বাংলাদেশের প্রসিদ্ধতম স্থান হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার সিংহভাগ ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জমি আবহাওয়ার দিক থেকে আনারস চাষের উপযোগী। এ এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে আনারস। আনারস অন্যতম প্রধান রসাল, সুস্বাদু ও সুমিষ্ট ফল। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ ও অর্থকরী ফসল হচ্ছে একমাত্র আনারস চাষ।
প্রায় ১৫০ বছর আগে ঘোড়াশালে দেশীয় জাতের আনারসের চাষ হতো। ঘোড়াশালে চাষকৃত আগের দেশীয় প্রজাতির আনারস তেমন মিষ্টি ও সুস্বাদু ছিল না। দেশীয় প্রজাতির আনারস ঘোড়াশালে প্রায় ১৫০ বছর যাবৎ চাষাবাদের ফলে ধীরে ধীরে এ জাতটির গুণগতমান ও গঠনগত আকৃতি লোপ পায়। ঘোড়াশালের জনৈক ব্যক্তি সিলেটে বেড়াতে গেলে সেখান থেকে একটি আনারসের চারা রোপণ করে ঘোড়াশালের ব্যাপক প্রসার ঘটান। পরবর্তীতে ঘোড়াশালে দেশীয় প্রজাতির আনারসের জাতটির বিলুপ্ত ঘটে। সিলেট চাষকৃত আনারসের জাতটি সিলেটের আবহাওয়ায় তেমন খাপ খেতে পারেনি। ফলে আবহাওয়ার কারণে সিলেটে চাষকৃত আনারসটি তেমন সুস্বাদু ও মিষ্টি ছিল না। সিলেটের আনারসের এই জাতটি ঘোড়াশালের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে খাপ খেলে এবং আনারস চাষে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় গঠনগত স্বাদের দিক দিয়ে আনারসটির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৪০ বছর আগে সিলেটের আনারসের এ জাতটি ঘোড়াশালে আসে। ঘোড়াশালে আনারস চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৪০ বছরে এ জাতটি ঘোড়াশালে ব্যাপক সফলতা লাভ করে এবং এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। ঘোড়াশালে চাষকৃত সিলেটের এ প্রজাতির আনারসের জাতটি ঘোড়াশালে জলডুগি আনারস নামে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করে। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো হানিকুইন। টেঙ্গর এলাকার জমিতে আনারস চাষে ভালো ফলন হয়ে থাকে। এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়- প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। এই এলাকায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়। আনারস চাষের এলাকাগুলো হচ্ছে- রাবান, কুড়াইতলী, বড়িবাড়ি,  কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গোবরিয়াপাড়া, লেবুপাড়া, সাতটিকা,  ও চরনগরদী। আনারস চাষি রাখাল চন্দ্র দাস ৬ বিঘা জমিতে ও বিমল সেন ৮ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করেন। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়- তারা প্রায় ৩২ বছর ধরে আনারসের চাষ করে আসছে। তারা জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে আনারস চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলে আনারসের ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘার আনারসে বিক্রি হয় প্রায় ৬৫/৭০ হাজার টাকা। এতে দেখা যায় লাভ হয় বহু গুণ। অনেক লোক আনারস চাষ করে বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন।  ঘোড়াশালের আনারস চাষ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। আনারসের ফলন ভাল হলে প্রতি বছর আনারসে ঘোড়াশাল আয় হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। ঘোড়াশালে পর্যাপ্ত পরিমাণ আনারস উৎপন্ন হয়। কৃষকরা জানায়, আনারস পচনশীল ফল হিসেবে এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা দরকার। আনারস সংরক্ষণের জন্য ঘোড়াশালে কোনো হিমাগার আজও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। কৃষকরা আনারস সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। ঘোড়াশালে আনারস চাষে চাষিদের মনোবল রয়েছে পর্যাপ্ত। আধুনিক সভ্যতার যুগে এখনও ঘোড়াশালে সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমেই আনারসের চাষ হচ্ছে। আনারস চাষিরা জানান, আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস চাষ করলে আরও অধিক ফলন হতো এবং দেশও অর্থনৈতিকভাবে একটু লাভবান হতো। এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এ বছর পলাশে ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। গত বছর অতি খরায়  আনারসের আকার ছোট ছিল। কিন্তু এবার বৃষ্টি হওয়াতে আনারসের আকার বড় হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২০ টন আনারসের ফলন হয়েছে। ৮শ’ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্ষন্ত একটা আনারসের ওজন হওয়ায় কৃষকরা এ বছর অধিক লাভের মুখ দেখতে পাবে। এ বছর ১৫৯৫ মে.টন আনারস উৎপাদন হয়েছে পলাশে।  ঘোড়াশালের আনারস দেশের মধ্যে সুস্বাদু আনারস হিসেবে পরিচিত বলে এর চাহিদা ব্যাপক। সারা দেশে এ আনারসের নাম ঘোড়াশাল আনারস হিসেবে সবাই চিনে বলে কৃষি অফিসার জানান। তিনি আরো জানান অল্প সময়ে অধিক ফলন ও ব্যাপক লাভবান হওয়ায় মানুষ এ আনারস ফলনের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী বছর থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমরা জাইকার অর্থায়নে কৃষকদের আরো উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।

