Thursday, November 11, 2010

গল্প- 'মাদকাসক্ত' by আলী ইদ্রিস

নিশি রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়শিদেরকে অতর্কিতে জাগিয়ে দিয়ে কালবৈশাখীর মতো আগমন ঘটে সেলিমের। এক তলা বাড়ীর সীমানা প্রাচীরে শীটের ফটকে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে এক সাথে বার কয়েক লাথি মারলে যে শব্দ হয়,

সেই শব্দে পড়শিরা গভীর ঘুম থেকে জেগে বুঝতে পারে যে, রাত দুটো বেজেছে। দিনের পর দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখন তাদের গা-সহা হয়ে গিয়েছে। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের ঘুমের অতোটা ব্যাঘাত হয় না যতটা বয়স্কদের হয়। সেটা সেলিমের সৌভাগ্যই বলতে হবে। নতুবা জোয়ান ছেলেরা এতোটা ধৈর্য দেখাতো না, নেশাখোরকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে নেশামুক্ত করতো।
অভ্যেসবশত পড়শিরা ঘুমিয়ে পড়লেও সেলিমের মা ও বোনকে রাত দুটো পর্যন্ত জেগে থাকতে হয়। নেশার বিষাক্ত উত্তেজনায় রাজা-উজির মেরে, হৈ চৈ সহকারে রাস্তা কাঁপিয়ে শেষে বাসার ফটকে জোরে জোরে লাথি মেরে সেলিম তার কর্মকান্ডের প্রথম পর্ব সমাপ্ত করে।

গল্প- 'বেঁটে খাটো ভালোবাসা' by রেজানুর রহমান

ঝামেলা শুরু হয়েছে উচ্চতা নিয়ে। পাত্রী লম্বা। পাত্র খাটো। উনিশ বিশ হলেও চলত। কিন্তু পার্থক্যটা ষোল আর বিশের মতো। পাত্রীর চেয়ে পাত্র খাটো।

বিষয়টা কেমন দেখাবে? লোকজন নানা কথা বলবে। এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে সোমার। প্রাণের বান্ধবী হিমু হঠাৎ বিয়ে করে ফেলল তাও আবার তার চেয়ে দশ বছরের ছোট একটি ছেলেকে। হিমুর বয়স এখন চলছে ছত্রিশ।
তার মানে ছত্রিশ থেকে দশ বাদ দিলে পাত্রের বয়স কত দাঁড়াল? ছাবি্বশ। ছেলে মানুষ। তবে ছেলেটির উচ্চতা ঠিক থাকলে বয়স কোন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াত না।

কবর by জসীম উদ্দীন (পল্লীকবি)

ইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।

দখলবাজদের সংঘাত

সব রাজনৈতিক আদর্শ এক নয়, কিন্তু আদর্শের নামে সব সন্ত্রাসকে এক মানদণ্ডেই দণ্ডিত করা উচিত। আদর্শের নামধারীরা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্ত্রের মহড়া আর মারামারির মঞ্চ বানিয়ে ফেলে, তখন তাদের সন্ত্রাসী বলাই শ্রেয়। সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ যা করেছে তা সন্ত্রাস, এবং সন্ত্রাসী হিসেবেই তাদের শাস্তি দেওয়া হোক।
ভর্তির মৌসুম এলেই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে ‘মুরগি ধরা’র তোড়জোড় শুরু হয়। ভর্তি-ইচ্ছুক ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলো ‘মুরগি’ এবং তাদের দলে ভেড়ানোর কার্যক্রমই হলো ‘মুরগি ধরা’ কর্মসূচি। এই বাজে পরিভাষা চালু থাকাই প্রমাণ করে যে সদস্য সংগ্রহ অভিযান কতটা হীন রুচিকর। বলা বাহুল্য, ‘মুরগি ধরা’র এই কাজ নিরীহ থাকে না। ভয়, প্রলোভন, সিট-রাজনীতি, এমনকি বলপ্রয়োগ সেখানে ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনই, যখন ‘মুরগি ধরা’র প্রতিযোগিতা সংঘাতে পরিণত হয়। সিলেটে ও ফরিদপুরে তা-ই ঘটেছে। উভয় ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ৪৫ জন, ভাঙচুর হয়েছে ছাত্রাবাস এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন শিবিরের ছয় নেতা-কর্মী। এ ধরনের ঘটনা কবে বন্ধ হবে, সেটিই আজকের জ্বলন্ত প্রশ্ন।
নবীন শিক্ষার্থীদের দিয়ে দল ভারী করা গেলে দখলদারি ও আধিপত্যের ক্ষমতা বাড়ে। এদের ভেতর থেকেই তৈরি করা হয় ক্যাডার-সন্ত্রাসী। দখলদারির প্রহরী ও ভাগীদার হয় এরাই। আর তাদের ওপরে থাকে একধরনের শিক্ষক-রাজনীতি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক শক্তির ছত্রচ্ছায়া। আধিপত্যের সুফল তারাও ভোগ করে। ক্যাম্পাসগুলোতে দল-লীগ-শিবিরের রাজনীতির এটাই চেহারা, এটাই চালিকাশক্তি। এই প্রক্রিয়ায় একসময় যিনি ‘মুরগি’ ছিলেন, তিনিই নেতা বা ক্যাডার হয়ে পরিণত হন মুরগি ধরার শেয়ালে। ওপরের দুটি ঘটনা ছিল শেয়ালে-শেয়ালে প্রতিযোগিতা। আমরা শেয়ালও চাই না, মুরগি ধরার উৎসবও মানি না। শিক্ষাঙ্গনে অশান্তির এই কারণটি দূর করা হোক।
শিক্ষা প্রশাসনের উচিত, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার নিয়ম বেঁধে দেওয়া এবং সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিদের স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদে বহিষ্কার করা। সন্ত্রাসীদের আইনের হাতে সোপর্দ করাও দরকার। কিন্তু দেখা যায়, প্রশাসনের দলীয় পক্ষপাত এবং পুলিশের রাজনৈতিক আনুগত্যের জন্য সন্ত্রাস চলে; কিন্তু শিক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা চলতে পারে না। সরকারের ভূমিকা এখানেই কাম্য।
বর্তমান সরকার, বারেবারে শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ ও সন্ত্রাস বন্ধের প্রতিজ্ঞা করেছে। সন্ত্রাসী যে-ই হোক, তাকে শাস্তি দেওয়ার এই জরুরত সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির প্রশাসন পালন করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মানবাধিকার কমিশনের নিজস্ব তদন্ত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আবার সংবাদ শিরোনাম হলো। এবারের সংবাদ: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো কমিশন নিজেই তদন্ত করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধিমালাহীন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কার্যক্ষেত্রে দুর্বল একটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এই প্রতিষ্ঠানের এহেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর যে সরকারি তদন্ত করা হয়, তার অধিকাংশের ফল তাদের ভাষায় ‘ভালো’ হয় না। আমরা কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করি। তবে এর বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব, তা ভাবনার বিষয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়ে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত তদন্ত সম্পর্কে জনমনে আস্থার যথেষ্ট অভাব কাজ করে। অনেক সময় উল্লেখযোগ্য ঘটনার তদন্তের ফল জনগণের কাছে স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। বিশেষত র‌্যাব-পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্তে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টাই বেশি থাকে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পক্ষপাতহীনভাবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে নিজস্ব তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত যদি মানবাধিকার কমিশন বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার তথা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিশ্চয় সহায়ক হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, কমিশন গঠনের দেড় বছরেও বিধিমালা তৈরি করা হলো না। বিধিমালা ছাড়া কোনো কমিশন বস্তুত কাজ শুরুই করতে পারে না। কমিশনে প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ করা হয়নি। অর্থাৎ মানবাধিকার কমিশনকে কাজ শুরু করার উপযোগী করতেই আইন মন্ত্রণালয় তথা সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করা হয়েছে সংগত কারণেই।
মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার; গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সেই অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দুঃখজনকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অধিকাংশ অভিযোগই ওঠে সরকারের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, সাধারণভাবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে এমন ধারণা কাজ করে, যেন বা পুরো সরকারই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত। তা ছাড়া সরকারি যে সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, ঘটনার তদন্তও পরিচালিত হয় তাদের দ্বারাই। ফলে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে; সরকারি তদন্ত-প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফল নিয়ে জনমনে আস্থাহীনতার কারণও প্রধানত এই।
মানবাধিকার কমিশন এমনই এক প্রতিষ্ঠান, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর প্রতিকারে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানটি যত শক্তিশালী হবে, জনসাধারণের মানবাধিকার রক্ষা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে সরকারের তত বেশি সুবিধা হবে। সে জন্য এর বিধি প্রণয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা সরকারের দায়িত্ব। মানবাধিকার কমিশনের সক্রিয় তৎপরতার ফলে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং এর ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও বাড়বে।

ওড়িশার নাম হলো ওডিশা

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের নাম ওডিশা করে গতকাল মঙ্গলবার লোকসভায় বিল পাস হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম লোকসভায় এ-সংক্রান্ত বিলটি পেশ করেন।
২০০৮ সালে ওড়িশা রাজ্যের বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে ওড়িশা রাজ্যের নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিলটি গৃহীত হয়। এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য এ বিল পাঠানো হয় নয়াদিল্লিতে।
এর আগেও ভারতের বিভিন্ন শহরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

ভারতে মাওবাদীদের সহিংসতায় এ বছর নিহত প্রায় ১০০০

ভারতে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সহিংসতায় এ বছর প্রায়এক হাজার লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোকজন। কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।
ভারতের জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মাকেন এক বিবৃতিতে জানান, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাওবাদীদের সহিংসতায় কমপক্ষে ৫৭৭ জন বেসামরিক লোক, ২৬০ জন পুলিশ ও সেনা এবং ১৩৭ জন সন্দেহভাজন মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।

ইয়েমেন ও সোমালিয়ার পণ্যবাহী বিমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইয়েমেন ও সোমালিয়ার পণ্যবাহী বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের মালামালের ওপরও নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। সম্প্রতি ইয়েমেন থেকে পার্সেলে করে যুক্তরাষ্ট্রে বিস্ফোরক পাঠানোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর গত সোমবার কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর কানাডাও একই সিদ্ধান্ত নেয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি জ্যানেট নেপোলিটানো বলেন, অতিমাত্রায় ঝুঁকি আছে এমন কোনো মালামাল যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশ থেকে ডাকযোগে আসা মালামালও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, গত মাসে অল্পের জন্য বোমা হামলার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পাওয়ার পর ইয়েমেনের সব মালবাহী ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নেপোলিটানো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী বিমানের আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কোনো যাত্রী ১৬ আউন্সের বেশি ওজনের টোনার বা কালির আধার বহন করতে পারবে না।
কানাডার পরিবহনমন্ত্রী চাক স্ট্রাহল বলেন, কানাডা আগামী ১৪ দিন ইয়েমেন ও সোমালিয়া থেকে পণ্যবাহী উড়োজাহাজ আসতে দেবে না এবং ডাকযোগে আসা চিঠিপত্র গ্রহণ করবে না। অধিকতর ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে অটোয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরবি আবু বকর আল-কুরবি গতকাল একটি পত্রিকাকে বলেন, এ ব্যাপারে ইয়েমেন নিজের মতো করে ব্যবস্থা নিয়েছে। মালমাল পাঠানোর ব্যাপারে এখন থেকে বাড়তি সতর্কতা থাকবে।

মৃতের সংখ্যা ১৫৩

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গত দুই সপ্তাহে ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগ্নেয়গিরিটি থেকে এখনো গরম ছাই বের হচ্ছে। আবারও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা করছে স্থানীয় জনগণ।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার আরও অন্তত ১২টি মৃতদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় একটি গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে। এ ছাড়া তাপে ঝলসে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে আরও পাঁচজন মারা গেছে।
গত ২৬ অক্টোবর থেকে মাউন্ট মেরাপিতে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে বিকট শব্দে লাভার উদিগরণ হয়। এর বেগ ছিল ভয়াবহ, ঘণ্টায় অন্তত ১০০ কিলোমিটার। আগ্নেয়গিরির আশপাশের গ্রামে এখনো উদ্ধার-তৎপরতা চলছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত শতাব্দীতে আগ্নেয়গিরিটি থেকে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এতে অন্তত এক হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাতের আগে ও পরে মাউন্ট মেরাপির আশপাশের অন্তত তিন লাখ ২০ হাজার মানুষকে ২০ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ ও অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার অগ্ন্যুৎপাতের পরপর স্থানীয় লোকজনের দিগ্বিদিক ছুটে যাওয়ায় অনেক শিশু তাদের বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে উদ্ধারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানের প্রস্তাবে সাড়া দিতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে: জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে। ভারতে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারত ও পাকিস্তানকে নিজেদের মধ্যকার বিভেদ মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানানোর পর জারদারি এ কথা বলেন।
ইসলামাবাদে গত রোববার সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়া ফ্রি মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (সাফমা) সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, ভারতের প্রতি পাকিস্তান আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, ভারত তাতে সাড়া দেয়নি। তিনি বলেন, ভারত যদি ইতিবাচক সাড়া দিত, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তা সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারত।
জারদারি আরও বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাতে কখনোই সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
রোববার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, স্থিতিশীল পাকিস্তানই ভারতের জন্য লাভজনক হবে। একই সঙ্গে তিনি উগ্রপন্থীদের মোকাবিলায় পাকিস্তানকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।
ওবামা বলেন, তিনি আশা করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বেড়েছে। এ আস্থার জায়গা থেকে তারা অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিত ইস্যুর চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এতে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
কাশ্মীরসহ কয়েকটি বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যে মতভেদ রয়েছে, তাতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে ভারত অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ধারণা করা হচ্ছে, এদিকে খেয়াল রেখেই ওবামা এমন কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করেননি, যা ভারতকে হতাশ ও পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে।
ওবামার এই তিন দিনের ভারত সফরকে পাকিস্তান ঈর্ষার চোখে দেখছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, ওবামার এশিয়া সফরে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত না করায় দেশটিকে কিছুটা হলেও হেয় করা হয়েছে।
অবশ্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী বছর ওবামা পাকিস্তান সফরে আসবেন এবং সে সময় প্রেসিডেন্ট জারদারিকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামার পাকিস্তান সফরের সম্ভাব্য দিন-তারিখ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

আগামী এপ্রিলে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবার সে দেশের প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো এ ঘোষণা দেন।
মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাউল কাস্ত্রো জানান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসে মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির এ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। সম্মেলন সামনে রেখে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
কিউবায় কমিউনিস্ট পার্টির শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। প্রতি পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই ১৩ বছর কোনো সম্মেলন হয়নি।
রাউল কাস্ত্রো আরও জানান, আগামী বছরের শেষের দিকে জাতীয় সম্মেলনে দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। এখনো পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো।
২০০৬ সালে ৮৪ বছর বয়সী ফিদেল কাস্ত্রো শারীরিক অসুস্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর তারই ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো ওই পদে স্থলাভিষিক্ত হন।

আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমারের নির্বাচন

মিয়ানমারে গত রোববার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। তারা একপেশে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সামরিক জান্তা সরকারের পাতানো ছক অনুযায়ী অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ নির্বাচন অবাধ তো হয়নি, এমনকি নিরপেক্ষও হয়নি।
এদিকে গতকাল সোমবার দেশটির পূর্বাঞ্চলে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনী ও আদিবাসী বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে হাজার হাজার লোক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে চলে গেছে। পরে থাই কর্তৃপক্ষ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়।
প্রহসনের নির্বাচন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই নির্বাচন অবাধ বা নিরপেক্ষ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, পাতানো এ নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। প্রহসনের এ নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের সুযোগ নষ্ট করেছে।
ব্রিটেন বলেছে, নির্বাচনের ফল আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, এই নির্বাচনের মানে হচ্ছে, একটি বর্বর সরকারকে আবারও ক্ষমতায় বসানো। পাতানো এই নির্বাচনের মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্স বলেছে, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে জান্তা সরকারের আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালানো উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন এ নির্বাচনকে প্রহসনমূলক আখ্যা দিয়ে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্বাচন নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের প্রতীক শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন কখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না।
তবে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র দেশ চীন এ নির্বাচনকে একটি ‘অগ্রগামী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চীনের সরকারনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস বলেছে, মিয়ানমারের রাজনৈতিকভাবে উত্তরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা রাতারাতি ঘটবে এমন নয়।
সেনা-সমর্থিতদের বিজয়ের সম্ভাবনা: নির্বাচনের ফল কবে ঘোষণা করা হবে, সে সম্পর্কে জান্তা সরকার এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে জেনারেলদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জান্তা-সমর্থিত দলগুলোর বিজয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বে নানা সমালোচনা হলেও জান্তা সরকারের মদদপুষ্ট দুটি প্রধান দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিই (এনইউপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আসন ছোট দলগুলোর মধ্যে ভাগ হতে পারে।
বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, থাই সীমান্তবর্তী কারেন প্রদেশের মায়াড্ডি শহরে গতকাল সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে তিনজন বেসামরিক লোক নিহত হয়। এ সময় থাই সীমান্তের ভেতরে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। থাইল্যান্ডের মায়ি সোট এলাকায় এ ঘটনায় তিনজন নারী ও দুটি শিশু আহত হয়েছে। মায়ি সোট জেলার প্রধান কিত্তিসাক টমরসাক জানান, আতঙ্কে মিয়ানমারের প্রায় ১০ হাজার লোক থাইল্যান্ডে পালিয়ে এসেছে। সংঘর্ষে বেসমারিক লোকজন হতাহত হলেও সেনা অথবা বিদ্রোহীদের কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
মিয়ানমারের দুই কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের সবগুলো আসনেই এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪টি প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৪০টি দল এসব নির্বাচনে অংশ নেয়।
পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ২৫ শতাংশ আসন সেনা কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় সেনা-সমর্থিত দলগুলো ২৬ শতাংশ আসনে জয় পেলেই তারা সরকার গঠন করতে পারবে।

জেলে বসে চরবৃত্তি সিআইএ কর্মকর্তার

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) শীর্ষস্থানীয় একজন সাবেক কর্মকর্তা কারাবন্দী অবস্থায় রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির কথা স্বীকার করেছেন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৯৯৭ সালে তাঁকে সাড়ে ২৩ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। গত সোমবার গুপ্তচরবৃত্তিতে নিজের ছেলেকেও জড়ানোর কথা স্বীকার করেন সিআইএর ওই সাবেক কর্মকর্তা।
হ্যারল্ড নিকোলসন নামের ৫৯ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা ক্রেমলিনকে স্পর্শকাতর কিছু তথ্য পাচার করেন। এসব তথ্যের মধ্যে রাশিয়ায় কর্মরত মার্কিন গোয়েন্দাদের নামও ছিল। এই অপরাধের জন্য তিনি বর্তমানে কারাভোগ করছেন। নতুনভাবে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে আট বছর অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে।
নিকোলসন সিআইএর রোমানিয়া শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিকোলসন স্বীকার করেন, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি অর্থের বিনিময়ে রাশিয়ার কাছে তথ্য পাচার করেছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি ডিওয়েট হল্টন বলেন, নিকোলসন শুধু দেশের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি ছেলে নাথানিয়েলকেও জঘন্য ওই কাজে জড়িয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন।
ছেলে নাথানিয়েল নিকোলসনের সঙ্গে জেলে দেখা করতে এলে সে সময় নিকোলসন ছেলেকে তথ্য দিতেন। নাথানিয়েল সান ফ্রান্সিসকো, মেক্সিকো সিটি, লিমাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রাশিয়ার গোয়েন্দাদের সেই তথ্য জানিয়ে দিতেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাতের সময় নাথানিয়েল রাশিয়ার গোয়েন্দাদের তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নিতেন। বিচারক অ্যানা ব্রাউন জানান, আগামী ১১ জানুয়ারি নিকোলসনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। তাঁর ছেলে নাথানিয়েলের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হবে আগামী মাসেই।

কেনিয়ায় এইডসবিরোধী কার্যক্রমে খুদে বার্তা কর্মকাণ্ডের সাফল্য

কেনিয়ার একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগে দেখা গেছে মুঠোফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে এইডস রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবনে তুলনামূলক বেশি সচেতন ও সচেষ্ট করা সম্ভব। ওয়েলটেল কেনিয়া-১ শীর্ষক ওই পরীক্ষায় পাঁচ শতাধিক এইডস রোগীকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ঠিক সময়ে ওষুধ সেবনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আশাপ্রদ ফল পাওয়া গেছে বলে গত মঙ্গলবার জানানো হয়।
ওয়েলটেল কেনিয়া-১ এর এই পরীক্ষায় তিনটি ক্লিনিকের আওতায় ৫৩৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধন করা হয়। ক্লিনিকগুলো থেকে নির্দিষ্ট সময়ে রোগীদের মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কেনীয় ভাষায় খুদে বার্তাটি হলো ‘ম্যামবো?’ অর্থাৎ ‘আপনি কেমন আছেন?’ রোগীদের আগেই বলে দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাবে ফিরতি খুদে বার্তায় তাদের হয় ‘সাওয়া’ (ভালো) নয়তো ‘সিদা’ (সমস্যা) লিখতে হবে। যেসব রোগী ফিরতি খুদে বার্তায় ‘সিদা’ লিখবে অথবা যারা দুই দিনের ভেতর কোনো জবাব দেবে না, ক্লিনিকের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের খোঁজ নেওয়া হবে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ এইডস রোগীদের মধ্যে যতসংখ্যক রোগী শতভাগ নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করে, তাদের চেয়ে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ১২ শতাংশ বেশি রোগী শতভাগ নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করে।

ফাউন্ডেশনকে কোনো অর্থ না দিতে ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশ

ইসলামী ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের অস্বচ্ছ অর্থ ব্যয়ের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোম্পানির সামাজিক কল্যাণের (সিএসআর) নামে এই তহবিল ব্যয় করা হয়ে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অস্বচ্ছ ব্যয় ঠেকাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফাউন্ডেশনকে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ না দিতে ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনকে ইসলামী ব্যাংক কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবন্ধন ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (এমআরএ) বলবে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে দেখা গেছে, সিএসআর তহবিল থেকে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণ তদারকি সংস্থা এমআরএ ফাউন্ডেশনকে অনুমোদন না দিলেও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা। এমনকি এমআরএ ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার বিষয়টি নাকচ করার পরও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন তা মানছে না।
শরিয়াহ অনুসারে হালাল বলে বিবেচিত হয় না—এমন অর্থ প্রতিবছর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ফাউন্ডেশনকে দিয়ে থাকে। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয় না ইসলামী ব্যাংক।
এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকে ফাউন্ডেশনের নামে আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্ত লাভ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, রাজশাহীতে কমিউনিটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, হোমিও ক্লিনিকে লগ্নি করা অর্থের ওপর আয় ও ভাড়া আয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া যাকাতের অর্থ এবং অনুদান ফাউন্ডেশনে জমা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের পাঁচটি খাত থেকে আয় এই ফাউন্ডেশনে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে (’০৭ সালের কিছু অর্থসহ) এসব খাত থেকে ৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকের আয় হয়। যার মধ্যে কোম্পানি কর (করপোরেট ট্যাক্স) দেওয়া হয় ২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রতিরক্ষা বাহিনীর গলফ ক্লাবে দেওয়া হয় ৩০ লাখ টাকা। আর বাকি ২৮ কোটি এক লাখ টাকা ফাউন্ডেশনকে দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে এমন আয়ের পরিমাণ ছিল তিন কোটি ২৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা কোম্পানি কর এবং বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা দেওয়া হয় ফাউন্ডেশনকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব অর্থের খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের কথা উল্লেখ থাকলেও তহবিলের আর্থিক বিবরণী নেই। কিন্তু ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীতা রয়েছে।
একজন বিদেশি দানবীর নাম প্রকাশ না করে বাংলাদেশের সিডর এলাকার জন্য ১৩ কোটি ডলার দান করেন। এই দান নিতে সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) মধ্যে চুক্তি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে এই অর্থের মধ্যে ৪৫ লাখ ডলার বা ৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অনুদান ব্যবস্থাপনার জন্য (কৃষি কর্মসূচির আওতায়) আইডিবি ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর অর্থায়ন যথাযথ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে কি না বা সরকারের কোনো সংস্থা তার দেখভাল করছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ যাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোন কারণে আমাদের এমন চিঠি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার হতে পারছি না, তাই এখনই কোনো মতামত দিতে পারছি না।’ তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সহসাই তাঁদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্ঘাটিত তথ্য জানাবেন। তাহলে তাঁরাও এর সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।
তবে আব্দুজ যাহের বলেন, ‘আমরা আমাদের শেয়ারধারী ও আমানতকারীদের কাছে কোনো অস্পষ্টতা বা অস্বচ্ছতা রাখি নাই। সবকিছুই তাঁদের কাছে পরিষ্কার করা হয়েছে।’

