Monday, January 26, 2015

‘জনগণের টাকায় কেনা বুলেট বিচারবহির্ভূত হত্যায় ব্যবহার হচ্ছে’

জনগণের টাকায় কেনা বুলেট বিচারবহির্ভূত হত্যায় ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দর্শন, চিন্তা, নীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ধারণ করার অপরাধে জনগণের টাকায় কেনা বুলেট দিয়ে এই বিচার বহির্র্ভূত টার্গেট হত্যা করা হয়। এগুলো যদি বিচার বহির্ভূত হত্যা না হয় তাহলে এগুলো কোন বিচারের অন্তর্ভুক্ত হত্যা? এসব দেশবাসী জানতে চায়। তিনি বলেন, প্রখ্যাত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাস্কির বহু উদ্ধৃত একটি উক্তি হচ্ছে- ‘রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন তা বোঝা যায় রাষ্ট্রের কর্মচারীরা কেমন তার ওপর’। লাস্কি’র উক্তিটি যে কতটা কার্যকর তা এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকে বুঝতে পারছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি যে এখন বর্বর, নিপীড়ক, দমন-পীড়ন, হত্যা, গুম, খুন ও যৌথবাহিনীর নিষ্ঠুর অপারেশনের প্রতিষ্ঠান তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা যথার্থভাবেই সকলকে টের পাইয়ে দিচ্ছেন। একেকদিন একেকজন কর্মকর্তার বক্তব্য শুনলে মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র যেন আওয়ামী লীগের তহবিল থেকে কেনা। সুতরাং তারা মনে করেন, এই অস্ত্র ব্যবহারে কোন জবাবদিহিতার দরকার নেই। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগপন্থি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানরা ছাড়পত্র দিয়েছেন তাদের জওয়ানদের। অস্ত্র গোলাবারুদ কেন অকেজো করে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছেন র‌্যাবের ডিজি। কেন অস্ত্রশস্ত্র খেলার উপকরণ হিসেবে ফেলে রাখা হয়েছে। কেন যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না। র‌্যাবের মহাপরিচালক আরও বলেছেন- বিচারবহির্ভুত হত্যা বলে নাকি কিছু নেই। রিজভী আহমেদ এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাহলে খিলগাঁও ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে কোন বিচারের আওতায় প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছে? কোন আদালতের রায়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়? সপ্তাহ খানেক আগে দলের চারজন কর্মীকে ধরে নিয়ে গিয়ে টার্গেট হত্যা করা হয় কোন বিচারে? রোববার খুলনায় র‌্যাবের মহাপরিচালকের দেয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী আহমেদ। রিজভী আরও বলেন, খাল-বিল, নদী নালায় এত লাশ পড়ে আছে কার বিচারে? আজকেও নরসিংদীর তিন কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে আশেপাশে সাতটি লাশ পাওয়া গেছে। এগুলো কিসের আলামত? দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্র এখন ভয়াল ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারহীন একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের দলের আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক করা হয়। সেখানে নিরপেক্ষতার ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন করা যায় না। বিএনপি এ নেতা বলেন, বাংলাদেশে চোখের ইশারাও যদি সরকারবিরোধী মনে হয় তাহলেও নিপীড়নের শিকার হতে হবে, সেই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এখন বাংলাদেশে বিরাজমান। অমানবিক নাশকতার বিভৎস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে সারাদেশ জুড়ে। পেট্রল বোমা মেরে মানুষকে দগ্ধ করার বিরামহীন দৃশ্য দেখানো হচ্ছে টেলিভিশনে। বার্ন ইউনিটের অমানবিক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের আন্দোলনের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে হাইপার প্রচারাভিযান। রিজভী বলেন, কয়েকদিন ধরেই জনশ্রুতি ছিল- সরকার নিজেই একটা বড় ধরনের নাশকতা করবে। যেটির বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যাতে পুরো দায়টা বিরোধী দলের ওপর চাপানো যায়। ২৩শে জানুয়ারি রাতেই ডেমরায় বাসে আগুন দিয়ে ৩৫ জন বাসআরোহীদের অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটানো হলো। আর পরের দিন শোকে কাতর সন্তানহারা মা খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা দেয়া হলো। সমগ্র ঘটনাটাই একটা মাস্টারপ্ল্যানের অংশ বলে সর্বসাধারণ বিশ্বাস করে।

মেট্রোরেল চালু করতে সংসদে বিল পাস

রাজধানীতে মেট্রোরেল চালু করতে সংসদে পাস করা হয়েছে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’। সোমবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে কন্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলের উপর বিরোধী দলীয় সদস্য এম এ হান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও হাজী মো. সেলিম জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপন করলেও তা কন্ঠভোটে নাকচ হয়। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি পাসের আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং জনসাধারণকে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা দেয়ার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ প্রথম মেট্রোরেল চালু হবে। তাই মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। সেজন্য এই বিলটি আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আইনের আওতায় রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করা হবে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চালু করা এই মেট্রোরেল ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত  মেট্রোরেলের সময় লাগবে ২৮ মিনিট। আর স্ট্রেশন থাকবে ১৬টি। মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি প্রথমে ২০২৪ সালেল চালুর কথা থাকরেও শেষ পর্যন্ত তা ৫ বছর কমিয়ে আনা হয়। এ হিসেবে ২০১৯ সালে শেষ হবে মেট্রোরেলের কাজ। সংসদে উত্থাপিত বিলে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা ও অনুমোদন ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই রেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলে চলাচলকারী সকলের বীমা থাকবে। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিলে এই রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিনা টিকেটে ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ১০ বছর কারাদ- ও এক কোটি টাকা জরিমানা। বিলে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বীমার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

গ্রিসে বাম অভ্যুদয়

গ্রিসের সাধারণ নির্বাচনে কৃচ্ছ্রব্রতবিরোধী সিরিজা দল বিজয়ী হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সঙ্গে নানা বিষয়ে দেশটির বিরোধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষত বিপুল ঋণগ্রস্ত গ্রিসের বড় জামানতদার এখন এই ইইউ। এ পর্যন্ত গোনা ৭৫% ভাগ ভোটে  সিরিজা ১৪৯ আসনে এগিয়ে আছে বলেই দেখা যাচ্ছে, অবশ্য এ সংখ্যায় হেরফেরও ঘটতে পারে। বামপন্থি দলের নেতা আলেকসিস টিসিপ্রাস বরাবরই গ্রিসের ঋণভার নিয়ে পুনঃদরদস্তুরের পক্ষপাতী। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘গ্রিকরা সৃষ্টি করেছে নতুন ইতিহাস।’ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মধ্যডান নিউ ডেমক্রেসি দ্বিতীয় হয়েছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আনতোনিস সামারাস পরাজয় মেনে নিয়ে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মি. টিসিপ্রাস-কে। বামপন্থি সিরিজিয়া দলের বিজয় গোটা ইউরোপে কাঁপন জাগিয়েছে বলে গিসের রাজধানী এথেন্স থেকে বিবিসি’র গাভিন হিউইট এক প্রতিবেদনে মত প্রকাশ করেছেন।

সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিল by কাফি কামাল

জন্ম-মৃত্যু নিঃসন্দেহে মানবিক ঘটনা। পরিবেশ পরিস্থিতির ঘনঘটায় এসব আর মানবিক বিষয় থাকছে না। শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক কৌশলের প্রসঙ্গ। পুত্র হারিয়ে শোকে কাতর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশে তার নেতৃত্বেই চলছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। কিন্তু যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সে সরকারের প্রধানমন্ত্রীই সমবেদনা জানাতে ছুটে গেছেন খালেদা জিয়ার কাছে। যিনি দেশবাসীর আহ্বান ও দাবির মুখেও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি নন। যার নেতৃত্বাধীন সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে খালেদা জিয়ার চলাচল। কার্যালয়ে কাটাতে হচ্ছে অবরুদ্ধ জীবন। তিনিই যখন শোকগ্রস্ত খালেদা জিয়ার কাছে ছুটে গেলেন, তখন ঘোর অমাবস্যায় একফালি আলোর রেখা দেখলো দেশের ১৬ কোটি মানুষ। দেখলো চলমান দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি সম্ভাবনার সূত্র। সবার মনে উঁকি দিলো একটি স্বপ্ন। শোককে কেন্দ্র করে হয়তো দূরত্ব কমবে দুই নেত্রীর, যা রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের নমনীয় অবস্থানে আনতে সহায়ক হবে। শোকের দিনে সমবেদনার ভাষাগুলো নিরর্থক হবে না, যা দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে প্রধানমন্ত্রী গেলেন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে। যখন ঘুমের ইনজেকশনের প্রভাবে অচেতন খালেদা জিয়া। খুললো না তার কার্যালয়ের মূল ফটকের তালা। প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনাও জানানো হলো না বিএনপির তরফে। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় দাঁড়ালেও ফিরে যেতে হলো প্রধানমন্ত্রীকে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট। দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে গেল অনেক কিছু। মুকুলেই ঝরে গেল সব সম্ভাবনা। তৈরি হলো নতুন বিভ্রম ও বিভ্রান্তি। নতুন করে হালে পানি পেলো অপপ্রচার। শোক পরিণত হলো রাজনীতিতে।
প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পর সরকারের তরফে এলো সমালোচনা। বিএনপির তরফে শোককে নিয়ে নোংরা রাজনীতি না করার আহ্বান। কিন্তু যা ঘটার তা তো ঘটেই গেছে। মধ্যরাতে ‘ঘুম ভাঙার পর’ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং যে কোন সময় স্বাগত জানালেও থামেনি বিভ্রান্তির প্রচার। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে নানা প্রশ্ন। বিএনপি কি ভুল করলো? কে নিলো এমন সিদ্ধান্ত? খালেদা জিয়া যদি ইনজেকশনের প্রভাবে ঘুমিয়েই ছিলেন তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তইবা দিলো কে? কেউ কেউ বলছেন, খালেদা জিয়া অপরাজনীতির শিকার। তার কাছের লোকজনের কারণে তিনি বারবার ভুল বা অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীইবা এত তাড়াহুড়ো করতে গেলেন কেন? প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে আগে থেকেই কেন দৃশ্যমান হলো না নিরাপত্তা তৎপরতা? দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থে যেখানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সংলাপে অনীহা, সেখানে তার ছেলের মৃত্যুতে কেন শোক প্রকাশের এত আয়োজন? কিন্তু যারা দুই নেত্রীর এ সম্ভাব্য সাক্ষাতের মধ্যে বড় কোন সম্ভাবনার সূত্র দেখতে পেয়েছিলেন, তাদের হতাশা বেশিই। প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সমবেদনা জানাতে ছুটে গেছেন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে। কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর গেট খোলা বা অভ্যর্থনা জানানো হলো না, তখন তিনিই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে ফিরে যেতে হলো এটা খুবই দুঃখজনক। এখন আমি বলবো সংলাপ হবে না, কিসের সংলাপ! লাত্থি মারি সংলাপের।’
শোকগ্রস্ত খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর ছুটে যাওয়া এবং ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার মধ্যে নানা রকম যুক্তিতর্ক দেখছে বিএনপি নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক মহল। বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের একজন নেতা জানান, ২০০৬ সালে থেকে একের পর এক বিপর্যয়ের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে খালেদা জিয়ার জীবন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুই ছেলেসহ কারাভোগ করেছেন দীর্ঘদিন। সত্তরোর্ধ্ব বয়সে পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের ছাড়া তিনি কাটাচ্ছেন নিঃসঙ্গ জীবন। রাজনীতির কারণেই তার দুই ছেলেকে অবস্থান করতে হচ্ছে বিদেশ বিভূঁইয়ে। এ সময়ের মধ্যে প্রথমে মাকে ও পরে ভাইকে হারিয়েছেন। উচ্ছেদ হয়েছেন দীর্ঘদিনের বাসস্থান থেকে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২১ দিন ধরে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে। সর্বশেষ নিজের ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন। নিজের ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমন পরিস্থিতিতে দুই নেত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎ হলে কি হতো? ধারণা করা যায়, ফটোসেশন ও কান্নাকাটি ছাড়া তেমন কিছু নয়। কিন্তু দুই নেত্রীর সাক্ষাৎ হলে কি হতে পারতো এবং কেনইবা সাক্ষাৎ হয়নি এ নিয়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। তবে বিএনপি সিনিয়র এ নেতা জানান, দুই নেত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎ হলে চলমান আন্দোলনে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তো। ভেঙে যেত চলমান অবরোধ কর্মসূচি। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারতেন, দুই নেত্রীর মধ্যে তো কথা হয়েই গেছে। একজনের শোকের দিনে পাশে দাঁড়ান আরেকজন। তাহলে আর অবরোধ কর্মসূচি কেন? তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। নিজ দল ও জোটের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী বর্তমানে কারাগারে বন্দি। যদি শোকের পরিবেশে দুই নেত্রীর মধ্যে ফটোসেশন হতো তাহলে কারাবন্দি নেতাকর্মীরা কি বলতেন? তারা প্রশ্ন তুলতে পারতেনÑ আমরা কি করলাম? ওয়াকিবহাল পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খেলাটা ছিল সুপরিকল্পিত। তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিলেন। একদিকে শোক জানানো, অন্যদিকে অবরোধের অবসান। সে চালে বিএনপি পা দেয়নি বুঝে না বুঝে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বরং উল্টো আওয়ামী লীগের ভেতরে সমালোচনার শুরু হয়েছে। নিছক সামাজিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেখানে গেলেন কেন? কারা তাকে এই পরামর্শ দিল। তাকে তো বারণ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল খালেদা ঘুমিয়ে আছেন।
যদি ব্যক্তিক অবস্থান থেকে বিচার করা হয় তাহলেও সামনে আসে নানা যুক্তি। বিএনপি নেতা জানান, রাজনৈতিক বিরোধিতা রাজনীতিতে স্বীকৃত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধিতার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে পারিবারিক হয়রানি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় নানা অভিযোগে মামলা হয়েছিল জিয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে সেসব মামলা এমনভাবে পরিচালিত করা হয়েছে যার মধ্যে প্রতিহিংসার একটি ইঙ্গিত প্রকাশ পায়। যে কোকোর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন তার জামিনের মেয়াদ বাড়ায়নি সরকার। পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে সাজা। প্রতিনিয়ত তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কটূক্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা। আবার দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীও। কিন্তু সর্বোপরি তিনি একজন মা। দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি একটু বেশি দুর্বল ছিলেন খালেদা জিয়া। তাদের পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বরণের সময় কোকোর বয়স ছিল খুবই কম। তার ওপর ছোটবেলা থেকেই কিছুটা রোগাক্রান্ত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি তৈরি হয়েছে এ দুর্বলতা। অন্যদিকে আরাফাত রহমান কোকোও ছিলেন অনেক বেশি মায়ের নির্ভর। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনে পাল্টে যাওয়া পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। এমনিতে দীর্ঘদিন ধরে ছেলে অবস্থান করছেন চোখের আড়ালে। ফলে কোকোর মৃত্যুতে মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন খালেদা জিয়া। কোন মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যুর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিইবা হতে পারে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাকে ঘুম পাড়ানোর ইনজেকশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএনপি হয়তো দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তরফেও কি রাজনীতিই প্রাধান্য পায়নি? নানা অপবাদ দিয়ে যেখানে বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে কোণঠাসা করা হয়েছে, সব মহলের আহ্বানেও যেখানে সংলাপে বসতে অনীহা, সেখানে সে পরিবারের একজনের মৃত্যুতে কেন এত সমবেদনা জানানোর তাড়াহুড়ো? যেখানে প্রস্তুতির একটু সময়ও দেয়া হলো না। তাছাড়া খালেদাকে হুকুমের আসামি করে যেখানে শনিবার দুপুরেই মামলা হয়েছে সেখানে এই শোকের আয়োজন কতটা মানবিক তাও বিবেচনার দাবি রাখে। বিএনপির তরফে দাবি করা হয়েছে, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, অন্যদিকে পরিস্থিতির কথা জানানোর পরও অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে গেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতিও ছিল না। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী কোথাও গেলে এ ধরনের তাড়াহুড়ো করা হয় না। এ ছাড়া সন্তানহারা কোন মা নিশ্চয়ই মেহমানদারিতে ব্যস্ত বা কোন ভিভিআইপিকে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করেন না।
রাতে খালেদা জিয়া ‘ঘুম ভাঙার পর’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। প্রধানমন্ত্রী ফের যেতে চাইলে স্বাগতও জানিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়া চেতনানাশক ইনজেকশনের কারণে ঘুমে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যেতে পারতেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব। কার্যালয়ের একটি কক্ষে বসিয়ে প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির কথাটি বুঝিয়ে বলতে পারতেন। এতে অন্তত সামাজিকতার জয় হতো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যের প্রকাশ ঘটতো না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হতো না। এছাড়া ২১ দিন পর বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের মূল ফটকের তালা খোলার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। যে সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে তাকে দুই সপ্তাহের বেশি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করা রাখা হয়েছিল, সে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আগমনেই খোলা হতো তালা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা স্বচক্ষে দেখতে পেতেন কেমন পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে সৌজন্য আলোচনা নিশ্চয় হতো, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরণে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারতো। সবচেয়ে বড় কথা, দুই নেত্রীর সাক্ষাৎ হলে দেশের পরিস্থিতি উত্তরণে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগে খানিকটা জোর পেতেন সুশীলসমাজ ও শুভাকাক্সক্ষীরা। এ কথা সত্য, শনিবার রাতের ঘটনায় পরিষ্কার, রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হেরে গেছে সামাজিকতা।
রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে আর কিছু বিবেচনায়। খালেদা জিয়া বা বিএনপি নেতৃত্ব হয়তো চিন্তা করেছেন, আন্দোলনে হতাহত ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি যেখানে সরকারের ন্যূনতম সহানুভূতি নেই, সেখানে কোকোর জন্য সহানুভূতির বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া কোকোর মৃত্যুতে চলমান কর্মসূচির কোন হেরফের হয়নি। তেমন কিছু হলে সেটা আরও বেশি সমালোচনার মুখে ফেলত বিএনপিকে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত শোকের চেয়ে রাজনীতি ও দেশের মানুষের মনোভাবের প্রতি প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া ফিরে আসছে পুরোনো কিছু ঘটনাও। মুক্তিযুদ্ধের পর দুই নেত্রীর মধ্যে একটি ভাল সম্পর্ক ছিল। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও তারা বারবার কাছে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। যে কোকোর মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী ছুটে গিয়েছিলেন তার বিয়েতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’নেত্রীর মধ্যে দূরত্ব ক্রমশই বেড়েছে। সর্বশেষ সশস্ত্রবাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে দু’জন মুখোমুখি হলেও কথা বলেননি। শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে কয়েকজন বিএনপি নেতা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আক্রান্ত বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে তার সুধাসদনের বাসায় যেতে চেয়েছিলেন। সেদিনও আওয়ামী লীগের বিরোধিতার জন্য তিনি যেতে পারেননি। সেটাকে যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, জিয়া পরিবারের প্রতি সরকারের পদক্ষেপ ও বিদেশ বিভূঁইয়ে আরাফাত রহমান কোকোর মামলা এবং সাজা মাথায় নিয়ে মৃত্যুও প্রতিহিংসার দৃষ্টিকোণের বাইরে থাকে না।
যাই হোক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না।’ এছাড়া ২০-দলীয় জোটের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদ গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, মানসিক বিপর্যয় থেকে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খালেদা জিয়া। তার বরাত দিয়ে টেলিভিশনে এ সংবাদ প্রচারও করা হয়েছে। তাহলে সে বিষয়টি কেন প্রধানমন্ত্রীর তরফে আমলে নেয়া হলো না। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা না জানানো নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তি এখন মুখরিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুখে। কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা না জানিয়ে অসৌজন্য আচরণ করা হয়েছে। এটা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। আবার কেউ বলছেন, ধরা যাকÑ বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানালেন কার্যালয়ে নিয়ে গেলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তখন ঘুমে অচেতন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারলেন না। তখনও তো অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হতো। যারা সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি খুঁজেন তারা হয়তো বলতেন, প্রধানমন্ত্রী গেলেন অথচ খালেদা জিয়া বিছানা থেকে উঠলেন না। তবে নানা বিভ্রান্তির ভেতরও দু’টি বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সবাই। প্রথমত, রাতে ঘুম ভাঙার পর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। যে কোন সময় স্বাগতও জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বিএনপির তরফে অভ্যর্থনা জানানো না হলেও সেখানে উপস্থিত বিপুল পরিমাণ বিএনপি নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণও করেননি।
যা ঘটেছিল সে দেড় ঘণ্টায়
সন্ধ্যা তখন ৭টা ১০ মিনিট। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে একটি ফোন এলো বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। ফোনটি রিসিভ করলেন কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। অপরপ্রাপ্ত থেকে চাওয়া হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রধানের ফোন নম্বর। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই কর্মকর্তা ফোনটি দিলেন আরেক কর্মকর্তার হাতে। ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হলেন নিরাপত্তা প্রধান কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ। তিনি ওই কর্মকর্তাকে বললেন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নম্বরটি দিতে। কিন্তু অপর প্রান্তে তখন বলা হলো, নিরাপত্তা প্রধানের নম্বর দরকার, বিশ্বাস কে? যা হোক, পরে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গেই আলাপ করলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা। শিমুল বিশ্বাস খালেদা জিয়ার কক্ষ ঘুরে এসে এবং কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপ করে যোগাযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। জানিয়ে দেয়া হল, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসক তাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছেন। পরে তার ঘুম ভাঙলে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে জানানো হবে। কিন্তু ততক্ষণে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে স্ক্রল দেয়া শুরু হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। রাত তখন ৮টা ১০ মিনিট। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের চারপাশে অবস্থান নিলেন পিজিআর-এর একটি দল। পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের কিছু তৎপরতাও শুরু হলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যাবেন অথচ কার্যালয়ে ভেতরে এবং উঠোনে থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার কোন উদ্যোগ দেখা গেল না। সন্ধ্যার পর পকেট গেট খোলা থাকায় সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না তখন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়ে পকেট গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। এ নিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। রাত তখন ৮টা। কার্যালয়ের উঠোনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করলেন শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যোগাযোগ এবং খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বললেন, তার ঘুম ভাঙলে ফের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হবে। তার এমন ব্রিফিংয়ে সবাই ধরে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আসা হচ্ছে না। কিন্তু মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধান। শিমুল বিশ্বাস কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকার পর মুহূর্তে ৮টা ৩৫ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালেন। কিন্তু দায়িত্বশীল কারও নির্দেশ না পাওয়ার কারণে গেট খুলল না নিরাপত্তাকর্মীরা। ফের গাড়িতে চড়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর পেয়ে শোকবই হাতে ছুটে এলেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি গেটের বাইরে দাঁড়ানো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিলের সঙ্গে কয়েকটি বাক্যবিনিময় করলেন। শিমুল বিশ্বাস তাদের জানালেন খালেদা জিয়া ইনজেকশনের প্রভাবে ঘুমে। সময় তখন ৮টা ৪০ মিনিট। মাহবুবুল হক শাকিলের হাতের ইশারা পেয়ে ফিরতি পথে চলতে শুরু করল প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। পুরো ঘটনাটি ঘটলো একটি দমবদ্ধ নীরব পরিবেশের ভেতরে।