Wednesday, June 26, 2019

আগুনে দগ্ধ কলেজছাত্রী ফুলন মারা গেছেন

নরসিংদীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তরুণী ফুলন রানী বর্মণ ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতালে মারা গেছেন। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান।
নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুরের যুগেন্দ্র বর্মণের মেয়ে ফুলন গত বছর এইচএসসি পাস করেন। পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে আর কোথাও তার ভর্তি হওয়া হয়নি।
গত ১৩ জুন রাতে বাড়ির কাছেই তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। সেই রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ফুলনের শরীরের ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা সে সময় বলেছিলেন, এক আত্মীয়র সঙ্গে সেদিন রাতে দোকানে কেক কিনতে গিয়েছিলেন ফুলন। কেক কিনে দিয়ে ওই আত্মীয় তাকে একা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে চলে যান।
বাড়ির কাছে পৌঁছালে কয়েকজন মুখ চেপে ধরে ফুলনকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। পরে তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ এবং তার বন্ধু সঞ্জীব ও রাজু সূত্রধর ও আনন্দ বর্মণকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রাজু গত শুক্রবার নরসিংদীর বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে রাজুর দেওয়া বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ফুলনের বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী সুখলাল ও হীরালালের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে গত ১১ জুন ভবতোষ ও ফুলনের মায়ের সঙ্গে সুখলালের ঝগড়া হয়।
‘এর জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ভবতোষ। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু ও আনন্দকে নিয়ে সে ফুলনের গায়ে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করে। সেদিন রাতে দোকান থেকে ফেরার পথে ফুলনের মাথা ও শরীরে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন দেওয়া হয়,’ বলেন জাকির হোসেন।

Wednesday, June 19, 2019

‘মাদক ব্যবসায় না জড়ানোয় জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা’

এক বছর আগে কিশোরী জান্নাতির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিপলুর। সেই প্রেম পরিনতি দিতে পালিয়ে বিয়েও করে তারা। কিন্তু বিয়ের পরে স্বামীর আসল রূপ ধরা পড়ে জান্নাতির কাছে। জানতে পারে, সে মাদক ব্যবসায়ে জড়িত। শুধু স্বামী নয়, বরং তার পুরো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ এ ব্যবসা করে আসছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জান্নাতিকেও মাদক ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিলো। কিন্তু এতে সায় ছিলো না তার। বরং বিরোধীতা করেছিলো।
আর সেটাই কাল হলো ষোড়শী জান্নাতির। তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্মম এ ঘটনার ৪০দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জান্নাতি। জান্নাতির খুনীদের স্বীকারোক্তিতে ওঠে এসেছে হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনা।
জান্নাতি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাটোর জেলার নারায়নপুর পুকুরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে আজ বুধবার দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নিহত জান্নাতির শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানী (৪৫), স্বামী সাব্বির আহামেদ শিপলু ওরফে শিবু (২৩) ননদ ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। তারা সকলেই নরসিংদী চরহাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) বলেন, পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করদেত না পারায় জান্নাতুল ফেরদৌসি ওরফে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা করে শশ্বড় বাড়ির লোকজন। ঘটনার দিন রাতেই ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল নারায়গঞ্জের রুপগঞ্জ, টঙ্গী, চাপাইনবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে।  সেখানে না পেয়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালালে মঙ্গলবার রাতে এজাহারভূক্ত চার আসামী মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজই তাদের আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে জান্নাতি আক্তার (১৬) ও আর পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার মধ্যে প্রায় ১ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই জান্নাতি পরিবারের মাদক ব্যবসায়ের বিষয়টি জানতে পারে। তাকেও পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তুরাজি করাতে পারেনি জান্নাতিকে। এ কারণে জান্নাতির ওপর চলে কঠোর নির্যাতন। দাবি করে যৌতুকের। দাবির টাকা না দেয়া এবং মাদক ব্যবসায় না জড়ানোয় চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাশুড়ি ও স্বামী শিপলু জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের সহযোগিতা করে ননদ ফাল্গুনী বেগম। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তারা।
পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০শে মে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মারা যায় সে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শরিফুল ইসলাম গত ১৫ই জুন নরসিংদি সদর মডেল থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Tuesday, June 4, 2019

ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে ঈদ আর কেমন হয়? by আসাদুজ্জামান রিপন

কৃষক এমদাদুল হকের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে। কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল তার পরিবার। সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে তার। এ বছর ধান চাষ করে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ছেলে-মেয়েদের জন্য ইচ্ছেমতো ঈদের কেনাকাটাও করতে পারছেন না।
ঈদ উদযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে এমদাদুল হক  বলেন, ‘ঈদের ভাবনা নয়, কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করবো, সেটাই এখন প্রধান ভাবনা। এ বছর ধানচাষে যে লোকসান হয়েছে, তাতে সৃষ্ট ঋণের ভার কাঁধে নিয়ে ঈদ আর কেমন হয়?’
ধান চাষে উৎপাদন খরচের হিসাব দিতে গিয়ে এমদাদুল হক বলেন,‘এ বছর ধান চাষের জন্য প্রথমেই আমার এক বিঘা (৪৫ শতাংশ) জমি প্রস্তুত করতে চার জন শ্রমিকের খাবারসহ  ২৫০০ টাকা মজুরি ব্যয় হয়েছে। জমি চাষে খরচ হয়েছে আরও ২ হাজার টাকা। বীজ ও বীজতলা প্রস্তুত করতে চাষাবাদ ও শ্রমিক খরচ লেগেছে ১ হাজার ৫শ টাকা। এরপর পাঁচজন শ্রমিকসহ নিজে ধানের চারা রোপন করতে গিয়ে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫শ টাকা। এরপর ধানক্ষেত থেকে আগাছা পরিষ্কার (নিড়ানি) করতে কমপক্ষে চারজন শ্রমিকের মজুরি ও খাবার বাবদ ২ হাজার ৫শ টাকা ব্যয় হয়েছে। সার ও সেচ খরচ হয়েছে আরও  ৫ হাজার টাকা। এই এক বিঘা জমির ধান কাটতে গিয়ে প্রয়োজন পড়েছে ৮ জন শ্রমিকের। এবার জনপ্রতি শ্রমিক মজুরি দিতে হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। সঙ্গে খাবার খরচ আরও ২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে  প্রতিবিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১৭ হাজার ৫শ টাকা। এছাড়া নিজেদের শ্রমতো আছেই।’
এমদাদুল হক জানান,এক বিঘা জমিতে ধানের ফলন হয়েছে ১৭ মণ। এরমধ্যে রোগাক্রান্ত হওয়ায় চিটা ধান ৪ মণ বাদ দিয়ে মোট ধানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ মণ। প্রতিমণ ধান সর্বোচ্চ ৮শ টাকা দরে ১৩ মণ ধানের দাম পাওয়া গেছে ১০ হাজার ৪শ টাকা। মোট লোকসান হয়েছে ৭ হাজার ১শ টাকা।
এভাবেই ধানচাষে বিঘাপ্রতি লোকসানের কারণে ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে কৃষক এমদাদুল হকের মতো জেলার প্রায় সব কৃষককে। ধান রোপনের আগে করা ঋণ পরিশোধের চিন্তায় এখন তারা দিশাহারা। এ অবস্থায় তাদের ঈদ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রায়পুরা উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের কৃষক সাত্তার মিয়া বলেন, ‘ধারদেনা করে ধান লাগিয়ে এখন এই ঋণের টাকাই পরিশোধ করতে পারছি না। ঈদে ছেলে-মেয়ের নতুন কাপড়ের আবদার মেটানোও সম্ভব হয়নি। আমাদের মতো কৃষকের ঈদের দিন সবদিনের সমান।’
একই এলাকার কৃষক মুক্তার হোসেন, ইউনুছ মিয়া ও আলাউদ্দিন সঙ্গেও কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন, ‘এরপর থেকে আর ধান চাষ করবো না বলে ভাবছি। কিন্তু, আমরা তো কৃষক, কী করবো? ঈদের দিনটাও আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের হয় না।’
এবার নরসিংদী জেলায় ৫৬ হাজার ৩শ ১৭ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয় জানিয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা শোভন কুমার ধর বলেন, ‘সরকার প্রতিমণ ধান ১০২৬ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দিয়েছে। আগস্ট মাস পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করবে সরকার। এজন্য কৃষক ধান কেটে ঘরে নিয়ে তিন মাস সংরক্ষণ করার পর বিক্রি করলে লোকসান হবে না। তবে, কৃষকরা তাৎক্ষণিক শ্রমিক খরচ যোগাতে সস্তায় ধান বিক্রি করে লোকসান গুনছেন।’