এসইসি মডার্ন পলির আইপিও অনুমোদন বাতিল করেছে

অবশেষে মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।
জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের আগেই বড় ধরনের অনিয়ম ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কোম্পানিটির আইপিওর অনুমোদন বাতিল করে।
এসইসির নিয়মিত সভায় গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মডার্ন পলি অনিয়ম ও তথ্য গোপনের আশ্রয় নিয়ে পুঁজিবাজারের আইন ভঙ্গ করেছে। কোম্পানির যেকোনো তথ্যের যথার্থতা (ডিউ ডিলিজেন্স) নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইস্যু ব্যবস্থাপকের। এ কারণে কোম্পানি ও ইস্যু ব্যবস্থাপক উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই ঘটনায় মডার্ন পলির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মডার্ন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেবে এসইসি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া এবং এ টি এম তারিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি মডার্ন পলিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দরপত্র আহ্বানের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল এসইসি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির কাগজপত্র অধিকতর পর্যালোচনা করলে অনিয়মের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘মডার্ন পলি বাজার থেকে উত্তোলিত টাকা দিয়ে মর্ডান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে তাদেরই একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে চেয়েছিল। মডার্ন ফাইবারের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে কোম্পানিটি মূলধন বাড়িয়ে এ পরিমাণ করেছে। পুঁজিবাজারের আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি ১০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে এসইসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোম্পানিটি মূলধন বাড়ালেও এসইসির কোনো অনুমোদন নেয়নি।
এসইসির এই কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেন, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তর (আরজেসি) থেকে মূলধন বাড়ানোর বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ বিবরণী বা রিটার্ন অব অ্যালোটমেন্ট ঠিকই সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইস্যু ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড সঠিকভাবে ডিউ ডিলিজেন্স করেনি। তার মানে হলো, ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো প্রক্রিয়াটি অনিয়ম ও ভুলের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এ কারণেই এসইসি প্রক্রিয়াটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, এসইসির অনুমোদন ছাড়া আরজেসি এ ধরনের কাগজপত্র দিতে পারে না। তাই এ সংস্থাটির কাছেও জানতে চাওয়া হবে তারা কীভাবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করল।
এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন এত সমস্যা থাকা স্বত্ত্বেও কেন কোম্পানিটিকে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হলো। এর জবাবে তারিকুজ্জামান বলেন, এ অনিয়মের ঘটনাটি এসইসিই উদ্ঘাটন করেছে। বিষয়টি ইচ্ছা করে এড়িয়ে গেলে এসইসি এটা করত না। তা ছাড়া কোম্পানির উপস্থাপিত তথ্যের ডিউ ডিলিজেন্স ঠিক আছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব ইস্যু ব্যবস্থাপকের। এসইসি শুধু দেখে কোম্পানি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছে কি না। তাই তথ্যের ভুলভ্রান্তির দায়দায়িত্ব ইস্যু ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।
সূত্র জানায়, শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত এ টাকায় কোম্পানিটি মডার্ন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজের ৮৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বা পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৩০০ শেয়ার কেনার কথা। ওই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য তিন হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মডার্ন ফাইবারের এক হাজার টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে প্রিমিয়াম নেওয়া হবে দুই হাজার ৮৮০ টাকা। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থের প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এ জন্য।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজ যে প্রক্রিয়ায় অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে, তা পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ইনডাইরেক্টলি ডাইরেক্ট লিস্টিং) মতো।
কারণ, কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করবে তার পুরোটাই সহযোগী কোম্পানিতে চলে যাবে। আর ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই কোম্পানিতে অর্থ স্থানান্তরের মানে হলো পরোক্ষভাবে টাকাগুলো উদ্যোক্তাদের পকেটে চলে যাওয়া। এই যুক্তিতেই ডিএসই কোম্পানিটির আইপিও প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছিল।
গত ২৫ আগস্ট এসইসি মডার্ন পলিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেয়। এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটি বাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি টাকা তুলতে পারত।
উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে গতকাল প্রথম আলোতে ‘আইপিওতে আসার আগেই অনিয়ম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই এসইসি কোম্পানিটির আইপিও প্রস্তাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ব জেরুজালেমে আরও ১৩০০ বাড়ি নির্মাণে অনুমোদন

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আরও এক হাজার ৩০০টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেমের জেলা পরিকল্পনা কমিটি গত সোমবার এ পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়। ওই পরিকল্পনা জনগণের পর্যালোচনার জন্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হাগিত অফরান গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নতুন বসতিগুলোর মধ্যে ৯৮৩টি স্থাপন করা হবে হার হোমা এলাকায় এবং ৪২টি বেথলেহেমের আশপাশের এলাকায়।
এমন সময় এ তথ্য প্রকাশ করা হলো, যখন ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন গেছেন। শান্তি আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছে ফিলিস্তিন।
নতুন করে আরও বসতি স্থাপন অনুমোদনের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের প্রধান সমঝোতাকারী সায়েব এরেকাত বলেছেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন যাচ্ছেন ইহুদি বসতি স্থাপন কর্মকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তাঁর এ সফরের লক্ষ্য হবে আবারও দুই পক্ষের আলোচনা শুরু করা। কিন্তু এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, নেতানিয়াহু শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।’
সায়েব এরেকাত আরও বলেন, এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমঝোতায় সহায়ক সব কটি দরজা নেতানিয়াহু বন্ধ করে দিয়েছেন। শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে এর দায়দায়িত্ব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।
নতুন করে বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জেরুজালেমে ইসরায়েলের নতুন করে বসতি নির্মাণের অনুমোদন গভীর হতাশাব্যঞ্জক।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে চীন সফরে ক্যামেরন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন সফর শুরু করেছেন। এ সফরে তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। এ যাবৎকালের বৃহত্তম প্রতিনিধি দলের সমন্বয়ে ডেভিড ক্যামেরনের এ সফরকে চীনে ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মিশন হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক বিশ্লেষকই। এ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্ন, বাণিজ্যমন্ত্রী ভিন্স ক্যাবলসহ প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়িক নেতা।
চীনে ক্যামেরনের এটিই প্রথম সরকারি সফর। তিনি তাঁর চীন সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সফর হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল বিষয় বাণিজ্য।
ক্যামেরন বলেন, ‘চীন সফরের মাধ্যমে আমরা একটি সাধারণ বার্তা সবাইকে জানাতে চাই। ব্রিটেন এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত একটি স্থান। এর পাশাপাশি আমরা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’
সফরকালে ক্যামেরন বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ও প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাত্কালে তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
প্রসঙ্গত, গত অর্থবছরে এ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ১৮০ কোটি ডলার।

ডিএসইর সূচক আট হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়াল



দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আট হাজার পয়েন্টের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
দুই দিন দরপতনের পর গতকাল মঙ্গলবার স্টক এক্সচেঞ্জটিতে সাধারণ মূল্যসূচক ১০৯ পয়েন্ট বেড়েছে। আর এতেই ডিএসইর সাধারণ সূচক গিয়ে ঠেকেছে আট হাজার ৮৩ পয়েন্টে।
সাধারণ সূচকের পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধনের পরিমাণও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ডিএসইর বাজার মূলধন গতকাল এক দিনে চার হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বেড়ে তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৪০৪ পয়েন্ট বেড়ে ২২ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ারবাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। সেই হারে বাড়েনি শেয়ারের সরবরাহ। আর চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণেই বেশ কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছিল।
এ পরিস্থিতিতে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে তালিকাভুক্ত রয়েছে—এমন কোম্পানিসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়তে নির্বাহী আদেশ দেন। এ খবরের পরপরই বাজার কিছুটা মূল্য সংশোধনের ধারায় ফিরতে শুরু করে। বিশেষ করে তিতাস, ডেসকো, পাওয়ার গ্রিডসহ তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতন ঘটে।
তবে কয়েক দিন ধরে বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে এসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়তে পারবে না। এ কারণে গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেশ খানিকটা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি মহল কম দামে কেনার লক্ষ্যে আগে থেকেই সরকারি শেয়ারের মূল্য কমিয়ে রাখতে বাজারে কারসাজি করছে। আর এর শিকার হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী। তাঁদের অনেকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার কিনে এখন পুঁজি হারাতে বসেছেন। এর ফলে এত দিন যারা সরকারি শেয়ার ছাড়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারাই আবার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের উচিত হবে, একটি নির্দিষ্ট দামের নিচে শেয়ার বিক্রি না করা। কারণ বর্তমানের নিম্নমুখী দামে শেয়ার বিক্রি করলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, সরকারি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণার পরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বাজার নজরদারি কিছুটা শিথিল করেছে। এ সুযোগে সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারের দামই বাড়ানো হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি: গতকাল দিনের শুরু থেকেই ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল বেশ ঊর্ধ্বমুখী। সকাল থেকেই বাড়তে থাকে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। যার প্রতিফলন ঘটে সূচকে।
এদিকে, বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়লেও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ডিএসইতে গতকাল প্রায় দুই হাজার ৩৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৯৭ কোটি টাকা কম। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২০৬ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গতকাল ২৩৫ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪২টির কোম্পানির, কমেছে ৯০টির ও অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৮টির। বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ৭৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল আটটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সরকারি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমাতে বাজারে কারসাজি হচ্ছে

সরকারি যেসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে, সেসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্যমান কম করতে বাজারে কারসাজি হচ্ছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমিয়ে দিচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান আ হ ম মোস্তফা কামাল আজ এ কথা বলেন।
কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, এখন বাজারে অনেক টাকা আছে। ফলে মার্জিন লোন রাখা হবে কি না, এ ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এসইসি ইচ্ছে করলে তা বন্ধ করতে পারে।
স্থায়ী কমিটি পুঁজিবাজারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এসইসি, সিএসই, ডিএসইকে পরামর্শ দিয়েছে।
বৈঠকে শেয়ারবাজার ও এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থসচিব, ব্যাংকসচিব, বাণিজ্যসচিব, এনবিআরের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘শিল্পের পুঁজি জোগান দিতে আমরা পুঁজিবাজারের বিকাশ চেয়েছিলাম। এটা পর্যাপ্ত বিকাশ লাভ করেছে। পুঁজিবাজারের অর্থ শিল্পায়নের কাজে নিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আমরা সেটা পারিনি। শুধু সেকেন্ডারি বাজারেরই বিকাশ হয়েছে।’
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘এখন নতুন করে বিভিন্ন শিল্পকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহ দিতে চাই। নানা জটিলতা থাকায় তারা পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। এ জন্য আমারা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সম্মত হয়েছি, পঁজিবাজারে এলে তাদের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) দেওয়া হবে।’

ডিএসইর পুনর্নির্মিত অফিস উদ্বোধন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুনর্নির্মিত অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। মতিঝিলে ডিএসইর ভবনের নিচতলায় আজ বুধবার সন্ধ্যায় কেক কেটে নবনির্মিত অফিসের উদ্বোধন করেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান শাকিল রিজভী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুর-এ-ইলাহীসহ ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ ডিএসই পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার নিক লো এবং এডাম জ্যাকসন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। ডিএসইর সভাপতি ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারকে ডিএসইর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন।
ডেপুটি হাইকমিশনার লো ডিএসইকে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আগামী বছরের মার্চে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে লন্ডনে রোড শো করার ব্যাপারেও তাঁরা পূর্ণ সহযোগিতা দেবেন বলে তিনি জানান।
এ সময় প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জহুরুল আলম, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আ স ম খায়েরুজ্জমান ও ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলকারনাইনের অন্তর্ধান-রহস্য

কতভাবেই না চমকে দিতে পারে পাকিস্তানের ক্রিকেট। প্রথমে খবর এল, ‘নাই’ হয়ে গেছেন একজন জলজ্যান্ত মানুষ। আগের ম্যাচে জয়ের নায়কদের একজন তিনি। খেলা নিয়ে সংশয় ছিল না কালও। কিন্তু পাকিস্তান দল সময়মতো স্টেডিয়ামে এলেও এলেন না জুলকারনাইন হায়দার। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পাকিস্তানি উইকেটরক্ষককে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না!
এই আচমকা ‘উধাও’ হওয়া নিয়ে যখন চারদিকে হইচই, সন্ধ্যায় অসমর্থিত সূত্রে জানা গেল জুলকারনাইনকে দেখা গেছে দুবাই বিমানবন্দরে। প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যে যাওয়ার। দুবাই বিমানবন্দরে জুলকারনাইনকে দেখা যাওয়ার খবর ক্রিকইনফোর কাছে স্বীকারও করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি সূত্র। অথচ কাল বিকেলে পিসিবিই বলেছিল, জুলকারনাইনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা নাকি তদন্তও শুরু করেছে, এমনকি জানানো হয়েছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকেও।
পিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম সারওয়ার ক্রিকইনফোকে বলেছিলেন, ‘তাঁকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাপারটা আমরা বুঝতে পেরেছি আজ (কাল) সকালে, যখন স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। টিম ম্যানেজমেন্টকেও সে কিছু জানায়নি।’ ম্যানেজার ইন্তিখাব আলমের বক্তব্যও ছিল এ রকম, ‘আমি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, হায়দার দলের সঙ্গে মাঠে আসেনি এবং আমরা ওকে খুঁজছি।’ তবে নিখোঁজ হওয়ার সূত্র পাওয়া গেছে জুলকারনাইনের ভাই রাজা হায়দারের কথায়, ‘চতুর্থ ওয়ানডের পর জুলকারনাইনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ও বলেছে, ম্যাচের পর থেকেই ও নানা ধরনের হুমকি পাচ্ছে, তবে বিস্তারিত কিছু বলেনি।’
‘নাই’ হয়ে যাওয়ার আগে এমনই একটা ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন জুলকারনাইনও। ফেসবুকে দিয়েছেন রহস্যময় এক স্ট্যাটাস, ‘ছেড়ে যাচ্ছি পাকিস্তান ক্রিকেট, কারণ শেষ ম্যাচটা হারার জন্য একজনের কাছ থেকে বাজে বার্তা পেয়েছি।’ শেষ ম্যাচটা বলতে এখানে জুলকারনাইন সম্ভবত চতুর্থ ম্যাচটাই বুঝিয়েছেন, যেটিতে এক বল বাকি থাকতে এক উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল জিয়ো টিভির এক প্রতিবেদক দাবি করেছেন, তাঁকেও এমন একটি খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন জুলকারনাইন। ওই খুদে বার্তাতেই জুলকারনাইন অনুরোধ করেছেন লাহোরে তাঁর পরিবারের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে আর আভাস দিয়েছেন, চলে যেতে পারেন যুক্তরাজ্যে। তাঁর বাড়িতে ইতিমধ্যেই পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।
তবে সত্যিই যুক্তরাজ্য বা অন্য কোথাও চলে গেছেন কি না, এ ব্যাপারটি পরিষ্কার নয়। তবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট দলের ম্যানেজারের কাছে থাকে। তবে মিডিয়া ম্যানেজার সারওয়ার জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে জুলকারনাইন রোববার রাতেই পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন। পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলগুলো জুলকারনাইনের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছে, কিন্তু কিছু জানতে পারেনি। আইসিসির এক সূত্র ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার, সে নিজের ইচ্ছাতেই চলে গেছে। কারণটা এখনো পরিষ্কার নয়।
বড় এ ঘটনার ঠিক আগে জুলকারনাইন খবর হয়েছেন ‘ছোট’ এক ঘটনায়। বেঁধে দেওয়া সময়ের চেয়ে মাত্র ৫ মিনিট দেরিতে হোটেলে ফেরায় ওপেনার শাহজাইব হাসান ও বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রেহমানের সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছিল জুলকারনাইনকেও। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ওই জরিমানা ছিল স্রেফ ক্রিকেটারদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। অপরাধের মাত্রার মতো জরিমানাও হয়েছিল সামান্য, মাত্র ৫০০ দিরহাম (প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা)।
সব রহস্যের সমাধান সম্ভব কেবল জুলকারনাইনকে খুঁজে পাওয়া গেলেই। তবে হয়তো আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না, কিংবা পাওয়া গেলেও কখনো আলোয় আসবে না এই অধ্যায়। পাকিস্তান ক্রিকেট যে রহস্য উপহার দিতেই ভালোবাসে!

লড়াই চালিয়ে যাবেন পন্টিং

আজ থেকে বহু বছর পর যখন অস্ট্রেলিয়ার দুই যুগের সন্ধিক্ষণের সন্ধান করা হবে, রিকি পন্টিং হবেন এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। প্রবল প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়া দলটায় খেলেছেন, পন্টিংয়ের শেষ সময়টায় এসে যেন অস্ট্রেলীয় সাম্রাজ্যেরও ক্ষয় শুরু হলো। পন্টিং এখন দেখছেন, কীভাবে তাঁদের একের পর এক অর্জন মাটির ঢিবির মতো ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে নিমেষেই। ওয়েবসাইট।
দিন সবার সমান যায় না সব সময়। দুঃসময়ের কাঁটা বিছানো পথে হাঁটতে হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল অধিনায়ক পন্টিং কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন, তাঁকেও সরিয়ে দেওয়ার জন্য শোরগোল উঠবে দেশের মিডিয়ায়!
এই শোরগোল এখনো চলছে। কিন্তু পন্টিং সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এমন নয় আমার চুক্তিতে লেখা আছে, আমি শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক থেকে যাব। আমার চেয়ে ভালো কেউ যদি আসে, আনন্দচিত্তে ওর হাতে দায়িত্ব সঁপে দিয়ে সরে দাঁড়াব। কিন্তু সত্যি বলতে কি, এই মুহূর্তে নিজেকে দায়িত্বটার জন্য সেরা মনে হচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও প্রায় সুর মিলিয়ে বলছেন, নিন্দুকদের কান কথায় কান দেওয়ার সময় তাঁর নেই। ক্লার্কের ঝামেলাটি অবশ্য একটু অন্য রকম। তাঁকে অধিনায়ক মানতে নারাজ দলের একটি অংশ—এমনই গুঞ্জন বাজারে। সিরিজের শেষ ওয়ানডেটি দাপটের সঙ্গে জিতে নিয়ে ক্লার্ক জবাব দিলেন, ‘আসলেই এমন কিছু আছে কি না, সেটি জানতে হলে অন্য কাউকে প্রশ্ন করতে হবে। আমার দৃষ্টিতে দলের সবাই আমাকে অধিনায়ক হিসেবে যথেষ্ট শ্রদ্ধাই দেখায় এবং এই দায়িত্ব আমি উপভোগও করি।’
দুয়ারে দাঁড়িয়ে অ্যাশেজ। কোথায় সামনের দিকে তাকাবে দল, উল্টো এখনো এসব ঝুট-ঝামেলা নিয়ে দিতে হচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। অস্ট্রেলীয় নির্বাচকেরা অবশ্য তাঁদের কাজ এগিয়ে রেখেছেন। প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ যেমন জানিয়ে দিয়েছেন, ২৫ নভেম্বর শুরু টেস্টের দলটি প্রায় চূড়ান্ত। সেখানে চূড়ান্ত মাইক হাসির থাকাও। গত সাতটি টেস্ট ইনিংসে হাসির সর্বোচ্চ স্কোর ৩৪। তার পরও তাঁকে দলে রাখছে ওয়ানডের ফর্ম। সর্বশেষ ৫ ওয়ানডের তিনটিতেই ৭৯, ৬৯ আর ৭১* রানের ইনিংস আছে তাঁর।
দল প্রায় চূড়ান্ত। তাতে নতুন মুখ না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও হিলডিচ তরুণ ব্যাটসম্যানদের সামনে দরজাটা খোলাই রাখতে চান। আগামী সোমবারের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে কেউ দারুণ কিছু করলেই অপ্রত্যাশিত অ্যাশেজ অভিষেক হয়ে যেতে পারে!

ম্যাচ-সিরিজ দুটোই জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

মাঠে টানা তিন ম্যাচে এত নাটক হলো, মাঠের বাইরে না হলে চলে! জুলকারনাইন হায়দারের চমকপ্রদ ‘অন্তর্ধান’ রহস্যের পর কাল চমক ছিল পাকিস্তানের একাদশেও। শেষ ম্যাচে খেললেন চোটের কারণে ওয়ানডে স্কোয়াডেই না থাকা মোহাম্মদ ইউসুফ! টেস্ট সিরিজ খেলতে আগের দিনই দুবাই পৌঁছেছেন ইউসুফ, পরদিনই নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মাঠে।
এসব নাটক মাঠে অবশ্য প্রভাব ফেলেনি। সিরিজে জয়ের ক্রমধারা মেনে কাল শেষ ওয়ানডেতে ৫৭ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজটিও দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে নিল ৩-২ ব্যবধানে। টস-জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাটিং করে গড়ে ৩১৭/৫ রানের পুঁজি। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এই প্রথম দেখল তিন শ রানের স্কোর। খুব বড় একক অবদান নেই কারও, তবে হাফ সেঞ্চুরি চারটি।
দ্বিতীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক জয় উপহার দেওয়া রাজ্জাকের কাছে কালও দলের দাবি হয়ে ওঠে অবিশ্বাস্য ইনিংস। সম্ভাবনা জাগিয়েও তা পারেননি তিনি। পারেনি পাকিস্তানও। ৩১৮ রানের লক্ষ্যের পথে পাকিস্তান ২৬০ রানে অলআউট। ১২.২ ওভারে ৮২—শুরুটা অবশ্য বড় লক্ষ্য তাড়া করার মতোই করেছিলেন শাহজাইব হাসান ও মোহাম্মদ হাফিজ। ওয়েবসাইট।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩১৭/৫ (ক্যালিস ৮৩, আমলা ৬২, ডি ভিলিয়ার্স ৬১, ডুমিনি ৫৯*; আফ্রিদি ২/৫৯)।
পাকিস্তান: ৪৪.৫ ওভারে ২৬০ (শাহজাইব ৩৯, হাফিজ ৫৯, ওমর ৬০, রাজ্জাক ৩৯; ক্যালিস ৩০/৩, পিটারসন ৪২/৩, স্টেইন ৪৭/২)।

পাকিস্তান দলে মেজো আকমল

বড় ভাই অনেক দিন থেকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, বছর খানেক হলো খেলছেন ছোট ভাই। এবার পাকিস্তান দলে ঢুকে গেলেন আকমলদের মেজো ভাইও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে ডাক পেয়েছেন আদনান আকমল। বড় ভাই কামরান আকমলের চোট, এরপর জুলকারনাইনের হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ ও অবসরই আদনানের দলে ঢোকার রাস্তা করে দিয়েছে। কারণ, এই দুজনের মতো আদনানও উইকেটকিপার। ২৪ বছর বয়সী উইকেটকিপার অবশ্য বছর দুয়েক ধরেই জাতীয় দলে ঢোকার দোরগোড়ায় ছিলেন, তবে জায়গা হয়নি বড় ভাই কামরানের কারণেই। পূর্বঘোষিত পাকিস্তান টেস্ট দলে পরিবর্তন আছে আরও দুটি—থেকে যাচ্ছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও ইউনুস খান। ইউনুস ও হাফিজ পেলেন ওয়ানডে সিরিজে ভালো করার পুরস্কার। আগামী পরশু দুবাইয়ে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি।

‘টেন্ডুলকারই সর্বকালের সেরা’

আগে বিতর্ক হতো লারা, না টেন্ডুলকার। বিতর্কের বিষয়টি এখন পাল্টে গেছে, ডন ব্র্যাডম্যান, নাকি শচীন টেন্ডুলকার? কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ারই এক পত্রিকার জরিপে বেরিয়ে আসে ব্র্যাডম্যান নন, শচীন টেন্ডুলকারই সর্বকালের সেরা। জরিপের রায় মেনে এবার জহির আব্বাস বলছেন, শচীন টেন্ডুলকারই সর্বকালের সেরা।
পাকিস্তান কিংবদন্তি মুখ ফুটেই জানিয়ে দিলেন নিজের রায়টা, ‘লোকজন তাঁকে (ব্র্যাডম্যান) সর্বকালের সেরার আসনে রেখেছে। আমি কখনোই তাঁর ব্যাটিং দেখিনি। কিন্তু আমি জানি কোনোভাবেই তিনি টেন্ডুলকারের চেয়ে ভালো হতে পারেন না। এই ছেলেটি (টেন্ডুলকার) নিশ্চিতভাবেই ডনের চেয়ে নিজেকে এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছে।’
জহিরও নিজের মতের পক্ষে মেলে ধরেছেন যুক্তির ডালা, ‘এই ছেলেটিকে দেখুন, সে ২১ বছর ধরে খেলে যাচ্ছে, হাজার হাজার রান করছে, সেঞ্চুরি করছে ডজন ডজন। কিন্তু এখনো একজন অভিষিক্তের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত।’
পাকিস্তানের ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জহিরের দেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট এখন অস্থির। ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে নানা কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর নেশাটাই যেন তাদের পেয়ে বসেছে বেশি। উত্তরসূরিদের প্রতি জহিরের আহ্বান টেন্ডুলকারকে দেখে শেখার, ‘তাকে (টেন্ডুলকার) মাঠে দেখার মধ্যেও খুঁজে নেওয়া যায় অনুপ্রেরণা। সে এখনো ব্যাট করছে একজন টিনএজারের মতো। আমাদের ব্যাটসম্যানদের তার কাছ থেকে শেখা উচিত।’
৭৮ টেস্টে ৫০৬২ রান, এই পরিসংখ্যান ব্যাটসম্যান জহিরের দক্ষতা বোঝাতে অপারগ। তাই এই পরিসংখ্যান নয়, জহিরকে মানুষ শ্রদ্ধা করে তাঁর সহজাত ব্যাটিং দক্ষতার কারণে। ১৬ বছর খেলে কেন এত কম টেস্ট খেলা আর কম রান করা? আফসোসটা জহিরেরও, ‘আমি গর্বিত যে এশিয়ার একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আমি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১০০টির ওপরে সেঞ্চুরি করেছি। কিন্তু ১৬ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও আমি টেস্ট খেলেছি মাত্র ৭৮টি। ভালো হতো যদি আমার জন্ম সত্তরে হতো। তাহলে আমি হয়তো আরও বেশি টেস্ট খেলতে পারতাম এবং আরও অনেক রান করতে পারতাম। সম্ভবত আমার জন্মটা হয়েছিল ভুল সময়ে।’

গল্প- 'নদীর নাম চিলমারী' by নীলু দাস (অগ্রন্থিত গল্প)

[ষাটের দশকের কথাশিল্পী নীলু দাস। আজকের প্রজন্মের কাছে অপরিচিত নাম। তিনি একটি দশক লেখালেখি করে হঠাৎ লেখালেখি থেকে দূরে সরে গিয়ে ছিলেন। কিন্তু এক দশক কাল পরিধিতে বিভিন্ন পত্রিকায় ষাটের অধিক প্রকাশিত গল্পে রেখেছেন তার মেধা ও মননের পরিচয়।

তিনি ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নীচতুলন্দর গ্রামে। মৃতু্যবরণ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে। কবি আমিনুর রহমান সুলতান নীলু দাসের ১২টি গল্প বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ। সম্প্রতি নীলু দাসের আরও একটি গল্প সংগ্রহ করেছেন তিনি সওগাত পত্রিকা থেকে। গল্পটির প্রকাশ কাল ভাদ্র ১৩৭০, ৪৬শ বর্ষ, ১০ সংখ্যায়। গল্পটি অগ্রন্থিত বলে এখানে ছাপা হল। ]

আরেকটি ‘সহনীয়’ হার বাংলাদেশের

ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের ওয়ার্মআপ দেখে সবাই নাকি অবাক। গোলরক্ষক কোথায়! বাংলাদেশ গোলরক্ষক দলের সঙ্গে ওয়ার্মআপে নামেননি। খেলা শুরু হওয়ার আগে সরাসরি তিনি গেছেন মাঠে! বিরল ঘটনাই। আমিনুল হকের শারীরিক যে অবস্থা, তাতে ওয়ার্ম করাটা হতো বিলাসিতা। ওই অসুস্থ শরীর নিয়েও যে তাঁকে ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট দাঁড়াতে হয়েছে পোস্টের নিচে। প্রথমার্ধে একটি বলও ঢুকতে দেননি জালে।
শেষ পর্যন্ত গোল খেয়েছেন তিনটি, তবে বাঁচিয়েছেন গোটা তিনেক। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভালোই করেছেন আমিনুল। এশিয়াড ফুটবলের দ্বিতীয় ম্যাচে আমিরাতের বিপক্ষেও ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। ০-৩ ব্যবধান তো সহনীয়ই!
প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম ৭৫ মিনিটে কাঁধে চোট পেলে বাকি সময়টা পোস্ট আগলান জ্বরে আক্রান্ত আমিনুল। দেশ থেকে তৃতীয় গোলরক্ষক নেহালকে গুয়াংজু উড়িয়ে নেওয়া হলেও খেলতে পারেননি গেমস শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে চূড়ান্ত নাম নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা থাকায়।
চোট-আঘাত, জ্বর, ক্লান্তি...নানা কারণে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল আরেকটা কঠিন ম্যাচই পার করল কাল। শক্তিশালী উজবেকিস্তানের পর কাল আরব আমিরাতের কাছে একই ব্যবধানের পরাজয়কেও বাংলাদেশ দেখছে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসেবে। এই আমিরাতের বিপক্ষে আগের চারটি ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছিল ০-৭, ০-১, ০-৩ ও ০-৪ ব্যবধানে।
গুয়াংজু থেকে টেলিফোনে সহকারী কোচ সাইফুল বারী জানালেন, আমিনুল ছাড়াও একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়। জাহিদ হাসানের (এমিলি) জায়গায় জাহিদ, মিন্টু শেখের বদলে মামুন মিয়া।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর বিরতির প্রথম মিনিটেই গোল খায় বাংলাদেশ। মামুন মিয়া বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েছেন আমিরাতের তরুণ স্ট্রাইকার আলজিনাইবি। তাঁর সাইড ভলিতে ১-০। ৬৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের উৎস কর্নার। আবদালাহর দৃষ্টিনন্দন কোনাকুনি শটে ২-০। শেষ দিকে আবদালার শট ডিফেন্ডার রেজার পায়ে লাগলে দিক পরিবর্তন করে ৩-০।
সাইফুল জানিয়েছেন, আমিনুল গোটা তিনেক গোল বাঁচিয়েছেন। উপস্থিত সবার প্রশংসা পেয়েছেন। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ৬ মিনিটে জাহিদ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তবে হারলেও খেলোয়াড়েরা মাঠে তাদের সেরাটা দিয়েছেন বলে অখুশি নন বাংলাদেশ কোচ রবার্ট রুবচিচ।
আগামীকাল হংকংয়ের সঙ্গে শেষ গ্রুপ ম্যাচে জিতলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের। ছয় গ্রুপের চারটি সেরা তৃতীয় দল যাবে সেরা ষোলোয়।

এশিয়ান গেমস ফুটবল: আরব আমিরাতের কাছেও ৩-০ গোলে হারল বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস ফুটবল: আরব আমিরাতের কাছেও ৩-০ গোলে হারল বাংলাদেশ

‘গোলমাল’ বাধাবে ‘গোলমেলে’ সিটি

• এ মৌসুমে ৬ জন নতুন খেলোয়াড় কিনেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সব মিলিয়ে খেলোয়াড় কেনার জন্য তারা খরচ করেছে ১৩ কোটি পাউন্ড (২১ কোটি ডলার)।
• ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে কার্লোস তেভেজকে দলে ভেড়ানোর পর ম্যানচেস্টার শহর ছেয়ে দিয়েছিল তারা ‘ম্যানচেস্টারে শুভাগমনের শুভেচ্ছা’ লেখা বিলবোর্ডে।
ওপরের দুটি বিষয় নজরগোচর করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন একটি কথা প্রায়ই বলেন ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে—গোলমেলে প্রতিবেশী! আজ ইস্টল্যান্ডে গোলমেলে এই প্রতিবেশীর মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানইউ। ফার্গুসনের দেওয়া নামটা সার্থক করে বড় কোনো গোলমাল করে ফেলবে না তো ম্যান সিটি! পারবে শিরোপাপ্রত্যাশী ম্যানইউকে বড় কোনো হোঁচট খাওয়াতে?
একই শহরের দুটি ক্লাব। প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে ম্যানইউই দুই ক্লাবের মধ্যে বড় ভাই। ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রভাবশালী এই ক্লাবটি। বয়সের দিক দিয়ে দুই বছর, আর সাফল্যের দিক দিয়ে অযুত-নিযুত বছরের ‘ছোট’ সিটি। যোজন-যোজনই পিছিয়ে।
লিভারপুলের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৮ বার লিগ জয়ের রেকর্ড তো আছেই, ম্যানইউ ইউরোপ-সেরার মুকুটও পরেছে তিনবার। মুদ্রার অন্য পিঠে শুধুই হতাশা। ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ লিগ জিতেছে ম্যান সিটি মাত্র দুবার। ইউরোপ-সাফল্য বলতে একবার কাপ উইনার্স কাপ জয়।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও পিছিয়ে ম্যান সিটি। ১৮৮১ সালে প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১৫৬ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ম্যানইউ জিতেছে ৬৫ বার, ৪২ বার সিটি। ড্র হয়েছে ৪৯টি ম্যাচ। এই অর্জন আর সাফল্যের গল্প এবং পরিসংখ্যান দেখে যে কেউ অনায়াসে বলে দেবেন, ‘গোলমাল’ কিছু সিটি করতে পারবে না। হয়তো বলে দেবেন—ম্যাচ যতই সিটির মাঠে হোক না কেন, ম্যানইউর জয় অনিবার্য!
কিন্তু নির্দ্বিধায় এ কথা বলে দেওয়ার আগে গত মৌসুমটির দিকে একবার যদি তাকান, কী দেখবেন সেখানে? শেষ পর্যন্ত ম্যানইউ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল সিটি। প্রথম ম্যাচের ফলাফল ৪-৩, দ্বিতীয় ম্যাচের ফল ১-০। দুবারই জয় এসেছে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে!
সেদিন আর নেই, যেখানে সিটির বিপক্ষে লড়াই মানেই ম্যানইউয়ের নিশ্চিত তিনটি পয়েন্ট। সেদিন আর নেই, যেখানে মাথা নুইয়ে নগর-প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেবে সিটি! তাই তেভেজরা বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’ জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছে না ম্যানইউও। তবে চতুর্থ স্থানে থাকা সিটিকে সমীহ করেই কথা বলেছেন ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন, ‘সিটির মৌসুমের শুরুটা ভালো হয়েছে। এই ম্যাচের আগে ওরা মানসিকভাবে চাঙা থাকবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

