Friday, November 5, 2010

খাদ্য আলোচনা- 'খাদ্য উৎপাদনের বাধা দূর করাই ক্ষুধার বিরুদ্ধে প্রধান সংগ্রাম' by ফরিদা আখতার

বিশ্ব এখন বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মধ্যে আছে। এ সংকটের কারণ নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি শুধু ক্ষুধার্ত কিংবা পুষ্টির অভাবের শিকার মানুষের সংখ্যা।

তবে এতদিন এই সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কমেনি, বরং ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য সম্মেলনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেড়ে গেছে। যেমন, ১৯৯৬ সালে ৮০ কোটি (৮০০ মিলিয়ন) মানুষ ক্ষুধার্ত বা পুষ্টিহীনতার শিকার ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯২ কোটি ৫০ লাখ (৯৫০ মিলিয়ন)। এ সংখ্যা প্রমাণ করে, খাদ্য ঘটতি মেটানোর এবং ক্ষুধা নিবারণের বিশ্ব পরিকল্পনা বিশেষ করে এমডিজি বা হাজারবছরী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এবার ১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস, ২০১০ পালিত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) উদ্যোগে বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ক্ষুধার বিরুদ্ধে ঐক্য (United against hunger)।

রাজনৈতিক আলোচনা- ' কোন পথে ক্ষমতা! হস্তান্তর নয় রূপান্তর চাই' by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

আমাদের দেশের ক্ষমতার হস্তান্তর বহুবার ও নানাভাবে ঘটেছে; কিন্তু ক্ষমতার প্রকৃত রূপান্তর এখনো ঘটেনি। ব্রিটিশ আসার আগে রাজা-বাদশাদের একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

কিন্তু তাতে ওই ক্ষমতার চরিত্র এবং তার সঙ্গে সমাজের রূপ মোটেই বদলাত না। ব্রিটিশ আসার পর ক্ষমতার একটা রূপান্তর হলো। রাজ্য তখন রাষ্ট্রে পরিণত হলো এবং ওই রাষ্ট্র পুরো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে সমাজেও একটা পরিবর্তন আনল। বাংলার দিকে তাকালে আমরা দেখব, এখানে শিল্প ও পুঁজির এ ধরনের বিকাশ ঘটছিল; বাণিজ্য করার নাম করে ইংরেজরা এসে বিকাশের সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিল।

আলোচনা- 'শিল্পনীতি-২০১০:সামর্থ্যের অপব্যবহারে পঙ্গুত্বের বিকাশ' by মেহেদী হাসান

‘শিল্পনীতি-২০১০ এর গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, নারীদের শিল্পায়ন-প্রক্রিয়ার মূলধারায় নিয়ে আসা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ।
এ লক্ষ্যে যেখানে সম্ভব সেখানে পুঁজিঘন শিল্পের পরিবর্তে শ্রমঘন শিল্প স্থাপনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে শিল্পনীতিতে কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের পদক্ষেপ উল্লেখ করা। পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও পাটশিল্পকে লাভজনক করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।’ (২.১৩, শিল্পনীতি আদেশ-২০১০)। এ জন্য সরকার কৃষিভিত্তিক কর্মকান্ড এবং কৃষিপণ্য/প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের তালিকায় ৩৬টি উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। লক্ষ্য হলো শিল্পায়ন এবং শিল্পের প্রসার।

উত্তর কোরিয়ার মাছ ধরার নৌকা লক্ষ্য করে দক্ষিণের গুলিবর্ষণ

দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়ার একটি মাছ ধরার নৌকা লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করেছে। এ সময় নৌকাটি দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্রসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরছিল। দুই কোরিয়ার মধ্যে তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ পীত সাগর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরপর তিনবার মৌখিকভাবে সতর্ক করার পরও কর্ণপাত না করায় দক্ষিণ কোরীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে নৌকাটিকে লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড সতর্কতামূলক গুলি বর্ষণ করা হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় উত্তর কোরিয়ার নৌযানটি দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট অবস্থান করে। গুলিবর্ষণের পর সেটি নিজ দেশের জলসীমায় ফিরে যায়।
সিউলে আগামী সপ্তাহের জি-২০ শীর্ষ বৈঠককে সামনে রেখে সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে যখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে, ঠিক সে সময় এ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল।

ইরাকে সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা শতাধিক

ইরাকের রাজধানী বাগদাদজুড়ে গত মঙ্গলবারের সিরিজ বোমা হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে শতাধিক হয়েছে। এ ঘটনায় বাগদাদে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বাগদাদের ১৩টি স্থানে অন্তত ২১টি বোমা হামলা চালানো হয়। এসব হামলার লক্ষ্যস্থল ছিল ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতানগুলোর বেসামরিক লোকজন। হামলায় শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। ঘটনার পর বাগদাদে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাইকিং করে লোকদের বাড়ি না ছাড়ার জন্য পরামর্শও দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা ১৫ মিনিটে বাগদাদের সদর সিটিতে ওই সিরিজ হামলার সূত্রপাত হয়। সেখানে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হয়। আল-সাইয়েদি নামক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বোমার প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। তাকিয়ে দেখি, ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এ সময় গাড়ির টুকরো অংশ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।’ এ ছাড়া বাগদাদের ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-খানেকিন এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন পুলিশ ও একজন আল-কায়েদা জঙ্গি নিহত হয়। পৃথক একটি বোমা হামলায় ফাল্লুজায় নিহত হয় একজন।

