Wednesday, December 11, 2024

চরম শত্রুকে এবার পরম মিত্র বানাতে চায় রাশিয়া

নিজেদের স্বার্থেই একসময়কার শত্রুকে বহু আগেই মিত্রতে পরিণত করেছে রাশিয়া। এবার যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে সেই শত্রুকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিতে চলছেন পুতিন। মনে করা হচ্ছে এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই চাপে পড়বে মার্কিন প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রুশ সংসদের আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে একটি আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এতে মস্কোর সন্ত্রাসী তালিকা থেকে গোষ্ঠীটিকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ ডুমাতে এ-সংক্রান্ত আইন পাসের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই গোষ্ঠীটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে চীন ও রাশিয়া। এমনকি তাদের সঙ্গে নিয়মিত বাণিজ্যও করে যাচ্ছে বেইজিং ও মস্কো। গত জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তালেবানকে মিত্র বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বর্তমানে নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে আফগানিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা করতে চাইলেও দেশটিতে রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে রাশিয়ার। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে হামলা চালায় তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী। সে সময় মার্কিন সমর্থনপুষ্ঠ তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেন। এ যুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার সোভিয়েত সেনার মৃত্যু হয়। 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রতীকী মিত্র গোষ্ঠী। ছবি : সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রতীকী মিত্র গোষ্ঠী। ছবি : সংগৃহীত

আটক বাংলাদেশিদের ছবি প্রকাশ করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড

ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক বাংলাদেশি ৭৮ নাবিকসহ দুটি ট্রলারের ছবি প্রকাশ হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও এক্স হ্যান্ডলে ৩টি ছবি প্রকাশ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড’ পেজের এক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘ভারতীয় সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণের অভিযোগে এক অভিযানে দুটি ট্রলারসহ ৭৮ নাবিককে আটক করা হয়েছে। নাবিকসহ ট্রলার দুটি প্যারা দ্বীপের কাছে নেওয়া হয়েছে।’

পোস্ট করা ছবির একটিতে দেখা যায়, আটক ট্রলারের নাবিকরা নৌযানের ডেকের ওপর মাথার পেছনে হাত রেখে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। ভারতীয় কোস্ট গার্ডরা নাবিকদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।

অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, সাগরে বাংলাদেশের দুটি ট্রলার চলছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এফবি মেঘনা-৫ ও এফবি লায়লা-২ নামের দুটি ট্রলার ভারতীয় কোস্ট গার্ড আটক করে।

সিঅ্যান্ডএফ অ্যাগ্রো লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সুমন সেন গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার সকালে ট্রলার দুটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার এক নটিক্যাল মাইল ভেতরে মাছ ধরছিল। এ সময় ভারতীয় কোস্ট গার্ড ট্রলার দুটি আটক করে নিয়ে যায়। এখন যেহেতু ভারতীয় কোস্ট গার্ড আটক করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ায় যেন তাদের উদ্ধার করা যায়, সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানিয়েছি আমরা।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, মৎস্য আহরণের কাজে ট্রলার দুটি আমাদের সমুদ্রসীমার কাছেই নিয়োজিত ছিল। সেখান থেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ড নিয়ে যায়। ঘটনার পর বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডসহ সরকারি সংস্থাগুলো ভারতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অস্ত্রের মুখে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের। পেছনে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত
অস্ত্রের মুখে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের। পেছনে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত

আদালতে হাজিরা দিলেন নেতানিয়াহু, দাঁড়াতে হলো বিচারের কাঠগড়ায়

দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে প্রথমবারের মতো কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এসব মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার। খবর সিবিএস নিউজের।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে এসব মামলা করা হয়। জেরুজালেম জেলা আদালতে বিচার শুরু হয় পরের বছর। তবে নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এবারই প্রথমবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে উঠলেন নেতানিয়াহু। তিনি তারা বিরুদ্ধে আনা কেস ১০০০, কেস ২০০০, এবং কেস ৪০০০ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন। এসব মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘুষ, প্রতারণা এবং আস্থার লঙ্ঘন।

কেস ১০০০ : গিফটস অ্যাফেয়ার এই মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আস্থা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এবং তার স্ত্রী সারা দুই ধনী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন। বিনিময়ে তিনি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সহায়তা করেছেন। উপহারগুলোর মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ শেকেল (১৮৬,০০০ ডলার)।

কেস ২০০০ : মিডিয়া চুক্তি এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সংবাদপত্র ‘ইডিয়থ আহরনথের’ মালিক অ্যারন মোজেসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। এতে নেতানিয়াহুর পক্ষে ভালো কভারেজের বিনিময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা ইসরায়েল হায়োমের প্রচার সীমিত করার জন্য আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা ছিল।

কেস ৪০০০ : টেলিকম দুর্নীতি এই মামলায় বলা হয়েছে যে, নেতানিয়াহু টেলিকম কোম্পানি বেজেককে বিলিয়ন ডলারের নিয়ন্ত্রক সুবিধা দিয়েছেন। বিনিময়ে, বেজেকের মালিক শাওল এলোভিচ নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রীর পক্ষে অনুকূল সংবাদ প্রচার করেছেন। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম আরও আগে শুরু হলেও গাজা যুদ্ধ এটিকে পাবলিক এজেন্ডা থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এরআগে নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী সরকার আদালতের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিল পাশের চেষ্টা চালিয়েছিল। নেতানিয়াহুর এই প্রচেষ্টা ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন।

নেতানিয়াহু অবশ্য এটাকে বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং তার বিচারের সাথে এর কোনো যোগসূত্র নেই ছিলনা বলে দাবি করেন। তবে অনেকে মনে করেন, আদালতের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নেতানিয়াহু তার নিজের বিরুদ্ধে মামলাগুলো থেকে দায়মুক্তি নিয়ে নিতেন।

নেতানিয়াহু বলে আসছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও মিডিয়ার দ্বারা পরিচালিত একটি ষড়যন্ত্র। তবে এ মামলাগুলো নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আদালতের রায় তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুম্বইয়ে: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর গাড়িতে ধাক্কা মারলো বাস, নিহত ৬

একাধিক পথচারী এবং পরপর গাড়িতে ধাক্কা বেপরোয়া সরকারি বাসের। ঘটনায় মৃত্যু ছয় জনের। জখম হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ জন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে, মুম্বইয়ের কুর্লা এলাকায়।  বাসটি ছিল বৃহানমুম্বই ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই বোর্ডের। আন্ধেরি থেকে কুরলার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  রাত পৌনে ১০টা নাগাদ বৃহন্মুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই এবং পরিবহণ বিভাগের ৩৩২ নম্বর রুটের বাস কুর্লা স্টেশন থেকে আন্ধেরির দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দেয়। একই সঙ্গে পরপর গাড়িতেও ধাক্কা মারে বাসটি। তারপর একটি আবাসনের বাউন্ডারি ওয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উলটে যায়। ঘটনার জেরে এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তের পরে বৃহন্মুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই এবং পরিবহণ বিভাগের অফিসারদের একাংশ জানান, ব্রেক ফেল করায় দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই ঘটনা দেখে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে একটি ফরেনসিক টিম দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জোন ৫-এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার গণেশ গাওড়ে বলেন, ‘কুর্লায় পৌঁছনোর পরই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নিয়ন্ত্রণহীন বাসের নীচে চাপা পড়ার হাত থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পথচারীদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই বাস চালককে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কীভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে কান্নিস ফাতিমা আনসারি, শিভম কাশ্যপ, আফরিন আবদুল সালিম শাহ এবং আনম শেখের দেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। জখমদের নিকটবর্তী ভাবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতের সংখ্যা ৪৯। এদিকে আজ  সকালে  সাড়ে ৭টা নাগাদ গুজরাটের জুনাগড়ে দুটি চার চাকার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। তার মধ্যে চার জন কলেজ পড়ুয়া। বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি গাড়ি ডিভাইডার টপকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটো দিক থেকে আসা একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। জুনাগড়-ভেরাবল হাইওয়ের উপর ভান্দুরি গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী কন্যাদের কথা শুনলেন প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। সেই উত্তাল ও বিভীষিকাময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ‘জুলাইয়ের কন্যারা... আমরা তোমাদের হারিয়ে যেতে দেব না’ শিরোনামে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সময়ের সাহসী নারীদের সাক্ষাতের এ আয়োজন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ সময় উপদেষ্টা নারী শিক্ষার্থীদের নিজেদের ও দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেন এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও নানা দাবির কথা শোনেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ অনেক উচ্ছ্বাসের দিন, ক্ষোভের দিন, ইমোশনের দিন। আজ সব একসঙ্গে প্রকাশ করার দিন। উচ্ছ্বাস আছে বলেই তো আমরা এখানে আছি। উচ্ছ্বাস-ক্ষোভ না থাকলে আমরা তো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারতাম না। এগুলো আছে থাকবে। যখনই দরকার, তখন প্রকাশ করব। যখন যেখানে যতটুকু দরকার, ততটুকু প্রকাশ করব। সেই শক্তি যেন আমাদের থাকে।

জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী নারীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ তোমাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, এটা আমার জন্য ঐতিহাসিক দিন। তোমরা বাংলাদেশকে আজ যে পর্যায়ে নিয়ে গেছ, সেটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এই ঐতিহাসিক ঘটনার যারা নায়িকা, তাদের আমি মনেপ্রাণে ধন্যবাদ জানাই।

জুলাই মাসে বাংলাদেশে যেটা হয়ে গেল, এটার নজির পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীতে বহু অভ্যুত্থান হয়েছে কিন্তু এটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। এটা ছিল তোমাদের নিজের হাতে গড়া একটা জিনিস। এখানে কোনো বড় নেতা এসে হুকুম দেয়নি। তোমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করেছ।

ড. ইউনূস বলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-কর্মজীবী মেয়ে এমনকি বাসায় থাকে; যে যেখানে থাকে, সেখান থেকে এসে এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে এবং সমানভাবে এগিয়ে এসেছে। এটা বাংলাদেশকে একেবারে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ফলে ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশ আর নেই। এটা নতুন বাংলাদেশ। নতুন এই বাংলাদেশ আমরা গড়ব। দেশ বদলানোর যে প্রতিজ্ঞা তোমরা নিয়েছ, সেটা ধরে রাখবা।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের কন্যাদের কীর্তিগাথা ও অবদানকে উপজীব্য করে ‘জুলাইয়ের কন্যারা... আমরা তোমাদের হারিয়ে যেতে দেব না’ শীর্ষক এ নারী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারীরাও আয়োজনে অংশ নেন। 

আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : কালবেলা
আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : কালবেলা

বিশৃঙ্খল বিধ্বস্ত সিরিয়ায় সুযোগ নিচ্ছে ইসরাইল

এমনিতেই যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়া। তার ওপর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ পালিয়ে রাশিয়া চলে যাওয়ার ফলে বিশৃঙ্খল এক অবস্থায় দেশটি। এমন সময় সিরিয়াকে পুনর্গঠনে যখন প্রতিবেশী সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত, ঠিক তখন তা না করে ইসরাইল মুহুর্মুহু বোমা হামলা করছে সেখানে। এখানেই থেমে নেই তারা। আসাদ পালিয়ে যাওয়ার দিনেই তারা গোলান মালভূমির বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে। এ জন্য অজুহাত দিতে হয়। তাই অজুহাত দাঁড় করেছে। বলেছে, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতেই তারা এ কাজ করেছে। এখানে স্মরণ করার বিষয় হলোÑ একই রকম কথা বলে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। সেখানে নিহতের সংখ্যা ৪৪ হাজার পেরিয়ে গেলেও তার সেই হামাস নিধন শেষ হয়নি! তেমনি সিরিয়া যখন বেসামাল অবস্থায়, তখন তিনি সুযোগ নিচ্ছেন। একদিকে দখল করছেন। অন্যদিকে বোমা হামলায় কাঁপিয়ে তুলছেন দামেস্ককে। অনলাইন বিবিসি বলেছে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে যখন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে তখন সোমবার দিবাগত রাতে শত শত বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এর এক হামলায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কামিশলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। গতকালও সেখানে মর্টার শেলের অবশিষ্টাংশ পড়ে ছিল। এসব শেল ওই বিমানবন্দরে ট্রাকগুলোকে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ আল বশিরকে। আগামী বছরের ১লা মার্চ পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বৃটেনভিত্তিক সিরিয়ার পর্যবেক্ষক মানবাধিকার সংস্থা এসওএইচআর বলছে, সিরিয়ার শতাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে তেল আবিব। এতে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত একটি গবেষণা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল জাজিরা বলছে, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক স্থাপনা। ২৫০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে কাতারভিত্তিক ওই গণমাধ্যম। বলা হয়েছে, ইসরাইলের বিমান বাহিনীর ইতিহাসে এটা সিরিয়ায় অন্যতম বড় হামলা। সিরিয়ায় ২৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ও দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইল বলছে, আসাদ সরকারের পতনের পর সেখানে ‘চরমপন্থিদের’ হাত থেকে অস্ত্র সরাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইরানের সহায়তায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাসায়নিক অস্ত্রাগার লক্ষ্যবস্তু করে তা ধ্বংস করে দিচ্ছে তেল আবিব।

সোমবার সিরিয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেখান থেকে আগামী দিনে ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। রাশিয়ার আহ্বানে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষার প্রয়োজনে কমবেশি ঐক্যবদ্ধ ছিল। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে নিরাপত্তা পরিষদ সব সময়ই ঐক্য বজায় রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এসওএইচআর জানিয়েছে, সিরিয়াতে কয়েকশ’ লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে ইরানি বিজ্ঞানীদের সহায়তায় গড়ে ওঠা অস্ত্রাগারগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করেছে তেল আবিব। রাসায়নিক অস্ত্রের সন্দেহজনক মজুত নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের রাসায়নিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার সময় এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আগে অস্থায়ীভাবে গোলান মালভূমির বাফার জোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইসরাইল। ১৯৭৪ সালে সিরিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তাতে সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পতন হয়েছে বলে ঘোষণা দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) গোলান মালভূমিতে নিজেদের অধিকৃত অংশ থেকে বাফার জোন এবং এর আশপাশের এলাকায় প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেছেন, শত্রু বাহিনীকে নিজেদের সীমান্তে প্রতিষ্ঠিত হতে দেবে না ইসরাইল। ওদিকে ইসরাইলকে হুঁশিয়ার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, সিরিয়াকে ভেঙে ফেলতে দেয়া হবে না। শনিবার বৃটেনভিত্তিক যুদ্ধ বিষয়ক একটি পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, কুনেইত্রা প্রদেশ থেকে সরে এসেছে সিরিয়ার সৈন্যরা। এই প্রদেশের একটি অংশ ওই বাফার জোনের অংশ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জোনের মধ্যে অবস্থিত পাঁচটি গ্রামের সিরীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে অবস্থান করার কথা জানিয়েছে আইডিএফ। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পাথুরে মালভূমি গোলান। অন্যদিকে সিরিয়ার সাধারণ মানুষের অবস্থা খুবই করুণ। সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেদারসেন সিরিয়ায় হামলাকে গভীর হতাশার বলে উল্লেখ করেন। দাবি তোলেন সিরিয়া ভূখণ্ডের ভেতরে বোমা হামলা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। 

mzamin

রাজ্যসভা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ভারতের বিরোধীদলীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’ রাজ্যসভার চেয়ারপারসন জগদীপ ধনকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে মঙ্গলবার সকালে। তাতে তারা অভিযোগ করেছে, পক্ষপাতিত্ব করে রাজ্যসভা পরিচালনা করছেন তিনি। এতে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেসের সদস্যরা, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি, তামিলনাড়ুর দ্রাভিদা মুন্নেত্রা কাজাগাম (এনডিএমকে) এবং লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের কমপক্ষে ৫০ জন এমপি। প্রস্তাবটি রাজ্যসভার সচিবালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তবে তা পাস হবে বলে মনে হয় না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জয়রাম রমেশ লিখেছেন, ইন্ডিয়া গ্রুপের সব দলের সামনে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ, তিনি কাউন্সিল অব স্টেট পরিচালনায় পক্ষপাতিত্ব করছেন। ইন্ডিয়া গ্রুপের দলগুলোর জন্য এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া খুবই বেদনার। কিন্তু পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের জন্য এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তৃণমূলের এমপি সাগরিকা ঘোষ তার বক্তব্যে আরও কড়াভাবে আঘাত করেছেন। সরকার পার্লামেন্টকে ‘হত্যা’ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, আমাদের অধিকারের জন্য পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য, আমরা অনাস্থা প্রস্তাবে আমাদের রেজ্যুলুশন দিয়েছি। কারণ, আমাদেরকে জনগণের ইস্যু তুলে ধরতে দেয়া হচ্ছিল না। এখন প্রশ্ন হলো এই প্রস্তাব কি সফল হবে? তৃণমূলের একটি সূত্র এনডিটিভিকে বলেছেন, রাজ্যসভায় এই প্রস্তাব উত্থাপনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বিরোধীদের। তবে তারা সফল হওয়ার চেয়ে নীতিগতভাবে কাজ করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী এই প্রস্তাব পাস করাতে হলে বা ধনকরকে সরাতে হলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাব পাস করাতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে শতকরা ৫০ ভাগ ভোট ও সঙ্গে আরও একজনের ভোট। রাজ্যসভায় এই ভোট হবে। যদি রাজ্যসভায় তা পাস হয়, তবেই তা একই নিয়মে লোকসভায় পাস হতে হবে। যেহেতু বিরোধীদের পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাই ধনকরকে পদ থেকে তারা সরাতে পারবেন বলে মনে হয় না। পার্লামেন্টে ভারতীয় জনতা পার্টির এমপি এবং বিরোধী দলের এমপিদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র বাদ-প্রতিবাদ হয়। এর মধ্যে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ব্যবসায়ী জর্জ সরোসের মধ্যে কথিত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য। এরপরই পার্লামেন্টে ওই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়া হয়। পরে এদিনের জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। বিজেপি’র এমপিরা তার বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, বিরোধীরা পার্লামেন্টকে কার্যকর করতে দিচ্ছে না। পাল্টা জবাবে বিরোধীরা বলেন, তাদেরকে পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করতে দেয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে আছে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের সাম্বলে জরিপ জয়। তা নিয়ে সহিংসতা অন্যতম ইস্যু। এ ছাড়া আছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ (এমএসপি) এবং তাদের প্রতিবাদ। কংগ্রেসের অন্যতম নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র বলেন- প্রতিদিন আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আলোচনা চায় না। এজন্যই যেকোনো কারণ সামনে এলেই তারা পার্লামেন্টকে মুলতবি করে দেয়। অন্যদিকে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ঘোষণা করেন যে, কংগ্রেস বাজে আচরণ করছে। তিনি জানতে চান- কেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে জর্জ সরোসের সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার করছে না তারা? তারা পার্লামেন্টকে চলতেও দিচ্ছে না।

সোমবার রাজ্যসভায় বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। ওইদিন সোনিয়া গান্ধী ও তার ছেলে রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা। তারা বলেন, ব্যবসায়ী জর্জ সরোসের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সম্পর্ক আছে। তবে কী ধরনের সম্পর্ক সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। আরও অভিযোগ করেন যে, জর্জ সরোসের ফাউন্ডেশনের অর্থে গড়ে তোলা হয়েছে কংগ্রেসের একটি দলীয় প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, জর্জ সরোসের এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছে। বিজেপি দাবি করে মিসেস সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এই ডেমোক্রেটিক নেতার সম্পর্ক আছে। বিজেপি’র জেপি নাড্ডা এই অভিযোগ করেন রাজ্যসভায়। তিনি আরও বলেন, তাদের এই সম্পর্ক ভারতের সম্মানহানি করছে। জাতীয় নিরাপত্তায় উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নিয়ে আলোচনা করতে চান নাড্ডা। কিন্তু তার এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জন খাড়গে। কিন্তু প্রতিপক্ষ এমপিদের চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে তাকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে হয়। অধিবেশন বেশ কয়েকবার মুলতবি করতে হয়। এই অবস্থায় চেয়ারম্যান যেভাবে রাজ্যসভা পরিচালনা করেছেন, তার ফলেই চেয়ারম্যান ধনকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে উৎসাহিত করে কংগ্রেস ও বিরোধীদের। মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, এই ইস্যুতে আলোচনার বিরুদ্ধে ১১টি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশ প্রত্যাখ্যান করে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে অনুমতি দিয়েছেন ধনকর। মল্লিকার্জুন খাড়গে জেপি নাড্ডার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজ্যসভার নেতা যা বলেছেন তা মিথ্যা। যে এমপি উপস্থিত নেই, তার সম্মানহানির জন্য এটা করা হয়েছে।  

এর আগে গত সপ্তাহে রাহুল গান্ধীকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে তার কড়া সমালোচনা করে বিজেপি। তার নাম জর্জ সরোস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এজেন্সিকে তারা ভারতকে অস্থিতিশীল করার ‘ত্রিভুজ’ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। উত্তর প্রদেশের সাম্বলে একটি মসজিদের বিষয়ে জরিপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের আদানি গ্রিন এনার্জির ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে আলোচনার ইস্যু উত্থাপন করার চেষ্টা করতেই বিজেপি এমন পাল্টা আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। ফরাসি একটি মিডিয়া কোম্পানি মিডিয়াপার্ট- একটি রিপোর্ট প্রকাশ করার পর এমনটা দেখা দেয়। তাতে বলা হয়, ওসিসিআরপি (অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপসন রিপোর্টিং প্রজেক্ট) এবং মার্কিন সরকারের মধ্যে এক গোপন সম্পর্ক আছে। বিজিপি এরপর অভিযোগ করে যে, জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ওসিসিআরপি ভারতকে টার্গেট করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারপর সেই রিপোর্টকে ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। তারা ক্ষমতাসীন দল, সরকার এবং ভারতীয় ব্যবসায়ী স্বার্থের সমালোচনা করছে। তবে বিজেপি’র এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। তারা বলেছে- আমরা দেশপ্রেমিক। 

mzamin

স্বাধীনতা কোনো ছেলের হাতের মোয়া নয় by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম

কখনো খুব একটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছিল না। মুসলমানের ছেলের হিন্দু মাস্টার, কতো বড় বড় মুসলমানের কায়কারবারে হিন্দু প্রধান। জন্ম আমার মুসলিম পরিবারে। কিন্তু গুরু আমার নিম্ন বর্ণের হিন্দু দুঃখীরাম রাজবংশী। তাই এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাইতে বৃহৎ দেশ হিসেবে ভারতকেই ভাবতে হবে, বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যদিও এখনকার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই ভালো করে চিনি না, জানি না। আমাদের সময়ের অনেকেই চলে গেছেন, অবসরে গেছেন। তবু দীর্ঘ সময় ভারতে থেকে ভারতের যে প্রাণ খুঁজে পেয়েছি তাতে এক সময় সত্যিকার অর্থেই দু’দেশের সম্পর্ক হবে দেশের জনগণের উপর ভিত্তি করে, কোনো ব্যক্তি বা দলের উপর নয়।

বাঙালি জাতির হাজার বছরের আরাধ্য স্বাধীনতার মাস ডিসেম্বর। প্রবল পরাক্রমশালী পৃথিবীর এক দারুণ শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলাম। ২৫শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়লে আমরা যেমন দিশাহারা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম, ’৭১- এর ডিসেম্বরের দিকে পাকিস্তানি হানাদাররা তেমন দিশাহারা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিল। ৬ই ডিসেম্বর ভুটান এবং ভারত আমাদের স্বীকৃতি দেয়। মহান ভারত বিরাট দেশ। তাদের স্বীকৃতি নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। কিন্তু সবার আগে ভুটান স্বীকৃতি দিয়েছিল। যদিও সেই ভারত নিয়ে, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিয়ে ইদানীং বড় টানাটানি। কোনোক্রমেই এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। রাজনৈতিক সখ্যতা বা দূরত্ব অনেক কিছুই থাকবে। কিন্তু তাই বলে এক দেশ আরেক দেশের সঙ্গে চরম শত্রুতা করবো, মর্যাদাহানি করবো- এটা হতে পারে না। কিন্তু আদতে তাই হচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে অনেক জায়গায় স্কুল- কলেজের সামনে ভারতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে। আবার এদিক থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধুয়ো তুলে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। সত্যিকার অর্থেই আমরা হাজার বছর একসঙ্গে বাস করছি- কখনো খুব একটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছিল না। মুসলমানের ছেলের হিন্দু মাস্টার, কতো বড় বড় মুসলমানের কায়কারবারে হিন্দু প্রধান। জন্ম আমার মুসলিম পরিবারে। কিন্তু গুরু আমার নিম্ন বর্ণের হিন্দু দুঃখীরাম রাজবংশী। তাই এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাইতে বৃহৎ দেশ হিসেবে ভারতকেই ভাবতে হবে, বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যদিও এখনকার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই ভালো করে চিনি না, জানি না। আমাদের সময়ের অনেকেই চলে গেছেন, অবসরে গেছেন। তবু দীর্ঘ সময় ভারতে থেকে ভারতের যে প্রাণ খুঁজে পেয়েছি তাতে এক সময় সত্যিকার অর্থেই দু’দেশের সম্পর্ক হবে দেশের জনগণের উপর ভিত্তি করে, কোনো ব্যক্তি বা দলের উপর নয়।

মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছিলাম। ৬ই ডিসেম্বর নিকরাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে এক বিশাল সভা হয়েছিল। যুদ্ধের মধ্যে ওরকম বিশাল ‘সভা’ একমাত্র সখিপুরের কচুয়ায় ৫ই আগস্ট হয়েছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় এমনিই টেকা যায় না, তার উপর সমাবেশ করা সাংঘাতিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। যেকোনো মুহূর্তে বিমান বাহিনী বোমা ফেলে তছনছ করে দিতে পারে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ৫ই আগস্ট সখিপুরের কচুয়ায় এবং ৬ই ডিসেম্বর কালিহাতীর নিকরাইলে কোনো আক্রমণ হয়নি। আকাশ পথে আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও জমিনে কিছুই করার সম্ভাবনা ছিল না। ডিসেম্বরের ১-২ তারিখ ভারত থেকে ক্যাপ্টেন পিটার নামে একজন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তা এসেছিলেন। আমার এখনো মনে হয় তার নাম পিটার নয়, সেটা ছিল ছদ্মনাম। আর তিনি ক্যাপ্টেনও ছিলেন না, তিনি ছিলেন মেজর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের অত গভীরে আর কোনো ভারতীয় কর্মকর্তা আসেনি। তিনি দু’টি মহান দায়িত্ব নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। তার একটি কাদেরিয়া বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন কোথাও নিরাপদে ছত্রীসেনা নামানো, অন্যটি যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে এয়ার সাপোর্ট দেয়া। ক্যাপ্টেন পিটার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের একমাত্র টাঙ্গাইলের পুংলী, চিনামুড়া, চমুড়া, সহদেবপুর, বানিরায় সফলভাবে ছত্রীসেনা নামানো হয়েছিল। মনে হয় পৃথিবীর ইতিহাসে অত নিরাপদে আর কোথাও ছত্রীসেনা অবতরণ করেনি। ১০ই ডিসেম্বর আমরা কালিদাসপাড়া সেতু দখল করে বানিয়াপাড়া সেতুতে আক্রমণ করেছিলাম এবং দুটো সেতুই ভেঙে দিয়েছিলাম। ঘাটাইল থানা আক্রমণ করা হয়েছিল ভোর ৪টার দিকে। ৬-৭টার মধ্যেই থানা মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। থানার মূল টিনের ঘর কমান্ডার আব্দুল হাকিম, বীরপ্রতিকের  ছোড়া থ্রি ইঞ্চ মর্টারের গোলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে হানাদাররা থানা ছেড়ে পালিয়ে ছিল। অন্যদিকে থানা দখল করে মেজর হাবিব, বীরবিক্রম তার কোম্পানি নিয়ে মধুপুরের দিকে এগিয়ে বানিয়াপাড়া সেতুর উত্তর অংশ ভেঙে দিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। ঘাটাইল থানা মুক্ত হওয়ার পর গোপালপুরের উপর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গোপালপুর থানা দখল করা যাচ্ছিল না। তাই আমরা এয়ার সাপোর্ট চেয়েছিলাম। সেই প্রথম মিত্র বাহিনীর কাদেরিয়া বাহিনীকে এয়ার সাপোর্ট দেয়া। বেলা দুই-আড়াইটার দিকে এমন নিখুঁত নিশানায় গোপালপুরে মিত্রবাহিনী বিমান হামলা করে যেটা অতুলনীয়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ এবং জামালপুর থেকে পালিয়ে আসা হানাদাররা বানিয়াপাড়া সেতুতে বাধা পায়। পাকিস্তান হানাদাররা পাগলপারা হয়ে তাদের সর্বশক্তি নিয়ে রাস্তা মুক্ত করার জন্য আঘাত হানে। ময়মনসিংহ এবং জামালপুর থেকে প্রায় দুই ব্রিগেড মনোবলহারা সৈন্য ঢাকার দিকে পিছিয়ে যাচ্ছিল। অত বড় একটা বাহিনীকে খুব ভালো প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি না করলে বা না করতে পারলে থামিয়ে রাখা যায় না। আমাদের উদ্দেশ্য অত বড় বাহিনীকে আটকে দেয়া ছিল না, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শত্রুকে পদে পদে বাধা দেয়া। মেজর হাবিব, বীরবিক্রম তার প্রতিরক্ষা তুলে নিলে পাকিস্তান হানাদাররা ভাঙা বানিয়াপাড়া সেতুতে কিছুটা মাটি ফেলে ঠিকঠাক করে পালিয়ে যাবার রাস্তা প্রশস্ত করে। এক্ষেত্রে আমাদের ছোট্ট একটা ভুল হানাদারদের কিছুটা সাহায্য করেছিল। আমাদের ভুলটা ছিল বানিয়াপাড়া সেতুর পাশে হাজার-বারো’শ মণ পাট ছিল। আমরা জ্বালিয়ে দিলে অথবা সরিয়ে ফেললে হানাদারদের পিছিয়ে যেতে আরও অনেক সময় লাগতো। সেতুর পাশে অত বিপুল পরিমাণ পাট থাকায় সেগুলো নিচে ফেলে তার উপর মাটি দিয়ে হানাদাররা সেদিন পিছিয়ে গিয়েছিল।

৩রা এপ্রিল ’৭১ সন্ধ্যার দিকে টাঙ্গাইলে হানাদার বাহিনী ঢুকেছিল। ২০শে এপ্রিলের পর তারা দারুণ প্রতাপে রাস্তার দুইপাশে কামান-বন্দুক চালিয়ে ঘর-দুয়ার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মধুপুর হয়ে ময়মনসিংহ, মধুপুর হয়ে জামালপুর। সেখান থেকে সীমান্তে গিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদারদের জন্য ডিসেম্বরে ঢাকা ফেরা ছিল দারুণ বিপদের। অসহায় বাঙালি রিফিউজিরা যতটা কষ্ট করে সীমান্তে গিয়েছিল, তার চাইতে অনেক বেশি অসহায়ের মতো পাকিস্তান হানাদাররা লেজ গুটিয়ে ঢাকার পথে ফিরছিল। এতকিছুর পরও তাদের অনেকেরই সেদিন প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারেনি। তারা কেউ কেউ ধরা পড়েছে, কেউ কেউ রাস্তায় রাস্তায় জীবন দিয়েছে। ১০ই ডিসেম্বর সকাল থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল আমাদের অনুকূলে। সকালে আমরা ঘাটাইল থানা দখল করে নিলেও দুপুরে ময়মনসিংহ-জামালপুর থেকে পিছিয়ে আসা হানাদার বাহিনীর হাতে চলে গিয়েছিল। কারণ ঘাটাইল থানা একেবারে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রাস্তার গা-ঘেঁষে। তাই তখন আর আমাদের থানা দখল রাখা সম্ভব ছিল না। থানা থেকে সরে এসে মিত্র বাহিনীর কাছে বিমান সহায়তা চাইলে তখন তারা নিখুঁত নিশানায় বিমান সহায়তা করলে বিকাল ৫টার দিকে ঘাটাইল- গোপালপুর-মধুপুর-ধনবাড়ি মুক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে ১০ তারিখ ৪টার পর প্রায় ঘণ্টা জুড়ে ছত্রীসেনা অবতরণ করে। ১০ তারিখ রাতের মধ্যেই প্রায় এক হাজার হানাদার কাদেরিয়া বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। অন্যদিকে অবতরণ করা ছত্রীসেনা প্রবল বাতাসের কারণে কেউ কেউ মূল দল থেকে অনেকটা এদিক ওদিক ছিটকে পড়েছিল। ১০ তারিখ সারা রাত চলে তাদের একত্র করার কাজ। ৮০০ ছত্রীসেনার মধ্যে একটি গাড়ি এবং দুইজন সেনা গাছের ডালে লেগে মাটিতে পড়ায় আহত ও নিহত হয়। এরকম সামান্য ক্ষতি কোনো ছত্রীসেনা অবতরণে হয় না। এর চাইতে অনেক বেশি ক্ষতি হয়। ১০ই ডিসেম্বরের মধ্যে টাঙ্গাইল এলাকার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণই কাদেরিয়া বাহিনীর অনুকূলে। ঢাকা-টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ এই একটি মহাসড়ক ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানির দখল ছিল না। টাঙ্গাইলের উত্তরে ময়মনসিংহ-জামালপুর তখন মিত্র বাহিনীর দখলে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মহাসড়ক পাকিস্তানি হানাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১১ই ডিসেম্বর দুপুরের পর টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত হলে আর ঢাকার দিকে কালিয়াকৈরের উত্তরে কোনো জায়গাতেই পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সম্পূর্ণ টাঙ্গাইল মুক্ত হয় ১১ই ডিসেম্বর। ১১ই ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত করতে ছোটখাটো যুদ্ধ হয় মাত্র দু’টি। একটি ইছাপুরে, আরেকটি টাঙ্গাইল জেলা সদরের পানির ট্যাংকের উপরে মেশিনগান নিয়ে বসে থাকা হানাদারদের বিরুদ্ধে। আমরা যারা উত্তর দিক থেকে টাঙ্গাইলের দিকে এগিয়ে ছিলাম তখন পুংলী ব্রিজের নিচে ছত্রীবাহিনীর অনেক সৈন্য অবস্থান নিয়েছিল। ব্রিগেডিয়ার ক্লেরের পুরো ব্রিগেড এবং এক ব্যাটালিয়ান ছত্রীবাহিনী তারা যখন একে একে মহাসড়কে অবস্থান নিচ্ছিল সে এক দেখবার মতো দৃশ্য। এতদিন মানুষ পাকিস্তান হানাদারদের যুদ্ধযান দেখেছে, সাঁজোয়া বহর দেখেছে, এখন দেখছে মিত্র বাহিনীর সাঁজোয়া বহর। এ ব্যাপারে সব থেকে মজার হলো, ১০ তারিখ যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ছত্রীসেনা নামছিল তখন টাঙ্গাইল শহরে অনেক দালালেরা তাদের সমর্থকদের সাহস দিতে বলে বেড়াচ্ছিল এই তো চীন সৈন্য পাঠিয়েছে। তারা নামছে আর ভয় নেই। এমনকি টাঙ্গাইল জামে মসজিদ থেকে মাইকে প্রচার করা হয়েছিল পাকিস্তানের আর কোনো ভয় নেই, চীনের সৈন্য এসে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সেটা চীনের ছিল না, সেটা ছিল মিত্র বাহিনীর।

টেকসই উন্নয়নের অন্তরায় তামাক by এবিএম জুবায়ের

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশিকা এবং কার্যকর উন্নয়ন সুরক্ষা প্রদানের একটি সমন্বিত প্রয়াস। জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার ১৬৯টি প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি বাস্তবায়ন (টার্গেট ৩-এ) ও অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস (টার্গেট ৩.৪) অন্যতম। বাংলাদেশও এই সম্মিলিত উন্নয়ন পথযাত্রার বলিষ্ঠ সৈনিক। তবে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু, কয়েক লাখ মানুষের পঙ্গুত্ব এবং তামাকের অন্যান্য বহুমাত্রিক ক্ষয়ক্ষতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে, এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রাসহ অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা কাঙ্ক্ষিত সময়ে অর্জন করা সম্ভব হবে না।

তামাক ব্যবহারজনিত ব্যাপক মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা- সুস্বাস্থ্য অর্জনের অন্যতম অন্তরায়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক খরচের ৫ শতাংশ তামাক ব্যবহারে এবং  ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়। তামাকজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ফলে বছরে আরও ৬৫২.৮৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাজেই তামাক ব্যবহারে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয় (লক্ষ্যমাত্রা-১)। ক্রমবর্ধমান তামাক চাষের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি (লক্ষ্যমাত্রা-২) ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা (লক্ষ্যমাত্রা-৪) এবং লিঙ্গ সমতা (লক্ষ্যমাত্রা-৫) টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলেও বাংলাদেশের বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে মূলত শিশু ও নারী শ্রম ব্যবহার করে। কারখানার শিশু শ্রমিকরা পাচ্ছে না শিক্ষা লাভের সুযোগ। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার না করেও, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু। এই ব্যাপক বৈষম্য টিকিয়ে রেখে, টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এ ছাড়াও তামাক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষম মানুষের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্ববরণ করে, যা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে (লক্ষ্যমাত্রা-৮) বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত বৈশ্বিক মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখেরও বেশি এবং এই মৃত্যুভারের ৮০ ভাগই বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে। এধরনের বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ বৈষম্য হ্রাস (লক্ষ্যমাত্রা-১০) ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভবপর নয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি হলেও পাবলিক প্লেস-এ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার চিত্র ঠিক উল্টো। শহরের আবদ্ধ স্থানে বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। যা টেকসই নগর ও তার অধিবাসীদের (লক্ষ্যমাত্রা-১১) নিরাপদ রাখার বড় অন্তরায়। তামাক চাষ সারা পৃথিবীর ২-৪ শতাংশ বন উজাড়ের জন্য দায়ী। বাংলাদেশে তামাকচুল্লিতে পাতা পোড়াতে গিয়ে উজাড় হচ্ছে দেশের ৩০ শতাংশ বন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের (লক্ষ্যমাত্রা-১৩) ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিন-আপ বাংলাদেশসহ ১২২টি দেশের সাগর থেকে যেসব বর্জ্য সংগ্রহ করে তার মধ্যে ১ম স্থানে ছিল সিগারেট ফিল্টার। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৮০ বিলিয়ন সিগারেট ফিল্টার প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত সাগরে দূষণ সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, সিগারেট ফিল্টার প্রকৃতিতে মিশে যেতে ১২ বছর পর্যন্ত সময় নেয়। কাজেই সিগারেট সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ব্যবস্থার (লক্ষ্যমাত্রা-১৪) অন্যতম অন্তরায়। সর্বোপরি, তামাকপণ্য উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রভৃতি সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, তামাক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ তথা এফসিটিসি-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন পূর্বশর্ত বললে অত্যুক্তি হবে না। বাংলাদেশে এফসিটিসি-এর কার্যকর বাস্তবায়ন মোটাদাগে দুটো কারণে অত্যন্ত জরুরি। এক: এফসিটিসি বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা ‘স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা’ অর্জন সম্ভব নয়। দুই: এসডিজি’র অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও তামাক একটা বড় ধরনের বাধা, যা এফসিটিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই অপসারণ করতে হবে।
উপরন্তু, এফসিটিসি’র আর্টিকেল ৬ অনুযায়ী তামাকপণ্যের উপর কার্যকরভাবে কর আরোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করা গেলে একদিকে এর ব্যবহার কমবে অন্যদিকে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত এই অর্থ এফসিটিসি’র বাস্তবায়ন ও এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গৃহীত কর্মকাণ্ডের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে বড় হুমকি তামাক। তবে এফসিটিসি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তামাকজনিত বাধা অপসারণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আর এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি এফসিটিসি-এর আলোকে শক্তিশালীকরণ এবং এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে তামাক কোম্পানি সর্বদা তৎপর থাকবে এফসিটিসি বাস্তবায়ন যেন কখনই সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় না আসে। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব হবে কোম্পানির কূটকৌশলে বিভ্রান্ত না হয়ে এফসিটিসি’র বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসা এবং জনস্বাস্থ্যকে সবার উপরে রেখে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক, প্রজ্ঞা।
ইমেইল: basharzubair@hotmail.com

mzamin

রংপুর ভূমি কর্মকর্তা মোজাহিদের তেলেসমাতি কারবার

মো. মোজাহিদ। বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর ও দালাল হিসেবে পরিচিত রংপুর শালবন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোজাহিদ একযুগ ধরে প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে তৈরি করেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অপকর্মের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। বৈধ দলিলের তোয়াক্কা না করে খাস খতিয়ানে জমি তুলে শত শত মানুষকে করছেন হয়রানি। আবার সরকারি খাসজমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার এ দুর্নীতি ও অপকর্মের সহযোগিতা করেছেন রংপুর রাজস্ব বিভাগের সাবেক হিসাব তত্ত্বাবধায়ক আমজাদ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা তুষার কান্তি মণ্ডলসহ একাধিক নেতা। বিনিময়ে তারাও নিয়েছেন অবৈধ সুবিধা। জনগণের টাকায় বেতন নেয়া এ চাকরিজীবী ছোট-বড় কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজেকে ভাবেন মহারাজা, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। চাকরির সুবাদে ভূমি বাণিজ্যে অর্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। যা তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা যায়, ভূমি জালিয়াতি সিন্ডিকেট মোজাহিদের নামে আদালতে মামলা রয়েছে। দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ পেলেও বিগত সরকারের নেতাদের ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পার পেয়েছেন। সম্প্রতি বেপরোয়া, দুর্নীতিবাজ মোজাহিদের বিরুদ্ধে রংপুর জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুদক, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল মানবজমিনকে বলেন, মোজাহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্তের রিপোর্ট পেয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাড় দেয়া হবে না, আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর নগরীর কামাল কাছনার শামসুল হক একসনা মেয়াদে জমি লিজ নিয়ে খাজনা প্রদান করে ৪৭ বছর ধরে ভোগ-দখল করেছেন। সম্প্রতি ভূমি সিন্ডিকেটের ইন্ধনে আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। তার প্রশ্ন এতদিন কোথায় ছিলেন তিনি। এছাড়াও কামাল কাছনা মৌজার আরএস-৭২৭৩ হাল দাগের সরকারি আট শতক খাসজমি জাল দলিল তৈরি করে দুর্নীতিবাজ মোজাহিদ চক্র রক্ষক ও ভক্ষকের কাজ করছেন। শালবন ভূমি অফিসে খাজনা-খারিজের ভলিউমের পাতা ছেঁড়া, হোল্ডিং নেই, তালিকায় আছে, দীর্ঘদিন খাজনা দেয়া নেই বলে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে। রাধাবল্লভ মৌজার ২৭৭৯ দাগের সরকারি জমি, আরএস রেকর্ড সেটেলমেন্ট অফিসে নিজে যোগসাজশ করে নিজের নামে রেকর্ড করে। এছাড়া একই মৌজায় ১৮৮৮ দাগের রংপুর সরকারি কলেজের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেন এবং কামাল কাছনা মৌজার ৩৪৭৩২৬ দাগের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে দেন।

 অভিযোগে বলা হয়, এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হলে জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা মোজাহিদ, আমজাদ গংয়ের প্রমাণ বেরিয়ে আসবে। জুম্মাপাড়ার হারুন, শালবনের শাহাবুদ্দিনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ক্রয়কৃত একই দাগের জমি দুই অংশীদারের একজন রহস্যজনকভাবে খাজনা পরিশোধ করলেও অপরজনের খাজনা নেয়া হচ্ছে না বিভিন্ন অজুহাতে। এ ব্যাপারে ভূমি কর্মকর্তা মোজাহিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি অপকর্ম করিনি। এটা হয়তো শালবন ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা মেজবাহ ও শাহাজাদা মিয়া করেছে। একই দাগের জমি একজনের খাজনা নিলে, অপরজনের কেন নিচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে বলেন, হয়তো এটা ভুলে হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খাজনা, নামজারি, খারিজ করতে প্রতিদিন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভূমি অফিসে অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্র সিন্ডিকেট বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের বদলি করে দিয়ে আরেক জায়গায় দুর্নীতি করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এটা সঠিক বিচার নয়। দুর্নীতিবাজদের অপসারণ করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

mzamin

বাবাকে নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছোট্ট শিশুটির by ফাহিমা আক্তার সুমি

কোথায় যাবো, এই অবুঝ শিশুদের কি বলে সান্ত্বনা দিবো, কি হবে আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ? কি দোষ ছিল ওদের বাবার? আমার ছোট্ট দুই সন্তান বাবাহারা হয়ে গেল। বড় মেয়েটি বাবাকে ছাড়া খেতে চায় না। রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাবার জন্য। সবসময় তাদের বাবাকে খুঁজতে থাকে। বাবাকে নিয়ে হাজার প্রশ্ন করে। বারো মাসের ছোট্ট মেয়েটি সবসময় বাবা বাবা করে। কি দোষ ছিল ওদের বাবার? এভাবে কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৩১ বছর বয়সী মেহেদী হাসানের স্ত্রী। তিনি গত ১৮ই জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ছররা গুলিতে তার চোখ, মুখ, মাথাসহ পুরো শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মেহেদী পেশায় একজন গণমাধ্যমকর্মী ছিলেন।

মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি মানবজমিনকে বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের মান্দাইলে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেই বাসা বর্তমানে ছেড়ে দিয়ে আমার বাবার কাছে থাকি। সন্তানদের নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। আমার বাবা অসুস্থ। ইচ্ছা ছিল বড় মেয়েকে জানুয়ারিতে স্কুলে ভর্তি করবো। আর ছোট মেয়ের বয়স ১২ মাস চলে। সন্তানদের নিয়ে মেহেদীর অনেক স্বপ্ন ছিল। মেয়েদের পড়াশোনা করাবে, তাদের খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে। এত কষ্ট দিয়ে মারার কি দরকার ছিল? সে কি দোষ করেছিলো। বুকে কেন পাড়া দিলো? একবারের জন্যও কি মায়া হয়নি, ভাবেনি তার ঘরে ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। তারা বাবাকে ছাড়া কীভাবে চলবে। বড় মেয়েটি ঠিক ওর মতো হয়েছে। বড় মেয়েটিকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করাবে। তাকে ভবিষ্যতে ডাক্তার বানানোর খুব ইচ্ছা ছিল ওর। বড় মেয়েটা ওর বাবাকে ছাড়া খেতে, ঘুমাতে চায় না। মাঝে মাঝে বাবার হাতে খেতে চায়, মাঝে একদিন না খেয়ে ছিল। বাবা কখন আসবে সেই প্রশ্ন সবসময় করতে থাকে।

তিনি বলেন, আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি যে এমন হবে। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার দিন যখন প্রথমে তাকে কল করি তখন সে রিসিভ করেনি। পরে সে কল দিলে আমিও ব্যস্ততার কারণে রিসিভ করতে পারিনি। ওর সঙ্গে আমার ভালোবেসে বিয়ে ছিল। আমি অসুস্থ থাকায় আমাকে ছাদে যেতে নিষেধ করেছিল সেদিন ফোনে। ফোনে এটাও বলেছিল বাসায় সাবধানে থেকো মেয়েদের নিয়ে, আমি রাতে বাসায় এসে সব বলবো বাইরে কি হচ্ছে। চারিদিকে গুলির আওয়াজ শুনতে পাই মোবাইলে কথা বলার সময়। এমন গুলির আওয়াজ শুনে তাকে বাসায় বা অফিসে যেতে বললে সে আমাকে তখন ধমক দিয়ে বলে এটা আমার কাজ, আমার দায়িত্ব। আমাকে খাবারও খেয়ে নিতে বলেছিল। এগুলোই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা, তার আধাঘণ্টা পরেই জানতে পারি গুলির ঘটনা।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পপি বলেন, তার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয় বিকাল ৪টার দিকে। গুলি লাগে সন্ধ্যার আগে। আমি যখন জানতে পারি ঘটনাটি তখন কোনো ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেখানে থাকা তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার দেবরকে খবরটি জানাই। সে তখনই গাজীপুর থেকে রওনা দেয়। আমিও ঢাকা মেডিকেলে ছুটে যাই। তাকে নিয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিট পর গিয়ে দেখি সে জরুরি বিভাগের আইসিইউ’তে। এই দৃশ্য মনে পড়লে এখনো ঘুমাতে পারি না। পরে তাকে ইসিজি রুমে নিয়ে যায় সেখানে থাকা চিকিৎসক জানায় সে স্পটেই মারা গেছে। ছররা গুলির সঙ্গে বুলেটও ছিল তার শরীরে। মুখে, চোখে, গলায়, ঘাড়ে, মাথাসহ পুরো শরীরে কোথাও বাকি ছিল না। মুখে কোনো দাঁত ছিল না। মেহেদীর বুকের ভেতরে জুতার ছাপ পাওয়া গেছে। অনেক কষ্ট দিয়ে তাকে মারা হয়েছে। মারা যাওয়ার পরে বুকের মধ্যে পাড়া দিয়ে হয়তো মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আমার এমন মনে হচ্ছে। হঠাৎ এক-দুইটা গুলি লাগতে পারে কিন্তু এত বেশি গুলি ছিল ওর শরীরে। সেদিন রাতে তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়। পরের দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করে। চারদিকে রাস্তার অবস্থা খুব ভয়াবহ ছিল। এই অবস্থার মধ্যে তার মরদেহ নিয়ে আমরা পটুয়াখালীর বাউফলে যাই, সেখানে তার নিজ বাড়িতে দাফন হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি বেশি দূর পড়তে পারিনি। যখন এইচএসসি পরীক্ষার টেস্ট দিয়েছিলাম তখন বিয়ে হয়। আমার মেয়েদের জন্য আমার কিছু একটা করতে হবে। ওর বাবার মতো হয়তো যত্ন নিতে পারবো না কিন্তু মেয়েদের তো বড় করতে হবে। ওর বাবার দেখা স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না, ভাবছি আমার মেয়েদের কি হবে? কোথায় যাবো আমি ওদের নিয়ে। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরির ব্যবস্থা যদি হয় মেয়েদের জন্য হলেও সেটি করতে চাই। আমি একটা অন্ধকার জীবনের মধ্যে আছি। বাবাকে নিয়ে সন্তানদের হাজার প্রশ্নের জবাব কীভাবে দিবো?

মেহেদীর মা মাহমুদা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমি আমার সন্তানকে ছাড়া ভালো নেই। আজ কতো মাস হলো সন্তানের মুখটা দেখতে পারি না। আমাকে মা বলে আর ডাকে না। আমার তিন ছেলের মধ্যে মেহেদী ছিল সবার বড়। সেই আমাদের সংসার চালিয়েছে। সবসময় আমাদের চিকিৎসা খরচ দিয়েছে। আমিও অসুস্থ আর বাবাও অসুস্থ। আমরা বাড়িতে থাকি পটুয়াখালীতে। ১৮ই জুলাই ঘটনার দিন দুপুরে মেহেদী আমাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য টাকাও পাঠিয়েছিল। ওর কবরের কাছে গেলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। মায়ের মন কি আর ঠিক থাকে। ওর বাবা সারাদিন মন খারাপ করে থাকে। সে স্ট্রোকের রোগী। হার্টের চারটি ব্লক ধরা পড়েছে। আমার ছোট ছেলেটার বয়স মাত্র বারো বছর, সে মাদ্রাসায় পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এখন কীভাবে চলবো। অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার সন্তান কি দোষ করেছিল? কেন আমার সন্তানকে এভাবে মারলো? 

mzamin

ড. মোমেনকে চেয়ারম্যান করে দুদক গঠন

সদ্য পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে অপর দুই কমিশনারও নিয়োগ দেয়া হয়। তারা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নম্বর আইন)-এর ৬(১) ধারার বিধান অনুসারে তাদেরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। এর মধ্যে দুদক আইন, ২০০৪-এর ৫(১) ধারার বিধান মতে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলো। নিয়োগকৃতদের মধ্যে চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের সমরূপ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়া) সহকারী একান্ত সচিব ও পরিচালক, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুগ্মসচিব থাকার সময় ২০০৯ সালে আবদুল মোমেনকে ওএসডি করে আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ২০১৩ সালের ৬ই জুন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

তার জন্ম ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৫৭। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ড. মোমেনের লেখক নাম আন্দালিব রাশদী। তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখিতেও বেশ সমাদৃত। প্রধানত কথাসাহিত্যিক; পাশাপাশি প্রবন্ধ লিখেন, অনুবাদ করেন, কলাম লিখেন, শিল্পকলা বিষয়ক লেখালেখিও করে থাকেন। এ ছাড়াও কিশোর সাহিত্যে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।  এ পর্যন্ত তার শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে।

গত ২৯শে অক্টোবর মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশনের অবসান হয়। সেদিন দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক ও কমিশনার মোছা. আছিয়া খাতুন (অনুসন্ধান) পদত্যাগ করেন। ৩১শে অক্টোবর তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। গত ১০ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের দুদক পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অপর সদস্যরা ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

mzamin

বিদেশে পাসপোর্টের জন্য হাহাকার by মিজানুর রহমান

দুনিয়ার দেশে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের জন্য হাহাকার চলছে। বিশেষ করে শ্রমিক অধ্যুষিত দেশগুলোতে এই সংকট প্রকট। ইতালি, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় ভিসা নবায়ন বন্ধ, দেশে জরুরি কাজে ভ্রমণে আসতে না পারাসহ নানামুখী জটিলতায় দিনাতিপাত করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ।

মালয়েশিয়ায় এমআরপি পাসপোর্ট সেবা বন্ধ করায় রেমিট্যান্স শাটডাউনের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন প্রবাসীরা। তারা তাদের ভোগান্তির বার্তা পাঠাচ্ছেন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। স্বৈরশাসনের নিষ্ঠুর হয়রানি আর স্ব স্ব দেশের কঠোর বিধি নিষেধের ঝুঁকি সত্ত্বেও জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিঃশর্তভাবে সাপোর্ট দেয়া প্রবাসীদের বিষয়ে আগাগোড়ায় সংবেদনশীল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু কারিগরি কারণে তাদের পাসপোর্ট সমস্যার চটজলদি সমাধান অসম্ভব। একদিকে প্রবাসীদের কান্না অন্যদিকে তাদের প্রতি দায় থেকে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংকটটির একটি অন্তর্বর্তী সমাধান বের করতে গতকাল জরুরি বৈঠক  বসেছিলেন পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ উপদেষ্টা। সঙ্গে ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ৯ কর্মকর্তা। সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত ওয়ে-আউট খোঁজার ওই জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাসপোর্ট অধিদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে ৩ লাখ পাসপোর্ট বুক সংগ্রহের কথা জানিয়েছে। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে, প্যান্ডিং ১ লাখ ৯০ হাজার পাসপোর্টের একটি বড় অংশ ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্য বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে  পৌঁছানো সম্ভব হবে। বাকিটা আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানো হবে বলে জানানো হয়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা ৩ উপদেষ্টাকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন, ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি  মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট সেবা চালু রাখতে এমআরপি বই এবং লেমিনেশন ফয়েল আমদানিতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বৃটেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এইচআইডি সিআইডি লিমিটেড থেকে এমআরপি বই এবং লেমিনেশন ফয়েল আমদানি করা হচ্ছে। আগেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে একই জিনিস আমদানি করেছিল সরকার। এ দফায় সর্বমোট ১৫ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বই এবং ১৫ লাখ লেমিনেশন ফয়েল আমদানি করা যাচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিদেশে বাংলাদেশের ৮০টি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালু আছে। বাকি ৩৫টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালু করা হবে পর্যায়ক্রমে। ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা পূরণে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এমআরপি চালু থাকবে। নতুন বুক সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত  সংকট থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়। স্মরণ করা যায়, ১৫ লাখ এমআরপি বই এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল আমদানির জন্য বিগত সরকারের আমলে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু তখন সরকার যে গুণের ও মানের এমআরপি বই ও ফয়েল চেয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দেয়া স্পেসিফিকেশন তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় সেই দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করা হয়। সংকটটা এ কারণে ঘনীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আবেদনের ৬ মাসেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না মালয়েশিয়ান প্রবাসীরা: ঢাকা রিপোর্ট পেয়েছে, আবেদনের ৬ মাসেও পাসপোর্ট না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে।  দেশটির বাংলাদেশ মিশনে দীর্ঘদিন ধরে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। পাসপোর্ট না থাকায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন অনেকে। করতে পারছেন না ওয়ার্ক ভিসা নবায়ন। পাসপোর্টের জন্য কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত প্রবাসী।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় এমআরপি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য ২০ হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করে রেখেছেন। অবশ্য  ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমআরপি আবেদন প্রিন্টিংয়ে অপেক্ষমাণ থাকা আবেদনকারীরা ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে দ্রুত ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। অন্যদিকে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ক’দিন আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এমআরপির বুকলেট, লেমিনেশন ফয়েল পেপার ঘাটতি ও এমআরপির প্রিন্টিং মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট প্রিন্ট হতে দেরি হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। পাসপোর্ট না থাকায় কেউ কেউ এরই মধ্যে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, অনেকে রয়েছেন অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে। এমন অবস্থায় নতুন করে ই-পাসপোর্ট নিতে প্রতিদিনই আবেদন করছেন অনেকে। হাইকমিশন নিজে থেকে অন্তর্বর্তীকালীন একটি সমাধানও বের করেছে। বলা হয়েছে, এমআরপির জন্য যারা আগে আবেদন করেছেন তাদের সেই ব্যাংক স্ল্লিপ কপির সঙ্গে অতিরিক্ত ৫১ রিঙ্গিত জমা দিলে এমআরপির জন্য অপেক্ষায় না রেখে ই-পাসপোর্ট দিয়ে দেয়া হবে।

mzamin

গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা: বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ফরিয়াদ

জুলাই বিপ্লবসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি-গত ১৬ বছরে যারাই মুক্তিকামী মানুষের হয়ে কথা বলেছে তাদেরকেই গুম করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর কোনোদিনও ফিরে আসেনি পরিবারের সেই সদস্যগুলো। গতকাল এক অনুষ্ঠানে পিতাহারা কন্যা, স্বামীহারা স্ত্রী, সন্তানহারা বাবা-মা, গুমের শিকার, অত্যাচারের শিকার ভুক্তভোগী ও জুলাই বিপ্লবে আহতরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর আয়োজনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জুলুমের ভুক্তভোগী গণজমায়েত’ শীর্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।

আয়োজিত সমাবেশে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের পক্ষে গুমের শিকার পারভেজ হোসেনের মেয়ে রিধি অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন, আমরা ছোট থেকে বড় হয়েছি বাবার আদর ছাড়া। বাবার হাতটা পর্যন্ত ধরতে পারেনি। পরীক্ষা শেষে সবাই সবার বাবার সঙ্গে ঘুরতে যায় আর আজকে আমি আমার বাবার ছবি নিয়ে বাবাকে খুঁজতে এসেছি। আমার বাবার দোষটা কী ছিল যে, তাকে এভাবে গুম করা হয়েছে। বছরের পর বছর তাকে নিজের পরিবারের থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আমাদের এমন কী দোষ ছিল যে, আমরা আমাদের বাবাকে দেখতে পারিনি। আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন। অনেক কান্না করেছি। আর কিচ্ছু চাই না। আমি শুধু আমার বাবাকে চাই। বাবার হাতটা ধরতে চাই। বাবাকে দেখতে কেমন লাগবে- এটাও আমরা কেউ জানি না। আমার বাবার সঙ্গে আর আমাদের সঙ্গে কেন এমন করা হলো তার বিচার চাই আমি।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, মজলুমের কোনো দল নেই। আজকে আমরা যারা নিপীড়িত হয়েছি এই মানুষগুলোকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের দল, মত, আদর্শ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু এই নিপীড়িত পরিবারগুলোকে, মানুষগুলোকে এক থাকতে হবে। সেই এক থাকার জন্য একটি জাতীয় মঞ্চ থাকা প্রয়োজন। বিগত সময়গুলোতে আমাদের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল এবং যত দুঃশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি হয়েছিল তার তালিকা করলে শেষ হবে না। আর এসবের পেছনে কে এবং কারা দায়ী তা আমরা সকলেই জানি। এই শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তাদের মুজিববাদী রাজনীতির ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তারা এসব করেছে। তারা একটা মানবতাবিরোধী দল। পুরো বিশ্বকে আমাদের এটা বলতে হবে। এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার হাতে রক্তের দাগ সব সময়ই ছিল। যেমনটা তার বাবার হাতে ছিল। আমরা দেখেছি পিলখানা হত্যাকাণ্ড হয়েছে, শাপলা চত্বরে কী নির্মম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। সর্বশেষ জুলাইয়ে কীভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে। আমরা দেখেছি বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিব ক্ষমতায় ছিলেন। ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে মানবাধিকার হরণ করেছেন। আওয়ামী লীগ বিদায় হয়ে  গেছে। এখন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন কারা কারা করতে চান সেটা হচ্ছে আলোচনার বিষয়। যারা করতে চান জনগণ তাদেরকেও গণশত্রু হিসেবে গণ্য করবে এই বাংলাদেশে। তিনি বলেন, যারা নিপীড়িত হয়েছে তাদের ন্যায়বিচারে আমরা কাজ করবো। আর যারা এইসব শহীদকে নিয়ে মামলা বাণিজ্য করছে তাদের বিষয়েও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ বলেন, সীমান্তে হত্যা করে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না। এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই। এখন যা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, একটি স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্য এতগুলো মানুষকে গুম করা হয়েছে। আজ জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে আবার স্বাধীন করেছে। মানুষের অধিকারের জন্য তারা জীবন দিয়েছে। আসুন আমরা সকলে দেশটাকে ভালোবাসি। আর এই সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। আগে আমাদের নিজেদেরকে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম  পরওয়ার বলেন, এই গুম-খুন, হত্যার সব কিছুর জন্য দায়ী শেখ হাসিনা। তার হাতে রক্তের কালো ছোপ এখনো আছে। এখন সে ভারতে বসে সন্ত্রাসের নতুন ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে। তার এসব কর্মকাণ্ডের বিচার না হলে আমাদের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ১৬টা বছর আওয়ামী লীগ গোটা রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসের একটা অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। এই আওয়ামী লীগ সরকার গত সময়ে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ করেছে। এসব ঠাণ্ডা মাথার অপরাধের বিচার হওয়া দরকার। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পরে যেমন বিডিআরের পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছে তেমনই অতিসত্বর র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের পোশাক পরিবর্তন করতে হবে। কারণ তাদের দেখলেই সেই হামলাকারী মনে হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১৬ বছর যারা এই সব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং যারা মদত দিয়েছে তাদের সকলেরই বিচার করতে হবে। এখনো যারা ঘাপটি মেরে এদেশের বিভিন্ন দপ্তরে বসে আসে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। আর যারা ওই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চিন্তা করছে তাদেরকেও বিচার করবে এই দেশের মানুষ। ওই ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে আনতে হলে আবারো রাস্তায় রক্ত দিবে এদেশের সাধারণ জনগণ।

মায়ের ডাক-এর প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা খানম তুলির সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ। 

mzamin

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ আল–বশির। ২০২৫ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন। আজ মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল–আসাদ–পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বিদ্রোহীদের ১২ দিনের এক ঝটিকা অভিযানে গত রোববার পতন হয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের। এরপর প্রথমেই সামনে আসে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি। আল–বশিরকে যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা হচ্ছে, তা সোমবার থেকেই শোনা যাচ্ছিল। পেশায় প্রকৌশলী আল–বশির সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বাশার আল–আসাদের পতনের আগে থেকেই ইদলিব বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল–শামসের (এইচটিএস) নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট তাদেরই সরকার। বাশারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বে ছিল এই এইচটিএস। সোমবার ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বাশার সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল–জালালি ও আল–বশিরের সঙ্গে বৈঠক হয়। এইচটিএসপ্রধান আবু মোহাম্মদ আল–জুলানি। পরে সংবাদমাধ্যমে আল–জালালি জানিয়েছিলেন, তিনি সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি আছেন।

মোহাম্মদ আল-বশির
মোহাম্মদ আল-বশির। ফাইল ছবি: এএফপি

রাজনীতিতে যোগ দিলেন ডা. তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে রাজনীতিতে পা রেখেছেন বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. তাসনিম জারা।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পোস্টে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এই প্রথম আমি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি, তাই সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবে এই কমিটিতে আমি অনেক বুদ্ধিদীপ্ত, চিন্তাশীল ও সৎ মানুষকে পেয়েছি, যারা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। তাদের সহকর্মী হতে পারা এবং দেশের জন্য একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।’

আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না আমরা কতটা সফল হতে পারব। কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সব নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা, শ্রম, ও ত্যাগের ব্যাপার। তবে এই পরিবর্তন আনার জন্য আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।

সবার পরামর্শ ও সমর্থনের অনুরোধ জানিয়ে আলোচিত এই চিকিৎক বলেন, ‘আমার জন্য কোনো পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানাবেন। ভুল করলে তা ধরিয়ে দেবেন, আর ভালো কিছু করলে উৎসাহ ও সমর্থন দিয়ে পাশে থাকবেন।’

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তথ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ডা. তাসনিম জারা।

গত জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময়ও ‘আন্দোলনের সময় কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা যেভাবে করবেন’ শিরোনামে ভার্চুয়ালি পরামর্শ দিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান।

ডা. তাসনিম জারা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের একজন চিকিৎসক ও ‘সহায় হেলথ’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চতর পড়াশোনা করতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং সেখান থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল (ডিসটিঙ্কশন) অর্জন করে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ান এবং গাইনোকোলজিস্ট থেকে ডিআরসিওজি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ডা. তাসনিম জারা বর্তমানে বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে কাজ করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ক্লিনিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পড়ান।

ডা. তাসনিম জারা। ছবি : সংগৃহীত
ডা. তাসনিম জারা। ছবি : সংগৃহীত