Sunday, October 4, 2009

ছেলেটা প্রায় বখেই গিয়েছিল।

ছেলেটা প্রায় বখেই গিয়েছিল। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড! সে-ই কিনা বিএসএস সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলো। এও কি সম্ভব!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অকাল প্রয়াত অধ্যাপক সিতারা পারভীনের সান্নিধ্যে একবার যে শিক্ষার্থী এসেছে, তাদের জীবন এমনভাবেই বদলে গেছে। এই যেমন, কাজী এম আনিসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। সে চক্রে পড়ে তিনি নিয়মিত শুরু করেন মারামারি-কাটাকাটি আর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্রনেতাদের পিছু পিছু ঘোরাঘুরি। ছেলেটার পড়ালেখায় মন নেই, মন নেই ক্লাসেও। ব্যাপারটা নজরে এল বিভাগের অধ্যাপক সিতারা পারভীনের। ছেলেটাকে ক্লাস শেষে দেখা করতে বললেন তিনি। নরম সুরে তিনি ওকে দিলেন মানুষ হওয়ার মন্ত্র। এই মন্ত্রবলেই বদলে গেল আনিসুলের জীবন। নিয়মিত ক্লাসে আসা শুরু হয় তাঁর, ঠিক ঠিক মনও থাকে ক্লাসে। প্রায় রসাতলে যাওয়া সেই আনিসুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০০৭ সালের বিএসএস সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলেন।
একে কী বলা যায়? কোন বিশেষণে একে বাঁধব? অদ্ভুত, আশ্চর্য, নাকি অন্য কিছু? সময়ানুবর্তিতা, সততা, কর্মনিষ্ঠতার প্রতীক অধ্যাপক সিতারা পারভীন এমনই ছিলেন। মানুষ গড়া ছিল তাঁর পেশা আর নেশা। তাঁর পরামর্শ অনুসরণ করে পথহারা অনেক শিক্ষার্থীই পেয়েছেন পথের দিশা। কিন্তু এ মানুষটিই বড় অকালে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন চিরতরে। ২০০৫ সালের ২৩ জুন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। সিতারা পারভীন চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ চিরঞ্জীব হয়ে আছে। তাঁর জীবনাদর্শ, নীতি-নৈতিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে অধ্যাপক সিতারা পারভীন স্মৃতি পুরস্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রতিবছর অনার্স সম্মান পরীক্ষায় প্রথম ১০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ মিলনায়তনে ২০০৭ সালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনার্স সম্মান পরীক্ষায় প্রথম ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কাজী এম আনিসুল ইসলাম, উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল, মোহসিনা ইসলাম, মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, এ এইচ এম ইয়াসিন, মিনহাজ উদ্দিন, তানিয়া আফরিন, রাজীব আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নীরবতা পালন করে সিতারা পারভীনের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাঁর আবেগঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের নিয়ে যান অধ্যাপক সিতারা পারভীনের কর্মময় দিনগুলোতে। তিনি বলেন, সিতারা পারভীনের সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারি, সততা, কর্মদক্ষতার প্রতিফলন এ প্রজন্মের মানুষের মধ্যে আজকাল আর তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না।’
সিতারা পারভীন ছিলেন এক অন্য রকম মানুষ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন তিনি। তাঁর বেশ-ভূষায় ছিল না কোনো আভিজাত্যের ছোঁয়া। তাঁর অমায়িক আচার-ব্যবহারে ছিল না কোনো অহমিকা। তাই অতি সহজেই তিনি মিশে যেতে পারতেন তাঁর সহকর্মী কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। সর্বদাই তিনি ললিতকণ্ঠে শিক্ষার্থীদের শোনাতেন জীবনের কথা। তাঁর পাঠদান-প্রক্রিয়ায় সিলেবাসভুক্ত বিষয়াবলির বাইরেও স্থান পেত নানা বিষয়। সিতারা পারভীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাধারণ আদব-কায়দার শিক্ষা দিতেন। তাঁর নীতি-নৈতিকতা, সততা, কর্মস্পৃহা, দায়িত্বশীলতা, কর্মদক্ষতা সত্যিই বিরল। এমন মানুষ কোথায় মিলবে!
প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া কাজী এম আনিসুল ইসলাম তাঁর অনুপ্রেরণার উত্স হিসেবে সিতারা পারভীনকেই দেখেন। তাই তো তিনি সিতারা পারভীনকে অভিহিত করলেন ‘শিল্পী’ হিসেবে; যিনি আমৃত্যু নিঃস্বার্থভাবে নিপুণ কারিগরের মতো মানুষ গড়ে গেছেন। তাতেই ছিল তাঁর সুখ। আর তাই তো সিতারা পারভীন মরেও অমর হয়ে আছেন। সিতারা পারভীনকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রথম শ্রেণীপ্রাপ্ত অপর শিক্ষার্থী মোহসিনা ইসলাম আবেগতাড়িত হয়ে বললেন, ‘মা যেমন তাঁর সন্তানদের আগলে রাখেন, সিতারা আপাও তেমনিভাবে আমাদের আগলে রাখতেন। তাঁর অনুপ্রেরণা হতাশ বুকেও আশা জাগায়। অধ্যাপক সিতারা পারভীন চলে গেছেন। কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর কর্ম, আদর্শ, জীবনদর্শন। এসবই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি হয়তো আমরা টের পাই না। কিন্তু তিনি আছেন সবার অন্তরে, সবার চেতনায়।

পাকিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শীর্ষ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মার্কিন চালকবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অব উজবেকিস্তানের নেতা তাহির উলদাস নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে তালেবান।
গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আদিবাসী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছিলেন তাহির। আহত হওয়ার কয়েক দিন পরেই তিনি মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ খবর জানান।
১৯৯০ সালে ইসলামিক মুভমেন্ট অব উজবেকিস্তান গঠন করেন তাহির। তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভকে উত্খাত করে সে দেশে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

আদিবাসী নেতা ছত্রধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী প্রভাবিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লালগড় আন্দোলনের আদিবাসী নেতা ছত্রধর মাহাতোকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঝাড়গ্রাম মহকুমা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। ওই দিন আদালত তাঁকে আরও সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড দিয়েছেন। ছত্রধরের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার লালগড়ে বন্ধ পালন করেছে ছত্রধরের গড়া ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটি’।

জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক আজ

বিশ্বের সাতটি ধনী দেশের গ্রুপ জি-৭-এর অর্থমন্ত্রীরা আজ শনিবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে এ বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ইস্তাম্বুল বৈঠকের মূল বিষয়ই হবে জি-২০ সম্মেলনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ব্যাপারে পারস্পরিক মতবিনিময় করা। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের পার্শ্ব আলোচনায় ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীরা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা অংশ নেবেন।

বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী হামলায় নিহত ১৮

মাওবাদীদের হামলায় ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ১৮ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিহারের খাগাড়িয়া জেলার আমুসি গ্রামে প্রায় ১০০ জনের একটি সশস্ত্র মাওবাদী দল হামলা চালায়। তারা গ্রামের লোকজনকে ধরে এনে পিঠমোড়া করে বেঁধে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে। এতে মারা যায় ১৭ জন। তাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। বিহারের আইজি (অপারেশন) এস কে ভরদ্বাজ সাংবাদিকদের জানান, জমিসংক্রান্ত বিবাদের জের ধরে এদের হত্যা করা হয়েছে।
একই রাতে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার সভাপতি পঞ্চানন টুডুকে মাওবাদীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

ইসরায়েলও ফিলিস্তিন বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু করেছে

ফিলিস্তিনিদের হাতে আটক এক ইসরায়েলি সেনার মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলে আটক বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির প্রথম ও পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গতকাল শুক্রবার। আটক ওই সেনার সাম্প্রতিক ভিডিওচিত্র দেখে ২০ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দীকে গতকাল মুক্তি দেয় ইসরায়েল।
২০০৬ সালের জুন মাসে হামাসসংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের হাতে আটক হন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট গিলাদ শালিত। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ভিডিওটেপটি দেখে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ওই ফিলিস্তিনি নারী বন্দীদেরকে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিরে যেতে দেয়।
একজন জার্মান মধ্যস্থতাকারী শালিতের ভিডিওচিত্র ইসরায়েলি মধ্যস্থতাকারীর হাতে তুলে দেন। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ফিলিস্তিনি নারীদের মুক্তি দেওয়ার আগে তিনটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে—ভিডিওটেপটি হতে হবে সাম্প্রতিককালের, শালিতকে ক্যামেরার সামনে পরিষ্কারভাবে কথা বলতে হবে এবং ভিডিওটেপটি হতে হবে কমপক্ষে এক মিনিটের। শর্ত পূরণ হওয়ায় ওই নারীদের ইসরায়েল মুক্তি দেয়।

আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানে মার্কিনবিরোধী মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক হবে

মার্কিন সিনেটর জন কেরি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সাহায্য প্যাকেজটি পাকিস্তানে ব্যাপক মার্কিনবিরোধী মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করবে। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির অধিকাংশ মানুষই মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ।
স্কুল ও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে পাকিস্তানের জন্য ৭৫০ কোটি ডলারের একটি সাহায্য প্যাকেজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।
সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এবং সাহায্য প্রস্তাবের সহ-প্রণেতা জন কেরি বলেন, এই সাহায্য পরিকল্পনায় শুধু সরকারের প্রয়োজনীয়তার দিকে নয়, পাকিস্তানি জনগণের চাহিদার প্রতিও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের বঞ্চিত করছে। এ কারণে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় সুনির্দিষ্টভাবে এ সাহায্য প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সম্পর্ক চায়, যা পাকিস্তানি জনগণের স্বার্থ ও চাহিদা পূরণ করবে।

এখনো বিক্রির শীর্ষে থাকে মহাত্মা গান্ধীর আত্মজীবনী

ভারতে অহিংস আন্দোলনের নেতা মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী মারা গেছেন আজ থেকে ছয় দশক আগে। কিন্তু আজও এই মহান রাজনীতিক সবার হূদয়ে দাপটের সঙ্গেই বিচরণ করছেন। সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ এখনো মহাত্মা গান্ধীর জীবনী থেকে প্রেরণা খোঁজে। তাঁর আত্মজীবনী দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ এখনো সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বই। এই আধুনিক যুগেও ওই বই বছরে দুই লাখ কপি করে বিক্রি হয়। গুজরাটের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নবজীবন ট্রাস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনের পরিচালক অনুপম মিশরা বলেন, ‘গান্ধীজি অবিরাম লিখতেন। লিখতে লিখতে যখন তাঁর ডান হাত ধরে আসত, তখন তিনি বাঁ হাত দিয়ে লিখতেন। এখনো তাঁর অনেক কাজ আছে যেগুলো প্রকাশ পায়নি। প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার সমপরিমাণ গান্ধীজির চিঠি ও লেখা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় আছে।’
এই বিপুল পরিমাণ অপ্রকাশিত লেখা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের পণ্ডিতেরা বলেছেন, গান্ধীজির এসব ছড়ানো-ছিটানো লেখা একত্র করে সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা উচিত। এ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীর যত লেখা পাওয়া গেছে তা ১০০টি খণ্ডে সংকলন করা হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার পৃষ্ঠায় লেখা ওই খণ্ডগুলোকেই গান্ধীজির পুরো আত্মজীবনী বলে ধরে নেওয়া হয়।
১৯২৯ সালে মহাত্মা গান্ধী নবজীবন ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিকে তাঁর সব কাজকর্ম প্রকাশের অধিকার দেন। ভারতে ১৯৫৭ সালের গ্রন্থস্বত্ব আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৬০ বছর পর তাঁর কাজকর্ম অন্য কেউ জনসম্মুখে প্রকাশ করার অধিকার পাবে। এই আইন অনুযায়ী নবজীবন ট্রাস্ট এ বছরের ১ জানুয়ারি গ্রন্থস্বত্ব হারায়। তবে তারা গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশনা এখনো বন্ধ করেনি। বর্তমানে নবজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার ছিল মহাত্মা গান্ধীর ১৪০তম জন্মবার্ষিকী। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা সংগঠন দিনটি পালন করেছে।

কংগ্রেস ও তৃণমূলের ঐক্যে ফাটল?

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী ঐক্য হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাস আগে, সেই এপ্রিল মাসে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে। সেই ঐক্য নিয়েই এত দিন চলছিল ইউপিএ জোট শরিক দুটি দল।
লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের দুটি বিধানসভার উপনির্বাচন এবং ২৬টি পৌরসভার নির্বাচনে এই জোট লড়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে। এমনকি গত মাসে শিলিগুড়ি পৌর নির্বাচনেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে। এ নির্বাচনে শিলিগুড়ি করপোরেশনের ৪৭টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট পায় মাত্র ১৭টি আসন। আর কংগ্রেস-তৃণমূল জোট পায় ২৯টি। একটি পায় নির্দল প্রার্থী। কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের মধ্যে কংগ্রেস পায় ১৫টি এবং তৃণমূল পায় ১৪টি আসন। পরে অবশ্য নির্দল প্রার্থী তৃণমূলে যোগ দেন। গত নির্বাচনে এই ৪৭টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট পেয়েছিল ৩৬টি আসন।
শিলিগুড়ি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কংগ্রেস দাবি করে মেয়র পদ। তাতেই বাদ সাধে তৃণমূল। তারাও দাবি করে মেয়র পদ। এর আগে অবশ্য সব নির্বাচনেই তৃণমূলের দাবি মেনে নেয় কংগ্রেস। কিন্তু এবার কংগ্রেস মেয়র পদ নিয়ে অনড় থাকে। অন্যদিকে অনড় থাকে তৃণমূলও। ফলে মেয়র পদ নিয়ে নির্বাচন হয় গত বৃহস্পতিবার। নির্বাচনে বামফ্রন্টের ১৭ কাউন্সিলরের সমর্থন পায় কংগ্রেস। ফলে মেয়র পদ চলে আসে কংগ্রেসের পক্ষে। এ ঘটনার পরই তৃণমূলকর্মীরা বৃহস্পতিবার ব্যাপক ভাঙচুর চালায় শিলিগুড়িতে। বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ফলে এদিনই কংগ্রেস-তৃণমূল ঐক্যে প্রথম ফাটল ধরে।
এ ঘটনার পর মমতা বলেছেন, এটা কংগ্রেসের বিশ্বাসঘাতকতা। শিলিগুড়ির মানুষই এর জবাব দেবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, এটা কংগ্রেসের রাজনৈতিক অপরাধ। তবে কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, শিলিগুড়ির ঘটনায় তাদের জোট রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ ঘটনার পর এই প্রথম কংগ্রেস-তৃণমূল জোটে ফাটল ধরল। অথচ সামনে রয়েছে রাজ্যের ১১টি বিধানসভার উপনির্বাচনসহ ২০১১ সালে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস-তৃণমূলের মধ্যে আদৌ জোট থাকবে কি না, সেই প্রশ্নটি এখনই উঠে আসছে।

