Friday, May 17, 2019

গোলান মালভূমিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সব পন্থাই অবলম্বন করা হবে: সিরিয়া

সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ভূমি চুরি এবং সেখানে সিরিয় জনগণের ওপর দমন পীড়ন চালিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে জানিয়েছে দামেস্ক সরকার। একইসঙ্গে অধিকৃত গোলান মালভূমিতে পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দামেস্কের পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছ সিরিয়া।
জাতিসংঘের প্রধান এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টকে দেয়া এক চিঠিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিকৃত গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, গোলান মালভূমির ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সিরিয়া সব পন্থাই অবলম্বন করবে। কারণ এটি সিরিয়ার এমন একটি অন্তর্নিহিত অধিকার যার ব্যাখ্যা দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।  
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তেল আবিব সরকার সম্প্রতি সিরিয়ার নাগরিকদেরকে তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া ভূমি দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে তালিকাভুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
গোলান মালভূমিতে অবৈধ বসতি বন্ধ এবং সেখানে সিরিয় জনগণের ওপর নীপিড়ন অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলার জন্য এবং গোলান ভূমিকে তেল আবিব সরকারের কাছে অন্তর্ভুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য মন্ত্রণালয় সিরিয় জনগণের প্রশংসা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে পায়ে চলার সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু শিগগিরই সবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
পর্যটকদের জন্য আসছে সুখবর। ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুনের স্থানের নাম। স্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের গেটিলনবার্গ আর স্থাপনাটি একটি ঝুলন্ত সেতু। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। ১৭ মে থেকে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঝুলন্ত সেতুটি। শিকলের সাহায্যে তৈরি ঝুলন্ত এই সেতুকে বলা হচ্ছে ‘স্কাইব্রিজ’।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসির রিসোর্ট শহর গেটলিনবার্গের পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে ৬৮০ ফুট লম্বা এ ঝুলন্ত সেতু। স্থলভাগ থেকে এটির উচ্চতা ১৪০ ফুট। পর্যটকেরা হেঁটেই পার হতে পারবেন এ সেতু। সেতুটি পারাপারের সময় পাহাড়ে মেঘের দেখা পাবেন পর্যটকেরা।
৬৮০ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকেরা হেঁটেই পার হতে পারবেন। ছবি: সংগৃহীত
উচ্চতায় কারও ভয় থকলে এ সেতু ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, সেতুটি মাঝের কিছু অংশ কাচ দিয়ে তৈরি। তাই ১৪০ ফুট উঁচুতে থাকা এ সেতুর নিচে কী আছে, তা স্পষ্টভাবেই দেখতে পারবেন ওপরে থাকা পর্যটকেরা।
গেটলিনবার্গের স্কাই লিফট পার্কের নতুন সংযোজন হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে এ ঝুলন্ত সেতু। এ পার্কের অন্য আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘চেয়ার লিফট’, যাতে চড়ে যাত্রীরা পাহাড়ের প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারবেন। এই ‘চেয়ার লিফটে’ উঠতে পকেট থেকে খরচ হবে বড়দের জন্য ১৫ ডলার আর শিশুদের জন্য ১২ ডলার করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু শিগগিরই সবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
পার্কের ওয়েবসাইটে তারা জানায়, সেতুটি পারাপারে পথচারীদের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তা ছাড়া এ অনিন্দ্যসুন্দর সেতু পারাপারের সময় ইচ্ছেমতো ছবিও তোলা যাবে। কারণ, পাশেই আছে সুন্দর গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্ক। স্কাইব্রিজটি যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের দাবি, এটিই উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু।
অন্যদিকে, কানাডার কেলোওনা পাহাড়ের ঝুলন্ত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ ফুটেরও বেশি।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুলন্ত সেতু হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের চার্লেস কুনেন। ২০১৭ সালে এটি জনসাধারণের উন্মুক্ত করা এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬২১ ফুট। আর উচ্চতা প্রায় ২৭৯ ফুট।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু শিগগিরই সবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক যুক্তরাজ্যে by অদিতি খান্না

ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা কি হবে তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও পুলিশ প্রধানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মুসলিমে বিদ্বেষী অপরাধ সামাল দিতে এই সংজ্ঞা ও চিহ্নিতকরণ জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ প্রস্তাব দেয়, ইসলামোফোবিয়ার মূল আসলে বর্ণবাদে। এটি এক ধরনের বর্ণবাদ যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি করে। তবে যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রধানদের জাতীয় পরিষদ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানায় যে এই সংজ্ঞার বিস্তৃতি অনেক বড়। ফলে এতে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।
পরিষদের চেয়ারম্যান মার্টিন হেউইট বলেন, আমরা সব ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধ গুরুত্ব সহকারে নেই এবং পূর্ণ তদন্ত করি। ব্রিটিশ মুসলিমদের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ যে সংজ্ঞা দিয়েছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, আমাদের মনে হয় এই সংজ্ঞাটির বিস্তৃতি অনেক বেশি। এতে করে আইন বাস্তবায়নে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া এই সংজ্ঞায় বাকস্বাধীনতা চ্যালেঞ্জেরর মুখে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ব্রিটেনের মুসলিম পরিষদ (এমসিবি) রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা যে এপিপিজির সংজ্ঞা মেনে নেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন খান বলেন, ‘পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাছে থাকা তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি বলেন, বিষয়টি এমন হলে মুসলিম সম্প্রদার্য়ের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বাস্তবতা সত্যিই উদ্বেগজনক।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠনিক সংজ্ঞা প্রদানের আহ্বান জানায় এপিপিজির এমপিরা। থেরেসা মে সরকারও আনুষ্ঠারিক সংজ্ঞা অনুমোদনের চাপে রয়েছেন।
ইতোমধ্যে এই সংজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লেবার পার্টি ও লিবারের ডেমোক্রেটের মতো বিরোধী দল। সমর্থন দিয়েছে লন্ডন মেয়রের দফতরও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী ৫২ শতাংশ হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক হামলাই হয়েছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। এপিপিজি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা না থাকায় এটি  মোকাবিলয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায় এবং পুরো ব্রিটেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞার উদ্দেশ্য কখনোই বাকস্বাধীনতার হরণ কিংবা ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সমালোচনা করা ছিলো না।
কোনও উন্মুক্ত সমাজেই ধর্ম সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আমরাও মনে করি না ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞার কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে গাঠনিক সমালোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।
চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাজ্য সরকারের সামনে ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা উপস্থাপন করবেন একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী। তবে সেটা গ্রহণ করা হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, এপিপিজির সংজ্ঞা সবাই গ্রহণ করেনি। এটাতে আরও কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম কিংবা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

