Sunday, April 17, 2011

জাপানে পারমাণবিক সংকট, বিপর্যয়ের সূচনা by পিটার কাস্টার্স

মানুষ হিসেবে এটা মেনে নেওয়া কঠিন। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধীরা বছরের পর বছর ভয়ানক বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা করছিলেন, তা সত্য হতে চলেছে জাপান বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। গত ১১ মার্চ ফুকুশিমা-দাইচি সংকট শুরুর পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। বিপর্যয়ের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে জাপান পারমাণবিক বিকিরণের বিরাট সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাপানে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আনুষঙ্গিক ঝুঁকিও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চার পারমাণবিক চুল্লির প্রতিটির শীতলীকরণব্যবস্থা সময়মতো সচল করতে পারমাণবিক স্থাপনা মালিক প্রতিষ্ঠান টেপকোর (TEPCO) ব্যর্থতা এখন অনেক স্পষ্ট হওয়ায় এটা আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
ইউরোপীয় পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩ নম্বর চুল্লির তলায় সম্ভবত জ্বালানি রড ও ধাতুর গলিত বিশালাকার বুদ্বুদ তৈরি হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে এই চুল্লিতেই মিশ্র ইউরেনিয়াম-প্লুটোনিয়াম জ্বালানি রডের অংশ হিসেবে প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত উপাদান এই প্লুটোনিয়াম। অতি নগণ্য পরিমাণ প্লুটোনিয়াম পাকস্থলীতে গেলে কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে তা মানুষের ফুসফুস, হাড় ও যকৃতে ক্যানসার ঘটাতে পারে। ফুটতে থাকা লাভাজাতীয় বুদ্বুদ একসময় কংক্রিটের তৈরি চুল্লির ভিত্তিস্তম্ভ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একমত পোষণ করছেন না। পাশের দিকেও তো বুদ্বুদ নির্গত হয়ে আসতে পারে। একটি চুল্লির টারবাইন কক্ষে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বিকিরণ ধরা পড়েছে। একই মাত্রার আতঙ্কজনক খবর হলো, পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি চার-পাঁচটি স্থানের মাটিতে প্লুটোনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
পারমাণবিক সংকটের তীব্রতা বৃদ্ধি আর ধীরে ধীরে প্রলয়ংকরী রূপ নিতে থাকার মুহূর্তে জাপানি নীতিনির্ধারকেরা তাঁদের দূরদৃষ্টিহীনতার ব্যাপারে ধীরে হলেও আত্মানুসন্ধান শুরু করেছেন। জাপান ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ—এ কথা বিশ্ববাসীর কাছে সুবিদিত। সুনামি জাপানি শব্দ। জাপানের ইতিহাসে রাজধানী টোকিওতে বারবার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তা ছাড়া অতীতে সুনামির ফলে যে বিপুল জলোচ্ছ্বাস হতো, তাতে উপকূলীয় এলাকায় বসবাস স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উদাহরণস্বরূপ ১৮৯৬ ও ১৯৩৩ সালের সুনামির কথা বলা যায়। জাপানি ভূতাত্ত্বিকদের মতে, তখন যথাক্রমে ৩৮ ও ২৯ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস এসে আঘাত হেনেছিল। গত ১১ মার্চ জাপানের উপকূলে যে জলোচ্ছ্বাস আঘাত হেনেছে তার উচ্চতা নিশ্চয় ততটা প্রবল ছিল না। তথাপি, ফুকুশিমা-দাইচি পারমাণবিক স্থাপনার কাছে নির্মিত সুরক্ষা দেয়ালের চেয়ে তিন গুণ উঁচু ছিল সেই জলোচ্ছ্বাস। সম্ভাব্য সুনামির প্রভাব মোকাবিলার জন্যই এমন দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। প্রায় ৪০ বছর আগে এই স্থাপনাটি নির্মাণ করার সময় খোদ জাপানে সংঘটিত সুনামিগুলোকে বিবেচনায় না এনে সুদূর চিলির ১৯৫৬ সালের সুনামিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সাল পর্যন্ত পারমাণবিক চুল্লির নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনায় সুনামি ভাবনাকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। সুতরাং, সাগরের পানি ফুকুশিমা-দাইচি বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থাকে নিমজ্জিত করে দিতে পারে, এই সম্ভাবনাকে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে জাপানি কর্তৃপক্ষ এই পারমাণবিক বিপর্যয় নিজেরাই প্ররোচিত করেছে, এ কথা তর্কের খাতিরে বলা যেতেই পারে।
জাপানের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক সমালোচকেরা সুনামি অথবা ভূমিকম্পের সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে আগেই জাপানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। আসলে পারমাণবিক চুল্লি বিষয়ে জাপানের যথেষ্ট ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে সামনে এগোতে পারতেন দেশটির আরও বিচক্ষণ নীতিনির্ধারকেরা। ২০০৭ সালে কাশিওয়াজাকিতে জাপানের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক কেন্দ্র ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে কাজের উদাহরণ হতো। গত কয়েক সপ্তাহে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের মতে, কাশিওয়াজাকি পারমাণবিক স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছিল একটি সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলে। দেখা গেল রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রার যে ভূমিকম্প সে বছর আঘাত হানে, সেই মাত্রার ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সরঞ্জাম সেই স্থাপনাটিতে নেই। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের মতোই কাশিওয়াজাকি পারমাণবিক স্থাপনাটির মালিকানা ছিল টোকিও পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (টেপকো)। টেপকো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ সংস্থা। ২০০৭ সালের দুর্ঘটনার পর জাপানি সরকারের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে টেপকো। যেসব সমস্যাকে টেপকো তেমন আমল করেনি, তাদের অন্যতম হলো তেজস্ক্রিয় পানি নির্গত হয়ে সাগরে পতিত হওয়ার সমস্যা। সুতরাং যথার্থভাবেই দায়ী করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে বিপর্যয়ের পরও যে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেপকো কিংবা জাপানি সরকার কেউই দেশটির পারমাণবিক জ্বালানিনীতি পুনর্বিবেচনা করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। পুরো পারমাণবিক লবি (জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিদর্শন সংস্থা এবং দেশটির ক্ষমতাশালী জ্বালানি করপোরেশনগুলো) যেভাবে কাজ করে, সে বিষয়টিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় এটি। ২০০২ সালে জাপানের ১০ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের পারমাণবিক চুল্লিতে সংঘটিত দুর্ঘটনা আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের কলঙ্কজনক অনুশীলন শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকে। তখন জাপান সবে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছে। ২০০২ সালের কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রেও প্রধান দোষী আবারও সেই টেপকো। ইসাকু সাতো ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ফুকুশিমা জেলার অত্যন্ত জনপ্রিয় গভর্নর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে টেপকোর মিথ্যাচারিতার ইতিবৃত্ত প্রকাশ পেল। ফরাসি দৈনিক লঁ মঁদ-এর সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০০২ সালে টেপকোকে স্বীকার করে নিতে বাধ্য করা হয় যে পূর্ববর্তী কয়েকটি দুর্ঘটনার ফলে দুটি চুল্লির ক্ষয়ক্ষতির ওপর পরিদর্শন প্রতিবেদনে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। তা ছাড়া টেপকো শুধু গুরুত্বপূর্ণ দলিলেই মিথ্যা তথ্য দেয়নি, জাপানের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা নিসা যখন এসব মিথ্যাচারের ব্যাপারে অবগত হয়, তখন সেটিও নিশ্চুপ থাকে এবং সত্য প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়। এই কেলেঙ্কারির ফলে সাময়িকভাবে ফুকুশিমার ১ নম্বর চুল্লিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যান্য জায়গায় আরও ১৬টি চুল্লি পরিদর্শনের পেছনেও কাজ করেছিল। তবে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেনি। তাই বর্তমান বিপর্যয়কে সাতো ‘মানুষের অপরিণামদর্শিতা’ তাড়িত বলে আখ্যায়িত করতে দ্বিধা বোধ করেন না। জাপানের পারমাণবিক চুল্লিগুলোর অনেক বয়স হওয়ার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি নীতিনির্ধারণে গণতন্ত্রের ঘাটতির ফল তো পাওয়া যাবেই।
ফুকুশিমা বিপর্যয় সম্ভব করে তুলল যে মানবিক ব্যর্থতা তা থেকে কী শিক্ষা নিতে হবে? যে বিরাট স্বার্থ (জাপান ও সারা দুনিয়ার পারমাণবিক লবির ক্ষমতা) আজ হুমকির সম্মুখীন, সেই বিবেচনায় যা ঘটতে পারে তা হলো, পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারার জন্য নীতিনির্ধারকেরা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায় অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইবেন। এর বিপদ ইতিমধ্যে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তাই দেশের ভেতর জনরোষ বাড়তে থাকায় জাপান সরকার বলেছে যে টেপকো জাতীয়করণের চিন্তাভাবনা চলছে। এই বিপর্যয়ের প্রাথমিক দায় বহন করে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আগে জাতীয়করণের এই আগাম পদক্ষেপ একে বাঁচিয়ে দিতে পারে। আরও মৌলিক যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করা জরুরি, সেগুলো থেকেও সহজেই দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারে এই পদক্ষেপ। শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সমালোচক এবং পারমাণবিক জ্বালানির বিরোধীরা বহু বছর ধরে যুক্তি প্রদর্শন করছেন যে এবারের মতো প্রতিবেশ বিপর্যয় আগেও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ঘটেছে দুবার। প্রথমবার ১৯৫৭ সালে চেরনিয়াবিনস্ক সামরিক-পারমাণবিক স্থাপনায়। আর দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলে বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনায়। আজ হোক কাল হোক, এমন বিপর্যয় অন্যান্য স্থানেও ঘটতে বাধ্য। পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহার অব্যাহত রাখার প্রজ্ঞার ব্যাপারে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপনের এটাই কি উপযুক্ত সময় নয়? ফুকুশিমা থেকে বিশ্ববাসী যা শিখতে পারে, তার পুনরুক্তি করছি: পারমাণবিক উৎপাদন সহজাতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, আর পারমাণবিক জ্বালানি বিক্রি করে মুনাফাকারী করপোরেট মালিকেরা তাঁদের স্বাভাবিক স্বার্থেই এই ঝুঁকিকে হালকা করে দেখাতে চান।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
ড. পিটার কাস্টার্স: প্রথম আলোর ইউরোপ প্রতিনিধি; গবেষক ও বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ। পরমাণু উৎপাদনের তাত্ত্বিক পাঠবিষয়ক একটি বইয়ের রচয়িতা।