সু চিকে গৃহবন্দী রাখার রায় বহাল রাখল আদালত

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির আপিল আবেদন গতকাল শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছেন জান্তার আদালত। ফলে নোবেলজয়ী এ নেত্রীর গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে গেল। এক মার্কিন নাগরিক সু চির বাড়িতে অনুপ্রবেশের দায়ে গত আগস্ট মাসে এ নেত্রীর গৃহবন্দীর মেয়াদ ১৮ মাস বাড়ানোর রায় দেন ইয়াঙ্গুনের নিম্ন আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সু চি আপিল করেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে সামনের বছর জাতীয় নির্বাচনে সু চির অংশগ্রহণ আরও অনিশ্চিত হয়ে গেল।
সু চির আইনজীবী ও তাঁর রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) মুখপাত্র নিয়ান উইন জানিয়েছেন, ‘নিম্ন আদালত আমাদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা এখন উচ্চ আদালতে যাব।’ আদালতের ওই রায়ে তিনি হতাশ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নিয়ান বলেন, ‘আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে সুবিচার পাব; সু চি নিঃশর্ত মুক্তি পাবেন।’ ইয়াঙ্গুনের আদালতের আশপাশের এলাকায় গতকাল কঠোর পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় সু চি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
ঠুনকো অজুহাতে সু চির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানোর খবরে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়। তাঁকে শিগগিরই মুক্তি দেওয়ার জন্য দেশটির জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে ওয়াশিংটন।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রথম বৈঠক। এতে সু চির মুক্তির পাশাপাশি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। ওই দিন ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সু চিকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশটির ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

ইন্দোনেশিয়া থেকে সামোয়া পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসযজ্ঞ

ইন্দোনেশিয়া থেকে সামোয়া। ভূমিকম্প, সুনামি আর টাইফুন কেটসানার ধ্বংসযজ্ঞ। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগে হতাহত হয়েছে অনেক মানুষ। এক দুর্যোগের ধাক্কা সামলে না উঠতেই আঘাত হানছে আরেক দুর্যোগ। এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের সামোয়া ও টোঙ্গায় সুনামির ক্ষয়ক্ষতি বুঝে ওঠার আগেই আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। টাইফুন কেটসানার ধাক্কা সামলে না উঠতেই ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন পারমা।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১০০ জনে। প্রাণহানির ওই হিসাব দিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ৭৭৭ জন। গুরুতর আহত হয়েছে দুই হাজার ১০০ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ। নিখোঁজ লোকজন বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এরই মধ্যে দেশটিতে ত্রাণসহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তাঁর শৈশবের একটি অংশ ইন্দোনেশিয়ায় কেটেছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য তল্লাশি ও উদ্ধার বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
এক ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার: ভূমিকম্পের ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর সুমাত্রার পাদাংয়ের একটি বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সারি (২১) নামের ওই ছাত্রী ওই বিদ্যালয়েই পড়ালেখা করতেন। উদ্ধারকর্মীরা একটি সুড়ঙ্গপথ তৈরি করে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁকে টেনে বের করে আনতে সক্ষম হন।
সুনামির পর ভূমিকম্প: সামোয়া ও টোঙ্গায় সুনামির পর শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল শুক্রবার সেখানে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ এখনো মেলেনি। মঙ্গলবারের সুনামিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
সামোয়ায় সুমামির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ। গৃহহীন হয়েছে হাজার হাজার লোক।
সুনামিবিধ্বস্ত সামোয়ায় চিকিত্সাসেবা দিতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দল পাঠাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। আহত লোকজনকে চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ডে নেওয়ার কাজও ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে দেশটি।
ধেয়ে যাচ্ছে পারমা: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় কেটসানার ধাক্কা সামলে না উঠতেই ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী ঝড় পারমা। ঘণ্টায় ১৪৫ মাইল বেগে দেশটির উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঝড়টি। আজ শনিবার সূর্যোদয়ের সময় ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজনের উত্তর উপকূলে পারমা আঘাত হানতে পারে।
কেটসানার ছোবলে ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৪২ জন। ২৫৬টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে সোয়া চার লাখ মানুষ। ত্রাণকেন্দ্রগুলো থেকে ত্রাণসহায়তা নিয়েছে আরও তিন লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫ জন। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি লোক।
লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামেও ধ্বংসযজ্ঞ: কেটসানার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় লাওসে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ১৬ জন। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ১০৫ জন। আরও ১৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ। অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার কারণে।
কেটসানার ছোবলে কম্বোডিয়ায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। শুক্রবার রেডক্রস এ খবর দিয়েছে। কেটসানার আঘাতে ভিয়েতনামে প্রাণ হারিয়েছে ৯৯ জন।

পরমাণু কর্মসূচি বৈধ অধিকার: ইরান

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত প্রতিনিধি দলের নেতা সাঈদ জলিলি বলেছেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া ইরানের ‘বৈধ ও নৈতিক’ অধিকার এবং ইরান এই কর্মসূচিকে ভবিষ্যতে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে দেশে ফিরে তেহরান বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন।
জলিলি জেনেভায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের ছয়টি শক্তিধর দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এই বৈঠকে ইরান তার নতুন একটি পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে জাতিসংঘকে সহায়তা দানের বিষয়ে একমত হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ক্বোম শহরের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরান এই পরমাণু কেন্দ্রটি নির্মাণ করে।

গণচীনের ৬০ বছরপূর্তিতে পাকিস্তানের স্মারকমুদ্রা

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তিতে পাকিস্তান একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি চীনা সহায়তায় জেএফ-১৭ জঙ্গি বিমানের একটি কারখানা উদ্বোধনের কয়েকদিনের মধ্যেই পাকিস্তান এ স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করলো। জেএফ-১৭ জঙ্গি বিমান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর শক্তিকে অনেকাংশ বাড়িয়েছে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লু ঝাও হুই এ ব্যাপারে বলেন,পাকিস্তান চীনের ৬০ বছরের পুরোনো বন্ধু । আশা করি এ বন্ধুত্বে আগামী ৬০০ বছরেও কোনো সমস্যা হবে না। এ বন্ধুত্ব অনাগত ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
তিনি আরও বলেন,চীন ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব দুই দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকেও উপকৃত করবে।
স্মারকমুদ্রা প্রকাশের পাশাপাশি পাকিস্তান চীনে একটি নীতি-নির্ধারনী সংস্থা স্থাপন করেছে। পাকিস্তান-চীন ইনস্টিটিউট নামক এ সংস্থাটি পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তর যেমন∏ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বিভিন্ন নীতি নির্ধারনী বিষয়ে একযোগে কাজ করবে। সংস্থাটির প্রধান মুশাহিদ হুসেন বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে এ তথ্য জানান।
চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের এ উষ্ঞতা, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দ্বারা নির্ধারিত কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মুশাহিদ হুসেন বলেন, চীন পাকিস্তানের পাশে সবসময়ই ছিল, আছে এবং আশা করি থাকবে। পাকিস্তানের যেকোনো সঙ্কটে চীন সবসময়ই সহায়তা করেছে। চীন পাকিস্তানের সবসময়ের বন্ধু।
চীনের কমিউনিস্ট শাসনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এ স্মারক ১০ রুপির মুদ্রাটির সত্তরভাগ তামা ও ২৫ ভাগ নিকেলে তৈরী। ২৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের এই মুদ্রাটির ওজন ৮ দশমিক ২৫ গ্রাম।

