Sunday, July 17, 2016

নিস: ফরাসি জঙ্গিদের অন্যতম আস্তানা

ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্বজনের প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক ব্যক্তি। রয়টার্স
গোয়েন্দারা বলেছেন, ভূমধ্যসাগরের সৈকত ঘেঁষা চাকচিক্যময় অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত নিস শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। এটি এখন ফ্রান্সের জঙ্গি সদস্য সংগ্রহকারীদের অন্যতম আস্তানা। মাত্র গত মাসেই সিরিয়া থেকে ফরাসি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উমর দিয়াবি নামে আল নুসরা ফ্রন্টের এক যোদ্ধা দাবি করেন, প্রায় ৩০ জন ফরাসি জঙ্গির এক আস্তানা বা ‘কাতিবা’র প্রধান ছিলেন তিনি। আর ওই জঙ্গিরা সবাই নিস শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দা। উমর দিয়াবি ২০১৩ সালে আল কায়েদার সিরিয়া শাখা আল নুসরা ফ্রন্টের হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে নিস শহরে ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে ফরাসি সেনা ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় অভিযুক্ত ১৯ জন সন্দেহভাজনও ছিলেন ভূমধ্যসাগর সৈকতের পার্শ্ববর্তী কান শহরের।  পৃথক এক উগ্রবাদী ইসলামি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওই সন্দেহভাজনেরা বর্তমানে বিচারাধীন। কানের এমন কয়েকজন জঙ্গি সিরিয়ায় যুদ্ধ করে ফ্রান্সে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হয়।
জানা গেছে, ৪০ বছর বয়েসি উমর দিয়াবি বর্তমানে ওমর ওমসেন নামে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি ফ্রান্স ছাড়ার আগে যে রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তা নজরদারিতে ছিল। গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, গত মার্চে অনলাইনে জঙ্গি সংগ্রহ কার্যক্রমের নেপথ্য ব্যক্তি এই উমর। প্যারিসের কাছ থেকে হামলা পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পর সামনে আসে উমরের নাম। ইউসুফ ই. নামে উল্লেখ করা ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০১৪ সালে আরও দুইজনের সঙ্গে মিলে লড়াইয়ের জন্য সিরিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিস শহরেই ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ‘দেশত্যাগ’ বিষয়ে আলোচনার জন্য উমরের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তিনজনের প্রথম দেখা হয়। আর শার্লি এবদো কার্যালয়ে হামলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসা কুলিবালি নামে এক যুবক নিস শহরে ইহুদিদের একটি ধর্মীয় কেন্দ্রে পাহারারত তিন সেনাকে ছুরি মারেন। মুসা ছিলেন প্যারিসের উপকণ্ঠের বাসিন্দা।
ফরাসি এমপি সেবাস্তিয়েঁ পিয়েত্রাসাঁতা বলেন, ‘আমরা জানি, নিস শহরে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটছে।’ ২০১৫ সালে প্যারিসে ঘটা দুটি সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত কমিটির সদস্য তিনি। কুলিবালির চালানো হামলার পর এ এমপি বলেছিলেন, প্যারিসের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার সতর্কতা তালিকায় ওঠা ফ্রান্সের একমাত্র শহর নিস। একটি সূত্র বলেছে, ২০১২ সালে ফরাসি পুলিশের ভেঙে দেওয়া ফরসেন আলিজ্জা সন্ত্রাসী চক্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন উমর। তিনি গত মাসে সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় স্থানীয় একজন ক্যামেরাম্যানকে ওই সাক্ষাতকারটি দেন। ফরাসি সাংবাদিক রোমাঁ বুতিলি কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলেন।
নিসের রক্তক্ষয়ী ঘটনা দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটা তৃতীয় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। ভয়াবহ প্যারিস হামলার আট মাস পর এ ঘটনা ঘটল। গত বছরের নভেম্বরে একযোগে প্যারিসের থিয়েটার হল, ফুটবল স্টেডিয়াম এলাকা ও একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় আইএস। এতে নিহত হন ১৩০ জন। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিতর্কিত বিদ্রূপাত্মক সাময়িকী শার্লি এবদোর কার্যালয়ে জঙ্গি হামলা হয়। ওই হামলায় ১২ জনকে হত্যা করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম নিয়ে বিদ্রূপাত্মক কার্টুন ও প্রতিবেদনের জন্য অনেকেই পত্রিকাটির ওপর ক্ষুব্ধ।

পাকিস্তানি ফেসবুক তারকা ‘ভাইয়ের হাতে’ খুন

কানদিল বালুচ
আলোচিত পাকিস্তানি মডেল ও ফেসবুক তারকা কানদিল বালুচ নিজের ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন। এ ঘটনাকে ‘পারিবারিক সম্মান রক্ষায় হত্যা’ বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন কানদিলের ভাই পলাতক রয়েছেন। সম্প্রতি কানদিল বালুচ ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে করাচি শহর থেকে পাঞ্জাব প্রদেশের মুজাফ্ফারাবাদ গ্রামে যান। পুলিশকে তাঁর পরিবার জানায়, গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা বলে ঈদের পর দেশ ছাড়বেন বলে জানিয়েছিলেন উঠতি ‘ফেসবুক তারকা’ কানদিল বালুচ।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে প্রতিবছর ‘পারিবারিক সম্মান রক্ষা’র নামে কয়েক শ নারীকে তাঁদের স্বজনেরা হত্যা করেন। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আজহার আকরাম বলেন, শুক্রবার রাতে খুন হওয়া তরুণীটির ভাইও সেখানে ছিলেন। তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যরা জানিয়েছেন, ভাই-ই বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ‘আমাকে কেমন লাগছে’ শিরোনামে কানদিল বালুচের একটি ভিডিও ব্যাপক প্রচার পেলে ২০১৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে যান তিনি। সম্প্রতি দেশটির এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সেলফি প্রকাশের পর হইচই পড়ে যায়।

সমাজই এ যুদ্ধের প্রধান শিকার

কখন কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তা কে ঘটাবে, তা জানতে রাষ্ট্রযন্ত্রের এখনো বাকি আছে।’ কথাটি এ সময়ে মোক্ষম শোনাচ্ছে। উক্তিটা নবারুণ ভট্টাচার্যের উপন্যাস হারবার্ট-এর এক পুলিশ কর্মকর্তার। আজকের দুনিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী হয়তো কিছু কিছু সন্ত্রাসী পরিকল্পনা আগাম জানতে বা প্রতিরোধ করতে পারবে কিন্তু শতভাগ কমিয়ে ফেলা কঠিন। এর অন্যতম কারণ সন্ত্রাসের বিশ্বায়ন ও সামাজিকায়ন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ছিল আন্তর্জাতিক। এই যুদ্ধের কোনো সীমানা ছিল না। একইভাবে সন্ত্রাসও হয়ে উঠেছে বিশ্বায়িত। বিশেষ করে আইএসের সন্ত্রাসের মডেল এখন বিশ্বায়িত। প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব ধরনের সন্ত্রাস থাকে বলে তত্ত্ব দিয়েছেন মার্কিন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফিলিপ ববিট। তাঁর বক্তব্য সংক্ষেপে এই: যখন যে ধরনের শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতির প্রাধান্য থাকে, সন্ত্রাসবাদ তারই প্রতিবিম্ব আকারে হাজির হয়। রাজতন্ত্রে রাজার প্রতিপক্ষ জলদস্যু সর্দারেরা নিজেরাও ছিল রাজার মতো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ঔপনিবেশিক যুগে ছিল স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। জাতিরাষ্ট্রের যুগে আমরা দেখতে পাই বিদ্রোহী বাহিনীকে; যারা চায় পাল্টা জাতিরাষ্ট্র হয়ে উঠতে। আর এখন বিশ্বায়িত রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় গড়ে উঠেছে বিশ্বায়িত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক।
ফিলিপ ববিট বলছেন, এখনকার রাষ্ট্রগুলো হলো বাজার-রাষ্ট্র (মার্কেট স্টেট)। এই রাষ্ট্রগুলো গড়ে উঠেছে ব্যক্তির নিজস্ব চাহিদাকে রক্ষা করার কথা বলে। এই রাষ্ট্রগুলো যে রকম, এর বিরুদ্ধে লড়াইরত সন্ত্রাসী সংগঠনের কাজের ধরনও তেমনই। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তার শত্রু পরস্পরের আয়না, যদিও তাদের উদ্দেশ্যটা বিপরীত। আইএসও বাজার রাষ্ট্রের খোলাবাজারের মতো খোলা, তারও আছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক। তারাও বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মতো বিকেন্দ্রীভূত এবং প্রয়োজনীয় পণ্য ও জনবল বাইরে থেকে (আউটসোর্সিং) সংগ্রহে অভ্যস্ত। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সীমান্ত, ভূমি ও নেটওয়ার্কে আক্রমণ করলেই এরা ধ্বংস হবে না। এরা যেমন কোনো স্থানে দৃশ্যমান থেকে কাজ করতে পারে (যেমন ইরাক ও সিরিয়া), তেমনি প্রয়োজনমাফিক তরল হয়ে ছড়িয়েও পড়তে পারে। তারই প্রমাণ তারা রেখে যাচ্ছে প্যারিস, ইস্তাম্বুল, জাকার্তা, ঢাকাসহ বড় বড় নগরীতে। বর্তমানে ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্র হলো মেট্রোপলিটন নগরগুলো। সন্ত্রাসী হামলার নিশানাও তাই বড় বড় নগর। সীমান্ত রক্ষার চেয়ে নগরগুলোর নিরাপত্তা বাঁচানোই এখন হয়ে পড়েছে প্রধান নিরাপত্তা প্রশ্ন।
তারা আপনার ঘরের সন্তানদের তাদের সৈনিক বানাতে পারে। তাদের অস্ত্র তৈরি করে দিতে পারে অস্ত্র কোম্পানিগুলো। তারা বিক্রি করতে পারে তাদের দখল করা খনির তেল। আপনার শহরকে বানাতে পারে তাদের যুদ্ধের ময়দান। ফ্রান্সে যা দেখা গেল, সাধারণ একটি ট্রাককেও তারা করে তুলতে পারে গণবিধ্বংসী অস্ত্র। গণমাধ্যমগুলোকে তারা নিজেদের প্রচারেও ব্যবহার করতে পারে। তাদের হামলার সরাসরি সম্প্রচার যেন সন্ত্রাসবাদেরই বিজ্ঞাপন। তাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র, বাজার, অস্ত্র ব্যবসা এবং ভূরাজনীতির সমস্যা সমাধান না করে, সন্ত্রাসবাদমুক্ত পৃথিবী গড়ার চিন্তা না করাই ভালো। আইএস নিওলিবারেল তরিকায় সন্ত্রাসকেও প্রাইভেটাইজ করে নিতে পেরেছে। যেকোনো জায়গার যেকোনো নাগরিক হঠাৎ দূরনিয়ন্ত্রিত ডাকে জঙ্গি পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। গুলশান ঘটনায় যতটুকু জানা যাচ্ছে, তাতে একই সমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠা ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা’ জঙ্গির আবির্ভাব নিয়ে আর সন্দেহ থাকা উচিত নয়। এরা সামাজিক নেটওয়ার্কের চেয়ে ভার্চ্যুয়াল নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এভাবে বস্তুগত শক্তি থেকে তারা ধারণাগত শক্তির পর্যায়ে চলে গেছে।
