Tuesday, June 18, 2019

ডিজিটালাইজেশনের ঢেউয়ে হারিয়ে যাচ্ছে জাপানের জাতীয় আইকন ‘হানকো’

মাথার ওপর জ্বলছে অল্প আলোর বাতি। টেবিলে নানা জিনিস। এরই মধ্যে দোকানে বসে একমনে কাজ করে চলছেন ফুজিও কাওয়াসাকি। সযত্নে বানাচ্ছেন জাপানিদের জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা ‘হানকো’।
জাপানে ফুজিও দোকানের মতো প্রায় ১০ হাজার দোকান রয়েছে। একসময় এসব দোকানে হানকো কিনতে ক্রেতারা ভিড় করতেন। সেদিন আর নেই। হানকো নামের একসময়ের অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসটির জন্য জাপানিরা এখন আর ৭২০ ডলার গুনতে রাজি নন।
জাপানে ব্যক্তিগত সিলকে ‘হানকো’ বলে। সইয়ের কাজে হানকো ব্যবহৃত হয়। ছোট একটি দণ্ডের মাথায় বিশেষ চিহ্ন অঙ্কন করে এই সিল (হানকো) তৈরি করেন শিল্পীরা।
জাপানের সম্রাট থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নাগরিকেরই একটা করে হানকো আছে। বিয়ে, ফ্ল্যাট ভাড়া, গাড়ি কেনাসহ নানা কাজে হানকো ব্যবহারের পুরোনো রীতি আছে জাপানে।
তবে দিন বদলে গেছে। এখন জাপানে হুমকির মুখে এই ঐতিহ্য। ডিজিটালাইজেশনের ঢেউয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হানকো। হানকোর জায়গা দখল করে নিচ্ছে ডিজিটাল স্বাক্ষর।
কাগজের অতি ব্যবহার জাপানের প্রশাসনিক কাজকে মন্থর করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।
ইতিমধ্যে দেশটির তিনটি বড় ব্যাংক হানকো ছাড়াই গ্রাহকদের হিসাব খোলার সুযোগ দিচ্ছে। একটি অনলাইন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নোরিয়াকি মারুয়ামার ধারণা, শিগগির অধিকাংশ জাপানি হানকোর বদলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাতের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করবেন। ইতিমধ্যে জাপানের স্থানীয় সরকারগুলো ইলেকট্রনিক লেনদেনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী তাকুয়া হিরাইয়ের মতে, হানকো বাদ দেওয়ার বিষয়টি খুবই যৌক্তিক। কাগজনির্ভর কাজের পেছনে জাপানের মানুষ অনেক সময় ব্যয় করে। এই কাগজনির্ভর আমলাতন্ত্র টেনে চলা সম্ভব নয়। তাই পার্লামেন্টের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ফার্স্ট বিল’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আইন করে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের ব্যাপারে দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর অনড় মনোভাবে হতাশ হানকোশিল্পীরা। তাঁরা মন্ত্রীর কাছে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তাঁরা মন্ত্রীকে তাঁর পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে হানকোশিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, পশ্চিমা ধাঁচের স্বাক্ষরের চেয়ে হানকো অনেক বেশি উন্নত।
হানকোশিল্পকে টিকিয়ে রাখার পক্ষের লোকজন যত যুক্তই দিক, বাস্তবতা হলো, জাপানিরা পরিবর্তনের দিকেই ঝুঁকছে।

এটা হত্যাকাণ্ড: ইখওয়ান

মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে তার সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড।
দখলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোহাম্মাদ মুরসিকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর পর মুরসির শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং এরই ধারাবাহিকতায় তার মৃত্যু হলো। সোমবার মিশরের আদালতের মধ্যে তিনি মারা যান।
মোহাম্মদ মুরসি ইসলামপন্থী দল ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে ইখওয়ানের প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান।
এর আগে বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল, কারাগারে মুরসির শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়, কারাগারে তার মৃত্যুও হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মুরসিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না বলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনজীবীদের একটি প্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার ফলে মুরসির শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে তিনি অকালে মারা যেতে পারেন। এসব বক্তব্যকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি মিশরের বর্তমান সরকার।

মুরসির মৃত্যু; এরদোগান কী বললেন?

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর পর দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।
তিনি বলেছেন, মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেছেন ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন এবং ক্ষমতায় এসে ৫০ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন।
এরদোগান বলেন, মুরসি গণতান্ত্রিক উপায়ে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী এই বাস্তবতা মেনে নেয়নি এবং তারা মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সব ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেন, সিসি ক্ষমতায় আসার পর মিশরীয়দের ফাঁসি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে এমনকি মিশরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ নিয়েছে যখন সেখানে ফাঁসির ঘটনা ঘটছিল।
এরদোগান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে কিন্তু মিশরে তারা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন সময় অংশ নিয়েছে যখন সে দেশের নাগরিকদেরকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছিল। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউরোপ মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি তার হাজার হাজার বিপ্লবী সমর্থককে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন কিন্তু পাশ্চাত্যের কেউ তার পক্ষে কথা বলেনি।
মোহাম্মদ মুরসি গতকাল মিশরের আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে মারা যান। গত ৭ মে তিনি আদালতে বলেছিলেন তার জীবন হুমকির মুখে।

চীনের সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে সৌদি, মধ্যপ্রাচ্যে হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল

সৌদি আরব চীনের সাহায্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। মজুত বাড়ার পেছনে হাত আছে চীনের। এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এ ঘটনা ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের তিন দশকের কৌশল চরম হুমকির মুখে পড়বে।
গত ০৬ জুন বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে (ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম) সরাসরি সাহায্য করছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা এর প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন। বিষয়টি সত্যি হলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের তিন দশকের কৌশল হুমকির মুখে পড়বে।
সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত ও সক্ষমতা বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য হাতে পেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দুজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, সারা বিশ্বের ক্ষেপণাস্ত্রবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য সব সময় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদিনের ব্রিফিংয়ে তা জানানো হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বাড়াতে সম্প্রতি চীনের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তি কিনেছে সৌদি আরব। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ খবরটি মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদের কাছে চেপে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটররা।
কংগ্রেসের কাছে বিষয়টি গোপন রাখায় মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কতটা সদিচ্ছা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেস সিনেটরদের মধ্যে। অনেক সিনেটর মনে করছেন সৌদি আরবের এমন পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীরব অনুমোদনও আছে। কারণ ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এ কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। এ জন্য মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধিতা সত্ত্বেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে ইরানকে রুখতে মরিয়া সৌদি আরবও। গত বছর মার্কিন এক টিভি চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘ইরান যদি পরমাণু বোমা বানায়, আমরাও বানাব।’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে সৌদি আরব। তবে, ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত একটি অনানুষ্ঠানিক বহুজাতিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে পারে না সৌদি আরব। কিন্তু সৌদি আরব বরাবরই বলে আসছে, শত্রু দেশ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার সমকক্ষ হতে তাদেরও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। তাই ১৯৮৭ সালের চুক্তিতে যেসব দেশ স্বাক্ষর করেনি, চীনসহ সেসব দেশ থেকে নানা সময়ে সহায়তা নিয়েছে সৌদি আরব।
যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, যুদ্ধবিমান পেয়েই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট সৌদি আরব। তাই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে মাথা হয়তো তারা ঘামাবে না। কিন্তু, গত কয়েক মাসের কিছু ঘটনায় বিশ্লেষকদের এই যুক্তি আর খাটছে না। যেমন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করা এবং ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
এর আগে এ বছরের শুরুতে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে যাচ্ছে সৌদি আরব। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকেন্দ্র তৈরি করে ফেলেছে দেশটি। আর এ নির্মাণকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে চীনা প্রযুক্তি। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১৪৫ মাইল দূরের আল-ওয়াতাহতে তৈরি করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। সৌদি আরব কিংবা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অস্ত্র বাণিজ্য আছে।
স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকেন্দ্র তৈরি করে ফেলেছে সৌদি আরব। ছবি: সংগৃহীত

ভারতকে স্বস্তি দিতে...

ভারতকে স্বস্তি দিতে চীনের সঙ্গে সমুদ্র বিষয়ক একটি চুক্তি বাতিল করতে পারে মালদ্বীপ। ভারত মহাসাগরে একটি অবজার্ভেটরি নির্মাণের জন্য মালদ্বীপের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল চীন। মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ২০১৭ সালে ওই চুক্তি করেছিলেন। এ নিয়ে ভারতে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পতনের পর ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক জোরালো হতে থাকে। সম্প্রতি দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশ সফরে বেছে নেন মালদ্বীপকে।  এসব কথা লিখেছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
চীনের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পাদিত ওই চুক্তির শিরোনাম- প্রোটোকল অন এস্টাবলিশমেন্ট অব জয়েন্ট ওশিন অবজার্ভেশন স্টেশন। ওই অবজার্ভেশন স্টেশন নির্মাণ করার কথা মালদ্বীপের মাকুনুধুতে। কিন্তু এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় ভারতে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
কারণ, এমন স্থাপনা নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে যে রুটে বহু বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ চলাচল করে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে সুবিধা পাবে চীন। তা ছাড়া এর অবস্থান হবে ভারতের জলসীমার খুব কাছাকাছি। এতে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়বে ভারত।
বর্তমানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যখন পররাষ্ট্র সচিব, তখন তিনি এ ইস্যুটি নিয়ে তখনকার মালদ্বীপের দূত আহমেদ মোহামেদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেই সময় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো শেয়ার না করে ওই দূত এটা বলেছিলেন যে, আবহাওয়া বিষয়ক একটি অবজার্ভেশন সেন্টার নির্মাণ করতে চাইছে চীন। আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সরকার কখনো এ চুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলে নি। কিন্তু গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর চীন কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। তারা বলে, কোনো সামরিক উদ্দেশে তারা ওই অবজার্ভেটরি নির্মাণ করবে না।
তবে ভারতে অনেকেই এটাকে ভাল চোখে দেখে নি। তারা মনে করেছে, এটা ভারতের কৌশলগত অবস্থানের বিরুদ্ধে চীনের একটি উদ্যোগ। ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ও কৌশল নির্ধারণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপারেশন চালানোর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল প্রকৃত ডাটা সংগ্রহে এটা চীনা উদ্যোগ। এমন কি তারা এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, ব্যাপক বিধ্বংসী সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারে।
কিন্তু মালদ্বীপের এই পরিস্থিতি দ্রুত নাটকীয়তার সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিদায়ের পরে। ৮ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরে মালদ্বীপ যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এ সময় উপকূলীয় নজরদারি বিষয়ক একটি রাডার স্টেশনের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করেন। মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন।  এ সময় তিনি মালদ্বীপকে যে বার্তাটি দেন তা হলো, ভারতের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে কাউকে ক্ষমতাশালী করা বা কাউকে দুর্বল করে দেয়া ভারতের অংশীদারিত্বের অর্থ নয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি চীনের কাছে মালদ্বীপের ঋণের বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। মালদ্বীপ বৈদেশিক যে ঋণের দায়ে আবদ্ধ তার অর্ধেকের বেশি ঋণ চীনের কাছে।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং শক্তিধর নেতা মোহাম্মদ নাশিদ এখনও ভারতের কড়া সমর্থক। তাই তিনি কয়েক দিন আগেও বলেছেন, ভারত আর চীনের সঙ্গে একইভাবে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত নয় মালদ্বীপের। তিনি বলেছেন, চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রক্ষা করার সামর্থ রাখতে পারে না মালদ্বীপ।

বড় এক যুদ্ধ জিতেছেন সাকিব

একটা লক্ষ্য স্থির করে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন সাকিব আল হাসান। মাঠে সেই দৃঢ় সংকল্পের কী দারুণ অনুবাদ। এ যেন সাকিবের বড় এক যুদ্ধ জয়।
লিটন দাস যখন বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেছেন, অন্য প্রান্তে দাঁড়ানো সাকিব আল হাসান একটা স্টাম্প তুলে নিলেন হাতে। স্মারক হিসেবে স্টাম্পটা নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আম্পায়ারদের বারণে সেটা আর নেওয়া হলো না, রেখেই এলেন উইকেটে।
‘জিংক বেল নাকি যেন বলে! লাইট-টাইট জ্বলে। এই স্টাম্প ওরা দিতে চায় না’—স্টাম্প সংগ্রহে না রাখতে পেরে কোনো আফসোস নেই সাকিবের, বরং বিষয়টা মনে করিয়ে দেওয়ায় হাসলেন। স্মারক হিসেবে স্টাম্প না পেলেও যে ইনিংসটা কাল খেলেছেন টন্টনে, বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে অমূল্য এক ‘স্মারক’ হয়ে থাকবে এটি। তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিততে। জয়টাও কী দাপুটে!
শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই কেন, সাকিব আশ্চর্য ধারাবাহিক গত বছর থেকেই। ১২৪*, ১২১, ৬৪, ৭৫, ৫০* ২৯ ও ৬১*—সবশেষ সাত ইনিংসে পাঁচটিই ফিফটি পেরোনো ইনিংস। এর মধ্যে টানা দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন এ বিশ্বকাপেই। কাল নিজেই বললেন, ‘আমি লক্ষ্য ঠিক করে এসেছি, বিশ্বকাপে ভালো খেলতে হবে।’ লক্ষ্য পূরণে তিনি দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ব্যাটিং বিবেচনায় তিনি ক্যারিয়ারের শীর্ষ বিন্দুতেই আছেন, ‘রানের কথা যদি চিন্তা করেন, ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে আছি। এর আগেও ভালো অবস্থানে ছিলাম। ভালো অবস্থানে থাকা মানে এই নয় যে ভালো রান করব। অনেক সময় ভালো অবস্থানে থেকেও বেশি রান করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ভালো একটা অবস্থানে আছি। চেষ্টা করব এটা ধরে রাখতে।’
এখন সেরা ছন্দে আছেন। উইকেটে গেলেই রান পাচ্ছেন। তবে সাকিব ভোলেনি কঠিন সময়টাও, যখন রান পেতে বেগ পেতে হয়েছে তাঁকে, ‘খুব ভালো অবস্থায় থাকলেই যে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাব, রান করব, বিষয়টা তা নয়। অনেক সময় সেরা অবস্থায় না থেকেও অনেক কিছু করা সম্ভব হয়। এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। যখনই কঠিন পরিস্থিতি আসে ওই কষ্টের কথা মনে পড়ে। সেটি আমাকে সাহস দেয়, শক্তি দেয় যে এত যখন কষ্ট করেছি এর চেয়ে বেশি কষ্ট নিশ্চয়ই করা লাগবে না। ওই শক্তিটা আমার মনে সব সময়ই পাচ্ছি। ওই চিন্তা মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনেক সমর্থন দিচ্ছে।’
বিশ্বকাপে ভালো করবেন বলে যে প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিটনেস নিয়ে কাজ করা। ব্যাটিং আরও স্বচ্ছন্দ হতে ওজন কমিয়েছেন প্রায় ৬ কেজি। তবে সাকিব মনে করেন না ফিটনেসের কারণেই তিনি এ সাফল্য পাচ্ছেন, ‘এ পর্যায়ে এসে এমন পরিস্থিতি, এমন পরিবেশে মানসিকভাবে শক্ত থাকাটাই বেশি কাজ দেয়। ফিটনেস ভালো থাকলে ওটা আপনাকে সহায়তা করে। তবে দিন শেষে মানসিকভাবে যত বেশি শক্ত থাকা যায়, যত বেশি সাহস রাখা যায়, সেটিই ব্যাটিং-বোলিংয়ে বেশি সহায়তা করে। যুদ্ধটা হয় নিজের সঙ্গে। কেউ যদি ভেতরে-ভেতরে হেরে যায় তার আর জেতার সম্ভাবনা থাকে না। মন থেকে যদি সব সময়ই বলা যায় আমি জিততে এসেছি, জিততে এসেছি, হয়তো সব সময়ই হবে না, তবে বেশির ভাগ সময়ে জেতার সম্ভাবনা থাকে।’
নিজের সঙ্গেই শুধু নয়, সাকিব কাল আরও একটা ‘যুদ্ধ’ করেছেন—বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শেষ করে না আসার যে রোগ, সেটি থেকে আপাতত মুক্তি মিলেছে। অসাধারণ শুরু, দারুণ ‘বিল্ড আপ’ আর দুর্দান্ত ‘ফিনিশিং’—সাকিব বলছেন তাঁরা একটা উদাহরণই তৈরি করলেন কাল, ‘এটা ভালো একটা উদাহরণ। আমি আর তামিম যখন ব্যাটিং করছিলাম, ওকে অন্তত দুবার বলেছি, আমরাই শেষ করে আসতে পারি। ৫-৬ ওভার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাবে যদি আমরা ব্যাটিং করি। লিটনের সঙ্গে যখন ব্যাটিং করেছি, দুজন-দুজনকে বলার চেষ্টা করেছি আমাদের শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। অপরাজিত থাকতে হবে। অনেক বাজে বল পাচ্ছি, চার মারতে পারছি। কখনো চাপই নিতে হয়নি ভালো বল মারতে। দুজনের ভেতর অনেকবার কথা হয়েছে, দুজনে যদি চাই শেষ করা সম্ভব।’
শেষ করে এসেছেন। এখন সাকিবের দায়িত্ব, বিশ্বকাপে যে দুর্দান্ত খেলছেন, এটি শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে দারুণ একটা ফিনিশিং দেওয়া।

এত বড় ভুল করেছেন বাংলাদেশ কোচ! by রানা আব্বাস

আফসোসটা পিছু নিয়েছে সেই লন্ডন থেকে—ইশ্‌, নিউজিল্যান্ডের ম্যাচটা যদি জেতা যেত, আজ পয়েন্ট তালিকায় কত শক্ত অবস্থান থাকত বাংলাদেশ। এই পয়েন্ট খোয়ানোর জন্য সবার আগে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে মুশফিকুর রহিমকে। মুশফিক যদি সেদিন অমন ভুল না করতেন! কেন উইলিয়ামসনের রানআউট হাতছাড়া না করতেন।
ব্রিস্টলে এসে জানা গেল, শুধু মুশফিককে দায়ী করে লাভ নেই! বড় ভুল যে করে বসেছেন বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি উইকেট পড়তেই ভুল করেছেন। ওভালে নিজেদের আগের ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৩০ রানের স্কোর পেয়েছে। রোডসের ধারণা ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তাঁরা ৩৩০-৩৫০ রানের উইকেটে খেলছেন। তিনি বিষয়টি আরও নিশ্চিত হন বিবিসির ধারাভাষ্য শুনে। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ম্যাচ চলার সময় রোডসের কানে একটি ডিভাইস থাকে। এটি রেডিও। বিশ্বকাপের প্রতিটি ভেন্যুতেই এই ডিভাইসে বিবিসির ধারাভাষ্য শোনার ব্যবস্থা আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন রান তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, ব্যাটসম্যানরা একটু ধীরলয়ে এগোনোর চেষ্টা করছেন, তখন রোডস বিবিসির ধারাভাষ্য শুনে মনে করেছেন, এ তো ৩৫০ রানের উইকেট!
সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের নির্দেশ দিয়েছেন চালাতে। বাধ্য হয়ে ব্যাটসম্যানদের শট খেলতে হয়েছে। ঝুঁকি নিতে হয়েছে। উইকেটের চরিত্র বুঝতে না পেরে খেললে যা হয়—বাংলাদেশ ৩০.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫১ থেকে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট। অথচ সেদিন দেখে-শুনে খেললে ২৬০-২৭০ রান অনায়াসে তোলা যায়। ম্যাচশেষে বাংলাদেশ এই ৩০-৪০ রানের আফসোসেই পুড়েছে। কাল টন্টনের সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁরা হেরেছেন উইকেট ঠিকঠাক না পড়তে পারায়, ‘একটা ম্যাচের হার বা জিত অনেকটাই নির্ভর করে উইকেট বুঝতে পারার ওপরে। আমার কাছে মনে হয়, নিউজিল্যান্ড ম্যাচে এটা আমরা মিস করেছি। আমরা যদি উইকেট ঠিকভাবে বুঝতে পারতাম, তাহলে হয়তো অনুধাবন করতে পারতাম ২৬০ বা ২৭০-ই ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট রান ছিল। এখানকার (টন্টনে) উইকেটেও একই রকমের বিভ্রান্তি আছে। প্রথম দিকে শুনেছি ঘাস থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছে শুরুর দিক থেকেই উইকেট ফ্ল্যাট থাকবে। আমি মনে করি, যারা উইকেট যত দ্রুত বুঝতে পারবে, তারাই লাভবান হবে। উইকেট বুঝতে পারলে মোটামুটি খেলেও অনেকটা এগিয়ে থাকা যায়।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেট বুঝতে না পারার কথা বললেন মাশরাফি। অথচ দলের প্রধান কোচ একজন ইংলিশ। রোডস উস্টারশায়ারে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১১ বছর। ইংলিশ উইকেট, কন্ডিশন ভালো বুঝবেন বলেই তো বিশ্বকাপের এক বছর আগে বিসিবি তাঁকে দলের প্রধান কোচ হিসেবে এনেছে। সেই কোচ যখন উইকেট ঠিকঠাক পড়তে না পারেন, এটা কতটা কষ্টের? মাশরাফি অবশ্য কোচকে কাঠগড়ায় তুলতে রাজি নন। এখানে দায় দেখছেন ক্রিকেটারদেরও, ‘ব্যর্থতাটা খেলোয়াড়দেরও কম নয়। ম্যাচ হারলে তো অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়, এটা খুবই স্বাভাবিক। আসলে একটা ম্যাচ চলাকালে উইকেটের আচরণ সব সময়ই পরিবর্তন হতে থাকে। ওভালে যেমন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনি ধরে রাখবেন ৩৫০ বা ৩৩০ রান হবে। এটা কিন্তু ব্যাটসম্যানদের মাথায় ঘুরতে থাকে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের হিসাবটা একেবারে ঠিক ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও আমরা ঠিক পথেই এগোচ্ছিলাম। হয়তো বা সাকিব আউট না হলে স্কোরটা আরেকটু বড় হতো। মিঠুনও যখন ব্যাটিং করছিল, তখনো আমরা ২৭০ রান করার পথেই ছিলাম। আসলে উইকেটে যারা ব্যাটিং বা বোলিং করছে, উইকেটটা তাদের বুঝতে পারাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনও হয় একই রকমের উইকেট বিভিন্ন রকম আচরণ করছে। তাই খেলোয়াড় যারা থাকবে, তাদেরকেই উইকেটটা বুঝতে হবে আগে। বাইরে থেকে একটা বার্তা যাওয়া বা বাইরে থেকে কিছু বলা বা ধারাভাষ্যকারদের কথা শুনে উইকেট বিশ্লেষণ করা এত সহজ নয়। ধারাভাষ্যকাররা তো বলবেনই উইকেট এ রকম নয় বা উইকেট ও রকম। আসলে খেলা যেভাবে চলবে ধারাভাষ্য সেভাবেই হবে। সব মিলিয়ে সবকিছু নির্ভর করে যারা মাঠে থাকে তাদের ওপর। তাই সিদ্ধান্তটা তাদেরই সবার আগে নিতে হবে।’
যেটা চলে গেছে তো গেছে। ওভাল এখন অতীত। আজ টন্টনের উইকেট বাংলাদেশ ঠিকঠাক পড়ে ভালো খেলতে পারলে হয়। কিন্তু কাল মাশরাফির কথায় মনে হলো বিভ্রম ছড়াচ্ছে সমারসেটের এই উইকেটও!
স্টিভ রোডস পড়তে পারেননি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালের উইকেট। ছবি: এএফপি

অবিশ্বাস্য লুট তোলপাড়: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত দাবি বিশিষ্টজনদের