এবার হারলেন রোনালদো

রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লিওনেল মেসি। আগের লড়াইটি চলে আসছে যুগযুগান্ত থেকে। দুই দলের দুই মহাতারকা রোনালদো আর মেসির লড়াইয়েই যা একটু নতুনত্ব আছে। তবে এটির বয়সও দুই বছর হতে চলল। রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকতেই। সময়ের সেরা খেলোয়াড় কে? রোনালদো ও মেসিকে নিয়ে এই বিতর্ক তো সেই কবে থেকেই চলছে।
পরশু স্প্যানিশ লিগে রিয়াল-বার্সা জিতেছে নিজেদের ম্যাচে। গেটাফের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর রিয়াল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে মাদ্রিদ ডার্বি।
তবে রিয়ালের রোনালদো আর বার্সার মেসির মধ্যে বহমান লড়াইয়ে পরশু জয় হয়েছে মেসিরই। বার্সার জয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অবদান ছিল আর্জেন্টাইন প্লে-মেকারের। নিজে একটি গোল করেছেন, দলের বাকি দুই গোল করিয়েছেন সতীর্থ ডেভিড ভিয়া ও পেদ্রো রদ্রিগেজকে দিয়ে। রোনালদো এর কোনোটিই করতে পারেননি।
তবে সামগ্রিকভাবে এ মৌসুমের স্প্যানিশ লিগে দুজনের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন রোনালদোই। লা লিগায় রোনালদোর গোল ১১টি, মেসির হলো ৮টি।
এ মৌসুমের বার্সেলোনা অনেক অনুরাগীর মনোবেদনার কারণ হয়েছে। সেই পাসিং ফুটবল ঠিকই আছে কিন্তু গত মৌসুমের অমন ক্ষুরধার আক্রমণ আর প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার ভয়ালসুন্দর খেলাটা কই? গেটাফের মাঠে পরশু এই অনুযোগের কিছুটা পূরণ করতে পেরেছে বার্সা।
গোল মাত্র ৩টি। তবে জাদুকরি ফুটবলে প্রতিপক্ষকে ঠিকই মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পেরেছে গত বছর রেকর্ড ৬টি শিরোপা জেতা পেপ গার্দিওলার দল। প্রথম ৪৫ মিনিট তো অবশ্যই। এর পরও বার্সেলোনা কোচ গার্দিওলা খুশি হতে পারেননি, ‘সাধারণ চোখে দেখলে মনে হয় দল ভালো খেলেছে। তবে প্রথমার্ধে আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’
২৩ মিনিটে ভিয়ার পাস থেকে মেসি করেছেন প্রথম গোল। ৩৫ মিনিটে হয়েছে এর ঠিক উল্টো। মেসির পাসে ভিয়ার গোল। এর পরও প্রথমার্ধ নিয়ে গার্দিওলার হতাশার কারণ বেশ কিছু গোল মিস আর রক্ষণের অগোছালো ভাব। ভিয়া একাই নষ্ট করেছেন চারটি গোলের সুযোগ। মেসি-পেদ্রোও সুযোগ নষ্ট করেছেন। মেসির পাস থেকে ৬৫ মিনিটে গোলটি করে পেদ্রো কিছুটা শাপমোচন করেছেন।
বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথমার্ধটাই ছিল দুর্দান্ত। কারভালহো ও মেসুত ওজিলের করা জয়সূচক গোল দুটি এসেছে ১৯ মিনিটের মধ্যেই। দ্বিতীয়ার্ধে গোল না পেলেও রিয়াল খেলেছে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল। রোনালদো-ওজিল-ডি মারিয়া-হিগুয়েইনসমৃদ্ধ আক্রমণভাগের কাছে রিয়ালের একই শহরের দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ পাত্তাই পায়নি।
অথচ রিয়ালের এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল কিছুদিন আগেও ছিল সংশয়ের আবর্তে। হোসে মরিনহো একজন কৌশলী এবং রক্ষণাত্মক কোচ হবেন বলেই ধরে নিয়েছিল সবাই। আর তাঁর রিয়াল কি না এখন গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ ৫ ম্যাচে ২১ গোল পেয়েছে তারা! এর মধ্যে ৬ গোল করে আছে দুটি ম্যাচে।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ গত ১১ বছরে বার্নাব্যুতে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ডিয়েগো ফোরলানের দলের সময়টাও ভালো যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে অ্যাটলেটিকোকে রিয়াল উড়িয়ে দেবে বলেই ভেবেছিল সবাই। গোল বেশি না পেলেও হয়েছে সে রকমই। এ নিয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত। তবে মরিনহো পা মাটিতেই রাখতে বলছেন সবাইকে, ‘আমি আসলে ডার্বি-জয় নিয়ে ভাবছি না, চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে চাই আমি।’
এদিকে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে জয় পেয়েছে বড় তিন দল। বারির বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছে এসি মিলান। জুভেন্টাস ৩-১ গোলে জিতেছে সেসেনার বিপক্ষে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল লাৎসিওর বিপক্ষে রোমার জয়টি ২-০ গোলের।

স্টামফোর্ড ব্রিজ ছাড়ছে চেলসি

খেলোয়াড় আসে খেলোয়াড় যায়। আসা-যাওয়া করেন কোচরাও। কিন্তু মাঠ ছেড়ে দিয়ে কোনো ক্লাবের চলে যাওয়া ব্যতিক্রমই। এই অন্য রকম ঘটনাই হয়তো ঘটাতে যাচ্ছে চেলসি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা হয়তো ছেড়ে যাচ্ছে স্টামফোর্ড ব্রিজ। ওয়েবসাইট।
স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসির ১০৫ বছরের ইতিহাস। অনেক হাসি-কান্না, লড়াই, গৌরবের সাক্ষী। তবু কেন স্টামফোর্ড ব্রিজকে ছেড়ে যাবে চেলসি? কারণ একটাই—স্টামফোর্ড ব্রিজের ধারণক্ষমতা মাত্র ৪২ হাজার। এই ধারণক্ষমতায় আর কুলোচ্ছে না গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ডের ফুটবলে অভিজাত তকমা পাওয়া চেলসির।
তবে স্টামফোর্ড ব্রিজ ছাড়তে সময় লাগবে। ক্লাব সভাপতি ব্রুস বাক বলেছেন সে কথাই, ‘আমরা স্টামফোর্ড ব্রিজ ছেড়ে যাব, এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা মানসিক দিক থেকে অনেক কঠিন। তার ওপর আমরা পূর্ব লন্ডন ছাড়তে চাই না, এখানেও ভালো কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না।’

‘ভাজ্জি’র ব্যাটে ভারতের হাসি

আজ থেকে বহুদিন পরেও কুইজের খুব ভালো একটি প্রশ্ন হবে—বোলার হিসেবে খেলে, ১১২ রানে ১ উইকেট নেওয়ার পরও টেস্টে ম্যান অব দ্য মাচ হয়েছেন কে?
হরভজন সিং নিজেও খুব অবাক। ম্যাচ-সেরা পুরস্কার নেওয়ার পর বললেন, ‘কখনো ভাবিনি ব্যাটিংয়ের জন্য টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হব।’ হরভজন না ভাবলে কী হবে, তাঁর দুই সতীর্থ কিন্তু নিশ্চিত ছিলেন। হরভজনকে শুধু বোলার মানতে বরাবরই আপত্তি শচীন টেন্ডুলকার ও বীরেন্দর শেবাগের। ‘একটু ধৈর্য ধরলেই টেস্ট সেঞ্চুরি পাবে’—হরভজনকে সব সময়ই বলে এসেছেন ভারতের দুই ব্যাটিং-স্তম্ভ। নিরন্তর অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য কাল এই দুজনকে প্রশংসায় ভাসালেন হরভজন। তাঁদের এই অনুপ্রেরণাই তো বিব্রতকর এক হার থেকে বাঁচাল ভারতকে।
আহমেদাবাদ টেস্ট শুরুর আগে যদি বলা হতো টেস্ট হবে ‘ড্র’—কোনো দিক না তাকিয়েই মাথা পেতে নিতেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। মহেন্দ্র সিং ধোনি নিশ্চয়ই মানতে চাইতেন না, নিশ্চিত জয় কে হারাতে চায়! কিন্তু চতুর্থ দিন বিকেলের নাটকীয় এক ঘণ্টা পাল্টে দিয়েছিল সব হিসাব। ক্রিস মার্টিনের বিধ্বংসী এক স্পেল অবিশ্বাস্য জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল নিউজিল্যান্ডকে। কাল সেই স্বপ্ন মাথা কুটে মরেছে হরভজনের ব্যাটে।
আগের রাতে ধোনি হরভজনকে বলেছিলেন, ‘লক্ষ্মণের সামর্থ্য আমরা জানি, কিন্তু একা তো পারবে না। ওর সমর্থন দরকার।’ হরভজন কথা দিয়েছিলেন, সমর্থন দিয়ে যাবেন। কাল কিন্তু কথা রাখতে পারলেন না। এমন ব্যাটিং শুরু করলেন যে উল্টো সহযোগী হয়ে গেলেন লক্ষ্মণ! লক্ষ্মণের ২৯ রানের সময় উইকেটে নেমেছিলেন, একপর্যায়ে ছাড়িয়ে গেলেন তাঁকে। আগে সেঞ্চুরি ছোঁয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা, হঠাৎই স্টিভ ডেভিসের অবাক করা এক সিদ্ধান্তের শিকার লক্ষ্মণ। ব্যাটে জোরেশোরে লাগার পরও এলবিডব্লু! পরের বলে আবারও সংশয়পূর্ণ এলবিডব্লু। ৮ উইকেট পড়ে গেছে, ‘ভাজ্জি’র সেঞ্চুরি নিয়েই তখন শঙ্কা। ৯৫ থেকে ভেট্টোরির বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দূর করলেন সেই শঙ্কা। ভিভিএস লক্ষ্মণের কথা আর কী বলা যায়! ভারত বিপর্যয়ে পড়বে আর লক্ষ্মণের ব্যাট চওড়া হয়ে যাবে, কিছুদিন ধরে এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই লক্ষ্মণ দলের প্রয়োজনে আরেকটি ‘ভেরি ভেরি স্পেশাল’ ইনিংস খেলবেন, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে!
জয়ের স্বপ্ন উঁকি দিয়ে হারিয়ে যাওয়ায় একটু আক্ষেপ থাকতে পারে ভেট্টোরির। সেই প্রথম দিনের পর চোটের কারণে আর বোলিংই করতে পারেননি বেনেট, দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করতে পারেননি রাইডার-উইলিয়ামসনও। টেলর-ম্যাককালামদেরও বল হাতে নিতে হয়েছে। দিন শেষে তাই ফলাফলে অসন্তুষ্ট হবেন না ভেট্টোরি। বাংলাদেশ বিপর্যয়ের ভূতটা তো আপাতত তাড়ানো গেছে!

খেলাই ছেড়ে দিলেন জুলকারনাইন

অবশেষে ‘নাই’ হয়ে যাওয়া জুলকারনাইন হায়দারের দেখা মিলেছে। উধাও হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় লন্ডন থেকে পাকিস্তান উইকেটকিপার নিশ্চিত করেছেন, হুমকি-ধমকি পাওয়ার পর আত্মরক্ষার জন্যই গোপনে দুবাই ছেড়েছেন। সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন। আর সবকিছুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিদায় জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। যুক্তরাজ্যের ঠিক কোথায় আছেন তিনি, সেটি নিশ্চিত নয়।
গত কয়েক দিনে তাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘ঝড়’কেই অবসরের কারণ বলেছেন একটি টেস্ট, চারটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলা এই উইকেটকিপার, ‘যে পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হচ্ছে, এতে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছি। প্রচণ্ড চাপ আমার ওপর। আমি হুমকি পেয়েছি, আমার পরিবার হুমকি পেয়েছে।’
হুমকিদাতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি জুলকারনাইন। তবে সেই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ‘একদিন রাতের খাবার খেতে হোটেলের বাইরে গেলাম, তখন সে এল। বলল, “আমাদের সঙ্গে যোগ দিলে অনেক অর্থ বানাতে পারবে। রাজি না হলে দলে থাকা তো কঠিন হবেই, তোমার জীবনও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারি।” আমি জানি না, অন্যদের প্রস্তাব না দিয়ে শুধু আমাকে কেন দেওয়া হলো।’
এর আগে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল জিয়ো নিউজকে জুলকারনাইন বলেছিলেন, ‘চতুর্থ ওয়ানডেতে আমাকে যা করতে বলা হয়েছিল, আমি করিনি। আর পঞ্চম ওয়ানডেতে তারা যা চেয়েছিল, আমি তাতে রাজি হইনি। বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। কারণ, আমার পরিবার এখনো পাকিস্তানেই আছে।’
হুমকিদাতা কি তবে পাকিস্তান দল বা দলের সঙ্গে যুক্ত কেউ? জুলকারনাইনের রহস্যময় উত্তর, ‘আমি বলছি না তারাই বা তারা নয়। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’
পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি বলব না ঠিক কোথায় আছি। তবে অবরুদ্ধ নই। এখানকার অভিবাসন কর্মকর্তারা আমাকে অনেক সাহায্য করছেন। তাঁরা বলেছেন একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে। এই মুহূর্তে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার মতো অর্থ আমার নেই।’
টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে পাসপোর্ট নেওয়া ও পাকিস্তানে না গিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার রহস্যও খোলাসা করেছেন জুলকারনাইন, ‘আমার মনে হয়েছে বোর্ডকে জানালে বা পাকিস্তানে গেলে আমার ও আমার পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেত। কোনো ক্রিকেটারকে বললে হয়তো সেও বিপদে জড়িয়ে পড়ত। এ জন্যই আমি এখানে এসেছি, নয়-দশ বছর ধরেই এখানে আসছি বলে ব্রিটিশ আইন সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। এখানে সুরক্ষা পাওয়া যায়।’
এদিকে একটি সূত্র খবর দিয়েছে, কাল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তারা বাজিকরদের প্রস্তাব পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন জুলকারনাইনকে। ইংল্যান্ডে আপাতত মাস খানেক থাকার অনুমতি মিলেছে বলেও জানা গেছে।
ভাষ্য শোনার পর মনে হচ্ছে, কী ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যেই আছেন জুলকারনাইন। যদিও তিনি পাশে পাচ্ছেন না পিসিবিকে। বোর্ড উল্টো জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত ভাঙার কারণে জুলকারনাইনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। পিসিবির আইন উপদেষ্টা তাফাজ্জুল রিজভি বলেছেন, ‘সে নিজের সিদ্ধান্তে কাজ করেছে এবং সিদ্ধান্তটি মোটেও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন হয়নি। হুমকি পেলে সে দলের নিরাপত্তা অফিসারকে জানাতে পারত।’
সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলী জুলকারনাইনের এত সব কাহিনিকে মনে করছেন ছেলেমানুষি। ম্যাচ-উইনার বা সামনের সারির কোনো ক্রিকেটার না হওয়া সত্ত্বেও জুলকারনাইনকে কেন প্রস্তাব দেওয়া হবে, বুঝতে পারছেন না সাবেক লেগ স্পিনার আবদুল কাদির। আর সাবেক পেসার সরফরাজ নেওয়াজ ‘যথারীতি’ এটিকে বলছেন রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য জুলকারনাইনের ছলচাতুরী।

