Saturday, November 13, 2010

জমজমের পানি ও কূপের ইতিবৃত্ত by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

কাবাগৃহের দ্বারপ্রান্তে অবস্থিত ‘জমজম কূপ’ আল্লাহর অসীম কুদরতের একটি অপূর্ব নিদর্শন। আরবদের কাছে জমজম শব্দের অর্থ প্রাচুর্য ও জমা হওয়া। পৃথিবীতে যত আশ্চর্যজনক সৃষ্টি রয়েছে, ‘জমজম কূপ’ তার একটি। জমজমের পানি কখনো নিঃশেষ হয় না, যা অতি পবিত্র ও উপকারী। প্রায় চার হাজার বছর আগে সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় হজরত ইব্রাহীম (আ.)-এর দ্বিতীয় বিবি হাজেরার গর্ভে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, তাঁর নাম রাখা হয় ইসমাইল (আ.)। নবজাতককে আদর-সোহাগ করতে দেখে বিবি সারার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে একদিন তিনি তাঁর স্বামীকে বললেন, ‘এই মাতা-পুত্রকে আমার চক্ষুর আড়াল করুন।’ হজরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষমাণ অবস্থায় ইরশাদ হলো, ‘হে ইব্রাহীম! সারার মন রক্ষার্থে ইসমাইল ও হাজেরাকে তরুলতাহীন নির্জন মরুপ্রান্তে নির্বাসন দাও, যাতে তার দ্বারা এমন অভিনব মহানিদর্শন সৃষ্টি হয়, যা কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকবে!’
সর্বজ্ঞ স্রষ্টার হেকমতের মহাকৌশলে এই নবজাতকের দ্বারা পুণ্যময় আরবভূমি মক্কায় জমজম কূপ আবিষ্কৃত হবে; জগতের পুণ্যতীর্থ কাবাগৃহ পুনর্নির্মাণ হবে; তাঁর বংশেই বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরব দেশের মক্কা নগরে আগমন করবেন। তাই সর্বনিয়ন্তা এই নবজাতককে মরুপ্রান্তরে পাঠানোর সুব্যবস্থা করলেন। যেখানে কোনো ধরনের তরুলতা, গাছপালা, নদ-নদী, খাদ্য-পানীয় পর্যন্ত নেই। যেদিকে চোখ যায়, ধু-ধু মাঠ আর মাঠ, বালু আর বালু। হজরত ইব্রাহীম (আ.) চরম ধৈর্যধারণপূর্বক দুহাত তুলে প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি নবজাতককে নিরীহ মাতাসহ নির্জন প্রান্তরে রেখে গেলাম, তা কেবল তোমারই নৈকট্য লাভের আশায়। হে আল্লাহ! এই জনমানবহীন দুর্গম প্রান্তরে আমি তাদেরকে তোমারই হাতে ন্যস্ত করলাম। তাদের তত্ত্বাবধানের ভার-দায়িত্ব তোমার ওপরই রইল।’
আরবের নির্জন মরুভূমিতে কিছু খেজুর ও এক মশক পানি—এই সামান্য খাবার দ্রুত নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল (আ.) তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন। কয়েক দিন অনাহারে থাকার কারণে বিবি হাজেরার বুকে এক ফোঁটা দুধও আর দেখা গেল না। শিশুসন্তানের প্রাণ ওষ্ঠাগত দেখে বিবি হাজেরা ব্যাকুল হয়ে পার্শ্ববর্তী ‘সাফা’ নামক পাহাড়ের ওপরের দিকে উঠে চারদিকে তাকাতে লাগলেন। কোথাও পানি বা খাদ্যের কোনো নিদর্শন না পেয়ে ‘মারওয়া’ নামক অপর পাহাড়ে উঠে পানির সন্ধান করতে লাগলেন। এভাবে বিবি হাজেরা সাফা-মারওয়া পর্বতদ্বয়ে সাতবার পর্যন্ত আসা-যাওয়ার মাধ্যমে যখন ওঠা-নামা করছিলেন, তা আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দনীয় হয়েছে বিধায় ইসলামের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অন্তর্ভুক্ত হজ ও ওমরায় ‘সাঈ’ করার মাধ্যমে শামিল করেন, যা বিবি হাজেরা ও শিশু ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ হজের অঙ্গরূপে কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকবে।
আল্লাহ তাআলা বিবি হাজেরার এই ব্যাকুলতা দেখে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে পাঠিয়ে দেন এবং তিনি স্বীয় পাখার আঘাতে শিশু ইসমাইল (আ.)-এর পদাঘাতের স্থানের নিচ থেকে কুদরতি পানির এক পবিত্র উৎস রচনা করে দেন। ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে দেখে বিবি হাজেরা অধিক আনন্দিত হন এবং প্রাণভরে পানি পান করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। প্রবাহিত পানি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি চতুর্দিকে দ্রুত বালুর বাঁধ দিয়ে আটকাতে লাগলেন, তখন পানি প্রবলবেগে প্রবাহিত হওয়ার কারণে বাঁধ ভেঙে যেতে দেখে পানির দিকে লম্বা করে বললেন, ‘জমজম’ অর্থাৎ থাম, স্থির বা অবরুদ্ধ হও। তখন আল্লাহর কুদরতে পানি আর চারদিকে প্রবাহিত না হয়ে স্থির হয়ে যায়। পানির এই উৎসই ‘জমজম কূপ’ নামে পরিচিত। এটিই হলো হজরত ইসমাইল (আ.)-এর শৈশবকালীন অসাধারণ কীর্তিময় মুজিজা।
জমজম কূপের পানি এর কয়েক শতাব্দী পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে প্রায় ৫০০ বছর জমজম কূপটি অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকে। কেউ এর সন্ধান দিতে পারেনি। প্রায় ১৫০০ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া বরকতময় পানি জমজম কূপ পুনরুদ্ধার করেন। এক রাতে তিনি কাবাগৃহের আঙিনায় শায়িত অবস্থায় স্বপ্নে দেখেন যে একজন লোক তাঁকে প্রথম রাতে ‘তাইবা’, দ্বিতীয় রাতে ‘বাররা’ এবং তৃতীয় রাতে ‘মজনুনা’ খনন করার নির্দেশ দিয়ে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন। ওগুলো কী জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর পেলেন না। এই তিনটি শব্দই জমজম কূপের নাম। ‘তাইবা’ অর্থাৎ পবিত্র, ‘বাররা’ অর্থাৎ নেক, আর ‘মজনুনা’ অর্থাৎ সংরক্ষিত। এরপর চতুর্থ রাতে পুনরায় ওই ব্যক্তি এসে তাঁকে জমজম কূপ খননের নির্দেশ দিলেন। আবদুল মুত্তালিব জিজ্ঞেস করলেন, তা কী? উত্তর এল, ‘যার পানি কখনো নিঃশেষ হয় না, যার তলদেশ পাওয়া যায় না, যা হাজিদের পানি সরবরাহ করে।’ এই নির্দেশ পেয়ে তিনি ঘুম থেকে জেগে একমাত্র পুত্র হারিসকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্নে নির্দেশিত স্থানে গিয়ে খননকাজ শুরু করলেন। সব বাধা-বিপত্তি সরিয়ে পরিত্যক্ত মূর্তি জমজম কূপ থেকে সরিয়ে ফেললে পানির প্রবাহ আবার শুরু হয়।
বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) জমজম কূপের কাছে যান এবং বড় এক বালতি পানি ভর্তি করার আহ্বান জানান। তিনি সেই পানি দিয়ে অজু করেন এবং বলেন, ‘হে বনি আবদুল মুত্তালিব! তোমরা পানি তোল, তোমরা পানি না ওঠালে অন্যরা তোমাদেরকে ওই কাজ থেকে বঞ্চিত করবে।’ এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে অনেকক্ষণ পানি পান করেন। তারপর মাথা ওপরের দিকে তুলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। এভাবে নবীজি তিনবার পানি পান করেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘জমিনের ওপর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে দ্বীনদারের পানীয় জমজমের পানি।’ (ইবনে হিব্বান) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে যেই নিয়তে পান করবে, তার সেই নিয়ত পূরণ হবে। যদি তুমি এই পানি রোগমুক্তির জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি তুমি পিপাসা মেটানোর জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবেন। যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবেন। এটি জিবরাইল (আ.)-এর পায়ের গোড়ালির আঘাতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পানীয় হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।’ (ইবনে মাজা ও আল-আজরাকি)
সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর সৌদি সরকার আধুনিক মেশিনের সাহায্যে জমজম কূপ পুনরায় খনন করেন। হাজিদের সুবিধার্থে কাবাগৃহের সম্মুখে জমজম কূপের অদূরে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি স্থ্থান তৈরি করা হয়েছে। দৈনিক অগণিত আল্লাহর মেহমান হাজিগণ কাতারবেঁধে সেখান থেকে তৃপ্তিসহকারে পানি পান করছেন। এই প্রবাহিত ঝর্ণাধারা সেই থেকেই বিশ্বমানবের কল্যাণে অনবরত পানির প্রবাহ জুগিয়ে চলেছে।
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

আকিজ ফুড বাজারে নিয়ে এল ফ্রুটিকা গ্রিন ম্যাঙ্গো জুস

আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড দেশের বাজারে ফ্রুটিকা ব্র্যান্ডের নতুন পণ্য ‘ফ্রুটিকা গ্রিন ম্যাঙ্গো জুস’ নামে কাঁচা আমের রস নিয়ে এসেছে।
ঢাকায় গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কাঁচা আমের জুস বা রস বাজারজাতকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম তুষার।
শফিকুল ইসলাম তুষার বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গবেষণা আর পণ্যের স্বাদ নিয়ে জনমত জরিপের ফলাফলের আলোকে কাঁচা আমের এই টক-মিষ্টি স্বাদের ফ্রুটিকা গ্রিন ম্যাঙ্গো জুস ভোক্তাদের মন জয় করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
২০০৬ সালের আগস্টে ফ্রুটিকা দেশের বাজারে যাত্রা শুরু করে। ফ্রুটিকার অন্যান্য ফ্লেভারের মধ্যে রয়েছে: ফ্রুটিকা ম্যাঙ্গো জুস, ফ্রুটিকা মিক্সড ফ্রুট জুস, ফ্রুটিকা গ্রেপ জুস ও ফ্রুটিকা রেড অরেঞ্জ জুস।

শিল্পঋণে রাজনৈতিক প্রভাবের পূর্ণ দমন সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের (এসসিবি) শিল্পঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তবে অর্থমন্ত্রী মনে করেন, পুরোপুরি দমন করতে না পারলেও রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা বোধ হয় সে তুলনায় এ ক্ষেত্রে তেমন একটা রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছি না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘শিল্পঋণ প্রাপ্তি ও দুর্নীতি হ্রাস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। ইউএসএইড-প্রগতির সহযোগিতায় শিল্পঋণে দুর্নীতির ওপর তৈরি করা সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইবিএফবির নির্বাহী পরিচালক এম মফিজুর রহমান। আইবিএফবির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এতে স্বাগত বক্তব্য দেন। সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুক ছিলেন কর্মশালার সঞ্চালক।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের ৯০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে। অথচ দেশব্যাপী আওতা ও শাখা রয়েছে এদের।
প্রতিবেদনে এসব ব্যাংকে দুর্নীতির কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের মনোনীত পরিচালকদের কোনো জবাবদিহি নেই। রাজনীতিবিদ, আমলা ও অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যাংকের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন (সিবিএ)। এ ছাড়া ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও খারাপ কাজের জন্য শাস্তির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এসসিবিতে।
শিল্পঋণের অনুমোদন ও বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কিছু জটিলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে দুর্নীতির দলিলও জমা দেওয়া হয়। শুরু করা হয় জামানত হিসেবে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির বাড়তি মূল্যায়ন দিয়ে। এতে উদ্যোক্তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন প্রকৌশলী, ব্যাংকার ও জরিপকারীরা। ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তারাও প্রভাবিত হয়ে এসব সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
এ ছাড়া ঋণ অনুমোদনে প্রভাব খাটায় সিবিএ। ব্যাংকে তারা সমান্তরাল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চালায়। ব্যাংকের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে সিবিএ।
ঋণের জন্য মৌখিক বা লিখিত যেকোনো ধরনের সুপারিশকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা বলে বিবেচনা করা হবে—মন্ত্রিসভা কমিটিকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আরও যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে মেধা ও দক্ষতাকে এসসিবিতে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার মাপকাঠি করা, ঋণ অনুমোদনে ট্রেড ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা, শিল্প প্রকল্পে ব্যাংক ও গ্রাহকের অংশ ৭০: ৩০ করা, ব্যাংক খাতের জন্য স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো করা, ঋণপ্রাপ্তির সময়সীমা ৭০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিনে নিয়ে আসা ইত্যাদি।
ইব্রাহীম খালেদ তাঁর প্রবন্ধে বলেন, এসসিবিতে দুর্নীতি এসেছে মূলত স্বৈরশাসনের আমলে। স্বৈরসরকার এসসিবিতে শুধু দুর্নীতিই ঢোকায়নি, দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করেছে এবং তাদের রক্ষাও করেছে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করেন তিনি।
ইব্রাহীম খালেদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মুহম্মদ এরশাদ স্বয়ং একজনের পক্ষে সুপারিশ করেছিলেন। পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য তিনি টেলিফোন করেছিলেন একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।
তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে সিবিএ না রেখে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটিমাত্র সিবিএ এবং একটি ব্যাংকে একটি সিবিএ রাখার সুপারিশ করেন।
আইবিএফবির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনে খুব দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে ঋণ দিতে হবে। তাহলে দেশের বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সম্ভব হবে।
এসব সুপারিশের অধিকাংশের সঙ্গেই একমত পোষণ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো ভালো। কিছু কিছু এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকিগুলো খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে না। ঋণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৭০ দিন লাগা উচিত নয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
একটি সিবিএ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যাংক নয়, কোনো সংগঠনেরই একটির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাংসদ হাফিজ আহমেদ মজুমদার, সাংসদ ফজলুল আজিম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, ইউএসএইড-প্রগতির ডেপুটি চিফ অব পার্টি জেরেমি কানথর প্রমুখ।

সাজা কমানো হলো চেন শুই বিয়ানের

দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্ট চেন শুই-বিয়ানের সাজার মেয়াদ এক বছর কমিয়ে ১১ বছর করা হয়েছে। তাইওয়ানের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একই মামলায় চেনের স্ত্রীর সাজার মেয়াদও কমিয়ে১১ বছর করা হয়। এই মামলায় চেন দম্পতিকে এর আগে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি সূত্রে জানা গেছে, চেন ক্ষমতায় থাকার সময় একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে অনৈতিক চুক্তির বিনিময়ে এক কোটি ২০ লাখ ডলার উৎকোচ নেন।

ত্বকের কোষ রক্তে রূপান্তরের পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি

কানাডার একদল স্টেম সেল গবেষক দাবি করেছে, ত্বকের কোষকে রক্তে রূপান্তরের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে তারা। চলতি সপ্তাহে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এ দাবি করা হয়। নতুন এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা স্টেম সেল ব্যবহার না করে ব্যক্তির ত্বকের কোষকে রক্তে পরিণত করেছেন।
বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, যেহেতু শরীরে রক্ত তৈরি করার তুলনামূলক সহজ প্রক্রিয়া এটি, তাই এই উদ্ভাবন বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কারণ পদ্ধতিটি ঠিকঠাক কাজ করলে, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মানুষ প্রয়োজনের সময় নিজের দেহ থেকেই অতিরিক্ত রক্তের সরবরাহ পাবে।
গবেষক দলটি জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী, ৪ বাই ৩ সেন্টিমিটার আকারের এক টুকরো চামড়া থেকে যে পরিমাণ রক্ত তৈরি করা যাবে, তা দিয়ে একটি ‘ব্লাড ট্রান্সফিউশন’ (একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া) করা সম্ভব।
এই গবেষণায় অর্থায়ন করছে কানাডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন, কানাডিয়ান ক্যানসার সোসাইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, স্টেম সেল নেটওয়ার্ক ও অনটারিও মিনিস্ট্রি অব রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন।

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের ৪৪ নেতা-কর্মীর যাবজ্জীবন

পশ্চিমবঙ্গের শাসক জোট বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএমের ৪৪ জন নেতা-কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ জন সমর্থককে হত্যার দায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়।
বীরভূমের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিশ্বনাথ কোনার গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলা চলাকালে পাঁচজন আসামি মারা যান।
২০০০ সালের ২৭ জুলাই বীরভূমের নানুর থানার সূঁচপুর গ্রামে তৃণমূলের সমর্থক ১১ জন খেতমজুরকে কুপিয়ে হত্যা করেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় নানুর থানায় সিপিএমের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০১ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়।

ইয়াসির আরাফাতের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের নেতা ইয়াসির আরাফাতের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রামাল্লায় গতকাল হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইয়াসির আরাফাতের সমাধিসৌধে জড়ো হয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সমাধিসৌধে আসা নারী-পুরুষদের ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা এবং আরাফাতের প্রতিষ্ঠিত ফাতাহ পার্টির হলুদ রংয়ের দলীয় পতাকা নাড়তে দেখা যায়। এ সময় সৌধের আশপাশের রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। ইয়াসির আরাফাতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সমাধিস্থলের পাশে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভাষণ দেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের সাবেক প্রতিনিধি নাসের আল কিদওয়াসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নাসের আল কিদওয়া তাঁর ভাষণে ইসরায়েল আরাফাতকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ইয়াসির আরাফাতের ‘গুপ্তহত্যার’ আলামতের সর্বশেষ অংশ জোগাড় করতে ফিলিস্তিনিরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর আরাফাত ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে মারা যান। ওই হাসপাতালটি শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ প্রকাশ না করায় তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

পার্সেল বোমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে বিস্ফোরিত হতো

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা বলেছেন, সে দেশের বিমানবন্দরে কার্গো বিমান থেকে গত ২৯ অক্টোবর উদ্ধার করা পার্সেল বোমার সময় সেট করা হয়েছিল যুুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে বিস্ফোরিত হওয়ার মতো করে। ব্রিটিশ পুলিশ গত বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
ব্রিটেনের পুলিশ বলেছে, বিস্ফোরক অনুসন্ধানকারীরা প্রাথমিক তল্লাশির সময় মধ্য ইংল্যান্ডের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে নামা ওই কার্গো বিমানে বোমাটি চিহ্নিত করেন। প্রিন্টারের কার্টিজের ভেতর তা সুকৌশলে লোকানো ছিল। বিস্ফোরিত হওয়ার তিন ঘণ্টা আগে এটি ধরা পড়ে।
একই দিন দুবাই বিমানবন্দরে একটি বিমান থেকেও ঠিক একই ধরনের বিস্ফোরক ভরা আরেকটি কার্টিজ উদ্ধার করা হয়। দুটি পার্সেলই ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দুটি সিনাগগ বা ইহুদি উপাসনালয়ের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল।
আল-কায়েদার আরব উপদ্বীপ অঞ্চলের শাখা আল-কায়েদা ইন দি অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, একিউএপির পক্ষে পার্সেলগুলোর রুট আগে থেকে জানার কথা নয়। কিন্তু একিউএপি সম্ভবত এর মাধ্যমে এটাই বোঝাতে চেয়েছে যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের পক্ষে এ রকম বোমা পাঠানো এবং যুক্তরাষ্ট্রেও হামলা করা সম্ভব।
ইয়েমেনের সন্দেহভাজন জঙ্গি ও একিউএপির নেতা ইব্রাহিম আল আসিরিকে এ নাশকতা পরিকল্পনার হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইরান থেকে ইয়েমেনে: এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কুয়েতের দৈনিক আল-কাবাস লিখেছে, আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা ইরান থেকে ইয়েমেন চলে গেছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পর সেখান থেকে বহু আল-কায়েদা নেতা ইরান চলে যান। এখন তাঁরা ইয়েমেনে গিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

