Saturday, May 8, 2010

জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্ত দিন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির উপকার ও জীবন রক্ষার্থে বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে নানা ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন। মানুষকে গভীর চিন্তা-ভাবনা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিবদ্ধ করে গবেষণার দ্বারা এর ব্যবহার পদ্ধতি বের করে নিতে হয়। বিজ্ঞান অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়ে এ বিষয়টি খুব সহজ হয়ে গেছে। তাই চিকিৎসাবিদ্যা যত উন্নত হবে মানবসেবা তত নিশ্চিত হবে। সমাজে চিকিৎসকেরা নানাভাবে মানবসেবা করে যাচ্ছেন, এ জন্য তাঁরা সাধুবাদ গ্রহণের পাশাপাশি সৎ নিয়ত ও আন্তরিকতা দ্বারা বাহ্যত জাগতিক কাজগুলোকেও ইসলামসম্মত কাজ বানিয়ে নিতে পারেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত- ২৯)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ফলে যুগে যুগে অসংখ্য মুসলিম মনীষী পবিত্র কোরআন ও হাদিস গবেষণা করে নিজেদের এ শাস্ত্রের পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞান চিকিৎসাব্যবস্থাকে অকল্পনীয় সহজলভ্য করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতে মুষ্টিমেয় কিছু দুরারোগ্য ব্যাধি ছাড়া প্রায় সব রোগের চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়েছে। এ জন্য ওষুধ প্রয়োগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর বিধি-নিষেধের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সুবিবেচনা কাম্য। অবশ্য অনন্যোপায় হলে জীবন রক্ষার্থে হারাম বস্তুও প্রয়োজন অনুযায়ী হালাল হিসেবে গণ্য হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ সব রোগের প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর এবং চিকিৎসা গ্রহণে হারাম বস্তু ও পন্থাকে বর্জন কর।’ (আবু দাউদ)
আবহমানকাল ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানবদেহের জন্য রক্তের ব্যবহার ব্যাপক। মানবসেবায় রক্তদান এবং রক্ত গ্রহণের আগে শরিয়তের সিদ্ধান্ত জেনে নিলে নেককাজে বিশেষভাবে আগ্রহ জন্মাবে। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের মূল্যবান জীবন ও দেহ সুরক্ষায় রক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য তরল উপাদান। যেকোনো দুর্ঘটনায় শরীর থেকে রক্ত ঝরে গেলে দেহের অভ্যন্তরে অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারে রক্তের অপচয় বেশি হলে, পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারে পুড়ে যাওয়া রোগীর যাদের হেমোডায়ালাইসিস চলছে তখন রক্তের খুব প্রয়োজন। অপারেশনের সময়, বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো নাজুক অবস্থায় রক্ত দেওয়া আবশ্যিক হয়ে পড়ে। মানবদেহে রক্তশূন্যতার জন্য রক্ত গ্রহণের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি রক্তের চাহিদা পূরণের জন্য রক্ত দেওয়া ও বিক্রয় বৈধ নয়। তবে বিনামূল্যে রক্ত না পেলে রোগীর জন্য রক্ত ক্রয় করা বৈধ, কিন্তু এতে বিক্রেতা গুনাহগার হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ আছে। সুতরাং যখন রোগ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা হয়, তখন আল্লাহর হুকুমে রোগী আরোগ্য লাভ করে।’ (মুসলিম)
স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান জীবন রক্ষা পায় এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে। নিয়মিত রক্ত দিলে নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। সৎকাজ ও নেক নিয়তের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে যথাযথ প্রতিদানও মিলবে। নিয়মিত রক্ত দিলে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ-ব্যাধি ধরা পড়ে। এ জন্য প্রথম অবস্থাতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। একজন সুস্থ লোকের রক্তের বিনিময়ে অন্য একজন অসুস্থ ও মুমূর্ষু ভাইয়ের জীবন রক্ষা পেলে শরিয়ত অনুমোদিত হওয়ায় আগ্রহচিত্তেই তা দেওয়া উচিত। মানবতার উপকার ও জীবন রক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার অপর ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।’ (মুসলিম)
স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার জন্য অনেক মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্তু সমন্বয়ের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও এর মাত্র ২৫ ভাগ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার মাধ্যমে আসে। ৫০ ভাগ রিপ্লেসমেন্ট ডোনার বা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনের মাধ্যমে এবং বাকি ২৫ ভাগ পেশাদার রক্তদাতার কাছ থেকে সংগৃহীত হয়। পেশাদার রক্তদাতারা এক-দুই মাস অন্তর বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের শরীর অপুষ্ট থাকে। তাঁদের দেহে যৌনবাহিত ও রক্তবাহিত বিভিন্ন রোগ থাকতে পারে। কারণ তাঁরা অনেকে মাদকাসক্ত ও অনিরাপদ জীবনযাপন করেন। পক্ষান্তরে অপেশাদার রক্তদাতারা অর্থের বিনিময়ে নয়, রোগীর প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিয়ে থাকেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোগ এবং ওষুধ দুটিই পাঠিয়েছেন এবং প্রতিটি রোগেরই ওষুধ প্রেরণ করেছেন। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। তবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করো না।’ (মিশকাত, সুনানে আবু দাউদ)
মানবজীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ইসলাম পরিপন্থী নয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান সব ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের শীর্ষে অবস্থান করছে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর পর্যন্ত যেকোনো সুস্থ-সবল মানুষ তিন মাস অন্তর রক্ত দান করতে পারে, এতে শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় না। রক্ত দেওয়ার সময় যদি কোনো রোগ-ব্যাধি যেমন জ্বর, ফোঁড়া প্রভৃতি থাকে এবং কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক চলে, তবে ওই মুহূর্তে রক্ত না দেওয়াই ভালো। কারও রক্তে যদি হেপাটাইটিসের জীবাণু ধরা পড়ে এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে তাকেও রক্তদানে নিরুৎসাহিত করা হয়। যে রক্তে রক্তবাহিত রোগ যেমন হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া অনুপস্থিত থাকে সাধারণত সে রক্তই নিরাপদ রক্ত। কাউকে রক্তদানের আগে রক্তাদাতার কোনো অসুখ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষণাগারে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা হয়। রক্তে অন্তত ১০ গ্রাম/ডেসিলিটার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে রক্তগ্রহীতার শরীরে রক্ত কোনো কাজে আসে না। কারণ রক্ত দেওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ভলিউম বা পরিমাণ প্রতিস্থাপন এবং লোহিত রক্তকণিকা (যাতে হিমোগ্লোবিন থাকে) প্রতিস্থাপন। এ লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন বা চার মাস। তাই চার মাসের আগে রক্ত দেওয়া নিরাপদ নয়। তাহলে রক্তের মধ্যে শ্বেতকণিকা ও অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট থাকে না। রক্তদানের জন্য পুরুষের ন্যূনতম ওজন ৫০ কেজি বা ১০০ পাউন্ড এবং নারীর ৯৫ পাউন্ড হওয়া বাঞ্ছনীয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্ত বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। তাই জরুরি মানবিক প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে সবার মানসিক প্রস্তুত থাকা উচিত। রক্তের সীমাহীন চাহিদা পূরণের জন্য ব্লাড ব্যাংকের ব্যবস্থা করা এবং স্বেছায় রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ করা একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য মানুষ যথেষ্ট আগ্রহী হলেও উদ্বুদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্য নয়। ব্লাড ব্যাংকের অন্যতম সংগঠন কোয়ান্টাম উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংগঠন ‘সন্ধানী’ ও ‘রেড ক্রিসেন্ট’-এর ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। বাঁধন, লায়ন্স ক্লাব ও অরকা ডোনার সংগ্রহের কাজ করে থাকেন। রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সমাজের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম-খতিব ও আলেমসমাজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। মুমূর্ষু লোকের জীবন রক্ষা ও জনসেবামূলক কাজে যেহেতু ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নেই, সেহেতু নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে রক্তদান বিষয়ক প্রচার, সেমিনার এবং ব্লাড ডোনেশন ডের মতো সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। dr.munimkhan@yahoo.com

চীনে টর্নেডোয় ২৯ জন নিহত

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংকিং শহরে গতকাল বৃহস্পতিবার এক শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। এ টর্নেডোর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৮ কিলোমিটার।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শক্তিশালী এ টর্নেডোয় ১৬০ জন আহত হয়েছে।
সিনহুয়া জানিয়েছে, চংকিং শহরের লিয়াংপিং ও দিয়ানজিয়াং এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। এ দুটি এলাকায় আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হত্যা ও হরতাল-রাজনীতির এই উত্তরাধিকার ছাড়তে হবে

সহিংসতায় হত্যাকাণ্ড, তার প্রতিবাদে পাল্টা সহিংসতা ও হরতাল—এই না হলে কি ‘রাজনীতি’ জমে? আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রলীগ এবং বিএনপি ও তার শরিক সংগঠনগুলো এ পথেই আবারও ‘রাজনীতি’ জমিয়ে তুলছে। রাজশাহীতে মহাসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া বিএনপির কর্মীদের বাস নাটোরের সিংড়ায় থামিয়ে হামলার ঘটনায় বগুড়ার বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজশাহীর ওই সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হরতাল দিলে সফল করতে পারবেন তো?’ ইতিমধ্যে বগুড়ায় হামলা ও হত্যার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি হরতাল ডেকে দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড আর হরতাল ডাকার উৎসাহ—কোনোটাই কাঙ্ক্ষিত ছিল না।
বিএনপির আঞ্চলিক মহাসমাবেশে যেতে কাউকে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার বা অধিকার নাটোরের সিংড়ার ছাত্রলীগ কর্মীদের নেই। তাঁরা অহেতুক সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং তাঁদের হামলায় ঝরে গেছে বিএনপির এক নেতার প্রাণ। কিন্তু এ ঘটনার যে প্রতিক্রিয়া বিএনপির কর্মীরা করেছেন, তাকে প্রতিবাদ না বলে প্রতিহিংসা বলাই ভালো। সেই পারস্পরিক প্রতিহিংসায় অনেকে আহত হয়েছেন, ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি পরিবহনসহ বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও দোকান। সম্প্রতি ঢাকাতেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের কর্মসূচি ভণ্ডুল এবং তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গেছে। রাজনীতির মধ্যে বাদ-প্রতিবাদ থাকবে, থাকতে পারে বিরোধিতাও। কিন্তু এ রকম বেপরোয়া সহিংসতা রাজনীতি নয়; যাঁরা এগুলো করেন তাঁদেরও রাজনৈতিক কর্মী বলা রাজনীতিরই অপমান। এ রকম সহিংসতা অপরাধ এবং দিনের পর দিন যারা তা চালিয়ে যায় তারা স্পষ্টতই ‘অপরাধী’। অপরাধ আর অপরাধীদের দাপটই যদি রাজনীতি হয়, তাহলে মানুষ ভরসা করবে কিসের ওপর?
এ রকম পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে হরতালের আওয়াজ ওঠানো আগুনে ঘি ঢালার সমান। প্রশ্নটা এই, রাজনীতি যদি জনগণের স্বার্থ দেখার জন্য হয়, তাহলে হরতালটা কার জন্য? জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়া কেবল কর্মীদের দিয়ে সড়ক দখল করা রাজনীতির কর্মসূচি হতে পারে কি? এ কারণেই বেগম জিয়ার ওই উক্তিটি হরতালের জন্য হরতাল করার সমার্থক হয়ে যায়।
সরকারি দলের বিভিন্ন শাখার কর্মীদের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির দায় দলের নেতৃত্বকেই নিতে হবে। সেখানেই উঠবে সরকারের দায়িত্বের কথাটিও। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার যেন প্রতিপক্ষকে গায়ের জোরে থামিয়ে দেওয়াতেই বেশি আগ্রহী। বিরোধী দল কিংবা জনমতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের ফল আখেরে বুমেরাং হতে পারে। অতীতে সহিংসতা আরও সহিংসতা ও বিপর্যয় টেনে এনেছে—সেই শিক্ষা যেন সরকারি ও বিরোধী দল মনে রাখে। সরকারি দল মার দেবে, বিরোধী দল মার খেয়ে হরতাল ডাকবে, এই ব্যাধি থেকে রাজনীতির নিরাময় প্রয়োজন।

নেপালে ধর্মঘটবিরোধীদের সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্মঘটবিরোধী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মাওবাদীদের বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে মাওবাদীদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে টানা পঞ্চম দিনের মতো দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। চিকিৎসাব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
পুলিশের মুখপাত্র বিজ্ঞানরাজ শর্মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, মাওবাদীবিরোধী বিক্ষোভকারী ও মাওবাদীদের মধ্যে ছোটখাটো কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের সামান্য শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে তারা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।
সাধারণ জনগণের ক্রমবর্ধমান সমস্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘দ্য ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন’। কমিশনের মুখপাত্র গৌরী প্রধান বলেন, চিকিৎসা-পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে খবর আছে—রোগীরা হুইল চেয়ারে করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
প্রধান আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীরা হাসপাতালে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ধর্মঘটের কারণে পরিবহনব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় প্রয়োজনীয় ওষুধের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কলকাতার মেয়র সুব্রত যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে

পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভা ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য কংগ্রেসে ভাঙন শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি ও কলকাতার সাবেক মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভা ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে ইতিমধ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভেঙে গেছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩০ মে। তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোট ভাঙার পর ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা এককভাবে ৮২টি পৌরসভার নির্বাচনে লড়বেন। অন্যদিকে কংগ্রেসও ঘোষণা দিয়েছে, তারাও একাই লড়বে।
এদিকে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভেঙে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি ও কলকাতার সাবেক মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায় গত বুধবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
এদিকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের বিষয়টি কংগ্রেস হালকাভাবেই নিয়েছে। কংগ্রেস বলেছে, ২০০০ সালের নির্বাচনে সুব্রত তৃণমূলের টিকিটেই কলকাতার মেয়র হয়েছিলেন। আবার ঠিক ২০০৫ সালের নির্বাচনের মুহূর্তে মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। এবার আবার ২০১০ সালে পৌর করপোরেশন নির্বাচনের আগে যোগ দিলেন তৃণমূলে। তাই সুব্রতর এই যোগদানে কংগ্রেসের কোনো ক্ষতি হবে না।

কম ঘুম মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়!

যুক্তরাজ্য ও ইতালির গবেষকেরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রতিরাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানো মানুষকে অকালমৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষকেরা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গবেষকেরা বলছেন, যাঁরা নিয়মিতভাবে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের মধ্যে শতকরা ১২ ভাগের অকালমৃত্যু ঘটে। দিনে নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমের সঙ্গে অকালমৃত্যুর সম্পর্কও খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা।
১৬টি গবেষণার ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৫ লাখ মানুষের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে আগে পরিচালিত গবেষণাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘুম ও মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকেরা বলছেন, অকালমৃত্যুর সঙ্গে প্রতিরাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টার ‘আদর্শ’ ঘুমের চেয়ে কম ঘুম কিংবা বেশি ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, কম ঘুমের সঙ্গে হয়তো বা শারীরিক অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে; শেষ পর্যন্ত যা অকালমৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু তাঁরা মনে করছেন, অতিরিক্ত ঘুমালেও অকালমৃত্যু হতে পারে।
গবেষকেরা বলেন, ভালো স্বাস্থ্যের জন্য কেন ঘুম এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে—তা সঠিকভাবে জানার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে রাজি হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের কাছে মাথা নত করলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা। পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন নির্বাচন দিতে সম্মত হয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে ভেজ্জাজিভা বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন। এখন ইচ্ছে করলে যে কেউ নির্বাচনের তারিখ গোনা শুরু করতে পারে। এর আগে অভিজিৎ আগামী ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেন। তবে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, দুই মাস ধরে চলা আন্দোলনের অবসান ঘটাতে হলে সরকারকে আরও আলোচনা করতে হবে। বিক্ষোভকারীরা নভেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং অনতিবিলম্বে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। এপি ও এএফপি।
নতুন নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী ব্যাংককের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাপন্থী বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের এই আন্দোলনের কারণে ইতিমধ্যে থাই অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যাংককের যে এলাকায় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিলাসবহুল হোটেল ও দামি এপার্টমেন্টগুলো অবস্থিত, সেখানকার ১ দশমিক ২ বর্গমাইল এলাকাই এখন বিক্ষোভকারীদের দখলে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর কারণে সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কমে গেছে পর্যটক। শেয়ারবাজারের অবস্থাও খারাপ। দেশের এই দুঃসময়ের কথা চিন্তা করেই থাই প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ গতকাল দলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সংকট নিরসনে তিনি একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। এতে তিনি নতুন নির্বাচনের রূপরেখা তুলে ধরেন।
অভিজিৎ বলেন, তিনি চলমান রাজনৈতিক সংকটের অবসানের জন্য নতুন নির্বাচন দেবেন, এ জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে বিলুপ্ত করা হবে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে রাজি হননি। পার্লামেন্টের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান। থাইল্যান্ডে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হলে নির্বাচন হবে নভেম্বরে। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফিরে না গেলে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বা অন্য কারও সঙ্গে আর আলোচনায় বসবেন না। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির উপমুখপাত্র ওয়ারং দেচকিতভিরং একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট বিলুপ্ত নাও করতে পারেন।
লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের নেতা নাতাউত সাইকুয়া বলেছেন, অনেক ইস্যু অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের সঙ্গে তাঁদের আরও আলোচনা করা দরকার। রাজপথ ছাড়ার আগে তাঁরা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরকারকে আলোচনায় বসার দাবি জানান। ১৪ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও নতুন নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।
এদিকে সরকারপন্থী হলুদ শার্ট পরা নেতারা গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের কাছে মাথা নত করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিজিতের রোডম্যাপের সমালোচনা করেন। অনেকে এমনও বলেন, প্রধানমন্ত্রী লালশার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

জাপানে বন্ধ থাকা পরমাণু চুল্লি ফের চালু

জাপানের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি পরমাণু চুল্লি আবার চালু করা হয়েছে। সে দেশের পরমাণু শক্তি সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছে। ১৪ বছর আগে ওই পরমাণু স্থাপনায় আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানান, সরকারের নির্দেশে উত্তরাঞ্চলীয় সুরুগা শহরে অবস্থিত মনজু নামের ওই প্লুটোনিয়াম-চালিত চুল্লি আবার চালু করা হয়।
চুল্লি থেকে পরমাণু বিক্রিয়া প্রতিরোধক ও নিয়ন্ত্রক রড খুলে ফেলার পর মনজুর মহাপরিচালক কাজুও মুকাই আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি চালু হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পরমাণু চুল্লিতে সাধারণত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখানে তার বদলে জ্বালানি হিসেবে প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করা হবে। প্লুটোনিয়াম থেকে একধরনের রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান উৎপাদন করা হবে, যা বিদ্যুতের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। চুল্লি পুরো মাত্রায় চালু হতে কাল শনিবার পর্যন্ত সময় লাগবে। এখান থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন শুরু হবে ২০১৩ সালে।
জাপান ছাড়া শুধু রাশিয়া ও ভারত এ ধরনের চুল্লিতে জ্বালানি উৎপাদন করে থাকে।

বিলিয়নিয়ার মায়ের তালিকায় ক্রিস্টি ওয়ালটন শীর্ষে

বিশ্বের শীর্ষ ৭০ বিলিয়নিয়ার মায়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস্টি ওয়ালটন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন ওয়াল-মার্ট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের ছেলে প্রয়াত জন ওয়ালটনের স্ত্রী। উত্তরাধিকার সূত্রে ক্রিস্টি মোট দুই হাজার ২৫০ কোটি ডলারের মালিক। আগামী রোববার ‘বিশ্ব মা দিবস’ সামনে রেখে ফোর্বস এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
তালিকার দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছেন লিলিয়ান বেটেন কোর্ট। ফরাসি এই বিধবা নারীর বাবা ছিলেন এল’ওরিয়েল অ্যান্ড বিরগিট রাওজিং’ নামের কসমেটিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। উত্তরাধিকার সূত্রে লিলিয়ান মোট ২০০ কোটি ডলারের মালিক। তিনি এক সন্তানের জননী ।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী এই ৭০ মায়ের মধ্যে মাত্র আটজন নিজেরা পরিশ্রম করে শতাধিক কোটি ডলার আয় করেছেন। অন্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁদের বাবা, স্বামী কিংবা ছেলেদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
নিজেরা পরিশ্রম করে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন—এমন মায়েদের শীর্ষস্থানে রয়েছেন মার্গারেট হুইটম্যান। যিনি মেগ নামেই বেশি পরিচিত। প্রিন্সটন অ্যান্ড হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করা এই নারী ডিজনি এবং হ্যাসব্রোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী এই নারী অন্তত ১৩০ কোটি ডলারের মালিক। নিজে পরিশ্রম করে কোটি ডলার আয় করেছেন—এমন নারীদের মধ্যে ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাউলিংও রয়েছেন।

বিমান দুর্ঘটনায় ইউকেআইপির এক প্রার্থী আহত

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ইউকে ইনডিপেন্ডেনস পার্টির (ইউকেআইপি) প্রার্থী নিগেল ফারেজ বিমান দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর দল এ কথা জানায়। ফারেজ ইউরোপীয় পার্লামেন্টেরও একজন প্রভাবশালী সদস্য।
স্থানীয় সময় সাতটার কিছু পরে বিমানটি লন্ডনের নর্দাম্পটনশায়ার বিমানক্ষেত্রে অবতরণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন, নিগেল ফারেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তকারীরা বিমান দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে ওই বিমানের পাইলটের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে বিমান কেটে বের করা হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইউকেআইপির মুখপাত্র আরও জানান, দল ফারেজকে নিয়ে খুবই উদ্বেগের মধ্যেরয়েছে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, বিমানে মাত্র দুজন আরোহী ছিলেন। একজন হলেন বিমানচালক, অপরজন ফারেজ। তাঁরা উভয়েই এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

টাইমস স্কয়ারের সূত্র ধরে জঙ্গিদের নাগাল পেতে চাইছেন গোয়েন্দারা

নিউইয়র্কে হামলা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানের তালেবান জঙ্গিদের যোগসাজশ থাকার সূত্র ধরে বিভিন্ন জঙ্গি নেটওয়ার্কের নাগাল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গত শনিবার টাইমস স্কয়ারে হামলার চেষ্টায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদকে আটক করা হয়। পাকিস্তানভিত্তিক তালেবান জঙ্গিরা ওই হামলা পরিকল্পনার দায় স্বীকার করেছে। আটককৃত ফয়সাল নিজেও তালেবান ঘাঁটিতে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সে সুবাদে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, ফয়সাল ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সুতো ধরে আসল জঙ্গি নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত জীবনব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে শাহজাদের মতো একজন তরুণ কেন জঙ্গিদের পথ বেছে নিতে গেলেন, তা পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত অ্যানি প্যাটারসন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির সঙ্গে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেছেন, জঙ্গি শনাক্ত করতে তাঁরা পাকিস্তানের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ওবামা প্রশাসন ওই হামলা পরিকল্পনার তদন্তে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা চেয়ে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর এ বিষয়ে পুরোদমে তদন্ত শুরু হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, টাইমস স্কয়ারে হামলা পরিকল্পনার ছেঁড়া ছেঁড়া তথ্যপ্রমাণ জোড়া দিয়ে পাকিস্তানের বিছিন্ন জঙ্গি গ্রুপগুলোর হাঁড়ির খবর পাওয়া সহজ হবে না। পাকিস্তানে এখন অসংখ্য ছোট-বড় জঙ্গি গ্রুপ আছে। তাদের সবার মধ্যে মার্কিনবিদ্বেষ রয়েছে। সে সুবাদে তাদের মধ্যে আদর্শিক মিল রয়েছে। কিন্তু তারা একই চেইন অব কমান্ডে কাজ করে না। সে কারণে একটির সূত্র ধরে অন্যটির কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
বলা হচ্ছে, ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর আল-কায়েদার গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে। সিআইএ ওসামা বিন লাদেন ও তাঁর সহচরদের সম্পর্কে যে সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছিল, তা বর্তমান জঙ্গি তৎপরতায় নজরদারির ক্ষেত্রে কাজে আসছে না।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাতে উল্টো ফল হয়েছে। আল-কায়েদার ছড়ানো-ছিটানো নেতারা পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন গ্রুপে মিশে গেছে। তাদের সহায়তা নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে গ্রুপগুলো শেকড় গেড়ে বসছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা স্ট্র্যাটফোরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক কামরান বোখারি বলেন, তালেবান ও আল-কায়েদার প্রচলিত চরিত্র ও প্রকৃতি এখন আর নেই। বিভিন্ন দল উপদলের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তা খুবই অস্পষ্ট।

রিগ দুর্ঘটনার একটি ছিদ্র বন্ধ, তেল নিঃসরণ কমেনি

বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট যে তিনটি ছিদ্র দিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ছে—এর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। তবে এতে তেল বের হওয়া তেমন কমেনি। নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন জ্বালিয়ে তেল শুষে নেওয়ার কাজ আবার শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিপি ও তাদের যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ট্র্যান্সওশানের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল বলে তথ্য বেরিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এখন অতীতের এসব ঘটনা বের হওয়ায় তা উদ্বেগ আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ডিপওয়াটার হরাইজন রিগ থেকে এখনো প্রতিদিন প্রায় আট লাখ লিটার হারে তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, একটি ছোট ছিদ্র বন্ধ হওয়ায় তেল নিঃসরণের পরিমাণে কোনো হেরফের হবে না। তবে তিনটির বদলে এখন দুটি ছিদ্র নিয়ে কাজ করতে হবে বলে তেল ছড়িয়ে পড়া সামাল দেওয়ার কাজ কিছুটা সহজ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, নিয়ন্ত্রিত আগুনের মাধ্যমে উন্মুক্ত সাগর থেকে তেল অপসারণের কাজ আবার শুরু হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল সর্বশেষ এভাবে আগুনের মাধ্যমে তেল অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই দিন কয়েক হাজার লিটার তেল সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়।
আগুনের কারণে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘটনার ব্যাপারে স্থাপিত তথ্যকেন্দ্র বলছে, নিয়ন্ত্রিত আগুনের কারণে বন্য প্রাণীর বসবাস রয়েছে—এমন কোনো এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ ছাড়া সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী কিংবা সামুদ্রিক কচ্ছপের ওপরও কোনো প্রভাব পড়বে না।
সমুদ্রপৃষ্ঠে তেল টেনে আনার জন্য ছিদ্রমুখে একটি বিশেষ বাক্স স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে সমুদ্রের এত গভীরে কখনোই এ ধরনের যন্ত্র স্থাপন করেনি বিপি।
এদিকে বিপিকে এ ধরনের ত্রুটির ব্যাপারে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও সতর্ক করে দিয়েছিল বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের হেলথ অ্যান্ড সেফটি এক্সিকিউটিভ ২০০৫ সালে বলেছিল, একটি রিগে বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কন্ট্রোল প্যানেল দক্ষতার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। এ ছাড়া অন্য একটি রিগের বিস্ফোরণ প্রতিরোধী যন্ত্রে ব্যবহূত যন্ত্রাংশে ত্রুটির জন্য ২০০৬ সালে ট্র্যান্সওশানকে তিরস্কার করেছিল যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার দায় এড়াতে চাইছে বিপি। লোকজন, যন্ত্রপাতি সবই ট্র্যান্সওশানের—এ কথা উল্লেখ করে বিপির প্রধান নির্বাহী টনি হেওয়ার্ড বলেন, ‘এটা আমাদের দুর্ঘটনা নয়। এটা আমাদের ড্রিলিং রিগ নয়।

অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেটের প্রথম দিনে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। দিনের অন্য ম্যাচে রাজশাহী বিভাগের (উত্তর) ২৮৮ রানের জবাবে প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৪৮ রান করেছে বরিশাল বিভাগ।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দিনের ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে এক দিনেই। ৫২.২ ওভারে করা ঢাকা মেট্রোর ১২৮ রানের জবাবে ৩৯.৫ ওভারেই ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম। সিটি ক্লাব মাঠের অন্য ম্যাচে ৮০ ওভারে ২৮৮ রান করেছিল রাজশাহী। জবাবে কাল ১৩ ওভার ব্যাট করে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান করেছে বরিশাল।

সিরাজ মেমোরিয়াল ক্রিকেট

রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে কাল থেকে শুরু এবি ব্যাংক সিরাজ মেমোরিয়াল ক্রিকেটে উদ্বোধনী খেলায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুক্তি সংঘ (৬৯/২) ৮ উইকেটে সারদা একাডেমিকে (৬৮/৯) হারিয়েছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন রাজশাহীর সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান।

ঢাকায় বার্সেলোনার কোচিং দল

বার্সেলোনা কোচিং স্কুলের তিন তরুণ ফুটবল কোচ বাংলাদেশে এসেছেন। ইউরোপের বিখ্যাত ক্লাবটির কোচিং দর্শন কী, এই সফরে তাঁরা সেটাই জানাবেন।
দলটিকে নিয়ে এসেছে জাপানের নামকরা জিপার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইকেকে। করপোরেট দায়বদ্ধতা থেকে ২০০৭ সালে এই কর্মসূচির প্রথম বছর সিঙ্গাপুর, পরের বছর ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ, গত বছর ভিয়েতনাম ও ভারত ঘুরে এবার থাইল্যান্ডের সঙ্গে আবার বাংলাদেশে কোচিং দল নিয়ে এল ওয়াইকেকে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল ইতালির ক্লাব এএস রোমার কোচিং দল। এখানে স্থানীয় কোচ ও কিশোর ফুটবলারদের নিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত কোচিং ক্লিনিক করেছিল।
এবারও অনেকটা সে রকম কর্মসূচিই হচ্ছে। কাল ৩০ জন কোচ নিয়ে বুয়েট মাঠে প্রথম দিনটি কাটিয়েছে বার্সেলোনার কোচিং দল। আজ ও আগামীকাল তাদের তত্ত্বাবধানে থাকবে ১০-১৪ বছরের আড়াই শ কিশোর।
তিন দিনের কর্মসূচির বিস্তারিত কাল স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানাতে গিয়ে বার্সেলোনা কোচিং দলের সদস্য এনরি দুরান বললেন, ‘বার্সেলোনা শুধুই একটি ক্লাব নয়। খেলার বাইরেও আমাদের অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ড আছে। আমরা বার্সেলোনার দর্শনটা এখানে জানাতে চাই।’ ঢাকায় ওয়াইকেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিয়োরি আশিমার কথা, ‘বিভিন্ন দেশের ফুটবল উন্নয়নে অবদান রাখতেই আমাদের এই কর্মসূচি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহসভাপতি শওকত আলী খান, কাজী নাবিল আহমেদ প্রমুখ।

উইন্ডিজ ‘এ’ দলের জয় দিয়ে শুরু

দুই দলের জন্যই কন্ডিশনটা অপরিচিত। তার পরও দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় আসা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের এদিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার কথা তিন দিন আগে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের চেয়ে। কিন্তু কন্ডিশনের ‘সুবিধা’ তারা আর নিতে পারল কই? কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ত্রিপক্ষীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ১১ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সামনে খুব বড় স্কোর দিতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’। কিন্তু ৪৯.৩ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তারা যে ২২৪ রান করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকানদের ইনিংস থেমে গেছে তার ১১ রান আগে! ওপেনার ফন উইক ৮৯ বলে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন। ৭০ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭২ রানের জুটিতেও সঙ্গী ফন উইক, চতুর্থ উইকেটে তাঁর সঙ্গী ছিলেন রায়ান বেইলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের অফ স্পিনার শেন শিলিংফোর্ড ২২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এর আগে সকালে ইনিংসের তৃতীয় বলেই ওপেনার জাস্টিন গুইলেনের উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল। তবে আরেক ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ (৩৯), ট্রেভিস ডাওলিন (৩৯), ক্রিক এডওয়ার্ডস (৪৯) ও চ্যাডউইক ওয়াল্টনের (৩১) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত যে স্কোরটা দাঁড়াল, ক্যারিবিয়ানদের জেতার জন্য যথেষ্ট হলো সেটাই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ৪৯.৩ ওভারে ২২৪/৯ (এডওয়ার্ডস ৪৯, স্মিথ ৩৯, ডাওলিন ৩৯, শিলিংফোর্ড ৩১; ফিলান্ডার ২/৩২, শাবালালা ২/৩৬, বেইলি ২/৪০, হ্যারিস ২/৪৪, তোতসবে ২/৬৫)। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৪৭.৫ ওভারে ২১৩ (ফন উইক ৫১, বেইলি ৩৫, ইনগ্রাম ২৯, মিলার ২৬)। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল ১১ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেন শিলিংফোর্ড।

৩৮ বলে সেঞ্চুরি!