তারা এটা করতে পেরেছে দেশে দেশে সামাজিক পর্যায়ে ঘৃণার বিস্তার ঘটিয়ে। এ ব্যাপারেও তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পাণ্ডুলিপিই মেনে চলছে। কীভাবে? পশ্চিমাদের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ প্রথমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে (আফগানিস্তান ও ইরাক) চললেও ক্রমেই তা পরিচয়ের সঙ্গে পরিচয়ে, সমাজের সঙ্গে সমাজের এবং সভ্যতার সঙ্গে সভ্যতার যুদ্ধের আদল নেয়। জর্জ বুশ ঘোষণা করেছিলেন, এই যুদ্ধ ‘ওদের’ বিরুদ্ধে ‘আমাদের’। বাড়ানো হয়েছিল মুসলিম সমাজ ও ব্যক্তির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ। মুসলিম মাত্রই সম্ভাব্য সন্ত্রাসী অথবা সন্ত্রাসের সমর্থক—এমন ধারণার পৃষ্ঠপোষকতাও করা হয়েছে। এর ফল হলো, যুদ্ধের ময়দান রাষ্ট্র-সীমান্ত থেকে সামাজিক সীমান্ত পর্যন্ত প্রসারিত করে দেওয়া। একই দেশের, একই জাতির, একই ধর্মের, একই সমাজের মানুষ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সমাজের মধ্যে আগে থেকে বিরাজ করা ফাটলগুলো পরিণত হচ্ছে হিংসার খাদে। সামাজিক ময়দানে চলা এই যুদ্ধ সমাজটাকেই ঘৃণায়িত ও আতঙ্কিত করে তুলছে। এভাবে সন্ত্রাসমূলক যুদ্ধ ক্রমেই সামাজিক যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে। এবং এর শিকার প্রধানত বেসামরিক সাধারণ মানুষ। শুধু এক ধরনের সন্ত্রাসই ঘটছে না; আমেরিকায় সাদা-কালোর হানাহানি, নরওয়ের ব্রেইভিকের মতো মুসলিমবিদ্বেষী সন্ত্রাসী হামলা কিংবা অতি সম্প্রতি ব্রিটেনে অভিবাসীবিরোধী সন্ত্রাসবাদীর হাতে ব্রিটিশ এমপি হত্যার ঘটনাও পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে বিভক্তি ও হিংসা ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ।
এভাবে সমাজ সমতল যেন মাইনফিল্ড হয়ে উঠছে। এই মাইনফিল্ডে কখন কোথায় চাপ পড়লে বিস্ফোরণ ঘটবে, তা আগাম জানার উপায় থাকে না। এ জন্যই বলা যে, ‘কখন কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তা কে ঘটাবে, তা জানতে রাষ্ট্রযন্ত্রের এখনো বাকি আছে।’ এই বিপদ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে সমাজে শান্তি ও সহনশীলতা আনতে হবে। আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া সেটা সম্ভব হওয়ার কথা নয়। সন্ত্রাস ও যুদ্ধের মোকাবিলা কেবল নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে করা যাবে না। যায়নি কোথাও। বলপ্রয়োগ আরও বলপ্রয়োগের রাস্তা খুলে দেয়। আজ ঘৃণাবাদীরা ধর্ম-পরিচয়কে সশস্ত্র ও তেজস্ক্রিয় করে তুলতে পারছে, তার কারণ পরিচয়ের সংঘাত আগে থেকেই ছিল। মানুষ শুধু অভাবে বদলে যায় না, মর্যাদাহীনতায়ও কেউ কেউ বিগড়ে যেতে পারে। গণতন্ত্র ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ও স্বার্থগুলোর মীমাংসায় আসার আর কোনো ভালো উপায় আমাদের হাতে নেই। গণতন্ত্র ছাড়া মীমাংসার উপায় হলো বলপ্রয়োগ—গায়ের জোর। রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ আর জঙ্গিবাদী বলপ্রয়োগ একে অপরের আয়না। কম বলপ্রয়োগ বেশি অংশীদারিই হলো গণতন্ত্রের প্রথম ধাপ। প্রথম ধাপটা থাকে মাটির ওপর। আপনি যদি প্রথম ধাপ মিস করেন, তার মানে আপনার পা আর মাটিতে নেই। গণতন্ত্রহীন জাতির হাত-পা বাঁধা থাকে, সন্ত্রাসের বিপক্ষে তারা কোনো বাধাই তৈরি করতে পারে না।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

চট্টগ্রামের ডরমিটরিটি চালু করুন

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ যৌথভাবে চট্টগ্রামে নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য যে ডরমিটরি নির্মাণ করেছে, আড়াই বছরেও তা চালু না হওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। একটা ভালো ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কেন যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। ৩৬ কাঠা জমির ওপর ছয়টি পাঁচতলা ভবন নিয়ে ডরমিটরিটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের সুফল যত তাড়াতাড়ি মেলে, ততই মঙ্গল। সাধারণ এই হিসাবটি তো বিবেচনায় থাকা উচিত। মোট ২৪৪টি কক্ষে তিন হাজার নারী শ্রমিকের থাকার এই ব্যবস্থাটি চালু হলে তৈরি পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকদের আবাসনের ক্ষেত্রে একটা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। বিজিএমইএ সব টাকা পরিশোধ করেনি বলে ডরমিটরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে ছিল—প্রকল্প পরিচালকের এই বক্তব্য সঠিক হলে বিষয়টি হতাশাব্যঞ্জক। তৈরি পোশাকশিল্প এ দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ শিল্প খাত; শ্রমিকদের স্বার্থে অর্থলগ্নির ক্ষেত্রে শিল্পমালিকদের অনুদার দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থনযোগ্য নয়।
অবশেষে বিজিএমইএ টাকা পরিশোধ করেছে এবং ডরমিটরির ভবনগুলো পোশাকশিল্প মালিকদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে; আগামী মাস থেকে ভবন হস্তান্তরের কাজও শুরু হতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে। এটা ভালো খবর। হস্তান্তর দ্রুত সম্পন্ন করে নারী শ্রমিকদের কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া শুরু করা হোক। এসব কক্ষে থাকার জন্য শ্রমিকদের ভাড়া পরিশোধ করতে হবে; ভাড়ার অঙ্ক যেন কম হয়, যাতে আবাসিক এই সুবিধা তাঁদের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়, যেন তাঁরা এর উপকার পান। এ ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়েছে সেসব নারী শ্রমিকদের জন্য, যাঁরা পরিবার থেকে দূরে থাকেন। কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার। একটি কমপ্লেক্সের মধ্যে একই সঙ্গে তিন হাজার নারী শ্রমিক বাস করবেন; এ ক্ষেত্রে ডরমিটরির সার্বিক সুব্যবস্থাপনা দরকার।

নাটকীয় অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অবসান

শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানো হয়। সেনাবাহিনী থেকে বের হয়ে আসা একাংশ এই অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। এ সময়ে কমপক্ষে দুই শতাধিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে। অভ্যুত্থানকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবন ও সংসদের দখল নেয়ার চেষ্টা করলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সরকার সমর্থক সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়। কেন এই অভ্যুত্থান, কি ঘটেছিল, কার নেপথ্যে এই অভ্যুত্থান, তুরস্ক এখন কার নেতৃত্বে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
তুরস্ক এখন কার নেতৃত্বে?
অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে ফার্স্ট আর্মির কমান্ডার জেনারেল উমিত দান্দারকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। জনগণের সহায়তায় দেশের পুলিশ আবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়। আটক করা হয় প্রায় তিন হাজার সেনা সদস্যকে। এছাড়া তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হালুসি আকারকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশ এখন পুরোপুরি এরদোগানের নিয়ন্ত্রণে বলে মনে হচ্ছে।
কি ঘটেছিল? :
শুক্রবার তুরস্কের আঙ্কারা শহরের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিমান ও বোমা হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। ইস্তাম্বুলের বসফরাস ব্রিজ আটকে বিদ্রোহী সেনা। রাতভর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। রাতেই তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্থণ করে। পরের দিন শনিবার সকালে আরও দুই শতাধিক সেনা আত্মসমর্থণ করে বলে খবর প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু। দেশ বাঁচাতে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর থেকে রাস্তায় নেমে আসে তুরস্কের সাধারণ জনগণ।
কার নেপথ্যে এই অভ্যুত্থান?
‘কাউন্সিল ফর পিস ইন দ্য হোমল্যান্ড’ নামে একটি গ্রুপ এক বিবৃতি দিয়ে মার্শাল ল ও কারর্ফিউ জারি করে তুরস্কে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাংবিধানিক আদেশ ও আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয় তারা। এর জন্য কোনো সেনা সদস্যের নাম ব্যবহার করেনি ওই বিদ্রোহী গ্রুপ। তবে এরদোগান তার ঘোরশত্রু ও এক সময়ের মিত্র মার্কিন সমর্থিত তুর্কি ইমাম ফেতুল্লাহ গুলেনকেই দোষারোপ করছেন। কারণ তার হিজমেত মুভমেন্ট তুরস্তের সেনা, মিডিয়া, পুলিশ ও বিচার বিভাগে শক্তপোক্ত অবস্থান গেড়ে বসে আছে বলে ধারণা প্রেসিডেন্টের। সেনা অভ্যুত্থান ঠেকাতে মধ্যরাতে ফজরের আজান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের হাজার হাজার সমর্থকের বিক্ষোভের মুখে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার তুরস্কের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য। সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু পুলিশ এবং জনগণের প্রতিরোধের মুখে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে ওই সেনা সদস্যরা। নিরস্ত্র জনতার বিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান থামাতে ইস্তাম্বুল, আংকারাসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশের মসজিদের মাইকে এদিন ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আজান দেয়া হয় এবং মানুষকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়। এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এলে অভ্যুত্থানকারীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। আল আরাবিয়া
জিম্মিদশা থেকে সেনাপ্রধান উদ্ধার, স্বপদে বহাল তুরস্কের সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে অভ্যুত্থানকারীদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আংকারার একটি বিমানঘাঁটি থেকে উদ্ধারের পর তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের টুইটার অ্যাকাউন্টে সেনাপ্রধানকে উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান। শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারী একটি অংশ হুলুসি আকারকে জিম্মি করেছিল। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, হুলুসি আকারকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’ দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। তুরস্কের জন্য নতুন সংবিধান রচনার কথাও জানায় বিদ্রোহী সেনারা। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। সে সময় তারা সেনাপ্রধানসহ বেশ ক’জন সরকারপন্থী সেনা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখে বলে প্রাথমিক খবরে জানানো হয়। শনিবার সকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান জানান, তিনি সেনাপ্রধানের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

তুরস্কে গণতন্ত্র বিজয়ী হয়েছে

১৫ জুলাই রাতে তুরস্কে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ দেশে সামরিক শাসন জারি করে নির্বাচিত সরকারকে হটাতে সচেষ্ট হয়। ক্যু’তে অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় ট্যাংক নামায়, নাগরিকদের ভীতি প্রদর্শন করে, হেলিকপ্টারও দেখায়। এতে তুরস্কের নির্বাচিত সরকার হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। দেশের তাবৎ রাজনৈতিক দল ও সামারিক বাহিনীর সিনিয়র পদের কমান্ডাররা সামরিক আইন জারির বিষয়টি মেনে নিতে অস্বীকার করেন। সমর্থন তো দূরের কথা, তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে ভিন্ন পথে সরানোর এ উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করে। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিজয়ী হয়েছে। ক্যু’তে অংশগ্রহণকারীরা এখন আত্মসমর্পণ করছে বিভিন্ন স্থানে। ট্যাংক থেকে নেমে তারা গণজোয়ারের মুখে কামানের অসহায় অবস্থা অবলোকন করছে। বস্তুত ট্যাংক ও ভারি যান ফেলে তারা এখন পলায়নরত। ক্যু-এর পরপরই রাষ্ট্রপতি এরদোগান নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
এরপর তার দলসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষ করে নেভি ও এয়ারফোর্সের সমর্থন নিশ্চিতের পর ইস্তান্বুলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। প্রত্যয়ের সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন- ক্যু’তে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র দলটিকে অবশ্যই এর দায়ভার নিতে হবে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি এরদোগান সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে রদবদল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা নিয়েছেন। নেভি ও এয়ারফোর্স ক্যু’তে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ট্যাংক হামলা ও গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। যে দেশটিতে সামরিক বাহিনী যা চাইতো তাই হয়ে যেত, সেই দেশে গণতান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে এরদোগান পরিস্থিতি অনেকটা সামলে উঠেছেন। অবশ্য তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বিদ্রোহী সেনারা এখনও কিছু কিছু স্থানে সরকার উৎখাতে সচেষ্ট আছে। তবে তা উল্লেখ করার মতো কিছু নয়।
বিশ্বের তাবৎ নেতা গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি সমর্থন ও ক্যু’তে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে তুরস্কের চিফ অব স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকবারকে ক্যুতে অংশগ্রহণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আংকারায় বিমানবাহিনীর একটি বেসে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্কের জেনারেল স্টাফ সদরেই কু’তে অংশগ্রহণকারী ও ক্যু-এর বিরুদ্ধবাদীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে জেনারেল স্টাফ সদর দফতর (যা তিন বাহিনীর প্রধানের সদর দফতর) সরকার সমর্থকদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, আংকারার তিন বাহিনীর প্রধানের সদর দফতর ছাড়াও আলাদাভাবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদর দফতর রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এ চারটি বড় দফতরই তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের অনুগত রয়েছে।
তুরস্কের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬০ জন মারা গেছে। হাজার খানেক মানুষকে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩০ জন সিনিয়র পদবির সামরিক বাহিনীর অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর অন্তরীণ করা হয়েছে ৭৫৪ জনকে। পেছনে তাকালে আমরা দেখতে পাব, তুরস্কের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতাসীন একেপি পার্টির দ্বন্দ্ব অনেকদিন ধরে চলে আসছিল। সামরিক বাহিনী আতাতুর্কের আদর্শ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও লুক-ওয়েস্ট নীতি বাস্তবায়নের কথা বলে ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত রাখার কথা বলেছে। এতে মতবিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের শক্তিধর সদস্য সিজিএস, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান- এই চারজন কামাল আতাতুর্কের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে একযোগে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তারা সামরিক শাসনের অকার্যকারিতা বুঝেই সসম্মানে নিরাপদে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন এরদোগান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আবদুল্লাহ গুল ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এরদোগান সে অবস্থা থেকে উত্তরণও ঘটিয়েছিলেন। এরপর তিন বাহিনীর পদোন্নতি ও উচ্চপদে নিয়োগ নিয়েও মতবিরোধ হয়েছিল।
এরদোগান তাও সামাল দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এরদোগান দেশের উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারেও সফল হয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতি এরদোগানের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিন্তু তাই বলে তার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তার জনপ্রিয়তা ও সর্বশেষ নির্বাচনেও তার দলের ওপর জনগণের আস্থা কম নয়। ১৫ জুলাই রাতের ক্যু’ ব্যর্থ হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে তুরস্কের সংবাদপত্রগুলো। এগুলো হল : ১. অল্পসংখ্যক সৈন্যের ক্যু’তে অংশগ্রহণ; ২. সিনিয়র কমান্ডারদের প্রকাশ্যে এ ক্যু’র বিরোধিতা এবং ৩. জনগণ এ ক্যু’র বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে এসেছে। ঢাকায় একটি রেস্তোরাঁয় ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে সন্ত্রাসীদের হামলা, ১৪ জুলাই ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গ পতনের স্মৃতিবিজড়িত অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ইত্যাদি মিলিয়ে এমনিতেই আমাদের মন খারাপ হয়ে আছে। এর মধ্যে তুরস্কের এ দুর্যোগ মোটেই কাম্য ছিল না। তবুও ভালো শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। হঠকারিতা পরাজিত হয়েছে। গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, পিএসসি (অব.) : তুরস্কে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সামরিক অ্যাটাসে
jahangir010754@gmail.com

ট্রাক রূপান্তরিত হল ভয়াবহ মারণাস্ত্রে

ঘাতক এই ট্রাকটিকে ব্যবহার করে অন্তত ৮৪ জনের প্রাণ
কেড়ে নিয়েছেন এক সন্দেহভাজন ইসলামী জঙ্গি -এএফপি
অভিনব উপায়ে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালানো হয়েছে ফ্রান্সের নিস শহরে। আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিবর্তে এবার আক্রমণ চালানো হয়েছে শুধুমাত্র জনস্রোতে ট্রাক চালিয়ে। সাধারণ যানবাহনকে রূপান্তরিত করা হয়েছে মানবঘাতী অস্ত্রে। ইরাকের মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক গবেষণাগার ব্যবহার করে অস্ত্রের প্রয়োগে অভিনবত্ব এনেছিল আইএস। এবার তারা অস্ত্র ছাড়াই বড় ধরনের নাশকতার ছক আঁটছে। বৃহস্পতিবারের রয়টার্সের প্রতিবেদনে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আইএস হয়তো এবার এভাবেই নানারকম অজানা উপায়ে ধ্বংসলীলা শুরু করবে। আসলেই আইএস কি হামলার কৌশল পাল্টাচ্ছে? প্যারিস, বেলজিয়াম, ইস্তাম্বুল, বাগদাদ এবং ঢাকার পর নিসের হামলা সন্ত্রাস-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ প্রশ্নকে জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশংকা, ক্রমেই আল কায়দার পথে হাঁটতে শুরু করেছে আইএস। নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থান হারানো শুরু করেছে তারা, তাই এবার শত্র“র ঘরে গিয়ে আক্রমণ চালানোর পথ বেছে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানাচ্ছে, কঠোর ইসলামিক অনুশাসনের মধ্য দিয়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করাই আইএসের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এ কারণে আল কায়দার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ছিলেন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি। কিন্তু ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস যতই কোণঠাসা হচ্ছে তারা ততই আল কায়দার পথে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু আল কায়দা যেমন সেল বা মডিউল তৈরি করে লক্ষ্যে আঘাত হানত, সে পথে যাচ্ছে না আইএস। বরং প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পশ্চিমা যুবক-যুবতীদের জঙ্গিবাদের দীক্ষা দেয়া হচ্ছে। আর তাদের দ্বারাই হামলা করিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এদের হামলার স্টাইলকে বলা হয় ‘লোন উলফ অ্যাটাক’। কিছুদিন আগেই ভারতে এভাবে আইএএস বা আইপিএস অফিসারদের ওপরে আক্রমণ চালানোর ডাক দিয়েছে আল কায়দা। হাতের কাছে যা মিলবে তা দিয়েই আক্রমণ চালাতে বলা হয়েছিল সেই বার্তায়। যদিও নিসের হামলার দায় এখনও স্বীকার করেনি আইএস। তবে টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিসের হামলার উদযাপন শুরু হয়ে গিয়েছে। ফ্রান্সের ‘কৃতকর্ম’ই যে ফ্রান্সকে এ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে, তা জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে ‘নিস অ্যাটাক হ্যাশ ট্যাগ’ তৈরি হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সেই হ্যাশ ট্যাগ বেশি বেশি করে ব্যবহার করতে সমমনাদের উৎসাহ দিচ্ছে আইএসের ডিজিটাল জঙ্গিরা। ইতিমধ্যে এ হামলার প্রশংসায় একাধিক পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে দিচ্ছে আইএসপন্থীরা। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, অস্ত্র ও গোলাবারুদে ভর্তি ট্রাকটি থেকে পাওয়া কাগজপত্র অনুসারে ট্রাকটির চালক নিসের স্থানীয় বাসিন্দা। জন্ম তিউনিশিয়ায় হলেও ফ্রান্সের নাগরিক। বয়স ৩১ বছর। আইএস জঙ্গিদের অনেকেই তিউনিশিয়ার বাসিন্দা। ফলে এ ঘটনার সঙ্গে আইএসের সম্পর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইএস অনেক ক্ষেত্রেই কাঠামোবহির্ভূত পথে নাশকতা চালায়। তাদের সংগঠন অনেক ছড়ানো-ছিটানো। তার মধ্যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জিহাদে দীক্ষিত হয়ে যারা আইএসের হয়ে হামলা চালানোর ছক কষে, তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া বেশ কঠিন। ফলে আগাম হামলা ঠেকানো খুব শক্ত। তার ওপরে এভাবে একটি হামলা সফল হলে অন্য জিহাদিদের মধ্যে এ ধরনের হামলা চালানোর উৎসাহ বাড়ে। এই ‘লোন উলফ অ্যাটাকই’ আগামীদিনে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

উৎসবের রাতে মৃত্যুর বিভীষিকা

হামলায় প্রিয়জন হারানো এক যুবক কান্নায় ভেঙে পড়েন -এএফপি
আনন্দের উৎসবে আতশবাজির ঝলমলে প্রদর্শনী, উচ্চলয়ের সঙ্গীত আর আনন্দমুখরতায় মেতে ছিল হাজার হাজার জনতা। হঠাৎ জনতার ভিড়ের মধ্যে ধেয়ে এল বিশাল এক সাদা ট্রাক। চাপা দিল ৮৪টি তাজা প্রাণ। নিমিষেই আনন্দের মধ্যে নেমে এলো বিভীষিকা। বাস্তিল উৎসব পরিণত হল মৃত্যুপুরীতে। ফ্রান্সের নিস শহরের ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বিখ্যাত প্রমেনাদে দেজ অ্যাংলেইস পরিণত হল আতংকের চত্বরে। শোকের মাতমে ছেয়ে গেল ফ্রান্সের আকাশ-বাতাস। বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের নিসনগরে বাস্তিল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আতশবাজির উৎসব চলাকালীন এক চালক একটি ভারি ট্রাক দ্রুতগতিতে জনতার ওপর তুলে দেয়। সাগর সৈকতের কাছে ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রের প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রাকটি টেনে নিয়ে যায় চালক। এতে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর এএফপির। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা সেই মুহূর্তের ছবি আর ভিডিওতে ফুটে উঠেছে হামলার ভয়াবহতা।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, ওই ট্রাক মানুষকে পিষতে পিষতে অগ্রসর হচ্ছিল, চারদিকে ছিটকে পড়ছিল মানুষ। এ হামলা যখন ঘটে হাজার হাজার নারী- পুরুষ ও শিশু তখন সঙ্গীতমুখর পামগাছে শোভিত চত্বর ধরে হাঁটছিলেন বিখ্যাত নেগ্রেসকো হোটেলের দিকে। ইউটিউবে আসা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ২৫ টনি ওই ট্রাক হামলে পড়ার পর বাদ্য-বাজনা ছাপিয়ে পুরো এলাকা ভরে ওঠে আতংকিত মানুষের চিৎকার; সাহায্যের আশায় দিগি¦দিক ছুটতে শুরু করেন সবাই। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি ফ্রান্স ইনফোকে বলেন, তিনি গুলির শব্দও শুনেছেন। প্রথমে আতশবাজির শব্দ মনে করলেও পরে তীব্র আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তিনিও অন্যদের মতো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে থাকেন। স্থানীয় বিএফএম টিভিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সবাই চিৎকার করছিল আর বলছিল হামলা হয়েছে। আমরা গুলির শব্দও শুনি। তবে ভেবেছিলাম, সেগুলো আতশবাজির শব্দ। স্থানীয় আরেকজন জানান, হঠাৎ ট্রাকের গতি কমে আসে।
পরে বুঝলাম পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। সাড়ে তিন লাখ অধিবাসীর শহর নিস পর্যটন ও জাঁকজমকপূর্ণ রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত। গতবছর ইসলামিক স্টেটের হামলার পর ফ্রান্সের দিবস ও বড় জমায়েতগুলোতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। তবে নিসের ওই চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছু সময় শিথিল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘বাস্তিল দিবস’ কী? : ‘বাস্তিল ডে’ বা ফ্রান্সের জাতীয় উৎসবের দিনে দেশটির নিস শহরে এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ট্রাক হামলা চালায়। এতে অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উৎসব পালনের জন্য নারী-শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসেন ঠিক তখনই বিশালাকার একটি লরি নিয়ে রাস্তায় এসব মানুষকে পিষে মারে। এটি কার্যত ফরাসিদের স্বাধীনতা দিবস। এটি ‘বাস্তিল উৎসব’ হিসেবে পরিচিত। ফরাসিদের কাছে এটি ‘লা ফিতি ন্যাশনালী’ উৎসব নামেই বেশি পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এটি ‘লে কুয়াতার্জি জুইলেট’ (ফরাসি ভাষায় ১৪ই জুলাই) নামে পরিচিত।
১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে। এ দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছরের ওই দিনে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এটি উদযাপিত হয়। বাস্তিল দুর্গ ছিল স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন ও জুলুমের প্রতীক। এরপর থেকেই ফরাসিরা এই দিনটিকে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ১৭৯০ সালে প্রথম ‘বাস্তিল ডে’ উদযাপন করা হয়। এ দিন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির সম্মুখে প্যারিসের শজেলিজে এভিনিউতে দেশটির বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ, সাধারণ সৈন্যদের কুচকাওয়াজ, সাঁজোয়া গাড়ির বহর ইত্যাদি চলতে থাকে। ওপরে আকাশে চলে বিমান। সম্প্রতি ফ্রান্সের মিত্র দেশের সৈন্যরাও এই কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পান। এই দিন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি সাধারণত দেশের অবস্থা সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার দেন এবং ছোটখাটো অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা রেন।
হামলার পর আইএস সমর্থকদের উল্লাস
ফ্রান্সের ট্রাক হামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করেছে আইএস সমর্থকরা। ঐতিহাসিক বাস্তিল দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী নিস শহরে এক আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর ট্রাক চালিয়ে এ হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। খবর ডেইলি মেইলের। এই হামলায় উল্লাস প্রকাশ করে এক আইএস সমর্থক টুইট করেছে, ‘ফ্রান্সের নিস শহরে নিহত ক্রুসেডার ও অবিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।’ এসব আইএস সর্মথক ফ্রান্সবিরোধী ছবি ব্যবহার করে টুইটারে হ্যাশট্যাগ দিচ্ছে। এ ছাড়া ফ্রান্সকে হুশিয়ারি করে তারা ‘নিস অ্যাটক’ হ্যশট্যাগও ব্যবহার করছে। এ ঘটনার দায় আইএস স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচ। তবে ওই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী।

পঞ্চম উইকেটে মিসবাহ-শফিক শীর্ষ জুটি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের প্রথমদিন ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন মিসবাহ। আসাদ শফিক করেন ৭৩। পঞ্চম উইকেটে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন দু’জন। এ ইনিংসেই রান ও সেঞ্চুরি সংখ্যায় দু’জনের জুটি উঠে গেছে টেস্ট ইতিহাসের শীর্ষে। পঞ্চম উইকেটে এটি দু’জনের সপ্তম সেঞ্চুরি জুটি। এ জুটির মোট রান এক হাজার ৭২৩। দু’জন ছাড়িয়েছেন স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিং জুটিকে। পঞ্চম উইকেটে এই অস্ট্রেলিয়ান জুটি ছয় সেঞ্চুরিতে তুলেছিল এক হাজার ৬৪৯ রান। ওয়াহ-পন্টিং অবশ্য ইনিংস খেলেছিলেন মাত্র ২৩টি, জুটির গড় ৭৪.৯৫।
মিসবাহ-শফিক জুটি খেলেছে ৩৩ ইনিংস, গড় ৫৩.৮৪। সেঞ্চুরি জুটির তালিকার তিন নম্বরে আছেন আসাদ শফিক। ইউনুস খানের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে মাত্র ১২ ইনিংসে গড়েছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি জুটি। পঞ্চম উইকেটে পাঁচটি সেঞ্চুরি জুটি আছে মাইকেল ক্লার্ক-মাইক হাসি, মাইকেল ক্লার্ক-মার্কাস নর্থ, রাহুল দ্রাবিড়-ভিভিএস লক্ষ্মণ ও শচীন টেন্ডুলকার-ভিভিএস লক্ষ্মণ জুটিরও। তালিকার প্রথমদিকে শফিকের নাম দু’বার থাকাও প্রমাণ করে তার ধারাবাহিকতা। পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং অর্ডারের ছয় নম্বরে আস্থার প্রতিশব্দ তিনি। ছয় নম্বরে আটটি শতক করে আগেই ছুঁয়েছেন স্যার গ্যারি সোবার্সের রেকর্ড। ওয়েবসাইট।

সানিয়া মির্জার প্রেমিক হতে চান শাহরুখ খান

ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার প্রেমিক হওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। সম্প্রতি সানিয়া মির্জার ওপর তার বাবার লেখা জীবনী গ্রন্থ ‘এইচ এগেইনস্ট ওডস’ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ভারতের হায়দরাবাদে। সেখানে অতিথি হিসেবে হাজির হন কিং খান। এ অনুষ্ঠানে নিজের ইচ্ছের কথা জানান তিনি। বলিউডে এখন চলছে অহরহ বায়োগ্রাফিক্যাল সিনেমা নির্মাণ। তার মধ্যে খেলোয়াড়ের জীবনীনির্ভর সিনেমা বেশি হচ্ছে। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘মেরিকম’ কিংবা সর্বশেষ ‘সুলতান’-এর মতো সিনেমাগুলো বক্স অফিস চাঙ্গা রেখেছে।
এজন্যই সানিয়া মির্জার জীবনী নিয়েও সিনেমা নির্মাণের কথা ভাবছেন শাহরুখ। তাই বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সানিয়াকে উদ্দেশ্য করে শাহরুখ বলেন, কখনও যদি সানিয়ার জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি হয়, সেটাতে সানিয়া কি তাকে (শাহরুখ) প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেবেন? তবে এ কথার কোনো উত্তর দেননি সানিয়া। হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন বিষয়টি। প্রসঙ্গত বর্তমানে বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন শাহরুখ খান। আগামী বছরের জানুয়ারিতে মুক্তির প্রতীক্ষায় আছে তার আলোচিত ছবি ‘রইস’। এছাড়া গৌরি সিন্ধের ছবিতে আলিয়া ভাটের বিপরীতে ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ এবং ইমতিয়াজ আলির একটি ছবির শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে তার।