করাচিতে সিআইডি ভবনে জঙ্গি হামলা, নিহত ২০

পাকিস্তানের করাচিতে সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ভবনে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভবনটি সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত। এলাকাটি স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত। হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিসংগঠন তাহরিক-ই-তালেবান এর দায় স্বীকার করে। শক্তিশালী বিস্ফোরণে গোটা ভবন মাটিতে মিশে গেছে। পুলিশ জানায়, সিআইডি ভবনে জঙ্গিরা হামলা চালালে জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরকবোঝাই একটি ট্রাক সিআইডি ভবনের সীমানা দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্ফোরিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিস্ফোরণের পর জায়গাটিতে তিন ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। অনেককে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শহরটির কয়েক মাইল দূর থেকেও ওই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সরকারি এক মুখপাত্র শর্মিলা ফারুক জানান, মেয়েদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) মসজিদ ও মাজারে হামলার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে তারা প্রত্যন্ত ও পল্লি এলাকায় এ হামলার পরিকল্পনা করেছে।

ফের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মালিকি

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি আগামী চার বছরের জন্য নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আট মাসেরও বেশি সময় পর গত বুধবার রাতে দেশটির আইনপ্রণেতারা সমঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন। যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ইরাকের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একে ‘বড় ধরনের পদক্ষেপ’ বলে উল্ল্লেখ করেছে।
গত মার্চে ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩২৫ আসনের পার্লামেন্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন আল-ইরাকিয়া (ইরাকি ন্যাশনাল মুভমেন্ট) জোট ৯১ আসন পায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির স্টেট অব ল জোট ৮৯, ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ৭০, কুর্দিস অ্যালায়েন্স ৪৩ ও অন্যান্য দল ৩২টি আসন লাভ করে।
রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিই নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলাবির জোট পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৌশলগত নীতিসংক্রান্ত জাতীয় কাউন্সিলের প্রধানের পদ পাবে। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানি কুর্দি জোটের পক্ষ থেকে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুর্দি আইনপ্রণেতা মাহমুদ ওসমান। তিনি বলেন, ‘অবশেষে সবার অংশগ্রহণে আমরা মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছি।’ তিনি জানান, নতুন সরকারে ইরাকিয়া জোটের নেতা আইয়াদ আলাবি ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তিনি সমঝোতা মেনে নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ওই সমঝোতা বৈঠক চলে।
ইরাকিয়া জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওই জোটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্টেট অব ল জোট প্রধানমন্ত্রী ও কুর্দি জোট প্রেসিডেন্ট পদ পাচ্ছে। ইরাকিয়া জোট প্রেসিডেন্ট পদ চাইলে স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরাকিয়া জোটের পদ পছন্দ করার কোনো সুযোগ ছিল না। তাদের বলা হয়, ‘স্পিকার পদ নিলে নিন, না হলে বাদ দিন’। তিনি জানান, সবার মনোভাব ছিল প্রয়োজনে ইরাকিয়া জোটকে বাদ দিয়েও সরকার গঠন করা হবে। এই জোটের নেতা সালেহ আল মুতলাক অভিযোগ করেন, ইরানের চাপের কারণেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালিকি আবারও ফিরে আসছেন।
নতুন সরকারে ইরাকের প্রভাবশালী কট্টরপন্থী নেতা মুকতাদা আল সদরের ভূমিকা কী হবে তা স্পষ্ট নয়। ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের অধীনে নির্বাচন করে তাঁর দল সদরিস্ট মুভমেন্ট ৩৯টি আসন লাভ করে। গত অক্টোবরে মুকতাদা আল সদর সরকার গঠনে প্রধানমন্ত্রী মালিকিকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
ইরাকে সরকার গঠনের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের এই সমঝোতা ইরাককে এগিয়ে নিতে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ। এতে সব প্রধান জোটের অংশীদারি থাকছে, এটা ইতিবাচক বিষয়।

হাইতিতে কলেরায় মৃতের সংখ্যা ৬৪৩

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া কলেরায় মৃতের সংখ্যা ৬৪৩ জনে পৌঁছেছে। এ ভয়াবহ ব্যাধি ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, কলেরায় অসুস্থ হয়ে হাইতির বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত নয় হাজার ৯৭১ জন ভর্তি হয়েছে। ১৯ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে কলেরার রোগী নিবন্ধন শুরু হয়।
ওউয়েস্ট প্রদেশে কলেরায় ৪২ জনের মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তারা জানান। এই প্রদেশে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স অবস্থিত। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলীয় সিটে সলিল বস্তিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর্টিবোনাইট প্রদেশে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলেরায় আক্রান্ত হয়ে ওই প্রদেশে কমপক্ষে সাত হাজার ৩৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
নর্ড প্রদেশে কলেরায় এ পর্যন্ত ৫৯ জন মারা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০০ জন।
দেশটির সেন্টার প্রদেশে এ পর্যন্ত ৪৮ জন মারা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২১ জন। এ ছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে ৪৩ জন মারা গেছে।

পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানতে নতুন কমান্ডার নিয়োগ লাদেনের

পশ্চিমা স্বার্থে হামলা জোরদারের লক্ষ্যে আল-কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেন নতুন কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছেন। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি, নতুন ওই কমান্ডারের নাম সাইফ আল-আদেল। ‘সাইফ আল-আদেল’ অর্থ ন্যায়ের তরবারি। তাঁকে আল-কায়েদার আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ও পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, আল-কায়েদার এই নতুন কমান্ডার ইউরোপসহ পশ্চিমাবিরোধী লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে পার্সেল বোমা এবং ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা তিনিই এঁটেছেন। এ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের মোকাবিলায় জনমত তৈরিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন আল-আদেল। পশ্চিমা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের মতো ভঙ্গুর দেশের ক্ষমতা আল-কায়েদা জঙ্গিরা দখল করে নিতে পারে।
পাকিস্তানের আল-কায়েদাবিশেষজ্ঞ সায়েদ সালেম শাহজাদ বলেছেন, আল-কায়েদার নয়া এই কমান্ডারের কৌশল হচ্ছে তাঁর সংগঠনের সদস্য কিংবা মিত্র সহযোগী সন্ত্রাসী সংগঠনকর্মীদের সহায়তায় পশ্চিমা স্বার্থে ছোট ছোট ধরনের একাধিক হামলা পরিচালনা করা। ইউরোপে সাম্প্রতিক সময়ে পার্সেল বোমা হামলার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এর আগে বলেছে, এসব হামলাপ্রচেষ্টায় আল-কায়েদার কোনো হাত নেই।

জর্জ বুশের বিরুদ্ধে তদন্ত চায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মার্কিন হেফাজতে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ায় জর্জ বুশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য এই আহ্বান জানানো হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত জর্জ বুশের স্মৃতিকথা ডিসিশন পয়েন্টস ও ৮ নভেম্বর এনবিসি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে ‘ওয়াটার বোর্ডিং’সহ নতুন বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নতুন এসব কৌশল শীর্ষ পর্যায়ের বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবহার করা হয়। ওয়াটার-বোর্ডিং কৌশলে বন্দীর মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে, হাত পা বেঁধে চিৎ করে শোয়ানো হয়। এরপর মুখের ওপর প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালা হয়। এতে ওই ব্যক্তি পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। অন্য কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দীদের উলঙ্গ করে রাখা, ভয়-ভীতি ছড়ানো, তীব্র ঠান্ডায় খালি গায়ে রাখা, শারীরিক আক্রমণ করা, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা প্রভৃতি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ক্লডিও কর্ডন বলেন, জর্জ বুশ বন্দী নির্যাতনের নতুন কৌশল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য এটাই যথেষ্ট। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে।
বুশ তাঁর স্মৃতিকথায় দুই বন্দীর ওপর ওয়াটার বোর্ডিং কৌশল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, ২০০২ সালের আগস্ট মাসে আবু জুবায়দা নামের এক বন্দীকে ৮০ বারেরও বেশি ওয়াটার বোর্ডিংয়ের মুখোমুখি করা হয়। অন্যজনের নাম খালিদ শেখ মোহাম্মদ। তাঁকে ১৮৩ বার ওয়াটার বোর্ডিংয়ের মুখোমুখি করা হয়। এই দুই বন্দীকে বিচার ছাড়াই গুয়ানতানামো কারাগারে রাখা হয়েছে।

দুবাইয়ে স্পিন লড়াই

একজন বলছেন, ‘আমাদের দৃষ্টি শুধুই ক্রিকেটে, আমরা মাঠের ক্রিকেটেই মন দিতে চাই।’ আরেকজনের কথা, ‘সামনের পাঁচটি টেস্টের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বছর তিনেক ধরেই এই সংস্করণে আমরা দারুণ সফল, এই সাফল্য ধরে রাখতে চাই।’
বক্তা দুজন দুই দলের অধিনায়ক। আজ শুরু টেস্ট সিরিজের আগে দুই দলের বর্তমান অবস্থাটাই যেন ফুটে উঠছে দুই অধিনায়কের কথায়। আরও একটি বিতর্কে টালমাটাল পাকিস্তান ক্রিকেটের যে অবস্থা, তাতে মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়াই কঠিন। মিসবাহ-উল হকের কণ্ঠে সেই কথাই। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট, আর দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজ জিতে সেদিকেই এগিয়ে যেতে চান গ্রায়েম স্মিথ।
মিসবাহ যা বলেছেন, কিছুদিন ধরে প্রতিটি পাকিস্তান অধিনায়ককে প্রায় প্রতি ম্যাচের আগে তা-ই বলতে হচ্ছে। মাঠের বাইরের বিতর্ক যে পাকিস্তান ক্রিকেটের পিছু ছাড়ছেই না! ‘প্রতিটি অধিনায়ক’ বলার কারণ, বিতর্কের মতো নিত্যনতুন অধিনায়ককেও দেখছে পাকিস্তান ক্রিকেট। মিসবাহই যেমন এ বছর পাকিস্তানের চতুর্থ টেস্ট অধিনায়ক!
লক্ষ্যে ভিন্নতা থাকলেও দুই দলের কৌশল কিন্তু এক। স্পিনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায় দুই দলই। পাকিস্তানের স্কোয়াডে স্পেশালিস্ট স্পিনার আছেন দুজন। দুজনকেই খেলানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন মিসবাহ, ‘আমাদের মূল শক্তি হলো স্পিন, আমরা এটাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। উইকেট দেখে মনে হলো স্পিনারদের এখানে বড় ভূমিকা থাকবে।’ সাঈদ আজমল ও আবদুর রেহমান তো আছেনই, মিসবাহ কাজে লাগাতে পারবেন ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের অফ স্পিনও। বাঁহাতি স্পিনার রেহমান টেস্ট খেলবেন তিন বছর পর, ২০০৭ সালে দুটি টেস্ট খেলেছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই।
স্পিন না হয় পাকিস্তানের মূল শক্তি। কিন্তু যাদের মূল শক্তি পেস বোলিং, তাদেরও দুই স্পিনার নিয়ে নামতে বাধ্য করছে উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে থাকছেন একজন অফ স্পিনার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার—ইয়োহান বোথা ও পল হ্যারিস। স্পিন লড়াইয়ে জয়ী দলটাই হয়তো হাসবে শেষ হাসি। পাকিস্তান দলে অভিষেক হচ্ছে ‘মেজো আকমল’ আদনানের। ১০১তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হচ্ছে দুবাইয়ের।

চার দলের অলিখিত সেমিফাইনাল

১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থেকে আজ শেষ রাউন্ডের খেলা শুরু করছে বরিশাল। বাকি তিন দলেরই পয়েন্ট ৮। ফলে ১৪ নভেম্বরের ফাইনালে খেলার নিশ্চয়তা আজ ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে কেউই পাচ্ছে না।
আজ শেষ রাউন্ডের খেলায় মিরপুরে মুখোমুখি ঢাকা-বরিশাল। ধানমন্ডিতে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে রাজশাহী ও খুলনা। আপাতত বরিশালকেই এগিয়ে রাখতে হয়। আসলে সবাই আছে একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে।
মিরপুরে বরিশাল জয় পেলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে চলে যাবে, সঙ্গী হবে রাজশাহী-খুলনা ম্যাচের জয়ী দল। কিন্তু বরিশাল হেরে গেলে? তখন বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহী বা খুলনা; তিন দলের পয়েন্ট হয়ে যাবে সমান।
সে ক্ষেত্রে দেখা হবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল। মুখোমুখি লড়াইয়ের চিত্রটা শেষ পর্ব শেষেই বোঝা যাবে। এতে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই ফাইনালিস্টকে তখন হয়তো নেট রানরেটের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে।
অনেক হিসাবের এই শেষ পর্বে খেলতে নামার আগে চার দলের অধিনায়কই আগে নিজের দলের জয় নিশ্চিত করার কথা ভাবছেন। রাজশাহীর অধিনায়ক খালেদ মাসুদের কাছে খুলনার বিপক্ষে ম্যাচটা সেমিফাইনাল, ‘আমাদের এবারের লক্ষ্য শিরোপা উদ্ধার। কিন্তু তার আগে ফাইনালে পৌঁছাতে হবে। আমি খুবই আশাবাদী কাল (আজ) জিতে ফাইনালে যাচ্ছি আমরা।’
সবাই অবশ্য আশাবাদী। মাসুদদের প্রতিপক্ষ খুলনার তরুণ অধিনায়ক সগীর হোসেন বলছেন, ‘আমরা প্রথম পর্বে ভালো করতে পারিনি, কারণ দলের শক্তি কম ছিল। এখন সে সমস্যা নেই। সাকিব ভাই তো খেলছেনই, রাজ (রাজ্জাক) ভাইও খেলবেন। আমাদের ব্যাটিংও খুব ভালো। সবচেয়ে বড় কথা মাশরাফি ভাই ও সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার) যেভাবে প্রতি ম্যাচে এসে দলকে উৎসাহ দিচ্ছেন, তাতে আমরা যে কারও বিপক্ষে এখন জয়ের আশা করতে পারি।’
বরিশালের শাহরিয়ার নাফীস ও ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ শরীফও দেখছেন জয়ের স্বপ্ন। শাহরিয়ার নাফীসের স্বপ্নের রংটা যেন একটু বেশিই গাঢ়, ‘আমরা পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো খেলছি। এবারের লিগের সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী ও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বরিশালের। তাই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ব।’
মোহাম্মদ আশরাফুলও তাঁর ঢাকাকে নিয়ে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়ার কথা শোনালেন। সেই সঙ্গে আরেকটা কথা দিলেন আশরাফুল, ‘টানা কয়েকটা ম্যাচ রান করার পর গত ম্যাচটায় রান করতে পারিনি। এই ম্যাচে অবশ্যই ভালো একটা ইনিংস খেলব।’

বীণা মালিক নিজেই বাজিকর!

ইট ছুড়েছিলেন বীণা মালিক, এবার পাটকেল নিক্ষিপ্ত হলো তাঁর দিকে। ভারতীয় ফটোসাংবাদিক ধীরাজ দীক্ষিত অভিযোগ করলেন, পাকিস্তানি এই টিভি অভিনেত্রী নিজেই একজন বাজিকর। স্পট ফিক্সিংয়ে জন্য মোহাম্মদ আসিফ অভিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর সাবেক প্রেমিকা বীণা অভিযোগ করেছিলেন আসিফ অনেক আগে থেকেই ম্যাচ পাতাতেন, আর তাঁকে এ কাজে সহায়তা করতেন ধীরাজ। এই অভিযোগ ধীরাজ অনেক আগেই উড়িয়ে দিয়েছেন। পুরোনো ব্যাপারটি নিয়ে তাঁর নতুন করে মুখ খোলার কারণ ভারতীয় এক টিভি চ্যানেলের রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিতে বীণা এখন ভারতে।
এটা সহ্য করতে পারছেন না ধীরাজ, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমি চিঠি দিয়েছি যাতে তার ভিসা বাতিল করা হয়। এক মিনিটও তাকে আমি ভারতের মাটিতে দেখতে চাই না। সে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে, তার জন্য চাকরি হারাতে হয়েছে আমাকে।’ ভারতে এসে টিভির রিয়্যালিটি শোতে অংশ নেওয়ার মতো তারকাখ্যাতি বীণার নেই বলেও দাবি ধীরাজের, ‘কালার্স চ্যানেল তাকে বাইরে থেকে নিয়ে এসেছে যেন সে একজন বড় সেলিব্রিটি। তার মতো চরিত্রহীন একজনকে রিয়্যালিটি শোতে নিয়ে আসার কোনো মানে হয়? সে অপরাধী, ম্যাচ ফিক্সার। বাজি ও ম্যাচ পাতানোর জগতে ভারতকেও নিয়ে আসতে চায় সে এটা সবাইকে বুঝতে হবে।’
সাবেক প্রেমিক আসিফকে ফাঁসাতে গিয়েই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ করে কি নিজেই বিপদে পড়ে গেছেন বীণা! এর আগে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা পাকিস্তানি এই টিভি অভিনেত্রীকে জেরাও করেছেন।

বিশ্বকাপের পোশাকি মহড়া

ঢাকায় নেমেই সৌরভ গাঙ্গুলী করেছিলেন প্রশ্নটা, ‘জিম্বাবুয়ে কবে আসবে?’ উত্তর পেয়ে হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জিম্বাবুয়ের জন্য তাঁর ‘মায়া’ হচ্ছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা হয়তো এত অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগছেন না। তবে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের জন্য সানন্দ অপেক্ষা তো চলতেই পারে।
২৬ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের দলের ঢাকা পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার সমাপ্তি হবে। আর অপেক্ষাটা আসলেই ‘মধুর’ ছিল কি না, সেটা বোঝা যাবে ১ ডিসেম্বর থেকে। ১ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৫টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।
ডিসেম্বরের ১, ৩ ও ৬ তারিখ প্রথম তিনটি ম্যাচ হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ১০ ও ১২ তারিখ শেষ দুটো ম্যাচ চট্টগ্রামে। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি হবে দিবারাত্রির।
এই সুযোগে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মিরপুরে বসা নতুন ফ্লাডলাইটের একটা পরীক্ষাও হয়ে যাবে। শুধু ফ্লাডলাইট নয়, মিরপুর ও চট্টগ্রামের দুটি ভেন্যুর প্রতিটি সংস্কারকাজের পরীক্ষাও হয়ে যাবে এই সিরিজে। অন্তত সিরিজটাকে সেভাবেই নিচ্ছেন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আয়োজকেরা।
২৬ নভেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ২৯ নভেম্বর জিম্বাবুয়ে খেলবে তাদের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি; বিকেএসপিতে ওই ম্যাচের প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশ।

আইসিসিকে জুলকারনাইনের পরামর্শ

প্রথমে বলেছিলেন, সময় হলেই বিস্তারিত জানাবেন সবাইকে। তবে মুখ বন্ধ ছিল না। অজ্ঞাত জায়গা থেকে নানা মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েই যাচ্ছিলেন। এবার সশরীরে দেখা মিলল জুলকারনাইন হায়দারের। পশ্চিম লন্ডনের সাউথহলের টিকেসি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে সদ্য অবসর নেওয়া উইকেটকিপার অবশ্য শুনিয়েছেন গত কয়েক দিনে বাতাসে ভেসে বেড়ানো কথাগুলোই। তবে আইসিসিকে দিয়েছেন একটা নতুন পরামর্শ, ‘ক্রিকেটারদের ফোনকল ট্যাপ করা উচিত, খোঁজখবর নেওয়া উচিত কোন ক্রিকেটার কখন, কোথায় যাচ্ছে।’
আগে যেমন শোনা গিয়েছিল, ‘রহস্যময় হুমকিদাতার’ সঙ্গে দেখা হওয়ার বর্ণনাটা সেভাবেই দিয়েছেন জুলকারনাইন, ‘দুবাইয়ে ওই লোকের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার পর পরিস্থিতিটা আমার জন্য ছিল খুব কঠিন। সে আমাকে বলল, ‘‘আমার সঙ্গে কাজ করলে অনেক অর্থ পাবে। আর না করলে দেশে ফেরার পর আমরা তোমাকে ও তোমার পরিবারকে মেরে ফেলব।’’ দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটারদের বেশির ভাগই মনে করেন, এভাবে পালিয়ে গিয়ে ভুল করেছেন জুলকারনাইন। একই ধারণা দলের অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকেরও, ‘আমার মনে হয় না সে ঠিক করেছে। বড় একটা ভুল করেছে সে। কোনো ঝামেলা হলে সে দলের সিনিয়র ক্রিকেটার বা টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাতে পারত।’
কিন্তু জুলকারনাইন আবারও বলেছেন, এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তাঁর, ‘সে সময় আমি প্রচণ্ড চাপে ছিলাম, আমার পরিবার ছিল হুমকিতে। তা ছাড়া দলের কাউকে বললে বা টিম ম্যানেজমেন্টকে জানালে হয়তো বিপদ আরও বাড়তে পারত। আমি তাঁদের কাউকে বিপদে জড়াতে চাইনি।’ জুলকারনাইনের এই বক্তব্য নিয়ে অবশ্য যথেষ্টই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের আগে সিএনএনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হুমকিদাতাকে চেনেন না বলেই টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাননি। ধোঁয়াশাই রেখেছেন ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার ব্যাপারটিও, ‘আমি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা চাই না। আমি একজন সুনাগরিক হতে চাই, পাকিস্তানেও আমি সুনাগরিক। আমি স্রেফ শান্তিতে থাকতে চাই।’ যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানে তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়েসহ পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়ার।
জুলকারনাইনের ঘটনা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে ঝড় চলছেই। ‘জিয়ো নিউজ’কে সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান বলেছেন, এটা দেশের জন্য লজ্জার, ‘এ ঘটনা শুধু পাকিস্তানের ক্রিকেট নয়, পুরো দেশের জন্যই লজ্জার। আমি জানি না, কী এমন হলো যাতে সে এত বড় ঘটনা ঘটাল, তবে এতে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যাই আরও বাড়ল।’ আরেক সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম জুলকারনাইনের পাশাপাশি দুষছেন পিসিবিকেও, ‘এভাবে পালিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের মতো কাজ হয়নি। সে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারত। পিসিবিরও সামর্থ্য নেই পরিস্থিতি সামলানোর। পিসিবি ক্রিকেটারদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, এ জন্য তারা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে না।

বন্ধুকে ইনিয়েস্তার শ্রদ্ধাঞ্জলি

বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে হল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক নাটকীয় গোলটি করার পরই শার্টটা খুলে ফেলেছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। নিচে আরেকটি শার্টে লেখা ছিল, ‘দানি জার্ক সব সময়ই আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই গোলটি উত্সর্গ করেই অকালপ্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করেছিলেন এই স্প্যানিশ প্লেমেকার। এবার দানি জার্কের ক্লাব এসপানিওলকে সেই শার্টটাই উপহার দিয়ে বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালেন ইনিয়েস্তা।
গত মৌসুম শুরুর আগে জার্ককে অধিনায়ক বানিয়েছিল এসপানিওল। কিন্তু অধিনায়কের বাহুবন্ধনী হাতে নিয়ে মাঠে নামার আগেই মাত্র ২৬ বছর বয়সে ২০০৯ সালের আগস্টে মারা যান জার্ক। তাঁর স্মরণে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজেদের স্টেডিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসপানিওল। এখানেই ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল সানচেজকে নিজের ওই শার্টটি উপহার দেন ইনিয়েস্তা। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এসপানিওলই এই শার্টটির সঠিক জায়গা। কিন্তু এটা দিয়ে দিতেও আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ফাইনালে আমি গোলটা করেছিলাম, কিন্তু দানিকেও সব সময় স্মরণ করা হবে।’ এসপানিল স্টেডিয়ামের ২১ নম্বর গেটে জার্কের স্মরণে নির্মিত একটি দেয়ালচিত্রে শার্টটি স্থাপন করা হবে।
বন্ধুর প্রতি ইনিয়েস্তার এ ভালোবাসা মুগ্ধ করেছে এসপানিওল প্রেসিডেন্ট সানচেজকে। তিনি বলেছেন, ‘সে (ইনিয়েস্তা) একজন অসাধারণ খলোয়াড়। বন্ধুর প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার জন্য সে আজীবন এসপানিওল সমর্থকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গল্প- 'বৃষ্টি নেমেছিল' by ইমদাদুল হক মিলন

শ্রাবণ মাসের আকাশ আজ ঝকঝকে তকতকে। মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। বিকেল হয়ে আসা রোদ ছড়িয়ে আছে চারদিকে। এরকম উজ্জ্বল দিনে মা মুখ কালো করে বসে আছেন বারান্দায়। দূর থেকে মাকে একবার দেখলো রাজু।

তারপর সামনে এসে দাঁড়াল। এখানে এভাবে বসে আছো?
মা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলেন। ঘরে খুব গরম। দিনেরবেলা ইলেকট্রিসিটি আজকাল থাকেই না।
রাজু হাসলো। ঢাকা শহরেই ইলেকট্রিসিটি থাকে না, আর এ তো গ্রাম।
গ্রামে তো পলস্নীবিদু্যৎ। এটা না থাকার কী হলো?
একেবারেই থাকে না, মা?

গল্প- 'সড়ক নভেল' by হাসনাত আবদুল হাই

ধখানা ঘোমটা মাথায় দিয়ে রাস্তার দুদিকে তাকিয়ে থাকা মেয়েমানুষটা অনেকক্ষণ থেকে আর অ্যান্ড এইচের মহাসড়কের পাশে কড়ই গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। কতক্ষণ, তা সে বলতে পারবে না, যারা যেতে যেতে তাকে দেখেছে তারাও না। তবে অনেকক্ষণ যে সে দাঁড়িয়ে আছে, তা তার একটা অস্থিরতা আর চোখ-মুখের ক্লান্তির ভাব দেখলেই বোঝা যায়। অপেক্ষা করার সময় বেড়ে গেলে চোখে-মুখে তার দাগ কাটে, তখন দেখলেই চোখে পড়ে। এখন প্রায় দুপুর হয়ে এসেছে। রাগে গড়গড় করা সূর্য একটু পর মাথার ওপরে এসে চোখ রাঙাবে। ভাদ্রমাসের রোদে এখন বেশ তাপ, ঝলসে না দিলেও ঘাম ঝরায় একটু পরপর। কড়ই গাছটার নিচে ছেঁড়াখোঁড়া ছায়া আছে, কিন্তু চারদিক থেকে আসা বাতাসের তাপ সেই ছায়াকে ধমকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

গল্প- 'জানালার বাইরে' by অরহ্যান পামুক (অনুবাদঃ নাজিব ওয়াদুদ

মূলত এটি একটি উপন্যাস। বিশ্ববিখ্যাত কথাসাহিত্যিক অরহ্যান পামুকের জন্ম তুরস্কের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বন্দর নগরী ইস্তাম্বুলে, ১৯৫২ সালের ৭ই জুন। তিনি ২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দি হোয়াইট ক্যাসল (১৯৮৫, ইংরেজী অনুবাদ ১৯৯১),

দি বস্ন্যাক বুক (১৯৯০, ইংরেজী অনুবাদ ১৯৯৪), দি নিউ লাইফ (১৯৯৪, ইংরেজী অনুবাদ ১৯৯৭), মাই নেম ইজ রেড (১৯৯৮, ইংরেজী অনুবাদ ২০০১), স্নো (২০০২, ইংরেজী অনুবাদ ২০০৪), ইস্তাম্বুল: মেমোরিজ এন্ড দি সিটি (২০০৩, ইংরেজী অনুবাদ ২০০৫) এবং দ্য মিউজিয়াম অফ ইনোসেন্স (২০০৯) তার বিখ্যাত রচনা। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০টি ভাষায় তার বই অনূদিত হয়েছে।

স্মৃতি ও গল্প- 'কবির অভিষেক' by মহাদেব সাহা

ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষ মাত্র তিন-চারজন। তারাই তখন আমার মরূদ্যান। দাঁড়াবার এক ইঞ্চি মাটিও নেই। মলয় ও তাজুলের সঙ্গে আগে থেকেই কিছুটা পরিচয় ও বন্ধুত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো ভেবে এসে উঠেছিলাম মলয়ের রুমে। মলয় তখন জগন্নাথ হলে থাকে। সকালে বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুল হাইয়ের সঙ্গে দ্যাখা করতে তার ফুলার রোডের বাসায় যাই। হাই স্যার এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঝামেলার ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিয়ে আমাকে রাজশাহীতেই এম এ পড়তে বললেন। তাজুল তখন 'এক ঝাঁক পায়রা' করে। থাকে এস এম হলে। তার রুমেও ছিলাম একদিন।

ইতিহাস- 'ভাওয়ালগড়ের ষড়যন্ত্র' by তারিক হাসান

অবিভক্ত ব্রিটিশ বাংলায় আলোড়ন তুলেছিল ভাওয়ালের মেজোকুমারের মৃতু্য রহস্য। ১৯০৯ সালে দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়ে অসুস্থ হয়ে নাকি মৃতু্য হয় ঢাকার জয়দেবপুরের মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের।

অন্ততঃ মেজোরাণী বিভাবতী দেবীর বয়ান তাই বলে। এক যুগ পর মেজোকুমারের মত দেখতে নাগা সাধুর দেখা মেলে সদরঘাটের বাকল্যান্ড বাঁধে। তিনিই কী ভাওয়াল কুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়? প্রজা, পরিবারের মধ্যে বিতর্ক বাড়ে। ঘটনা গড়ায় আদালতে। রাজকীয় মামলার বিচারে রীতি ভেঙে ব্রিটিশ আদালত ওঠে ভাওয়াল রাজ দরবারে। মেজোকুমারের মৃতু্য রহস্য উদঘাটনে।

আলোচনা- 'বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা' by বেলাল চৌধুরী

আর্হেন্তেনীয় আইনজীবী একই সঙ্গে সাংবাদিক এবং প্রকাশক রোডোলফো এইচ তেররাগনো, আজকের লাতিন আমেরিকায় লেখালেখির ব্যাপারটা যে কতটা বিপজ্জনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ

কাজ তার একজন প্রধান সাক্ষী। ১৯৭৬ সালে সামরিক অভু্যত্থানের পর থেকে তার জীবনের ওপর হুমকি আসার ফলে রোডোলফো তার সম্পাদিত বিপস্নবী সাময়িকী 'কুয়েশশনারিও'র প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। পরে অবশ্য 'ব্রেভিয়ারিয়ো'র প্রতিষ্ঠা করেন। অতি সম্প্রতি তিনি এল ডায়ারিও দা কারকাস-এর সম্পাদক হিসেবে ভেনিজুয়েলাতে সংবাদ প্রতিবেদনে যুগান্তর এনেছেন। লাতিন আমেরিকার বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রোডোলফো বলেছেন,

আলোচনা- 'শিল্প সৃষ্টি ও নান্দনিকতা' by আহমদ রফিক

শিল্পের নন্দনতাত্তি্বক ধারণা নিয়ে জটিলতার শেষ নেই। এর শুরু সেই প্রাচীনকাল থেকে। প্রাচ্যে সংস্কৃত সাহিত্যে রসতত্ত্বের ব্যাখ্যায় যেমন নন্দনতত্ত্বের উদ্ভাস তেমনি পাশ্চাত্যে গ্রীক দার্শনিকদের কাব্যতত্ত্ব বিচারে অপরিহার্যভাবে নান্দনিকতার বিষয় প্রকাশ পেয়েছে।

প্রসঙ্গত অ্যারিস্টটলে শিল্পতাত্তি্বক বিবেচনা স্মরণ করার মত। যেমন, কবিতা, জীবনের প্রতিরূপ ধারন করেও সৃষ্টিকর্মের ক্ষেত্রে যে বিশেষ রূপের অভিব্যক্তি ঘটায় (প্রাচ্যের রসতত্ত্বের অনুরূপ)। সেখানেই নান্দনিকতার প্রকাশ বা বিচার্যবিষয়।
ভরতীয় নন্দনতত্ত্বে রূপরস সৌন্দর্য আনন্দ ইত্যাদির বিচার-বিশেস্নষণে 'রস' শব্দটিরই বহুবিভাজিত প্রাধান্য। ভরতের নাট্যশাস্ত্র বিচারে রসের নানারূপ নিয়ে অভিনবগুপ্ত থেকে একাধিক আলংকারির বিচার ও জিজ্ঞাসা বিষয়টিকে যথেষ্ট জটিল করে তুলেছেন।