Thursday, December 11, 2025

আসিম মুনির: পাকিস্তানের নতুন ‘সুলতান’ by কাজী আলিম-উজ-জামান

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি কিংবা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নন, পাকিস্তানে এই সময়ে সবচেয়ে বড় ‘ভিআইপি’র নাম ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির আহমেদ শাহ। ৫৭ বছর বয়সী ‘হাফেজে কোরআন’ এই সেনা কর্মকর্তা চার তারকা জেনারেল থেকে পাঁচ তারকা ফিল্ড মার্শাল, সেনাপ্রধান থেকে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হয়েছেন। ধাপে ধাপে উঠে এখন তিনি পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে থাকা একজন ব্যক্তি।

আসিম মুনির একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রিয় বন্ধু’, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘আয়রন ব্রাদার’। উল্টো দিকে ভারতের মতে, ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ এবং আফগান তালেবানের দৃষ্টিতে ‘এক নম্বর শত্রু’।

বর্তমানে পাকিস্তানের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পারমাণবিক কমান্ড—সবই আসিম মুনিরের হাতে। সব মিলিয়ে নতুন একধরনের সামরিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন আসিম মুনির, যাকে অনেকেই বলছেন ‘মুনিরবাদ’।

যে পথে তিনি এলেন

১৯৬৮ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে আসিম মুনিরের জন্ম। তাঁর পরিবার ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে পাকিস্তানে আসে। প্রথমে তারা টোবা টেক সিংয়ে বসবাস করে, পরে রাওয়ালপিন্ডির ধেরি হাসানাবাদে স্থায়ী হয়।

ছোটবেলায় আসিম মুনির গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে জীবন ছিল সহজ, কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ছিল দারুণ আকর্ষণ। ফাস্ট বোলিংয়ে তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়, যা তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের পরিচয় দেয়। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল তীব্র।

আসিম মুনিরের বাবা সৈয়দ সরওয়ার মুনির ছিলেন রাওয়ালপিন্ডির এফজি টেকনিক্যাল হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ও একজন ইমাম। তাঁর বাবার ধর্মীয় ও শিক্ষকতার ভূমিকা পরিবারে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক পরিবেশ তৈরি করে। মা সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। সৈয়দ বংশের এই পরিবারে ইসলামি মূল্যবোধ ছিল গভীরভাবে প্রোথিত।

আসিম মুনিরের স্ত্রী সৈয়দা ইরুম আসিম এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছেন। তাঁরা রাওয়ালপিন্ডিতে থাকেন। তবে তাঁদের জীবন প্রকাশ্যে আসে না। এ বছরের আগস্টে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছিল; কিন্তু এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

আসিম মুনির প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন রাওয়ালপিন্ডির মারকাজ মাদ্রাসা দারুল তাওহিদে ধর্মীয় পরিবেশে। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাবোটাবাদের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। আসিম মুনির সামরিক একাডেমিতে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

যেভাবে সেনাপ্রধান আসিম মুনির

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এ জন্য তিনি দায়ী করেন রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রকে। তখনকার সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।

ইমরান খানের এ বক্তব্য দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। একের পর এক মামলা দেওয়া হয় তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় এখন কারাগারে আছেন একসময়ের চৌকস ক্রিকেট তারকা ইমরান খান।

বাজওয়ার মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী সেনাপ্রধান কে হবেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তালিকায় ছিলেন ছয়জন। তাঁদের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বেছে নেন আসিম মুনিরকে। লক্ষণীয় হলো, আসিম মুনিরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আগ্রহ ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সচরাচর অতীতে যা দেখা যায়নি। এটা ছিল মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ইমরানের মন্তব্যের ধারাবাহিকতা।

২০২২ সালে আসিম মুনির আইএসআই প্রধান থেকে পাকিস্তানের ১১তম সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান।

এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত ঘটে, যা পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ নামে অভিহিত করে। ভারত যে অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই সংঘাতের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই, গত ২০ মে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পর পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আসিম মুনির মনে করেন, পেহেলগাম–কাণ্ডকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ট্রাম্পের দূতিয়ালির মাধ্যমে থামলেও এতে তাঁর দেশ বিজয়ী হয়েছে। এই সাফল্যের জন্য তাঁর ফিল্ড মার্শাল পদ পাওয়া উচিত। তিনি যেমন ইচ্ছা করেছেন, তেমনই হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান চাইলে পাকিস্তানে যেকোনো কিছু হওয়া সম্ভব।

আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেন, যা ছিল একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

ফিল্ড মার্শাল একটি পাঁচ তারকা সামরিক পদমর্যাদা। এটি সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদ। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বিরল পদ, যা সাধারণত ব্যতিক্রমী সামরিক অবদানের জন্য দেওয়া হয়। পদটি জেনারেলের চেয়েও উচ্চতর এবং এটি একটি আনুষ্ঠানিক বা যুদ্ধকালীন পদমর্যাদা হিসেবে বিবেচিত হয়, নিয়মিত সেনাকাঠামোতে এটি খুব কম ব্যবহৃত হয়।