ওবামার জন্য ভারতে থাকবে আট স্তরের নিরাপত্তা-বেষ্টনী

ভারত সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য আট স্তরের নিরাপত্তা-বেষ্টনীর ব্যবস্থা থাকবে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এ কথা জানা যায়। ওবামার সফর সামনে রেখে জঙ্গিদের নাশকতামূলক তৎপরতা রোধে ভারতজুড়ে সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব রাজ্যের পুলিশ বিভাগকে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওবামার জন্য আট স্তরের নিরাপত্তা-বেষ্টনীর মধ্যে তিন স্তরের সব দায়িত্ব পালন করবে মার্কিন গোয়েন্দারা। কঠোর নিরাপত্তার কারণে ওবামার ওপর হামলার চেষ্টা সম্ভব নয় জেনে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো দেশের অন্যত্র আত্মঘাতী হানা বা অপহরণের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা গত কয়েক দিনে জঙ্গিদের গোপন তৎপরতা থেকে হামলাবিষয়ক প্রায় ১৮টি তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ছয়টি তথ্য সুনির্দিষ্ট।
কয়েক দিন আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই জানিয়েছিলেন, ওবামার ভারত সফরের সময় জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তাঁরা জানতে পেরেছেন। লস্কর-ই-তাইয়েবার মতো সংগঠন কাশ্মীরে হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জঙ্গি হামলার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গত রোববার নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যাতে পাকিস্তান থেকে কোনো জঙ্গির অনুপ্রবেশ না ঘটে।
ওবামার ভারত সফরের প্রতিবাদে ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামপন্থী দল সিপিএম ও সিপিআই। ওবামার সফরের প্রতিবাদে ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী বন্ধ্ ডেকেছে মাওবাদীরা।

উড়োজাহাজে ডাক পরিবহন স্থগিত করেছে গ্রিস

উড়োজাহাজে আন্তর্জাতিক ডাক পরিবহন ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছে গ্রিসের বিমান কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বিমান-ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে বেশ কয়েকটি বোমাসহ পার্সেল বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সময় ধরা পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
এথেন্স থেকে সোমবার এসব বোমার একটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি এবং আরেকটি মঙ্গলবার জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। গ্রিক কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে এই বোমা হামলা চালানোর চেষ্টার পেছনে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে।
এক বিবৃতিতে গ্রিসের পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অন্য দেশে বিমান-ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে চিঠিপত্র ও পার্সেল পাঠানো ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছে। এ সময় ডাকে পাঠানো দ্রব্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।’
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিসে সুইস ও রুশ দূতাবাসে দুটি পার্সেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানকার বুলগেরীয় দূতাবাসে আরেকটি বোমা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। চিলির দূতাবাসে একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। আরও কয়েকটি সন্দেহজনক প্যাকেজ ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া এথেন্স বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে দুটি বোমা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুশকোনির ঠিকানায় পাঠানো একটি পার্সেল আটকে দেয় সে দেশের পুলিশ। পরীক্ষা করার সময় সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ওই দিন রাতে এথেন্স থেকে আসা আরেকটি পার্সেল একটি বেসরকারি বিমানে শনাক্ত করার পর সেটিকে ইতালির বোলোগনা বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। ফ্রান্সে নিকোলা সারকোজির কাছে বোমা পাঠানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবারই গ্রিসে দুজনকে আটক করে পুলিশ।

গভর্নর পদ হারালেন আরনল্ড শোয়ার্জনিগার

ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদের নির্বাচনে হেরে গেছেন বিখ্যাত অভিনেতা আরনল্ড শোয়ার্জনিগার। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেরি ব্রাউনের কাছে তিনি পরাজিত হন। এই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর বারবারা বক্সার তাঁর পদ ধরে রেখেছেন।
এর আগে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন জেরি ব্রাউন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানায়, ১৮৫০ সালের পর ১৯৭৫ সালে সর্বকনিষ্ঠ গভর্নর হিসেবে জয়লাভ করেন ব্রাউন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। ৭১ বছর বয়সে আবারও গভর্নর নির্বাচিত হলেন। এটা সবচেয়ে বেশি বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেরি ব্রাউন বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৬, ১৯৮০ ও ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ব্রাউন। ১৯৮২ সালে সিনেটে একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি।
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আরনল্ড শোয়ার্জনিগার রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ২০০৩ সালে গভর্নর নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে গভর্নর পদে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি।

ফিলিপাইনে শিগগিরই সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে: অস্ট্রেলিয়া

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা ও সে দেশের অন্যান্য এলাকায় শিগগিরই সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার সতর্ক করে দিয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্যে তারা এ কথা জানিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডও তার নাগরিকদের ম্যানিলায় ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে এ ধরনের সতর্কসংকেত পাওয়ার পর ফিলিপাইন তার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ক্যানবেরা সর্বশেষ ভ্রমণসংক্রান্ত বুলেটিনে ম্যানিলায় সফররত অস্ট্রেলিয়ার পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কারা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে, এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ম্যানিলার বিপণিবিতান, বিমানবন্দর, সম্মেলনকেন্দ্রসহ যেসব স্থানে বিদেশিদের আনাগোনা বেশি, সেখানে শিগগিরই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘আমরা পর্যটকদের পরামর্শ দিচ্ছি, আপনারা মিন্দানাওয়ের মূল ভূখণ্ড, জামবোঙ্গা উপদ্বীপ ও মিন্দানাওয়ের সুলু দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ করবেন না।

খ্রিষ্টানদের ওপর হামলাকে বৈধ ঘোষণা করেছে আল-কায়েদা

আল-কায়েদার ইরাকভিত্তিক একটি জঙ্গি শাখা সংগঠন খ্রিষ্টানদেরকে হামলার ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। খ্রিষ্ট ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়া একাধিক নারীকে মিসরের কপটিক গির্জার পাদ্রিরা আটকে রেখেছেন দাবি করে ওই সংগঠন সম্প্রতি তাঁদের মুক্তির জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়। সময়সীমা পার হওয়ার পর ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই) নামের সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। সন্ত্রাসবাদীদের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মনিটরিং গ্রুপ সাইট গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিসরের ডানপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুড সে দেশের সরকারকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গত রোববার একটি গির্জায় ঢুকে প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করা এবং সেখানকার পুরোহিতসহ কয়েক ডজন প্রার্থনাকারীকে হত্যা করার বিষয়ে আইএসআই ইতিমধ্যেই দায় স্বীকার করেছে।
সাইটটি বলেছে, আল-কায়েদার শাখা সংগঠন আইএসআই ইন্টারনেটে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, মিসরের গির্জাগুলোতে যে নারীদের আটক করে রাখা হয়েছে, তাঁদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ধর্মযাজকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের খ্রিষ্টান কেন্দ্র, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান মুজাহিদিনদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। যেখানে যেভাবে তাঁদের ওপর হামলা করা সম্ভব মুজাহিদিনরা তা করবে। ধর্মান্ধ উৎপীড়কদের মূল হোতা ভ্যাটিকানকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিসরের গির্জাগুলোর যাজকেরা সেখানে যা করছে তার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে নিজেদের নির্দোষ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ভ্যাটিকানের কোনো অনুসারীর ঘাড়ের ওপর থেকে কতলের তরবারি নামবে না।’
মিসরে ক্যামিলা সেহাতা এবং ওয়াফা কনস্ট্যান্টাইন নামের দুই নওমুসলিম নারীকে গির্জা কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
তাঁদের মধ্যে ক্যামিলা গত জুলাই মাসে এবং ওয়াফা ২০০৪ সালে নিখোঁজ হন। মিসরের মুসলমানদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, তাঁরা দুজনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। সে কারণে গির্জা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বন্দী করে রেখেছে।
এদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড বলেছে, তারা খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়ে যেকোনো ধরনের জঙ্গি হামলা ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। তারা এ বিষয়ে মিসর সরকার ও মুসলিম জনগণের প্রতিও এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।

সেই বেলেই বিপন্ন ইন্টার

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার হাতছানি নিয়ে মাঠে নেমেছিল তিনটি দল। কিন্তু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান, দুবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা বা ফরাসি অলিম্পিক লিওঁ—কোনো দলই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে পারেনি।
রাফায়েল বেনিতেজ সাবেক লিভারপুল কোচ এবার হোয়াইট হার্ট লেনে গেছেন ইন্টারকে নিয়ে। কিন্তু টটেনহাম ‘কুফা’ তাঁর কাটল না। এবার হেরে এলেন ৩-১ গোলে। বার্সেলোনাকে ১-১ গোলের ড্রতে বেঁধে ফেলল এফসি কোপেনহেগেন। আর ৭ গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে অলিম্পিক লিওঁকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দিয়েছে পর্তুগালের বেনফিকা।
তবে যে বড় দলের ম্যাচটি পরশু আলোচনায় ছিল কম, তারাই মাঠে আলো ফেলেছে বেশি—সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তিনবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল বুর্সাসপরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে নকআউট পর্ব। বুর্সাসপরের মাঠে গোল করেছেন ফ্লেচার, ওবারটান আর কোরেইরা। ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ‘রেড ডেভিল’রা। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ভ্যালেন্সিয়া। পরের দুটি দল রেঞ্জার্স (৫) ও বুর্সাসপর (০)।
শেষ ষোলোয় চোখ রেখে মাঠে নামা ইন্টারকে শীর্ষস্থানটিই হারাতে হয়েছে টটেনহামের কাছে। ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট ইন্টারের। সমান পয়েন্ট টটেনহামেরও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে ‘স্পার’রা। নিজেদের মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে টটেনহাম। কোচ হ্যারি রেডনাপ তো রীতিমতো উড়ছেন, ‘আমরা তাদের উড়িয়ে দিয়েছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরাই ছিলাম ম্যাচের সেরা দল।’
যাঁকে বেশি ভয় পাচ্ছিল ইন্টার, সেই গ্যারেথ বেলই এ ম্যাচেও ছিলেন টটেনহামের এক্স-ফ্যাক্টর। সান সিরোতে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারেননি, এদিন অবশ্য গোল না করেও দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বেল। ফন ডার ভার্টের করা প্রথম গোলটিতেই শুধু ছোঁয়া নেই ওয়েলশ উইংব্যাকের। তবে পিটার ক্রাউচ আর পাভলিউচেঙ্কোর করা দলের শেষ দুটি গোলের উৎস তিনিই। ম্যাচ শেষে তাই কোচের প্রশংসায়ও ভেসেছেন বেল, ‘গ্যারেথ অসাধারণ খেলেছে। রাইটব্যাক মাইকনকে অসম্মান করছি না, তবে বেল ওকে কঠিন সময়ই উপহার দিয়েছে। এটা দেখতে পাওয়া ছিল দারুণ!’
৬১ মিনিটের মধ্যে টটেনহাম ২-০-তে এগিয়ে যাওয়ার পর ইন্টারের পক্ষে একটি গোল শোধ দিয়েছেন স্যামুয়েল ইতো। কিন্তু এটা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইতোর (৭) গোলসংখ্যাই বাড়িয়েছে, ইন্টারকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি।
কোপেনহেগেনের বিপক্ষে লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসির (৫) গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনাই। কিন্তু এক মিনিটের মধ্যেই সেটি ফিরিয়ে দেন স্বাগতিক দলটির ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ক্লদেমির। দুর্দান্ত বার্সার সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব না হলেও তাদের সমীহ কুড়িয়েছে কোপেনহেগেন। তবে মেসি চরিত্রবিরোধীভাবে দুটি গোল মিস না করলে কিংবা দুবার পোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে জয় নিয়েই ফিরত স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
যা হয়েছে তাতেও অবশ্য অখুশি নন বার্সা অধিনায়ক কার্লোস পুয়োল, ‘খুব কঠিন ম্যাচ ছিল, দুর্ভাগ্যবশত ওরা খুব দ্রুতই সমতা এনে ফেলেছে। তবে সব মিলিয়ে একটা ভালো ম্যাচই আমরা খেলেছি।’ কোচ গার্দিওলা খুশি হতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। আর না হলে কি ম্যাচ শেষে কোপেনহেগেনের নরওয়েজিয়ান কোচ স্টেল সোলবাকেনের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন!

সূচনা ম্যাচেই জিততে চায় ইংল্যান্ড

সর্বশেষ ৮টি টেস্টের ৭টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড। এর মধ্যে ৪টিই অবশ্য ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। সে হোক, জয়ের অভ্যাস তো হচ্ছে! হ্যাঁ, অ্যাশেজের আগে ‘জয়ের অভ্যাস’ ব্যাপারটাকেই বড় করে দেখছেন ইংল্যান্ড উইকেটকিপার ম্যাট প্রিয়র। আর সেই অভ্যাসটা ধরে রাখতেই আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন দিনের সফরসূচক ম্যাচটাও জিততে চান প্রিয়ররা।
১৯৮৬-৮৭ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া থেকে অ্যাশেজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পার্থে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। একসময়ের ত্রাস, পার্থের ওয়েকাতে এখন নেট-অনুশীলন করছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। অনুশীলন করেই অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের সঙ্গে তাঁরা মানিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি করছেন প্রিয়র।
আর এবার চান অনুশীলন ম্যাচটা জিতে অ্যাশেজ জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে, ‘সবার আগে আমরা এই ম্যাচটা জিততে চাই। এটা একটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ। আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি ম্যাচটাকে। কারণ জয় হলো একটা অভ্যাস। যত দ্রুত সেই অভ্যাস হয়, ততই ভালো।’
জয়ের অভ্যাস করা, অ্যাশেজ জয়ের আশা করা; কোনোটাতেই দোষের কিছু নেই। কিন্তু কেভিন পিটারসেন বলছেন, এখনই অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্নে উতলা হয়ে পড়াটা ঠিক হবে না। অস্ট্রেলিয়া যে নিজের মাটিতে কত বিপজ্জনক দল, সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তার চেয়েও বড় কথা, ভারতের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
ইংলিশ ব্যাটসম্যান পিটারসেন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এখন আহত জন্তু ‘অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানো খুব, খুব কঠিন। আর এখন ওরা আহত জন্তু। পশু আহত হলে সে আরও ভয়ানক শিকারি হয়ে ওঠে। আশা করি, আমরা ওদের সঙ্গে লড়াই করার মতো যথেষ্ট ভালো খেলতে পারব।

দুই রানের আক্ষেপ আফ্রিদির

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েক মিনিট পেরিয়ে গিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। কিন্তু মঞ্চে দাঁড়ানো দুই অধিনায়কের মুখে তখনো উত্তেজনার রেশ। হওয়ারই কথা। পরশু যে আরেকটি ‘থ্রিলার’ উপহার দিল পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটিও গড়াল শেষ ওভারে। এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানে হার পাকিস্তানের।
একটুর জন্য জয় ফসকে গেলে সব অধিনায়কের কণ্ঠে অনুতাপের আগুনই থাকে বেশি। আফ্রিদিও সেই হাহাকারের কথাই শোনালেন। অবশ্য শেষ দিকে ফাওয়াদ আলমের (৫৯*) নেতৃত্বে ওয়াহাব রিয়াজের (১১ বলে ২১) ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাকেও পিঠ চাপড়ে দিলেন অধিনায়ক।
স্বাভাবিকভাবেই ইয়োহান বোথার মুখে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে যাওয়ার তৃপ্তি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক হাসিমুখে স্বীকার করে নিলেন, ‘ভাগ্য এবার আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে।’ প্রশংসা করেছেন আমলারও। করারই কথা। আমলা যে এ বছর তাঁর পঞ্চম আর সব মিলিয়ে ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এদিন। দলের ২২৮ রানের ১১৯-ই তাঁর। তবুও ম্যাচ-সেরা আমলা যথারীতি বিনয়ী, ‘আমি প্রতি ম্যাচেই শিখছি। আসলে ইদানীং সবকিছুই যেন যেমনটা চাইছি, তেমনটাই হচ্ছে।’

বাতিস্তার চোখ বিশ্বকাপে

এল পেলুসা’র হাত ঘুরে পাকাপাকিভাবে চেয়ারটায় বসে পড়লেন ‘এল চেচো’। আনুষ্ঠানিকভাবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হলো তাঁরই ১৯৮৬ বিশ্বকাপ দলের সতীর্থ সার্জিও বাতিস্তার নাম।
এ ঘোষণাটাই শুধু বাকি ছিল। বাতিস্তা যে দলের দায়িত্ব পাচ্ছেন সেটা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল আগেই। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পেলেও বড় পরীক্ষায় বাতিস্তাকে পড়তে হচ্ছে আগামী বছরেই। ২০১১ কোপা আমেরিকার আয়োজক আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পরের ১৭ বছরে আর কোনো টুর্নামেন্টেরই শিরোপা আসেনি আর্জেন্টিনার ঘরে।
তবে এরও আগে একটা প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে বাতিস্তার। আর কদিন পরেই, ১৭ নভেম্বর প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। পূর্ণ কোচ হিসেবে ওটাই হবে বাতিস্তার প্রথম ম্যাচ। প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিল! অভিষেকেই আগুনের তাপ!!
পরশু সংবাদ সম্মেলনে স্মিত হাসি ধরে রাখা বাতিস্তা অবশ্য জানালেন, ছোটখাটো এসব চ্যালেঞ্জ নয়, তিনি প্রস্তুত মহারণের জন্য। একটা চোখ তাঁর সব সময়ই থাকবে বিশ্বকাপে, ‘যেন একটা স্বপ্ন, আমার জীবনের বৃহত্তর লক্ষ্যটাই পূরণ হচ্ছে। আমি ২০১৪ বিশ্বকাপ জিততেই চাই, ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়েই।’
ম্যারাডোনার সতীর্থ হলেও দুজনের মধ্যে মিল খুঁজতে যাওয়া বোকামি। সব জায়গায় একটু মিলের মধ্যেই যেন অমিলের স্রোত। যেমন ধরুন, তিনিও মিডফিল্ডার ছিলেন, তবে ম্যারাডোনার মতো নন। ছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তাঁরও ক্যারিয়ার শুরু আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। কিন্তু ম্যারাডোনার মতো দ্রুতই ক্লাবটি ছেড়ে বোকায় নাম লেখাননি। বরং এই ক্লাবের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন। দুবার লিগ জিতেছেন, একবার কোপা লিবার্তোদোরেস। মিশেল প্লাতিনির জুভেন্টাসের বিপক্ষে ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন টাইব্রেকারে। ফলে ক্লাব পর্যায়ে ম্যারাডোনার মতো অমন সাফল্য পাননি।
ব্যক্তিজীবনে ম্যারাডোনার মতোই ড্রাগের অন্ধকার জীবনে পা বাড়িয়ে দ্রুতই আবার ফিরেও আসেন। বাবার মৃত্যুই ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছিল তাঁকে। কথা বলেন খুবই কম, আচার-আচরণেও ম্যারাডোনার ঠিক উল্টো। এ মাসের ৯ তারিখ ৪৮ পূর্ণ করতে চলা বাতিস্তা কোচ হিসেবে অন্তত ম্যারাডোনার চেয়ে অভিজ্ঞ। ২০০৭ সালে আর্জেন্টিনা যুবদলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ছয়টি ক্লাবে কাজ করেছেন বিচ্ছিন্ন মেয়াদে। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের একমাত্র যে সাফল্য, ২০০৮ অলিম্পিকে সোনা জয়, সেই দলের কোচ ছিলেন বাতিস্তাই। কোচ হিসেবে লিওনেল মেসি যে ম্যারাডোনার চেয়ে বাতিস্তাকেই বেশি পছন্দ করেন, এও আর অজানা নেই।
দেখাই যাক, এবার মেসি-বাতিস্তা জুটি কেমন জমে!

ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্টে ‘বাংলাদেশ’

ম্যাচটি আহমেদাবাদে। খেলবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। শচীন টেন্ডুলকারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি কিংবা টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ে ভারতের শীর্ষস্থান আরও সংহত হবে কি না, সেটিরই বেশি আলোচনা হওয়া উচিত। আলোচনা এ নিয়ে চলছেও। তবে দুই দলের ৩ টেস্টের সিরিজে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথমটিতে ঘুরেফিরে বাংলাদেশও আসছে। ব্যাপারটা অদ্ভুত ঠেকলেও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসাটা অযৌক্তিকও তো নয়।
কদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। ভারত সফরে যাওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে এ নিয়ে তোলপাড়ও হয়েছে অনেক। আজ ম্যাচে নামার আগে সাংবাদিকদের মূল যে প্রশ্নটির জবাব দিতে হয়েছে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে অমন পরাজয়ের দুঃস্মৃতি মুছে ভারতের বিপক্ষে ভালো করতে পারবে নিউজিল্যান্ড?ভেট্টোরি ‘হ্যাঁ’সূচক মাথাই নেড়েছেন। টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ভারতও সতর্ক। বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘বাজে হেঁচকি’ ভারতের বিপক্ষেও নিউজিল্যান্ডের উঠবে না বলেই মনে করেন হরভজন। সতীর্থদের তাই সতর্ক করে দিয়েছেন এই অফ স্পিনার। নিউজিল্যান্ডের সাবেক ওপেনার মার্ক রিচার্ডসনও তাঁর লেখা কলামে আস্থা রেখেছেন ভেট্টোরি, ওয়াটলিং, ম্যাককালাম, গাপটিল, টেলর, রাইডারদের ওপর। মোতেরা স্টেডিয়ামের নির্বিষ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের ২০ উইকেট ফেলতে পারবে কি না, এটা নিয়ে সংশয় আছে অনেকেরই। ব্যাটিং লাইনআপটাও যতই ভালো হোক নিউজিল্যান্ডের, দ্বিতীয় ইনিংসে হরভজন ও প্রজ্ঞান ওঝার ঘূর্ণির সামনে কতটা কী করতে পারে তারা, এটি একটি বড় প্রশ্ন।তবে আজ থেকে শুরু ম্যাচে এর পরও ভারতের একটা দুশ্চিন্তা আছে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির দুশ্চিন্তার নাম চোট। ভিভিএস লক্ষ্মণ, জহির খান, ইশান্ত শর্মা ইনজুরি কাটিয়ে সঠিক ছন্দটা খুঁজে পান কি না, এটা একটা প্রশ্ন। ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন, ‘ফাস্ট বোলিংয়ে শুধু জহিরকে সমর্থন দেওয়ার চেয়ে আমি উদ্বিগ্ন ইনজুরি নিয়ে। একটা সিরিজেও আমরা পুরো শক্তি নিয়ে খেলতে পারি না।’নিউজিল্যান্ড অবশ্য পুরো শক্তি নিয়েই নামছে। এই দল নিয়ে বাংলাদেশ দুঃস্বপ্ন ভুলে সুদিনের স্বপ্নও দেখছেন ভেট্টোরি, ‘আমি জয়ের জন্যই খেলতে চাই।

বাংলাদেশকে ভোলেননি হোয়াটমোর

কুমিল্লার মানুষের জন্য খবরটা চমকে যাওয়ার মতোই। বাংলাদেশের কোচ থাকার সময়ও যিনি রাজধানীর কাছের এই শহরটায় কখনো পা রাখেননি, সেই হোয়াটমোর হঠাৎ কুমিল্লায়!
কুমিল্লার হোয়াটমোর-দর্শন আসলে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল, সংক্ষেপে সিএবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কুমিল্লা সফর উপলক্ষে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচ খেলতে আসা সিএবি দলটির কোচ গৌতম সোম বাবার অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে যাওয়ায় সিএবি আপৎকালীন কোচ হিসেবে পাঠিয়েছে হোয়াটমোরকে। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ হিসেবে বছরে মাত্র দুই মাস ব্যস্ততা। হোয়াটমোর তাই শাহরুখ খানের দলের দেখভালের পাশাপাশি সিএবির কোচিং ডিরেক্টরও।
তো সেই হোয়াটমোর যখন কুমিল্লায় কিংবা বাংলাদেশে সেটি নিয়ে আলোচনা তো হবেই। কুমিল্লা ক্লাবে বসে ঢাকার পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সেসব নিয়েই দীর্ঘ আড্ডায় মেতে উঠলেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ। তাঁর সময়ের যেসব খেলোয়াড় এখন আর খেলায় নেই, তাদের খোঁজ নিলেন। সে সময়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আর কে কে এল জাতীয় দলে, বর্তমান নির্বাচক কমিটিতে কারা আছেন—হোয়াটমোরের কত কৌতূহল! কোথায় সাংবাদিকেরা বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তাঁর বর্তমান ভাবনা জানবেন, তা না হোয়াটমোরের প্রশ্নই শেষ হয় না।
পাল্টা প্রশ্নের প্রথমেই অনুরোধ, ‘জটিল কোনো প্রশ্ন নয়। জেমি সিডন্স এখন দলের কোচ। তাঁর নিশ্চয়ই একটা পরিকল্পনা আছে, দলটার ভালোর জন্য কাজ করছে সিডন্স আর তাঁর কোচিং স্টাফ। কাজেই এসব নিয়ে আমার কথা না বলাই ভালো।’ তবে জানালেন, দূরে গেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখেন। এ দেশের ক্রিকেটের উন্নতির গ্রাফটা তাঁর চোখেও পড়ছে, ‘সবাই চায় ধারাবাহিকতা। আমি যখন ছিলাম, তখনো প্রত্যাশা এটাই ছিল। এখন জেমি সিডন্সও তাই বলছেন। তবে ধারাবাহিকতা হতে হবে জয়ের, ভালো পারফরম্যান্সের। পরাজয় বা বাজে পারফরম্যান্সের নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে তারা উন্নতি করছে। তবে হ্যাঁ, সবাই যা আশা করে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কাজটা করতে হয়তো আরও সময় লাগবে।’
মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে বর্তমান ক্রিকেটারদের মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন সাবেক কোচ, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০-তে সিরিজ জয় চাট্টিখানি কথা নয়। একটার পর একটা ম্যাচ তারা জিতেছে এবং পরের ম্যাচের জন্য সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। আগেই সিরিজ জিতে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটা না জিতলেও চলত। কিন্তু দেখুন, দারুণ ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ সেটাও জিতে নিল।’ বাংলাদেশের প্রশংসার সঙ্গে একটু হতাশাও ঝরেছে হোয়াটমোরের কণ্ঠে। সেটা একসময়ের প্রিয় ছাত্র মাশরাফি বিন মুর্তজার ইনজুরি নিয়ে, ‘পাগলার (মাশরাফিকে এ নামেই ডাকতেন হোয়াটমোর) এমন অ্যাঙ্কেলের ইনজুরিটা যে কারও হতে পারে। তবে ও একটু দুর্ভাগা। আর আমার মনে হয়, ওর বারবার ইনজুরিতে পড়া নিয়ে এত দিনে আরও কিছু কাজ হওয়া উচিত ছিল।’
শ্রীলঙ্কাকে ’৯৬ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সুপার এইটে তোলার নেপথ্য-নায়কও তিনি। এরপর ভারতের জাতীয় একাডেমি হয়ে হোয়াটমোর এখন কেকেআর এবং সিএবি নিয়ে আছেন। হাই-প্রোফাইল কোচ হিসেবে হোয়াটমোরের জন্য কাজটা হয়তো নগণ্যই। যদিও তিনি বলছেন, ‘সব কাজেই চ্যালেঞ্জ আছে।’ অল্প সময়ের জন্য এসে কুমিল্লায় সিএবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সঙ্গেও সময়টা খারাপ কাটছে না অস্ট্রেলিয়ান কোচের। নিজে না গেলেও দলের খেলোয়াড়দের কাল বিকেলে কুমিল্লা বার্ডে ঘুরতে পাঠালেন। তিন দিনের ম্যাচের পর কুমিল্লায় একটা ওয়ানডে হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন সব ওয়ানডেই হবে সিলেটে। পরশু কুমিল্লায় ম্যাচ শেষে তাই সিলেট হয়ে হোয়াটমোর ঢাকা যাবেন ১৩ নভেম্বর, বাংলাদেশ ছাড়বেন তার পরদিন। যাওয়ার সময় সাড়ে তিন বছর আগের স্মৃতির সঙ্গে বাড়তি কিছু যোগ হবে নিশ্চিত।

ম্যাথুস-মালিঙ্গার অসাধ্য সাধন

৮৬ রানে শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেট পড়ে যাওয়াতেই কথাটা একবার উঠল। ২৪০ স্কোর করে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জেতার রেকর্ড কোনটি? সেই আলোচনা মাঝখানে একটু ঝিমিয়ে পড়ার পর শুরু হলো নতুন আলোচনা, এই কি তবে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। শ্রীলঙ্কা তখন ১০৭ রানে হারিয়ে ফেলেছে অষ্টম উইকেট। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আছেন বটে, কিন্তু সঙ্গী লাসিথ মালিঙ্গার যে সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংসটা ১৬ রানের। অস্ট্রেলিয়ার জয় তখন যেন নিশ্চিতের চেয়েও বেশি কিছু।
সেখান থেকে সেই মালিঙ্গাকে নিয়েই অসাধ্য সাধন করলেন ম্যাথুস। নবম উইকেটে ম্যাথুস-মালিঙ্গা ১৩২ রানের রেকর্ড জুটিই (আগের রেকর্ডটি ছিল ২৭ বছর পুরোনো, কপিল-কিরমানির) ১ উইকেটে জেতাল শ্রীলঙ্কাকে। অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি পরাজয়ের স্বাদ দেওয়ার পর এখন তিন ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিও জিতে নিল সফরকারীরা। টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলে এটি অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ পরাজয়।
থিসারা পেরেরার তোপে কোণঠাসা হয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ২৩৯ রান। টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নেওয়া মাইক হাসি অপরাজিত ছিলেন ৭১ রানে। পর পর দু বলে হাডিন-হোয়াইটকে ফেরানো থিসারা হ্যাটট্রিক না পেলেও ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পেয়েছেন।
তার পরও মেলবোর্নে জয়ই দেখতে পাচ্ছিল মাইকেল ক্লার্কের দল। ১৯ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরু করা শ্রীলঙ্কা একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই গিয়েছিল ৮৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ায়। অভিষেকেই ৪ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন জেভিয়ার ডোহার্টি। কিন্তু ম্যাথুস-মালিঙ্গা ক্লার্কদের মুখের গ্রাসটা কেড়ে নিয়ে গেলেন।
প্রথম ওয়ানডে ফিফটি করে মালিঙ্গা আউট হওয়ার পর নতুন করে জমে ওঠে উত্তেজনা। কিন্তু জয়সূচক রানটা মুরালির ব্যাট থেকেই আসবে, নিয়তি বুঝি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল। ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে দুশ্চিন্তার কুয়াশা সরিয়ে জয়ের হাসি এনে দিয়েছেন শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা এই স্পিনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৩৯/৮ (হাসি ৭১*, হাডিন ৪৯; পেরেরা ৫/৪৬, মুরালিধরন ০/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ৪৪.২ ওভারে ২৪৩/৯ (ম্যাথুস ৭৭*, মালিঙ্গা ৫৬, সাঙ্গাকারা ৪৯; ডোহার্টি ৪/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ-সেরা: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

আলোচনা- যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের স্বার্থ রক্ষাকারী ইসরাইল লবি ‘দি ইসরাইল লবি অ্যান্ড ইউএস ফরেন পলিসি’ by জন জে ম্যায়ারসিমা এবং স্টিফেন এম ওয়াল্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নানা ধরনের লবি আছে। এদের কাজ হচ্ছে সরকারি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নীতিগতভাবে তাদের স্বার্থ হাসিল করা।
যেসব লবি রয়েছে তার মধ্যে ইহুদিদের স্বার্থ রক্ষাকারী ইসরাইল লবি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের নেটওয়ার্কের পরিসরও অনেক বিস্তৃত। এরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বিদেশনীতি ইত্যাদি বিষয়ে মার্কিনি নীতিনির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ামক। এই লবিতে কারা আছেন, কোন ক্ষেত্রে কীভাবে তারা কাজ করেন। এ বিষয়েই জন জে ম্যায়ারসিমা এবং স্টিফেন এম ওয়াল্ট-এর বই ‘দি ইসরাইল লবি অ্যান্ড ইউএস ফরেন পলিসি’। বইটির অংশবিশেষ সাপ্তাহিক বুধবার এর সৌজন্যে প্রকাশিত হল। অনুবাদ করেছেনঃ ওসমান করীম।

ইভটিজং আলোচনা- নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া

গুরুত্বর অপরাধ করলেও কোনো শাস্তি হয় না – এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে দেশে সব ধরনের অপরাধই বাড়ছে। আর এ কারণেই নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীরাও অদম্য হয়ে উঠেছে।

আইনের ফাঁকফোকর আর সরকারের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলায় তারা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। আগের চেয়ে আরো মারমুখী হয়ে উঠেছে। আগে অতিষ্ঠ মেয়েটি জীবন দিয়ে এ থেকে নিস্তার পেতে চাইত। কিন্তু বর্তমানে তার আত্মীয়স্বজন, অভিভাবক, শিক্ষক-কারোরই রেহাই নেই। নারী উৎপীড়নের বাধা হয়ে দাঁড়ালে জীবন দিয়ে মাশুল দিতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'ছাত্ররাজনীতি তার হারানো গৌরব ফিরে পাক' by ফরহাদ মাহমুদ

ছাত্ররাজনীতি তার গৌরব হারিয়েছে অনেক আগেই। বিশেষ করে আশির দশক থেকে ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করার যে-পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার ফলে ছাত্ররাজনীতির সংজ্ঞাই যেন পাল্টে যেতে থাকে।

অথচ এ দেশে ছাত্ররাজনীতির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছাত্রদেরই সৃষ্টি, মূল চালিকাশক্তিও ছিল তারা। বাষট্টি, ঊনসত্তর, একাত্তরে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। এমনকি কলুষিত করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলো ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

আলোচনা- 'দেশ কাঁপানো নূরজাহান' by আবদুল হামিদ মাহবুব

লক্ষ্মী। নামের মধ্যেই সৌভাগ্যের বারতা মেশানো। কেন রাখা হয়েছিল এমন নাম? নূরজাহানের কপালে লক্ষ্মীর ছোঁয়া লাগেনি কেন? ফতোয়াবাজরা একজন নারীকে নিয়ে কেন করল এমন আচরণ

এসব ভাবনা মাথায় থাকতেই ট্রেন এসে থামল কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমে আবার পথচলা শুরু। গন্তব্য ছাতকছড়া, যে গ্রামে নূরজাহানের ওপর ফতোয়া জারি হয়েছিল।
ছাতকছড়া পেঁৗছে জানা গেল এ গ্রামের বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের কথা। এ বৈশিষ্ট্যের যাঁতাকলে পড়ে ফতোয়ার শিকার হয়ে ১৯৯৩ সালে জীবন দিতে হয়েছিল নূরজাহান ওরফে লক্ষ্মীকে। জানা গেল, প্রশাসন নয়, জনপ্রতিনিধি নয়, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় নেতাও নয়_ছাতকছড়া চলে একজন গ্রাম্য নেতার কথামতো।

ইতিহাস- 'বাংলা ভাষার স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ' by রফিকুল ইসলাম

বিগত হাজার বছরের ওপর বাংলাদেশ বহিরাগত বিজয়ী এবং ভাষা দ্বারা শাসিত হয়ে এসেছে। বাংলার প্রথম রাজশাসক শশাংকের ভাষা কী ছিল তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু তাঁর আর্যবর্তমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মনে হয়, তিনি উত্তর ভারতের ভাষা ব্যবহার করতেন।

বৌদ্ধ পাল রাজারা স্থানীয় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ ভাষাই কেবল ব্যবহার করতেন কি না সন্দেহ; কারণ তখন আর্যদের ভাষা স্থানীয় অনার্যদের ভাষাকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের অনার্য ভাষাগুলোর ওপর আর্য ভাষা আরোপিত হয়েছে। বাংলা ভাষা একটি আর্য ভাষা, সপ্তম থেকে দশম শতকের মধ্যে বাংলা ভাষা প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার খোলস ছেড়ে স্বাধীন ভাষারূপে আত্দপ্রকাশ করলেও তা উচ্চবর্ণের বা শাসকদের ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা পায়নি।