পুরুষ ক্রিকেটারদের রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিলেন ডিয়ান্দ্রা ডট্টিন। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মিডল-অর্ডার। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে পুরুষদের ক্রিকেটে রেকর্ডটি যৌথভাবে ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। ডট্টিনের সেঞ্চুরিতে পরশু সেন্ট কিটসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ম্যাচে নির্ধারিত ওভার ও ‘ওয়ান ওভার এলিমিনেটরে’ টাই হওয়ার পর ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি ছক্কা মারায় জিতে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
ডট্টিন যখন উইকেটে নেমেছিলেন তিনি দশম ওভারে! যখন উইকেটে নামলেন, দলের রান ৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৫২। ইনিংসের বাকি ৬৪ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ১২৩ রান। ৭ চার ও ৯ ছয়ে এর ১১২ রানই এসেছে ডট্টিনের ব্যাট থেকে, মাত্র ৪৫ বলে। ২৫ বলে করেছিলেন প্রথম ফিফটি, দ্বিতীয়টি ১৩ বলে। পঞ্চম উইকেটে গড়েছেন ১১৮ রানের জুটি, যেটিতে শ্যানেল ডেনিলের অবদান মাত্র ৮। এটিও আবার মহিলা-পুরুষ মিলিয়েই রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭৫ রানও মহিলা টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা করতে পেরেছে ১৫৮। ওয়েবসাইট।
একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দুই দলই অলআউট হয় ১০৪ রানে। ‘ওয়ান ওভার এলিমিনেটরে’ও দুই দল তোলে ৬ রান করে। অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় ১টি ছয় মারায়, ইংল্যান্ড পারেনি একটিও মারতে।

ইন্টারের হাতে তিনের ‘প্রথম’

হ্যারি রেডন্যাপ তখন ১৫ বছরের উঠতি কিশোর ফুটবলার। খেলেন ওয়েস্টহামের যুব দলে। সেবার ইউরোপিয়ান কাপ, মানে এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংল্যান্ডের পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে চলছিল টটেনহাম। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে বেনফিকার কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে আর ফাইনালে খেলা হয়নি স্পারদের।
সেই হ্যারি রেডন্যাপের হাত ধরে প্রায় আধা শতাব্দী পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিল টটেনহাম। পরশু ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে ঘুচিয়ে দিল ৪৮ বছরের অপেক্ষা। ৮২ মিনিটে পিটার ‘রোবো’ ক্রাউচের হেডই আসলে চ্যাম্পিয়নস লিগে পৌঁছে দিল তাদের।
তবে মূল কৃতিত্ব অবশ্যই রেডন্যাপের। ২০০৮ সালের অক্টোবরে লিগ চলার মাঝপথে হুয়ান্দে রামোসের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। টটেনহাম তখন প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আট ম্যাচে মাত্র দুটো পয়েন্ট পেয়ে রেলিগেশনের শঙ্কায়। এমন বাজে শুরু করা দলটাই কিন্তু গতবার লিগ শেষ করেছে আট নম্বরে থেকে! আর এবার তো টটেনহামকে আবারও ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদার লড়াইয়েই নিয়ে গেলেন এই ৬৩ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ। রূপ বদলের এ এক দারুণ গল্প।
রূপকথার খোঁজে ছিল সিটিও। আরব ধনকুবের মালিক ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর চেলসিকে আদর্শ মেনে এগিয়ে যেতে চেয়েছিল। রবিনহো-তেভেজদের দলে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতালির নামজাদা কোচ রবার্তো মানচিনিও এসেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটুর জন্য পারল না তারা।
ওদিকে ইতালিয়ান দৈত্য ইন্টার মিলান তাদের প্রথম ‘শিরোপাত্রয়ী’র পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। পরশু ডিয়েগো মিলিতোর একমাত্র গোলে রোমাকে হারিয়ে ইতালিয়ান কাপ জিতল হোসে মরিনহোর দল। এই রোমার সঙ্গেই লিগ শিরোপার লড়াই চলছে ইন্টারের। ৩৬ ম্যাচ শেষে ইন্টারের পয়েন্ট ৭৬, রোমার ৭৪। ফলে টানা পঞ্চম লিগ শিরোপার পথেও ভালো মতোই ছুটছে তারা। ইন্টারের পাখির চোখ বানানো তৃতীয় শিরোপাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। যেখানে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ।
ফরাসি লিগেরও শিরোপার মীমাংসা হয়ে গেল পরশু। রেনেকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ১৮ বছর পর লিগ শিরোপার স্বাদ পেল মার্শেই। গোলের শুরুটা করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের লিগ শিরোপা জেতার বিরল খেলোয়াড়দের একজন হয়ে গেলেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।

দ. আফ্রিকা একাডেমির জয়

প্রথম ম্যাচটা হারলেও কাল সিরিজে সমতা নিয়ে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিপি-বিসিবি একাডেমিকে তারা হারিয়েছে ১৫ রানে। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান করেছিল সফরকারীরা। জন্ডোর সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৯ রান। জবাবে ৪৬.৪ ওভারে ২২২ রানে অলআউট হয়েছে জিপি-বিসিবি একাডেমি দল। মাত্র ২০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও বিসিবি একাডেমি দল লড়াই চালিয়ে যেতে পেরেছে ষষ্ঠ উইকেটে শুভাগত হোম (৮৪) ও নাসির হোসেনের (৮২) ১৪৩ রানের জুটির সৌজন্যে।

আনন্দিত ও ক্ষুব্ধ ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার দলটা কেমন হতে যাচ্ছে? দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবচেয়ে বড় ‘কুইজ’ বোধ হয় এটাই। সেই কুইজের প্রথম সমাধান, মানে ৩০ সদস্যের দল ঘোষণা হয়ে যাবে সোমবার। এর আগে আরেকবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের যাচাই করে নেওয়ার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
হাইতির বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টাইন লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনা দল জিতেছে ৪-০ গোলে। ফাকুন্দো বার্তোগিলো দুটি ও সেবাস্তিয়ান ব্ল্যাঙ্কো একটি গোল করেছেন। এ দুজনের গোল তাঁদের জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা জাগাক আর না-ই জাগাক, বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পাওয়ার পথে নিজেকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে গেছেন মার্টিন পালের্মো।
ম্যারাডোনার কল্যাণে দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা বোকা জুনিয়র্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা পালের্মোও করেছেন এক গোল। ম্যারাডোনা পালের্মোর কথা ভাবছেন কি না, সেটা পরিষ্কার হয়নি। তবে হাইতির বিপক্ষে এই ম্যাচ দেখে আর্জেন্টাইন কোচ নাকি তাঁর দলের একটা কাঠামো পেয়ে গেছেন।
মেসি, তেভেজ, হিগুয়েইন, আগুয়েরোর মতো ইউরোপ মাতানো খেলোয়াড়েরা তো আছেনই। ম্যারাডোনা খুশি এই ভেবে যে স্থানীয় বেশ কিছু খেলোয়াড়কে তিনি এই ম্যাচ থেকে মার্কা মেরে রাখতে পেরেছেন ‘সত্যি কথা হলো, আমি বিশ্বকাপ দলে খালি জায়গা পূরণ করতে কয়েকজন খেলোয়াড় খুঁজছিলাম। আমার ধারণা, কয়েকজনকে পেয়ে গেছি। কয়েকটা পজিশন নিয়ে আমার একটু সংশয় ছিল। সেদিক দিয়ে ম্যাচটা খুবই উপকারই করেছে।’
দল গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে ম্যারাডোনা যতই খুশি হোন, চটেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনার ওপর। চটার কারণও আছে। গ্রন্দোনা বাতিল করে দিয়েছেন ২৯ মে দুবাইয়ে প্রস্তাবিত আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে এই ম্যাচটি খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার, ‘আমি একটা খারাপ খবর পেলাম যে, ম্যাচটা হচ্ছে না। কিন্তু ম্যাচটা দরকার ছিল। আমি খেলোয়াড়দের কথা দিয়েছিলাম যে, আমরা রিভার প্লেটের মাঠে কানাডার বিপক্ষে ২৬ তারিখের ম্যাচটা খেলে দুবাই যাব।’
গ্রন্দোনার ‘অপরাধ’ শুধু ম্যাচ বাতিল করা নয়। আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে গ্রন্দোনা নাকি ৪০ সদস্যের একটা অতিথিদল নিয়ে যেতে বলেছেন। চটে যাওয়া ম্যারাডোনা বলছেন, তিনি সভাপতির সঙ্গে দেখা করে তাঁর ক্ষোভের কথা জানাবেন।

ক্যাচ ফেলে হারল পাকিস্তান

অননুমেয়’ পাকিস্তান একটা ব্যাপারে কিন্তু খুবই ‘অনুমানযোগ্য’। ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে হয়তো আগাম কিছু বলা মুশকিল, কিন্তু তাদের ফিল্ডিং যে ভয়াবহ হবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কাল বারবাডোজে দেখা গেল পাকিস্তানি ফিল্ডিংয়ের আরেক দফা নমুনা। যার খেসারত দিয়ে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে তারা হারল ৬ উইকেটে।
০ রানে লোপ্পা ক্যাচ দিয়েছিলেন ক্রেগ কিসওয়েটার, আরেকবার ২ রানে আর ১৯ রানের মাথায় মাইকেল লাম্ব। তিনটি ক্যাচই ফেলেছেন সাঈদ আজমল।
তবে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে পিটারসেনের ক্যাচ ফেলে। নিজের বলে এটি ফেলেছেন রাজ্জাক। ২১ রানে পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়কও পিটারসেন। ৫২ বলে তাঁর অপরাজিত ৭৭ রানে পাকিস্তানের দাঁড় করানো ১৪৮ রানের লক্ষ্যটা ৩ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে টপকে গেছে ইংল্যান্ড।
২০ ওভার খেলেও পাকিস্তান ১৪৭-এর বেশি করতে পারেনি একের পর এক ব্যাটসম্যানের আত্মহত্যায়। উইকেটে থিতু হয়েও ফিফটি করতে পারেননি প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কেউই। ২৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৪ সালমান বাটের, উমর আকমল করেছেন ২৫ বলে ৩০।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৭/৯ (বাট ৩৪, উমর ৩০, হাফিজ ১৮; ইয়ার্ডি ২/১৯, ব্রড ২/২৫, সাইডবটম ২/২৮, সোয়ান ১/২৭, ব্রেসনান ১/৩৬)।
ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৫১/৪ (লাম্ব ২৫, কিসওয়েটার ২৫, পিটারসেন ৭৩* কলিংউড ১৬, মরগান ৫, রাইট ১*। আজমল ২/১৮, রাজ্জাক ১/২২, আফ্রিদি ১/২৮, আসিফ ০/৪৩)।

ভারতের স্পিন আর অস্ট্রেলিয়ার পেস

গত বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির কথা মনে আছে? টপ ফেবারিট হিসেবে ইংল্যান্ড গিয়েছিল ভারত, তাদের ব্যাটিং লাইনআপকে বলা হচ্ছিল বিশ্বসেরা। সুপার এইটে হঠাৎ করেই প্রতিপক্ষ দলগুলো আবিষ্কার করল শর্ট বলে ভারতীয়রা দুর্বল। তাতে কাজও হলো, সুপার এইটে সব ম্যাচ হারল চ্যাম্পিয়নরা। এবার অনায়াস দুটি জয়ে প্রথম পর্ব পেরিয়েছে ভারত। কিন্তু আসল পরীক্ষা তো শুরু আজ, ভারতের প্রতিপক্ষ বারবাডোজের উইকেট আর অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলাররা।
ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে এখনো মনে করা হয় বিশ্বসেরা। তবে গতবারের উদাহরণটা তো সবার সামনে থাকছেই। অস্ট্রেলিয়া ফাস্ট বোলিংকে পুঁজি করে টি-টোয়েন্টির শিরোপা-খরা ঘোচানোর ঘোষণা দিয়েছে আগেই। পরশুই বাংলাদেশের বিপক্ষে যে উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন টেইট, ন্যানেসরা। গত বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে শর্ট বলে ভারতকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা করতেই পারে অস্ট্রেলিয়া। ভারত আবার আজই প্রথম নামছে বারবাডোজে, আগের দুটি ম্যাচই তারা খেলেছে সেন্ট লুসিয়ায়। উইকেটের ব্যাপারটা যে মাথায় রাখতে হচ্ছে, সেটাই জানিয়েছেন গৌতম গম্ভীরও, ‘আমরা এখনো বারবাডোজে খেলিনি, তাই জানি না উইকেট কেমন হবে। তবে অনেকের কাছেই শুনলাম উইকেটে গতি ও বাউন্স আছে।’
দলের প্রতিনিধি হিসেবে গম্ভীর কথা বলেছেন জেনেই অবশ্য ভারতীয় সমর্থকদের স্বস্তি পাওয়ার কথা। ইনজুরিতে আগের ম্যাচটা বাইরে বসে থাকা ওপেনার আজ ফিরছেন। তবে ভারতের জন্য একটা দুঃসংবাদও আছে। শুধ এই ম্যাচ নয়, তলপেটের ইনজুরিতে পুরো টুর্নামেন্টেরই বাইরে চলে গেছেন পেসার প্রাভিন কুমার। ভারত তিন পেসার নিয়ে নামলে আজ অভিষেক হয়ে যেতে পারে বিনয় কুমারের। ভারত যেখানে হারিয়েছে এক পেসারকে, অস্ট্রেলিয়া সেখানে ফিরে পাচ্ছে ইনজুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে না খেলা ফাস্ট বোলার মিচেল জনসনকে। পাকিস্তান ম্যাচে সেন্ট লুসিয়ার মন্থর উইকেটেও ২৩ রানে ২ উইকেট পেয়েছিলেন জনসন, তাঁকে পাওয়ায় বেড়ে যাবে ব্যাটিং শক্তিও। তবে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা কম, বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত করা স্টিভেন স্মিথকে বাদ দেওয়াটা কঠিন হবে।
তবে এই বোলিং আক্রমণ নিয়েও ঠিক স্বস্তিতে নেই মাইকেল ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক চিন্তিত ভারতের স্পিন আক্রমণ নিয়ে। উইকেটের বাউন্সটা কাজে লাগে স্পিনারদেরও, উইকেটে আছে টার্নও। বাংলাদেশের স্পিনাররাই যেভাবে ভুগিয়েছেন, হরভজন-পীযূষরা নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলবেন না! স্পিনারদের নিয়ে তাই আলাদা পরিকল্পনাও নাকি করে ফেলেছেন ক্লার্ক, ‘ভারতের দারুণ কিছু স্পিনার আছে, হরভজন তো বিশ্বসেরাদেরই একজন। ওকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমাদের দলে সবারই স্পিন খেলার আলাদা ধরন আছে। আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং পরিকল্পনায় অটল থাকতে হবে।’
টি-টোয়েন্টিতে দু দল মুখোমুখি হয়েছে তিনবার, ভারতের জয় দুটি আর অস্ট্রেলিয়ার একটি। বিশ্বকাপের একমাত্র মুখোমুখি ম্যাচে ২০০৭ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫ রানে হারিয়েছিল ভারত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রেরণা টি-টোয়েন্টিতে ভারতের একশর নিছে একমাত্র স্কোরটা (৭৪) তাদের বিপক্ষেই।
আজকের দ্বিতীয় ম্যাচটি যেমন পেস-স্পিনের লড়াই, প্রথম ম্যাচটিও তাই। দক্ষিণ আফ্রিকার মূল শক্তি স্টেইন-মরকেল-ল্যাঙ্গেভেল্টরা আর নিউজিল্যান্ডের ভেট্টোরি-ম্যাককালাম। তবে এখনো স্বরূপে দেখা না গেলেও বারবাডোজের উইকেট জাগিয়ে দিতে পারে শেন বন্ডকেও!

আফগানদের স্বপ্ন নিয়ে ফেরা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেটটাকে দেখল বিশ্ব। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটাতেও যে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে আফগান তরুণ ক্রিকেটাররা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সেটাই। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আর সামনে এগোনোর জন্য যে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে, সেটার জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের সাহায্যপ্রার্থী আফগানিস্তানের পাকিস্তানি কোচ কবির খান।
পরশু দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫৯ রানের পরাজয়ে আফগানদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও এখান থেকেই নতুন দিনের সূচনা দেখছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার কবির খান। নিজেদের দেশে আফগান ক্রিকেটাররা আরও আগেই নায়কের মর্যাদা পেয়ে গেলেও এই প্রথম তাদের খেলা দেখা গেল টেলিভিশনে, এই প্রথম সারা বিশ্বের মানুষ জানল আফগান ক্রিকেটারদের সামর্থ্য—ভবিষ্যৎ পথচলায় এটাকে বড় মাইলফলক মনে করছেন কোচ, ‘কোচ হিসেবে আমি এ কারণেই বেশি খুশি কারণ আমরা চাই, এই ক্রিকেটাররা দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো দেশে গিয়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলুক। বিশ্ব ক্রিকেটে যদি স্টেইন-মরকেলদের মতো বোলারদের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাদের মতো বোলারদের বল খেলার অভ্যাস থাকতে হবে।’
আজ বোমা পড়ে তো কাল গুপ্ত হামলা—দেশ হিসেবে মোটেও নিরাপদ নয় আফগানিস্তান। পথ চলতেই যেখানে জীবনের ঝুঁকি, ঘটা করে ক্রিকেট খেলার কথা তো সেখানে চিন্তাই করা যায় না। ঘরোয়া ক্রিকেট বলতে তাই এখনো কিছুই নেই দেশটাতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও মাত্র তিন-চার সপ্তাহের। এ অবস্থায় ক্রিকেট উন্নয়নে বহির্বিশ্বের সাহায্য চাওয়া ছাড়া উপায় দেখছেন না কবির খান, ‘বড় দেশগুলোর সাহায্য চাই আমরা। আমাদের প্রতিভা আছে, ছেলেরাও খেলার জন্য প্রস্তুত। খুব দ্রুত শিখতে পারে তারা। অন্য দেশগুলো আমাদের অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারে। ওসব দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আফগান খেলোয়াড়েরা পেশাদার বা আধা-পেশাদার হিসেবে খেললেও আমাদের আপত্তি নেই। তবে তাদের খেলা উচিত।’
সুযোগ পেলে আফগান ক্রিকেটাররাও যে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবে, সেটার লক্ষণ এই বিশ্বকাপেই দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটার দিকেই তাকান, পরাজয়ের মধ্যেও জ্বলজ্বল করছে হামিদ হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্য। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৩৯ রানে আটকে রাখতে তাঁর ছিল বড় অবদান, এর পর ব্যাট হাতে দুই ছক্কা আর এক বাউন্ডারিতে করেছেন ২১ বলে ২২ রান। পরাজয়েও দলের এমন ছোট ছোট সাফল্যে দারুণ অনুপ্রাণিত আফগানিস্তানের আরেক ক্রিকেটার নওরোজ মঙ্গল, ‘অসাধারণ বোলিং আর ফিল্ডিং করে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৩৯ রানে আটকে রাখতে পেরেছি। তবে তারাও খুব ভালো বল করেছে।’
আর কোচ কবির খান তো পুরোপুরিই সন্তুষ্ট তাঁর দলের ওপর, ‘বিশ্বের সেরা দুটি দেশের বিপক্ষে দলের এই পারফরম্যান্সে কোচ হিসেবে আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সব রকমের চাপই ছিল তাদের ওপর। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছিল তাদের খেলা, প্রতিপক্ষে বড় বড় সব তারকা, দর্শক—এ সবকিছুর সঙ্গেই তারা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে।’

ক্যালিসদের শুরু জয় দিয়ে

নিউজিল্যান্ডকে ১৩ রানে হারিয়ে সুপার এইট শুরু করল দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তারা তুলেছিল ৪ উইকেটে ১৭০ রান। পুরোপুরি নিরাপদ স্কোর না হলেও বোলিং-ফিল্ডিংটা ভালোই করলেন জ্যাক ক্যালিসরা। নিউজিল্যান্ড থেমে গেছে ১৫৭ রানে। উইকেট হারিয়েছে ৭টি।
জয়ের জন্য একটা বড় রানের ইনিংস দরকার ছিল কিউইদের, যা কেউই করতে পারেননি। ২৮ বলে রাইডারের সর্বোচ্চ ৩৩ রানই যা একটু বলার মতো। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে ১৮ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কি ঝোড়ো ব্যাটিংই না করলেন পাঁচ নম্বরে নামা মরকেল, যাতে ছিল ৫টি ছয়। আর এটাই গড়ে দিল ব্যবধান।