নারীনীতি, হুংকার এবং বাউলদের ওপর আক্রমণ by জোবাইদা নাসরীন

গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে ৭ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে নারীনীতির খসড়া অর্থাৎ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, ২০১১ অনুমোদন করা হয়। সেই নারীনীতির বিপক্ষে ফজলুল হক আমিনী ৪ এপ্রিল হরতাল ঘোষণা করেন। বিএনপি ও তার শরিক দলের নৈতিক সমর্থন ছিল এই হরতালের প্রতি। বিএনপি জোরেশোরে কিছু বলতে পারছে না, তার কারণ, এ দেশে ৫০ শতাংশ ভোটার নারী। পাছে যদি ভোট নষ্ট হয়!
যে সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে নারীদের হাতে, পিতার অভিভাবকত্বের পাশাপাশি মায়ের নাম অভিভাবক হিসেবে যোগ করেছে, সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে নারীকে যুক্ত করে বাহ্বা পেয়েছে, ধর্ষণের ফলে জন্মগ্রহণকারী শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে, মায়ের মাধ্যমেও সন্তান নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন করেছে আর সেই সরকারের নারীনীতি থেকে ১৪ বছর পর উত্তরাধিকারে সমসম্পত্তির ধারা উঠে গেল! যে সরকার ১৯৯৭ সালেই নারীর এই সম-অধিকারের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেছিল, এখন আর সেভাবে ভাবছে না? দেশ কি তবে ১৪ বছর পিছিয়েই গেল? কিন্তু পরিসংখ্যান আমাদের ভিন্ন তথ্য দেয়। এ দেশে ১৯৯৭ থেকে ২০১১ সালে নারী এগিয়েছে অনেক দূর—কর্মে, চিন্তায়, বিশ্বাসে, অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায়। প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় রাজনীতি দিয়েই লিখিত হবে সেক্যুলার বাংলাদেশের নারীদের ভবিষ্যৎ?
এই আমিনীরা সেই গোষ্ঠী, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মুক্তিযুদ্ধকালে এ দেশের নারী নির্যাতনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। তারা বলে, যুদ্ধের সময় নারী ধর্ষণে কোনো অপরাধ নেই। তারা ফতোয়ার পক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ে যায় এবং সব ক্ষেত্রে নারীর সমসুযোগ এবং সম-অধিকারবিরোধী তারা।
পর পর দেশে চারটি নারীনীতি হয়েছে, ১৯৯৭, ২০০৪, ২০০৮ ও ২০১১ সালে। দেশ কি আসলেই মূল্যবোধের দিক থেকে, সমতার মনোভাব থেকে সরে এসেছে? তা ছাড়া এই আওয়ামী লীগ সরকারই নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, তারা ক্ষমতায় এলে ১৯৯৭ সালের নারীনীতির বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু কোথায় গেল সেই প্রতিশ্রুতি? বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-সংশ্লিষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান তাহলে বাংলাদেশকে আরও বেশি ধর্মাশ্রয়ী হিসেবেই দাঁড় করাচ্ছে। সংবিধানের বিভিন্ন ধারার ওপর ভর দিয়ে তৈরি হওয়া নারীনীতির নির্ধারকেরা একবারও খেয়াল করেননি যে সংবিধান ও নারীনীতি সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ২৮ থেকে ৩২-এর ধারার বিভিন্ন উপধারায় নারী-পুরুষের সমতার কথা উল্লেখ থাকলেও উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমানাধিকার কীভাবে নারীনীতিতে এখনো আনতে পারল না? আরও প্রশ্ন থাকে যে সরকার কোন কোন হুমকিকে গুরুত্ব দেয় আর কোনটিকে দেয় না।
তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, নারীনীতি নিয়ে এত হইচই, আশা-আকাঙ্ক্ষা, তিনটি ভাগে বিভক্ত ৪৯টি ধারা আঁকড়ে থাকা সেই নারীনীতিতে কোথাও উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন, কিংবা নারীর অধিকার কী হবে, সেই বিষয়ে কোনো ধারা তো দূরে থাক, একটি বাক্যও নেই। তবে দুটো ধারায় এই সম্পর্কে কিছু কথা বলা আছে। তার মধ্যে একটি হলো, জাতীয় অর্থনীতির সব কর্মকাণ্ডে নারীর সক্রিয় ও সমানাধিকার নিশ্চিতকরণ। সাবহেডে ২৩.৫ ধারায় বলা হয়েছে: সম্পদ কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারি দেওয়া। আরও কিছু দূর গেলে পাওয়া যাবে আরেকটি ধারা, যেটি ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ শিরোনামের আরেক সাবহেডের মধ্যে পড়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করা। এই নারীনীতির সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলেছেন, এটি একটি পানসে নারীনীতি। বাম দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, এই নীতিতে সমাজের নিপীড়িত ও বঞ্চিত নারীদের কথা নেই। সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে, হরতাল হয়েছে। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। তাহলে সংসদের দুটি আসনের মালিকানাধীন ইসলামি দলগুলোর তুচ্ছ হুমকিতেই সরকার ভয় পেল? আর অন্যান্য সিদ্ধান্তের সময় লোকজন প্রতিবাদ করতে পারে—এই ভয়ে সরকার ভীত হয় না কেন? আসলে সমস্যাটা কোন জায়গায়? সমস্যা যদি ধর্মই হয়, তাহলে তিউনিসিয়া, মরক্কো ও সেনেগালের মতো মুসলিম দেশগুলোতে কীভাবে সম্পত্তিতে সমান অধিকার পেল নারী?
নারীনীতিকে কেন্দ্র করে নারীর বিরুদ্ধে যখন দেশে হুংকার চলছে, তখনই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে জোর করে লালনভক্ত ২৮ জন বাউলের চুল, গোঁফ কামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ দেশে বাউলসংস্কৃতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে সমাজের সব ধরনের সমতার ভিত্তি। তাই বাউলদের ওপর আক্রমণ আমাদের জানান দেয়, এ ধরনের আক্রমণের শিকার আমি-আপনি যে কেউই হতে পারি। প্রগতিবিরোধী লোকজন শুধু আমিনীর দলে নয়, আশপাশের অনেক জায়গায়ই আছে। কারও জীবনাচরণ কারও অপছন্দ হতেই পারে, তাই বলে তার ওপর আঘাত করা হবে কেন? এবং পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পারি, হামলাকারীরা অনেকেই ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের। বছর কয়েক আগেও এ দেশে বাউল-ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। সরকার যখন আমিনীদের হুংকারকে অগ্রাহ্য করে নারীনীতি বাস্তবায়ন করতে চাইছে, তখন এই অসাম্প্রদায়িক বাউলদের ওপর আক্রমণ একভাবে সেই আমিনীদেরই সামনে নিয়ে আসে।
আজ প্রয়োজন নারী-পুরুষের সম্মিলিত লড়াই। যে লড়াই সম-অধিকারের পক্ষে, সব ধরনের সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আশা করি, সরকার অবিলম্বে রাজবাড়ীতে বাউলদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার ও বিচার করবে।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

আর্জেন্টিনার সাবেক স্বৈরশাসকের যাবজ্জীবন

আর্জেন্টিনার সর্বশেষ স্বৈরশাসক রেনাল্ডো বিগনোনেকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে গত বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সালের সামরিক সরকারের সময় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।
৮৫ বছর বয়সী বিগনোনেকে অবৈধভাবে স্বাধীনতা হরণ ও রাজবন্দীদের নির্যাতনের দায়ে ইতিমধ্যে ২৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের শোচনীয় পরাজয়ের পর ১৯৮২ সালে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৫ সালে ক্ষমা প্রদর্শনের আইন বাতিলের পর আর্জেন্টিনার আদালত সামরিক সরকারের দুই শতাধিক নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং ৮০০ সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ মারা গেছেন

বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ ওয়াল্টার ব্রিউনিং মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মনটানা অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর। তিনি বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় ছিলেন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হচ্ছেন জর্জিয়ার নারী বেসে কুপার। ব্রিউনিং কুপারের চেয়ে ২৬ দিনের ছোট ছিলেন।
ওয়াল্টার ব্রিউনিং শেষের দিনগুলোয় যে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতেন সেটির মুখপাত্র স্টেসি কিরবি জানিয়েছেন, মনটানার হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অসুস্থতার কারণে চলতি মাসেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অসুস্থতার কারণ জানা যায়নি।
ওয়াল্টার ব্রিউনিং ১৮৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মিনেসোটায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ছোটবেলা কাটে দক্ষিণ ডাকোটাতে।

গাদ্দাফি ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত লিবিয়ায় হামলা চলবে

মার্কিন, ব্রিটিশ ও ফ্রান্সের নেতারা বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত লিবিয়ায় তাঁর অনুগত বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে ন্যাটো। গাদ্দাফিকে ক্ষমতায় রেখে লিবিয়ার ভবিষ্যতের কথা ভাবা ‘অচিন্তনীয়’। তাঁকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে লিবিয়ার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার শামিল। ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন, লি ফিগারো ও টাইমস অব লন্ডন-এ প্রকাশিত তিন নেতার যৌথ আর্টিকেলে এসব কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ওই আর্টিকেলে স্বাক্ষর করেন।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক আলোচনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও আরব লিগের মহাসচিব আমর মুসা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লিবিয়া-সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
লিবিয়ায় হামলা জোরদার করতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বার্লিনে বৈঠক করেছেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে লিবিয়া অভিযান শুরু হওয়ার পর গাদ্দাফিকে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো রাজধানী ত্রিপোলির রাজপথে দেখা গেছে।
ওবামা, ক্যামেরন ও সারকোজি ওই আর্টিকেলে বলেন, লিবিয়ার মিসরাতা ও আজদাবিয়া শহরে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী এখনো নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। গাদ্দাফি ক্ষমতায় থাকলে লিবিয়া একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই তিনি যত দিন ক্ষমতায় থাকবেন, তত দিন ন্যাটো অভিযান চালিয়ে যাবে। লিবিয়ার জনগণকে রক্ষায় এ অভিযান চলবে। আর্টিকেলে বলা হয়, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একনায়ক গাদ্দাফির হাত থেকে ক্ষমতা লিবিয়ার নতুন প্রজন্মের কাছে যাবে। লিবিয়া পুনর্গঠনে জাতিসংঘ ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো সহায়তা দেবে।
কায়রোতে এক আলোচনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘নিজ দেশের জনগণকে হত্যা করে গাদ্দাফি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। আন্তর্জাতিক আইনও অমান্য করেছেন। তাঁর আর ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নেই।’ তবে তিনি বলেন, লিবিয়া-সংকট উত্তরণে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
আরব লিগের মহাসচিব আমর মুসা বলেন, লিবিয়ায় মূলত মানবিক সংকট চলছে। তিনি যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। আমর মুসা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়া অভিযানের অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কায়রো আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন, ওআইসির প্রধান একমেলেদ্দিন এহসানেগলু, আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) চেয়ারম্যান জিন পিং উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাটোর হামলার মধ্যেও গাদ্দাফিকে বৃহস্পতিবার ত্রিপোলির রাজপথে দেখা গেছে। ছাদ খোলা একটি গাড়িতে করে তিনি রাজপথে ঘোরেন। এ সময় সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে রাখে। তারা স্লোগান দেয়—‘আল্লাহ, লিবিয়া ও গাদ্দাফি ছাড়া আর কিছু নয়’।

বোমা হামলার হুমকি ছিল ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠানে

প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) নতুন ওয়েবসাইট ‘দ্য ভল্ট’-এ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠান হয় ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই। এর আগে মেরিল্যান্ডের আন্নাপলিস থেকে একজন নারী ফোন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানান, তিনি টেলিফোনে কথোপকথন শুনতে পেয়েছেন প্রিন্স চার্লসের বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হবে। ডাকযোগে ওই বোমা পাঠানো হবে। খবর পেয়েই তৎপর হয়ে যান সংশ্লিষ্ট সবাই। শুরু হয় তদন্ত। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকও করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ‘মজা’ করে এটা করেছিলেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে ওই ব্যক্তির কথার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে এ ব্যাপারে তদন্ত শেষ করা হয়।
এফবিআইয়ের নতুন ওয়েবসাইট দ্য ভল্টে হাজার হাজার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দশক আগের নথিও রয়েছে। এর একটি নথিতে চার্লস-ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার হুমকির বিষয়টিও রয়েছে।

গাজায় অপহরণের পর ইতালীয়কে হত্যা

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা থেকে ইতালির একজন মানবাধিকারকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল।
ভিত্তরিও আরিগনি (৩৬) নামের ওই মানবাধিকারকর্মীকে গত বৃহস্পতিবার একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী অপহরণ করে নিয়ে যায়। গোষ্ঠীটির সঙ্গে হামাসের বিরোধ রয়েছে।
আরিগনি ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্ট (আইএসএম) নামের একটি সংগঠনের সদস্য। তিনি কয়েক বছর ধরে গাজায় বসবাস করছিলেন। আরিগনি প্রায় ১০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করেছেন।
পুলিশ জানায়, গাজা সিটির একটি বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আরিগনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের মুক্তির নির্দেশ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আটক শত শত বন্দীকে গত বৃহস্পতিবার মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট বাশার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়।
অবশ্য কতজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে কিংবা কতজন বন্দী কারাগারে আছেন, তা জানানো হয়নি। তবে কোনো অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে যেসব বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, তাদেরই মুক্তি দেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভকারীরা আবার ফুঁসে ওঠায় তাদের শান্ত করতে প্রেসিডেন্ট বাসার এ ধরনের ঘোষণা দিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মাস ধরে সিরিয়ায় রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। দিন দিন এ বিক্ষোভ জোরদার হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার গত বৃহস্পতিবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে সিরিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর বাশার সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদেল সাফারকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

নির্বাচনে অংশ নিতে সৌদি নারীদের প্রচারণা

সৌদি আরবে পৌর নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সেখানকার একদল নারী একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন।
আরব নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বালাদি’। এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি নারী ওই প্রচারাভিযানের সদস্য হয়েছেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সমর্থন নিয়ে একদল নারী স্বাধীনভাবে এই প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন।
প্রচারাভিযানের আয়োজকেরা বলেছেন, সাধারণভাবে নারীরা সমাজে অনেক ভূমিকা পালন করছেন। সেই কারণে তাঁরা চান, নারীরা পৌর কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাক।
সৌদি নারীদের অর্জনের বিষয়টি ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, নারীরা ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় নেতৃস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। সুতরাং নারীদের পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত। প্রচারাভিযানে আরও বলা হয়, নারীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকাকে ছাড়িয়ে গেছেন। ওয়েবসাইটে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পুরুষেরা যেসব অধিকার ভোগ করেন, নারীদেরও সেই একই অধিকার থাকা উচিত।

পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংখ্যালঘুদের জন্য চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনে আছিয়া বিবিসহ অন্তত ৬৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পাঞ্জাবের নানকানা সাহেব অঞ্চলের একটি আদালত আছিয়া বিবি নামের পাঁচ সন্তানের এই জননীকে ব্লাসফেমি আইনে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই আইনে তিনিই প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
আছিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরোধিতা করায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসির ও সংখ্যালঘুদের মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আইনে অভিযুক্ত খ্রিষ্টান এক সহোদরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবন হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলমানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীগত সংঘাতের ফলে ৪১৮ জন নিহত ও ৯৬৩ জন আহত হয়েছে। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে প্রায় ৮০০ নারীকে হত্যা (অনার কিলিং) করা হয়। এ ছাড়া দুই হাজার ৯০৩ জনকে ধর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে কেবল পাঞ্জাবেই দুই হাজার ৫৮১ জন ধর্ষিত হয়।
জঙ্গি হামলায় নিহত আড়াই সহস্রাধিক: পাকিস্তানে ২০১০ সালে জঙ্গি হামলায় আড়াই হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল সাধারণ নাগরিক। পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের (এইচআরসিপি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এইচআরসিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা গত বছর পাকিস্তানে মোট ৬৭টি আত্মঘাতী হামলা চালায়, যাতে এক হাজার ১৬৯ জন লোক নিহত হয়। এর মধ্যে এক হাজার জনই ছিল সাধারণ নাগরিক। গত বছর জঙ্গি হামলায় সব মিলিয়ে দুই হাজার ৫৪২ লাক নিহত হয়।
এ ছাড়া মার্কিন চালকবিহীন বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৯০০ পাকিস্তানি নিহত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে কতসংখ্যক লোক প্রাণ হারিয়েছে, সে তথ্য এ প্রতিবেদনে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০-র মতো হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচআরসিপির চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান বলেছেন, পাকিস্তানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জঙ্গিদের চলমান সহিংসতা। এ বছর জঙ্গিদের হাতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
কাঠমান্ডুতে দূতাবাস কর্মকর্তার ওপর হামলা: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার ওপর বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি অনেকটা অলৌকিকভাবে বেেঁচ গেছেন। হাত ও পেটে গুলিবিদ্ধ মেহবুব আসিফ নামের ওই ভিসা কর্মকর্তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাকিস্তান হামলার ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করছেন, কাঠমান্ডুতে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। এর জের ধরেই ওই কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছেন। কাঠমান্ডুর ব্যস্ততম এলাকায় গত পাঁচ দিনের মাথায় এ নিয়ে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল।
৩৬ বছর বয়স্ক মেহবুব আসিফ সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে একটি সেবাকেন্দ্র (নার্সিং হোম) থেকে দূতাবাসে যাওয়ার পথে টি-শার্ট পরা দুজন লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়।

