Thursday, September 2, 2010

মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

ইয়েমেনি-আমেরিকান ধর্মীয় নেতা আনোয়ার আল-আওলাকিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুটি নাগরিক অধিকার সংগঠন। দ্য আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও দ্য সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস (সিসিআর) নামের ওই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে গত সোমবার এ মামলা করা হয়। আওলাকিকে এক বিপজ্জনক সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে ওয়াশিংটন।
সংস্থা দুটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো রণক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে হত্যা করা থেকে মার্কিন সরকারকে বিরত রাখতে এই মামলা করা হয়েছে। তাছাড়া খুব বড় ধরনের হুমকি এখানে কাজ করছে না এবং তাঁকে হত্যা করতে অনেক শক্তি প্রয়োগের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি।’ এতে আরও বলা হয়, ‘আওলাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত নন। কোনো মামলা বা বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই এই হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সিসিআরের নির্বাহী পরিচালক ভিন্স ওয়ারেন বলেন, ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বের কোথাও এভাবে কাউকে হত্যা করতে পারে না; এমনকি নিজেদের নাগরিকদেরও। কোনো বিচার ছাড়া কাউকে হত্যা করার অধিকার দেয় না মার্কিন আইন। যদি না সে খুব বড় ধরনের হুমকি হয়, যাকে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় আনতে গেলে দেরি হয়ে যাবে।’
মামলায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক লিও পানেট্টা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, ওই তিনজন যেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ ধরনের সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড রোধে নির্দেশ জারি করেন।

চিলিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গ খনন শুরু

চিলির উত্তরাঞ্চলের সোনা ও রুপার খনিতে আটকে পড়া ৩৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারের লক্ষ্যে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬৬ সেন্টিমিটার চওড়া সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়।
চিলি সরকার এই উদ্ধার অভিযানে নাসা ও সাবমেরিন বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছে। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা খনির ভেতরে ফ্লু রোধক টিকা, ধূমপায়ীদের জন্য বিশেষ ধরনের আঠা ও খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ৭০০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন সুড়ঙ্গ খনন করতে হবে। আর এটা হবে বিশ্বের অন্যতম ‘চ্যালেঞ্জিং’ কাজ। এই উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে প্রায় দুই থেকে চার মাস লাগতে পারে। এই সুড়ঙ্গ পথ ধরেই খনির ভেতর থেকে ক্রেনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপরে তুলে আনা হবে।
এদিকে প্রকৌশলীরা এই উদ্ধার অভিযানকে ত্বরান্বিত করতে বিকল্প পথও খুঁজছেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় একটি সুড়ঙ্গ খোঁড়া। এই পথে শ্রমিকদের বের করতে অবশ্য ৬০ দিনের মতো লাগতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।
আটকে পড়া খনি শ্রমিকেরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে আবার মিলিত হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। খনিটিতে ২৫ দিন ধরে শ্রমিকেরা আটকে আছেন এবং ১৭ দিন পর তাঁরা বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

চীনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়ছে

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিবিড় সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে সম্পর্কের গাঁটছড়া ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় না করেই এমন সব ঘোষণা দিচ্ছে, যা এ দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করতে পারে।
চীনের সশস্ত্র বাহিনী দি পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অধীনে পরিচালিত হয়। আদর্শিক ও সাংগঠনিক বন্ধন থাকায় এই দুটি পক্ষ মিলে ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। মাওয়ের মৃত্যুর পর ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে সংস্কারপন্থী নেতা দেং জিয়াও পিং ক্ষমতায় আসেন। মাওয়ের মতো জিয়াও পিংয়ের সঙ্গেও পিএলএর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দুজনেরই সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল। পিএলএর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁরা দুজনই দায়িত্ব পালন করেছেন। জিয়াও পিংয়ের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসেন জিয়াও জেমিং এবং জেমিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন হু জিনতাও। জেমিং এবং জিনতাও কারোরই সামরিক অভিজ্ঞতা নেই। এর ফলে তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের মতো পিএলএর কমান্ডারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ধরে রাখতে পারেননি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
চীন ও কোরিয়ার মধ্যবর্তী পীতসাগরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চালানো যৌথ নৌ-মহড়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন সরকারের পাশাপাশি পিএলএর কর্মকর্তারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। পিএলএর একটি পত্রিকায় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল লুও ইউয়ান ওই যৌথ মহড়ায় চীনের সম্মানহানি হবে মন্তব্য করে লিখেছেন, একটি রাষ্ট্রের যেমন সম্মানের প্রয়োজন হয়, তেমনি একটি সেনাবাহিনীরও সম্মানের প্রয়োজন।
একই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র আবার মহড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে আজ বুধবার পিএলএর নৌবাহিনী পীতসাগরে কামান মহড়া দেবে।
পিএলএ বিশেষজ্ঞ ও রোডস দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন নেভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক ন্যান লি বলেছেন, বহু আগে থেকেই চীনের বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমানে দুই পক্ষ দুই প্রান্তে সরে যাচ্ছে।
চীনের রাজনীতিতে সরাসরি সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি প্রতিবছর যে সম্মেলন করে, তাতে পিএলএর প্রতিনিধিরা থাকেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে বর্তমানে ৩৭০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশই পিএলএর কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাও সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে খুব কমই সরাসরি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য পিএলএর সহযোগী হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে থাকে।

২০১১ সালের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ফিলিস্তিনের

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে শুরু হচ্ছে। আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এদিকে অধিকৃত এলাকায় ইহুদি বসতি নির্মাণের ওপর আংশিক স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, সে সম্পর্কে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা হয়নি। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক জর্ডানে গোপন বৈঠক করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদ ২০১১ সালের মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একটি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন।
ফিলিস্তিনিরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন বসতি নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো না হলে তাঁরা শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর এই আংশিক স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, একটি শান্তিচুক্তি সম্ভব। গত সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি অবুঝ নই। আমি সব সমস্যা ও বাধা দেখতে পাচ্ছি এবং তা সত্ত্বেও আমি বিশ্বাস করি, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি অর্জনযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা। তবে তা শুধু আমাদের ওপর নির্ভর করছে না।’
আজ বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি আলোচনা শুরু হবে।
গোপন বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা সামনে রেখে গত রোববার জর্ডাদের রাজধানী আম্মানে গোপন বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়।
তবে খবরে বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। খবরে বলা হয়, আব্বাস ও বারাক আম্মানের একটি বাড়িতে বৈঠক করেছেন। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
২০১১ সালের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র: গত সোমবার ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তাঁর পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ২০১১ সালের মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। রামাল্লায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাঁর সরকার এমন একটি বাস্তবতা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা উপেক্ষা করা কঠিন হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিলিস্তিন সরকার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেবে।
প্রধানমন্ত্রী ফায়েদ বলেন, পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে জাতীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। তিনি স্বীকার করেন, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছে। আর্থিক সংকটের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ফায়েদ বলেন, শুধু গত এক বছরে তাঁর সরকার অবকাঠামো, পানি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে দুই হাজার প্রকল্প বাস্তবায়নে সফল হয়েছে।
গত সোমবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা এমন চুক্তি নিশ্চিত করতে পারবেন, যে চুক্তির মাধ্যমে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে—দুই-তৃতীয়াংশ ফিলিস্তিনিই এটা বিশ্বাস করেন না। এরই মধ্যে ফাতাহ ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।

মিলানে মিললেন রবিনহো

ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার চেষ্টা বেশ কিছু দিন ধরেই করছেন। নতুন গন্তব্যটাই কেবল স্থির হচ্ছিল না। অবশেষে আগামী চার বছরের জন্য রবিনহোর নতুন ঠিকানা হচ্ছে এসি মিলান। দেড় কোটি ইউরো খরচ করে এই ২৬ বছর বয়সীকে সই করাল ইতালির ক্লাবটি। কাল দলবদলের শেষ দিনে লন্ডন থেকে মিলানে উড়ে গেছেন রবিনহো। স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ আরও
কিছু আনুষ্ঠানিকতা সেরে চুক্তিও হয়ে গেছে। এদিকে গত বিশ্বকাপে নজরকাড়া আসামোয়া জিয়ানও চলে এলেন নতুন ক্লাবে। ১ কোটি ৫৭ লাখ ইউরো দিয়ে ঘানা স্ট্রাইকারকে কিনেছে সান্ডারল্যান্ড।

সেই বিশ্বকাপের ফোরলানই

গত শুক্রবার ইউরোপিয়ান সুপার কাপে মুখোমুখি হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ইউরোপা লিগের দুই চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তাতে ‘বড়’ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে উৎসব করেছে ‘ছোট্ট’ চ্যাম্পিয়ন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তিন দিন পর দুই ভিন্ন লিগে নিজেদের সূচনা ম্যাচেও যেন অ্যাটলেটিকো-ইন্টার শিবিরে সেই একই দৃশ্যের চিত্রায়ণ। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে আনন্দের বাজনা। ইন্টার পুড়ছে ড্রয়ের হতাশায়।
স্প্যানিশ লা লিগায় অ্যাটলেটিকো স্পোর্টিং গিজনকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। অন্যদিকে সিরি ‘আ’র গত পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার গোলশূন্য ড্র করেছে বোলনিয়ার সঙ্গে।
অ্যাটলেটিকোর বড় জয়ে বড় ভূমিকা বিশ্বকাপে সোনার বল জেতা ডিয়েগো ফোরলানের। উরুগুয়েকে ৩০ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে করেছিলেন পাঁচ গোল। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ফর্মটাই ধরে রেখে এ দিন দলের চার গোলের দুটিই করেছেন তিনি। বাকি গোল দুটি করেছেন হোসে জুরাদো ও এই সেদিন পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ‘অবসর’ নেওয়া সিমাও।
মাত্রই তিন দিন আগে ইন্টারের মতো ক্লাবকে হারিয়ে জিতেছে ইউরোপিয়ান সুপার কাপের শিরোপা। স্পোর্টিং গিজনের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচের শুরুতে সেই ট্রফিটার একটা প্রদর্শনী হয়ে গেল। বড় জয়ের পর সেই উৎসবের রেশ নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সমর্থকেরা।
ইতালিয়ান ফুটবলের একাধিপত্যের রাজত্ব কায়েম করা ইন্টারে এবার নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাফায়েল বেনিতেজ। ইউরোপিয়ান সুপার কাপে হারের পর লিগের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট খোয়ানো—নতুন মৌসুমের দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই ধাক্কা। গত মৌসুমে ইন্টারকে ‘ট্রেবল’ জেতানো মরিনহো বেনিতেজকে আরেকটি খোঁচা দিতেই পারেন!

আবার ফেদেরারের জাদুকরি শট

ইউএস ওপেন শুরুর দিনই একটা বার্তা পাঠিয়ে দিলেন রজার ফেদেরার। আবারও দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে খেললেন তাঁর সেই দুর্দান্ত শট। প্রতিপক্ষ এবং নিন্দুকদের বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, এখনো তাঁর হাতে জমে আছে কত জাদু। আর ফেদেরারের এই জাদুকরি শট একদম কাছ থেকে দেখার ‘সৌভাগ্য’ হলো ব্রায়ান ডাবুলের। আর্জেন্টিনার এই অবাছাই যে ৬-১, ৬-৪, ৬-২ গেমে হেরে যাওয়ার পথে দেখেছেন অবিশ্বাস্য সেই শট।
পরশু ইউএস ওপেন শুরুর দিনটা এভাবেই আলোকিত করে তুললেন সুইস মাস্টার। টানা সপ্তমবারের মতো ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওঠার মিশনের শুরুটাও দারুণ হলো। যদিও একই দিন ‘মৃদু অঘটন’ ঘটে গেছে। হেরে গেছেন ২০০১ সালের চ্যাম্পিয়ন লেটন হিউয়িট। অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক ১ নম্বরকে ৬-৩, ৬-৪, ৫-৭, ৪-৬, ৬-১ গেমে হারিয়ে আলোচনায় ফ্রান্সের পল-অঁরি ম্যাথিউ।
হিউয়িট হারলেও তাঁরই সাবেক প্রেমিকা কিম ক্লাইস্টার্স কিন্তু দারুণ শুরু করেছেন। মেয়েদের এককের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্লাইস্টার্স হাঙ্গেরির গ্রেটা আর্নকে হারিয়েছেন সরাসরি সেটে (৬-০, ৭-৫)। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন বাকি সব তারকাই। ভারতের সানিয়া মির্জাও উঠেছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। প্লে-অফে খেলে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে হয়েছে সানিয়াকে। ফলে প্রথম রাউন্ডে জিতলেও এটি আসলে ভারতীয় তারকার টানা চতুর্থ জয়। নিজের ২৮তম জন্মদিনে নিজেকেই জয় উপহার দিলেন অ্যান্ডি রডিক। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বড় তারকা ভেনাস উইলিয়ামসও শুরু করেছেন জয় দিয়ে।
তবে ওই এক শট খেলেই আলোচনার কেন্দ্রে ফেদেরার। গতবারও ফ্লাশিং মিডোতে একই রকম শট খেলেছিলেন। সেটাও আবার ছিল নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে, সেমিফাইনালে। এই দুই শটের দুটো আলাদা গুরুত্ব আছে পাঁচবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নের কাছে, ‘গত বছরেরটা গুরুত্বের দিক দিয়ে একটু এগিয়ে। কারণ, ম্যাচটা ছিল সেমিফাইনাল, আর পয়েন্ট ছিল থার্টি-লাভ থেকে ফরটি-লাভ করার। মাত্র ২ পয়েন্ট দূরেই ছিল ম্যাচ। তবে এবারের শটটা খেলাই ছিল বেশি কঠিন। কারণ, আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমাকে বেশি জোরে দৌড়াতে হবে (বলের নাগাল পেতে)।’
১৭তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার দিকে দৌড়টাও জোরেশোরেই শুরু করলেন ফেদেরার।

প্রমাণের অপেক্ষায়

পাকিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টির নির্মাতা তিনি। সেই ইমরান খান যখন দেখেন, কলঙ্কের চুন-সুরকিতে বানানো হচ্ছে নতুন দেয়াল, যে দেয়ালের আড়ালে চলে যাচ্ছে তাঁরই এক সময়ের রেখে আসা কীর্তি; হূদয় তো ক্ষত-বিক্ষত হবেই। ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানালেন, স্পট-ফিক্সিংয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জড়িত থাকার খবর শুনে তিনি মর্মাহত। কিন্তু একই সঙ্গে সবার প্রতি তাঁর আহ্বান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যেন কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করা হয়।
পাকিস্তানের ক্রিকেটের অতীতের বিভিন্ন ঘটনা আর ভাবমূর্তির কারণেই কিনা, বাজিকরদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ উঠলেই বেশির ভাগ মানুষই ধরে নেয়, ঘটনার সঙ্গে নিশ্চয়ই জড়িয়ে আছেন ওই অভিযুক্ত। গত বিশ্বকাপের সময় তো এমনও একটা ধারণা ছড়িয়ে গেল, তখনকার কোচ বব উলমারকে কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারই খুন করেছেন!
ইমরান তাই আহ্বান জানিয়েছেন, এবার যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই সব ক্রিকেটারকে যেন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়, ‘ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির খবরটা শুনে প্রথমে সবাই একটা ধাক্কা খেয়েছে। তবে আমি মনে করি, এখনই এই খেলোয়াড়দের ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করাটা অন্যায় হবে। আগে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ দেওয়া উচিত।’
তার মানে আবার কেউ যেন ভেবে বসবেন না অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের পক্ষে সাফাই গাইছেন ইমরান। বরং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর অনুরোধ একটাই, আগে প্রমাণ হোক। প্রমাণের আগেই কেউ যেন স্রেফ অভিযোগ আর সন্দেহের কারণে সাজা না পায়।
আইসিসিও আপাতত ইমরানের অবস্থানের সঙ্গে একমত। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলেছেন, এই ঘটনায় পুরো পাকিস্তান দল আর পাকিস্তানের ক্রিকেটের ওপর থেকে আস্থা হারালে সেটি হবে অন্যায়, ‘আমাকে বলতেই হবে, আমি খুবই হতাশ। অন্তত এ ধরনের খবর পত্রিকায় দেখব, এটি আমি আশাই করিনি। আপাতত আমি মনে করি, সিরিজটা সূচি অনুযায়ীই চলবে। এক-দুজনের অন্যায় কাজের কারণে পুরো দল এবং দেশের ভাবমূর্তি যদি ক্ষুণ্ন হয়, সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক।’
লরগাত আশ্বস্ত করেছেন, দোষী ক্রিকেটারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই দেওয়া হবে, ‘খেলাটির সততা সমুন্নত রাখাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা এটি ক্ষুণ্ন করবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। তবে আগে সেই অভিযোগ যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আর তদন্তে প্রমাণিত হতে হবে।’
এ ঘটনার পর কেউ কেউ আইসিসির সমালোচনা করছেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন যেমন প্রশ্ন তুলেছেন, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিটের (এসিএসইউ) কার্যক্রম নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, এখন পর্যন্ত একটি ঘটনাও এসিএসইউ ফাঁস করতে পারেনি। বরং সেটি সবার নজরে এনেছেন কোনো না কোনো সাংবাদিক। ভনের এমন সমালোচনার জবাবে লরগাত বলেছেন, এসিএসইউর লোকবল, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি এখনো অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও জানিয়েছে, আপাতত কোনো খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই। আগে অভিযোগ প্রমাণিত হোক। তবে ইংল্যান্ডের দুটো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যে চার ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ইংল্যান্ডের বাকি সফরসূচিতে তাঁদের আর নাও খেলাতে পারে পাকিস্তান। বিবিসি আর ডেইলি মেইল অনলাইন জানিয়েছে, মোহাম্মদ আমির, সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও কামরান আকমলকে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সিরিজে নাও খেলানো হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আমির, আসিফ আর সালমান বাট আজ পিসিবির প্রধান ইজাজ বাটের সঙ্গে লন্ডনে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। পিসিবির প্রধান অবশ্য আগেই আশ্বস্ত করেছেন, ‘অকাট্য প্রমাণ’ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই সাময়িক নিষিদ্ধ করা হবে না।
এই ‘অকাট্য প্রমাণ’ আদৌ পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধান রিক প্যারি। গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ধারণকৃত মাজহার মাজিদের টাকা নেওয়ার ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি।