Friday, July 4, 2025
পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তা ছাড়া কি ইসরায়েল টিকে থাকতে পারবে by রামজি বারৌদ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা এবং তা থেকে শুরু হওয়া ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক যুদ্ধ দুটি ভয়াবহ সত্যকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমত, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃত ও আগ্রাসীভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবজ্ঞা করছে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েল রাষ্ট্র কোনোভাবেই একা টিকে থাকতে সক্ষম নয়।
এই দুটি বিষয়ের একটি অন্যটি থেকে আলাদা মনে হলেও বাস্তবে একটি অন্যটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কারণ, যারা সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে টিকিয়ে রেখেছে, তারা সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মধ্যপ্রাচ্য আর সেই বিস্ফোরণপ্রবণ অঞ্চল থাকবে না। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে অস্থিতিশীল হয়ে আছে এই অঞ্চল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
অতিমাত্রায় সরলীকরণ না করেও বলা যায়, কঠিন বাস্তবতা হলো ইসরায়েল যদি গাজা থেকে সরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত ও গণহত্যার শিকার সেই অঞ্চলকে একটু স্থিতিশীল হয়ে উঠার সুযোগ দেয়, তাহলেই পার্থক্য প্রকাশ্য হয়ে আসবে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি নৃশংসতায় ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ হাজারে বেশি শিশু ও ও ২৮ হাজারের বেশি নারী রয়েছেন।
গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হলে নিহত ব্যক্তিদের এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষায় বিশ্ব এগিয়ে এলে হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
‘যার শক্তি, সেই সঠিক ও ন্যায্য’—আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে এই ঘৃণ্য নীতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সামনে এখন সময় এসেছে, তারা যেন সত্যিকারের ভূমিকা নেয়। তারা যেন নিজেদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে সাহায্য করে এবং নিশ্চিত করে যে ইসরায়েল আর তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারবে না।
ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এই দাবি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এমনকি চিন্তার বাইরে। বোঝা যায়, তাদের এই নীতি তাদের ঔপনিবেশিক অবস্থানের কারণেই। কেন?
বিখ্যাত গবেষক প্যাট্রিক উলফ বলেছিলেন, ‘আক্রমণ কেবল কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামো।’ এই গভীর বক্তব্যটি বুঝিয়ে দেয়, ১৯৪৮ সালের নাকবা বা ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসরায়েলের সব যুদ্ধ ও দখলদারত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কাঠামোর অংশ। তাদের এসবের পেছনে মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
তাই ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের আচরণকে শুধু প্রতিশোধ বলেই মনে করা ভুল, বরং এর পেছনে সুস্পষ্ট কৌশল ছিল।
গাজার বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড দেখে আমরা হয়তো প্রথমে এই বিষয় বুঝতে পারিনি। কারণ, গাজায় প্রতিদিনের নৃশংসতা ঘটনা থেকে ইসরায়েল যেন এক অদ্ভুত আনন্দ নিচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে।
তবে ইসরায়েল নিজেই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছে। দেশটির উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘আমরা গাজাকে জনশূন্য দ্বীপে পরিণত করব।’
নেতানিয়াহুর এই উম্মত্ত বক্তব্য ইসরায়েলের ঔপনিবেশিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যতক্ষণ না এটিকে থামানো যায়, ততক্ষণ তার থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু কে বা কারা ইসরায়েলকে থামাবে?
ইসরায়েল বহু বছর ধরেই একদল সমর্থক ও উপকারভোগীর সাহায্য নিয়ে চলছে। ওই উপকারভোগীরা এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার একটি ঘাঁটি হিসেবে দেখে থাকে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জনগণের সম্পর্ক রক্ত-মাংসের মতো গভীর। আমরা অভিন্ন মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ।’
বাইডেনের এই তথাকথিত ‘অভিন্ন মূল্যবোধ’ যে গণহত্যাকে সমর্থন করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন না তুলেই বাইডেন আসলে স্বীকার করেছিলেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কেবল রাজনীতির বিষয় নয়, বরং গভীর আদর্শিক ও কৌশলগত বন্ধন।
পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য নেতাও ইসরায়েল সম্পর্কে অন্ধভাবে একই কথা বলে চলেছেন। তবে গাজায় ইসরায়েলের চলমান এই নৃশংস গণহত্যা বহু দেশকে, বিশেষ করে কিছু পশ্চিমা ও বেশির ভাগ অ–পশ্চিমা দেশকে সাহসের সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে।
নেতানিয়াহু ও তাঁর চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো এতটা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়নি।
স্পেন, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশ প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা ‘বন্ধন’ চিরকাল অটুট থাকে না। তাদের সমর্থন ইসরায়েলের প্রতি একচেটিয়া বা নিরঙ্কুশ নয়।
কেন কিছু দেশ ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস করছে, আবার কিছু দেশ শত অন্যায় সত্ত্বেও চুপ থাকছে? এই বিষয় আসলে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
পশ্চিমাদের সঙ্গে ইসরায়েলের এই কথিত বন্ধন ভেঙে দেওয়া এখন জরুরি। এটি শুধু ন্যায়ের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য।
গাজায় প্রায় ২১ মাসের অসহনীয় গণহত্যা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে এক কঠিন সত্য—ইসরায়েল হচ্ছে আসলে একটি ‘সামন্ত রাষ্ট্র’ (যে রাষ্ট্র অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)। এমন রাষ্ট্র নিজে যুদ্ধ করতে পারে না, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি নিজ অর্থনীতি চালাতেও পারে না। ইসরায়েলও ঠিক তেমনই—মার্কিন ও পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারে না, কোনো কিছু চালাতে পারে না।
গাজায় নৃশংস হামলা শুরুর আগে কিছু ইসরায়েলি নেতা মাঝেমধ্যে বলতেন, ‘ইসরায়েল স্বাধীন দেশ। এই দেশ মার্কিন পতাকার আরেকটি তারকা নয়।’
এখন এসব কণ্ঠ বা এমন কথাবার্তা একরকম থেমে গেছে। বরং এই রাষ্ট্রকে এসব কথা বলার পরিবর্তে এখন কেবল মার্কিন সহায়তার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে শোনা যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা বরাবরের মতো সাহসের সঙ্গে দখলদার সেনাবাহিনী ও বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করছে।
এই অবস্থায় যারা আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিতে বিশ্বাস রাখে, তাদের দায়িত্ব হলো সেসব সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো, যারা আজও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তাকে টিকিয়ে রাখছে।
ইউরোপের দেশ স্পেনসহ কিছু দেশের সরকার যা করছে, তা কয়েক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল।
যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্পষ্টভাবে বলছেন, ২০০০ সাল থেকে চালু ইইউ-ইসরায়েল বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করতে হবে। কারণ, গাজার ‘গণহত্যা পরিস্থিতি’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্পেনের সানচেজের মতো আরও অনেক দেশ একইভাবে নির্ভীক ও আপসহীন অবস্থান নিলে অন্তত ইসরায়েলের সেসব অস্ত্র পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যেসব অস্ত্র দিয়ে তারা গাজায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