ইয়েমেনে বিক্ষোভ, সালেহর পদত্যাগ চান গোত্রপ্রধানেরা

ইয়েমেনে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীসানায়প্রেসিডেন্ট আলী অবদুল্লাহ সালেহের পদত্যাগ দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে সালেহের সমর্থনেও পাল্টা সমাবেশ হয়েছে।এছাড়া ইয়েমেনের প্রভাবশালী গোত্রপ্রধানেরা অবিলম্বে দেশটির সালেহের পদত্যাগ দাবি করেছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তাঁরা এ দাবি জানান।
ইয়েমেনের বিরোধী দল জয়েন্ট মিটিং পার্টিস (জেএমপি) প্রেসিডেন্ট সালেহের ক্ষমতা তাঁর ডেপুটির কাছে হস্তান্তরে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জেএমপির এক মুখপাত্র এ ঘোষণা দেন।
গোত্রপ্রধানেরা বিবৃতিতে বলেন, সালেহকে আবশ্যই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সাড়া দিতে হবে। এ জন্য তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
জেএমপির মুখপাত্র মোহাম্মদ কাতান বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে জানান, ৩ এপ্রিল জিসিসি শুধুু একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। জেএমপি ওই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে এবং রিয়াদে গিয়ে এ প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে সালেহ দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছেন।
সোমবার মোহাম্মদ কাতান জিসিসির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সালেহের পদত্যাগের দিন-ক্ষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে জিসিসির চূড়ান্ত বিবৃতিতে সালেহের পদত্যাগের নিশ্চয়তা সম্পর্কে তথ্য থাকায় এখন আর প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী শিশু সেনাদের ব্যবহার করছে।

লিবিয়াকে হারানো সম্ভব নয়: আয়শা গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মেয়ে আয়শা গাদ্দাফি বলেছেন, অতীতেও মার্কিনিদের বিমান হামলায় লিবিয়াকে হারাতে পারেনি, এবারও সম্ভব হবে না। গতকাল শুক্রবার সকালে বাব আল আজিজিয়া বাসভবন থেকে দেওয়া ভাষণে পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাটো বাহিনীর হামলার সমালোচনা করে আয়শা বলেন, ‘আমাদের আকাশে থেকে তোমাদের বোমা ফেলা বন্ধ করো।’
১৯৮৬ সালে বাব আল আজিজিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে আয়শা বলেন, ‘তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। আমাদের বাসভবনকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ফেলা হয়। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। সফল হয়নি। লিবিয়ার বহু নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তখন।’
আয়েশা বলেন, ‘১৯১১ সালে ইতালির বিমান হামলায় আমার দাদা মারা যান। আর এখন তারা আমার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করছে। মহান আল্লাহ তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন।’
ত্রিপোলিতে বৃহস্পতিবার রাতে ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পর আয়শা ওই ভাষণ দেন। এ সময় গাদ্দাফির কয়েক শ সমর্থক স্লোগান দেন। তাঁরা বলেন, ‘শুধু আল্লাহ, মুয়াম্মায়ার ও লিবিয়া।’ তাঁরা এও বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণ চায় মুয়াম্মারের শাসন। মুয়াম্মার আমাদের নেতা।’
বাসভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়ালে আয়শার উদ্দেশে উপস্থিত জনতা হাত নেড়ে তাঁদের সমর্থন জানান। এ সময় আয়শা বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আমরা এমন এক দেশের নাগরিক, যাঁদের এভাবে দাবিয়ে রাখা যাবে না। পরাজিত করা সম্ভব হবে না।’

তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট

আজ ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন র‌্যাপিড ফাউন্ডেশন ও ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন গুলশান যুব ক্লাব।

ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল

নববর্ষের দিন ঢাকায় এসে পৌঁছেছে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি দল। ২৪ দিনের বাংলাদেশ সফরে দুটি চারদিনের ম্যাচ, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অতিথি দলটি। চারদিনের ম্যাচটি আজ শুরু হবে ফতুল্লায়। মিরপুরে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ শুরু হবে ২২ এপ্রিল)। ওয়ানডে তিনটি হবে চট্টগ্রামে ২৮ ও ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে। দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ৫ ও ৬ মে, মিরপুরে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে বুকানন

শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শর্ত পছন্দ না হওয়ায় লঙ্কানরা ‘না’ করে দিয়েছে। তাতে অবশ্য জন বুকাননকে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে না। ভালো একটা কাজই জোগাড় করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। সবকিছুই চূড়ান্ত। আগামী মে মাসে দায়িত্ব নিতে যাওয়া বুকানন কাজ করবেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) হাইপারফরম্যান্স কর্মসূচি নিয়ে। মূলত ক্রিকেট পরিচালক হলেও এনজেডসিতে বুকাননের ভূমিকাটাই হবে সবচেয়ে বড়। হাইপারফরম্যান্স কর্মসূচি ছাড়াও বুকানন নির্বাচক কমিটির কাজ তত্ত্বাবধান করবেন এবং নিউজিল্যান্ডের প্রতিভা অন্বেষণ নিয়ে কাজ করবেন।

লঙ্কানদের পাচ্ছে না আইপিএল

আইপিএলে খেলা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের দেশে ডেকে পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতির জন্য আগামী ৫ মের মধ্যে তাঁদের কলম্বোতে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ৩টি টেস্ট, ৫টি ওয়ানডে ও ১টি টি-টোয়েন্টি খেলতে ১০ মে শ্রীলঙ্কা দলের ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। অন্যদিকে আইপিএল চলবে ২৮ মে পর্যন্ত।
বিশ্বকাপের পর অরবিন্দ ডি সিলভার ছেড়ে দেওয়া জায়গায় বসা প্রধান নির্বাচক দিলীপ মেন্ডিস বলেছেন, ‘গত দুই মাসে তারা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছে আর এখন তাদের বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। ইংলিশ সামারের প্রথম দিকে খেলাটা সহজ নয় এবং আমরা চাইছি, খেলোয়াড়েরা অনুশীলনের জন্য রিপোর্ট করুক এবং সাদা বল থেকে লাল বলে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠুক।’
১১ জন শ্রীলঙ্কান এবারের আইপিএলে খেলছেন। এর মধ্যে আছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলা তিলকরত্নে দিলশান, বিশ্বকাপের পর কুমার সাঙ্গাকারা অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ায় তাঁকেই সম্ভবত ইংল্যান্ড সফরে দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আইপিএলের দল ডেকান চার্জার্সের অধিনায়ক সাঙ্গাকারা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই উচিত বলে মনে করছেন, ‘আমরা খেলোয়াড়েরা যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। আমি আশা করছি, বিসিসিআই ও এসএলসি মিলে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা মেনে নেওয়াই উচিত হবে।’ আইপিএলে খেলা অন্য শ্রীলঙ্কানরা হলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে (কোচি টাস্কার্স), সুরাজ রণদিভ ও নুয়ান কুলাসেকারা (চেন্নাই সুপার কিংস), দিলহারা ফার্নান্ডো ও লাসিথ মালিঙ্গা (মুম্বাই ইন্ডিয়ানস), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (পুনে ওয়ারিয়র্স), মুত্তিয়া মুরালিধরন ও থিসারা পেরেরা (কোচি টাস্কার্স)। একমাত্র মুরালিধরনকে নিয়েই শ্রীলঙ্কার আর কোনো টানাপোড়েন নেই। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন এই লঙ্কান স্পিন-জাদুকর।

শেষ বাধা জর্ডান

তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ৩-০, ইরাকের বিপক্ষে ৩-০, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১। তিনটি ম্যাচেই সহজ জয়। ডেভিস কাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ চারের ‘খ’ গ্রুপে বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। সর্বশেষ জয়টি এল গতকাল।
আজ ‘ক’ গ্রুপের রানার্সআপ জর্ডানের সঙ্গে জিতলে বাংলাদেশ উঠে যাবে গ্রুপ তিনে। ডেভিস কাপে গ্রুপ তিনে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছে ২০০৮ সালে দেশের মাটিতেই। দেশের বাইরে দুটি টুর্নামেন্টে গ্রুপ চারে খেলার পর আবার দেশেই তৃতীয় স্থান ফিরে পেতে বাংলাদেশ বেশ আশাবাদী।
জর্ডানকে হারানো কঠিন মনে করছেন না বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা। জয়টা মোটামুটি নিশ্চিতই ধরে নেওয়া হয়েছে। টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ তো বেশ জোর দিয়েই বললেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা গ্রুপ তিনে খেলার যোগ্যতা ফিরে পাচ্ছি। জর্ডান বড় কোনো বাধা হতে পারবে না।’
ডেভিস কাপে গ্রুপ তিন আর গ্রুপ চারের মধ্যে মধ্যে ব্যবধান অনেক। চারে বাংলাদেশ মোটামুটি বড় দলই। কিন্তু তিনে উঠে টিকে থাকতে পারে না। কারণ গ্রুপ তিনে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দল খেলে। তার পরও তিনে ওঠা বাংলাদেশের জন্য কৃতিত্বই।
অমল রায়, শিবু লালদের নিয়ে গ্রুপ তিনে ওঠার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ভারতীয় কোচ গজেন্দ্র সিংয়ের ব্যাপারে টেনিস ফেডারেশন বেশ উচ্ছ্বসিত। বিশ্বমানের এই কোচকে আনার পর বাংলাদেশ ভালো ফল করছে বলে ফেডারেশন কর্মকর্তারা তাঁকে দীর্ঘ মেয়াদে চান। কিন্তু টাকা কে দেবে? এটা একটা বড় চিন্তা। এই ডেভিস কাপ আয়োজন করতে সরকার কানাকড়িও দেয়নি। স্পনসর পাওয়া যায় না প্রশিক্ষণের জন্য। এসব নিয়ে ফেডারেশন বেশ চিন্তিত। অতীতে গ্রুপ তিনে উঠে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং টাকার অভাবে বাংলাদেশ দল আবার নেমে গেছে গ্রুপ চারে।
আজ ‘ক’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে খেলছে ‘খ’ গ্রুপ রানার্সআপ ইরাক। এই ম্যাচের জয়ী দলও গ্রুপ তিনে উঠবে। ইরাক তো আনন্দের মধ্যেই কালকের দিনটা কাটাল। যদিও গ্রুপ তিনে যাওয়ার জন্য তাদের সামনে বড় বাধা এই প্রথম ডেভিস কাপে খেলা তুর্কমেনিস্তান। সেই বাধা টপকাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের টেনিস দল বেশ তেতে রয়েছে।

রাউল-রাজ চলছেই

ইউরোপ-সেরার মুকুটে তিনবার এঁকেছেন চুমো। জিতেছেন ৬টি স্প্যানিশ লিগ শিরোপা, ছোটখাটো আরও অনেক পদকই আছে রাউল গঞ্জালেসের শো-কেসে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও স্পেনের সাবেক অধিনায়ক। রিয়াল মাদ্রিদে ১৬ বছরে কত কিছুই না জিতেছেন রাউল গঞ্জালেস। ‘সর্বজয়ী’ রাউল রিয়াল-পর্ব শেষ করে গত বছর নাম লিখিয়েছেন জার্মানির ক্লাব শালকে জিরো ফোরে। অনেকেই তখন রাউলের ইউরোপ-অধ্যায়ের শেষ দেখছিলেন!
তবে তিনি যে রাউল! তাই শালকের মতো একটি দল নিয়েও এগিয়ে চলছেন দোর্দণ্ড প্রতাপে। গত বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে হারিয়ে তাঁর দল উঠে গেছে সেমিফাইনালে। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে দলকে প্রথম এগিয়ে দেওয়া গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর ৭১তম গোল।
শালকে কোচ রালফ রাংনিকের প্রশংসা তো পেয়েছেনই। প্রতিপক্ষ কোচ লিওনার্দোও রাউলকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়, ‘রাউলকে আমি অভিনন্দন জানাই। সে সত্যি অসাধারণ এক খেলোয়াড়। সবার জন্যই অনন্য এক উদাহরণ।’
তবে শুধু প্রশংসার মধ্যেই হারিয়ে যেতে চান না রাউল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা স্ট্রাইকার শালকেকে নিয়ে যেতে চান ওয়েম্বলির ফাইনালে। স্বপ্ন দেখতে বলছেন তিনি শালকে সমর্থকদেরও, ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। হোক না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা, আমরা ফাইনালের স্বপ্ন কেন দেখব না!’
গত বুধবার রাতটি শালকের জন্য ছিল অনন্য। ইন্টারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মানির দলটি। কোচ-সমর্থক সবার মুখেই ছিল বিজয়ীর হাসি, ছিল ইতিহাস গড়ার আনন্দ। রাউলের কণ্ঠেও সেই বিজয়ের গান, ‘দারুণ এক মুহূর্ত এটা।’ সেমিফাইনালের সিঁড়ি পেরিয়ে আরেকটা এমন মুহূর্ত চান রাউল। আর ফাইনালে মুখোমুখি হতে চান নিজের পুরোনো ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের।
ফাইনালে আসতে হলে রিয়ালকে পেরোতে হবে বার্সেলোনা-বাধা। প্রথম লেগে টটেনহাম হটস্পারকে উড়িয়ে দেওয়া রিয়াল বুধবার দ্বিতীয় লেগে জিতেছে ১-০ গোলে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

সাকিবের শুভসূচনা, টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি

তিন কোটি টাকায় তাঁকে কেনা যে ভুল হয়নি, আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই তার কিছুটা হলেও বুঝিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই উইকেট। অমিত পৌনিকরকে ক্যালিসের ক্যাচ বানিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে সবচেয়ে তৃপ্তির ছিল তাঁর দ্বিতীয় উইকেটটি। সরাসরি উপড়ে দিয়েছেন শেন ওয়াটসনের (২২) স্টাম্প।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে আগুন ঝরিয়েছেন ওয়াটসন। তিন ম্যাচে ২৯৪ রান, সঙ্গে তিনটি উইকেট। ৩-০-তে সিরিজ জয়ের সঙ্গে এই অস্ট্রেলিয়ান সাকিবের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন ওয়ানডে অলরাউন্ডারের এক নম্বর আসনটি। ওয়াটসনকে আউট করে সাকিব এক ধরনের প্রতিশোধস্পৃহাও মিটিয়েছেন! তাঁর উদ্যাপনেও ছিল সেই তৃপ্তির ঘোষণা। পরে যোগ হয়েছে বড় জয়ে আইপিএল-যাত্রা শুরুর তৃপ্তি।
সাকিবের প্রথম আইপিএল ম্যাচে তাঁর দল কলকাতা নাইট রাইডার্স শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়েছে ৯ উইকেটে। অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর ও জ্যাক ক্যালিসের ১৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে রাজস্থানের ছুড়ে দেওয়া ১৬০ রানের চ্যালেঞ্জ মাত্র ১ উইকেটেই উতরে যায় কলকাতা। অব্যবহূত ছিল ৯ বল। ২ ছক্কা ও ৭ চারে ৬৫ বলে ক্যালিস অপরাজিত ৮০ এবং ১ ছক্কা, ১১ চারে গম্ভীর ৭৫ করেন ৪৪ বলে। গম্ভীরই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। রাজস্থানের দ্রাবিড় ৩৫, টেলর ৩৫, মেনারিয়া ২৭ রান করেন। সাকিবের সঙ্গে ইউসুফ পাঠানও নেন ২ উইকেট।
পরের ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু ম্যাচ শেষে মুছে গেছে তাঁর সেই সেঞ্চুরির হাসি। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে মাহেলা জয়াবর্ধনের কোচি টাস্কার্স পেল প্রথম জয়ের স্বাদ। মুম্বাইয়ের ২ উইকেটে করা ১৮২ কোচি টপকে যায় এক ওভার আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৬০ বলে ৮১ ও অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে করেন ৩৬ বলে ৫৬ রান। শেষে রবীন্দ্র জাদেজা ১১ বলে অপরাজিত ২৫। এর আগে ৩ ছক্কা ও ১২ চারে টেন্ডুলকার ৬৬ বলে অপরাজিত থাকেন ১০০ রানে। ৪ ছক্কা ও ৩ চারে আম্বাতি রাইডু করেন ৩৩ বলে ৫৩।

দুইয়ে নামলেন সাকিব

২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকেই মুকুটটা তাঁর মাথায়। টানা দুই বছর তিন মাস পর ওয়ানডে অলরাউন্ডারের সেই মুকুট হারালেন সাকিব আল হাসান। সেটি এখন শেন ওয়াটসনের মাথায়। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৯৪ রান করার পাশাপাশি ৩টি উইকেটও নিয়ে ছাপিয়ে গেলেন সাকিবকে। ওয়াটসনের রেটিং পয়েন্ট ৪২৮; সাকিবের ৩৮৪। বেশ ভালোমতোই এগিয়ে আছেন ওয়াটসন। ব্যবধান ৪৪ পয়েন্টের। ফলে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে সাকিবকে হয়তো লম্বা সময়ের জন্যই অপেক্ষায় থাকতে হবে।
এদিকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দুই দলই পকেটে পুরছে পৌনে দুই লাখ মার্কিন ডলার করে। ১ এপ্রিলের মধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দল দুটি এই অর্থ পায়। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিটিও থেকে যাচ্ছে ভারতের কাছে। ভারত ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকার সুবাদে আরও ৭৫ হাজার ডলার পাচ্ছে। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাও পাচ্ছে এই পরিমাণ অর্থ।
বাংলাদেশকে ৩-০-তে হারিয়েও অবশ্য খুব বেশি রেটিং পয়েন্ট পায়নি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়া। মাত্র একটি রেটিং পয়েন্ট যোগ হয়েছে তাদের হিসাবে, বাংলাদেশ একটি রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে। হোয়াইটওয়াশের পরও তাই খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অবশ্য ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে। কেবল ইমরুল কায়েস ব্যাটিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে ৪২-এ গেছেন। সাকিব দুই ধাপ নেমে চলে গেছেন ২৬-এ। বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়েও তা-ই। সেরা ১০ থেকে ছিটকে গেছেন আবদুর রাজ্জাক। পাঁচ ধাপ নেমে বাংলাদেশি এই বাঁহাতি স্পিনারের বর্তমান অবস্থান ১১। সাকিব তিন ধাপ পিছিয়ে ১৫, মাশরাফি বিন মুর্তজা চার ধাপ পিছিয়ে ৩৬তম।

