Sunday, May 29, 2011

ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, মন্দ বিশ্ববিদ্যালয় by আবদুল মান্নান

আমার সাবেক এক সহকর্মী সেদিন আরেক সহকর্মীকে আলাপ প্রসঙ্গে জানালেন, আমি যে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করি তার একমাত্র কারণ, আমি কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। একেবারে নাদান উক্তি, তা-ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে! একজন উদার দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কখনো তাঁর একজন সাবেক সহকর্মী সম্পর্কে এমন অনুদার মন্তব্য করতে পারেন, তা জানা ছিল না। আমার দীর্ঘ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাধিক্যের কারণে অনেক ‘শিক্ষক’ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়ে ঢুকে পড়েছেন, যাঁদের ওই পর্যায়ে শিক্ষকতা করার তেমন কোনো যোগ্যতাই নেই। গত তিন দশকে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক—উভয়ের সংখ্যা বেড়েছে ঠিক, তবে শিক্ষার মান কতটুকু বেড়েছে বা যা ছিল তা কতটুকু বজায় থেকেছে, এ নিয়ে এখন ভাবার সময় হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এখনো কম, সেহেতু এ মন্তব্য অনেকটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ মন্তব্যের আওতামুক্ত, তা কিন্তু নয়। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁদের এই পেশায় আসা উচিত হয়নি।
প্রতিবছর যখন এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, তখন আমার কাছে অনেক অভিভাবক জানতে চান, তাঁদের সন্তানকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো হবে। অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের প্রধান ভরসা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেহেতু এখানে স্বল্পতম খরচে ভর্তি ও পাঁচ বা সাত বছর পর একটি ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া যায়। তবে বর্তমানে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে গরিব মেধাবী ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তায় পড়ালেখা করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি নির্দেশনাও আছে। যেখানে বলা হয়েছে, মোট ছাত্রসংখ্যার অন্তত সাত শতাংশকে লেখাপড়ার জন্য উদার অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে হবে। ঢাকা শহরেই একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যারা এই নির্দেশনা শুধু শতভাগ পালনই করে না, বরং তার চেয়েও বেশি করে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় বছরে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের প্রায় দুই কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ‘বিশ্বের বিদ্যার আলয়’। এই আলয়ের বাতায়ন দিয়ে তামাম বিশ্ব বা জ্ঞানকে দেখা যাবে। এটি হবে এমন একটি আদর্শের আলয়, যেখানে জ্ঞান সৃষ্টি, ধারণ ও সেখান থেকে তা বিতরণ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশে ইদানীং তা কিন্তু তেমন একটা হচ্ছে না। অনুজপ্রতিম সহকর্মী ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বছর কয়েক আগে অনেকটা আক্ষেপ করে প্রথম আলোয় লিখেছিলেন, অবস্থার উন্নতি না হলে দেশের অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একদিন হয়তো আদমজী পাটকলের মতো বন্ধ করে দিতে হবে। এর মধ্যে হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়। এখনো গর্ববোধ করি এটা বলতে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তেমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যদি সত্যি সত্যি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছু হতে পারে না। ড. জাফর ইকবাল আসলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চরম হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা দেখে এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে হরদম একশ্রেণীর গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞ আলোচক-বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন ফোরাম মাতিয়ে রাখেন। কদাচিৎ তাঁরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান।
বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এশিয়ার পাঁচ শ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় কখনো স্থান পায় না। কেন পায় না? আমি যখন ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখন আমার বিভাগেই অর্ধডজন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থী ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা তখন শতাধিক হবে। এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী তেমন একটা আসে না। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিশ্বমানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। অন্যান্য দেশের অবস্থাও তাই। শুধু পিছিয়ে রইলাম আমরা। এর দায়-দায়িত্ব সরকার, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সমাজ, রাজনৈতিক দল—সবাইকে সমষ্টিগতভাবে বহন করতে হবে। বাংলাদেশে আইন বা রীতি-নীতি না মানার সংস্কৃতি চালু রয়েছে বহুদিন ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তা থেকে মুক্ত নয়। এটি সরকারি-বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। একজন শিক্ষক শুধু অভিভাবকই নন, তার চেয়েও বেশি। ভালো শিক্ষক হচ্ছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। সুতরাং যিনি শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, তাঁকে এই সত্যটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আদর্শ শিক্ষক পেতে হলে শিক্ষক নিয়োগ অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। ১০-১৫ বছর আগেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তেমন একটা বড় ধরনের অনিয়মের কথা শোনাযেত না। পচনটা শুরু হয়েছিল বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সে সময় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তো মহামারি আকার ধারণ করেছিল। যাঁরা এই চরম অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা হয়তো একবারও চিন্তা করেননি, যেসব অযোগ্য শিক্ষক এ পদ্ধতিতে নিয়োগ পাচ্ছেন, একদিন তাঁদের মধ্য থেকে কেউ হবেন বিভাগীয় প্রধান বা ডিন অথবা কোনো একসময় হয়ে যেতে পারেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আবার অনেক সময় স্রেফ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী বলে কেউ হয়তো শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, আবার কেউ ক্ষমতাধর ব্যক্তির নিকটাত্মীয় বলে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, একবার চাকরি হলে সেই চাকরি আর কখনো যায় না, যদি না সেই শিক্ষক বা কর্মচারী কোনো নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হন। তবে এমন শিক্ষকও পাওয়া যাবে, যিনি কখনো কোনো ক্লাস ফাঁকি দেননি, ক্লাসে সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে আসেন, শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক বিষয়ে উৎসাহিত করেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, তাঁদের অবদানকে কদাচিৎ মূল্যায়ন করা হয়।
যতই নিয়মিত বিরতি দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ইটপাটকেল মারা হোক, একটি কথা সবাইকে মানতেই হবে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে। এখানে প্রথমে যোগ্যতা অনুসারে প্রার্থীদের ছোট তালিকা করা হয়। এরপর তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকদের সামনে একটি ছোট সেমিনার দিতে হয়। তারপর মৌখিক পরীক্ষা হয় এবং তাঁকে যদি যোগ্য মনে করা হয়, তাহলে তাঁর প্রথম চুক্তি হয় এক বছরের জন্য। এই এক বছর (সাধারণত তিনটি সেমিস্টার) ছাত্র ও বিভাগীয় প্রধান বা কোনো কোনো সময় ডিন তাঁকে কেমন মূল্যায়ন করেন, তা দেখা হয় এবং সবকিছু যদি সন্তোষজনক হয় তাহলে তাঁর চুক্তি নবায়ন করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস মিস করা বা দেরিতে আসা অনেকটা অকল্পনীয়।
মোদ্দা কথা, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, ভালো ছাত্র ভর্তি, যুগোপযোগী কারিকুলাম তৈরি এবং তা নিয়মিত সংস্কার করা, শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ জোগান দেওয়া—এর মধ্যে অবশ্যই ভালো গ্রন্থাগার, ল্যাব, বিনোদনের ব্যবস্থা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কারও কারও একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মানে তার অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের জমি থাকতে হবে। যাঁরা এমন ভাবনা পোষণ করেন, তাঁদের জানা উচিত, বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য জমির পরিমাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতি ঘনফুট বা মিটার স্পেস। একটি বাড়ির এখন মাপ হয় কত বর্গফুট, কত একর জমির ওপর নয়। এক হাজার ২০০ স্কয়ার ফুটের বাড়িতে যেমন কুড়িজন মানুষের বাস করা সমীচীন নয়, একইভাবে পাঁচ হাজার ছাত্রের জন্য কত বর্গফুট জমি প্রয়োজন, তা পরিমাপ করা কঠিন নয়। বাংলাদেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ শ থেকে হাজার একরের ওপর জমি আছে। তার পরও কেন তারা তাদের সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছে না? আমি অনেক তরুণ প্রতিভাবান শিক্ষককে দেখেছি, তাদের তারুণ্যকে নষ্ট করছে প্রাইভেট পড়িয়ে অথবা বিভাগীয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে। অনেককে দেখেছি, পরীক্ষার খাতা ছাড়া অন্য কিছু পড়াতে দারুণ অনীহা। এটি একটি জাতীয় ক্ষতি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কান্ডারি বা উপাচার্য নিয়োগ। একাডেমিক নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা না থাকলে স্রেফ দলীয় আনুগত্যের কারণে কাউকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। বর্তমান সরকারের আমলে সব সময় এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা মনে হয় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তো বেশ কয়েক মাস কোনো পূর্ণকালীন উপাচার্য ছাড়াই চলছে।
সুতরাং ওই বিশ্ববিদ্যালয়কেই আমি ভালো হিসেবে আখ্যায়িত করব, যেখানে ছাত্র-শিক্ষকের যৌথ উদ্যোগে জ্ঞানচর্চার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা উদার, সংবেদনশীল, শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে পরিচিত—সেটাই সত্যিকার অর্থে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার উপকরণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়, যা আগে উল্লেখ করেছি, তা তো থাকতেই হবে। বাংলাদেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য চাই সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের (বিমক) সহায়তা ও দিকনির্দেশনা। বিমকের নতুন চেয়ারম্যান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাব করেছেন, বিমককে যেন উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করা হয়। অনেক দেশে এ ব্যবস্থা আছে এবং তাতে উচ্চশিক্ষা উপকৃত হয়েছে। বাংলাদেশে তা হতে বাধা কোথায়? ১৯৭৩ সালে জন্মলগ্নে বিমকের যে ভূমিকা ছিল, এখন তো তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু যোগ হয়েছে। সুতরাং এর সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

রসূতির পরিচর্যা ও নিরাপদ মাতৃত্ব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে প্রসূতির নিরাপদ মাতৃত্ব লাভের অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে। মাতৃত্ব অর্জন যেকোনো নারীসত্তাকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেয়। গর্ভবতী মাকে ধর্মীয় অনুশাসন এবং অনেক কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, অন্যথায় মা ও শিশু উভয়েরই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই যিনি মা হবেন, তাঁর অবশ্যই স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সচেতনতা বাড়ানো ও যথেষ্ট পরিচর্যা করতে হবে। একজন সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারেন। সুস্থ শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ মাতৃত্ব। এ জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, যত্ন ও সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টা মুসলিম পরিবারের সদস্যদের বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে। একজন নারী নিরাপদে মা হবেন—এ দায়িত্ব আমাদের সবার। প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি গর্ভবতী নারীরই ন্যায্য প্রাপ্য বা ন্যায়সংগত অধিকার। এর সঙ্গে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো মাতার খাওয়া-পরার উত্তম ব্যবস্থা করা।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৩৩)
অথচ দেশের অধিকাংশ গর্ভবতী নারীই নানা ধরনের অপুষ্টির শিকার। ফলে তাঁদের নবজাতকও হয় পুষ্টিহীন। ভবিষ্যতে কন্যাশিশুটিও একদিন পরিবারে মায়ের অবস্থানে যায়। এ মা-ই অপুষ্টিতে নিজে ভুগে জন্ম দেন পুষ্টিহীন সন্তান। কেননা, সাধারণত সমাজজীবনে স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার পরিবেশনের পর স্ত্রী নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাবার রাখেন না। স্ত্রী বা সন্তানের মা যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণে যত্নবান হন—এদিকে পরিবারের প্রধান বা স্বামীর দৃষ্টি রাখা অবশ্য কর্তব্য। সন্তান পেটে এলে গর্ভবতী মাকে পুষ্টিকর এবং পরিমাণে বেশি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কেননা, তাঁর খাবারে একটি নয়, দুটি প্রাণ বাঁচে। গর্ভকালীন এবং শিশুকে দুধ দানকালে এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। তাই গর্ভবতী স্ত্রীর খাবারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী দিয়েছেন, ‘তোমরা (স্বামীরা) যা খাবে, তাঁদের (নারীদের) তা-ই খেতে দেবে।’
ইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভবতীর যত্ন মূলত শিশুর যত্ন। সন্তান যে মুহূর্তে মাতৃগর্ভে আসে, ঠিক তখন থেকেই তার যত্নের সঙ্গে সঙ্গে মায়েরও যত্ন নিতে হয়। সন্তান গর্ভে এলে মা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জীবন যাপন করবেন, অন্যথায় মা ও শিশু উভয়েরই সমূহ বিপদ হতে পারে। গর্ভবতী মায়ের অবশ্যই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি থাকতে হবে। তাঁকে সব ধরনের খারাপ কাজ, অসদাচরণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সন্তান গর্ভে এলে মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও পুষ্টির দরকার হয়। এ সময় মায়ের নিজের ও গর্ভের শিশু—দুজনেরই খাদ্য প্রয়োজন। তাই গর্ভবতী মাকে বেশি করে পুষ্টিকর ও পরিমিত সুষম খাবার খেতে হবে। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে তোমরা উত্তম খাবার খাও।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭২)
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা নারীকে দিয়েছেন মাতৃত্বের অধিকার তথা গর্ভধারণের ক্ষমতা। যদিও নারীর গর্ভধারণ ও শিশু জন্মদানের প্রক্রিয়াটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছর সারা বিশ্বে পাঁচ লাখ নারী জন্মদানসংক্রান্ত জটিলতায় মারা যান। সন্তান প্রসবজনিত কারণে বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজন মা মারা যান। প্রসবকালীন জটিলতার কারণে কেউ কেউ আজীবন অসুস্থ জীবন যাপন করেন। পারিবারিক অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবার নিম্নমুখী মান, ভুল চিকিৎসা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সর্বোপরি নারীর প্রতি পরিবারের পুরুষদের অবহেলার কারণে নারীরা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারে কোনো নারীই নিজের জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান না। গর্ভধারণের সময় স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সবার আগে তাঁর স্বামীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোগ এবং দাওয়া (ওষুধ) দুটিই পাঠিয়েছেন এবং প্রতিটি রোগেরই ওষুধ প্রেরণ করেছেন। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। তবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা কোরো না।’ (মিশকাত ও আবু দাউদ)
ইসলামে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন রক্ষার জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মায়েদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ শিশুদের জীবন রক্ষায় সমানভাবে সহায়তা করে। শিক্ষার অভাব ও ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা প্রতিবছর সন্তান ধারণ করে থাকেন। এ কারণে শিশুর সঠিক পরিচর্যা না হওয়ায় পুষ্টিহীন ও রোগাক্রান্ত মা ও শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ মাতৃত্বকালীন অপুষ্টির কারণে রোগাক্রান্ত মায়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটায় অনেক সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। সাধারণত বাল্যবিবাহ ও গর্ভসঞ্চার, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ, কিশোরী মায়ের পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, সুচিকিৎসার অভাব প্রভৃতি কারণে নারীর নিরাপদে মা হওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। সুতরাং নবজাতক ও মাতৃমৃত্যু রোধ করতে হলে গর্ভধারণের আগে থেকেই সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। এ ছাড়া গর্ভকালীন ও প্রসবের পর মায়ের একাধিকবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য মুসলিম পরিবারের সবাই গর্ভবতী হওয়া থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা, সৎ পরামর্শ ও উৎসাহ দিতে পারেন। আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করাও ইসলামের শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা করো। কারণ, যিনি রোগ দিয়েছেন, তিনি তার প্রতিকারের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’
ইসলামে সন্তান প্রসবকালীন পবিত্রতা ও সাবধানতা অবলম্বনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় প্রসূতিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় মায়েরা গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা নেন। এ কারণে অনেক মা সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করেন। গর্ভধারণের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুচিকিৎসা না করালে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নারী যখন গর্ভবতী হন, তখন তাঁর খাবার, বিশেষ করে আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রধানত, আয়রনের অভাবেই এ সময় রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এ ছাড়া এ সময় জরুরি ওষুধগুলো হাতের কাছে রাখতে হবে। প্রসূতি ও শিশুকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি গ্রামে গণসচেতনতামূলক ব্যবস্থাসহ ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
পরিবারে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। তাঁকে ভারী ও কঠিন কাজ না দিয়ে তাঁর কষ্ট লাঘব করা যায়। ঘন ঘন সন্তান প্রসব থেকে বিরত রাখার জন্য মাঠপর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এগিয়ে এসে জনগণকে সচেতন করতে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে। যেসব মা স্বাস্থ্যসেবা পান না, তাঁদের কাছে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে। যেসব মা পুষ্টিকর খাবার পান না, তাঁদের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। প্রসূতির প্রজনন স্ব্বাস্থ্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে যথাযথ পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। তাই প্রসূতির নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য জাতি- ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। আমরা যদি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করে প্রসূতিকে সুস্থ রাখতে সচেষ্ট হতে পারি, তাহলে সন্তানেরা সুস্থ থাকবে এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ জাতি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

লাহোরে হেডলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল আইএসআই

মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি বলেছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, হামলার অন্যতম সমন্বয়কারী ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তাহাউর রানা মুম্বাই হামলায় অংশ নিয়ে নিহত হওয়া জঙ্গিদের পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘নিশান-ই-হায়দার’ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি আদালতে আইনজীবীদের জেরার তৃতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার হেডলি এ কথা বলেন।
হেডলি বলেন, তিনি আগেই জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) কাছ থেকে সামরিক ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এলইটির নেতা জাকিউর রহমান লাখভির মাধ্যমে ২০০৬ সালে আইএসআইর কর্মকর্তা মেজর ইকবাল ওরফে চৌধুরী খানের সঙ্গে তাঁর লাহোরে প্রথম দেখা হয়। সেখানকার একটি সুরক্ষিত দেয়ালঘেরা দোতলা বাড়িতে মেজর ইকবাল তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
হেডলি বলেন, তিনি ইকবালকে তাঁর এলইটির কাছ থেকে নেওয়া প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জানান। এতে ইকবাল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মুম্বাই হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ হামলা তদারকি করার জন্য তিনি যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তা যথেষ্ট নয়। তিনি হেডলিকে তাঁর কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বলেন।

মেক্সিকোতে মাদকচক্রের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২৮

মেক্সিকোতে গত বুধবার দুটি মাদকচক্রের সদস্যদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ২৮ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ৮০৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নারিয়াত অঙ্গরাজ্যের রুইজ নামক জায়গার কাছে ওই ঘটনা ঘটে।
নারিয়াতের একজন আইনজীবী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৮টি মৃতদেহ ও ১০টি পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া আহত আরও চার ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চক্র দুটির সদস্যরা পরস্পরের প্রতি বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়েছে। ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের সময় তারা গ্রেনেডও ছুড়ে মেরেছে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা জানান, সেনাবাহিনী ও মেরিন সেনারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তবে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা কেন ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালডেরন ২০০৬ সালে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাদকসংশ্লিষ্ট সহিংসতায় দেশটিতে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

সানায় রাতভর সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণে নিহত ৫২

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় নিরাপত্তাকর্মী ও প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহবিরোধী আদিবাসীদের মধ্যে গত বুধবার রাতভর সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীদের গোলাবারুদের একটি ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে অন্তত ২৮ জন। সে দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আদিবাসী সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়।
সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে আল-আহমার ম্যানশনে গোলার আঘাতে এক নারীসহ দুটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হয় আরও দুজন।
আদিবাসী সূত্র জানায়, বুধবার শেষ রাতের দিকে সংঘর্ষে এলিট রিপাবলিকান গার্ডের ১২ জন সেনাসদস্য, আদিবাসীসহ ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সানায় আল-আহমার আদিবাসী গোষ্ঠীর গোলাবারুদের ডিপোতে বিস্ফোরণে ওই ২৮ জন নিহত হয়। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটে এবং নিহত ব্যক্তি কারা, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইয়েমেনের সরকারি কৌঁসুলিরা আল-আহমার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিরোধীদের একটি টেলিভিশন কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিরোধীদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
নিরাপত্তাকর্মী ও প্রভাবশালী হাশিদ আদিবাসী জোটের প্রধান শেখ সাদিক আল-আহমারের অনুসারীদের মধ্যে গত সোমবার থেকে সংঘর্ষ চলছে। সোমবার প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বিরোধীদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সংঘর্ষ শুরু হয়। চুক্তিটি সই হলে প্রেসিডেন্ট সালেহকে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
চুক্তি সইয়ে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রেসিডেন্ট সালেহকে উৎখাতের লক্ষ্যে আদিবাসীরা লড়াই শুরু করে। তারা জাতীয় বিমান সংস্থা ইয়েমেনিয়ার ভবন, বাণিজ্য, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ভবন দখল করে নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে প্রবেশেরও চেষ্টা চালায় তারা। গত সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় সারা দিন দুই পক্ষের লড়াই চলে। গত বুধবার রাতভর এই সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রাণভয়ে শত শত লোক রাজধানী ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে। গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট সালেহকে চুক্তি সইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার সালেহ বলেন, এমন কোনো ছাড় তিনি দেবেন না, যাতে তাঁকে ক্ষমতা হারাতে হয়।

টাটা সিঙ্গুরে আসতে চাইলে স্বাগত জানানো হবে

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, টাটা শিল্পগোষ্ঠী যদি সিঙ্গুরে গাড়ির কারখানা করতে চায়, তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তিনি বলেছেন, তবে টাটাকে ৬০০ একর জমির ওপরই কারখানা করতে হবে। বাকি ৪০০ একর জমি তিনি অনিচ্ছুক কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মমতা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এদিকে টাটার সঙ্গে সাবেক বামফ্রন্ট সরকারের ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়া নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করার কথা থাকলেও হয়নি। গতকাল দুপুরে শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি প্রকাশ করা গেল না।
জানা গেছে, এই চুক্তির কথা যাতে প্রকাশ করা না হয়, সে জন্য টাটা গোষ্ঠী এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা করেছিল। হাইকোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুরও করেছিলেন। সম্ভবত সেই আইনি জটিলতার কারণে চুক্তিটি প্রকাশ করা যায়নি।
এদিকে সিপিএমের নেতা এবং সাবেক ভূমি ও ভূমি রাজস্বমন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লা বলেছেন, ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব, তবে তা একবারে হবে না। টাটার কাছে এখন যে জমি আছে, তা থেকে ৪০০ একর জমি বের করে তা আলাদা করতে হবে।

গৃহবন্দী স্ত্রস কান নতুন বাড়িতে

বিলাসবহুল নতুন বাড়িতে নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস কানকে। গত বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ওই বাড়িতে নেওয়া হয় তাঁকে। তবে এখানেও তাঁকে গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হবে। নিউইয়র্কের একটি হোটেলের নারী কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি পাননি তিনি।
১৪ মে গ্রেপ্তারের পর স্ত্রস কানকে (৬২) কয়েক দিন নিউইয়র্কের রাইকার্স দ্বীপের একটি কারাগারে কাটাতে হয়। পরে তিনি শর্তাধীনে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকেই তাঁকে গৃহবন্দী অবস্থায় রাখা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমে নিউইয়র্কের একটি বহুতল ভবনের অ্যাপার্টমেন্টে গৃহবন্দী ছিলেন। কিন্তু ওই ভবনের অন্য বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বাড়ি থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত বুধবার নিউইয়র্কের ১৫৩ ফ্রাংকলিন স্ট্রিটের নতুন বাড়িতে নেওয়া হয় কানকে। বিলাসবহুল চার কক্ষের নতুন এ বাড়িটিতে সিনেমা দেখার সুবিধাসহ অন্যান্য ভিআইপি সুবিধা রয়েছে। তবে এখানেও তাঁকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাকর্মীদের নজরদারিতে থাকতে হবে।
নিউয়র্কের সোফিটেল হোটেলের এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর গত সপ্তাহে আইএমএফ-প্রধানের পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন কান।

জাপানের রিকো তিন বছরে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে

জাপানের অফিস-সরঞ্জাম ও ডিজিটাল ক্যামেরা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রিকো জানিয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়ায় আগামী তিন বছরে তারা ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সময় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রিকোও বেকায়দায় পড়ে। মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে।
জাপানের দ্য নিক্কে পত্রিকা এবং মার্কিন বার্তা সংস্থা ডাউ জোনস জানিয়েছে, ২০১৪ সালের মার্চের মধ্যে রিকো দেশে-বিদেশে নিয়োজিত এক লাখের বেশি কর্মীর মধ্যে ১০ হাজার ছাঁটাই করবে।
বর্তমানে রিকোর ৪০ হাজার কর্মী জাপানে ও ৬৮ হাজার ৯০০ কর্মী বিদেশে কাজ করছে। মন্দার কারণে গত কয়েক বছরে রিকোর অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেরও মোট মুনাফা অনেক কমেছে। ২০০৮ সালের মার্চে রিকো ১০ হাজার কোটি ইয়েনের বেশি মুনাফা করলেও এক বছর পর তা সাড়ে ছয় হাজার কোটি ইয়েনে নেমে আসে।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩২

পাকিস্তানে এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের হাঙ্গু শহরে পুলিশের কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি ভবনের সামনে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের তালেবান শাখা ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, হতাহতদের মধ্যে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
হাঙ্গু পুলিশের মুখপাত্র ফজল নাঈম বলেন, আহত ৪৫ জনের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। এতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুলিশ কার্যালয়ের ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি রেস্টুরেন্টসহ ১৫টি দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নয়াদিল্লির কাছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ১০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কাছে ফরিদাবাদের আবাসিক এলাকায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (রোগী বহনকারী ছোট বিমান) বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফরিদাবাদের পুলিশ কমিশনার পি কে আগারওয়াল জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন এক রোগী, রোগীর চাচাতো ভাই, দুজন চিকিৎসক, একজন সেবিকা, বিমানচালক ও তাঁর সহকারী। যে বাড়িটির ওপর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেটির তিনজন বাসিন্দা নিহত ও তিনজন আহত হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় শহর পাটনা থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে নয়াদিল্লির কাছে ফরিদাবাদে পৌঁছালে এটি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
বিধ্বস্ত হওয়া বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা হনুমান সিং এনডিটিভিকে জানান, ‘প্রচণ্ড শব্দে আমি ঘুম থেকে জেগে যাই। বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে ভেবে ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসি আমরা।’
পিটিআই জানিয়েছে, বিমানটিতে দুজন চিকিৎসক ছিলেন। পাটনায় চিকিৎসাধীন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীটি কোমায় চলে গেলে তাঁরা তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে আসছিলেন।

বঙ্গবাজারে স্পট অ্যাসেসমেন্ট অনুষ্ঠিত

ঢাকার বঙ্গবাজার এলাকার বিপণিবিতানগুলোয় করের আওতা সম্প্রসারণ ও নতুন করদাতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কর অঞ্চল-১-এর ব্যবস্থাপনায় স্পট অ্যাসেসমেন্ট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কর অঞ্চল-১-এর সার্কেল-১-এর উপ-কর কমিশনার দীপক কুমার চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন একই কর অঞ্চলের সার্কেল-৭-এর উপ-কর কমিশনার দুলাল চন্দ্র পাণ্ডে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্কেল-৩-এর কর কমিশনার মো. মোসাদ্দেক হুসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সার্কেল-৯-এর অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মো. রেজাউল করিম।
কর্মসূচিতে মোট ২১৫ জন করদাতা চার লাখ ৩০ হাজার টাকা আয়কর দেন। সবশেষে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নতুন করদাতাদের মধ্যে আয়কর সনদ বিতরণ করা হয়।

মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণসীমা সমন্বয় ডিসেম্বরের মধ্যে

ব্যাংকগুলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংককে দেওয়া ব্যাংকের ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) নির্ধারিত ১৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার সময় বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১১ সালের ডিসেম্বর। অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে এই ঋণসীমা সমন্বয় করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার তফসিলি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে এ সময়সীমা ব্যাংক ভেদে ধাপে ধাপে সমন্বয়ের জন্য চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উল্লেখ্য, আগে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) ছিল না। সে সময় ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে যে বিনিয়োগ করত, তা সরাসরি ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬(২) অনুসারে কোনো ব্যাংকের শেয়ারবাজারে মোট বিনিয়োগ ব্যাংকের মোট আমানতের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে না।
কিন্তু, ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে মার্চেন্ট ব্যাংকিং ও ব্রোকারেজ কার্যক্রমকে পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে পরিচালনা করার পদক্ষেপ নেয়। পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুসারে এসব প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে খাটানো তহবিল ঋণে পরিণত হয়েছে।
তবে বিধি অনুসারে কোনো ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারে না। ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এর আগে ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ কমিয়ে আনতে সময় দেওয়া হয়েছিল জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত। এখন তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর করা হয়েছে।

হুন্দাই ইউনিভার্স বাস নিয়ে এল টিআর ট্রাভেলস

টিআর ট্রাভেলস চালু করল অত্যাধুনিক বাস সার্ভিস ‘হুন্দাই ইউনিভার্স’। টিআর ট্রাভেলস এ উদ্যোগ শুরু করেছে হুন্দাইয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি এইচএনএস অটোমোবাইলসের কারিগরি সহযোগিতায়।
গত বুধবার হুন্দাই ইউনিভার্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আর্মি গল্ফ ক্লাবের গল্ফ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআর ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু সুলতান।
টিআর ট্রাভেলসের হুন্দাই ইউনিভার্স কাল ২৮ মে থেকে যাত্রা শুরু করবে। প্রাথমিকভাবে তাদের ভ্রমণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটে পরিচালিত হবে।
০১৭১২২২৭৯৯৭ নম্বরে অথবা www.trtravels.com ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানা যাবে।

১৮ পণ্যে শুল্ক পুনর্বিন্যাস

দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় ১৮টি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস বা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। কমিশন মনে করছে, এসব পণ্যে শুল্ক হার পুনর্বিন্যাস করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশীয় খাতগুলো আরও সুসংহত হবে, স্থানীয় শিল্প শক্তিশালী হবে।
আগামী ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত সুপারিশমালা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন।
ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, হাসপাতালের আসবাব আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের যুক্তি হলো, দেশে বর্তমানে এক হাজারের বেশি হাসপাতালের আসবাব তৈরির কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের আসবাবও তৈরি করছে। তাই হাসপাতালের আসবাবের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হলে স্বাস্থ্য খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
টুথপিক আমদানির জন্য এইচএস কোড নির্দিষ্টকরণের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। কেননা, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে চীন থেকে টুথপিক আমদানি বেড়ে যাওয়ার ফলে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
একইভাবে তেঁতুলের জুসকে অন্যান্য জুস থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র এইচএস কোড নির্ধারণ ও এর ভিত্তিতে শুল্কায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন বলছে, তেঁতুলের জুস মানবদেহে রক্তের কোলেস্টরেল কমাতে সহায়তা করে এবং হূদ্যন্ত্রের সবলতা বৃদ্ধি করে।
ট্যারিফ কমিশন পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের মতো আগামী দুই বছর টার্নওভার করের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিভিসি প্রস্তুতকারক সমিতির সদস্য হতে হবে।
ফাইবার অপটিক কেবল উৎপাদনে কাঁচামালের শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর স্বপক্ষে যুক্তিটা এ রকম যে ক্রমহ্রাসমান ল্যান্ডফোনের চাহিদার কারণে টেলিফোনের তারের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড ভূ-উপরিস্থ তারের বদলে ফাইবার অপটিক কেবল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। তাই উৎপাদনের খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার।
বাজারে সরিষার তেলের দাম কমাতে এর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত রেপ সিড ও ক্যানোলা সিড আমদানিকারকদের অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলেও মনে করে ট্যারিফ কমিশন।
বাংলাদেশে বলপেনের কালি উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে তা আমদানি করতে হয়। তবে শিক্ষার উপরকরণ হিসেবে বলপেনের কালির ওপর আরোপিত শুল্ক ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন।
আবার বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে বিস্কুটশিল্পের কাঁচামাল (আরবিডি পাম কার্নেল অয়েল) এবং ব্যাটারিশিল্পের ম্যাংগানিজ ডাই-অক্সাইড জিংক ক্যালটসের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
চশমার প্লাস্টিক ও মেটাল ফ্রেমের ওপর পিসপ্রতি শুল্ক যথাক্রমে ২০ টাকা ও ৩০ টাকা ধার্য করার প্রস্তাব করেছে ট্যারিফ কমিশন। বর্তমানে এই ফ্রেম আমদানি করতে যথাক্রমে এক মার্কিন ডলার ও দেড় মার্কিন ডলার শুল্ক দিতে হয়। তবে সানগ্লাসের ফ্রেমের ওপর বাড়তি ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন রঙিন ঢেউটিন আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা এইচএস কোডের প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

৭% প্রবৃদ্ধি ধরে আগামী অর্থবছরের বাজেট হচ্ছে

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণীত হচ্ছে।
পাশাপাশি সরকার আগামী অর্থবছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এ ছাড়া মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাটাও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে আগামী অর্থবছরেও যাতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার বর্তমানের গড় হার ৭৩ টাকা থাকে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজস্ব সমন্বয় কাউন্সিলের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এম মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইঞা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, সদস্য আমিনুর রহমান প্রমুখ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জিত হবে বলে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাংক এই হার ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই হার ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করেছে।
গতকালের বৈঠকে রাজস্ব সংগ্রহের তিন উৎস এনবিআর-নিয়ন্ত্রিত কর, এনবিআর-বহির্ভূত কর এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি (এনটিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী অর্থবছরে এনটিআর থেকে বেশি রাজস্ব আদায় করা হবে।
পাসপোর্ট, লাইসেন্স, দলিল নিবন্ধন, ট্রেডমার্ক, বিবাহ নিবন্ধনসহ কমপক্ষে ২৫ ধরনের প্রশাসনিক মাশুল থেকে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দুই হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে এনটিআর থেকে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা করা হচ্ছে।
বৈঠকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগসীমা বাড়ানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অবসরভোগীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে সুদের হার ১১ শতাংশ। আর পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। আর পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন ৩০ লাখ টাকার।
সূত্র জানায়, রাজস্ব-সম্পর্কিত বৈঠক হলেও এতে মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের আলোচনাও প্রাধান্য পেয়েছে। একজন সচিব পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে—বাজেটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রস্তাব তুললে অন্যরাও এতে সায় দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বাজেটে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা থাকবে না। বরং বাজারকে টেকসই ও স্থিতিশীল করার কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সেই পদক্ষেপ কি কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেওয়া?—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরও এক বছরের জন্য এ সুযোগটি দিতে নানা মহল থেকে মতামত আসছে, আজও এসেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

কার্ডিফ টেস্টের বৃষ্টিস্নাত শুরু

ইংলিশ আন্তর্জাতিক মৌসুমের শুরুটা হলো বৃষ্টিস্নাত। খেলা শুরুর কথা ছিল স্থানীয় সময় বেলা ১১টায়, কিন্তু বৃষ্টির কারণে টসই হলো বেলা সোয়া দুইটায়! টসের পরপরই আবার বৃষ্টি, শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হলো বেলা সাড়ে তিনটায়। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন তিলকরত্নে দিলশান। সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল না ওপেনিংয়ে এক শর কাছাকাছি (৯৩) রান তুলে সেটা প্রমাণ করেছেন দুই ওপেনার দিলশান ও পারানাভিতানা। দিলশান অধিনায়কত্বের অভিষেক উদ্যাপন করলেন ফিফটি দিয়ে। ৫০ রানে ফিরেছেন গ্রায়েম সোয়ানের বলে বোল্ড হয়ে। এর আগে লঙ্কা অধিনায়ক ছুঁয়েছেন টেস্টে ৪ হাজার রান। ফিফটি করেছেন পারানাভিতানাও। দুজনের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে দিনশেষে ৪৮ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ১৩৩/২। অ্যান্ডারসনের বলে প্রিয়রের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা (১১)। ওয়ার্ম আপ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করা পারানাভিতানা ব্যাট করছেন ৫৮ রানে। সঙ্গী জয়াবর্ধনের রান ৪। ওয়েবসাইট।
উইকেট কিন্তু দুই অধিনায়ককে দুই রকম বুঝিয়েছে। স্ট্রাউস যেমন জানালেন, জিতলে তিনি ফিল্ডিংই নিতেন। তিন পেসার আর এক স্পিনার নিয়ে খেলছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কা খেলছে পাঁচজন বোলার নিয়ে, এর দুজন আবার স্পিনার—অজন্তা মেন্ডিস ও রঙ্গনা হেরাথ। টেস্ট ক্যাপ পেয়েছেন অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা, সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট খেলছেন ফারভিজ মাহারুফ।

মহারণের আগে

সময় যত গড়াচ্ছে, ততই রোমাঞ্চ জাগছে। আগামীকালই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের নির্ধারক। ম্যাচটি নিয়ে টুকরো কিছু খবর...

ভুলে যাওয়া
পারলে ২০০৯ রোমের ফাইনালটি ইতিহাসের পাতা থেকেই মুছে ফেলত ম্যানইউ। সেটা হওয়ার উপায় যেহেতু নেই, আপাতত খেলোয়াড়দের মন থেকে সেটা মুছে ফেলতে চাইছেন অ্যালেক্স ফার্গুসন। মিডফিল্ডার মাইকেল ক্যারিক যেমন বলছেন, ‘সত্যি বলছি, ২০০৯ সালে কী হয়েছিল, তাতে কিছুই যায় আসে না। এবারেরটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ম্যাচ। একেবারেই আলাদা। আমরা তাই শনিবারের ম্যাচটা নিয়েই ভাবছি। আমরা আমাদের শক্তি অনুযায়ী খেলব, চেষ্টা করব জেতার। বার্সেলোনাকে তাদের শক্তির জন্য সমীহ করতে হবে। কিন্তু আমাদেরও তা-ই করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দলটাও অনেক ভালো। আগেও বলেছি, ওই রাতে কে ভালো খেলল, সেটাই আসল ব্যাপার।’
কিন্তু চাইলেই তো আর ২০০৯ সালের ফাইনালের প্রসঙ্গ এড়ানো যায় না। সাংবাদিকেরা খুঁচিয়ে কথা বের করবেনই। রিও ফার্ডিনান্ডকে যেমন প্রশ্ন করা হয়েছিল, গতবারের ওই ফাইনালে লিওনেল মেসির সেই হেড থেকে করা গোল নিয়ে। মেসি অবিশ্বাস্যভাবে লাফিয়ে উঠেছিলেন তাঁর চেয়ে এক ফুট লম্বা এডউইন ফন ডার সারের ওপর। গলা খাঁকারি দিয়ে ফার্ডিনান্ড উত্তর দিলেন, ‘সেটা একটা দুর্দান্ত ক্রস আর দুর্দান্ত হেডার ছিল। কিন্তু শুধু এ রকম গোল কেন, আপনি কোনো গোলই নিজের জালে ঢুকতে দিতে চাইবেন না। এবার আশা করি, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ফলই হবে।’ ফার্ডিনান্ডের আশা পুরো ম্যানইউরই আশা। এএফপি।

বিদায়, দাদু!
ফন ডার সারকে ‘স্যার’ বলে ডাকাই যায়। ফ্যাবিও-রাফায়েলদের চেয়ে তিনি তো বয়সে ঠিক দ্বিগুণ বড়! ম্যানইউয়ের সতীর্থরা তাঁকে আদৌ স্যার বলে ডাকেন কি না কে জানে, তবে হল্যান্ড দলে এই গোলরক্ষককে অনেকে দাদু বলেই ডাকেন। সেই দাদুর বিদায়ী ম্যাচটাও আগামীকাল। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ফন ডার সারের ক্যারিয়ারেরও ‘ফাইনাল’।
বয়স ৪০ হলেও গোলপোস্টের নিচে এখনো ক্ষিপ্র। অতন্দ্রপ্রহরী। এ বছর তাঁর ফর্মও খুব ভালো। এতটাই ভালো, চাইলে আরও একটা মৌসুম খেলে যেতেই পারতেন। এমন একটা ভাবনা তাঁর মনেও ভিড় করেছিল। দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঝেড়ে ফেলেছেন দ্বিধার ধুলো। আর তাই আগামীকালের ম্যাচের আগে, ক্লাব ক্যারিয়ারে নিজের ৮২০তম ম্যাচটির আগে ফন ডার সার বলছেন, কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর, ‘পেশাদার ফুটবলার অনেকেই হতে চায়। কিন্তু হতে পারে খুব কম জনই। আর তাই এতগুলো বছর ধরে এই পর্যায়ে খেলার পর ক্যারিয়ার শেষ করতে পারা দুর্দান্ত কিছু।’
১৯৯০ সালে আয়াক্সের হয়ে অভিষেক। দীর্ঘ ২১ বছর শীর্ষ পর্যায়ে খেলার পর ফুটবলকে বিদায় জানানোটা কষ্টের তো বটেই। এত দিনের ছড়ানো আবেগের শেকড় তো এক ঝটকায় উপড়ে ফেলা যায় না। একটু কষ্টও কি হচ্ছে না তাঁর! হলেও সেটা লুকিয়ে রাখলেন সযতনে। বললেন, এই ম্যাচের আগে একটু টেনশন হচ্ছে। এবং ফাইনাল বলে সেই টেনশনের দরকারও আছে। এএফপি।

‘চাপ আবার কী!’
বয়স মাত্র ২৩। চেহারায় এখনো যেন কোথায় মিশে আছে ‘বালক’-এর ছায়া। এই মেসিই বার্সেলোনার মতো একটা দলের প্রাণভোমরা হয়ে আছেন। এ তো অন্তহীন এক চাপ। প্রতি ম্যাচেই মেসির কাছে জাদুকরি কিছু আশা করে সবাই। এই চাপ কি জোয়াল হয়ে চেপে বসে না তাঁর কাঁধে!
মেসি দিলেন একেবারেই ভিন্ন উত্তর। প্রত্যাশার চাপকে দেখেন অন্যভাবে, ‘এটা তো সম্মানের। এটা মোটেও আমার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে না। আমার, আমার সতীর্থদের খেলা মানুষ উপভোগ করে, এটা দেখতে ভালোবাসি। তাদের জন্যই আমি শিরোপা জিততে চাই।’
চাপকে জয় করার মন্ত্রও জানা আছে তাঁর, ‘আমি সবকিছুই সহজভাবে নিই। নির্ভার থাকি, কারণ সবকিছুই অনেক দিন থেকে আমাদের পক্ষে যাচ্ছে।’ একটা জানা তথ্যই আবারও জানালেন, ‘আমি আজীবন বার্সায় থেকে যেতে চাই।’ একটা কম জানা তথ্যও বেরোল তাঁর মুখ থেকে, ম্যানইউয়ের তো বটেই, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা খুব একটা দেখেন না, ‘সত্যি বলতে কি, আমি খুব একটা খেলা দেখি না। তবে আমি জানি, ম্যানইউ খুবই ভালো দল। শক্তিশালী একটা লিগের যোগ্য চ্যাম্পিয়ন।

রাফায়েলের দুঃখ, রাফায়েলের আনন্দ

রাফায়েল ডা সিলভার দুঃখ, শনিবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা হচ্ছে না তাঁর। রাফায়েলের আনন্দ, তিনি না থেকেও থাকছেন। তাঁরই যমজ ভাই ফ্যাবিও যে থাকছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাদশে।
শুধু একই সঙ্গে জন্মেছেন, হুবহু একই রকম দেখতে, উচ্চতাও একই বলে নয়; দুজনে খেলেনও একই পজিশনে। দুজনেরই শৈশবের ক্লাব ছিল ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স, দুজনকেই একই সঙ্গে কিনে এনেছে ম্যানইউ। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই একই সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য তাঁদের হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে রাইট ব্যাক পজিশনে স্যার ফার্গুসন রাফায়েলের চেয়ে ফ্যাবিওকেই পছন্দ করছেন বেশি। যদি বড় কিছু না ঘটে থাকে, আগামীকালও বার্সেলোনার বিপক্ষে রাইট ব্যাক হিসেবে তাঁরই খেলার কথা।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্যখানে। সেই মাতৃগর্ভ থেকে একই সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন যে দুজন, তাঁরাই এখন একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। খারাপ লাগে না? রাফায়েলের উত্তরটা শুনুন, ‘আমরা দুজনই একে অন্যের খুব কাছের। তাই অন্যের সাফল্যকে আমরা অভিনন্দন জানাই সব সময়। এখন পরিস্থিতিটা উত্তপ্ত। কিন্তু আমার পজিশনে কে খেলছে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি মনে করি, দলের মধ্যে এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা ভালো। এতে করে নিজেদের মধ্যে ভালো করার তাগিদ থাকে বলে ফুটবলার হিসেবে আমরা আরও উন্নতি করি। তা ছাড়া আমরা দুজন সেই ছোট্ট থেকেই এর সঙ্গে পরিচিত। ফলে সব সময়ই একে অন্যকে উজ্জীবিত করি।’
পরিস্থিতিটার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, ২০ বছর বয়সী রাফায়েল পাশাপাশি এও বলছেন, তাঁদের বাবা-মায়ের জন্য ভাইদের এই লড়াই মোটেও উপভোগ্য কিছু নয়, ‘আমাদের বাবা-মা এটা পছন্দ করেন না। তাই তাঁরা একই পজিশনের পরিবর্তে চান আমরা যেন ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলি।’
ফ্লুমিনেন্সের সিনিয়র দলে অভিষেকের আগেই ২০০৮ সালে ম্যানইউতে চলে এসেছেন দুজন। গত তিন বছরে ম্যানইউয়ের সঙ্গে রাফায়েল খেলেছেন ৭২টি ম্যাচ, ফ্যাবিও প্রায় অর্ধেক—৩৭টি। এখান থেকেই বোঝা যায়, একসময় রাফায়েলই কিন্তু ফুলব্যাক হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন ফার্গুসনের। শুরুর দিকে তিনিই বেশি সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এখন পছন্দের কাঁটা ঘুরে গেছে অন্য দিকে।
দুই ভাইয়ের পছন্দ-অপছন্দও একই রকম। তবে পার্থক্যও আছে এক জায়গায়। রাফায়েলই জানালেন, ‘ওর তুলনায় আমি সম্ভবত একটু বেশিই আক্রমণাত্মক মেজাজের। ও হয়তো আমার চেয়ে একটু বেশি শান্ত। এটাই পার্থক্য।’

দ্বিতীয় রাউন্ডেই ক্লাইস্টার্সের হার

গ্যালারিতে আরও অনেক দর্শকের মধ্যেও নজর কাড়ল তিন বছর বয়সী জাডা। খেলার অতশত সে বোঝে না। তবে এটা বোঝে, প্রায়ই মা এ রকম জায়গা থেকেই বড় বড় সব চকচকে কাপ, নয়তো প্লেট নিয়ে আসে। বড় হলে জাডা বুঝবে, কাল প্যারিসে সে তার মায়ের হয়তো এক চির আক্ষেপ হয়ে থাকা দৃশ্যের দর্শক হয়েছিল। এবার কোর্ট থেকে কোনো ট্রফি নিয়ে কিম ক্লাইস্টার্সের ফেরা হচ্ছে না। হয়তো আর কখনোই ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতা হবে না ২৭ বছর বয়সী ক্লাইস্টার্সের।
মেয়েদের এককের দ্বিতীয় বাছাই দ্বিতীয় রাউন্ডেই শিকার হলেন বড় অঘটনের। সর্বশেষ দুটো গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টেরই (ইউএস ওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন) চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। এবারও অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছিল ফ্রেঞ্চ ওপেনের দুবারের রানারআপ ক্লাইস্টার্সকে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে হারিয়ে (৩-৬, ৭-৫, ৬-১) আলোচনায় হল্যান্ডের আরাংজা রুস। পেশাদার টেনিসে অচেনা হলেও রুস কিন্তু জুনিয়র র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। ২০ বছর বয়সী এই ডাচ সম্ভাবনার সূর্যটাকে আরও উজ্জ্বলই করলেন।
কাল রোঁলা গারোতে এই একটাই অঘটন। ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার ভক্তদের জন্য অবশ্য দুঃসংবাদ আছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে সানিয়া হেরে গেছেন আগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কার কাছে। ফ্রেঞ্চ ওপেন আর উইম্বলডন—এই দুটোই জেতা হয়নি চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা ক্লাইস্টার্সের। অবসর থেকে ফেরার পর যেভাবে খেলছিলেন, ধারণা করা হচ্ছিল, এবার এই আক্ষেপ মুছে দেবেন। কিন্তু কে জানে, ক্লাইস্টার্স আর সুযোগ পাবেন কি না!
অবশ্য এবার ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরুর আগে অপ্রত্যাশিত ইনজুরিতে পড়েছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে গিয়ে। ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরুর আগের দিনও পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। কিন্তু কাল হেরে যাওয়ার পর এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখাননি এই বেলজিয়ান, ‘আমি পুরো ফিট ছিলাম। ভালো অনুশীলন করেছি। আমি অবশ্যই প্রস্তুত ছিলাম। তার পরও কেন এমনটা হলো বুঝতে পারছি না।’
বুঝতে কষ্ট হচ্ছে রুসেরও। এমন একটা কাণ্ড ঘটিয়েছেন, সেটা হজম করতে সময় তো লাগবেই!

মেসিদের দেখতে চান?

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। বেশ কয়েক দিন আগেই এটা চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এখনো তিন মাস ১০ দিন বাকি। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঐতিহাসিক এই আয়োজনের প্রস্তুতি।
নিরাপত্তা, টিকিটের দাম নির্ধারণ, দুই দলের থাকা-খাওয়া, টিভি-স্বত্ব, স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি—এই বিষয়গুলো নিয়ে এখন যৌথভাবে কাজ করছে বাফুফে ও পৃষ্ঠপোষক বেক্সিমকো গ্রুপ। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এবং বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান মিলে খুঁটিনাটি জিনিসগুলো ঠিক করছেন।
গত কয়েক দিন সালমানের অফিসে তাঁদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। দুজন এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ বাদ দিলে স্টেডিয়াম এখন আধুনিক চেহারা নিয়েছে। তাই সংস্কার বলতে মাঠের কাজ বাদ দিলে আর বড় কোনো কাজ তেমন নেই। ড্রেসিংরুমটা যা একটু আধুনিক মানের করে তুলতে হবে। এর মধ্যে টিকিটের খসড়া দাম ঠিক হয়েছে বলে কাল জানালেন সালাউদ্দিন।
‘টিকিটের খসড়া একটা মূল্যতালিকা ঠিক করেছি। মশালের নিচে প্রায় দেড় হাজার আসনের আন্তর্জাতিক গ্যালারির দাম সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। পূর্ব দিকের গ্যালারি সাড়ে সাত হাজার এবং পশ্চিম দিকের আবাহনী ও মোহামেডান গ্যালারি ১০ হাজার টাকা। প্রেসবক্সের নিচে সাড়ে ছয় শ আসন ১৫ হাজার টাকা। ভিআইপি বক্সে ১৩০০ আসন ২৫ হাজার, ভিভিআইপি বক্সে দুই শ আসন ৫০ হাজার টাকা। ১২টি হসপিটালিটি বক্সের মূল্য হবে প্রতিটি ১০-১২ লাখ টাকা করে’—বলেছেন সালাউদ্দিন।
বাফুফের সভায় অনুমোদন নেওয়ার ব্যাপার অবশ্য আছে। সালাউদ্দিনের কথা, ‘বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন নিয়েই চূড়ান্ত মূল্যতালিকা ঘোষণা করব।’
প্রধানমন্ত্রীকে মাঠে আনার পরিকল্পনা আছে। তিনি এলে প্রেসবক্সের ওপর তৃতীয় তলায় তাঁর আসন থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃতীয় তলার কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না। ক্লাবগুলোর জন্য থাকছে মূল্যছাড়। এটা হবে ১০ হাজার টাকার টিকিটের ক্ষেত্রে। পেশাদার লিগের ১২টি দল এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের দলগুলো পাবে এই বিশেষ সুবিধা। স্কুল ফুটবলে খেলে এমন কয়েকটি বাছাই করা স্কুলকে কিছু সৌজন্য টিকিট দেওয়ার চিন্তা আছে।
টিকিট বিক্রি হবে সব মিলিয়ে ২৪ হাজার এবং তা থেকে ২০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন আয়োজকেরা। বাকি টাকা টিভি-স্বত্ব এবং আরও কিছু পৃষ্ঠপোষক থেকে আসবে বলে আশাবাদ। ঘাটতি পড়লে বেক্সিমকো গ্রুপ তো আছেই।
কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ কতটা প্রস্তুত? এই মাঠ তো ঢাকার ঘরোয়া ফুটবলের জন্যই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে বর্ষায়। শুকনো, অসমতল এবং শক্ত। আয়োজকদের জন্য আশার কথা, সফরটা হচ্ছে গ্রীষ্মে।
মাঠ নিয়ে শঙ্কাটা জাগছে কলকাতার একটা খবরে। ঢাকায় আসার আগে ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আর্জেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা ম্যাচ হওয়ার কথা। খবর এসেছে, মাঠ ঠিক না থাকলে এই সফর নাও হতে পারে। তার অর্থ, কলকাতার মাঠের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে।
ঢাকাও এই শঙ্কামুক্ত নয়। তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া অভয় দিচ্ছেন, ‘আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ এই মাঠে হতেই পারে। তবে পরিচর্যা করা দরকার। সময় থাকলে নতুন ঘাস লাগালে ভালো। যতটা সম্ভব মাঠটাকে সবুজ করতে হবে। মাটির আস্তরণ দিলে খুবই ভালো হয়। মাঠটা আরও মসৃণ করা দরকার।’
খুব বড় সমস্যা নয়। সালাউদ্দিন এ ব্যাপারে তাঁর পরিকল্পনা ঠিক করে রেখেছেন, ‘মাঠের ব্যাপারটাকে গুরুত্বসহকারে ভাবছি। আশা করি, সমস্যা হবে না। জুলাইয়ের পর এখানে খেলা বন্ধ রাখা হবে। মাঠ সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনব।’

সাকিবকে শাহরুখের শুভ কামনা

শাহরুখ খান কি কখনো পেরেছেন জুহি চাওলাকে এতটা মুগ্ধ করতে? ইয়েস বস কিংবা ফিরভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানির শুটিং স্পটে কিং খানের কোনো অ্যাকশন দেখে কি কখনো বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠেছেন জুহি, কিংবা দুই হাতে ঢেকে ফেলেছেন মুখ?
মনে হয় না। রুপালি পর্দায় শাহরুখের চেয়ে জুহি কম কি! জুহিদের ছাড়া সেখানে শাহরুখরা অচল, শাহরুখরা না থাকলেও আবার জুহিরা আলো ছড়ান না। এদিক দিয়ে সাকিব আল হাসান বোধ হয় শাহরুখকেও ছাড়িয়ে গেলেন। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে সাকিবের বিশাল টার্ন দেখে জুহির সে কী বিস্ময়! চোখের সামনে ঘটনা ঘটছে, অথচ বলিউড-কন্যার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না অত বড় টার্ন কেউ করাতে পারে। টিভি পর্দায় পরপর ভেসে উঠছিল সাকিবের ঘর্মাক্ত চেহারা আর জুহির বিস্ময়মাখা মুখ। সাকিব হাসছেন, জুহিও...আইপিএল তো নয়, যেন বলিউডি ছবির ট্রেলার! নায়কের নাম সাকিব আল হাসান।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) আইপিএল শেষে আজ দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের সাকিব। ফেলে আসছেন গৌতম গম্ভীরের দল, ফেলে আসছেন শাহরুখ-জুহিদেরও। ‘লাজুক’ জুহির সঙ্গে ‘নায়ক’ সাকিবের কথাবার্তা এই কয়দিনে ‘হাই-হ্যালো’, ‘কেমন আছ’র বেশি না গড়ালেও শাহরুখ খান শেষ দিকে ভীষণই গদগদ। পরশু শেষ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ককে বলিউড সম্রাটের অভিনন্দন, ‘অনেক ভালো খেলেছ। সামনের বার এর চেয়েও ভালো খেলবে আশা করি। তবে আমরা চাই দেশের হয়ে তুমি আরও অনেক বেশি ভালো খেলো।’
আইপিএলে কেকেআরের ১৫ ম্যাচের মধ্যে সাকিব খেলেছেন ৭ ম্যাচ। তিন ম্যাচে ব্যাটিং পেয়ে রান করেছেন ৫ বলে ২, ১ বলে অপরাজিত ১ ও ১৬ বলে ২৬। বোলিংয়ে ৭ ম্যাচে মাত্র ৬.৮৬ ইকোনমিতে ১১ উইকেট—এমন পারফরম্যান্সের পর সাকিবকে তো ওভাবেই বিদায় দেওয়ার কথা শাহরুখের। সাকিব নিজেও সন্তুষ্ট নিজের এই পারফরম্যান্সে।
টেলিফোনে আইপিএল-অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অবশ্য কাল শাহরুখ-জুহির চেয়ে সতীর্থদের কথাই বেশি বললেন সাকিব, ‘অন্য জায়গায়, অন্য রকম পরিবেশে খেলার সুযোগ পেলাম—এই দেড় মাস খুবই ভালো কাটিয়েছি। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি। বিভিন্ন জিনিস শেখাটাকেই বড় করে দেখছি আমি।’ কী শিখেছেন সেটা বিস্তারিত না বললেও বোঝা গেল, সাকিবের শিক্ষার আসল ক্লাসটা হয়েছে ড্রেসিংরুমে, ‘ক্যালিস, গম্ভীরদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে সময় কাটালেও অনেক কিছু শেখা যায়।’
দেড় মাসে কেকেআরের সবার সঙ্গেই ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। তবে সাকিব আলাদা করে বললেন ইউসুফ পাঠান ও ইকবাল আবদুল্লাহর কথা, ‘বন্ধুত্ব সবার সঙ্গেই হয়েছে। তবে ইউসুফ পাঠান আর ইকবাল আবদুল্লাহর সঙ্গে বেশি সময় কাটত। বাইরে-টাইরে গেলেও ওদের সঙ্গেই গেছি।’
গত বছরের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর থেকে টানা ক্রিকেটের মধ্যেই আছেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজ, বিশ্বকাপ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ—এরপর আইপিএলে কাটালেন দেড় মাসের মতো। আইপিএল শেষেও বিশ্রাম নেই। ঢাকায় এসেই দৌড়াতে হবে ইংল্যান্ডের ভিসার জন্য। আর ভিসা হাতে পাওয়া মাত্র উঠে যাবেন বিমানে, নতুন মিশন উস্টারশায়ারের হয়ে ইংলিশ কাউন্টিতে খেলা। ‘বিশ্রাম আর হলো কই? ভিসা হয়ে গেলে আগামী মাসের ১/২ তারিখেই ইংল্যান্ডে রওনা দেব। জুলাইয়ের ১৫/১৬ তারিখে ফিরে জিম্বাবুয়ের ক্যাম্প, এরপর জিম্বাবুয়ে সফর। টানা খেলার মধ্যে থাকতে হবে আগামী কয়েকটা মাসও’—কথাগুলো শোনার সময় অবশ্য কোনো ক্লান্তির খোঁজ পাওয়া গেল না সাকিবের কণ্ঠে। হাসছিলেন, খেলাটা উপভোগের হাসি।

দলের বাইরে শচীন-যুবরাজ-গম্ভীর

ওয়ানডে সিরিজের দলে ছিলেন না তিনজনের কেউই, প্রত্যেককে বিশ্রাম দিয়েছিলেন নির্বাচকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজের দলেও নেই শচীন টেন্ডুলকার, যুবরাজ সিং ও গৌতম গম্ভীর।
যুবরাজ ও গম্ভীরের না থাকার কারণ একই—ইনজুরি। আর পরিবারকে সময় দিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন শচীন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সেই অনুমতিতে সম্মতি দিয়েছে।
ওয়ানডে সিরিজের দলে না থাকলেও টেস্ট সিরিজে ফিরছেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে আনা হয়েছে বিরাট কোহলি ও অভিনব মুকুন্দকে।
আগামী ৪ জুন একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। ৬ জুন শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। আর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ২০ জুন। ওয়েবসাইট।
টেস্ট দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), ভিভিএস লক্ষ্মণ, মুরালি বিজয়, অভিনব মুকুন্দ, রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলি, সুরেশ বদ্রিনাথ, হরভজন সিং, ইশান্ত শর্মা, শ্রীশান্ত, অমিত মিশ্র, প্রজ্ঞান ওঝা, জহির খান, মুনাফ প্যাটেল, সুরেশ রায়না ও পার্থিব প্যাটেল।

চলে গেলেন ওয়ার্নের গুরু

টেরি জেনার আর নেই। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেগ স্পিনার ৬৬ বছর বয়সে গতকাল ত্যাগ করেছেন শেষ নিঃশ্বাস। গত বছরের এপ্রিলে হার্ট অ্যাটাকের পর শয্যা নেওয়া জেনার আর পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। অ্যাডিলেডে নিজের বাসভবনে তাঁর মারা যাওয়ার খবরটি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
সত্তরের দশকে ৯টি টেস্ট খেলা টেরি জেনার ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচিতি উঁচুতে নিয়ে যেতে পারেননি। ৯ টেস্টে ২৩.১১ গড়ে ২০৮ রান, আর ৩১.২০ গড়ে ২৪ উইকেট। নিতান্তই সাদামাটা ক্রিকেটার জেনার অন্য কারণে শিরোনাম হন ১৯৮৮ সালে। অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুই বছর জেল খাটেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে জেলহাজত খাটা একমাত্র ক্রিকেটার তিনি।
তবে এসব পরিচিতি ছাপিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন কোচিংয়ে এসে। বিশেষ করে, শেন ওয়ার্নের গুরু হিসেবে পরিচিত হন তিনি। তাঁর তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে ৭০৮ উইকেট পাওয়া অস্ট্রেলীয় এই স্পিন-কিংবদন্তি যখনই প্রয়োজন মনে করেছেন, টেরি জেনারের শরণাপন্ন হয়েছেন। ওয়ার্নের সঙ্গে কাজ শুরু করেই নিজেকে পাল্টে ফেলেন জেনার। গত বছরই তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ওয়ার্নের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সবকিছুই পাল্টে গেছে। মানুষের শ্রদ্ধা পেয়েছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমার এই উপলব্ধি হচ্ছে যে আমি যেখানে নেমে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফিরে আসতে পেরেছি।’
ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ার্নের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই বদলে গিয়েছিল টেরি জেনারের জীবনটাও। এবিসির ধারাভাষ্যকার হয়েছেন। উঠতি লেগ স্পিনারদের পরামর্শ দিতে চষে বেড়িয়েছেন বিশ্ব। গত বছরের এপ্রিলে ইংল্যান্ডে কোচিং করানোর সময়ই হার্ট অ্যাটাকে শয্যা নেন তিনি।
তাঁর শেষকৃত্য হবে অ্যাডিলেড ওভালে, কবে সেটি জানা যাবে পরে।