এই সময়ে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হলো, সেই সাহসী কণ্ঠগুলোর পাশে দাঁড়ানো। শুধু ইসরায়েল নয়, বরং যারা এই বসতি-উপনিবেশিক কাঠামোকে বজায় রাখতে সাহায্য করছে, তাদের সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একদিনে আরও শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা: দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে বড় হুমকির মুখে ইসরাইলের অর্থনীতি
সূত্র: জিও নিউজ
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে বড় হুমকির মুখে ইসরাইলের অর্থনীতি
নতুন এক মাত্রায় পৌঁছেছে ইরান-ইসরাইল সংঘাত। এখন যুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র শুধু অস্ত্রে নয়, অর্থনীতিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরান এবার সরাসরি ইসরাইলের আর্থিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। জুনে ইসরাইলের বন্ড করপোরেশনের প্রধান দানি নাভেহের বাসভবনে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। বলে রাখা ভালো ওই করপোরেশনটির মাধ্যমে গত কয়েক মাসে প্রবাসী ইহুদি ও বিভিন্ন সরকারি উৎস থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে দানি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও বড় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া ইসরাইলের প্রধান বন্দর হাইফায় হামলা ও মায়ার্সক- এর জাহাজ চলাচল স্থগিত করে দেওয়া ইসরাইলের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বলে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দরটি বন্ধ হওয়ায় আমদানি ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশটি কার্যত বাণিজ্যিকভাবে একঘরে হয়ে পড়তে পারে।
মিডলইস্ট আইয়ের অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক আহমেদ আলকারারৌত তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ইরানের এই আক্রমণ কৌশলগত ও সাশ্রয়ী। মাত্র ২-৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তারা ইসরাইলের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের যুদ্ধ খরচ আকাশচুম্বী। কমছে মুদ্রার মান, আর বেড়েছে বন্ডের সুদহার। বিনিয়োগও নিম্নমুখী। যা জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এখন জার্মানি, ফ্রান্স ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অর্থ সাহায্য চাইছে ইসরাইল। যা নজিরবিহীন ঘটনা। এমন যুদ্ধব্যায় দেশটির অর্থনীতিতে কতটা গভীর চাপ তৈরি করেছে তারই বড় প্রমাণ।
এ সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশল নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একদিকে ইরানের চীনমুখী রেলযোগাযোগে হস্তক্ষেপ, অন্যদিকে সিরিয়া-লেবাননে উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে ইরানের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কেবল সময়ক্ষেপণ বলে মনে করেন আহমেদ। তিনি বলেন, ইরান কৌশলে এগিয়ে গেছে, আর অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে ইসরাইল। এখন এই শূন্যতা ব্যবহার করে অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
কোনদিকে নেতানিয়াহু যুদ্ধ নাকি শান্তি?
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বছর তৃতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে পা রাখতে চলেছেন। তবে এবারের সফর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গাজা যুদ্ধ ২০ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এই মুহূর্তে ইসরাইলকে কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা হচ্ছে। তা হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই আমরা একটি যুদ্ধবিরতি দেখতে চাই। কিন্তু নেতানিয়াহু কি যুদ্ধবিরতির অবস্থায় আছেন? এ নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে সিএনএন বলছে, নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরাইল ক্রসরোডে। তার এবারের সফরের মূল আলোচ্য বিষয় গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের মুক্তি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে ইসরাইলিরা গাজায় কমপক্ষে ৫৬ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গাজা ভূখণ্ডের শতকরা ৬০ ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এখন ইসরাইলি সেনারা। পক্ষান্তরে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত। তারা উপকূল এলাকার দিকে ছুটে গেছেন। সেখানেও রক্ষা নেই। সেখানেও তাদের ওপর বোমা ফেলছে ইসরাইল। এ অবস্থায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, হামাসের অনেক শীর্ষ নেতা নির্মূল হলেও তাদের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তাই শক্তির ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোবে তা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা এখন দ্বিধায়। সেনাবাহিনী কূটনৈতিক পথে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও ডানপন্থী জোটের অংশীদাররা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড়। আবার বন্দি মুক্তিই এখন মূল অগ্রাধিকার বলে মত দিয়েছেন কল্যাণ মন্ত্রী ইয়াকভ মারগি। তিনি বলেছেন, আমরা ৬০০ দিনের বেশি দেরি করে ফেলেছি। মঙ্গলবার কাতার সরকার ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি নতুন প্রস্তাব জমা দেয় হামাস ও ইসরাইল উভয়ের কাছে। এ প্রস্তাবে হামাসের শর্তাবলী আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবটির নেপথ্যে কাজ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবে সমস্যা রয়ে গেছে- হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে এসেছে এবং তারা গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, যা ইসরাইল মানতে নারাজ।
যুদ্ধবিরতির আলোচনার সাথে সাথে একটি নতুন দিকও সামনে এসেছে- গাজার মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি ইসরাইলের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রস্তাব পেশের আগ মুহূর্তেই পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সাবেক মেজর জেনারেল ইসরাইল জিভ বলছেন, এখন নেতানিয়াহুর সামনে দুইটি পথ খোলা আছে। তা হলো একদিকে যুদ্ধ বন্ধ করে হামাসের বিপক্ষে অর্জনকে কূটনৈতিক চুক্তিতে রূপান্তর করে সিরিয়া ও লেবাননের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নেওয়া। অন্যটি হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, যা বাস্তবিক অর্থে গাজা পূর্ণাঙ্গ দখলের পথে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের উপর নেতানিয়াহুর সরকার টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে ডানপন্থীদের প্রতিক্রিয়ার উপর।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর: যাহা পাই তাহা চাই না by মহিউদ্দিন আহমদ
শৈশবে পাঠ্যবইয়ে মরীচিকার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম। ধু–ধু মরুভূমিতে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত পথিক দূরে জলের দেখা পায়। তপ্ত বালুরাশির ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলন জলের বিভ্রম একসময় ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। আমরা যেন মরীচিকার পেছনে ছুটছি। কিছুতেই ধরতে পারছি না। রাজনীতিবিদেরা শিখিয়েছেন, তাঁদের কথা শুনলে, তাঁদের দেখানো পথে চললে আমরা সুখের সৈকতে পৌঁছে যাব। সেই থেকে আমরা হাঁটছি, ঘুরছি, দৌড়াচ্ছি; কিন্তু পথ আর শেষ হয় না। সুখের দেখা মেলে না।
নেতারা একটার পর একটা ইশতেহার দেন। কত সুন্দর সুন্দর নাম সেগুলোর। গণতন্ত্রের চারণভূমিতে পৌঁছাব, সমাজতন্ত্র এল বলে। সেখানে কোনো বৈষম্য নেই। দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়েছে। তাঁদের ভোট দিলে সার্বভৌমত্ব টিকে যাবে। তারপর আমাদের যা চাহিদা, সব মিটে যাবে। আমরা কত কিছু চাই। আমাদের চাওয়াগুলোর কী সুন্দর ভাষা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ: অন্ন চাই, প্রাণ চাই, আলো চাই, চাই মুক্ত বায়ু,/ চাই বল, চাই স্বাস্থ্য, আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু।
--------- দুই.
একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো। দেশ স্বাধীন হলো। মানুষ স্বাধীন হলো না। জন্মের পর থেকে দেখছি ‘ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি’। আন্দোলন, সরকার বদল, স্বপ্নভঙ্গ, আবার আন্দোলন, সরকার বদল, আবারও স্বপ্নভঙ্গ। এ এক বৃত্তাকার চক্র। যেখান থেকে শুরু, সেখানেই ফিরে আসা। বৃত্ত আর ভাঙে না।
দেশপ্রেম মানুষের একটা সেন্টিমেন্ট। উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা তার অনুষঙ্গ। উন্নয়ন না হলে দেশের দরকার কী। মানুষের এই সেন্টিমেন্ট নিয়ে হাডুডু খেলে পাকা খেলুড়েদের কতিপয় সিন্ডিকেট। তারা ঘাড়ে-গর্দানে স্ফীত হয়। তারা অনেকেই টেম্পো ছেড়ে বিএমডব্লিউ চড়ে। এক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরেক সিন্ডিকেট আশার বাণী শোনায়। আমরা পাঁচ-দশ বছর আগের কথা ভুলে যাই। আবারও ছুটি মরীচিকার পেছনে।
সোনার বাংলা শ্মশান কেন—এই জিজ্ঞাসা থেকে আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন একসময় পৌঁছে গেল তুঙ্গে। আমরা স্বাধীন হলাম। আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবকেরা আমাদের উপহার দিলেন শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মন্বন্তর। গুদামে চাল পচে। মানুষ না খেতে পেয়ে রাস্তায় মরে। তখন থেকেই আমরা দেখেছি একের পর এক হীরক রাজার শাসন। কখনো সিভিল পোশাকে, কখনো সামরিক উর্দিতে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা আর সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে ঘটল একের পর এক পালাবদল। একাত্তর, পঁচাত্তর, নব্বই, ছিয়ানব্বই এবং সর্বশেষ চব্বিশ। আমরা দেখলাম ইতিহাসের দীর্ঘতম জুলাই। মনে হয়েছিল, জীবন-মরণ করি পণ/ শেষ যুদ্ধ শুরু আজ কমরেড/ এসো মোরা মিলি একসাথ।
একটা জগদ্দল পাথর সরে গেল; কিন্তু তারপর?
---------- তিন.
৩৬ জুলাই কি অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ, বিপ্লব, নাকি দাঙ্গা। এ নিয়ে কণ্ঠজীবী আর কলমজীবীদের বাহাস চলছে। একটি শব্দ নিয়ে আমরা একমত হতে পারছি না। আমরা নাকি দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। সবাই এত স্বাধীন, যে কেউ যা খুশি করতে পারে। অমুককে ধরো, তমুককে মারো, এই চলছে দিনরাত। এটাই নাকি বিপ্লবের নিয়ম যে সে কোনো নিয়ম মানে না। ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে শোনা গানের সেই চরণের কথা মনে হয় ‘পুরোনো সব নিয়ম ভাঙে অনিয়মের ঝড়।’ আমরা সেই ঝড়ের কবলে পড়েছি।
দেশটা যেখানে ছিল, সেখানেই আছে। কর্তারা সংবিধানের শব্দাবলি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি দপ্তরে সেবা পাওয়া যায় না। গণপরিবহনে অব্যাহত আছে মাফিয়া রাজত্ব। গাঁওগেরামের ছেলেরা ড্রোন আর বিমান বানাচ্ছে। আর আমাদের সেরা প্রকৌশলবিদদের আঁতুড়ঘরে তৈরি হচ্ছে রিকশা। অথচ আমাদের দরকার ছিল কয়েক হাজার আধুনিক বাস। একটা জাতি কতটা পশ্চাৎপদ মানসিকতায় ভুগলে এমন হতে পারে!
আমরা থ্রি জিরোর গল্প শুনছি। লোকে ঠাট্টা করে বলে—আমাদের এখন জিরো গ্রোথ, জিরো এমপ্লয়মেন্ট, জিরো ল অ্যান্ড অর্ডার। আগে আমার কী দরকার? ইউরোপ শিল্পোন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির চূড়ায় উঠে এখন মানবিক হচ্ছে। আর আমরা এখনো ভালোভাবে ‘টেক অফ’ করতে পারিনি। আমরা কি ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ব? আমাদের অগ্রাধিকার কি আমরা বুঝব না? দেশে এখন যে জিনিসটার চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, তা হলো ‘হতাশা’। রাজনীতির রেটোরিকের বাইরে আমরা এখনো যেতে পারিনি। সবাই আছেন বাঁধা বুলিতেই। কেউ বলেন ৩১ দফা, কেউ বলেন নয়া বন্দোবস্ত, কেউ বলেন দায় ও দরদের রাজনীতি। চমৎকার শব্দাবলি!
বড় ক্যানভাসে চিন্তা করলে দেখা যাবে, একটা জাতির জীবনে এক বছর কিছুই না। কিন্তু আমরা তো শূন্য থেকে শুরু করছি না। ১৯১৯ সাল থেকে এ দেশে নির্বাচন হচ্ছে। একাধিক রাজনৈতিক দল শত বছরের পুরোনো। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কি কিছু শিখেছি? নাকি প্রতি পাঁচ বছর পরপর আমরা নতুন করে শুরু করছি?
দেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হলো সংস্কার। সংস্কার কি শুধু সংবিধানে হবে? আমাদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো কী? শুধু সংবিধান খেয়ে কি মানুষ বাঁচবে? মানুষকে শান্তি আর স্বস্তি দিতে যে চারটি সেবার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তা হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণপরিবহন এবং জননিরাপত্তা। এ চারটিতেই আমাদের স্কোর খারাপ। এসব জায়গায় কাজ করতে হলে কি নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার আছে? শুরু তো করা যায়? আমরা তো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখছি না।
---------- চার.
সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটা থাকলেই আমরা অনেকে খুশি। ওটা বাদ দেওয়া যাবে না। আবার আমরা ‘খিলাফত’ও চাই। রাজনীতিবিদেরা এসব শব্দ নিয়ে মল্লযুদ্ধ করতে থাকুক। তাঁদের তো আর খাওয়া-পরার ভাবনা নেই।
মানুষকে বাঁচাতে হলে তার জন্য চাই নানান আয়োজন। এ মুহূর্তে সবচেয়ে দরকার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ দুটি বিষয় নিয়ে কে কী ভাবছেন, সেটি জানা দরকার। বায়বীয় রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে শূন্যে আস্ফালন করে কী হবে? রাজনীতির চিরাচরিত মডেল আর এ দেশে কাজ করবে না।
জুলাই আন্দোলনে দেখেছি, নারী-পুরুষ, শিশু–কিশোর, তরুণ-প্রবীণনির্বিশেষে মানুষ প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে পথে বের হয়েছিলেন। এই লক্ষ কোটি মানুষ তো বিসিএস আর কোটা নিয়ে মাতম করেনি। তারা একটা দম বন্ধ করা পৈশাচিক শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি চেয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল ছাত্রদের। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে দাবিটা চাকরির কোটা অতিক্রম করে এক দফার আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। হাতে গোনা কিছু সুবিধাভোগী আর পরিবারপূজারি ছাড়া সবাই চেয়েছে হাসিনার পতন। আটঘাট বেঁধে, ব্লু-প্রিন্ট বানিয়ে, মিশন-ভিশন স্থির করে আন্দোলন হয়নি, তাই হাসিনা পালানোর পর একটা প্রশ্ন সামনে এসে গেছে—এখন আমরা কোন পথে চলব?
সবাইকে নিয়ে একটা সামাজিক চুক্তি করা ছাড়া সামনে এগোনো যাবে না। এখানে যদি কেউ মনে করেন আমরা বেশি বুঝি, অন্যরা কম বোঝে, সবাইকে হেদায়েত করার দায়িত্ব আমাদের, তাহলে ভুল হবে। সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা এবং সক্ষমতাই বলে দেবে আমরা এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব কি না।
বাংলাদেশটা কিন্তু এখনো উত্তপ্ত। ৩৬ জুলাই ইতিহাসের চাকা থেমে গেছে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। কোনো কিছুই মীমাংসিত নয়।
* মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিবিপ্লবী রাজনীতি ও গণমাধ্যম by ফরহাদ মজহার
তাঁর (কামাল আহমেদ) সঙ্গে আমরা একমত। তবে তিনি লিবারেল ইকোনমিক পলিসি নামে পরিচিত ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগ’কে যে ইতিবাচক চোখে দেখেন এবং নির্বিচার গ্রহণ করেন, আমি সেভাবে দেখি না, গ্রহণও করি না।
মুক্তবাজার অর্থনীতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না। ইউরোপে বাজারব্যবস্থা বিকাশের সঙ্গে গণতন্ত্রের আবির্ভাব ও বিকাশের সম্বন্ধ আছে বটে, কিন্তু একালের কাছাখোলা মুক্তবাজার অর্থনীতি গণতন্ত্রের সহায়ক নয়; বরং গণতন্ত্রের, বিশেষত গণমাধ্যমের ঘাতক। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোর দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।
----------- ২.
কামাল আহমেদ ‘জুলাই সনদে কী থাকছে, কী থাকা উচিত’ (২৬ জুন ২০২৫) নিবন্ধটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জুলাই ঘোষণা’ দিতে বাধা দেওয়া নিয়ে কিছু বলেননি। জনগণকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক বা আইনি সমস্যা দেখেননি।
৫ আগস্টে গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু ৮ আগস্টে বিদ্যমান সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবিপ্লবী রাজনীতির বৃত্তে প্রবেশ করে। কামাল আহমেদ ৮ আগস্টের সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব এবং পরবর্তী সময়ে জনগণকে সজ্ঞানে বাদ দেওয়ার প্রতিবিপ্লবী রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেও ৫ আগস্ট থেকে আলাদা করতে পারেননি।
অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা সরকার লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করছে লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির রাজনৈতিক আধিপত্য নিশ্চিত করার জন্য। এটাও তাঁর কাছে সমস্যা মনে হচ্ছে না।
---------- ৩.
রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের জনগণের প্রতিনিধি গণ্য করা এবং তাঁদের সঙ্গেই আপসরফা করা আদতে পুরোনো ব্যবস্থাকেই পুনর্বাসিত করা। অধ্যাপক ইউনূস এই ভুল করছেন।
লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির প্রতিনিধিদের সঙ্গেই আপসরফার প্রক্রিয়া গণ-অভ্যুত্থানের মর্মের বিরোধী এবং তিনি সেটা করছেন জনগণকে বাদ দিয়ে। এটাই প্রহসনের জায়গা। কারণ, এই লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণি যদি জনগণের প্রতিনিধি হতো, তাহলে তাদের নেতৃত্বেই গণ–অভ্যুত্থান হতো।
৮ আগস্টের সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবের পর তথাকথিত সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন আদতে প্রতিবিপ্লবকেই বৈধতা ও ন্যায্যতা দেওয়ার প্রক্রিয়া।
‘জুলাই সনদ’ বানানোর প্রক্রিয়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা মর্মের বিরোধী এবং সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবকে বৈধতা দেওয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।
তথাকথিত জুলাই সনদ লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্দোবস্তের দলিলের অধিক কিছু নয়, অধিক কিছু হয়ে ওঠা অসম্ভব।
----------- ৪.
ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে প্রধান উপদেষ্টা ‘জুলাই ঘোষণা’ দিতে দেননি। ৬ জুন ২০২৫ তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই মাসেই একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করার কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, তথাকথিত ‘জুলাই সনদে’ একটা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে কটিতে একমত, তার তালিকা থাকবে। সেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক দলগুলো নাকি জাতির কাছে সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে।
ব্যস। এতগুলো মানুষ শহীদ হলো আর এতগুলো মানুষ পঙ্গুত্বের জীবন বরণ করে নিল কেন? লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণি নিজেদের
মধ্যে কোথায় কোন বিষয়ে একমত হলো, সেই সনদের জন্য?
যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যত কিছুই করতে পারেনি, তারা এখন আমাদের ‘জাতীয় সনদ’ উপহার দেবে!
জুলাই সনদ সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবকে বৈধতা ও ন্যায্যতা দেওয়ার দলিল; গণ–অভ্যুত্থানের ঘোষণাকে নস্যাৎ করার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা।
‘জুলাই সনদ’ প্রকৃতপক্ষে ৫ আগস্টের মৌলিক গঠনতান্ত্রিক মুহূর্তকে (কনস্টিটুয়েন্ট মোমেন্ট) অস্বীকার করার কৌশল, যেখানে জনগণ বিদ্যমান রাষ্ট্রশক্তির বাইরে নতুন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
জুলাই ঘোষণার অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে জনগণের অভিপ্রায় ও আকাঙ্ক্ষাকে ‘অদৃশ্য’ করে ফেলা।
------------ ৫.
