Saturday, January 11, 2014

নির্বাচন- নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না by এম সাখাওয়াত হোসেন

অবশেষে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন।

উচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা বন্ধ হোক- পুলিশি রিমান্ড

রিমান্ড প্রশ্নে যেসব কাণ্ড চলছে, তার স্থায়ী বিহিত হওয়া দরকার। উচ্চ আদালতের রায়ের বাইরে যাওয়া যাবে না—এমন যুক্তি ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রায় প্রবাদ বাক্যে পরিণত করেছেন।
অথচ রিমান্ড-সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা বিএনপি সরকারের মতোই অগ্রাহ্য করে চলেছে তারা। অন্যদিকে রিমান্ড প্রশ্নে সাম্প্রতিক কালে হাইকোর্ট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে যে ধরনের প্রতিকার মিলছে, তাতে আইনের বৈষম্যমূলক প্রয়োগই প্রতিভাত হচ্ছে। রমনা থানায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির দুই নেতাকে নিম্ন আদালত দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। এর একজন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, অন্যজন সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুল হক মিলন। এখন হাইকোর্ট থেকে শুধু রিমান্ড আদেশ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেও বিএনপির একজন আইনজীবী নেতা অনুরূপ প্রতিকার পেয়েছেন।

রিমান্ড প্রশ্নে আইন বা উচ্চ আদালতের আদেশে কোনো আলাদা বিধান নেই। ভিআইপি ও চিহ্নিত অপরাধীর মধ্যে কোনো ফারাক সৃষ্টি করা হয়নি। বস্তুত প্রচলিত আইনের কোথাও রিমান্ড শব্দটিই নেই। অপ্রিয় হলেও সত্য, এটা আইন ও সংবিধানের চেতনাবিরুদ্ধ একটি অনুশীলন। সংবিধান বলেছে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা আদায় করা যাবে না। সরকার থেকে রিমান্ডের আবেদন করে এবং নিম্ন আদালত থেকে তা মঞ্জুর করার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে সংবিধানের ওই চেতনার ব্যত্যয় ঘটে চলেছে।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা দুর্ধর্ষ আসামির ক্ষেত্রে প্রলম্বিত জিজ্ঞাসাবাদ বিশ্বের সব ফৌজদারি অপরাধ বিচারব্যবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রিমান্ড মানেই বিভীষিকা। প্রতিপক্ষ দমনে বিএনপি সরকারও এটা ব্যবহার করেছিল বলে তারা উচ্চ আদালতের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। ২০০৩ সালে বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৫৪ ধারায় পুলিশের পাইকারি গ্রেপ্তার এবং তাদের আবেদনক্রমে আদালতের রিমান্ড মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেন। পুলিশ আচরণ বদলায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিচার বিভাগ কি বদলেছে? সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের রায় নিম্ন আদালতের জন্য অবশ্যপালনীয়।
২০০৩ সালের পর দুই দলের সরকারের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য ঘটেছে। সেটি হলো, এক-এগারোর কারণে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে। অধস্তন আদালত দাবি করে থাকেন, তাঁরা আগের চেয়ে স্বাধীন। কিন্তু রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে পুলিশের দুটি স্বভাবগত আচরণ আমরা দেখি—ওপরের হুকুমে মামলা দায়ের এবং জামিনের বিরোধিতাপূর্বক রিমান্ডের আবেদন। দুটোই অবশ্য আদালতের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
আদালতের নির্দেশনা মেনে আইনে উপযুক্ত সংশোধনী আনা হোক। ডিবি পুলিশের হাজতখানা বন্ধ হোক। অনতিবিলম্বে রায় মেনে কারাগারে পৃথক কক্ষ স্থাপন এবং সেখানে অভিযুক্তের আইনজীবী ও আত্মীয়ের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথা চালু হোক। উচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা বন্ধ হোক।

উচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা বন্ধ হোক- পুলিশি রিমান্ড

রিমান্ড প্রশ্নে যেসব কাণ্ড চলছে, তার স্থায়ী বিহিত হওয়া দরকার। উচ্চ আদালতের রায়ের বাইরে যাওয়া যাবে না—এমন যুক্তি ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রায় প্রবাদ বাক্যে পরিণত করেছেন।

নির্বাচন- নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না by এম সাখাওয়াত হোসেন

অবশেষে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন।
এই নির্বাচনের, বিশেষ করে দলীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি ও শরিকেরা প্রায় দুই বছর সহিংস আন্দোলন করলেও তা মারাত্মক রূপ নেয় নির্বাচনের দুই রাত আগে থেকে। ১৫ থেকে ১৮ জনের প্রাণহানি হয়, যা দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রক্তপাতপূর্ণ নির্বাচন বলে বিবেচিত। অন্যদিকে, সহিংসতার বলি হয় ১১১টি বিদ্যাপীঠ। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যাপীঠের ধ্বংস অতীতে হয়নি। এমনকি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৩৬ থেকে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসের প্রায় তিন গুণ। দশম সংসদে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে বিবেচিত হয়েছেন, যার কারণে চার কোটি ৮০ লাখ ভোটার ভোটদান থেকে বঞ্চিত।

নির্বাচনটি প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী জোট। বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে তারা। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হয়, ১৪৭টি আসনে ভোট পড়েছে শতকরা ৪০ শতাংশ। অথচ গণমাধ্যম ও অন্তত দুটি দেশীয় পর্যবেক্ষণ সংগঠন বলেছে আরও কম উপস্থিতির কথা। তাদের মতে, ভোট পড়েছে ৩০ শতাংশ। যদি সরকারি দলের ভাষ্যও ধরে নেওয়া যায়, তথাপি প্রায় সাড়ে নয় কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় দুই কোটির নিচে ভোটার ভোট দিতে পেরেছেন। সে ক্ষেত্রে প্রায় সাত কোটি ২০ লাখ ভোটার ভোট দেননি বা দিতে পারেননি। লক্ষণীয়, সেসব জায়গায় সরকারি দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রার্থী হতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তফাত এত বেশি যে তা হতবাক করার মতো। অথচ অনেক জায়গায় একই জেলায় পাশাপাশি আসনে অন্য প্রতীকের জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তফাতটাও যেমন কম, তেমন সমষ্টিগত ভোটের সংখ্যাও আগে উল্লিখিত প্রার্থীদের চেয়ে অনেক কম। এই নির্বাচনেও প্রায় ১৬ জন প্রার্থী কেন্দ্র দখল, জবরদস্তি সিল মারা এমনকি ফলাফল ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন।

সরকার বলেছে, এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মরক্ষার নির্বাচন। যেহেতু বিরোধী দল বা জোট নির্বাচনে আসতে রাজি হয়নি, সরকারের দাবি মোতাবেক অনেক ছাড় দেওয়া সত্ত্বেও, তাই সংবিধানের বাধ্যবাধকতা মোতাবেক নির্বাচন করতে হয়েছে। সরকারের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা এখন শর্ত সাপেক্ষে সত্বর ১১তম সংসদ নির্বাচনের কথাও বলছেন।

দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগ থেকেই অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা পূর্বতন নির্বাচনগুলোয় দেখা যায়নি। নির্বাচনের পরের দিন পাঁচজনের প্রাণহানিসহ জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর অথবা দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিন্যাস ও কার্যকারিতা নিয়ে। প্রায় তিন লাখ নিরাপত্তাকর্মী, প্রায় ৫০ হাজার সামরিক সদস্যের উপস্থিতিতে এ ধরনের নাশকতা স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতেই পারে সমন্বিত নিরাপত্তার পরিকল্পনা নিয়ে। প্রশ্ন থাকে যে ১১০টি ভোটকেন্দ্র কীভাবে ভস্মীভূত হলো? এমনটা হওয়ার আগাম ঘোষিত এবং নিশ্চয়ই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের নাশকতা দুই দিন আগের রাতে হয়ে থাকলে সেসব কেন্দ্র দুই দিন আগেই নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

স্মরণযোগ্য যে অর্ধেকেরও কম আসনে নির্বাচন হয়েছে। কাজেই, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বেশি থাকার কথা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নির্বাচনী বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় হয় নিরাপত্তা বিধানের জন্য। এবারের নির্বাচনে এ অর্থের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

আরও স্মরণযোগ্য, নির্বাচনকালে নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, অন্য কারও নয়। এমনকি সরকারেরও নয়। ১৯৯৬ সালে কোনো তদন্ত হয়নি। তবে এবার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। কেন এই নিরাপত্তার অভাব হলো? পরিকল্পনায় কমতি ছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তরের প্রয়োজন ভবিষ্যতের জন্য। দৃশ্যত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনকালীন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। দেশের তাবৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্নতর, সহিংস। একই সঙ্গে নির্বাচনী বাজেট থেকেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত। এ সহিংসতায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে নির্বাচনী কর্তব্য পালনকালে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব। যদিও কোনো কিছুর বিনিময়ে মূল্যবান জীবনের ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, অন্তত পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের সহিংসতার নজির বিরল নয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ঠেকাতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে করণীয় নির্ধারণ করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু অঞ্চলে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল অন্তত কয়েক দিনের জন্য। ওই নির্বাচনের পর সব ধরনের বিজয় মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবারে তেমন দেখা যায়নি। ছিল না বাড়তি নিরাপত্তা, যার কারণে কয়েক জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে।
ঘরবাড়ি পুড়েছে। হতাহত হয়েছে। উপাসনালয় পুড়েছে। এই নিরাপত্তা বিধানের দায়দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের। এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয় তো বটেই, নিরাপত্তার অভাবটা ছিল সুস্পষ্ট। এ ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না। এখানেও প্রয়োজন তদন্তের, যাতে ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণ করা যায়।

এই নির্বাচনে আরও অনেক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত। বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বে এ রকম নজির বিরল; যেখানে ৩৮টি কেন্দ্রে কোনো ভোটই পড়েনি। এটি একটি আশ্চর্য ব্যাপার। এর মানে এই যে যেকোনো কারণেই হোক, ওই এলাকার মানুষ ভোট দিতে বিমুখ ছিলেন। বিষয়টি নির্বাচনের অঙ্গনে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রভাব রাখবে, তা অবশ্যই নির্ণয় করা প্রয়োজন।

যদিও নির্বাচনটি ছিল সম্পূর্ণ একপেশে, তথাপি অনেক ধরনের অভিযোগ, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সাংসদ প্রার্থীদের অনিয়মের, প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কমিশনে উত্থাপিত হয়েছিল, যার বিষয়ে কমিশনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রচুর অভিযোগ উঠেছে জাল ভোট প্রদানের, এমনকি পত্রপত্রিকায় ছবি ছাড়া তাৎ ক্ষণিকভাবে অনেক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ২০০৮ সাল এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোয় এমন চিত্র দেখা যায়নি। ওই সময়ে মনে করা হয়েছিল, আমরা এই অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু এখন তা মনে হয় না। ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো কোনো জায়গায় আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ইত্যাদিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে এ ধরনের গর্হিত কাজকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।

এমনকি যশোরে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থী অন্য আসনের প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রকাশ্যে জাল ভোট প্রদানের যে ফর্মুলা দিয়েছেন বলে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, তা গুরুতর অভিযোগ। আরপিওতে এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে তাৎ ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে। এ অভিযোগ খণ্ডিত হতেও শোনা যায়নি। তবে তথ্যে প্রকাশ, নির্বাচন কমিশন দুজনকে শোকজ করেছে এবং দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এটি আশার বিষয়। এ জন্য নির্বাচন কমিশন সাধুবাদ পেতেই পারে। এখনই এ ধরনের দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় পুনরায় অব্যবস্থা ফিরে আসবে। কমিশন এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখাতে কেন পারেনি, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কোনো নির্বাচনই শতভাগ স্বচ্ছ হয় না, তবে যাঁরা পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তাঁদের প্রয়াস থাকে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেক অনিয়মের অভিযোগ, খবর ও খবরচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি ভোটারদের বঞ্চিত হতে হয়েছে

ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা থেকে। এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য ছিল না। এই নির্বাচনের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব ভবিষ্যতে সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য এসব বিষয়কে গুরুত্বসহ খতিয়ে দেখা। এ প্রয়াস অবশ্যই আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে সাহায্য করবে। তবে এবারের দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব প্রতিপালনের মাধ্যমে যেমনি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়, তেমনি সমগ্র প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে। অন্যথায় আস্থার সংকটের কারণে ভোটাররা ভোটদান থেকে বিমুখ হতে পারেন, কিন্তু সেটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মোটেই কাম্য নয়। নির্বাচন কমিশনের শিথিলতায় ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের বিচ্যুতি জয়ী প্রার্থীদের ভাবমূর্তির জন্য সহায়ক হতে পারে না।

অবশেষে এই নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একটি পর্যালোচনার প্রয়োজন ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা অটুট রাখার বা আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য। একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, সরকারের নয়। সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাত্র।

এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক।
hhintlbd@yahoo.com

কালের পুরাণ- হেরে গেছেন খালেদা জিয়া by সোহরাব হাসান

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই মুহূর্তে যে বড় সংকটে পড়েছে, ১৯৮২ সালের পর কখনোই তাকে সে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় আসার আগেই শামসুল হুদা চৌধুরী ও আবদুল মতিনের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ তাঁর সঙ্গে আঁতাত করেছিল। পরবর্তী সময়ে মওদুদ আহমদসহ অনেক অভিজ্ঞ নেতা সামরিক সরকারে যোগ দিলেও বিএনপি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

বরং সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হতে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু এবার দলের উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতাকেও আওয়ামী লীগ সরকার ভাগিয়ে নিতে না পারলেও বিএনপি দল হিসেবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, বিএনপির আন্দোলনই কেবল ভুল পথে পরিচালিত হয়নি, রাজনীতির মূলধারা থেকেও দলটি ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কেন এমনটি হলো?