Sunday, May 26, 2019

নরসিংদীতে অভাবের তাড়নায় দুই কন্যাকে হত্যা করেছে বাবা

নরসিংদী শহরের কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চঘাটের টয়লেটে নুসরাত জাহান তাইন (১০) ও তানিশা তাইয়েবা (৪) নামের দুই কন্যা শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে তাদের বাবা শফিকুল ইসলাম। এমন তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নিহত দুই শিশুর বাবা শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম আগে থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। গতকাল ওই বাবা তার দুই মেয়েকে নিয়ে মনোহরদী থেকে শিবপুরে ডাক্তার দেখাতে যায়। ডাক্তার না থাকায় নরসিংদী সদরে ঘুরতে আসে মেয়েদের নিয়ে। পরে বড় মেয়ের আবদার অনুযায়ী নরসিংদী কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চ ঘাট দেখতে আসে তারা।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, তার কথাবার্তায় নানা রকমের অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে ওই বাবা জানিয়েছেন, পারিবারিক দারিদ্র্য, মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে না পারা, আবদার অনুযায়ী মেয়েদের নতুন জামা দিতে না পারা সবকিছু মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ ঘাটের একটি টয়লেটে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বড় মেয়েকে একই টয়লেটে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। হত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে নিজের সন্তান দাবি করলেও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নরসিংদী কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চ ঘাটের টয়লেটের ভিতর থেকে দুই কন্যাশিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত দুই কন্যাশিশু মনোহরদী উপজেলার পূর্ব চালাকচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কন্যা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পিতা শফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

Sunday, May 13, 2018

শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ by আসাদুজ্জামান রিপন

নরসিংদীর শিবপুরে বিদেশি ফল রাম্বুটান ও মাল্টা চাষে সাড়া ফেলার পর নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে মেক্সিকান ড্রাগন ফল। প্রথমবারের মতো সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে শিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলছেন ড্রাগন ফলের বাগান। উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামে গড়ে তোলা এ বাগানে ড্রাগন চারার সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে রোপন করা এই বাগানে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে ড্রাগন ফুল। চলতি মে মাসেই আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সৌখিন কৃষক উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নরসিংদীর আবহাওয়া ও মাটি ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় যে কেউ ড্রাগন চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন।
ড্রাগন ফল চাষি আরিফুল ইসলাম মৃধা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উন্নত ফল উদ্ভাবনে জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প, খামারবাড়ি ঢাকার আওতায় এবং নাটোর হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ড্রাগন ফলের তিন হাজারেরও বেশি চারা সংগ্রহ করেন তিনি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এসব চারা দিয়ে সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন ড্রাগন বাগান। সাদা ও লালসহ মোট তিন ধরণের ড্রাগন ফলের চারা রোপন করা হয়েছে বাগানটিতে। শ্রমিকের মজুরি, গোবর সার প্রয়োগ, ড্রাগন চারা বেড়ে উঠার জন্য সিমেন্টের খুঁটি, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, বাগানে তারের বেড়া ও ফুল পরাগায়নের জন্য বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বাগানে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক টাকা ব্যয় হয়েছে শ্রমিক মজুরি হিসেবে।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে বাগান তৈরি করতে এককালীন খরচ একটু বেশি মনে হলেও নিয়মিত খরচ খুব বেশি নয়। বছরের ৭ থেকে ৮ মাসই ড্রাগনের ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি ফল যদি ওজনে ৫ শত গ্রামের ওপরে হয় তাহলে ৫ শত টাকা কেজি ধরে বাগানেই এই ফল বিক্রি করা যায়। ৫ শত গ্রামের নিচে হলে তিন থেকে চারশত টাকায় বিক্রি করা যায়।’ বছরের বেশিরভাগ সময়ই ফল পাওয়া যাওয়ায় ড্রাগন চাষে সফলতা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
কৃষি কর্মকতাদের দেওয়া তথ্য মতে, সাধারণত চারার বয়স এক বছর না হলে ড্রাগন ফলের ফলন পাওয়া যায় না। আট মাসের মাথায় আরিফুল ইসলাম মৃধার বাগানের ড্রাগনের প্রায় প্রতিটি চারায় ফুল আসতে শুরু করায় সন্তোষজনক ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া ও মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
আরিফুল ইসলাম মৃধা আরও বলেন, ‘বাগান তৈরির পর থেকে স্থানীয় মানুষের উৎসুক দৃষ্টি ছিল বাগানের প্রতি। ফুল ধরার পর থেকে মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। প্রায় প্রতিদিনই শিবপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকেও আগ্রহী মানুষ ড্রাগন বাগান পরিদর্শন, ব্যয় ও রোপণ পদ্ধতি জানতে ছুটে আসছেন। চারা উৎপাদন হলে আগামীতে ড্রাগনের বাগান আরও সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা আছে।’
ব্যস্ত একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলায় আগ্রহী হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যুবকরা লেখাপড়ার পর চাকরি না পেলে বসে বসে বেকার সময় পার করেন। কৃষিকাজে নামতে লজ্জাবোধ করেন। ড্রাগন চাষ সৌখিন কৃষি কাজ ও লাভজনক নিঃসন্দেহে। আমার বাগান দেখে কোনও বেকার যুবক যদি ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয় তাহলে আমার বাগান করা স্বার্থক হবে বলে মনে করি। বাকি জীবনটা কৃষি কাজ নিয়ে কাটাতে চাই। তাই ড্রাগনসহ অন্যান্য ফসল ও ফল চাষের প্রতি মনোযোগ দিয়েছি।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. লতাফত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে এই প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাগন ফল বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যেকোনও ফলের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায়  বিদেশি এই ফল চাষ করে সফলতা অর্জন সম্ভব। এজন্য অনেকেই এখন ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। আগ্রহী চাষিদের ড্রাগন চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 
ড্রাগন চারা একটানা ২৫ বছর ধরে ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ফল ও চারা বিক্রি সম্ভব।’

Friday, May 4, 2018

নরসিংদীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত

রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার আলীনগর আড়াকান্দা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ৬ বারের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বাঁশগাড়ি নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। চেয়ারম্যানের বহনকারী মোটরসাইকেলটি রায়পুরা-বাঁশগাড়ি সড়কের আলীনগর আড়াকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা গতিরোধ করে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল চালককে মারধর করে সরিয়ে দেয়। এবং চেয়ারম্যানকে গুলি করে সড়কের পার্শ্ববর্তী জলাবদ্ধ জমিতে ফেলে দেয়। ওই সময় সড়কে চলাচলরত লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম খান জানান, চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো কালে পথি মধ্যে তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের আধিপত্য নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। পুলিশ সরজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এ খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা-বেলাব সার্কেল) বেলাল আহমেদ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ হাসপাতালে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে দেখতে যান।

Sunday, December 3, 2017

নরসিংদীর রায়পুরায় গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার রায়পুরা উপজেলার দড়ি-হাইরমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ডাকাত জাকির হোসেন (৩০) রায়পুরার বীরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও ডাকাতির স্বীকার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল রায়পুরা উপজেলার দড়ি-হাইরমারা গ্রামের জাকির মাওলানার বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করেই পরিবারের লোকজনদের জিম্মি করে ফেলে। পরে ডাকাত দল ঘরের আলমারি ভেঙে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩ লাখ টাকাসহ মালামাল লুট করে নেয়। এতে বাধা দিতে গেলে তারা মারধর শুরু করে। পরে বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে গ্রামের লোকজন টের পেয়ে ডাকাতদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। পরে একযোগে ডাকাতদের ধাওয়া দেয়।
ওই সময় জাকির নামে এক ডাকাতকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। এর পর উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। আমিরগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রায়পুরা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Thursday, June 1, 2017

নরসিংদীতে বজ্রপাতে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় বজ্রপাতে এক নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মুসাপুর ইউনিয়নের আতকাপড়া গ্রামের লাল মিয়ার স্ত্রী রেখা বেগম (৪৫) ও একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আঃ ছালাম (৪০)। বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামের একটি ধানী জমি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের সময় পাশের বাড়ির দেবর সম্পর্কিত আঃ ছালামকে সঙ্গে নিয়ে গৃহবধূ রেখা বেগম হাওরে পানির সেলু পাম্প পাহারত স্বামী লাল মিয়াকে আনতে বের হন। এরপর আর তারা বাড়ি ফেরেননি। রাতে তাদের অনেক খোঁজাখুজিও করা হয়। পরে ভোরে রেখা বেগম ও ছালামের মরদেহ ধান খেতে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায়, ঝড়ের মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

Sunday, May 21, 2017

অভিযানের প্রস্তুতি র‌্যাবের, ১৪৪ ধারা জারি

নরসিংদী সদরের গাবতলীর 'জঙ্গি আস্তানা'য় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি শেষ করেছে র‌্যাব। অল্প সময়ের মধ্যেই এ অভিযান শুরু হবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে র‌্যাব ১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসানের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম সাংবাদিকদের জানান, অভিযানটি পুরোপরি র‌্যাব কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি মাত্র। অভিযান ঘিরে জননিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সকাল থেকে ওই এলাকার ৫শ' গজ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম ফয়জুল হক জানান, জননিরাপত্তা ও অভিযানের সুবিধার্থে এলাকার চারপাশে ৫শ' গজ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুবাই প্রবাসীর একটি বাড়ি শনিবার বিকাল থেকে ঘিরে রাখে র‌্যাব ১১-এর সদস্যরা। নব্য জেএমবির ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল অবস্থান নিয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে শনিবার বিকালে বাড়ির মালিক প্রবাসী মঈন উদ্দীনের ছোট ভাই জাকারিয়াকে আটক করেছে র‌্যাব।

জঙ্গি আস্তানায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আটকা এক 'শিক্ষার্থী'

নরসিংদীর গাবতলীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা এক দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আটকা পড়েছে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। ওই বাড়িটি উত্তর গাবতলীর জামিয়া কাসেমিয়া নামক মাদ্রাসা সংলগ্ন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। রাত সাড়ে নয়টার দিকে আজহার ইবনে মাহফুজ নামে এক ব্যক্তি জানান, জামেয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র মাসুদুর রহমান তার শ্যালক। সে ওই বাড়িতে আটকা পড়েছে। আজহার বলেন, জাফর নামের এক শিক্ষকের কাছে ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল মাসুদ। এরপর সেখানে অভিযান শুরু হলে সে আটকা পড়ে যায়। আজহারের বাড়ি টাঙ্গাইল। তার শ্যালক মাসুদ গাজিপুরের বোর্ডবাজার এলাকার আবদুল মজিদ মিয়ার ছেলে। আজহার জানান, শিক্ষক জাফর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এদিকে বাড়ির ভেতর থেকে মাসুদ সাংবাদিকদের জানায়, এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র সালাউদ্দিন,নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র আবু জাফর, বাছিরুল ইসলাম ও মসিউর রহমানসহ ৫ জন অবস্থান করছেন। মাসুদ জানায়, বাড়িতে থাকা ছাত্রদের কারও কাছে কোনো ধরনের অস্ত্র নেই। আইনশৃংখলা বাহীনির সদস্যরা চাইলে তারা আত্মসমর্থন করবে।
র‌্যাব ১১ অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল হাসান বলেন, নব্য জেএমবির ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, এরমধ্যে বাড়ির মালিক মইন উদ্দিনের ভাই জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। র‌্যাব-১১ এর সহকারী কমান্ডার আলেপ উদ্দিন জানান, যারা বাড়িতে অবস্থান করছেন তাদের বাড়ি  নরসিংদী, গাজিপুর ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম ফয়জুল হক জানান, অভিযানের সুবিধার্থে ঘটনাস্থলের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। র‌্যাবের পরিচালক মিডিয়া উইং কমান্ডার মুফতি মাহামুদ বলেন,সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযানের পর জঙ্গিরা ঢাকার আশেপাশে জেলায় অবস্থান নেয়। এরই প্রেক্ষিতে আমাদের কাছে বাড়িটি সম্পর্কে সুনিদিষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গাবতলীর এই বাড়িতে জঙ্গিরা ঘাঁটি বেঁধেছে। তাই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে। তবে বাড়ির ভেতর থেকে এক ছাত্র যে বক্তব্য দিয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।

Tuesday, May 9, 2017

নরসিংদীতে আ’লীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় সোমবার দুপুরে দূর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিবদমান আওয়ামী লীগের দু’দলের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু'জন নিহত এবং টেটা ও গুলিবিদ্ধ অন্তত আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রাজনগর গ্রামের জোহর মিয়ার পুত্র মোঃ জয়নাল মিয়া (২২) ও ছোবানপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর পুত্র আরশ আলী (২৫)। নিহত দু-জনই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের সমর্থিত বলে জানা যায়। এ সংঘর্ষে ২০/২৫ জন গুলি ও টেটাবিদ্ধ হয়ে আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষে চলাকালীন ৪ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে টেটা ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। অপরদিকে গত ২০ এপ্রিল আ’ লীগের দু-গ্রুপের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। তারা হলেন উপজেলা আ”লীগের সদস্য ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক-সমর্থিত মাসুদ (২৯) এবং শাহেদ সরকার-সমর্থিত শারফিন (২০)। গতকাল সোমবার এ সংঘর্ষে ২০/২৫ টি বাড়ী-ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।
জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরের দিন বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ঐ সময় বিএনপির থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করা সিরাজুল হক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ-সমর্থিতদের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে সাহেদ-সমর্থিত শতাধিক বসতঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩ বছর এলাকা ছাড়া থাকে শাহেদ সরকারের অর্ধশতাধিক পরিবার। এরই জের ধরে গত মাসের ২০ এপ্রিল এলাকা ছাড়া পরিবার গুলো নিজ বাড়িতে উঠতে গেলে উভয় দলের তুমুল সংঘর্ষে সিরাজুল হক-সমর্থিত শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর হয়। নিহত হয় উভয় দলের দু'জন। পর ঐ দিন থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। উভয় দলের পাল্টাপাল্টি ১৮ মামলার মধ্যে শাহেদ সরকারে বিরুদ্বে ১৫ মামলা দায়ের করেন সিরাজুল হকের সমর্থিতরা। এরই জের ধরে সোমবার পুনরায় দুই দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ চালাকালে শাহেদ সরকারে সমর্থিত দু'জন নিহত হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় দুদলের সংঘর্ষ চলছিল। রায়পুরা থানার ওসি মোঃ আজহার ইসলাম সরকার একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

Thursday, April 13, 2017

নরসিংদীতে ট্রাকচাপায় নিহত ২

নরসিংদীর সদর উপজেলায় ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরো একজন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভাটপাড়া কদমতলা এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে। নিহতদের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। তবে এখনো তাদের নাম পাওয়া যায়নি।
মাদবধী থানার ওসি মো. ইলিয়াস বলেন, সকাল ১০টার দিকে নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে তিন মোটোরসাইকেল আরোহী পাঁচদোনা আসছিলেন। পাঁচদোনা-টঙ্গী মহাসড়কের ভাটপাড়া কদমতলা এলাকায় পৌঁছলে  বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় আরো একজন। তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে দুঘটনার পরই পাঁচদোনা-টঙ্গী মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ সড়কের ওপর থেকে মোটরসাইকেলটি সড়িয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।  তবে ধারণা করা হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন দুটি দুর্ঘটনায় পড়ে।