সংবিধান সংশোধন: কী বদলে গেল

আসিম মুনির এখন অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে সংবিধানের ২৪৩ নম্বর ধারা সংশোধনী ২৩৪-৪ ভোটে পাস হয়। পরদিনই প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তাতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে এটি আইনে পরিণত হয়।

নজিরবিহীন দ্রুততায় সংবিধানের এই সর্বশেষ সংশোধনীর ফলে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মুনির এখন পাকিস্তানের নৌ ও বিমানবাহিনীরও তত্ত্বাবধান করবেন।

সংবিধানে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার প্রধানের মাথার ওপর কোনো পদের অস্তিত্ব এত দিন ছিল না। মুনিরের জন্য বিশেষভাবে পদটি তৈরি করা হয়েছে।

সংবিধানের ওই সংশোধনী বিলে মুনিরের জন্য বিশেষ আইনি রক্ষাকবচের বন্দোবস্ত করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তান সেনা সর্বাধিনায়কের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না।

মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদবি ও পোশাক আজীবনের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক অবসর গ্রহণের পরও তাঁকে ‘দায়িত্ব ও কাজ’ দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আজীবন জনপরিসরে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন। অনেকেই এটিকে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হিসেবে দেখছেন।

সাংবাদিক ও পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের সহসভাপতি মুনিজা জাহাঙ্গীর মনে করছেন, ‘আবার ক্ষমতার ভারসাম্যকে সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়া হলো এবং এমন এক সময়ে তাদের আরও ক্ষমতায়িত করা হলো, যখন কিনা সেনাবাহিনীতে লাগাম টানার প্রয়োজন ছিল।’

পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সেনাবাহিনী। কখনো কখনো তারা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে, আবার অনেক সময় পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে, জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ও জেনারেল জিয়াউল হকের মতো সামরিক নেতাদের প্রকাশ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশটি একাধিকবার দোদুল্যমান পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার এই ভারসাম্যকে হাইব্রিড শাসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকেরা। সংবিধানের নতুন সংশোধনীকে এখন সেই ভারসাম্য পরিবর্তন হয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমার কাছে, এই সংশোধনীটি সর্বশেষ ইঙ্গিত, সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী।’ তাঁর মতে, ‘পাকিস্তান এখন আর হাইব্রিড সিস্টেম নয়; বরং একটি পোস্ট-হাইব্রিড সিস্টেমের অভিজ্ঞতা লাভ করছে।’

কেন ট্রাম্প মুনিরকে এত গুরুত্ব দেন

২০২৫ সালের ১৮ জুন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মুনিরকে ওভাল অফিসে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানান। এটি ছিল প্রথমবারের মতো একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে বেসামরিক নেতাদের ছাড়াই এমনভাবে স্বাগত জানানোর ঘটনা। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনায় উঠে আসে ইরান, চীন ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ের বিষয়।

ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে বলেন, ‘মুনিরের সঙ্গে দেখা করা আমার জন্য সম্মানের বিষয়’ এবং ‘আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি।’

মুনির ট্রাম্পের কাছে কৌশলগত সহযোগিতার প্রতীক। আইসিসকে (ইসলামিক স্টেট, খোরাসান প্রদেশ, এটি মূলত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয়) নেতাদের গ্রেপ্তার, আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন ফ্লাইটের অনুমোদন এবং ইরানবিরোধী গোপন সমন্বয়—এসবকে ওয়াশিংটন মুনিরের ‘উপহার’ হিসেবে দেখে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান পাচ্ছে উন্নত অস্ত্র, বিনিয়োগ এবং ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপের সুবিধা। এই সম্পর্কের কারণে মুনিরকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর সামরিক অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষে আবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আসিম মুনিরের। সে সময় অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ছিলেন। বৈঠকের এক নতুন ছবিতে দেখা যায়, মুনির একটি খোলা কাঠের বাক্সে রাখা বিরল খনিজ পদার্থ ট্রাম্পকে দেখাচ্ছেন। পাশে সামান্য হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন শাহবাজ শরিফ।

বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই আলোচনা। বৈঠকে এই ফিল্ড মার্শাল ভারতের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সিন্ধু নদীতে বাঁধ নির্মাণ করলে পাকিস্তান কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শেষ দুর্গ’ বলে অভিহিত করেন।

চীনের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২০২৫ সালে পদোন্নতির পর চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জুলাই মাসে তিনি প্রথমবার চীন সফরে যান এবং সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল জাং ইউক্সিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোয় মূল আলোচনার বিষয় ছিল সিপিইসির নিরাপত্তা, ফ্রি ট্রেড চুক্তি এবং চীনাকর্মীদের সুরক্ষা।

সিপিইসি বা চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর হলো চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি বিশাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রকল্প। এটি মূলত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআইয়ের অংশ এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আসিম মুনিরের সময়ে চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হয়েছে। পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ এবং ২০২৫ সালের সংঘাতে রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স সমর্থন দেওয়ার দায়িত্বও মুনিরের তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি পিএলএর (পিপলস লিবারেশন আর্মি) বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের অটুট অংশীদারত্ব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আগস্টে ইসলামাবাদে ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে তিনি চীনকে আশ্বাস দেন, পাকিস্তান সিপিইসির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগের সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সেপ্টেম্বরের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন আসিম মুনির। ফলে চীনের সঙ্গে মুনিরের সম্পর্ককে পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ, বিশ্বাসযোগ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখাচ্ছে।

ইমরান খানকে নিয়ে অবস্থান

আসিম মুনির ও ইমরান খানের সম্পর্ক উত্তপ্ত। ইমরান খান পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বর্তমানে কারাগারে। তিনি মুনিরের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতির অভিযোগ তুলেছেন। ইমরান খান বলেছেন, মুনির তাঁর ও স্ত্রী বুশরা বিবির ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। পিটিআই কর্মীদের ওপরও অত্যাচার করছেন।

আসিম মুনিরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের হাতে এখন পাকিস্তানের সামরিক, কৌশলগত ও সংবিধানগত প্রভাবের সব চাবিকাঠি। ২৭তম সংবিধান সংশোধনী তাঁকে কার্যত আজীবনের ক্ষমতা দিয়েছে এবং সংসদের তিন-চতুর্থাংশ ভোট ছাড়া তাঁকে অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব।

এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আসিম মুনিরের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক মেজাজের ওপর। যদি মুনির শান্তি বজায় রাখেন, তবে তিনি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি ইতিবাচক চরিত্র হিসেবে পরিগণিত হবেন। অন্যদিকে যদি তিনি সংঘাতের পথে হাঁটেন, তাহলে ২০২৫ সালের চার দিনের যুদ্ধ কেবল প্রারম্ভিক ট্রেলার হিসেবে মনে হবে।

ইমরান খান কারাগারে, শাহবাজ শরিফের সরকার কার্যত সেনা নিয়ন্ত্রিত, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নতুন ‘কনস্টিটিউশনাল কোর্টে’ রূপান্তরিত এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত। এই পটভূমিতে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে।

- তথ্যসূত্র: ডন, বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম
- ই–মেইল: alim.zaman@prothomalo.com

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আসিম মুনির। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে বিরল খনিজ দেখাচ্ছেন
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে বিরল খনিজ দেখাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

মরক্কোতে জোড়া ভবন ধস, নিহত ১৯

মরক্কোর প্রাচীন নগরী ফেজে জোড়া ভবন ধসে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।  আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।  ভবন দুটি ফেজের আল-মুস্তাকবাল এলাকায় অবস্থিত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোরের দিকে ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, পাশাপাশি থাকা চারতলা দুটি ভবন রাতের কোনো এক সময়ে ধসে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে বলা হয়েছে, ভবন দুটি  অনেকদিন যাবত অযত্নে পড়ে ছিল।

এই দুই ভবনে আটটি পরিবার বসবাস করত।  ধসের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা এবং বেসামরিক সুরক্ষা শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

mzamin

আগে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করা উচিত: লাগামহীন বক্তব্য ট্রাম্পের মিত্র র‍্যান্ডি ফাইনের

ফিলিস্তিনি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য র‍্যান্ডি ফাইন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফাইন দম্ভ করে আরও বলেছেন, এ জন্য তাঁকে ইসলামবিদ্বেষী বলা হলেও তিনি পরোয়া করেন না।

এর আগেও অনেকবার ইসলামবিদ্বেষী ও ফিলিস্তিনবিরোধী মন্তব্য করেছেন ফাইন। গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে ফাইন বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ‘বর্ণবৈষম্যমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলিরা যেতে পারেন না।

তবে বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীই নিরাপত্তার কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে প্রবেশ না করতে সতর্কতামূলক সাইন টানিয়ে রাখে। ফিলিস্তিনিদের এই ভূখণ্ডটির নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি সেনাদের হাতে।

ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় থেকে সশস্ত্র ইহুদি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরাই বরং ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো দখল ও লুটপাট করে। চলতি বছরে অন্তত দুজন মার্কিন নাগরিক বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার কংগ্রেসে শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জায়নবাদী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মর্টন ক্লেইনকে ফাইন প্রশ্ন করেন, ‘যখন আপনাকে এমন মানুষদের মুখোমুখি হতে হয়, যারা প্রতিনিয়ত ইসরায়েল রাষ্ট্রের ধ্বংস কামনা করে, “ইহুদিরা এখানে প্রবেশ করতে পারবে না”, “আমরা ইহুদিমুক্ত হতে চাই”—এমন সাইন দেখতে কারই–বা ভালো লাগতে পারে, এমন অবস্থায় আপনি কীভাবে শান্তি আনবেন?’

এরপর ক্লেইনকে পরামর্শের সুরে ফাইন আরও বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আসবেন? নাকি আমাদের অন্য কোনো পথ বেছে নিতে হবে?’

জবাবে ক্লেইন বলেন, ইসলামের একটি সংস্কারের ভেতর দিয়ে যাওয়া এবং ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন, এই ভয় পান।

এ পর্যায়ে ক্লেইনকে থামিয়ে ফাইন তাঁকে বলে ওঠেন, ‘আমি এসবে ভয় পাই না।’
ফ্লোরিডার একটি আসন থেকে কংগ্রেস সদস্য হয়েছেন ফাইন। রিপাবলিকান এই নেতা আরও বলেন, ‘যারা আপনার ধ্বংস কামনা করে, তাদের সঙ্গে কীভাবে শান্তিতে আসা যায়—আমি জানি না। আমার মনে হয়, আপনি আগে তাদের নিশ্চিহ্ন করুন।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-11%2Fljx4if9a%2FRandy-Fine.avif?rect=0%2C0%2C640%2C427&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

চীনের ‘ইলেকট্রো-রাষ্ট্রের’ ভবিষ্যৎ কী by লুদোভিক সুবরাঁ

চীনে এখন আরেকটি বড় রূপান্তর চলছে। বিশ্বের কারখানা হিসেবে পরিচিত চীন দ্রুত একটি ‘ইলেকট্রো-রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে। এর অর্থনীতি দিন দিন কার্বনমুক্ত জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এই নতুন মডেলে অনেক সম্ভাবনা আছে। তবে বড় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

কার্বনমুক্ত প্রযুক্তির উৎপাদনে চীন এখন বিশ্বের একক নেতা। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও ব্যাটারির যন্ত্রপাতি উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। শুধু সৌর প্যানেলের ক্ষেত্রেই বৈশ্বিক উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি চীনেই হয়। এ বিশাল উৎপাদনের কারণে খরচ অনেক কমে গেছে। যেমন গত ১০ বছরে সৌর প্যানেলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।

চীন বিরল মৃত্তিকা খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’-এর দখলও অনেকটা নিজের হাতে নিয়েছে। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন ও এআই সেন্সর তৈরিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের রেয়ার আর্থ মজুতের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং উৎপাদন ও পরিশোধনের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে।

এদিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে, বিশেষ করে এআই খাতে চীনের বিনিয়োগও বড় ফল দিচ্ছে। এখন বিশ্বের মোট এআই গবেষকদের অর্ধেকের বেশি চীনে কাজ করেন। বিশ্বজুড়ে নিবন্ধিত এআই পেটেন্টের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার উদ্ভাবন সূচকেও চীন এখন শীর্ষ দশে। এই সবকিছু মিলিয়ে ওপর নির্ভরশীল।

কাঁচামাল, উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন, নতুন শিল্প ও জ্বালানিব্যবস্থার নকশা এবং অর্থায়ন—সবকিছুতেই চীনের বড় ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি রেয়ার আর্থ চায় বা কোনো উন্নয়নশীল দেশের যদি পরিষ্কার জ্বালানি অবকাঠামো দরকার হয়, তাকেও চীনের দিকে তাকাতে হচ্ছে। কিন্তু এখানেই একটি বড় ঝুঁকি আছে। চীন যতই শক্তিশালী রপ্তানিকারক হোক, তবু তার অর্থনীতি এখনো বাইরের চাহিদার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। অথচ চীন সেই নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বিশ্বে যখন সুরক্ষাবাদ বাড়ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সরবরাহব্যবস্থা চীন থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন এ নির্ভরতা চীনের জন্য দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত সংকট। চীনের শ্রমক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জন্মহার কমে গেছে প্রয়োজনীয় মাত্রার অনেক নিচে। ফলে শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় ও ভোগ কম বাড়তে পারে। এতে ভোগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার যে পরিকল্পনা, তা বাধাগ্রস্ত হবে। আবাসন খাতও বড় সমস্যা তৈরি করছে।

এ অবস্থায় চীন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা একটি উদ্ভাবনী, কম কার্বননির্ভর শিল্প অর্থনীতির কাঠামো তৈরি করেছে। এ অর্থনীতি বিশ্বকে নেট জিরো এবং এআই বিপ্লবের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই ‘ইলেকট্রো-রাষ্ট্র’ টেকসই করতে হলে চীনকে তিনটি বিষয়ে অগ্রগতি আনতে হবে।

প্রথমত, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। শুধু আরও রোবট বা কারখানা দিয়ে নয়; বরং উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধি, ভালো ব্যবস্থাপনা এবং সেবা খাত উন্নয়নের মাধ্যমে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপির তুলনায় গবেষণায় ১০ শতাংশ বেশি ব্যয় করলে উৎপাদনশীলতা ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, দেশীয় চাহিদা বাড়াতে হবে। মানুষের আয় ও সম্পদ বাড়াতে হবে। ভোক্তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সেবা খাত, যেমন প্রবীণদের যত্ন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি শিল্প ও আবাসন খাত থেকে শ্রমিক সরিয়ে ভোক্তানির্ভর খাতে আনতে হবে।

তৃতীয়ত, বাইরের নির্ভরতা সামলাতে হবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। আত্মনির্ভরশীলতা জরুরি। তবে পাশাপাশি কৌশলগত অংশীদার, স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক ও স্বচ্ছ সহযোগিতার কাঠামোও দরকার।

* লুদোভিক সুবরাঁ, জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আলিয়াঞ্জের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) ও প্রধান অর্থনীতিবিদ
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

চীনের অর্থনীতি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
চীনের অর্থনীতি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এএফপি

বাশারের পতনের এক বছরে কত মানুষ ঘরে ফিরলেন সিরিয়ায়

সিরিয়ায় ৫৪ বছর ক্ষমতায় ছিল আল-আসাদের পরিবার। বিদ্রোহীদের হামলার মুখে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে পরিবারটির দীর্ঘ শাসনের অবসান হয়। আজ এই ঐতিহাসিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো।

১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ দেশ ছাড়েন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ শরণার্থীদের অর্ধেকের বেশি, তথা প্রায় ৩৭ লাখ ৪ হাজার আশ্রয় নেন প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে। লেবাননে আশ্রয় নেন প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার। জর্ডানে আশ্রয় নেন প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার।

২০১২ থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন প্রায় ৭ লাখ ৫ হাজার সিরিয়ার শরণার্থী। তবে নিবন্ধনের বাইরেও ইউরোপের এসব দেশে সিরিয়ার অনেক শরণার্থী রয়েছেন। বাশারের পতনের পর এসব দেশ সিরিয়ার শরণার্থী নেওয়া একধরনের বন্ধ করে দিয়েছে।

সিরিয়ায় যেহেতু এখন একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তাই লাখ লাখ শরণার্থী এবং প্রবাসে চলে যাওয়া সিরিয়ার নাগরিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। চাইছেন নিজ দেশে নতুন করে জীবন শুরু করতে।

ফিরে আসা শরণার্থী


আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, বাশারের পতনের পর এক বছরে প্রায় ৭ লাখ ৮২ হাজার সিরিয়ার নাগরিক বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে আলেপ্পোতে ১ লাখ ৭০ হাজার, হোমসে ১ লাখ ৩৪ হাজার এবং দামেস্কের গ্রামাঞ্চলে ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষ বিদেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন।

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে আসা এসব ব্যক্তিদের অনেকে ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে দেশটিতে উপযুক্ত বেতনে চাকরি খুঁজে পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ

গত এক বছরে সিরিয়ার অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৮ লাখ মানুষ নিজেদের গ্রাম বা শহরে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে আলেপ্পোতে ৪ লাখ ৭১ হাজার, ইদলিবে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার এবং হামায় ৩ লাখ ১৪ হাজার মানুষ নিজ বাড়িঘরে ফিরে এসেছেন।

তালাল নাদার আল-আব্দো নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি ও তাঁর পরিবার গৃহযুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাশারের পতনের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনি বাড়িটির পুনর্নির্মাণ শুরু করেছেন।

গত এক বছরে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মিলিয়ে সাকল্যে ২৬ লাখ সিরিয়ার নাগরিক নিজ বাড়িঘরে ফিরেছেন। কিন্তু এখনো দেশের ভেতরে ৬০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রয়ে গেছেন।

‘স্বদেশে ফেরার অনুভূতি’

দামেস্কের ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের কর্মকর্তা খালিদ আল-শাত্তা ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর সিরিয়া ছেড়ে গিয়েছিলেন। তিনি এখন দেশে ফিরে এসেছেন। খালিদ নিজের স্ত্রী ও এক বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে প্রথমে জর্ডানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গিয়েছিলেন তুরস্কে। সেখানেই তিনি একধরনের স্থায়ী হয়ে গিয়েছিলেন।

বাশারের পতনের সময়কার কথা স্মরণ করে খালিদ বলেন, ‘তখন দেশব্যাপী ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। সেই রাতে আমরা সবাই জেগে খবর দেখছিলাম।’

৪১ বছর বয়সী এ ব্যক্তি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সিরিয়া যে মুহূর্তে মুক্ত হলো, তখনই আমরা (ফিরে যাওয়ার) সিদ্ধান্ত নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার ও আমার মনে হয়েছিল, আমাদের সিরিয়ায় ফিরে গিয়ে দেশ গড়ায় অংশ নেওয়া উচিত।’

১৩ বছর পর সিরিয়ায় ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে খালিদ বলেন, ‘মনে হলো আমি যেন কখনো সিরিয়া ছেড়ে যাইনি। তবে এই দেশ, এই জাতি এবং এই ভূমির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকার অনুভূতি অন্য রকম।’

বাশার আল-আসাদের পতনের পর তুরস্কের রেহ্যানলি শহরের সিলভেগোজু সীমান্ত ক্রসিংয়ে নিজ দেশে প্রবেশের জন্য সিরিয়ার শরণার্থীদের অপেক্ষা। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর
বাশার আল-আসাদের পতনের পর তুরস্কের রেহ্যানলি শহরের সিলভেগোজু সীমান্ত ক্রসিংয়ে নিজ দেশে প্রবেশের জন্য সিরিয়ার শরণার্থীদের অপেক্ষা। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। ছবি: এএফপি

ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলো যেভাবে বিশ্ববাণিজ্য বদলে দিচ্ছে by বিবেক আগরওয়াল ও আলেক্সান্ডার জর্জ

সম্প্রতি শারজাহতে অনুষ্ঠিত মিডল ইস্ট ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ভারতের রপ্তানিকে প্রতিযোগিতামূলক হওয়া থেকে বিরত রাখায়, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) ব্যবহার করছে আমেরিকান বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে। এটি আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

ফলে আগে যেখানে ভারতের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক ছিল তেল এবং শ্রম বিনিময়ের ওপর, তা এখন প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাজুড়ে বিস্তৃত অংশীদারে পরিণত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারত এখন কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নয়; তারা একসঙ্গে ভূ-অর্থনৈতিক সমন্বয় ঘটাচ্ছে এবং বিশ্ববাণিজ্যের মানচিত্র নতুনভাবে আঁকছে।

ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কের গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। শতাব্দী ধরে মসলা ও কাপড় বস্ত্র বহনকারী কাফেলা ও বাণিজ্যিক জাহাজ দুই অঞ্চলের মধ্যে স্থায়ী সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ব্রিটিশ রাজত্বকালে অনেক উপসাগরীয় দেশ দিল্লি থেকে পরিচালিত হতো।

ভারত স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক মূলত লেনদেনভিত্তিক ছিল। একদিকে ছিল তেল, অন্যদিকে ছিল শ্রম আর ধন উভয় দিকে। সম্প্রতি ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঐতিহাসিক অংশীদারত্বের কৌশলগত মূল্য পুনরায় খুঁজে পেয়েছে এবং একুশ শতকের জন্য পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে।

২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি এই দুই পক্ষের কৌশলগত অগ্রাধিকার মিলতে শুরু করে। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। এটি ছিল ৩৪ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর। এই সময়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁদের অর্থনীতি তেলের বাইরে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা চালু করেন।

ভারতের সঙ্গে উপসাগরীয় এলাকার এই মিলন ঘটেছে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি বুঝতে শুরু করেছে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও পর্যটনে বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে ভারত দ্রুত শিল্পায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে এগোচ্ছে এবং এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে উৎসাহী অংশীদার খুঁজেছে, যাদের পুঁজিও আছে এবং পরিকল্পনাও আছে। ভারত চায় বিনিয়োগ ও দক্ষতা। আর উপসাগরীয় দেশগুলো চায় বড় প্রবৃদ্ধি ও নতুন নতুন সুযোগ।

এই সম্পর্কের শুরুতেই গভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে রয়েছে আই২ইউ২ অংশীদারি। এর মধ্যে আছে ভারত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া উপসাগরের নেতারা ভারতের জাতীয় অনুষ্ঠানে সম্মানও পেয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এই বছর ভারত-ইউএই বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর ২০২৩-২৪ সালে ভারত-সৌদি বাণিজ্য হয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই পুঁজির ব্যবহার। আবুধাবির মুবাদালা ও সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ভারতীয় স্টার্টআপ, অবকাঠামো এবং সবুজ শক্তি প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ করেছে। এগুলো এককালীন নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।

এই গতিশীলতা ধরে রেখে ভারত-উপসাগরীয় সম্পর্ক এখন আফ্রিকার দিকে বিস্তার করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পুরো মহাদেশে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সৌদি আরব ৪১ বিলিয়ন ডলার উন্নয়ন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। ভারত আফ্রিকায় শান্তি রক্ষা মিশন, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রসারিত প্রবাসী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা ইতিবাচক সম্পর্ক নিয়ে আসে। এটি উপসাগরীয় এলাকার পুঁজিকে সহায়তা করে এবং জোটের প্রভাব বৃদ্ধি করে।

এ ছাড়া নতুন ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুঁজির মাধ্যমে ভারতীয় কোম্পানিগুলো আফ্রিকায় অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এটি বড় শক্তি দেশগুলোর প্রকল্পের বিকল্প, যা প্রায়ই ঋণফাঁদ এবং রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে আসে।

মধ্যম আকারের দেশগুলো, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বন্দ্বের মধ্যে না পড়তে চায়, তাদের জন্য ভারত-গালফ জোট নিরাপদ অবকাঠামো, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে।

ভারত-গালফ অংশীদার থেকে বোঝা যাচ্ছে, কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়ন চালাতে পারে। ভারতের সাশ্রয়ী ও ওপেন-সোর্স ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে উপসাগরীয় এলাকার পুঁজির মিলন আধুনিক অবকাঠামো, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিচয় এবং পরিবেশ সচেতন প্রকল্পের মাধ্যমে ভালো মজুরির কাজ তৈরি করছে।

কিন্তু এটি কোনো নতুন ‘নন-অ্যালাইমেন্ট’ নয়। ভারত-গালফ জোট হলো ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’। এটি একটি বাস্তবধর্মী কৌশল, যা যৌথ স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা এবং স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।

অবশ্যই এই জোটের সামনে চ্যালেঞ্জ আছে। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা এই জোটের সামনে প্রধান বাধা। তবু দুই পক্ষের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলো অন্যের কৌশলের ওপর নির্ভর না করে তাদের নিজস্ব পথ তৈরি করছে।

যদি এই অংশীদারি টেকসই হয়, তবে এটি কেবল দ্বিপক্ষীয় সাফল্যই হবে না। ভারত-গালফ জোট দ্রুত বহুমুখী বিশ্বে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র হতে পারে। এটি অন্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দাসত্ব ছাড়াই উন্মুক্ত প্রযুক্তি, স্থিতিশীল বাণিজ্য এবং সমৃদ্ধি সম্ভব হবে।

* বিবেক আগরওয়াল, টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ-এ ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর
* আলেক্সান্ডার জর্জ, টনি ব্লেয়ার একই সংস্থার সিনিয়র ডিরেক্টর

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-07%2Fuf3tsfbb%2Fmodinahianreuters.jpg?rect=7%2C0%2C1787%2C1191&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইউএইর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: রয়টার্স

গাজার ‘হলুদ রেখা’ থেকে সরবে না সেনা, এটিই নতুন সীমান্ত: ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে উপত্যকাটিতে নির্দিষ্ট সীমারেখা বরাবর সেনা সদস্যের সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। ওই সীমারেখাকে বলা হয় ‘ইয়েলো লাইন’ বা ‘হলুদ রেখা’। এখন ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, যুদ্ধবিরতির পরের ধাপগুলোয় ওই সীমারেখা থেকে আর পিছিয়ে যাবে না তারা। এটিই হবে গাজা ও ইসরায়েলের ‘নতুন সীমান্ত’।

সম্প্রতি গাজায় মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আর পিছিয়ে না নেওয়ার অর্থ হলো, গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইসরায়েলের। এর মধ্যে গাজার অনেক কৃষিজমি ও মিসরের সঙ্গে উপত্যকাটির রাফার সীমান্ত ক্রসিং রয়েছে।

ইয়াল জামির ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন উত্তর গাজায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘হলুদ রেখা হবে (ইসরায়েলের) নতুন সীমান্ত। এটি আমাদের সম্মুখ প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে কাজ করবে। এই রেখা বরাবর আমাদের অভিযান কার্যক্রম চলবে। গাজার বড় অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা এই প্রতিরক্ষা রেখা থেকে সরব না।’

যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধী

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে টানা দুই বছর গাজায় নির্বিচার হামলা চালায় ইসরায়েল। এ সময় উত্তর গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলি সেনারা হলুদ রেখা বরাবর সরে যায়। এরপরও গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে এখন উপত্যকাটির উপকূল বরাবর সংকীর্ণ এলাকায় থাকতে হচ্ছে।

ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত নিয়ে ইয়াল জামির যে মন্তব্য করেছেন, তা অক্টোবরে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধী। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা দখল বা নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তাতেও গাজা থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর প্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গার্ডিয়ান–এর কাছে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল সরকার। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী’ গাজায় সেনা মোতায়েন রয়েছে আর হামাসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। যদিও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলই।

ইসরায়েলের হাতে সাংবাদিক হত্যা

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৯ ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ বছর সারা বিশ্বে ৬৭ সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সে হিসাবে ইসরায়েলের হাতেই হত্যার শিকার হয়েছেন প্রায় অর্ধেক সাংবাদিক।

আরএসএফের এক প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় ২২০ সাংবাদিক ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। ফাইল ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে খুশি মস্কো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে খুশি মস্কো। এই বক্তব্য রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায় বলে উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধে রাশিয়া জয় পেতে চলেছে। এ কারণে ইউক্রেনকে তাদের ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে।

সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের ‘দুর্বল’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই বক্তব্যের পর গতকাল বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়া, ভূখণ্ড ছাড় এবং যুদ্ধে ইউক্রেনের ভূখণ্ড হারানো—এমন নানা বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য রাশিয়ার বোঝাপড়ার সঙ্গে মিলে যায়।

এদিকে ট্রাম্পের ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে একটি শর্ত রয়েছে। তা হলো ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বর্তমানে সামরিক আইন জারি রয়েছে। ফলে দেশটিতে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি। এ কারণে আগে থেকেই জেলেনস্কির সরকারকে অবৈধ বলে অভিযোগ করে আসছিল ক্রেমলিন। ট্রাম্পও একসময় একই সুরে কথা বলেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

মোদিকে ফোন নেতানিয়াহুর: গাজা শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে ভারতের সমর্থন ঘোষণা

সংলাপ, কূটনীতি এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ভারতের  অবস্থান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তুলে ধরেছেন।  বুধবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন মোদিকে।

টেলিফোনে কথা বলার সময়  দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।  

প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং নেতানিয়াহু এই অঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন সহ "ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই শান্তি অর্জনের" লক্ষ্যে প্রচেষ্টার প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
পশ্চিম এশিয়ার কিছু অংশে সহিংস চরমপন্থা এবং অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বৃদ্ধির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতার উপর জোর দেন মোদি।

উভয় নেতা আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগ রাখতে সম্মত হয়েছেন। দ্রুত বিকশিত ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে ভারত-ইসরাইলে অংশীদারিত্বের কৌশলগত গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।
তারা প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং উদ্ভাবনে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত উপায়ও অনুসন্ধান করেছেন।

এই বছরের অক্টোবরে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যে, ইসরাইলে এবং হামাস তার ২০-দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সম্মত হয়েছে। মোদি একে "ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিফলন" হিসাবে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক অগ্রগতি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার দিকে আরও অগ্রগতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা করেছে।
ট্রাম্পের ২০-দফা প্রস্তাবে কেবল ইসরাইলে এবং হামাসের মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিই নয়, বরং শত্রুতা শেষ হওয়ার পরে গাজার প্রশাসনের জন্য একটি বিস্তারিত নীলনকশার কথাও বলা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এই পরিকল্পনাটিতে সংঘাতের অবসান এবং গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
mzamin

চিকিৎসায় ‘সাড়া দিচ্ছেন’ খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করার পাশাপাশি ‘রেসপন্স’ (সাড়া দেওয়া) করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেটি উনি (খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন এবং সেটি নিয়ে উনি সত্যিকার অর্থে সাড়া দিচ্ছেন।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান চিকিৎসক জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, উনি (খালেদা জিয়া) একজন রোগী।...ইচ্ছা করলেই আমি চিকিৎসক হিসেবে সকল কিছুই আপনাদের কাছে আমি প্রকাশ্যে বলে দেওয়া...এটি মেডিকেল সায়েন্সে কোনো অবস্থাতেই পারমিট করে না।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান জাহিদ হোসেন।

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে না পারার কারণ হিসেবে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘একদিকে মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্সের (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) কারিগরি ত্রুটি, অন্যদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা ওই সময়ের জন্য ফ্লাই করার উপযুক্ত না থাকার কারণে সেই সময় আমরা উনাকে (খালেদা জিয়া) দেশের বাইরে স্থানান্তর করতে পারিনি।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আইসিইউতে উনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসাধীন আছেন। একটি সংকটাপন্ন মানুষের জন্য যেটি প্রয়োজন, সেই চিকিৎসার মধ্যেই উনি আছেন।’

দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী, মেডিকেল বোর্ডের সম্মানিত সদস্যরাও আশাবাদী যে উনার (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো উনাকে যেকোনো সময়ে প্রয়োজনে দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এখনো এই জিনিসটি এই পর্যায়েই আপনাদের মাধ্যমে বলার সময় আসে নাই।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যে শারীরিক সংকটময় অবস্থা উনি অতিক্রম করছেন, সেটি যাতে উনি সফলভাবে আল্লাহর রহমতে অতিক্রম করতে পারেন, সে জন্য আমরা সবার কাছে সহযোগিতা চাই।’

খালেদা জিয়া ১৭ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তাঁর নানা শারীরিক জটিলতার মধ্যে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা ওঠানামা করছে বলে মেডিকেল বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কিডনির সমস্যার কারণে খালেদা জিয়ার শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়েছিল, সেটি বেড়েছে। কিডনির কার্যকারিতা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফুসফুসেরও উন্নতি আছে। তবে তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। এ ছাড়া নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়মিত করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার তারিখ পেছানো হয়।

শাশুড়ি খালেদা জিয়াকে দেখতে লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। বর্তমানে জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে চিকিৎসার বিষয়টিতে যুক্ত রয়েছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: প্রথম আলো

নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওয়াইসি’ মনে করেন হুমায়ুন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেছেন, ‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কেউই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। নির্ণায়ক শক্তি হব আমরাই।’

হুমায়ুন কবির নিজেকে হায়দরাবাদের ওয়াইসির সঙ্গে তুলনা করে ‘বাংলার ওয়াইসি’ বলে অভিহিত করেছেন।

বাবরি মসজিদ তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছেন।

হুমায়ুন কবির ‘কিং মেকার’ হওয়ার লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষ দল গঠন করার দাবি জানিয়ে বলেন, তাঁর দল শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী দেবে। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘আমাকে ছাড়া কেউ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। কেউই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না।’

হুমায়ুন বলেছেন, এআইএমআইএম, আইএসএফ, সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন।

হুমায়ুন বলেন, ‘২০২৬ সালে তৃণমূল বা বিজেপি—কেউই এককভাবে সরকার গড়তে পারবে না। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন, হুমায়ুন কবিরের সাহায্য নিতে হবে। আমাকে না নিয়ে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।’

হুমায়ুন কবির বলেন, তাঁর দল ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। তাঁর লক্ষ্য থাকবে ৯০টি আসন।

হুমায়ুন দাবি করেছেন, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ দল গড়বেন। ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন দলের নাম ঘোষণা করবেন। সঙ্গে তিনি এ–ও বলেছেন, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএমের সঙ্গে তিনি জোট বাঁধবেন।

তবে সম্প্রতি এআইএমআইএমের জাতীয় মুখপাত্র দাবি করেন, তাঁরা হুমায়ুনের সঙ্গে জোট বাঁধবেন না। এই আবহে হুমায়ুন আবার দাবি করেন, ওয়াইসি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর দল হুমায়ুনের সঙ্গে জোট বাঁধবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ওয়াইসির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন যে তিনি হায়দরাবাদের ওয়াইসি আর আমি বাংলার ওয়াইসি। আমি বাংলার সব থেকে বড় গেম চেঞ্জার হয়ে যাব। তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাংক শেষ হয়ে যাবে।’

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ফাইল ছবি: ভাস্কর মুখার্জি