ভারতকে নিয়ে সিরিজ আয়োজনে মরিয়া পাকিস্তান

বিশ্বকাপ শেষ। আবারও সেই আগের চিন্তায় ডুবতে হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই যে পাকিস্তান সফর থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব! দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা তো বটেই, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে নিয়ে সিরিজ আয়োজন করতে মরিয়া পাকিস্তান। সেটা দেশের মাটি বা নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যু, যেখানেই হোক না কেন।
পিসিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আজ হোক কাল হোক, ভারতকে নিয়ে সিরিজ আয়োজনে আশাবাদী আমরা। ভারতীয়দের যদি নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে আসতে আপত্তি থাকে, নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতেও সিরিজ আয়োজনে প্রস্তুত আমরা। যেকোনো মূল্যে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
সূত্র জানায়, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট চালু করার পক্ষে ভারতীয় বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এখনই পাকিস্তানের মাটিতে ক্রিকেটারদের পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তাঁরা। এদিকে, পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে আপত্তি রয়েছে ভারতের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও। তাঁদের প্রশ্ন, কোনো দেশই যখন পাকিস্তান সফরকে নিরাপদ মনে করছে না, তাহলে আগ বাড়িয়ে ভারতে কেন ঝুঁকি নেবে? ওয়েবসাইট।

সাফল্যে ভেসে ঢাকায় বাংলাদেশ দল

কাল বাংলাদেশ বিমানের ডি-২২ ফ্লাইটটা ছিল আনন্দময় এক উড়াল। সাফল্যে মোড়া চট্টগ্রাম সফর শেষে কাল দুপুরে সেই আনন্দে ভর করেই ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশ দল।
চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড ও হল্যান্ডকে হারানোর পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পরের ম্যাচ আগামী ১৯ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নপূরণ।
পরপর দুই ম্যাচে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন কোচ জেমি সিডন্স। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে জানালেন, পরের ম্যাচে ভাঙতে পারে গত ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশনও, ‘এই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল হল্যান্ড, আমরা তাদের কথা ভেবে দল করেছি। ইংল্যান্ড ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে সোহরাওয়ার্দী ও শাহরিয়ারকে নেওয়া হয়েছিল। পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিমত্তার কথা ভেবেও কিছু পরিবর্তন হতে পারে।’
কোচ অবশ্য নিশ্চিত করেছেন, ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটিংয়ে তিনি খুশিই আছেন, ‘শুরুতে কিছুটা নার্ভাস ছিল। তার পরও বলব অনেক দিন পর ফিরে ও ভালোই খেলেছে। যদিও এটা বিশ্বকাপ, এখানে কে কত দিন পর দলে ফিরল সেটা বিবেচ্য নয়। সুযোগ পেলে ভালো খেলতে হবে।’
সিডন্স আভাস দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর জায়গায় নাঈম ইসলাম ফিরতে পারেন দলে।

ডেভিসনের বিদায়ী ম্যাচ

জন ডেভিসন চাইবেন, শুরুর সঙ্গে যেন মিলে যায় শেষটা। ২০০৩ সালে অভিষেকের দিনই পেয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয়। আজ বেঙ্গালুরুতে খেলতে নামছেন ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। কানাডা কি পারবে তার সবচেয়ে প্রতিভাবান ‘বর্ণাঢ্য’ ক্যারিয়ারের ক্রিকেটারটিকে বিদায় উপহার হিসেবে স্মরণীয় এক জয় এনে দিতে? কল্পনার জাল বুনতে শুরু করার আগে জেনে নিন, কানাডার প্রতিপক্ষের নাম অস্ট্রেলিয়া!
বিশ্বকাপে আজ কানাডার শেষ ম্যাচ। শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়; আইসিসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে হয়তো আর কখনো বিশ্বকাপে দেখা যাবে না কানাডাকে। যে কানাডা প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৭৯ সালে। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলেছে ২০০৩-এ। সেবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই জয়।
অভিষেক ওই ম্যাচে জয় পেলেও ডেভিসন নিজে অবশ্য কিছু করে দেখাতে পারেননি। পেরেছিলেন তিন ম্যাচ পরে, যেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাত্র ৬৭ বলে। বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল সেটি।
৩১ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ওই একটাই সেঞ্চুরি। পাশাপাশি ৫টি ফিফটিসহ ২৭.০৬ গড়ে করেছেন ৭৮৫ রান। কানাডায় জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। সেই সূত্রেই ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্ক। আগামী মে মাসে ৪২-এ পা দিতে চলা ডেভিসন ভিক্টোরিয়া আর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫১টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও খেলেছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১১টি উইকেটও আছে তাঁর।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর অবশ্য নিয়ে ফেলেছেন আগেই। এখন কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির একজন কোচ হিসেবে। ভবিষ্যতে সেটাই করতে চান। তার আগে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আজ। স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন বিদায়ের দিনটি।
ডেভিসনের বিদায়ের দিনটা আবার অস্ট্রেলিয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মঞ্চ। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের দুই ম্যাচ হাতে রেখেই। ১৯ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে চায় বলে অস্ট্রেলিয়া ওই ম্যাচে পুরো শক্তির দলই হয়তো খেলাবে। আজ তাই তাদের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ সুযোগ।
দল নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা অস্ট্রেলিয়ার নেই। রিকি পন্টিং ছাড়া বাকি সবাই ভালো রানে আছেন। পন্টিং অবশ্য গত ম্যাচে ৩৬ রানের ইনিংসটায় বড় কিছুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। পেসাররাও ভালো করছে। দুশ্চিন্তা কেবল স্পিনারদের নিয়ে। অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া দলের মূল স্পিনার জেসন ক্রেজা ৩২.৫ ওভার বোলিং করে উইকেট নিয়েছেন মাত্র দুটি। গড় ৭২.৫০। আরেক স্পিনার স্টিভেন স্টিথ নিয়েছেন একটি মাত্র উইকেট। ডেভিড হাসি এক ম্যাচে মাত্র ৪ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। তাঁরও এক উইকেট।
এই বিশ্বকাপ স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে বলা হয়েছিল। অথচ অস্ট্রেলীয় স্পিনাররা সব মিলে নিয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট! পন্টিং অবশ্য দাবি করেছেন, স্পিনারদের এই পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন। পেসাররা যে ভালো করছেন। তবে আজ স্পিনারদের গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠারও দিন।

ট্রটের বিশ্বাস ইংল্যান্ড পারবে

সূচি নিয়ে সমালোচনা, উইকেট নিয়ে অসন্তোষ—ইংল্যান্ড যেন বিশ্বকাপে এসেছিল সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। ইংলিশদের এই প্রশ্নের ঝড় থেমে গেছে। এখন তো সূচি, উইকেট, ভারতের গরম—সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছে তারা। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর সময় নেই। তাদের শিরে সংক্রান্তি। আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততে না পারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে যাবে।
আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাই হারাতেই হবে। দিন-রাত, অনুশীলনে কি অবসরে, এই একই কথা জপে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা—ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে, যেতে হবে শেষ আটে। পল কলিংউড বলেছেন, এর পর বলেছেন সোয়ান। আর এখন ‘মি. ধারাবাহিক’ জোনাথন ট্রটও বললেন সেই একই কথা, ‘সূচি নিয়ে কথা বলাটা এখন বোকামি। আমরা সতেজ না থাকতে পারি, কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে আমাদের অবস্থা এখন কী এবং এই বিশ্বকাপে আমরা কী চাচ্ছি। দেশের লাখ লাখ মানুষ এই আশা করে আছে, এখন যে অবস্থায় আছি, এখান থেকেই কিছু একটা করে ফেলব আমরা।’
সেই কিছু একটা করতে দুটি বাধা অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে ইংল্যান্ডকে। একটি চেন্নাইয়ের গরম, অন্য বাধা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড। ম্যাচটি হবে চেন্নাইয়ে এবং এই সময়ে চেন্নাইয়ের তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময়েই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। আর এই বিশ্বকাপে পোলার্ড-ঝড় তো অপ্রতিরোধ্য।
বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলছেন পোলার্ড। ৪ ইনিংসে ৪১ গড়ে ১৬৪ রান করেছেন। ইংল্যান্ডের পোলার্ডকে নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয় তাঁর স্ট্রাইক রেট—১৬৪.০০। ৪ ইনিংসে দুটি হাফ সেঞ্চুরি। হল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭ বলে করেছেন ৬০ রান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ রান করেছেন ৫৫ বলে। পোলার্ডকে ইংল্যান্ড থামাবে কী করে? দলের প্রধান পেসার জেমস অ্যান্ডারসন একেবারেই ফর্মে নেই। টিম ব্রেসনান ছাড়া সুবিধা করতে পারছেন না তেমন কেউই। তবে ট্রটের বিশ্বাস, পোলার্ডকে থামাতে পারবেন তাঁরা।
তা না হয় পারলেন। কিন্তু চেন্নাইয়ের গরম? এর মধ্যেই জ্বরে পড়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও গ্রায়েম সোয়ান। জ্বরের সঙ্গে পরশু যোগ হয়েছে সোয়ানের পেটের পীড়া। দুই দিন অনুশীলন করতে পারেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও দলের সেরা স্পিনার। তবে ট্রটের বিশ্বাস, ম্যাচের আগে তাঁরা ঠিকই সেরে উঠবেন, ‘তারা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফিট হয়ে যাবে। দুই দিনের জ্বর সেরে তারা এখন আগের চেয়ে ভালো অনুভব করছে। তবে চেন্নাইয়ের আর্দ্রতা খুব বেশি।’
প্রকৃতিও যেন বাগড়া দিতে চায় ইংল্যান্ডের এগিয়ে চলায়! তাহলে কি এই বিশ্বকাপে নিজেদের সবগুলো ম্যাচে নাটকীয়তার জন্ম দেওয়া ইংল্যান্ডের ভবিতব্য বাড়ি ফিরে যাওয়া? আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল?
ট্রট সে রকম কিছু দেখছেন না। বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচে ৪টি ফিফটি করা ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। কলিংউড আর সোয়ানের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে তিনিও বলেছেন, ‘আমরা জানি, যেকোনো দলকেই হারাতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আমরা এটা দেখিয়েছি। ভারতের বিপক্ষেও অনেক ভালো খেলেছি। শুধু আমাদের ব্যাটিং-বোলিং একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে।’

গিলির পর জেপি

বল চলে গিয়েছিল আকাশের ঠিকানায়। কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব মেনে বল ফিরে এল নিচে। কিন্তু মাটির স্পর্শ পেল না। এর আগেই দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নিলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ৯৯ রানে আউট জেপি ডুমিনি!
ক্যামেরা এক ফাঁকে ধরল গ্রায়েম স্মিথকে। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক মাথা নাড়ছেন অবিশ্বাসে। নিয়তির এই পরিহাসে প্রবল আপত্তি তাঁর। ডুমিনি যেভাবে খেলছিলেন, সেঞ্চুরিটা তাঁর অবশ্যই প্রাপ্য ছিল। পেলেন না। কিন্তু একটা রেকর্ডের পাতায় অন্তত ঠাঁই হয়ে গেল। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পর তিনিই বিশ্বকাপে ৯৯ রানে আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান।
স্মিথের মাথা নাড়ানোর পেছনে আরেকটি কারণ খুঁজে পেতে পারেন। ওয়ানডেতে এর আগে ৯৯ রানে আউট হওয়া সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনিই। ২০০২ সালে সেঞ্চুরিয়নে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্মিথ সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে আউট হয়েছিলেন। আরেক দক্ষিণ আফ্রিকানেরই আছে এই যাতনা—ল্যান্স ক্লুজনার। সব মিলে ওয়ানডে ইতিহাসে ৩২ বার ১ রানের হতাশায় পুড়েছেন ব্যাটসম্যানরা।
এর মধ্যে শচীন টেন্ডুলকার একাই ৯৯ রানে আউট হয়েছেন তিনবার। এটিও একটি রেকর্ড। ৯৯ রানে দুবার আউট হয়েছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। বাকি ২৭ ব্যাটসম্যানের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে একবার করে। এর মধ্যে ১০ ব্যাটসম্যান ছিলেন ৯৯ রানে অপরাজিত!
খেলোয়াড়দের সেঞ্চুরিবঞ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি ‘মজা’ বোধ হয় পায় ওভাল। লন্ডনের এই মাঠেই সর্বোচ্চ পাঁচবার ব্যাটসম্যানরা ৯৯ রান করে ফিরেছে সাজঘরে। অ্যাডিলেড ওভালেও দেখা যাচ্ছে দুই ব্যাটসম্যান এক রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়েছেন। সেঞ্চুরিয়নের নামও আছে এ তালিকায়।
সেঞ্চুরিয়নে গ্রায়েম স্মিথের ৯৯ রানে আউট হওয়ার কথা ওপরেই পড়েছেন। এ মাঠেই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন ২০০৩ বিশ্বকাপে। স্মিথের মতোই তাঁকে এই যাতনা উপহার দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

আইরিশদের উড়িয়ে শেষ আটে স্মিথরা

ডাবলিন-বেলফাস্টে কী হয়েছিল কে জানে, কাল কিন্তু একটা সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম...পুরো বাংলাদেশ ভয়ই পেয়ে গিয়েছিল। ১১৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন হারিয়ে ফেলল ৫ উইকেট। স্বার্থের সুতোয় এমনভাবে এই ম্যাচটির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাঁধা ছিল; আরেকটি আইরিশ-রূপকথা মানে সমীকরণ জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে চেয়েছেন, মনেপ্রাণে প্রার্থনা করেছেন, এই ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকাই জিতুক।
সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে! ম্যাচের শুরুর দিকে শঙ্কার যে মেঘ ঘিরে ধরেছিল, কাল কলকাতার ফ্লাডলাইটের আলোয় কেটে গেছে সেই মেঘ। ২৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড ১৪১ রানে অলআউট হয়েছে। ১৩১ রানে জিতে নাটক জমিয়ে তোলা ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইডেনে এই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বড় স্কোরই করেছিল স্মিথের দল। পুরো কৃতিত্ব জেপি ডুমিনির। বেচারা কাল মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। বিশ্বকাপে ৯৯ রানে আউট হওয়ার অপ্রত্যাশিত রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। সেঞ্চুরিটা এই বাঁহাতির প্রাপ্যই ছিল। চাপের মুখে ম্যাচ কী করে বের করে আনতে হয়, সেটির প্রামাণ্যচিত্রই যেন হয়ে থাকবে ডুমিনির ইনিংসটি। দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ দুটি জুটিই হলো ষষ্ঠ আর সপ্তম উইকেটে। দুটো জুটিই ডুমিনিকে কেন্দ্র করে। আইরিশদের উৎসব থামিয়ে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
যা শুরু হয়েছিল পঞ্চম ওভার থেকে। বয়ড র্যাঙ্কিনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ থার্ডম্যানে জর্জ ডকরেলের দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হন হাশিম আমলা। এদিনও দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেছে আইরিশরা। প্রমাণ দুটো রান আউট। গ্রায়েম স্মিথ আর জ্যাক ক্যালিস যখন ফিরে আসেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ৯৫ রানে। খানিক পরে ফ্যাফ ডু প্লেসিস স্লিপে ক্যাচিং অনুশীলন করানোয় বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে ভিড় করে ভয়। চাপে ভেঙে পড়ার উদাহরণ তো প্রোটিয়াদের ভুরি ভুরিই আছে।
না, ভারতের বিপক্ষে গত ম্যাচে নিজেদের অন্যভাবে চেনানো দক্ষিণ আফ্রিকা এদিনও নতুন দিনের গান শোনাল। শোনালেন আসলে ধাতব স্নায়ুর ডুমিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরু করলেন ব্যাটিং। প্রথম চারটি মারলেন নিজের ইনিংসের ৫০তম বলে। কেবল সিঙ্গেলস থেকেই তুলেছেন ২৭ রান। ঝুঁকিমুক্ত ব্যাটিং, কিন্তু দলের রানরেটও পড়তে দেননি সেভাবে। ঠিকই কিন্তু ফিফটি তুলেছেন ৬৭ বলে!
প্রথমে কলিন ইনগ্রাম, পরে ইয়োহান বোথাও দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ডুমিনিকে। ইনগ্রামের সঙ্গে তাঁর ৮৭ আর বোথার সঙ্গে ৬৫ রানের দুটো জুটিই ওভারপিছু রান তুলেছে ছয়ের ওপর। দলের প্রয়োজনেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি থেকে নিঃশ্বাস দূরত্বে থাকতেই।
ম্যাচ হারলেই বিদায়—এই সমীকরণ ২৭৩ রানের লক্ষ্যটাকে আরও বড় বানিয়ে দিয়েছিল আইরিশদের জন্য। সেই চাপ তারা সামলাতে পারেনি বলেই হয়তো উইকেট খুইয়েছে শুরু থেকে। ধারাবাহিক এই উইকেট পতনের স্রোতে বাঁধ তুলতে পারেনি বলেই ৯২ রানের মধ্যে তারা হারিয়ে ফেলেছে দলের পাঁচ ব্যাটিং স্তম্ভকে। এর মধ্যে দুই ও’ব্রায়েন আর এড জয়েসও আছেন। ম্যাচটা ওখানেই শেষ! এরপর কেবলই পরাজয় বিলম্বিত করেছে আইরিশরা।
এই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখানো আয়ারল্যান্ডের। আরেকটি ম্যাচ অবশ্য আছে তাদের—হল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকারও ম্যাচ আছে আরেকটি—বাংলাদেশের বিপক্ষে। কাল হয়তো সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশকে পেয়েছিল তারা; ১৯ মার্চ ছবিটা থাকবে একেবারেই উল্টো।

আত্মবিশ্বাসী গ্রায়েম স্মিথ

‘বি’ গ্রুপের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারলেও মিডল অর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে ‘জায়ান্ট কিলার’ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে ১৩১ রানের সহজ জয়। ১১৭ রানেই পাঁচ উইকেট হারানোর পর আরও একটি অঘটনের আশঙ্কা পেয়ে বসেছিল প্রোটিয়া সমর্থকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জে পি ডুমিনির ৯৯ রানের চমত্কার এক ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭২ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। বোলিংয়েও তারা দেখিয়েছে অসাধারণ দৃঢ়তা। যে আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩৪ রান তাড়া করেও জয় ছিনিয়ে এনেছিল গতকাল তারাই মরকেল, পিটারসেনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ল। মাত্র ৩৪ ওভারেই গুটিয়ে গেল ১৪১ রানে।
‘বি’ গ্রুপে পাঁচ ম্যাচ শেষে এখন ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানের হারের পর অনেকেই তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছিলেন। বারবার উচ্চারিত হওয়া শুরু হয়েছিল তাদের ‘চোকার্স’ উপাধিটা। কিন্তু শেষ আট নিশ্চিত করার পর এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, ‘আমরা নির্বিঘ্নে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। সেটা আমরা করে ফেলেছি। এখনো অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের আরেকটা খেলা বাকি আছে। আশা করছি নকআউট পর্বের তিনটা খেলাতেও আমরা ভালো করতে পারব। প্রথম ধাপটা আমরা ভালো মতোই পার করতে পেরেছি। আর এতে আমরা খুবই খুশি।’
গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা অনেক দিক দিয়েই ইতিবাচক ছিল বলে উল্লেখ করেছেন স্মিথ। জে পি ডুমিনি ও বোলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাজে কিছু রান আউট ছাড়া আমাদের সামগ্রিক পারফরমেন্স খুবই ভালো ছিল। বোলিংয়েও আমরা খুব ভালো করেছি। অবশ্যই আমরা আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলব। কিন্তু সব মিলিয়ে আমাদের জন্য এটা ছিল খুবই ইতিবাচক একটা দিন।’

তবুও আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্তিটা কম নয়

গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৩১ রানে হারার পরই শেষ হয়ে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৮ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটা হবে শুধুই সৌজন্য রক্ষার। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ না হলেও এবারের বিশ্বকাপের অর্জনটাকে একেবারেই ছোট করে দেখছেন না আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। অনেক ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ঝুলিতে নিয়েই দেশে ফিরবেন তাঁরা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে না পারলেও তাদের লড়াইটা একেবারে। নিজেদের মাঠে ২৭ রানের জয় পেতে রীতিমতো গলদঘর্মই হতে হয়েছিল সাকিব-তামিমদের। দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো ইতিহাসই গড়ে ফেলল আইরিশ ক্রিকেটাররা। ৩২৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে পেল ৩ উইকেটের মহাকাব্যিক এক জয়। কেভিন ও’ব্রায়েন গড়লেন বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এই একটা ম্যাচ দিয়েই আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান পুরোপুরি সফল বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন আইরিশ সমর্থকেরা। এর পরে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আর জয় পাওয়া হয় নি। তবে টেস্ট পরিবারের বাইরের দেশ হিসেবে লড়াইটা একেবারেই খারাপ করে নি আয়ারল্যান্ড। সব মিলিয়ে অনেক অনেক সুখস্মৃতি নিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে পারবেন পোর্টারফিল্ড, ও’ব্রায়েনরা। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর আইরিশ অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড বলেছেন, ‘বিশ্বকাপটা সব মিলিয়ে আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বোলিং, ফিল্ডিংটাও অনেক ভালো করেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের বিপক্ষেও আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছিলাম।’
এখন শেষ ম্যাচে হল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারলে বিশ্বকাপের সমাপ্তিটাও স্বপ্নের মতো হবে আয়ারল্যান্ডের।

‘আচরণের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, তবে শাস্তিটা বাড়াবাড়ি’

শিশির নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য অপরাধ করেছেন ইংলিশ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। গত শুক্রবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে সন্ধ্যার শিশির তাঁর মধ্যে এতটাই বিরক্তি উত্পাদন করেছিল যে তিনি মুখ দিয়ে খারাপ শব্দই বের করে দিলেন, বল পরিবর্তন নিয়ে বচসায় লিপ্ত হলেন আম্পায়ার ড্যারেল হার্পারের সঙ্গে। আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গ করায়, ইতিমধ্যে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন সোয়ান। সে ম্যাচের ১০ শতাংশ ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়েছে তাঁর অধিকার থেকে।
চট্টগ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যার আচরণে ক্ষমা চাইলেও শাস্তিটা মেনে নিতে রাজি নন সোয়ান। তিনি বিশ্বকাপের মতো আসরে কোনো ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন নিয়েও নিজের বিরক্তিটা গোপন রাখেননি। ‘বিশ্বকাপের মতো আসরে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন করাটা হাস্যকর।’ সোয়ানের মন্তব্য। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ শিশিরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে’—এটা মেনে নেওয়া যায় না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আম্পায়ার ড্যারেল হার্পারের সঙ্গে কেবল বল পরিবর্তন নিয়েই কথাকাটাকাটি হয়েছিল বলে তিনি জানান। ‘হার্পার এতে রাজি না হওয়ার কারণে আমি একটু উত্তেজিত হয়ে পড়ি। সেদিন মাঠে শিশিরের কারণে প্রতি দুই-তিন ওভার পরপরই বল পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছিল।’ সোয়ান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল, আমি ক্রিকেট খেলতে মাঠে নেমেছি। কিন্তু, আমার দুই হাত পেছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা।’
পিচ মাইক্রোফোনে তাঁর খিস্তি শুনেছেন অনেকেই। টিভি কমেন্টেটর ডেভিড লয়েড পর্যন্ত সেই খিস্তিতে লজ্জিত হয়ে, ধারাভাষ্যের মাধ্যমে সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে সোয়ান দুঃখ প্রকাশ করলেও গালি-গালাজের কোনোটাই আম্পায়ার হার্পারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেননি বলে দাবি করেন সোয়ান। তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারের হাতে তো কিছু ছিল না। তিনি তো আর শিশিরের জন্য দায়ী নন। আমি কেবল তাঁকে বল পরিবর্তন করতে বলেছি। উনি তাতে রাজি না হওয়ায় আমি একটু হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।’ সোয়ান বলেন, খেলার মধ্যেই আমি আম্পায়ার হার্পারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমা চেয়েছি।’ বলেছি, ‘আমি একটু সীমা অতিক্রম করে ফেলেছি।’
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সকে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের দল নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করেছেন সোয়ান। তাঁর মতে, ‘এবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স অনেকটা নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মতো। কখন কী হবে, আপনি জানেন না।’

ইনজুরির ভান করলে উমরকে শাস্তি দিন: ইমরান খান

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক কামরান আকমলের যাচ্ছেতাই কিপিং সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। কেবল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই নয়, কয়েক মাস ধরে কামরান আকমলের গ্লাভসে যেন খাঁটি মাখন মাখিয়ে রেখেছে কেউ। বল গেলেই তা পড়ে যাচ্ছে। জমা আর হচ্ছে না। কামরানের ব্যাটসম্যান পরিচয়েও কালিমা পড়ে গেছে তাঁর বাজে ফর্মের কারণে। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তাঁকে বাদ দেওয়ার রব উঠে গিয়েছিল সর্বত্র। কামরানের সম্ভাব্য রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ঠিক ছিল ছোট ভাই উমর আকমলের নাম। কিন্তু, এমন একটা সময়ে উমরের আঙুলের রহস্যজনক ইনজুরি সন্দেহের ডাল-পালা মেলেছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ব্যাপারটিকে ‘উমরের ভাইকে বাঁচানোর ভান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে, পাকিস্তানি টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাপারটি অস্বীকার করে বলেছে, ‘উমর আসলেই আঙুলের ইনজুরিতে আক্রান্ত।’
ব্যাপারটি এখনো সন্দেহের পর্যায়ে থাকলেও গণমাধ্যম এটি সহজে ছেড়ে দেবে বলে মনে হচ্ছে না।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমে চলমান উমর আকমল বিতর্কে অংশ নিয়েছেন ৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে সঠিক কিছু না জানলেও আমার সাধারণ বক্তব্য হচ্ছে, দলের কোনো খেলোয়াড় যদি এ ধরনের মনোভাব দেখায়, তাহলে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, এ ধরনের খেলোয়াড় যেন ভবিষ্যতে আর কোনো দিন পাকিস্তান দলে খেলতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা।’
ইমরান খান আরও বলেন, ‘১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাফল্যের মূল ছিল, সে দলে কোনো স্বার্থপর খেলোয়াড় খেলেনি। আমি প্রতিটি টিম মিটিংয়েই বলতাম, এই দলে যারাই নির্বাচিত হয়েছে, সে যেন মনে না করে আমি খুব বড় খেলোয়াড়। প্রতিটি খেলোয়াড়ই সেবার দলের জন্য নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেছিল। সবাই দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিল। আমার দলে আমি কখনোই স্বার্থপর, কিংবা নিজের সাফল্যের জন্য খেলা খেলোয়াড়দের স্থান দিইনি।’
ইমরান বলেন, ‘আমি প্রতিটি খেলোয়াড়কেই সেবার বলেছিলাম, তোমরা যারা এই দলে নির্বাচিত হয়েছ, প্রত্যেককেই আমি ভালোভাবে চিনি। তোমাদের খেলা আমি জানি, তোমরা কতটুকু কী করতে পারো, তাও আমি জানি। আমি যদি, কোনোভাবে টের পাই, তোমরা দেশের জন্য না খেলে নিজের জন্য খেলছ, আমি তোমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, তোমরা কোনো দিনই পাকিস্তান দলে খেলার সুযোগ পাবে না। আমার অমন স্বার্থপর খেলোয়াড়ের দরকার নেই।’
উমর আকমল প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, যদি উমর সত্যিই ভাইয়ের জন্য নিজের ইনজুরির ভান করে থাকে, তাহলে ব্যাপারটি লুকানো বোধ হয়, টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত হচ্ছে না। এসব মনোভাব সব সময়ই দলে ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়।
ইমরান খানের মতে, ‘বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত খেলোয়াড়দের উদ্দেশে একটি ব্যাপার পরিষ্কার করে দেওয়া। ব্যাপারটি হলো, তুমি যত ভালো ক্রিকেটারই হও না কেন, তোমার কোনো আচরণ যেন দলের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি না করে।