জুনিয়র ব্যাডমিন্টন

পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইনডোর জিমনেসিয়ামে কাল থেকে শুরু হয়েছে কুল জাতীয় জুনিয়র ও সাব-জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। পাবনায় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বসেছে এ আসর।
কাল উদ্বোধনী দিনে ১১টি জুনিয়র ও ৭টি সাব-জুনিয়র গ্রুপের খেলা হয়েছে। ৩টি বিভাগ, ১৬টি জেলা ও ১টি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ২০টি দলের ৭৭ জন বালক ও ১৯ জন বালিকা অংশ নিচ্ছে প্রতিযোগিতায়। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে স্কয়ার ট্রয়লেট্রিজ লিমিটেড। ফাইনাল হবে ৬ অক্টোবর।

‘এ’ দলের ঘাড়ে রানের বোঝা

মহারাষ্ট্রে (পুনে) ফোন করতেই কোচ সারোয়ার ইমরান জানালেন, ‘ভাই, কী বলব। আনফিট দল নিয়ে খেলতে হচ্ছে। শাহাদাতের হালকা জ্বর, অনুশীলনের সময় অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়েছে নাফীস ইকবাল।’ মহারাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের একমাত্র চার দিনের ম্যাচের শুরুটা তাই ভালো হলো না। অতিথিদের ঘাড়ে প্রথম দিনেই রানের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক দল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে যাওয়া মহারাষ্ট্র দল ৮ উইকেটে ৩০৯ রান তুলে শেষ করেছে দিনের খেলা। সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেছেন আনকিত বেওয়ানি। ‘এ’ দলের ডলার মাহমুদ, সোহরাওয়ার্দী ও ফয়সাল হোসেন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ১টি উইকেট।

ইংল্যান্ডকে টানলেন ব্রেসনান

আগের রাতে আইসিসি বর্ষসেরা পুরস্কারে পুরস্কৃত তিনজন কাল নেমে পড়েছিলেন মাঠে। মিচেল জনসন, পিটার সিডল আর আলিম দার। আম্পায়ারের ভূমিকায় দার ভালোই করছেন। ৩ উইকেট নিয়ে সিডল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার, ১টি উইকেট নিয়েছেন জনসনও। এই দুজনের সঙ্গে শেন ওয়াটসন ও ব্রেট লি মিলে কাল ১০১ রানেই তুলে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ৬ উইকেট।
শেষ পর্যন্ত যাঁর ব্যাটে চড়ে লড়াকু সংগ্রহ গড়েছে ইংল্যান্ড, তাঁর কাল খেলারই কথা ছিল না। স্টুয়ার্ট ব্রড ইনজুরিতে পড়ায় একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন টিম ব্রেসনান। সুযোগটা শুধু দারুণভাবে কাজেই লাগালেন না, ব্রেসনান নিশ্চিত করলেন অন্তত প্রথম ইনিংস শেষেই নির্ধারিত হচ্ছে না ম্যাচের ভাগ্য। একসময় ২০০ রানকেই মনে হচ্ছিল কল্পনাতীত, কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে ইংল্যান্ড তুলেছে ২৫৭। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টিম পেইনের (৪) উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভারে ৭৯ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়াটসন ৩০ ও পন্টিং ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। এরপর অবশ্য পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন পল কলিংউড। তবে ৩০ বলে ৩৪ রান করে জনসনের বলে কলিংউড আউট হলে আবার মড়ক লাগে ইংল্যান্ড ইনিংসে। ৩০ রানের ব্যবধানে তারা হারায় ৪ উইকেট।
এর পরই ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেওয়া জুটি। সপ্তম উইকেট জুটিতে ১২১ বলে ১০৭ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। মূলত পেসার, তবে ব্রেসনানের ব্যাটিং-সামর্থ্য সম্পর্কে জানা আছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দর্শকদের। ইয়র্কশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩টি সেঞ্চুরি আছে তাঁর। নিজের ব্যাটিং-প্রতিভার ঝলক কাল পুরো ক্রিকেট-বিশ্বকেই দেখালেন এই ২৪ বছর বয়সী। ৫৩ বলে পূর্ণ করেছেন হাফসেঞ্চুরি, ৭৬ বলে ৮০ রানের ইনিংসে মেরেছেন ১১টি বাউন্ডারি।
সিডলের বলে পেইনের হাতে ধরা পড়ে ফিফটিটা অবশ্য পাওয়া হয়নি রাইটের (৪৮)। উইকেটের পেছনে ৫টি ক্যাচ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে পূর্বসূরি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গী হয়েছেন পেইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড: ৪৭.৪ ওভারে ২৫৭ (ব্রেসনান ৮০, রাইট ৪৮, ডেনলি ৩৬, কলিংউড ৩৪; সিডল ৩/৫৫, ওয়াটসন ২/৩৫, লি ২/৪৬)। অস্ট্রেলিয়া: ১৫ ওভারে ৭৯/১।

সাকিবকে আইসিসির আরেকটি স্বীকৃতি

খবরটা পাওয়ার পর প্রথমেই কি তিনি কোচকে খুঁজেছেন? কাল সন্ধ্যায় সাকিব আল হাসান বললেন, কোচের কথা মনে পড়েছে, কিন্তু এখনো তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। আজ প্র্যাকটিসে সামনাসামনিই ধন্যবাদ জানাবেন জেমি সিডন্সকে। একমাত্র স্পিনার হিসেবে যে আইসিসি বর্ষসেরা টেস্ট দলে ঢুকে গেলেন, এতে বড় অবদান তো সিডন্সেরই!
বয়সভিত্তিক দলগুলোয় সমানে কথা বলেছে তাঁর ব্যাট-বল। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মূলত ডেভ হোয়াটমোরের ‘মিনি অলরাউন্ডার’ তত্ত্বে। ব্যাটিং-বোলিং দুটোই মোটামুটি করতেন, ফিল্ডিংটা ভালো ছিল। ওয়ানডে দলে ঢোকার পর হয়ে গেলেন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার। ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে যখন টেস্ট অভিষেক, তত দিনে ৩১ ওয়ানডেতে করে ফেলেছেন ১ সেঞ্চুরি ও ৫ হাফ সেঞ্চুরি, নিয়েছেন ৩১ উইকেট। টেস্টে বড় ছিল তখন ব্যাটসম্যান পরিচয়টাই, ক্যারিয়ারের প্রথম ৬ টেস্টে তাই উইকেট মাত্র ৩টি।
গত বছরের অক্টোবরে সবকিছু পাল্টে দিলেন সিডন্স। দেশসেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের অবসরের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। দলের স্পিন বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেবেন কে—এই প্রশ্নে চায়ের কাপে ঝড়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের আগের দিন কোচ আকস্মিক ঘোষণা দিলেন, মূল স্পিনার হিসেবে খেলবেন সাকিব। কোচের অদ্ভুত ঘোষণার রেশটা কাটতে না-কাটতেই চমক দিলেন সাকিব। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস-সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ৩৬ রানে নিলেন ৭ উইকেট। কোচের একটি ঘোষণায় কোনো ক্রিকেটারের এমন নাটকীয় রূপান্তরের ইতিহাস আর আছে কি না, কে জানে। তবে সেই থেকে নিয়মিতই কোচের কথাকে সত্য প্রমাণ করে চলেছেন সাকিব। ৬ টেস্টে ৩ উইকেট নেওয়া বোলার পরের ৮ টেস্টে নিয়েছেন ৪৫ উইকেট। পেস বোলারদের স্বর্গ দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে টানা তিন ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট দলের মূল স্পিনার নির্বাচিত হওয়াটা যেন এই অসাধারণ রূপান্তরেরই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। হরভজন সিংয়ের মতো স্পিনার এই দলের দ্বাদশ ব্যক্তি, তথ্যটি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এটির মাহাত্ম্য। পেতে পারতেন আরও বড় স্বীকৃতি। শুধু বোলার হিসেবেই নয় বা শুধু টেস্টেই নয়, এই সময়ে সব ধরনের ক্রিকেটেই ব্যাটে-বলে স্বপ্নের মতো সময় কাটিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাস-সেরা সাফল্যে। আইসিসির বর্ষসেরা পুরস্কারের প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় ছিল এই ধারাবাহিক নৈপুণ্যেরই প্রতিফলন। ছিলেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার ও বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায়। পরে অবশ্য জায়গা হয়নি সংক্ষিপ্ত তালিকায়।
বর্ষসেরা টেস্ট দলে থাকতে পেরে গর্বিত মাগুরার এই তরুণ, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই দলে থাকতে পারাটা বিশাল এক সম্মান। সম্ভবত বোলিংয়ের জন্যই আমাকে দলে নেওয়া হয়েছে। মুরালিধরন, হরভজন, ভেট্টোরির মতো তারকারা এখনো খেলছে, অথচ দলের একমাত্র স্পিনার আমি—এটা সম্মানটাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ এই দলটা শুধুই বছরজুড়ে সেরা পারফরমারদের স্বীকৃতি, কোনো ম্যাচ তারা খেলবে না। কিন্তু এমন যদি হতো, সত্যি সত্যি এই দল মাঠে নেমেছে, আর দলের একমাত্র স্পিনার তিনি, দায়িত্বটা কি খুব কঠিন হয়ে যেত না? চিরপরিচিত সেই হাসি দিয়ে সাকিব জানালেন, ‘জানি না তো দলে আর কে কে আছে!’
দলের সহ-অধিনায়ক, সর্বশেষ দুই সিরিজে ছিলেন অধিনায়ক, বিশ্ব ক্রিকেটের বিশাল এক স্বীকৃতির দিনে তাই ভুলে যাননি দল ও দেশের কথাও, ‘বছর দুয়েক ধরেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে। অনেকগুলো ম্যাচে আমরা ভালো দলগুলোকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছি। টেস্ট দলে আমার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে বিশেষজ্ঞরাও এখন বাংলাদেশকে আমলে নিচ্ছে।’ আর আজকের অবস্থানে আসতে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই সিডন্সের প্রতিক্রিয়া কী? ‘সাকিবের এটা দারুণ এক অর্জন। বছরটা সে অসাধারণ কাটিয়েছে, প্রমাণ করেছে সে বিশ্বের সেরা বোলার। আমার তো মনে হয়, খেলাটায় এখন সে-ই সেরা অলরাউন্ডার। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে আক্রমণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে, করছেও দুর্দান্ত। সে আসলে বিশ্বমানের’—বলেছেন বাংলাদেশের কোচ।
এই দল কোনো ম্যাচ হয়তো খেলবে না। হবে না হয়তো টেন্ডুলকার-ধোনি-ক্লার্কদের সঙ্গে মাঠে নামাও। কিন্তু দলের একমাত্র স্পিনার মানে গত এক বছরে বিশ্বের সেরা স্পিনার তিনি, এই স্বীকৃতিটাও কি কম?
বর্ষসেরা টেস্ট দল
গৌতম গম্ভীর, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, শচীন টেন্ডুলকার, থিলান সামারাবীরা, মাইকেল ক্লার্ক, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধি.), সাকিব আল হাসান, মিচেল জনসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, ডেল স্টেইন। দ্বাদশ—হরভজন সিং।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

রিকি পন্টিং ও শেন ওয়াটসন—এই দুজন মিলে হারিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডকে। তাঁদের চমত্কার দ্বিতীয় উইকেট জুটির কল্যাণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের বিশ্ব আসরের আরও একটি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও টপঅর্ডার নিয়ে শঙ্কা আগেই ছিল। সেই শঙ্কাই সত্যি হলো কাল। অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের বিরামহীন ফর্মহীনতা গতকাল আরও একবার ইংল্যান্ডকে তাদের কাঙ্খিত ‘শুরু’ থেকে বঞ্চিত করেছে। সেই সঙ্গে ওয়াইজ শাহকে হারিয়ে খেলার শুরুতেই টস জিতে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড পরিণত হয় ১৬/২ তে। এরপর জো ডেনলির সঙ্গে পল কলিংউড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সেই প্রতিরোধের ব্যাপ্তি ছিল ৭১ রান পর্যন্ত। দলীয় ৭১ রানে কলিংউড আউট হলে ফাইনালে খেলার আশাকে সেখানেই শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন অনেক ‘বার্মি আর্মি’। একপর্যায়ে ডেনলি, ডেভিস ও মর্গানকে ইংল্যান্ড হারিয়ে বসে দলের রান ১০০ হওয়ার আগেই। কিন্তু এরপরের দেড় ঘণ্টা ব্রেসনান ও রাইট অসি বোলারদের নিদারুণ হতাশায় ডোবান। তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে ১০৭ রানের জুটি। রাইট ৪৮ ও ব্রেসনান ক্যারিয়ার সেরা ৮০ রান করেন। এই জুটির ব্যাটিং দেখে হয়তো ইংলিশ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা লজ্জায় মুখ ঢাকছিলেন। তাঁরা যতক্ষণ ব্যাট করছিলেন ততক্ষণ ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালকে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলোর রেখা হিসেবেই দেখতে পাচ্ছিল। এই দুজনের জুটি ভাঙার পর জিপি সোয়ানের ১৮ রান ইংল্যান্ডকে নিয়ে যায় ২৫৭ রানের একটি লড়াকু সংগ্রহে।
২৫৭ রান দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ানে খুব একটা খারাপ সংগ্রহ নয়। কিন্তু গতকাল শেন ওয়াটসন ও পরবর্তীতে অধিনায়ক রিকি পন্টিং যে এমন অতিমানবীয় ঢংয়ে ঝলসে উঠবেন তা কে ভেবেছিল? একটি ক্ল্যাসিক লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা নিরপেক্ষ দর্শকদের আশার গুড়ে বালি ঢেলে ইংলিশ বোলারদের পাড়ার বোলারের স্তরে নামিয়ে এনে তাণ্ডব চালাতে থাকেন এই দুই অসি ব্যাটসম্যান। তবে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য আশাজাগানিয়া। দলীয় মাত্র ৬ রানে টিম পাইনকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান গ্রাহাম অনিয়ন। কিপার ডেভিসের হাতে ধরা পড়ের তিনি। এরপর থেকে বাকিসময়টা ছিল সম্পূর্ণ অসময়। শেন ওয়াটসন সংমিশ্রণ ঘটান দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্ট্রোকের অনুপম প্রদর্শনীকে। ১০টি চার ও সাতটি ছয়ের সমন্বয়ে গড়া শ্যেন ওয়াটসনের এই ইনিংস ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে একেবারেই বাইরে নিয়ে যায়। রিকি পন্টিং শেন ওয়াটসনকে স্ট্রোক প্লের সুযোগ করে দিয়ে খেলেন ১১৫ বলে ১১১ রানের শান্ত সৌম্য এক ইনিংস।
এই দুজনের কল্যাণে ইংলান্ডের একটি বিশ্ব আসরের শিরোপার স্বপ্ন অনেক দূরেই থেকে গেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ২৫৭/১০ (৪৭.৪ ওভার)
ব্রেসনান ৮০, রাইট ৪৮
সিডল ৩/৫৫, ব্রেট লি ২/৪৬ ওয়াটসন ২/৩৫
অস্ট্রেলিয়া ২৫৮/১ (৪১.৫ ওভার)
শেন ওয়াটসন ১৩৬*, রিকি পন্টিং ১১১*
গ্রাহাম অনিয়ন ১/৪৭
অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী

হিলারি-দীপু মনি বৈঠক ও সর্বনাশা টিফা চুক্তি -পররাষ্ট্রনীতি by ফরিদা আখতার

এই লেখা যখন লিখছি, তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। তিনি খুব ব্যস্ত। ঈদের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পত্রিকার ছবিতে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ ও পৃথিবীর অন্যতম গরিব দেশের দুই নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশাপাশি দেখে এক অদ্ভুত অনুভূতি হলো। মনে হলো, এটা যেন খুবই কাঙ্ক্ষিত। দুজনেরই উত্থানের পেছনে নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের অবদান আছে, কারণ তাঁরা উচ্চপর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব চেয়েছেন। সমতার ক্ষেত্রে এটা একটা জরুরি শর্ত বটে। কিন্তু তাঁরা বর্তমানে নারীদের নয়, নিজ নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সেটা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। একজন পুরুষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে যা করতেন, তা-ই করছেন। আমাদের শুধু একটু বাড়তি প্রত্যাশা, নিজ দেশের স্বার্থ দেখার বিষয়টিতে নিজেকে ‘নারী’ হিসেবে উচ্চপর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে কোটি কোটি মানুষ যে সমর্থন দিয়েছে, তাদের কথা যেন মনে থাকে। তাদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দীপু মনির সফরের কথা পড়েছি। হিলারির সঙ্গে দীপু মনির বৈঠকে হিলারি বাংলাদেশের সম্মান রক্ষা করেছেন বলে মনে হয় না। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বললেন। ভালো কথা, কিন্তু কীভাবে সেটা হবে তার কোনো সদুত্তর নেই। বৈঠক হয়েছে মাত্র ৪৫ মিনিট। হিলারি আর ১৫ মিনিটও বসতে পারলেন না! এরই মধ্যে অনেক জরুরি বিষয়, যেমন—বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন, টিফা চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কো-অপারেশন (এমসিসি) ফান্ড থেকে সহায়তা চাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় ১০ মিনিট করেও সময় পায়নি। হিলারি মার্কিন স্বার্থ ঠিকই বোঝেন, তিনি এমসিসি এবং বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রশ্নে কোনো আশ্বাস দেননি; বরং শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, দুর্নীতিমুক্ত না হলে এমসিসির মতো ‘পবিত্র’ ফান্ডে হাত দেওয়া যাবে না, আর শুল্কমুক্ত হতে হলে সময় লাগবে। তিনি তো দেখা করেই ধন্য করে দিয়েছেন, আমাদের আর কী চাই? অন্যদিকে তাঁর নিজের স্বার্থের ব্যাপারে কানাকড়ি আদায় করতে ছাড়েননি। বাণিজ্যের কথা বলতেই কথা ঘুরিয়ে তিনি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট—টিফার কথা আলোচনা হয়েছে বলে জানালেন। এই সেই টিফা চুক্তি যা এর আগে আরও নানা নামে, নানা ছলে আমাদের ওপর মার্কিন সরকার চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। মার্কিন সরকার পরিবর্তন হয়েছে, বাংলাদেশেও সরকার পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু মার্কিন স্বার্থরক্ষার বিষয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমেই একটা বিষয় বোঝা দরকার, সেটা হচ্ছে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার প্রশ্ন এবং টিফা আসলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। কাজেই ইতিমধ্যে এই বিষয়ে যা আলোচনা হয়েছে তা বাণিজ্যমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদের পর্যায়ে হয়েছে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, তখন বুঝতে হবে, তাঁরা একটি আনুষ্ঠানিকতা করছেন মাত্র; মূল চুক্তির দেনদরবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই হচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর টিফা চুক্তি নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য জনগণ খুব একটা জানে না। সংসদেও আলোচনা হয়েছে কি না সন্দেহ আছে।
টিফা চুক্তির ড্রাফট ২০০৩ সালে অর্থাত্ বাংলাদেশে চারদলীয় জোট সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশের আমলে হয়েছিল। সেই সময় এই চুক্তির বিরুদ্ধে অনেক প্রতিবাদ হয়েছিল। আমরা সম্মিলিত নারীসমাজও প্রতিবাদ করেছিলাম; কারণ আমরা বুঝেছিলাম, এর মধ্যে এমন অনেক ধারা আছে যা বিনিয়োগের খোলসে বাংলাদেশের সম্পদ লুণ্ঠনের পথ তৈরি করবে। কিন্তু ২০০৩ সালের প্রথম খসড়া টিফা চুক্তির পর আরও অনেক পরিবর্তন হয়ে ২০০৫ সালে একটি খসড়া দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানে আবার ২০০৩ সালের খসড়ায় ফিরে গিয়ে আরও নতুন কিছু ধারা যোগ করা হয়েছে, যা তত্কালীন সরকার চূড়ান্ত আলোচনার সময় বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ছিল বলে বাদ দিয়েছিল। বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত খুব সক্রিয়ভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা প্রায় দিয়ে ফেলছেন; অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খুব আশ্বস্ত বোধ করছে না এই নতুন খসড়া নিয়ে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার বুঝতে পারছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করবে না, তাই তাঁরা নিজেরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান না।
একটি মজার বিষয় লক্ষ করার মতো—যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কো-অপারেশন (এমসিসি) ফান্ড থেকে সহায়তা পেতে হলে দুর্নীতি বন্ধ করতেই হবে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকতেই হবে। টিফা চুক্তির বেলায়ও দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধ করার কথা আছে। কিন্তু ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করার মতো বাজে ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে তত্কালীন আইন মন্ত্রণালয় ২০০৫ সালের বৈঠকে আপত্তি তুলেছিল। দি ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে (আগস্ট ২৯, ২০০৯) উল্লেখ করা হয়েছে, বেটসি স্টিলম্যান মার্কিন সরকারের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন বাণিজ্যনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা, যিনি তৃতীয় বৈঠকে (২০০৫) অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষ bribery and corruption(ঘুষ ও দুর্নীতি) শব্দ বাদ দিয়ে prevention of malpractice (অনিয়ম বন্ধ করা) যোগ করেছেন। কী সুন্দর কথা! অবশ্য বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধ করার ব্যাপারটি চুক্তিতে রাখলে বাংলাদেশের মান চলে যাবে বলে মনে করেন না। ভালো কথা, তাঁদের আপত্তি নেই।
কিন্তু কথা সেখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মার্কিন সরকারের পাঠানো নতুন খসড়ায় এমন সব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে যা এর আগে আলোচনায় বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ পর্যন্ত ২০০৩, ২০০৪ এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালে বৈঠক হয়েছে। নতুন খসড়ায় শ্রমিক, বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার এবং পরিবেশের ধারাগুলো পুনঃসংযোজিত হয়েছে যা ২০০৫ সালে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সরকার ২০০৩ সালের খসড়া ধরেই নতুন খসড়া তৈরি করেছে। অর্থাত্ মাঝখানে যা আলোচনা হয়ে কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে, তা এখন আবার নিয়ে আসা হচ্ছে। এ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একক কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে। এবার যুক্তরাষ্ট্রে দীপু মনির হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাত্, ওবামার সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক—এসব কি টিফা চুক্তির পথ সহজ করে দেবে? ভাব দেখে তো তা-ই মনে হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন সেপ্টেম্বর মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখে। তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং বিতর্কিত দুটি ধারা ‘শ্রমিক ও বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকারের’ বিষয়টি নতুন খসড়া থেকে তুলে নেওয়ার দাবি জানান। এগুলো বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘অশুল্কজনিত’ বাধা বলে তিনি আখ্যায়িত করেন। বাণিজ্যের দিক থেকে দেখতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এককভাবেই শতকরা ৪০ ভাগ রপ্তানি হয়, যার মূল্য হচ্ছে বছরে চার বিলিয়ন ডলার (চার হাজার কোটি ডলার)। কিন্তু টিফা চুক্তি হলে এমন একটি বাজারে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকের জন্য মায়াকান্না দেখিয়ে বাংলাদেশের হাত মোচড়াতে পারবে। এর আগে আমরা মার্কিন দেশে শিশুশ্রম নিয়ে সিনেটর হার্কিন বিলের কথা জানি, যা দিয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তা ছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অবাধ বাণিজ্যের জন্য উঠেপড়ে লাগা ধনী দেশগুলো গরিব দেশের ওপর বাণিজ্যসংক্রান্ত চাপ সৃষ্টির জন্য শ্রমের মান ও পরিবেশের কথা নিয়ে এল। তারা বলছে, যদি কোনো দেশের শ্রমের মানের ব্যাপারে আপত্তি থাকে তাহলে তাদের পণ্য বাজারে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় এ বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ অনেক হয়েছে। তাই তারা এখন বহুপক্ষীয় না হোক, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। শ্রমের মানের কথা শুনতে খুব ভালো লাগছে বটে, কিন্তু এটা করছে তারা তাদেরই স্বার্থে, গরিব দেশের স্বার্থে নয়, শ্রমিকের জন্যও নয়।
দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের দেশের পোশাকশিল্পের মালিকেরা এই কথাটি বোঝেন না। তাঁরা শ্রমিককে এক টাকা ঠকাতে পারলেও খুশি। বিদেশ থেকে রপ্তানি-বাণিজ্যের ওপর শর্ত আরোপ হলে তার নাম হয় compliance, সেটা তাঁরা খুব মানতে পারেন। কিন্তু শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি চাইলেই তাদের পুলিশ দিয়ে পিটুনি খাওয়াতে খুব ভালো লাগে। বাণিজ্যমন্ত্রী ঠিকই বুঝেছেন, শ্রমের মানের ধারাটি বাণিজ্যের ওপর অশুল্কজনিত বাধা ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে পোশাকশিল্পের মালিকের যেমন ক্ষতি হবে তমনি শ্রমিকেরও চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়বে। অথচ খুব সহজেই শ্রমিকের দাবি মেনে মালিকেরা সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি যখন শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার চাইলেন তখন হিলারি ক্লিনটন কোনো আশ্বাস দেননি।
আরও ভয়াবহ হচ্ছে, ট্রিপস চুক্তির ধারা টিফায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মধ্যেও আমরা বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এমন চুক্তি করছি যা বহুপক্ষীয় চুক্তির দায় ছাড়িয়ে গিয়েছে। অথচ বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার প্রতি দেশ কতটুকু মানবে, তার সীমা, রেয়াত ও কার কতটুকু দায়, সেই বিষয়ে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে (বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তি) পরিষ্কারই বলা আছে। এটা আছে Trade Related Aspect of Intellectual Property Rights (TRIPS) বা বাণিজ্যসংক্রান্ত বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার অধ্যায়ে (পাক্ষিক চিন্তা, এপ্রিল, ১৯৯৪)। বহু বছর ধরে দর-কষাকষির পর সব রাষ্ট্র মিলে একটা বহুপক্ষীয় চুক্তি করেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ বা স্বল্পন্নোত দেশগুলোকে(এলডিসি)-কে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এমন ধরনের চুক্তি করার বাধ্যবাধকতা থেকেও রেহাই দেওয়া হয়েছে। তাহলে এই ২০০৯ সালে কেন টিফায় ট্রিপস ঢুকবে? ট্রিপস হলে আমাদের দেশের প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর পেটেন্ট হয়ে যাবে অতি সহজে, তখন আমাদের করার কিছুই থাকবে না। গাছপালা, গরু-ছাগল, মাছ, জীব-অণুজীবসহ সব প্রাণের ওপর পেটেন্ট করার অধিকার তারা পেয়ে যাবে।
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।

শিক্ষকের অধিকার ও মর্যাদা -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মুসলিম সমাজে শিক্ষক মাত্রই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তাই শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সবার সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো উচিত। কারণ শিক্ষকেরা মানুষ তৈরির কারিগর। শিক্ষকেরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। সত্যম, শিবম, সুন্দরমের পথ হচ্ছে একজন আদর্শ শিক্ষকের সাধন-দর্শন। এককথায় বলা যায়, শিক্ষক মানুষ চাষ করেন। যে চাষাবাদের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের বলয় একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনকে মুখরিত করে। পাশাপাশি পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র তার দ্বারা উপকৃত হয়। মহানবী (সা.) যে ঐশীজ্ঞান অর্জন করেছেন, সে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টিকর্তা, মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের নীতিমালা শিক্ষা দান করেছেন। তিনি নিজেই এ পরিচয় তুলে ধরে ঘোষণা করেছেন, ‘শিক্ষক হিসেবে আমি প্রেরিত হয়েছি।’
পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিলকৃত আয়াতে জ্ঞানার্জন তথা বিদ্যাশিক্ষার অধিকারী হতে বলা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এক বিন্দু জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করো! আর তোমার প্রতিপালক পরম সম্মানিত। যিনি কলমের দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫) আল-কোরআনের শিক্ষার আলোকে জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।’ (বায়হাকি ও ইবনে মাজা)
একজন প্রাজ্ঞ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সত্যিকারভাবে শিক্ষিত শিক্ষক সমাজ বদলে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আদর্শ শিক্ষকই শুধু আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করিতে পারেন। এ জন্যই শিক্ষকতাকে অপরাপর পেশার মানদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না বলে অনাদিকাল থেকে এটি একটি সুমহান পেশা হিসেবে সমাজ-সংসারে পরিগণিত। কারণ জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথ নির্দেশ দিতে পারে। এ মর্মে নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও পদ-গৌরব লোভনীয় নয়। তা হলো ১. ধনাঢ্য ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সত্পথে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন। ২. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ বিদ্যা দান করেছেন এবং সে অনুসারে সে কাজ করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।’
ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা সমাজের একটি অতি সম্মানিত পেশা। সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয়ভাবে শিক্ষকদের তেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। দেশে অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মনোযোগী হলেও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেশ অবহেলা আর উদাসীনতার পরিচয় দেয়। যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু শিক্ষকদের নির্মম ভাগ্য আজও বদলায়নি। বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষকদের বেলায় এ উদাসীনতা মাত্রাতিরিক্ত। শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এ ভিত্তি গড়ার মূল কারিগর হলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। শিক্ষা অনুযায়ী মানব চরিত্র ও কর্মের সমন্বয় সাধনই হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তাগিদ। নিজে শিক্ষা অর্জন করার পরক্ষণেই অপরকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত ও চরিত্র গঠন করার দায়িত্বও শিক্ষকের। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে ‘আল্লাহর পরে, রাসুলের পরে ওই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা মহানুভব যে বিদ্যার্জন করে ও পরে তা প্রচার করে।’ (মিশকাত)
শিক্ষাদানের পাশাপাশি আদমশুমারি, ভোটার তালিকাভুক্তি, টিকাদান, শিশু জরিপ, উপবৃত্তি বিতরণ, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সারা দেশে পাড়াগাঁয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার পরও তাঁদের হোম ভিজিটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়। ছাত্রছাত্রীর তুলনায় দেশে শিক্ষক-শিক্ষিকা খুবই কম। অপ্রতুল শিক্ষা-উপকরণ ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে তাঁরা বিরতিহীনভাবে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে যান। এভাবে বিরতিহীনভাবে বছরের পর বছর শিক্ষাদানের ফলে অনেক শিক্ষক জীবনসায়াহ্নে এসে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাঁরা জাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে নিজেরা মোমের মতো নিঃশেষিত হন। ফলে শিক্ষকতা ছাপোষা শ্রেণীর একটি পেশা হিসেবে সমাজে স্বীকৃত হয়। এ জন্য সত্যিকারার্থে শিক্ষকতার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা সুবিধাবঞ্চিতদের মতো অনেক প্রাথমিক শিক্ষকই জীবন-জীবিকার কঠিন আঘাতে হয়ে পড়েন মলিন। অথচ রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ব্যতীত কেউই আমার আপন নয়।’
শিক্ষকের জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। অথচ এই মহান পেশায় যাঁরা নিয়োজিত, তাঁদের নেই কোনো অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানজনক জীবনধারণ উপযোগী বেতন-ভাতা না থাকায় মেধাবীরা শিক্ষকতায় আকৃষ্ট হচ্ছেন না। শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব, এ দুর্মূল্যের বাজারে বেতন-ভাতার অপ্রতুলতা, শিক্ষাকে রাজনীতিকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণের উদ্ভট মানসিকতা, শিক্ষকদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সীমাহীন ঔদাসীন্য ও অবহেলাই যেন এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বহুলাংশে দায়ী। তাই শিক্ষকদের বেতন-কাঠামো এমন হতে হবে, যাতে সমাজে শিক্ষকতা পেশার গুরুত্ব ও মর্যাদা, শিক্ষকতায় কোনো ব্যক্তির যোগদান তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত হয় এবং শিক্ষকদের মধ্যে বেতনসংক্রান্ত কোনো বৈষম্য বা সংঘাতের সৃষ্টি না করে। জ্ঞান অন্বেষণের গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, ‘যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত-৯)
জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে প্রয়োজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পেশাগত স্বাধীনতা থাকা দরকার। যেহেতু শিক্ষকেরা শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি—যেমন, শিক্ষার উপকরণ ও শিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ের—বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল, সেহেতু তাঁদের ওইসব বিষয় নির্বাচন কিংবা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। শিক্ষকেরা যাতে পাঠ্যপুস্তক কিংবা শিক্ষাদান সংশ্লিষ্ট পদ্ধতি অনুমোদিত কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাসংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সে বিষয়ে তাঁদের পর্যাপ্ত সুযোগ দান করতে হবে। শিক্ষকেরা সমাজের বিবেক ও স্পন্দন। সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করার ব্যাপারে শিক্ষকদের অবিস্মরণীয় অবদান আজও এ ভূখণ্ডের মানুষেরা ভক্তিভরে স্মরণ করে। শিক্ষকেরা হচ্ছেন দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি। তাই ইসলামের আলোকে শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা অন্তত নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাদানে তৈরি করে তুলতে হবে। জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশে পর্যন্ত যেতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন করো।’
বিশ্ব শিক্ষক দিবস (৫ অক্টোবর) বিকশিত অবদানের মাধ্যমে সচেতনতা, সমঝোতা এবং উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা শিক্ষকদের শিক্ষার প্রগতিকে আরও প্রসারিত করবে নিঃসন্দেহে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষার স্বীকৃতি আদায় করে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষাদাতা শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষকসমাজ আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বৈষম্য-বঞ্চনার অবসান দাবিতে, নির্যাতন-নিপীড়ন প্রতিরোধে শিক্ষকের ন্যায্য অধিকার রক্ষার উদ্দেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাঁদের মূল ধ্বনি: ‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। দেশব্যাপী শিক্ষকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা, শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা সর্বোপরি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

