Friday, April 23, 2010

কর দিতেই যত অনীহা by আসজাদুল কিবরিয়া

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় ছয়তলাবিশিষ্ট একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মিত হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এই ভবনে ৩০টি বিভিন্ন আয়তনের ফ্ল্যাট রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নিয়ম অনুসারে এই ফ্ল্যাটগুলোর মালিকদেরকে হোল্ডিং ট্যাক্স বা কর দিতে হবে। কর নির্ধারণের জন্য ডিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ফ্ল্যাটের মালিকদের একটি সমঝোতা হলো। সে জন্য প্রতি ফ্ল্যাটের মালিকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তোলা হলো। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করা হলো।
কিছুদিন পর যখন ফ্ল্যাটের মালিকদের কাছে করের নোটিশ এল, তখন তাঁদের মধ্যে হইচই পড়ে গেল। কারও কারও ত্রৈমাসিক করের কিস্তি এসেছে ৩০০-৪০০ টাকা। কারও বা ১৮০০-১৯০০ টাকা। কেন এই পার্থক্য? জানা গেল, যাঁদের বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে, তাঁদের প্রদেয় কিস্তি কম এসেছে। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্টি এল না বাকিদের। তাঁরা আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আবার নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা হলো। এবার প্রদেয় করের কিস্তি আরেকটু কম নির্ধারণ করা হলো। ফ্ল্যাটের বার্ষিক মূল্যায়ন করে এই কর ও করের কিস্তি নির্ধারিত হয়েছে। প্রথমবার মূল্যায়নে যে মূল্য ধরা হয়েছিল, আপিলের পর তা কিছুটা কমানো হয়েছে।
সম্প্রতি এই ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় কিছু প্রশ্ন জেগেছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণও ধরা পড়েছে। প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণগুলো পাঠকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই এই লেখার অবতারণা।
হোল্ডিং করের ত্রৈমাসিক কিস্তি বা বার্ষিক পরিমাণ যা-ই নির্ণীত হোক না কেন, এটার পেছনে ফ্ল্যাট-মালিকদের কত টাকা খরচ করতে হয়েছে? প্রথমবার তাঁরা গড়ে তিন হাজার টাকা করে দিয়েছেন, পরে আবার আপিলের জন্য দেড় হাজার টাকা—সব মিলিয়ে এক লাখ টাকার বেশি উঠেছে ডিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপসরফা করার জন্য। এটা কি তাহলে কমিয়ে কর ধার্য করার জন্য ঘুষ দেওয়া হলো? যাঁরা এই ঘুষ বা অর্থ দিয়েছেন তাঁরা কমবেশি সবাই এটাকে ঘুষ বললেও এর পক্ষে একটি যুক্তি দিয়েছেন। সেটি এ রকম: যেহেতু ফ্ল্যাট-মালিকদের সবার পক্ষে বারবার ডিসিসিতে গিয়ে কালক্ষেপণ করে বার্ষিক মূল্যায়ন ও হোল্ডিং কর নির্ধারণের কাজটি করা সম্ভব নয়, সেহেতু তাঁরা কিছু অর্থ খরচ করে সময় ও হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণের ক্ষেত্রে তাঁরা কি ডিসিসি তথা সরকারকে কর ফাঁকি দিলেন না? কেউ কেউ এমনটা মনে করলেও বড় অংশই এ রকম কিছু ভাবতে আগ্রহী নয়। বরং তারা মনে করে, পদ্ধতিটাই এমন দাঁড়িয়েছে যে এর বাইরে কিছু করা খুব কঠিন। যদি ডিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সঠিকভাবে সম্পত্তি মূল্যায়ন করে কর নির্ধারণ করতেন, তাহলে করের পরিমাণ বেশি হতো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্থাৎ সরকার ঠিক কর পেত। তার পরও হোল্ডিং কর নির্ধারণের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ করতেই হতো। না হলে সময়মতো কাজ হতো না। তার চেয়ে বরং বাড়তি অর্থ খরচ করে কিছুটা কম কর দেওয়াই ভালো।
পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়টা সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তা হলো কর প্রদান করার অনীহা। যাঁরা এই ফ্ল্যাটগুলোর মালিক হয়েছেন, তাঁরা যেকোনো বিচারে কর প্রদান করার যোগ্য। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন পরিমাণে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন। বাকি অর্থ মিটিয়েছেন নিজেদের আয় থেকে সঞ্চয় ও গ্রামের কোনো জমি বিক্রি করে। কেউ বা তেমন কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি; নিজের আয় ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কোনো সম্পত্তি বিক্রি করে ফ্ল্যাট কিনেছেন। যেভাবেই কিনে থাকুন না কেন, তাঁরা টাকাটা জোগাড় করেছেন। আয়তনভেদে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন ফ্ল্যাট কিনতে। তাও দুই বছর আগে। অর্থাৎ এই ফ্ল্যাটগুলোর দাম বেড়ে এখন ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হয়ে গেছে।
তাহলে যিনি রাজধানী ঢাকা শহরে ৪০-৫০ লাখ টাকা দামের ফ্ল্যাটে থাকবেন, রাজধানীতে বসবাসের বিভিন্ন সুবিধা নেবেন, তিনি কেন বছরে ১০-১৫ হাজার টাকাও হোল্ডিং কর দিতে চাইবেন না? হয়রানি-দুর্নীতির দোহাই পেড়ে কর ফাঁকি দেওয়ার বা ঘুষ দিয়ে কম কর প্রদানের এই চর্চা কেন বছরের পর বছর চলবে?
এসব ক্ষেত্রে একটা যুক্তি দেওয়া হয় যে ডিসিসির কাছ থেকে ঠিকমতো কোনো সেবা পাওয়া যায় না। মশা-ময়লা থেকে ভাঙা রাস্তাঘাট—সবই এখানে চলে আসে অজুহাত হিসেবে। আরও যুক্তি দেওয়া হয়, যার যত বেশি অর্থ-বিত্ত-বাড়ি-গাড়ি, তাকে তত বেশি সমীহ করে কর ছাড় দেওয়া হয়। এবং তা অবৈধভাবে। খুঁজলে এ রকম আরও অনেক যুক্তি পাওয়া যাবে কর প্রদান করতে আপত্তি জানানোর বা অনীহার পেছনে। কিন্তু, একটু ঠান্ডা মাথায় ও বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে বিচার-বিবেচনা করলে বোঝা যায়, এসব যুক্তি দিয়ে কর কমানোর বা ফাঁকির বিষয়টি সমর্থন করা যায় না।
প্রথমত, বছর বছর জমি ও ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে; বিশেষ করে ঢাকায় যে হারে এই দাম বাড়ছে, সে হারে তো হোল্ডিং কর বাড়ছে না। বরং একবার নির্ধারিত হয়ে গেলে, তা অন্তত পাঁচ বছর অপরিবর্তিতই থাকছে। আবার যাঁরা এসব ফ্ল্যাটে থাকছেন, তাঁরা মাসে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন, সেটাও তো একবার তাঁদের চিন্তা করা উচিত। ফ্ল্যাটের অনেক বাসিন্দাই মাসে মুঠোফোনের জন্য তিন-চার হাজার টাকা বিল দেন। শুধু ঈদের সময়ই লাখ টাকার ওপরে কেনাকাটা করেন। যেহেতু তাঁদের আয় ও সামর্থ্য আছে, তাই এগুলো অবশ্যই তাঁরা করতে পারেন। এই ভোগব্যয় তাঁদের অধিকার। তাহলে ঢাকার বুকে যে বাসস্থানটি তাঁকে প্রতিরাতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর ও আরামে ঘুমানোর সুযোগ করে দিয়েছে, সেটির জন্য বছরে রাষ্ট্রের কোষাগারে ২০ হাজার টাকা দিতে এত অনীহা কেন?
আসলে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে এক আশ্চর্য নেতিবাচক মানসিকতা গড়ে উঠেছে আমাদের। করের প্রসঙ্গ উঠলে আমরা প্রথমেই চিন্তা করতে চাই যে কর ফাঁকি দিতে হবে। আয়করের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সত্যি। বিভিন্নভাবে আয় করব, যথেচ্ছা ব্যয় করব, কিন্তু রাষ্ট্রকে কর দেব না। এবং এই কর না দেওয়ার জন্য বা ফাঁকি দিয়ে কম কর দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে অর্থ খরচ করতেও বুঝি বা দ্বিধা নেই আমাদের। আয়করের ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগের অদক্ষতা, দুর্নীতি ও হয়রানির কথা বলি আমরা। এগুলো সবই সত্যি। কিন্তু সমর্থ নাগরিক হিসেবে সঠিকভাবে কর দেওয়ার বিষয়টিও আমরা এড়িয়ে যেতে চাই।
আরেকটি সমস্যা হলো, কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও যে নানা সুবিধা আছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা ঠিকভাবে জানি না বা জানার চেষ্টা করি না। কর বিভাগ থেকেও এগুলো সম্পর্কে জানানো হয় না। এই যে হোল্ডিং করের কথা বলা হলো, এখানেও ছাড় আছে। মালিক ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিলে যে কর দিতে হবে, নিজে বাস করলে তার চেয়ে কম কর দিতে হবে। আবার ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট ক্রয় করা হলে কর আরও কমবে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগে কর পরিশোধ করলে রেয়াত পাওয়া যায়। একইভাবে আয়করের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় আছে। যেমন, আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। এসব ছাড় ও সুবিধার বিষয়গুলো করদাতাদের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয় না বলে অনেকেই নিরুৎসাহিত বোধ করে।
বস্তুত, কর প্রদানের অনীহা থেকে মানুষজনকে বের করে আনতে না পারলে দেশে কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে না। আর এই সংস্কৃতি গড়ে না উঠলে, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বারবার হোঁচট খাবে। কর নিয়ে ভীতি-বিভ্রান্তি আছে। সরকারের দায়িত্ব তা দূর করা। অন্তত কমিয়ে আনা। আর নাগরিকদের দায়িত্ব সঠিকভাবে কর প্রদান করা। অনেকেই বলেন, কর দিলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। এটা সত্যি কথা। তাই বলে কর ফাঁকি দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। জটিলতা-হয়রানির কথা বলে ঘুষ বা সেলামি দিয়ে কর ফাঁকিকে প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা আমরা করে চলেছি, তা তো দুর্নীতি ও অনিয়মকেই উৎসাহিত করছে। শুধু কর বিভাগের লোকজনের ওপর দুর্নীতির দায় চাপিয়ে দিলে এই অবস্থা থেকে কখনোই মুক্তি মিলবে না।
আসজাদুল কিবরিয়া: সাংবাদিক।
asjadulk@gmail.com

চবিতে ছাত্রলীগের মাস্তানি

তীর্থ ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদের নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা গত মঙ্গলবার যে কাণ্ড করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রসংগঠনের কর্মী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষকের গাড়ি পুড়িয়ে দেবেন, এটা কেমন কথা। সম্প্রতি গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই বেদনাদায়ক। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী এ ঘটনায় মর্মাহত।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের যে দাবি ছাত্রলীগ জানিয়েছে, তার সঙ্গেও কেউ দ্বিমত করছে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু সংগঠনের একজন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া কিংবা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করার কী যুক্তি থাকতে পারে? অবরোধ কর্মসূচির কারণে সব পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত হয়ে গেছে। ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে?
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছেন। কথায় কথায় ধর্মঘট-অবরোধ ডেকেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, ছাত্রছাত্রীদেরও সেসব কর্মসূচি পালনে বাধ্য করছেন। মঙ্গলবার তাঁরা শিক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহূত একটি বাস প্রথমে ভাঙচুর করেন এবং পরে পুড়িয়ে দেন। এভাবে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। ছাত্রলীগের এক নেতা সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রলীগ কর্মী এ কাজ করেননি, শহরের কোনো কর্মী করেছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।
এভাবে নিজেদের দুষ্কর্মকে আড়াল করা যাবে না। তাঁদের মাস্তানি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-ক্লাস বন্ধ থেকেছে। তাঁরা নিত্যনতুন আবদার তুলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বাস পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-ক্লাস যাতে চালু থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই। প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আরও পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। কতিপয় ছাত্র নামধারী মাস্তানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কাছে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।

ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল চীন

ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গতকাল বুধবার শ্রদ্ধা জানাল চীনের হাজার হাজার মানুষ। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চিংহাই প্রদেশের রাজধানী সিনিংয়ে জড়ো হয়ে তিন মিনিট মাথা নুইয়ে রেখে এবং হর্ন ও সাইরেন বাজিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি তারা শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির নয়জন সদস্যও তাঁদের প্রতি মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ও প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। এ ছাড়া সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সব ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
এদিকে বিশ্বব্যাপী চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে গতকাল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এদিন সে দেশের সংবাদপত্রগুলো নিহত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলির প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম ছিল ‘আমরা জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি’ এবং ইংরেজি পত্রিকা চায়না ডেইলির ওয়েবসাইটে ব্যানার ছিল ‘দুঃখকে ভাগাভাগি করে সামনে এগিয়ে যাও’।
বেইজিংয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত তিয়েনআনমেন স্কয়ারেও শত শত নাগরিক দাঁড়িয়ে মাথা নত করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
এ ছাড়া গতকাল ভূমিকম্প নিহত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে বিদেশি টেলিভিশন এইচবিও ও ইএসপিএন চীনে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় চিংহাই প্রদেশে গত বুধবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬০৪ জনে। আর নিখোঁজ রয়েছে ১৭৫ জন।

ইরাকে আল-কায়েদা নেতা খাফাজি নিহত

ইরাকে আল-কায়েদার একজন আঞ্চলিক নেতা নিহত হয়েছেন। ইরাকি ও মার্কিন সেনারা যৌথ অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার তাঁকে হত্যা করে। তাঁর নাম হাজিম ইলিয়াস আবদুল্লাহ আল খাফাজি। তিনি ইয়াসির আল হাম্বালি নামেও পরিচিত। তিকরিত থেকে মসুল পর্যন্ত আল-কায়েদার সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো তাঁর নেতৃত্বে। মার্কিন ও ইরাকি সেনাদের হাতে দুজন শীর্ষ আল-কায়েদা কমান্ডার নিহত হওয়ার দুই দিনের মাথায় খাফাজি নিহত হলেন। এসব আল-কায়েদা নেতার মৃত্যুতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত রোববার মার্কিন ও ইরাকি সেনারা তিকরিতে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার দুই শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার আবু ওমর আল-বাগদাদি এবং আবু আইয়ুব আল-মাসরিকে হত্যা করে। এ সময় পাওয়া নানা নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে খাফাজিকে হত্যা করা হয়। ইরাকে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল রায় অডিয়ার্নো ফক্স নিউজ টেলিভিশনকে জানান, নিহত খাফাজি ইরাকের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে সাদ্দাম হোসেনের নিজ শহর তিকরিত থেকে মসুল পর্যন্ত তৎপরতা চালাতেন। তিনি ছিলেন ওই এলাকার সামরিক নেতা।
এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি গত সোমবার বলেছেন, আল-কায়েদায় এখন রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সংগঠনটি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভকারীরা কোণঠাসা সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ

দমনাভিযানের মুখে নিজেদের শিবিরে কোণঠাসা হওয়া সত্ত্বেও থাইল্যান্ডের লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা গতকাল বুধবার সরকারের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। সরকারি বাহিনী যদি তাঁদের ওপর আবার হামলা চালায়, তাহলে তাঁরা পাল্টা জবাব দেবেন। খবর এএফপির।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নেতা জতুপ্রন প্রমপ্যান বলেছেন, হত্যাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, সরকারের পতন না ঘটা পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ব্যাংককের মূল বাণিজ্যিক এলাকার অদূরে বাঁশের খুঁটি, গাড়ির টায়ার ও প্লাস্টিক শিট দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাপরার নিচে গতকালও তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করেছেন। তবে তাঁদের খুঁটি দিয়ে ঘেরা চত্বরে ধারালো বাঁশের চটা ও ইট-পাটকেলের স্তূপ দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনবোধে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা এসব জড়ো করায় যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
গত ১০ এপ্রিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হলে কমপক্ষে নিরাপত্তাকর্মী ও সংবাদকর্মীসহ ২৫ জন নিহত হন। আহত হন শত শত লোক। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা গুলি চালানোয় এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করায় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তবে বিক্ষোভকারীরা সে অভিযোগ বরাবরের মতো গতকালও প্রত্যাখ্যান করেছেন। লাল শার্ট নেতা নাত্তায়ুত সাইকুয়ার বলেছেন, সরকার বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন শুরু করেছে। সাধারণ বুদ্ধি-বিবেক থাকা যেকোনো লোকই বুঝতে পারবেন এম ১৬ রাইফেলধারী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাঁশের চটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা কখনোই গায়ে পড়ে সংঘর্ষ বাধাতে যাবেন না।
বাণিজ্যিক এলাকা সিলোম রোডে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার কাঁটাতারের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা সেখানে সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা সে পরিকল্পনা বাতিল করেন।
ব্যাংককের দুটি এলাকায় বিক্ষোভকারী ও সেনাসদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের গতকালও অস্থায়ী ছাউনির নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। সেখানে লাউড স্পিকারে একের পর এক নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। আবার অনেককেই নেচে-গেয়ে আনন্দ করতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে তিনি পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দেবেন না।

নয়াদিল্লিতে লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে আশপাশের কয়েকটি প্রদেশ থেকে বাস ও ট্রেনে চেপে সাধারণ মানুষ যোগ দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম গত এক বছরে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিজেপি লোকসভা বর্জন করে আন্দোলনের ডাক দেয়। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বিশেষ করে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রতি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে, ভারতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ। গতকাল সবচেয়ে জনসমাগম হয়েছে নগরের লাল কেল্লা এলাকায়। সেখানে হাজার হাজার বিজেপিকর্মী জাফরান রংয়ের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
র্যালিতে বিজেপির শীর্ষ নেতারা যোগ দিয়ে জনগণের প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করার আহ্বান জানান।
বিজেপি সভাপতি নীতিন গড়কারি সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দরিদ্র ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে দিতে তিনি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যান। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।

পোল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০ জুন

পোল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ২০ জুন। গতকাল বুধবার দ্য পার্লামেন্টস প্রেস সার্ভিসের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আগাম এই নির্বাচনের ডাক দেওয়া হলো।
দ্য পার্লামেন্টস প্রেস সার্ভিসের বিবৃতিতে বলা হয়, ডায়েটের (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) স্পিকার ব্রোনিশ্ল কমোরোভস্কি আগামী ২০ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পোলিশ আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৪ জুলাই।
১০ এপ্রিল রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে স্মোলেনস্কের কাছে বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট কাচজিনস্কি নিহত হওয়ার পর থেকে পার্লামেন্টের স্পিকার কমোরোভস্কি পোল্যান্ডের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ওই দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯৬ জন নিহত হন।
কাচজিনস্কি নিহত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণার ব্যাপারে আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল।
কাচজিনস্কির যমজ ভাই জারোস্ল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো কিছু জানাননি তিনি। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জারোস্ল।

আমি এখনো কিরগিজস্তানের বৈধ প্রেসিডেন্ট: বাকিয়েভ

কিরগিজস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ দাবি করেছেন, তিনি এখনো সে দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। গতকাল বুধবার বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাকিয়েভ বলেন, ‘আমি কুরমানবেক বাকিয়েভ, কিরগিজস্তানের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আমার পক্ষে আছে।’
বাকিয়েভ আরও বলেন, ‘আমি আমার পদত্যাগ মানি না। নয় মাস আগে কিরগিজস্তানের জনগণ আমাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে। একমাত্র মৃত্যু ছাড়া কোনো শক্তিই আমাকে সেখান থেকে সরাতে পারবে না।’
বাকিয়েভকে হটিয়ে দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কিরগিজস্তানের ক্ষমতা হাতে তুলে নিয়েছে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর সপ্তাহখানেক দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পালিয়ে থাকার পর চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে দেশ ছেড়ে চলে যান প্রতিবেশী দেশ কাজাখস্তানে। এরপর সোমবার তিনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে চলে যান বেলারুশে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর আমন্ত্রণেই বাকিয়েভ সেখানে গেছেন।
মিনস্কে অবস্থিত কমনওয়েলথ অব ইনডিপেন্ডেন্ট স্টেটস বা সিএসআইয়ের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাকিয়েভ তাঁর দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে নাকচ করে দেন।
বাকিয়েভ বলেন, ‘সবার জানা উচিত যেসব দুষ্কৃতকারী ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে, তারা একটি বহিঃশক্তির তাঁবেদার এবং তাদের কোনো বৈধতা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতি আমার আহ্বান, এসব দুষ্কৃতকারীকে বৈধতা দিয়ে নজির স্থাপন করবেন না। কিরগিজস্তান কোনো দেশের উপনিবেশ নয়।’
বাকিয়েভ দেহরক্ষীদের নিয়ে সাংবাদিকদের কক্ষে ঢোকেন এবং লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ৮৫ জনকে হত্যা করার অভিযোগে বাকিয়েভের বিচার করতে চাইছে কিরগিজস্তানের অন্তবর্তী সরকার।

ক্ষমতাসীন দলের বিশাল ব্যবধানে জয়, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। গতকাল বুধবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে ইউপিএফএ গতকাল বনমন্ত্রী ডিএম জয়া রত্নেকে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের খুবই ঘনিষ্ঠ। গতকালই তিনি শপথ নেন।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে গতকাল বুধবার দেখা গেছে, রাজাপক্ষের ইউপিএফএ ২২৫ আসনের মধ্যে ১৪৪টিতে জয়ী হয়েছে। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ১৫০টি আসন। প্রধান বিরোধী দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৬০টি আসন। তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ১৪টি আসন। শরত্ ফনসেকার ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে সাতটি আসন।
২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল দেশটিতে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় সহিংসতার কারণে দুই জেলার ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। গত মঙ্গলবার ওই দুই জেলায় পুনরায় ভোটগ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারের দরকার ছিল দুই-তৃতীয়াংশ আসন। বর্তমান সংবিধানে একজন ব্যক্তি দ্বিতীয় মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাজাপক্ষের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০১৬ সালে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সংবিধান পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ে রাজাপক্ষে অন্য দলের সদস্যদের জোটে নিয়ে আসবেন।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে খালি পায়ে জ্বলন্ত কয়লার ওপর হাঁটা!

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য যুগে যুগে মানুষ নানা ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছে। কিন্তু তাই বলে খালি পায়ে জ্বলন্ত কয়লা কিংবা ভাঙা কাচের টুকরোর ওপর দিয়ে হাঁটা? হ্যাঁ, এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে।
ক্যাম্পে খালি পায়ে শিশুদের জন্য জ্বলন্ত কয়লা ও ভাঙা কাচের টুকরোর ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সুরাট শহরের রিভারডেল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা ওই চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ওই অনুশীলন শিশুদের শক্ত ও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ করে তুলবে।
বিদ্যালয়ের প্রশাসক কালপেশ প্যাটেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শিশুদের খালি পায়ে জ্বলন্ত আগুন ও ভাঙা কাচের টুকরোর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে বলা হয়, যা তাদের ভয় মোকাবিলা ও ভয় উতরাতে নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার শিক্ষা দেবে।
তিনি জানান, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮০ জন শিক্ষার্থী জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে হেঁটে গেছে। অন্যদিকে ভাঙা কাচের টুকরোর ওপর দিয়ে হেঁটেছে ১১০ জন শিক্ষার্থী।

জারদারির পীর

পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনীতিকদের পীরের মুরিদ হওয়াটা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বেনজির ভুট্টো, নওয়াজ শরিফ ও পারভেজ মোশাররফ পীর মানতেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন যেকোনো উৎসব আয়োজনে তাঁরা পীরের দরগায় গিয়ে দোয়া নিতেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এর ব্যতিক্রম নন। তিনিও একজন পীরের মুরিদ। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরিদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে। সর্বক্ষণ পীরের নেকনজরে থাকতে তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনের পাশেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
জারদারির পীরভক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিন। অনুষ্ঠান চলাকালে উপস্থিত অনেককে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ কক্ষে ঢোকেন লম্বা জুব্বা পরা এক প্রবীণ ব্যক্তি। কয়েক মুহূর্ত বাদে সবাই জানতে পারেন ওই ভদ্রলোক আর কেউ নন, তিনি প্রেসিডেন্ট জারদারির পীর মোহাম্মাদ এজাজ। পরিচয় জেনে প্রায় সবাই তাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে, সম্মান জানান।
ডন পত্রিকা এক প্রতিবেদনে বলেছে, পীর মোহাম্মাদ এজাজের বাড়ি পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা এলাকায়। দীর্ঘ দিন থেকেই তিনি জারদারির সঙ্গে আছেন। জারদারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এজাজ প্রেসিডেন্ট ভবনের পার্শ্ববর্তী একটি গেস্টরুমে থাকছেন। গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জারদারি এই পীরের অনুমতি নিয়ে থাকেন

পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্র-সজ্জিত রণতরী দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি পুরোনো রণতরী কেনা বাবদ সাড়ে ছয় কোটি ডলারের চুক্তিতে সই করেছে পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ইউএসএস ম্যাকআইনারনি নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্র-সজ্জিত রণতরী পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গত মঙ্গলবার দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। খবর এএফপি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে রণতরীটি বিক্রির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সালে ইউএসএস ম্যাকআইনারনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। প্রায় ২৮ বছরের পুরোনো রণতরীটি বর্তমানে মেরামত ও ঘষামাজা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাতে সাবমেরিন হামলা প্রতিহত করার যন্ত্রপাতিও সংযোজন করা হচ্ছে। ৩১ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তান সেটির মালিকানা পেলেও মেরামত ও নতুন কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজনের কাজ এ বছরের শেষ দিকে শেষ হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে রণতরীটি ‘পিএনএস আলমগীর’ নাম ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। পাকিস্তানের আটটি পেরি ক্লাস রণতরীর একটি বিশেষ নৌবহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তান যে আটটি উন্নত রণতরীর নৌবহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই চুক্তি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে প্রসারিত করেছে।

ইরান ২০১৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে

ইরান ২০১৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক প্রিন্সিপাল ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি জেমস মিলার তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র-সক্ষমতা সম্পর্কে সিনেটের শুনানিতে এ কথা বলেছেন।
জেমস মিলার বলেন, তেহরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র-সক্ষমতার বিবেচনায় আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ২০১৫ সালের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ওই পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র-প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ওই সক্ষমতা অর্জনে ইরানকে ‘বিদেশি সহযোগিতা’ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারফোর্সের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস ইন্টেলিজেন্স সেন্টার গত বছর এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিদেশি সাহায্য নিয়ে ইরান আন্তমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আহমেদ বাহিদি গতকাল বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না।
বাহিদি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, আমাদের এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, তেহরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান অবশ্য বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

নতুন পরমাণুকেন্দ্রের জায়গা চূড়ান্ত হয়নি
ইরানের নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের খবর নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির পরমাণু সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি। গতকাল তিনি বলেন, নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের জন্য জায়গা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
আলী আকবর সালেহি বার্তা সংস্থা আইএলএনএকে বলেন, প্রথম নতুন পরমাণুকেন্দ্রের নকশা চলতি বছরের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, ওই পরমাণু স্থাপনার জায়গা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সালেহি বলেছিলেন, আকাশপথে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য নতুন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পাহাড়ের ভেতরে নির্মাণ করা হবে।
গত সোমবার প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোজতবা সামারেহ হাশেমি বলেছিলেন, নতুন পরমাণু স্থাপনার জন্য নির্ধারিত জায়গা অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ এবং তাঁর নির্দেশে ওই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
কোম শহরের কাছে দ্বিতীয় পরমাণুকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা তেহরানকে তিরস্কার করে। এরপর ২০০৯ সালের নভেম্বরে আহমাদিনেজাদ নতুন ১০টি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দেন।
চলতি মাসে আলী আকবর সালেহি বলেছিলেন, নতুন দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের কাছে উপাস্থাপন করা হয়েছে।

রোবেনের গোলে জিতল বায়ার্ন

লিওঁর গোলমুখ কিছুতেই খুলতে পারছিল না বায়ার্ন মিউনিখ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য খুলতে পেরেছে। ৬৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে দলকে মহামূল্যবান গোল এনে দিয়েছেন আরিয়েন রোবেন। তাঁর এই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ফরাসি ক্লাব লিওঁকে হারিয়েছে বায়ার্ন (১-০)।
৩৫ মিনিটে বায়ার্নের মূল অস্ত্র ফ্রাঙ্ক রিবেরি লাল লার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন। বিরতির কিছুক্ষণ পর একই পথের যাত্রী লিওঁর তোলালান। ম্যাচে তখন আক্ষরিক অর্থে ‘সমতা’। তবে যেভাবে ঘরের মাঠে গোটা ম্যাচে প্রাধান্য নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন, তাতে জিততে পারত বড় ব্যবধানে। বলাই বাহুল্য, গোল মিসই জার্মান পরাশক্তির জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছিল। সান্ত্বনা একটাই—অন্তত একটা গোল করে তো ম্যাচ জেতা গেল!

দিবারাত্রির টেস্ট আরও এক বছর পর

আগামী মাসে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্টটি ফ্লাডলাইটের আলোয় হবে না। আইসিসি বলছে, ফ্লাডলাইটের আলোয় টেস্টে হতে লেগে যাবে কমপক্ষে আরও একটি বছর। ‘নিশ্চিতভাবেই এখন এটি হচ্ছে না’—বলেছেন আইসিসির ক্রিকেট ম্যানেজার ডেভ রিচার্ডসন।
এটা পিছিয়ে যাওয়ার বড় কারণ বল। ফ্লাডলাইটের আলোয় কোন রঙের বল বেশি কার্যকর হবে, সেটা নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত মাসে দুবাইয়ে ফ্লাডলাইটের আলোয় মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ও ডারহামের এক ম্যাচে ব্যবহার করা হয়েছিল গোলাপি রঙের বল। দুই বছর আগে এমসিসির সঙ্গে স্কটল্যান্ডের ম্যাচটাও খেলা হয়েছিল গোলাপি বলে। এই বলে পরীক্ষামূলক ম্যাচ হয়েছে পরে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজেও। কিন্তু টেস্টে গোলাপি বল টেকসই নয় বলেই নতুন বলের কথা ভাবতে হচ্ছে আইসিসিকে।
কৃত্রিম আলোয় লাল বল ভালোভাবে দেখা যায় না। দিবারাত্রির এক দিনের ম্যাচে অবশ্য সাদা বলই ব্যবহূত হয়ে আসছে। ক্রিকেটারদের রঙিন পোশাক এবং কালো সাইট স্ত্রিন থাকায় দিবারাত্রির ওয়ানডেতে সফলভাবেই সাদা বলের ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু টেস্টে খেলোয়াড়দের পোশাক সাদা, সাইট স্ত্রিনও সাদা। কৃত্রিম আলোয় সাদা পটভূমিতে ভালো দেখা যায় এমন ভিন্ন রঙের বলই ব্যবহার করতে চাইছে আইসিসি। বল নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে জানিয়ে রিচার্ডসন বলেছেন, ‘সাইট স্ক্রিন এবং রাতের আলোয় ভালো দেখা যায় এমন বলেই রাতে (ফ্লাডলাইটের আলোয়) টেস্ট খেলতে পারি আমরা

সামারাঞ্চের মশালটা গেল নিভে

ওপারের ডাকটা যেন শুনতে পেয়েছিলেন হুয়ান আন্তোনিও সামারাঞ্চ। গত অক্টোবরে নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি জানি, জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি।’ সামারাঞ্চ মৃত্যুদূতের ডাকটা শুনতে পেয়েছিলেন মাস ছয়েক আগে, সেই ডাকে অবশেষে সাড়া দিলেন তিনি কাল। বার্সেলোনার কুইরন হাসপাতালে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ হলো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সাবেক প্রধান সামারাঞ্চের ৮৯ বছরের জীবন।
উত্তরসূরি জ্যাগ রগের হাতে দায়িত্ব সঁপে দিয়ে আইওসির প্রধান হিসেবে তিনি সাবেক হয়েছেন ২০০১ সালে। এর আগে টানা ২১ বছর আইওসি প্রধানের পদ আলো করে ছিলেন সামারাঞ্চ। আধুনিক অলিম্পিকের স্রষ্টা পিয়েরে দ্য কুবার্তো। আর সেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান সামারাঞ্চই।
২০০১ সালে ৮১ বছর বয়সে রগেকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বছরই বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে যান সামারাঞ্চ। রক্তচাপ বৃদ্ধি আর হূদযন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়ে তাঁর। এর পর মাঝেমধ্যেই তাঁকে যেতে হয়েছে হাসপাতালে। সর্বশেষ তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন গত রোববার। আর বাড়ি ফিরে যাওয়া হলো না তাঁর।
সামারাঞ্চ যাঁর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন, আইওসির প্রধান এখনো সেই রগেই। সামারাঞ্চের মৃত্যুশোক তিনি কাতর, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আধুনিক যুগের অলিম্পিককে গড়ে তুলেছিলেন তিনিই।’ এই গড়ে তোলার কাজ করতেই ১৯৯৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যন্ত এসেছিলেন সামারাঞ্চ।

চম্পকাকে ‘না’ দলে যোগ হলেন সালাউদ্দিন

রুয়ান কালপাগের চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। তবে একই দিন (গত ৩১ মার্চ) শেষ হয়ে যাওয়া আরেক শ্রীলঙ্কান বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শেষ পর্যন্ত তা-ও হচ্ছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ইংল্যান্ড সফরের জন্য বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে চম্পকার জায়গায় যোগ হয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন চম্পকার চুক্তি নবায়ন না করার কারণ হিসেবে বলেছেন, ‘বেতন ও ছুটি বাড়ানোসহ চম্পকা বেশ কিছু নতুন শর্ত দিয়েছিলেন, যা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। সে কারণেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ আইসিসির কাছে পাঠানো বিশ্বকাপের কোচিং স্টাফের তালিকায় এই শ্রীলঙ্কানের নাম থাকলেও সেটা বাদ দিয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনায়েত হোসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড সফরে দলের ফিল্ডিং এবং স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সালাউদ্দিন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত সিরিজের পর জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সালাউদ্দিনকে একাডেমির কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর পর নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি দলের সঙ্গে না থাকলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজে প্রেষণে যোগ দিয়েছিলেন জেমি সিডন্সের অনুশীলন ক্যাম্পে। জাতীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ড সফরের জন্যও একাডেমি থেকে ধার করেই নেওয়া হয়েছে সালাউদ্দিনকে। নইলে কাল থেকে চট্টগ্রামে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের বিপক্ষে সিরিজে জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের সহকারী কোচ হিসেবে থাকার কথা ছিল তাঁর। সালাউদ্দিনের পরিবর্তে এখন সে দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির আরেক কোচ মাহবুব আলী জাকি।
সালাউদ্দিনের আবার জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কাল বোর্ড সভায়ও অনুমোদিত হয়েছে। তবে সভার সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মিডিয়া ম্যানেজারের দল থেকে বিয়োগ হয়ে যাওয়া। মিডিয়া ম্যানেজার পাঠানোর ব্যাপারটি চূড়ান্তই ছিল, সেটি বদলে যাওয়ার কারণ, আবার একজন বোর্ড পরিচালককে ‘আনন্দভ্রমণের’ সুযোগ দেওয়া। মিডিয়া ম্যানেজারের জায়গায় পর্যবেক্ষক হিসেবে যাচ্ছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। প্রতি সফরেই এই পর্যবেক্ষক-রঙ্গ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। পর্যবেক্ষকেরা কী পর্যবেক্ষণ করেন, সেটি অবশ্য এখনো রহস্যেই ঢাকা।

গোল করেও দর্শকের দুয়ো

বাংলাদেশ লিগে ছোট দলগুলোর অবনমন বাঁচানোর লড়াই চলছে এখন। জয় পেলে সোনায় সোহাগা, ড্রও যোগ হচ্ছে প্রাপ্তির খাতায়। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল ২-২ গোলে ড্র করে ব্রাদার্স-ফরাশগঞ্জের খুশি থাকাটা যেন তারই প্রতীকী ছবি। সিলেটে বিয়ানীবাজারকে ১-০ গোলে হারিয়ে চট্টগ্রাম মোহামেডান পারলে উৎসবই করে ফেলে! ফেনী সকারের জন্যও দিনটা ছিল খুশির। নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় শুকতারার বিপক্ষে তারা জিতেছে ২-০ গোলে।
ব্রাদার্স-ফরাশগঞ্জ ম্যাচ দর্শকদের খুশি না করে করেছে ক্ষুব্ধ। শেষ দিকে ব্রাদার্সের এনক বেনটিল যখন ২-২ করলেন, দর্শকদের তা দেখতে ভালো লাগেনি। গোটা দুই সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর বেনটিল অবশেষে বল জালে জড়ালে চিৎকার, দুয়ো দিতে থাকে হাতেগোনা কয়েকজন দর্শক। তাদের অভিযোগ, ‘পাতানো খেলা দেখতে কেন লোকে গাঁটের পয়সা খরচ করে মাঠে আসবে?’
৯ মিনিটের মাথায় ফরাশগঞ্জকে এগিয়ে নেন তৌহিদুল আলম ওরফে সবুজ। ৫ মিনিট পরই ১-১ করে দেন ব্রাদার্সের বুলবুল। ৪৪ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ, গোলদাতা কালু জনসন। খেলা যত এগোয়, দর্শকদের ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য হয়। তাদের অনুযোগ, জেতার আগ্রহ ছিল না ফরাশগঞ্জের।
ড্র ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট—১৭ ম্যাচে ব্রাদার্স-ফরাশগঞ্জ দুই দলেরই পয়েন্ট ১৭। আগের ম্যাচে রহমতগঞ্জের কাছে হেরে যাওয়া ব্রাদার্সের এটি অষ্টম ড্র। ফরাশগঞ্জেরও তাই। দুই দল জিতেছে মাত্র তিনটি করে ম্যাচ।
তুলনায় ভালো অবস্থানে ফেনী সকার। শুকতারার বিপক্ষে এল তাদের পঞ্চম জয়। ৪১ মিনিটে সোহেল ও ৪৯ মিনিটে আসিফ গোল করে চার ম্যাচ পর জয় এনে দিলেন দলকে। ১৬ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে দলটি। সবার নিচে থাকা শুকতারার পয়েন্ট ৭-ই আছে। টানা সপ্তম হার—নারায়ণগঞ্জের দলটির পক্ষে অবনমন বাঁচানো খুবই কঠিন মনে হচ্ছে।
শুকতারার চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেশি নিয়ে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে বিয়ানীবাজার। তারা খেলেছে ১৬ ম্যাচ। কাল ঘরের মাঠে ৪৬ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায় বিয়ানীবাজার। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাপ্পী। এর ৭ মিনিট আগে লিংকনের করা গোলটি ধরে রাখতে তাই কোনো সমস্যা হয়নি চট্টগ্রাম মোহামেডানের। টানা তিন ড্রয়ের পর চট্টগ্রামের দলটি পেল এবারের লিগে চতুর্থ জয়। ১৭ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে কিছুটা ভালো অবস্থায় গেল দলটি

ফাইনালে মুম্বাই

শচীন টেন্ডুলকার ৯ বলে ৯ রান করে আউট। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ইনিংস এগোতে থাকল কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। আইপিএলের ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হতে বড় এককটা রানই দরকার। হিসাব বলছিল ঠেলে-ধাক্কিয়ে স্কোরটা ১৬০ পেরোতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পৌঁছাল ১৮৪ রানে! জয়ের ভিত্তিটা শক্ত হয়ে গেল শেষের ওই কটা রানে। সেটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে এই প্রথম ফাইনালে গেল মুম্বাই।
মুম্বাইয়ের শেষ ৫ ওভারে এল ৭৭ রান। শেষ ৪০ মাত্র ১৪ বলে। ষষ্ঠ উইকেটজুটিতে তিওয়ারি ও পোলার্ড তুললেন ঝড়। পোলার্ড ১৩ বলে এক চার ও তিন ছয়ে ৩৩। ৩১ বলে ৫২ রান তিওয়ারির, যাতে আছে চারটি ৪ আর চারটি ছয়।
শুরুটা মোটামুটি হলেও ইনিংসের মাঝপথে পথ হারিয়ে ফেলে চ্যালেঞ্জার্স। ৮১ রানে পড়েছে তৃতীয় উইকেট, তার পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া শুরু। ৯ উইকেটে ১৪৯ রানেই শেষ চ্যালেঞ্জার্স। মালিঙ্গা, হরভজন নিলেন দুটি করে উইকেট। ব্যাটিংয়ের পর ১৭ রানে ৩ উইকেট—ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠল পোলার্ডের হাতে।