ডান দিকে ঝুঁকে পড়া মধ্যপন্থী হিসেবে বিএনপির যে অবস্থান ছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। এখন বিএনপিকে মানুষ জামায়াত-হেফাজতের সহযোগী হিসেবে মনে করে। গত পাঁচ বছরে জনগণের সমস্যা নিয়ে তারা যেমন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেনি, তেমনি সরকারের ভুলত্রুটিগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সংসদ নিয়ে কথা বলার চেয়ে সংসদ বর্জন করাকেই দলটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছিল, যা সংসদীয় ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

আর রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা না করে বিএনপির নেতৃত্ব উগ্রবাদী জামায়াতে ইসলামী ও গোঁড়াপন্থী হেফাজতে ইসলামের ওপর ভরসা রেখেই আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। নিজস্ব শক্তি-সামর্থ্য নয়, দুই চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কাঁধে ভর করে বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানের এই প্রয়াস ছিল মারাত্মক ভুল।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে উঠলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের ‘নাস্তিক’ বলে দূরে ঠেলে দেয়, যদিও দলের অনেক নেতা-কর্মী তা পছন্দ করেননি। দ্বিতীয়ত, তারা হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি ঘোষণার পাশাপাশি ৫ মে ঢাকায় সংগঠনটির সহিংস তাণ্ডবের প্রতি সমর্থন জানালে বিএনপির অনেক শুভানুধ্যায়ীই বিস্মিত হন। ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রতি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তারা রাজপথে বিএনপির সহযাত্রী হননি। যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে জামায়াতের সহিংস কর্মকাণ্ড মানুষকে আরও বেশি আন্দোলনবিমুখ করে। জামায়াতের প্রতি বিএনপির অতিশয় নির্ভরতায় দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা অস্বস্তি বোধ করলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এখনো পাচ্ছেন না।

জনসমর্থন বিএনপির পক্ষে থাকায় ক্ষমতাসীনেরা শুরু থেকেই বিরোধী দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার যে প্রয়াস চালাচ্ছিল, বিএনপি নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদে পা দেয় জামায়াত ও হেফাজতের ভরসায়। ৪ মে মতিঝিলে খালেদা জিয়ার সমাবেশে আলটিমেটামের পর দুই দলের মধ্যে সমঝোতার পথ ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের লাগাতার অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি এবং সরকারের দমন-পীড়নের মুখে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার নীতিও ছিল আত্মঘাতী। সারা দেশে তো বটেই, খোদ রাজধানীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই জামায়াত-শিবিরের হাতে চলে যায় এবং বোমা ও আগুনে মানুষ খুন আর সরকারি সম্পদ ধ্বংসই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান হাতিয়ার।

এর পাশাপাশি ঢাকা ও লন্ডনে বিএনপির নেতৃত্বের দুটি আলাদা ভরকেন্দ্রও দলের নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্তিতে ফেলে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে দলের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করে দেওয়ায় সামনে থাকা দলের অনেক নেতাই পেছনে চলে যান; আবার পেছনের কেউ কেউ সামনে চলে আসেন। নানা কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি লন্ডনপ্রবাসী পুত্র তারেক রহমান ছাড়া কারও ওপরই ভরসা রাখতে পারেননি।

সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে তারেক রহমানের যে কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি তাঁর (তারেক) অবিশ্বাস ও অনাস্থা—দুটোই প্রকাশিত হয়েছে। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে এই নেতাই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছেন।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেও বেশ পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তারেক রহমান লন্ডনে বসে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হননি, বায়াত্তর সালে প্রণীত সংবিধানকেই জন-আকাঙ্ক্ষার বিরোধী বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মূল্যায়ন যদি প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার (যা তাঁর মা খালেদা জিয়া দুবার ভোগ করেছেন) বিরুদ্ধে হতো, জনগণের সমর্থন পেত। কিন্তু তিনি এই বিবৃতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন এখনো ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আলোচনার দরজাটি খোলা রাখতে চান বলে আমাদের ধারণা। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু প্রথমে তাদের (সরকার) আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সব জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে আছেন। আমার বহু কর্মী জেলখানায়। অন্যরা আত্মগোপনে আছেন। তাদেরই আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তাঁকে (খালেদা জিয়া) সহিংসতা ও জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে আসতে হবে। সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন, ‘তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে স্থায়ী জোট করেনি।’ জামায়াতকে ছাড়বেন কি না, জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি পারি না, কিন্তু যখন সময় আসবে, তখন দেখা যাবে।’

সরকারের সঙ্গে আলোচনার শর্ত হিসেবেই নয়, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও জামায়াত সম্পর্কে সংশয়ের কথা বিএনপির নেতাদের অজানা নয়। কিন্তু তারা এই যুুক্তিতে দলটি নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে যে তাতে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে এবং আরও সহিংস হয়ে উঠবে।

বিএনপির নেতৃত্বের প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল যে নানা কারণে মানুষ যেহেতু সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ, সেহেতু তারা ডাক দিলেই লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে উনসত্তর বা নব্বইয়ের মতো গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেবে। কিন্তু এখানে তারা যে ভুলটি করেছে তা হলো, জোটের প্রধান সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল এবং শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত হওয়ার পর দলটি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিএনপির নেতৃত্ব জামায়াতের সন্ত্রাসী ও সহিংস আন্দোলনের ওপর ভরসা না করে যদি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যেত, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা ছিল। সরকার সে রকম একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে কারচুপি করার সাহস পেত না। এর পরও সরকার জবরদস্তি করে নির্বাচনী ফল উল্টে দিতে চাইলে সাধারণ মানুষ তখন বিএনপির পক্ষেই রাস্তায় নেমে আসত।

রণাঙ্গনের যুদ্ধে অস্ত্রশক্তি প্রধান হাতিয়ার হলেও রাজনৈতিক যুদ্ধে কৌশল ও মিত্রের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই কৌশলে বিএনপির নেতৃত্ব এ যাত্রায় জয়ী হতে পারেনি। যার সুফল তাঁর প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনা পেয়েছেন। এর আরেকটি কারণ, ১৯৯৫-৯৬ সালে শেখ হাসিনা বিএনপি ছাড়া সবাইকে এবং ২০০৬ সালে তাদের সঙ্গে জামায়াত থাকলেও বিএনপির একসময়ের মিত্র বি. চৌধুরী, অলি আহমদকে কাছে নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবার খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাবিরোধী সবাইকে কাছে টানতে পারেননি। এমনকি জামায়াতের কারণে বি. চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী জোটভুক্ত হননি। এর পাশাপাশি দলটির ভারতনীতিও পরস্পরবিরোধী উপাদানে আকীর্ণ। দলের একাংশ ভারতের আস্থা অর্জনে আন্তরিক চেষ্টা করলেও অন্য অংশ যুদ্ধ জারি রাখাকেই শ্রেয় মনে করছে। বাসার সামনে খালেদা জিয়ার ক্ষুব্ধ বক্তব্য কিংবা তারেক রহমানের দ্বিতীয় বিবৃতিতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান তারই প্রমাণ।

আপাতত বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনবিরোধী রণকৌশলে হেরে গেছে, এটা স্বীকার করেই তাকে নতুন পথচলার কথা ভাবতে হবে। অবরোধ-হরতালের নামে গাড়ি পোড়ানো কিংবা মানুষ মারার আন্দোলন করে যে জনসমর্থন পাওয়া যায় না, সে কথা বিএনপির নেতৃত্ব যত দ্রুত অনুধাবন করবে, ততই দেশের মঙ্গল। এমনকি বিএনপিরও।

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

সাম্প্রদায়িকতা- আমরা কী করছি? by কুররাতুল-আইন-তাহমিনা

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে তাঁরা আমার ‘কাকু’ আর ‘কাকিমা’। আমার বাবা আর কাকু বন্ধু হয়েছিলেন ঢাকা আর্ট কলেজ, আজকের চারুকলা অনুষদে পড়ার সময় থেকে। তাঁদের বয়স এখন আশির কাছেপিঠে। আমাদের দুই পরিবার আত্মীয়র চেয়ে বড় আত্মীয়।

শীর্ষস্থান দখলের লড়াই

রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ফুটবলের দুই বাজির ঘোড়া। এতদিন তাই বিশ্বাস করেছে সবাই। কিন্তু সময় গড়িয়ে চলার সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলে মাঝে মধ্যেই আবির্ভাব ঘটেছে তৃতীয় শক্তির। এবার যেমন উঠে এসেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট পেলেও মাদ্রিদের ক্লাবটি পিছিয়ে রয়েছে শুধু গোলপার্থক্যে। গত ২০ বছরের মধ্যে লীগ টেবিলের শীর্ষ দুটি স্থান দখল করে অ্যাথলেটিকো এবং বার্সার মুখোমুখি হয়েছে মাত্র তিনবার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এর মধ্যে দু'বারই জিতেছে অ্যাথলেটিকো। শীর্ষস্থান সংহত করার সঙ্গে পুরনো হিসাবটা সমান করার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার রাতে ভিসেন্তে ক্যালদেরনে স্বাগতিক অ্যাথলেটিকোর মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা। ১৮ ম্যাচ খেলে দুটি ক্লাবেরই সংগ্রহ সমান ৪৯ পয়েন্ট। লীগের মাঝপথ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। ঘরোয়া লীগে এবার মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে বার্সা। গত মাসে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিপক্ষে। বিপরীতে লীগের শেষ পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছে দিয়াগো সিমিওনের দল। এর মধ্যে চার ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। ওই পাঁচটি ম্যাচে ছয় গোল করা অ্যাথলেটিকোর ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তা বার্সার প্রাণভোমরাকে ঠেকানোর লক্ষ্যে বলেছেন, 'মেসির কোনো তুলনা নেই। তাকে সব দলই মিস করে। কিন্তু আমরা খেলাটা কঠিন করে তুলব। কেননা মেসিকে ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত রসদ আমাদের আছে।'
কিন্তু পরিসংখ্যান অন্য কথা বলে। লা লীগায় এ পর্যন্ত ১৪ বার অ্যাথলেটিকোর মুখোমুখি হয়ে ১৭ গোল করেছেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা হিসাব করলে তালিকাটিতে যোগ হবে আরও তিন গোল। শুধু 'এল ক্ল্যাসিকো'তেই এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন মেসি। অ্যাথলেটিকোর মাঠ ভিসেন্তে ক্যালদেরনে গোল করেছেন পাঁচটি। আর একটি গোল করলেই বার্সার সাবেক স্ট্রাইকার এসকোলার রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। কাতালান ক্লাবটির হয়ে অ্যাথলেটিকোর মাঠটিতে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তিটি এখনও দখলে রেখেছেন এসকোলা। এ মৌসুমে বার্সার খেলা মোট ২৯টি ম্যাচের মধ্যে মেসিকে দেখা যায়নি মোট ১২ ম্যাচে। কিন্তু আর্জেন্টাইনের অভাব খুব বেশি টের পায়নি কাতালান ক্লাবটি। মেসিকে ছাড়া মাত্র দুটি ম্যাচ হেরেছে তারা। সেই সঙ্গে নেইমারও সেরে উঠেছে পেটের পীড়া থেকে। দুই তারকাকেই হয়তো প্রথম একাদশে খেলাতে পারেন বার্সা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। তেমনটি ঘটলে দীর্ঘ ৫৯ দিনের বিরতি শেষে বার্সার প্রথম একাদশের হয়ে মাঠে নামবেন মেসি। গেটাফের বিপক্ষে ইনজুরি থেকে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের ফিটনেস বুঝিয়ে দিয়েছেন মেসি। অ্যাথলেটিকোর প্রথম একাদশ গঠনে সিমিওনের চিন্তাজুড়ে রয়েছে শুধু দলের আক্রমণভাগ। ইনফর্ম স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তার সঙ্গী হিসেবে রাউল গার্সিয়া না কি ডেভিড ভিয়া? গার্সিয়া নিয়মিতই গোলের দেখা পাচ্ছেন। বিপরীতে ভিয়া ভুগছেন ফর্মহীনতায়। কিন্তু সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হওয়া তাতিয়ে দিতে পারে ভিয়াকে। সিমিওনে নিজেও তা জানেন। সে কারণে প্রথম একাদশে কস্তার সঙ্গী হিসেবে ভিয়ারই মাঠে নামার সম্ভাবনাটা বেশি।
১৮ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার তাদের প্রতিপক্ষ এসপানিওল। শিরোপা দৌড়ে নিজেদের দেখতে পেলেও অ্যাথলেটিকো-বার্সার লড়াই নিয়ে রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির কোনো আগ্রহ নেই। তার যুক্তি, 'ফলাফল নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। একসঙ্গে দুটি দলই তো আর হারছে না? তাই পয়েন্ট ব্যবধান কমানোর দায়িত্বটা নিজেদের ওপরই বর্তায়।'

শীর্ষস্থান দখলের লড়াই

রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ফুটবলের দুই বাজির ঘোড়া। এতদিন তাই বিশ্বাস করেছে সবাই। কিন্তু সময় গড়িয়ে চলার সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলে মাঝে মধ্যেই আবির্ভাব ঘটেছে তৃতীয় শক্তির। এবার যেমন উঠে এসেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট পেলেও মাদ্রিদের ক্লাবটি পিছিয়ে রয়েছে শুধু গোলপার্থক্যে। গত ২০ বছরের মধ্যে লীগ টেবিলের শীর্ষ দুটি স্থান দখল করে অ্যাথলেটিকো এবং বার্সার মুখোমুখি হয়েছে মাত্র তিনবার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এর মধ্যে দু'বারই জিতেছে অ্যাথলেটিকো। শীর্ষস্থান সংহত করার সঙ্গে পুরনো হিসাবটা সমান করার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার রাতে ভিসেন্তে ক্যালদেরনে স্বাগতিক অ্যাথলেটিকোর মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা। ১৮ ম্যাচ খেলে দুটি ক্লাবেরই সংগ্রহ সমান ৪৯ পয়েন্ট। লীগের মাঝপথ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। ঘরোয়া লীগে এবার মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে বার্সা। গত মাসে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিপক্ষে। বিপরীতে লীগের শেষ পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছে দিয়াগো সিমিওনের দল। এর মধ্যে চার ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। ওই পাঁচটি ম্যাচে ছয় গোল করা অ্যাথলেটিকোর ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তা বার্সার প্রাণভোমরাকে ঠেকানোর লক্ষ্যে বলেছেন, 'মেসির কোনো তুলনা নেই। তাকে সব দলই মিস করে। কিন্তু আমরা খেলাটা কঠিন করে তুলব। কেননা মেসিকে ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত রসদ আমাদের আছে।'
কিন্তু পরিসংখ্যান অন্য কথা বলে। লা লীগায় এ পর্যন্ত ১৪ বার অ্যাথলেটিকোর মুখোমুখি হয়ে ১৭ গোল করেছেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা হিসাব করলে তালিকাটিতে যোগ হবে আরও তিন গোল। শুধু 'এল ক্ল্যাসিকো'তেই এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন মেসি। অ্যাথলেটিকোর মাঠ ভিসেন্তে ক্যালদেরনে গোল করেছেন পাঁচটি। আর একটি গোল করলেই বার্সার সাবেক স্ট্রাইকার এসকোলার রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। কাতালান ক্লাবটির হয়ে অ্যাথলেটিকোর মাঠটিতে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তিটি এখনও দখলে রেখেছেন এসকোলা। এ মৌসুমে বার্সার খেলা মোট ২৯টি ম্যাচের মধ্যে মেসিকে দেখা যায়নি মোট ১২ ম্যাচে। কিন্তু আর্জেন্টাইনের অভাব খুব বেশি টের পায়নি কাতালান ক্লাবটি। মেসিকে ছাড়া মাত্র দুটি ম্যাচ হেরেছে তারা। সেই সঙ্গে নেইমারও সেরে উঠেছে পেটের পীড়া থেকে। দুই তারকাকেই হয়তো প্রথম একাদশে খেলাতে পারেন বার্সা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। তেমনটি ঘটলে দীর্ঘ ৫৯ দিনের বিরতি শেষে বার্সার প্রথম একাদশের হয়ে মাঠে নামবেন মেসি। গেটাফের বিপক্ষে ইনজুরি থেকে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের ফিটনেস বুঝিয়ে দিয়েছেন মেসি। অ্যাথলেটিকোর প্রথম একাদশ গঠনে সিমিওনের চিন্তাজুড়ে রয়েছে শুধু দলের আক্রমণভাগ। ইনফর্ম স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তার সঙ্গী হিসেবে রাউল গার্সিয়া না কি ডেভিড ভিয়া? গার্সিয়া নিয়মিতই গোলের দেখা পাচ্ছেন। বিপরীতে ভিয়া ভুগছেন ফর্মহীনতায়। কিন্তু সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হওয়া তাতিয়ে দিতে পারে ভিয়াকে। সিমিওনে নিজেও তা জানেন। সে কারণে প্রথম একাদশে কস্তার সঙ্গী হিসেবে ভিয়ারই মাঠে নামার সম্ভাবনাটা বেশি।
১৮ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার তাদের প্রতিপক্ষ এসপানিওল। শিরোপা দৌড়ে নিজেদের দেখতে পেলেও অ্যাথলেটিকো-বার্সার লড়াই নিয়ে রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির কোনো আগ্রহ নেই। তার যুক্তি, 'ফলাফল নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। একসঙ্গে দুটি দলই তো আর হারছে না? তাই পয়েন্ট ব্যবধান কমানোর দায়িত্বটা নিজেদের ওপরই বর্তায়।'

শেষ আটে এক পা রিয়ালের

গোল করে রিয়ালকে প্রথমেই এগিয়ে দেন বেনজেমা
স্প্যানিশ কোপা দেল রে'র কোয়ার্টার ফাইনালের সুবাস পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আসরটির শেষ ষোলর প্রথম লেগে ওসাসুনার মুখোমুখি হয়ে ২-০ গোলের জয় পায় কার্লো অ্যানচেলত্তির দল। প্রথমার্ধে করিম বেনজেমার গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করেন রিয়ালের তরুণ স্ট্রাইকার হোসে রডরিগুয়েজ। লুকা মডরিচের পাস থেকে ১৯ মিনিটের মাথায় খেলার প্রথম গোলটি করেন বেনজেমা। বিরতির পরই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাস থেকে রিয়ালের জয়ের ব্যবধান ২-০ করেন রডরিগুয়েজ। ৭২ মিনিটের মাথায় আরও একটি গোল আদায় করে নিতে পারত স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কিন্তু গ্যারেথ বেলের শট রোনালদোর পায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি রিয়াল। ফিরতি লেগটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী সপ্তাহে ওসাসুনার মাঠে। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে সোমবার মাঠে নামানো একাদশ খেলাননি অ্যানচেলত্তি। সদ্যই বাবা হওয়া ইকার ক্যাসিয়াসকে তিনি ফিরিয়ে আনেন রিয়ালের গোলপোস্টে। মাঝমাঠে মডরিচ এবং ইলারামেন্দির সামনে বেলকে খেলান অ্যানচেলত্তি। আক্রমণভাগে বেনজেমাকে একক স্ট্রাইকার হিসেবে রেখে রোনালদো ও রডরিগুয়েজকে একটু পেছনে খেলান ইতালিয়ান ম্যানেজার। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ বলেন, '২-০ ব্যবধানে জিততে পেরে ভালো লাগছে। যদিও আমরা তিন নম্বর গোলটি পেতে পারতাম। ওসাসুনার মাঠে ফিরতি লেগটি মোটেও সহজ হবে না। কিন্তু জয় নিয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে যাওয়া সবসময়ই আত্মবিশ্বাসের জোগান দেয়।' ১৬ মিনিটের মাথায় অভিনয় করে রেফারিকে বোকা বানাতে চেয়েছিলেন রডরিগুয়েজ। কিন্তু উল্টো হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। তিন মিনিট পরই মডরিচের ফ্রি-কিক থেকে ধেয়ে যাওয়া বলে পা ছুঁইয়ে গোল করেন বেনজেমা। রিয়ালের হয়ে এটা ছিল তার ৯৯তম গোল। ফিরতি লেগে রিয়াল এগিয়ে থাকায় তাদের ভাবনায় এখন কোয়ার্টার ফাইনাল। ওসাসুনার মাঠে সন্তোষজনক ফলাফল পেলে শেষ আটে সম্ভবত আলকোর্কন অথবা এসপানিওলের মুখোমুখি হবে অ্যানচেলত্তির দল। গ্যারেথ বেলের খেলায় সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যানচেলত্তি বলেন, 'বেল খুবই ভালো খেলেছে। প্রতিপক্ষের জন্য সে সবসময়ই বিপজ্জনক। সবাই জানে তার ইনজুরি। কিন্তু দ্রুত ফিট করে তুলতে বেলকে গোটা ম্যাচ খেলানো হয়েছে।'

জকোভিচের চ্যালেঞ্জ নাদাল

(অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরুর আগে শিরোপা নিয়ে এভাবেই পোজ দিলেন দুই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচ ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা) অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ এককের শীর্ষ বাছাই রাফায়েল নাদাল। গত বছর যে ফর্মে কাটিয়েছেন তাতে এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের সেরা দাবিদার। কিন্তু তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নোভাক জকোভিচের। এই সার্ব তারকা ইতিমধ্যে চারবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন। পঞ্চম শিরোপার জন্য তিনি খেলতে নামবেন মেলবোর্ন কোর্টে। যদি জিততে পারেন তা হলে এটা হবে জকোভিচের টানা চতুর্থ শিরোপা। এবার বরিস বেকারকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। বেকারের সাহচর্যই গতবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, 'আশা করছি এ বছর খেতাব ধরে রাখায় বরিস আমাকে সাহায্য করবে।' যদিও বিশ্বের দুই নম্বর টেনিস তারকার নতুন কোচ বরিস বেকার এখনও ছাত্রকে নিয়ে প্র্যাকটিস কোর্টে নামেননি। তারপরও মনোবলের কমতি নেই জকোভিচের। তিনি বলেছেন, 'বরিসকে হেড কোচ হিসেবে পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। আশা করছি সে নিজের অভিজ্ঞতার জোরে আমার মধ্যে সেই মানসিক ধারটা এনে দেবে, যা প্রথম সারির প্লেয়ারদের গ্র্যান্ডস্ল্যামের মতো বড় মঞ্চে চাপের মুহূর্তে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে।'
বরাবরই নাদাল ও জকোভিচের লড়াই অন্য মাত্রায় পেঁৗছে যায়। গত বছর ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন মিস করেছিলেন নাদাল। কিন্তু ইনজুরি কাটানোর পর কোর্টে ফিরে দুর্ধর্ষ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন স্প্যানিশ তারকা। কোর্টে ফিরে ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত খেলা প্রতিটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠেন নাদাল। গত বছর দুটি গ্র্যান্ডস্ল্যামসহ জিতেছেন ১০টি শিরোপা। অষ্টমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। ইউএস ওপেন ছিল নাদালের ১৩তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম। ২০১৩ সালে খেলা ৮২ ম্যাচের ৭৫টিতেই জয় পেয়েছেন নাদাল। দুরন্ত ফর্মের কারণে পুরুষদের টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠতেও নাদালের অসুবিধা হয়নি। এবার তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু করবেন উদীয়মান তারকা বার্নার্ড টমিচের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি পড়তে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা জোয়ান মার্টিন দেল পেত্রোর সামনে। জকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হচ্ছে অখ্যাত লুকাস ল্যাকোর বিপক্ষে। এরপর শেষ আটে তার দেখা হবে স্ট্যানিসলাস ওয়ারিঙ্কার সঙ্গে। বরাবরের মতো মেলবোর্নের তাপমাত্রা এবারও কপালে ঘাম ঝরাবে টেনিস তারকাদের। উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, অস্ট্রেলীয় ওপেন চলাকালীন মেলবোর্নের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে। ফলে এবার গরমের মোকাবেলায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কর্তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোর্টে খেলোয়াড়রা আইস প্যাক, নেক কুলার, অতিরিক্ত তোয়ালের সুবিধা পাবেন। আইভি ড্রিপ নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন চিকিৎসকরাও। দরকার পড়লে ম্যাচও ছোট করে দেওয়া হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চালু করা হচ্ছে 'অস্বাভাবিক বেশি গরম' আইন। ফলে গরমের কারণে ম্যাচ কলড অফও করা যাবে।

তামিম-সিদ্দিকুররা পুরস্কৃত হচ্ছেন আজ

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার প্রদান করা হবে আজ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে ২০১১-১২ দুই বছরের বর্ষসেরা পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে বিজয়ীদের হাতে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৮ জন ক্রীড়াবিদ, পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
২০১১ বর্ষসেরা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা_
এসএ মহসিন ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ) সিদ্দিকুর রহমান (গলফ), মামুনুল ইসলাম (ফুটবল), সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), সালমা খাতুন (মহিলা ক্রিকেট), সাইক সিজার (জিমন্যাস্টিক), আ হ ম মোস্তফা কামাল (সংগঠক), ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (পৃষ্ঠপোষক), বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদ (দাবা) ফাহাদ রহমান, বিশেষ সম্মাননা (অ্যাথলেট) সাইদুর রব।
২০১২ বর্ষসেরা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা_
এসএ মহসিন ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ) তামিম ইকবাল (ক্রিকেট), মামুনুর রহমান চয়ন (হকি), মুশফিকুর রহিম (ক্রিকেট), এনামুল হোসেন রাজীব (দাবা), মাহবুব হারুন (কোচ হকি), সোহাগ গাজী (বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদ, ক্রিকেট), লুৎফর রহমান বাদল (সংগঠক), ওয়ালটন (পৃষ্ঠপোষক), রিয়াজ উদ্দিন আল মামুন (বিশেষ সম্মাননা)।

আমিরের স্বপ্ন

স্বাধীনতা সংগ্রামী ও স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জীবন ও কাজের ওপর ভিত্তি করে একটি ছবি বানাতে চান আমির খান। তার মতে, বর্তমান প্রজন্ম ও বৃহত্তর ভারতবর্ষের কাছে মাওলানা আজাদের কাজ ও আদর্শকে তুলে ধরা দরকার। মাওলানার ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে এপিজে কলকাতা সাহিত্য উৎসবে যোগ দিতে এসে নিজের এই স্বপ্নের কথা জানান তিনি। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হলেন আমিরের প্রপিতামহের ভাই। তাই উৎসবে 'ইন্ডিয়া উইন্স ফ্রিডম' গ্রন্থের লেখক আবুল কালাম আজাদের জীবন ও কাজের ওপর বিশেষ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় বলিউডের ৪৮ বছর বয়সী এই তারকাকে। বক্তব্যের পাশাপাশি ১৯৪৬ সালে নেওয়া মাওলানার একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ পড়ে শোনান তিনি। এদিকে আমিরের টিভি অনুষ্ঠান 'সত্যমেভ জয়তে'র দ্বিতীয় আসর শুরু হবে শিগগিরই।

গোড়ার গলদ দূর করতেই হবে

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের যে বিবর্ণ চিত্র শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা এখন 'ওপেন সিক্রেট'। প্রত্যন্ত গ্রামের রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও আলো ছড়ানোর মানুষ নির্বাচনে কী ধরনের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, কমবেশি সবাই এখন জানেন। মাত্র দুই দশক আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ে উজ্জ্বলতম শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকতার দ্বার অবারিত ছিল। এখন সেখানে দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা এমনকি আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ পাওয়া যায়। বেসরকারি স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে দেড়-দুই দশক আগেও পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ শিক্ষক-প্রার্থীর কাছে 'ডোনেশন' হিসেবে কিছু অর্থ নেওয়া হতো। এর একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের তহবিলেও জমা হতো। কিন্তু এখন শিক্ষক নিয়োগ মানেই কর্তাব্যক্তিদের লাখ লাখ টাকার নগ্ন বাণিজ্য। এভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যেসব 'মানুষ গড়ার কারিগর' আমরা পাচ্ছি, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী ধরনের শিক্ষা দেবেন_ বলাই বাহুল্য। শিক্ষক যেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন, সেখানে এসব 'শিক্ষক' না ধারণ করেন নৈতিকতা, না আছে প্রজ্ঞা। এটা ঠিক যে, এখনও কিছু মেধাবী শিক্ষকতা পেশায় আসছেন। 'যুগের ধর্ম' মেনে অর্থের অনর্থ ও অনিয়ম মেনেই আসছেন। এই কারণে তো বটেই, চারপাশে যখন অমেধাবী সহকর্মীর ছড়াছড়ি দেখেও তাদের মনোবল অটুট থাকার কথা নয়। এই আত্মঘাতী তৎপরতা আমাদের বন্ধ করতেই হবে। আমরা যদি সৎ ও মেধাবী জাতি গঠন করতে চাই, তাহলে গোড়ার এই গলদ যে কোনো মূল্যে দূর করতেই হবে। সমকালের প্রতিবেদনসূত্রে জানা যাচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের শত শত লিখিত অভিযোগ প্রতি মাসে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এগুলোর তদন্ত দিয়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটির সূচনা হতে পারে। এসব অভিযোগ যদি প্রতিকার পায়, তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসবে। ধারণা করা যায়, এমন আরও অনিয়মের অভিযোগ ও ক্ষোভ হয়তো মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পেঁৗছে না। ফলে সময়সাপেক্ষে সব শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই সার্বিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। মনে রাখা জরুরি, আমরা যদি শিক্ষক বাছাইয়ে স্বচ্ছ ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে না পারি, তাহলে শিক্ষার প্রসারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নিছক কাগুজে সাফল্যই জন্ম দিতে থাকবে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই কাম্য

বিএনপি অবরোধের বিকল্প কর্মসূচির কথা ভাবছে_ এমন একটি প্রতিবেদন শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত হয়েছে। এটা সবারই জানা যে, দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিএনপি এবং তার ১৮ দলীয় জোটের মিত্ররা ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বন্ধের দাবি করেছিল। কিন্তু যত কম ভোটই পড়ূক এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যত প্রশ্নই থাকুক, নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন এবং আগামীকাল রোববার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি টানা কয়েক দিন যুগপৎ হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। রোববার থেকে ফের টানা অবরোধ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে বলা চলে যে, এ কর্মসূচি নিছকই নিয়ম রক্ষার ব্যাপার হবে। বিএনপি কিংবা তার জোটের কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক দিনে কার্যত রাজপথে নামেনি। আন্দোলন সফল করে তোলার ক্ষেত্রে মূলত নির্ভর করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহিংস কর্মপন্থার ওপর। এর দ্বারা সরকারকে যতটা না বেগ দেওয়া গেছে, তার চেয়ে ঢের বেশি ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের। শত শত মানুষের প্রাণ গেছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকা ও উপার্জনের অধিকার দারুণভাবে বিপন্ন হয়েছে। এটা ঠিক যে, সরকারের তরফে ঢালাও গ্রেফতারসহ দমন-পীড়নের কৌশল অনুসরণ করায় বিরোধী দলের কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই পথে নামতে পারেনি। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, এ ধরনের আন্দোলন কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থনও আগের মতো মিলছে না। কোথাও তাদের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে এসেছে_ এমন নজির মিলছে না। অথচ আমরা জানি, বিএনপি এবং বিশেষ করে তার চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। স্থানীয় সংস্থাগুলোর নির্বাচনেও মিলেছে এর প্রমাণ। কিন্তু দিনের পর দিন আন্দোলন পরিচালনা করেও তারা কেন কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেল না? বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর সাড়ে দিন দশক অতিক্রান্ত হয়েছে। দলে এখন অভিজ্ঞ অনেক নেতা রয়েছেন। তারা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনগণের সমর্থন আদায়ে কার্যকর পথ খুঁজে পাবেন_ এটাই আমরা আশা করব। সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া চলমান অবরোধ স্থগিত করে রোডমার্চ ও জেলাগুলোতে সমাবেশের ঘোষণা দেবেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচিতে তিনি নিজেও অংশ নেবেন। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী হরতাল-অবরোধ ও সহিংস বিভিন্ন কর্মসূচির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ রোডমার্চ ও সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে জনগণ তাকে স্বাগত জানাবে বলেই আমাদের ধারণা। এ ধরনের কর্মসূচিতে যেন বাধাবিঘ্ন না আসে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। অন্যদিকে বিরোধীদেরও মনে রাখতে হবে_ হিংসার পথে সরকারের পতন ঘটানো যায় না। কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখতে তাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। দশম সংসদে নতুন বিরোধী দল কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, সেটা একেবারেই স্পষ্ট নয়। সরকারকে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কার্যকর বিরোধী শক্তি রয়ে গেছে সংসদের বাইরে। অতএব, তাদের কথা সরকারকে শুনতে হবে এবং একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে সংলাপেও বসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ঐকমত্যের কথা বলা শুরু হয়েছে। বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দলকে বাইরে রেখে এ লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে না।

শিশুর কান্নায় দাঙ্গার প্রতিকার by নাদিম মজিদ

শিশুর সঙ্গে অভিভাবকের দ্বন্দ্ব, নারীকে হয়রানি, সন্ত্রাস, সাইবার আক্রমণ, বড় বড় যুদ্ধকে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যায় মানুষ অনেকদূর এগিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি শিশুর কান্নার প্রক্রিয়ার সঙ্গে দাঙ্গা, রাজনৈতিক সংকট, এমনকি লুটেরাদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন। এগুলোকে ব্যাখ্যা ও প্রতিরোধ, প্রতিকারের জন্য গবেষকরা বিজ্ঞানের বলবিদ্যার উদ্গতিবিদ্যা শাখাকে কাজে লাগিয়েছেন। এর সাহায্যে বের করা সূত্রগুলোকে পাওয়ার বা শক্তিনীতি বলে অভিহিত করেছেন তারা বিজ্ঞানীরা মানুষের নানা ক্ষেত্রে সংগ্রামগুলোকে ব্যাখ্যায় বিভিন্ন তত্ত্ব দাড় করিয়েছেন। বর্তমানে এ সম্পর্কিত বিচ্ছিন্ন সব তত্ত্বগুলোকে সমন্বয় সাধনের ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করেছেন। এটা করতে গিয়ে তারা প্রায় ১ লাখ ঘটনাকে হিসেবের মধ্যে এনেছেন। এ কাজ সম্পন্ন করার সময় তারা মানুষের নির্দয়তা এবং বোঝাপড়ার বিষয়টিকে গাণিতিক মডেলের মধ্যে এনেছেন। বোঝাপড়ার সময় মানুষ ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে কী ভাবছে তার দিকেও বিশেষ নজর রেখেছেন।
গবেষকরা শিশুর কান্নাকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একটি শিশু পিতা-মাতার বিরুদ্ধে তার কান্নাকে ধাপে-ধাপে বৃদ্ধি করে। তারা এ কান্নাকে পোল্যান্ডের দাঙ্গার সঙ্গে তুলনা করেছেন। আশির দশকে পোল্যান্ডে সংঘটিত হওয়া দাঙ্গা ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং তা তৎকালীন শক্তিধর রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। শিশু এবং দাঙ্গাকারী উভয় ক্ষেত্রে তারা অতিদ্রুত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ বৃদ্ধি করে। কিন্তু দেখা যায়, এ আক্রমণ প্রতিরোধে পিতা-মাতা বা সরকারের যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তারা তা করে না। অথবা তারা প্রতিহত করতে অসমর্থ হয় অথবা অনিচ্ছুক থাকে।
এ গবেষণাকাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেইল জনসন। তিনি তাদের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, "আমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশু এবং তাদের বাবা-মাকে গবেষণা কাজের জন্য বাছাই করে নিয়েছিলাম। যখন শিশুরা তাদের কান্না ধাপে-ধাপে বৃদ্ধি করে অথবা কমায় তখন তাদের বাবা-মায়ের করা প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমরা গবেষণা করেছি। বিষয়টিকে ভালোভাবে বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার কাঠামোর ওপর সাইবার আক্রমণের কথা আমরা বিবেচনা করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাদের ওপর হওয়া সাইবার আক্রমণ বন্ধ করে, এর সঙ্গে শিশুর বাবা-মায়ের আচরণ ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। অথবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ার দিকে তাকাতে পারি। সেখানে 'আরব বসন্ত' শুরু হলে সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার দমন-পীড়ন চালিয়ে কীভাবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তাও উদাহরণের অংশ হতে পারে।"
ুতাদের গবেষণায় আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি বিষয়ের মাঝে দারুণ মিল পাওয়া গেছে। যেমন কলম্বিয়ার গেরিলারা এক সময় ম্যাগডেলেনাকে হিংস্র আক্রমণের মাধ্যমে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। সত্যিকার অর্থে এ ঘটনা আধুনিক বিশ্বের সব যুদ্ধকে প্রতিনিধিত্ব করে। ইতিমধ্যে আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও একই গতিবিদ্যা ব্যবহৃত হয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক স্টক কোম্পানি লুটকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলনা করা চলে যুক্তরাষ্ট্রের হাইটেক ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে বিদেশি বিভিন্ন দলের সাইবার আক্রমণের, যা শিশুর সঙ্গে করা বাবা-মায়ের কাজের অনুকরণ।
তাদের গবেষণায় উদাহরণ হিসেবে এসেছে বিতর্কিত 'রক্তাক্ত রোববার'-এর কথা। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছিল। উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী গেরিলা দল আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির আক্রমণ ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে চরম আকার ধারণ করলে তা দমনের জন্য সেখানকার জনসাধারণের বিক্ষোভের ওপর অভিযান চালায় ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী। তখন কৌশলগত গুরুত্বের নতুন প্রশ্ন ওঠে এসেছিল। সে ঘটনাও গণিতের সূত্র তৈরির সময় বিবেচনা করা হয়েছিল।
উপরের তিনটি ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাদের এক লাখ ঘটনা বিশ্লেষণের ফলাফল। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তার সর্বশেষ পরিণতি কী হতে পারে তার পূর্বাভাস রয়েছে এসব ঘটনায়। আবার এসব ঘটনার সম্মুখীন হলে তা কীভাবে প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করা যাবে, গণিতের সূত্রগুলোর সাহায্যে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। অপরাধীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করা হবে, নাকি অপরাধীর সমস্ত সামর্থ্যকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এসব ঘটনা কৌশলগতভাবে কাজে লাগবে। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা সূত্রে পৃথকভাবে মানুষ আক্রমণ বা আগ্রাসন চালালে যেমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, আবার দলবদ্ধভাবে আক্রমণ বা আগ্রাসন চালালে কী কী করণীয় থাকতে পারে, তারও ব্যাখ্যা রয়েছে। মানুষের অপরাধমূলক প্রবৃত্তি যেমন বাস্তব পৃথিবীতে চলে, পাশাপাশি চলে অনলাইন জগতে। তাদের এ গবেষণাকর্ম প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে।
সূত্র : নেচার , সায়েন্স ডেইলি