অবিশ্বাস্য। অকল্পনীয়। লুটের এমন ঘটনা দুনিয়ার ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেছে কি-না কে জানে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ঘটেছে  অকল্পনীয় এ ঘটনা। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা আর তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখে তাজ্জব সবাই। এমন বেহিসাবি কারবারে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বইছে ঝড়। কেউ কেউ কৌতুক করে বলছেন, বাহুবলি সিনেমার নায়কও বাংলাদেশে আসছেন, বালিশ তোলার কাজ করতে। অনেকে আবার, বিসিএসের পড়াশুনা বাদ দিয়ে বালিশ তোলার কাজ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সরকারি অর্থের হরিলুট হচ্ছে, এটা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণীত হয়েছে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী এটা একেবারেই মেনে নেয়া যায়না।  বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দাম আর ওঠানোর খরচে বিশ্ব রেকর্ড: ফ্ল্যাটের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে আর ফ্ল্যাটে তা তুলতে কেমন খরচ পড়েছে তা একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যাক। প্রতিটি বালিশ কেনায় খরচ পড়েছে ৫৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি বিছানা কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৯৮৬ টাকা। আর ওঠানোর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। চাদর ও বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি করে।  খাট প্রতি কেনায় খরচ হয়েছে ৪৩৩৫৭ টাকা। আর ওঠানোর ব্যয় ১০৭৭৩ টাকা। খাট কেনা হয়েছে ১১০টি। একটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনার খরচ পড়েছে ৭৭৪৭ টাকা। আর ওই চুলা ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৩১৩ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। রুম পরিষ্কারের একটি মেশিন কিনতে সংশ্লিষ্টরা খরচ দেখিয়েছে ১২০১৮ টাকা। আর ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন কিনতে খরচ পড়েছে ৪১৫৪ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। টেলিভিশন প্রতিটির দাম ৮৬৯৬০ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ৭৬৩৮ টাকা। টেলিভিশন কেনা হয়েছে ১১০টি। সেগুলো রাখার জন্য আবার কেবিনেট করা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে। ফ্রিজের দাম দেখানো হয়েছে প্রতিটি ৯৪২৫০ টাকা। আর ওঠাতে খরচ পড়েছে ১২৫২১ টাকা। ওয়ারড্রোব প্রতিটি কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯৮৫৮ টাকা। ওঠাতে খরচ পড়েছে ১৭৪৯৯ টাকা। মাইক্রোয়েভ প্রতিটি কেনায় ব্যয় ৩৮২৭৪ টাকা। খরচ হয়েছে ৬৮৪০ টাকা। প্রতিটি  সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা করে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের প্রতিটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়। ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে।
জড়িত কারা: সরকারি টাকার এই রেকর্ড লুটপাটে নাম এসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। ওই পল্লীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে দাম আর ওঠানোর ওই রেকর্ড। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়ম  মেনেই কেনাকাটা করা হয়েছে।
হরিলুট চলছে কেউ দেখার নেই: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ  দেখার কেউ নেই, শুনার কেউ  নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। তা তো পরিষ্কার। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। দেখেন সংসদে যে কাজ গুলো করার কথা সেগুলো হচ্ছে কিনা। দেশে আইনের শাসন আছে কিনা। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা  থাকতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে প্রতিষ্ঠান গুলো আছে সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। পার্লামেন্টের কমিটিগুলোকে এক্টিভ করতে হবে। যে পার্লামেন্টে বিরোধী দল থাকে না, সে পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। তাছাড়া পার্লামেন্টের যে কমিটি গুলো আছে তাদের তো কোনো কথা শুনি না আমরা। পার্লামেন্টে কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। ওয়াক আউট হয় না, কোনো প্রশ্ন হয় না, নিয়ম, অনিয়ম নিয়ে কথা হয় না। তাহলে তো এমন অবস্থা হবেই। সরকারের উচিৎ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এত উন্নয়ন এভাবে না করে টেকসই উন্নয়ন করা উচিৎ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এমন দুর্নীতির ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। শুধু কেস করে ঝুলিয়ে রাখলে হবে না, যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, এসব  দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার কারণেই হলো দেশে সুশাসন নেই । দেশে যে আইন আছে সে আইনের কার্যকারীতা নেই। যার যার দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি নেই।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারজ্জামান বলেন,  বিষয়টি যদি নির্ভরযোগ্য হয়, ঘটনাটি অন্ত্যত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলে। সরকারের এসব অর্থ তো বাস্তিবক অর্থে জনগণের অর্থ। এ ধরনের জালিয়াতি অনিয়ম সরকারকে বিব্রত করার জন্য যথেষ্ঠ। এখন এসবের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে।   এধরনের অস্বচ্ছতার কারণ গুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রন না থাকা। এ প্রকল্প গুলো মানেই হচ্ছে কিছু কর্মকর্তারা সুযোগে দুনীর্তি করে নিজের অর্থ সম্পদের বিকাশ ঘটায়।
‘সাপ্তাহিক’ সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন , বালিশ কেনা-উঠানোর খরচ দেখে যারা অবাক হচ্ছি, তারা হয়ত কল্পনাও করতে পারছি না, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আসলে কী ঘটছে! রাশিয়া থেকে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে চলছে এই প্রকল্প। ঋণের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা তো বোঝাই যাচ্ছে প্রযুক্তি লোকবল সবই বিদেশি। কোন শর্তে ঋণ নেয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অজানা। সম্পূর্ণ অস্পষ্ট নিরাপত্তার দিকটিও। এত ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনিরাপদ প্রকল্প বিষয়ে দেশের মানুষ হিসেবে আমরাও বেশ নির্বিকার!

আদালতে মোয়াজ্জেমের ৩০ মিনিট- ‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’ by জিয়া চৌধুরী

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। থানা হাজত, প্রিজন ভ্যান ও আদালতের কাঠগড়া ঘুরে তার ঠিকানা এখন ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার। মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন ও তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গত রবিবার গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করা হয়। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করলেও প্রায় ৩০ মিনিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামস জগলুল হোসেন। একই সাথে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আগামী ৩০শে জুন চার্জ গঠনের জন্য তারিখ ধার্য করেন বিচারক। ওই মামলায় গত ২৭শে মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ২০ দিন পর গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় মোয়াজ্জেমকে।
এর আগে রবিবার দুপুরে রাজধানীর হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা চত্বর থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নেয়া হয় শাহবাগ থানায়। রবিবার রাতভর থানা হাজতে থাকার পর সোমবার সকালে মোয়াজ্জেম হোসেনকে ফেনীর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার কিছু সময় পর শাহবাগ থানা থেকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
রাখা হয় ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের গারদখানায়। মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতে হাজির করার আগ থেকে বাড়ানো হয় মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বর এলাকার নিরাপত্তা। একই সাথে বিতর্কিত ওসি মোয়াজ্জেমকে দেখতে আসা আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ও সামলাতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে স্থাপিত সাইবার ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। দুপুরের বিরতির পর ঘড়ির কাটায় দুটো বাজতেই এজলাসে উঠেন বিচারক। দুপুর দুইটা থেকে দুইটা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলে ট্রাইব্যুনালের নিয়মিত মামলার কার্যক্রম। ঠিক দুইটা ২০ মিনিটে আদালতের বারান্দা দিয়ে কাঠগড়ায় হাজির করা হয় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসিকে।  চোখে রোদ চশমা পরে এজলাস কক্ষে ঢুকলেও কাঠগড়ার ওঠার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা খুলে ফেলেন মোয়াজ্জেম হোসেন।
এসময় তার হাতে হাতকড়া না পরানোয় হট্টগোল শুরু হয় আইনজীবীদের মধ্যে। একজন আইনজীবী বলে ওঠেন ‘আইন সবার জন্য সমান, অসুস্থ রোগিকে হাতকড়া পরতে হলে ওসিকেও পরাতে হবে’। এমন বাকবিতণ্ডার মধ্যে বিচারক সবাইকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই শুরু হয় শুনানির কার্যক্রম। শুরুতে মামলার বাদী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আদালতকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সেবক হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাননি। আদালত যেদিন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন তারপর তিনি সরাসরি আপনার আদালতে হাজির হতে পারতেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে পারতেন। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেম তা না করে পালিয়েছিলেন। সৈয়দ সায়েদুল হক আদালতের কাছে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা পুলিশ বাহিনীর জন্য কলঙ্ক। বিশ দিন ধরে পালিয়ে থেকে তিনি আরো দুইটি অপরাধ করেছেন। ওসি মোয়াজ্জেম নিজে আদালতে হাজির হলে ব্যক্তি হিসেবে এবং পুলিশ বাহিনী একটি সংগঠন হিসেবে সংশোধনের সুযোগ পেত। আমরা ভেবেছিলাম তিনি শুরুতেই সারেন্ডার করবেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম।
অন্যদিকে, আসামি মোয়াজ্জেমের জামিন চান তাঁর আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। মোয়াজ্জেমের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ আদালতকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি পলাতক ছিলেন না, পত্রিকার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর জানতে পেরে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্যই তাঁর মক্কেল হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, পালিয়ে যাননি। গত রবিবার হাইকোর্ট বিভাগে ওসি মোয়াজ্জেমের আগাম জামিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ তাঁকে হাইকোর্ট চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে আদালতে জানান মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী। ফারুক আহম্মেদ আদালতের কাছে বলেন, আপনারা সবাই বলছেন তিনি পলাতক ছিলেন, আসলে ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। এ সময় আদালত আইনজীবীকে ‘সবাই’ বলতে কি বোঝাচ্ছেন তা জানতে চান।
মোয়াজ্জেমের আইনজীবী বলেন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের ভয়ে ওসি মোয়াজ্জেম আত্মগোপনে ছিলেন। রাস্তায় বের হলে নানান লোকজন নানা মন্তব্য করছিল। মূলত নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময় আদালত বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হয়ে নিরাপত্তাহীনতা! আদালত হচ্ছে আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। আপনি আদালতে আসলেন না কেন? পরে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেল রিলিফ নেয়ার জন্য একটু সময় নিয়েছিলেন। জনগণ অনেক ফেরোসাস (নৃশংস) হয়ে উঠেছিল বলে উল্লেখ করে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী বলেন, আমরা অনেক সময় দেখেছি চুরি না করেও অনেক মানুষকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়েছে। অনেক ছিনতাইকারীকে মেরে ফেলা হয়েছে। এমন উত্তেজিত মানুষজনের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুসরাতের বক্তব্য ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ছড়াননি বলেও আদালতকে জানান আইনজীবী। আদালত জিজ্ঞেস করেন, আপনি ধারণ করেছেন কি না, ইয়েস অর নো? আইনজীবী কোন উত্তর না দেয়ায় আদালত বলেন, ইউ আর টুইস্টিং। তবে এক সময় আইনজীবী বলেন, অনেক সময় বাদী এজাহারে উল্লেখ করা নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন। এরকম সরে আসার প্রবণতা থেকে আগাম সতর্কতা হিসেবে বক্তব্য ধারণ করা হয়। আাদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৩০শে জুন নতুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের আনা-নেয়ার মাঝের সময়ে আলোকচিত্রীদের আড়াল হবার চেষ্টা করেন ওসি মোয়াজ্জেম। অনেক পুলিশ সদস্যও হাত উঁচিয়ে ছবি তোলায় বাধা হয়ে দাঁড়ান।
৬ই এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।  এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তখনকার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭শে মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

ঘন্টায় ৩৯ পেন্সের মজুরিতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের তৈরি টিশার্ট ২০ পাউন্ডে বিক্রি করছে লিভ.ইইউ

ঘন্টায় ৩৯ পেন্স মজুরির বিনিময়ে বাংলাদেশী শ্রমিকদের হাতে তৈরি টি-শার্ট বৃটেনে ‘লিভ ডট ইইউ’ প্রচারণাকারীরা বিক্রি করছে ২০ পাউন্ড দামে। নতুন ব্রেক্সিট পার্টি নেতা নাইজেল ফারাজের প্রচারণায় তহবিল সংগ্রহের জন্য এ কাজ করা হচ্ছে। লিভ. ইইউ (খবধাব.ঊট) বৃটেনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা চাইছে বৃটিশদের কাছে তাদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে। ইউরোপিয়ান নির্বাচনে নাইজেল ফারাজে ভাল ফল করার পর তাকে ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড দান করেছেন বিতর্কিত ধনকুবের অ্যারোন ব্যাংকস। নাইজেল ফারাজে এক সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বৃটেনের কর্মসংস্থান হবে বৃটিশ নাগরিকদের জন্য।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি কারখানায় তৈরি হয়েছে লিভ.ইউ লেখা টি-শার্ট। তা তৈরি করিয়েছে কানাডার টি-শার্ট বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গিলদান।
দারিদ্র্য বিরোধী প্রচারণাকারীরা বলছেন, এসব কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয় জীবন ধারনের মানের চেয়ে কম। একজন জুনিয়র মেশিন অপারেটরের এক মাসের স্থানীয় সর্বনিম্ন মজুরি প্রায় ৭৩.৮৫ পাউন্ড। তারা এই হারে মজুরিতে সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ করেন। অর্থাৎ প্রতি ঘন্টায় তাদের মজুরি পড়ে ৩৯ পেন্স। এসব অপারেটরের পক্ষে প্রচারণাকারীরা বলছেন, তাদের স্বস্তিকর জীবনযাপনের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা হলো ১৪৯ পাউন্ড। কিন্তু তারা পাচ্ছেন তার চেয়ে অনেক কম।
বাংলাদেশে পোশাক উৎপাদন নিয়ে মাঝে মাঝেই মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো সমালোচনা করে থাকে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে ১১৩০ জন মানুষ মারা যান। তার মধ্যে বেশির ভাগই গার্মেন্ট শ্রমিক।
নাইজেল ফারাজে লিভ.ইউ প্রচারণার পাশাপাশি ২০১৬ সালে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে আসার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন অ্যারোন ব্যাংকস। ওই বছরের পরের দিকে সাবেক ইউকিপ নেতা নাইজেল ফারাজে ইউকিপ থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য থেকে যান। এ বছর মার্চে নতুন দল ব্রেক্সিট পার্টি নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেন। তাকে বছরের বাকি সময় জীবনধারণের খরচ হিসেবে ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড দিয়েছেন লিভ.ইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যারোন ব্যাংকস। কিন্তু এ কথাটি ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কাছে প্রকাশ করা হয় নি। ফলে এ মাসে ওই অর্থ দানের বিষয়ে শুনানিতে ফারাজেকে তলব করে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। তাতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। বলেন, যখন তাকে ওই অর্থ দেয়া হয়েছিল তখন তিনি রাজনীতি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে জীবন যাপন করা শুরু করেছিলেন। তাই তিনি এ বিষয়টি প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করেন নি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেন নি।
জবাবে অ্যারোন ব্যাংকস বলেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ফারাজেকে সহায়তা করতে অর্থ দিয়েছিলেন এবং তা দিতে পেরে তিনি সম্মানীত হয়েছেন। এই অর্থ তাকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তিনি রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
কিন্তু তাদের প্রচারণা লিভ.ইউ’তে বাংলাদেশী টি-শার্টের বিষয়ে জানতে চাইলে এর মুখপাত্র অ্যান্ডি উগমোর বলেন- তাতে কি হয়েছে? আমরা ইন্টারন্যাশনালিস্টস। আমরা ক্ষুদ্র ইউরোপিয়ান নই। আমরা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে সমর্থন করতে ভালবাসি।
শনিবার গিলাদান প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেছেন, ২০১০ সাল থেকে তাদের প্রতিষ্ঠান ঢাকায় তাদের পোশাক সরবরাহকারীদের কারখানার উন্নয়নে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে। এ কারখানায় কাজ করেন ৩৫০০ শ্রমিক। সেখানে শুধু শিক্ষানবিশরা সর্বনিম্ন মজুরি পান, যা শিল্প খাতে সর্বনিম্ন বেতনের সামান্য বেশি। আর প্রত্যেক্যেই পান ইনক্রিমেন্টাল সুবিধা।

মসজিদ ভাঙতে রাজি হলো না আসামের বনবিভাগের প্রশিক্ষিত হাতি

ভারতের আসাম রাজ্যে বর্তমান বিজেপি সরকার ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়– বরং ভারতীয় নাগরিকদেরই উচ্ছেদ করতে শুরু করেছে। আর এক্ষেত্রেও উচ্ছেদ অভিযানের টার্গেট হচ্ছে আসামের সংখ্যালঘু মুসলিমরা। একেক সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। বর্তমানে উচ্ছেদ অভিযানের নিশানায় রয়েছে বরাক উপত্যকা।
অবশ্য এই উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আসাম সরকার একটি যুক্তি খাড়া করেছে। আর তা হলো- বনাঞ্চলের জমিতে এই নাগরিকরা ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে। বনাঞ্চলের খালি জমিতেও বসবাস অবৈধ। এর আগে ওড়িশা– উত্তরপ্রদেশ– মধ্যপ্রদেশ– গুজরাত প্রভৃতি এলাকার বনাঞ্চল থেকে ভূমিপুত্র আদিবাসী এবং উপজাতিদের একেবারে আইনগতভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও মানবাধিকার কর্মী ও আদিবাসী সংগঠনগুলির আন্দোলনের ফলে বনভূমির থেকে উচ্ছেদের কাজ বর্তমানে খানিকটা মন্থর গতি নিয়েছে।
আসামে এই উচ্ছেদের কাজে সাধারণত প্রশিক্ষিত হাতি ব্যবহার করা হয়। কারণ– অনেক ক্ষেত্রেই পথ-দূর্গমতার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা সম্ভবপর হয় না।
এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় সম্প্রতি একটি অবাক করা ঘটনা ঘটেছে কাছাড় জেলার ধলাই-রজনীখালে। কয়েক দিন ধরে চলা ওই এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১০০টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেয় হাতি– বনবিভাগের কর্মী ও পুলিশ। এই অভিযানে ১০টি হাতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যখন হাতি দিয়ে ওই এলাকায় স্থাপিত একটি মসজিদ ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়– দেখা যায় হাতিগুলো তাতে রাজি হচ্ছে না।
গত ৭ জুন বনবিভাগের কয়েকটি হাতি নির্দেশমতো ঘরবাড়িগুলি উচ্ছেদ করে। কিন্তু ওই গ্রামের মসজিদের সামনে এসে হাতিগুলি দাঁড়িয়ে পড়ে এবং পরে তারা বসে যায়। উল্লেখ্য, এই উচ্ছেদ অভিযানের পরিচালক জেলা বনবিভাগের আধিকারিক সানিদেও চৌধুরি এবং পুলিশ অধিকর্তারা বহু চেষ্টা করেও হাতিগুলির দ্বারা মসজিদটিকে ভাঙতে সক্ষম হননি।
এরপর হাতির মাহুতরাও হাতিগুলোকে দিয়ে মসজিদের দেয়াল ও কাঠের পিলার ভাঙতে অসমর্থ হয়। কারণ হচ্ছে– হাতিগুলো কোনোমতেই মসজিদের ধ্বংসকার্য চালাতে রাজি হয়নি। ফলে সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান শেষ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক মাহুত রাজেন কৈলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতি হচ্ছে ভগবানের প্রতীক। তাই তারা ভগবানের ঘর ভাঙতে রাজি হয়নি। আর সে জন্য হাতিগুলি আমাদের নির্দেশও মানেনি।’
এই বিষয়টি আসামের ধর্মপ্রাণ হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ধলাই-রজনীখালের বনাঞ্চলের এক পাশে খালি জমিতে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর বসতি ছিল। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা ওই স্থানে বসবাস করছিল। এই পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ছিল কাছাড়ের স্থানীয় মুসলিম। তারা বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও তাদেরকে সরকার জমির পাট্টা দেয়নি। তবে– বিদ্যুৎসহ ওই গ্রামে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা দেয়া হয়েছিল। এই পরিবারের সদস্যদের রেশন কার্ড– আধার কার্ড– স্কুল সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য নথিপত্র রয়েছে। পরিবারগুলো এখন আসামের ঘোর বর্ষার মধ্যে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে রয়ানা হয়েছে।
সূত্র : ই-টিভি ভারত (আসাম)/কলম
মসজিদ ভাঙতে রাজি হলো না আসামের বনবিভাগের প্রশিক্ষিত হাতি

রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ by শুভ্র দেব

মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার
ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয় বলে তথ্য উঠে এসেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক পর্যালোচনা রিপোর্টে। গত ছয়মাস নিয়মিত বাজার   তদারকি করে তারা এ রিপোর্ট তৈরি করেছে। এতে দেখা গেছে, ১০০ টি ফার্মেসির মধ্যে ৯৩টি ফার্মেসিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। আবার কোনো কোনো ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণের দীর্ঘদিন পরেও সেটি বিক্রি করা হচ্ছে। এসব অপরাধে সংস্থাটি ইতিমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক ফার্মেসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিছু কিছু ফার্মেসি সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ওষুধ বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। এসব ওষুধ অসুস্থ রোগীকে সুস্থতার বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ ধরনের প্রতারণা রোধে সারা দেশে তদারকি টিম গঠন করেছে। এসব টিম কখনও ক্রেতা সেজে আবার কখনো ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রম নজরদারির আওতায় রেখেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা গত এক বছর ধরে এ নিয়ে কাজ করে আসছি। সর্বশেষ ছয় মাসের একটি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেছি ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। কয়েক মাস আগে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ওষুধ প্রশাসন বলেছিল এটি বাস্তবতা বিবর্জিত। এমন মন্তব্য করার পর আমরা ঢাকা শহরে তিনটি টিম পাঠিয়েছিলাম। তারা ঢাকা শহরের পাঁচটা থানায় ২১টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছে। তার মধ্যে ২০টি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পায়। তিনি বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের থানা পর্যায়ে কমিটি আছে। তাদেরকে নিয়ে আমরা বৈঠক করছি তারা যেন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আর না রাখে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছে, বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নিতে চায় না। আর নিলেও অনেকদিন দেরি হয়। তাই তাদেরকে বলেছি তারা একটা বক্স রাখবে যেখানে লেখা থাকবে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, বিক্রির জন্য নয়’। এরকম প্র্যাকটিস ঢাকায় শুরু হয়েছে। যেসব ফার্মেসিতে এরকম লেখা আছে আমরা এসব ওষুধে হাত দেই না। তবে যদি সেলফের মধ্যে পাই সেগুলো ধরি। শাহরিয়ার বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারি নাই। কিন্তু এখন আমরা আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কিছু কিছু ফার্মেসি কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা মেয়দোত্তীর্ণ ওষুধ না সরাচ্ছে। 
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওষুধের একটা মান বজায় রাখতে হয়। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছে যখন ওষুধ থাকে তখন ওষুধের একটা জীবন থাকে। কিন্তু বাইরে আসলে সেটা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ ফার্মেসি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। কেমিক্যালের সঙ্গে তাপমাত্রার একটা সম্পর্ক আছে। তাপমাত্রার কারণে ওষুধের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক তথ্য হচ্ছে একটা ওষুধ তৈরির পর ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো পরীক্ষা করে সেটার বয়স নির্ধারণ করে কোন ওষুধ থেকে কতদিন উপকার পাওয়া যাবে। কোন ওষুধের মেয়াদ যদি লেখা থাকে জুন মাসে তবে সেটি যদি ভালোভাবে রাখা হয় তাহলে সেটি আরও কয়েকমাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। আর এর বাইরে যারা এসব ওষুধ বিক্রি করছে তারা অপরাধ করছে। কোন অবস্থাতেই এরকম করা যাবে না। যদি করে থাকে তবে তারা হত্যাকারী। তারা মানুষ হত্যা করছে। তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যুবকেদের কম ক্ষতি করলেও একজন বৃদ্ধ অসুস্থ ব্যক্তির মারাত্বক ক্ষতি হবে।  তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগীয় সংস্থা, ওষুধ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া ওষুধ প্রশাসনের একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। কোন স্থানে কয়টি ওষুধের দোকান থাকবে সেটি ঠিক করে দিবে। আবার প্রত্যেকটা ফার্মেসিতে একজন রেজিস্টার ফার্মাসিস্ট থাকবে।
র‌্যাব সদরদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোওয়ার আলম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে আমার অভিযান আছে। তবে আমাদের কাছে কোন পরিসংখ্যান নেই কত শতাংশ ফার্মেসিতে এধরনের ওষুধ রাখা হয়। ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকতেই পারে। সেটা ফার্মেসি বিক্রি করছে কিনা সেটি দেখতে হবে। আমরা এরকম যাদেরকে পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, হাজার হাজার ওষুধের মধ্যে একটা দুইটা ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ৯৩ শতাংশ ফার্মেসীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আছে এটা তিনি কিভাবে বলছেন আমার জানা নাই। আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে কাজ করছি যাতে এটা বন্ধ হয়। নির্দেশও দেয়া হয়েছে কেউ যেন কোন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি না করে। এজন্য আমাদের নিয়মিত কয়েকটি টিম কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ অভিযানও চালানো হয়। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলায় টিম কাজ করে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কোম্পানি ফেরত নেয় না ফার্মেসি মালিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থ নিয়েছি। তাদেরকে বলে দিয়েছি তারা যেন সেটা নিয়ে রিপ্লেস দেয়। আর কোন ফার্মেসি যদি এসব ওষুধ বিক্রি করে তবে ফার্মেসি ড্র্যাগ লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হবে।

পাকিস্তানকে টার্গেট করবেন না : ভারতকে চীন

চীন সোমবার বলেছে, চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে পাকিস্তানকে টার্গেট করা উচিত হবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রদানের জন্য ইসলামাবাদকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে মনে হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীন এ মন্তব্য করল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে শনিবার মালদ্বীপ গিয়ে মোদি পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে আক্রমণ করে বলেছেন যে সন্ত্রাসবাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় মদত হলো আজকের বিশ্বের সামনে থাকা সবচেয়ে বড় হুমকি।
মোদি সম্ভবত বহুজাতিক ফোরামগুলোতে পাকিস্তানকে নিঃসঙ্গ করার ভারতের কৌশলের অংশ হিসেবে সম্মেলনে ইস্যুটি উত্থাপন করবেন। কিন্তু চীন স্পষ্ট করে বলেছে, তার মিত্র ইসলমাবাদকে এই ইভেন্টে টার্গেট করা উচিত হবে না।
চীনের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঙ হ্যানহুই বলেন, প্রতিটি শীর্ষ সম্মেলনে এসসিওর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হবে যা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবাদপ্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা সহযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত।
তিনি পরোক্ষভাবে পাকিস্তান প্রসঙ্গে বলেন, এসসিওর প্রধান ইস্যুগুলো হচ্ছে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। নির্দিষ্ট কোনো দেশকে টার্গেট করার জন্য এসসিও প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলোর দিকে নজর দেয়াই এর লক্ষ্য।
তিনি কিরজিগস্তানের বিশকেকে ১৯তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলন ও তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া (সিআইসিএ) শীর্ষ সম্মেলনের ৫ম সভা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সাথে বৈঠকে বসবেন মোদি, কিন্তু তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বসবেন না। এর কারণ হিসেবে ইসলামাবাদের ভারতবিরোধী সন্ত্রাসীদের তহবিল সংস্থানের কথা বলা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন ধরে রক্ষা করে চলেছে চীন। চীন বলছে, পাকিস্তান নিজেই সন্ত্রাসবাদের আতঙ্কের শিকার। আর তারা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে অনেক কাজ করেছে। এই মন্তব্য ভারতকে হতাশ করেছে এবং এটি হলো চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কের একটি তিক্ত বিষয়।
সাংবাদিকদের জাং বলেন, মার্কিন বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিষয়টিও সম্মেলনে আলোচিত হবে।
তিনি বলেন, চলমান একরতফা, সংরক্ষণবাদী নীতির বিষয়টি সব দেশের মনেই রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আগেভাগেই কোনো এজেন্ডা নির্ধারণ করে দেব না। তবে আমি মনে করি কিছু অংশগ্রহণকারী দেশের এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। এসব ব্যাপার নিয়ে কয়েকজন নেতা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন। কী ঘটে তা দেখাই স্বাভাবিক বিষয়।
আইএএনএস

৪০ বছর পর খুলল তালা

সিন্দুকের সামনে স্টিফেন মিলস
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ফোর্ট ম্যাকমারির বাসিন্দা স্টিফেন মিলস। পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন আলবার্টারই ভার্মিলন হেরিটেজ মিউজিয়ামে। সেখানেই স্টিফেন এমন কাণ্ড করেছেন, যা গত চার দশকে অনেকে চেষ্টা করেও পারেননি। অনেকটা অন্ধকারে ছোড়া প্রথম ঢিলেই বাজিমাত করেছেন তিনি। খুলতে সক্ষম হয়েছেন চার দশক ধরে বন্ধ থাকা একটি সিন্দুক (সেফ)।
ঘটনা খোলাসা করা যাক। ভার্মিলন শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যকেন্দ্রিক নানা সংগ্রহ নিয়ে পুরোনো একটি বিদ্যালয় ভবনে গড়ে উঠেছে ভার্মিলন হেরিটেজ মিউজিয়াম। সেখানে ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে একটি সিন্দুক রয়েছে। এটি আসলে ১৯০৬ সালের একটি সিন্দুক। ছিল ভার্মিলনের ব্রুনসউইক হোটেলে। হোটেলটির মালিকানা পরিবর্তনের সময় সিন্দুকটি জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়। এরপর অনেক বিশেষজ্ঞ চেষ্টা করেও তা খুলতে পারেননি। ফলে সিন্দুকটি ঘিরে বাড়তে থাকে আগ্রহ। একপর্যায়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের সিন্দুক খোলার সুযোগ দিতে শুরু করে। স্টিফেন সেই সুযোগটাই নিয়েছিলেন।
গত মে মাসে স্ত্রী, দুই সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে ভার্মিলন হেরিটেজ মিউজিয়ামে যান স্টিফেন। পেশায় ঝালাইকারক স্টিফেন বলেন, সিন্দুকটি খুলতে গিয়ে তিনি লক্ষ করেন এর তালার ডায়াল নম্বর শূন্য থেকে ৬০ পর্যন্ত। সিদ্ধান্ত নিলেন ২০-৪০-৬০ নম্বরের সম্মিলনে ডায়ালটি ঘোরানোর চেষ্টা করবেন তিনি। তাঁর এই অনুমানই কাজে লেগে যায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে খুলে যায় সিন্দুকের দরজা।
তবে চার দশক ধরে যে সিন্দুকের দরজা খুলতে বিশেষজ্ঞরা মাথা ঘামালেন, জাদুঘরের দর্শনার্থীরা চেষ্টা করে বারবার ব্যর্থ হলেন, তাতে কিন্তু আহামরি কোনো গুপ্তধন পাওয়া যায়নি। কিছু কাগজ, পুরোনো চেকবইয়ের কয়েকটি পাতা আর একটি বিক্রয় রসিদ ছাড়া এতে কিছুই ছিল না। এরপরও স্টিফেন মিলস কিংবা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে সিন্দুকটি যেন অমূল্য সম্পদ। স্টিফেনের মতে, এটি খোলার আগ পর্যন্ত কেউই জানত না এতে কী আছে। সিন্দুকটি খোলার পরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন লটারি জিতেছি! আমার সন্তানেরা তখন আনন্দে চিৎকার করছিল।’

৫৮ ফুট উঁচু বালির দুর্গ বানিয়ে বিশ্বরেকর্ড

বালি দিয়ে বানানো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু দুর্গ
বালি দিয়ে ভাস্কররা কত কিছুই তো বানাতে পারেন। তাই বলে দুর্গ! তাও ৫৭ দশমিক ৯৪ ফুট (১৭ দশমিক ৬৬ মিটার) উঁচু। জার্মানির সাগরপাড়ের বিনোদনমূলক শহর বিঞ্জের গড়ে তোলা হয়েছে চোখধাঁধানো এই বিস্ময়কর কাঠামো। এটাই বালি দিয়ে বানানো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য। ফলে তৈরি হয়েছে নতুন বিশ্বরেকর্ড।
রুগের ব্যালটিক সি আইল্যান্ডের ওপর বিঞ্জে বালির ভাস্কর্য উৎসবের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে নিপুণ কারুকাজ করা দুর্গটি। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর প্রতিযোগিতামূলক উৎসবটি হয়ে থাকে। এই আয়োজনে সৃজনশীল ভাস্কর্য দেখতে বিঞ্জের মনোরম সৈকতে জড়ো হয় পর্যটকরা।
২০১৭ সালে জার্মানির দুসবর্তে ১৬ দশমিক ৬৮ মিটার (৫৪ দশমিক ৭২ ফুট) উঁচু বালির দুর্গ তৈরি হয়েছিল। এটিকে টপকে গেলো বিঞ্জের স্থাপত্য। এই স্বীকৃতি হিসেবে উৎসবের আয়োজক টমাস ফ্যান ডানেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদপত্র হাতে পেয়েছেন।
আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বালির দুর্গ দেখা যাবে জার্মানিতে
এ বছরের মে মাসে বালির দুর্গটির নির্মাণ শুরু হয়। এটি দেখতে অনেকটা ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের একটি শহরের মতো। এতে একটি ড্রাগন, তার পা ও শীর্ষে চূড়া আছে। এটি তৈরিতে কাজ করেছেন বেশ কয়েকজন ভাস্কর।
তবে বালির ভাস্কর্য বা স্থাপত্য চিরকাল টেকে না। তাই বিঞ্জেতে গড়ে তোলা অপূর্ব দুর্গটি এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে দেখে নিতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা। টিকিটের মূল্য ৮ দশমিক ৫০ ইউরো (৮১৫ টাকা)। শিশুদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫ দশমিক ৫০ ইউরো (৫২৮ টাকা)।
বালুকাময় সৈকত হিসেবে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে বিঞ্জের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তবে প্রতিযোগিতায় ব্যবহারের জন্য নেদারল্যান্ডস থেকে বালি আমদানি করা হয়। কারণ ডাচ বালি দিয়ে ভাস্কর্য গড়া সুবিধাজনক।
সূত্র: সিএনএন
বালি ভাস্কর্য উৎসবের আয়োজক টমাস ফ্যান ডানেনের হাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদপত্র

বিনে মাইনের চাকুরে থেকে বিলিয়নিয়ার!

২০১০ সালের জানুয়ারিতে উবারের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ট্রাভিস কালানিক উবারের জন্য কর্মী চেয়ে একটি টুইট করেছিলেন। সেই টুইটের জবাব দিয়ে প্রথম কর্মী হিসেবে উবারে যোগ দিয়েছিলেন রায়ান গ্রেভস। সময়ের ব্যবধানে তিনি বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, এমনকি একপর্যায়ে সম্পদের দিক থেকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন আগের সিইও কালানিককেও। অথচ এই গ্রেভসই তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বিনা বেতনের চাকুরে হিসেবে!
বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ বছর আগে যখন উবারে যোগ দিয়েছিলেন গ্রেভস, তখন তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা বলতে ছিল ফোরস্কয়ার নামের একটি কোম্পানিতে বিনা বেতনের চাকরি। কোম্পানিটি শুরুতে গ্রেভসকে চাকরিতেই নিতে চায়নি, যে কারণে বিনা বেতনেই কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন গ্রেভস।
এরপর কালানিকের টুইট দেখে উবারের কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন গ্রেভস। আবেদন করে সফলও হন। পরে গ্রেভসই হন উবারের প্রথম বেতনভুক্ত কর্মী। এরপর ধীরে ধীরে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙেছেন, উবারের কর্মীদের মধ্যে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। ভালোবেসে গ্রেভসকে ‘মিস্টার নাইস গাই’ নামে ডাকতেন তাঁর সহকর্মীরা।
বছর দু-এক আগে উবার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া গ্রেভস উবারে চাকরি করেই দেড় শ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলারের মালিক হয়েছেন। গ্রেভস সরে দাঁড়ানোর আগে তাঁকে নিয়ে কিছু টুইট করেছিলেন উবারের শুরুর দিকের একজন বিনিয়োগকারী ক্রিস সাকা। গ্রেভসের ভালো বন্ধু হিসেবে পরিচিত সাকা বলেছিলেন, শুরুর দিকে গ্রেভস এতটাই অর্থকষ্টে ছিলেন যে, স্ত্রী নিয়ে তাঁর বাসায়ও বেশ কয়েক রাত কাটাতে হয়েছিল গ্রেভসকে। উবারের সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন কর্মীদের মধ্যে একজন ছিলেন গ্রেভস, এমনটাই জানান সাকা।
২০১৭ সালে যখন কিছুটা ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পার করছিল উবার, তখন থেকেই আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন গ্রেভস। ২০১৭ সালের মার্চের দিকে উবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিজনেস ইনসাইডারকে জানিয়েছিলেন, গ্রেভসকে খুব কমই অফিসে আসতে দেখেছেন তাঁরা। কোম্পানির সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা ধীরে ধীরে কমাচ্ছেন গ্রেভস—এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছিলেন তাঁরা। এরপর ২০১৭ সালের আগস্টে উবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন গ্রেভস। সরে দাঁড়ানোর আগে গ্রেভস ছিলেন উবারের বৈশ্বিক কার্যক্রম–সংক্রান্ত বিভাগের সবশেষ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তবে উবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে এখনো যুক্ত আছেন গ্রেভস। সুপেয় পানির অভাব ঘোচাতে উবারের নেওয়া প্রকল্পে অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গ্রেভস।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধ সমর্থনের সমালোচনা করলেন করবিন

ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিনিদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে যুক্তরাজ্যও হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে। নিজস্ব কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে সমর্থন করার কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে আজ শনিবার এক টুইট বার্তায় করবিন বলেন, তেলের ট্যাংকারে হামলার বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই সরকারের সাফাই কেবল যুদ্ধের হুমকি বাড়াবে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসার কারণে উত্তেজনার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বামপন্থী রাজনীতির ধারক যুদ্ধবিরোধী এই নেতা বলেন, সামরিক দাঙ্গাবাজিকে উসকে না দিয়ে যুক্তরাজ্যের উচিত আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করা।

গত বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরে জাপান ও নরওয়ের মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর শুক্রবার নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে একটি ভিডিও ফুটেজ হাজির করে। ওই ভিডিওতে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী একটি ট্যাংকার থেকে অবিস্ফোরিত একটি মাইন (বোমা) সরিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এর আগে গত ১২ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) চারটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায়ও ইরানকে সরাসরি দায়ী করে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরান শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার বিবিসিকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের কোনো যোগসূত্র নেই।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকেই শিরোধার্য বলে মেনে নিয়েছে মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য। গতকাল শুক্রবার বিবিসির এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরানকে দায়ী করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের হাতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে কি না? জবাবে হান্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন বিশ্বাস না করার কোনো কারণ নেই। কেননা তারা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র।’

কেবল মিত্র বলে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করার এই কূটনীতির তীব্র সমালোচক বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিন। তিনি এর আগেও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধনীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। যে কারণে করবিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ঠেকাতে তাঁর দলের মধ্যেই তৎপরতা আছে।

করবিনের বক্তব্যকে ‘হতাশাজনক’ ও ‘অনুমেয়’ বলে আক্রমণ করে পাল্টা টুইট ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের ওপর করবিনের আস্থা নেই কেন? ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাও করবিনের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লেবার দলের কোনো কোনো আইনপ্রণেতাও করবিনের সমালোচনা করেছেন।

তবে লেবার দলীয় ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমিলি থর্নব্যারী করবিনের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, হামলার জন্য কে দায়— তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য সতর্ক থাকা উচিত।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি-এর এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মিত্র বলে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করার অমন যৌক্তিকতাকে অভিনব কূটনীতি বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নিয়ে গৎবাঁধা উপসংহারে না পৌঁছাতে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

আইএসআইয়ের নতুন প্রধান জেনারেল ফয়েজ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্তিশালী গোয়েন্দা এজেন্সি ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদকে। তিনি আইএসআইয়ের সাবেক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। আইএসআইয়ের বর্তমান প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম মুনিরের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। মুনির এ পদে মাত্র ৮ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে আইএসআইয়ের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম হয়ে থাকবেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রেস শাখার একটি বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন ও জি নিউজ।
এতে বলা হয়, কি কারণে এই রদবদল তা ব্যাখ্যা করা হয় নি। তবে এটা সবাই জানেন যে, পাকিস্তানে সবচেয়ে প্রভাবশালী সেনাবাহিনী। দেশ স্বাধীনের ৭১ বছরের মধ্যে তারা প্রায় অর্ধেকটা সময় ক্ষমতায় ছিল।
এমন কি বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তারা অতিরিক্ত ক্ষমতা ভোগ করেছে। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধানের পদ পাকিস্তানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অন্যতম। এই এজেন্সির বিরুদ্ধে রয়েছে নানা রকম অভিযোগ। ভারতের অভিযোগ, তারা প্রতিবেশীদের টার্গেট করতে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের সমর্থন দেয়।
আইএসআইয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত জেনারেল হামিদ এপ্রিলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। তাকে জেনারেল হেডকোয়ার্টারে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি আইএসআইয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করেছেন। ধারণা করা হয়, তিনি পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল কমর বাজওয়ার ঘনিষ্ঠ। ২০১৮ সালের ১০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেনারেল হামিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের কিছু অভিযোগের জবাবে আসিফ গফুর বলেন, মানুষ জেনারেল ফয়েজ হামিদের নাম নিতে শুরু করেছে। তারা সম্ভবত তার ভূমিকা সম্পর্কে জানে না। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার ডিপার্টমেন্ট যে ভূমিকা পালন করেছে তা চিন্তাও করতে পারবেন না। এমনকি সত্য সম্পর্কে যদি অনুমান করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার প্রতিষ্ঠান ও জেনারেল ফয়েজ যতটুকু করেছেন তার শতকরা ৫ ভাগও জানতে পারবেন না। যেসব সন্ত্রাসী হামলাকে রুখে দেয়া হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে জেনারেল ফয়েজের ডিপার্টমেন্টের কারণে। 
জেনারেল ফয়েজ হামিদের নাম প্রথম জনগণের চোখে ধরা পড়ে যখন তিনি ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফয়েজাবাদে একটি ধর্মীয় গ্রুপের ধরণা তুলে নিতে সহায়তা করেন। এরপর ওই গ্রুপটি নির্বাচনী আইন ২০১৭ সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।
জেনারেল হামিদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেলুচ রেজিমেন্টের। তাকে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এ দায়িত্ব নিতে হচ্ছে, যখন পাকিস্তানের ওপর দেশের ভিতরে ও বাইরে থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। মনে করা হচ্ছে, তার যে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা, তা ব্যবহার করে ওইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সহায়ক হবে আইএসআইয়ের। এখানে উল্লেখ্য, আইএসআইয়ের ডিজি বা মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়ার বিশেষ ক্ষমতা আছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর। সেনাপ্রধানের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই -প্রধানমন্ত্রী

বাজেট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। বিএনপিসহ বিরোধী দলের  সদস্যদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নাই। আর ব্যাংক থেকে যারা লুট করে নিয়ে গেছেন তাদের আমরা চিনি। অনেকেই তো প্রচুর টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। দুর্নীতির দায়ে মামলায় কারাগারে বন্দিসহ এরকম বহু ঘটনা আছে। সময় এলেই এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারবো।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি বাজেট বাস্তবায়নই করতে না পারি তাহলে ২০০৮ সালের ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট থেকে এখন কিভাবে ৫ লাখ কোটি টাকার উপরে বাজেট দিলাম? এই টাকা এলো কোথা থেকে? এর উন্নয়নটা তো সারা দেশের মানুষ পাচ্ছে।
কাজেই অযথা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। বিদায় নিতে যাওয়া অর্থবছর ২০১৮-১৯ সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণত অর্থমন্ত্রী সমাপনী বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। এবার বাজেট উত্থাপনের মতো ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে সংসদের ইতিহাসে। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সোমবার সম্পূরক বাজেট পাসের আগে সম্পূরক বাজেটের সমাপনী বক্তৃতাও করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুরুতেই সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান স্পিকার। শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়। যা সংসদের ইতিহাসে আগে কখনোই ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বলছেন বাজেট দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারে না। বাজেট বাস্তবায়নের একটা বিষয় আছে। আমরা আজ বাজেট উপস্থাপন করছি, বাজেট পাস হবে ৩০শে জুনে। আমরা এক বছর পর আবার বাজেট দেব। এই এক বছরের যেসব বাজেট বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করি। আমরা কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের সময় মাঝামাঝি সময়ে এগুলোর একটা হিসাব নিই।
তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে উচ্চাবিলাষী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কোনো মানুষের যদি উচ্চাভিলাষ না থাকে, সে অর্জন করতে পারে না। এসব অর্জন করা কখনই সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কোন খাতে কি বরাদ্দ দিয়েছিলাম, কতটা কার্যকর হলো, কতটা হলো না বা কোন কোন জায়গায় বরাদ্দকৃত টাকা যথাযথ বাস্তবায়ন করা সম্ভব, আর কোথায় কোথায় সম্ভব না। কোথায় বাস্তবায়নের জন্য বেশি টাকার প্রয়োজন হয় এরপর এটা ঢেলে সাজাই। বাজেটে সেই ক্ষেত্রে পরিমার্জন করি, সংশোধন করি- এটাই নিয়ম। যাতে অর্থটা যথাযথভাবে কাজে লাগে। তিনি বলেন, বাজেটে প্রয়োজন আছে কোনটায় প্রয়োজন নাই, সব প্রকল্প তো একইভাবে চলে না, চলতে পারে না, চলা সম্ভবও না। এটাই বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাজেট দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারি না, এ অভিযোগ যারা করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ২০০৮ সালে ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি, আজ সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেটে চলে গেছে। এত বড় বাজেট কিভাবে দিলাম, যদি বাস্তবায়নের দক্ষতাই না থাকবে? তিনি বলেন, সেই উন্নয়নের সুযোগটা সবাই নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। যে বিদ্যুতের এত উন্নয়ন হলো, তাহলে শতভাগ হয় না কেন? জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সবগুলো সবসময় চালু থাকে না। প্রত্যেকটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র মাঝে মাঝে নতুনভাবে সংস্কার করতে হয়, যে কারণে বন্ধ থাকে। যেখানে যতটুকু চাহিদা সেই চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ  দেয়া হয়। আজকে দেশের ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে।

ভূমধ্যসাগরে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে জেলেরা যেন ফেরেশতা

ভূমধ্যসাগরে আটকে পড়া অথবা  নৌডুবির শিকার অবৈধ অভিবাসীদের কাছে তিউনিশিয়ার জেলেরা ফেরেশতার মতো। তারা মাঝে মধ্যেই ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে উদ্ধার করেন এমন অভিবাসীদের। এর মধ্যে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিও। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তেমন সাড়া মেলে না। কিন্তু মানবিক কারণে চোখ-মুখ বন্ধ করে থাকতে পারেন না জেলেরা। তারা ভূমধ্যসাগরে জুয়ারা এবং ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে মাছ ধরেন। মাছ ধরার এই স্থানকে ক্রসিং পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। এখানে লিবিয়া সীমান্তের কাছাকাছি তিউনিশিয়ার জারজিস এলাকার জেলে বদরউদ্দিন মেচেরেক মাছ ধরেন।
তিনি বলেছেন, এমন বিপদে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধার করতে গিয়ে তাদের মাছধরা ব্যাহত হয়। ওদিকে এখন গ্রীষ্মকাল হওয়ায় টুনা মাছ ধরার উত্তম সময়। তবু যখন অভিবাসীবোঝাই বোট দেখেন তখন তারা সহায়তার জন্য এগিয়ে যান। উত্তাল সমুদ্রের মাঝে আটকে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধার করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
লিবিয়া ও ইতালির জলসীমার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে মানবিক সেবা ও ইউরোপিয়ান নৌবাহিনীর টহল। ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার এসব জেলেকে অধিক থেকে অধিক সময় আটকে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধারে কাটাতে হয়। বুরাসিন, তার নাবিকরা ও অন্য তিনটি মাছধরা বোট গত ১১ই মে উদ্ধার করে ৬৯ জন অভিবাসীকে নিয়ে গিয়েছেন তীরে। লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলের জুয়ারা এলাকা থেকে এসব অভিবাসীকে নিয়ে ৫ দিন আগে ছেড়ে গিয়েছিল বোট। গত কয়েক বছরে সমুদ্র থেকে এভাবে কয়েক হাজার অভিবাসীর জীবন রক্ষা করেছেন জারজিসের জেলেরা। এখন গ্রীষ্মকাল। সাগর অনেকটা শান্ত। এ সময়ে অধিক হারে অভিবাসী বোঝাই বোট লিবিয়া উপকূল ছেড়ে যাত্রা শুরু করতে পারে ইউরোপের দিকে। ফলে এমন উদ্ধার করা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বদরউদ্দিন বলেন, এমন বোট দেখে আমরা প্রথমেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সব অভিবাসীকে আমাদেরই উদ্ধার করতে হয়। ভূমধ্যসাগরের উত্তরাঞ্চলে ইউরোপিয়ান দেশগুলো চেষ্টা করছে তাদের উপকূলে যেন অভিবাসী অবতরণের হার কমিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে তিউনিশিয়ায় সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তারা শুধু তাদের জলসীমায় অভিবাসী বোঝাই বোট গেলে তা উদ্ধার করে সেই সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জন অভিবাসীকে। ৩১শে মে থেকে তাদেরকে তীরে আসতে বাধা দিচ্ছে তিউনিশিয়া। এসব অভিবাসীর মধ্যে রয়েছেন ৬৪ জন বাংলাদেশি। এ বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করা হলে, তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বদরউদ্দিন বলেন, এই ইস্যু থেকে সবাই নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছে। এতে তার নিজের কাজের ব্যাঘাত ঘটে। তিনি আরো বলেন, প্রথম রাতেই যদি আমরা এমন অভিবাসীদের খুঁজে পাই তাহলে আমাদেরকে তাদের নিয়ে ফিরে যেতে হয়। এসব মানুষকে বোটে নিয়ে আমাদের কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যখন আমরা অভিবাসীদের ইতালি উপকূলের খুব কাছাকাছি ভাসতে দেখি তখন তাদেরকে উদ্ধারে দেখা দেয় জটিলতা। গত বছর ল্যাম্পেডুসার দিকে একটি বোটকে এগিয়ে যেতে দেখেন বদরউদ্দিন ও তার নাবিকরা। ওই বোটটিতে কোনো মোটর কাজ করছিল না। ফলে তা শুধু ভাসছিল। ওই বোটের অভিবাসীদের সহায়তা করার অভিযোগে বদরউদ্দিনদেরকে চার সপ্তাহ জেলে থাকতে হয়েছিল সিসিলিতে। এরপর তাদের নিজেদের বোটটি উদ্ধার করতে সময় লেগেছিল কয়েক মাস। মানবতা বিষয়ক সেবাদানকারী বোট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাইরেসি বিরোধী অভিযান কয়েক বছরে জোরালো করে। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে উদ্ধার অভিযানে পতন ঘটেছে। 
বদরউদ্দিন বলেন, এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরাই পৌঁছি এসব অভিবাসীর কাছে। আমরা যদি সেখানে না যাই তাহলে অভিবাসীরা মারা যাবেন। সমুদ্রের ঠাণ্ডা পানিতে আট ঘণ্টা কাটানোর পর ১০ই মে তিউনিশিয়ার একটি ট্রলার সামান্যর জন্য ১৬ জন অভিবাসীর জীবন রক্ষা করতে পেরেছে। তারা সেখানে পৌঁছার আগেই পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৬০ জন। তার মধ্যে বাংলাদেশিও ছিলেন। ওই অভিযানে যাদেরকে রক্ষা করা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের আহমেদ সিজুর (৩০)। তিনি বলেছেন, ভোরের দিকে যখন তাদের কাছে একটি বোট দৃশ্যমান হয়েছিল, তাদের মনে হয়েছিল আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা পাঠানো হয়েছে। সিজুর বলেছেন, নিজের ওপর থেকে সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে রক্ষা করতে জেলেদের পাঠিয়েছিলেন আল্লাহ। এসব উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে জেলে বদরউদ্দিন গর্বিত হওয়ার চেয়ে উদ্বিগ্ন বেশি। তিনি বলেছেন, আমরা আর কোনো লাশ দেখতে চাই না সমুদ্রে। আমরা সমুদ্রে মানুষ নয়, মাছ ধরতে চাই। এত লাশ আর মানুষ উদ্ধার করতে করতে তার সহকর্মীরা ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন। বদরউদ্দিনের ভাষায়, আমার বোটে ২০ জন জেলে থাকেন। আমাদেরকে কে খাবার দেবে? তা সত্ত্বেও স্থানীয় জেলেরা কখনো সমুদ্রে মানুষকে মরতে দেন না।
তিউনিশিয়া রেডক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম বলেন, সমুদ্রে প্র্যাকটিক্যালি জেলেরা হলেন পুলিশ। বহু অভিবাসী বলেছেন, বিশাল জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু তারা সাহায্য করার জন্য থামে না।

ফরমালিন ভ্রান্তি: এত ফল কেন ধ্বংস? by শাহেদ শফিক

ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে ২০১৪ সালে এভাবেই ধ্বংস করা হয় আম (ফাইল ছবি)
ফল সারাবছরই চাষ হয় দেশসহ বিশ্বের আনাচে-কানাচে। চেনা ফলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে অচেনা বা অল্প চেনা বিদেশি ফলও এখন ডালা ভরে শোভা বাড়ায় শহর ছেড়ে মফস্বলের দোকানেও। সারা বছরই আছে এর বেচাকেনা। তবে বাংলাদেশে মধুমাস অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এলেই ফলের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন মানুষ, সেরা জাতের ফলের দিকে যেমন চোখ থাকে ক্রেতাদের, পাশাপাশি চোখের তারায় থাকে ‘সন্দেহের নাচন’। গত আট-দশ বছরের চিত্র এটাই। এই সন্দেহটার নাম ‘ফরমালিন’।
কেনাবেচায় দরদাম আছে, দরদামে হারজিত আছে, তা নিয়ে ক্ষোভ-আক্ষেপ থাকেও অল্প-বিস্তর, কিন্তু তারচেয়েও ক্রেতার বড় ক্ষোভ ফলে ‘ফরমালিন’ নিয়ে। প্রাণঘাতী এবং ক্যান্সারের উৎস বলে যে ফরমালডিহাইডকে চিহ্নিত করা হয়, তা ফলে মেশানো নিয়ে ক্রেতার সন্দেহ বিক্রেতার দিকে, বিক্রেতা হাত তুলে মাফ চেয়ে আঙুল তোলেন কৃষক কিংবা আমদানিকারকদের দিকে। আমদানিকারক হলে তিনি অস্বীকার করেন, বিদেশিদের ওপর দায় চাপান। আর দেশি ফল হলে কৃষক বুক ফুলিয়ে বলেন, ‘ফলের বাগান করি মানুষকে খাওয়াতে, বিষ খাওয়াতে নয়।’ তবুও,ফলে ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র (ফরমালিন কিট) লাগালে ফরমালিনের অস্তিত্ব মেলে। প্রতিবছর সারাদেশে কয়েক টন আম, জামসহ দেশি-বিদেশি ফল ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে ধ্বংস করা হয়। ২০১৪ সালে তো আমের রাজধানী রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে ধ্বংস করা হয় টনকে টন ফলমূল।
এমন পরিস্থিতিতে মানুষের সন্দেহ যখন গাঢ় থেকে গাঢ়তর, তখন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলেছে, ফলে ফরমালিন মেশালে তা সংরক্ষণে কোনও ভূমিকা রাখে না। এর পক্ষে স্বীকৃত সংস্থাগুলোর গবেষণা ও দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের অভিমত সামনে এনেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। দেশের রসায়ন ও কৃষি বিজ্ঞানী এবং এসব বিষয়ের শিক্ষকরাও এখন জোরসে বলছেন, ফলে ফরমালিন মেশানোই কঠিন। মেশালে তা দীর্ঘসময় থাকে না। তাদের দাবি, যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন শনাক্ত করা হতো ‘নাটের গুরু’ আসলে ওই যন্ত্রই। এর ভুল রিডিংয়ের কারণেই দেশজুড়ে ক্রেতাদের এত সন্দেহ, এত ফল ধ্বংস, কৃষক-বিক্রেতা-আমদানিকারকদের এত ভোগান্তি। এ কারণে এখন প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কেন বিপুল সংখ্যক ফল ধ্বংস করে ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী কৃষকের ক্ষতি করা হয়েছিল? ভবিষ্যতেও কি এমন অভিযান হবে?
জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফরমালিন হলো অতি দ্রবণীয় ও উদ্বায়ী বস্তু। এটা ফলে মেশানো হলেও দীর্ঘ সময় থাকবে না। আর ফলমূল, শাকসবজি এগুলো হলো ফাইবার বা তন্তুজাতীয় খাদ্যবস্তু। এগুলোতে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ একেবারেই কম। ফলে এখানে ফরমালিন দেওয়ার কোনও সুযোগই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফলমূল ও শাকসবজিতে ফরমালিন দেওয়া হয় এটা একটা ভুল ধারণা। কারণ, ফলে ফরমালিন দিলেও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও কাজে আসবে না। এটা একটি ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া ফলমূলে প্রাকৃতিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফরমালিন থাকে। ওটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফলে ইথোপেন দেওয়া হয়। এই পদার্থ দিয়ে ফল পাকানো হয়। তাই আমরা বলি, ২৫ মে’র আগে যেসব আম বাজারে আসে সেগুলো ক্রয় করা পরিহার করুন।’
ফরমালিন টেস্টের পদ্ধতি এবং কিট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ফরমালিন টেস্টের নামে যেসব কিট এখানে ব্যবহার করা হয়েছিল, ওই কিটগুলো ঠিক ছিল না। ওই যন্ত্রগুলো গাছ থেকে তাজা ফল পেড়ে পরীক্ষা করলে তাতেও ফরমালিনের সন্ধান দিতো।’
সম্প্রতি ফলমূল ও শাকসবজিতে ফরমালিন প্রয়োগ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, ফলমূল ও শাকসবজি হচ্ছে তন্তু (ফাইবার) জাতীয় খাবার, যেখানে প্রোটিনের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। ফরমালিন হচ্ছে ৩৭ শতাংশ ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ এবং অতি উদ্বায়ী একটি রাসায়নিক যৌগ যা মূলত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই ফলমূল শাকসবজি সংরক্ষণে ফরমালিনের কোনও ভূমিকা নেই। উপরন্তু, প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যেক ফলমূল ও শাকসবজিতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় (গড়ে ৩-৬০ মিলিগ্রাম/কেজি মাত্রায়) ফরমালডিহাইড থাকে, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অথচ এই অভিযোগেই ২০১৪ সালে বিপুল সংখ্যক ফলমূল ধ্বংস করা হয়েছিল।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ফলমূল, শাকসবজিসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি স্ব-স্ব খাদ্যপণ্যের প্রাকৃতিক মাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি গড়ে যে পরিমাণ ফরমালডিহাইড দৈনিক খাবার থেকে গ্রহণ করেন তা সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম।
২০১৪ সালের দিকে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে যেসব ফলমূল ও শাকসবজি ধ্বংস করা হয়েছে তখনই এই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া সেসময় যে মেশিন বা কিট দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেগুলোও সঠিকভাবে ফলাফল দেয়নি। কিন্তু, এরপরেও ধ্বংস করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল।
জানা গেছে, ওই সময় যেসব যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হতো সেই যন্ত্রগুলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) উদ্ভাবিত। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেই যন্ত্র দিয়েই ফরমালিন পরীক্ষা করতো। কিন্তু তখন এই যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা আমলে নেয়নি কেউ। এক পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি বিসিএসআইআর’কে জানানো হলে এরপর যন্ত্রগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফলমূল বা শাকসবজিতে প্রাকৃতিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফরমালিন থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নেয়। কিন্তু, তারপরও সেটাতে দেখতে হবে প্রাকৃতিক মাত্রা অতিক্রম করছে কিনা। যদি তা করে তাহলে ধরে নিতে হবে ফরমালিন মেশানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে ফলমূলে ফরমালিন দিলেও লাভ নেই। কারণ, সেখানে প্রোটিন নেই। ফরমালিন প্রোটিন ছাড়া দীর্ঘক্ষণ টেকে না। এটা একটা ভুল ধারণা ছিল। এই ভুলের কারণে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা ফলমূল খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েই মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব যন্ত্র দিয়ে ফরমলিন পরীক্ষা করা হচ্ছে সেটাও ভুল। ফরমালিন পরিমাপের একমাত্র যন্ত্র হচ্ছে- হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (এইচপিএলসি)।
তার অভিযোগ, অথচ বর্তমানে এই যন্ত্র (এইচপিএলসি) বাদ দিয়ে ডিটেকশন কিট দিয়েই বিএসটিআই ফরমালিন পরীক্ষা করছে। এটা আসলে যথোপযুক্ত নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ফরমালিনের অভিযোগে যেসব ফলমূল ধ্বংস করা হয়েছে সেটা ছিল একটা ভুল সিদ্ধান্ত। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তখন নানা প্রশ্ন ওঠার পর আমরা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় ২৮টি খাদ্যপণ্য নিয়ে গবেষণা করে দেখি। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ফলমূলে ফরমালিনের কোনও অস্তিত্ব নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফলে ফরমালিন দেওয়া সম্ভব। কিন্তু তা কার্যকর হয় না।
২০১৪ সালের ‘ফরমালিনযুক্ত ফল ধ্বংস’ কাণ্ডের পর ২০১৬ সালে ২৮টি পণ্য নিয়ে এফএও’র অধীনে গবেষণা এবং ২০১৮ সালেও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পৃথক আরেকটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফলে ফরমালিন দিলেও তা কাজে আসে না। এখন কেউ যদি বলে ফলে ফরমালিন দিলে কাজে আসে তাহলে সে মূর্খ ছাড়া আর  কিছুই না। কারণ, বিজ্ঞানকে তো স্বীকার করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য ও ফলমূল পরীক্ষার জন্য সঠিক ফরমালিন যন্ত্র নির্বাচন এবং সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সঠিক যন্ত্র আমদানি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিশেষ অভিযানে কেমিক্যালযুক্ত আম ধ্বংস (ফাইল ছবি)

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচার ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনোভাবেই   এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না। কোনো নাগরিক গুম কিংবা অপহৃত হোক। কার কী পরিচয় তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারো জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
আশা করছি ভাগ্নেকে ফিরে পাব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলম।
নিখোঁজের আগে গুলশান জোনের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন সৌরভ। ওই চিঠির কপি সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করে সৌরভের পরিবার।  লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, আমি একজন মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের (সাংবাদিক) সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে প্রধানন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘বেঙ্গলী বিউটি’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দানশিন পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় সওদা। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে সে বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়।
সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, এরপর থেকে সওদার বাবা আজাদ চৌধুরী আমার ছেলেকে দোষারোপ করে এবং আমার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জেরে ২০১৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি সৌরভকে উত্তরা র‌্যাব সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। ১২ই ফেব্রুয়ারি বনানী থানার ওসি সৌরভকে ডেকে নিয়ে দুর্ব্যবহার করেন।
সৌরভের সন্ধান দাবি করে তিনি আরো বলেন, বিকাল ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি সৌরভ। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই।
সৌরভের মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অন্য সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কী হতে পারে? সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আশা করবো না অন্য কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন কিছু হোক। আজকে আমার ভাগ্নে, কালকে হয় তো আপনার ভাই হতে পারে। আরেক দিন হয়তো আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারো কাম্য নয়। কার কী পরিচয় সেটা মুখ্য বিষয় নয়, আমার কী পরিচয় তাও মুখ্য বিষয় নয়। এখানে আইনের শাসনে রাষ্ট্র চলবে। ন্যায়বিচার সুবিচারের রাষ্ট্রে এ রকমটা হওয়া বা এমন পরিণতির শিকার হওয়া কাম্য নয়।
অপহরণকারীরা কী এতটাই প্রভাবশালী যে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে- এমন প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটা আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। আট দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।
উল্লেখ্য, গত ৯ই জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ অপহৃত হয়। ওই দিন রাতে তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

