Saturday, July 13, 2013

অন্ধকারের সিসা সভ্যতা by ড. তুহিন মালিক

মারাÍক মাদক সংস্কৃতিতে ভুগছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। পাড়া-মহল্লা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র মাদকের রমরমা বাণিজ্য। এ যেন এক অদ্ভুত আধুনিক মাদক সংস্কৃতিতে ভুগছি আমরা। শহরের অভিজাত রাস্তায় এখন নানা রকমের লাউঞ্জ আর সিসা ক্যাফেতে চলছে নারী-পুরুষের অবাধ সিসা সেবন। এমিউজমেন্ট ক্লাব নামে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের বেচাকেনা। বড় লোকদের আভিজাত্যের কাছে যেন হালাল হয়ে গেছে এসব কিছু। গভীর রাত পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা জম্পেস আড্ডা দিয়ে রোমান্টিক আলোর মূর্ছনায় সেবন করছে নীল নেশা। সমাজের উঁচু শ্রেণীর ক্লাবগুলো যেন নিরাপদ ও শান্তিতে মদ্যপানের অভয়াশ্রম। এদের জন্য নেই কোনো ড্রাগ, নারকোটিক্স, লিকার আইন! সাধ্য আছে কারও এ প্রশ্ন করার? গত বুধবার যুগান্তরের রিপোর্টে উঠে এসেছে এ রকম এক সিসা ভয়াবহতার রোমাঞ্চকর কাহিনী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরা, বেইলি রোড, ধানমণ্ডি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ অন্যান্য অভিজাত এলাকায় একেকটি বারে মাসে গড়ে ১০ লাখ টাকার সিসা বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে বারের মালিকরা মাসে ৮ লাখ টাকা আয় করছে। অর্থাৎ বছরে ৯৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছে একেকজন। এর জন্য কোনো ট্যাক্স, খাজনা বা শুল্ক পরিশোধ করার আইন নেই। সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেয়ারও প্রয়োজন নেই তাদের। সিসার সঙ্গে গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবা মেশানো হয় বলে রিপোর্টে প্রকাশ। আমাদের দেশের আইনে সিসা নাকি এখনও মাদকই নয়। কেননা ১৯৯০ সালের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকি এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধূমপানের চেয়ে সিসা সেবন মানবদেহের জন্য বেশি ক্ষতিকর। সিসা সেবনের একটি আসরে যে পরিমাণ ধোঁয়া বের হয় তা ২০০ সিগারেটের ধোঁয়ার সমান। একবার সিসার ধোঁয়া ফুসফুসে টেনে নিলে যে পরিমাণ নিকোটিন ও কার্বন মনোঅক্সাইড মানুষের দেহে প্রবেশ করে তা ২০টি সিগারেটের চেয়ে বেশি। তামাক সংবলিত সিসার ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া তামাকের চেয়েও ক্ষতিকর।
অথচ দেশের নীতিনির্ধারকরা ও কর্তাব্যক্তিরা এ ব্যাপারে যেন মুখে কলুপ এঁটে বসে আছেন দিব্যি। তাদের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে বাণিজ্য হচ্ছে এসব মাদকের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের বড় একটা অংশ হচ্ছে এদের সহযোগী। তাদের অনৈতিক আয়ের প্রধান অংশই আসে এ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কথিত সমাজসেবীদের অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রোগীদের ৮০ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত। আশির দশকের শেষ দিকে ফেনসিডিল ছড়িয়ে পড়ে মাদক রাজ্যে। নব্বইয়ের দশকের শেষে মাদক হিসেবে ইয়াবা প্রথম ধরা পড়লেও আজ সেই ইয়াবা নেশার রাজ্যকে শাসন করছে। প্রতিদিন ইয়াবার মরণনেশা গ্রহণ করছে ১২ লাখ মানুষ। দেশে প্রকৃত মাদকসেবীর সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে এদের মধ্যে বড় অংশই তরুণ সমাজ। এদের শতকরা ৮০ ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। দেশে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা লক্ষাধিক। এদের মধ্যে দশ শতাংশ নারী। মহিলা ও শিশুদের মাদক ব্যবসার নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
গত বছর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হাইকোর্ট থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ১০ দফা সুপারিশে সিসা বারগুলোকে অবৈধ বললেও দৃশ্যত এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম নিতে আমরা দেখিনি। সমাজের উঁচু শ্রেণীর এই সিসাবিলাস আমাদের আইনকে হয়তো এখনও স্পর্শ করতে পারেনি। তবে স্পর্শ করার দায়িত্ব যাদের স্কন্ধে আরোপিত, তাদের সন্তানরাও যে এই বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত রয়েছে তা জোর দিয়ে বলা দুরূহ। আমরা কি প্রতিনিয়ত এভাবেই আলো থেকে এক অন্ধকার ঘরের দিকে ধাবিত হতে থাকব? দেশের সমাজপতি বা রাজনীতিকদের কি এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই? কাদের জন্য আমাদের এসব রাজনীতি আর উন্নয়ন? যাদের জন্য আমাদের রাজনীতি, তারাই যদি বেঁচে না থাকে তাহলে কিসের স্বার্থে এই উন্নয়ন?
অটোম্যান সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের প্রতীক হুঁক্কা এখন খোদ তুরস্কে নিষিদ্ধ। আর এটাকে সাদরে সম্ভাষণ জানিয়ে আমাদের সিসা আর হুঁক্কা সেবনের নানা রকমের পার্লার, লাউঞ্জ আর ক্যাফের জৌলুস দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলার সাধ্য যেন কারও নেই। কিন্তু কেন নেই? এগুলোর মালিক কারা? এগুলো নিয়ন্ত্রণই বা করে কে? অন্ধকার ঘরের মিটিমিটি আলোর মধ্যে তরুণ-তরুণীদের এ ধরনের ধূম্রসেবন নাকি এ যুগের আধুনিকতা! এই আধুনিকতাই হয়তো একদিন আমাদের অনেক পরিবারকেই নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্ধকার ঘরের সংস্কৃতি কোনো জাতির জন্য কখনও সুখকর হয়নি। রাষ্ট্রের আগে আমাদের পরিবারেরও এই দায়কে অবশ্যই কাঁধে নিতে হবে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় না হলে রাষ্ট্রের দৃঢ়তা আসবে কোত্থেকে? গভীর ঘুমের মধ্যে আছি পুরো জাতি। এমন না হয় যেন ঘুম থেকে জেগে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে আমাদের। আমরা হয়তো ভাবছি, আমার সন্তান তো নেশাখোর নয়, আমি কেন ভাবব। সবার অজান্তেই কিন্তু সূচনা হয় মাদকের। ধীরে ধীরে পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে অবশ করে দেয় এই মরণনেশা। ধ্বংসই যার একমাত্র পরিণতি।
ড. তুহিন মালিক : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি by শেখ মাহবুবল হক

কালবৈশাখীর হাওয়া থামলেও রাজনীতির ঝড়ো হাওয়া ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। প্রলয় থামানোর একটি ক্ষীণ চেষ্টা পরিলক্ষিত হলেও জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগছে। নিত্যনতুন প্রস্তাবে চাওয়ার তালিকা বাড়লেও পাওয়ার তালিকা শূন্যের কোঠায়। কত কিছুই তো চাই- গণতন্ত্র চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন চাই, সর্বোপরি সৎ মানুষ চাই। আরও কত কিছু। এসব চাওয়া-পাওয়ার ডামাডোলে নানা মনে নানা প্রশ্ন : নির্বাচন আদৌ হবে কি-না, হলে কীভাবে হবে, তৃতীয় পক্ষের উদয় হবে কি-না, নির্বাচন হলে কি গণতন্ত্র পাব, নাকি গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র পাব? এর থেকেও বড় কথা, আমরা কি গণতন্ত্রের নামে উত্তরাধিকার তন্ত্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাব? এমন হাজারও প্রশ্নে সর্বস্তরের জনগণ আজ দিশেহারা, ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু উত্তরণের পথ কই? উত্তরণের লক্ষ্যে বিশিষ্টজনরা কত পথের কথাই না বলেন। কিন্তু নিজ স্বার্থ বিচারে কোনোটিই কারও মনঃপুত হয় না। সবাই চায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। সবার একই কথা- বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার। এক দলের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন, অন্য দলের সাফ জবাব, অসম্ভব। জনগণকে হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এক দল বলছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাফ জবাব, দরকার নেই। সাধারণভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, তার ভূরি ভূরি প্রমাণ আমরা দিয়েছি।
এসব আলোচনায় সকালের নাশতার টেবিলে, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে, কর্মহীন বেকার যুবককে, স্বঘোষিত বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুরুত্বহীন কর্মী হলেও, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রমাণে তার বক্তব্য রেখে অথবা অযাচিত মন্তব্য করে কখনও কখনও বচসায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। একথা অনস্বীকার্য যে, রাজনীতিতে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকরা জনগণের সেবা/খেদমতের ধোয়া তুলে নির্বাচন করেন। জয়লাভের পর জনগণের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে আÍসেবায় মগ্ন হন। আর পরাজিত পক্ষ পরাজয়ের জ্বালা ভুলতে, বিজয়ী পক্ষের পথে কাঁটা বিছানোর নিমিত্তে, জনগণের দাবি আদায়ের নামে সরকারের মুণ্ডুপাত ও জনগণের পিণ্ডি চটকাতে থাকে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ ৪০ বছরেও এদেশের জনগণ এ দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারেনি। বর্তমানে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন তামাশা। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকা এবং যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় কতই না পরিকল্পনা। সেখানে জনগণের স্থান কোথায়, তা গবেষণালব্ধ বিষয়। এমনই দুর্যোগময় সময়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে নতুন খেলা। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে চলছে ঘরে-বাইরে আলোচনা। বিশিষ্টজনরা দিচ্ছেন নিত্যনতুন ফর্মুলা। কত টক-মিষ্টি আলোচনা, কিন্তু কোনোটাই কোনো দলের মনঃপুত হচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে আমার মাথায় একটা নতুন ফর্মুলার ভাবনা এসেছে এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর একটা খসড়া পরিকল্পনা দাঁড় করেছি। আমজনতার বিবেচনার জন্য পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করছি। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের নামে জনগণকে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বর্তমানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাই সর্বোত্তম ব্যবসা। বিত্তবান হওয়ার সহজতম উপায়। সেই লক্ষ্যে তথাকথিত নেতা, উপনেতা, পাতিনেতা- সবাই এখন সংসদ সদস্য, মেয়র, কমিশনার, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেম্বার ইত্যাদি হওয়ার দৌড়ে মত্ত। এখানে জনগণের কোনো স্থান নেই। শুধু জনগণের কথা বলে, জনগণের ঘাড়ে পা রেখে, জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেয়ে নিজেকে পুষ্ট করাই একমাত্র লক্ষ্য।
এ লক্ষ্যে চিত্তহীন বিত্তবানরা টাকার বস্তা নিয়ে ছুটছে রাজনৈতিক দলের অফিসে, একটা নির্বাচনী মনোনয়নপত্র কেনার আশায়। এভাবেই রাজনীতিতে ঘটছে দুর্বৃত্তায়ন, নীতিহীনতা ও আদর্শহীনতা। ছন্দ মিলিয়ে বলতে হয়-
তোরা যে যা বলিস ভাই,
আমার লজ্জা শরম নাই,
ছলে, বলে, কৌশলে হোক,
আমার টাকার পাহাড় চাই।
রাষ্ট্র আজ ব্যর্থ। রাজনীতি বিপন্ন। শুধু দুর্নীতিরই জয়জয়কার। আর হতভাগ্য জনগণ দিশেহারা। তাই এই দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন একান্তই কাম্য। অনেক বিশিষ্টজন এই নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে তাদের মতামত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ব্যক্ত করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে আমার প্রস্তাব একটা নতুন নির্বাচন পদ্ধতির, যা অবহেলিত জনগণের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হবে। সংবিধান বলে, জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কোন দল এ দেশকে ৫ বছরের জন্য পরিচালনা করবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের নিজ নিজ সংসদীয় আসন থেকে কোন ব্যক্তি সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
দুই স্তরবিশিষ্ট নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব : প্রথম পর্বে সব আগ্রহী রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ধরা যাক, ‘ক’ দল জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। ‘ক’ দল নির্বাচন কমিশনে ৩০০ আসনের জন্য প্রযোজ্য জামানতের টাকা এবং প্রতিটি আসনে নিম্নতম ৭ ও তদূর্ধ্ব সম্ভাব্য প্রার্থীর নামের তালিকা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রয়োজনীয় তালিকাসহ জমা দেবে। একই সঙ্গে এই প্রার্থী তালিকা সংশ্লিষ্ট আসনের জনগণের অবগতির জন্য এলাকায় প্রকাশ করবে।
নির্বাচন কমিশন তাদের বিধি মোতাবেক যাচাই-বাছাই শেষে ওই প্রার্থীদের নির্বাচন করার উপযুক্ততার ছাড়পত্র প্রদান করবে। প্রতিটি আসনে সর্বনিু ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দলগুলো প্রতিটি আসনে প্রচারের ব্যবস্থা করবে, যাতে জনগণ তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বিবচেনা করতে পারে।
কোনো দল যদি কমসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, তবে সেই দল নির্দিষ্টসংখ্যক আসনের জন্য জামানত জমা ও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জমা দেবে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত দিনে প্রথম পর্বের নির্বাচন হবে। সেখানে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দলের সমর্থন ছাড়া স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চায়, তবে তিনি বা তারা নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জামানত প্রদান সাপেক্ষে নির্বাচন করার অনুমতি পাবে।
প্রথম পর্বের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত দলগুলোর নির্বাচনী প্রতীক ছাপা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও একটি প্রতীক প্রদান করা হবে এবং এই প্রতীকটিও প্রথম পর্বের ব্যালট পেপারে ছাপা হবে।
নির্বাচনে যে প্রতীক সর্বোচ্চ ভোট পাবে, প্রতিটি আসনে সেই প্রতীক চিহ্নিত দল জয়লাভ করেছে বলে বিবেচিত হবে। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেলে সেই প্রার্থী সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত বলে বিবেচিত হবে।
এভাবে ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচন ও আসন বণ্টন সম্পন্ন হবে। যেমন ধরা যাক, এই নির্বাচনে ‘ক’ দল ১৪০টি, ‘খ’ দল ১৩০টি, ‘গ’ দল ২০টি, ‘ঘ’ দল ৭টি এবং স্বতন্ত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে।
দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচন : প্রথম পর্বের নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশন যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে ২৯৭টি আসনের নির্বাচন পরিচালনা করবে। প্রথম পর্বের নির্বাচনে যে যে দল যেসব আসনে নির্বাচিত হয়েছে, দ্বিতীয় পর্বে সেই দলের আসনগুলো শুধু সেই দলের পূর্বনির্ধারিত এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পূর্ব অনুমোদিত সর্বনিম্ন ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীরা ওই আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত হওয়ার মানসে ওই আসনের নিবন্ধিত ভোটারদের সামনে প্রার্থী হবে। ওই আসনে সব ভোটার ওই ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীর ভেতর থেকে সর্বোত্তম বিবেচনায় একজন প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ভোটের মাধ্যমে ওই আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত করবে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে দল একজন ব্যক্তিকে একটি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করে। জনগণের বিবেচনায় সেই প্রার্থী উপযুক্ত ও মনঃপুত না হলেও অসহায় ভোটাররা নিরুপায় হয়ে ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’ জ্ঞানে দলের মার্কায় ভোট প্রদান করে। দল কর্তৃক একজন চিহ্নিত দুর্বৃত্ত মনোনয়ন লাভ করলে অসহায় জনগণ সেই দুর্বৃত্তকে দলের স্বার্থে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচিত করতে বাধ্য হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ফলে আজ আমাদের রাজনীতির এমন মরণ দশা। অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রের হুংকারে সেবাপরায়ণ রাজনীতিকরা আজ আঁস্তাকুড়ে। সৎ মানুষরা আজ রাজনীতিবিমুখ। শিক্ষিত মানুষরা দেশত্যাগে ব্যস্ত। নবপ্রস্তাবিত পদ্ধতিটি জনগণকে এই অচলায়তন ভেঙে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। এর ফলে-
১. জনগণ অনেক প্রার্থীর ভেতর থেকে তুলনামূলক সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে।
২. একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকায় নিবেদিতপ্রাণ সৎ রাজনীতিকরা আবার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করবে।
৩. সব আগ্রহী প্রার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় দলের উচ্চমহলে প্রর্থী মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে বন্ধ হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের লুটপাট বাণিজ্য।
৪. নির্বাচনে অংশগ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত থাকায় প্রার্থী নির্বাচনে দলীয় কোন্দল বন্ধ হবে। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃংখলা বজায় থাকবে। আর ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ শব্দটা রাজনীতির ময়দান থেকে হারিয়ে যাবে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা মাথায় নিয়ে, দুর্নীতিপরায়ণ দেশের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে এ দেশের যে অগস্ত যাত্রা, তা রুখতেই হবে। আর সে কাজটা করতে হবে এ দেশের সত্যিকারের মালিক জনগণকে তাদের নিজেদের স্বার্থেই।
রাজনৈতিক পরগাছাদের উপড়ে ফেলে সৎ মানুষের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিতে এবং অমিত সম্ভাবনার এই দেশটিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর প্রয়োজনে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিকে প্রস্তাবিত পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপন জরুরি।
শেখ মাহবুবল হক : বিকল্প জ্বালানি গবেষণা কর্মী

নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি by শেখ মাহবুবল হক

কালবৈশাখীর হাওয়া থামলেও রাজনীতির ঝড়ো হাওয়া ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। প্রলয় থামানোর একটি ক্ষীণ চেষ্টা পরিলক্ষিত হলেও জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগছে। নিত্যনতুন প্রস্তাবে চাওয়ার তালিকা বাড়লেও পাওয়ার তালিকা শূন্যের কোঠায়। কত কিছুই তো চাই- গণতন্ত্র চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন চাই, সর্বোপরি সৎ মানুষ চাই। আরও কত কিছু। এসব চাওয়া-পাওয়ার ডামাডোলে নানা মনে নানা প্রশ্ন : নির্বাচন আদৌ হবে কি-না, হলে কীভাবে হবে, তৃতীয় পক্ষের উদয় হবে কি-না, নির্বাচন হলে কি গণতন্ত্র পাব, নাকি গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র পাব? এর থেকেও বড় কথা, আমরা কি গণতন্ত্রের নামে উত্তরাধিকার তন্ত্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাব? এমন হাজারও প্রশ্নে সর্বস্তরের জনগণ আজ দিশেহারা, ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু উত্তরণের পথ কই? উত্তরণের লক্ষ্যে বিশিষ্টজনরা কত পথের কথাই না বলেন। কিন্তু নিজ স্বার্থ বিচারে কোনোটিই কারও মনঃপুত হয় না। সবাই চায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। সবার একই কথা- বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার। এক দলের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন, অন্য দলের সাফ জবাব, অসম্ভব। জনগণকে হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এক দল বলছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাফ জবাব, দরকার নেই। সাধারণভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, তার ভূরি ভূরি প্রমাণ আমরা দিয়েছি।
এসব আলোচনায় সকালের নাশতার টেবিলে, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে, কর্মহীন বেকার যুবককে, স্বঘোষিত বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুরুত্বহীন কর্মী হলেও, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রমাণে তার বক্তব্য রেখে অথবা অযাচিত মন্তব্য করে কখনও কখনও বচসায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। একথা অনস্বীকার্য যে, রাজনীতিতে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকরা জনগণের সেবা/খেদমতের ধোয়া তুলে নির্বাচন করেন। জয়লাভের পর জনগণের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে আÍসেবায় মগ্ন হন। আর পরাজিত পক্ষ পরাজয়ের জ্বালা ভুলতে, বিজয়ী পক্ষের পথে কাঁটা বিছানোর নিমিত্তে, জনগণের দাবি আদায়ের নামে সরকারের মুণ্ডুপাত ও জনগণের পিণ্ডি চটকাতে থাকে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ ৪০ বছরেও এদেশের জনগণ এ দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারেনি। বর্তমানে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন তামাশা। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকা এবং যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় কতই না পরিকল্পনা। সেখানে জনগণের স্থান কোথায়, তা গবেষণালব্ধ বিষয়। এমনই দুর্যোগময় সময়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে নতুন খেলা। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে চলছে ঘরে-বাইরে আলোচনা। বিশিষ্টজনরা দিচ্ছেন নিত্যনতুন ফর্মুলা। কত টক-মিষ্টি আলোচনা, কিন্তু কোনোটাই কোনো দলের মনঃপুত হচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে আমার মাথায় একটা নতুন ফর্মুলার ভাবনা এসেছে এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর একটা খসড়া পরিকল্পনা দাঁড় করেছি। আমজনতার বিবেচনার জন্য পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করছি। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের নামে জনগণকে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বর্তমানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাই সর্বোত্তম ব্যবসা। বিত্তবান হওয়ার সহজতম উপায়। সেই লক্ষ্যে তথাকথিত নেতা, উপনেতা, পাতিনেতা- সবাই এখন সংসদ সদস্য, মেয়র, কমিশনার, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেম্বার ইত্যাদি হওয়ার দৌড়ে মত্ত। এখানে জনগণের কোনো স্থান নেই। শুধু জনগণের কথা বলে, জনগণের ঘাড়ে পা রেখে, জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেয়ে নিজেকে পুষ্ট করাই একমাত্র লক্ষ্য।
এ লক্ষ্যে চিত্তহীন বিত্তবানরা টাকার বস্তা নিয়ে ছুটছে রাজনৈতিক দলের অফিসে, একটা নির্বাচনী মনোনয়নপত্র কেনার আশায়। এভাবেই রাজনীতিতে ঘটছে দুর্বৃত্তায়ন, নীতিহীনতা ও আদর্শহীনতা। ছন্দ মিলিয়ে বলতে হয়-
তোরা যে যা বলিস ভাই,
আমার লজ্জা শরম নাই,
ছলে, বলে, কৌশলে হোক,
আমার টাকার পাহাড় চাই।
রাষ্ট্র আজ ব্যর্থ। রাজনীতি বিপন্ন। শুধু দুর্নীতিরই জয়জয়কার। আর হতভাগ্য জনগণ দিশেহারা। তাই এই দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন একান্তই কাম্য। অনেক বিশিষ্টজন এই নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে তাদের মতামত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ব্যক্ত করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে আমার প্রস্তাব একটা নতুন নির্বাচন পদ্ধতির, যা অবহেলিত জনগণের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হবে। সংবিধান বলে, জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কোন দল এ দেশকে ৫ বছরের জন্য পরিচালনা করবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের নিজ নিজ সংসদীয় আসন থেকে কোন ব্যক্তি সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
দুই স্তরবিশিষ্ট নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব : প্রথম পর্বে সব আগ্রহী রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ধরা যাক, ‘ক’ দল জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। ‘ক’ দল নির্বাচন কমিশনে ৩০০ আসনের জন্য প্রযোজ্য জামানতের টাকা এবং প্রতিটি আসনে নিম্নতম ৭ ও তদূর্ধ্ব সম্ভাব্য প্রার্থীর নামের তালিকা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রয়োজনীয় তালিকাসহ জমা দেবে। একই সঙ্গে এই প্রার্থী তালিকা সংশ্লিষ্ট আসনের জনগণের অবগতির জন্য এলাকায় প্রকাশ করবে।
নির্বাচন কমিশন তাদের বিধি মোতাবেক যাচাই-বাছাই শেষে ওই প্রার্থীদের নির্বাচন করার উপযুক্ততার ছাড়পত্র প্রদান করবে। প্রতিটি আসনে সর্বনিু ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দলগুলো প্রতিটি আসনে প্রচারের ব্যবস্থা করবে, যাতে জনগণ তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বিবচেনা করতে পারে।
কোনো দল যদি কমসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, তবে সেই দল নির্দিষ্টসংখ্যক আসনের জন্য জামানত জমা ও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জমা দেবে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত দিনে প্রথম পর্বের নির্বাচন হবে। সেখানে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দলের সমর্থন ছাড়া স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চায়, তবে তিনি বা তারা নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জামানত প্রদান সাপেক্ষে নির্বাচন করার অনুমতি পাবে।
প্রথম পর্বের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত দলগুলোর নির্বাচনী প্রতীক ছাপা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও একটি প্রতীক প্রদান করা হবে এবং এই প্রতীকটিও প্রথম পর্বের ব্যালট পেপারে ছাপা হবে।
নির্বাচনে যে প্রতীক সর্বোচ্চ ভোট পাবে, প্রতিটি আসনে সেই প্রতীক চিহ্নিত দল জয়লাভ করেছে বলে বিবেচিত হবে। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেলে সেই প্রার্থী সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত বলে বিবেচিত হবে।
এভাবে ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচন ও আসন বণ্টন সম্পন্ন হবে। যেমন ধরা যাক, এই নির্বাচনে ‘ক’ দল ১৪০টি, ‘খ’ দল ১৩০টি, ‘গ’ দল ২০টি, ‘ঘ’ দল ৭টি এবং স্বতন্ত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে।
দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচন : প্রথম পর্বের নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশন যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে ২৯৭টি আসনের নির্বাচন পরিচালনা করবে। প্রথম পর্বের নির্বাচনে যে যে দল যেসব আসনে নির্বাচিত হয়েছে, দ্বিতীয় পর্বে সেই দলের আসনগুলো শুধু সেই দলের পূর্বনির্ধারিত এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পূর্ব অনুমোদিত সর্বনিম্ন ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীরা ওই আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত হওয়ার মানসে ওই আসনের নিবন্ধিত ভোটারদের সামনে প্রার্থী হবে। ওই আসনে সব ভোটার ওই ৭ বা তদূর্ধ্ব প্রার্থীর ভেতর থেকে সর্বোত্তম বিবেচনায় একজন প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ভোটের মাধ্যমে ওই আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত করবে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে দল একজন ব্যক্তিকে একটি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করে। জনগণের বিবেচনায় সেই প্রার্থী উপযুক্ত ও মনঃপুত না হলেও অসহায় ভোটাররা নিরুপায় হয়ে ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’ জ্ঞানে দলের মার্কায় ভোট প্রদান করে। দল কর্তৃক একজন চিহ্নিত দুর্বৃত্ত মনোনয়ন লাভ করলে অসহায় জনগণ সেই দুর্বৃত্তকে দলের স্বার্থে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচিত করতে বাধ্য হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ফলে আজ আমাদের রাজনীতির এমন মরণ দশা। অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রের হুংকারে সেবাপরায়ণ রাজনীতিকরা আজ আঁস্তাকুড়ে। সৎ মানুষরা আজ রাজনীতিবিমুখ। শিক্ষিত মানুষরা দেশত্যাগে ব্যস্ত। নবপ্রস্তাবিত পদ্ধতিটি জনগণকে এই অচলায়তন ভেঙে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। এর ফলে-
১. জনগণ অনেক প্রার্থীর ভেতর থেকে তুলনামূলক সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে।
২. একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকায় নিবেদিতপ্রাণ সৎ রাজনীতিকরা আবার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করবে।
৩. সব আগ্রহী প্রার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় দলের উচ্চমহলে প্রর্থী মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে বন্ধ হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের লুটপাট বাণিজ্য।
৪. নির্বাচনে অংশগ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত থাকায় প্রার্থী নির্বাচনে দলীয় কোন্দল বন্ধ হবে। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃংখলা বজায় থাকবে। আর ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ শব্দটা রাজনীতির ময়দান থেকে হারিয়ে যাবে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা মাথায় নিয়ে, দুর্নীতিপরায়ণ দেশের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে এ দেশের যে অগস্ত যাত্রা, তা রুখতেই হবে। আর সে কাজটা করতে হবে এ দেশের সত্যিকারের মালিক জনগণকে তাদের নিজেদের স্বার্থেই।
রাজনৈতিক পরগাছাদের উপড়ে ফেলে সৎ মানুষের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিতে এবং অমিত সম্ভাবনার এই দেশটিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর প্রয়োজনে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিকে প্রস্তাবিত পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপন জরুরি।
শেখ মাহবুবল হক : বিকল্প জ্বালানি গবেষণা কর্মী

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না by ফরহাদ মজহার

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে আমি একটি দরখাস্ত পেশ করব। কিন্তু তার আগে নিজের সম্পর্কে দুই-একটি কথা না বলে পারছি না। আমি কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেতখামারে কাজ করছি। এটা গ্রাম বা কৃষিব্যবস্থার প্রতি কোনো রোমান্টিক ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। তবে অনেকের মতোই শহরের চেয়ে গ্রাম আমার ভালো লাগে। নিজেকে অনেক সময় প্রশ্ন করি, ভালো লাগার ব্যারামটা শহরের ‘গেঞ্জাম’ থেকে দূরে থাকার বাসনা কি-না। কিন্তু সবসময়ই নেতিবাচক উত্তর পাই। কারণ শহরও আমার ভালো লাগে, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। দিনানুদিনের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শহরে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার যে অভিজ্ঞতা তার চরিত্র আলাদা। এই জীবন থেকে শিক্ষা নেয়ার পদ্ধতিও আলাদা। গ্রামের জীবনের সঙ্গে তার তুলনা অপ্রয়োজনীয়। এই ক্ষেত্রে ভালো লাগা মানসিক কোনো বিনোদন বা প্রশান্তির সমার্থক নয়, এই দুই পরিস্থিতিতে মানুষের যে পার্থক্য ও বৈচিত্র্য, তাকে জানার ও বোঝার আগ্রহ থেকেই এই ভালো লাগার উৎপত্তি। শহর কিভাবে মানুষকে অজান্তে বদলে দেয় সেটা বিস্ময়কর বৈকি। নিজে বড় হয়েছি নোয়াখালী সদর থানার অধীন লক্ষ্মীনারায়ণপুর নামের গ্রামে। সেটা ছিল আধা বন আর আধা কৃষির মধ্যবর্তী বিচিত্র এক জায়গা। কৈশোরে খেলার সময় যখন খুশি আমরা কৃষি ক্ষেত থেকে বনে কিংবা বন থেকে ফসলের মাঠে দাপাদাপি করে বেড়িয়েছি। কৃষিকে বন থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন করা কঠিন ছিল, ঠিক তেমনি বনকেও কৃষি থেকে আলাদা করা ছিল অসম্ভব। আর উভয়ের মধ্যবর্তী জায়গায় গড়ে উঠছিল শহর। আমি ম্যাট্রিক পাস করার বয়সে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম, চতুর্দিক আমাকে জানান না দিয়েই বদলে যাচ্ছে। মফস্বল শহরের প্রান্তিক একটি গ্রামেও রূপান্তরের ঠাণ্ডা হাত স্পর্শ করতে শুরু করেছে। গ্রামের কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় পড়তে এসে ফিরে গিয়ে আর লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামকে খুঁজে পাইনি।
যখন বলি, গ্রাম আমার ভালো লাগে, তখন মনের মধ্যে কোনো আকুতি থেকে কথাগুলো উচ্চারিত হয় না। কিন্তু সম্ভবত কৈশোরেই দুটি প্রশ্ন জেগেছিল। এক. গ্রামের বিলয় মানুষের সভ্যতার জন্য অনিবার্য বা অবধারিত কি-না। যদি তাই হয়, তাহলে মানুষ বা প্রকৃতি উভয়ের জন্য এর পরিণতি কী হতে পারে? অর্থাৎ আমরা যদি নিজেদের ‘সভ্য’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই তাহলে গ্রাম ধ্বংস করে দিয়ে নগর গড়ে তোলাই কি একমাত্র পথ? এটা কেমন কথা? এ কেমন ‘সভ্যতা’? এই সভ্যতার স্থায়িত্বের নিশ্চয়তাই বা কী? এর নিশ্চয়ই কিছু পরিণতি আছে যা সর্বাংশে ইতিবাচক হতে পারে না। দ্বিতীয় প্রশ্ন প্রথম প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু চরিত্রের দিক থেকে ভিন্ন। নগরায়ন বা তথাকথিত আধুনিকতাই মনুষ্য জীবনের প্রধান কিংবা একমাত্র অন্বিষ্ট কি? অর্থাৎ নগর জীবনই কি জীবনযাপনের জন্য মানুষের একমাত্র চাইবার জিনিস, মনুষ্য জীবনের পরমার্থ? বলাবাহুল্য, এ ধরনের প্রশ্নকীটের দংশন ছাড়াও মানুষ বাঁচে। সুখীও হয়। কিন্তু অনেকেই আছে, স্বভাবদোষে জীবদ্দশাতে তাদের যাতনা যায় না। আমার হয়েছে সেই দশা।
যখন অর্থশাস্ত্র পড়েছি, তখন এই প্রশ্নকে দর্শনের জায়গা থেকে বিচার না করে আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়া বিচারের জায়গা থেকে বুঝেছি। বিশেষত পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের বিস্মৃতি ও গভীরতাই শহর ও গ্রামের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিল্পবিপ্লব। পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অধীনে বিস্ফোরিত শিল্পবিপ্লবের যে মহিমা কীর্তন করা হয়, তার সুফল ও কুফল দুটোই আমরা ভোগ করি। কিন্তু এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অন্য কিছু করার দরকার কি নাই? অন্য কোনো কর্তব্য আছে কি মানুষের? থাকলে সেটা কী হতে পারে, অর্থশাস্ত্র তার উত্তর দিতে পারে না। এটা আমরা অনুমান করতে পারি, পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অবসানের জন্য মানুষের যে সংগ্রাম সেটা একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের ব্যবধান মোচনেরও সংগ্রাম। কিন্তু এর মানে কী? গ্রামকে শহর বানানো? সভ্যতার অন্বিষ্ট ও আদর্শ হিসেবে নগরায়ন ও শিল্পায়নের অবস্থানে এতে কি কোনো নড়চড় হয়? আমরা কি বলি যে শহর ভেঙে আবার তাকে গ্রামে রূপান্তর করা উচিত? পুঁজিবাদী হলেও যেমন আমরা শহর চাই, সমাজতন্ত্রী হলেও তো তা-ই চাই। আকাক্সক্ষায় কোনো হেরফের নাই। পুঁজিতন্ত্রে ও সমাজতন্ত্রে এদিক থেকে তো কোনো ফারাক দেখা যায় না। দুইয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ভেদ থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নাই। সমাজতন্ত্রও মনে করে শিল্পায়ন ও নগরায়নই সভ্যতা, ওর মধ্যেই মানুষের অগ্রগতির চাবিকাঠি। সমাজতন্ত্র গ্রাম ও শহরের ব্যবধান মোচন করতে চায় বটে কিন্তু পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতোই গ্রামকেও শহরে পরিণত করতে চায়। সমাজতন্ত্র নিয়ে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা এটাই বলে। সমাজতন্ত্র আদর্শের দিক থেকে ভিন্ন কিছু চেয়েছে কি-না সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে, তবে তার প্রমাণ পাওয়া মুশকিল।
কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে যাওয়ার পেছনে প্রবলভাবে এসব প্রশ্ন কাজ করেছে। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা কৃষি সভ্যতাকে প্রগতি ও আধুনিকতার নামে চোখের সামনে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। কিন্তু কৃষি সম্পর্কে কোনো পূর্বানুমান মাথায় নিয়ে আমি কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে নামিনি। শিল্পসভ্যতা ও নগরায়নের প্রতি প্রশ্ন জারি রেখেও আমার মনে হয়েছে, কৃষি বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? কৃষি কাজের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতির সঙ্গে যে বিশেষ সম্পর্কে যুক্ত হই, তার চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যটাই বা আসলে কী? যদি কৃষি সভ্যতা ধ্বংস করে নগর ও শিল্পসভ্যতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প না থাকে তাহলে কী আমরা হারাচ্ছি, কিভাবে আমরা বদলে যাচ্ছি? এই বদলে যাওয়ার পরিণতি কী দাঁড়াতে পারে, সেই দিকগুলো হাতেনাতে কাজ করে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কোনো কেতাবি কায়দায় জানলে হবে না।
সে কারণে হাতে কোদাল নিয়ে মাটির সঙ্গে সম্বন্ধ রচনা করার প্রয়োজনীয়তাবোধ করেছি। অর্থাৎ এই সম্পর্কের অর্থ কী সেটা ইন্দ্রিয়পরায়ণভাবেই বোঝা দরকার মনে হয়েছে। বুদ্ধিকে সামলে রেখেছি, কারণ বুদ্ধির অহমিকা বারবার প্রকৃতির সঙ্গে আমার সম্বন্ধ রচনার ক্ষেত্রে আগাম বাগড়া দিতে থাকে। এমন কিছু প্রশ্ন মাথায় রেখেছি যাতে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঠিক কী অন্বেষণ করছি, তা নিজের কাছে স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন থাকে। যেমন, বারবার উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি কিভাবে পদ্মা মেঘনা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এই মানুষগুলো তাদের এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে কমপক্ষে ১৫ হাজার হাতের ধান ‘আবিষ্কার’ করতে সক্ষম হলেন? কী প্রতিভার গুণে সেটা সম্ভব হল? আবার বিভিন্ন জাতের চাষ পদ্ধতিও আলাদা। ধান চাষ নামক বিমূর্ত কোনো চাষাবাদ পদ্ধতি নাই। প্রতিটি জাতের পরিচর্যা ভিন্ন। অল্প পার্থক্য হলেও কৃষকের কাছ থেকে প্রতিটি জাত ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যার ধরন দাবি করে।
কৃষকের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্বন্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা আরও গভীর দিকে ধাবিত করে। যেমন, কৃষকের যে জ্ঞানের ওপর পুরো কৃষি ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে, কিভাবে এ জ্ঞানের উৎপত্তি ঘটে ও চর্চা হয়? শ্রুতিই যে সংস্কৃতিতে ‘প্রমাণ’ বলে গৃহীত, সে সংস্কৃতিতে আবিষ্কারের নিজস্ব জ্ঞানগত প্রক্রিয়া আছে। তার বৈশিষ্ট্য কেমন? কৃষকের কথোপকথনে ও কানে কানে যে লৌকিক জ্ঞানচর্চার ধারা, সেখানে জ্ঞান ধরে রাখা ও বংশানুক্রমে ধরে রাখার বিদ্যাটা কেমন? এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন ১৯৯২ সালে বিখ্যাত ধরিত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি তখন প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির (Convention on Biological Diversity, CBD) খসড়া প্রণয়নের সময় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে লোকায়ত জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হই। সহজেই প্রমাণ করা গিয়েছিল, লৌকিক বা লোকায়ত জ্ঞান প্রতিটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যেভাবে হোক তার সংরক্ষণ ও জীবন্ত চর্চার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি জরুরি। আর সেটা করতে হলে যাদের জীবনযাপনের সঙ্গে এই জ্ঞানের উৎপত্তি ও চর্চা জড়িত তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের কোনো আবিষ্কার বা সম্পদ ব্যবহার করতে হলে তাদের জ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব স্বীকার ও তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির ৮ অনুচ্ছেদের মধ্যে বিখ্যাত লৌকিক জ্ঞান এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপন ও তার চর্চার সপক্ষে বিশেষ আন্তর্জাতিক বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। যা চুক্তির 8(j) বিধান হিসেবে খ্যাত।
ভূমিকা হিসেবে এত কথা বলছি এ কারণে যে কৃষি, কৃষকের জ্ঞান ও আবিষ্কার নিয়ে সাম্প্রতিককালে দেশে-বিদেশে যে জিজ্ঞাসা, গবেষণা, আগ্রহ ও বিতর্ক, তার ছিটেফোঁটাও আমাদের দেশে নাই। আমরা ‘আধুনিক’ কৃষির নামে যা করছি সেটা কৃষি নয়, সেটা আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশান। তার উৎপাদনের মডেল হচ্ছে কারখানার মতো। জমি যেন আশপাশের প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বদ্ধ ঘর। সেই জমির সঙ্গে আচরণ কারখানার মেশিনের মতোই। তার মধ্যে বীজ, সার, কীটনাশক আর ডিপটিউবওয়েলের পানি কাঁচামাল হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর তা ফসল হয়ে বেরিয়ে আসে। ইনপুট আর আউটপুট। কারখানা বর্জ্য উৎপাদন করে। এই কৃষি-কারখানাও বর্জ্য ত্যাগ করে। সার, বিষ ও মাটির তলা থেকে তুলে আনা আর্সেনিক আশপাশের প্রকৃতিকে দূষিত করে ফেলে। কিন্তু তার দায় এই ‘কারখানা’ নেয় না। এই কারখানা নিজের জমি থেকে কী পরিমাণ ধান পেল তার হিসাব দেখিয়ে বলে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বিষে বিষাক্ত হয়ে নদী, খালবিল ও পুকুর মাছশূন্য হয়ে গেছে, সেই হিসাব লুকায়। অথচ বাংলাদেশ মাছের দেশ। গ্রামে মুরগি, হাঁস, ছাগল, গরু পালা দুঃসাধ্য। কারণ সর্বত্রই বিষ ছড়িয়ে গিয়েছে। ফলে কৃষি থেকে দুধ, মাংস, ডিমের উৎপাদন ভয়ানক কমেছে। কিন্তু তাকে ‘খাদ্য’ বলা হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ কুড়িয়ে যা পেত, তা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। এই অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আসলে কৃষির নামে আমরা কী করছি, তার ভালো-মন্দ বিচার করার কোনো নিরপেক্ষ মানদণ্ড আমরা তৈরি করতে পারিনি। আমরা ধরে নিয়েছি, কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে কারখানামূলক পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশানই আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর একমাত্র পথ। পরিবেশবান্ধব অন্য কোনো কৃষি পদ্ধতির দরকার নাই। আর এই পথের সুযোগে আমাদের কৃষিব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। কৃষক নয়, কর্পোরেশনই নাকি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে! এই পথ আত্মঘাতী পথ। কিন্তু এ পথেই আমরা ধেয়ে যাচ্ছি।
অথচ বিজ্ঞানীরা নানাভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, পরিবেশসম্মত সত্যিকারের কৃষিই বরং খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর পেছনে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনের জায়গায় আন্তর্জাতিকভাবে সে কারণে ‘টেকসই কৃষি ব্যবস্থা’ প্রচার ও প্রবর্তনের কথা বলা হয়। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির নানান বাধা, প্রতিবন্ধকতা এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে কৃষক ও গণমানুষের স্বার্থবিরোধী সরকারের কারণে সে চেষ্টা বেগবান হতে পারেনি।
বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনে রূপান্তরের সাম্প্রতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জিএমও বা বিকৃত জাতের উদ্ভিদ প্রবর্তন। খবরে দেখছি, সম্প্রতি জুনের (২০১৩) মাঝামাঝি সময়ে বিটিবেগুনের বীজ কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি)। এ খবর বাংলাদেশের যে কোনো সচেতন নাগরিককে বিস্মিত করবে। বেগুনের মতো অতি পরিচিত এবং প্রচুর ব্যবহৃত একটি সবজির জৈবিক গঠন বিশেষত প্রাণ সংকেত কেন জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটানো বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার জন্য জরুরি হয়ে পড়ল? এর কী যুক্তি? এসব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার দরখাস্ত এই বিটিবেগুন নিয়ে।