সরকার বাজারে অর্থবহ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে -চিনি নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

চিনি নিয়ে দেশের বাজারে এখন এক বিরাট বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিয়েছে। রমজানে এই অবস্থার সূত্রপাত হলেও এর জের এখনো চলছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় উঠে গেলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে আরম্ভ করে। আর তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে চিনির পাইকারি ব্যবসায়ীদের পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়ে দিয়ে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে আটজন ব্যবসায়ীকে চিনির দাম বাড়ানোর কারসাজির পেছনে অভিযুক্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এর বদলে চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধান এবং দাম বাড়া ঠেকাতে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, একদিকে সরকার বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। পণ্য সরবরাহ আদেশ (ডিও) হাতবদল করে মুনাফা তোলার অপচেষ্টা চিনির বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে, এটি যেমন সত্য, তেমনি ব্যবসায়ীদের আটক করার উদ্যোগটিও সঠিক হয়নি। মনে হয়েছে, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে, পরিণামে যা লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেলে তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হতো। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরতা বরং পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বস্তুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সরকারের হাতে যেসব অর্থবহ হাতিয়ার থাকা প্রয়োজন, সেগুলো পর্যাপ্ত নেই—এ সত্যটি বোধহয় নীতিনির্ধারকেরা ভুলে গেছেন। আর তাই ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) দিয়ে চিনি আমদানি করা সম্ভব হয়নি। চিনির চাহিদা ও জোগানের বিষয়ে সরকারের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বড় আমদানিকারক ও পাইকারেরা কী পরিমাণ পণ্য মজুদ করে রাখেন, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। এত সব ‘না’ নিয়ে কীভাবে সরকারের পক্ষে বাজারে অর্থবহ হস্তক্ষেপ করা সম্ভব? বাণিজ্যমন্ত্রী রমজান মাসে ও রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ে যেভাবে যত কথা বলেছেন, এতে মনে হয়েছে কাজের চেয়ে কথার দিকেই তাঁর মনোযোগ বেশি। এই প্রবণতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদেরও সুযোগ পেলেই অতিরিক্ত মুনাফা তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেন কেজিপ্রতি ৪২ টাকা দরের চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি হবে? কেন গুদামে মজুদ থাকার পরও সেসব পণ্য সময়মতো বাজারে ছাড়া হবে না? এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি চিনি ব্যবসায়ীদের হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুধু ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য দাবিদাওয়া পেশ করলেই হলো না, বরং ব্যবসায়ীরা যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে।