Thursday, May 22, 2014

ফেনীতে বর্বরতা: গডফাদার কে?

অশান্ত আর আতঙ্কের জনপদ এখন ফেনী। উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হকের নির্মম হত্যার প্রতিবাদে ফুলগাজীতে পালিত হচ্ছে হরতাল। বর্বর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুখর জনতা। গুলি করার পর আগুন দিয়ে হত্যা- এ বর্বরতা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ফেনীর মানুষের মুখে মুখে খলনায়কের নাম। যদিও মামলা হয়েছে বিএনপির এক নেতাসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়–শিক্ষকের আর্তনাদ by মইনুল ইসলাম

বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিং প্রতিযোগিতায় সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম অবস্থানে যৌথভাবে যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে, তার মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে অন্যতম৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল আমার মেয়ে সিফাত শারমীন মইন, ২০১২ সালের ‘ফল সেমিস্টারে’৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতাও একটা বিশ্ববিস্তৃত মেধার প্রতিযোগিতা৷ ওই প্রতিযোগিতায় সে জয়ী হতে পেরেছিল জিআরই পরীক্ষায় তার অসাধারণ স্কোরের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগে তার ভালো ফলের বিবেচনায়৷

সমস্যা প্রিলিমিনারি নয় by আলী ইমাম মজুমদার

সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবরে জানা গেল, বিসিএসের প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার বিষয়ে কর্মকমিশনের প্রস্তাবটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের ধরনেও পরিবর্তন আনার বিষয় বিবেচনাধীন রয়েছে। নৈর্ব্যক্তিকের পাশাপাশি লেখার ক্ষমতা যাচাইয়ের চিন্তাভাবনা চলছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৩৪তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৪৬ হাজারের বেশি প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অবকাঠামো, মূল্যায়ন ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এ কারণে কর্মকমিশন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষাকে তাদের মতে আরও যুগোপযোগী করে আরও কম প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় আনতে চাইছে। প্রায় অর্ধলক্ষ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার যেসব অসুবিধা কমিশন উল্লেখ করেছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার তেমন কোনো সুযোগ নেই। তবে ভিন্নমত থাকে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ করার পদ্ধতি নিয়ে।

কালোটাকা সম্পর্কে শ্বেতপত্র চাই by আসজাদুল কিবরিয়া

বাজেট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কালোটাকা নিয়ে তর্কবিতর্কও জোরালো হয়ে উঠেছে৷ কয়েক বছর ধরেই এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে৷ বাজেটের মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিটি যেমন জোরেশোরে উঠেছে, তেমনি এ সুযোগ যেন দেওয়া না-দেওয়ার আহ্বানও বেশ প্রবল৷ অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিক প্রাক্-বাজেট আলোচনায় স্পষ্ট করেই বলেছেন, কলোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ আর বাজেটে দেওয়া হবে না৷ অর্থমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার জন্য যে আইনি সুযোগ এখন আছে, তা বহাল থাকবে৷ অর্থাৎ নতুন করে বা বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না৷

মোদির বিজয়ে ভারত কী হারাল? by উইলিয়াম ডালরিম্পল

মোদি একজন শক্তিমান বক্তা৷ গত কয়েক মাসে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছেন, এমনকি তিনি পূজনীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন৷ হিন্দু জাতীয়তাবাদে যাঁরা বিশ্বাস করেন না, তাঁরাও মোদির প্রশংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন৷ কারণ হচ্ছে, তাঁর কর্মসূচিতে ভারতের ৩০০ মিলিয়ন মধ্যবিত্ত মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে৷ তা হলো দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন৷ তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের অর্থনীতি ২০০১ সালের পর আকারে তিন গুণ বেড়েছে৷ সে কারণেই ২০০১ সালের পর থেকে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অপরিসীম৷ কাজ করিয়ে নিতে ও বিনিয়োগ আনতে তিনি পারঙ্গম৷ দুর্নীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা তাঁর আছে, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে পারেন তিনি৷ অচল ও ঝামেলাপূর্ণ নিয়মকে ঝেড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন তিনি৷ ভারতের মানুষ আরও পাঁচ বছর কংগ্রেস শাসনে থাকতে চায় না কেন, সেটা সহজেই বোঝা যায়৷ কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিষয়ে মোদির অবস্থান ও পুরোনো রেকর্ড জানার পরও মানুষ তাঁকে নিয়ে এত উচ্ছ্বসিত কেন, তা বোঝা অতটা সহজ নয়৷

মোদি পর্বের শুরু ও শেখ হাসিনার আগাম বার্তা by মহিউদ্দিন আহমদ

ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনা আর পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। দলটির অন্যতম প্রধান নেতা নরেন্দ্র মোদিই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন৷

‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়’ by সৈয়দ আবুল মকসুদ

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ কোথায় দঁাড়িয়ে? ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধুর শেষ ও চাবি-বাক্যটি ছিল: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতাঁর সংগ্রাম’। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতাঁ অর্জিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৪৩ বছর আগে। বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিল স্বাধীনতাঁ ও মুক্তি—দুটির একটি নয়। মুক্তি বাদ দিয়ে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাঁ তো নয়ই। আমার বয়সী লোকদের জিজ্ঞেস করলে আবোলতাঁবোল কথা বলবে, ৪৩ বছরের কম বয়স্ক কোনো মানুষকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে কি না, পেলেও কতটা পেয়েছে৷
যেকোনো কারণেই হোক, একাত্তরে কোনো রকম ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি, বর্তমান সরকারের এমন একজন বলিষ্ঠ নেতাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ৭ মার্চের ভাষণে জোরটা ছিল কোন শব্দটির ওপর—স্বাধীনতাঁ না মুক্তির? বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির রেকর্ড তিনি বিভিন্ন দিবসে বহুবার শুনেছেন। তাঁই বললাম, স্বাধীনতাঁ শব্দটি তিনি একবার উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু মুক্তি শব্দটি কি তিনি মাত্র একবারই বলেছেন? মাথা চুলকে তিনি বললেন, বোধ হয় একবারই।

ভারতে সাধারণ মানুষের উত্থান by এম সাখাওয়াত হোসেন

ভারতের ১৬তম লোকসভার নির্বাচনী ফলাফল আমরা জেনে গেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী বলে বিবেচিত ভারতীয় জনতাঁ পার্টি বা বিজেপির যে বিজয় হবে, তাঁ একপ্রকার দেয়ালেই অঙ্কিত ছিল। তবে প্রশ্ন ছিল, বিজেপি কি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাঁ পাবে, না বিগত তিন দশকের ভারতীয় রাজনীতিতে চলে আসা কোয়ালিশন সরকার হবে৷ সম্ভবত বিজেপিও বিশ্বাস করেনি যে দলটি নিজের শক্তিতেই সরকার গঠনের মতো ক্ষমতাঁ অর্জন করবে। যে কারণে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বিজেপি তথা এনডিএ জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির অতীত নিয়ে িতর্যক মন্তব্য করলেও মোদি ইট খেয়ে পাটকেলটি মারেননি।

শিল্পের বিকাশে চাই শ্রমিকের আস্থা by ওয়াজেদুল ইসলাম খান

মহান মে দিবস শ্রমিকশ্রেণীর জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ থেকে ১২৭ বছর আগে খোদ মার্কিন মুলুকের হে মার্কেটে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকশ্রেণীর যে বিজয় হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় শ্রমঘণ্টা আট ঘণ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর বিশ্বব্যাপী শ্রমিকেরা এই দিনটিকে বিজয়, উৎসব ও অনুপ্রেরণার দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। কিন্তু বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আজ এক ভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, বিশেষ করে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে ধস নামার ফলে বিশ্ব পুঁজিবাদের আগ্রাসী ভূমিকায় পৃথিবীব্যাপী শ্রমিকশ্রেণী আক্রমণের সম্মুখীন। এদিন এখন আবার সংগ্রামের দিবসে পরিণত হয়েছে।

আফগানিস্তান হতে যাচ্ছে নাইজেরিয়া by লিন্ডসে জার্মান

ঘটনাটা অবিশ্বাস্য। উত্তর নাইজেরিয়ার একটি বিদ্যালয় থেকে ২০০ ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেল সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম। তারপর তারা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় হুমকি দিল, এই মেয়েদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হবে। অবিশ্বাসটা আরও জোরদার হলো এর পরের ঘটনায়৷ রাতারাতি উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় আরও আটজন মেয়েকে অপহরণ করল এই বোকো হারাম। এই ঘটনা সবাইকে বেশ নাড়া দেয়৷ সবার মনে তা এক জঘন্য ঘৃণার ভাব সৃষ্টি করেছে, শুধু স্বাধীনতা হারানোর বিপদের কারণে নয়, এই মেয়েগুলোর পরিণতির কথা ভেবে৷ এদের নিশ্চিতভাবে জোর করে বিয়ে দেওয়া হবে বা দাস্যবৃত্তিতে বাধ্য করা হবে, শিক্ষা আর তাদের ভাগ্যে জুটবে না।

সন্তানদের তমসাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ by হারুনর রশীদ খান

শিক্ষাব্যবস্থায় নানামুখী নৈরাজ্যের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, এমনকি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএস পরীক্ষাও প্রশ্ন ফাঁসের আওতামুক্ত নয়৷ সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়–শিক্ষকের আর্তনাদ

বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিং প্রতিযোগিতায় সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম অবস্থানে যৌথভাবে যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে, তার মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে অন্যতম৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল আমার মেয়ে সিফাত শারমীন মইন, ২০১২ সালের ‘ফল সেমিস্টারে’৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতাও একটা বিশ্ববিস্তৃত মেধার প্রতিযোগিতা৷
ওই প্রতিযোগিতায় সে জয়ী হতে পেরেছিল জিআরই পরীক্ষায় তার অসাধারণ স্কোরের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগে তার ভালো ফলের বিবেচনায়৷ n২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সে সাফল্যের সঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায় তার ডিগ্রির সনদটা ২০১৪ সালের ১৮ মে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ‘গ্র্যাজুয়েট কমেন্সমেন্ট’ অনুষ্ঠানে প্রদানের জন্য এবং ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য যেন তার মা-বাবাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ উভয় আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সুবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রে হাজির হয়েছি গ্র্যাজুয়েট কমেন্সমেন্টে অংশগ্রহণের জন্য৷ এখন সে একটি টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের অধীনে পিএইচডি প্রোগ্রামস শুরু করতে যাচ্ছে৷ ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুরূপ একটি টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের অধীনে প্রথমে কানাডায় মাস্টার্স করতে এসেছিলাম আমি এবং ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম শুরু করে ১৯৮১ সালের এপ্রিলে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে যাই৷ কলামের এই অংশটুকু ব্যক্তিগত হলেও মূল বক্তব্য আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে ক্রমেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অসহায় শিকারে পরিণত করার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের আর্তনাদকে ঘিরেই৷ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অতীতের মতো এখনো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মেধার প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে অন্যান্য দেশের মেধাবীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে৷ এটা দেখে যেমন গর্বে বুক ভরে যায়, কিন্তু তার পাশাপাশি যখন ইন্টারনেটের বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলোয় খবর পাই যে কী এক তুচ্ছ দলীয় কোন্দলের কারণে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসকে অচল করে রেখেছে ৭ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত, তখন আর্তনাদ করে উঠি, আল্লাহ, এসব মাস্তানের কবল থেকে তুমি আমাদের কবে নিষ্কৃতি দেবে?
ছাত্রলীগ তো এখন আইয়ুব-মোনেমের এনএসএফ থেকেও ভয়ংকর এক মাস্তান বাহিনীতে পরিণত হয়েছে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ আর ১৮ মে যখন খবর শুনলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্রলীগের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে, তখন এই আর্তনাদটা পুরো জাতিকে শোনানোর জন্য লিখতে শুরু করলাম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মিনতি জানিয়ে, আপনি এই পদ গ্রহণ করবেন না৷ ছাত্রলীগের মাস্তানেরা আপনার ক্ষমতার মেয়াদ কতটুকু বাড়াতে পারবে তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে, কিন্তু তারা যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ ১৯৭৩ সালের ১ আগস্ট আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবনের শুরু, আগামী ৩১ জুলাই আমার ৪১ বছরের শিক্ষকতার মেয়াদ সম্পূর্ণ হবে৷ ২০১৫ সালের ৩০ জুন আমার অবসর গ্রহণের তারিখ৷ ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম৷ মেধাবী ছাত্র হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে আমার ভর্তি পরীক্ষাও দিতে হয়নি৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ওই যুগসন্ধিক্ষণে ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ১৯৬৭-৭১ পর্বের ঢাকার সব আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি৷ ‘স্বাধীনতা নিউক্লিয়াসের’ সদস্য হওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছে৷ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল আইয়ুব-মোনেমের এনএসএফের মাসলম্যানরা৷ তদানীন্তন জিন্নাহ হলে (বর্তমান সূর্য সেন হল) কয়েকজন মাসলম্যানের ডাবল কাপ খাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে ১৯৬৮ সালে তাদের নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলাম৷ ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আইয়ুব খান উৎখাত হওয়ার পর তারা আবার আমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল৷ ১৯৬৯-৭১ মার্চ পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল সবচেয়ে সন্ত্রাসমুক্ত ও পরমতসহিষ্ণু৷ সংগ্রামমুখর ওই বছরগুলোতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে জীবনটা দারুণভাবে উপভোগ করেছি আমি৷
স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রলীগের বিভক্তির পথ ধরে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ফিরে এসেছিল ১৯৭২ সালেই, তারপর ক্রমেই তা বাড়তে বাড়তে ডাকসুর ব্যালট ছিনতাই ও সাত খুনের ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল৷ ১৯৭২ সালে ওই রকম এক সন্ত্রাসী আক্রমণের সময় হলের ছাদের পানির ট্যাংকের তলায় লুকিয়ে ছিলাম কয়েকজন৷ ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার পর সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াটা আমার কাছে অনৈতিক মনে হয়েছে৷ ব্যাপারটাকে এখনো আমি অনৈতিক মনে করি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নানা নির্বাচনে আমি বহুবার অংশগ্রহণ করেছি, নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছি৷ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে সারা দেশের শিক্ষকদের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে৷ তা সত্ত্বেও সরাসরি রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান এতটুকুও বদলায়নি; যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষকদের রাজনৈতিক দল করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার চোখের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেখেছি৷ ৩৪ বছর ধরে এই ক্যাম্পাস ছাত্রসংগঠনগুলোর খুনোখুনি, মারামারি ও সন্ত্রাসের লীলাভূমি হিসেবে অপব্যবহৃত হয়ে চলেছে৷ অবস্থানগত কারণে অতি সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অচল করে দেওয়া যায়৷ ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ব্যাচটিই প্রথম সেশন-বিলম্বের শিকার হয়েছিল দেড় বছরের৷ যৌক্তিক কারণেই তা মেনে নিতে হয়েছিল সবাইকে৷ কিন্তু ১৯৭৩ সাল থেকে রাজনৈতিক হানাহানি ও সংঘাতের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার কারণে দফায় দফায় অচলাবস্থা ও অনির্দিষ্ট বন্ধের করালগ্রাসে নিপতিত হয়ে নব্বই দশকের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেশন-বিলম্ব বাড়তে বাড়তে সাড়ে তিন বছরে পৌঁছে গিয়েছিল৷ আমার ছেলে মুনতাসীর মইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ের অনার্স কোর্স যখন চার বছরের জায়গায় সাত বছরে শেষ করেছিল, তখন অভিভাবক হিসেবে তীব্র মর্মবেদনা আমাকে চরমভাবে আহত করেছিল৷ তারপর অনেক সংস্কার এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠাবান প্রয়াসের ফলে গত দুই দশকে ওই সেশন-বিলম্বকে আমরা দেড় বছরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি৷ কিন্তু সংঘাত-হানাহানি কমানোর কোনো প্রতিষেধক স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছর পরও আমরা আজও বের করতে পারলাম না৷ এ দুঃখ কোথায় রাখি! দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও খুনোখুনি আমার আজকের আলোচনার বিষয় নয়৷ আমি আজ ফরিয়াদ জানাচ্ছি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক দলের পেটোয়া ক্যাডার পোষা ও অপব্যবহারের ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা’ চিরতরে পরিত্যাগের জন্য৷
দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিবাদী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের কীভাবে একটা পুরোদস্তুর ‘সিভিল আর্মি’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশের উচ্চশিক্ষার, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার, এমনকি মাধ্যমিক স্কুলের ক্যাম্পাসগুলোকে ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে, তা ৩৪ বছর ধরে দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে৷ তারা যে একদিন রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাবে, সে সাবধানবাণীও সবার আগে আমিই উচ্চারণ করেছি এবং এখনো বারবার জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি৷ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় বেরোনোর পর থেকে শুরু হওয়া জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র তাণ্ডব ও তাদের কথিত গৃহযুদ্ধের এক বছরের লোমহর্ষক স্মৃতি জাতি নিশ্চয়ই এত তাড়াতাড়ি ভুলে যায়নি৷ তারা এখন নীরবে আবারও শক্তি সঞ্চয় করছে আরেকটি মারণাঘাত হানার জন্য, এ ব্যাপারেও আমি নিঃসন্দেহ৷ কিন্তু তার পরও বলব ছাত্রলীগের মাস্তান-ক্যাডার দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে মোকাবিলা করার চিন্তা একটি ভুল কৌশল৷ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চলমান বিচারকার্যক্রম বিলম্বিত করার বিষয়টাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না৷ জামায়াত-শিবিরের মতো একটি স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসবাদী দল ও সংগঠনের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না৷ জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে কোনো গোপন চাণক্যনীতি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না৷ এই অপশক্তিকে নিষিদ্ধ করতে কালক্ষেপণও একটা ভ্রান্ত কৌশল বলে আমার ধারণা৷ এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে৷ আজ আমি শুধু দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্লায় যাওয়ার প্রক্রিয়াটি থামানোর আরজি জানাতে চাচ্ছি৷ দেশের আনাচকানাচে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মহাযজ্ঞ সোৎসাহে এগিয়ে চলেছে শিক্ষার বাজারীকরণের ঝান্ডা উড়িয়ে৷ সেগুলোতে চার বছরের ডিগ্রি চার বছরেই ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা চালু থাকবে আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রসংগঠনগুলোর মাস্তান-ক্যাডারদের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ধঁুকে ধুঁকে মরণাপন্ন দশায় উপনীত হবে, এটার বিরুদ্ধেই আমার প্রতিবাদ৷ দেশের ধনাঢ্য মা-বাবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাজার নিশ্চয়ই ভালো আয়োজনের পসরা সাজাবে৷ ওই ব্যাপারে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই৷ অজস্র প্রস্তাব পেয়েও আমি কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দিন পড়াইনি, শিক্ষার এহেন বাণিজ্যিকীকরণ মেনে নিতে পারিনি বলে৷ শিক্ষাকে বাজারের পণ্য করে তা নিয়ে যে মুনাফাবাজির লোভনীয় মাতামাতি প্রত্যক্ষ করে চলেছি, সেটা আমার বিবেককে সারাক্ষণই আহত করে চলেছে৷ আমার একটাই আরজি, ছাত্ররাজনীতিকে মূল রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির নিগড় থেকে নিষ্কৃতি দিন৷ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লাঠিয়াল পালনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অপসংস্কৃতি লালনে এবার ক্ষান্ত দিন৷
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি৷

কালোটাকা সম্পর্কে শ্বেতপত্র চাই

বাজেট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কালোটাকা নিয়ে তর্কবিতর্কও জোরালো হয়ে উঠেছে৷ কয়েক বছর ধরেই এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে৷ বাজেটের মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিটি যেমন জোরেশোরে উঠেছে, তেমনি এ সুযোগ যেন দেওয়া না-দেওয়ার আহ্বানও বেশ প্রবল৷ অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিক প্রাক্-বাজেট আলোচনায় স্পষ্ট করেই বলেছেন, কলোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ আর বাজেটে দেওয়া হবে না৷ অর্থমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার জন্য যে আইনি সুযোগ এখন আছে, তা বহাল থাকবে৷ অর্থাৎ নতুন করে বা বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না৷ তাঁর এ কথার পর কালোটাকা নিয়ে আলাপচারিতা স্তিমিত হয়ে যাওয়া উচিত থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি৷ আসলে আগামী ৫ জুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না যে অর্থমন্ত্রী তাঁর এ কথায় কতটা অনড় থাকবেন৷ কেননা, বিগত বছরগুলোয় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে একবার এক কথা, আরেকবার আরেক কথা বলে বিভ্রান্তি তৈির করেছেন৷ জোর দিয়ে বলার পরও স্থির বা অবিচল থাকতে পারেননি, এমন ঘটনাও বিরল নয়৷ তা ছাড়া কালোটাকা নিয়ে অর্থমন্ত্রী তথা সরকারের ধারণাগত অস্পষ্টতা রয়েছে৷ একইভাবে ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, যাঁরা কালোটাকা সাদা করার দাবি জানাচ্ছেন—এ নিয়ে তাঁদের ধারণাও স্পষ্ট নয়৷ এমনকি যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কালোটাকা সাদা করাকে অনৈতিক ও অসংগত বলে এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের কাছেও এ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে বলে প্রতীয়মান হয়৷ সহজভাবে বললে, যে আয়-উপার্জনের অর্থ থেকে প্রযোজ্য আয়কর প্রদান করা হয় না বা যে অর্থ আয়কর ফাঁকি দিয়ে গচ্ছিত রাখা হয়, সেটাই হলো কালোটাকা৷ এ আয় বৈধ উৎস থেকেও হতে পারে, অবৈধ উৎস থেকেও হতে পারে৷
চোরাকারবারি বা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ অবশ্য কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই অর্জিত হয়৷ কাজেই এগুলো যে গোপন করা হবে, সেটাই স্বাভাবিক৷ অন্যদিকে বৈধ আয়ের (যেমন চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে আয়) কোনো অংশ বা পুরোটার ওপর যদি আয়কর দেওয়া না হয়, তাহলে সেটাও কালোটাকা হয়ে যায়৷ তবে একে ‘অপ্রদর্শিত বৈধ আয়’ হিসেবে গণ্য করা হয় এ বিবেচনায় যে এর উৎস আইনগতভাবে স্বীকৃত বা বৈধ কর্মকাণ্ড৷ সে ক্ষেত্রে অবশ্য একটা নৈতিক প্রশ্ন ওঠে যে বৈধ আয় কেন গোপন করা হবে বা কেন এ আয়ের ওপর কর দেওয়া হবে না৷ সাধারণত কর প্রদানে জটিলতা বা আয়কর বিষয়ে অসচেতনতায় অনিচ্ছাকৃতভাবে অথবা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবেই এ আয় গোপন করা হয়৷ তাহলে এ কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় কোথায় গচ্ছিত রাখা হয়? নিশ্চয়ই কেউ ঘরে তোশকের নিচে কালোটাকা লুকিয়ে রাখবেন না যেমনটা রেখেছিলেন বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা, যা কিনা ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ধরা পড়ে ও দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়৷ গুটি কয়েক মানুষ যদি সিন্দুকের ভেতর লাখ লাখ বা কোটি কোটি টাকা রেখেও দেন, তার পরও বাস্তবতা হলো স্বাভাবিকভাবেই কোনো মানুষ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিজের ঘরে রাখবেন না৷ কাজেই কালোটাকার মালিকেরা বা অপ্রদর্শিত আয়ধারীরা তাঁদের অর্থ আর্থিক সম্পদ বা অন্য কোনো সম্পদের আকারে রেখে থাকেন, যেমনটা অন্যরা রাখেন৷ কাজেই এসব কালোটাকা হয় দেশের ভেতরে শেয়ারে বা বন্ডে বিনিয়োগ করা হবে, অথবা এ অর্থ দিয়ে জমি-বাড়ি এবং সোনা-গয়না কিনে রাখা হবে, এমনকি ডলার কিনেও রাখা হতে পারে৷ আর যাঁরা দেশে রাখতে আগ্রহী নন, তাঁরা নানা কৌশলে তা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেবেন৷ বাস্তবে তা হচ্ছেও বটে৷ মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় সে দেশে নিয়ে বাড়ি কেনা কিংবা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করে অভিবাসী নাগরিক হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটছে এ অর্থ পাচারের মাধ্যমেই৷ মোদ্দাকথা হলো, কালোটাকা আসলে দেশে বা বিদেশে ইতিমধ্যে িবনিয়োগ করাই আছে৷
এমনকি ব্যাংকে ভিন্ন নামে আমানত হিসেবে গচ্ছিত আছে৷ কালোটাকা গচ্ছিত থাকার এ বিষয় দেশের দুই অর্থনীতিবিদ এম এ তসলিম ও আহসান এইচ মনসুর ২০০৮ সালেই তাঁদের এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন৷ কালোটাকার ধরন ও গচ্ছিত থাকার পদ্ধতির এ পরিপ্রেক্ষিতেই আসলে কালোটাকা সাদা করার যৌক্তিকতা বিবেচনা করা উচিত৷ যেহেতু ইতিমধ্যেই দেশে গচ্ছিত কালোটাকা কোনো না কোনো রূপে বিনিয়োগ করা আছে, তাই নতুনভাবে আবার কোনো কোনো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে বাস্তবে বিনিয়োগ এক খাত থেকে আরেক খাতে স্থানান্তর হবে মাত্র৷ অন্যদিকে যাঁরা বিদেশে অর্থ সরিয়ে নিয়ে গেছেন নিরাপত্তার জন্য, তাঁরা সেই নিরাপদ জায়গা ছেড়ে দেশে কেন তা বিনিয়োগের জন্য ফিরিয়ে আনবেন, সেটাও বোঝা মুশকিল৷ তা ছাড়া দুই বছর আগেই আয়কর অধ্যাদেশে ১৯ই ধারা সংযোজন করে স্থায়ীভাবে অপ্রদর্শিত আয় বা কর অনারোপিত আয় স্বেচ্ছায় ঘোষণা দিয়ে প্রদর্শনের বা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ এর ফলে কোনো কারণে কোনো করদাতা যদি অতীতে তাঁর বৈধ আয় কম প্রদর্শন করে থাকেন বা কোনো কারণে প্রাপ্ত অর্থসম্পদ বিবরণী প্রদর্শন না করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সেই আয় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় প্রদর্শন করতে পারবেন৷ এ জন্য শুধু প্রদেয় করের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হয়৷ এতে কর বিভাগ কোনো প্রশ্ন করবে না৷ আবার চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে বর্গমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ তাহলে দেখা যাচ্ছে, নতুনভাবে বা বাড়তি কোনো উপায়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই, দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতাও নেই৷ অর্থমন্ত্রী সম্ভবত সেই বিবেচনা থেকেই আর কোনো সুযোগ না দেওয়ার কথা বলেছেন৷ তবে বিদ্যমান আইনি সুযোগ বহাল রাখার কথাও বলেছেন৷ তবে এটাও সত্যি যে দেশে প্রতিবছরই কালোটাকা বাড়ছে৷ তাই পাচারও হচ্ছে৷
ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল িফন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যানুসারে, ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা গোপনে বাইরে চলে গেছে৷ পরবর্তী বছরগুলোয় এ ধারা যে অব্যাহত আছে ও থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই৷ আর এখানেই চলে আসে সরকারের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জের বিষয়৷ সেটি হলো টাকা পাচার নিয়ন্ত্রণ করা৷ শুধু মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন িদয়ে এ অর্থ পাচার বা স্থানান্তর ঠেকানো যাবে না৷ এর জন্য বরং দেশের ভেতরেই এমন কিছু সুযোগ তৈরি করতে ও ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন এসব অর্থ পুরোটা না হলেও বেশির ভাগটাই দেশে থাকে৷ আর দেশে টাকা গচ্ছিত রাখার প্রকৃষ্ট উপায় হলো ব্যাংকব্যবস্থা৷ ব্যাংকে যে অর্থ গচ্ছিত থাকে ও ব্যাংকের মাধ্যমে যে অর্থ লেনদেন হয়, তা আসলে আর কালোটাকা থাকে না, থাকতে পারে না৷ কাজেই সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে৷ পাশাপাশি কালোটাকা সৃষ্টি হওয়ার উৎস ও সুযোগগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে৷ অর্থ পাচার হওয়ার চেয়ে অর্থ দেশে থাকা অধিকতর ভালো৷ nসর্বোপরি কালোটাকার বিষয়ে সরকারের তথা রাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন৷ আর সেই অবস্থান জনগণের সামনেও প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন৷ এ জন্য অর্থমন্ত্রীর উচিত হবে কালোটাকার বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, যেমনটি ভারত সরকার করেছিল ২০১২ সালে৷ এ শ্বেতপত্রে কালোটাকার সংজ্ঞা ও পরিধি নির্ধারণ, কালোটাকা সৃষ্টির উৎস ও উপায়সমূহ, কালোটাকার পরিমাণ, দেশ থেকে টাকা পাচারের প্রবণতা, কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কালোটাকা নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান বিধিবিধান সন্নিবেশিত হবে৷ একইভাবে উল্লেখ করতে হবে আগামী দিনগুলোয় সরকারের এ বিষয়ে সম্ভাব্য করণীয় কী৷ কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় নিয়ে বিভ্রান্তি মোচনের জন্য এ শ্বেতপত্র এখন সময়ের দাবি৷
আসজাদুল কিবরিয়া: সাংবাদিক৷
asjadulk@gmail.com

বিজেপি নেতার মামলায় কারাগারে কেজরিওয়াল

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার এক দিন পর গতকাল বুধবার আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ বিজেপি নেতা নিতিন গড়কারির দায়ের করা মানহানির মামলায় গতকালই তাঁকে তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷ ওই মামলায় তিনি জামিনের আবেদন করতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন৷ কাল শুক্রবার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁকে তিহার কারাগারে কাটাতে হতে পারে৷ খবর এনডিটিভির, হিন্দুস্তান টাইমসের৷ এর আগে গতকাল কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তাড়াহুড়ো করে পদত্যাগ করায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান৷ সেই সঙ্গে তিনি এই রাজ্যে অাগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান৷ গত ডিসেম্বরে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর আলোচনায় আসেন কেজরিওয়াল এবং এএপি৷ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে তিনি নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষে উত্তর প্রদেশের বারানসিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যান৷ গ্রেপ্তারের আগে কেজরিওয়াল আদালতে বলেছিলেন, নিতিনের মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তিনি এতে জামিনের আবেদন করবেন না৷ জামিনের জন্য ১০ হাজার রুপিও জামানত দেবেন না৷
আদালত কেজরিওয়ালের কাছে জানতে চান, একটি দলের প্রধান হিসেবে তিনি আদালতের কাছে বিশেষ কোনো সুবিধা আশা করেন কি না৷ জবাবে তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমি জামিনের জন্য কোনো জামানত দেব না৷’ এ সময় আদালত বলেন, ‘আপনি এএপির মতো একটি দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন৷ আমরা আপনার থেকে একজন আম আদমির (সাধারণ জনতা) মতো আচরণ আশা করি৷ অন্যদের জন্য যেভাবে হয়, আপনি বিচারপ্রক্রিয়া সেভাবে চলতে দিন৷ আপনার কি জামানত দিতে সমস্যা আছে?’ জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি৷ এটি একটি রাজনৈতিক মামলা৷ আমি কোনো অপরাধ করিনি যে জামানত দেব৷ আমি কারাগারে যেতে প্রস্তুত৷’ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণাকালে কেজরিওয়াল বিজেপির সাবেক সভাপতি গড়কারিকে একজন ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে অভিযোগ তোলেন৷ ওই মামলায় এর আগে তাঁকে আদালত তলব করেছিলেন৷ এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘পদত্যাগ করায় অনেকেই আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন৷ তাঁরা আমাদের ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিলেন৷ এ ভুলের জন্য আমি গোটা জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি৷’ কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে এখানে আবার এএপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে সরকার গঠনের কোনো সুযোগ না থাকায় আমরা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে এগোব৷ জনগণের মনোভাব যাচাইয়ে অামরা দিল্লিজুড়ে ঘুরে বেড়াব৷’

নাইজেরিয়ায় গাড়িবোমায় ১১৮ জন নিহত

নাইজেরিয়ার জোস শহরে মঙ্গলবার বোমা হামলার
পর রাস্তার পাশের দোকানিরা তাঁদের পণ্য কুড়িয়ে
নিচ্ছেন৷ অন্যদিকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে
ব্যস্ত উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় জোস শহরে একটি বিপণিবিতান এলাকায় গত মঙ্গলবার জোড়া গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের হাতে অপহৃত দুই শতাধিক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল৷ খবর এএফপি ও আল-জাজিরার৷ নাইজিরয়ার প্রেসিডেন্ট জোনাথন গুডলাক বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটা ‘মানুষের স্বাধীনতার ওপর একটা করুণ হামলা’৷ তাঁর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট সব নাইজেরীয়কে আশ্বস্ত করছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷’ তবে মঙ্গলবাবের এই জোড়া গাড়িবোমা হামলা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে সরকারের সামর্থ্যকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে৷ বোকো হারামের জঙ্গিদের হাতে দুই শতাধিক স্কুলছাত্রী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট জোনাথনের পদত্যাগের দাবি উঠেছে৷
গত ১৪ এপ্রিল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শিবক থেকে অপহৃত ওই ছাত্রীদের উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন৷ সমন্বিত হামলা: নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (এনইএমএ) সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, মধ্যাঞ্চলীয় প্লেটিউ প্রদেশের রাজধানী জোস শহরের নিউ আবুজা মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরিত বোমার তীব্রতা ছিল খুবই বেশি৷ বিস্ফোরণে আশেপাশের ভবনগুলো ধসে পড়েছে৷ তিনি বলেন, ‘১১৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আহত হয়েছে ৫৬ জন৷ ধ্বংসস্তুপে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে৷’ অবশ্য প্লেটিউ প্রদেশের পুলিশ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে৷ তাদের হিসাবে মোট ৪৬ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছে৷ নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় একটি ট্রাক ও একটি মিনিবাস ব্যবহার করা হয়েছে৷ মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হামলা হয়৷ এর আগে রোববার নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কানো শহরে আরেকটি বোমা হামলা চালানো হয়৷ এসব হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ অবশ্য রোববারের হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ৷ তবে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি৷ প্লেটিউ প্রদেশটি নাইজেরিয়ার কথিত ‘মিডল বেল্ট’ এলাকার মধ্যে পড়ে৷ দেশটির খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত দক্ষিণ ও মুসলিম-অধ্যুষিত উত্তর এলাকার মাঝামাঝি এই এলাকার অবস্থান৷

মোদির পদত্যাগ, গুজরাটের নতুন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন

আনন্দিবেন প্যাটেল
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে গতকাল বুধবার সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি৷ এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে তাঁর ১৩ বছরের শাসনের ইতি ঘটল৷ মোদির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর সরকারের রাজস্বমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল৷ খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের৷পদত্যাগ করার আগে মোদি গতকাল গুজরাট বিধানসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের শেষ অধিবেশনে অংশ নেন৷ সাদা কুর্তা পরিহিত মোদি পদত্যাগের আগে বিধানসভার অধিবেশনে ভাষণ দেন৷ তিনি বলেন, ‘লোকজন গুজরাট মডেল নিয়ে কৌতূহলী৷ আসলে গুজরাট মডেল হচ্ছে, বিরোধীদের আস্থায় আনা৷’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব আমার প্রশংসা করছে৷ কিন্তু এখানে প্রশংসিত হওয়ার নিজেরই একটা সৌন্দর্য রয়েছে৷’মোদির স্থলাভিষিক্ত হওয়া ৭২ বছর বয়সী আনন্দিবেন প্যাটেল গুজরাটের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি মোদির পুরোপুরি আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত৷ এমনকি মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই তাঁর পাশে রয়েছেন আনন্দিবেন৷ নব্বইয়ের দশকে রাজ্যের অন্য নেতাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে মোদিকে যখন স্থানীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা নির্বাসিত হতে হয়েছিল, তখনো তাঁর পাশে ছিলেন আনন্দিবেন৷

মোবারকের তিন বছর কারাদণ্ড

হোসনি মোবারক
মিসরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কায়রোর একটি আদালত৷ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের দায়ে গতকাল বুধবার তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়৷ খবর এএফপি ও রয়টার্সের৷ আদালতের বিচারক ওসামা শাহিন বলেন, ‘আদালত মোহাম্মদ হোসনি মোবারককে তিন বছরের জন্য হাজতবাসে পাঠানোর আদেশ দিচ্ছেন৷’ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মোবারক৷ ছিলেন ছেলেরাও৷ একই মামলায় মোবারকের ছেলেদের চার বছর করে সাজা হয়েছে৷
আদালত কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি মোবারক ও তাঁর ছেলেদের ২৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেন৷ পাশাপাশি আত্মসাৎ করা ১২ কোটি ৫০ লাখ মিসরীয় পাউন্ড ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এর আগে ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ২০১২ সালে মোবারকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল৷ অবশ্য, একটি আদালত পরে ওই রায় পাল্টে দেন৷ সিসির কাছে আবেদন: সম্প্রতি গণবিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাঁচাতে তাঁদের স্বজনেরা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন৷ তাঁরা বলেছেন, সিসি ন্যায়বিচারের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রমাণ দেখাতে হবে৷ মিনায়া প্রদেশে একজন পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি পৃথক রায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বাদিসহ এক হাজার ২১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়৷ ওই গণমৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়৷