Thursday, October 21, 2010

গল্প- 'গর্ব' by আবদুল ওহাব আজাদ

রতিদিনের মতো পাখির গানে ঘুম ভাঙলো সুমনের। তারপর সোজা চলে গেল ওরই লাগানো ফুলের বাগানে, কিন্তু আজ আর একটুও মন টিকছে না ওর। কেন জানি তবু সে রাস্তার পাশে বসে থাকা কঙ্কাল আর বৃদ্ধ কফিলের কথা মনে পড়ছে, বড় খায়েশ করে যেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে দশ টাকা চেয়েছিল কফিল, কিন্তু সুমন দিতে পারেনি।
সুমনের আব্বা ফরিদ সাহেব অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, হাব-ভাবে তাকে বেশ ব্যস্ত মনে হচ্ছিল, হঠাৎ ধীর পায়ে সুমন আব্বার সামনে যেয়ে দাঁড়ালো।
ফরিদ সাহেব ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন। নিশ্চয়ই সুমন কিছু বলতে এসেছে, ছেলেকে অভয় দিয়ে ফরিদ সাহেব বললেন,

গল্প- 'তিতিরের ঘুড়ি' by ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ

বাড়ি থেকে যখন স্কুলে আসি তখন মা কি রাঁধবে, বুয়া ধুপধাপ করে কাপড় কাচবে কি না, আমার কার্টুনের সিডি পাশের বাড়ির টাবলু এসে নিয়ে যাবে কি না তা কি ভাবি? বোকাই বলে, মোটেও তা নয়। তা হলে?
রোমি বলে, আরে বাবা তা হলে কি?
তিতির বলে, তা হলো স্কুল থেকে বাড়ি যখন ফিরে যাই তখন হাবিজাবি ভাবনাগুলো মাথার মাঝে থাকবে কেন? সব ঝেড়ে ফেলে বাড়ি ঢুকব না?
সনেট তাজ্জব, হাবিজাবি ভাবনা? বলছিস কি রে?
অবাক হয়ে তিতিরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বোকাই, রোমি, সনেট ওরা। তিতিরের বলা হাবিজাবি ভাবনাটি কি তা ওরা বুঝতেই পারছে না।
হোমওয়ার্ক, হোমওয়ার্কের কথা বলছি, বুঝতে পারছিস না?
গালে হাত দিয়ে ক্লাসের বন্ধুরা সবাই বলে, ওহ্! তিতির খুব মন খারাপ করা সুরে বলে, স্কুলে স্যার-ম্যামদের একগাদা হোমওয়ার্ক দেবার দরকার কী বল?
হ্যাঁ তাইতো।

গল্প- 'একটি বাঘের কথা' by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি হচ্ছি সেই বাঘ, যার চরিত্রকে কটাক্ষ করে একটা গল্প এই দেশে চালু আছে। গল্পটা সবাই জানে, বইপত্রে তার শিরোনাম হচ্ছে দুষ্টু বাঘ। গল্পটা এ রকম:
এক বাড়ির সামনে একটা খাঁচায় একটা বাঘকে আটকে রাখা হয়েছে। সেই খাঁচার সামনে দিয়ে যে-ই যায় বাঘ তাকে অনুনয়-বিনয় করে তাকে ছেড়ে দিতে বলে। একজন বোকাসোকা পণ্ডিত সত্যি সত্যি খাঁচা খুলে বাঘকে ছেড়ে দিল। বাঘ বের হয়েই পণ্ডিতকে বলল, ‘আমি তোমাকে খাব।’ পণ্ডিত বলল, ‘আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম আর তুমি আমাকে খাবে, এটা কেমন কথা!’ বাঘ বলল, ‘এটাই জগতের নিয়ম।’ ঠিক এ রকম সময় সেদিক দিয়ে একটা শেয়াল যাচ্ছিল। পণ্ডিতমশায় তখন তাকে সাক্ষী মানল। বলল, ‘ভাই শেয়াল, এই বাঘটা খাঁচার মাঝে আটকা ছিল, আমি এই পথে যাচ্ছিলাম, তখন বাঘটা বলল তাকে ছেড়ে দিতে।’ শেয়াল বলল, ‘এই পথটা খাঁচার মাঝে আটকা পড়েছিল। তখন বাঘটা হেঁটে যাচ্ছিল?’ পণ্ডিত বলল, ‘আরে না, না—বাঘটা খাঁচার মাঝে আটকা পড়েছিল, আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম।’ শেয়াল বলল, ‘তুমি খাঁচার মাঝে ছিলে, বাঘটা হেঁটে যাচ্ছিল?’ বাঘটা বলল, ‘ধুর বোকা। তুমি কিছুই বোঝ না। আমি খাঁচার মাঝে ছিলাম, পণ্ডিত হেঁটে যাচ্ছিল।’ শেয়াল তবুও বোঝে না। বাঘ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তুমি কিছুই বোঝ না।’ সে তখন খাঁচার ভেতরে ঢুকে বলল, ‘আমি এইভাবে খাঁচার মাঝে ছিলাম।’ তখন শেয়াল খাঁচা বন্ধ করে তালা মেরে দিল। তারপর পণ্ডিতকে বলল, ‘এখন তুমি বাড়ি যাও। আর শোনো, ভবিষ্যতে কখনো কোনো দুষ্টু বাঘের উপকার করতে যেয়ো না। তাহলে সে নির্ঘাত তোমার ঘাড় মটকে খাবে।’

ছেলেবেলার গল্প' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

আমার ছেলেবেলা কেটেছে সিলেটে। শহরটা ছিল ছিমছাম, ছবির মতো। পাড়ায় পাড়ায় খেলার মাঠ ছিল, মাঠেই কাটত সারা বিকেল, ছুটির দিন। পাড়ার বন্ধুরা ছিল, ছিল স্কুলের বন্ধুরাও। স্কুলের জীবনটাও ছিল আনন্দময়। যেসব শিক্ষককে আমরা পেয়েছিলাম স্কুলে, তাঁদের কোনো তুলনা হয় না। যেমন মঈনুদ্দিন স্যার। ধার্মিক মানুষ ছিলেন, কিন্তু মনটা খুবই উদার। মাঝেমধ্যে ক্লাসে আমাদের জিজ্ঞেস করতেন, একটা ভালো কাজ আর একটা খারাপ কাজ। কে কি করেছিস এ কদিনে, সেগুলো নিয়ে বল দেখি? ভালো কাজের প্রশংসা করতেন, খারাপ কাজের কৃপণ বর্ণনা শুনে হাসতেন আর বলতেন, এমন কাজ আর করবি না। একদিন প্রদীপ জানাল স্যারকে, আজ ভালো একটা কাজ করেছি, স্যার।
কী কাজ?
মায়ের জন্য পূজার ফুল তুলে এনেছি।
বাহ্! স্যার বললেন, খুব ভালো। আর খারাপ কাজ?
ফুলগুলো চুরি করেছি, স্যার!
মঈনুদ্দিন স্যারকে একদিন জানাল হীরা। আমার মা অনেক উল্টাপাল্টা কাজ করেন, স্যার।
আচ্ছা!

একটি ভাদ্র মাসের গল্প' by আতাউর রহমান

মিসেস খান একজন ষাটোর্ধ্ব বিধবা মহিলা। থাকেন ঢাকার সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ গার্ডেন সিটি হাউজিং কমপ্লেক্সের একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার এক হাজার বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে হলেও মিসেস খান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, বেশ শক্ত-সমর্থ মহিলা। থাকেনও অ্যাপার্টমেন্টটিতে একা।
মিস্টার ও মিসেস খান ছিলেন নিঃসন্তান দম্পতি। মিস্টার খান ছিলেন খুব মজার মানুষ। একবার কে যেন টেলিফোনে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি কি খান?’ উত্তরে তিনি কণ্ঠে যতটা সম্ভব গাম্ভীর্য ফুটিয়ে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি কী খাই মানে? আমি হালাল সবই খাই, হারাম খাই না।’ অপর প্রান্ত থেকে তখন বলা হলো, ‘সরি, আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনি জনাব শরীফ খান কি না।’

আলোচনা- 'কবিতার জন্মকথা' by আবদুল মান্নান সৈয়দ

একটি প্রেমের কবিতার সঙ্গে আবার তার টীকাভাষ্য লিখতে হবে এক টুকরো। ডায়েরি খুঁজে কবিতা পাওয়া গেল একটি। কিন্তু কবিতা সৃজন আর কবিতার বিশ্লেষণ বোধহয় সম্পূর্ণ বিরোধী বিষয়। বিশেষত নিজের রচনার প্রেক্ষিত আর ভাবনাবেদনা কে কবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে! রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং একবার প্রমথনাথ বিশীকে লিখেছিলেন এ রকম—কবিতা লেখবার সময় নিশ্চয় একটা কিছু বলতে চেয়েছি, কিন্তু এখন তা আর মনে নেই, এখন তোমাদের মতো অধ্যাপকদের কাজ হচ্ছে এর গভীরার্থ খুঁজে বের করা!—লিরিক কবির কাজই তো পলায়মান মুহূর্তকে বন্দী করা।

সারকোজি অনড়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সংস্কার কর্মসূচির প্রতিবাদে সে দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। গতকাল মঙ্গলবার ছাত্র ও শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ জানাতে বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবসরে বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। প্রেসিডেন্ট সারকোজির সরকারের নেওয়া পেনশন সংস্কার কার্যক্রমে সরকারি কর্মীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূলত এর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছেন তাঁরা। এর জের ধরে ফ্রান্সজুড়ে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন শ্রমিক সংঘ ধর্মঘট ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
গতকাল প্যারিসের কাছে নানতেরে এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। সে দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির বিচারমন্ত্রী মিশেল এলিয়ট-মরিয়ে বলেন, ‘আমাদের কঠোর হতে হবে। প্রতিবাদ, ধর্মঘট করার অধিকার সবার আছে। তাই বলে ইচ্ছামত ভাঙচুর করার অধিকার নেই কারও।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ-সংঘর্ষের ঘটনায় গত সোমবার বিভিন্ন শহর থেকে ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশের চার কর্মকর্তা আহত হন।
সংস্কার কর্মসূচির প্রতিবাদে ট্রাকচালকেরা প্যারিসের কাছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ‘ধীরে চলো’ কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন পণ্যগুদামের প্রবেশপথ আটকে দেন চালকেরা এবং জ্বালানি তেলের ডিপোতে শ্রমিকদের ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। গত সপ্তাহ থেকে দেশটির সব কয়টি তেলের ডিপোতে ধর্মঘট চলছে। এতে দেশজুড়ে দুই হাজার ৬০০ পেট্রল স্টেশনে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তেল সরবরাহের সমস্যার কারণে গতকাল প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরের অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর ও অন্যান্য আঞ্চলিক বিমানবন্দরেও প্রতি তিনটি ফ্লাইটের একটি বাতিল হয়েছে।
ফ্রান্সের ফুয়েল অ্যান্ড হিটিং ফেডারেশন জানিয়েছে, পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। ই.লেকলার্ক নেটওয়ার্ক অব সুপারমার্কেটসের প্রধান মিশেল-এদোয়ার্দ লেকলার্ক বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে তেল ডিপোগুলোকে জিম্মি করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের অপব্যবহার করা হচ্ছে।’ তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানানো হয়, অনেক এলাকায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে তেল কিনে রাখায়, পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বৈঠকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেলশ্রমিক, ডাক বিভাগের কর্মী, টেলিফোন বিভাগের কর্মচারী, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশও ধর্মঘট পালন করছে।
ফরাসি সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত এখনো মেলেনি। বরং প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে তোলার আগে চূড়ান্ত খতিয়ে দেখার পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপের ফল থেকে জানা গেছে, ৭১ শতাংশ ফরাসি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করছে।