৫৯ এলাকার পানি দূষিত: হাইকোর্টে ওয়াসার প্রতিবেদন

রাজধানী ঢাকার ৫৯টি এলাকার ওয়াসার পানি বেশি দূষিত। ওয়াসার পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যদিও এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসা এমডি তাকসিম এ খান ওয়াসার শতভাগ পানি সুপেয় দাবি করেন। এরপরই বিভিন্ন এলাকার পানি নিয়ে ওয়াসা এমডিকে শরবত খাওয়ানোর অভিনব কর্মসূচি পালন করেন গ্রাহকরা।
গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে বলা হয়, গত তিন মাসে ঢাকার ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৯টি এলাকার ১০টি  জোনের পানি বেশি দূষিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসার দেয়া প্রতিবেদন বৃহষ্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ঢাকার ১০টি জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জোনগুলো হলো- ১ নম্বর জোন : যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মান্ডা, ধোলাইরপার ও মাতুয়াইল। ২ নম্বর জোন : বাঘলপুর, লালবাগ, বকশিবাজার ও শহীদনগর। ৩ নম্বর জোন: জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি ও মোহাম্মদপুর। ৪ নম্বর জোন : শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর। ৫ নম্বর জোন : মহাখালী ও তেজগাঁও। ৬ নম্বর জোন : সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরিবাগ। ৭ নম্বর জোন : কদমতলী, দনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর ৮ নম্বর জোন : বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা। ৯ নম্বর জোন : উত্তরা, খিলক্ষেত, মোল্লারটেক ও রানাগোলা। ১০ নম্বর জোন : কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত তিন মাসে ঢাকা ওয়াসার হটলাইন নম্বরে (১৬১৬২) প্রতিষ্ঠানটির অনিরাপদ পানির বিষয়ে ২৯২ টি অভিযোগ এসেছে। এদিকে ওয়াসার এমডির বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়- এমন উল্লেখ করে তিনি যেন গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী তানভীর আহমেদ। গত ২০শে এপ্রিল ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। পরে তার এ বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা শুরু হয়। আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ওয়াসার এমডি দাবি করেছিলেন তাদের পানি শতভাগ বিশুদ্ধ। কিন্তু তাদের প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে ঢাকার ৫৯টি এলাকার পানি অনিরাপদ। তিনি বলেন, ওয়াসার এমডির বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এজন্য তিনি যাতে গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। আদালত আবেদনটি নথিভূক্ত করে রেখেছেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় ওয়াসার পানির ১ হাজার ৬৫টি নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষা করতে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন এলাকার পানির ব্যাকটারোলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য ৫০ লাখ এবং ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ২৫ লাখসহ মোট ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয় হবে। আদালত এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের (মাইক্রোবায়োলজি) চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে মতামত দিতে বলেছে। আগামী ২১শে মে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে হাইকোর্টে এসে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ১১ই অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ অপরিচ্ছন্ন এবং অনিরাপদ উৎসের পানি পান করছে এবং পানির নিরাপদ বিবেচিত উৎসগুলোর ৪১ শতাংশই ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত। আর ১৩ শতাংশে রয়েছে আর্সেনিক। এরপর নিরাপদ পানির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। গত বছরের ৬ই নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিসহ ওয়াসার পানির মান পরীক্ষায় ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেয়।

ভুয়া বিয়ের ফাঁদ! পাকিস্তানে ১১ চীনা নাগরিক জেলে

চীনে ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ। এই সংখ্যাটি পুরো মালয়েশিয়ার জনসংখ্যারও বেশি। এসব পুরুষ ভবিষ্যতে হয়তো কখনো বিয়েই করতে পারবেন না। কারণ, তারা জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাত্রী খুঁজে পাবেন না দেশের ভিতরে। এ অবস্থায় সেখানে নারীর চাহিদা তীব্র। এ জন্যই হয়তো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীদের দিকে চোখ পড়েছে সেদেশের কিছু পুরুষের। তারা ওইসব দেশের নারীদের বিয়ে ফাঁদে ফেলছে। তারপর তাদেরকে নিয়ে চীনে পৌঁছানোর পর বেরিয়ে আসছে আরেক রূপ। ওইসব নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনই বেশ কতগুলো ঘটনা ধরা পড়েছে পাকিস্তানে। বিয়ের ফাঁদে ফেলে যুবতীদের চীনে নেয়ার অভিযোগে সেদেশের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চীনের ১১ জন নাগরিককে বিচার বিভাগীয় রিমান্ডের অধীনে জেলে পাঠিয়েছে সোমবার। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিকে (এফআইএ) তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
এতে বলা হয়, যুবতী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ওই ১১ চীনা নাগরিক হলেন হোংফা ইয়াং, লিবিয় লিউ, বো ওয়াং, চুয়ানজিয়া লিউ, গোংঝে হি, তিয়ানি লিউ, ফেং সু ইয়াং, চ্যান ইয়েন, সোং গুওকিয়ান, লিও এবং ওয়েই লিনপিং। এফআইএর অভিযোগ, অভিযুক্ত এসব চীনা নাগরিক পাকিস্তানি যুবতীদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের চুক্তি করে। এক্ষেত্রে তারা স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেয়। বিয়ের নাটক সাজায় তারা। তারপর ওইসব যুবতীকে চীনে নিয়ে যায়। সেখানে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করে। এ ছাড়া ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অঙ্গহানী করে তা দিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগ আছে।
এসব ব্যক্তিকে দু’দিনের রিমান্ডে দেয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাদেরকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এ সময় আদালতকে বলেন, অভিযুক্তদের আর নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের কাছ থেকে আর কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমন বক্তব্যের জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট আমির রাজা বিত্তু তাদেরকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় রিমান্ডের অধীনে জেলে পাঠান। অন্যদিকে যথাসময়ের মধ্যে চালান জমা দিতে নির্দেশ দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।
ওদিকে লু ইয়াফ ও কয়েকজন চীনা নাগরিক লাহোর হাইকোর্টে এফআইএ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন আইনজীবীর মাধ্যমে। তাদের এ আবেদন গ্রহণ করেন বিচারপতি সরদার আহমেদ নাঈম। এই আদালতে লু ইয়াফ ও অন্যরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি করেন যে, তারা বৈধ ব্যবসায় ভিসায় পাকিস্তান গিয়েছেন। আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে ভুয়া বিয়ের কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে দেয়ার পর থেকেই এফবিআই ও পুলিশ তাদেরকে হয়রান করছে। তিনি বলেন, আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইন প্রয়োগকারীরা এবং তারা তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এই আবেদনে তার মক্কেলদের যেন আইন প্রয়োগকারীরা হয়রান না করেন এমনটা দাবি করেছেন ওই আইনজীবী।
কিন্তু লু ইয়াফের আইনজীবীর এই আবেদনের বিরোধিতা করেছেন একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, দেশের নাগরিক ও বিদেশী সবার জন্যই সমান পাকিস্তানের আইন। তিনি আদালতকে নিশ্চয়তা দেন যে, চীনা নাগরিকদের হয়রান করা হয় নি। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে আইন প্রয়োগকারীরা। এ সময় আইন প্রয়োগকারীদের আইন অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়ে ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক।
ওদিকে লাহোরের একজন যুবতী বিয়ে করেছেন এক চীনা নাগরিককে। তিনি বলেছেন, তার স্বামী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার পরিচয়পত্র কেন ইস্যু করা হচ্ছে না সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির কাছ থেকে জবাব চান বিচারপতি শাহিদ করিমের মাধ্যমে। ওই নারীর নাম আসিফা শাহজাদি। তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে বলেন, তিনি চীনা নাগরিক ওয়াং ফাই’কে বিয়ে করেছেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর নাম দেয়া হয়েছে আবদুল রশিদ। শাহজাদী বলেন, তিনি তার বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামীর নাম উল্লেখ করে পরিচয়পত্র চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু তাকে তা দেয়া হচ্ছে না। তার স্বামীর পক্ষে যে ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে তা তারা মানছে না।