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, তথাকথিত ‘সংস্কার কমিশন’, ‘জুলাই সনদ’ প্রভৃতি মূলত লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং বিদেশি স্বার্থান্বেষী শক্তির মধ্যকার নতুন বোঝাপড়ার প্রক্রিয়া ও দলিল।
এতে স্পষ্টতই জনগণের অভিপ্রায়ের কথা নেই, আছে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’ করে রাস্তায় নামা জনগণকে বাদ দিয়ে ‘ঐকমত্যের নামে’ সংলাপভিত্তিক রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের সমঝোতা।
কামাল আহমেদের লেখায় সংস্কারপন্থী বিবেচনা, যেমন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, জনপ্রশাসন ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ‘গণতন্ত্রের কার্যকারিতা’ স্থাপনের দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু এগুলো এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারচেষ্টা, যার মৌলিক ভিত্তি হলো জনগণ থেকে কর্তৃত্ব কেড়ে নিয়ে শাসকশ্রেণির মধ্যে
ভাগ করে দেওয়া। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা এখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত; বরং এই সংস্কার বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার একটা কারিগরি বা কৌশল।
কামাল আহমেদের লেখার সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবণতা হলো ‘সবার ঐকমত্যে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’—এই ভাষ্য। বাস্তবে এই ‘ঐকমত্য’ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে? কে ঠিক করছে, কোন সুপারিশ গ্রহণযোগ্য, কোনটি নয়?
জনগণের পক্ষ থেকে কোনো গণপরিষদ, গণশুনানি বা প্রতিনিয়ত সংলাপ তো দেখা যাচ্ছে না। জনগণকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য স্থাপনের মধ্য দিয়ে যে ‘সনদ’ তৈরি হয়, তা কোনোভাবেই জনগণের সার্বভৌমত্ব কায়েম করতে পারে না।
----------- ৬.
কামাল আহমেদের লেখাটিতে গণমাধ্যম সংস্কারের ঘাটতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যে উদ্বেগ জানানো হয়েছে, সেটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার অভ্যন্তরে বসে এবং সেই ব্যবস্থাকে অক্ষত রেখে কিছু ‘নৈতিক সংশোধন’ কামনা করা।
কামাল আহেমদের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে একপ্রকারের ‘সরকারি বা করপোরেট স্বাধীনতা’ দেওয়ার চিন্তা ফুটে উঠেছে, যেখানে জনগণের তথ্য নিরীক্ষণের অধিকার ও জনগণের ভাষ্য নির্মাণের অধিকার মোটেও স্বীকৃত নয়।
কামাল আহমেদ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিরাপত্তা, অধিকার ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সেটা শূন্য বুলি ছাড়া কিছু হয়ে ওঠে না। কারণ, সাংবাদিক হিসেবে তিনি জানেন, এই তথাকথিত সনদ বা কমিশনের মধ্যে শ্রমিকদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এই অবস্থান শ্রমিকশ্রেণিকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে রেখে তাদের আবার ‘সক্ষম শাসকদের দয়া’র অধীন করার চেষ্টা মাত্র।
------------ ৭.
‘সংস্কার’ কথাটির বিপজ্জনক ব্যবহার সংস্কারপন্থীরা বুঝলেও অনেকে বুঝতে পারেন না। ‘সংস্কার’ শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে এমনভাবে, যেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার দু–এক জায়গায় স্বল্প সংশোধন মানেই গণতন্ত্র। এতেই বুঝি জনগণের অধিকার আদায় হয়ে যাবে।
আসলে ‘সংস্কার’ কথাটি জনগণের অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ কিংবা নতুন গঠনতান্ত্রিক শক্তির দাবিয়ে রাখা বা নির্মূল করার ভাষিক অস্ত্র। জনগণের সার্বভৌম অধিকার হলো নিজেদের নিজেরা রাজনৈতিকভাবে গঠন করার ক্ষমতা, নিজেদের গঠনতন্ত্র, রাষ্ট্রকাঠামো এবং বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদের যোগ্য স্থান নির্ধারণের অধিকার—সেটা লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক দলের ‘ঐকমত্যে’ বন্দী হতে পারে না।
------------ ৮.
কামাল আহমেদের লেখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষমেশ লেখাটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবকে কৌশলে রক্ষা করার একটি দুর্বল ভাষ্য হয়ে রইল, তার অধিক কিছু হয়ে উঠতে পারল না।
গণমাধ্যম শুধু জনগণের সামষ্টিক অভিপ্রায়ের কাছে জবাবদিহি করে, কিন্তু কোনো করপোরেট স্বার্থ, রাষ্ট্র, আমলাতন্ত্র বা পুলিশি ব্যবস্থার কাছে নয়। গণসার্বভৌমত্বের আলোকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিয়ে কীভাবে আমরা ভাবব এবং গণমাধ্যমে চর্চা করব, তার কোনো নীতি বা দিশা কামাল আহমেদ দিতে পারলেন না। জনগণের অভ্যুত্থান গণসার্বভৌমত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে নিজেদের নতুনভাবে গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এটা আমাদের প্রয়োজন।
------------- ৯.
জুলাই ঘোষণা হলো জনগণের নতুন গাঠনিক ক্ষমতার ঘোষণা; লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণির সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য জনগণ অকাতরে শহীদ হয়নি।
গণসার্বভৌমত্ব কায়েমের অভিপ্রায় এবং জনগণের সামষ্টিক গাঠনিক ক্ষমতা ও গঠনের কর্তব্য ইত্যাদি সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে পুরোনো শাসকেরাই নতুন মুখোশ পরে পুরোনো ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাই বহাল রাখছে।
একে বলা যায় প্রতিবিপ্লবকে (লিগ্যালাইজড কাউন্টার রেভল্যুশন) বৈধতা ও ন্যায্যতা দেওয়ার কৌশল। ফলে সংস্কারের নামে পুরোনো শাসকশ্রেণি ও শাসনকেই চিরস্থায়ী করার আয়োজন চলছে।
কিন্তু জনগণ কি তা মেনে নেবে?
* ফরহাদ মজহার, কবি, লেখক ও চিন্তক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
রাশিয়ার এই পদক্ষেপটি ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি কোটি সম্পদ জব্দ করেছে। যার ফলে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে মূলত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে তালেবানের কিছু সিনিয়র নেতার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে এই গোষ্ঠী, যখন দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করা মস্কো তখন থেকেই তালেবান কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার এবং মিত্র হিসেবে দেখে।
২০২২ এবং ২০২৪ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দিয়েছিল এবং গত অক্টোবরে মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে দেখা করেছিল গোষ্ঠীর শীর্ষ কূটনীতিক। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানদের ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এপ্রিল মাসে, রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এই গোষ্ঠীর ওপর থেকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা তুলে নেয়।
ল্যাভরভ সেই মাসে মস্কোকে তালেবানদের প্রতি ‘বাস্তববাদী’ নীতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান।গত দুই দশক ধরে তালেবানের প্রতি মস্কোর মনোভাব নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৯৪ সালে আফগান গৃহযুদ্ধের সময় এই দলটি গঠিত হয়েছিল, মূলত ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী সাবেক মার্কিন-সমর্থিত মুজাহিদিন যোদ্ধাদের দ্বারা। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের ফলে মস্কোর এক ভয়াবহ পরাজয় ঘটে যা সম্ভবত ইউএসএসআরের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। উত্তর ককেশাসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থনের জন্য ২০০৩ সালে রাশিয়া তালেবানকে তাদের ‘সন্ত্রাসী’ কালো তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর রাশিয়া এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর রাশিয়াই প্রথম দেশ যারা কাবুলে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অফিস খুলেছিল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস সরবরাহের জন্য আফগানিস্তানকে একটি ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। আফগান সরকার কোনও বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়।
সূত্র : আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাইপ্রাসে কি ‘মিনি ইসরায়েল’ গড়ে উঠছে
বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ইসরায়েল যেন ধীরে ধীরে সাইপ্রাসে তাদের একধরনের ‘অঘোষিত উপস্থিতি’ তৈরি করে ফেলছে।
এখন গ্রিক সাইপ্রাসে ইসরায়েলি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। ফলে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তুরস্ক ও উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের (টিআরএনসি) দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘নতুন ইসরায়েল’—এ কথা এখন গ্রিক সাইপ্রাসের রাজনীতিতে জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল একেলের নেতা স্টেফানোস স্টেফানু এই পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত বসতি স্থাপন কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, গ্রিক সাইপ্রাস যেন ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
জনসভায় দেওয়া বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একেলের নেতারা গ্রিক সাইপ্রাসকে এখন ‘ইসরায়েলের দখলে নতুন দেশ’ বলেও আখ্যায়িত করছেন। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ইসরায়েলি উপস্থিতি নিয়ে সেখানে একটি গুরুতর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্টেফানু দাবি করেছেন, ইসরায়েলি নাগরিকেরা সেখানে যে বসতি গড়ে তুলছেন, তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে শুধু ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য আবাসন প্রকল্প, তাঁদের নিজস্ব শিক্ষা, খাবার, উপাসনালয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মেলামেশার পরিবর্তে নিজেদের আলাদা করে রাখার মতো জায়গা বানাচ্ছেন তাঁরা। এর ফলে এই বসতির বাসিন্দারা স্থানীয় সংস্কৃতি বা সমাজে মিশে যাচ্ছেন না, বরং নিজেদের আলাদা একটি ‘মিনি ইসরায়েল’ বানিয়ে নিচ্ছেন।
এই বসতি স্থাপনের পেছনে সক্রিয় সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ছাবাদ’। এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় অতিরক্ষণশীল ইহুদি ধর্মীয় আন্দোলন। ছাবাদ ইতিমধ্যে গ্রিক সাইপ্রাসে সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়), কিন্ডারগার্টেন (শিশু শিক্ষাকেন্দ্র), কোশার খাবারের দোকান এবং কবরস্থানের মতো কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিশ্লেষকদের মত হলো, ইসরায়েলি সম্প্রদায় শুধু পর্যটক বা অস্থায়ী বাসিন্দা নন, তাঁরা গ্রিক সাইপ্রাসে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতি গড়ে তুলছেন। তাঁরা বলছেন, সিনাগগ, কবরস্থান, কোশার খাবারের দোকান, কিন্ডারগার্টেন ইত্যাদি অবকাঠামো স্থাপন আসলে একটি স্থায়ী প্রভাব বিস্তারের অংশ, যা ভবিষ্যতের কোনো সংকটকালে সামাজিক প্রভাব বা গোপন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তুরস্ক ও উত্তর সাইপ্রাস এই পরিস্থিতিকে বহুস্তরবিশিষ্ট ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। তুরস্কের দৈনিক পত্রিকা মিল্লিয়েত-এর এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, গ্রিক সাইপ্রাসে ইসরায়েলি জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে কেবল জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেও দেখা উচিত।
আঙ্কারার সোশ্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এমেতে গোজুগোজেল্লি সেখানকার সংবাদমাধ্যম মিল্লিয়েত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি কেবল জমি কেনাবেচার বিষয় নয়—এটি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং কূটনৈতিক উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন ধর্মীয় গোষ্ঠী, যারা শক্তিশালী মতাদর্শিক নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করে, তারা নজরদারি, প্রচার এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো কাজও করতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে ছাবাদ সংগঠনের কার্যক্রমের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারণ, এই সংগঠনের প্রভাব এরই মধ্যে তুর্কি সাইপ্রাস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বাহ্যিকভাবে নিরীহ দেখালেও এই ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অনেকে বৃহত্তর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যে অনেকে ইসরায়েলের ডায়াসপোরা ডিপ্লোম্যাসি, গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রম বা সমাজে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আছে বলে মনে করছেন।
গোজুগোজেল্লি সতর্ক করে বলেন, এই গোষ্ঠীগুলো ‘সফট পাওয়ার’ (নরম কৌশলগত শক্তি) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তারা এমন বিকল্প জনসমষ্টি তৈরি করতে পারে, যারা ইসরায়েলের নীতির প্রতি সহানুভূতিশীল হবে। এর ফলে গ্রিক ও তুর্কি সাইপ্রাস উভয়ের রাজনৈতিক অখণ্ডতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ভূরাজনৈতিক প্রভাব
এ ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটছে, যখন তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সামুদ্রিক সীমা নিয়ে নানা জটিল বিরোধের মুখে রয়েছে। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস নিয়ে গঠিত একটি কৌশলগত জোটকে বিশ্লেষকেরা তুরস্কের আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিরোধে গঠিত প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে দেখছেন। এই জোট মূলত গ্যাস অনুসন্ধান, যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটি তুরস্ককে সামুদ্রিকভাবে কার্যত ঘিরে ফেলেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, গ্রিক সাইপ্রাসে নতুন ইসরায়েলি বসতিগুলো এই বৃহত্তর কৌশলগত নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। যদি লারনাকা ও লিমাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সামরিক পর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়, তাহলে তা তুরস্কের নৌ ও বিমান কার্যক্রম নজরদারির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
নাগরিক নাকি গোয়েন্দা
পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রিক সাইপ্রাসে ইসরায়েলিদের আগমনকে শুধু সাধারণ অভিবাসন ভেবে ভুল করা যাবে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো গোপনে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মানচিত্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ বা ভবিষ্যতের সংঘাতকালীন তৎপরতার জন্য প্রস্তুত আছেন।
আইনবিশেষজ্ঞ এমেতে গোজুগোজেল্লি বলেন, ‘এটি নিরীহ অভিবাসনের ঢেউ নয়।’ তিনি নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের আদর্শিকভাবে সংযুক্ত ও সংগঠিত জনসংখ্যা শুধু নিরাপত্তাজনিত ভারসাম্যই নয়, দ্বীপের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত করতে পারে।
ইসরায়েলিদের জমি কেনা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ
ইসরায়েলিদের জমি কেনার পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে তা এখন মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি কোনো শান্তিচুক্তি হয়, তাহলে এসব জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে ব্যবহার করে নতুন সীমানা দাবি বা রাজনৈতিক শর্ত হাজির করা হতে পারে।
তাঁরা এটিও বলছেন, গ্রিক সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যেসব একতরফা প্রতিরক্ষা ও বসতি স্থাপন চুক্তি হচ্ছে, সেগুলো ১৯৬০ সালের ‘ট্রিটি অব গ্যারান্টি’ বা ‘গ্যারান্টি চুক্তি’ লঙ্ঘন করতে পারে। এই চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ক, গ্রিস ও যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসের নিরাপত্তার গ্যারান্টর (নিশ্চয়তাদানকারী) দেশ। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে এই একতরফা চুক্তিগুলো দ্বীপের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
তুরস্কের জন্য নজরদারি ও প্রতিরোধ বাড়ানোর আহ্বান
গোজুগোজেল্লি পরামর্শ দিয়েছেন, তুরস্ক এবং উত্তর সাইপ্রাসকে পূর্ব উপকূল বরাবর নজরদারি এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সীমান্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ড্রোন দিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো উচিত। ছাবাদের মতো সংগঠনের উপস্থিতি কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিকে দক্ষিণে দখল হয়ে থাকা তুর্কি সম্পত্তির অনিরসনকৃত ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে হবে। এতে আইনি ও রাজনৈতিক বৈপরীত্যগুলোও স্পষ্ট হবে।
*তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টার্কি টুডে থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সাইপ্রাসের জাহাজ ধরছেন ইসরায়েলের অতিরক্ষণশীল ইহুদি গোষ্ঠীর কয়েকজন। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুপ্তচর সন্দেহে বিপুলসংখ্যক আফগানকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ইরান
কিন্তু ইরানের পরিস্থিতি এখন বৈরী হয়ে পড়েছে। তেহরানে ভবন নির্মাণকেন্দ্রগুলোতে কাজ কমে গেছে। আর আসগরির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।
হাজার হাজার আফগান নাগরিকের মতো ৩৫ বছর বয়সী আসগরি সম্প্রতি ইরান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এ সংঘাত আফগানিস্তানকেও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দেশটি এমনিতেই মানবিক সংকটে জর্জরিত।
পরিবার নিয়ে দীর্ঘ যাত্রা শেষে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছার পর আসগরি বলেন, একটা ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়াই কঠিন, আর পেলেও ভাড়া খুব বেশি...কোনো কাজও নেই। তিনি আরও বলেন, তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এ দেশে ফিরে তিনি কী করবেন, তা জানেন না।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, সংঘাত চলাকালে ইরান প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি আফগানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এটি সংঘাতের আগের সময়ের ১৫ গুণ বেশি।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আমরা সব সময় ভালো আতিথেয়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি; কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।’
ফাতেমেহ আরও বলেন, এটাকে ‘বিতাড়ন’ না বলে ‘নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখতে হবে। গুপ্তচরদের ধরতে সরকারের অভিযান সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
আফগান সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত শেষে সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছে। এর আগে তারা একে অপরের ওপর হামলা চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার ওপর আক্রমণ করে।
জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে এ বছর বিদেশি, বিশেষ করে আফগানদের ধরপাকড় শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ধরপাকড় আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিতাড়িত আফগান ও মানবিক সংস্থার কর্মকর্তারা।
ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমান, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০২২ সালে প্রায় ২৬ লাখ আফগান ইরানে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাস করছিলেন।
আসগরি বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের গুপ্তচর মনে করত এবং ঘৃণার চোখে দেখত। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ এবং সরকার পর্যন্ত সবাই বলত—তোমরা আফগানরাই আমাদের শত্রু, তোমরাই আমাদের ভেতর থেকে ধ্বংস করেছ।’
বিতাড়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আরাফাত জামাল বলেন, আফগানদের জোর করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কারণ, ইরানে ইসরায়েলি হামলার ক্ষোভ এসব আফগানের ওপরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরাফাত জামাল রয়টার্সকে বলেন, ‘তাঁরা (ইরানিরা) একটি ভয়ানক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা আমরা বুঝি; কিন্তু আফগানদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলেও মনে হয়। তাঁদের ওপরও কিছু ক্ষোভ ঝাড়া হচ্ছে।’
আফগানিস্তানের জন্য একটি বড় দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেন আরাফাত জামাল। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাকিস্তানও বাস্তুচ্যুত আফগানদের ফেরত পাঠাচ্ছে। ২০২৩ সালে তাঁদের বড় পরিসরে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান সরকার।
ইউএনএইচসিআরের এই প্রতিনিধি আরও বলেন, আফগানিস্তানের দুর্দশা আরও গভীর হয়েছে। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটির ব্যাংক খাত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। এতে দেশটির অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো আফগানিস্তানের জন্য অনুদান দেওয়া ব্যাপক হারে বন্ধ করে দিচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের অস্থিরতার রসদ।
ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তানের দপ্তরগুলো এ বছর প্রয়োজনীয় তহবিলের এক-চতুর্থাংশেরও কম পেয়েছে।
আফগানিস্তানের সহায়তা কর্মসূচি তিন বছর আগে যেখানে ছিল ৩২০ কোটি ডলার, তা কমে এখন মাত্র ৫৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ইরান ও পাকিস্তান থেকে ১২ লাখের বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে অনেকেই শুধু গায়ের কাপড় আর হাতে যেটুকু মালপত্র নিতে পেরেছেন, তা নিয়েই ফিরেছেন।
ইরান বলছে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক বৈধ অভিবাসী আছেন। তাঁদের অনেকেই কবি, লেখক, চিকিৎসক ও দক্ষ কর্মী। আর আমরা সবাইকে ফেরত পাঠাতে চাই না; কিন্তু যাঁদের বৈধতা নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে গৃহীত জাতীয় নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।’
২৬ বছর বয়সী আহমাদ ফাওয়াদ রহিমি বলেন, ইরানে তাঁর বৈধ কাজের ভিসা ছিল; কিন্তু তাঁর পরিবার যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় গত মাসে তিনি নিজে থেকেই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু পথে ফাওয়াদকে ধরে একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, সেখানে বন্দীদের খুব কম খাবার ও পানি দেওয়া হয়। তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরে সীমান্ত পার করে দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ আদায় করা হয়।
ফাওয়াদ বলেন, যুদ্ধের আগে প্রথমবার ধরা পড়লে শুধু সতর্ক করা হতো; আর দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠানো হতো; কিন্তু এখন সবাইকে গুপ্তচর মনে করা হচ্ছে। তারা বলছে, আফগানরা আমাদের শত্রুদের পক্ষ নিয়েছেন। তাই তাঁদের ফিরে যেতে হবে।
![]() |
| আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের তোরখাম সীমান্তের মোহমান্দ দারা এলাকায় পাকিস্তান থেকে বহিষ্কৃত আফগান নাগরিকদের জন্য স্থাপিত ওমারি শরণার্থীশিবির। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাহের সেই কুখ্যাত কারাগার, যেখানে খামেনিকে অমানসিক নির্যাতন করা হতো
তবে খামেনির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা হয়ে ওঠার ইতিহাস খুব সহজ ছিল না। তাকে কঠিন বাস্তবতা পার করতে হয়েছে। বন্দি ছিলেন কারাগারের অন্ধকারে। শাহের আমলে তাকে বহু মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। যা তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার আগে শাহ রেজা পাহলভি তাকে যেই কারাগারে আটক করেন সেটি পরবর্তীতে জাদুঘর করা হয়। যার নাম ইবরাত জাদুঘর। এই জাদুঘরই একসময় ছিল রেজার সেই কুখ্যাত কারাগার। এটি তেহরানে অবস্থিত। এই কারাগারের সঙ্গে মিশে আছে এক নৃশংস ইতিহাস। কেননা এখানেই ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও কর্মীদের আটক করে ভয়াবহ নির্যাত চালাতেন শাহের বাহিনী।
আয়াতুল্লাহ খামেনির বন্দি জীবন: ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ এর মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকবার শাহের হাতে বন্দি হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শাহের ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি ইসলামি বিপ্লবের নেতা হিসেবে বন্দি করা হয় তাকে। বন্দি অবস্থায় খামেনিকে অমানবিক নির্যাত করে শাহের গুপ্ত পুলিশ বাহিনী সাভাক। কথিত নাশকতার নামে বিপ্লবীদের কারারুদ্ধ করতেন শাহের বাহিনী। কুখ্যাত সেই কারাগারে ছয়বার অবরুদ্ধ হন ইরানি জনগণের রুহানি এই নেতা। কারাগারটিকে নির্যাতনের নিদর্শন হিসেবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন বহু মানুষের সমাগম হয়। কারাগারে অভ্যন্তরের বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, নির্যাতনের জন্য কারাগারে ছোট ছোট খাঁচা রয়েছে। যেখানে বন্দিদের আটক রাখা হতো। আয়াতুল্লাহ খামেনিকেও এসব খাঁচায় রাখা হয়। ওই কারাগারে ছোট ছোট কিছু সেল ছিল। যাতে ছিল মাত্র একটি জানালা। এসব স্থানেও খামেনিকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান জাদুঘরটিতে খামেনির একটি মোমের প্রতিকৃতি রয়েছে। যেটির পড়নে রয়েছে কালো পাগড়ি, গোল ফ্রেমের চশমা ও বাদামী রঙের পোশাক। এটি সেই সময়ে খামেনির ওপর নির্যাতন ও সংগ্রামের ইতিহাস।
খামেনির গ্রেপ্তার ও নির্যাত: ১৯৬২ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মদদপুষ্ট সরকার শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের কোম শহর থেকে এই আন্দোলনের সূচনা করেন ইমাম আয়াতুল্লাহ খোমেনি। তখন তার প্রধান সহযোগি ছিলেন খামেনি। তার কাজ ছিল খোমেনির বার্তা আয়াতুল্লাহ মিলানি এবং অন্যান্য নেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। এ কাজ করতে গিয়ে ১৯৬৩ সালে বিরজানদ থেকে প্রথমবার আটক হন খামেনি। এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে মাশহাদের একাধিক মসজিদে কুরআন এবং ইসলামি দর্শন শাস্ত্রের ওপর শিক্ষকতা করেন তিনি। ক্লাসে ইমাম আলির ওপর লিখিত নাজ আল-বালাগ বিষয়ক লেকচারগুলো হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থীর মধ্যে আলোড়ন তৈরি করে। মূলত এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে সাভাক। ১৯৭৫ সালে মাশহাদে খামেনির বাড়িতে অভিযান চালায় শাহের ওই গুপ্ত বাহিনী। সেসময় তিনি ছষ্ঠ বারের মতো আটক হন। এছাড়া তার সমস্ত বই এবং নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন তেহরানে অবস্থিত সাভাক পরিচালিত ওই কারাগারে বেশ কয়েক মাস আটক থাকেন খামেনি। এক স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, কারাগারের দিনগুলো ছিল ভয়াবহ। সেখানে বন্দিদের অমানসিকভাবে নির্যাত করা হতো।
খামেনির বিল্পবী চেতনা: ১৯৬০ সাল থেকেই বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় হন খামেনি। হয়ে ওঠেন ইমাম খোমেনির একজন বিশ্বস্ত সাগরেদ। শাহ সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর প্যারিসে নির্বাসিত জীবন থেকে ইমাম খোমিনি যখন তেহরানে ফিরে আসেন তখন খামেনি ধর্মীয় এবং রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তাকে তখন উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া তেহরানে শুক্রবার জুমার নামাজের ইমামও হন তিনি। যেই দায়িত্ব তিনি এখনও পালন করছেন। ১৯৮৯ সালে তাকে ইসলামি প্রজান্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) নির্বাচিত করা হয়।
তেহরান জাদুঘরে খামেনির স্মৃতি: কারাগার থেকে গড়ে তোলা ইবরাত জাদুঘরে খামেনির একাধিক প্রতিকৃতি রয়েছে। যেখানে শাহের শাসনামলে খামেনির বিপ্লবী জীবনের সংগ্রাম এবং নির্যাতনের চিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের মতে, ইরানি জাতির জন্য খামেনি খোদা কর্তৃক বাছাইকৃত নেতা। জাদুঘরে এসব নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো- শাহের গুপ্ত পুলিশ বাহিনী সাভাক কর্তৃক বিল্পবীদের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি নেতৃত্বের জন্য খামেনির ত্যাগের নিদর্শনও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।
শাহের আমলে হিজাব পড়া ছিল অপরাধ, কারাগারে বন্দি হতেন নারীরা: শুধু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই নন তার সঙ্গে হাজার হাজার আলেম, বিপ্লবের নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আটক করেছিলেন শাহ। এর মধ্যে ছিল নারীরাও। বিশেষ করে যেসকল নারী হিজাব পড়তেন তাদের বন্দি করতেন শাহের পুলিশ বাহিনী। যদিও আজ ইরানের অনেক নারী হিজাব ছাড়াই চলতে চান। তবে সেই সময় মাথা ঢেকে রাখা ছিল অপরাধ। এই কারণে শাহ রেজা পাহলভি সেই নারীদের বন্দী করতেন। তাদের ছবি আজও জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়।
(এনডিটিভি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 04
(8)
- পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তা ছাড়া কি ইসরায়েল টিকে থাকতে ...
- একদিনে আরও শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা: দীর্ঘস্থায়ী ...
- গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর: যাহা পাই তাহা চাই না by মহ...
- প্রতিবিপ্লবী রাজনীতি ও গণমাধ্যম by ফরহাদ মজহার
- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি ...
- সাইপ্রাসে কি ‘মিনি ইসরায়েল’ গড়ে উঠছে
- গুপ্তচর সন্দেহে বিপুলসংখ্যক আফগানকে দেশে ফেরত পাঠা...
- শাহের সেই কুখ্যাত কারাগার, যেখানে খামেনিকে অমানসিক...
-
▼
Jul 04
(8)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