জুলকারনাইনের অন্তর্ধান নিয়ে বিস্ময়

নিরন্তর অনিশ্চিত পাকিস্তানের ক্রিকেটে নতুন চমক যোগ করেছেন উইকেটরক্ষক জুলকারনাইন হায়দার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে। পরে জানা গেল কাউকে কিছু না বলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় লন্ডন পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। পঞ্চম ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর কোনো এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোনে তাঁকে হুমকি দিচ্ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে জানিয়েছিলেন তিনি। জুলকারনাইনের এমন অন্তর্ধানে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বাসিত আলি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন হওয়ায় জুলকারনাইন এমনটা করেছে। তিনি বলেন, ‘সে যে রকম আচরণ করেছে, সেটা খুবই আশ্চর্যজনক। নতুন খেলোয়াড় হিসেবে সে হয়তো ভয় পেয়ে গেছে। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য এটা তো নতুন কিছু নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সময় এ ধরনের হুমকি-ধামকির মুখোমুখি হয়েছে। এগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়।’
তবে তিনি যদি হুমকিই পেয়ে থাকেন, তাহলে ভয় পেয়ে দুবাই থেকে পাকিস্তানে না ফিরে লন্ডন গেলেন কেন—এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন সাবেক ফাস্ট বোলার সরফরাজ নেওয়াজ। ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার জন্য পিসিবিকে অনুরোধও করেছেন তিনি।
পুরো ব্যাপারটিকেই দারুণ রহস্যজনক মনে করেন স্পিন কিংবদন্তি আবদুল কাদির। কোনো শীর্ষস্থানীয় বা ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় না হওয়ার পরও কেন জুলকারনাইনকে হুমকি দেওয়ার ব্যাপার ঘটবে তা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না আবদুল কাদিরের। তিনি মনে করেন, দুবাই থেকে লন্ডনে কাউকে কিছু না বলে চলে যাওয়া ঘোরতর অন্যায় হয়েছে জুলকারনাইনের।
পিসিবির সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল তৌকির জিয়া সরফরাজ নেওয়াজ ও আবদুল কাদিরের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনিও মনে করেন, ব্যাপারটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, ‘সব রহস্যের অবসান ঘটাতে পিসিবির উচিত ব্যাপারটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা।’
এদিকে পিসিবির আইনজীবী তফাজ্জল রিজভী জানিয়েছেন, জুলকারনাইন যদি লন্ডন থেকে ফিরেও আসেন, তার পরও আচরণবিধি অনুসারে তাঁকে শাস্তি পেতে হতে পারে।

চার ইনিংসে চার সেঞ্চুরি

খুলনার ড্রেসিংরুমের সামনে বসে ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসানদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। পরিচিত সাংবাদিক দেখেই ডাক দিলেন তামিম ইকবাল, ‘দেখলেন, জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা সবাই কী দারুণ খেলছে!’
নিজে এই পর্বে খেলতে পারছেন না, কিন্তু সতীর্থদের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত তামিম। শুধু তামিম কেন, মুশফিকুর রহিম, তুষার ইমরান কিংবা ইমরুল কায়েস; জাতীয় দলের ভেতরে-বাইরের সব ব্যাটসম্যানের একই উচ্ছ্বাস, এবার জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা জাতীয় লিগে ভালো পারফরম্যান্স করছেন।
কালকের উচ্ছ্বাসের আপাত কারণ চারটি সেঞ্চুরি। জাতীয় লিগের দ্বিতীয় পর্বে যে দুটি ম্যাচ হলো, তাতেই চারটি সেঞ্চুরির দেখা মিলল। দুই সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস ও ফজলে রাব্বির দল খুলনা ও বরিশাল জয় পেল। সেঞ্চুরি করেও পরাজিত দলে রইলেন ঢাকার মোহাম্মদ আশরাফুল ও রাজশাহীর মুশফিকুর রহিম।
ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠে রাজশাহীর বিপক্ষে ৮ রানের জয়ে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া বরিশালকে তুলে দিয়েছে তালিকার শীর্ষে। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা ঢাকা ৪ উইকেটে খুলনার কাছে হারায় তারা নেমে গেল দ্বিতীয় স্থানে। কালকের জয়ে খুলনার পয়েন্ট ৬, পরাজয়ের পরও রাজশাহীর সমান।
তবে এসব পয়েন্টের হিসাবের চেয়েও অনেক বড় হয়ে উঠল কাল চার সেঞ্চুরিয়ানের কীর্তি। দিনের আলোচনার বেশিটাই টেনে নিলেন এ বছরের চমক ফজলে রাব্বি। বরিশালের এই তরুণ এর আগে জাতীয় লিগের চার ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটিসহ করেছিলেন ১৮৮ রান।
কাল বরিশালের ইনিংস শুরু করতে নেমে ১৪৭ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছয়ে সাজিয়ে ১৪৮ রান করে অপরাজিত থেকে গেলেন! আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নাসিরউদ্দিন ফারুকের সঙ্গে ১৭২ রানের জুটি গড়েছেন রাব্বি। এই জুটিই মূলত বরিশালকে ২৭২ রানের বড় পুঁজির পথ দেখাল।
কিন্তু এই বড় পুঁজিটাকেই অপর্যাপ্ত বানাতে বসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে ৩ ম্যাচে দুবার সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়া মুশফিকুর ১২০ বলে ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজিয়ে। কিন্তু সেভাবে সঙ্গ না পাওয়ায় জয় আনতে পারলেন না রাজশাহীর জন্য।
৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল রাজশাহী। এরপর নাঈম ইসলামকে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬৭ রানের জুটি গড়ে স্থিতিশীলতা আনতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর। কিন্তু ২০১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে আবার বিপাকে পড়ে যায় রাজশাহী। সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে ৪৫ রানের জুটি গড়েন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক। ২৫ বলে ৩২ রান করা সোহরাওয়ার্দী রাজশাহীকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এক ওভারের ব্যবধানে সোহরাওয়ার্দী ও মুশফিকুর ফিরে যাওয়ায় খালেদ মাসুদদের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
মিরপুরে ঘটনা ঘটেছে উল্টো। শুরুতে উত্তম সরকারের ৬৬ রান এবং শেষে আশরাফুল ও অধিনায়ক মোহাম্মদ শরীফের ৮৯ রানের জুটিতে বরিশালের মতো ঢাকাও করেছিল ২৭২ রান।
জবাবটাও ভালো দিচ্ছিল খুলনা। ৪৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ মিঠুনকে (৫৯) নিয়ে ১৪০ রানের জুটি গড়েন ইমরুল। কিন্তু ‘পাওয়ার প্লে’ নিয়ে সেই ওভারেই এই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় খুলনা। এরপর এক প্রান্ত থেকে উইকেট পতন চলছিল, খুলনার ওপর রান-বলের হিসাবের চাপ বাড়ছিল।
কোথায় কিসের চাপ! পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে চার নম্বরে পাঠানো জিয়াউর রহমান ৪১ বলে ৩টি ছক্কা ও একটি চারে ৪২ রান করে চার বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতিয়ে দেন খুলনাকে।

বিশ্বকাপ! বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ এর আগে মিনি বিশ্বকাপ, ছোটদের বিশ্বকাপ (অনূর্ধ্ব-১৯) আয়োজন করেছে। কিন্তু সত্যিকার বড় বিশ্বকাপ আয়োজকের তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে এবারই। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথ আয়োজনের সেই বিশ্বকাপ ২০১১ খুব বেশি দূরে নয়। মাত্রই ১০২ দিন দূরে দাঁড়িয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বৃহত্তম মহাযজ্ঞ। কাল ১০ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা এক মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে শত দিনের ক্ষণগণনা। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তারপর ১০-১৫ মিনিটের আতশবাজির উৎসব জানিয়ে দেবে বাংলাদেশ সত্যিই ঢুকে পড়েছে বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের সুবাস যতটা ছড়িয়েছে বাতাসে, সেই তুলনায় প্রস্তুতি কতটা হলো? গতকাল স্থানীয় আয়োজক কমিটির (এলওসি) পক্ষ থেকে যা জানানো হলো, তাতে দেখা যাচ্ছে, সময়ের তুলনায় বেশি গতিতে এগোচ্ছে প্রস্তুতি। এলওসির আহ্বায়ক দেওয়ান শফিউল আরেফিন (টুটুল) তাঁর দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে যা বললেন, তাতে দেশবাসী করতালি দেওয়ার জন্য হাত দুখানি সামনে সাজিয়ে ফেলতে পারে।
যৌথ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ১৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচ ও দুটি কোয়ার্টার ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচের আয়োজনের ভার পেয়েছে। মোট ৪৯টি ম্যাচের এক ষষ্ঠমাংশও নয়। কিন্তু অর্থ, শ্রম ও মেধা বিনিয়োগের দিক দিয়ে সুবিশাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল যেমন বললেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছুঁতে চায় ক্রিকেট-বিশ্বের হূদয়, তাহলে তো এমনটি হতেই হবে। দুটি মূল ভেন্যু (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), দুটি বিকল্প ভেন্যু (ফতুল্লা) ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যুর (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) উন্নয়নেই সরকার বরাদ্দ করেছে ২৫৬ দশমিক ১৪ কোটি টাকা। এর বাইরে প্রচার-প্রচারণা, নিরাপত্তা, আতিথেয়তা বাবদ খরচ হবে আরও কোটি কোটি টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। নগর পরিচ্ছন্নকরণ, সজ্জিতকরণের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নামছে ৬৪ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট আরও বেশি, ৮৪ কোটি টাকা।
রাজধানীর অভিজাত এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শফিউল আরেফিন অবকাঠামো, প্রচার-প্রচারণা, নিরাপত্তা, মিডিয়া-সুবিধা, টিকিট বিক্রি, দল ও অতিথিদের আবাসন, পরিবহন, বাণিজ্যিকসহ সব বিষয়েই আলোকপাত করেছেন। স্থানীয় আয়োজক কমিটি গঠিত হওয়ার ১৫ মাস পর এই প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা জনতার কাছে এক ধরনের জবাবদিহিও। বিশ্বকাপ মাঠে নামার আগে অন্তত তাতে বেশ স্বচ্ছ মনে হচ্ছে আয়োজকদের। তবে তাদের আসল প্রশংসাটা জুটবে মাঠে নামার পর কিংবা আয়োজন শেষে।
শফিউল আরেফিন জানিয়েছেন, সব ভেন্যুর উন্নয়নকাজ পূর্ণোদ্যমে শেষের দিকে এগোচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আইসিসির পর্যবেক্ষক দল সবকিছু সম্পন্ন দেখতে পাবে এবং খুশি হবে।
বিশ্বকাপের গরম বাতাসটাই আসলে গায়ে লেগে গেছে। ১১ নভেম্বর ১০০ দিনের গণনা শুরুর পর আরও লাগবে। প্রচারণার অংশ হিসেবে আইসিসির নির্দেশনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি মিনি বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে। এখান থেকে নির্বাচিত ছেলেমেয়েরা প্রতিটি ম্যাচের আগে অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকা বহন করবে। তারকা খেলোয়াড়, সংগীতশিল্পীদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় হবে রোড শো। ফেব্রুয়ারির গোড়াতেই বিশ্বকাপ বিশ্বভ্রমণ শেষে আসবে বাংলাদেশে। এই কাপ নিয়ে হবে শোভাযাত্রা। সারা দেশে বিলবোর্ড, হোর্ডিং, ব্যানার, ফেস্টুন, কাটআউট, পোস্টার জানিয়ে দেবে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপের গর্বিত আয়োজক। বিশ্বকাপের দূত শচীন টেন্ডুলকার, মুরালিধরন ও সাকিব আল হাসান আগামী জানুয়ারি থেকেই টিভির পর্দায় হাজির হবেন বিশ্বকাপের আমন্ত্রণ নিয়ে।
আইসিসির যোগাযোগ বিভাগের প্রধান কলিন গিবসন আশাবাদী, বিশ্বকাপের সংবাদ প্রচারে সংবাদমাধ্যম পাবে সর্বোত্তম সুবিধা। বিসিবির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবুল আনাম, বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস ও স্বাগতিক টুর্নামেন্ট পরিচালক আলী আহসান (বাবু)।

গল্প- 'লাউয়ের ডগা' by নূর কামরুন নাহার

জায়গায় পাড়টা উঁচু। সামনেই আবার ঢালু। পাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মেঘনা। নদীর ভাঙ্গন থেমেছে পাঁচ বছর। এদিকে নদী এখন আর ভাঙ্গে না। তবু মেঘনার কোন বিশ্বাস নেই। ওর বড় যৌবনের দেমাক। যে কোন সময় কোমর বাঁকিয়ে ঢুকে পড়বে গ্রামে। ভাঙ্গবে পাড়, ফসলের মাঠ, গৃহস্থের উঠোন। বিকেলের রোদ শুয়ে পড়েছে ধানক্ষেতের উপর। মাঠগুলো ক'দিন পর হলুদ রং নিবে। পুরুষ্টু ধানে এখনই হলুদের ছোঁয়া লেগেছে। বিকেলের রোদ ক্ষেত, নদী আর গ্রামের রেখায় সোনা রং মেখে দিয়েছে।

গল্প- 'অপূর্ব সৃষ্টি' by পারভীন সুলতানা

সম্ভবত কোন এক নাচের স্কুলেই ওকে প্রথম দেখি। ওর কারুকার্যময় অবয়ব এতোই নিখুঁত সুন্দর ছিল যে চোখ সরানো রীতিমতো অসাধ্য ছিল আমার। যদিও একটুকরো ধারালো ঈর্ষা বুকের গভীরে খচ করে ওঠে।

আমার নিপুণ তাল, হাতের চৌকষ মুদ্রার দিকে খুব হেলাফেলায় নজর এড়াচ্ছিলো নাচের শিক্ষক অমৃতলাল স্যার। ওকে সেদিনই প্রথম নিয়ে এসেছিল ওর মা।
ধীরে ধীরে ঈর্ষাটা ফিকে হয়ে আসে আমার। ওর দেহভর্তি শুধু রূপই আছে। শিক্ষানবীশ ছাত্রী হিসেবে একেবারে নিরেট হাঁদারাম বলতে যা বোঝায় মুলতও হলো সে টাইপের। এক সময় আমাদের স্কুলে ওর নাচের পাট চুকে যায়। অমৃত লাল স্যারের মুগ্ধ দৃষ্টিতে বিরক্তি তৈরি হয়। মেয়েটার সাথে পরিচয় পাকাপোক্ত হওয়ার আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

গল্প- 'ঊনচলিস্নশ বছর আগে' by জামাল উদ্দীন

মেয়েটি হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারপর চুপ। এক ঘণ্টা ধরে বকাঝকার পরও কোন প্রতিক্রিয়া নেই। সে কি সব কথা শুনেছে? নাকি রিসিভারটা কান থেকে নামিয়ে রেখেছিল।

এমন দুর্ব্যবহার অহেতুক- ভাবে মহসিন। নাও শুনতে পারে। অযথা এরকমটি করার মানে হয় না। তাহলে কি খুব রাগ করে মহসিন এমনটি করেছিল? নাকি অভিমান? নাঃ, রাগ করার বিষয়তো নয় এটি। অভিমান করার মত সম্পর্কও হয়নি।
মহসিন উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। তার ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে। কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার মত লোক সে নয়। দু'দিন গেল। মেয়েটিও ফোন করেনি। কেন করবে? বরং মেয়েটি যে চুপচাপ সব সয়ে গেছে, সেইতো বেশি। নাঃ, কাজটি ঠিক হয়নি। মাপ চাইতে হবে ওর কাছে।

গল্প- 'সুচ' by জাফর তালুকদার

এভাবে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবুও সেই পথে নেমে পড়ল মন্টু। কবে যেন কার কাছে শুনেছিল কলেজ রোডে বাসা। এইটুকু তথ্য পুঁজি করে পথ হাতড়ানো নেহায়েতই বোকামি।

কিন্তু ভাগ্য বলে কথা। না হলে ছেলেবেলার কুমু চৌধুরীকে এত অনায়াসে খুঁজে বের করবে কী করে!
শহরের এই দিকটা অনেক খোলামেলা।
বিশ্বরোড হয়ে যাবার পর রাতারাতি কদর বেড়ে যায় জায়গাটার। বছর দশকের মধ্যে এর চেহারা পুরোটাই যায় পাল্টে। অসংখ্য ছবির মতো বাড়িঘর দাঁড়িয়ে যায় রাস্তার দু'পাশ ঘিরে। স্কুল, কলেজ, কারখানা, অফিস, খামার, মার্কেট পরিবর্তনের বন্যায় রাতারাতি বদলে যায় শহরের দামি এলাকায়।

গল্প- 'বাসস্ট্যান্ডে যে দাঁড়িয়েছিল' by ঝর্না রহমান

সে দাঁড়িয়েছিল আমার সামনা সামনি, তবে অনেকটা দূরে। তার পরনে একটা কালো টি-শার্ট আর জিনস। পায়ে মোটা জবরজং কেডস। মাথা ভরা ঘন চুল।

প্রাচীন গ্রীক যুবাদের মতো সেই চুলে পাক খেয়ে আছে অসংখ্য রিং। বড় বড় চোখের ওপর টানা ভ্রূ খাড়া নাক আর শ্মশ্রুবিহীন চকচকে মসৃণ শ্যামল চামড়া। সব মিলিয়ে তার চেহারায় প্রকৃতই বজ ও বিদু্যতের দেবতা এ্যাপোলের একটা আভাস পাওয়া যায়।
তার স্বাস্থ্য ভালো। কালো টি-শার্টটি তার বুকে আঁটোসাটো হয়ে লেগে আছে, তাতে তার বুকটা খুব দেখার মতো হয়েছে।

গল্প- 'গন্না' by তিলোত্তমা মজুমদার

শেষ পর্যন্ত অস্ত্রটি সে সংগ্রহ করতে পারল। একটি ছোট্ট পিস্তল। ০.৩২ বোর। ছ'টি বুলেট। এমন নয় যে, অর্থের অভাবেই সংগ্রহের কাজটি আটকে ছিল এতদিন। আসলে বিনিয়োগের পরেও কিছু কাজ থাকে। তার ক্ষেত্রে ছিল, কারণ সে সম্পূর্ণ বৈধভাবে অস্ত্রটি চেয়েছিল। বহুদিনের আকাঙ্ক্ষার জিনিস। অতএব, সেটি হাতে পেয়ে সে খুশিতে শিস দিল। দোয়েলের ডাক অবিকল সে অনুকরণ করতে পারে। এবার গরম দুধে শুকনো ফল আর ভুট্টা শস্যের কুচি ফেলে, এক চামচ চিনি মিশিয়ে খেয়ে নিল। একটি ঢোলাঢালা ট্রাউজার পরল, যার মস্ত মস্ত পকেটে অস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় নানা বস্তু নেওয়া যায়। রুমাল, ওডিকোলনে ভেজানো টিসু্য পেপারের প্যাকেট। অপরিচ্ছন্নতা সে বরদাস্ত করতে পারে না।

গল্প- 'ঘুড়িয়াল' by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

এই যে বীরেন বাবু! নমস্কার। নমস্কার। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না। চিনবেন, তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তা ভাল আছেন তো বীরেন বাবু?

এই খারাপ ভালয় মিলিয়ে খানিকটা খারাপ, খানিকটা ভাল। কি আর করবেন! আমাদের সকলেরই ওই একই অবস্থা। খানিকটা খারাপ, খানিকটা ভাল। কখনও খারাপ, কখনও ভাল।
হুঁ, ঠিকই বলেছেন। তা আপনার আগমনের হেতু কি?
আজ্ঞে হেতুটা শুনলে আপনি হাসবেন। কিংবা রেগেও যেতে পারেন। আপনার ঠিক কি রকম প্রতিক্রিয়া হবে তা আমি জানি না।

গল্প- 'প্রক্ষেপণ' by মোহিত কামাল

অফিস ক্যান্টিনের কোণে একা বসে আছে শান্তা। চা-সিঙ্গারার অর্ডার দিয়ে বসে আছে সে। ক্যান্টিন এখন প্রায় খালি। দু'-একজন বসে আছে এদিক-ওদিক। সাধারণত দুপুর বারোটার দিকে ক্যান্টিন ফাঁকা হয়ে যায়।

ফাঁকা সময়টা বেছে নেয় শান্তা। তুমুল আড্ডার সময় এড়িয়ে চলে সে। অফিস কলিগদের আড্ডা হয় এগারো থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। এ সময় গিজগিজ করে ক্য্যান্টিন। তর্ক-বিতর্ক চলে।
তর্ক-বিতর্কের সময় কত কথা উঠে আসে। আড্ডায় কেউ কেউ অন্যের গোপন কথা ফাঁস করে দেয়। ঘনিষ্ঠতার সময় অনেকেই নানা গোপন কথা শেয়ার করে। সেই কথা প্রকাশ করা অন্যায়। অন্যায় কাজটি করে কেউ কেউ তুমুল আনন্দ পায়।

গল্প- 'গন্তব্য বদল' by রফিকুর রশীদ

ডাক্তারখানা বন্ধ করে দরজায় তালা অাঁটতে যাবে, এমন সময় বদরাগী মোটরসাইকেলের বিকট গর্জনে লতিফ ডাক্তার পিছন ফিরে তাকায়। অসময়ে সারা বাজার ফাঁকা হয়ে গেছে।

ছোট এই গ্রাম্যবাজারে দোকানপাটই ক'টা। এরই মাঝে দিনরাত সরগরম থাকে যে ইমদুর চায়ের দোকান, তারও চুলোয় ধোঁয়া উঠছে, ঝাঁপ ফেলার আয়োজন চলছে। খদ্দেরপাতি নেই, সামনের মাচা ফাঁকা। এমন কি দোকান সংলগ্ন টিনের চালার তলে দুটো ক্যারাম বোর্ডের সঙ্গে সব সময় ডেঁয়ো পিঁপড়ের মত সেঁটে থাকে যে ছেলেগুলো, তারাও সবাই হাওয়া হয়ে গেছে। টেলিভিশনে হিন্দি ছবির নৃত্যদৃশ্য বন্ধ করে ইমদু মোটরসাইকেল আরোহীদের সামনে এসে হাত নেড়ে নেড়ে কী যেন বুঝিয়ে বলে।

গল্প- 'ঝড়ের রাতে' by প্রচেত গুপ্ত

অতিরিক্ত রকম নার্ভাস হয়ে পড়লে মানুষের শরীরে দু'রকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে। হয় অল্প ঘাম হয়, নয়তো হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। অর্কর একই সঙ্গে দুটোই হচ্ছে।

কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে, আবার হাত পা ঠাণ্ডাও হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, শরীরের যাবতীয় গস্ন্যান্ড ফাংশন এলোমেলো হয়ে পড়েছে। তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। অর্ক এমনিতেই একজন নার্ভাস প্রকৃতির ছেলে। তারওপর ঘটনা যা ঘটেছে ততে সেই নার্ভাস ভাব বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কপালের সঙ্গে, অর্কর নাকের দু'পাশেও ঘাম জমেছে এখন। শুধু হাত পা ঠাণ্ডা হয়নি, শিরদাঁড়ার ওপর দিয়ে চিন্চিনে ঠাণ্ডা ভাব একবার উঠছে, একবার নামছে।