বিটিবেগুনকে ‘বিকৃত’ বেগুন বলা হয় কেন? বিটি একটি ব্যাক্টেরিয়ার নাম ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (Bacillus thuringiensis)। এই ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত প্রোটিন উদ্ভাবনের জিন রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া থেকে সেটা আলাদা করে জেনেটিক কারিগরির মাধ্যমে বেগুনের জিনোম বা প্রাণ-সাংকেতিক গঠনের মধ্যে সেটা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে বেগুনের মধ্যেই একই ধরনের বিষাক্ত প্রোটিন উৎপাদিত হয়। অথচ স্বাভাবিক বেগুনে এটা হওয়ার কথা নয়। ব্যাকটেরিয়া আর উদ্ভিদ সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সত্তা। এর ফলে বেগুনের মধ্যে সাধারণত আমরা যেসব পোকা সব সময় দেখি, সেই ব্রিঞ্জাল ফ্রুট অ্যান্ড শুটবরার বা লেদাপোকা বেগুনের গায়ে আক্রমণ করলে বা বেগুনের কোনো অংশ খেলে তাদের পুষ্টিনালী ছিদ্র হয়ে যায়। তারা মারা যায়। অর্থাৎ বেগুনগাছ নিজেই তখন বিষ হিসেবে কাজ করে।
বেগুনগাছকে বিষাক্ত বানিয়ে লেদাপোকা মারার প্রতিভাবান কৌশল আবিষ্কারের কারণ হল ইরি ও হাইব্রিডের বিষাক্ত বেগুন চাষ দেখে যারা বিরক্ত ও আতংকিত তাদের ফাঁকি দেয়া। তাদের বলা হবে, এই বেগুন চাষে কোনো বিষ বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। অথচ পুরো গাছটা নিজেই বিষাক্ত। সেই বিষাক্ত বেগুনগাছের ফল খাওয়ানো হবে ‘বিষমুক্ত’ বলে। ভালোই কোম্পানির বুদ্ধি। যে বিকৃত বিটিবেগুন এতই বিষাক্ত যে পোকা খাওয়ারও উপযোগী নয়, সেই বেগুন কী করে মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে? বেগুন ছাড়াও তুলা ও ভুট্টার ক্ষেত্রেও বিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষেত্রেই সেসবের প্রবর্তনে কৃষিতে কোনো সাফল্য আনেনি। বরং বিটিতুলা চাষ করে লাখ লাখ কৃষকের সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ভারতে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিষ ব্যবহার না করার কথা স্রেফ মিথ্যা ও প্রতারণা।
সার ও বিষ ছাড়া যেসব কৃষক চাষাবাদ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন বেগুন পোকা নিয়ন্ত্রণ করার সহজ পথ হচ্ছে- ১. স্থান ও পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেই পরিবেশে গড়ে ওঠা স্থানীয় বীজের ব্যবহার, ২. জৈব প্রক্রিয়ায় মাটির উর্বরতা রক্ষা করা যাতে কোনো রাসায়নিক সার দিতে না হয়। আর সর্বোপরি বৈচিত্র্যপূর্ণ ফসলের উৎপাদন করা। অর্থাৎ একাট্টা ফসল না করা। কৃষকদের দেখেছি যদি তারা পোকার আক্রমণের আশংকা করেন তবে সব এক জায়গায় না লাগিয়ে আলানে পালানে নানান জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেগুনগাছ লাগান। পোকা কৃষকের জ্ঞান ও বুদ্ধির কাছে পরাজয় মানতে বাধ্য হয়। কৃষকের উদ্ভাবিত এসব জ্ঞান ও তার চর্চাকে উৎসাহিত না করে বিদেশী কোম্পানির মুনাফার বাজার তৈরি করার জন্য এখন বিটিবেগুন প্রবর্তনের চেষ্টা চলছে। যা অবিলম্বে প্রতিরোধ করা জরুরি।
বারি বিটিবেগুন নিয়ে যে গবেষণা করেছে, সেই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই এবং ফলাফল প্রকাশ না করেই এই অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তার মানে অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে গোপনে। অনুমোদন চাওয়ার আগেই বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার কথা, ঠিক তেমনি কৃষক ও ভোক্তা উভয়কেই সেই গবেষণার ফলাফল জানানো দরকার। এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন বিতর্ক হওয়া দরকার, তেমনি জিএমও বা বিকৃত বীজ চাষের ফলে পরিবেশ, প্রাণব্যবস্থা ও প্রাণের বৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির সম্ভাবনাও সামগ্রিকভাবে বিবেচনার দরকার আছে। জানা দরকার, এই বীজ দ্বারা কৃষকের বেগুনের জাত দূষিত কিংবা ধ্বংস করার সম্ভাবনা কতটুকু।
আরও অনেক কিছু জানার দরকার আছে। যেমন, এই বীজের ‘মালিক’ কে বা কারা, কারণ এর সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রশ্ন জড়িত। মনসান্টো বা ভারতের মাহিকো কোম্পানির কাছে দেশীয় জাতের বীজ বিকৃত করে নতুন নামে, ‘বিটিব্রিঞ্জাল’ নামে প্রচলনের যৌক্তিকতা কী? বাংলাদেশে ৯টি স্থানীয় জাতের বেগুনের জাত বিটিবেগুন উদ্ভাবন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা বেগুন, কাজলা বেগুন, খটখটি বেগুন এবং চট্টগ্রামের দোহাজারীর একটি জাতকে বিটিবেগুন হিসেবে বিকৃত করা হয়েছে। এখন সেই বিকৃত বেগুনের বীজ ছাড় করানোর লক্ষ্যে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, কৃষকদের শত শত বছরের উদ্ভাবিত বেগুনের জাতের ওপর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অধিকার বারির মতো প্রতিষ্ঠানকে কে দিয়েছে?
বিটিবেগুন গবেষণার সময় যেন কোনো জৈবদূষণ (biological pollution) না ঘটে, তার জন্য গ্রিনহাউস ব্যবস্থার অধীনে গবেষণা পরিচালনা করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, বাঁশ ও লোহারজালির বেড়া দিয়ে ঘিরে বিটিবেগুনের চাষ করা হচ্ছে। পুরো মাঠেই রয়েছে প্রচুর ঘাস ও বিভিন্ন উদ্ভিদ। খুব কাছেই অন্যান্য শস্যের ক্ষেত। পরিবেশের কোনো প্রকার সুরক্ষা ছাড়াই এভাবেই বিটিবেগুনের গবেষণা চলছে। গবেষণা পর্যায়েই বিটিবেগুন পরিবেশের কোনো ক্ষতি করল কি-না সেটাও এখন জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বেগুন বিশেষভাবে বাংলাদেশের সবজি। এর জাতের বৈচিত্র্যের উৎপত্তিস্থলও (Origin of Diversit) এই তিন বৃহৎ নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা অববাহিকা। বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে এই সম্পদ রক্ষা করা। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে বেগুন বারো মাস জন্ম এবং সারাদেশে নানা জাতের বেগুন পাওয়া যায়, সেখানে বিদেশী সাহায্য সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানির তাড়ায় আমাদের দেশের বেগুনের মধ্যে জেনেটিক কারিগরির কী এমন প্রয়োজন দেখা দিল যে সরকার তা অনুমোদন করার উদ্যোগ নিচ্ছে?
বেগুনের বিভিন্ন জাত আমাদের কৃষক, বিশেষত কৃষক নারীর হাজার বছরের আবিষ্কার। বাংলাদেশের জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। বিকৃত বেগুন প্রবর্তনের ফলে অন্যসব জাত ভয়াবহ জৈবিক দূষণের (biological pollution) কবলে পড়তে পারে। দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের বিকৃত জাতের বেগুন কৃষক পর্যায়ে গোপনে অনুমোদন চাওয়া শুধু বিতর্কিত বিষয়ই নয়, রীতিমতো একটি বিপজ্জনক প্রস্তাব।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জিএম ফসলের অনুমোদন দিয়ে যাবেন বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ২০১১ সালেই বলে রেখেছিলেন। দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে সেটা জানা যায় (দেখুন, Govt. plans to approve GM crops, এপ্রিল ৩, ২০১১)। কৃষি মন্ত্রণালয় এই বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২০০৫-০৬ সাল থেকে গবেষণা করলেও বিটিবেগুনের কোনো সন্তোষজনক ফলাফল পায়নি। তারপরও বিকৃত বীজের ফসলের অনুমোদন তিনি কেন দেবেন, তার কোনো যুক্তি নাই।
আমরা জানি, বিটিবেগুনের গবেষণার উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষক কিংবা বেগুন পছন্দ করেন এমন ভোক্তাদের কাছ থেকে আসেনি। এসেছে বিটিবেগুন প্রকল্পের অংশীদার বেশির ভাগ বিদেশী সংস্থা ও ব্যবসায়ী কোম্পানির কাছ থেকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস ফর দি একুইজিশান অব এগ্রোবায়োটেক এপ্লিকেশান (ISAAA), ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপাইন্স, লসবেনোস (UPLB), সাউথ ইস্ট এশিয়ান রিজিওনাল সেন্টার ফর গ্রাজুয়েট স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন এগ্রিকালচার (SEARCA) এবং বীজ কোম্পানি যেমন ভারতের MAHYCO, যার সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্তোর অংশীদারিত্ব রয়েছে- এদের কাছ থেকে। কাজেই এই গবেষণা আসলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের নয়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র।
বাংলাদেশে গাজীপুরে অবস্থিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) এই গবেষণা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের বিশেষ কর্মসূচি ABSP II এর অধীনে। ভারতে এই বেগুন নিয়ে প্রচুর বিরোধিতা ও হৈচৈ হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ভারতে বিটিবেগুন গবেষণার ওপর মোরাটরিয়াম জারি রয়েছে। কিন্তু ভারতের উদ্যোক্তা কোম্পানি মাহায়কো ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বসে থাকতে রাজি নয়। তাদের উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এ শিল্পে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে পারবে কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে চায় না। বায়োএগ্রি কোম্পানির অন্যতম প্রতিনিধি Dr Barwale Zehr বলেছেন, ভারতে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই পণ্যটি ভারতে ছাড়তে অসুবিধা হলেও তারা ফিল্ড ট্রায়ালের মাধ্যমে অন্য দেশে ছাড়পত্র জোগাড় করতে পারবেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে সরকারি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তারা এ কাজ করে ফেলার জন্য প্রস্তুত।
`Even though the moratorium has affected the product release in India, we hope to be able to release it in other countries after conducting the mandatory field trials. We are in partnership with both private and public enterprises who are going to commercialize our technology for Bt brinjal and are very close to doing so'.
বিস্ময়কর হল, বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে নীরব। আর কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিটিবেগুন ও বিটিআলুর ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ২০১১ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি জিএম ফসলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, জিএম ফসল কীট দমনে ভালো ভূমিকা রাখবে। উৎসাহ প্রকাশের এক পর্যায়ে তিনি জিএম ফসল নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে বলেছেন। এমনকি তিনি বিরোধিতাকারীদের কথাকে ‘ফতোয়া’ বলে প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন (ডেইলি স্টার, মার্চ ৩০, ২০১১)।
কৃষিমন্ত্রীর বিটিবেগুন ও বিটিআলুর প্রতি মহব্বতকে তার ব্যক্তিগত পছন্দ গণ্য করা কঠিন। কারণ তিনি আসলে যাদের ভালোবাসেন তারা হচ্ছে মনসান্তো, ভারতীয় কোম্পানি মাহিকো এবং ইউএসএইড। এটা অবিশ্বাস্য যে, তিনি জানেন না স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া ছাড়াও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য বিকৃত বেগুন মারাÍক নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেগুনের মধ্যে অণুজীবের যে জিন থাকার কথা নয় তা ঢুকিয়ে দেয়ার ফলে বিকৃত বেগুন থেকে সেই জিন বেরিয়ে গিয়ে আশপাশের বেগুনের জাতের কাছাকাছি অন্যান্য জাত ও প্রজাতির বুনো গাছপালা শাকসবজি ঝোপঝাড় লতাপাতায় প্রবিষ্ট হয়ে তাদের দূষিত করে ফেলতে পারে। এ ধরনের পরিবেশ দূষণকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল পলিউশান’ বা জীবজীবন দূষিত করে ফেলা। পরিবেশ দূষণের চেয়েও তা ভয়ংকর। এই ভীতিকর সম্ভাবনা থাকার পরও বিটিবেগুন চাষ করার জন্য মতিয়া চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে গেছেন।
জৈবদূষণের ভীতিকর সম্ভাবনা নিয়ে এখন দীর্ঘ আলোচনা না করে মাননীয় মন্ত্রীকে সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রিনপিসের একটি প্রতিবেদন দেখতে বলব : Genetically engineered Bt brinjal and the implications for plant biodiversity – revisited. April 2012)। তাকে অনুরোধ করব, তিনি যেন গ্রিনহাউস ব্যবস্থা ছাড়া বিটিবেগুন গবেষণার বর্তমান বিপজ্জনক পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ এবং কৃষকের ক্ষেতে বিকৃত বেগুন উন্মুক্ত চাষাবাদ করার দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। তাকে ভেবে দেখতে বলব যে, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ গণসমর্থন হারিয়েছে, এই সত্য অস্বীকার করার জো নাই। এখন আওয়ামী লিগের কাঁধে বাংলাদেশের জটিল প্রাণব্যবস্থাপনা ও সমৃদ্ধ প্রাণবৈচিত্র্য দূষিত ও ধ্বংস করার বাড়তি দায় মতিয়া চৌধুরী চাপিয়ে দেবেন না, এই বিচক্ষণতা আমরা এখনও আশা করি। পরিবেশবিরোধী নীতি ও প্রযুক্তি প্রবর্তন করে এতকাল কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করার পরও অনেকের আশা মেটেনি। এখন কৃষিব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও কৃষকদের ভাগ্য বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার তৎপরতা নিন্দনীয়।
আমার দরখাস্তের কথা একটাই : মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো বিধান না মেনে বিটিবেগুন গবেষণা বন্ধ করুন এবং কৃষকের ক্ষেতে বিটিবেগুন চাষের পরিকল্পনা ত্যাগ করুন। দয়া করে প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাকে রক্ষা করুন।