ভারতীয় পোশাকশিল্পীর সাজে দিল্লিতে মিশেল

ভারতীয় পোশাকশিল্পীর ডিজাইনকৃত পোশাকে দিল্লিতে নামলেন মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। নামার ঘণ্টাখানেক আগে তিনি টুইট করে এ কথা জানান। এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় দেখা যায়, মিশেল জ্যামিতিক প্রিন্টের কালো ও হাঁটু অবধি সাদা পোশাক পরে আছেন। জামার কেন্দ্রীয় অংশে নীল ফুলের ছাপ। এর সঙ্গে ম্যাচিং করে একটি তিলা কোট গায়ে জড়ানো। পায়ে সাদামাটা কালো পাম্প। বিভূ মহাপাত্র বলিউড তারকা সোনম কাপুর ও কারিনা কাপুরের পোশাকেরও ডিজাইনার।
ম্যাচবক্সে রাখার মতো সিল্ক শাড়ি উপহার
বাংলার সিল্ক জগদ্বিখ্যাত। মুঘল আমলে এমন সিল্ক শাড়ি ছিল, যেটি একটি ম্যাচবক্সে রাখা যেত। বিষয়টি এখন রূপকথার মতোই মনে হতে পারে। কিন্তু ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামাকে এ রকমই এক শাড়ি উপহার দিচ্ছেন, যেটি একটি ম্যাচবক্সে রেখে ঘুরে বেড়াতে পারবেন তিনি।  আজ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ওই শাড়ি মিশেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিখ্যাত হস্তশিল্পী নীলা বিজয় ওই শাড়ি তৈরি করেছেন। শুধু মিশেলের জন্য নয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্যও সিল্ক শাল তৈরি করেছেন তিনি। সাড়ে চার মিটার লম্বা শাড়িটির ওজন মাত্র ৬০ গ্রাম ও দুই মিটার লম্বা শালের ওজন ৩০ গ্রাম মাত্র। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের কাছে ওই উপহারগুলো হস্তান্তর করেছেন শীলা। প্রজাতন্ত্রের দিন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাধ্যমে অন্য উপহারগুলোর সঙ্গে শাড়ি ও শালটি দেয়ার অনুরোধ করেছেন শীলা। জিনিউজ।

ওবামার নৈশভোজে মাছ মাংস সবজি মালপোয়া

ভারত সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার পত্নী মিশেল ওবামার সম্মানে রোববার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজ দিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এতে ছিল মাছ, মাংস এবং সবজি দিয়ে তৈরি জিভে জল আসা সব ভারতীয় খাবার। সঙ্গে ডেজার্ড হিসেবে মালপোয়া। ওবামার সৌজন্যে দেয়া প্রণব মুখার্জির ওই নৈশভোজে আড়াইশ’ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ওবামা এবং মিশেল ওবামার সঙ্গে ভোজে অংশ নিয়েছিলেন মোদি। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, লোকসভার স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিচারপতি ও মোদির মন্ত্রিসভার সব সদস্য, কেবিনেট সচিব,
পররাষ্ট্র সচিব দু’দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দেব গোদা, সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম, প্রতিভা পাতিলকেও ভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কর্পোরেট ভারতের মুকেশ আম্বানি, অনিল আম্বানি, আনন্দ মাহিন্দ, সুনীল ভারতী মিতাল ও দীপক পরেখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন সানিয়া মির্জা, অমিতাভ বচ্চন, অমর্ত্য সেন ও শচীন টেন্ডুলকার। নৈশভোজে ওবামাকে ঐতিহ্যবাহী সব ভারতীয় ডিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গালাউতি কাবাব, সুফিয়ানা ফিস টিক্কা, চিকেন মালাই টিক্কা, ফ্রাইড ব্রকলি, পনির মালাই টিক্কা, ভেজিটেবল কাবাব, ফিশ কারি, খাসির রোগান জোস, মুরগির কোরমা, ডাল রাইসিনা, সবজি নুডলস, পাঞ্জাবের বিখ্যাত কাদি পাকৌড়া, ছোলা, পাপড়, পোলাও, তন্দুরি ও নান রুটি। সবশেষে ডেজার্ড হিসেবে ছিল মালপোয়া এবং রাবরি।

শুরুতেই প্রটোকল ভাঙলেন মোদি

রোববার ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছান বারাক ওবামা। নয়াদিল্লির কুয়াশা ঘেরা বিমান বাহিনীর স্টেশন পালামে স্ত্রী মিশেলকে নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসেন ওবামা। নামামাত্রই প্রটোকল ভাঙেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মোদি। ওবামা নামতেই তাকে জড়িয়ে ধরেন। পরে ওবামাকে লাল কার্পেট অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রটোকল অনুযায়ী, অন্য কোনো রাষ্ট্রনেতাকে বিমানবন্দরে খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত জানানোর রীতি নেই। কিন্তু ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও পোক্ত করার বার্তা দিতে সেই প্রটোকল ভেঙে ফেললেন নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দর থেকে বারাক ও মিশেল ওবামা পৌঁছান আইটিসি মৌর্য হোটেলে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন তিনি। তার আগেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।
রাষ্ট্রপতি ভবনে বারাক ওবামাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ছাড়াও সস্ত্রীক ওবামাকে অভ্যর্থনা জানান মনোহর পারিকর, বেঙ্কাইয়া নাইডু, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি এবং রাজনাথ সিং। ওবামার উদ্দেশে ২১ বার গান স্যালুট জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন গ্রহণ করার পর রাজঘাটের উদ্দেশ রওনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন তিনি। ভিজিটর্স বুকে সই করেন। রাজঘাটে নিজের হাতে একটি চারাগাছ রোপণ করেন ওবামা। এই সফরে অসামরিক পরমাণু চুক্তি, প্রতিরক্ষা, পরিকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বেশ কয়েক ধাপ এগোবে বলে আশা রাখছে দু’পক্ষই।

রোনাল্ডো-মেসি দুই মেরুতে!

সতীর্থ গ্যারেথ বেলের সঙ্গে ঠোকাঠুকি, বান্ধবী ইরিনা শায়েকের সঙ্গে বিচ্ছেদ, সর্বশেষ মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দর্শন। নতুন বছরে অঘটনের চক্করেই আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফিফা ব্যালন ডি’অর জেতার পর কোথায় ঝড় তুলবেন মাঠে, তা নয় উল্টো দু’দিন পরপর ভক্তকুলের কাছে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে বিশ্বসেরা ফুটবলারকে! কখনও দলের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের জন্য, কখনও নিজের অভাবনীয় পাগলামির জন্য। শনিবার গোলের বদলে ক্যারিয়ারের নবম লাল কার্ড দেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ সুপরস্টার। ৪৪ বছর পর কর্দোবার মাঠে খেতে গিয়ে বিপদেই পড়েছিল রিয়াল। কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না।
সেই হতাশা থেকেই হয়তো ৮২ মিনিটে মেজাজ হারিয়ে বসেন রোনাল্ডো। কর্দোবা ডেফেন্ডার এডিমারকে আচমকা লাথি ও ঘুষি মেরে রেফারিকে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য করেন সিআর সেভেন। পরে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। রোনাল্ডো লাল কার্ড দেখেছেন এমন নয় ম্যাচের মাত্র দুটিতে হেরেছে তার দল। পরশু রাতেও বেঁচে গেছে রিয়াল। ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে দলের মান বাঁচিয়েছেন গ্যারেথ বেল। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ অবধি ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে স্প্যানিশ লীগের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রিয়াল।
রোনাল্ডো যখন ভুল কারণে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন, তার ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি তখন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। পরশু আরেকটি ম্যাজিক শো দেখালেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। নিজে করলেন দুই গোল, করালেন আরও দুটি। মেসি জাদুতে এলচের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। মেসির মতো জোড়া গোল পেয়েছেন নেইমারও। বাকি দু’গোল জেরার্ড পিকে ও পেড্রোর। ২৮তম জন্মদিনে প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি বার্সার আরেক লাতিন নক্ষত্র লুইস সুয়ারেজ। বেঞ্চে বসে সতীর্থদের গোল উৎসব দেখতে হয়েছে তাকে। নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন সুয়ারেজ। কারণ এলচের বিপক্ষে শুরু থেকে খেলতে পারলে নিশ্চিতভাবেই তার নামের পাশেও গোটা কয়েক গোল থাকত! কাতালানদের জন্য এলচের জাল কাঁপানোই এখন পৃথিবীর সহজতম কাজ। শুধু এ মাসেই কিংস কাপ ও লা লীগা মিলিয়ে বার্সার বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১৫ গোল হজমের রেকর্ড গড়েছে এলচে!
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও জিতেছে শনিবার। গ্রিজম্যানের জোড়া গোলে রায়োভালেকানোকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিয়েগো সিমিওনের দল। ১৯ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল। ২০ ম্যাচে বার্সা ও অ্যাটলেটিকোর সংগ্রহ যথাক্রমে ৪৭ ও ৪৪ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলে রিয়াল এগিয়ে থাকলেও এ বছর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রোনাল্ডোকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। ব্যালন ডি’অর যুদ্ধে রোনাল্ডোর কাছে হারার পর শেষ তিন ম্যাচে ছয় গোল করেছেন মেসি। করিয়েছেন তিনটি। রোনাল্ডো অবশ্য মুহূর্তের পাগালামির জন্য ক্ষমা চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন, ‘আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি, বিশেষ করে এডিমারের কাছে। সেটা আমার হঠকারী আচরণের জন্য।’ এমন সহিংস আচরণের জন্য তিন ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে পারেন রোনাল্ডো। তবে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, এ যাত্রায় বেঁচে যাচ্ছেন সিআর সেভেন। রেফারি আলেজান্দ্রো হার্নান্দেজ তার রিপোর্টে নাকি রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ আনেননি। সেক্ষেত্রে শুধু এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে রিয়ালের প্রাণভোমরাকে। ওয়েবসাইট।

মম যখন জেরি

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করছেন লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মম। সম্প্রতি তিনি ‘টম অ্যান্ড জেরি’ নামের একটি খণ্ডনাটকের শুটিং শেষ করেছেন। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, মম ভালোবাসেন একজনকে। মনের চোখে ভালোবাসার মানুষটি তিনি কল্পনা করলেও বাস্তবে তিনি তাকে দেখেননি। অর্থাৎ না দেখেই প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এরই মধ্যে মমের বিয়ে ঠিক করে পরিবারের সদস্যরা। এখন কী করবে মম? দেখা করতে যান পাত্রপক্ষের সঙ্গে। কিন্তু পাত্রও কেন জানি এ কন্যা দেখা নিয়ে বেশি আগ্রহী নন।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তৈরি হয় মজার খেলা। এভাবেই নাটকের কাহিনী এগিয়ে যায়। নাটকে মমর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। জাকারিয়া সৌখিনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। এ নাটক প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘নাটকের গল্প অনেক মজার। অভিনয় করার সময় অনেক মজা করেছি। নাটকের নামের সঙ্গে দর্শক অনেক পরিচিত। আশা করি নাটকটি দর্শক উপভোগ করবেন।’ এটি শিগগিরই যে কোনো একটি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা যায়।

‘ক্যামেরা না থাকলে আড্ডা দারুণ জমে’

প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফর নানা কারণে আলোচনায় দুনিয়া জুড়ে। একদিকে ওবামা। অন্যদিকে মোদি। দু’জনই প্রথা ভাঙায় চমক দেখাচ্ছেন। দরুণ পালাম বিমানবন্দরের কথায়। তাবৎ নিরাপত্তা কর্তারা যখন তটস্থ। ঠিক তখন হঠাৎ হাজির মোদি। প্রটোকল সরিয়ে ওবামা দম্পতিকে চমকে দিয়ে শুধুই স্বাগতই জানালেন না। করমর্দনেই না থেমে করলেন উষ্ণ আলিঙ্গন। হায়দরাবাদ হাউসের বাগানে হেঁটে এসে আড্ডার ফাঁকে ওবামাকে চা বানিয়ে খাওয়ালেন নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘বারাক’ বলে সম্বোদন মোদির। যৌথ বিবৃতিতেও তার রেশ থেকেছে । লেখা হলো হিন্দিতে ‘চলিয়ে সাথ সাথ।’ দু’নেতার বক্তৃতাতেও রয়েছে সম্পর্কের গাঢ় উষ্ণতার ছাপ। মোদির উদ্দেশে ওবামা বললেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দেখলাম আপনার জনপ্রিয়তা বলিউড তারকার মতো। মোদিকে লক্ষ্য করে বলে ওঠেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন কাল তিন ঘন্টা ঘুমিয়েছেন। শুনে খারাপ লাগলো। আমিতো দিব্যি ঘন্টা পাঁচেক ঘুমিয়েছি। মোদি কুর্তা একটা পরার ইচ্ছা ছিল আমার। মোদিও কম যাননি। বাচন পটিয়সি মোদি বললেন, বারাক আর আমার রসায়নই ভারত আর আমেরিকাকে কাছে এনেছে। আমি বারাককে ফোন করে গপ্পো করি। ক্যামেরা না থাকলে আড্ডা দারুণ জমে! দু’জনের মধ্যে কি কথা হলো তা পর্দে মে রহেনে দো!