বিরোধীদের একজোট করতে এবার মাঠে নামলেন সোনিয়া গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ শেষ দফা নির্বাচনের আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা তিন শতাধিক আসন পাচ্ছেন এবং মোদীই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিরোধী দলগুলির মতে, বিজেপির দিন শেষ। দুশোর কাছাকাছি আসনও বিজেপি পাবে না বলেই মমতার মতো নেত্রীরা মনে করছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘মোদী এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী’। তবে মোদীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট এনডিএ যাতে ক্ষমতা থেকে দূরে থাকে সেজন্য এবার সবাইকে নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা গোলাম নবী আজাদ বৃহস্পতিবার পাটনায় সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এনডিএকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে কংগ্রেস কাজ করে যাবে।
বিরোধীরা যদি কংগ্রেসকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দিতে না চায় তাতেও কংগ্রেস আপত্তি জানাবে না। বরং ঐক্যমতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের শরিক হবে কংগ্রেস। কয়েকদিন ধরে  অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু ঘুরে ঘুরে ফল প্রকাশের আগেই সব বিরোধী দলকে নিয়ে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু কলকাতায় গিয়ে মমতার সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলেও রাষ্ট্রপতি যাতে বৃহত্তম বিরোধী জোটকেই ডাকেন, তার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে রাখা দরকার। কিন্তু মমতা ও মায়াবতীর মতো নেত্রীরা ফল প্রকাশের আগে এই ধরণের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে না বলে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান চন্দ্রশেখর রাও তার পুরনো ফেডারেল ফ্রন্ট তত্ত্বকে সামনে রেখে অবিজেপি এবং অকংগ্রেসি আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করে প্রথমেই হোঁচট খেয়েছেন। কেরালার সিপিআইএম নেতা বিজয়ন এবং তামিলনাডুর ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোন সদর্থক সাড়া পান নি। সবাই কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েই চলার পক্ষপাতী। আসলে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলালে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসকে জমি ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই নিজের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির সঙ্গে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস, আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এমআইএম-কে নিয়ে একটি জোট তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য চন্দ্রশেখরের দল বলেছে, কংগ্রেস যদি বিরোধী জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দেয় তবে তা মেনে নেওয়া হবে।
তবে সবাই ফল প্রকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। বিরোধীরা কতগুলি আসন পাবে তার উপর নির্ভর করছে সব কিছু। তবে বিরোধী দলের নেতাদের মতে, এনডিএ এবার সরকার গঠনের ম্যাজিক সংখ্যা ২৭২-এ পৌঁছাতে পারবে না। সেখানে বিরোধীদের জোটবদ্ধভাবেই রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে হবে। সেই জোট বন্ধনের কাজটাই শুরু করে দিতে মাঠে নেমেছেন সোনিয়া গান্ধী। ইতিমধ্যেই  ইউপিএ-সভানেত্রী হিসেবে সোনিয়া গান্ধী  ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর), নবীন পট্টনায়ক, জগমোহন রেড্ডি-র মতো অ-কংগ্রেসি, অ-বিজেপি দলের নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই দলগুলি এক সময় বিজেপির সঙ্গী ছিল প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, সোনিয়ার হয়ে কংগ্রেসের শীর্ষনেতারা আঞ্চলিক দলগুলির নেতাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ নিজে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে মমতার মতোই নবীন, কেসিআর বা জগমোহন ওই বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তার সবটাই নির্ভর করছে ভোটের ফলের উপরে। এক প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্গভি বলেছেন, এই সব কথাবার্তা লোকসভা ভোটের সময় হবে না তো, কখন হবে ? কংগ্রেস কেন, সকলেই এই বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন, আলোচনা করছেন। ভোটের ফলের পরে ২৪ ঘণ্টার একটা প্রক্রিয়া থাকে।

ভারত সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে চীন

চীনের বিপ্লবী বিমান বাহিনী ভারত সীমান্তে তাদের কার্যক্রম ও শক্তি বৃদ্ধি করছে। ভারত সীমান্ত থেকে কাছে অবস্থিত মালান বিমান ঘাঁটি থেকে দেশটি ডিভাইন ইগল জেট বিমান পরিচালনা করছে। অপরদিকে আরেক বিমান ঘাঁটি হোপিং থেকে এইচ-৬কে বোম্বার বিমান উড়াতে দেখা গেছে। চীন ভারত থেকে একদম কাছে অবস্থিত এসব ঘাঁটি থেকে নিজের আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ।
তাদের খবরে বলা হয়েছে, চীন এই দুই বিমানঘাঁটিতে ভয়ঙ্কর ডিভাইন ইগল জেট ও বোম্বার বিমান মোতায়েন করেছে। ডিভাইন ইগল জেট বিমানটি বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান হিসেবে খ্যাত। এটি লম্বায় ১৫ মিটার এবং ডানাগুলো লম্বায় প্রায় ৩৫-৪৫ মিটার। এটি মার্কিন এফ-২২ ও এফ-৩৫ এর মতো স্টিলথ বিমানগুলোকে শনাক্ত করতে সক্ষম। অপরদিকে সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নের টুইন ইঞ্জিন মাঝারি পাল্লার বোম্বার বিমান টিইউ-১৬ এর একটি নতুন ভার্সন হচ্ছে চীনের এইচ-৬কে বোম্বার বিমান। তবে এটি এখন দূরপাল্লার বোম্বার হিসেবেও কাজ করে এবং যেকোনো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
তিব্বতের হোপিং বিমানঘাঁটিতে এই এইচ-৬কে বোম্বার দেখা গেছে। এটিভারতের সিকিম সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া শিনজিয়াং প্রদেশের মালান ঘাঁটিতে ডিভাইন ইগল মোতায়েনও ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জি নিউজকে বলেছেন, ভারত সবসময়ই চীনের সঙ্গে ভালো সমপর্ক চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশই নিজের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করতে চায়। কিন্তু চীন যেভাবে তিব্বত ও শিনজিয়াং-এ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগের।
ভারত ও চীনের মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্বের দীর্ঘ ইতিহাস। দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধও হয়েছে একবার। তবে নিকট ইতিহাসে চীন-ভারত সমপর্ক কেবল উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৭ সালে দোকলাম নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের উপক্রম হয় চীনের। সে উত্তেজনা কালক্রমে কমে এলেও চীন ভারত সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বন্ধ করেনি। চীনের সেনাবাহিনী গত দুই বছরে ভারত সীমান্তে অনেকগুলো নতুন সামরিক ক্যামপ নির্মাণ করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ থেকে মাত্র ৯০০ কিলোমিটার দূরেই চীন গোপনে ইয়োশি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া নতুন তৈরি ঘাঁটিগুলোতে ভারতকে মাথায় রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চীন।

কিশোর গ্যাংয়ের টার্গেট মিস: খুন হয় রিকশাচালক!