সংবিধানই সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে

দেশের সংবিধান অনুযায়ীই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কিছু বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডও সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। গত বৃহস্পতিবার সামরিক গোয়েন্দা (এমআই) শাখাকে প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চের সামনে এ কথা বলেন। আইনজীবী ইবরাহিম সাট্টি সর্বোচ্চ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চের উদ্দেশে বলেন, সেনা আইনের কিছু ধারা মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী—এই যুক্তিতে সর্বোচ্চ আদালত ওই আইন খারিজ করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নেওয়া শপথ তাদের ওপর সংবিধান রক্ষা করা এবং দেশের প্রতি অনুগত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। সেনা গোয়েন্দা বিভাগের মেজর হায়দারের বিরুদ্ধে আবিদা মালিক নামে এক নারী তাঁর স্বামী তাসিফ আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ২০১১-এর নভেম্বর থেকে তাসিফ আলীকে পাওয়া যাচ্ছে না। আবিদা মালিক তাঁর স্বামীকে হাজির করার আদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সেনা গোয়েন্দা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আইন ১৯৫২ অনুযায়ী, পুলিশ ও কোনো আদালত সামরিক বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা ও বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে পারবে না। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ এখতিয়ার নেই। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই সংবিধানে বিশেষ অধিকার আছে। এ ছাড়া দেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ওপর কোনো বাধা নেই। ডন।

সিরিয়ায় আসাদবিরোধী শীর্ষ কমান্ডার গুলিতে নিহত

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের সামরিক শাখা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার কামাল হামামিকে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গতকাল শুক্রবার অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী এফএসএর ওই শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকারবিরোধীদের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় তিনি নিহত হন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হামামি হত্যাকাণ্ড সিরিয়ার যুদ্ধে নতুন আরেকটি দিক খুলে দিল। একসময় যারা একসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, এখন তারাই পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে যাচ্ছে। আবু বসির আল জেবলাবি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন কামাল হামামি। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের অভিযোগ, আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) নামের একটি গোষ্ঠী গত শুক্রবার লাতাকিয়া প্রদেশে এফএসএর তল্লাশিচৌকিতে হামলা চালায়। সেখানে তারা গুলি করে হামামিকে হত্যা করে। এ সময় তল্লাশিচৌকিটি ভাঙচুর করা হয়। এএফপি ও রয়টার্স।

ফাঁস ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে ক্রেমলিন!

ক্রেমলিন ভবন
উনিশ শতকের ষাটের দশকে টাইপরাইটার যন্ত্রটির উদ্ভব। আর গত শতাব্দীর আশির দশকে সেই যন্ত্রটিকে হটিয়ে দিয়ে ক্রমেই স্থান দখল করে কম্পিউটার। তার পর থেকে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটারেরই জয়জয়কার। কিন্তু উইকিলিকস ও এডওয়ার্ড স্নোডেনের সাম্প্রতিক তথ্য ফাঁসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই প্রাচীন যন্ত্রটির কাছেই ফিরে যাচ্ছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থা এফএসও বেশ কিছু টাইপরাইটার মেশিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এফএসও এ জন্য রাষ্ট্রীয় ক্রয়বিষয়ক ওয়েবসাইটে চার লাখ ৮৬ হাজার ৫৪০ রুবলের (নয় হাজার ৮৬০ পাউন্ড) টাইপরাইটার কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কেন এই বিগত দিনের যন্ত্র কেনার প্রয়োজন কেন হলো, এফএসও তা জানায়নি। তবে একটি সূত্র ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে বলেছে, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার থেকে তথ্য ফাঁস ঠেকানোর জন্য এসব যন্ত্র কেনা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও জরুরি মন্ত্রণালয়ের কাজে টাইপরাইটার ব্যবহূত হচ্ছে। বিবিসি।

মার্কিন রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে শারীরিক ক্ষতি প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এক অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত। এজেন্ট অরেঞ্জ নামে রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী ওই প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থ ওই অস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯ দক্ষিণ কোরীয়কে দেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছেন। ভিয়েতনামী বামপন্থী গেরিলারা যাতে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে না পারে সে জন্য এজেন্ট অরেঞ্জ নামে আগাছানাশক ছিটিয়ে বনের গাছগুলো পাতাশূন্য করে ফেলেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই রাসায়নিকের কারণে নানা রকমের ত্বকের রোগের শিকার হয়েছেন বলে ওই কোরীয়রা যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্র্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এই প্রথম ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হলো। ওই রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ত্বকের রোগ হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানের। তবে এজেন্ট অরেঞ্জ প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ডাউ কেমিক্যালসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, তারা কোরীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে একমত নয়। যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এ রায় দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালে ১৬ হাজার রাসায়নিক অস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মামলা করেন। তাঁরা চার শ চার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চান। ২০০৬ সালে একটি আপিল আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে ছয় হাজার ৭৯৫ জনকে ছয় কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার দিতে বলেন। তবে গতকাল শুক্রবার ওই মামলা আবার আপিল আদালতে পাঠানো হয়েছে। আলোচিত ভিয়েতনাম যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া তিন লাখ সেনা পাঠিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাদের সঙ্গে তারা একযোগে উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এএফপি।

চীনে নতুন আবিষ্কৃত খোদাই লিপি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ

চীনে আবিষ্কৃত পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো খোদাই করা লেখা নিয়ে দেশটির বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এগুলো হচ্ছে চীনা ভাষার বর্ণের প্রাচীনতম নমুনা। কিন্তু অন্যরা তা মানতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, এর চেয়েও প্রাচীন বর্ণ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমস বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝুয়াংকিয়াওফেন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে আবিষ্কৃত মৃৎশিল্প ও পাথরের পাত্রগুলো লিখিত ভাষার উৎপত্তির বয়সকে এক হাজার বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ঝেজিয়াং প্রদেশে পাওয়া ওই খোদাই লিপি ওরাকলের চেয়েও প্রাচীন। কচ্ছপের খোলে লেখা ওরাকল চীনের শাং রাজবংশের সময়কার (১৬০০-১০৪৬ খ্রি.পূর্বাব্দ) নমুনা। সাধারণভাবে মনে করা হয়, লিখিত চীনা ভাষার উৎস এটাই। এ ব্যাপারে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লি বোকিয়ান বলেন, প্রাচীন লিয়াংঝু সভ্যতার প্রতীক হচ্ছে ওই খোদাই করা লেখা। ঝেজিয়াং ও পার্শ্ববর্তী জিয়াংসু অঞ্চলে এই সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। ওই খোদাই করা লেখাই স্বাধীন শব্দ থেকে বাক্যের মৌলিক কাঠামো তৈরি করেছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এগুলো আবিষ্কৃত হয়। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা এই খোদাই লিপি আবিষ্কারের গুরুত্ব নাকচ করে দিয়েছেন। চায়নিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক গবেষক জু হং বলেন, চীনা হস্তলিপি এবং ওই খোদিত লিপির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বেইজিং প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষাবিষয়ক অধ্যাপক জিয়া জিংচুন বলেন, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই মনে করে আসছেন এর (নতুন আবিষ্কৃত খোদাই লিপি) চেয়েও প্রাচীন বর্ণের নমুনা রয়েছে। এএফপি।