চন্দনাইশের কুঁচে যাচ্ছে চীনে by নোমান আবদুল্লাহ / শহীদ উদ্দীন চৌধুরী

দেখতে সাপের মতো, কিন্তু সাপ নয়। আসলে এটি মাছ। নাম কুঁচে। ইংরেজি নাম ইল ফিশ। সাপের মতো দেখতে এ মাছের কদর নেই এ দেশে। তবে খালে-বিলে বেশি থাকায় আমাদের দেশে এটি পাওয়া যায় বেশি। তাই এটি এখন রফতানি হচ্ছে সুদূর চীনে। আর চীনে রফতানি করা এ কুঁচের সিংহভাগই যাচ্ছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা থেকে। স্থানীয় বাজারের আড়াইশ' টাকার কুঁচে ঢাকা থেকে বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়! ঢাকার অন্যতম কুঁচে রফতানিকারক উইং কমান্ডার (অব.) শফিকুল আলম বলেন, 'আমাদের দেশে অপ্রচলিত হলেও চীনে কুঁচের চাহিদা প্রচুর। আর চীনে চন্দনাইশের কুঁচের আলাদা কদর রয়েছে। প্রতি কেজি কুঁচে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।' সরেজমিন দেখা যায়, চন্দনাইশ পৌর সদর এলাকার জোয়ারায় হারালা বিলে গ্রামের শতাধিক শিকারি প্রতিদিন কুঁচে ধরেন। শিকারিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিদিনই তারা পেতে রাখেন কয়েকশ' ফাঁদ। কেঁচো দিয়ে ডোবার পানিতে পাতা হয় এসব ফাঁদ। কেঁচো খেতে ঢুকলেই ফাঁদে আটকা পড়ে কুঁচে। পরে ফাঁদ তুলে নিয়ে সংগ্রহ করা হয় কুঁচে। বড় ড্রামে পানি দিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়। সংরক্ষিত কুঁচে প্রতি সপ্তাহেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায় আড়তদারদের কাছে। প্রতিদিন গড়ে দুইশ' মণ কুঁচে চন্দনাইশে ধরা পড়ে বলে জানান শিকারিরা। আর প্রতি কেজি কুঁচের মূল্য আড়াই থেকে তিনশ' টাকা। লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীও ঝুঁকছেন কুঁচে শিকারে। তাই মাত্র এক বছর আগে দশ-বারজন কুঁচে শিকারি থাকলেও এখন শিকারি সংখ্যা শ'য়ের ওপরে। স্থানীয় কুঁচে শিকারি বুদ্ধিশ্বর বলেন, 'প্রতিদিন গড়ে জনপ্রতি আট কেজি কুঁচে পাওয়া যায়। আর প্রতি কেজি আড়াইশঁ থেকে তিনশ' টাকায় বিক্রি করা যায়। ক্রমেই লাভজনক পেশা হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এখন এ পেশায় ঝুঁকছেন।' আরেক শিকারি বল্লভ বলেন, 'আর কোনো পেশায় দৈনিক দুই হাজার টাকা আয়ের সুযোগ নেই। তাই এ পেশাই বেছে নিয়েছি।'
কুঁচে কী আমাদের দেশে কুঁচে একটি অপ্রচলিত জলজ প্রাণী। পুকুর, খালবিল, ডোবায় এটি পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে এটিকে সাপ হিসেবে অনেকেই ভুল করেন। তাই অধিকাংশ সময় ধরা পড়ার পরই সেটি মেরে ফেলা হয়। কিন্তু চীনসহ বিভিন্ন দেশে এটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম গাজী আসমত বলেন, ' কুঁচে একটি প্রোটিনযুক্ত মৎস্য গোত্রের প্রাণী। এটি একটি হালাল খাদ্য। মানুষের মাঝে ভুল ধারণা থাকায় এটি ধরার পর মেরে ফেলা হয়।' দেশে এটির বাণিজ্যিক চাষ করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চন্দনাইশের কুঁচে যাচ্ছে চীনে
আমাদের দেশে অপ্রচলিত হলেও চীনে যাচ্ছে চন্দনাইশের কুঁচে। প্রতি কেজি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে চন্দনাইশের আড়াইশ' টাকার কুঁচে। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক (মান নিয়ন্ত্রণ) মোহাম্মদ ছালেহ আহমদ বলেন, 'চন্দনাইশের কুঁচের আলাদা কদর রয়েছে চীনে। এখানকার ৯০ শতাংশ কুঁচেই রফতানি হয় চীনে। পাশাপাশি তাইওয়ানে এর চাহিদা রয়েছে।' কুঁচের ইতিবাচক বিষয়গুলো প্রচার করা গেলে আরও অনেক দেশে এটি বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
আড়াইশ' টাকার কুঁচে আড়াই হাজার টাকা!
কুঁচে শিকারিরা সাধারণত কুঁচে ধরে তা বিক্রি করে দেন স্থানীয় বাজারে। কেজিপ্রতি আড়াইশ' থেকে তিনশ' টাকা দরে বিক্রি হয় এ কুঁচে। পরে স্থানীয় পাইকাররা এগুলো পাঠিয়ে দেন ঢাকায় আড়তদারদের কাছে। সেখান থেকে রফতানিকারকরা কেজিপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেন চন্দনাইশের এ কুঁচে। ঢাকার উত্তরায় কুঁচের আড়তদার আনোয়ার ব্রোকার হাউসের মালিক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'স্থানীয় শিকারিদের কাছ থেকে আড়াইশ' থেকে তিনশ' টাকা দিয়ে আমরা কুঁচে সংগ্রহ করে থাকি। পরে তা কিছু বেশি দামে রফতানিকারকদের কাছে বিক্রি করে দিই। রফতানিকারকরা তা উচ্চমূল্যে চীন-তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে দেন।' ঢাকার কুঁচের অন্যতম রফতানিকারক উইং কমান্ডার (অব.) শফিকুল আলম বলেন, 'আমাদের দেশে অপ্রচলিত হলেও চীনে কুঁচের চাহিদা প্রচুর। সেখানে প্রতি কেজি কুঁচে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় রফতানি করা হয়।'
কদর বাড়ছে চন্দনাইশের কুঁচের
ক্রমেই বিদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে চন্দনাইশের কুঁচের। দেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, সিলেটে কুঁচে পাওয়া গেলেও চন্দনাইশের কুঁচের রয়েছে আলাদা কদর। তাই অন্যান্য এলাকার কুঁচে কেজিপ্রতি দেড় থেকে দুইশ' টাকায় বিক্রি হলেও চন্দনাইশের কুঁচে বিক্রি হয় আড়াই থেকে তিনশ' টাকায়। ঢাকার আড়তদার প্রদীপ বলেন, 'অন্যান্য এলাকার চেয়ে বাইরে চন্দনাইশের কুঁচের কদর বেশি। তাই দাম বেশি হলেও এটিকেই তারা পছন্দ করেন।'

বেঁচে থাকতে চাই ম্যাডোনা

আই মেড ইট থ্রো দি ওয়াইল্ডারনেস...। বিখ্যাত এই গানটি কার গাওয়া সেটা নিশ্চয়ই নতুন করে বলে দিতে হবে না। তারপরও বলি, তিনি ম্যাডোনা। বলতে পারেন মায়াবী ম্যাডোনা। মায়াবী এই গায়িকার পর্দার আড়ালের গল্প শোনাচ্ছেন শর্মিলা কুণ্ডু স্টেজে ম্যাডোনা কেমন? প্রশ্ন করলে এক কথায় জবাব মিলবে_ 'বিদ্যুৎ'। সত্যিই তাই। স্টেজে বা গানে ম্যাডোনার ঝংকার ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যুতের মতোই। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত এই মানুষটির রয়েছে বিশেষ এক ফোবিয়া। যার নাম ব্রনটোফোবিয়া। এই ফোবিয়ার কারণে বিদ্যুতের ঝলকানিকে প্রচণ্ড ভয় ম্যাডোনার। ম্যাডোনাকে আমরা গায়িকা পরিচয়েই চিনি। এর বাইরে তিনি একজন অভিনেত্রী, লেখক, গীতিকার এবং ডিরেক্টরও বটে। ম্যাডোনার একটি মাত্র গানের কপি বিক্রি হওয়ার রেকর্ড আছে ২০০ মিলিয়ন পর্যন্ত। তবে ছোটবেলায় এই গায়িকার ইচ্ছা ছিল ব্যালে ডান্সার হওয়ার। ব্যালে ডান্সে ভর্তি হওয়ার পর পেয়েছিলেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ডান্স স্কলারশিপ। ছিলেন রোচেস্টার অ্যাডাম হাইস্কুলে চিয়ার লিডিং টিমেও। শেষতক খ্যাতি আসে গানে। বিশ্বজুড়ে হইহই রইরই তোলা ম্যাডোনাকে ১৯৯৯ সালে পিপলস ম্যাগাজিন একটি তকমা দেয়। সেটি হলো সবচেয়ে খারাপ পোশাকের অধিকারী। তবে রঙের ক্ষেত্রে কমলাতে ব্যাপক অ্যালার্জি এই গায়িকার। এই রঙটা নাকি দু'চোখে দেখতে পারেন না তিনি। সেই ১৫ বছর বয়স থেকে ম্যাডোনা ভেজিটেরিয়ান। বাড়িতে ম্যাডোনাকে ডাকা হতো 'লিটল ননি' বলে। ম্যাডোনার পুরো নাম 'ম্যাডোনা লুইস সিকোনি'। এটি রাখা হয়েছিল তার মায়ের নাম অনুসারে। একই পরিবারে দুটি ম্যাডোনা। ফলে ডাকতে গিয়ে বাধত ঝামেলা। তাই তখন পরিবারের সবাই এবং বন্ধুরা মিলে ছোট্ট ম্যাডোনার নাম দিয়ে দিল লিটল ননি। ম্যাডোনার জন্ম কোনো ধনী পরিবারে নয়। বরং বেশ কষ্টের মধ্য দিয়েই তার বড় হওয়া। এক সময় তিনি হোটেলে খাবার পরিবেশনের কাজও করতেন। ম্যাডোনা কোনো টাকার সমস্যায় পড়লে বেশি বেশি কাজ করতেন, অন্য ওয়েটারদের মতো বেশি বেশি টিপস পাওয়ার আশায়।
গার্ডিয়ান একবার জানায়, আমেরিকার সব লোকাল টিভি, পত্রিকা বা ট্যাবলয়েড যখন তাদের নতুন সাংবাদিকদের ট্রেনিং দেন তখন তাদের শিখিয়ে দেন, যেন ম্যাডোনাকে 'দি ম্যাটেরিয়াল গার্ল' বলে উল্লেখ করা হয়। কারণ ম্যাডোনার একটি একক বিখ্যাত গান হলো 'ম্যাটেরিয়াল গার্ল'। ম্যাডোনা এখন কতটা বিখ্যাত তা সবাই জানি। আর তিনি এই খ্যাতিটাকে উপভোগ করেন। তিনি বলেন, 'আমি মার্টিন লুথার কিংবা, মহাত্মা গান্ধী বা জন লেনন হতে চাই এবং আমি বেঁচে থাকতে চাই।'

পাটিগণিতের নতুন সূত্র উদ্ভাবক সাজ্জাদ by নাদিম মজিদ

সূত্র উদ্ভাবন সম্পর্কে গণিত পরিক্রমার সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, 'সাজ্জাদ আলম অনুপাত-সমানুপাতের সব অঙ্ক করার জন্য আরও ১৪টি সূত্র উদ্ভাবন করেছে। আমি আশা করছি, সাজ্জাদ ভবিষ্যতে গণিতের জন্য আরও বেশি পরিশ্রম করবে। দেশের তরুণ সমাজ তাকে দেখে গবেষণায় আকৃষ্ট হবে।' বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময় সাজ্জাদ আলম সময়ের গুরুত্ব ভালোভাবে টের পান। অল্প সময়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। সময়ের অভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না। আবার তাড়াহুড়ার কারণে অনেক সময় ভুল উত্তর দিয়ে আসতে হয়। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে নেগেটিভ মার্কিং। উত্তর ভুল হলে কাটা যাবে নম্বর। এসব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তার মনে হলো, ইস! যদি কম সময়ে নির্ভুলভাবে বেশি উত্তর করা যেত! এমন ভাবনা থেকে একসময় উদ্ভাবন করেন পাটিগণিতের অনুপাত-সমানুপাত বিষয়ে ১৪টি সূত্র। সূত্রগুলোর অপরিহার্যতা এবং মৌলিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাংলাদেশ গণিত সমিতির পক্ষ থেকে প্রকাশিত 'গণিত পরিক্রমা'র ২১শ' খণ্ডে এগুলো প্রকাশ করা হয়।
সাজ্জাদ আলম তার কাজ সম্পর্কে বলেন, 'ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমি সময়স্বল্পতা বুঝতে পারি। তাই কম সময়ে কাজ করার জন্য পদ্ধতি বের করতে মনোযোগী হই। পাটিগণিতের অনুপাত-সমানুপাত অধ্যায়ের অঙ্কগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের পাঠ্যবইয়ে তিনটি সূত্র প্রচলিত আছে। সূত্রগুলো লিখেছেন গণিত সম্রাট যাদব। এ সূত্রগুলো দিয়ে অনুপাত-সমানুপাতের সব অঙ্ক করা যায় না। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে আমি কাজ শুরু করি। ২০১১ সালে আমি এ অধ্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আরও ১৪টি সূত্র উদ্ভাবন করি। আগের তিনটি সূত্রের সঙ্গে এ ১৪টি সূত্র যোগ করে অনুপাত-সমানুপাতের সব অঙ্ক সমাধান করা যায়।' বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তির। এখন মানুষ হাতে লেখার চেয়ে কম্পিউটারে লেখে বেশি। তাই সূত্র উদ্ভাবন করে বসে থাকেননি সাজ্জাদ। এ সূত্রগুলোকে এমএস এক্সেলে ব্যবহারের উপযোগী কি-না তাও পরীক্ষা করে দেখেছেন। প্রচলিত তিনটি সূত্র এমএস এক্সেলে ব্যবহারের উপযোগী না হলেও তার সূত্রগুলো ব্যবহারের উপযোগী।
সাজ্জাদ সূত্র উদ্ভাবন করে বসে থাকেননি। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশ গণিত সমিতি থেকে স্বীকৃতি পান। তিনি বলেন, আমি সূত্র উদ্ভাবন করে আমাদের করিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুখতার হোসেনকে দেখাই। স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি আমাকে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ধানমণ্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গেলে তারা সূত্রগুলোর স্বীকৃতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তারপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে যাই। সেখানে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম স্যার আমার সূত্রগুলো দেখেন। তিনি আমার কাছ থেকে সূত্রগুলোর এক কপি রাখেন এবং আমাকে সূত্রগুলো বাংলাদেশ গণিত সমিতিতে জমা দিতে বলেন। ২০১১ সালে সমিতিতে জমা দেওয়ার পর ২০১২ সালে সমিতির পত্রিকা 'গণিত পরিক্রমা'র সম্পাদক শামসুর রহমান স্যার আমাকে সূত্রগুলো গ্রহণ করার কথা বলেন। ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে 'গণিত পরিক্রমা'র ২১শ' খণ্ডে তা প্রকাশ করা হয়।'
তার সূত্র উদ্ভাবন সম্পর্কে গণিত পরিক্রমার সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, 'সাজ্জাদ আলম অনুপাত-সমানুপাতের সব অঙ্ক করার জন্য আরও ১৪টি সূত্র উদ্ভাবন করেছে। আমি আশা করছি, সাজ্জাদ ভবিষ্যতে গণিতের জন্য আরও বেশি পরিশ্রম করবে। দেশের তরুণ সমাজ তাকে দেখে গবেষণায় আকৃষ্ট হবে।' সাজ্জাদ আলম ১৯৯০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তার বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রহরী। আর্থিক সমস্যার কারণে তার পড়াশোনা চলছে থেমে থেমে। ২০০৮ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে পড়াশোনার পাশাপাশি করেন টিউশনি। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ২০১০ সালে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে করেছেন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্স। বর্তমানে তিনি ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রথম সেমিস্টারে পড়ছেন। গণিত সম্রাট যাদবের উত্তরসূরি সাজ্জাদ আলম তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, 'আমি একটি মানসিক হাসপাতাল করতে চাই, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে। আমি অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী দেখেছি, যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আর সুস্থ হয়নি। দারিদ্র্যের কারণে তাদের পরিবারের সুচিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। হয়তো তারা সুস্থ হলে দেশ তথা বিশ্বের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে পারত। আমি নিজেও এসএসসি পাস করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহ যদি সুস্থ না করতেন, তাহলে সূত্র উদ্ভাবন করতে পারতাম না। যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর কিছু করতে চেষ্টা করে যাব। সেক্ষেত্রে মানুষের জন্য কল্যাণকর কিছু করার জন্য সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা আছে।'
তরুণ প্রজন্মের কাছে সাজ্জাদের কাজ হতে পারে একটি দৃষ্টান্ত। গবেষণা ও উদ্ভাবনে তরুণরা নিজেদের নিয়োজিত রাখলে সুফল পাবে বাংলাদেশ। সেটা হতে পারে গণিতের নতুন সূত্র অথবা কল্যাণকর যে কোনো আবিষ্কার

বিশেষ অভিযানে আটক ১৪২

নাশকতা ও নির্বাচনী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪২ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়। ব্যুরো, অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর_
কুমিল্লা : জেলার ১৮ দলীয় জোটের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে বিএনপির ৫, জামায়াত ও শিবিরের ৫ নেতাকর্মী রয়েছে।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) :ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বাজার থেকে আটক করেছে।
পঞ্চগড় :দেবীগঞ্জে তিন জামায়াত এবং এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো_ ইউনিয়ন জামায়াতের জাবেদ আলী, ফরহাদ হোসেন রাহাত, নুর আলম এবং বিএনপিকর্মী মো. মানিক।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) :রেলপথে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো মৃগমারী গ্রামের খায়রুল ইসলাম, গোলাপ, গোলাম মোস্তফা, আ. গণি, মিজানুর, রিপন ও তাজু।
কুড়িগ্রাম :৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার ১০টি থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের কর্মী।
বাঘা (রাজশাহী) :বিএনপি-জামায়াতের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। তারা হলো- শাহেদুল ইসলাম, ইমাজ উদ্দীন, ইয়াকুব আলী ও মোশাররফ হোসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীকে-গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নাম জানা যায়নি।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) :গোবিন্দগঞ্জে বৃহস্পতিবার রাতে ১৮ দলীয় জোটের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
রংপুর :মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে যৌথ বাহিনী ৪ বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
নড়াইল :বিএনপি-জামায়াতের তিন কর্মী-সমর্থককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন শাহনেওয়াজ আলী, নাজিবুর রহমান ও মিকাইল মোল্যা।
সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) :উপজেলার জামায়াতকর্মী ডা. হাসান আলী সরকারকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করেছে পুলিশ।
কেশবপুর (যশোর) :৫ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তারা হলেন বেলোকাটি গ্রামের আবদুল মান্নান, নারায়ণপুর গ্রামের তোতা মোড়ল, মহাদেবপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন এবং বেগমপুর গ্রামের আহাদুল আহমেদ।
সিলেট :সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) আওতাধীন ৬ থানা এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে কোতোয়ালি ও জালালাবাদ থানা ৩ জন করে, বিমানবন্দর, শাহপরান ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ একজন করে গ্রেফতার করে।
শেরপুর :শ্রীবরদী পৌর শহরের পোড়াগড় এলাকা পুলিশ শুক্রবার বিকেলে হাবিবুর রহমান (৩০) নামে এক শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) :পার্বতীপুরে অবরোধের গাছকাটার মামলায় আবদুল আলিম নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধা :৪ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৮ দলের ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) :গাইবান্ধা-৫ আসনের বিএনপির প্রয়াত এমপি মতিউর রহমান টুকুর ছেলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল মিঠুকে শিমুলতাইড় গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর :জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বরিশাল :মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল হক হারুন, লস্কর নুরুল হক, আনিসউদ্দিন শহীদ, নিজামুল ইসলাম, কোহিনুর বেগম প্রমুখ। সকালে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত ও সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক।
সিলেট :সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতির জনকের সোনার বাংলাকে আজ একটি চক্র ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দেশে জামায়াত-শিবির চক্রকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত করছে। আবদুুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শফিকুর রহমান চৌধুরী, সুজাত আলী রফিক, বিজিত দে, আবদুুল খালিক প্রমুখ।
রাজশাহী :দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন নগর আওয়ামী লীগ নেতারা। বিকেলে মিছিল বের করে মহানগর আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ বজলুর রহমান। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন রাবির সাবেক উপাচার্য ও জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর আবদুল খালেক।
পাবনা :বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে পাবনায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মুশফিকুর রহমান, প্রফেসর শামীম রেজা, প্রক্টর কামরুজ্জামান প্রমুখ।
রংপুর :জেলা আওয়ামী লীগ দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল প্রমুখ।
নাটোর/বড়াইগ্রাম :সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতারা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাজেদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহাদ আলী সরকার, সিরাজুল ইসলাম, রত্না আহমেদ, নাসিমা বানু প্রমুখ। অন্যদিকে বড়াইগ্রামে আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান, গৌরপদ মণ্ডল, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
বানারীপাড়া (বরিশাল) :দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র শীলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি একেএম ইউসুফ আলী, মাহমুদ হোসেন মাখন, মু. মুন্তাকিম লস্কর কায়েস প্রমুখ।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) :বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন, রঞ্জু মুখার্জি, রফিকুল ইসলাম, সুশেন বর্মণ, বাবুল গাঙ্গুলী প্রমুখ।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) :উপজেলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের পশ্চিমপাড়ার কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাবুল হাজরার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যুবলীগের আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান, নারায়ণ চন্দ্র দাম, বাবলু হাজরা, নজরুল ইসলাম মন্নু ও হায়দার।
বরগুনা :জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর কবির। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা, জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর :শহরের বাগবাড়ির জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নুরুল হুদা পাটোয়ারি, শ্যামল চন্দ্র চক্রবর্তী, কামরুল হাসান ফারুক, কাজী বাবলু, আয়েশা ইসলাম প্রমুখ।
দাকোপ (খুলনা) :উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিবপদ পোদ্দারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন। বক্তব্য রাখেন শেখ আবদুল কাদের, পঞ্চানন মণ্ডল, অধ্যাপক দুলাল রায়, গোলাম হোসেন শেখ, সনত কুমার বিশ্বাস, শেখ শফিকুল ইসলাম আক্কেল প্রমুখ।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) :উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক আমজাদ হোসেন, আ. ওহাব সরকার, সৈদুল আলম শান্তু, রুকসানা বারী রুকু এতে বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে বাদ জুমা শহরের ওভারব্রিজ মসজিদে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সিরাজগঞ্জ :জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে দিবসের শুরুতে পতাকা উত্তোলন, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দুপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মোস্তফা কামাল খান, আবু ইউসুফ সূর্য, বিমল কুমার দাস, আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেন আলী হাসান, ইসহাক আলী, দানিউল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দুমকী (পটুয়াখালী) :পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে একাডেমিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামসুদ্দীন। পরে যথাক্রমে নীল দল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, কর্মচারী কল্যাণ ক্লাবসহ অন্যান্য সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। আলোচনা সভায় প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামসুদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ।
গৌরনদী (বরিশাল) :উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট সেন্টুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুল হক। বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দিন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা খান শামছুল হক, মুনসুর সিপাহী, নিতাইলাল চক্রবর্তী, ডা. শান্তিরঞ্জন সোম, মো. আলী প্রমুখ।

সারাদেশে প্রতিবাদ অব্যাহত

(সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বরিশাল :শুক্রবার অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উদীচী বরিশালের সভাপতি বিশ্বনাথ দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যাল, মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন, নজরুল ইসলাম চুন্নু, জীবনকৃষ্ণ দে, কাজল ঘোষ, আজমল হোসেন, পাপিয়া জেসমিন, কাজী সেলিনা, এ কে আজাদ, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
চট্টগ্রাম :সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশ করে আবৃত্তি সংগঠন প্রমা। এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম, খেলাঘর, ঐকতান সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, নরেন আবৃত্তি একাডেমি, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল, সুচয়ন ললিতকলা কেন্দ্র, নির্মাণ আবৃত্তি দল, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তরুণ উদ্যোগ, ঐকতান পরিবার, চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র, চট্টগ্রাম আবৃত্তি একাডেমি, জনউদ্যোগ, যুবমৈত্রী, ছাত্রমৈত্রী, সংশপ্তক।
মাদারীপুর :সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মাদারীপুর জেলা শাখা এবং সমমনা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক দল। শহীদ মিনার এলাকায় ডা. রেজাউল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান, খান মোহাম্মদ শহীদ, রতন কুমার দাস, অধ্যাপক তপন ভৌমিক, সালাউদ্দিন খান সালু, ডা. আলাউদ্দিন সিং প্রমুখ।
ফরিদপুর :প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে সুহৃদ সমাবেশ, বন্ধুসভা, টিআইবি-সনাক, ইয়েস গ্রুপ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা, উদীচী, ফুলকি, রাসিন, খেলাঘর, মহিলা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, জেলা বিএনপি, জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাসানউজ্জামান, জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, ড. বিপ্লব বালা প্রমুখ।
দিনাজপুর :প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় মহিলা পরিষদ দিনাজপুরের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে জাতীয় মহিলা পরিষদ দিনাজপুর শাখার সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা, পরিমল চক্রবর্তী, রেজাউর রহমার প্রমুখ অংশ নেয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :মানববন্ধন করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মো. হেলাল উদ্দিন, আমানুল হক সেন্টু, আল-মামুন সরকার প্রমুখ।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) :উপজেলার ভাঙ্গারহাটে 'কোটালীপাড়াবাসী' এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। দুপুরে এ মানববন্ধনে লালমোহন বিশ্বাস, রেনুকা বিশ্বাস, নিখিল দত্ত, অমৃত হালদার, সর্বানন্দ বৈদ্য বক্তব্য রাখেন।
সুনামগঞ্জ :মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আলফাত স্কয়ারে সকালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুটি সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন অংশ নেন।
সিরাজগঞ্জ :উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম হোসেন আলী হাসান, বিমল কুমার দাস, সুকুমার চন্দ্র দাস, আসাদ উদ্দিন পবলু, মঈনুল ইসলাম লিমন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রাজবাড়ী :সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা, জ্যোতি শংকর ঝন্টু প্রমুখ।
নড়াইল :উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিকেলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন খন্দকার শওকত, মলয় কুণ্ডু, শরফুল আলম লিটু, ধ্রুব দাম, সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।
পঞ্চগড় :মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন। শহরের শেরেবাংলা মোড়ের পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধন করে তারা।
প্রতিবাদ সভায় অর্জুন কুমার ভৌমিক, রেজাউল করিম, আনোয়ার সাদাত সম্রাট, এরশাদ হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
গোপালগঞ্জ :গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতপাড় শহীদ স্মৃতিসৌধ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা নির্মলেন্দু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিধান চন্দ্র রঙ্গ, শিক্ষক নিরঞ্জন গোলদার, গিরিশ চন্দ্র মণ্ডল, বাদল মণ্ডল, সন্তোষ বিশ্বাসসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
শেরপুর (বগুড়া) :বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পৌর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বরেণ চন্দ্র স্যানালের সভাপতিত্বে মজিবর রহমান মজনু, মুক্তিযোদ্ধ আবদুস সাত্তার, গোলাম ফারুক, আহসান হাবিব আম্বীয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
যশোর :কালো পতাকা মিছিল করেছে উদীচী যশোর। আজ সকলে উদীচী কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়। শহর প্রদক্ষিণকালে মিছিলকারীরা চাঁপাতলাসহ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এদিকে একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
কক্সবাজার :কক্সবাজারে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কক্সবাজার। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কক্সবাজার জেলার সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নজিবুল ইসলাম, সংগঠক তাপস রক্ষিত, ফরিদুল আলম, আবুল কাসেম প্রমুখ।
কুড়িগ্রাম :কুড়িগ্রামে কালো পতাকা মিছিল, মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বানে সকালে কালো পতাকা মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
শ্যামল ভৌমিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম টুকু, আব্রাহাম লিংকন, সফি খান, রাশেদুজ্জামান বাবু, মানিক চৌধুরী প্রমুখ।

মার্কিন সেনাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে

সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন গোপন তথ্য ফাঁস করায় তা বিশ্বব্যাপী মার্কিন সেনাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। পেন্টাগনের এক গোপন প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করেছেন তারা। এদিকে এডওয়ার্ড স্নোডেন হুইসেল ব্লোয়ার বা নায়ক নন বরং ভিলেন বলে মন্তব্য করেছেন এফবিআই প্রধান জেমস কমে। খবর এএফপি ও বিবিসির। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসে যুক্তরাষ্ট্রের কী ক্ষতি হতে পারে অভিজ্ঞ আইন প্রণেতাদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত মতামত নিয়ে ওই গোপন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে পেন্টাগন। সূত্র জানিয়েছে আইন প্রণেতারা মনে করছেন, স্নোডেন প্রায় ১৭ লাখ গোপন নথি ফাঁস করেছেন। গোপন নথি ফাঁসে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সেনাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেন, এ প্রতিবেদনে মার্কিন আইন প্রণেতারা বলেছেন, স্নোডেনের এ বিশ্বাসঘাতকতা মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের অধিকতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিল। এতে সিনিয়র আইনপ্রণেতা ডাচ্ রুপ্রেসবার্গার বলেছেন, স্নোডেন এসব গোপন নথি সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়েছেন আর আমাদের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে এফবিআই পরিচালক জেমস কমে বলেছেন, তিনি স্নোডেনকে হুইসেল ব্লোয়ার বা নায়ক হিসেবে অভিহিত করার যোগ্য বিবেচনা করেন না। বরং তাকে একজন বিশ্বাসঘাতকের উপাধি দেওয়া যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো স্নোডেনকে হইসেল ব্লোয়ার অভিধা দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। স্নোডেনকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক টাইমস ও গার্ডিয়ান পত্রিকা যে আহ্বান জানিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন জেমস কমে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার বিবেচনায় দেশের স্থপতিরা যেভাবে চেয়েছিলেন, সরকার সেভাবেই কাজ করছে। আমাদের সরকার যে পদ্ধতিতে গঠিত এবং কাজ করে তার সঙ্গে মৌলিকভাবে দ্বিমত পোষণ করে এমন কাউকে হুইসেল ব্লোয়ার বা নায়ক অভিধা দেওয়ায় আমার তীব্র আপত্তি আছে।' তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'হুইসেল ব্লোয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আপনারা কীভাবে এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীকে হিরো হুইসেল ব্লোয়ার বলেন, তা বুঝতে আমাকে হিমশিম খেতে হয়। তাই এটি আমাকে বিভ্রান্ত করে।' স্নোডেন বর্তমানে এক বছরের রাজনৈতিক আশ্রয়ে মস্কো রয়েছেন।
এদিকে মার্কিন আদালতগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারির আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখছে এবং হোয়াইট হাউসও এ কর্মসূচির একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছে। স্নোডেনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পর্কে কমি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভেটো দেবেন ওবামা

ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে দেশটির কংগ্রেস সদস্যদের বেশিরভাগ আরও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলে ওবামা সেই বিলে ভেটো দিতে পারেন। তেহরান চুক্তি ভঙ্গ করলে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে মনে করেন অর্ধেকের বেশি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। এমন একটি বিলে তারা সমর্থন করেছেন বলেও বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন সিনেটের এক সহযোগী। তবে এ বিষয়ে এখনই বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও জানান তিনি। খবর রয়টার্সের। হোয়াইট হাউস আইন প্রণেতাদের এ ধরনের প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তবে গত নভেম্বরে জেনেভায় পরমাণু বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে। 'পরমাণু অস্ত্রমুক্ত ইরান আইন' নামের বিলটিতে সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৫৪ জন এরই মধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আরও দু'জন বিলটিতে সমর্থন জানালে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬ জনে। তবে এটা এখনও নিশ্চিত নয় যে, কবে নাগাদ বিলটি সিনেটে উপস্থাপন করা হবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপক্ষে। ওবামা নিষেধাজ্ঞা বিলে ভেটো দিলে সিনেটে বিলটিকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়ী হতে হবে। তবেই তা পাস হবে। এদিকে এ বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছর ইরান যদি পরমাণু বিষয় নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হতে না পারে, সেক্ষেত্রেও ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। নভেম্বরে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্ব শক্তি ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি সই করেছে। ওই চুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম মজুদের পরিমাণ সীমিত করে ইরান তহবিলের কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যেটা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। চুক্তিটি বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তি করতে এখনো আলোচনা চলছে।

১৫ দিনে এক কোটি সদস্য

দেশজুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করল আম আদমি পার্টি। ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ১ কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার থেকেই 'ম্যায় ভি আম আদমি' নামের এ প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। মেসেজ করে আম আদমিতে নাম লেখাতে পারবে সাধারণ জনগণ। এ অভিযানে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ফোন নম্বরও এদিন ঘোষণা করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আম আদমির সদস্য হতে চাইলে এখন থেকে কেউ ফোন করে বা মেসেজ করে সদস্য হতে পারবেন।' একটি মোবাইল ফোন থেকে একজন সদস্যই নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কেজরিওয়াল বলেন, 'মেসেজের মাধ্যমেই প্রত্যেক সদস্যকে তার কোড নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।' ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এক কোটি সদস্যের নাম নথিভুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান কেজরিওয়াল। সদস্যপদ পেতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে গুনতে হবে ১০ টাকা। এ টাকা পার্টির ফান্ডে জমা হবে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি জানান, ভারতের বিখ্যাত সাংবাদিক আশুতোষসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তি কয়েকদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেবেন।
মোদিকে সমর্থন কিরণ বেদির কেজরিওয়ালের পুরনো সহযোদ্ধা দুর্নীতিবিরোধী কর্মী ও দিলি্ল পুলিশের সাবেক প্রধান কিরণ বেদি আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন দিয়েছেন। টুইটারে পোস্ট করা এক টুইটে তিনি বলেন, 'আমার কাছে সবার আগে দেশ। স্থায়ী, সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশাসিত ভারত। একজন স্বাধীন ভোটার হিসেবে আমার ভোট নরেন্দ্র মোদির জন্য বরাদ্দ।' কিরণ বেদির এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কেজরিওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আমার দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে তার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। খবর জিনিউজ ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু

শনিবার থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। বেলা ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এবার অবরোধ ও হরতালের মধ্যেও আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যমেলা চলবে।  এবারের মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির বরাদ্দের জন্য ৪৭১টি স্থাপনা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ৯৬টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৪৯টি, স্টল ৩১৬টি, রেস্তোরাঁ ১০টি এবং মা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র তিনটি।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় তিনটি মহাদেশ এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ১২টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, হংকং, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর রয়েছে। এবার বিদেশি ২৮টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য এবারও আলাদা জোন করা হয়েছে। পাকিস্তানি স্টলের বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, দেশটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নেই। তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। এক্ষেত্রেঅন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করছে। তা ছাড়া আগে থেকেই তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য বছরের চেয়ে এবার মেলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি বিজিবি ও বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ১২০টি সিসিটিভিসহ আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের আলাদা বুথ এবং মেলায় ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিচারপতি মোরশেদের খ্যাতি বহুদূর বিস্তৃত হয়েছিল by আনিসুজ্জামান

আজ থেকে ৫৩ বছর আগে ঢাকায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য মূল যে কমিটি গঠিত হয়, বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ তার সভাপতি ছিলেন। তিনি তখন ঢাকা হাইকোর্টের একজন বিচারক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের একজন সদস্য। কমিটি গঠনের জন্য যে সভা আহূত হয় তা এবং কমিটির প্রাথমিক কয়েকটি সভা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিচারপতি মোরশেদ সোৎসাহে সবক'টি সভায় যোগ দিয়েছিলেন। একদিন তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের জন্য কেউ যেন চাঁদা না তোলে, প্রয়োজনীয় অর্থ তিনিই সংগ্রহ করে দেবেন। এতে আমরা বেশ অবাক হয়েছিলাম। পরে ভেতরের ঘটনা জানতে পারি। সরকারি মহল থেকে তাকে বলা হয়েছিল, রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপনের সব প্রয়াসের মূলে রয়েছে একটি বিদেশি দূতাবাসের সক্রিয়তা এবং এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও দিচ্ছে তারা। বিচারপতি মোরশেদকে এ রকম অমূলক কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল, উদযাপন কমিটির সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদ করা। কিন্তু সেই ফাঁদে তিনি ধরা দেননি। তিনি নিজেই অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব নেবেন_ এ কথা সরকারি মহলকেও জানিয়ে দিয়েছিলেন। বিচারপতি হিসেবে কারও কাছে চাঁদা চাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যতদূর জানি, সে কাজের ভার তিনি দিয়েছিলেন পুলিশের তদানীন্তন ইন্সপেক্টর জেনারেল হাফিজ উদ্দিনকে। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেখা যায়, কিছু অর্থের অকুলান হচ্ছে। তখন বিচারপতি মোরশেদ আবার হাফিজ উদ্দিনকে ফোন করে দেন। হাফিজ উদ্দিন তার এক আত্মীয়কে অনুরোধ করেন। তার কাছ থেকে টাকা এনে ঋণ শোধ করা হয়। এ ঘটনা থেকে বিচারপতি মোরশেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ যেমন আমরা পেয়েছিলাম, তেমনি বাঙালি সংস্কৃতির জন্য তার গভীর ভালোবাসার পরিচয়ও পাওয়া গিয়েছিল। শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তার ভাষণও ছিল অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। সংস্কৃতির প্রতি দরদ ছিল তার সহজাত। ইংরেজি, বাংলা, উর্দু ও ফরাসির সংস্কৃতি প্রবাহের, উত্তরাধিকার তিনি লাভ করেছিলেন খানিকটা পারিবারিক সূত্রে; কিন্তু অনেকটা ব্যক্তিগত চর্চার মাধ্যমে। তার বাবা ও মায়ের পরিবারে শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছিল দীর্ঘকালের। তার বাবা সৈয়দ আবদুস সালেক ছাত্রজীবনে মেধার পরিচয় দিয়ে পরে বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ছিলেন বিচারপতি মোরশেদের মামা।
১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদে বিচারপতি মোরশেদের জন্ম হয়। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন প্রথম বিভাগে। রাজশাহী বিভাগের সব সফল ম্যাট্রিক প্রার্থীর মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে তিনি অনার্সসহ বিএ এবং এমএ পাস করেন যথাক্রমে ১৯৩০ ও ১৯৩২ সালে। ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে আইন পাস করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি লিনকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬২-৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকা হাইকার্টের প্রধান বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি এই পদ ত্যাগ করেন।
আইনজীবী হিসেবে তিনি যথেষ্ট যশ অর্জন করেছিলেন। তবে বিচারক হিসেবেই তার খ্যাতি বহুদূর বিস্তৃত হয়েছিল। আইয়ুব খানের শাসনকালে যখন গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, সেই সময়ে মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য আদালতের আসন থেকেই তিনি সংগ্রাম করেছিলেন। প্রাদেশিক গভর্নর মোনায়েম খানের প্রশাসনের সঙ্গে তার সংঘাতের কথা তখন সুবিদিত ছিল। বিচারপতির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি কঠোর প্রয়াস চালিয়েছিলেন। গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করা এ সময়ে তার জীবনের ব্রত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করার পর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি।
শিক্ষাবিদ

জামায়াত-শিবির ঠেকাতে মন্ত্রী চায় রাজশাহীবাসী by কাজী শাহেদ

আগামীকাল রোববার নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে। এ সরকারে রাজশাহীর কোন নেতা ঠাঁই পাচ্ছেন তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। নাকি এবারও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রাজশাহীবাসীকে। জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা রুখতে রাজশাহী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর পর আলোচনায় চলে এসেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এবং রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম। নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের মধ্য থেকেই কেউ ঠাঁই পেতে পারেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলে রাজশাহী পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের আগের দু'বারে পূর্ণ মন্ত্রী পায়নি রাজশাহীবাসী। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ রাজশাহী থেকে কাউকে মন্ত্রী করেনি। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে ডা. মো. আলাউদ্দিন আওয়ামী লীগের ঐকমত্যের সরকারে যোগ দিলে তাকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০৮ সালে রাজশাহীর ৬টি আসনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলেও ৪ বছর রাজশাহীর কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। শেষ দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী করা হয়। নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের আস্তানা হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে ২০০৮ সালে। মেয়র নির্বাচিত হয়ে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী অঞ্চলে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জনমত সৃষ্টিতে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা মোকাবেলায় লিটনকে মন্ত্রী হিসেবে চান তারা। নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, বিভাগীয় শহর ও স্থানীয় রাজনীতির নেতৃত্ব ধরে রাখতে রাজশাহীতে মন্ত্রী প্রয়োজন।
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক দু'বার মন্ত্রী ছিলেন। 'মন্ত্রীর' আসন হিসেবে পরিচিত তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষের দাবিতেও রয়েছে ফারুক চৌধুরীকে মন্ত্রী করার। চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে বিএনপি-জামায়াত যে নেতিবাচক রাজনীতি করে, মন্ত্রিসভায় রাজশাহীর কেউ ঠাঁই পেলে তা অনেকটা দূর হবে।

চট্টগ্রামের উত্তরে উৎসব দক্ষিণে হা-হুতাশ! by সারোয়ার সুমন

চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন সাত এমপি। তাদের মধ্যে সবারই সংসদীয় আসন হয় মহানগরে, নয়তো উত্তর চট্টগ্রামে। অথচ চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামে রয়েছে পাঁচটি আসন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামে রয়েছে ছয়টি। আসনের দিক থেকে প্রায় সমানে সমান হলেও সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামে থাকছেন না দক্ষিণের কোনো প্রতিনিধি। নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কেউ পাননি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টার পদ। এর আগের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বঞ্চিত ছিল দক্ষিণের জনগণ। তাই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার আশায় উত্তরের জনপদে উৎসবের অপেক্ষা থাকলেও দক্ষিণের জনপদে বিরাজ করছে দীর্ঘশ্বাস! পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ। আর মিরসরাই, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি আছে চট্টগ্রামের উত্তরে। আসনের দিক থেকে নৌকা উত্তর চট্টগ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে দক্ষিণ চট্টগ্রামে। এবারকার নির্বাচনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব ক'টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। অথচ উত্তরে ছয়টি আসনের মধ্যে নৌকার বিজয়ী প্রার্থী আছেন চারজন। তার পরও উত্তরের তুলনায় যোজন যোজন পিছিয়ে দক্ষিণের এমপিরা।
উত্তরের আসন রাঙ্গুনিয়ায় আছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই নেতা নবম সংসদ নির্বাচনের পর হয়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন সরকারেও একই দফতরে পুনর্বহাল ছিলেন তিনি। তাই দশম সংসদেও মন্ত্রী পদে অনেকটাই নিশ্চিত ড. হাছান মাহমুদ। উত্তরের আরেকটি আসন হাটহাজারী। এখানে নৌকার মাঝি ছিল না সর্বশেষ দুই সংসদ নির্বাচনে। তার পরও এ আসনের বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন মন্ত্রিত্বের স্বাদ।
জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নির্বাচনকালীন সরকারে ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার পেছনে তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হলে তাই আবারও মন্ত্রী পদে দেখা যাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে। রাউজানের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীও এবার পেতে পারেন মন্ত্রিত্বের স্বাদ। টানা তিন সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে ফজলে করিম চৌধুরীকে। তা ছাড়া নবম সংসদে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি।
উত্তরের সৌভাগ্য তালিকা দীর্ঘ হবে আরও। কারণ, উত্তরের মিরসরাই আসনে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন দু'জন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবার নিয়ে তিনবার এমপি হয়েছেন মিরসরাই থেকে; আছেন দলের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরামেও। তাই মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এবার এগিয়ে আছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। একই আসনে এমপি না হয়েও সরকারের সর্বোচ্চ পর্ষদে আছেন সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ূয়া। নবম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি ছিলেন মহাজোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন সরকারের সময় দিলীপ বড়ূয়াকে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদ।
একই চিত্র মহানগরের বাকলিয়া-কোতোয়ালি আসনকে ঘিরেও। এখানে এবারে বিজয়ী হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের
জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। গতবারের এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসিকে বসিয়ে রেখে এবারে এ আসনে নির্বাচন করেছেন জাতীয় পার্টির বাবলু। নির্বাচনকালীন সরকারে বাবলু ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাই নতুন মন্ত্রিসভায়ও দেখা যেতে পারে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে। আবার প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে থাকার পুরস্কার হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেতে পারেন নুরুল ইসলাম বিএসসি।
অবশ্য বিএনপি সরকার গঠন করলে কিছুটা হাসে দক্ষিণের মানুষ। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে দক্ষিণ থেকে যোগাযোগমন্ত্রী হন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ২০০১ সালে ফের বিএনপি সরকারে এলে দক্ষিণ থেকে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর পদ পান জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে কখনোই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি দক্ষিণের কোনো এমপি। অথচ দক্ষিণের আনোয়ারা উপজেলাতেই ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু; ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের মতো নেতারাও।

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে মানুষ শীতবস্ত্রের অভাব

(ফুলবাড়ী ও মোরেলগঞ্জে ৩ জনের মৃত্যু) শৈত্যপ্রবাহে দেশজুড়ে কাঁপছে মানুষ। তীব্র শীতে বিভিন্ন স্থানে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৩ জন মারা গেছেন। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর_
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) :শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার ফুলবাড়ীতে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন_ উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামের ছোলেমন কামার ও জোবেদ আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে জেলার নদ-নদীতীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের মানুষজন।
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) :ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শীতজনিত রোগে মারা গেছে একজন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালে প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার দক্ষিণ সুতালড়ি গ্রামের মো. আবদুল গফফার হাওলাদার ঠাণ্ডাজনিত রোগে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে এখনও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু না হওয়ায় শীতার্ত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, শুক্রবার এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গল এলাকার চা বাগান ও গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
গোপালগঞ্জ :হাড় কাঁপানো শীতে গোপালগঞ্জের মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তীব্র শীতে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। গ্রাম, বিল ও চর এলাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেশি। ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) :উপজেলায় হাড় কাঁপানো শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত দু'দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ যারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন তারা হলেন_ জান্নাতি, শিল্পী, মাহাবুর, শিমেল, আমিনুল, ফুয়াদ হাসান, কপিনাথ, রিফাদ হাসান, মায়েশা, রাকিব, বিপ্লব ও বিপুল। এছাড়া আরও অনেক রোগীকে বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তীব্র ঠাণ্ডায় কর্মজীবী মানুষজন ঘর থেকে বের হতে না পারায় তারা অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছেন। দরিদ্র লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, দুই দফা শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৫ হাজার শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। হরতাল-অবরোধের ফলে সেগুলো আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) :তীব্র শীতে উপজেলার রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে লোকজনের সংখ্যা কমে গেছে। শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে কাতলামারী ও রতনপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাসিন্দাসহ চরাঞ্চলের লক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ। সেই সঙ্গে গৃহপালিত পশুপাখিও রক্ষা পাচ্ছে না শীতের কবল থেকে। রাত ও সকালে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। এ কারণে বোরো বীজতলা হলুদবর্ণ ধারণ করছে এবং রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) :উপজেলায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু। শৈলকূপা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত চারদিনে শতাধিক শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। একই অবস্থা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতেও। সাধুখালী গ্রামের কাজলী খাতুন বলেন, তীব্র শীতে তার সন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন। এছাড়া বরিয়া গ্রামের সুফিয়া, সোন্দাহ গ্রামের কোহিনুর, ধলহরাচন্দ্র গ্রামের রতন কুমারসহ আরও অনেকেই বলেন, শীতে তাদের শিশু সন্তানরাও ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন ধরে শৈলকূপা হাসপাতালে অবস্থান করছে। শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার বাবর বলেন, তীব্র শীতে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ বেশি হওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া এ শীতে শিশুরা নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ সব রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) :উপজেলায় সকালে ও বিকেলে কুয়াশা পড়ায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে বৃদ্ধ ও শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলায় হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে সরকারিভাবে চাহিদার তুলনায় খুবই কম সংখ্যক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বরিশাল :বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথে দুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। যাত্রীবাহী নৌযানগুলো গন্তব্যে পেঁৗছাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের সাত-আট ঘণ্টা পর। রাত ১০টার পরই কুয়াশায় ঢাকা পড়ে বরিশাল নগরী। নৌপথ অচল হয়ে যায় তারও আগে। ফলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে মাঝনদীতে সারারাত নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। সকাল ৮-৯টার পর কুয়াশার তীব্রতা কমলে লঞ্চগুলো আবার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছে।
বিআইডবি্লউটিএ বরিশাল অফিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে বরিশাল ঘাটে এসে পেঁৗছে। কিন্তু শুক্রবার ঘন কুয়াশার কারণে মাঝনদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নোঙর করে রাখায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো দুপুর ২টার পরে বরিশালে এসে পেঁৗছে। একই অবস্থা বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোর।
সিরাজগঞ্জ :শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে রাস্তাঘাট, হাটবাজারে জনসমাগম কমে গেছে। সন্ধ্যা নামলেই শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। শীতে বেশি অসুবিধায় পড়েছে বৃদ্ধ এবং শিশুরা। তীব্র শীতের কারণে হতদরিদ্র কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতের জন্য জেলার পোলট্রি শিল্পে মুরগির মড়কসহ নানা কারণে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে একাধিক পোলট্রি খামার মালিক জানিয়েছেন। শীত আর কুয়াশায় সবজি আবাদে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।