গ্রেফতাররা হলেন, শিমুল দাশ (২০), তানভির হোসেন প্রকাশ সিফাত (১৮), মো. সুজন প্রকাশ মধু (১৮), মো. রাকিব হোসেন প্রকাশ শাহ রাকিব (১৮), মো. নুর নবী (১৮), মেহেদী হাসান রুবেল (১৮), ওসমান হায়দার কিরণ (১৮) ও সেলিনা আক্তার শেলী (৪৫)।
খুন করার কথা মফিজুর রহমানকে। কিন্তু টার্গেট মিস করায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো রিকশাচালক রাজু। এমন তথ্য জানালেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার সোহেল কলোনিতে সংঘটিত রিকশাচালক রাজু হত্যা মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের সবাই মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরিকল্পিতভাবে জনৈক মফিজুর রহমানকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে রাজুকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। এমনকি এই হত্যাকাণ্ডে সাত কিশোর সরাসরি অংশ নেয় বলে জানায়।
এ ছাড়া এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশ দাতা হিসেবে ছগির নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে আসে। ছগির হাজীপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। মাদকসেবী কিশোরদের গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাদক বিক্রিতে ছগিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো মফিজুর। গত ২৭শে এপ্রিল ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ছগির। গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছগির তার সহযোগী মফিজুরকে সন্দেহ করে। এ কারণে মফিজুরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে।
আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে শিমুল, শুক্কুরসহ চারজনকে জেল গেটে ডেকে নেয় ছগির। সেখানেই শিমুল শুক্কুরদের নির্দেশ দেয় মফিজুরকে হত্যা করতে। এ বিষয়ে দফায় দফায় কারাগারে গিয়ে ছগিরের সঙ্গে পরামর্শ করে তারা।
চূড়ান্ত পরিকল্পনাটি হয় ১৩ই মে সন্ধ্যায় ছগিরের বাসায়। সেখানে ছগিরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার শেলী (৩০) ও ছেলে কিরণ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে। আলোচনা শেষে মা ও ছেলে মফিজকে মেরে ফেলার জন্য শুক্কুরকে ১ হাজার টাকাসহ কিরিজ, চাইনিজ কুড়াল ও ছুরি দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মফিজকে হত্যা করতে ১৪ই মে ফজরের নামাজের পর তার ভাড়া ঘরে যায় শিমুল, শুক্কুর, রাকিব, সিফাত ও সুজন। এ সময় বাইরে থেকে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব পরে নুরনবী ও রুবেলের ওপর। হত্যার সময় যাতে আশেপাশের ঘরগুলোর কেউ বাধা দিতে না পারে এজন্য পাশের সব ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় তারা। কিন্তু এ সময় তারা মফিজের ঘরে প্রবেশ করার পরিবর্তে ভুল করে তার পাশে রাজুর ঘরে প্রবেশ করে। অন্ধকারে রাজুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা। পরে আশেপাশের লোকজন এসে রাজুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে রাজু এই হামলায় ছগিরের ছেলেদের সমপৃক্ততার কথা বলে যায়। তার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে এ খুনের সঙ্গে সমপৃক্ত ১০ জনের আট জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, কিরিছ ও চাইনিজ কুড়ালও উদ্ধার করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত ১৪ই মে নগরীর হাজীপাড়া সোহেল কলোনির নিজ ঘরে খুন হয় রিকশাচালক রাজু। পরদিন সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজুর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এরপর একদিনেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শিমুল দাশ (২০), তানভির হোসেন (১৮), মো. সুজন (১৮), মো. রাকিব হোসেন (১৮), মো. নূর নবী (১৮), মেহেদী হাসান রুবেল (১৮), ওসমান হায়দার কিরণ (১৮) ও সেলিনা আক্তার শেলী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শিমুল দাশ (২০), তানভির হোসেন প্রকাশ সিফাত (১৮), মো. সুজন প্রকাশ মধু (১৮), মো. রাকিব হোসেন প্রকাশ শাহ রাকিব (১৮), মো. নুর নবী (১৮), মেহেদী হাসান রুবেল (১৮), ওসমান হায়দার কিরণ (১৮) ও সেলিনা আক্তার শেলী (৪৫)।

সেই শিশুটি এখন ছোটমণি নিবাসে: দত্তক নিতে চান অনেকে

ঢাকা শিশু হাসপাতালের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যা শিশুকে গতকাল দুপুরে আজিমপুর ‘ছোটমণি নিবাস’ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, হাসপাতালে পাওয়া শিশুটি সুস্থ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের কমন শৌচাগার থেকে সাত থেকে আট দিন বয়সী এই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে রেখে যায় তা বলতে   পারছে না কেউ। তাকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ আজিমপুর ছোটমনি নিবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তিনদিন ধরে শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার রাসেল ও তার স্ত্রী লালন-পালন করেছেন। তাদের সেবা-যত্নে শিশুটি সুস্থ। তারা বাচ্চাটি দত্তক নিতে চান। পাশাপাশি শিশুটির দায়িত্ব নিতে সমাজের অনেকেই ছুটে এসেছেন। যেহেতু শিশুটি হস্তান্তরে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে তাই আমাদের পক্ষে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। তাকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে শিশুটিকে ছোটমনি নিবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পারিবারিক আদালত বসিয়ে কাকে দত্তক দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গত তিনদিনে বিভিন্ন মহল থেকে শিশুটিকে দত্তক নিতে শতাধিক মানুষ আবেদন করেছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির কাছে শিশুটিকে তুলে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল দুপুরে শিশু হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, তিনদিন আগে এ হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার রাসেল ও তার স্ত্রী পলি শিশু হাসপাতালের ৩০১নং কেবিন ভাড়া করে শিশুটির লালন-পালন করেছেন। এ দম্পতি শিশুটিকে স্থায়ীভাবে পেতে চান। পলি বলেন, বাচ্চাটির জন্য আমার এখন যে মায়া এবং ভালোবাসা জন্মেছে সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। ওকে নেয়ার জন্য আমার স্বামী অনেক চেষ্টা করেছেন। গত ১৪ই মে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার আধাঘণ্টা পর থেকেই ও আমার কাছে। এ পর্যন্ত ওর যাবতীয় খরচ আমরা চালিয়েছি। ওকে পাওয়ার জন্য এবং নেয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। হাসপাতাল থেকে পাঁচ মিনিটের দুরত্বে আমাদের বাসা। অথচ গত কয়দিন ধরে আমার স্বামী এবং আমি হাসপাতালে এক কাপড়েই আছি।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি মানবজমিনকে বলেন, এর আগেও এভাবে বাচ্চা কুড়িয়ে পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই নবজাতকের মতো এতোটা সারা ফেলেনি। শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়ার পর বুধবার রাত ২টা ৫১ মিনিটে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই ‘মা, আমাকে নিয়ে যাও, তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না আমার’। এরপর থেকে গত দুই দিনে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় হাজারেরও বেশি ফোন কল পেয়েছি। কোনো এক মা বাচ্চাটিকে ফেলে গেলেও হাজার মা তার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। একাধিক এমপি ফোন করে তাদের পরিচিত স্বজনদের বাচ্চাটি দত্তক দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেছেন। বাংলাদেশের অনেক জেলা থেকে বাচ্চাটিকে দত্তক নেয়ার বিষয়ে ফোন পেয়েছি। আমেরিকা, লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাঙ্গালীরা ফোন দিয়ে বাচ্চাটি নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। গতকাল দুপুরে শিশুটিকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান ‘ছোটমনি নিবাস’ আজিমপুরে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল, পুরান ঢাকা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসছে দত্তক নেয়ার জন্য।
প্রকৃত বাবা মা’কে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আদালত যে ব্যক্তি বা পরিবারকে শিশুটির জিম্মাদার নির্ধারণ করবে তারাই তাকে পাবেন। তবে একটি অনুরোধ থাকবে যারাই দত্তক নিন না কেনো তারা যেন শিশুটিকে যথাযথভাবে লালন পালন করেন। তার প্রতি যেন কোনো অবহেলা না করা হয়। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ দেখে তার প্রকৃত অভিভাবকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগীতা আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরো সহজ করে দিতে পারে। 
গত মঙ্গলবার দুপুরে শিশু হাসপাতালের কমন বাথারুমে নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখে এক রোগীর দর্শনার্থী হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারকে বিষয়টি জানান। পরে নবজাতকটিকে দ্রুত উদ্ধার করে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়।

‘আমার সারা শরীর পোড়া, কেউ আর ধর্ষণ করতে পারবে না’

তীব্র যন্ত্রণা তার সারা শরীরে। মুখ বাদে পুরো শরীর ব্যান্ডেজে মোড়ানো। নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে টান টান শুয়ে আছেন সুনীতা (পরিবর্তিত নাম)। তার শরীরের ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। তবু কোনোমতে বেঁচে আছেন তিনি। মৃদুকণ্ঠে হাসপাতালের বিছানা থেকে তিনি বলেছেন, আমি মরতে চেয়েছিলাম। এই যন্ত্রণা কেউ সহ্য করতে পারবে না। এখন আমার সারা শরীর পোড়া। তাই ন্যূনতম কেউ আমাকে আর ধর্ষণ করতে চাইবে না এখন। বলতে বলতে সুনীতার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ক্ষত তাকে আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করেছিল। তাই ২৮ এপ্রিল উত্তর প্রদেশে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। কিন্তু মারা যান নি সুনীতা। আগুনে পোড়ার পর বাংলাদেশের ফেনির নুসরাতের মতো অবস্থা হয়েছে তার। তিনি নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে তার সঙ্গে কথা হয় টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিকের। সুনীতা শোনান তার বেদনার কাব্য। বলেন, তার পিতা ও এক ‘আন্ট’ মিলে তাকে ১০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দিয়েছিল। যার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়, সে ও অন্য কয়েকজনে মিলে ধর্ষণ করে সুনীতাকে। এ অভিযোগ নিয়ে তিনি উত্তর প্রদেশ পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ঠিক যেন নুসরাত জাহান রাফির মতো তিনিও পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
২৩ বছর বয়সী সুনীতার জীবনে দুর্দশা নেমে আছে জীবনের প্রথম দিকেই। তিনি মৃদুকণ্ঠে বলেন, আমার বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর তখন ২০০৯ সালে বাবা আমাকে বিয়ে দেন। আমার স্বামীর বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি কয়েক মাসের মধ্যে আমাকে ফেলে চলে যান। গতকালের রিপোর্টে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছিল, সুনীতার স্বামী মারা গেছেন- এ তথ্যটি ঠিক ছিল না বলে মঙ্গলবারের রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
সুনীতার স্বামী তাকে ফেলে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে বিক্রি করে দেয় তার পিতা, যাতে তিনি তার স্ত্রীর জন্য জিনিসপত্র কিনতে পারেন। যার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়, বলা হয়, সে সুনীতার দ্বিতীয় স্বামী। এ সম্পর্কে সুনীতা কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলেন, আমার দ্বিতীয় স্বামী ছিল একটা শয়তান। সে ও তার বন্ধুরা মিলে আমাকে বার বার ধর্ষণ করেছে। তারা মনে করেছে আমি বিপদগ্রস্ত। আমার কোনো যাওয়ার জায়গা নেই। কমপক্ষে ২০ জন আমাকে ধর্ষণ করেছে। তারা আমাকে এসিড মারার হুমকিও দিয়েছে।
কথা বলতে গিয়ে ব্যথার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় সুনীতার। তবু তিনি বেদনাভেজা কথাগুলো না বলে থাকতে পারেন না। তিনি জানান, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য তিনি কি পরিমাণ কঠোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি তা পান নি। সুনীতা বলেন, আমার পিতার কাছ থেকেও না, পুলিশের কাছ থেকেও নাÑ কারো কাছেই ন্যায়বিচার পাই নি। আমি আলাদা আলাদা অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সব সময়ই আমাকে বিমুখ করা হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আমি ঘুরেছি। কোনো এফআইআর নিবন্ধন করা হয় নি। তাই আমি নিরুপায় হয়ে পড়ি এবং জীবন বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই।  
সুনীতার দ্বিতীয় স্বামী তার পিতার বন্ধু। তার সম্পর্কে সুনীতা বলেন, সে আমাকে প্রতিদিন নিষ্পিষ্ট করতো। ধর্ষণ করতো। তার বন্ধুদের বাড়ির গৃহকর্ম করে দিতে বাধ্য করাতো। এতটুকু বলতে বলতে সুনীতি কথা হারিয়ে ফেলেন। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। তবু তিনি বন্ধু রিশাবের (পরিবর্তিত নাম) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, জীবনের সব দুঃখ বেদনার কথা তিনি শুধু বন্ধু রিশাবের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। 
এ সম্পর্কে রিশাব বলেন, সুনীতার পিতামাতা, দুই ভাই ও এক বোন তাকে অস্বীকার করতো। এমন কেউ ছিল না, যার সঙ্গে সুনীতা তার কষ্টের কথা বলতে পারতো। এ সময়টাতে সে আমাকে সবচেয়ে কাছের করে পেয়েছে। একজন বন্ধু হিসেবে নিয়েছে। একজন পার্টনার হিসেবে নিয়েছে। তাকে ছেড়ে যাওয়ার আমার কোনো পথই নেই। রিশাব বলেন, তার তিনটি সন্তান আছে। প্রথমটির পিতা সুনীতার প্রথম স্বামীর। দ্বিতীয়টির জন্মদাতা তার দ্বিতীয় স্বামী। আর তাকে যেসব পুরুষ ধর্ষণ করেছে, তাদের একজন সুনীতার তৃতীয় সন্তানের পিতা। রিশাব বলেন, ওই তিনটি সন্তান তার দ্বিতীয় স্বামীর কাছে ছিল। তিনি তাদেরকে তার কাছে রেখেছেন যাতে সুনীতা তার কাছে ফিরে যান।
উত্তর প্রদেশের হাপুরের এ ঘটনা পুরো ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সুনীতা আত্মহত্যা করতে গিয়ে নিজের গায়ে নিজে আগুন দিয়েছেন। অগ্নিদগ্ধ সুনীতাকে বাঁচাতে এরই মধ্যে দুটি হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে নেয়া হয়েছে দিল্লিতে। বলা হয়েছে, তিনি স্থিতিশীল আছেন। তবে তার সঙ্কটজনক অবস্থা তার। রিশাব বলেন, সুনীতার এই বেদনা, ক্ষতের জন্য পুরোটাই দায়ী তার পিতা। তিনি অপেক্ষা করছেন সুনীতা সুস্থ হয়ে ফিরুন। তারপর তিনি তালাক দেবেন দ্বিতীয় স্বামীকে। এরপরেই তাকে বিয়ে করবেন তিনি।
তবে এফআইএর বলা হয়েছে, সুনীতা ও রিশাব এরই মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সেই বিয়ে রেজিস্টার্ড হয়েছে এ বছর ২২ এপ্রিল।