স্কুলে যাচ্ছে সোয়াতের মেয়েরা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গতকাল জাতিসংঘের ইয়ুথ অ্যাসেম্বলিতে
বক্তব্য দেয় পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই।
গতকাল ১২ জুলাই ছিল তার জন্মদিন। জাতিসংঘ এই দিনটিকে
‘মালালা দিবস’ ঘোষণা করেছে ষ ছবি: এএফপি
পাকিস্তানের পশ্চাৎপদ সোয়াত এলাকার স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছিল তালেবান। তার ‘অপরাধ’ মেয়ে হয়েও সে স্কুলে যায়। আবার নারী শিক্ষার অধিকার নিয়েও আন্দোলন করে। কিন্তু তালেবান মালালাকে দমাতে পারেনি, পারেনি সোয়াতের মেয়েদেরও। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফেরা সেই মালালার গতকাল জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছে। আর তার এলাকার মেয়েরা এখন আগের চেয়ে বেশি স্কুলে যাচ্ছে। সোয়াত জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা দিলশাদ বিবি জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সোয়াতে স্কুলে ভর্তি হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৩৭৪ জন মেয়ে। যেখানে গত বছর সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৫৪০ জন। শিক্ষাবিদেরা অবশ্য বলছেন, মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার বৃদ্ধির পেছনে মালালার ঘটনা একমাত্র কারণ নয়। এর প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের সচেতনা বাড়ছে এবং সোয়াতে তালেবানের প্রভাব কমছে। সোয়াতের সাইদু শরিফ শহরের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরফান হুসেইন বাবাক বলেন, ‘মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে যে মেয়েদেরও শিক্ষিত হতে হবে।’ এরফান হুসেইন আরও বলেন, ‘নারীশিক্ষা নিয়ে কাজ করছে আরও অনেক মেয়ে। তালেবানের চোখ রাঙানি সত্ত্বেও তারা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এএফপি।

দ্বৈত পদ বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলে একই সঙ্গে সরকারি ও দলীয় পদে থাকা নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সে বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিই (সিইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলটির প্রধান ইমরান খান গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। ইমরান খান এখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দ্বৈত পদে থাকা নিয়ে দলের ভেতরে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পিটিআই গত মে মাসের নির্বাচনে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন পারভেজ খাটাক, যিনি দলের মহাসচিবও। খাটাকসহ যাঁরা সরকারের বিভিন্ন পদে আসীন রয়েছেন, তাঁদের দলীয় পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে গত মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান হামিদ খান। তবে ইমরান লন্ডন থেকে একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়ে দেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল দলের সিইসিই নিতে পারে। তবে পাল্টা বিবৃতিতে হামিদ বুধবার দাবি করেন, দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসার ক্ষমতা কমিশনের হাতেই ন্যস্ত। তিনি যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন তা চূড়ান্ত। এ প্রেক্ষাপটে ইমরান খান লন্ডন থেকে বৃহস্পতিবার নতুন এক বিবৃতি দিয়েছেন, যা দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বলেন, ‘আমরা দলের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাই এবং তার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করি না। তবে এটা সত্য যে দ্বৈত পদের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কেবল ব্যাখ্যামূলক।’ ইমরান বলেন, এ বিষয়ে পিটিআইয়ের গঠনতন্ত্রে কিছু বলা নেই, আর দলের নেতৃত্বের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই দলের সিইসির বৈঠকেই ওই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইমরান খানের সর্বশেষ এই বিবৃতির বিষয়ে দলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হামিদ খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডন।

মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে আতঙ্ক

মিসরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীরা গতকাল শুক্রবার পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করেছে। উভয়ের সমাবেশস্থল আলাদা হলেও দেশের উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ দিনভর আতঙ্কে ছিল। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি সরকার গঠনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা গতকাল জুমার নামাজের পর থেকেই কায়রোর অদূরে নাসর শহরে জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেলের মধ্যে রাব্বা আল আদাবিয়া মসজিদের আশপাশে হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা মুরসি ও তাঁর ইসলামপন্থী সংগঠন ব্রাদারহুডের পক্ষে নানা স্লোগান দেন। অনেকেই মুরসি ও ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাদির ছবি বহন করছিলেন। সমাবেশে মিসরের বিশাল আকারের একটি জাতীয় পতাকা ছিল লক্ষণীয়। তাহরির স্কয়ারের মুরসিবিরোধীদের পাল্টা কর্মসূচি শুরু হয় মূলত ইফতারের পর। ওই স্কয়ারেই ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পর মুরসিবিরোধীরা ব্রাদারহুডের বিপক্ষে নানা স্লোগান দেন। এর আগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল দিনভর। আবারও সংঘর্ষ ও রক্তপাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ছিল আতঙ্কিত। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বেবলাউয়ি গতকাল জানান, কাল রোববার বা পরশু সোমবার থেকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ শুরু করবেন। আশা করছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। মুরসিকে মুক্তিদানের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের: গতকাল যুক্তরাষ্ট্র মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সে দেশের সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গ্রেপ্তার অভিযান বর্তমান সংকট এড়াতে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় বসার পথ নয়। গ্রেপ্তার চলতে থাকলে মিসর কোন পথে সংকট থেকে বের হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। মার্কিন শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিসরে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান সরবরাহ বা কোনো ধরনের সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনাইয়ে পুলিশ হত্যা: গতকাল সকালের দিকে সিনাই উপদ্বীপে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে রকেটচালিত গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিনাই উপদ্বীপ এলাকায় জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়েছে। বান কি মুনের উদ্বেগ: মিসরের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। বানের মুখপাত্র মার্টিন নেসির্কি জানান, মিসরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মুরসি ও ব্রাদারহুডের নেতাদের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এএফপি, রয়টার্স, আল-আহরাম।

শাহরি রমজান-আল্লাহর প্রেমে মাতোয়ারা হওয়ার মৌসুম by মাওলানা শোয়াইব ইজহার

মাটির তৈরি মানুষের দেহ থেকে দরদ আর মায়া-মমতা উথলে ওঠার এবং আসমান থেকে আল্লাহপ্রেমের সুশীতল বারিধারা নেমে আসার মাস ও মৌসুম রমজানুল মোবারক।

জাতিসংঘে মালালার ভাষণ-বই আর কলমই পারে পৃথিবীকে বদলে দিতে

একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি কলম, আর একটি বই গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই। সে বলেছে, 'তালেবান বই ও কলমকে ভয় পায়।

আটক-আতঙ্কে বিক্ষোভকারীরা-কোটা বাতিল না সংস্কার?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের এবং কয়েকজনকে আটকের পর বিসিএসে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে গ্রেপ্তার-আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মানববন্ধনে দুই সংগঠন-মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রান্ত থেকে কোটা বাতিল আন্দোলন

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা কারো দান বা করুণা নয়। এটি এক সাগর রক্তের ঋণ শোধের সামান্যতম প্রয়াস মাত্র। অতীতে জামায়াত-শিবির চক্র কোটা বাতিলের জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র করেছিল।

যোগাযোগমন্ত্রী বললেন-অর্থমন্ত্রীর অবাস্তব অবস্থানের কারণেই পদ্মা সেতুতে বিলম্ব

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অবাস্তব অবস্থানের কারণেই পদ্মা সেতুর কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি বলে মন্তব্য করলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পদ্মা সেতুতে রাশিয়া ও চীনের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ

পদ্মার ভয়াল গ্রাসে ভূখণ্ড হারাবে বাংলাদেশ by রফিকুল ইসলাম

রাজশাহীর পবা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকা চরখানপুর। এলাকাবাসী বলে চরতারানগর। চরখানপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে ছিল চরতারানগর। সেটি এখন আর নেই- পাঁচ-সাত বছর আগে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

নিষিদ্ধ হচ্ছে দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর by নিখিল ভদ্র

দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং হস্তান্তর নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আগামীকাল রবিবার একটি বিল উঠছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে 'দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩' নামে বিল তৈরি করে তা সংসদে পাঠিয়েছে।

পরিবর্তন আসছে আ. লীগে ঈদের পর বিশেষ কাউন্সিল by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ঈদুল ফিতরের পর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দল গোছানোর অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলে দলে কিছু পরিবর্তন আসবে।

ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, মেজাজ হারাচ্ছে ক্রেতারা-২৪ ঘণ্টায় দাম দ্বিগুণ

রমজানকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারগুলোতে চলছে চরম অরাজকতা। কোনো পণ্যের দামই আর ক্রেতার নাগালে নেই। কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাগামছাড়া।

গোলাম আযম ও মুজাহিদের বিচারের রায় কবে? by এম বদি-উজ-জামান

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম ও বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

স্নোডেনের প্রতি কোন দেশের মনোভাব কী

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন অন্তত ২৭টি দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তবে মাত্র তিনটি লাতিন দেশ মস্কোর বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় আটকে থাকা স্নোডেনকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি রাশিয়ায় আশ্রয় চান স্নোডেন

লাতিন আমেরিকায় না যাওয়া পর্যন্ত রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। গতকাল শুক্রবার মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।

এজেন্ট অরেঞ্জ নিয়ে আদালতের রায় মার্কিন রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে শারীরিক ক্ষতি প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এক অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত।

স্কুলে যাচ্ছে সোয়াতের মেয়েরা

পাকিস্তানের পশ্চাৎপদ সোয়াত এলাকার স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছিল তালেবান। তার ‘অপরাধ’ মেয়ে হয়েও সে স্কুলে যায়। আবার নারী শিক্ষার অধিকার নিয়েও আন্দোলন করে।

ফাঁস ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে ক্রেমলিন!

উনিশ শতকের ষাটের দশকে টাইপরাইটার যন্ত্রটির উদ্ভব। আর গত শতাব্দীর আশির দশকে সেই যন্ত্রটিকে হটিয়ে দিয়ে ক্রমেই স্থান দখল করে কম্পিউটার। তার পর থেকে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটারেরই জয়জয়কার।

ঈদ বাজার ছুটির দিনে বিপণিগুলোতে ভিড়

দোকানিদের হাঁকডাক, ফুটপাতের হকারদের ‘যেটা নিবেন একদাম’ স্লোগান, রাস্তায় মানবজটে আটকে পড়া গাড়ির হর্ন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনে ছিল এমন অবস্থা।

জাপার ইফতারে সব দলের উপস্থিতি গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর চেয়েছেন এরশাদ

সংঘাত ও হানাহানি থেকে দেশের মুক্তির জন্য গণতন্ত্রের উত্তরণ ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর চেয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত জাপার

শ্রম আইন শ্রমিকবান্ধব করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই

বর্তমানে সংসদে শ্রম আইনের যে সংশোধনী পেশ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী। প্রস্তাবিত শ্রম আইন পাস হলে এতদিন শ্রমিকের যে অধিকার ছিল, তাও খর্ব হবে। শ্রম আইন শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে নিয়ে আসতে হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বাজারদর কিছু পণ্যের বাড়তি দাম অব্যাহত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ৫ জুলাই শুক্রবার এক কেজি শসার দাম ছিল ৩৫ টাকা। গতকাল শুক্রবার একই বাজারে এক কেজি শসা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এর আগে বুধ ও বৃহস্পতিবারও এমন দাম ছিল।

দোকান আছে মাত্র দুজনের ১২ জনের মধ্যে ১১ জন ডিলার পণ্য তোলেননি by দুপচাঁচিয়া

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার রয়েছেন ১২ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন ছাড়া কেউ পণ্য তোলেননি। আর মাত্র দুজন ডিলারের রয়েছে বিক্রয়কেন্দ্র (দোকান)।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে আছে কোটি টাকার যন্ত্র by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীতে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই কোটি টাকার বেশি দামের একটি ট্রান্সমিটার বসিয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় ট্রান্সমিটারটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে।

বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত

উত্তরাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে দিনাজপুরে সওজের একটি রেস্টহাউস ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ধর্ম মনুষ্যত্ব অর্জনে রোজার ভূমিকা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মানুষ যেন প্রকৃত মানুষ হতে পারে, তার মধ্যে মনুষ্যত্ব যেন পূর্ণ মাত্রায় জাগ্রত হয়, সে যেন খুঁজে পায় চিরমুক্তির মোহনা, যেন পৌঁছাতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে বা মনজিলে মাকসুদে—এ জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র রমজান মাসে ৩০ দিন রোজার বিধি-বিধান দান করেছেন।

ভারত জনগণের সন্দেহের চোখে রাজনৈতিক দলগুলো by কুলদীপ নায়ার

ভারতের মনমোহন সরকারের বিগত ১০ বছরে রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ওপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাওয়াটাকেই আমার সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে মনে হয়।

নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করুন জাহাজভাঙা শ্রমিক

বড় শিল্প খাত হিসেবে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নিয়ে হয়তো আলোচনা বেশি, কিন্তু শ্রমিকদের অবস্থা সব ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম। কম বেতন-ভাতা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজের পরিবেশ ও অধিকারহীন অবস্থা—এটাই যেন শ্রমিকদের নিয়তি।

আপিল বিভাগের রায় দ্রুত কার্যকর হোক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন প্রকল্প

ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজারে মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, রায়ের মধ্য দিয়ে এই বার্তাই পৌঁছে গেল যে আবাসন ব্যবসা খাতের প্রভাব-প্রতিপত্তি যত

ঋতুবন্দনা তারে বলা যায় ঘনঘোর বরিষায়... by মাহবুব আলম

ঘোর বর্ষায় মাঝেমধ্যে মনে হয় বড় মন্দভাগ্য জাতি ইংরেজ। এত বিত্ত-বৈভব থাকা সত্ত্বেও জীবনটা কাটিয়ে দিল সে মাত্র চারখানা ঋতু নিয়ে—শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম আর শরৎ।

মনের জানালা

মেহতাব খানম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।

বিশেষ রচনা ভূতের সঙ্গেই উঠবোস! by রাজীব হাসান

না, লাভ নেই। সে বিকটদর্শন স্কন্ধকাটা হোক, ইয়া বড় নখঅলা শাকচুন্নি, নাদুস-নুদুস মামদো কিংবা হোক চুনোপুঁটি টাইপের দু-একটা গেছো ভূত। জ্যাডন আর লুসিকে আর যা-ই হোক না কেন, ভূতের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

মূল রচনা নিখোঁজ ছয় নাবিকের সন্ধানে by মাসুদ মিলাদ

মালয়েশিয়ার লমুট বন্দর থেকে রওনা হওয়ার পর ৩ জুলাই আন্দামান সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে বাংলাদেশের জাহাজ এমভি হোপ। ক্যাপ্টেন রাজীব চন্দ্র কর্মকার বেতারবার্তায় অন্য জাহাজের ক্যাপ্টেনদের বিষয়টি জানান।

কা র্য কা র ণ একবার হাঁটবেন না তিনবার? by আব্দুল কাইয়ুম

প্রতিদিন টানা ৩০ মিনিট ব্যায়াম না করে কেউ যদি ১০ মিনিট করে দিনে তিনবার ব্যায়াম করে, তাহলে কি একই সুফল পাওয়া যাবে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বা তিন ভাগে ব্যায়াম করলে যে শুধু একই উপকার পাওয়া যায় তা-ই নয়,

লেখক হওয়ার পালা আপনার

আসছে ঈদ। আসছে লেখক হওয়ার দারুণ সুযোগ। ছুটির দিনে বরাবরের মতোই ভরসা রাখতে চায় তার পাঠকদের ওপর। সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের মধ্যে লিখে ফেলুন জম্পেশ একটা গল্প। আর পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।

মিয়ানমারে দাঙ্গা-২০ বৌদ্ধর কারাদণ্ড

মিয়ানমারের মেইকতিলা শহরে গত মার্চের দাঙ্গার ঘটনায় ২০ বৌদ্ধের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। গতকাল শুক্রবার পুলিশ ও আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশের ইতাওয়াহ শহরে গণধর্ষণের পর গায়ে কেরোসিন ঢেলে কলেজের এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েটির পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়।

কায়রোতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ


মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীরা গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কায়রোয় আলাদা সমাবেশ করেছে। মুরসিকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁর সমর্থকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছে।

'তথ্য ফাঁস' ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে রাশিয়া

উইকিলিকস এবং এডওয়ার্ড স্নোডেনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিয়েছে রাশিয়া। নথি ফাঁসের ভয়ে সম্প্রতি টাইপরাইটার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসও)।

'এখন আর অত উদ্বেগ নেই'

নেলসন ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল বলেছেন, ম্যান্ডেলার অবস্থা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এসএবিসিকে তিনি এ কথা বলেন।

লাল মসজিদ অভিযান-মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ

২০০৭ সালে ইসলামাবাদে লাল মসজিদে সেনা অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত এক শুনানি চলাকালে বিচারপতি নুরুল হক কোরেশি এ নির্দেশ দেন।

তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে টাইফুন সৌলিক

তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় 'টাইফুন সৌলিক'। গতকাল শুক্রবার দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার কথা ছিল ঝড়টির। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভারি বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

'রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা দেবে না কংগ্রেস'

আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করবে না ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজয় সিং এ মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে গতকাল শুক্রবার দিগ্বিজয় জানান, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কাউকে মনোনিত করে না কংগ্রেস।

গলছে বরফ, খুলছে বাণিজ্যের নতুন পথ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে খুলে যাচ্ছে সমুদ্রে বাণিজ্যের নতুন নতুন পথ। কমছে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াতের সময়কাল।

এভাবে আর কত দিন

হাসপাতালে গতকাল শুক্রবার ৩৫তম দিন পার করলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। তাঁর অবস্থা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ম্যান্ডেলাকে দেখে এসে জানিয়েছেন, মাদিবা (ম্যান্ডেলার গোত্রীয় নাম) চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানে আগস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাবনা

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তাঁর মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন হতে পারে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।

ফ্রান্সে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বাইরে গতকাল শুক্রবার যাত্রীবাহী একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ২২ জন। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকটে জাতীয় পার্টি, চাপে এরশাদ, ভুল না বুঝতে বিএনপিকে বার্তা by সেলিম জাহিদ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজ দলের ভেতরে-বাইরে চাপে পড়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

বিল ভরাট, সংরক্ষিত শালবনের গাছও কাটা পড়ছে পূর্বাচল প্রকল্পের উন্নয়নে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন by অরূপ দত্ত

বড়কাউ গ্রামের এক বাড়ির সামনে গাছের বড় বড় ১০টি খণ্ড পড়ে আছে। সেদিকে যেতেই বৃদ্ধ জমিলা খাতুন কেঁদে উঠে বললেন, এগুলো লিচুগাছের টুকরা। তাঁর এই গাছটি অনেক বড় ছিল।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ মেধা নয়, কোটার প্রাধান্য by শরিফুল হাসান

জনপ্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে কোটা প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। গত আট বছরে পাঁচটি বিসিএসের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট এক হাজার ১৮৯ জন প্রার্থীকে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

মুরসি কোথায়?

সেনা অভ্যুত্থানে মিসরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উচ্ছেদের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মুরসি সমর্থকদের আন্দোলন-বিক্ষোভ ও তা দমন প্রচেষ্টার কারণে দেশজুড়ে চলছে বিশৃঙ্খলা।

আপাতত রাশিয়ার কাছেই আশ্রয় চাইবেন স্নোডেন

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কর্মসূচি প্রিজমের কথা ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনকে (৩০) আশ্রয় না দিতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে। স্নোডেনকে হংকং ছাড়তে বাধা না দেওয়ায় চীনের ওপরেও নতুন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।

সুমাত্রায় কারাগারে দাঙ্গা-আগুনে নিহত পাঁচজন পালিয়েছে ২০০ কয়েদি

ইন্দোনেশিয়ার একটি কারাগারে দাঙ্গার সময় আগুনে পুড়ে তিন কয়েদিসহ পাঁচজন মারা গেছে। দাঙ্গার সুযোগ নিয়ে কারাগার থেকে পালিয়েছে প্রায় ২০০ বন্দি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমাত্রা দ্বীপের মেদান শহরের তানজুং গুস্তা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে।

উত্তরাঞ্চলে বন্যা-মানুষের পাশে দাঁড়ান

উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। বহু বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে পানি বৃদ্ধির কারণে। এর চেয়েও বড় ক্ষতি হচ্ছে নদীতীরের বাড়িঘর ও স্থাপনাগুলোর।

গ্যাস সংকট-আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ দূর করুন

বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্যাস সংযোগ নতুন করে চালু করায় আশাবাদী হওয়া গিয়েছিল। চলতি রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয় কালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় স্তম্ভে।

পবিত্র কোরআনের আলো-সব সময় সিজদা একমাত্র আল্লাহর তরে

১০০. ওয়া রাফা'আ আবাওয়াইহি 'আলাল 'আরশি ওয়া খাররূ লাহূ সুজ্জাদান, ওয়া কা-লা য়া--- আবাতি হা-যা তা'বীলু রু'ইয়ায়া মিন কাবলু, কাদ জা'আলাহা- রাব্বী হাক্কান, ওয়া কাদ আহসানা বী--- ইয আখরাজানী মিনাস সিজনি ওয়া জা----আ বিকুম মিনাল

ধূমপান নিয়ন্ত্রণ না নিষিদ্ধ by ডক্টর তুহিন মালিক

প্রতিদিন যদি বাংলাদেশ বিমানের দেড় শ যাত্রী নিয়ে একটি করে প্লেন ধ্বংস হতে থাকে, তাহলে এ দেশে মানুষ আর কখনো বিমানে উঠতে চাইবে না। অথচ প্রতিদিন এর চেয়ে বেশি মানুষ এ দেশে মারা যাচ্ছে ধূমপান করে।

মনের কোণে হীরে-মুক্তো-চাকরি শেষে সব কর্মকর্তা কি হারিয়ে যান? by ড. সা'দত হুসাইন

লেখাটি শুরু করতে চেয়েছিলাম সব চাকরিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে ভেবেচিন্তে দেখলাম এতে সংলেখের আকার এবং বিষয়বস্তুর বিস্তৃতি এত বেশি হয়ে যায় যে দৈনিক কাগজের কলামের জন্য তা উপযোগী হয় না।