মুম্বাই হামলায় ভালোভাবেই জড়িত ছিল আইএসআই

২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই খুবই গভীরভাবে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছেন ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। ভারত সরকারের এ সম্পর্কিত গোপন নথির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান।
গত বছর জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হয় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হেডলিকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে ওই হামলায় সহযোগিতা করেছেন। ভারতীয় ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা হেডলিকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন।
পত্রিকাটি ১০৯ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে হেডলি জানিয়েছেন, আইএসআইয়ের কর্মকর্তা ও লস্করের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ডজন খানেক বৈঠক হয়েছে। তিনি মুম্বাইয়ে হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এ জন্য তাঁকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তার কিছু অংশ এসেছে আইএসআইয়ের কাছ থেকে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তাঁকে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে হয়েছে।
হেডলি দাবি করেছেন, ওই হামলায় আইএসআইয়ের সহযোগিতা করার মূল কারণ ছিল লস্কর-ই-তাইয়েবাকে শক্তিশালী করে তোলা। এই গোষ্ঠীটি আরও কট্টরপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর কারণে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে হেডলি বলেন, ভারতে ওই হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইএসআইয়ের মধ্যে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না।
তবে ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করার ব্যাপারে আইএসআইয়ের মধ্যে প্রায়ই অনেক অস্পষ্টতা থাকে। সম্ভবত সংস্থার একেবারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মুম্বাই হামলার ব্যাপকতা নিয়ে কিছুই জানতেন না। এতে আরও বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ওই সংগঠন তাদের কার্যক্রম এত দিন পর্যন্ত ভারতশাসিত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করেই চালিয়ে আসছিল। কিন্তু এখন সম্ভবত তারা পশ্চিমা দেশগুলোতেও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এ নিয়ে লস্করের ভেতরেই সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এই আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে সংগঠনে ভাঙনও দেখা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে হেডলি জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বলেন, আফগানিস্তানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আক্রমণাত্মক মনোভাব ও ধর্মীয় গোঁড়ামি দেখে লস্করের সদস্যরাও প্রভাবিত হচ্ছে এবং তারা এই সংগঠন ছেড়ে আফগানদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। আর এ কারণে দলের ঐক্য টিকিয়ে রাখতে মুম্বাইয়ে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে লস্কর। আইএসআই আশা করেছিল, এই হামলা জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যে ভাঙনকে রোধ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতশাসিত কাশ্মীরে সক্রিয় ওই গোষ্ঠীগুলোতে ভাঙন বেড়ে যায়।
মুম্বাই হামলায় আইএসআইয়ের জড়িত থাকার অভিযোগের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাটির এক মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ১৬৬ জন নিহত হন। ওই হামলার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে বাধা এসইসির আইনি শর্ত by হাসান ইমাম

দেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সব মহল থেকেই শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নিজের প্রণীত কিছু আইনি শর্তই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। এর অংশ হিসেবে সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছে। কিন্তু আইন সংশোধনের ব্যাপারে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে রাজি হননি বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আইনটি করা হয়েছিল, সেহেতু এটি সংশোধন করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। তার আগে আইনটিতে কী ধরনের সংশোধন আনা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত জানতেই এ বৈঠক।
এসইসি গত ১১ মার্চ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের ব্যাপারে কিছু শর্ত আরোপ করে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন (বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত মিলে) ৪০ কোটি টাকা হতে হবে।
তবে বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত মিলে মূলধন ৭৫ কোটি টাকা হলে বাজারে শেয়ার ছাড়তে হবে এর ৪০ শতাংশ। একইভাবে ৭৫ কোটি টাকা থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনের ক্ষেত্রে আইপিওর আকার হবে ২৫ শতাংশ বা ৩০ কোটি টাকা, এর মধ্যে যেটি বেশি। মূলধন ১৫০ কোটি টাকার বেশি হলে আইপিওর আকার হবে ১৫ শতাংশ বা ৪০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি।
জানা গেছে, এই শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে। তবে পরিশোধিত মূলধনের এসব শর্ত পূরণ না হওয়ায় সম্প্রতি বেসরকারি খাতের দুটি কোম্পানির আইপিওর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে এসইসি। কোম্পানি দুটি হলো ইউনিক (ওয়েস্টিন হোটেল) হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড ও অ্যাপোলো হাসপাতাল লিমিটেড।
একই আইনের কারণে বিমা খাতের পাঁচটি কোম্পানি মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইপিও প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
এসব কোম্পানির কোনোটিই বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত মিলে ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠার সময় কম পরিশোধিত মূলধন দিয়ে শুরু করায়, এসব কোম্পানির পক্ষে এখন হঠাৎ করে মূলধন বাড়ানো কঠিন।
আবার বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বোনাস বা রাইট শেয়ার দিয়ে মূলধন বাড়ানো হলে কোম্পানির আয় ভাগ হয়ে যাবে। এতে শুরুতেই কোম্পানিগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, বিমা আইনের শর্ত মেনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সাড়ে তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হয় কোম্পানিগুলোকে। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলো পড়েছে উভয় সংকটে।
ইউনিক হোটেলের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৩০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর মাধ্যমে নতুন করে তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে আরও ৩০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব করবে। এ হিসেবে বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত মিলে কোম্পানিটির মোট মূলধন দাঁড়াবে ২৬০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, অ্যাপোলো হাসপাতালের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১৫১ কোটি টাকার মতো। শেয়ারের অভিহিত মূল্যের হিসাবে বাজার থেকে প্রতিষ্ঠানটি সংগ্রহ করতে চায় ২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এসইসি সূত্র জানায়, এই দুটি কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনসংক্রান্ত সর্বশেষ শর্তটি পূরণ করতে পারেনি। এ জন্যই তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তাই এ ধরনের আইনি বাধা সৃষ্টি করে ভালো কোম্পানিকে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করা ঠিক হবে না। পরিশোধিত মূলধনের বিষয়টি ছাড় দিয়ে হলেও কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই সুযোগে যাতে কোনো দুর্বল কোম্পানি বাজারে চলে না আসে।’
উল্লেখ্য, এর আগে এসইসি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন কোম্পানির জন্য পরিশোধিত মূলধনের ৪০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে মন্ত্রণালয় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

মংলা বন্দর সচল করার উদ্যোগ



অনেকটা পিছিয়ে পড়া মংলা বন্দরে নতুনভাবে প্রাণসঞ্চার করতে সরকার নানা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। সম্প্রতি বন্দরের সামগ্রিক উন্নয়নে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১১ অক্টোবর এই কমিটির বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠন করা এই কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তর পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উন্নয়নের জন্য বৈঠকে বসবে। কমিটি বন্দরের নানা বিষয়ে নিয়মিতভাবে সরকারকে পরামর্শ দেবে।
এই কমিটিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সাংসদ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পশুর নদীর গভীরতা বৃদ্ধি এবং মংলা বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটান মংলা বন্দর ব্যবহার শুরু করলে এবং পদ্মা সেতু নির্মিত হলে কী কী হতে পারে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে মংলা বন্দরে একটি মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণের প্রকল্প ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মূলত মংলা বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে রূপান্তরের ব্যাপারে আগ্রহী সরকার ও প্রতিবেশী দেশগুলো।
মংলা বন্দরে ১৩১ কিলোমিটারের দীর্ঘ চ্যানেলের নাব্যতা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আট কোটি ৮২ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘টেকনো ইকোনমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর ইম্প্রুভমেন্ট অব নেভিগ্যাবিলিটি অব মংলা পোর্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা আবারও মংলা বন্দরকে বেছে নিতে শুরু করেছেন।
মংলা বন্দরের সমস্যা: হিরন পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পশুর নদীর গভীরতা কম ও সরু। এতে নির্বিঘ্নে বড় জাহাজ এখান দিয়ে বন্দরে চলাচলে অসুবিধা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের নানা সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের পর পশুর নদী খননের জন্য ড্রেজিং বাবদ কোনো বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য মংলা বন্দরে ব্যবহার করা বেশির ভাগ যন্ত্র তার মেয়াদকাল অতিক্রম করেছে। লোডার, হেভি ক্রেন, ফর্ক লিফট, হেভি লিফট, মাঙ্কি ক্রেন, ক্যারিয়ার—এগুলোর বেশির ভাগ প্রচলিত জীবনকাল অতিক্রম করেছে। ফলে বন্দর তার সক্ষমতার ছয় ভাগের মাত্র এক ভাগ ব্যবহার করতে পারে।
হ্রাস পেয়েছে জাহাজের যাতায়াত: ১০ বছর আগে মংলা বন্দরে যে পরিমাণ জাহাজ মালামাল নিয়ে আসত, এখন তা এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। বন্দরের হিসাবে ১৯৯৭-৯৮ সালে ৩৫৫টি জাহাজ এসেছে। এক দশক পর ২০০৭-০৮ সালে তা এসে ঠেকে ৯৫টিতে। তবে পরের বছর এর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ১৩৯টিতে উন্নীত হয়। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জুন থেকে ডিসেম্বর সময়ে জাহাজ ভিড়েছে মাত্র ৭৬টি।
বন্দরের মালামাল ওঠানামা করার ক্ষমতা আছে ৬৫ লাখ টন। বর্তমানে তা ১০ লাখ টনে নেমে এসেছে। অথচ এক দশক আগেও এই বন্দর দিয়ে ৩০ লাখ টন মালামাল আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে।
বন্দরের আয়-ব্যয়: ১০ বছর আগেও মংলা বন্দর লাভজনক অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ বন্দর থেকে যে আয় হয়, তার চেয়ে ব্যয় ছিল কম। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, ২০০০-০১ অর্থবছরে মংলা বন্দরের আয় ছিল ৭৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পক্ষান্তরে ব্যয় ছিল ৫৫ কোটি চার লাখ টাকা। ফলে ওই অর্থবছরে বন্দরের মুনাফা ছিল ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
বন্দরের উন্নয়নে সরকার কোনো ব্যয় না করায় একসময়ের লাভজনক বন্দর ক্রমশ লোকসানি অবস্থায় চলে যায়। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সাত কোটি ২৮ লাখ টাকা লোকসান দেয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয় ও ব্যয় মোটামুটি সমান। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে বন্দরের মোট আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
সরকারের উদ্যোগ: মংলা বন্দর উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নানা কাজে ইতিমধ্যে নেমে পড়েছে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। মংলা বন্দরের বহির্নোঙরে ড্রেজিংয়ের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনার জন্য রয়েছে।
চলতি অর্থবছর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের জন্যও কাটার সাকশন ড্রেজার ক্রয়ের জন্য প্রায় ৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। আগামী দুই বছরে এই কাটার ড্রেজার সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অচিরেই বন্দরের প্রদত্ত সুবিধাদি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার জন্য কী কী করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে সুপারিশ দিতে।
বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমের উন্নয়নে সরকারি সার্কুলার, আইন ও বিধি সুপারিশের বিষয় থাকলেও কমিটিকে সে ব্যাপারে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কিছুদিন আগে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মংলা বন্দরের ক্ষমতার তুলনায় বেশির ভাগ অংশই অব্যবহূত থাকে। বিগত সরকারের আমলে বন্দরের উন্নয়নে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে। আবার ড্রেজিং না করার কারণে পশুর চ্যানেলের নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুনভাবে মংলা বন্দরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে বর্তমান কাজ চলছে। আশা করি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মংলা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে রূপান্তর হবে।’

চিকিত্সকদের ব্যবস্থাপত্রকে প্রভাবিত করছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো

সারা বিশ্বেই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিত্সকদের ব্যবস্থাপত্রকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে চিকিত্সা নিতে এসে রোগীরা অতিরিক্ত অর্থ গুনলেও সব সময় সঠিক ওষুধটি পাচ্ছে না। আজ বুধবার এক গবেষণার সূত্র ধরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫৮টি গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিত্সকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে। মাঝেমধ্যে এ প্রভাব সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।
গবেষণাটি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরের কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিওফ্রেই স্পুরলিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বেশির ভাগ সময়ই চিকিত্সকদের সাহায্য করে না। অনেক চিকিত্সক দাবি করে থাকেন, তাঁরা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের চটকদার কথাবার্তায় প্রভাবিত হন না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিত্সকেরা এতে অবশ্যই প্রভাবিত হন। অনেক সময় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রভাবে চিকিত্সকেরা এমন কিছু ওষুধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে ঢুকিয়ে দেন, যেগুলো রোগীদের কোনো কাজে আসে না। এতে রোগীদের চিকিত্সা ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। রোগীদের সুচিকিত্সা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ব্যাপারগুলো অন্তরায়।
গবেষকেরা দাবি করেন, পণ্য উন্নয়নের জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি নিয়ম-নীতি থাকা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রে শুধু ২০০৪ সালেই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য উন্নয়নে জন্য ৫৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
স্পুরলিং বলেন, চিকিত্সকদের উচিত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। এ গবেষণাগুলো পরিচালিত হয় ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, এস্তোনিয়া, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ায়।

উত্তরা ফিন্যান্সের রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে এসইসি

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আজ বুধবার উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের তিনটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কমিশনের ৩৬১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আনোয়ারুল কবির আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির রাইট শেয়ার হবে ৩ঃ১। ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ৩০ টাকা, এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম থাকবে ২০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি রাইট হিসেবে মোট এক কোটি ৩২ লাখ শেয়ার ছাড়বে।

ডিএসই: আজ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বেড়েছে সাধারণ মূল্যসূচকও।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ব্যাংকিং খাতসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে কয়েকটি খাতে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে।
চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দুপুর দুইটা পর্যন্ত ৫৬ পয়েন্ট বাড়ে। বিকেল তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক ৪৫.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫২২.৩৮ পয়েন্টে।
ডিএসইতে আজ ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৪টির, কমেছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটির।
আজ মোট এক হাজার ৯০৮কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৮৫ কোটি টাকা কম।
লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো— তিতাস গ্যাস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া আম্বি ফার্মা, কেয়া ডিটারজেন্ট, ফার্মা এইডস ও কেয়া কসমেটিকস দাম বৃদ্ধির শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ সর্বাধিক কমেছে মুন্নু স্টাফলারের শেয়ারের দাম। এছাড়া লিব্রা ইনফিউশনস, এইচআর টেক্সটাইল, চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড ও সিঙ্গার বাংলাদেশ দাম কমে যাওয়া শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ৩,২৬,০২৮ কোটি টাকা।

এবি ব্যাংকের ৫০টি নতুন এটিএম বুথের কার্যক্রম শুরু

এবি ব্যাংক লিমিটেডের গ্রাহকসেবা আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশজুড়ে ৫০টি এটিএম বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী ঢাকায় অবস্থিত এবি ব্যাংকের প্রধান শাখার এটিএম বুথ উদ্বোধন করেন। প্রধান শাখার বুথটির উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুন এই এটিএম বুথগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়। এই বুথগুলো ক্যাশলিংকের সহযোগিতায় পরিচালিত হবে।
দেশি ও আন্তর্জাতিক ভিসা কার্ডধারীদের সবাই ২৪ ঘণ্টা এই এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা ওঠানোর সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান ও এম ফজলুর রহমান, অপারেশন বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম এ চৌধুরী, সিএফও বদরুল এইচ খান, এবি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান ইকবাল হোসেন ও ক্যাশলিংক বাংলাদেশ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাওয়েদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার মাঠে ব্রাজিল ফুটবলের ঝলক

বাংলাদেশে এখন আর ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার আসে না—কথাটা ভুল প্রমাণ করলেন এভারটন সুজা সান্তোষ নামের এক তরুণ। দেশ ব্রাজিল, খেলেন ব্রাদার্সের মাঝমাঠে। ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে আগামী মৌসুমে তাঁকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়বে নিশ্চিত।
ফেডারেশন কাপের বাছাইপর্বে প্রথম ব্রাদার্সের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে গোল না পেলেও চোখ কেড়েছিলেন সবার। কাল নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই সবার মুখে একটি নাম—এভারটন।
ব্রাদার্স-ফেনী সকার ম্যাচে আর দেখার কী আছে—এটা ভেবে নেওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এভারটান যেন বললেন, ‘আমাকে দেখুন।’ সেই দেখায় এতই মুগ্ধতা ছিল যে এভারটনের পায়ে বল পড়লেই নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। এই বুঝি ব্রাজিলীয় ফুটবলের চিরন্তন সৌন্দর্যের একটা ঝলক দেখা যাবে!
সেটা দেখাও গেল কাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে। মুকসুদুল আলম বুলবুলের গোলে ১৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া ফেনী সকারও অসহায়ের মতো দেখল লিকলিকে গড়নের ছেলেটির খেলা। পিছিয়ে পড়া ব্রাদার্স ফেডারেশন কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা জিতল তাঁরই সৌজন্যে (৩-১)।
এভারটনের গোল দুটি। ৩৮ মিনিটে ব্রাদার্সকে সমতায় ফেরানো গোলটি ছিল তিনজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে প্লেসিং করে। ২-১ করা গোলটিও অনেকটা সে রকমই। দুজনকে কাটিয়ে সতীর্থ স্ট্রাইকার এনক বেনটিলের সঙ্গে ওয়াল করে বলটা বের করে নিয়েছেন প্রথমে। তারপর বক্সে ঢুকে সকারের গোলরক্ষককে জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে প্লেসিং করেছেন (৪৮ মিনিট)। দেখে মনে হচ্ছিল, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বলেই এটা সম্ভব!
দুই দলের ছয় আফ্রিকান ফুটবলারের পায়ে দৃষ্টিকাড়া কিছু ছিল না। তার ওপর স্থানীয় খেলোয়াড়েরা নষ্ট করেছেন সহজ সব সুযোগ। অবশেষে ব্রাদার্সের হয়ে ফয়সাল মাহমুদ জাল খুঁজে পেয়েছেন ৭০ মিনিটে। ব্রাদার্সের জয়টা তাতে শেষ পর্যন্ত এল বেশ সহজে।
গোপীবাগের দলটি এখন ওই ব্রাজিলিয়ানের ওপর ভর করে যেতে চায় অনেক দূর। ক্লাবের মাঠে ৩৫ জন বিদেশির হাট বসিয়ে ট্রায়াল নিয়ে তাঁকেই পছন্দ করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। ঝাঁকের কইয়ের মধ্যে তিনি নিজেকে আলাদা করে ফেললেন শুরুতেই।

আজকের খেলা
শেখ রাসেল-শেখ জামাল, আবাহনী-রহমতগঞ্জ
(বিকেল ৩-৩০মি. ও ৫টা; কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম)

পিসিবির নতুন আচরণবিধি

পরিস্থিতিই দেরি করার বিলাসিতা করতে দিল না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)। আইসিসির চোখ রাঙানির পর খেলোয়াড়দের জন্য নতুন আচরণবিধি তৈরি করেছে পিসিবি। দুর্নীতির প্রশ্নে ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলার শক্ত শেকলে বেঁধে ফেলতেই পিসিবির এই উদ্যোগ।
ডিসেম্বর-জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ বড় ধাক্কা দিয়েছিল পাকিস্তানের ক্রিকেটকে। গত ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তানের ক্রিকেট। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার আইসিসি পিসিবিকে পরামর্শ দেয়, ক্রিকেটে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন বিন্দুমাত্র ছাড়ও না দেওয়া হয়।
পিসিবিকে মাত্র এক মাস সময় বেঁধে দিয়ে আইসিসি বলে, পাকিস্তানকে অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি প্রমাণ করতে হবে। নয়তো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে। আইসিসির ধমকে হোক বা দেশের ক্রিকেটের পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই হোক, নির্দেশ পাওয়ার পঞ্চম দিনেই খেলোয়াড়দের জন্য নতুন আচরণবিধির কথা জানাল পিসিবি। ‘আইসিসির নির্দেশনা মানার পথে নতুন আচরণবিধি প্রথম পদক্ষেপ’—বলেছেন পাকিস্তান দলের নতুন ম্যানেজার সাবেক কোচ ইন্তিখাব আলম।
ইন্তিখাব আরও বলেছেন, ‘আমরা আশাবাদী, নতুন আচরণবিধি শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির সমস্যা নিয়ে কাজ করতে আমাদের সাহায্য করবে।’ পরিবর্তিত আচরণবিধিতে খেলোয়াড়দের আচরণের ওপর কঠোর নির্দেশনা আনা হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচেই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচেও ক্রিকেটাররা মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পিসিবির বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না ড্রেসিংরুমে।

কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে ওয়েকা বিচ ক্রিকেট

বিচ ক্রিকেট শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। খেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের প্রসারে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় করাও এর লক্ষ্য—২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ওয়েকা বিচ ক্রিকেটের আয়োজকদের উদ্দেশ্য এটাই।
বিচ ক্রিকেটকে উপলক্ষ করে কক্সবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো বসছে সাবেক ক্রিকেটারদের মিলনমেলা। তিন দিনব্যাপী টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে ১৩টি দল। ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপের সেরা দুই দলের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে ‘সি’ গ্রুপের সেরা তিনটি দল। অষ্টম দল বাছাই করা হবে নেট রান রেটের ভিত্তিতে। পাঁচ ওভারের খেলায় প্রতি দলে খেলবেন ছয়জন ক্রিকেটার। বিচ ক্রিকেট সরাসরি সম্প্রচার করবে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভি।
কাল রাজধানীর এক হোটেলে টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক উইকএন্ড ক্রিকেট ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়েকা) প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, স্পনসর এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী ও দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান নূর। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ, হাবিবুল বাশার ও সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান।

মুরালিতে রোমাঞ্চিত সাঙ্গাকারা

আইপিএলের এবারের আসর কোনো কারণে মিস করেছেন? তাহলে মিস করেছেন ফাইনালে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলিংও। আফসোস করবেন না, মুরালি আবার আসছেন; চেন্নাই-টেন্নাই নয়, শ্রীলঙ্কার হয়েই। টেস্ট ক্রিকেট নয়, ওয়ানডেতে!
শ্রীলঙ্কার অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে এই স্পিন জাদুকরের উপস্থিতি ক্রিকেট-ভক্তদের রোমাঞ্চিত তো করবেই। রোমাঞ্চিত খোদ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাও। তিনি বলছেন, মুরালির মতো বোলার যত দিন উপভোগ করবেন, যে ফরম্যাটে খুশি খেলে যেতে পারেন, ‘আমরা চাই ও নিজেকে উপভোগ করুক। যতদিন ও চাইবে, খেলে যাবে। ওকে খেলতে দেখাটাই তো বিরাট আনন্দের ব্যাপার! দলে ওর উপস্থিতি আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।’
অবশ্য ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যেখানে যাচ্ছেন, সেই অস্ট্রেলিয়ায় মুরালির অভিজ্ঞতাটা বেশ অপ্রীতিকরই। এখানেই আম্পায়ার, সমর্থক থেকে শুরু করে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পর্যন্ত বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন তিনি।
সাঙ্গাকারার অবশ্য মনে হয় না, অস্ট্রেলীয়দের এসব আচরণ মুরালির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে।

ক্রিকেটারদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

পুরস্কার আর সংবর্ধনার সময় যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। গতকাল রাতে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সংবর্ধনা ও নৈশভোজ। অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০-তে সিরিজ জয়ী দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে একটি করে প্লট, গাড়ি ও স্যুটের কাপড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার ছাড়া পুরস্কার আছে আরও। স্বাভাবিকভাবেই সাকিব আল হাসান আছেন সবার আগে। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে অধিনায়ক ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ-সেরা সাকিবকে একটি গাড়ি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি এই ব্যাংক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাকো দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে দেবে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার।

পিটারসেনকে আক্রমণ নয়

অ্যাশেজ শুরু হওয়ার আগে সব সময়ই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়ে যায়। এ লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকাটা থাকে অস্ট্রেলিয়ানদেরই। রীতি অনুযায়ী এবারও সে লড়াই শুরু হয়ে গেছে এবং অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের ‘লক্ষ্য’ও ঠিক করে ফেলেছে—এবার কেভিন পিটারসেন।
অ্যাশেজের আগে অস্ট্রেলিয়ানরা ইংলিশদের মূল আঘাতটা করছে তাদের ফর্মের বাইরে থাকা সাবেক অধিনায়ক পিটারসেনের সমালোচনা করে। রিকি পন্টিং, মিশেল জনসন এরই মধ্যে পিটারসেনকে ইংলিশদের প্রধান দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেছেন।
বলা বাহুল্য, এসব কিছু পিটারসেনকে নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু অন্তত একজন অস্ট্রেলিয়ান মনে করছেন, পিটারসেনকে এভাবে আক্রমণ করলে সেটা বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে চলে যাওয়া ব্রেট লি বলছেন, পিটারসেনকে উত্ত্যক্ত করা মানে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা। তিনি সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, এই দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়কে কোনোভাবেই স্লেজিং করা ঠিক হবে না।
লি বিশ্বাসই করেন না পিটারসেন ইংলিশদের দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াবেন, ‘কোনো কারণেই না। ওর মানটাই অন্য রকম। ও ভালো করবেই। আমি আশা করি, ও অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের চোখ জুড়ানো খেলা উপহার দেবে।’
এর পরই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, স্লেজিং করলে পিটারসেন কীভাবে আরও বেশি রান করেন, ‘ও আগ্রাসনটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ওকে স্লেজিং করলে ও আরও খুশি হয়। কারণ, ও ব্যাপারটা ব্যক্তিগতভাবে নেয় এবং আরও গর্জে ওঠে। এ রকম ক্ষেত্রে ও বড় ইনিংস খেলতে চায়।’
অস্ট্রেলিয়া কি তাহলে এবার ভুল লক্ষ্যেই তীর ছুড়ল? ওয়েবসাইট।

শেষ ষোলো দেখছে চেলসি

২০০৮-এর ক্ষতে খানিকটা প্রলেপ দিল চেলসি। ২০০৮ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মস্কো থেকে বেদনা নিয়ে ফেরা চেলসি এবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জিতল ৩ পয়েন্ট। স্বাগতিক স্পার্তাক মস্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পুরো ৯ পয়েন্ট নিশ্চিত করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
স্বাগতিক দর্শকদের মনে দুঃখ এঁকে দেন মস্কোরই ঘরের ছেলে ইউরি ঝিরকভ। সিএসকেএ মস্কো থেকে গত বছর চেলসিতে নাম লেখানো ঝিরকভ ২৪ মিনিটে এগিয়ে দেন চেলসিকে। ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকোলাস আনেলকা।

রুনির সিদ্ধান্তে হতাশ ফার্গুসন

গুঞ্জনটাই অবশেষে সত্যি হলো। স্বয়ং অ্যালেক্স ফার্গুসন স্বীকার করেছেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে চান ওয়েইন রুনি। কাল নাটকীয় এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যানইউ কোচ বলেছেন, রুনির সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ এবং যারপরনাই দুঃখ পেয়েছেন।
কিছুদিন ধরেই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আর থাকতে চান না রুনি। শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট ব্রমউইচের বিপক্ষে রুনিকে সেরা একাদশে রাখেননি ফার্গুসন। ম্যাচ শেষে ফার্গুসন বলেছিলেন, রুনির গোড়ালির চোট। কিন্তু রুনি সংবাদমাধ্যমে খোলাখুলি বলে দেন, তিনি পুরোপুরি ফিট। এর পরই এল কালকের ঘোষণা। রুনির মনোভাব জানতে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ফার্গুসন। সেই আলোচনার ফলাফল জানালেন কাল, ‘তার নিজের মতো করেই সে বলেছে, সে ক্লাব ছাড়তে চায়। শুনে আমি বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছি, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এর আগের আলোচনায়, সম্ভবত মার্চে, সে বলেছিল আজীবন এই ক্লাবে থাকতে চায়, এটাই নাকি বিশ্বের সেরা ক্লাব।’
তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না ফার্গুসন। আশা করছেন বদলে যাবে তারকা স্ট্রাইকারের মনোভাব, ‘আমরা বুঝতে পারছি না ও কেন এমন করছে। এই ক্লাবে আসার পর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সব ব্যাপারেই আমরা ওকে অনেক সাহায্য করেছি। তবে আমাদের সব দরজাই খোলা রাখতে হবে, কারণ, সে দুর্দান্ত ফুটবলার।’

র‌্যাঙ্কিং পছন্দ হচ্ছে না হাসির

একসময় র‌্যাঙ্কিংটাও শাসন করেছে তারাই। দীর্ঘদিন এক নম্বর জায়গাটি ছিল তাদের জন্য বাঁধা। টেস্টে এক নম্বরে অস্ট্রেলিয়াকে দেখতে দেখতে ক্লান্ত প্রতিপক্ষদের অনুভূতিটা সুখকর ছিল না নিশ্চয়ই। সেই অস্ট্রেলিয়া যখন নেমে গেল পাঁচে, বাকিদের জন্য অভিজ্ঞতাটা যত আনন্দেরই হোক, অস্ট্রেলীয়দের হজম করতে কষ্ট হচ্ছে বৈকি।
টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের পদ্ধতিটা নিয়েই যেমন প্রশ্ন উঠেছে মাইক হাসির মনে, ‘আমরা বিশ্বের পঞ্চম দল, এটা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের দলের যোগ্যতার সার্থক প্রতিফলন র‌্যাঙ্কিংয়ে হচ্ছে না। পাঁচ নম্বর বলতে যা বোঝায়, আমরা অবশ্যই এর চেয়ে যোগ্য দল। আমি এটার সঙ্গে একমত হতে পারছি না।’
হাসিও মানছেন, সুদিনের হাসি সব সময় সবার ঠোঁটে থাকে না। তাঁর নিজের কথাই ধরুন। টেস্ট ক্যারিয়ারটা শুরু হয়েছিল কী দুর্দান্তভাবে। একটা সময় তাঁর ব্যাটিং গড় তো পৌঁছে গিয়েছিল ৮৫-এর ঘরে। সব মিলে এখনো ব্যাটিং গড় ভালোই আছে। কিন্তু গত সাত ইনিংসে একটি ফিফটিও না পাওয়ার পর কথা উঠেছে, টেস্ট ছেড়ে এখন শুধু ওয়ানডেতেই মনোযোগ দেওয়া উচিত হাসির। অনেকে চোখে আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন, তাঁর বয়স ৩৬ চলছে।
হাসি অবশ্য জানালেন, এসব কথা তিনি কানে তোলেন না, ‘আমি মাঠের বাইরের কথাবার্তায় কান দিই না। খুব একটা পত্রিকা পড়া কিংবা টিভিও দেখি না। অবশ্য এর থেকে দূরে থাকাটা গত গ্রীষ্মে আমার জন্য অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ, অনেক জল্পনা-কল্পনা চলেছে আমাকে নিয়ে। তবে ৩৭ বছর বয়সেও শচীনকে এভাবে রান করতে দেখে; ক্যারিয়ারের শেষ দিকে স্টিভ ওয়াহ; ৩৫ পেরিয়ে এসে ম্যাথু হেইডেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গারদের ভালো খেলতে দেখার পর আমারও এই আত্মবিশ্বাস আছে, আমিও ভালো খেলব।’

পন্টিংয়েই আস্থা ওয়ার্নের

ইয়ান বোথামদের আনন্দ তাহলে বৃথা গেল! শেন ওয়ার্নের কথায় তা-ই মনে হচ্ছে। নিজের ওয়েবসাইটে সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেগস্পিনার ওয়ার্ন বলেছেন, পন্টিংকে তিনি আক্রমণ করেননি। টুইটার পোস্টে নাকি নেহাত ভারতের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালোর টেস্ট নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণটা জানিয়েছিলেন। এর সঙ্গে অ্যাশেজে পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বের পক্ষে ‘ভোট’ও দিয়ে দিয়েছেন ওয়ার্ন।
ঘটনার শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটে হারা ব্যাঙ্গালোর টেস্ট নিয়ে। নাথান হরিজের বলে পন্টিংয়ের ফিল্ডিং সাজানোর সমালোচনা করে ওয়ার্ন টুইটার-এ লিখেছিলেন, ‘এই ফিল্ডিংয়ে ও হরিজকে কীভাবে বল করতে বলল? হরিজের জন্য খারাপ লাগছে। কী ভয়াবহ! সরি রিকি, এসব কী করছ?’
ওয়ার্নের এই চাঁছাছোলা মন্তব্যে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিল ইংলিশ সংবাদমাধ্যম; এমনকি বোথামের মতো সাবেক অলরাউন্ডারও। কিন্তু এবার ওয়ার্ন তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন, ‘নাথান হরিজের দুই ওভারে পন্টিংয়ের ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে আমার টুইটটাকে আমার এবং অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের মধ্যে একটা বিবাদ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সাংবাদিকেরা চেষ্টা করছেন এটাকে কাদা ছোড়াছুড়ি হিসেবে দেখানোর। সব ফালতু ব্যাপার। আমি ওই ম্যাচ নিয়ে যা বলেছি (টুইটার-এ), তার সঙ্গে ধারাভাষ্যকারেরা, ক্রিকেট সাংবাদিকেরা, এমনকি ভারতীয় অধিনায়ক এম এস ধোনি পর্যন্ত একমত। টুইট-টা একটা পর্যবেক্ষণ ছিল, আক্রমণ নয়।’
তার পরও নিজের সাবেক সতীর্থকে নিয়ে এমন মন্তব্য কেন করলেন? এ প্রশ্নেরও একটা উত্তর দিয়েছেন ওয়ার্ন, ‘আমি সব সময় অস্ট্রেলিয়ার সমর্থক ছিলাম এবং থাকব। কিন্তু ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে আমাকে সৎ থাকতে হয়, স্পষ্টবাদী হতে হয় এবং নিজের মত প্রকাশ করতে হয়। লোকে পছন্দ না করলেও তা করতে হয়।’
তবে নিজের মত যতই স্পষ্ট করে বলুন, এই স্পষ্ট কথায় যে পন্টিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটাই নষ্ট হতে বসেছে! না, সেটা ওয়ার্ন হতে দেননি। পন্টিংকেই আগামী অ্যাশেজের জন্য যোগ্য অধিনায়ক বলে ক্ষতস্থানে প্রলেপও দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য মানুষ রিকিই। ওর নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার এটা দুর্দান্ত একটা সুযোগ।’
বোঝাই যাচ্ছে, অস্ট্রেলীয় শিবির আবারও এককাট্টা। এই সুযোগে পন্টিং তোপ দাগলেন ইংলিশদের লক্ষ করে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অ্যাশেজ জেতার মতো ব্যাটিং লাইনআপ ইংল্যান্ডের নেই বলেই মন্তব্য তাঁর, ‘কেভিন পিটারসেন তো অবশ্যই ওদের জন্য এখন একটা বড় সমস্যা। অ্যালিস্টার কুক দাঁত কামড়ে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। কলিংউডও নিজের সেরা ফর্মে নেই। তাই এটা ধরে নেওয়াই যায়, অস্ট্রেলিয়ায় ওরা যখন পা রাখবে, একটু নার্ভাসই থাকবে।

