Saturday, April 8, 2017

বন্ধুত্ব বজায় রেখে ভারতের সাথে সব সমস্যার সমাধান করা হবে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ দ্বিপক্ষীয় সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর বন্ধুপ্রতিম দেশটির সাথে সম্পর্ক আরো অগ্রগতি হবে বলে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে হবে। তাদের গালিগালাজ করলে তারা কিছুই দেবে না। ওবায়দুল কাদের আজ দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নবম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, হিউবার্ট গোমেজ, সহ-সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত ও সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব মনিরিন্দ্র কুমার নাথ, পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব,
তাপস কুমার পাল, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর হালদার। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য বিশ্বব্যাপী সলিডারিটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর ভারতের সব অবদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছিল। ভারত বিরোধীতাকে পুঁজি করে বন্ধুপ্রতিম দেশ দু’টির মধ্যে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা বিগত সরকারগুলোর মতো তাদের সাথে শত্রুতার মধ্যে থাকলে দু’দেশের মধ্যে বিশাল সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারতাম না। কাদের বলেন, শত্রুতা করে কখনো দাবী আদায় করা যায় না। আলাপ-আলোচনার মধ্যে দাবি আদায় করতে হয়। ঢাকা-নয়াদিল্লীর মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরই তার প্রমাণ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাংলাদেশ-ভারত চুক্তিকে দেশ বিরোধী চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করার জবাবে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে রয়েছেন। এখনো চুক্তি সই হয়নি। চুক্তি সই হওয়ার আগেই সে চুক্তিকে দেশ বিরোধী বলা আর অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা ভালোভাবে দেখুন, তারপর যুক্তি দিয়ে বলুন কিভাবে চুক্তিটি দেশ বিরোধী হয়েছে। সূত্র : বাসস

রংপুরে স্কুলছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

রংপুরের বদরগঞ্জে ড়ালেখার খরচ জোগাতে হোটেলে কাজ নিয়ে টাকা দাবী করায় মালিক নির্মমভাবে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র আকরাম হোসেন (১৪) কে। পুলিশ শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আখতারুজজ্জামান জানান, তারাগঞ্জ উপজেলার চিলাপাক মাটিয়ালপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর পুত্র চিলাপাক হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আকরাম হোসেন পড়ালেখার খরচের জন্য স্কুল শেষে উপজেলার সীমান্তঘেষা পার্শ্ববতী বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাটের সোলেমান আলী ওরফে সলের হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। শুক্রবার আকরাম তার মালিকের কাছে ৭ দিন কাজ বাবদ দৈনিক ৩০ টাকা মজুরী হিসেবে একহাজার ২০ টাকা দাবি করে। এসময় হোটেলের মালিক আকরামকে পরে টাকা দিতে চাইলে সে অনুরোধ করে টাকা দেয়ার জন্য। যাতে সে খাতা কলম ও বই কিনতে পারে। কিন্তু মালিক তার কথায় কান না দিয়ে আকরামকে বেধড়ক পেটাতে থাকে।
এক পর্যায়ে তার গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। শনিবার ভোরে হোটেল মালিক লাশটি গুম করার জন্য বাইরে নেয়ার চেষ্টা করলে লোকজন দেখে ফেলে পুলিশে খবর দেয়। ওসি জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ গিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকা গলায় রশি পেচানো অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় পিতা বাদি আশরাফ হোসেন বাদি হয়ে হোটেল মালিকসহ ৪ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আশরাফ হোসেন জানান, অভাবের সংসারে পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ার জন্য সে হোটেলে টেবিল বয়ের কাজ নিলো। আর মালিক টাকা না দিয়ে তাকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করলো। এটা কেমন বিচার। তিনি হত্যাকারীর গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি করেছেন।

হিন্দু তরুণীর সঙ্গে প্রেম, প্রহারে মৃত্যু মুসলিম যুবকের

হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম করায় জীবনই হারালেন এক মুসলিম যুবক। ঘটনাটি ঘটে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার একটি গ্রাম৷ হিন্দু তরুণীকে ভালোবাসার শাস্তি পেতে হলো এক মুসলিম প্রেমিককে৷ গ্রামবাসীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে মৃত্যু হলো যুবকের৷ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সোসো গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ২০ বছরের মোহাম্মদ শাকিল৷ পাশের গ্রাম রাজা কলোনিতেই থাকতেন তিনি৷ ঘটনা গত বুধবারের৷ রামনবমীর মিছিলে যোগ দেয়ার জন্য প্রেমিককে নিজের গ্রামে ডেকে পাঠিয়েছিলেন ওই তরুণী৷ শাকিল প্রথমে রাজি না হলেও প্রেমিকার কথা ফেলতে পারেননি৷ পৌঁছে গিয়েছিলেন সেখানে৷ মিছিলের পর স্কুটিতে চাপিয়ে প্রেমিকাকে বাড়ি ছেড়ে দেন তিনি৷ আর এই ঘটনাই দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন৷ শাকিলকে ঘিরে ফেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়৷
তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে মারধর করা হয়৷ পরে ঘটনাস্থলে এসে ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন শাকিলের বাবা৷ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তবে চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা৷ কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন শাকিল৷ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়৷ গুমলা থানার এসপি চন্দন কুমার ঝা জানান, “গ্রামবাসীরা ওই যুবককে আগেই সতর্ক করেছিলেন, যাতে তরুণীর সঙ্গে তিনি দেখা না করেন৷ গ্রামে কখনো না ঢোকেন৷ তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷” সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের পথে হেঁটে ঝাড়খণ্ডেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বেআইনি কসাইখানা৷ সেই সঙ্গে নারীদের ইভটিজিং রুখতে রাজ্যে চালু হয়েছে অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াডও৷ তবে মুসলিম কমিউনিটির দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করেই এইসব নিয়ম চালু করা হয়েছে৷ তারপরই এই ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্ধ রাজা কলোনির মুসলিমরা৷

অনাহার ও অপুষ্টিতে কানপুরের গোশালায় মৃত্যু ১৫২টি গরুর

ভারতে একদিকে গো-রক্ষার নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাণ্ডব চালাচ্ছে তথাকথিত গোরক্ষকের দল, অন্যদিকে ভারতের অন্যতম বড় গোশালাতে ‘অবহেলা’র কারণে মারা পড়ছে গরু! ১২৮ বছরের পুরনো কানপুর গোশালা দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রতিপত্তিশালী। প্রায় ৫৪০টি গরু রয়েছে এখানে। রাস্তা থেকে অসুস্থ গরুদের উদ্ধার করে এখানে নিয়ে এসে দেখাশোনা করা হয়। কিন্তু এই গোশালার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, এই গোশালাতেই গত ৫ মাসে ১৫২টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে গত সপ্তাহে অনাহারে মৃত্যু হয়েছে ৪টি গরুর। গরুদের দেখভাল করার জন্য যে গোশালা, সেখানেই দেখাশোনার অভাবে গরুদের মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গরুদের দেখভালের জন্য গঠন করা হয়েছে কানপুর সোসাইটি। অথচ সেই সোসাইটির বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে গরুদের অবহেলা করার। সোসাইটির এক কর্মকর্তা জানান, গরুদের দেখাশোনার জন্য প্রচুর অর্থ আসে এই সোসাইটিতে। অভিযোগ, এত টাকা আসা সত্ত্বেও গরুদের ঠিক মতো খেতে দেয়া হয় না।
প্রশ্ন উঠেছে তা হলে এই টাকা যায় কোথায়? ওই কর্মকর্তা জানান, একটি গরুর দিনে ৮ কেজি খড় ও ১৫ কেজি ঘাস লাগে। অভিযোগ, পর্যাপ্ত খাবার থাকা সত্ত্বেও গরুদের পরিমাণ মতো খাবার দেয়া হয় না। ফলে অপুষ্টিতে অসুস্থ হয়ে গরুগুলো মারা যাচ্ছে। গোশালার এক চিকিৎসকও জানান, অপুষ্টি ও ডিহাইড্রেশনের কারণেই গরুর মৃত্যু হচ্ছে। তবে এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি শ্যামজি অরোরা। তিনি জানান, প্রতি দিনই চিকিৎসক আসেন গরুগুলোকে দেখতে। তা ছাড়া গরু দেখাশোনার জন্য আট জনের একটি বিশেষ দল রয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও গরুর প্রতি অবহেলার যুক্তিকে শ্যামজি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে এতগুলো গরুর মৃত্যু কীভাবে হলো এবং ঠিক মতো তাদের খাবার দেয়া হতো কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্রাজিলে হলুদ জ্বরে মারা গেছে ২ শ’র বেশি লোক

ব্রাজিলে হলুদ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ শ’র বেশি লোক। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেই অধিকাংশ লোক মারা গেছে। শুক্রবার ব্রাজিল সরকার একথা জানিয়েছে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ব্রাজিলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
এরপর থেকে এ পর্যন্ত হলুদ জ্বরে ২০২ জন মারা গেছে। এদের মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস গেরাইসে ১৪৮ জন মারা গেছে। স্পিরিতো সান্তো, সাও পাউলো ও রিও ডি জানেরিওতেও হলুদ জ্বরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়া এই জ্বর মোকাবেলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ দুই কোটির বেশি প্রতিষেধক বিতরণ করেছে।

জাতিসঙ্ঘ শান্তিদূত হচ্ছেন মালালা

নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাইকে শান্তি দূত করতে চায় জাতিসঙ্ঘ। এমনই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেস। জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, মালালা এই মুহূর্তে নারী ও শিশু শিক্ষার বিস্তার নিয়ে কাজ করছে। তাকে সেই কাজে আরো বেশি করে ব্যবহার করতে চায় জাতিসঙ্ঘ। সে কারণেই এই বিশেষ পদ তাকে দেয়া হয়েছে।
গুটেরেস বলেছেন, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও মালালা তার দেশের মানুষের হয়ে কথা বলেনছেন, শিশু ও নারীদের জন্য লড়াই করেছেন। এর আগে জাতিসঙ্ঘ এই সম্মান দিয়েছেন অভিনেতা মাউকেল ডগলাস, লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিওকেও। এই পদই জাতিসঙ্ঘের দেয়া সর্বোচ্চ সম্মান। দেশের মানুষের এবং নারী অধিকারের হয়ে লড়াই করার জন্য তালিবানের কোপে পড়তে হয়েছিল এই পাকিস্তানি কিশোরীকে। দেশ ছাড়লেও লড়াই থামাননি মালালা। মালালার এই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। এবার জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ সম্মান জুড়ল তার মুকুটে।

আমেরিকায় ফের ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা

ফের আমেরিকায় ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা। এবার ওয়াশিংটনে। গ্যাস স্টেশনের দোকানে লুঠের সময় ২৬ বছরের বিক্রম জারওয়ালকে গুলি করে দুষ্কৃতিকারীরা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে টুইট করে জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি জানান, ‘‌সান ফ্রান্সিসকোতে ভারতীয় কনসুলেট নিহতের পরিবারকে সাহায্য করছেন। পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।’‌ পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুরের বাসিন্দা জারওয়াল ওয়াশিংটনের ওই দোকানে কাজ করতেন। মাত্র ২৫ দিন আগে ভারত ঘুরে সেখানে ফিরে যান। বৃহস্পতিবার সেখানে কালো মুখোশ পরে চড়াও হয় ২ জন। দোকান লুঠপাট করে।
বিক্রম জারওয়াল তাদের হাতে নগদ তুলে দিলেও রেহাই পাননি। এক দুষ্কৃতিকারী তাকে গুলি করে পালায়। সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের হাতে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সেই দেখে অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা কালো টুপিওয়ালা জামা পরেছিল। জামার পিছনে সাদা ছাপ। পুলিশ অফিসার মাইক বাস্তিনেল্লি জানিয়েছেন, একজন পোশাক দেখে দুষ্কৃতীদের চিনতে পেরেছেন। খুব শিগগিরই তাদের ধরা যাবে। জারওয়াল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পুলিশকে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তার কিছুক্ষণ পরেই প্রাণ হারান তিনি।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার ২০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে। সিরিয়ার মাটিতে একের পর এক মিসাইল হামলার পর এমনটাই দাবি করেছে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা। সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের আশ-শাইরাত বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইএসএস রোজ ও ইউএসএস পোর্টার থেকে এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রায় ৬০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় কয়েকটি পেট্রল কেন্দ্র এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেন পেন্টাগনের এক মুখপাত্র।
অবশ্য হতাহতের কোনো খবর সাংবাদিকদের দেননি তিনি। হোমসের গভর্নর তালাল আল-বারাজাই বলেছেন, মার্কিন হামলায় নয় সাধারণ নিরীহ মানুষসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মার্কিন হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, আমেরিকার ছোঁড়া মাত্র ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করতে পেরেছে। বাকি ৩৬ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। বিমান ঘাঁটির রানওয়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এ ছাড়া, পার্কিং এলাকায় থাকা সিরিয় বিমানগুলো ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে। হামলায় সিরিয়ার ছয়টি মিগ-২৩ বিমান ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই হামলার কার্যকারিতাকে খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছ রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতার রাজনীতি নিষিদ্ধ

ভেনিজুয়েলার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হেনরিক ক্যাপ্রিলেসের রাজনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ব্যাপারে যেসব নেতা আবারো গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছেন তাদের সামনের সারিতে রয়েছেন ক্যাপ্রিলেস। তবে এ নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্রিলেস বলেন, মিরান্দা রাজ্যের গভর্নর হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। এর প্রতিবাদে তিনি শনিবার বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ক্যাপ্রিলেস প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে পরাজিত করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী কারাকাসে বিরোধী দলের নেতৃত্বে কয়েকটি বড় ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের এক সপ্তাহ পর তার রাজনীতি করার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এদিকে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়। ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের সর্বশেষ শিকার হেনরিক ক্যাপ্রিলেস।

সিরিয়ায় আরো হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জের ধরে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দেশটিতে আরো সামরিক অভিযান চালাতে পারে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জাতিসংঘেও তুমুল বিতর্ক হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরী বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালে বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ আর নিরস্ত্রীকরণ ব্যাপকভাবেই জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত। আমেরিকা এটাই শুধু নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ যেনো কখনো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করেন। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মানোশিন বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিরিয়ার একটি শহরে রাসায়নিক হামলার জের ধরে, সিরিয়ার একটি বিমান ঘাটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও, সিরিয়ার কোন সরকারি ঘাটিতে মার্কিন হামলা এই প্রথম। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। শুক্রবারের ওই অভিযানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ওই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনে লঙ্ঘন দাবি করে, রাশিয়া নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সাফ্রোনকভ বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসীদেরই উৎসাহিত করছে। সিরিয়ায় একটি শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। সূত্র: বিবিসি

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, আহত ৬

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গঙ্গারামপুরে একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মাদারীপুরের রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের গঙ্গারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ভোলা জেলার কন্দকপুর গ্রামের দুলাল বেপারী (৫০), একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (২৮) এবং রামদাসপুর গ্রামের বিল্লাল মাঝী (৪৫)।
তারা সবাই মৎস্যবাহী ট্রাকের যাত্রী এবং মৎস্য শ্রমিক বলে জানা গেছে। মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) শাহ জামাল জানান, নিহতরা বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে মাছের রেণু পোনা নামিয়ে দিয়ে ভোলায় ফিরছিলেন। তিনি আরো জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সেনবাগে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুকুরের পানিতে ডুবে মোঃ সাইমুন নামের দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। সাইমুন উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের মোঃ লিটনের ছেলে। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে,উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের শিশু সাইমুন বাড়ির ওঠানে খেলা করতে গিয়ে পাশ্ববর্তী পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। র্দীঘ সময়েও তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করে।
যার এ ক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার দেহ পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’

‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’, ‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’... টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে প্রত্যাবর্তন করার দাবিতে মিরসরাইয়ে মানবন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ক্রিকেটপ্রেমী মাশরাফি ভক্ত ফোরামে উদ্যোগে শনিবার (৮ এপ্রিল) সকালে মানবন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসভা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে প্রায় এক ঘন্টা মানবন্ধন করে ভক্তরা।
এসময় সাংবাদিক এম মাঈন উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মিরসরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি শারফুদ্দীন কাশ্মীর, মাশরাফি ভক্ত ফোরামের আহবায়ক সংগীত শিল্পি মহিবুল আলম আরিফ, মাশরাফি ভক্ত রিপন গোপ পিন্টু, ইমাম ফারুক, পারভেজ, আরাফাত হোসেন, হৃদয় ইমাম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সমকালের মিরসরাই প্রতিনিধি বিপুল দাশ, ভোরেরকাগজ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউসুফ, সাংবাদিক আজিজ আজহার, সাদমান সময়, বাবুল দে, মাশরাফি ভক্ত নুর উদ্দিন, সরোয়ারুল আলম তুহিন, রাশেল খান, মামুন প্রমুখ। সবার কণ্ঠে একই আওয়াজ-‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’, “বাংলার ক্রিকেটকে এখনো অনেক কিছু দেবার বাকি আছে তোমার, তুমি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিনায়ক।”

সোনাগাজীতে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন শতাধীক গ্রাম

বুধবার বিকালে সোনাগাজীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের পর তিন দিন যাবৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে উপজেলার শতাধীক গ্রাম। ঝড়ের কবলে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার কারনে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মহি উদ্দিন মোশাহেদুল্লাহ।তিনি জানিয়েছেন,ঝড়ের কারনে সোনাগাজীতে ১৭টি খুঁটি ভেঙ্গেছে এবং সঞ্চালন লাইনের অনেক ক্ষতি হয়েছে।তাই সংযোগ স্বাভাবিক হতে আরো ২/৩ দিন সময় লাগবে। তবে এলাকাবাসী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্ব অবহেলাকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে ক্ষুদে ব্যাবসায়ী ও পোল্টি ফার্মের মালিকেরা অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।ব্যাবসায়ীদের ফ্রিজে সংরক্ষিত মালামাল ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে এবং পোল্টি ফার্মের মুরগি,মুরগির বাচ্চা মরে যাচ্ছে।বড় ধরনের ক্ষতির হাত রক্ষা পেতে তারা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

নওগাঁয় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

নওগাঁর পত্নীতলায় স্ত্রী বানু খাতুনকে (২৬) পিটিয়ে হত্যার করা হয়েছে অভিযোগে স্বামী রায়হান আলমকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরে জেলার বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর রায়হান আলমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত বানু খাতুন উপজেলার দক্ষিণ আড়াইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রায়হান আলম গ্রামের একটি মেয়ের সাথে বছরখানেক আগে থেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে রায়হান আলম এবং বানু খাতুনের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। পরে কলহ থেমে গেলে যে যার মতো ঘুমিয়ে পরেন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রতিবেশীরা রায়হান আলমদের বাড়িতে লোকজন দেখতে না পেয়ে বাড়ির মধ্যে এসে বানু খাতুনের লাশ বাড়ির বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার জানান, পরাকীয়ার জের ধরে রায়হান আলম প্রায়ই তার মেয়েকে মারপিট করতো। বানু খাতুনকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রায়হান আলমকে দ্রুত গ্রেফতার করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহার ইসলাম জানান, নিহতের গলায় একটি কাল দাগ ছাড়াও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই গৃহবধূকে পিটিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর রায়হান আলম পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে রায়হান আলমকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওসি আরো বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোর রাতে জেলার বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল গ্রাম থেকে রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই



ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ২২টি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার জন্য চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর আগে আজ শনিবার দুপুরে হায়দরাবাদ হাউজে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা নিজেদের মধ্যে একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নেতা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে শীর্ষ বৈঠক করেন।
এ বৈঠক শেষেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, ঋণ, তথ্য-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২২টি চুক্তি ও চারটি সমেঝাতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদি। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি দিল্লির রায়ঘাটে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গণতন্ত্র ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিলে উগ্রবাদ চলে যাবে : মওদুদ

জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি কিংবা সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন উগ্রবাদ চলে যাবে । আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি এবং জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়” শীর্ষক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভারত সফরে গেছেন। গণমাধ্যম বরাতে শুনতে পাচ্ছি সেখানে অনেক গুলো সমঝোতা স¦াক্ষর হবে। এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দুটো সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। অথচ কি স্বাক্ষর করছেন আমরা তা জানি না। তবে এই কথা বলা দরকার, প্রতিরক্ষার জন্য যে সমঝোতা স¥ারক স্বাক্ষর করবেন তাকে সমঝোতা বলেন আর চুক্তি বলেন দুটো একই কথা অর্থ্যাৎ দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে কমিটমেন্ট। কাজেই আপনি এমন কিছু করবেন না যাতে করে আমাদের দেশের স্বার্থ হানি ঘটে। কারণ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো ধরণের সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। সরকারের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে দেশে কোনো গণতন্ত্র নাই, রাজনীতিও নাই। আর সেকারণেই দেশে জঙ্গিবাদের উৎত্থান। আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে কোনো ধরণের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। এবং আমরা সব সময় বলে এসেছি এটা যদি বৈশ্বয়িক কোনো সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন, সবাইকে আহ্বান জানান কিন্তু আমাদেরকে (বিএনপি) আহ্বান জানান না। তাই একটি কথা খুবেই স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাড়া জঙ্গিবাদ বিষয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য কখনো সম্ভবপর নয়। এটা তিনিও জানেন, দেশবাসীও জানেন। ফলে যদি এই জঙ্গিবাদ সত্যিকার অর্থে নির্মূল করতে চান তাহলে সরকারের উচিত হবে জঙ্গিবাদকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহিত করে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গিবাদ উচ্ছেদের নামে নিরীহ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করুন।এর প্রতিক্রিয়া দেশের প্রতিটি মানুষের মনে বিষণভাবে দাগ কেটেছে। সেকারণে যারা আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি তাদের উচিত হবে এসমস্ত বিষয়গুলো সকলের কাছে তুলে ধরা।এবং দেশের মানুষকে এবিষয়ে আরো সর্তক করে তোলা।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন জঙ্গিবাদ চলে যাবে। আর সেজন্য দরকার সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। কারণ আমরা সবাই জানি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কোন ধরণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুটো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপির নিবন্ধন প্রসঙ্গে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, অনেকে আজ বলে থাকে যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন চলে যাবে। কথা হচ্ছে নিবন্ধন থাকুক আর না থাকুক সেটা বিষয় নয়, বিএনপি মনে করে এই মুহুর্তে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন আর স্থায়ী পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। জাতীয় নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয়। আর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয় না। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সমঝোতা সংলাপের মাধ্যমে আলোচনা চাই, সমাধান চাই। দেশের মানুষ যাতে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পায়। তবে আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিএনপি, ২০দলীয় জোট এবং ১৬ কোটি মানুষের জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, এনপিপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

একান্ত বৈঠকে হাসিনা-মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হায়দ্রাবাদ হাউজে এই বৈঠকে বসেন তারা। এই বৈঠকের পরপরই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হবে।
এর মধ্যে প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, পরমাণু বিদ্যুৎ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা, ঋণ সহযোগিতা, বর্ডার হাট স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার চুক্তি ও এমওইউ থাকছে।

মহাত্মা গান্ধীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ভারতের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি সম্মান নিবেদনে রাজঘাটে যমুনা নদীর তীরে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। তাঁর শবদাহের স্থানটিকে ঘিরে এখানে কালো মার্বেলের প্লাটফরম বসানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরে আজ হায়দ্রাবাদ ভবনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে গতকাল চার দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লীতে পৌঁছেন। সূত্র : বাসস

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষাসহ ২২টি চুক্তি ও সমাঝোতা স্বাক্ষর

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষাসহ ৪টি সমঝোতা স্মারক ও ২২টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। শনিবার দুপুরে হায়দরাবাদ হাউজে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দুই নেতা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নেতা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে শীর্ষ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা, ঋণ, তথ্য-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২২টি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদি।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি দিল্লির রায়ঘাটে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে নয়াদিল্লিতে বিমানবাহিনীর পালাম স্টেশনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারি শিল্প, পাবলিক অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ১০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এরপর বিকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করবেন। গত সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর এটি। এর আগে ২০১০ সালে দেশটিতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার অঙ্গীকার মোদির

প্রচলিত প্রথা ভেঙে নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্যরকম এক সফর শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্ধারিত কর্মসূচি মোতাবেক, শুক্রবার শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র স্বাগত জানানোর কথা ছিল। শেষ অবধি মোদি নিজেই বিমান ঘাঁটিতে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দেন। বিরল সম্মানে শেখ হাসিনাকে বরণ করেন। ভারতের স্বাভাবিক রাষ্ট্রাচারকে ছাপিয়ে গিয়ে আন্তরিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ভারতের ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এর আগে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে মোদিকে বিমানবন্দরে যেতে দেখা গেছে। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানোর পর শেখ হাসিনার হাতে ফুল দেয়ার ছবি টুইট করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।’
পরে আরেক টুইট বার্তায় মোদি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। জানতে চাইলে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বিমান ঘাঁটিতে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন, এটা আগে কেউই জানত না। সম্পূর্ণ সারপ্রাইস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি পৌঁছার ১০ মিনিট আগে মোদি গিয়ে বিমান ঘাঁটিতে হাজির হন। বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর ঘটনা এটাই প্রথম।’ শেখ হাসিনার এই সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সফর ছাপিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দুই নেতার ভবিষ্যৎ নির্দেশনামূলক গুরুত্বের সফর বলে মনে হচ্ছে। বিমান ঘাঁটি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপর বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি তিনি চাণক্যপুরীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাটান। সেখানে সংবর্ধনা আর রাতে বাংলাদেশ হাউসে নৈশভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। এদিকে দিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়দরাবাদ হাউসের দিকেই এখন সবার দৃষ্টি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক ক্ষণে আজ শনিবার এখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দেশের জনগণের মৈত্রীর বন্ধনের রোডম্যাপ নির্ধারণ করবেন দুই নেতা। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে দীর্ঘ একান্ত আলোচনা নিয়েই কৌতূহল বেশি। কেননা আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সময় বরাদ্দ আছে ৩০ মিনিট। আর শেখ হাসিনা ও মোদির একান্ত বৈঠকের সময়ও ৩০ মিনিট। ফলে সহযোগিতার পথনির্দেশনা আসবে দুই নেতার উদ্ভাবনী শক্তি থেকে। যদিও ভারতের আমলারা আগেভাগেই বলে দিয়েছেন, এবারই তিস্তা চুক্তি সই করার চমক থাকছে না। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীও এ কথা মানেন। তবে তিনি বলেছেন, তিস্তার ব্যাপারে এবার অবশ্যই সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে। আর এই সময় কোনোভাবেই এক বছরের বেশি হলে চলবে না। দিল্লির বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মোদির কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা বাড়ছে। সংকট সমাধানে তার আন্তরিকতা, উদ্ভাবনী শক্তি ও সামর্থ্য অনেক বেশি।
ফলে তিস্তা নিয়ে জট খুলতে মোদির ওপর আস্থা রাখতে বলছেন এখানকার বেশির ভাগ মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দিল্লি আগমনের সংবাদে সেই আস্থা আরও বাড়ছে। মমতা এখানে ভারতের রাজনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, রাজনীতিতে ম্যাজিক সমাধানে পারদর্শী নরেন্দ্র মোদি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার খোলামেলা আলোচনায় একটা পথ বেরোবেই। আর রাজনীতির পর্যায় থেকে দিকনির্দেশনা পেলে তিস্তা চুক্তির আমলাতান্ত্রিক বাস্তবায়নে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। মমতাকে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে রাজি করাতে মোদি কি সমর্থ হবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে দিল্লির সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন, ‘মোদি ও মমতার মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটা ঝড়ো সম্পর্ক চলছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য বড় বাজেটের প্যাকেজ দিলে বরফ গলতেও পারে।’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দিল্লি খুবই উচ্ছ্বসিত। ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যে রূপরেখা দুই দেশের মধ্যে হচ্ছে তা এই সফরের বড় প্রাপ্তি। পাশাপাশি ভারত থেকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির পথও খুলবে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ (লাইন ক্রেডিট-এলওসি) ঘোষণার মাধ্যমে। তার চেয়েও বড় কথা হল, দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কেননা বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে দেশটির সামরিক বাহিনী এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা খাতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে দিল্লির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তার একটি হল- আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার গতিপথ নির্ধারণে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এমওইউ এবং অপরটি হল বাংলাদেশে সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির লক্ষ্যে ৫০ কোটি ডলারের এমওইউ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রডাকশনের পথ খুলতে পারে। এভাবে সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র বিক্রির মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তার ঘটতে পারে। সমুদ্র অবকাঠামো নির্মাণ খাতেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় অগ্রসর হবে।
এতে জলদস্যু দমন এবং সমন্বিত টহলের মতো বিভিন্ন দিক রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যৌথ মহড়া, তথ্য বিনিময়, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন উপায়েও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে। ভারতের বিশ্লেষকরা বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং সমুদ্রসীমা নির্ধারণ হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা হুমকি দূর হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা সহায়তার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যদিও এই খাতে চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চায় না ভারত। দিল্লির বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্রের ৮০ ভাগের বেশি চীন থেকে আসে। ভারতের পক্ষে এতটা করা মোটেও সম্ভব নয়। তবে ঢাকা-দিল্লি প্রতিরক্ষা সহায়তা আগামীতে আরও জোরদার হবে। এই সফরে বাংলাদেশের জন্য বড় ‘সারপ্রাইজ’ হল, দিল্লির প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটকে বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘোষণা। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাস্তার উদ্বোধন করবেন। এছাড়া বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত তৃতীয় এলওসি হিসাবে পাঁচশ’ কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দিতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ‘হাই স্পিড ডিজেল’ সরবরাহ উদ্বোধন হচ্ছে আজ। উদ্বোধনী চালানে দুই হাজার দু’শ টন ডিজেল যাচ্ছে বাংলাদেশে। জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ভারত ডিজেল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন তৈরির একটি প্রকল্পও আজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামের নোমালী গড় থেকে রেলপথে এই ডিজেল সরবরাহ দেয়া হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিস্তা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কিন্তু ভারতের নিয়মে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সমস্যার সমাধানের বিষয় রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত থাকবেন। তারপর শেখ হাসিনা রাজঘাটে অবস্থিত গান্ধী স্মৃতিসৌধে যাবেন। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে সই করবেন। তারপর হায়দরাবাদ হাউসে প্রথমেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন। তারপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার প্রতিনিধি দলে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর হায়দরাবাদ হাউসেই দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও দলিল সই হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথ বিবৃতি দেবেন। সেখানেই সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের হিন্দি অনুবাদ হস্তান্তর করা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বইটির হিন্দি অনুবাদ করা হয়। এই অনুষ্ঠানের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করবেন। একই দিনে বিকাল সাড়ে তিনটায় মানেকশ সেন্টারে সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সম্মাননা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে ১৬৬১ জন ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের পরিবারকে এ সম্মাননা তুলে দেবেন শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দানকারী অবশিষ্ট ভারতীয় সৈন্যদের পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে সম্মাননা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সফরে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এছাড়া হোটেল তাজ প্যালেসে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেবে। প্রধানমন্ত্রী আজমির শরিফে গিয়ে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। আগামী সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ৪ দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছেছেন। এর আগে নয়াদিল্লির উদ্দেশে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এএসএম ফিরোজ, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

সম্পর্ক ভিন্নমাত্রায় নেয়ার অঙ্গীকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মালিকাধীন অবকাশ কেন্দ্রে স্বাগত জানিয়েছেন। এটি তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ। ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জিনপিং। সফরের প্রথম দিন চীনা নেতার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন ট্রাম্প। সেখানে দু’নেতার মধ্যে প্রথমবার দেখা হয়। ট্রাম্প বলেছেন, মার-এ-লাগো অবকাশ কেন্দ্রে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। মার্কিন নেতা উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীনকে চাপ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি বজায় রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা চান জিনপিং। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল মার-এ-লাগো গলফ রিসোর্টে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। রাতে দু’নেতা আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে মিলিত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দু’নেতাকে আন্তরিকভাবে সময় কাটাতে দেখা যায়। এ সময় চীনা ফার্স্টলেডি ও দেশটির জনপ্রিয় ফোকশিল্পী পেং লিউয়ান, মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা, জামাতা ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনারসহ উভয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আন্তরিক সময় কেটেছে।
আমরা উভয়ে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’ শুক্রবার দু’নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হাইপ্রোফাইল এ বৈঠক নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাশ টানতে চীনের সহায়তা চান ট্রাম্প। যদিও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এ বিষয়ে চীন সহায়তা না করলে তিনি একাই ব্যবস্থা নেবেন। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প জিনপিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ং ইস্যুটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।’ অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি বহাল রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা চান জিনপিং। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে প্রোটোকল ভাঙেন ট্রাম্প। পরে ফেব্রুয়ারি মাসে চীনা প্রেসিডেন্টকে ফোন করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সম্মান দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সেনা উপস্থিতি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মিত্রতাসহ নানা ইস্যুতে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যকার এ বৈঠক বিশ্বরাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন এক সময় এ দুই বিশ্বনেতার দেখা হল যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে পরপর ৫৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক মানুষের ওপর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। আসন্ন বৈঠকে সিরিয়া ইস্যুটিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হিন্দু নারীর সঙ্গে প্রেম, মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা

হিন্দু ধর্মের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে খুন হয়েছেন মুসলিম। ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশের গুমলা জেলায় বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মোহাম্মদ সালেক (১৯)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্ট চন্দ্রন কুমার ঝা জানান, মেয়েটির পরিবার তাদের এ সম্পর্ক পছন্দ করতো না। তারা সালেককে মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বলে। কিন্তু সালেক বরাবরই সম্পর্ক রেখেছে। গত বুধবার রাতে মেয়েটিকে তার বাড়ির কাছে নামিয়ে দিতে আসে সালেক। এ সময় স্থানীয়রা তাদের একসঙ্গে দেখে ক্ষুব্ধ হন।
তারা সালেককে বেঁধে মেয়েটির সামনেই পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সালেখকে ফেলে রেখে যায়। রাতে সালেকের পরিবার তাকে খুঁজতে থাকে। তার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারে মেয়েটির বাড়ি যাওয়ার কথা। খুঁজে পেয়ে সালেককে মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। চন্দন কুমার আরও জানান, এটা কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। ব্যক্তিগত কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

২ বছর পর মেয়েকে নতুন জামা, কাঁদলেন বাবা

কাওসার হোসেন ভিক্ষা করে জীবন চালান। একমাত্র মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে থাকেন ফুটপাতে। হয়তো দু'বেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না তাদের। দুই বছর মেয়েকে কোনো নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি কাওসার। কয়েক দিন আগে মেয়ের জন্য জামা কিনতে গিয়েছিলেন এক দোকানে। জামার দাম হিসেবে তিনি ৬০টি পাঁচ টাকার নোট তুলে দেন দোকানির হাতে। এভাবে খুচরো টাকায় জামার দাম পেয়ে দোকানদার কাওসারকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কি ভিখিরি?' দোকানদারের প্রশ্ন শুনে কেঁদে ফেলে কাওসারের ছয় বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া। বাবার হাত ধরে টেনে সে বলতে থাকে, 'আমার কিচ্ছু চাই না। বাবা, তুমি চলো এখান থেকে।' মেয়ের চোখের জল মুছে দিয়ে দোকানদারকে শান্তস্বরে কাওসার জবাব দেন, 'হ্যাঁ, আমি ভিখিরি।' এরপর মেয়ের পছন্দের হলুদ ফ্রকটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দোকান থেকে। দুই বছরের মধ্যে এটাই সুমাইয়ার জন্য কেনা একমাত্র নতুন জামা। বাবার মনে তখন আনন্দ আর ধরে না! গায়ে চাপানো হাফ-হাতা শার্টটার ডান হাতাটা হাওয়ার হালকা দুলছে। ওই হাতটা যে নেই কাওসারের! বাঁ হাত বাড়িয়ে কলকাতা শহরের বড় রাস্তার ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করেন তিনি।
অবশ্য এমনটা ছিল না কাওসারের জীবন। তিনি জানান, 'বছর দশেক আগের সেই ঘটনা মনে পড়লে আজও আতংকে শিউরে উঠি। দুর্ঘটনায় আমার ডান হাতটা কাটা যায়। আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি এইভাবে ভিক্ষা করে বেঁচে থাকতে হবে।' মেয়ে সুমাইয়া তাকে খাইয়ে দেয়। বাবাকে কখনও একলা ছাড়ে না। কাওসার যখন ভিক্ষা করেন, মেয়ে তখন তার পাশেই থাকে। কাওসার বলেন, 'মেয়ের সামনে এভাবে লোকের কাছে হাত পাততে আমার খুব লজ্জা করে! তবু, কী করব!' সারা দিন ভিক্ষে করে দুটো মানুষের খোরাক জোগাড়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের ভবিষ্যতও সাধ্যমতো গড়তে তৎপর কাওসার। অবৈতনিক স্কুলে পড়াশোনা করে ছোট্ট সুমাইয়া। মেয়ের প্রয়োজনীয় বই, খাতাপত্রও সুযোগ মতো কিনে দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সুমাইয়ার নতুন জামা কিনে আজ আর বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়াননি কাওসার। গর্বিত এ বাবা বলেন, 'আজ আর ভিক্ষা নয়! দু'বছর পর মেয়েকে একটা নতুন জামা কিনে দিতে পেরেছি। ওই জামা পরে ও কিছুক্ষণ খেলুক আমার সামনে। আজ ওর বাবা আর ভিখিরি নয়। সে রাজা। আর ও আমার একমাত্র রাজকন্যে।'
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কানাডায় হাইহিল নিষিদ্ধ

কানাডার এক প্রদেশে নারী কর্মীদের ড্রেস কোডে হাইহিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ কলোম্বিয়া কর্তৃপক্ষ হাইহিল নিষিদ্ধ করার পেছনে লিঙ্গ বৈষম্য এবং স্বাস্থ্যগত ক্ষতির বিষয়টিকে কারণ হিসেবে উপস্থাপন করে। খবর বিবিসির। কর্তৃপক্ষ জানায়, হাইহিল জুতা পরিহিত নারী যেকোনো সময় পিছলে পড়া এবং হোঁচটের মতো ঘটনায় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারী কর্মীদের পায়ের জুতা কর্মপরিবেশ অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ হওয়া দরকার। এর আগে ব্রিটিশ কলোম্বিয়ার আইনসভায় গ্রিন পার্টির এক সদস্য এ বিষয়ক একটি বিল উত্থাপন করেন। ওই বিলে কর্মস্থলে নারী ও পুরুষ সদস্যদের একই ধরনের পোশাক ও জুতা পরার বিষয়ে বলা হয়।

ভারতের ওপর আমাদের আস্থা আছে: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই দেশের নদীগুলোর পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানে ভারতের ওপর আমাদের আস্থা আছে। শনিবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়দরাবাদ হাউজে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথমে একান্ত এবং পরে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা, ঋণ, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ২২টি চুক্তি ও ৪টি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আত্মজীবনীর হিন্দি অনুবাদ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ ভারত। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় ভারত আমাদের সাহায্য করেছে। যুদ্ধে অবদান রাখা ভারতীয়দের সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। এসময় তিনি আরও বলেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লির একটি সড়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করায় মোদিকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। আসছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সবাইকে আগাম শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিস্তার সমাধান শিগগিরই: মোদি

তিস্তা চুক্তি নিয়ে আবারও আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশার কথা শোনান। ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়দরাবাদ হাউজে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথমে একান্ত এবং পরে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'ভারতের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপি সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিস্তা নিয়ে সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।' তিনি বলেন, 'দুদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি রয়েছে। এ নিয়ে আমার আহ্বানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (মমতা ব্যানার্জি) এখানে এসেছেন। আমি খুবই খুশি হয়েছি। আশা করছি, এ সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও খুব শিগগিরই এটি চুক্তি সম্পন্ন হবে।' পরে নিজ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের নদীগুলোর পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানে ভারতের ওপর আমাদের আস্থা আছে।' এর আগে দু'দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রতিরক্ষা, ঋণ, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ২২টি চুক্তি সই হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

দিল্লিতে হাসিনা-মোদি বৈঠক অনুষ্ঠিত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়দরাবাদ হাউসে প্রথমে দুই রাষ্ট্রপ্রধান একান্ত বৈঠক করেন। ৩০ মিনিটব্যাপী এই বৈঠক শেষে তারা আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা, ঋণ, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ৩০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। আত্মজীবনীর হিন্দি অনুবাদ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া দুপুরে নরেন্দ্র মোদির দেয়া ভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে দিল্লি সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাত সদস্যের পরিবারের হাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা তুলে দেবেন তিনি। রাতে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চিন পিংকে ‘বন্ধু’ বলে সাদর অভ্যর্থনা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ সম্পর্কের ভবিষ্যদ্বাণী করে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে তাঁর দেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের মার-আ-লাগো অবকাশকেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার এই দুই নেতা প্রথম বৈঠক করেন। ট্রাম্প এ সময় বলেন, একসঙ্গে ভোজে অংশ নিয়ে তাঁরা নিজেদের মধ্যে ‘বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে যে রকম চীনবিরোধী তর্জন-গর্জন করে আসছেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সেগুলোর ছিটেফোঁটাও ছিল না। ট্রাম্প চীনা নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত সম্মানের’ আখ্যা দেন। আর সমঝোতা করার ব্যাপারে নিজের দক্ষতা নিয়ে কৌতুক করে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এখন পর্যন্ত আমি কিছুই পাইনি, একেবারেই শূন্য। তবে আমি দেখতে পাচ্ছি, দীর্ঘ মেয়াদে আমরা অনেক অনেক ভালো একটা সম্পর্ক গড়তে চলেছি। আর এ জন্য অনেক দূর অবধি তাকিয়ে আছি।’ চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গতকাল বলেছে, চিন পিং চলতি বছরের শেষ দিকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য ট্রাম্পকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা ‘আনন্দের সঙ্গে’ গ্রহণ করেছেন। দুই নেতার আলোচনা গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। প্রথমদিকে হালকা চালে কথাবার্তা হলেও পরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার আভাস দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা।
চিন পিংয়ের সফরসঙ্গী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী লোকসংগীতশিল্পী পেং লিয়াং। তাঁদের স্বাগত জানাতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও হাজির ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আলোচনায় চীনা নেতাকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দিতে পারেন। আর চিন পিং মার্কিন নেতার কাছ থেকে তাইওয়ানের ব্যাপারে আশ্বাস চাইবেন। ট্রাম্প বলেছেন, এই আলোচনা খুব কঠিন হবে। গত বছর নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, চীন মার্কিন অর্থনীতিকে ‘ধর্ষণ করছে’। বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি আর কর্মসংস্থান হারানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো ছাড় দেবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বেইজিং সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা ব্যবস্থা নেবে। আন্তর্জাতিক হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। বেইজিং এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানালেও পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। চীনের ভয়, উত্তর কোরিয়ায় কোনো বিপর্যয় হলে শরণার্থীদের বন্যা শুরু হবে এবং মার্কিন বাহিনী একেবারে ‘ঘরের কাছে’ চলে আসবে।

স্টকহোমে আটক ব্যক্তি সন্দেহভাজন হামলাকারী

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে মানুষের ভিড় মাড়িয়ে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাক ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি সম্ভবত ট্রাকটির চালক। আজ শনিবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার শহরের মধ্যাঞ্চলের ড্রটনিংগাতানে পথচারীদের চলাচলের ব্যস্ত একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। দেশটির সরকার একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। এখনো কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। স্টকহোম পুলিশের মুখপাত্র লারস বিসস্ট্রম এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ, এই ব্যক্তিই সেই অপধারী।’ এর আগে পুলিশ বলেছিল, হামলাকারী সন্দেহে এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মাথায় কালো হুডি ও সামরিক বাহিনীর জ্যাকেটের মতো পোশাক ছিল। এই ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে—এমন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিসস্ট্রম বলেন, ‘আটক ব্যক্তিটি ছবির সেই ব্যক্তি হতে পারেন।’ আফতোনব্লোডেত পত্রিকায় বলা হয়, ছবির সেই ব্যক্তির বয়স ৩৯ বছর। তিনি উজবেকিস্তানের এবং আইএসের সমর্থক।
স্থানীয় সময় গতকাল বেলা তিনটার একটু আগে আহ্লেন্স ডিপার্টমেন্ট স্টোর নামের ওই দোকানে ঢুকে পড়ে নীল রঙের একটি বড় ট্রাক। এরপর দোকানটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পুরো শহরে পুলিশ মাইকিং করে, সাধারণ মানুষকে বাড়িতে যেতে অনুরোধ করে। আকাশে চক্কর দিতে থাকে পুলিশের হেলিকপ্টার। যে ট্রাকটি দিয়ে হামলা চালানো হয়, সেটি সুইডেনের স্পেনড্রাপস নামের একটি কোম্পানির। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গতকালই একটি রেস্তোরাঁয় পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে ট্রাকটি ছিনতাই হয়। ট্রাক নিয়ে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সের নিস, জার্মানির বার্লিন ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। এর মধ্যে নিসে গত ১৪ জুলাই বাস্তিল দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যে ট্রাক তুলে দিলে নিহত হন অন্তত ৮৬ জন। এ হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আর লন্ডনে গত ২২ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট লাগোয়া সেতুতে লোকজনের ওপর তুলে দেওয়া হয় একটি প্রাইভেট কার। এতে নিহত হন চারজন। পরে হামলাকারী পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন হামলাকারী।

২২টি চুক্তি ও ৪টি সমঝোতা স্মারক সই

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ২২টি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হয়। এর আগে বৈঠক সম্পর্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টুইটে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক জোরদারে দুই নেতার আলোচনা চলছে। টুইটে মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সফরের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি অনুবাদ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিকেলে শেখ হাসিনা দিল্লি সেনানিবাসের মানেকশ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাত সদস্যের পরিবারের হাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা তুলে দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন নরেন্দ্র মোদি। রাতে তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করতে যাবেন। এবারের সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এটি মেনে নিয়েই চুক্তিটা ভারত কবে সই করছে, তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চাইবে বাংলাদেশ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের জীবন দুর্বিষহ

ডান ঊরুতে বাঁ হাত চেপে ধরে ছাদের দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ষাটোর্ধ্ব ফারুক মিয়া। তাঁর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে। মঙ্গলবার দুপুরেও তাঁর ডান পা-টি যথাস্থানে ছিল। কিন্তু পায়ে দ্রুত পচন ধরার কারণে ওই দিন বিকেলে সেটি কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে বাইরে বোমা বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের একজন হলেন এই ফারুক মিয়া। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই গ্রামে। ২৫ মার্চ অভিযান শুরুর পর কৌতূহলবশত সেখানে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণে ডান পায়ে অনেক স্প্লিন্টারবিদ্ধ হন তিনি। ওই দিন ফারুকসহ ৫০ জন আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। যাঁদের মধ্যে র্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ সাতজন মারা যান। ৩৭ জন চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফারুক মিয়াসহ ছয়জন এখনো হাসপাতালে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অবস্থা জানতে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে যান প্রথম আলোর এই প্রতিনিধি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন শিরিন আহমদ (২৩)। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামে।
সিলেটের কদমতলীর একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির কাজ করতেন। অন্যদের মতো তিনিও আতিয়া মহলের অভিযান দেখতে গিয়ে ঘটনার শিকার হন। তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। তাঁর স্ত্রী সুলতানা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর বাঁ পায়ে অনেক স্প্লিন্টার বিঁধেছে। ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় ওই পা পচে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্বামীর পা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি। সুলতানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক দেবপদ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা নয়। বোমা হামলায় আহত সব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরও অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।’ চিকিৎসাধীন সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন সিলেটের ঝালোপাড়ার রংমিস্ত্রি জুয়েল আহমদ (৩৫) ও কদমতলীর নাজিম উদ্দিন (২১)। তাঁদের শরীরেও অনেক স্প্লিন্টার বিঁধেছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন মো. মাসুদ মিয়া (২৭)। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার তরঙ্গি গ্রামে। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরের বৈশাখী বেকারির কর্মচারী তিনি। ওই দিন শিববাড়ি থেকে ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন। তাঁর বাঁ হাত ও দুই পায়ের উপরিভাগে অনেক স্প্লিন্টার ঢুকেছে। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একই বেকারির কর্মচারী নুর আলম (২২)। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাঁরা দুজনই এখন অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

শীর্ষ বৈঠকে হাসিনা-মোদি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার দুপুরে বৈঠকে বসেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টুইটে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক জোরদারে দুই নেতার আলোচনা চলছে। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা, ঋণ, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ৩০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এর আগে টুইটে মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সফরের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানের পরের পর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। বাংলা থেকে আত্মজীবনীর হিন্দি অনুবাদ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিকেলে শেখ হাসিনা দিল্লি সেনানিবাসের মানেকশ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাত সদস্যের পরিবারের হাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা তুলে দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন নরেন্দ্র মোদি। রাতে তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করতে যাবেন। এবারের সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এটি মেনে নিয়েই চুক্তিটা ভারত কবে সই করছে, তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চাইবে বাংলাদেশ।

নকশায় পরিবর্তন, নিরবচ্ছিন্ন ব্যান্ডউইটথ প্রাপ্তি অনিশ্চিত

মূল কারিগরি নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌লের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো বা ব্যাকহোল ট্রান্সমিশন লিংক। সাগরের তলদেশ দিয়ে আসা মূল সাবমেরিন কেব্‌লের ব্যান্ডউইটথ পরিবহনের যে ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে সেই ক্ষমতা ১০ গুণ কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া যে প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এখন কাজটি করানো হচ্ছে, তারা এ ধরনের প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আগে কোথাও সরবরাহ করেনি। ফলে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌লের (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) যে কাঠামো এখানে তৈরি হচ্ছে, তা দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যান্ডউইটথ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের নথিপত্র ও কারিগরি নকশা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূল নকশার চেয়ে পরিবর্তিত নকশায় ২০টির পরিবর্তে ১০টি লিংক রাখা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখতে আগের নকশায় যে দুটি মূল বিকল্প পথ ছিল, সেগুলো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথের নিরবচ্ছিন্নতার জন্য যত স্বয়ংক্রিয় বিকল্প পথ আগের নকশায় ছিল, সেগুলো কমিয়ে তিনটি পথ রাখা হয়েছে। আবার এক পথের ব্যান্ডউইটথ অন্য পথে পাঠানোর জন্য ক্রস কানেক্ট সুইচের ক্ষমতাও এক হাজার গিগাবাইটের স্থলে কমিয়ে ৬৪০ গিগাবাইটে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে ওভারহেড (ভূমির ওপর দিয়ে) কেব্‌লের মাধ্যমেও কিছু অংশের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এই লিংকের ক্ষেত্রে। এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ হলো তিনটি মহাদেশের ১৬টি দেশের ১৯টি টেলিযোগাযোগ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিছানো একটি অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল। এই কেব্‌লটির সঙ্গে সংযুক্ত হতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সাবমেরিন কেব্‌লটির সংযোগ এলেও ওই ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশকে সংযুক্ত করার (ব্যাকহোল ট্রান্সমিশন লিংক) কাজটি এখনো শেষ হয়নি।
এই কাজ করার জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সঙ্গে চুক্তি করে বিএসসিসিএল। বিটিসিএল গত বছরের এপ্রিলে প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকে। মূল্যায়নে যোগ্য দরদাতা পাওয়া গেলেও কোনো কারণ ছাড়াই সরকারি ক্রয় নীতিমালা ভেঙে দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর নকশা পরিবর্তন করে টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (টেশিস) কাজটি দেওয়া হয়। টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান প্রথম আলোকে বলেন, মূল সাবমেরিন কেব্‌লের একক ব্যান্ডউইটথ পরিবহন সক্ষমতা ১০০ গিগাবিট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস), কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ১০ জিবিপিএস সক্ষমতায় তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ শুরুতেই ব্যান্ডউইটথ পরিবহন সক্ষমতা ১০ গুণ কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। এটা কেন করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। জানতে চাইলে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুয়াকাটা পর্যন্ত সাবমেরিন কেব্‌লের সংযোগ আনার কাজটি আমরা করেছি। বিটিসিএল ও টেশিস যদি শক্তিশালী ব্যাকহোল লিংক তৈরি করতে না পারে, তাহলে দেশের বেসরকারি কোম্পানিগুলোর লাইন ব্যবহার করা যেতে পারে।’ মূল দরপত্রের নকশায় পদ্মা সেতুর কাঠামো কাজে লাগিয়ে ঢাকা থেকে শ্রীনগর, ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরে বিকল্প একটি পথ রাখা ছিল। নতুন কারিগরি নকশায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঢাকা থেকে কুমিল্লা হয়ে আখাউড়া পৌঁছানোর বিকল্প পথটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে কুয়াকাটা, বেনাপোল ও আখাউড়ার সঙ্গে ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষার মূল উদ্দেশ্যই নতুন কারিগরি নকশায় উপেক্ষিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন যেখানে
মূল ও পরিবর্তিত নকশা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূল দরপত্রের কার্যপরিধিতে বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য ৯টি এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুসারে আরও ১১টিসহ মোট ২০টি লিংক ছিল। নতুন কারিগরি নকশায় ১০টি লিংক রেখে ভবিষ্যতের লিংকগুলোর চাহিদা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই ১০টি লিংকের বর্তমান ডেটা পরিবহন ক্ষমতা উল্লেখ থাকলেও ভবিষ্যতে এর ক্ষমতা কতটা বাড়াতে হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। অথচ মূল দরপত্রের প্রথম নকশায় বর্তমানে প্রযোজ্য প্রতিটি লিংকের ব্যান্ডউইটথ পরিবহন ক্ষমতা বর্তমানে কত এবং ভবিষ্যতে বেড়ে কত হবে, তার সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল। মূল নকশায় নয়টি লিংকের মধ্যে চারটি ছিল সাধারণ আর পাঁচটি ছিল অতিগুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ লিংকে মূল পথের পাশাপাশি একটি বিকল্প পথও ছিল আগের নকশায়, যেখানে একটি পথে কেব্‌ল (তার) কাটা গেলে আরেকটি বিকল্প পথে ব্যান্ডউইটথ যাবে। আর অতিগুরুত্বপূর্ণ লিংকের ক্ষেত্রে মূল পথে কোনো কেব্‌ল কাটা গেলে আরেকটি বিকল্প পথে ব্যান্ডউইটথ পরিবাহিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথে কেব্‌ল কাটা গেলেও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক পরিবর্তিত পথ খুঁজে নেবে। এতে অতিগুরুত্বপূর্ণ লিংকে ব্যান্ডউইটথ পরিবহন কখনো বন্ধ হবে না। কিন্তু পরিবর্তিত কারিগরি নকশায় অতিগুরুত্বপূর্ণ লিংকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে চারটিতে।
সাধারণ লিংক আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে অতিগুরুত্বপূর্ণ লিংক মূল পথের সঙ্গে শুধুমাত্র দুটি বিকল্প পথে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পথে কোনো বিপর্যয় ঘটলে ব্যান্ডউইটথ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আধুনিক ‘স্মার্ট ইন্টেলিজেন্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরির ব্যবস্থা নতুন কারিগরি নকশায় রাখা হয়নি। এ ছাড়া নতুন নকশায় ‘সংরক্ষিত পথ’ এবং ‘পুনরুদ্ধার’ পথ (ঢাকা-আশুগঞ্জ) প্রায় একই রাখা হয়েছে। ঢাকা-আশুগঞ্জের মধ্যে কোনো কেব্‌ল কাটা পড়লে সংরক্ষিত ও পুনরুদ্ধার পথ এক সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। প্রথম নকশায় এ পথগুলো বিশেষভাবে পৃথক করা ছিল, যার ফলে নিরবচ্ছিন্ন ব্যান্ডউইটথ পরিবহনে কোনো সমস্যা হতো না। এ বিষয়ে বিটিসিএলের এমডি মাহফুজ উদ্দিন আহমদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। টেশিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবীর হাসান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কারিগরি নকশায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। প্রথম নকশায় ভবিষ্যতের সক্ষমতা ও চাহিদামাত্র ১১টি লিংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল আর পরিবর্তিত নকশায় প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত লিংক স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত লিংক আসলে কয়টা, সেটা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে লিংকের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি এখনই স্থাপন করার শর্ত আগের নকশায় ছিল, সেগুলো কেন বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি কবীর হাসান।

কলকাতার পথে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২

আন্তর্দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ কলকাতার উদ্দেশে খুলনা ছেড়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনটি ছাড়া হয়। সকালে খুলনা স্টেশনে গিয়ে শত শত মানুষের ভিড় দেখা যায়। সবার মধ্যে উচ্ছ্বসিত ভাব ছিল। ফুল ও রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো ট্রেনটির সঙ্গে সেলফি তুলেছেন অনেকে। ট্রেনটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এটি দ্রুত নিয়মিতভাবে চালু করার দাবি জানান অনেকে। খুলনা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, পাঁচটি বগি ও একটি ইঞ্জিন নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে ট্রেনটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা ছেড়েছে। সকাল ১০টায় ট্রেনটি বেনাপোল পৌঁছাবে। এরপর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সেখান থেকে সীমানা পাড়ি দিয়ে কলকাতা যাবে।
ট্রেনে কোনো সাধারণ যাত্রী ওঠেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অতিথিরা ট্রেনটির যাত্রী হয়েছেন। আগামীকাল রোববার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কলকাতা থেকে ট্রেনটি আবার দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। তবে কবে নাগাদ ট্রেনটি নিয়মিত চলবে, সে ব্যাপারে স্টেশনমাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজ এখনো হাতে পাইনি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন জানাতে পারব।’ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিস ছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর সেই ট্রেন সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ৫২ বছর পর এ রুটে আবার ট্রেন চালু হলো।

জামালপুরে ভাষা প্রতিযোগ শুরু

জামালপুরে শুরু হয়েছে এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগ। উৎসবে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চারটি বিভাগে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার মোট এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। আজ শনিবার সকাল আটটার থেকে শিক্ষার্থীরা জামালপুর সরকারি জিলা স্কুল উৎসবস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। সকাল নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠান চত্বর পূর্ণ হয়ে যায়। উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিযোগে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে ভাষা নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জামালপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামছুন্নাহার মাকছুদা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব বোরহান। পরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ, শ্রীনগর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুদরত-ই-হুদা, জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হাই আলহাদী ও সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বরূপ কুমার কাহালি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ও ভাষা প্রতিযোগ ২০১৭-এর সমন্বয়ক অরুণ বসু। জামালপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে আজ শনিবার সকালে প্রথম আলো-এইচএসবিসি ভাষা প্রতিযোগে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: জগলুল পাশা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। তিনি বলেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করবে। এ উপস্থিতি বলে দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুদ্ধ বাংলা চর্চা হবে এবং বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর চারটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৪০ মিনিটের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ‘বানান বীর’ নামের মজার প্রতিযোগিতা। ভাষা প্রতিযোগের এ আয়োজন ১৩ বছর পূর্তি হলো। এ বছর উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান।

ট্যানারির গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু

রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট তিতাস গ্যাস, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষকে (ঢাকা ওয়াসা) সঙ্গে নিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু করেছে। নিরাপত্তার জন্য সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট হাজারীবাগ ছাড়তে ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। পরে এ রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকে। ট্যানারি মালিকেরা ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে তা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ১০ এপ্রিলের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে ট্যানারি মালিকেরা আর কোনো আইনি লড়াইয়ে না যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু হয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের সময় উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, কাল দুপুর নাগাদ এ কাজ শেষ হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজে ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতা পাচ্ছেন। সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা গ্রামে ১৯৯ একর জমির ওপর চামড়া শিল্পনগর প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ১৫৫টি ট্যানারি শিল্প-কারখানাকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। তবে বেশ কিছু ট্যানারি সেখানে প্লট পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, ওই ট্যানারিগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। সে ক্ষেত্রে প্লট পায়নি—এমন ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে কি না, জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারবহির্ভূত। সব সংযোগই বিচ্ছিন্ন করা হবে। ট্যানারি মোড়, মনেশ্বর রোডের মোড়, ঢাকা ট্যানারি মোড়, বেড়িবাঁধ মোড়—হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে এ চার ভাগে ভাগ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। সে সময় ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকদের ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তাঁরা কাজে কোনো বাধা দেননি। এমবি ট্যানারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় কাঁদতে শুরু করেন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী রমজান আলী। তিনি বলেন, ৩২ বছর ধরে তিনি এখানে কাজ করেছেন। এখন কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সামনে রোজা, ঈদ। বেতন-বোনাস কিছুই পাবেন না। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে চলবেন বলেই কান্না শুরু করেন তিনি। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, হেমায়েতপুরে ট্যানারিগুলোর এখনি কাজ শুরু করার মতো অবস্থা নেই। বিসিক এখনো প্রস্তুত নয়। সেখানে পুরোপুরি গ্যাস-সংযোগ চালু করা যায়নি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) তৈরির কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ অবস্থায় হাজারীবাগে ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সফল অস্ত্রোপচার

সিঙ্গাপুরে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মেরুদণ্ডের হাড়ে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার হয়। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে কক্ষে পাঠানো হয়েছে।
তিনি ভালো আছেন। বেশ কিছুদিন ধরে মেরুদণ্ডের হাড়ের অসুস্থতায় ভুগছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫ এপ্রিল তিনি সিঙ্গাপুরে যান।

গোপালগঞ্জে ট্রাক উল্টে তিন মাছ ব্যবসায়ী নিহত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি ট্রাক উল্টে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ট্রাকের যাত্রী ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুকসুদপুরের গোহাল ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর স্লুইসগেটের বাঁকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ভোলা জেলার সদর উপজেলার কন্দপপুর গ্রামের মোফাজ্জল ব্যাপারীর ছেলে দুলাল ব্যাপারী (৫০), একই গ্রামের রব দালালের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (২৮) ও একই উপজেলার রামদাসপুর গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে বিল্লাল (৪৫)। তাঁরা সবাই ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী। এর মধ্যে দুলাল ও বিল্লাল ঘটনাস্থলে নিহত হন। দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রেকার দিয়ে ট্রাকটি তোলার পর তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গিয়াস উদ্দিনকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ব্যক্তিদের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেনদিয়াঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অশোক কুমার দত্ত বলেন, ট্রাকটি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে মাছের রেণু পোনা নামিয়ে দিয়ে ভোলায় দিকে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, মোড় ঘোরার সময় ট্রাকটি উল্টে যায়। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুলাল ব্যাপারী ও বিল্লাল নিহত হন। গুরুতর আহত গিয়াস উদ্দিনকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের লাশ সেনদিয়াঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

‘এপ্রিল ফুল’ ও মেয়রগণ

ব্রিটিশ আমলে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে একটি কথা আমাদের দেশে বেশ চালু ছিল। আমাদের কৈশোরেও এর খানিকটা রেশ ছিল। ওই দিন কোনো বন্ধু কিংবা অত্যন্ত কাছের মানুষকে মিথ্যা কথা বলে বোকা বানিয়ে অনেকেই আনন্দ পেতেন। এই মিথ্যার জন্য কেউ কাউকে দোষারোপ করতেন না; বরং যিনি সেই মিথ্যা কথা বিশ্বাস করতেন, তিনিই বোকা বনে যেতেন এবং লজ্জিত হতেন। সেটি হতো ১ এপ্রিল। কিন্তু আমাদের সদাশয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১ নয়, ২ এপ্রিলই গোটা জাতিকে এপ্রিল ফুল বা বোকা বানিয়েছে। কিন্তু মুশকিল হলো, এখন তারা সেটি হজম করতে পারছে না। সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ১২(১) ধারার দোহাই দিয়ে একের পর এক মেয়রকে বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়।
২০১৫ সালের ৭ মে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাঁর আগে-পরে বরখাস্ত হন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নান, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ প্রমুখ। আইনের ওই ধারায় বলা হয়, ‘কোনো মেয়র অথবা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হলে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র বা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে।’ এই ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত সাড়ে তিন বছরে ৩৮১ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর মধ্যে ৪ জন সিটি করপোরেশনের মেয়র, ৩৬ জন পৌর মেয়র, ৫৬ জন কাউন্সিলর, ৫২ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ৬৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৯২ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৭৪ জন মেম্বার। তাঁদের অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। (সূত্র, ইত্তেফাক, ৬ এপ্রিল, ২০১৭) এর মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে ২ এপ্রিল রোববার। রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে মেয়রের আসনে বসার ৮ মিনিটের মাথায় ফের মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্তের আদেশ আসে। সিলেটের মেয়র আরিফুল হকের বরখাস্তের আদেশ আসে দুই ঘণ্টা পর। অথচ তাঁরা দুজনই জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের কোনো আদালত তাঁদের শাস্তিও দেননি। নজিরবিহীন এই কাণ্ড যখন ঘটেছিল, তখন ঢাকায় ইন্টার-পার্লামেন্ট ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন চলছিল।
বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক আয়োজন। ১৩৪টি দেশের ১ হাজার ৩৫৫ জন সাংসদ যোগ দেন, যাঁদের মধ্যে ৫৩ জন স্পিকার ও ৪০ জন ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও মিয়ানমার বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশের জনপ্রতিনিধিরা পাঁচ দিনের এই সম্মেলনে শরিক হন। কমিউনিস্ট দেশগুলোকে সদস্য করায় যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছায় আইপিইউ থেকে বেরিয়ে গেছে। আর আইপিইউর সদস্য হয়েও পাকিস্তান আসেনি গোস্‌সা করে, মিয়ানমার ভয়ে, যদি সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচিত হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যখন দেশ-বিদেশের জনপ্রতিনিধিরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছিলেন, তখন আমাদের ‘গণতান্ত্রিক’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুই বড় সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ তিনজন জনপ্রতিনিধির ওপর বরখাস্তের আদেশ জারি করল। বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব আইপিইউ সম্মেলনকে তামাশা বলে যতটা দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তার চেয়ে বেশি করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁরা দেখিয়ে দিলেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কীভাবে পত্রপাঠ বিদায় করা যায়। এটা প্রথম না হলেও শেষ ব্যবস্থাপত্র, সে কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না। যদিও মাননীয় আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ওই আইনের বলে আর কোনো জনপ্রতিনিধিকে সরানো যাবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানতেন না। প্রধানমন্ত্রীকে না জানিয়ে এ রকম একটি কাজ করবেন এ রকম দুঃসাহস কার আছে। তাহলে কি আমরা ধরে নেব এই সরকারে প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান মানুষ আছেন? প্রধানমন্ত্রী জানুন আর না-ই জানুন, বিশ্বের ১৩৪টি দেশের জনপ্রতিনিধিরা দেখে গেলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া যায়। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মাথায় নিয়েই সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার তাঁর দপ্তরে বসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগের দিন বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ওই দিন আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ গেছে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আরেকটি আবেদন করেছিল রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ঠেকাতে। এই আবেদনও কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে।
দুটি আবেদনই রাষ্ট্রপক্ষ কার্যতালিকা থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে বরখাস্তের ফেরে পড়া বিএনপির এই দুই মেয়রের স্বপদে বহাল থাকতে আপাতত বাধা নেই।’ এর আগের দিন প্রায় একই ঘটনাপরম্পরায় রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সহকর্মীদের ফুলে সংবর্ধিত হয়ে দপ্তরে পা রেখেছিলেন। কিন্তু কেউ মনে করেন না মেয়াদের বাকি সময়টা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আর আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের মেয়র এখনো দায়িত্ব ফিরে পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে ডজন দুই মামলা আছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা কী করে ভাবছেন আগামী সিটি নির্বাচনে সেখানকার ভোটাররা এসব ভুলে যাবেন? মেয়রের চেয়ারে বসার আগে আরিফুল হক চৌধুরী অনেক বেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন ঢাকায় চেম্বার বিচারপতির আদালতের সিদ্ধান্তের। কেননা সিলেটের মেয়র পদ তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, সেটির ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি গতকালই শোনার কথা ছিল চেম্বার জজের। তবে রাষ্ট্রপক্ষই কার্যতালিকা থেকে সেটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানালে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। মেয়র মহোদয়ও আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ২০১৩ সালের ১৫ জুন। দায়িত্ব পালনের ৯ মাসের মাথায় হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হয়ে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি কারাবন্দী হন। এর ১০ দিনের মাথায় ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। দুই বছর দুই মাস পর সেই বরখাস্তের আদেশ গত ১২ মার্চ আদালতে স্থগিত হয়। আর বরখাস্ত হওয়ার চার দিন পর স্বপদে ফিরেছেন হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জি কে গউছ। এখানেই শেষ নয়। তিন মেয়রকে বরখাস্ত করার দুই দিনের মাথায় আরও পাঁচ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
তঁারা হলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান জার্জিস হোসেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ফরিদপুরের সালথা উপজেলার চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান। এর মধ্যে আবার একজন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে স্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মেয়র বহিষ্কারের এসব নাটকের মধ্যে চাঞ্চল্যকর খবরটি দিয়েছে ইত্তেফাক। ৬ এপ্রিল পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, ‘সম্প্রতি এক রিট মামলায় জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের বিধান সংশোধন করতে বলেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট তাঁর রায়ে বলেছেন, জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সরকারকে এই আইন অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। হাইকোর্টের এই রায় আপিল বিভাগও গ্রহণ করেছেন। তবে আপিল বিভাগ “অবশ্যই সংশোধন”-এর স্থলে “সংশোধন করা উচিত” বলে অভিমত দেন। শব্দগত পার্থক্য যা-ই থাকুক না কেন, এই আইন সংশোধন ছাড়া প্রয়োগ করা যাবে না বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রায়ে বরখাস্তের আদেশকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া রায়ে আদালত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ও নির্দেশনা দেন। রায়ে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেন, আইনের অস্বচ্ছ, বৈষম্যমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ বিষয়টি সরকার ও জাতীয় সংসদের নজরে আনার জন্য, যাতে করে সংসদ এই আইন সংশোধন করতে পারে। একই সঙ্গে মেয়র ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলার বিচার নিষ্পত্তির বিলম্বের কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রমের মেয়াদ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সংশোধিত আইনে তা-ও নির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে।’ আইন সবার জন্য সমান। একই যাত্রায় ভিন্ন ফল হওয়ার কথা নয়। রাজশাহীর মেয়র বুলবুলকে যে চারটি মামলা দেখিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছিল, ওই মামলায় কাউন্সিলররাও আসামি ছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করেনি মন্ত্রণালয়।
ফলে এই আইনে ‘পিক অ্যান্ড চুজের’ সুযোগ রয়েছে বলে রিট আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। রায়ে আইনের এই অস্বচ্ছতা ও বৈষম্যের বিষয়টিও আলোচিত হয়। সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল করলে কিছু সংশোধনীসহ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বহাল রাখেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর ১২(১) ধারাটি এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের আইনজীবী মইনুল হোসেন আদালতে বলেছেন, বিচারের আগে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। অভিযোগপত্রে নাম থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লর পরিচালক শাহদীন মালিকও মনে করেন, হাইকোর্টের রায় যেখানে আপিল বিভাগ বহাল করেছেন, তারপর আর ওই বিধানের প্রয়োগ করা কোনোভাবেই উচিত নয়। সরকারের উচিত হবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনটিকে সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা। একই দিন দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে বরখাস্ত করার পর বন্ধু কামাল আহমেদ ঘটনাটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো বলে মন্তব্য করেছিলেন। আমরা অনেক বিষয়েই গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছি, আরেকটি না হয় যুক্ত হলো। কিন্তু আদালতের রায়ে মনে হচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের শেষ রক্ষা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেশবাসীকে এপ্রিল ফুল দেখাতে গিয়ে নিজেই এপ্রিল ফুল হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই কাণ্ডকীর্তি চলতে থাকলে এসব সিটি করপোরেশনের বরখাস্তের আদেশপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলরদের পরবর্তী নির্বাচনে আর জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে না। প্রচারের কাজটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ই করে দিয়েছে। আর যদি মন্ত্রণালয় এখানে খ্যামা দেয়, তাতেও প্রমাণিত হবে যে, তারা এত দিন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কাজটি করেছিল।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

ট্রেড ইউনিয়ন চালুর প্রস্তাব সংগত

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসে। যাওয়ার আগে দলটি শ্রম অধিকারের বিষয়ে কিছু পরামর্শ রেখে গেছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ইপিজেডে (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন) নিয়মিত ট্রেড ইউনিয়ন চালুর উদ্দেশ্যে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া। আরও আছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে ট্রেড ইউনিয়ন করার বাধা অপসারণ এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সক্রিয় হতে সহায়তা দেওয়া। বিদেশি সংস্থা কিংবা বাণিজ্য সহযোগী কোনো দেশ বা গোষ্ঠী কিছু একটা প্রস্তাব দিলেই সেটা মেনে নিতে হবে, এমনটা নয়। তবে তাদের প্রস্তাব যদি আমাদের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর না হয় বরং মানবাধিকারের পরিপূরক হয়, তবে সেসব প্রস্তাব বিবেচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশ শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার কিছু নিয়মকানুন আছে। সরকার তাদের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ বা সামাজিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে বিবেচনা করতে পারে। এখানে আলোচনা প্রাসঙ্গিক যে সড়ক, নৌ-পরিবহন, বন্দরের শ্রমিকসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় আমাদের। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বিপর্যয়কর। আবার ট্রেড ইউনিয়ন নেই এমন অনেক কলকারখানার শ্রমিকদেরও মালিক বেতন দিচ্ছেন না, ছাঁটাই করছেন কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন, কিন্তু মালিকপক্ষ তাঁদের কোনো রকম সাহায্য করছে না—এগুলোও অনেক সময় আমাদের বড় রকমের ভোগান্তির কারণ হয়। মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নির্বিচারে ভাঙচুর করা হয় কথিত অভিযোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কবিহীন ব্যক্তিদের গাড়িসহ মূল্যবান সম্পত্তি। এর জন্য আপাতদৃষ্টিতে ট্রেড ইউনিয়ন দায়ী মনে হলেও প্রকৃত দায় আসে সুশাসনের অভাবের ওপর। ট্রেড ইউনিয়নের বা যে কারোর দাবি আইনসিদ্ধ হতে হবে। আর আইনবহির্ভূত কোনো কাজে কেউ লিপ্ত হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিধানও রয়েছে। আমরা এগুলোর কিছুই করতে পারছি না। কোনো রকমে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সবাই চুপ মেরে যান। তাই এসবের জন্য একতরফাভাবে শ্রমিকশ্রেণি বা ট্রেড ইউনিয়নকে দায়ী করা চলে না। আমরা গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি। ঠিক তেমনি আইনের দ্বারা যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে কোনো জনসমষ্টিকে সংগঠিত হওয়ার অধিকারও আমাদের সংবিধান দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের প্রশ্নটিও আসে। ইপিজেড ও নিরাপত্তাজনিত বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া দেশের সর্বত্র শ্রমিকদের তা করার সুযোগ বাংলাদেশ শ্রম আইনে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে দূর করা যায়। তবে বিবেচ্য নিবন্ধ মূলত ইপিজেড এলাকায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিয়ে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন প্রণীত হয়। তখন দেশে বিনিয়োগ ছিল খুবই মন্থর। বিদেশি বিনিয়োগ তেমন একটা ছিলই না। উদ্যোক্তা শ্রেণিও তৈরি হয়নি। অর্থনীতিতে গতি আনার একটি পদক্ষেপ হিসেবে ইপিজেড তৈরি শুরু হয়। ইপিজেডগুলো সরকারের জায়গায় অবকাঠামো তৈরির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়। জমি ইজারা দেওয়া হয় নামমাত্র প্রিমিয়ামে। একই ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ। সেসব অঞ্চলে স্থাপিত রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য রাখা হয় আরও নানা প্রণোদনা। ওপরে বর্ণিত আইনে দেশে প্রচলিত ১৬টি আইনের স্বয়ংক্রিয় কার্যকারিতা স্থগিত করা হয় ইপিজেড অঞ্চলে। এর মধ্যে ১৯৬৯ সালের শিল্প–সম্পর্কিত অধ্যাদেশও রয়েছে। সেই অধ্যাদেশের স্থলাভিষিক্তই হয়েছে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬। তাই এটা সেই সব অঞ্চলে কার্যকর নয়। গঠন করা যায় না প্রচলিত ধারার ট্রেড ইউনিয়ন। ব্যাপারটি নিয়ে আইএলও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘকাল ধরে দেনদরবার চলছে। ২০০৪ সালে ইপিজেড শ্রমিক সংঘ শিল্প সম্পর্ক আইন প্রণীত হয়। সেই আইনের বিধান অনুসারেই ইপিজেডের কারখানাগুলোতে শ্রমিক কল্যাণ সংঘ গঠনের বিধান রয়েছে। তাদের রয়েছে যৌথ দর-কষাকষির সুযোগ। তখন আলোচনায় ছিল, কয়েক বছর পর এসব শিল্পাঞ্চল দেশে প্রচলিত শ্রম আইনের আওতায় চলে আসবে, কিন্তু তা এখনো হয়নি। আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইপিজেডের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। আর এ দেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই বল্গাহীন দাবিদাওয়া আর তা আদায়ের জন্য বেআইনি পন্থা গ্রহণের অভিজ্ঞতায় কিছুকাল এগুলোকে ট্রেড ইউনিয়নমুক্ত রাখার প্রয়োজন ছিল।
আর বর্তমানে চালু আইনটির বিধানও বাস্তবতার আলোকেই প্রণীত হয়েছিল। তবে বাস্তবতা সদা পরিবর্তনশীল। আমরা তথ্য খতিয়ে দেখলে যা সামনে আসে, তা হলো বর্তমানে দেশে মোট শ্রমশক্তি ৮ কোটির কিছু ওপরে। তাঁদের কমবেশি ৩০ শতাংশ শিল্প খাতে কাজ করেন। সংখ্যাটি মোটামুটি আড়াই কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে ইপিজেডের সাড়ে ৪ লাখ ছাড়া প্রায় অন্য সবাই একই শ্রম আইনের আওতায় আছেন। এখন পর্যন্ত চালু আটটি ইপিজেডে কারখানা আছে ৫০০। আর তৈরি পোশাক খাতেই রয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কারখানা। অবশ্যই ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০০ কোটি ডলার আসে ইপিজেডের কারখানাগুলো থেকে। দেশের অবশিষ্ট শিল্পকারখানা থেকে রপ্তানি ছাড়াও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোগের সামগ্রীও আসে। মূলত ইপিজেডের শ্রমিকেরা কিছুটা ভালো কর্মপরিবেশে এবং ক্ষেত্রবিশেষে একটু বেশি বেতনে কাজ করেন। তবে ইপিজেড এলাকার বাইরেও কিন্তু এখন অনেক উন্নতমানের কলকারখানা হয়ে গেছে। উভয় ক্ষেত্রের কিছু কিছু কারখানায় বিনা মূল্যে দুপুরের খাবারও দেওয়া হয়। বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের কারখানাগুলোর মানোন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছে। এতে শিল্পমালিকেরা কিছু বেশি বিনিয়োগ করেছেন। এর সুফলও তাঁরা পাবেন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে। সেই প্রসঙ্গ ভিন্ন। মূল প্রসঙ্গে বলতে হয়, এত এত শিল্পোদ্যোক্তাকে আমরা ট্রেড ইউনিয়নের মুখোমুখি রেখে তুলনামূলকভাবে অনেক কমসংখ্যক কারখানার মালিককে আর কতকাল এ ধরনের সুবিধা দিতে থাকব? তা কোন যুক্তিতে? কিছুসংখ্যক বিদেশি ও সামান্যসংখ্যক দেশি উদ্যোক্তা ইপিজেডে কারখানা স্থাপন করেছেন। বিপরীতে বিশালসংখ্যক উদ্যোক্তা শ্রেণির কারখানা রয়েছে ইপিজেডের বাইরে। ইপিজেড অঞ্চলগুলোর জন্য এ ধরনের একটি সুবিধা যুগ যুগ ধরে চালু রেখে আমরা কি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছি না? এসব স্থানে কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন চালু হলে কালেভদ্রে হয়তো কোনো কোনোটিতে সভা-সমাবেশ হবে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ খাতের মতো স্পর্শকাতর শিল্পেও ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ নয়।
ঠিক তেমনি ট্রেড ইউনিয়ন চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। ইপিজেড তো কোনো স্পর্শকাতর এলাকা নয় যে মাঝেমধ্যে দু-একটা সভা বা ধর্মঘট হলে নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি হবে। বলা হতে পারে, ইপিডেজের শ্রমিক সংঘ তো ট্রেড ইউনিয়নের কাজই করছে। বস্তুতপক্ষে অতি সামান্য পরিমাণে করছে বটে। সম্পূর্ণ ননি তোলা দুধের মতো। অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দিলে সবাই তা করতে চাইবেন এমন না–ও হতে পারে। আইনত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এমনকি মালিক বা সরকারের কোনো বিরাগ না থাকলে অনেক কারখানাতেই ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রয়োজনই বোধ করবেন না শ্রমিকেরা। আর এটা ঘটছে পৃথিবীর অনেক দেশেই। যতটুকু জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে অনধিক ২০ শতাংশ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় রয়েছেন। ইউরোপের পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন খুবই জোরদার। পাশাপাশি তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলও। ইপিজেড এলাকায় অন্য সুবিধাদি বাদ দিলেও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের যে সুযোগটি রয়েছে, তা বর্তমানে দেশি-বিদেশি সব শ্রেণির উদ্যোক্তার জন্য অতি উৎকৃষ্ট প্রণোদনা। তাই ইপিজেড এলাকার জন্য ভিন্ন শ্রম আইন না রেখে একই শ্রম আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। আইএলও এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারেরা শ্রম অধিকারের নিশ্চয়তা চায়। সেসব দেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর চাপ আছে তাদের সরকারের ওপর। আর আমরা অনেক দিন যেসব সুবিধা দিচ্ছি, তার সুফলভোগী কিন্তু খুবই কমসংখ্যক উদ্যোক্তা। তাই এ ক্ষেত্রেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চালু করতে যা করা দরকার, তার মধ্যে একটি হলো একই শ্রম আইনের আওতায় সবাইকে আনা।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com