গৌরবময় জয় by ইশতিয়াক পারভেজ

মুশফিক আউট হতেই টনটনে নেমে এলো ভীষণ হতাশা। গ্যালারি ছেড়ে দর্শকরা পায়চারি করতে লাগলেন সমারসেট স্টেডিয়ামের বাইরের আঙ্গিনাতে। সবার মুখে চিন্তার ছাপ। তাদের মধ্যে একজন বলে উঠলেন সাকিবকে আজ ‘সুপার হিরো’ হতে হবে। তার কথা হয়তো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কানে যায়নি। তবে সাকিব জানতেন আজ হারলেই ভেঙে যাবে বাংলাদেশের স্বপ্নের ডানা। তাই তিনি উড়লেন ব্যাট হাতে তার পিঠে নিয়ে গোটা বাংলাদেশকে। ক্যারিবীয়দের ছুড়ে দেয়া ৩২২ রানের লক্ষ্য মামুলি মানিয়ে এনে দিলেন এক ঐতিহাসিক গৌরবময় জয়।
৫১ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটের এই জয় যেন টনটনের সবুজ প্রকৃতিতে লাল সূর্যোদয়। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে আবারো রেকর্ড গড়া জয় তুলে নিলো টাইগাররা। সাকিব শেষ পর্যন্ত অপরাজিত রইলেন ১২৪ রানে। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাকে সঙ্গ দিতে এসে দারুণভাবে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে হাল ধরেছিলেন লিটন কুমার দাস। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা জুটির মালিক এখন এ দুজন। লিটন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ৯৬ রানে। এ জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টাইগাররা বাঁচিয়ে রাখলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার আশাও। পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এলো বাংলাদেশ।
৩’শ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে ২৯ রান করে সৌম্য ফিরে গেলে এই জুটি ভাঙে দলীয় ৫২ রানে । এবার ১৯৮৩’র ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড গাওয়ারের মতো বাংলাদেশ দলের হাল ধরলেন সাকিব। কিন্তু সঙ্গ দিতে থাকা তামিম সাজঘরে ফিরলেন দুর্ভাগ্যজন রানআউটে। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে তামিমের খেলা বল ফলো থ্রোতে হাতে পেয়ে যান বোলার প্রান্তে শেলডন কটরেল। ব্যাটিংয়ের পর দুই পা ক্রিজ থেকে বেরিয়ে আসা তামিমের উইকেট ভেঙে দেন ক্ষিপ্র থ্রোতে। দলের তখন ১২১ রানে ২ উইকেট নেই। দুঃচিন্তা ভর করলো টাইগার শিবিরে যখন মুশফিকুর রহীম ফিরে গেলেন মাত্র ১ রান করে। কিন্তু কে জানতো ৪ ম্যাচ পর একাদশে জায়গা পাওয়া লিটন দাসই হবেন সাকিবের ভারসা। দু’জন জুটি বেঁধে যখন এগিয়ে যেতে লাগলেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ চিৎকারে কখন উত্তাল সমারসেট স্টেডিয়াম।
তবে গোটা ম্যাচেই সাকিব লড়াই করেছেন দুর্দান্ত। ক্যারিবীয় পেসার ওশান থমাসের বলে দুর্দান্ত এক কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তুলে নেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। দারুণ ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের তিন অঙ্ক ছুঁতে এবার লেগেছে ৮৩ বল। ওয়ানডেতে এটি সাকিবের নবম সেঞ্চুরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম। শুধু তাই নয় নিজে ছুঁয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ হাজার রানের মাইলফলক। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সব ব্যাটসম্যানকে ছাড়িয়ে সাকিবের সংগ্রহ ৩৮৪ রান। শুধু তাই নয় সমারসেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি তালিকাতে সাকিবের জায়গা এখন গাওয়ারের পরই। অন্যদিকে সাকিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছেন লিটনও। শুরুতে একটু সময় নিলেও এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান পরে ঝড় তুলেছেন। ৪৩ বলে ৫০ করার পথে হাঁকিয়েছেন চারটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে অপরাজিত থেকেছেন ৯৪ রানে।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে টাইগাররা জয় পায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৩০ রানের দলীয় স্কোর গড়ে। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে জিততে হেরে যায় টাইগাররা। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল হারে বাজেভাবে। সেই ম্যাচে একাই লড়াই করে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন সাকিব। তবে ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি। দায়ী করা হয়েছিল টসে জিতে ইংলিশদের ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে। গতকালও টসে জিতে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিংয়ে পাঠানোর খেসারতই দিতে হবে ভাবছিলেন অনেকে। কিন্তু না, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আরো একবার দেখিয়ে দিলো- ‘আমরাও পারি।’
তবুও হোপ-হেটমায়ার ঝড়
টনটনের সবুজ প্রকৃতিতে যোগ হয়েছিল লাল আভা। ইংল্যান্ডে শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি নয়, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা থেকে উড়ে আসা টাইগার সমর্থকরাও রয়েছেন। এক বছর আগে সিডনিতে বসে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন মোর্শেদ। ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে পৌঁছান টনটনে। ম্যাচ দেখার জন্য তার মধ্যে যেমন উত্তেজনা তেমনি ভয়ও কাজ করছিল। ভয়টা সমারসেটের ছোট মাঠ নিয়ে। ক্যারিবীয় দানবরা যদি ব্যাট হাতে ঝড় তোলে? কী হবে তখন! ইনিংসের শুরুতে টাইগাররা দারুণ বোলিংয়ে তাদের ব্যাটে লাগাম পরিয়েছিল। ভয়ঙ্কর গেইলকে ফিরিয়েছিল ০ রানে। কিন্তু মাঝে শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথম ১০ ওভারে খারাপ করেনি। ১ উইকেটে ৩২ রান করতে পেরেছিল ক্যারিবীয়রা। সেখান থেকে লুইস-হেটমায়ার মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিং বিভাগকে চ্যালেঞ্চ জানিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। লুইস ফিরে গেলেও ২৫ বলে পঞ্চাশ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। এরপর হোপ আউট হন ৯৬ রান করে। তাতে শুরুর দারুণ লড়াই বিফলে যায় টাইগারদের। শেষদিকে ফের দুর্দান্ত বোলিংয়ে উইন্ডিজকে চেপে ধরে মোস্তাফিজরা। তবে টিকে থাকার ম্যাচে ৮ উইকেটে ৩২২ রানের বড় লক্ষ্য দিয়ে যায় বাংলাদেশকে। বল হাতে তিনটি করে উইকেট নেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। স্পিনারদের মধ্যে সফল সেই সাকিব। সহ-অধিনায়ক ৮ ওভার বল করে ৫৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। আসরে চার ম্যাচে সাকিবের শিকার দাঁড়ালো পাঁচ উইকেটে।

হেটমায়ার-হোল্ডারের ব্যাটে ঝড় by ইশতিয়াক পারভেজ

টনটনের সবুজ প্রকৃতিতে যোগ হয়েছিল লাল আভা। ইংল্যান্ডে শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি নয়, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা থেকে উড়ে আসা   টাইগার সমর্থকরাও রয়েছেন। এক বছর আগে সিডনিতে বসে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন মোর্শেদ। ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে পৌঁছান টনটনে। ম্যাচ দেখার জন্য তার মধ্যে যেমন উত্তেজনা তেমনি ভয়ও কাজ করছিল। ভয়টা সমারসেটের ছোট মাঠ নিয়ে। ক্যারিবীয় দানবরা যদি ব্যাট হাতে ঝড় তোলে? কী হবে তখন! ইনিংসের শুরুতে টাইগাররা দারুণ বোলিংয়ে তাদের ব্যাটে লাগাম পরিয়েছিল।
ভয়ঙ্কর গেইলকে ফিরিয়েছিল ০ রানে।
কিন্তু মাঝে শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের ঝড়ে সব এলোমলো হয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথম ১০ ওভারে খারাপ করেনি। ১ উইকেটে ৩২ রান করতে পেরেছিল ক্যারিবীয়রা। সেখান থেকে লুইস-হেটমায়ার মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিং বিভাগকে চ্যালেঞ্চ জানিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। লুইস ফিরে গেলেও ২৫ বলে পঞ্চাশ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। এরপর হোপ আউট হন ৯৬ রান করে। তাতে শুরুর দারুণ লড়াই বিফলে যায় টাইগারদের। শেষদিকে ফের দুর্দান্ত বোলিংয়ে উইন্ডিজকে চেপে ধরে মোস্তাফিজরা। তবে টিকে থাকার ম্যাচে ৮ উইকেটে ৩২২ রানের বড় লক্ষ্য দিয়ে যায় বাংলাদেশকে।
টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি ফিল্ডিং নেয়ায় শুরু হয়ে যায় সমালোচনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে ভুলে ম্যাচ হাত ফসকে গিয়েছিল তারই শঙ্কা পেয়ে বসে বাংলাদেশের দর্শকদের। তবে তাদের মনে আশার আলো হয়ে আসে টাইগারদের বোলিং। শুরু থেকেই গেইলকে ভোগাচ্ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাইফুদ্দিন। আঁটসাট বোলিংয়ে বেঁধে রেখেছিলেন অভিজ্ঞ  ওপেনারকে। গেইল চেষ্টা করেছিলেন তার পরিচিত মাঠে টিকে থাকতে। তবে সাইফের সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন মুশফিকুর রহীমের কাছে। দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে উড়তে থাকা বল গ্লাভসবন্দি করেন মুশফিক। গ্যালারিতে তখন উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বাংলাদেশি সমর্থকরা। কারণ ১৩ বল খেলে গেইলের নামের পাশে যোগ হয়নি একটি রানও। বাংলাদেশের বোলাররা আরো চেপে ধরে ক্যারিবীয়দের। সেই চাপে অবশ্য মাথা নত করেননি হোপ ও লুইস।
১০ ওভার পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন লুইস। ৬৭ বলে ৭০ রান করে সাকিবের বলে আউট হওয়ার আগে উইন্ডিজের চাপটা সরিয়ে দিয়ে যান তিনি।
এরপর আবারো বাংলাদেশ... বাংলাদেশ... ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে টননের সমারসেট স্টেডিয়াম। কিন্ত লুইসের জায়গাটা ধরে রাখেন হেটমায়ার। গায়ানিজ এই ব্যাটসম্যানকে ১২ রানেই ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রানআউটের সুযোগ নষ্ট করেন সাইফুদ্দিন। জীবন পেয়ে ২৫ বলে ফিফটি তুলে নেন হেটমায়ার। সেই সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে হোপের সঙ্গে ৪৩ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের লাগামটা বাংলাদেশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন।
তবে এই জুটি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে জ্বলে ওঠেন মোস্তাফিজ। গ্যালারি থেকে দর্শকদের ‘কাটার... কাটার...’ শুনেই হয়তো অনুপ্রাণিত হন তিনি! তার দারুণ এক ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে মিড-উইকেটে তামিম ইকবালের অসাধারণ এক ক্যাচ হয়ে হেটমায়ার ফেরেন। এরপর অধিনায়ক হোল্ডার সুযোগটা ভালোই কাজে লাগিয়েছেন, ১৫ বলে করে গেছেন ৩৩ রান। তবে তাকে ২২ রানেই ফেরানো যেত যদি মাশরাফির বলে লং অনে তামিম ক্যাচটা ধরতে পারতেন। ক্যাচটা যদিও এত সহজ ছিল না। ৪০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৩ রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ১০ ওভারে  তোলে ৭৮ রান। রানটা আরো বড় হতে পারতো যদি এই মাঠে সেঞ্চুরির তালিকাতে হোপ নিজের নাম যোগ করতে পারতেন।
১২১ বলে ৯৬ রান করে মোস্তাফিজের বলে আউট হন তিনি। গতকাল বল হাতে টাইগার পেসার দারুণ ভূমিকা রেখেছেন।  মোস্তাফিজের শুরুটা ভালো না হলেও নিয়েছেন ৯ ওভারে ৫৯ রান খরচ করে ৩ উইকেট। আরেক পেসার সাইফুদ্দিন ছিলেন বেশ খরুচে। ১০ ওভারে ৭০ রান দিলেও অবশ্য উইকেট নিয়েছেন ৩টি। মাশরাফি উইকেট পাননি। তবে বেশ কৃপণ ছিলেন। ৮ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৩৭ রান। স্পিনারদের মধ্যে সফল সেই সাকিব। সহ-অধিনায়ক ৮ ওভার বল করে ৫৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।