‘অস্ত্র হা-ডু-ডু খেলার জন্য নয়’ -র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর

(খুলনায় র‌্যাব-৬-এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। ছবি: ফোকাস বাংলা) র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই। এটি একটি সস্তা চমকপ্রদ কথা। একটি বিশেষ শ্রেণী নির্দিষ্ট উদ্দেশে একথা প্রচার করে। পুলিশের কাছে যে অস্ত্র দেয়া হয়েছে তা নিছক হা-ডু-ডু খেলার জন্য নয়। সমস্যা হলে নিরাপত্তার জন্য গুলি করতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের সস্তা কথা প্রচার না করার আহ্বান জানান। র‌্যাব মহাপরিচালক তার দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার খুলনায় অবস্থিত র‌্যাব-৬ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথাগুলো বলেন। ব্রিফিংকালে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও খুলনার জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। র‌্যাব ডিজি বলেন, দেশের একটি গোষ্ঠী, সংঘবদ্ধ মহল তাদের গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের জন্য অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চাই। তিনি খুলনা অঞ্চলে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এর সব কৃতিত্ব এ অঞ্চলের মানুষের। এভাবে যদি আমরা হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি তাহলে যারা নৃশংস কাজ করছে তাদের পরাজিত করতে পারবো। তিনি বলেন, শিশু জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে এ দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা দিতে চাই। নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য র‌্যাব পুরস্কার ঘোষণার পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন মর্মে এক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর বলেন, আমাদের মূল টার্গেট পুরস্কার না। এ ঘোষণার ইমপ্যাক্ট ভাল। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এর ফলে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করছে। তথ্য দিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজই যদি স্বাভাবিক হয়ে যায় তাহলে আমিই হবো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। তবে আমি কোন সময়সীমা বলবো না, শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যারা গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় একটি আদর্শিক যুদ্ধ শুরু করেছে তাদের আমরা পরাজিত করতে পারবো। দেশে অব্যাহত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের ব্যাপারে র‌্যাব ডিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থাকলে বিচার অন্তর্ভুক্ত হত্যাও কি আছে? এরকম সস্তা ও চমকপ্রদ কথার পেছনে সংবাদিকদের ছোটা ঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই তো পুলিশের কাছে অস্ত্র দেয়া হয়েছে। অস্ত্র তো খেলা করার জন্য নয়। গুলি করার জন্যই তো অস্ত্র।

পরিস্থিতি ব্যবসাবান্ধব নয় সমাধান জরুরি -বৃটিশ ওয়েলশ চেম্বার নেতৃবৃন্দের অভিমত

বাংলাদেশের চলমান সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব নয়’ বলে মনে করেন সফররত যুক্তরাজ্যের ওয়েলশ-বাংলাদেশ চেম্বার নেতৃবৃন্দ। এমন অবস্থা এ দেশে নতুন নয় মন্তব্য করে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিনিধি দলের ওই সদস্যরা দেশের অভ্যন্তরীণ এ সঙ্কট জরুরি ভিত্তিতে সমাধান কামনা করেছেন। সাত দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এসব কথা বলেন। বিনিয়োগ সম্ভাবনার খোঁজে শনিবার ২৪ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। গতকাল থেকেই তাদের সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রথমেই ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দেখভালে নিযুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এরপর রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ে মিলিত হন। হাইকমিশন আয়োজিত ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ বিশেষ করে বৃটেন ও ওয়েলশ-এর ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বছরপূর্তিকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান কতটা বিনিয়োগবান্ধব? এমন একাধিক প্রশ্ন আসে সাংবাদিকদের তরফে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওয়েলশ চেম্বার প্রতিনিধিরা কোন রকম রাজনীতির মধ্যে না গিয়ে বলেন, আমরা জানি এ রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে প্রথম ‘বিনিয়োগ মিশন’ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন জানিয়ে তারা বলেন, ওয়েলশ গভর্নমেন্ট যখন এটি চূড়ান্ত করে তখন এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি ছিল না। তারা আশা করেন পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। তারাও এখানে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে পারবেন। ওয়েলশ-বাংলাদেশ চেম্বারের চেয়ারম্যান এম দিলাবর এ হোসেন ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান আনা মিয়া, সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুব নূর, ডেপুটি সেক্রেটারি ইমতিয়াজ হোসেন (জ্যাকি), ডিরেক্টর আবদুল আলীম, মিডিয়া ডিরেক্টর আজফুল খান, আইটি ডিরেক্টর ইয়াহিয়া হাসান প্রমুখ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। ব্যবসা করতে গেলে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তা সব দেশেই থাকে। দেশের পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন কাজ বন্ধ করে বসে থাকা কোন সমাধান নয় বলে মনে করেন তারা। বৃটেনের প্রতিনিধিরা মনে করেন- ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থ বড় বিষয় নয়। বাংলাদেশে অর্থ আছে। ব্যবসায়ে উন্নতির জন্য যে জ্ঞান ও দক্ষতা দরকার সেটির এখনও ঘাটতি রয়েছে। তা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তরুণ ব্যবসায়ীরা। আগামী ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কাল তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ওয়েলশ-এর একজন এমপি। বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে। গতকাল বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এফবিসিসিআই ও ঢাকা চেম্বার নেতাদের সঙ্গেও তাদের মতবিনিময় হবে। প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম ও সিলেট সফর করবে।

অনিক ডান চোখে দেখতে পাবে না!

(ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুরুতর আহত অনিক ও তার মা। ছবিটি ২১ জানুয়ারি তোলা। ছবি: আবদুস সালাম।) বোমার আঘাতে গুরুতর আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিক ডান চোখে কখনোই দেখতে পাবে না। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে টেলিফোনে আজ রোববার রাত সোয়া নয়টার দিকে এমনটাই জানালেন অনিকের বাবা মিজানুর রহমান। উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে নিয়ে তিনি এখন ভারতের চেন্নাইতে আছেন। ২২ জানুয়ারি অনিককে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে শংকর নেত্রালয়ে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চেন্নাই যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনিকের বাবা দেখা করেন। এ সময় অনিকের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকা দেন। শংকর নেত্রালয়ে অনিককে ভর্তি করা হয়নি। মিজানুর রহমান একটি বাসা ভাড়া নিয়েছেন। সেখান থেকেই অনিককে প্রতিদিন হাসপাতালে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না। সরকারের বছরপূর্তিতে আওয়ামী লীগের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ দিবস ও বিএনপি জোটের ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কমর্সূচির দিন ৫ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফেনী শহরের খেজুর চত্বরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমার আঘাতে আহত হয় অনিক। অনিকের বাবা টেলিফোনে জানান, বাঙালি চিকিৎসক শহীদ আলম তাঁকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বলেছেন, অনিক ডান চোখে আর কোনো দিন দেখতে পাবে না। বাম চোখে অল্প দেখছে। এখন এই চোখটাকে ভালো করতে যা যা করা দরকার, তাই করতে হবে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অনিকের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু এখন তা অনিশ্চিত। চেন্নাই যাওয়ার আগে অনিক রাজধানীর আগারগাঁওয়‌ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় অনিক। অনিকের বাবা জানান, অনিক চোখের ওপর কপালেও গুরুতর আঘাত পায়। তাই চিকিৎসকেরা কপালের আঘাতের জায়গাটি পরীক্ষা করে দেখবেন। তারপর অনিকের চোখে অস্ত্রোপচার হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকেরা অনিক যাতে কোনোভাবেই মানসিক আঘাত না পায়, সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন। মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছেলে শুধু পরীক্ষার কথা বলে। বলছে, চিকিৎসা না করিয়েই দেশে গিয়ে পরীক্ষা দেবে। কোনোভাবে ওকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখা হচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর আগে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরতে পারব কি না, জানি না। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী যদি আমার ছেলের কথা বিবেচনা করে তার পরীক্ষার জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিতেন এ চাওয়া ছাড়া এখন আমার আর কোনো চাওয়া নেই।’

দর্শনার্থী যন্ত্রণায় দগ্ধরা by আল আমিন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। সারা দেশ থেকে দগ্ধ রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। গত ২০ দিনের অবরোধে ৫২ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ঢামেকের এই বিশেষ ইউনিটে। সঙ্কটাপন্ন অবস্থা থাকায় এখানকার রোগীদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। দর্শনার্থী প্রবেশেও রয়েছে কড়াকড়ি। কিন্তু অপরাজনীতির আগুনে পোড়া এ মানুষগুলোকে দেখতে প্রায়ই ভিড় জমাচ্ছেন রাজনীতিবিদ, সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিসহ সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা। দিনভর সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসছেন সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকরা। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের ভিড় ও অসতর্কতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে দগ্ধ রোগীদের সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর হার। যে কারণে ওই ইউনিটে দর্শনার্থীদের ভিড় না করার জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ১০০ শয্যার বার্ন ইউনিটে ৬০০ রোগী ভর্তি ছিলেন। ওয়ার্ড, হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিটে অনেক রোগীকে বারান্দা অথবা ওয়ার্ডের মাঝখানে পাটি পেড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালের কারণে ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় এবং পশ্চম তলায় বিশেষ ইউনিট খোলা রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধের আগুনে দগ্ধ নারীসহ ৫২ রোগী দগ্ধ ছিলেন। তাদের জন্য বিশেষ একটি সেল খোলা হয়েছে। অবরোধে দগ্ধ শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা বেগম নামে এক নারী মারা যান। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালিতে ক্ষত হয়েছিল। এ ধরনের রোগীদের সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গতকাল সকালে বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলার এইচডিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নিরঞ্জন কুমার সিংহ। তার শরীরের ৩৫ ভাগ পুড়ে গেছে। তার পিতা বাবু সেনা সিংহ জানান, ২২শে জানুয়ারির অবরোধে সকালবেলায় সিলেটের বাইপাস চণ্ডিপুল এলাকায় ট্রাকের ভেতরে কাজ করার দুর্বৃত্তরা পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে। এতে তার ছেলে দগ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার ছেলে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর পরিবারের স্বজন ও তার বন্ধুরা এবং স্থানীয় লোকজন দেখতে এসেছিল। অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় রাতও কাটিয়েছেন। চিকিৎসাধীন ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা উসমান গনি ভর্তি আছেন। তার ভাই শ্যালক জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ইউনিয়নের সামনে যে বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়েছিল, ওই বাসের যাত্রী ছিলেন তার দুলাভাই। তার মুখ ও হাত দগ্ধ হয়। দগ্ধ হওয়ার মাত্রা ১৪ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে তার পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী হাসপাতালে দেখতে আসেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, রাজধানীর কয়েকটি অভিজাত হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে রয়েছে। কিন্তু সেখানে উচ্চবিত্তরা যান না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা ঢামেকের বার্ন ইউনিটে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি নিয়ম মেনে দর্শনার্থীরা না আসায় রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। এজন্য দর্শনার্থীদের বার্ন ইউনিটে গাউন, মাস্ক, জুতা খোলা ও পরিষ্কার জামাকাপড় পরে আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। গত কয়েক দিনে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসেছিলেন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ লোকজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর ও আওয়ামী লীগ প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন বার্ন ইউনিটে ভর্তিরত দগ্ধ রোগীদের দেখতে আসেন, তখন তাদের সঙ্গে থাকা অনেক লোক কোন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিয়েই হুড়োহুড়ি করে ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েন। এমন ঘটনা ঘটেছে আইসিইউতেও। তাদের ছবি নেয়ার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কমপক্ষে ৫০ জন আলোকচিত্রি ও ক্যামেরাম্যানও ঢোকেন। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। গতকাল সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম ও বিকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে দগ্ধ রোগীদের দেখতে যান। তাদের উপস্থিতিতেও এ অবস্থা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে। দর্শনার্থীদের ভিড়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দর্শনার্থীদের ভিড়ের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত। কি পন্থা অবলম্বন করলে ওই দর্শনার্থীদের ভিড় কমানো যায় তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

রাজধানীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

রাজধানীর রামপুরায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাতনামা দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার রাত পৌনে ৩টায় দিকে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের দাবি, ওই দুই যুবক দুষ্কৃতকারী। তাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ভোরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। কিন্তু গতকাল সারা দিনেও নিহত দুই যুবককে শনাক্ত করতে ঢামেক মর্গে কেউ যায়নি। নিহতদের একজনের আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। অন্যজনের বয়স ৪০ বছর হবে। ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তির মুখে দাঁড়ি রয়েছে। তার পরনে ক্যালো জ্যাকেট। তার বুকে, পিঠে, কোমরে গুলির ১৬টি ছিদ্র। অপর যুবকের পরনে সাদা শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। তার দেহে গুলির সাতটি ছিদ্র। রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান জানান, চল্লিশ বছর বয়সী নিহত ব্যক্তির দেহে সাত থেকে আটটি এবং অন্যজনের দেহে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। গুলি শরীর ভেদ করে বের হয়ে যাওয়ায় গুলির চেয়ে ছিদ্র বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসআই জানান, বন্দুকযুদ্ধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভোর ৪টায় লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে তাদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এ দিকে র‌্যাব জানিয়েছে, শনিবার রাত ২টায় র‌্যাব ৩-এর ডিএডি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বনশ্রী এলাকার ওই চেকপোস্টটি রাত ২টায় বসানো হয়। রাত পৌনে ৩টায় র‌্যাবের চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয়া হয়। এ সময় ওই গাড়ি থেকে দুই যুবক র‌্যাব সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হন। তখন ওই প্রাইভেট কারের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। দুই যুবকের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‌্যাবের সদস্য মনিরুল ও আনিস আহত হন বলে র‌্যাব দাবি করেছে। র‌্যাব ৩-এর অপারেশন অফিসার এএসপি সাইফুল ইসলাম জানান, আহত র‌্যাব সদস্য মনিরুলের শরীরে জ্যাকেটে একটি গুলি লাগে কিন্তু তার পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকায় তা বিদ্ধ হয়নি। তবে তিনি আহত হয়েছেন। র‌্যাবের অপর সদস্য  আনিস দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য দৌড় দিলে সড়কে পড়ে গিয়ে আহত হন। র‌্যাব জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্টো-গ-২৩৫০৪৭) গত বছরের ২১শে ডিসেম্বর রাজধানীর কলাবাগান থেকে চুরি হয়। এ বিষয়ে গাড়ির মালিক কলাবাগান এলাকার রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর গাড়িটি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি এবং গাড়ি থেকে একটি পিস্তল, গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি জ্যাকেট, একটি ওয়াকিটকি ও একটি হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত দুই যুবক চোরাই গাড়ি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। র‌্যাবের চেকপোস্টে ধরা পড়ার ভয়ে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছুড়ে বলে জানান তিনি।

চাঁপাই নবাবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে ভাঙচুরের অভিযোগ

চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের রানীহাটি ইউনিয়নের চকবহরম এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় আবারও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, বিকালে জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযান অব্যাহত থাকায় কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ। এদিকে অভিযানের পর চকবহরম এলাকার কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকালে হঠাৎ করে অনেক পুলিশ এলাকায় এসে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা এলাকার ৩-৪টি বাড়িতে তল্লাশি ও ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে জানান, আমরা বাড়িতে বসে পিঠা তৈরি করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে অনেক পুলিশ এসে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং বাড়ির পুরুষ সদস্যদের খুঁজতে থাকে। বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য নেই জানালেও তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাদের বাড়ির ফ্যান, টিভি, ল্যাপটপ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলামের ছেলে জয় মোবাইলে জানান, আমাদেরসহ পার্শ্ববর্তী মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা বাশির আলী ও আবদুর রাকিবের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায় ও বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তিনি আরও জানান, বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্যকে না পেয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মাওলানা হাবিবুর রহমানের পরিবার জানায়, পুলিশ অভিযান চালিয়েছে ভাল কথা, তাই বলে জিনিসপত্র ভাঙচুর করবে কেন? এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সুপার বশির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানের সময় কোন বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। আর অভিযান যেহেতু চলছে তাই গ্রেপ্তারের তথ্য এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তথ্য পাওয়া গেলে আপনাদের জানানো হবে। এর আগে গত ১৫ই জানুয়ারি শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের প্রথম দিনেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে যৌথবাহিনীর বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা নাকি রাজনীতি by হারুন ইবনে শাহাদাত

গত  ২৪ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেছেন। এই ঘটনা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে গিয়েছিলেন শোক ও সমবেদনা জানাতে। ভেতর থেকে গেট বন্ধ থাকায় তিনি ফিরে এসেছেন। কোকো ইন্তেকাল করেছেন মালেশিয়ায়। তিনি ১/১১ এর সরকারের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আওয়ামী সরকারের নানা মামলার কারণে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। এখন দেশের যে অবস্থা তাতে প্রতিদিন শোকের সাগরে ভাসছে অসংখ্য মা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের নির্যাতনে এবং দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমার আগুনে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে অসংখ্য ‘কোকো’। প্রতিটি  দিন-রাতই  এখন শোকের। আগুনে ঝলসে যাওয়া মানুষের মুখগুলো চোখের সামনে থেকে সরে না। রাতের শান্তির ঘুমও উধাও। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর ক্রসফয়ার নাটকে নিহত ইমরুল, মতিউর, জনির মতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিহত বিপ্লবী তরুণদের অতৃপ্ত-আত্মার শ্লোগানে ঘুম ভেঙে যায়। সারাটা দিন তাদের স্বজনদের আর্তনাদের  আহাজারি  কানে বাজে। কষ্ট আরো বেড়ে যায়, যখন ভাবি কথিত বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ার যে নামেই ডাকা হোক না কেন,  গুলিটা বের হয়েছে পুলিশের বন্দুক থেকেই। ওই গুলি বন্দুক আর যে হাতে নিয়ে বন্দুকের টিগার চাপা হয়েছে সব কিছুর উৎস এদেশের খেটে যাওয়া গায়ের রক্ত পানি করা অর্থ। নিহতরা এদেশেরই সন্তান। তারা চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী নন। রাজনৈতিক কর্মী। আর ইমরুল কায়েসদের মতো অনেকেই ছিলেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাহলে কেন তাদের মরতে হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকা কেনা গুলিতে? কি তাদের অপরাধ? পুলিশের খাতায় তারা ‘বিরাট অপরাধী’ গত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন প্রতিহত করতে তিনি গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। মৃত্যুর আগ-মুর্হূত পর্যন্ত জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য ছিলেন আন্দোলনের মাঠে। এমন অপরাধেই চে গুয়েভারা  ও লেনসন ম্যান্ডেলা স্বৈরাচারী শাসকদের  তালিকায় হয়েছিলেন ‘মোস্টওয়ানটেড দাগী সন্ত্রাসী’ আসামি। কালের পাতা পাল্টে যাওয়ার পর ইতিহাসে তাদের নাম লেখা আছে নিপীড়িত গণমানুষের প্রাণপ্রিয় নেতাদের তালিকায়। তাই ইমরুল মতিউর ,জনিদের যে নামেই ডাকা হোক না কেন আসলে তারা সংগ্রামী মানুষের প্রেরণার উৎস। গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা না হওয়ায় খালেদা জিয়াকে শত শত আত্মা ধন্যবাদ জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার আহবানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতরা সেইদিন জেনেছেন তিনি শুধু আরাফাত রহমান কোকোর মা নন, সত্যিকারেই দেশনেত্রী। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর খবর শোনে সমবেদনা জানাতে ছুটে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান সংকট সমাধানে আজ এই সমবেদনা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বেশি প্রয়োজন। প্রতিদিন আগুনে  পুড়ছে মানুষ, পুলিশ আর সরকার দলীয় ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হচ্ছে তরুণ-তাজা প্রাণ। তারাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আতঙ্কিত দেশবাসী বন্দী জীবনযাপন করছে। ধ্বংস হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এই সমবেদনার ‘রাজনীতির’ চেয়ে এই বাস্তব সমস্যার সমাধান দেশের জন্য বেশি জরুরি। একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আর একটি ছোট্ট প্রশ্ন। আরাফাত রহমান কোকোর এই অকালে চলে যাওয়া  কি স্বাভাবিক মৃত্যু? দেশবাসী দেখেছেন, ১/১১ এর সেনাসমর্থিত সরকারের সাজানো মামলায় যেদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়,। সেদিন তিনি ছিলেন সুস্থ-সবল তরুণ। কয়েকদিন পর তাকে আদালতে তোলা হলো হুইল চেয়ারে করে। অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। আজকের প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী -এমপির নামেই সেনাসমর্থিত সরকার একাধিক মামলা করেছিল। কিন্তু সেই সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার হলেও কোকো, তারেক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার হয়নি। বরং তাদেরকে নির্মূল করার নীলনকশার অংশ হিসেবে আরো মামলা করা হয়েছে। মামলা মাথায় নিয়েই চলে গেলেন আরাফাত রহমান কোকো। খালেদা জিয়াকে শুনতে হলো, ‘ চোরের মা’,‘ কুপুত্রের মা’র মতো গালি। গণতন্ত্রের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। কারণ এখানে কেউ রাজা নয় আবার সবাই  প্রজা। ধরে নেয়া হয়, যাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভারোবাসা এবং দেশপ্রেম প্রবল তারাই রাজনীতি করেন। প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মীই সম্মানিত ব্যক্তি, তারা চোর গুন্ডা, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ( ব্যতিক্রমও যে আছে তা স্বীকার করছি) নন। সরকার যখন ক্ষমতার জোরে নাগরিকদের অধিকার হরণ করতে যায়, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীরা তার প্রতিবাদ জানায়। সরকার যদি মনে করে, তারা নাগরিক অধিকার হরণ করতে নয়, সুশাসন ও উন্নয়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে, কিন্তু বিরোধীদল ভুল বুঝছে- তখনই সংলাপের প্রশ্ন আসে।  দমনপীড়িন এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে চোর-গুন্ডাদের মতো আচরণ স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।   প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুধু আরাফাত রহমান কোকোর জন্য সমবেদনা নয়, দেশবাসী  চায় দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সমবেদনা। দেশ ও মানুষ  বাঁচাতে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সংলাপের বিকল্প নেই । জনগণ চায় রাজনৈতিক মামলায় বিরোধীদলের বন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত প্রতিটি পরিবারের মাথায় দুই নেত্রীর সমবেদনার হাত। এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষমতা চায় না।  তারা চায় শান্তি। নিরাপত্তা। আর এর দায়িত্ব নিতে হবে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের।
হারুন ইবনে শাহাদাত: সাংবাদিক
harunibnshahadat@gmail.com

ঢাকা ভেঙে তিন বিভাগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাকে ভেঙে তিনটি বিভাগ করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের স্বার্থেই এটা করতে চান তিনি। গতকাল সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাতে ১৭টি জেলা এবং সব থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রশাসন চালানো যে কি কঠিন অবস্থা! ইতিমধ্যে ময়মনসিংহকে বিভাগ করার ঘোষণা আমরা দিয়েছি। মানুষকে সত্যিকারভাবে সেবা দিতে গেলে, উন্নয়ন করতে গেলে সবচেয়ে ভাল হতো যদি আমরা ঢাকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কি ধরনের কার্যক্রম নিলে সে এলাকার দ্রুত উন্নতি হবে, মানুষ সেবা পাবে- সেভাবে চিন্তা করেই কিন্তু আমাদের বাজেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের অনেক দায়িত্ব। কাজ যেন পড়ে না থাকে। ধীরগতিতে যেন কাজ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। তিনি বলেন, আমাদের আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে। প্রায় ২০০ বছর বৃটিশদের গোলামি করতে হয়েছে আমাদের। ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশিক্ষণের ব্যাপারে খুব গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে সুশিক্ষিত কর্মকর্তা একান্ত প্রয়োজন। যুগের পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনতে পারলেই আমরা এগিয়ে যাবো। প্রশাসনে শূন্য পদ নিয়োগে ৩৪ ও ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের প্রচুর পদ শূন্য রয়েছে প্রশাসনে। একদিকে প্রমোশনের জায়গা নেই অন্যদিকে শূন্যপদ। এই অবস্থাটা কিন্তু থাকা উচিত না।

সংলাপের দাবিতে অনশনে বসবেন বি. চৌধুরী

একজন সিনিয়র সিটিজেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে সঙ্কট নিরসনে দুই নেত্রীর প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা আলোচনায় না বসলে সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের নিয়ে গণ-অনশনে বসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল তার বারিধারার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছি- চলমান সঙ্কট নিরসনে দু’-একদিনের মধ্যে আলোচনায় বসুন। ৭ দিনের মধ্যে আলোচনায় না বসলে আমরা সাধারণ মানুষ, ছাত্র-শিক্ষক ও কৃষক-শ্রমিকদের নিয়ে গণ-অনশন শুরু করবো। তিনি বলেন, চলমান সঙ্কট এখন কঠিন রূপ পরিগ্রহ করেছে। জ্বালাও, পোড়াও আর মানুষ হত্যার রাজনীতি চলছে। প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি বা তারও বেশি টাকার। অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। এ এক ভয়াবহ অবস্থা। কল-কারখানা চলছে না, কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছেন না। মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বর্তমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী রাজনীতি। এত কিছুর পর দুই নেত্রী কথা বলছেন না। এ কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য সাধারণ মানুষের দাবি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ অবিলম্বে আলোচায় বসুক। মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করবেন না। বি. চৌধুরী বলেন, চলমান সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। এ সত্য কথাটি কেউ না বুঝলে মনে হবে তারা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করছেন না। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আওয়ামী লীগের বাস্তব দায়িত্ব ছিল যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। আওয়ামী লীগ ৫ই জানুয়ারি সংবিধান রক্ষার জন্য নির্বাচন করেছিল, এটা কিন্তু ভুল নয়। যাতে সংসদে সব দলের প্রতিনিধি আসতে পারে এ দায়িত্বও আওয়ামী লীগের ছিল। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এ কারণে ওই নির্বাচন সঠিক হয় নাই। ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার রেওয়াজ ইতিহাসে নাই। তিনি বলেন, ওই নির্বাচনের আগে সরকারি দলের অনেক মন্ত্রী বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের পর তারাই আবার বলতে শুরু করলেন, ৫ বছরের আগে কোন নির্বাচন হবে না। শতকরা ১০ ভাগ ভোটে নির্বাচিত সংসদকে চ্যালেঞ্জ করার মতো, এটা সঠিক হয় নাই। এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সরকারের অনুগ্রহপুষ্ট উল্লেখ করে বি. চৌধুরী বলেন, তারা সরকারেও আছে, আবার বিরোধী দলেও, সুতরাং এটা কোন বিরোধী দল নয়। বি. চৌধুরী বলেন, লন্ডনে বসে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে সব কথা বলেছেন, এটা ঠিক হয় নাই। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকেও ছোট করা হচ্ছে। এসব রাজনীতির শ্রদ্ধার ভাষা নয়। প্রয়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অতিকথনের কারণে দ্বন্দ্ব-বিভেদ বেড়ে যায়। এ অবস্থা দেশকে বিভক্ত করে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বলবো, আগামী এক বছর বঙ্গবন্ধু ও জিয়া সম্পর্কে খারাপ কথা বলবেন না। বঙ্গবন্ধুর অবস্থানকে ছোট করে এমন অসত্য ধারণা দেবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্ন্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা সহিংস আন্দোলন, হরতাল সমর্থন করি না। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না। সংবাদ সম্মেলনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব আবদুর রউফ মান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাহবুব আলী, মো. শাহ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ভবনে তারার মেলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঐতিহাসিক ভারত সফরকে কেন্দ্র করে গতরাতে ভারতের প্রেসিডেন্ট ভবনে বসেছিল তারার মেলা। আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় সে এক অন্য রকম চিত্র। আকাশের তারা নয়, এ তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতি, সিনেমা, খেলাধুলা, শিল্প সব ক্ষেত্রের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা যোগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে। এর মধ্যে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, এ আর রেহমান, গুলজার, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, শচিন টেন্ডুলকর। হেভিওয়েট রাজনীতিক, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও দলীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সেখানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত হয়েছেন কিনা তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায় নি। নৈশভোজে আড়াই শ’ অতিথির উপস্থিত থাকার কথা। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় শুধু অতিথিকে, তার স্ত্রী বা সন্তানদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। রাখা হয় আমিশ ও নিরামিশ দুই জাতীয় খাবার। সেখানে পরিবেশন করার কথা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় খাবার। এতে ছিল গালাউতি কাবাব, গুজরাটি কাড়ি। সঙ্গে ছিল সন্দেশ ও পান। প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে এক ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাখা হয়। তা পরিবেশন করে সুপরিচিত নৃত্যগোষ্ঠী সেহের। প্রেসিডেন্ট ভবনের অডিটরিয়ামে ২৫ মিনিটের কনসার্ট হয়। সেখানে ৩০ নর্তকী তাদের নৃত্য পরিবেশন করেন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাচের ৫ গুরু মাধবী মুডগাল (ওড়িশি), প্রেরনা শ্রীমালি (কত্থক), গীতা চন্দ্রণ (ভারতনাট্টম), রাজেন্দ্র পিলালি (কথাকলি) ও চারু সিজা মাথুর (মনিপুর)। সেহের গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীব ভারগাভ বলেন, আমাদের তৃণমূলের সংস্কৃতি দেখাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভারতীয় সংগীতের বেশির ভাগই ফিউশন হিসেবে বাইরের বিশ্বে তুলে ধরা হয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভবনে এজন্য রিহার্সেল করা হয় কমপক্ষে ২৫ দিন।
খাবার তালিকায় শোর্বা, আনান, গুলাব জামুন
নৈশভোজের খাবার তালিকায় ছিল গালাউতি কাবাব, সুফিয়ান ফিশ টিক্কা, চিকেন মালাই টিক্কা, স্টির ফ্রাইড ব্রোকোলি, পনির মালাই টিক্কা, ভেজিটেবল কাবাব, মাস্টার্ড ফিশ কারি, মাটন রোগান জোশ, চিকেন কোর্মা, ডাল রাইসিনা, হাক্কা ভেজ, কাড়ি পাকোড়া, ছোলা, পাপড়, পোলাও, তান্দুরি রুটি ও নান। খাবারের শেষে মিষ্টান্নের তালিকায় রাখা হয় মালপোয়া ও রাবড়ি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আতিথেয়তায় প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য দুপুরের খাবারের তালিকায় ছিল- শতবর্ষের শোর্বা, আনান আর পনিরের সুলা, নাদরুর গুলার, পনির লাবাবদার, মিক্সড ভেজিটেবল কালোঞ্জি, গুজরাটি কাড়ি, মটর পোলাও ও ভারতীয় রুটি। তাজা ফলের সমাহারের পাশাপাশি আর মিষ্টান্নের তালিকায় ছিল গাজরের হালুয়া ও গুলাব জামুন। এছাড়া ছিল দক্ষিণ ভারতীয় কফি আর হারবাল চা।
পূজা ঠাকুরের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার
নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন। সেখানে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। এখানেই উইং কমান্ডার পূজা ঠাকুরের নেতৃত্বে ওবামাকে দেয়া হয় আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার। প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে পূজা ঠাকুরই তিন বাহিনীর নেতৃত্বে গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে দেয়া হয় ২১ বার তোপধ্বনি। একে বলা হয় গান স্যালুট। নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গার্ড অব অনার দেয়ার কারণ আছে। এর কারণ হলো, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম হলো ‘নারী শক্তি’। সে ভাবধারা ফুটিয়ে তুলতে এ আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গার্ড অব অনার দেয়া পূজা ঠাকুর বলেন, আমার ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য এটা এক গর্বের মুহূর্ত। এর মাধ্যমে আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছি। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে আমরা গার্ড অব অনার দিতে পেরে গর্বিত। এ জন্য আমরা অনেক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। পূজা মনে করেন, এর মাধ্যমে তিনি আরও নারীকে বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহী করতে পেরেছেন। ওদিকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল টুইটারে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিচ্ছেন একজন নারী কমান্ডিং অফিসার- এটা জেনে আমি নারী হিসেবে গর্বিত। পূজা ঠাকুর বলেন, আমাদেরকে নারী হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে না, পুরুষদের ক্ষেত্রে যেমন দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে আমাদের দিকেও একই ভাবে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে।

কোকোর মরদেহ ঢাকায় আসছে কাল, সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আসছে কাল। তার জানাজা, দাফন ও পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়টি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। এদিকে গতকাল খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে রক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ওদিকে গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবার সৌজন্যতা না দেখানোটা ঠিক হয়নি। কারণ ছেলের মৃত্যু সংবাদের পর বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অজ্ঞানের মতো। আমরা সিনিয়র নেতারা কেউই তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাইনি। তার দরজা বন্ধ থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরটিও তাকে জানানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের মূল ফটক আগে থেকেই তালাবদ্ধ ছিল। এ ব্যাপারটি সিনিয়র নেতাদের জানা ছিল না। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি যারা শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। ইতিমধ্যে দেশের সকল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন এবং তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ শোক বইয়ে স্বাক্ষর এবং খালেদা জিয়ার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। যা খালেদা জিয়াকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন। যাতে আল্লাহপাক আরাফাত রহমান কোকোকে বেহেস্ত নসিব ও খালেদা জিয়াকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাতে যেন সফল হতে পারেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি যেটা চলছে সেটা বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত চলবে। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকাল সকাল থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে ছিল নেতাকর্মীদের ভিড়। খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই সেখানে যান। এদিকে কার্যালয়ের ভেতরে কূটনীতিকদের জন্য একটি শোক বই খোলা হয়। কূটনীতিকদের মধ্যে- বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ আইজ্জাত, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড মিল, চীনা রাষ্ট্রদূত লিং চু, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত খালেদ সুলতান আল উতাইরি, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা মেহতাব, রেডক্রসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডার্কো জর্ডানোভ, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শায়ের মোহাম্মদ, ফ্রান্স কাতার, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতরা স্বাক্ষর করেন। কার্যালয়ের গেটের বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য আরেকটি শোকবই খোলা হয়। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ লাইন ধরে সে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে- সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল আজিম, হেফাজত ইসলামীর ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক নুর হোসেন কাসেমী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. ওয়াকিল আহমেদ প্রমুখ।
তিনদিনের শোক পালন করবে বিএনপি
এদিকে আজ থেকে তিনদিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। বিবৃতিতে বরা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে আগামী সোম, মঙ্গল ও বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করবে। শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সকল দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে। আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাদ আসর মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র নামাজে জানাজা এবং আগামী বুধবার সারাদেশে গায়েবানা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে শোক কর্মসূচি পালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মামলায় নাম, খালেদাকে গ্রেপ্তারের পথ খোলা রাখার কৌশল

যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে খালেদার নাম উল্লেখ করা হলেও আসামির তালিকায় তার নাম নেই। এ কারণে খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়েছে কিনা বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং দেশের শীর্ষ স্থানীয় ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ মামলায় আসামির তালিকায় খালেদা জিয়ার নাম নেই। তাই তাকে আসামি বলা ঠিক হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার ও পুলিশ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পথ খোলা রাখার জন্যই এ কৌশল অবলম্বন করেছে। তিনি বলেন, আসামি তালিকায় নাম থাকলে হাইকোর্টে আগাম জামিন চাওয়ার সুযোগ পেতেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এখন তার সামনে সে সুযোগও রাখা হয়নি। শুধু হয়রানি করার জন্যই এজাহারে নাম দেয়া হয়েছে। আর যে অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।  গত শুক্রবার রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরী পরিবহনের একটি বাসে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই বাসের ৩১ যাত্রী দগ্ধ হয়। পরদিন শনিবার যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা (নং ৫৯) দায়ের করেন। মামলায় বিএনপি ও জোটের ১৮ কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৬৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি বলা হয়, গত ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেন এবং তাদের নেতাকর্মীদের সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত দেশে অচলাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি এবং জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেন। তারই নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন (বার কাউন্সিলের সভাপতি), শিমুল বিশ্বাস, এম কে আনোয়ার, শওকত মাহমুদ (সাংবাদিক), শিরিন সুলতানা, শায়রুল কবির, দিদার, মারুফ কামাল খান, সেলিমা রহমান, রিজভী আহমেদ, বরকত উল্লাহ ভুলু, আমান উল্লাহ আমান, সরফুদ্দিন সফু, হাবিবুন নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল, কাইয়ুম কমিশনার ও লতিফ কমিশনারসহ অন্যরা প্রকাশ্যে বিভিন্নভাবে সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিকল্পনা এবং এলাকা ভিত্তিক নাশকতা করার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। তাদের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এলাকার স্থানীয় আরও ৫০ জন নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামারা নৈরাজ্য ও ভীতি সৃষ্টি ও পুড়িয়ে মানুষ মারার জন্য গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগ করে। আসামিরা সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করা ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য ষড়যন্ত্র ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং নাশকতা সৃষ্টির জন্য চলন্ত গাড়ির সকল যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং পুলিশের কার্যক্রমে বাধাদানসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পেনাল কোডের ১৪৩/১২৬/৩০৭/৩৫৩/৪৩৫/৪২৭/১০৯/১১৪/৩৪ সহ বিস্ফোরক আইনের ৪/৫ ধারায় অপরাধ করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আইনে হুকুমের আসামি বলে কিছু নেই। খালেদার নাম এজাহারে থাকায় পুলিশ চাইলে তাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করতে পারবে। আর সরাসরি নাশকতাকারীদের কারও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যদি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বা খালেদা জিয়ার নাম আসে তাহলে চার্জশিটে তার নাম থাকতে পারে।
আন্দোলন চলবে, শোকগ্রস্ত খালেদার বিরুদ্ধে মামলা অমানবিক
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে অবরোধ-হরতাল অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। যাত্রাবাড়ীতে বাসে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমায় অনেক মানুষ দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং চক্রান্তমূলক মামলা দায়েরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের দপ্তরের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এ কথা জানান। সেই সঙ্গে বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান জবরদখলকারী ভোটারবিহীন সরকার হিংস্র অমানবিকতার যে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পুত্রশোকে কাতর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। কতখানি নিষ্ঠুর ও বিবেকশূন্য হলে একটি সরকার এ জঘন্য অপকর্মটি করতে পারে তা দুনিয়াতে মনে হয় নজিরবিহীন। এ ভোটারবিহীন সরকার মনুষ্যত্বের সকল বৈশিষ্ট্য জলাঞ্জলি দিয়েছে। তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসল ওয়ান ইলেভেন সরকারের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে প্রায় সাড়ে ৭ বছর ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। ২০০৭ সালের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের দিনই কোকোকে আটক করে। আটকের পর তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক অত্যাচার। এ অত্যাচারেই গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন কোকো। এরপর আওয়ামী মহাজোট সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করতে থাকে কোকোর বিরুদ্ধে। মায়ের কাছ থেকে সন্তান ও সন্তানের পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে অসুস্থতায় ভুগতে ভুগতে কোকো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রিজভী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করার একটিমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে এক ব্যক্তির একক রাজত্ব চালিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দূর করা। রিজভী আহমেদ বলেন, কোকোর মৃত্যুতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করতে আসাটাকে আমরা ইতিবাচক অর্থেই গ্রহণ করেছিলাম। রাজনীতির বাইরে সামাজিক দায়িত্ববোধের তাগিদেই প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে সমবেদনা জানাতে এসেছেন বলে ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটা সুস্পষ্ট যে, কোকোর মৃত্যু সংবাদে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি জানাতে আসাটা ছিল নিছকই ছলনা। একটি প্রহসনের মহড়ামাত্র।  কোকোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা জানানোটা যেন কুমিরের কান্না। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক বিরোধীদের গভীর শোকের সময়ও তাদের বিরুদ্ধে নিজের অন্তরের বিদ্বেষ-বিষ দূরীভূত করতে পারেননি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করার নীলনকশা তারা অনেক দিন ধরেই এঁটে আসছে। তাকে দায়ী করে আটক করার জন্যই একের পর এক পেট্রলবোমা মেরে নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, সরকারি এজেন্টরাই বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই নাশকতাগুলো করছে। সেই উদ্দেশ্যটা হচ্ছে গণবিরোধী ভোটারবিহীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে ভিন্ন দিকে ঘুুরিয়ে দেয়া। চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। আর সেজন্যই খালেদা জিয়াসহ নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, তাকে এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, ছেলেদের মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখতে বাধ্য করাসহ এমন কোন উৎপীড়নের পন্থা নেই যা এ অবৈধ সরকার অবলম্বন করেনি। কিন্তু তারপরেও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এ অবৈধ অপশক্তির কোন অশুভ পরিকল্পনাই ফলপ্রসূ হবে না।
জনগণ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে অবরোধ-হরতাল অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সকল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির জন্য আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তিনি যাত্রাবাড়ীতে দুস্কৃতকারীদের কর্তৃক পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। রিজভী আহমেদ যাত্রাবাড়ীতে পেট্রলবোমার আঘাতে দগ্ধ মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ওবামার জন্য প্রটোকল ভাঙলেন মোদি- নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র, পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত

ভারতের আতিথেয়তায় মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার তিন দিনের সফরকে কেন্দ্র করে যেন সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুত্বের এক নতুন ঐতিহাসিক যুগ। তাকে স্বাগত জানাতে প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে নিজেই হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় সময় তখন সকাল পৌনে ১০টা। দিল্লির পালাম বিমানবন্দরের মাটি ছুঁয়েছে নীল-সাদা জাম্বো বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’। বিমানবন্দরসহ সারা দিল্লিতে তখন সতর্ক সবাই। নিরাপত্তা প্রহরীদের চোখ স্থির। বিমানটির দরজা খোলে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় নীল স্যুট পরা ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার মানুষটি প্রিয়তম স্ত্রীর হাত ধরে বেরিয়ে এলেন। তিনি আর কেউ নন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর আগে থেকে সবগুলো মিডিয়া, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের নিয়মিত সম্প্রচার বাদ দিয়ে ক্যামেরা ধরে রাখে বিমানবন্দরে। ওবামা বিমান থেকে বের হওয়ার আগেই সব প্রটোকল বা নিয়ম ভঙ্গ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গিয়ে হাজির হন বিমানবন্দরে। তাকে সেখানে দেখে হকচকিয়ে যান অনেকে। ওবামা বিমান থেকে বের হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে হাত নাড়েন উপস্থিতদের উদ্দেশে। নিচে নেমেই জড়িয়ে ধরেন নরেন্দ্র মোদিকে। সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্বের, বন্ধুত্বের এক নতুন উদাহরণ রচনা হলো। আজ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকছেন ওবামা। তাকে ভারত যে সম্মান দিয়েছে তা বিরল। পালম বিমানবন্দরে ওবামা-মোদি গতকাল সামান্য আলোচনার পর ছুটে যান মৌর্য শেরাটন হোটেলে। সেখানে কিছু সময় কাটান ওবামা দম্পতি। সোয়া ১২টা নাগাদ ওবামা ৪০-৫০টি গাড়ি বহর নিয়ে যান রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে। এখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্য। ফোরকোর্টে ওবামার গাড়ি প্রবেশ করতেই তাকে সম্মান জানাতে ২১ বার তোপধ্বনি দেয়া হয়। এখানেই উইং কমান্ডার পুজা ঠাকুরের নেতৃত্বে তাকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। রাষ্ট্রপতি ভবনে ওবামাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। প্রজাতন্ত্র দিবসের আমন্ত্রণ পেয়ে সম্মানিত বোধ করেন ওবামা। এ সময় তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি ভারতীয় স্টাইলে দু’হাত এক সঙ্গে মিলিয়ে সবাইকে বলেন ‘নমস্তে’। রাষ্ট্রপতি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে ওবামার গাড়িবহর ছুটে যায় রাজঘাটে। সেখানে তিনি মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর যান হায়দরাবাদ হাউজে। এখানে সবুজ খোলা প্রাঙ্গণে ওবামা-মোদি চা-চক্রে মিলিত হন। ওবামাকে নিজ হাতে চা তুলে দেন নরেন্দ্র মোদি। সেই চা পান করে ওবামার কণ্ঠে প্রশংসা ঝরে পড়ে- ‘চাই পে চর্চা’। মধ্যাহ্নভোজের পর দু’নেতা এই খোলা প্রাঙ্গণে বেরিয়ে আসেন। সেখানে রাখা ছিল দু’টি সোফা। তার প্রতিটিতে একজন করে বসা যায়। সেখানে কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী ছিলেন না। তাই মোদি নিজে হাতে চায়ের পাত্র তুলে নেন। আরেক হাতে একটি সাদা কাপ নেন। সঙ্গে একটি পিরিচ। সেই কাপে চা ঢালেন। এরপর তা এগিয়ে ধরেন ওবামার দিকে। ওবামাও উষ্ণ হাতে তা গ্রহণ করেন। শুরু হয় দু’নেতার একান্ত আলাপচারিতা। এখানেই দীর্ঘক্ষণ তারা একান্তে আলোচনা সারেন। ততক্ষণে মিডিয়ায় বলা হয়, তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন সংবাদ সম্মেলনে আসতে তাদের বিলম্ব হচ্ছিল তখন অনেকেই ধরে নেন- গুরুত্বপূর্ণ কোন ইস্যুতে দু’নেতা একমত হয়ে থাকতে পারেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তারা বললেন, ৫ বছর আগে দু’দেশের মধ্যে যে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা বাস্তবায়নে তারা একমত হয়েছেন। এর ফলে বাণিজ্যিক রূপ পেতে যাচ্ছে এ চুক্তি। এ সময় দু’নেতার মধ্যে যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাবধারা দেখা গেছে তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের পরে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়েছে। তাদের বোঝাপড়া চমৎকার। তাদের কথা বলার ধরন ত্বরিত।
সংবাদ সম্মেলনে মোদি
হায়দরাবাদ হাউজে চা-চক্রের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বারাক ওবামা ও নরেন্দ্র মোদি। এ সময় প্রথম বক্তব্য রাখেন মোদি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্ট লেডিকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত। আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট আপনি আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। এ দিনটি বিশেষ। কারণ এ দিন বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ দু’টি গণতান্ত্রিক দেশ তাদের মূল্যবোধ শেয়ার করতে পারছে। শেষ আমাদের মধ্যে যে অগ্রগতি হয়েছিল তা নতুন করে শুরুর এটা একটি নতুন শুভ সূচনা। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের ৬ বছর পরে আমরা বাণিজ্যিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন গতি পাচ্ছে। নৌ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে আমাদের সহযোগিতা শক্তিশালী হবে। সন্ত্রাস এখনও রয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী হুমকি। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশ্বব্যাপী কৌশল নির্ধারণে আমরা একমত হয়েছি। সন্ত্রাস নির্মূলে প্রতিটি দেশকে তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। এ বছরে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছি। আমরা বিশ্ব ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা করেছি। আফগানিস্তানে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ওবামা যা বললেন
‘আপ সাব কো মেরা পিয়ার ভরা নমস্কার’ বলেই ওবামা তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দু’বার ভারত সফর করতে পেরে সম্মানিত। মিশেল ওবামা ও আমাকে যে অবিশ্বাস্য আতিথেয়তা দেয়া হয়েছে তাতে ভারতের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ‘চাই পে চর্চা’র জন্য ধন্যবাদ। হোয়াইট হাউজে এ ধারা আরও এগিয়ে নেয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রী, আপনি নির্বাচিত হওয়া ও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার দৃঢ় অবস্থান আমাদেরকে এই ধারায় আরও বেগবান করবে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বলিউড তারকার মতো অভ্যর্থনা দেয়া হয়। আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জনগণের নিত্যদিনের জীবনধারাকে উন্নত করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১০ হাজার কোটি ডলার থেকে আমাদের বাণিজ্য আরও এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতে ব্যবসাকে সহজতর করতে সংস্কার করেছেন। এজন্য তার প্রশংসা করি। পরিবেশবান্ধব শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সমর্থন করতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। ভারত স্থায়ী সদস্য পদ পেতে পারে এমন এক নিরাপত্তা পরিষদকে আমরা সমর্থন করি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা একমত হয়েছি। রাশিয়াকে দুর্বল করে দেয়ার কোন আগ্রহ আমাদের নেই। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাই হবে আমাদের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার।
সুজাতা সিংয়ের বক্তব্য
ওদিকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বলেন চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেছে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তা শেষ হয়ে গেছে। বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সাফল্য এসেছে।
ভারতে পরিবর্তিত মার্কিন নীতি
ভারতের সঙ্গে এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল শীতল। কিন্তু ভারতের লোকসভা নির্বাচনে যখন আভাস ফুটে ওঠে যে ভারতে ক্ষমতাসীন হতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র দামোদর মোদি। এমনই ইঙ্গিত পেয়ে মার্কিন প্রশাসন থেকে বলা হয়, গুজরাট দাঙ্গার পর তারা নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেয়া হবে। নির্বাচনের ফল বের হতেই নিশ্চিত হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদি হতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন সূচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ সম্পর্ক এখন নতুন গতি পেয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট ঢাকায়

দায়িত্ব নিতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। গতকাল বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থাই এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেন তিনি। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের কিছু বিলম্বে পৌঁছে। বিমানবন্দরে আগে থেকে অপেক্ষমাণ দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ডেভিড মিলসহ মার্কিন কূটনীতিকরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পররাষ্ট্র দপ্তরের আমেরিকাস অনুবিভাগের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমানসহ পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ১-এ সরকারি প্রতিনিধি ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নতুন দূত। সেখানে উপস্থিত একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে উচ্ছ্বসিত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট ঢাকায় নেমেই তার আনন্দ-উত্তেজনার কথা জানিয়েছেন। এখানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি ‘অত্যন্ত আনন্দিত’ বলেও জানিয়েছেন। বাংলাদেশে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বার্নিকাট। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে শিগগিরই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে তার পরিচয়পত্র পেশের সম্ভাব্য সময়ক্ষণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পদে গত ২২শে মে বার্নিকাটকে মনোনীত করেন। এরপর মনোনীত ব্যক্তি মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে ওই কূটনীতিকের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ১৮ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ২১ মিনিটের কিছু আগে কণ্ঠভোটে মার্কিন সিনেটে আরও চার জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বার্নিকাটের প্রস্তাবটিও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
উল্লেখ্য, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর মার্সিয়া একজন পেশাদার কূটনীতিক। হোয়াইট হাউস গত বছরের ২২শে মে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মার্সিয়া বার্নিকাট বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়নের আগ পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-সহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সেনেগাল ও গিনি বিসাউতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এর আগে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অধিদপ্তরে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভুটান বিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবসম্পদ বিভাগে জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন সিনেটে ১৮ই নভেম্বরে তার নিয়োগ প্রস্তাবটি কনফারমেশনের জন্য ‘এক্সিকিউটিভ ক্যালেন্ডার ৯৫৪ হিসেবে আসে’।

আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান সম্পাদকদের

দেশে চলমান নাশকতা বন্ধের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক সমাধান বের করতে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রিন্ট ও অনলাইন মাধ্যমের সম্পাদকরা। গতকাল তথ্য মন্ত্রণালয়ে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ আহ্বান জানান। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দেন সম্পাদকরা। এর বিপরীতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রীরা। তথ্য মন্ত্রণালয়ে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রভাবশালী চার মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করে সম্পাদকরা তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি শান্তির পক্ষে। সবাই শান্তি চাই, অশান্তি চাই না। এই যে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি ও সন্ত্রাস চলছে আমরা সবাই এর বিরুদ্ধে। সবাই মনে করি এর রাজনৈতিক সমাধান হওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদকরা সমাধানের প্রস্তাব করেছি। আমরা মনে করি দেশ এভাবে চলতে পারে না। এর একটি সমাধান হতেই হবে। মানুষ কতকাল এই অসহায় অবস্থায় থাকবে? বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গঠনমূলক আলোচনা করেছি। সম্পাদকদের মূল্যবান চিন্তাভাবনা ও পরামর্শ পেয়েছি। আমরা সকলেই দেশের শান্তি চাই, কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ পেয়েছি। দেশ এগিয়ে যাক, শান্তিপূর্ণ থাকুক- এ ব্যাপারে  কোন রাজনীতি নেই, কোন মত নেই, কোন দল নেই। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে আলাপ-আলোচনার একটা পরিবেশ থাকে। সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। সন্ত্রাসের কথা অনেকে বলেছেন, নাশকতার বিষয়ে অনেকে বলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা দেশটা আমাদের সকলের। দেশ ও মাতৃভূমিকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে ভাল রাখবো। বৈঠক শেষে কয়েক মিনিটের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং হলেও সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের জবাব দেননি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সম্পাদকরা। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদকদের মধ্যে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ডেইলি সান সম্পাদক আমির হোসেন, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সকালের খবর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আলোকিত বাংলাদেশ সম্পাদক কাজী রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক শিক্ষিত ব্যক্তিরা ফতোয়া দিতে পারবেন’

ফতোয়ার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে দেয়া রায়ে বলা  হয়েছে- ১. ধর্মীয় বিষয়াদিতে শুধু সঠিক শিক্ষিত ব্যক্তিগণ ফতোয়া দিতে পারবেন, যা শুধু স্বেচ্ছায় গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে কোন রকমের বল প্রয়োগ বা অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে না। ২. কোন ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা বা সম্মান (যা দেশের আইনের গণ্ডির আওতায় আসে) বিনষ্ট করে এমন ফতোয়া দেয়া যাবে না। ৩. ফতোয়ার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে কোন ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া যাবে না। ৪. নির্দিষ্ট ফতোয়াটি অবৈধ ও বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া ঘোষণা বহাল রাখা হলো। আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সংখ্যগারিষ্ঠ মতের পক্ষে মূল রায় লেখেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) ও বিচারপতি মো. ইমান আলী। তাদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে রায় দেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তিনি ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়টি বাতিল করে দেন। রায় ঘোষণার তিন বছরের বেশি সময় পর গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক রায়ে লিখেছেন, একজন মুফতি, মাওলানা অথবা ইমাম ফতোয়া ঘোষণা করতে পারেন, যদি তাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের কোন আইন ভঙ্গ করতে পারেন না। একই সঙ্গে তাকে অন্যদের ফতোয়া বা মতামতের ব্যাপারেও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তার রায়ে লিখেছেন, হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল ইস্যু করতে পারে বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির দেয়া মতামতের সঙ্গে আমি একমত নই। ২০০০ সালে নওগাঁ জেলার মৌলভী আজিজুল হক জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শরিয়া আইন অনুযায়ী আবার গ্রহণ না করার ঘটনায় ফতোয়া জারি করেন। বিষয়টি বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। আদালত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বঃপ্রণেদিত হয়ে রুল জারি করে। ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, একমাত্র আদালতই মুসলিম বা অন্য কোন আইন অনুযায়ী ব্যাখ্যা বা মতামত দিতে পারে। আইনবহির্ভূতভাবে কেউ ফতোয়া দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রায়ে সব মসজিদের ইমামকে শুক্রবার জুমার খুতবায় ও স্কুলে এবং মাদরাসায় মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করারও সুপারিশ করা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি মো. তৈয়ব ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওই বছরই আপিল করেন। আপিল করার দশ বছর পর ২০১১ সালের মার্চ মাসে এর ওপর শুনানি শুরু হয়। আপিলের শুনানিতে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে শীর্ষ নয় আইনজীবী ও পাঁচ আলেমের মতামত নেয় আপিল বিভাগ। আপিলের শুনানি শেষে ওই বছরের ১২ই মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে।

মানিকগঞ্জে স্কুলে ঢুকে শিক্ষক পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা by রিপন আনসারী

মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক রুবেল স্কুলে ঢুকে পিটালেন এক শিক্ষককে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাণ্ড দেখে স্কুলের সরস্বতী পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ভয়ে চলে যায় শিক্ষার্থীরা। আহত শিক্ষককে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সরকারি এস কে সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহিনুল ইসলাম রোববার দুপুরে এসে প্রধান শিক্ষক রেবেকা জাহানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর চান শিক্ষকদের কাছে। শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক কিছুক্ষণের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসবেন। শাহিনকে তারা অপেক্ষা করতে বলেন। এসময় শাহিন শিক্ষকদের জানান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। দ্রুত মোবাইল নম্বর দেন, নেতার সময় নেই অপেক্ষা করার। শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর না দেয়াতে শাহিন বাইরে চলে যায়। এর পাঁচ মিনিট পর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক রুবেলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন ছাত্রলীগ নেতা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক মতিয়ার রহমান ছাত্রলীগ নেতাদের স্কুলে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করায় রুবেলের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শিক্ষক সেলিনা আক্তার ও সুকুমার রায় মতিয়ার রহমানকে মারপিটের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের গান-বাজনা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা ভয়ে স্কুল থেকে চলে যায়। এরপর পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রধান শিক্ষক রেবেকা জাহান জানান, শিক্ষকদের মারধরের ঘটনা শুনে তিনি স্কুলে আসেন। এরপর বিষয়টি তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসকে জানান। কিছুক্ষণ পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম বিদ্যালয়ে এসে ঘটনা শোনেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম জানান, ছাত্রলীগের নেতারা যা করেছে তা নিন্দনীয়। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক রুবেল জানান,  প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোন নম্বর না দেয়াতে শিক্ষকদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে।  শিক্ষকদের মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিনের বাসায় দলীয় নেতাকর্মী ও শিক্ষক নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি।

১৫০০ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

প্রায় দেড় হাজার বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দেশের এক শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। রিপোর্টে নেতাকর্মীদের মধ্যে কে কিভাবে কোন পয়েন্টে তাদের দৃষ্টিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা ও উপজেলাওয়ারি পাঠানো তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের আইজি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনটিএমসি/বিআরসি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ২১৬ পাতার ওই গোয়েন্দা রিপোর্ট জুড়ে দেয়া হয়েছে। এতে আটটি সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রিপোর্টে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা অবলম্বন করবে। পাশাপাশি তাদের চলাফেরার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াবে। প্রয়োজন পড়লে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাকড়াও করা যেতে পারে।  রিপোর্টটিতে রেলওয়ে ফিশপ্লেট খুলে ফেলা, রেললাইন কেটে ফেলা, রেললাইনে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টাসহ নাশকতার কয়েকটি পয়েন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রেলের জিআরপি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবরোধ চলাকালে মিডিয়া যাতে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করতে না পারে ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। গোয়েন্দা রিপোর্টটি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আদ্যোপান্ত বর্ণনার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের ক্ষেত্রে রিপোর্টটি কাজে লাগবে। এদিকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি)-এর ডাটাবেজ থেকে ডাটাসেট ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের পরিচালক (কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমআইএস) এম সাহেদ করিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করা, ফৌজদারি মামলা এবং বেওয়ারিশ লাশ তদন্তের প্রয়োজনে র‌্যাবের বর্তমান ক্রিমিনাল ডাটাবেজে বিদ্যমান অপরাধীদের এবং আটককৃত অপরাধীদের তথ্য উপাত্তগুলো এমআরপি এবং এমআরভি’র ডাটাবেজের সঙ্গে ম্যাচ করানোর মাধ্যমে অপরাধীদের তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা অতীব জরুরি। এ কারণে এমআরপি এবং এমআরভি’র ডাটাবেজ থেকে ডাটাসেট ব্যবহারের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের চিঠির ভিত্তিতে এখনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।