কিশোর উপন্যাস- 'জাদুর পাখি' by সোলায়মান আহসান

পাহাড়ি ময়না পোষা আবিরের অনেক দিনের শখ। ঢাকা শহরে তা পাবে কোথায়? অনেক বৈশাখী মেলায় হানা দিয়ে পায়নি। শহরের মেলায় কিছু চেনা পাখি পাওয়া যায়। শালিক, কবুতর, টিয়া ইত্যাদি। পাহাড়ি ময়নার নামও শুনেনি অনেকে। তাই আবিরের শখ অপূর্ণই থেকে গেছে।
এবার বাড়ি যাবার যখন কথা উঠে, ছোট চাচু এসেছিলেন। আবির ছোট চাচুকে বাড়ি গেলে পাহাড়ি ময়না দিতে হবে শর্ত দিয়েছিল। ছোট চাচুও রাজি।
আবিরদের বাড়ি সিলেট। এ জেলায় পাহাড়ি পরিবেশ আছে। ঠিক পাহাড় না হলেও ওদের বাড়ির কাছে আছে টিলা। টিলা হচ্ছে ছোট ছোট পাহাড়। এসব টিলায় চাষ করা হয় চা-পাতার। টিলা মানেই চা-বাগান। আবিরদের দাদা বাড়ি টিলার ওপর। বাড়িতে এলে আবিরের মনে হয় নিজেকে পাহাড়ি। অবশ্য এ অঞ্চলে বনেদি লোকেরাই শুধু টিলার ওপর বসবাস করে।

সম্পূর্ণ কিশোর উপন্যাস- 'হলুদ পিশাচ' by রকিব হাসান

‘আমি এখানে থাকতে চাই না, মা। প্লিজ, আমাকে ফেলে যেও না।’
মায়ের হাত আঁকড়ে ধরল অঞ্জন। ওর ভাল নাম রফিকুজ্জামান। ছোট দোতলা বাড়িটার সামনের সিঁড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করল মাকে।
ফিরে তাকালেন মিসেস জামান, অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে ভ্রƒকুটি করলেন। ‘অঞ্জন, তোমার বয়স এখন বারো। যথেষ্ট বড় হয়েছ। ছেলেমানুষি কোরো না,’ হাতটা ছেলের মুঠো থেকে ছাড়িয়ে নিলেন তিনি।
‘বড় হয়েছ, বড় হয়েছÑতোমার এই এক কথা শুনে শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেল!’ রাগ করে বলল অঞ্জন।
মায়ের মুখে স্নেহের হাসি ফুটল। ছেলের চুলে আঙুল বুলিয়ে আদর করতে গেলেন।
‘ছাড়ো, আমার এ সব ভাল্লাগে না!’ ঝাড়া দিয়ে মায়ের হাতটা সরিয়ে পিছিয়ে গেল অঞ্জন। আরেকটু হলেই বারান্দায় উঠার সিঁড়ি থেকে উল্টে পড়ে যাচ্ছিল।
‘বেশ, আমাকে যখন দেখতেই পারো না…’ কথাটা শেষ না করে সিঁড়ির বাকি দুটো ধাপ উঠে সামনের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন মা। দরজায় থাবা দিলেন। ছেলের দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন, ‘ওখানেই থাকো।’
‘আমি এলে অসুবিধে কী?’

কিশোর উপন্যাস- 'স্বপ্ন ও স্বাধীন' by মুহাম্মদ ইফতেখার

শৈশবে স্বাধীন যখন খেলনার স্টেথোস্কোপটা কানে ঝুলিয়ে চেস্টপিসটা বাবার বুকের ওপর চেপে ধরতো আর আধো আধো স্বরে বলতো, ‘দেকি তো আব্বু, তোমার শলীলটা কেমন আছে’- মোর্শেদ সাহেব তখন মুগ্ধ-চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর গর্বিত কণ্ঠে স্ত্রীকে বলতেন, ‘দেখেছো, আমাদের স্বাধীনের মাঝে এখনই কেমন ডাক্তার-ডাক্তার ভাব, তুমি দেখো বড়ো হলে ও নিশ্চয়ই আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে!’
কিন্তু স্বাধীন আজকাল যেভাবে লেখাপড়া করছে তাতে বাবার সে-স্বপ্ন কি কখনো বাস্তবায়িত হবে?
রিপোর্ট-কার্ড সাইন করতে গিয়ে ওর প্রি-টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে মোর্শেদ সাহেব সহসা ভাবনায় পড়লেন। ধমক লাগিয়ে ছেলেকে বললেন, ‘হোয়াটজ দিস, এ-তো দেখছি কোনোমতে পাস করা!’