ছাত্রলীগ নেতাদের ডোপ টেস্ট করানোর দাবি: বিতর্কিত ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ

ছাত্রলীগের নব গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বিতর্কিত ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে পদবঞ্চিত নেতারা। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে বিতর্কিত সবাইকে সংগঠন থেকে বিতাড়নের দাবি জানান। পদবঞ্চিতদের ভাষায় এরা সংগঠনের টিউমার, যা এক সময় ক্যান্সারে পরিণত হবে। এদিকে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে আবারো মাদকাসক্ত দাবি করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ডোপ টেস্ট করানোর দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হতে পারে না।
ছাত্রলীগ আদর্শের সংগঠন, অপকর্মকারীদের অভয়ারণ্য নয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে গত ১৩ই মে মধুর ক্যান্টিনে পদ বঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও নারী লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু। নবগঠিত কমিটিতে স্থান পাওয়া বিবাহিত, বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সন্তান, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, সাবেক পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, জসিম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীনসহ শতাধিক পদবঞ্চিত নেতা। সাইফউদ্দিন বাবু বলেন, তিনদিন আগে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে, যা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। সেসব ত্রুটির বিরোধিতা করে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু সেদিন আমাদের ভাই-বোনদের মেরে জখম করা হয়েছে।
অনেককে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগে প্রত্যেক নেতাকর্মীর কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। পদ-পদবী পাওয়ার পর একজন কর্মী যেমন আনন্দ-উল্লাস করতে পারে, তেমনি দীর্ঘদিন পর গঠিত কমিটিতে পদায়ন না হলে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে একটি অর্থবহ ও সুন্দর কমিটি উপহার দেয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছিলাম। প্রাণপ্রিয় নেত্রী ইতোমধ্যেই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার যে কোনো সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। তবে, কমিটি পুনর্গঠনের নামে যদি ফের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করা হয়, তাহলে এর যথোপযুক্ত জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। সাইফ বাবু বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বারবার একটি কথাই বলেন যে, ছাত্রলীগের কমিটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণের পরও যদি তারা ১৭ জনের নাম পায়, তাহলে আরেকটু বিশ্লেষণ করলে সেটা একশর বেশি হতে পারে। তাই বিতর্কিত ১৭জন নয়, আরও বেশি হবে। ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও মাদকাসক্ত আপনাদের এ তথ্যের সত্যতা কি’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, গোলাম রাব্বানী যে মাদকাসক্ত এমন অনেক ভিডিও ইউটিউবে আছে। আমাদের কাছেও সব তথ্য প্রমাণ আছে। তিনি বলেন, আমরা সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ডোপ টেস্ট করানোর দাবি করছি।
বিতর্কিত ৯৯ জনের তালিকায় যারা
এদিকে পদবঞ্চিতদের প্রকাশিত ৯৯ জনের তালিকায় সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ২৮ জন। তারা হলেন- তানজিল ভূইয়া তানভীর (বয়স উত্তীর্ণ ও ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত, সম্মেলনের সময় বয়স ২৯ বছর ৬ মাস ১৭দিন), রেজাউল করিম সুমন (চাকুরীজীবী ও মাদকাসক্ত), আরেফিন সিদ্দিক সুজন (মাদক ব্যবসায়ী, সূর্যসেন হলের  তার নিজ কক্ষ ৩১৫ রুম থেকে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে মাদক উদ্ধার করা হয় এবং রুম সিলগালা করা হয়। তার পিতা মাদারীপুর এর পাচখোলা ইউনিয়নের জামায়াতের আমির ছিলেন), আতিকুর রহমান খান (মাদকাসক্ত ও অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিল), বরকত হোসেন হাওলাদার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার), আবু সালমান প্রধান শাওন (মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়), শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ (মাদকাসক্ত ও মাদকের মামলা রয়েছে), ফুয়াদ রহমান খান (বয়স উত্তীর্ণ ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত), সাদিক খান (বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত), তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী (বিএনপি ও জামায়াতঘেষা পরিবারেরর সন্তান), এসএম তৌফিকুল হাসান সাগর (পিতা যুদ্ধাপরাধী), তৌহিদুর রহমান হিমেল (ঠিকাদার ব্যবসা), মাহমুদুল হাসান (জামায়াত পরিবারের সন্তান), সৃজন ভূইয়া (চাকুরীজীবী অগ্রণী ব্যাংক), তৌহিদুর রহমান পরশ (জীবনের প্রথম পদ), কামাল খান (কোটা আন্দোলনকারী), আবু সাইদ (সাস্ট, ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার ও শিক্ষককে অপমান করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত), খালিদ হাসান নয়ন (বয়স উত্তীর্ণ ও মেডিকেলের প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ও ডাকাতি মামলার বর্তমান আসামি), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং ৬টি মামলার আসামি), রুহুল আমিন (সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিবাহিত), সোহানী হাসান তিথি (একাধিকবার বিবাহিত), মাহমুদুল হাসান তুষার (শিবির কর্মী), এসএম হাসান আতিক (৩৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ও বিবাহিত), সুরঞ্জন ঘোষ (বয়স উত্তীর্ণ), জিয়ান আল রশিদ (ব্যবসায়ী, গ্লোব কোম্পানীর পরিচালক), সোহেল রানা (বয়স উত্তীর্ণ ও প্রথম পদ), মুনমুন নাহার বৈশাখী (বিবাহিত ও জামায়াত পরিবারের সন্তান), তরিকুল ইসলাম (চার্জশিটভুক্ত ছয়টি মামলার আসামি ও নিয়োগ বাণিজ্য প্রতারণা)। তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন- প্রদীপ চৌধুরী (নকলের দায়ে ঢাবি থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার ও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আগুন ভাঙচুর), শাকিল ভূইয়া (পিতা খোকন ভূইয়া মাদারীপুর পৌর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক), মোর্শেদুল হাসান রুপম (ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন)। সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম (রাজাকার পরিবারের সন্তান, যৌন হয়রানিকারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত), উপ-প্রচার সম্পাদক সিজাদ আরেফিন শাওন (বিবাহিত ও সন্তান রয়েছে), উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বিন মুন্সি (কোটা আন্দোলন এর সংগঠক, বঙ্গবন্ধু হল) উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সৌরভ নাথ (লুবনান থেকে চাঁদাবাজির দায়ে ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি), উপ-সাংস্কিৃতিক সম্পাদক আফরীন লাবনী (একাধিক বিবাহিত), উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান (বয়স উত্তীর্ণ, মাদকব্যবসায়ী), উপ-পাঠাগার সম্পাদক রুশী চৌধুরী (বিবাহিত), ধর্ম সম্পাদক তাজউদ্দিন (শিবির এর অর্থ সম্পাদক), উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক মনিরুজ্জামান তরুণ (প্রথম পদ), উপ-ত্রান ও দুর্যোগ সম্পদক সালেকুর রহমান শাকিল (প্রথম পদ), উপ-স্বাস্থ সম্পাদক ডা. শাহজালাল (প্রথম পদ ও সাবেক শিবিরকর্মী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের প্রেস রিলিজে আছে), উপ-গণযোগাযোগ সালাউদ্দিন জসিম (ওয়ারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর প্রচার সম্পাদক (বিবাহিত), সুশোভন অর্ক (উপ-গণযোগাযোগ, চাকুরিজীবী, বাংলাট্রিবিউন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার), আসিফ ইকবাল অনিক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক, বিবাহিত), মো. তুষার (উপ- বেসরকারী, প্রথম পদ), রাকিবুল ইসলাম সাকিব (উপ-বেসরকারি, বিবাহিত), শাহরীয়ার মাহমুদ রাজু (উপ-আপ্যয়ন, জসিমউদ্দিন হলের ৩২১নং রুম থেকে ইয়াবা সেবনকালে হল প্রোভোস্টের সহায়তায় পুলিশে সোপর্দ), হিরণ ভুইয়া (উপ-মানবসম্পদ, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিস্কৃত), এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু (কৃষি সম্পাদক, বিবাহিত), অভিমুন্য বিশ্বাস অভি (উপ-কর্মস্‌ংস্থান, ইউনানী ঔষধ ব্যবসায়ী), জাফর আহমেদ ইমন (সহ-সম্পাদক, ছাত্রদল নেতা, প্রথম পদ), তানভীর আব্দুল্লাহ (সহ-সম্পাদক, ব্যবসায়ী/প্রথম পদ), সামিহা সরকার (সহ-সম্পাদক, পিতা- গাজিপুর সিটি কর্পেরেশনের বিএনপি মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বিবাহিত), ফারজানা ইসলাম রাখি (সহ-সম্পাদক, বিবাহিত), তামান্না তাসনিম তমা (সহ-সম্পাদক, বিবাহিত/প্রথম পদ), মোঃ মেহেদী হাসান রাজু (সহ-সম্পাদক, এসআই পরীক্ষার প্রক্সি দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক এবং সাজাপ্রাপ্ত), আঞ্জুমান আরা অনু (সহ-সম্পাদক, বিবাহিত, প্রশ্নফাঁস জালিয়াতের সঙ্গে জড়িত), আসিফ রায়হান (সহ-সম্পাদক, পিতা-৬নং গুপ্তি ইউনিয়ন, চাঁদপুর বিএনপির সভাপতি), শফিকুল ইসলাম কোতয়াল (সহ-সম্পাদক, ১ম পদ), শেখ আরজু (সহ-সম্পাদক, বিবাহিত), ফয়সাল করিম দাউদ খান (সদস্য, ১ম পদ), আল ইমরান (উপ-কর্মসংস্থান, বাবা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, প্রথম পদ), ওয়াহিদুজ্জামান লিখন (উপ-আন্তর্জাতিক, ১ম পদ), সোহেল রানা সান্ত (সহ-সম্পাদক, আজীবন বহিস্কার), বেলাল মুন্না (উপ-মানব, বিবাহিত) মেসকাত হোসেন (উপ-প্রশিক্ষন, সাংবাদিকদের রুম ভাংচুর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ বছরের জন্য বহিস্কার), শহিদুল ইসলাম (সহ-সভাপতি, সাবেক চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত), ফরহাদ হোসেন তপু (সহ-সভাপতি, বিবাহিত) তানজীদুল ইসলাম শিমুল (সহ-সভাপতি, বিগত চার থেকে পাঁচ বছর ছাত্রলীগের কোন মিছিল মিটিং এ দেখা যায়নি), সোহানুর রহমান সোহান (সাংগঠনিক সম্পাদক, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পূর্বে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। মাদকাসক্ত ও মাদকব্যবসায়ী), আরিফ শেখ (উপ-প্রচার, পুলিশের কাছে মাদকসহ আটক), বায়েজিদ কোতয়াল (উপ-ক্রীড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত), মহসিন খন্দকার (উপ-অর্থ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদকের বাসার দেখাশোনা করে), রাকিনুল হক চৌধুরী (আন্তর্জতিক সম্পাদক, সভাপতির আপন ভাই), রনি চৌধুরী (সহ-সম্পাদক, মুন্সিগঞ্জ এর কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ হাওলাদার এর হত্যা মামলার আসামি), এম সাজ্জাদ হোসেন(সহ-সভাপতি, ছাত্রলীগের প্রথম পদ ও বিবাহিত), এস এম মাহবুবুর রহমান সালেহী (উপ-আন্তর্জাতিক, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রীয়), ওমর ফারুক পাংকু (সহ-সম্পাদক, বিএনপি পরিবার, আপন চাচা শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, বাবা শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি), আলিমুল হক (সহ-সভাপতি, পহেলা বৈশাখের কনসার্টে অগ্নি সংযোগকারী।বড় ভাই মঞ্জিল হক শুনই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা), মোঃ রাকিব হোসেন (অর্থ সম্পাদক, আপন বড় ভাই রাজু আহমেদ সহ-সভাপতি, নড়ীয়া উপজেলা ছাত্রদল, মামা এ্যাডভোকেট হেলাল আকন্দ শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), শফিউল ইসলাম সজিব (উপ-স্বাস্থ্য, ৩৯ তম বিসিএসের সহকারী সার্জন হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত, ছাত্রলীগের প্রথম পদ), মাজহারুল ইসলাম মিরাজ (সহ-সভাপতি, বিএনপি পরিবারের সন্তান), রাকিব উদ্দিন (সহ-সভাপতি, ঠিকাদার) নাজিম উদ্দিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পূর্বে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে), রেজাউল করিম (সহ-সম্পাদক, বিবাহিত, বয়সউত্তীর্ণ ও মাদক মামলা আছে), ফেরদৌস শাহরিয়ার নিলয় (উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগসম্পাদক, বিএনপি পরিবার), নিলায়ন বাপ্পী (উপ-প্রচার, বিবাহিত),  মোমিন শাহরিয়ার (উপ-দপ্তর, মামলার আসামী), মাজহারুল কবির শয়ন (উপ-নাট্য বিতর্ক, কোটা আন্দোলনকারী), নাজমুল হুদা সুমন (উপ-গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন, বিবাহিত), রবিউল ইসলাম হাসিব মীর (উপ-কৃষি শিক্ষা, ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ আছে), ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি (সদস্য, সাবেক চাকুরিজীবী), জাভেদ হোসেন (পাঠাগার সম্পাদক তার বাবা জামায়াত করে, চাচা কুমিল্লার লাঙ্গল কোট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ (আইন সম্পাদক, বিবাহিত), সালেকুর রহমান শাকিল (উপ-ত্রান ও দুর্যোগ, পিতা- ভুরুঙ্গামারি উপজেলার বিএনপির মৎস বিষয়ক সম্পাদক), আরিফ হোসেন (বিএনপি পরিবারের সন্তান), শফিউল ইসলাম সজিব (উপ-সাস্থ্য, বিএনপি পরিবারের সন্তান), তৌহিদুল ইসলাম জহির (সহ-সভাপতি, পিতা-ইদ্রিস চৌধুরী শোভন ডন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি, মেজভাই গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী পুটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। মাতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্ট ছিল)।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় বিতর্কিত ১৭ জন
এদিকে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর কমিটিতে জায়গা পাওয়া বিতর্কিতদের নিয়ে যাচাই বাছাই করেছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। গত বুধবার রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে ১৭ জনের নাম পেয়েছি। যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের প্রমাণ করতে হবে তারা নির্দোষ। অন্যথায় তাদের পদগুলো শূণ্য ঘোষণা করা হবে। আর যোগ্যতার বিচারে পদবঞ্চিতদের এসব পদে পদায়ন করা হবে। এসময় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বিতর্কিত ১৭ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। এ তালিকায় রয়েছেন- সহ সভাপতি আরেফিন সিদ্দিকি সুজন ও আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। আর শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে সহ সভাপতি বরকত হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। কমিটিতে স্থান পেলেও বয়সসীমা পার হয়েছে সহ সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ ও তানজীল ভূঁইয়া তানভীরের।
সংগঠনের নীতি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে সহ সভাপতি শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের বিরুদ্ধে। সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে চেতনা ধারণ করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া পরিবারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে সহ সভাপতি তৌফিক হাসান সাগরের বিরুদ্ধে। এছাড়া, কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নামে মামলা রয়েছে। চাকরি করছেন দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব। এছাড়া কমিটিতে পদ পাওয়াদের মধ্যে বিবাহিত বলে অভিযোগ এসেছে সহ সভাপতি সাদিক খান, সোহানী হাসান তিথি, উপ সম্পাদক রুশি চৌধুরী, মুনমুন নাহার বৈশাখী এবং আফরিন লাবণীর বিরুদ্ধে।

বেক্সিমকোর ডিটিএইচ সেবা আকাশ’র যাত্রা শুরু

দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। ‘আকাশ’ ব্র্যান্ড নামে এ সেবা পণ্য বাজারজাত করা হবে শিগগিরই। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে অনেক আধুনিক টিভি থাকলেও দর্শকরা ডিটিএইচ প্রযুক্তির   সেবা গ্রহণের অবাধ স্বাধীনতা পায়নি। দেশের প্রথম এবং একমাত্র আইনসম্মত ডিটিএইচ অপারেটর আকাশ। এটি সনাতনী ধারা পরিবর্তনে এবং অনন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বে নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকা ৫৭তম দেশ বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে ডিটিএইচ সেবা প্রদান করবে আকাশ। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার গৌরবময় সঙ্গী হলো বেক্সিমকো। গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ডিটিএইচ সেবা আকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বক্তব্য রাখেন।
অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স’র ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এমপি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স’র চেয়ারম্যান শায়ান এফ রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডিএস ফায়সাল হায়দার। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১৯শে মে থেকে দেশের ২০টি জেলায় আকাশ ডিটিএইএচ বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাবে।
জেলাগুলো হলো- ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সুনামগঞ্জ। শিগগিরই দেশের অন্যান্য জেলাতেও অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এ ডিটিএইচ পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, সম্প্রচার আইন বাস্তবায়নে ডিটিএইচ সেবা আকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াবে ডিটিএইচ। একইসঙ্গে ক্যাবল লাইনের সমস্যা ও রাস্তাঘাটে তারের জঞ্জাল দূর করবে। বিদেশি বিজ্ঞাপনমুক্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচারে সহায়ক শক্তি হবে ডিটিএইচ। টিভিতে সংবাদসহ সব অনুষ্ঠানের স্পষ্ট শব্দ ও ছবি এই প্রযুক্তিতেই নিশ্চিত করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, আমরা সম্প্রচারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি। বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রচার বন্ধ করেছি। পৃথিবীর কোনও দেশে এটা হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই মাসের পরে কেউ এটা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে নিলো আকাশ ডিটিএইচ। এ সেবা যেন সহজে সব মানুষ ব্যবহার করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দূরবর্তী এলাকায় ক্যাবল লাইনের সেবা দেয়া প্রায় অসম্ভব। তাই তারবিহীন এ প্রযুক্তি সেই বিচ্ছিন্ন এলাকাতে সহজেই তথ্য ও বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড জানায়, বিশ্বব্যাপী পে-টিভি শিল্পে ডিটিএইচ একটি উচ্চতর প্রযুক্তি। বাংলাদেশী দর্শকদের প্রয়োজন মেটাতে দেশী-বিদেশী জনপ্রিয় চ্যানেল সম্প্রচারের বড় সংগ্রহ নিয়ে এসেছে আকাশ। দেশে টিভি দেখার স্বাদ ও অভিজ্ঞতা বদলে দেবে এ প্রযুক্তি। সর্বোচ্চ মানের ছবি ও শব্দের নিশ্চয়তা দিয়ে শতাধিক চ্যানেল নিয়ে সেবা চালু করছে আকাশ ডিটিএইচ। ভ্যাটসহ মাসিক ৩৯৯ টাকায় এ সেবা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। শিগগিরই আরও নতুন চ্যানেল এবং ভিডিও অন ডিমান্ড  ও প্রোগ্রাম রেকর্ডিংয়ের মত নতুন সেবা-ফিচার যুক্ত করা হবে। বিদ্যমান ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোগ্রাম রিমাইন্ডার, ফেভারিট প্রোগ্রাম লিস্টিং, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল। আকাশ ডিটিএইচ’র এককালীন সংযোগ খরচ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। সংযোগ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এইচডি সেট টপ বক্স, গ্রাহকবান্ধব ও বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী রিমোট কন্ট্রোল, তাপ ও বৃষ্টি প্রতিরোধী ইউনিভার্সাল কেইউ ব্যান্ড ডিশ এবং অন্যান্য অ্যাক্সেসরিজ। সীমিত সময়ের জন্য বিনামূল্যে ইনস্টলেশন এবং এক মাসের সাবস্ক্রিপশন পাওয়া যাবে। এছাড়া সার্বক্ষনিক ২৪/৭ গ্রাহক সেবার জন্য কল সেন্টার এবং পেশাদার ইনস্টলেশন ও বিক্রয় পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করবে আকাশ।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকে টানা দলের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকের দল। বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান দু’বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতকগোষ্ঠী। বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক এমনি ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ডাক আসে দেশ-মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার। তৎকালীন সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষের মিছিল দেশের মাটিতে স্বাগত জানায় শেখ হাসিনাকে। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। নেতাকর্মীদের মুখে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম-পিতৃ হত্যার বদলা নেব’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।
লাখো মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে, মেয়ে হিসাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বিকাল তিনটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমুহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও দেশের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল এক বিবৃতিতে, দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্যে শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিলসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, র‌্যালী ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের আহবান জানান।